যে ইতিহাস অনেকের অজানা
বনী ইসরাইল ও আমালিকা যুদ্ধের ইতিহাস
মুসা আলাইহিস সাল্লাম এর পরে অমীমাংসিত যুদ্ধ আমালিকা সম্প্রদায় এর সাথে। এটা বাস্তবায়ন করেছেন পরবর্তীতে ইউশা ইবনে নূন নামের একজন নবী । তার নেতৃত্বে তালুত নামের সেনাপতি এই যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। ওই দলের মধ্যে বড় যোদ্ধা ছিল তার নাম ছিল জালুত।এটা সুরা বাকারার মধ্যে পাবেন। আর এই তালুতের আন্ডারে ছিল দাউদ আলাইহিস সাল্লাম তিনি তীর নিক্ষেপ করেছিলেন এবং জালুতের চোখে গিয়ে লেগেছে। এই যুদ্ধে ইউশা বিন নুন এর নেতৃত্বে বনু ইসরাইল জয়লাভ করে ওই ফিলিস্তিন দখল করে । এবং ওই ফিলিস্তিনে প্রবেশ অধিকার পায়। তারা বাইতুল মাক্কাস সহ তারা পুরা হোলি ল্যান্ড যেটাকে বলে পবিত্র ভূমি তারা সেখানকার অধিবাসী হওয়া শুরু করেন । আল্লাহ পাক তাদেরকে সেই জায়গা দান করলেন। এবং আল্লাহ পাক শর্ত দান করেন তোমরা যদি সৎ থাকো এই জায়গা তোমাদের আন্ডারে থাকবে। আর যদি অসৎ হও সীমালংঘন কর আবার আগের মত তোমাদেরকে এই জায়গা থেকে বের করে দেওয়া হবে। তারা কিছুকাল সৎ ছিল। তারা দুই দুই বার সীমালংঘন করেছে। এই দুইবার সীমা লঙ্ঘন করার কথা সূরা বাণী ইসরাইলে দেওয়া আছে ।একবার যখন সীমালংঘন করলো তখন রোমানদের দ্বারা এরা মার খেয়েছে। রোমানরা এসে এদেরকে পিটিয়ে এখান থেকে বের করে দিয়েছে। তারপর আবার যখন সীমালংঘন করলো তখন নেবুচাদনেজার নামক একজন রাজা সে গিয়ে আবার তাদেরকে বের করে দিয়েছে ।বের করে তাদেরকে দাসত্ব শৃঙ্খলা আবদ্ধ করে ব্যাবিলনের কাছে নিয়ে এসে। এই জায়গাটা একটু ভালো করে বুঝেন। দুইবার সীমালংঘন করেছে একবার রোমানরা তাদেরকে শায়েস্তা করেছে । আরেকবার নেবুচাদনেজার তাদেরকে শায়েস্তা করেছে ।আচ্ছা, দ্বিতীয়বার শায়েস্তা করার পর তাদেরকে দাস বানিয়ে ইরাকে নিয়ে আসা হয়। ইরাকে ব্যাবিলন এই সভ্যতায়। এবার বনি ইসরাইলরা আবার সেই দাসত্যে আসলো । যেই মিশরের দাসত্ব থেকে আল্লাহ পাক মুক্ত দিয়ে এইখানে নিয়ে গেলেন । আবার সেই বনি ইসরাইলরা দাসত্বের শৃঙ্খলা আবদ্ধ হলো। এবার এই দাসত্বের জীবন যখন চলছে তখন তারা আপসে কথাবার্তা বলতো চর্চা করতো । কি চর্চা? আমাদের তাওরাতে কিন্তু একটা কথা লেখা আছে। কি কথা লিখা আছে ? যে একজন মাসিহ আসবে আমাদের।আর যখন সেই মাসিহ আসবে ত্রানকর্তা তখন আমরা আবার বিশ্বের রুলিংস্ট্রেট হব আবার সেই জায়গা দখল করতে পারব। এটা কোথায় লেখা আছে? তাওরাতে কিন্তু এখনো এটা লেখা আছে। যে আমাদের একজন ত্রানকর্তা আসবে যিনি আসলে আমরা আবার বিশ্বের শাসন ভার ফিরে পাব। এটা কখন তারা আলোচনা করছে ? যখন তারা এখানে দাস।এরপর আল্লাহ পাক সেই ত্রানকর্তাকে পাঠালেন তার নাম কি? ঈসাক মেমোরিয়াম ছিলেন সেই মাসিহ। কিন্তু তারা সেই মাসিহ কে চিনতে ভুল করলো ব্যর্থ হল । বরং তারাই আবার ঈসা আলাইহিস সাল্লামকে হত্যা করার চেষ্টা করল।আল্লাহপাক বলছেন তারা ঈসাক মেমোরিয়াম কে হত্যা করতে পারেনি ক্রুসবৃদ্ধ করতেও পারে নাই। বরং আল্লাহপাক তাকে তার কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন। আমাদের এই সমাজে কাদিয়ানী যারা আছে এরা কিন্তু বিশ্বাস করে না যে ঈসা আলাইহিস সাল্লাম কে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।কুরআন স্পষ্ট করে বলছে আল্লাহ পাক তাকে তার কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন।
ঈসা আলাইহিস সালাম ও মাসিহ প্রসঙ্গ
কিভাবে উঠিয়েছেন কোন অবস্থায় আছেন এটা জানার দরকার আছে আমার ? আল্লাহ পাক উঠিয়ে নিয়েছে এবং সশরীরে তিনি ওখানে কিভাবে জীবিত আছেন এটা আল্লাহপাক ভালো জানেন । ওরা কিন্তু এটা বিশ্বাস করে না। আর এই ফেতনা গুলো দিন দিন ছড়িয়ে পড়ছে সমাজের মধ্যে সতর্ক থাকবেন। খুব সতর্ক থাকবেন। তো সত্যি কারের মাসিহ কে তারা চিনতে ব্যর্থ হল এবং হত্যা করার চেষ্টা করল। আল্লাহপাক তাদেরকে উঠিয়ে নিলেন এবং ওদের উপর আজাব দিলেন। কি আজাব ? ওরা মিথ্যা একজনকে সত্যি মাসিহ মনে করবে। এবং তাকে অনুসরণ করবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আবার ও তাদেরকে সেইভাবে ধ্বংস করবেন ঠিক যেমনভাবে তাদের কে লোহিত সাগরে ডুবিয়ে মেরেছেন ? ফেরাউন কে যখন ডুবিয়ে মারা হয় তারপরে ১৯০৭ সালে তার মমিতা আবিষ্কার করা হয় ।তার আগে তার মমিতার সন্ধান পাওয়া গেছে ১৮৯৭ সালের দিকে । আর ১৯০৭ সালে মমিটা কে গবেষণা করে রেজাল্ট জানিয়ে দেওয়া হয়। এটা সেই ব্যক্তিরই মমি নিশ্চিত । যখন থেকে ফেরাউনের মমি পাওয়া গেছে তখন থেকে পৃথিবীতে দেখবেন একটা রেভিলেশনও চলছে। এটাকে বলা হয় জায়নিস্ট মুভমেন্ট। এবং এরা বিশ্বকে রুল করতে চায় নেতৃত্ব দিতে চায় । সারা বিশ্বের প্রতিটা জায়গা তারা দখল করতে চায়। পলিটিকাল জায়গাগুলো, ইকোনমিক জায়গাগুলো , ব্যবসা ,প্রযুক্তি ,টেকনোলজি সবকিছু । আর এখন সত্যি কথা বলতে এখন বিশ্বটাকে তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে এটাই সত্যি কথা। এখানে তাদেরকে বলা হয়েছে একজন মাসিহ আসবে যিনি আসলে তারা আবার সেই ক্ষমতা ফিরে পাবে। কিন্তু সেই মাসিহ কে তারা চিনতে ভুল করল। আল্লাহপাক এখানে তাদেরকে পরীক্ষায় ফেলেছেন। আরেকজন মিথ্যা মাসিহ কে দিয়ে এদেরকে পরীক্ষা করা হবে । যাকে তারা সত্য মাসিহ মনে করবে কিন্তু সে সত্য মাসিহ নয়। সে হবে প্রকৃতপক্ষে মাসিহুদ দাজ্জাল। এই দাজ্জালকে তারা মনে করবে সত্য মাসিহ । কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঈসা আলাইহিস সাল্লাম কে নামিয়ে সত্য মাসিহর হাতে মিথ্যা মাসিহ কে নিহত করাবেন মেরে ফেলবেন । তারপর আল্লাহ তাআলা সেই জায়গাটাকে মুসলিমদের কাছে দান করবেন ইনশাআল্লাহ তায়ালা। এখন মূল বিষয়টা হচ্ছে এই আশুরা এবং মহররমের পেছনে একটা বড় হিস্ট্রি আছে। এই হিস্ট্রি টা সামনে ও যাবে হিস্ট্রিটা শেষ হয়ে যায় নাই। আজকের বিশ্বের সেই বনু ইসরাইলের উত্তরসূরী যারা তারা তাদের রিলিজিয়ন কে বিকৃত করে একটা মুভমেন্ট তৈরি করেছে সেই মুভমেন্ট হচ্ছে জাইনিস্ট মুভমেন্ট । এবং এই মুভমেন্ট সারা বিশ্বের বড় বড় বিষয়গুলো কে নিয়ন্ত্রণ করছে। শুধু তাই নয় এখন কিন্তু তারা ওই হলিল্যান্ড আবার দখল করেছে। এইতো ১৯১৪ থেকে ১৭ সালের মধ্যে তারা আবার সেই জায়গা দখল করেছে। ২০০০ বছর যারা যেই জায়গায় প্রবেশ করতে পারে নাই তারা ১৯১৪ থেকে ১৭ সালের মধ্যে সেই জায়গা চলে গেছে । অলরেডি তারা সেখানে রাষ্ট্র কায়েম করেছে। অলরেডি তারা সেখান থেকে সারা ওয়ার্ল্ডের বড় বড় বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। এবং তারা পুরা হোলিল্যান্ড কে কব্জা করে ফেলছে প্যালেস্টাইনদের কে ওখান থেকে বের করে দিচ্ছে। দিন দিন তাদের আয়তন বাড়ছে। এবং সারা বিশ্বে যত ইহুদি আছে সব গিয়ে সেখানে মিলিত হয়েছে। এবং তাদের প্রতিশ্রুতি কি ? তাদের যখন মাসিহ আসবে তারা সারা বিশ্বকে সেখান থেকে শাসন করবে। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হয়তোবা তা সত্যি কার অর্থে সারা বিশ্বকে রোল করবে জুলুমের বলে। সারা বিশ্বে তারা জুলুম ছড়িয়ে দিবে। বড় বড় প্রতিটা ডিপার্টমেন্ট তারা নিয়ন্ত্রণ করবে জুলুমের বর্ষবর্তি হয়ে । মাজলুমের উপর জুলুম বাড়বে। কিন্তু এটা হতে হতে এক পর্যায়ে আল্লাহ পাক ইমামুল মাহাদী কে পাঠাবেন । ঈসা আলাইহিস সাল্লামকে পাঠাবেন।
part 3 তাদের হাত ধরে ইনশাআল্লাহ মুসলিমরা আবারও সেই জায়গা বিজয় করুন লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ তায়ালা । এবং ইতিহাসের সর্বশেষবারের মতো তাদেরকে হলিল্যান্ড থেকে বের করে দেওয়া হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঠিক যেভাবে একদিনের মধ্যে লোহিত সাগরের মধ্যে ফেরাউন এবং তার দলবলকে এনে ডুবিয়ে দিয়েছেন ঠিক সেইভাবে আল্লাহ পাক আরেকটা পরিকল্পনা করেছেন। যাতে করে সমস্ত জালিমদেরকে একটা জায়গায় নিয়ে গিয়ে ডুবিয়ে মেরে দেওয়া যায় সে জায়গাটি হচ্ছে জেরুজালেম।এখানে আরো একটা ঘটনা ঘটবে ইতিহাসে। সেটা হচ্ছে সমস্ত জালেম যারা জুলুম করছে সারা বিশ্বের ওপরে তাদেরকে সেখানকার কর্তৃত্ব দেওয়া হবে। আল্লাহ পাক কৌশলে তাদেরকে এখানে টেনে নিয়ে আসবেন। তারপরে এক দফায় ইমামুল মাহাদী এবং ঈসা আলাইহিস সাল্লাম এর হাত দিয়ে এখানে সমস্ত জালিমদেরকে কুপোকাত করে ফেলা হবে ইনশাআল্লাহ । এবং এটা হবেই। তারপর ঈসা আলাইহিস সাল্লাম সেখানে ইমামুল আদিল একজন ন্যায় পরায়ন নবি এবং বাদশা হিসেবে তিনি সেখানে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ইনশাল্লাহ তায়ালা সারা বিশ্বকে শাসন করবেন। ইমামুল মাহাদী আগে মৃত্যুবরণ করবেন কিন্তুঈসা আলাইহিস সাল্লাম তার পরেও বেঁচে থাকবেন । ঈসা আলাইহিস সাল্লাম বিয়ে-শাদী করবেন তার সন্তান সন্ততি হবে তারপরে তিনি মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবেন। তাকে দাফন করা হবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর পাশে। এরপরেও মানুষ আবার খারাপ হওয়া শুরু করবে । রাস্তাঘাটে দাঁড়িয়ে তারা জেনা করবে। তারপরে সর্ব নিকৃষ্ট মানুষের সামনে আল্লাহ পাক মহাপ্রলয় বা কেয়ামত ঘটাবেন। হিস্ট্রি এভাবে শেষ হবে। তারমানে আমরা বুঝতে পারছি আশুরা এবং মহররমের ১০ তারিখের সাথে মুসা আলাইহিস সাল্লাম , ফেরাউন , বনু ইসরাইল এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে যাইউনিজম ইহুদি জাতির উত্থান ইসরাইল প্যালেস্টান এগুলো জড়িত আছে। এই পুরো বিষয়টা আপনারা স্টাডি করেন আরো বেশি ইনফরমেশন পাবেন। আপনার অন্তর চক্ষু খুলে যাবে ইনশাআল্লাহ। ফেরাউনের মন্ত্রী পরিষদ যারা শয়তানিতে পিএইচডি করেছিল আর কি। তাকে পরামর্শ দিল একটা বড় ময়দানে যাওয়া যাক যেখানে আমরা বড় বড় যাদুকর কে ডাকবো।সব বড় বড় যাদুকর কে ডাকা হল মিশরের ।এবং বলে রাখি যে যাদু বিদ্যা কিন্তু সত্য। সুলাইমান আলাই সাল্লাম এর সময় থেকে এটা চলে আসছে। হারুত এবং মারুত ফেরেশতা কে পরীক্ষা করা হয়েছে মানবজাতিকে। জাদু থেকে বাঁচার জন্য কুরআন এবং সুন্নাহর মধ্যে যে দোয়া কালাম আছে ওগুলো নিয়মিত পড়বেন ইনশাআল্লাহ ।আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন । এবার জাদুকর একদিকে মূসা আলাইহিস সাল্লাম আরেকদিকে।তো মুসা আলাইহিস সাল্লাম কে তারা বলছেন তুমি আগে ছুড়ে মারবে না কি আমরা আগে ছুড়ে মারবো। মুসা আলাইহিস সাল্লাম বললেন তোমরা আগে ছুড়ে মারো। তখন তারা যখন লাঠি গুলো ছুড়ে মারলো এগুলো সাপ হয়ে গেল। এটা চোখের ভেলকি বাজি ছিল । আল্লাহপাক কুরআনে বলেছেন বড় একটা জাদু করেছিল তারা। মানে তারা যাদু বিদ্যায় খুব পারদর্শী ছিল। এখন যেমন সাইন্স এর যুগ তখন কিন্তু যাদুবিদ্যার যুগ ছিল। তো মুসা আলাইহিস সাল্লাম কিছুটা ভয় পেয়ে গেলেন । আল্লাহপাক বললেন তুমি ভয় পেয়ো না বরং তুমি লাঠিটা ছুড়ে মারো।
ফেরাউন ও জাদুকরদের ঘটনা
আল্লাহ পাক বললেন তুমি লাঠি ছুড়ে মারো ইনশাআল্লাহ তুমি বিজয় হবে। মুসা আলাইহিস সাল্লাম লাঠিটা ছুড়ে মারার সাথে সাথে তার লাঠিটা যে সাপে রূপান্তরগুলো সেই সাপটা বাকি সব সাপগুলোকে খেয়ে ফেলল। এই দৃশ্য দেখার সাথে সাথে ওই জাদুকররা যারা ছিল সবচেয়ে বড় বড় জাদুকর একটা সমাজের সবচেয়ে বড় বড় জাদুকর সাথে সাথে মুসলিম হয়ে গেল সুবাহানাল্লাহ। বলল আমরা মুসা আলাইহি সাল্লাম এবং হারুন এর ওপর ঈমান নিয়ে আসলাম। ফেরাউন বলল ও আচ্ছা তাহলে মুসাই হচ্ছে তোমাদের লিডার যে তোমাদেরকে যাদু শিখিয়েছে। পলিটিকাল লোকজনের কথাগুলো এমনই হয় সত্যি কখনো স্বীকার করতে চায় না। তাহলে মুসাই মনে হয় তোমাদের থেকে বড় জাদুকর। তোমাদের শাস্তি দিব এখন আমি। কি শাস্তি? ওই যে শূলদ্বন্দ্ব দিয়ে ডানদিকের হাত ডানদিকের পা কেটে ফেলবো। একদিকে হাত এক দিকের পা কেটে শূলদ্বন্দ্ব এ ঝুলিয়ে রাখল। তখন এই জাদুকররা একটা কথা বলেছিল যেটা পড়লে চোখ থেকে পানি পড়ে যায়। এই জাদুকররা বলেছিল তোমার যা ইচ্ছা তাই কর। তোমার যা মনে চায় তুমি তাই কর। কথাটা শুনেছেন। তোমার যা মনে চায় তাই কর কিন্তু আমরা মুসা এবং হারুনের রবের উপর ঈমান এনেছি। আশা করা যায় যে আমরা এই ঈমান আনার ফলে সারা জীবন জাদুবিদ্যা চর্চা করে যে পাপ করেছি আল্লাহপাক সব পাপ মাফ করে দিবে ইনশাআল্লাহ। দেখেন একটা সেজদা না করেও তারা জান্নাতে চলে গেল দেখলেন। তারা কিন্তু নামাজ পড়তে পারে নাই সুযোগ হয় নাই। রোজা রাখতে পারে নাই যাকাত দিতে পারে নাই। শুধু আল্লাহকে চিনেছি আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই আল্লাহ ছাড়া কাউকে পরোয়া করি না আল্লাহই সব কিছু ।তারপর তাদেরকে ফাঁসি দেওয়া হল তাদের হাত পা কেটে ফেলা হলো তারা জান্নাতে। এই ঘটনাটা সূরার তোয়ার মধ্যে আছে। যাইহোক এখন এইভাবে যখন মুসা আলাইহিস সাল্লাম কে পরাজিত করতে পারলো না। মুসা আলাইহিস সাল্লাম তাদেরকে সময় দিলেন তওবা করে ফিরে আসার জন্য। তিনি বললেন তওবা করে ফিরে আসো আল্লাহ পাক মাফ করে দিবেন। কিন্তু ফেরাউন এবং তার দলবল এগুলো সহ্য করতে পারল না। বরং ফেরাউন টিটকারি করছিল। এ হামান তুমি আছো হামান বলছে হ্যাঁ আমি আছি। আমার জন্য একটা বড় প্রাসাদ নির্মাণ কর। ইট পোড়াও ইট পোড়াও আমার জন্য উঁচু প্রাসাদ তৈরি কর। যাতে আমি উঁকি মেরে দেখতে পারি মুসার রব কোথায় আছে? আমার কাছে মনে হচ্ছে হয়তোবা আমি জানিনা ঠিক এই আয়াতটা মিশরের পিরামিডের দিকে ইঙ্গিত করছে। হয়তো বা আমি জানিনা সঠিক। মানে ১০০% নিশ্চিত ভাবে বলতে পারব না। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় হয়তোবা এইটা সেই সময়কারই ঘটনা। আমার ইট পুরাতে থাকো ইট এবং পাথর পুরাও। উঁচু ,উঁচু সর্বোচ্চ উঁচু কিছু তৈরি কর। প্রাসাদ তৈরি কর যাতে করে আমি তার উপরে উঠে মূসার ইলাহ কে দেখতে পারি। এটা কার কথা ছিল ?ফেরাউনের ।এটা করা ও হয়েছে। এরপরে নয় নয়টা আজাব আল্লাহ পাক দিয়েছেন।
ফেরাউনের উপর আজাব ও মিশর ত্যাগ
একবার সতর্ক করা হয়েছে। যদি না শুনে। এরপর আজব দেওয়া হয়েছিল রক্তের। সমস্ত পানি রক্ত হয়ে গেল। এবার ফেরাউন এবং তার লোকজন এসে বলল আমরা তওবা করব আল্লাহর কাছে। মুসা তুমি দোয়া করো আল্লাহর কাছে আল্লাহ যেন এটা সরিয়ে দেয়। মুসা আলাইহিস সাল্লাম দোয়া করেন আজাব সরে যায় তারা আবার নাফরমানী করে। তারপর আজাব আসলো ব্যাঙের । সব জায়গায় ব্যাঙ। ব্যাঙ দিয়ে ভর্তি। তারপর আবার তওবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করল কিন্তু তওবা করলো না। আবার আজাব । এর পরের আজাব উকুনের। এইভাবে একটা একটা করে আজাব আসতে থাকলো। এরপর প্লেগ তারপর ফড়িং। প্লেগ এমন ভাবে এসেছিল যে একদিনে ৭০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। তো এইভাবে নয় নয়টা আজাব আল্লাহপাক দিলেন কিন্তু ফেরাউন কিছুতেই ঈমান আনলো না। এবার সব শেষ পালা। সর্বশেষে মুসা আলাইহিস সাল্লাম বলল যে বনী ইসরাইলকে আমার সাথে যেতে দিবা কিনা সেটা বল । তো এখন যেহেতু অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে প্লেগ এ । সবশেষে মুসা আলাইহিস সাল্লাম এর কাছে ফেরাউন এবং এতে হারান কামুন যারা যারা ছিল এরা নমনীয় হলো এবং বলল ঠিক আছে তোমরা বনী ইসরাইলকে নিয়ে এখান থেকে বের হয়ে যাও। মিশরে আমরা আর কোন আপদ চাই না তোমরা চলে যাও এখান থেকে। এবার যখন মুসা আলাইহিস সাল্লাম এবং বনী ইসরাইল এখান থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন বলা হচ্ছে তাদের সংখ্যা প্রায় ৩০ লক্ষ। কেউ বলেছেন ৪০ লক্ষ সংখ্যাটা ফ্যাক্ট না। বনী ইসরাঈলের বড় একটা কওম ছিল ১০ থেকে ২০% মানুষ বনী ইসরাইল ছিল। তারা এখন বের হয়ে যাচ্ছে রাতের অন্ধকার শেষে ফজরের সময় । ফেরাউনের মাথায় আবার শয়তানি চাপলো। সে বলল না এদেরকে যেতে দেওয়া যাবে না। যদি চলে যায় ওখানে গিয়ে বিদ্রোহ করে আমাদের ওপর যদি হামলা করে। কি করনীয়? ফুলফোর্স নিয়ে তার যত সেনাবাহিনী ছিল সমস্ত সেনাবাহিনীকে নিয়ে ফেরাউন মুসা আলাইহিস সাল্লাম এবং তার কওমকে ধাওয়া করা শুরু করলো পিছন থেকে । এবার মুসা আলাইহিস সাল্লাম যাচ্ছেন তার কওমকে সাথে নিয়ে সামনে পড়ে গেল লোহিত সাগর। আর পিছনে ফেরাউনের বাহিনী। এরকম অবস্থায় মুসা আলাইহিস সাল্লামের কওমের কিছু মানুষ বলেছিল হে মুসা আমরা তো এখন ধরা পড়ে গেলাম আমরা তো আর যেতে পারব না। সামনে সাগর পিছনে ফেরাউন। এই সময় মুসা আলাইহিস সাল্লাম একটা কথা বলেছিলেন এই কথাটা যে বলতে পারবে বিপদের সময় আল্লাহপাক তার সাথে থাকবে ইনশাআল্লাহ । মুসা আলাই সাল্লাম বললেন কক্ষন নয়। আমার রব আমার সাথে আছেন তিনি আমাকে পথ দেখাবেন সুবহানাল্লাহ। ব্যাস আল্লাহ পাকের সাহায্য নেমে এলো। আল্লাহপাক বললেন লাঠি ছুড়ে মারো। মুসা আলাইহিস সাল্লাম লাঠি ছুড়ে মারার সাথে সাথে একটা দুইটা নয় বারোটা রাস্তা হয়ে গেল পানি ভেদ করে সাগর ভেদ করে । আর এই বারোটা রাস্তা দিয়ে বনী ইসরাইলের বারোটা দল পার হয়ে গেল। এটা কোন গাল গল্প নয়। আর ফেরাউন এটা অবাক হয়ে দেখছে। এক পর্যায়ে সেও সিদ্ধান্ত নিল যে আমি আমার ফোর্স নিয়ে তাদের হাওয়া করব। এই যে সে নামলো লোহিত সাগরের সাথে সাথে পানি আবার আগের জায়গায়। এক মুহূর্তের মধ্যে মানে একদিনে পুরো ফেরাউন এবং ফেরাউনের যত সেনাবাহিনী আছে একদিনের মধ্যেই শেষ। পৃথিবী থেকে চির বিদায়।
বাছুর পূজা ও মুসা আলাইহিস সালামের ইন্তেকাল
আল্লাহ পাক এত চমৎকার করে কথাটা বলেছেন। তারা কতই না বড় বড় জান্নাত মানে বাগান বা প্রস্রবণ পার হয়ে চলে গেল। কত সুন্দর সুন্দর জায়গা তারা ছেড়ে দিয়ে চলে গেল ।এবং তারা ধাওয়া করতে লাগলো মুসার বাহিনীকে। যখন তারা ডুবে গেল তাদের জন্য আসমান এবং জমিনের কোন সৃষ্টি এক ফোঁটা চোখের পানিও ফেলে নাই। এটা আপনি সূরা দুখান এর মধ্যে পাবেন আরো বিস্তারিত আছে। এই যে ঘটনাটা ঘটেছে এই ঘটনাটা ঘটেছে মহররমের ১০ তারিখে। এরপরেও বনু ইসরাইল শুধরে যায় নাই।তারা চোখের সামনে দেখলো যে ফেরাউনের ডুবে মরল তারা পার হয়ে গেল ঠিক পার হয়ে যাওয়ার পরেই ।অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে তারা বাছুর পূজা শুরু করেছিল। সামারি নামের একজন ব্যক্তি সোনা দিয়ে গরুর মূর্তি বানিয়েছিল। এই মূর্তি পূজা শুরু করেছিল এই মুক্তির কিছুদিন পরে। এটা সেই বনু ইসরাইল। এরপর যখন মূসা আলাইহিস সাল্লাম তাদেরকে রেখে গিয়েছিলেন তুর পাহাড়ে আল্লাহর সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করতে কথাবার্তা বলার জন্য তাওরাত আনার জন্য । এই ৪০ দিনের ব্যবধানে তারা আবার শিরিক করা শুরু করেছিল। মুসা আলাইহিস সাল্লাম সেই তাওরাত এনে দেখেছেন যে তারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে। এবং তিনি রাগে তাওরাত ছুড়ে মেরে ছিলেন এটাও কুরআনে আছে। এবং তার ভাই হারুন এর তার চুল এবং দাড়ি চেপে ধরেছিলেন। তোমাকে রেখে গিয়েছিলাম তুমি কি করেছো? তখন হারুন আলাইহিস সাল্লাম বললো আমি আমার নফসের ভয় পাচ্ছিলাম তারা আমাকে হত্যা করে ফেলতে পারে । অথবা বনী ইসরাইলদের মধ্যে বিভক্ত সৃষ্টি হতে পারে এর জন্য আমি কিছু বলতে পারি নাই আমি মাজলুম ছিলাম। এই অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই তারা শিরক করল তারা বাছুর পূজা করল। আল্লাহপাক তাদেরকে ফোন দেন তোমরা আমালিকা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর । তারা প্যালেস্টাইনে থাকতো আমালিকা সম্প্রদায়ক প্রচন্ড শক্তিশালী। তখন এই বনী ইসরাইল বলেছিল হে মুসা তুমি যাও এবং তোমার রব যাও গিয়ে যুদ্ধ কর। আমরা এখানে বসে থাকবো।কে বলেছেন এই কথাগুলো ?এই বনী ইসরাইল যাদেরকে আল্লাহপাক এত বড় বিপদ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তারপর তাদেরকে মান্না-সালওয়া খাবার পাঠানো হচ্ছে। এই খাবার পর্যন্ত তাদের ভালো লাগছে না। তারা বলছেন হে মুসা আল্লাহকে বল আল্লাহ যেন আমাদেরকে এইযে পেঁয়াজ , রসুন , মসুর এই যে ডাল এগুলো উৎপন্ন করার তৌফিক দান করেন । এরপর বনী ইসরাইলের একদল মানুষ বলল আল্লাহকে সামনে এনে হাজির করে দাও না হলে বিশ্বাস করব না। তারপর এইরকম ৭০ জন মানুষকে বাছাই করে মুসা আলাইহিস সাল্লাম নিয়ে গেলেন তুর পাহাড়ে। আল্লাহ পাক তাদেরকে মৃত্যু দিয়েছেন আবার জীবিত করেছেন। এরপর তারা এত বেশি সীমালংঘন করা শুরু করল যে তারা আবার অধঃপতনের অটলে চলে গেল। ৪০ বছর পর্যন্ত তারা তিহ নামে জায়গায় ঘুরতেছিল ঘুরতেই ছিল।সকালবেলায় যাত্রা শুরু করে এবং সন্ধ্যা বেলায় সেই জায়গায় ফিরে আসে এভাবে ৪০ বছর ।তারপর মুসা আলাইহিস সাল্লাম ইন্তেকাল করলেন।এবং মুসা আলাইহিস সাল্লাম এর কবর আমাদের মহানবী সাঃ দেখিয়ে দিয়েছেন। ওই যে লাল ডিবি দেখা যায় , ওই লাল ডিবির ওপরে মুসা আলাইহিস সাল্লাম এর কবর আছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে এই আশুরা এবং মহররমের পিছনে এই ঘটনা গুলো বোঝার তৌফিক দান করুন। সারা বিশ্বজুড়ে ফেরাউনের যে রাজত্ব চলছে এখান থেকে মজলুমদেরকে আল্লাহপাক মুক্ত করুন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে আল্লাহ পাকের খাস রহমতে তার দাসত্ব করার তৌফিক দান করুন। আল্লাহ পাকের অবাধ্য থেকে আমাদেরকে হেফাজত করুন। আল্লাহপাকের গায়েবী মদত আমাদের ওপর নাযিল করুন। মুসলিম জাতির ওপর যত নির্যাতন নিপীড়ন এখান থেকে আমাদেরকে হেফাজত করুন । এবং আগামী দিনগুলোতে ইসলামকে এবং মুসলিমদেরকে সারা বিশ্বের শক্তিশালী করুন আমিন ।মহরম মাসের আমলগুলো আমাদেরকে করার তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন।
সাধারণ প্রশ্ন
এই লেখায় মুসা আলাইহিস সাল্লাম ও ফেরাউনের ঘটনাটি কোন দিনের সাথে যুক্ত করা হয়েছে?
লেখায় বলা হয়েছে যে লোহিত সাগরে ফেরাউন ও তার বাহিনী ডুবে যাওয়ার ঘটনাটি মহররমের ১০ তারিখে ঘটেছে। লেখাটি এর সাথে আশুরা ও মহররমের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছে।
লেখায় কোন ঘটনায় ফেরাউন ও তার বাহিনীর পরিণতির কথা বলা হয়েছে?
লেখায় বলা হয়েছে যে বনী ইসরাইল পার হয়ে যাওয়ার পর ফেরাউন তার বাহিনী নিয়ে তাদের ধাওয়া করে এবং পানি আগের জায়গায় ফিরে এলে একদিনের মধ্যেই সে ও তার বাহিনী ডুবে যায়। এই ঘটনার উল্লেখ সূরা দুখানের কথাও আছে।