প্রত্যেকটা যুবকের আলোচনাটি শুনা উচিৎ
part 1 ১ : একজন প্রশ্ন করেছে যে আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি কিন্তু সিগারেট ছাড়তে পারছি না। আমার কি করনীয়?
এটা কমন প্রশ্ন অনেকেই এমন রোগে ভুগছেন। সিগারেট আপনাকে ছাড়তে হলে ভাই একদিনে ছাড়তে হবে একদিনে। আজকে খান শান্তি মত খান কালকে থেকে বলবেন আর খাব না। আজকে বলবেন যে কালকে থেকে খাবো না। আপনি যদি প্লান করেন একমাস পর থেকে আর সিগারেট খাব না আপনি ছাড়তে পারবেন না। আমি এক বছর পর ছাড়বো ছাড়তে পারবেন না। আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না। যারা সিগারেট খাওয়া ছেড়েছে একদিনে ছেড়েছে। কাল থেকে খাব না খাব না শেষ। এর বিকল্প কিছু খান। মুখে এমন কিছু রাখেন যেটা আপনাকে ওই নেশাটা দূর করাবে । ফর এক্সাম্পল আপনি জর্দা ছাড়া পান খান। যদি খেতেই চান কিছু। আপনি চকলেট খান অথবা কালিজিরা খান। কিছু একটা মুখে দিন যেটা দিয়ে আপনি আপনার ওই নেশা টা পূরণ করবেন। আর একটা বিষয় মাথায় রাখবেন নামাজের হিসাব সবার আগে দিতে হবে। যদি সিগারেট খাওয়ার মত সামান্য ইস্যুতে আমার নামাজ নষ্ট হয়ে যায়। তাহলে আমার চেয়ে বোকা আর নাই কেউ পৃথিবীতে। অতএব নামাজকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সিগারেট খাওয়া টা আজকের থেকে ছেড়ে দেন। ১০ দিন ২০ দিন এক মাসের অপেক্ষা করবেন না । আরেকটা কাজ আপনি করবেন
কন্টিনিউজলি সারাদিন আল্লাহর জিকির করতে থাকবেন । সুবহানাল্লাহ , আলহামদুলিল্লাহ , আল্লাহু আকবার , লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ,সূরা ফালাক ,সূরা নাস , সূরা ইখলাস পড়তে থাকবেন। আল্লাহ আপনার মুখের মধ্যে নূর দিবে ইনশাল্লাহ আপনার ঐসব মুখে দিতে ইচ্ছা করবে না ইনশাআল্লাহ তায়ালা।
২: এক ভাই প্রশ্ন করেছেন অনেক জটিল। জানিনা এই বিষয়গুলো আপনারা সবাই বুঝেন কিনা। আমি উত্তর দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ। তিনি প্রশ্ন করেছেন জায়োনিস্ট মুভমেন্ট কি জিনিস? এটা খুব জটিল প্রশ্ন।
এটা একটা মুভমেন্ট সারা ওয়াল্ড ওয়াইট চলছে বিগত ১০০ , ২০০ বছর থেকে । আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআন মাজীদে সূরা মায়েদা এর মধ্যে বলেছেন হে মুমিনগণ , তোমরা যারা ঈমান এনেছ তোমরা ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের কে বন্ধু রূপে গ্রহণ করোনা। সূরা মায়েদায় মেবি ৫১ নাম্বার আয়াতে আছে। কোন ইহুদি কোন খ্রিস্টানকে গ্রহণ করো না। যারা একে অপরের বন্ধু। ইহুদি এবং খ্রিষ্টানদের মধ্যে যারা একে অপরের বন্ধু তাদেরকে তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করোনা । সবাইকে না কিন্তু। ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের মধ্যে যারা একে অপরের বন্ধু এদেরকে হে মমিনগণ তোমরা বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ওদের দিকে মুখ ফিরায় তাহলে সে এই উম্মতের কেউ না সে তাদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহপাক এই জালেমদেরকে হেদায়েত করেন না। এই হলো আয়াতটা। তো এখানে আমরা বুঝতে পারলাম ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের মধ্যে একটা বন্ধুত্ব থাকবে। এখানে মূল বিষয় হচ্ছে যখন এই আয়াতটা নাযিল হয়েছে তখন ইহুদি খ্রিস্টানদের মধ্যে কোন বন্ধুত্ব ছিল না। তখন ইহুদিদের সাথে মোশরেকদের বন্ধুত্ব ছিল।
ইহুদি-খ্রিষ্টান বন্ধুত্ব ও জায়োনিস্ট মুভমেন্ট
আবু জাহেল আবু লাহাব এর সাথে বনু কুরাইজা , বনুকাইনুকা এদের সাথে বন্ধুত্ব ছিল। এই বন্ধুত্বের সম্পর্কটা হল ১৮০০ শতকের গোড়ার দিকে এসে । এর আগ পর্যন্ত কিন্তু এটা হয়নি বরং এরা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। ইসহাক মেমোরিয়ালকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে কারা? মুসলমানরা ? জিউসরা দিমুনে মানে ইহুদিরা। তারমানে ওরা আগে থেকেই শত্রু ছিল। কিন্তু এখন মিস্টিরিয়াসলি লক্ষ্য করবেন আপনি এখন একটা এসোসিয়েশন বা একটা মুভমেন্ট দেখা যায় যে তারা ইহুদি এবং খ্রিষ্টানরা পরস্পর বন্ধু। যেমন ইসরাইলের বন্ধু আমেরিকা। ইসরাইলের সাথে পশ্চিমা যত কান্ট্রি আছে ব্রিটেন , ফ্রান্স ,জার্মানি এরা সবাই একটা কমিউনিটি এটা কিন্তু আগে ছিল না। এটা ভিতরের একটা মুভমেন্ট ।এটাকে জায়োনিস্ট মুভমেন্ট বলা হয়। আসলে ছাড়া ওয়ার্ল্ডে এখন ওরাই নিয়ন্ত্রণ করছে। পলিটিক্স বলেন , ইকোনমিক্স বলেন , মিডিয়া বলেন , অস্ত্রশস্ত্র বলেন এভরি সিঙ্গেল সেক্টর আসলে তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে। অটোমি ইম্প্যাক্ট ডিভিডেন্ড এরপর থেকে ওয়ার্ল্ডের কর্তৃত্ব তাদের হাতে ।যাই হোক জায়োনিস্ট মুভমেন্ট কাকে বলে। এক কথায় উত্তর হচ্ছে ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের মধ্যে যারা একে অপরের বন্ধু এরা পুরো ওয়ার্ল্ড কে শাসন করার যে মিশন নিয়ে কাজ করছে এটাকেই জায়োনিস্ট মুভমেন্ট বলে ।মুসলিমদের উচিত নয় এই মুভমেন্টের সাথে যুক্ত হওয়া বা এদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা। রাশিয়া এবং আমেরিকা কি বন্ধু? রাশিয়া এবং ইউক্রেন কি বন্ধু? পশ্চিমা আর রাশিয়া কি বন্ধু? চাইনিজ আর আমেরিকা কি বন্ধু? উত্তর কোরিয়া এবং আমেরিকা কি বন্ধু? ওরা এই আয়াতগুলো বুঝতে পেরেছে আমরা বুঝতে পারিনি। কিন্তু অনেক মুসলিম কান্ট্রির সাথে ওদের বন্ধুত্ব আছে। অনেক মুসলিম কান্ট্রি এরা পরস্পরের ভাই ভাই না বরং এরা পরস্পর বোন বোন বান্ধবী বান্ধবী । যাইহোক আল্লাহ পাক আমাদেরকে বোঝার তৌফিক দান করুন।
৩ : অনেক ভাই স্টুডেন্ট বয়সে রিযিক নিয়ে টেনশন করে। স্টুডেন্ট বয়সে রিযিক নিয়ে টেনশন করা কি উচিত?
উত্তর হচ্ছে না। স্টুডেন্ট বয়সে রিযিক নিয়ে টেনশন করা উচিত নয়। স্টুডেন্ট বয়সে শুধু পড়াশোনা করবেন। হ্যাঁ, আপনি এমন রিজিক অনশন করতে পারেন যেই মিউজিকটার সাথে পড়াশোনা সম্পৃক্ত ফর এক্সাম্পল টিউশনি। কোচিং সেন্টারে কাজ করছেন বা পড়াশোনা সম্ভ্রান্ত কোন কাজ করছেন। এই কাজটা করতে পারেন। এর বাইরে অন্য কোন কাজের দিকে আপনি ফোকাস করবেন না আপনাকে পড়াশোনায় করতে হবে। যত পড়াশোনা করার বিয়ের আগেই করবেন। বিয়ের পর আপনার রেসপন্সিবিলিটি বাড়বে অনেক সমস্যা আছে অনেক চাপ আসবে । তখন আপনি ফুলটাইম ইফোর্ট দিতে পারবেন না এমন হতেও পারে। তবে যারা দিতে পারে তারা হয়তো সৌভাগ্যবান হয় হয়তো তাদের ফ্যামিলির সাপোর্ট থাকে। রিজিকের কোন টেনশন নাই। তারা হয়তো দিতে পারবে কিন্তু সবাই দিতে পারবে না। আপনি এই সময় শুধু পড়াশোনা করবেন। পড়াশোনা সম্পৃক্ত কাজে থাকবেন দ্বীনি কাজে থাকবেন , দাওয়াতি কাজগুলো করবেন এই কাজগুলো করবেন ইনশাল্লাহ। রিজিকের টেনশন করবেন না। একটা কথা বার বার বলছি আপনার রিজিকের একটা দানা বাকি রেখে আপনি পৃথিবী থেকে যাবেন না। যতটুকু আছে ততটুকু খেয়ে তারপর যাবেন। অতএব এত টেনশন করবেন না।
শিক্ষার্থী বয়সে রিযিকের চিন্তা ও পড়াশোনার গুরুত্ব
৪ : অনেক যুবক জেনারেল লাইন থেকে পড়াশোনা করে। এবং দ্বীনের পথে ফিরে আসা আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু দীর্ঘদিন জেনারেল লাইনে পড়েও তারা এসব ছেড়ে দিয়ে মাদ্রাসা লাইনে ভর্তি হচ্ছে । এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?
আসলে এটা ডিফিকাল্ট সবার ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য না সবাই এটা পারবে না। জেনারেল লাইনের পড়াশোনার একেবারে ছেড়ে দিয়ে যে মাদ্রাসায় ভর্তি হতে হবে এই চিন্তাটা আমার মনে হচ্ছে ঠিক হচ্ছে । আমার পরামর্শ হচ্ছে আপনি জেনারেল লাইনে যে সাবজেক্টে পড়েছেন ফিজিক্স হোক , কেমিস্ট্রি হোক , বায়োলজি হোক ,মেডিকেল সেক্টর হোক বা ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টর হক যেকোনো সেক্টর হোক না কেন ।আপনি আপনার ওই জ্ঞানটাকে ইসলামের কল্যাণের কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন দ্যাটস অল। এটা ভাল হবে ইনশাআল্লাহ। একজন ডক্টর সে কি ইসলাম এর খেদমত করতে পারবে না। একজন ইঞ্জিনিয়ার পারবেনা। একজন পলিটিশিয়ান সে যদি ইসলামের আদর্শ লালন করে সে কি পারবে না খেদমত করতে। সবাইকেই কি আলেম হতে হবে? সবাইকেই কি মাদ্রাসায় ভর্তি হতে হবে? কিন্তু যেই সিলেবাসটার কথা বললাম এই পড়াশোনাটুকু করার জন্য আপনার আলেম সহবতের দরকার আপনি আলেম সহপথে যান। সহপথ কি জিনিস? মানে আপনি তাকে দেখে শিখবেন। একজন আলেমের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করবেন। তার খুতবা শুনবেন। তার সহ পথে থেকে পরামর্শ নিয়ে জীবন গড়বেন। এটা বেটার হবে ইনশাল্লাহ তায়ালা। আল্লাহপাক বোঝার তৌফিক দান করুন।
৫ : তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার সময় কখন?
উত্তর হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার সবচেয়ে উত্তম সময় হচ্ছে রাতের শেষ অংশে রাত কে তিন ভাগে ভাগ করতে হবে। মনে করেন এখন সূর্য ডুবছে সাতটায় এবং সূর্য উঠছে পাঁচটায় ।এই যে নয় ঘন্টা হাতে থাকে এই নয় ঘন্টাকে তিনভাগ করেন। শেষের যে অংশটুকু মানে একটা থেকে চারটা। এই অংশটুকু হচ্ছে তাহাজ্জুদ পড়া সবচাইতে উপযুক্ত সময়। কত রাকাত পড়বেন এই রাকাত সংখ্যা নিয়ে ঝগড়া করবেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু'রাকাত নামাজ পড়তেন । তার এত এত ইফোর্ট দিতে হত যে তার পুরো পা মোবারক ফুলে যেত। চিন্তা করেন দু'রাকাত নামাজ পড়তে তিনি কত সময় ব্যয় করেছেন। কখনো তিনি ৮ রাকাত পড়েছেন কখনো ১১ রাকাত পড়েছেন। নবীজির সেই আট রাকাত ১১ রাকাত আর আমাদের ১০০ রাকাত কখনো সমান হবে ? কখনোই সমান হবে না। এখানে আমাদের সলিউশন কি দুই দুই রাকাত করে আপনি রাতের সালাত পড়তে পারেন। রাতের সালাত দুই দুই রাকাত করে হাদিসে এসেছে এর চেয়ে বেশি পড়া যাবে না এমন নয় বিষয়টা। আপনি দুই দুই রাকাত করে যত ইচ্ছা পড়তে পারেন। কিন্তু নামাজে কোয়ালিটি নিয়ে আসতে হবে। নামাজে কেরাতটা লম্বা হবে চেষ্টা করতে হবে , রুকুটা লম্বা হবে , সেজদা টা লম্বা হবে। নামাজের সেজদায় বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। মোনাজাতে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। মানে এই সময়টাই কাজে লাগাতে হবে। রাকাত নিয়ে কখনো ঝগড়া করবেন না। নবীজির দুই রাকাত আমরা কখনো ২০০ রাকাতে শেষ করতে পারবো না। অতএব দুই দুই রাকাত করে আপনি পড়তে থাকেন যতক্ষণ আপনার এনার্জি আছে। আর এই নামাজে বেশি বেশি করে দোয়া করবেন আল্লাহ পাক এই নামাজে দোয়া কবুল করেন ।
সাধারণ প্রশ্ন
সিগারেট ছাড়তে চাইলে কী করতে বলা হয়েছে?
আজ থেকেই ছাড়ার কথা বলা হয়েছে, একদিনে ছাড়তে হবে এবং ১০-২০ দিন বা এক মাসের অপেক্ষা না করতে বলা হয়েছে। এর সাথে মুখে বিকল্প কিছু রাখার এবং সারাদিন আল্লাহর জিকির করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্টুডেন্ট বয়সে রিযিক নিয়ে টেনশন করা কি উচিত?
না, স্টুডেন্ট বয়সে রিযিক নিয়ে টেনশন করা উচিত নয়। এই সময় মূলত পড়াশোনার দিকে মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে।
তাহাজ্জুদের সবচেয়ে উত্তম সময় কখন?
রাতকে তিন ভাগে ভাগ করে শেষের অংশ, যেমন একটা থেকে চারটা, তাহাজ্জুদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে বলা হয়েছে। রাতের সালাত দুই দুই রাকাত করে যত ইচ্ছা পড়া যাবে এবং কোয়ালিটির দিকে নজর দিতে বলা হয়েছে।