Islamবাংলা

তেলের দাম বেড়ে যাবে

যাকাত ও দেশের অর্থনীতি

ইকোনমিক কমে যাবে তেলের দাম বেড়ে যাবে । সবাই যদি যাকাত দিত বাংলাদেশের । যাদের যাকাত ফরজ হয়েছে তারা যদি ঠিকঠাক মত যাকাত দিত। অথবা যাকাত আদায় করা যেত সবার কাছ থেকে। বাংলাদেশের একটা মানুষ না খেয়ে মারা যেত না। চ্যালেঞ্জ করলাম একটা মানুষও না ইনশাল্লাহ তায়ালা। এবং ওই যে চায়না রাশিয়া যে বড় বড় প্রকল্প করে এর চেয়ে বড় প্রকল্প আমরা করতে পারতাম ইনশাআল্লাহ । আমাদের সম্পদের অভাব হতো না। আমরাই তো যাকাত দেই না আমরাই তো ট্যাক্স দেই না , কর দেই না ।আমরাই তো ফাঁকিবাজি করি দুর্নীতি করি। আমরাই আমাদের সম্পদ লুটেপুটে খাই। তখন গিয়ে বাইরের বিশ্বের কাছে আমাদেরকে লোন নিয়ে আসতে হয়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর কাছে আইএমএফ এর কাছে। এবং ওই লোন শোধ করতে হয় চাউড়া সুদে। ওই সুদ আপনার পকেট থেকে যায় আমার পকেট থেকে যায়। ডাল রুটি খেয়ে ভাবেন সুদ খাই না সবাই সুদ খায়। কে বলেছে সুদ খান না আপনি? ওয়ার্ল্ড অ্যাফেজ বুঝেন না তাই। আমরা যদি সবাই যাকাত দিতে পারতাম। এই চায়না , রাশিয়া , আমেরিকার দাঁড়ানোর সাহস ছিল না আমাদের সামনে। প্রতিটা সেক্টরে আমরা উন্নতি করতে পারতাম। শুধুমাত্র ইকোনমিক্স সেক্টরে না। সমরাস্ত্র ক্ষেত্রে মিলিটারি ক্ষেত্রে অস্ত্রশস্ত্র এর ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রতিটা সেক্টরে বাংলাদেশ হত সুপার পাওয়ার সুবাহানাল্লাহ। এটা সম্ভব ছিল আমরা করতে দেইনি। বিকজ আমরা আমাদের যাকাত দেইনি।আমরা আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করিনি। একটা জাতির অর্থনৈতিক একটা বেসিক জিনিস ইকোনমিক সেক্টর যদি develop না হয় আপনি যতই তাকবীর মারেন দাঁড়ায় তাকবীর আল্লাহু আকবার কিছুই করতে পারবেন না। এই টা বাস্তবতা। শুধু আই ওয়াশ সোডাউন করলে লাভ নাই তো প্র্যাকটিক্যাল হন । আমাদের মাথাপিছু আয় কত? জীবনযাত্রার মান কেমন? অনেক কষ্ট করা হয় এই সেক্টরে। এখন একটা লেভেলে এসেছে এটা সত্য কথা এখন এই সময়ে একটা লেভেলে এসেছে জীবনযাত্রার মান কিছুটা উন্নত হয়েছে এটা সত্য কথা। আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। কিন্তু অনেক সেক্টর পড়ে আছে যেখানে আমরা কিছু করতে পারছি না। যেমন প্রযুক্তি খাত , সমরাস্ত্র ক্ষেত্র , অস্ত্রশস্ত্র ক্ষেত , মিলিটারি সাইন্স এমন অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে আমরা ওদের মত উন্নতি করতে পারিনি। কারণ আমাদের ইকোনমিক বেজটা দুর্বল। আমাদেরকে ওদের থেকে সুদ নিতে হচ্ছে ওদের দান নিতে হচ্ছে। আর ওরা শুধু আমাদেরকে এমনি এমনি হেল্প করতে চায় না। ওরা ওদের স্বার্থ বজায় রেখে আমাদেরকে হেল্প করতে চায়। যে উপকার করতে চাই বাস্কেট অফ মানি নিয়ে সামনে আসে এমনি এমনি আসে না। ওরা ওদের স্বার্থ বুঝে শুনে এটা করতে চায় চওড়া সুদ নিবে তারা আর আপনাদের এসব সুদ দিতে দিতে আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। যাকাত আপনার ইকোনমিক্স সেকশন টাকে সম্ভাব্যঅবস্থা নিয়ে আসবে। যাদেরকে আল্লাহপাক কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন তাদের উচিত আমি সম্মানের সাথে বলছি তাদের উচিত নিছক পরিমাণ সম্পত্তি যাদের হয়েছে। মুসলিমদের অ্যাক্ট লিস্ট এটাতো অমুসলিমদের সাথে সম্পর্কিত নয়। মুসলিমদের নিছক পরিমাণ সম্পত্তি যাদের হয়েছে এই যাকাত টাকে সুষ্ঠুভাবে আদায় করার একটা সিস্টেম চালু করেন।

দেশের সম্পদ, ফিতনা ও হালাল রিযিক

দেখবেন ইনশাল্লাহ তায়ালা ইকোনোমিক সেকশন অনেক develop হবে । আমরা আমাদের টাকা দিয়ে চলব। আমাদের দেশে কি ফলে না বলেন তো। এমন কোন জিনিসটা আছে যেটা আমাদের দেশে ফলে না। কোন মৌলিক চাহিদা খাদ্য , বস্ত্র , বাসস্থান , শিক্ষা , চিকিৎসা কোন সেক্টরটাতে আমরা পিছিয়ে আছি বলেন তো। প্রতিটা জিনিস আল্লাহ পাক এই বাংলাদেশটাকে উজাড় করে দিয়েছেন। সমুদ্র আছে , নদী আছে , সবুজ শ্যামল মাঠ দিয়ে ভর্তি। আপনার ধান , পাট , গম কত কি যে হচ্ছে বাংলাদেশে অবাক করা বিষয়। এই দেশের মাটিতে অনেক বড় বড় আল্লাহর ওলীরা এসেছিলেন জানেন। অনেক বড় বড়। দোয়া করেছেন তারা এ দেশের জন্য ,এই জায়গার জন্য । এই জায়গাটা তো এমনি এমনি সুজনা সুফলা হয়নি। আল্লাহর বান্দারা যখন এখানে তাওহীদে থাকবে , সুন্নতে থাকবে , ইসলামে থাকবে আল্লাহ আসমান জমিন এর বরকতের দরজা এমনিতেই খুলে দিবেন ইনশাআল্লাহ । এখন পর্যন্ত এখানে বহু বড় ওলা ইকরামেরা আছেন। আল্লাহকে সেজদা করার মানুষের অভাব নাই। মানুষ পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ পড়ে। মানুষের মধ্যে ইসলামের জন্য প্রেম আছে মহব্বত আছে। রমজান মাসে তারা আরো বেশি মুসল্লী হয়ে যায়। অনেক দুর্বলতা আছে কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে , কোরআনকে ভালোবাসে। আল্লাহপাক রহমতের প্রতিটা দরজা খুলে দিয়েছেন দেশের জন্য ।মাটি উর্বর আবার সাগর আছে আবার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। কয়দিন পর তেল পাওয়া যাবে। আরো অনেক কিছুই পাওয়া যাবে। যদি আমরা আমাদের ক্ষেত্রে সৎ হতাম। আমরা আমাদের সম্পদ কাজে লাগাতে পারতাম যাকাত দিতাম ঠিকঠাক মত। কোন দুর্নীতি করতাম না। কোন দেশের কাছের লোন নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না আমাদের । আমরা আমাদের মতো করে চলতে পারতাম মাথা উঁচু করে। এখন এই ক্ষমতা আল্লাহ পাক যাদেরকে দিয়েছেন তারা যদি বিষয়গুলোর দিকে চোখ দেন এটাই হবে কল্যাণকর। এটা সবার দায়িত্ব নয়, এটা যাদেরকে আল্লাহপাক এই দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের জন্য এই বিষয়গুলো। আমরা শুধু সর্বোচ্চ বিষয়গুলো কে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারি।মানুষকে দাওয়াত প্রদান করতে পারি ব্যাস এতটুকুই আল্লাহপাক আমাদেরকে বোঝার তৌফিক দান করুন। প্রতিটা ক্ষেত্রে আমরা উন্নত করতে পারব যদি আপনি সালাতে আসেন , যাকাতে আসেন , ইসলামে আসেন , কোরআন সুন্নায় আসেন। তো এই হচ্ছে মূল কথা ।আল্লাহপাক সময়ের কসম করে বোঝাতে চাচ্ছেন অতীতকালের দিকে তাকিয়ে দেখো প্রত্যেক যুগে যুগে যারাই আল্লাহর অবাধ্য হয়েছে। তা রাসূলের অবাধ্য হয়েছে। আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানের আনুগত্য করে নাই। আল্লাহ পাক দুনিয়াতেও শাস্তি দিয়েছেন এবং পরকালেও শাস্তি দিয়েছেন। একই সুন্নাহ প্রত্যেক যুগে যুগে। আরেকটা বিষয় আমাদের বুঝে আসে ।সেটা হল ওয়াল আসরি দিয়ে আল্লাহ পাক শেষ জামানার মানুষদেরকে সতর্ক করছেন বেশি। কারণ শেষ জামানার মানুষরা সবচেয়ে বড় ফিতনা মধ্যে থাকবে। সবচেয়ে বেশি বেশি ফিতনা থাকবে এই জামানার মধ্যে। ব্যক্তির জীবনে ফিতনা থাকবে ধর্মে ফিতনা থাকবে পরিবারের ফিতনা থাকবে , সমাজে থাকবে , বিশ্বাসে থাকবে সমস্ত ক্ষেত্রে ফিতনা থাকবে। ফিতনা দিয়ে ভর্তি। কিন্তু মানুষ মনে করবে তারা খুব ভালো কাজ করছে। মানুষ মনে করবে তারা খুব ভালোভাবে আমল করছে কিন্তু এরা ফিতনার মধ্যে ডুবে আছে। আপনি দেখেন এখন তাওহীদের মধ্যে শিরক ঢুকে গেছে। সুন্নতের মধ্যে বেদাত ঢুকে গেছে। হালাল রিযিকের মধ্যে হারাম ঢুকে গেছে। খুব কম মানুষই এখন হালাল রিজিক খায়। খুব কম মানুষই। সবার ঘরে ঘরে এখন সুদ , সবার ঘরে ঘরে দেখবেন এখন ঘুষের টাকা ঢুকছে , দুর্নীতির টাকা ঢুকছে , আত্মসাথের টাকা ঢুকছে।

part 3 খুব কম মানুষ হালাল খায়। অনেক সময় দেখবেন আমরাও দাড়ি টুপি রেখে বোনদের সম্পত্তি অধিকার দেইনা এমন হয় না । অনেক সময় দেখা যায় আমরাও ধর্মীয় লেবাসে থেকেও টাকা পয়সা আত্মসাৎ করছি , করছি না । এরকম ও হিস্ট্রি আছে। খুব কম মানুষ আছে পৃথিবীতে যারা হালাল রিযিক খাচ্ছে। আমরা খাস করে দোয়া করছি আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে হালাল রিযিক খাওয়া তৌফিক দান করুন আমীন। প্রতিটা ক্ষেত্রে ফিতনা ।কেউ আমরা ক্ষতি থেকে মুক্তি নই না ইহকালের ক্ষতি না পরকালের ক্ষতি । পরকালের ক্ষতি তো আপনারা আমার থেকে বেশি ভালো জানেন। মানুষের জন্য পরকালে অপেক্ষা করছে সাওয়াল জবাব , কবরের আজাব , মিজান , পুলসিরাত , জান্নাত , জাহান্নাম। তারপরও মনে হয় আমাদের চালচলন দেখলে যে ক্ষতি আমাদের কে স্পর্শ করবে না। আমাদের ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে অন্য দিকে কি হয় হোক আমি তো ভালো আছি ।যখন সবকিছু নষ্ট হয়ে যায় তখন নিজেও ভালো থাকা যায় না। তো আমাদের ভাগ্যেও ক্ষতি অপেক্ষা করছে এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। এখনো যদি আমরা সচেতন না হই নিজেদের ফিউচারের কথা না চিন্তা করি। নিজেদের আমল , আকিদা , পরিবার , রিজিক এগুলোকে না গুছিয়ে নেই তাহলে সমস্যা আছে। আল্লাহপাক আমাদের সকলের আকিদা পরিশুদ্ধ করুন আমীন। বেশি থেকে বেশি নেক আমল করার তৌফিক দান করুন আমীন। আমাদের পরিবারগুলোকে জান্নাতি পরিবার রূপে কবুল করে নিন আমীন । সবাইকে আল্লাহ পাক হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করে দিন আমিন। ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করার তৌফিক আল্লাহপাক আমাদেরকে দান করুন আমীন।

সাধারণ প্রশ্ন

লেখক যাকাত আদায়ের বিষয়ে কী বলেছেন?

লেখক বলেছেন যাদের যাকাত ফরজ হয়েছে তারা ঠিকঠাক মতো যাকাত দিলে এবং যাকাত সুষ্ঠুভাবে আদায়ের একটি সিস্টেম চালু হলে অর্থনীতি অনেক উন্নত হবে বলে তিনি মনে করেন।

লেখায় সুদ ও ঋণের বিষয়ে কী বলা হয়েছে?

লেখায় বলা হয়েছে বাইরের বিশ্বের কাছ থেকে ঋণ নিতে হলে তা চড়া সুদসহ শোধ করতে হয়। লেখক মনে করেন যাকাত ও ন্যায্য ব্যবস্থা থাকলে এমন ঋণের প্রয়োজন হতো না।

লেখক হালাল রিজিকের বিষয়ে কী বলেছেন?

লেখক বলেছেন বর্তমানে খুব কম মানুষই হালাল রিজিক খাচ্ছে এবং সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি ও আত্মসাতের টাকা অনেক ঘরে ঢুকছে। তিনি আল্লাহর কাছে সবার জন্য হালাল রিজিকের তৌফিক চেয়েছেন।