Islamবাংলা

১০ এ মহরম || হাসান হুসাইন রাঃ এর কাহিনি

১০ মহরমের রোজা ও মুসা আলাইহিস সালাম

এক ভাই প্রশ্ন করেছেন ১০ই মহরম সম্পর্কে। তিনি প্রশ্ন করেছেন হাসান হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাহিনী আমরা জানি এবং তাদের জন্য আমরা রোজা রাখি। তাদের গল্পের সাথে মহররমের ১০ তারিখের গুরুত্ব সম্পর্ক কতটুকু? খুবই চমৎকার একটা প্রশ্ন। আপনার যে প্রশ্ন হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাতের সাথে এটার কি সম্পর্ক তা আমি ব্যাখ্যা করছি ।১০ই মহরমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ফেরাউনের কবল থেকে মুসা আলাই সাল্লাম এবং বানি ইসরাইলকে মুক্তি দিয়েছেন। এটা ছিল মহরম মাসের ১০ তারিখে এই নিয়েতে আমরা সওম রাখি। এই নিয়তে আমরা রোজা রাখবো । আর কাকতালীয়ভাবে এই দিনে ১০ই মহরমে ইমাম হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত ঘটে গিয়েছে। এটা প্রায় ৬০ কি ৬২ হিজরির দিকে ঘটনা। অনেক পরে মানে কাকতালীয়ভাবে এই দিনে হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত এই দিনে ঘটে গিয়েছে। এজন্য আমাদের মধ্যে একটা প্রচলন হয়ে গেছে এই উদ্দেশ্যে এখানে রোজা রাখতে হয়। আসলে ব্যাপারটা এমন নয়। একটু ব্যাখ্যা করলে বুঝবেন আমি ব্যাখ্যাটা করতে চাচ্ছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর ইন্তেকালের পরে খলিফা হন আবু বক্কর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু। তারপরে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু। তারপর উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু। এই উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই সময় থেকে শেষের দিকে একটা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কি সমস্যা? উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কিছু বিদ্রোহীরা হত্যা করেছিল। ইতিহাস পড়তে খুব সময় লাগে আমি আপনাকে অল্প সময়ে শেখাচ্ছি। রাদিয়াল্লাহু আনহু কে হত্যা করেছিল কিছু বিদ্রোহী ঠিক আছে। যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর জামাই। দুইজন মেয়েকে বিয়ে করেছেন। জিন্নুরাইন তাকে হত্যা করেছে কিছু বিদ্রোহী । এরপরে খেলাফতের দায়িত্বে আসছেন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর দায়িত্ব নেন এই মক্কা মদিনা এই জায়গাটুকু ওপরে। তার হাতে ছ সাহাবী ইকরামরা বায়াত করেন। কিন্তু ওইদিকে ওইদিকে বলতে বুঝাচ্ছে সিরিয়া , সামনের দিকে ইফতার গভর্নর ছিলেন মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনিও কিন্তু একজন বড় মাপের সাহাবী , ঠিক আছে। তো মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু সেখানে নিজে সেখানকার খেলাফতে দাবি করেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে বায়াত তিনি করেননি। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বার বার একটা বিষয়ের চাপ দেওয়া হচ্ছিল যে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হত্যাকারীর বিচার করতে হবে। এখানে একটা পলিটিক্যাল দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলো। ওইদিকে মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু খেলাফতের দাবিদার হয়ে উঠলেন। এদিকে সাহাবী ইকরামরা অনেকে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে বায়াত করলেন। তো এর ফলশ্রুতিতে দেখা যায় আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তারা রাজধানীকে কুফায় নিয়ে যান ইরাকের কুফায়। তো ইহুদিদের ইন্ধনের ফলে একপর্যায়ে দেখা যায় যে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর একপক্ষ একদিকে আর মুয়াবিয়া রাদি আল্লাহু আনহুর এক পক্ষ তারা একটা অসম মানে অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধের দিকে চলে যাবে,ঠিক আছে। এই যুদ্ধটা কে বলা হয় সিফফিনের যুদ্ধ।

সিফফিনের যুদ্ধ ও খারেজি বিতর্ক

এটা সংগঠিত হয়েছে ৩৭ হিজরীতে। এর আগের বছর আবার উটের যুদ্ধ হয়েছে জ্যেঙ্গে জামান। এর পরের বছর এই সিফফিনের যুদ্ধ। সিফফিনের যুদ্ধে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিজয় লাভ করেই ফেলেছিলেন এই সময় মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর দলের মধ্যে আমর ইবনে নাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন কোরআন ফয়সালা করবেন । এবং কোরআন ফয়সালা করবে এটা কেন্দ্র করে একটা তৃতীয় পক্ষ নির্ধারণ করা হয়। যেটাকে আমরা সালেস বলি। মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহুর পক্ষে একজন তার নাম আমর ইবনে নাস রাদিয়াল্লাহু আনহু।আর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর পক্ষে একজন তার নাম আবু মুসা আসহারী রাদিয়াল্লাহু আনহু। তারা গিয়ে একটা তৃতীয় পক্ষ করে মীমাংসা করতে চাচ্ছেন। আমরা কেউ যুদ্ধ চাইনা আমরা ভাই ভাই ।আমরা সবাই মুসলিম উম্মার ঐক্যের খাতিরে একটা সলিউশনে আসবো । তো সলিউশনে একটা আসা হচ্ছিল যে উভয় পদত্যাগ করবে। নতুন খলিফা নেওয়া হবে ঠিক আছে। এরকম একটা কথা চলছিল কিন্তু মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনি তার যে দাবি এটা ছাড়তে চাচ্ছিলেন না। এদিকে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর দলের মধ্যে কিছু মানুষ প্রায় ১২ হাজার তারা এই দল থেকে বের হয়ে গেল। যে আমরা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কেও মানিনা , আমরা মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু কেও মানিনা , আমর ইবনে নাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কেও মানিনা এই আবু মুসা আসহারী রাদিয়াল্লাহু আনহু কেও মানিনা । আমরা কাউকেই মানি না। এবং এদেরকে বলা হয় খারেজি। শুধু তাই নয় তারা ফতুয়া দিল আলী রাদিয়াল্লাহু , মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু,আমর ইবনে নাস এবং মুসা আসহারী এরা সবাই কাফের নাউজুবিল্লাহ । কারণ কি? কারণ তারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচার ফায়সালা করছে না। মানুষের মত তারা গ্রহণ করছে। তাদের উদ্ভতযুক্তি আর কি? তারা আল্লাহর কিতাব দ্বারা ফয়সালা করছে না বরং মানুষের রায় গ্রহণ করছে। এটা একটা খোঁড়া যুক্তি ছিল। তো আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এদেরকে দমন করলেন। মারোহান নামক জায়গায় যুদ্ধ হলো এবং আলী রাদিয়াল্লাহু এই যুদ্ধে জয়লাভ করলেন । সিফফিনের যুদ্ধটা হয়ে গেল। এখন দেখেন দুইটা পক্ষ পাচ্ছেন এইখানে। একটা হচ্ছে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর পক্ষ আর আরেকটা হচ্ছে মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু পক্ষ। এখন এই যে খারেজিরা বের হয়ে গেল। এখন তো দেখা যায় কিছু কিছু শব্দ বললে মানুষ খারেজির ট্যাগ দিয়ে দেয় তাই না। দেখেন এই খারেজী আকীদার সাথে কিন্তু আসলে পলিটিক্যাল সমালোচনার কোন সম্পর্ক নাই। পলিটিক্যাল দন্দর সাথে পলিটিক্যাল সমালোচনার সাথে খারেজির মতামত এর সাথে আসলে জড়িত না। এটা কার সাথে জড়িত? খারেজিরা মনে করে কবিরা গুনাহ করলে কোন ব্যক্তি কি হয়ে যায়। কাফের হয়ে যায়। খারিজিদের আকীদা হচ্ছে কোন ব্যক্তি কবিরা গুনাহ করলে সে কাফের হয়ে যায়। এটার নাম খারেজি আকিদা। এটা কি বাংলাদেশী মুসলিমরা লালন করে? কোন আলেম, কোন বক্তা ,কোন মুয়াদ্দিন ,কোন মুফাসসির বলেছে কখনো আপনাদেরকে ।যে এ দেশের মাটিতে কবিরা গুনাহ করেছে এরা এদেরকে মেরে ফেল বলেছে। কিন্তু আপনি কিছু হক কথা বললে আপনাকে এই ট্যাগটা খেতে হয়।

আলী রাঃ এর শাহাদাত ও হাসান রাঃ এর খেলাফত

একদিন বলেছিলাম এরা খারেজি ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানির সদস্য । এরা ভাঙ্গাচুরা ইস্যু পেলেই খারেজি ট্যাগ দিয়ে দেয়। আসল মূল বিষয় এরা নিজেরাই খারেজ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।অন্যকে খারেজ করতে করতে নিজেরাই খারেজ হয়ে যাচ্ছে ।এখানে দেখেন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এক পক্ষে মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু আরেক পক্ষে ব্যাটেল যুদ্ধ হয়ে গেল। সিফফিনের যুদ্ধ হয়ে গেল। তিন দিন যুদ্ধ হয়েছে। ওই যুদ্ধে কি মানুষ মারা যায় নাই? অবশ্যই মারা গেছে। তো আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তো বলেননি ওরা খারেজি। কারা খারেজি তাহলে ? যারা এই যে ১২ হাজার সৈন্যের মধ্য থেকে বের হয়ে গেল। এবং সবাইকে কাফের ফতুয়া দিল। আলী ও কাফের , মুয়াবিয়া ও কাফের , আমর ইবনে নাস এবং মুসা আসহারী এরা সবাই কাফের নাউজুবিল্লাহ।এরপর তারা যখন বের হয়ে গেল আলী রাদিয়াল্লাহু তাদেরকে হত্যা করলেন তাদের সাথে যুদ্ধ করলেন। কিন্তু এদের কিছু কিছু মানুষ বেঁচে ছিল। এর একটা প্ল্যান করল । কি প্ল্যান? চোরা গুপ্তা হামলা চালিয়ে এই চারজনের সবাইকে হত্যা করে ফেলবে। চারজন একই দিনে প্ল্যান করল রমজান মাসের ১৭ তারিখে । ওটা সম্ভবত ৪০ হিজরী। সিফফিনের যুদ্ধ হয়েছে ৩৭ হিজরিতে আর এটা হয়েছে ৪০ হিজরী তিন বছর পর। এরা প্লান করল। এখনকার পশ্চিমা গোলক ধাঁধায় পড়া কিছু মানুষ। যারা কিছু জঙ্গি সংগঠনে নাম লেখায় হঠাৎ সুইসাইড বম মারবো আছে না এমন কিছু প্ল্যান করল । প্ল্যান করলো এই চারজনকে আমরা একই দিনে উড়িয়ে দিব বাড়িতে ।সেই মোতাবেক তারা কাজ করলো কাজ করে ঘাপটি মেরে বসে থাকলো। আলী রাদিয়াল্লাহু ফজরের নামাজে যাচ্ছেন। আব্দুর রহমান বিন মঞ্জিম নামক এক ব্যক্তি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কে তরোয়াল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে দিল । ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। কাকে হত্যা করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর মেয়ের জামাইকে। চিন্তা করতে পারেন যিনি প্রতিটা যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সাথে ছিলেন । তাকে বলল যে সে কাফের হয়ে গেছে। যে হত্যা করেছে আব্দুর রহমান বিন মঞ্জিম সে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছে নাউজুবিল্লাহ । সে বলেছিল যে আমি আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করছি যে আল্লাহ আমার হাতে একজন পথভ্রষ্টা মানুষকে মারলেন । ওইদিকে মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু কে মারার প্লান্ট করলেন সিরিয়ায়। উনাকে আঘাত করা হয়েছে কিন্তু আঘাতটা তার শরীরে সেই জায়গায় লাগে নাই যেখানে লাগলে সে মারা যেতে পারতেন । তিনি আহত হয়েছিলেন পরবর্তীতে সে চিকিৎসা করে সুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন। আর এই দিকে আমর ইবনে নাস এবং মুসা আসহারী তাদের ওপরও হামলা হয়েছে। আমর ইবনে নাস এই জায়গায় অন্য একজন সাহাবী নামাজ পড়তে গিয়েছে তিনি ডেট। মানে তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে এই জায়গায় যে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কে হত্যা করা হয়েছে । তো এখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন নিহত হয়ে গেলেন তাহলে কে থাকলো এখন ? মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুর পরে তার সন্তান হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে সাহাবায়ে ইকরামরা অনেকেই বায়াত করলেন। মানে তাকে খেলাফতের দায়িত্ব দিলেন।

হাসান রাঃ এর পদত্যাগ ও মুয়াবিয়া রাঃ এর শাসন

কুফায় তার রাজধানী তিনি এখানে আছেন। এবং কুফা বাসী তাকে প্রলুব্ধ করছে কিছু কিছু মানুষ যে আপনার উচিত মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে যুদ্ধ করা। কিন্তু হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই কাজটা করলেন না। তিনি বললেন না আমি মুসলিমদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চাইনা। বরং আল্লাহর নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম একটা ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন আমার এই নাতি হাসান মুসলিমদের বড় একটা ফেতনার সমাধান করে দিবেন সুবহানাল্লাহ। তো হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন কি করলেন? নিজে তার চেয়ে এই দায়িত্ব খেলাফতের দায়িত্ব তিনি মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে ছেড়ে দিলেন সুবহানাল্লাহ । তিনি নিজে পদত্যাগ করলেন। ঠিক আছে আমার ক্ষমতার দরকার নাই। মুসলিমরা আপষে মারামারি কাটাকাটি থেকে রক্ষা পাক । কিছু শর্ত ছিল ওই চুক্তির মধ্যে । মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু যে কাজই করবেন সূরা ভিত্তিক করতে হবে, আহেলিয়া বাইতদের কে সম্মান করতে হবে , ভাতা নির্ধারণ করতে হবে এমন কিছু শর্ত ছিল। মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু কিন্তু মেনে নিলেন। এবার সারা মুসলিম জাহানের খলিফা হলেন মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু। এরপর তিনি একাধারে ২০বছর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৪০ হিজরীতে আলী রাঃ মারা চান এবং বিশ বছর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু। এই সময় মুসলিমরা অনেক উন্নত করেছে। এই সময় ১৭০০ টার মতো নৌজাহাজ ছিল মুসলিমদের। পর্তুগল থেকে চায়না এদিকে আফ্রিকা থেকে শুরু করে পুরা ভারত বর্ষ সবই মুসলিমদের । অর্ধ বিশ্ব থেকে বিশাল জায়গা শুধুমাত্র মুসলিমদের। এবং তিনি এটাকে শাসন করছেন। কে শাসন করছেন? মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু। এবার মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু ইন্তেকাল করলেন ৬০ হিজরীতে। এদিকে হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু ইন্তেকাল করেছেন ৪৯ হিজরীতে। ইন্তেকালের সময় তিনি তার পরবর্তী দায়িত্বশীল নির্ধারণ করে গেলেন বা নিয়োগ করে গেলেন তার পুত্র ইয়াজিদ কে । এই জায়গাটাই সাহাবা ইকরামরা অনেকেই মানেন নাই । কারণ তখন তার চেয়েও যোগ্য মানুষ সমাজে ছিল। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর বেঁচে আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বেঁচে আছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু বড় বড় জেলুলা খাস সাহাবী তারা কিন্তু তখন বেঁচে আছেন । তো তখন মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু কি করলেন আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন । তিনি তার ছেলে ইয়াজিদকে তার শাসন ক্ষমতা দিয়ে গেলেন। এই যে শুরু হল বাবার পরে ছেলে বুঝতে পারছেন রাজতন্ত্র শুরু হলো। এবার সাহাবা ইকরামদের মধ্যে অনেকে এটা মানতে চাচ্ছেন না। যারা মানতে চাচ্ছেন না তাদের মধ্যে একজন হচ্ছে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর , ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ছেলে। আছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রইসূল মুফাসসিরীন। আছেন আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের, জুবাইর ইবনুল আওয়াম এর ছেলে। এরকম বড় বড় সাহাবী এবং তারা মক্কা মদিনা । তো এখন এই সাহাবীদেরকে কি আমরা খারেজি বলবো। তারা যে পলিটিক্যালি তাকে সমর্থন করছেন না। পলিটিক্যালি কোন গভর্মেন্টের সমর্থন না করলে কি খারেজি হয়ে যায়। যদি বলে আরব বিশ্বের যত নেতা আছে এদের মধ্যে কিছু নেতা যদি ইসরাইলের হাতে হাত করে তাহলে সে কি খারেজি হয়ে যাবে।

ইমাম হোসাইন রাঃ এর কুফা যাত্রা ও কারবালা

যদি কেউ বলে পশ্চিমারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুসলিমরা ইয়ামেনে হামলা করছে এটা বললে কি কেউ খারেজী হয়ে যাবে। যদি কেউ বলে যে মধ্যপ্রাচ্যের কান্ট্রির কিছু নেতা তারা পশ্চিমাদের সাথে চুক্তি করেছে পেট্রোলেটাম মনিটরিং সিস্টেম সে কি খারেজি হয়ে যাবে? যদি কেউ বলে যাইনিসদের সাথে হাত হাত করে অনেক মুসলিম কান্ট্রি চলছে তাহলে কি মেডেলিস্ট এর সমালোচনার কারণে একজন ব্যক্তি খারেজী হয়ে যাবে? খারেজী মেনুফিক্সচার কোম্পানি বাংলাদেশের তারা এই সংজ্ঞা শিখায়। পলিটিক্যাল বিরোধিতা করলে আপনি খারেজি হয়ে যাবেন অথচ এখানে সাহাবী ইকরামরা মানছেন না ইয়াজিদকে। এখন দেখেন ইয়াজিদ কি করলো? এবার ইয়াজিদ প্রথমত সাহাবীদেরকে কনভিন্স করার চেষ্টা করল। তিনি ওখান থেকে তার দুদ পাঠালেন। দুদ এসে মক্কা মদিনায় বুঝালেন যে আপনারা মেনে নেন ভালো হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন ঠিক আছে মেনে নিলাম । আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন ঠিক আছে মেনে নিলাম। কিন্তু আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনি মানলেন না। তিনি মারছেন না , না আমি কিছুতেই মানি না। সে খেলাফতের যোগ্য না এর চেয়ে অনেক বড় বড় যোগ্য মানুষ আছে । আমি মানছি না। বরং তিনি এখান থেকে সরে আসলেন । এবার ইমাম হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর যার কথায় প্রশ্ন করেছেন লম্বা উত্তর দিচ্ছি । এবার ইমাম হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে অনেকেই বায়াত করতে চাইলো। যে আপনি যোগ্য খেলাফতের ইয়াজিদ যোগ্য না।ইয়াসির যোগ্য না আপনি যোগ্য । তার হাতে কুফাবাসি বায়াত করতে চাচ্ছে তাকে ডাকছে । যে আপনি চলে আসেন কুফায়। কুফা কোথায় ইরাকে? আপনি মক্কা থেকে কুফায় চলে আসেন আমরা আপনার হাতে বায়াত করব। এবার হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহু স পরিবারে তার পরিবার আহালাবে তারা সবাই নবীর পরিবারের সদস্য চিন্তা করেন। নবীর পরিবারের প্রায় ৮০ জন সদস্য। তারা বের হলেন । যাচ্ছেন কোথায় ? কুফায়।এবার ইয়াজিদের নিয়োজিত যে গভর্নর ছিল ইরাকের কুফায় তার নাম আব্দুল্লাহ বিন জিয়াদ । আব্দুল্লাহ বিন জিয়াদ সে একটা সেনাবাহিনী পাঠালো সেনাবাহিনীতে সদস্য ছিল ৪০০০ জন। এই চার হাজার সেনাবাহিনী নিয়ে আব্দুল্লাহ বিন জিয়াদের যে কমান্ডার সে আহেলীয়া বাইতদের কে ঘিরে ফেলল। তাদেরকে ঘিরে ফেলল ইমাম হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার স্ত্রী , তার ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে এবং তার আহেলিয়া বাইত সদস্যদেরকে। আহেলিয়া বাইত বুঝেন তো। নবীর পরিবারের সদস্য। এবার হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহু যুদ্ধ চাচ্ছেন না। তিনি যুদ্ধ চাচ্ছেন না। তিনি বলছেন আমাকে তিনটা পথের থেকে যে কোন একটা পথ বেছে নিতে দাও আমি তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে চাই না। এক নাম্বার আমাকে সরাসরি ইয়াজিদের সাথে সাক্ষাৎ করতে দাও আমি ওর সাথে কথা বলে সল্ভ করব প্রবলেম কি । দুই নাম্বার আমাকে পথ ছেড়ে দাও আমি চলে যাই কোন সীমান্তবর্তী এলাকায় সেখানে কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করব জিহাদ করব সেখানে মারা যাব শহীদ হব । অথবা আমাকে নিরাপদে মদিনায় ফেরত পাঠাও। তার তিনটা যুক্তি কি যৌক্তিক ছিল না? তিনি কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নাতি। যাকে কোলে নিয়ে নবী সাঃ অনেক সময় নামাজ পড়েছেন খুতবা দিয়েছেন চুমু খেয়েছেন। ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার নয়ন মনি চিন্তা করতে পারেন। এবং যিনি জান্নাতের যুবকদের সর্দার হবে। কিন্তু আব্দুল্লা বিন জিয়াদের যে সেনাবাহিনী হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহু এই আর্তনাদ শুনলো না। চার হাজার সৈন্য মিলে ৮০ জন সদস্যকে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। একজন শুধু বেঁচে ছিল তার নাম জয়নুল আবেদীন। শুধু একজন বেঁচে ছিল বাকি সবাই কে হত্যা করেছে। ৭৯ জন আহেলিয়া বাইতের সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।

কারবালা ও মদিনা অবরোধের ইতিহাস

খারেজি মেনুফ্যাকচার কোম্পানি কিন্তু এদেরকে খারেজি বলছে না। যারা হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যা করেছে। আপনি মিডিলিস্টের সমালোচনা করলে খারেজি হয়ে যাবেন। ওদের শিকড়টা চিনেন এখন। অথচ ওরাই কিন্তু ব্রিটেনের সাথে হাত মিলিয়ে তুর্কিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করেছে জানেন। ১৯১৬ সালে 1916 এরাই ব্রিটেনের সাথে হাত মিলিয়ে তুর্কিদের অটো মেনে বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে সশস্ত্র বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করেছে। ওরা খারেজি হয়ে যায়নি। পড়েন পড়লে জানবেন সত্য কি জিনিস।এখন যে হত্যা করেছে ইমাম হোসেনকে সে বর্ষার আগাতে বর্ষার আগা বুঝেন তো বর্ষার মাথায় হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর মস্তক উঠিয়ে ধরে এটাকে নিয়ে ইয়াজিদের কাছে গিয়েছিলেন নাউজুবিল্লাহ। ইয়াজিদ যদিও বা এটা আদেশ কিন্তু করেন নাই। সে ওই মস্তক দেখে আতকে উঠেছিল। এটা তুমি কি করেছো আমি তো তোমাকে এটা করতে বলিনি। কিন্তু আব্দুল ইবনে জিহাদ এই কাজটা করেছে ।এখানে আমরা ইয়াজিদকে নিষ্পাপ বলতে পারি না। বিকজ একজন শাসকের আন্ডারে যখন একটা ক্রাইম হবে। এর একটা দায়ভার তো তার উপরে পড়বেই। যদি এটা মেনে নেই সেখানে টেকনোলজি ছিল না অনেক দূরের পথ খবর পাওয়া যায় নাই তখন এটা অন্য ইস্যু হতে পারে । কিন্তু এর পরের ঘটনা গুলো আমাদেরকে অন্যদিকে নিয়ে যাবে মোর মনে রাখেন । এই ঘটনাটা হৃদয়বিদারক। এটা হচ্ছে এই দশই মহরম একটা হৃদয়বিদারক ঘটনা।এটা ঘটেছে কত হিজরীতে ৬২ হিজরীতে । ৬২ বা ৬১ হবে আর কি । তো দেখেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইন্তেকালের ৫০ বছর পরে এই কারবালার ঘটনা। এই ঘটনাটা কাকতালীয় ভাবে ১০ই মহরমএ ঘটে গেছে । তো আমরা মনে করি এটা স্মরণে আমরা সওম রাখি। আসলে এটা স্মরণে নয় ওই নাজাতে মুসার স্মরণে রাখতে হবে ঠিক আছে । তো কারবালার ঘটনা বুঝলেন। এই ৬১ হিজরীতে এ কারবালার ঘটনা ঘটতে এটা স্মরণে অনেকে রোজা রেখে থাকে সমাজে । আসলে এটা স্মরণে নয় নাজাতে মুসার স্মরণে রোজা রাখতে হবে ইনশাআল্লাহ তায়ালা । এর পর মদিনা বাসী এবং মক্কাবাসী এই যে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে ক্ষেপে গেল। তারা কিছুতেই তার আনুগত্য মানবে না। কিন্তু ইয়াজিদ চাপ প্রয়োগ করতে লাগলো। এক পর্যায়ে এসে মুসলিম ইবনে উকবা কে পাঠালো দশ হাজার সৈন্যকে দিয়ে মদিনায় । তিন দিন সে মদিনা অবরোধ করে রাখল। সবাইকে বলল যে ইয়াজিদের আনুগত্য করতে হবে। অন্যথায় তোমাদের ওপর হামলা করা হবে। নবীর শহরে মুসলিম ইবনে উকবার নেতৃত্বে পিছনে ইয়াজিদ ছিল। ইয়াজিদের শাসন আমলে মুসলিম ইবনে উকবা নেতৃত্বে 63 হিজরীতে ৩ দিন মদিনায় মেশাকার চালানো হয়েছে। মদিনার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। মদিনার মানুষ সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেছে ডিফেন্স করেছে। তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে মদিনার লুটপাট করা হয়েছে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছে। এখন আমাকে বলেন মদিনার যে মানুষগুলো এই মুসলিম ইবনে উকবার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যে দাঁড়িয়ে ছিল এরা কি খারেজি ছিল। ওরা যে শাসকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলো।

মদিনা ও মক্কার ঘটনা এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা

মুসলিম ইবনে উকবার নেতৃত্বে যে বাহিনী মদিনা আক্রমণ করল এবং মদিনা বাসি যে বীরত্তের সাথে তা ডিফেন্স করল। এখন কি মদিনার সব মানুষ খারেজী হয়ে গিয়েছিল? পলিটিক্যাল দ্বন্দ্বের সাথে খারেজিয়মের কোন সম্পর্ক আছে। মানুষকে কি বোঝায় শুধু তাই না ? এই সময় আব্দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনি ও তার বলোয় গড়ে তুলেছেন তার হাতে মানুষ বায়াত শুরু করেছে। আর ইয়াজিদকে মানুষ মানছে না। আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের তার হাতে আমরা খেলাফতের বায়াত করব। বহু মানুষ আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে বায়াত করা শুরু করলেন। এবং ইয়াজিদ এবার মদিনায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর ঠিক ঐ বছরে সেইম বছরে আরেকজন ব্যক্তি আছেন হুসাইন ইবনে নুমায়ের তাকে কিছু সেনাবাহিনী দিয়ে পাঠালেন মক্কা আক্রমণ করতে। এবং হুসাইন ইবনে নুমায়ের সেনাবাহিনী নিয়ে মক্কা আক্রমণ করল। মক্কায় কাবা ঘরে গ্লাফে আক্রমণ করা হয়েছে মিন জারিক ছোড়া হয়েছে। তো মদিনায় হামলা চালানোর পর একই বছর এই ৬৩ হিজরীতে ।আর মদিনায় এই যুদ্ধের নাম একটা আছে এই ইয়াজিদের নেতৃত্বে মুসলিম ইবনে উকবার যে হামলা চালিয়ে ছিল।যখন মদিনাবাসি এটা কে ডিফেন্স করেছে এবং মদিনায় মানুষ মারা গিয়েছে অনেক ,শহীদ হয়েছেন । এই যুদ্ধের নাম হচ্ছে হাররার যুদ্ধ। ওই বছরে ইয়াজিদের নেতৃত্বে আবারো মক্কায় আক্রমণ করা হয়েছে যেখানে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের তিনি খেলাফতের দায়িত্বের বায়াত গ্রহণ করছিলেন । সেখানে ও মিনজারি চালানো হয়েছে হামলা চালানো হয়েছে মক্কার কাবা ঘরের দেয়ালে পর্যন্ত মিনজারির গোলা পর্যন্ত লেগেছিল । মানুষ জানেই না কাবা ঘরে হামলা হয়েছিল। আমরা পলিটিক্যালি এই ঘটনা গুলোকে সমালোচনা করতে পারি। হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর হত্যাকান্ড সাধারণ ঘটনা ছিল না। হাররার যুদ্ধ কোন সাধারণ ঘটনা ছিল না। আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়েরকে মক্কার আক্রমণ করা কোন সাধারণ ঘটনা ছিল না। এরপরে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান যখন ক্ষমতায় আসেন তার ঠিক দশ বছর পরে তখন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এর নেতৃত্বে আবারো মক্কায় হামলা হয়েছে। এর নাম শুনেছেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। এবার এই হামলাতে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং তার অনুসারীদের সবাইকে শহীদ করা হয়েছে। হাজ্জাজ বিন ইউসুফের প্রতিরোধ করার সময় আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের এবং তার সঙ্গী সাথী তারা কি খারেজি ছিলেন ? আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের কে হত্যা করে রৌদ্রের মধ্যে তার লাশটা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের কে আপনাকে আমি বলি। আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু হলেন জুবাইর ইবনুল আওয়াম এর ছেলে।জুবাইর ইবনুল আওয়াম কে আপনাকে বলি ।জুবাইর ইবনুল আওয়াম হচ্ছেন জান্নাতের ১০ জনের মধ্যে সার্টিফিকেট প্রাপ্ত সাহাবীর একজন। আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের আসমা বিনতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সন্তান ।আসমা বিনতে আবু বক্কর কে আপনাকে জানাই ।আসমা বিনতে আবু বক্কর আবু বক্কর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর মেয়ে। জুবাইর ইবনুল আওয়াম এবং আসমা বিনতে আবু বক্কর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের সন্তান হচ্ছে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু। যাকে এভাবে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সময় হত্যা করা হয়েছে মক্কায়। এরপরে যদিও বা পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়ে যায় আস্তে আস্তে। এবং আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান এর সময় তিনিও প্রায় ২০ বা ২২ বছর ক্ষমতায় কাটান। ওই সময় মুসলিমরা এই সিন্ধু প্রদেশ জয় , ওই দিকে তারেক বিন জিয়াদের স্পেন জয়, এদিকে আমাদের ভারত বর্ষ জয় এগুলো ওই সময় ঘটেছে। এদিকে আমরা যাচ্ছি না মুল যেই জায়গাটা আপনাদেরকে আজকে বলতে চাচ্ছি সেটা হল এই প্রথমতো কারবালার ঘটনার সাথে দশ ই মহররমের সওমের কোন সম্পর্ক নাই। এটা নাজাতের মূসা আঃ সাথে সম্পর্কিত ।এই হিস্ট্রিটা আপনাদের জানা থাকা উচিত। কিভাবে আবু বক্কর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত বরণ পর্যন্ত ঘটনা গুলো ঘটলো। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে এই ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নেয়ার তৌফিক দান করুন। মূল বিষয়টা হচ্ছে এখানে পলিটিক্যাল বিরোধিতা একটা জিনিস।আর খারেজি আকীদা সম্পূর্ণ ডিফারেন্ট জিনিস । আর অনেক পলিটিক্যাল দ্বন্দ্ব পেরিয়ে মুসলিম ইতিহাস , ইসলামের ইতিহাস আজ এ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই দ্বন্দ্ব গুলোর কারণে আমরা কখনো এক পক্ষ আরেক পক্ষকে কাফের , ফাসেক , জালিম , খারেজি এইসব ট্যাগ লাগাতে পারিনা। এগুলো দুঃখজনক আল্লাহ পাক আমাদেরকে এভাবে পরীক্ষা করেছেন। এই ঘটনা গুলো এভাবে ঘটে গিয়েছে। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার তৌফিক দান করুন। মুসলিমদের মধ্যে আপোষে ভাই ভাই সম্পর্ক রাখার তৌফিক দান করুন আমীন।

সাধারণ প্রশ্ন

১০ মহরমের রোজার সাথে কারবালার ঘটনার সম্পর্ক কী?

লেখকের মতে ১০ মহরমের সওমের সাথে কারবালার ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। এই দিনের সওম মুসা আঃ ও বনি ইসরাইলের নাজাতের সাথে সম্পর্কিত।

ইমাম হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত কোন দিনে ঘটেছিল?

লেখক জানিয়েছেন, ইমাম হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত কাকতালীয়ভাবে ১০ মহরমে ঘটে যায়, যা ৬১ বা ৬২ হিজরীর ঘটনা।

খারেজি বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?

লেখকের ভাষ্যমতে খারেজি আকীদা হলো কবিরা গুনাহ করলে ব্যক্তি কাফের হয়ে যায়, এই বিশ্বাস। লেখক বলেছেন, পলিটিক্যাল বিরোধিতার সাথে এই আকীদার সম্পর্ক নেই।