Islamবাংলা

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহর প্রতি আনুগত্য: তাকওয়া, মাগফিরাত ও মহান পুরস্কারের পথ

রাসূলের সামনে কণ্ঠ নিচু রাখার শিক্ষা

আমরা তাকওয়া কিভাবে অর্জন করব ?সেটা হলো আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর গলার ভয়েস এর কথা বলা হয়েছে। যে তার সামনে নিচু হয়ে থাকবে , অবনত থাকবে , আত্মসমর্পণ করবে। তার গলার ভয়েস এর থেকে উঁচু করোনা। তার সুন্নহের বাহিরে যেও না। এক কথায় জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সুন্নাহর উপর থাকতে পারে। এর সামনে আত্মসমর্পণ করতে পারে। তাহলে আল্লাহ পাক ওই ব্যক্তির কলবে তাকওয়া ঢেলে দিবেন ইনশাআল্লাহ। শুধু তাই নয় আল্লাহ পাক আরো বলেছেন আল্লাহপাক তার পক্ষ থেকে তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহপাক বলেছে তাদের জন্য যারা রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সামনে কণ্ঠস্বর নিচু করে মানে তার আনুগত্য করে তার সামনে আত্মসমর্পণ করেন এবং তার সুন্নাহ মেনে চলে। তাদের জন্য মাগফেরাত মানে ক্ষমা আছে এবং মহান পুরস্কার আছে। কোন পুরস্কার যা কোন চোখ দেখে নাই। কোন কান শোনে নাই। যা কোন মন কল্পনাও করতে পারে নাই। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে নাসিব করুন আমিন। তাফসিনে এসেছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সামনে একবার আবু বক্কর এবং ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তারা ছিলেন। একটা বিষয়ে মাশওয়ারা হচ্ছিলেন। তো আবু বক্কর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন বনু তামিম গোত্রের কাকা আল তামিমি তাকে আমির নিযুক্ত করা হোক। এবং ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আরেকজন সাহাবীর নাম বলছেন । এই নিয়ে উভয়ের মাঝে একটু কথা কাটাকাটি হলো আর কি।এক পর্যায়ে তাদের গলার ভয়েসটা উঁচু হয়ে গেল সামান্য একটু উঁচু । তখন এই আয়াতগুলো নাযিল হয়। এরপর থেকে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নবীর সামনে এত নিচু সুরে কথা বলতেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে আরেকবার জিজ্ঞেস করতে হতো যে কি বললা? আরেকজন সাহাবী সম্পর্কে এরকম বর্ণনা এসেছে। সেই সাহাবী ঘরের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে অবস্থান করছেন বাহিরে আসেন না। অন্য সাহাবীরা বললেন কেন? তিনি বললেন একবার আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সামনে একটু উঁচু সরে কথা বলেছিলাম। হয়তো আয়াতটা আমার জন্যই নাযিল হয়েছে। আল্লাহ আমার সব আমল বিনষ্ট করে দিয়েছেন হয়তোবা। আমি জাহান্নামী হয়ে গিয়েছি আমি কোন মুখ নিয়ে বাহিরে যাব। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বললেন তাকে ডেকে নিয়ে আসো। সাহাবীরা তাকে ডেকে নিয়ে আসলো । নবীজি বললেন সে জাহান্নামি নয় সে জান্নাতি সুবহানাল্লাহ।এরপর ইয়ামামার যুদ্ধে এই সাহাবী শহীদ হন। চতুর্থ আয়াতে আল্লাহ পাক বলছেন যে নিশ্চয়ই যারা হে নবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে গুজরাতে পিছন দিক থেকে যে ডেকেছে। মানে মহানবী সাঃ এর ছোট ছোট হুজরা ছিল ৯ টা কক্ষ ছিল।এরকম নয়টা কক্ষে তার নয় জন স্ত্রী থাকতো । মসজিদের নববীর ঠিক পাশে। একদল বেদুইন। বেদুইন মানে আরবের কিছু গ্রাম্য মানুষ তারা একদিন দুপুর বেলায় এসেছিল মহানবী সাঃ এর কাছে। তাকে না পেয়ে তাকে ঘরের বাইরের থেকে ডাকা শুরু করেছিল জোরে জোরে। হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বাইরে আসুন বাইরে আসুন এভাবে বলা শুরু করেছে। নবী সাঃ মনে মনে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করেছেন কিন্তু মুখে কিছু বলেন নাই।মুখে তাদেরকে কোন কটু কথা বলেন নাই ।কিন্তু আল্লাহপাক সেই অস্বস্তির অবস্থা বুঝতে পেরেছেন।

আলেমদের দরজায় অপেক্ষা ও আদব

আল্লাহ পাক বলছেন নিশ্চয়ই যারা তোমাকে হুজরতের পিছন থেকে তাদের বিশেষ ভাগেরই আক্কল নাই , বেশিরভাগেরই জ্ঞান নাই। মানে তারা একটু গ্রাম্য মানুষ। তাদের এত ভদ্রতা বোধ নাই। যদি তোমার বের হওয়া পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করত। তুমি নিজে বের হয়ে আসবে এই পর্যন্ত যদি তারা অপেক্ষা করত। তাহলে এটা তাদের জন্য বেশি ভালো হতো। আল্লাহ পাক এভাবে বললেন। আল্লাহ পাক পরম করুনাময় অসীম দয়ালু। এখানে এই দুইটি আয়াতের মধ্যে একটা নাসিহা আছে। একদল মানুষ কিছুটা আক্কলহীন ছিল। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে এইভাবে ডাকা শুরু করলো। নবীর মনের কষ্ট আল্লাহ পাক বুঝতে পারলেন এবং আয়াত নাজিল করে দিলেন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম নিজের মুখে কিছু বলেন নাই। এখন আল্লাহপাক বলছেন যদি তারা সবর করত এবং তোমার বের হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করত এটা তাদের জন্য বেশি ভালো হতো। এখন এখানে খেয়াল করে দেখেন যেই মানুষগুলো এই কাজটা করেছিল তারা কিছুতো আক্কল হীন এবং কিছুটা জাহেল প্রকৃতির । আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদেরকে সাসালেন না অজ্ঞদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য একটা পদ্ধতি আল্লাহ পাক কি খাচ্ছেন এখানে তাদের বেশিরভাগ মানুষের আক্কল নাই আল্লাহপাক তাদেরকে মাফ করে দিয়েছেন কারণ তারা বুঝতে পারে নাই। ঠিক এরকম একটা সূরা ফুরকানের মধ্যেও আছে রহমানের বান্দা সম্পর্কে। রহমানের বান্দা তারাই তাদের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যখন তারা জাহেলদের সাথে মোলাকাত করে বা জাহেলদের সাথে তর্ক করতে আসে তারা বলে সালামু আলাইকুম তোমাদের সাথে তর্ক করতে চাই না সালামু আলাইকুম তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এখানে আমরা একটা ইসলামিক সোসাইটির নাসিহা পাচ্ছি শিষ্টা পাচ্ছি। একটা কথা আমি বলতে ভুলে গিয়েছিলাম প্রথমে সেটা হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে গলার ভয়েস উঁচু করা যে রকম অপরাধ। ঠিক তেমনি যেই মজলিস গুলোতে নবী সাঃ এর হাদিস এবং সুন্নাহ নিয়ে আলোচনা করা হবে সেখানে ও গলার ভয়েস উঁচু করা অপরাধ। একই সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর কথাগুলো যে আলেম-ওলামারা সমাজে প্রচার করেন তাদের ক্ষেত্রে কথা বলার সময় আদব রক্ষা করাটা আমাদের কর্তব্য। এটা প্রত্যেকটা বিষয় রিলেটেড এখানে। আর এখন যে দুইটা আয়াতটা বললাম এই আয়াতের আলোকে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন কোন কোন সময় এমন হতো যে আমি কোন সাহাবীর কাছে গিয়েছি হাদিস শেখার জন্য তার বাসার সামনে গিয়ে আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম। তারপর তারা যখন বাসা থেকে বের হতো তখন তারা জিজ্ঞাসা করতো তুমি বাসায় নক করলেই তো হত। বাসায় একটু নক করলেই তো হতো তাহলে আমরা বের হয়ে তোমাকে হাদিস শিখাতে পারতাম বলতে পারতাম । তখন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন এই আয়াতটা আমাকে বাধা দেয় যে আয়াতটা নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। যেহেতু আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী বা ওয়ারিশ এর জন্য কোন আলেম এর কাছে গিয়ে জ্ঞান শিখার জন্য অপেক্ষা করতে পছন্দ করি যতক্ষণ না সে বের হয়ে আসে ।

খবর যাচাই করার নির্দেশ ও পশ্চিমা মিথ্যা প্রচার

এখানে আল্লাহ পাক কি শিক্ষা দিচ্ছে?যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর বাসার পিছন থেকে উচ্চস্বরে ডাকাটা তিনি অপছন্দ করছেন। এবং সাহাবী ইকরামদের কে আমল করে দেখাচ্ছেন এইভাবে যে তারা আলেমদের বাসায় সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা বের হয়। এই তাজিম না থাকলে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা যায় না। আসলে ভক্তি শ্রদ্ধাবোধ তাজিম না থাকলে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা যায় না। আল্লাহ পাক আমাদেরকে তৌফিক দান করুন আমিন। এরপর কিছু ইম্পরট্যান্ট আয়াত আসবে এগুলোর দিকে আল্লাহ পাক বেশি ফোকাস করতে বলেছেন। আল্লাহপাক বলছেন ছয় নাম্বার আয়াতে হে মুমিনগণ তোমাদের কাছে যদি কোন ফাসেক বা পাপাচারি কোন সংবাদ নিয়ে আসে যে কোন খবর নিয়ে আসে। হে মুমিনগণ তোমাদের কাছে যদি কোন ফাসেক বা পাপাচারি ব্যক্তি যদি কোন সংবাদ নিয়ে আসে বা খবর নিয়ে আসে সেটা আগে ভালো করে তদন্ত করে পরীক্ষা করে দেখ আগে বিশ্বাস করো না। এবং আগে কোন পদক্ষেপ নিও না। ওই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোন কাজ করে বসো না। আগে তোমরা খবরটাকে যাচাই-বাছাই করে দেখো ।হতে পারে ওই খবরটা বিশ্বাস করে নেওয়ার ফলে অজ্ঞতাবশত তোমরা এমন কিছু করে বসবে যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে তোমরা নিজেরাই অনুতপ্ত হবে । এক্সাম্পল দেই তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে। বিশ্বের সবচেয়ে মিথ্যা বলা , মিথ্যা প্রচার করা মিথ্যা প্রতিষ্ঠার সর্বশ্রেষ্ঠ যে জগত যে সভ্যতা তার নাম পশ্চিমা সভ্যতা। মিথ্যার উপরে এদের পিএইচডি করা আছে। এই মিথ্যার ওপরে পিএইচডির একটা অংশ ছিল । একবার হঠাৎ করে তারা বলল ইরাকে সাদ্দাম হোসেন নামক একজন ব্যক্তি আছে তো সেই ব্যক্তির কাছে মারনীয় অস্ত্র আছে , নিউক্লিয়ার ওয়েপেন্স আছে ইত্যাদি ইত্যাদি। কি করতে হবে ? এখন তাকে আক্রমণ করতে হবে।আক্রমণ করা হলো অল্প কিছুদিনের মধ্যে ইরাক মেসাকার। হাজার হাজার মানুষ মারা গেল লক্ষ লক্ষ নারীকে ধর্ষণ করা হলো। আবু গারিব কারাগারে মেয়েদেরকে উলঙ্গ করে পর্নোগ্রাফিতে বাধ্য পর্যন্ত করা হয়েছে। তারা সবাই মুসলিম ছিলেন। আর আমরা বিষয়টা এমন ভাবে দেখেছি যে না ওরা তো শিয়া আর আমরা তো সুন্নি। আমরা কেন ওদের ব্যাপারে কথা বলতে যাব? কিন্তু যারা ওদেরকে মেরেছে তারা কিন্তু ওই হিসাবটা করে নাই আমরা কিন্তু ওই হিসাবটা করেছি। ঠিক ইয়ামিনের বাচ্চা গুলোকে যখন বোম মেরে হত্যা করা হচ্ছিল কয়দিন আগে ইভেন এখনো চলছে । আমরা বলছি না ওরা তো শিয়া। ওই বাচ্চা গুলো কি বুঝে শিয়া আর সুন্নির কি আছে ? কার টাকায় অস্ত্র কিনে কার কাঁধে বন্দুক রেখে ইয়ামিনে হামলা করেছে আর কে হামলা করেছে।তো ইয়ামানের বাচ্চারা কি বুঝে শিয়া সুন্নি কি জিনিস? ওখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ যে খাওয়ার অভাবে মারা গেল ওরা কি বুঝে শিয়া সুন্নি কি জিনিস? আমরা এই আয়াতের বিষয়ে পাকা দলিল দিচ্ছি আপনাদেরকে। যদি পাপাচারীরা সংবাদ নিয়ে আসে তোমরা আগে ওইটাকে যাচাই-বাছাই করে দেখবে। আগে বিশ্বাস করার দরকার নাই। তারপর লক্ষ লক্ষ মানুষকে মারার পর ইরাককে মেসাকার বানানোর পর সভ্যতার একটা আদি সভ্যতা নিদর্শন বার্তা ধ্বংস করে দেওয়ার পরে। আসলে আমরা ওখানে কোন মরণঅস্ত্র পাই নাই। এখন এই লক্ষ লক্ষ মানুষের কি হবে ? জান মালের কি হবে? রাষ্ট্রের কি হবে ? ইজ্জত সম্মানের কি হবে? বলে দিল একটা শব্দ। s o r r y আমরা sorry ।

খবর যাচাই ও মুমিনদের মধ্যে ন্যায়বিচার

প্রত্যেক মুসলিম ভাইকে রিকোয়েস্ট করব যেকোনো খবর এ পশ্চিমা মিডিয়া থেকে আসুক যেই মিডিয়াগুলো আপনারা দেখছেন । সবার আগে খবরটা যাচাই-বাছাই করবেন। এমন কোন খবর শুনেই বিশ্বাস করে ফেলবেন না যেটা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলছেন হয়তো বা তোমরা এমন কিছু করে ফেলতে পারো। পরবর্তীতে তোমরা নিজেরাই অনুতপ্ত হবে যে এটা আমরা কি করলাম? এক ভাই আরেক ভাইয়ের গলায় ছুরি চালালাম। আল্লাহ পাক এ কথাটা বলার পরে সামনে যাচ্ছেন তিনি বলছেন হে মুমিনগণ তোমরা জেনে রাখ তোমাদের সাথে আল্লাহর রাসূল আছেন। মানে তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম জীবিত ছিলেন। যদি রাসূল সাঃ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তোমাদের কথা ফলো করার শুরু করেন। তাহলে তোমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আল্লাহর ওহী যখন আসেন এটার ওপর যদি তোমাদের মতামত দিতে চান তাহলে তোমাদেরই বেশি ক্ষতি হবে।ওহীটা এসেছে আমাদের কল্যাণের জন্যই। অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হে মুমিনগণ তোমাদের অন্তরে ঈমানকে সুসৌরভিত করেছেন সুবহানাল্লাহ। হে মুমিনগণ তোমাদের অন্তরে আল্লাহ পাক কুফরী , ফাসেকী এবং অবাধ্যতা এগুলোকে অপছন্দনীয় করেছেন আলহামদুলিল্লাহ। এরাই হচ্ছে মূলত রসেদ শুকুর প্রাপ্ত। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ বা নেয়ামত। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সবকিছু জানেন এবং প্রজ্ঞাময়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা হুজরতে বলেছেন আয়াত নাম্বার ৯। এখন আরও ডেঞ্জারাস জায়গায় যাচ্ছি আমরা। শিষ্টাচারের সূরা সামাজিকতা সূরা আমাদেরকে শিখাচ্ছে যে হে মুমিনগণ যদি তোমাদের মধ্যে দুটি দল আপসে একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বা লড়াই করে বা লেগে থাকে। তোমাদের কাজ কি তখন? মুমিনেরা তোমরা কি করবা তখন ? তোমাদের কাজ হচ্ছে তোমরা পক্ষপাতিত্ব করো না। বরং তাদের মাঝে মীমাংস করার চেষ্টা করো।এরপর সংশোধন বা মীমাংস হওয়ার পরেও যদি একদল আরেকদলের ওপর চড়াও হয়। তখন তোমরা যেটা করবা তোমরা জালেমের নয় মাজলুমের পক্ষ অবলম্বন করবা। প্রথমে মীমাংস করে দিবা তারপরে যদি আবারও দেখা যায় তারা লড়াই করছে যে জালেম তার পক্ষ নিও না যে মজলুম তার পক্ষ নিও। যতক্ষণ না আল্লাহ পাকের ফয়সালা নেমে আসে। এরপরে আবার যদি তারা বিরত হয়ে যায়। তাহলে আবার মীমাংস করে দাও। উভয়ের মাঝে মীমাংস করে দাও ন্যায় বিচারের সাথে। এবং তোমরা সুবিচার কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সুবিচারকারীকে ভালবাসেন। যারা সুবিচার করবে পৃথিবীতে । যাদেরকে আল্লাহ সুবিচার করার ক্ষমতা দিয়েছেন। পলিটিক্যাল পাওয়ার দিয়েছেন সুবিচার করবেন। হাদিসে এসেছে কেয়ামতের মাঠে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাহমান আল্লাহ তায়ালার আরেক নাম রহমান। রহমানের ডানদিকে নূর বা আলোর কিছু সিংহাসন থাকবে। এই সিংহাসনে আল্লাহ পাক তাদেরকে বসাবে ইনশাআল্লাহ। কাদেরকে বসাবেন ? যারা সুবিচার করবেন যাদেরকে সুবিচার করার ক্ষমতা দিয়েছেন যেকোনো সেক্টরে। তারা যদি সুবিচার করে বা ন্যায় বিচার করে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য । আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদেরকে কিয়ামতের মাঠে নুরের সিংহাসন দান করবেন। আল্লাহ পাকের ডান দিকে একদম ডানদিকে।

মুমিনদের ভ্রাতৃত্ব ও একে অপরকে তুচ্ছ না করা

কেন মুমিনদের মাঝে মীমাংস করতে হবে এর পরের আয়াতে দেয়া আছে। আল্লাহপাক বলছেন তোমরা মুমিনদের মাঝে সুবিচার কেন করবে? কারণ মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই। মুমিন যারা , যারা ঈমান এনেছে , নামাজ পড়ে , রোজা রাখে , যাকাত দেয় , আল্লাহকে বিশ্বাস করে , নবীকে বিশ্বাস করে , কোরআন মানে সবাই মমিন সবাই মুসলিম। এখানে দলাদলি ভাগাভাগির কোন অবকাশ নাই। ইখতেলাফ থাকতে পারে কিছু ফিকহি বিষয়ে? ফিকহি মাসাহালায় ইখতেলাফ থাকতে পারে। কিন্তু দিন শেষে আমরা সবাই একটা কমিউনিটি অল উম্মা আমরা সবাই মুসলিম । যারা মুসলিম উম্মার অল উম্মার কনসেপ্ট থেকে মুসলিমদেরকে সরিয়ে দিতে চায়। এবং বিভিন্ন দল এবং সাম্প্রদায়িকতা তৈরি করতে চায়। সামাজিকভাবে তাদেরকে বয়কট করবেন। একদম সোশ্যাললি এদেরকে বয়কট করবেন। মুসলিম উম্মার মধ্যে হাজারটা ইখতেলাফ থাকতে পারে হাজারটা মতবিরোধ থাকতে পারে তারপরও দিনশেষে আমরা সবাই মুসলিম। যারা মুসলিম উম্মার মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করতে যাবেন এদেরকে মার্ক করবেন। এবং প্রত্যেকটা জায়গা থেকে এদেরকে বয়কট করবেন আদারওয়াইজ আপনি উম্মার কল্যাণ করতে পারবেন না। কিছু কথা আমি স্ট্রেট ফরওয়ার্ড বলছি আল্লাহ পাক আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন আমিন। নিশ্চয় মুসলিমরা পরস্পর ভাই ভাই। তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে ইসলাহ করো সংশোধন কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। যাতে করে তোমাদের প্রতি রহম করা হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সামনে গিয়ে আরো বলছেন আবারো হে মুমিনগণ কোন কওম একটা সম্প্রদায়কে আরেকটা সম্প্রদায় নিন্দা তিরস্কার না করে। একজন ব্যক্তি আরেকজন ব্যক্তিকে বা একটা কওম আরেকটা কওম কে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না করে কারণ হতে পারে যাকে তুচ্ছ করা হচ্ছে সে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে বেশি কবুলিয়াত পেয়েছে। সে হয়তো তোমার চেয়ে উত্তম তুমি জানো না। সূরা নাজম এ আল্লাহ পাক বলেছে বেশি বেশি আত্মপ্রশংসা করো না নিজেকে নিয়ে গর্ব করোনা। আল্লাহই ভাল জানে কে প্রকৃতপক্ষে মুত্তাকিন। আপনি যাকে আন্ডারস্টেটমেন্ট করছেন , যার সম্মান ধুয়ে ফেলছেন , ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন , পারিবারিক জীবন নিয়ে আক্রমণ করছেন ।খুঁজে খুঁজে ভুল ধরছেন যাতে জাতির সামনে তাকে লাঞ্ছনা করা যায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সব দেখছেন। আল্লাহ পাক এমন করবেন এক সময় ইনশাআল্লাহ যার পিছে আপনি লেগেছেন আল্লাহ পাক তাকে বড় বানিয়ে দিবেন আর আপনাকে ঘরের মধ্যে অপমান করবে ইনশাআল্লাহ । এটাও হাদিসে এসেছে। যখন কোন মানুষ কোন মানুষের গোপন দোষত্রুটি অনুসন্ধান করার চেষ্টা করে সে যদি ঘরের মধ্যে লুকিয়ে ও থাকে ঐখানে তাকে অপমান করে ছেড়ে দিবেন ইনশাআল্লাহ ।এটা আল্লাহপাকের ফয়সালা। আল্লাহপাক আরো বলেছেন কোন মহিলাও যেন অন্য কোন মহিলার ব্যাপারে এরকম না করে। একদল মহিলা অন্য আরেক দল মহিলার ব্যাপারে এমন না করে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না করে। হতে পারে যার তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে যাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে। সেই মহিলার দল বা সেই মহিলা আল্লাহর কাছে এদের চাইতে বেশি ভালো মাকাম প্রাপ্ত। আল্লাহপাক আমাদেরকে বুঝার তৌফিক দান করুন আমীন।

গীবত, ধারণা ও অন্যের দোষ খোঁজা থেকে সতর্কতা

আল্লাহপাক আরো বলেছেন তোমরা একে অপরকে তিরস্কার করো না বা তোমরা একে অপরকে দোষারোপ করো না। এবং একে অপরকে মন্দ নিকৃষ্ট নামে ডাকবেন না। মন্দ নিকৃষ্ট নামে সম্বোধন করো না। ইমান আনার পরে এটা অত্যন্ত জঘন্যতম একটা ফাসেকি কাজ । কোনটা ?একজন আরেকজনের দোষ খুঁজে বের করবে। একজন আরেকজন কে মন্দ নামে ডাকবে। যারা এখান থেকে তওবা করে ফিরে আসছে না নিঃসন্দেহে এটা একটা জালেম জুলুমের অন্তর্ভুক্ত। এরা জালেমদের অন্তর্ভুক্ত। এই আয়াত থেকে শিখলাম। একজন মুসলিম দেখতে আরেকজন মুসলিম ব্যক্তিকে আন্ডার এস্টিমেট না করে। একদল মুসলিম কওম অন্য আরেক দল মুসলিম কওম কে যেন আন্ডার এস্টিমেট না করে। একজন মহিলা যেন আরেকজন মহিলাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না করে। এক শ্রেণীর মহিলা যেন আরেক শ্রেণীর মহিলাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না। তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডাকবে না । তোমরা একে অপরকে বিদ্রুপ করবে না। যদি করো তাহলে এটা একটা ফাসেকি হবে । আর এখান থেকে যারা তওবা করবে না আল্লাহ পাক বলছেন এরা হচ্ছে জালেম ।আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আবার ও বলছেন হে মুমিনগণ আরো ডেঞ্জারাস নাসিহাত যেটাতে আমাদের মধ্যে ১০০% অলমোস্ট ১০০% মানুষ এখানে জড়িত। তোমরা বেশি থেকে বেশি ধারণা এবং অনুমান থেকে বিরত থাকো। বেশি বেশি ধারণা এবং অনুমান থেকে বিরত থাকো বেঁচে থাকো কারণ এমন অনেক ধারণা আছে যেগুলো আসলে পাপ। এগুলোর কোন অস্তিত্বই নেই। অযথাই আপনি এগুলো আপনার নিজের মনে চিন্তা করছেন। সে হয়তো এমন সে হয়তো এমন না আবার অমুক হয়তো এমন। এখানে হয়তো এটা আছে ওখানে হয়তো এটা আছে অযথাই এগুলো আপনি চিন্তা করছেন। অনুমানের সাথে বাস্তবায়নের কোন সম্পর্ক নাই। আল্লাহপাক আরও বলেছেন তোমরা জাসুসি করোনা। জাসুসি মানে বুঝানো হচ্ছে ইচ্ছা করে অন্যের দোষ খুঁজে বের করো না। এখানে জাসুসি মানে বুঝানো হচ্ছে ইচ্ছে করে কোন ব্যক্তি দোষ খুঁজে খুঁজে বের করো না। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে দোষ থাকে দেখাই যায় স্পষ্ট। তুমি এক্সট্রা খুঁজে খুঁজে বের করতে যেও না। তোমরা জাসুসি করতে যেও না।এখানে রাষ্ট্রীয় জাসুসি বুঝানো হচ্ছে না। অ্যান্ড ইসলামিক স্টেট এর নিরাপত্তের স্বার্থে তদন্ত বা গোয়েন্দা সংস্থার কাজ করার সম্পূর্ণ ইখতিয়ার আছে। কুরআন সুন্নাহর সম্মত কাজ এটি কিন্তু এটি বুঝানো হচ্ছে না। একটা রাষ্ট্রে নিরাপত্তা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বহি বিশ্বের সাথে কানেকশন সবকিছুর স্বার্থে গোয়েন্দা সংস্থানের কাজ করা সম্পূর্ণ অধিকার আছে এটা এই আয়াতে বুঝানো হয়েছে। এখানে বোঝানো হয়েছে একে অপরের দোষ গুলো ইচ্ছা করে খুঁজতে যেও না। বরং রাষ্ট্রের স্বার্থে সেই কাজগুলো করা নেকির কাজ। এতে করে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে তদন্ত যেন সঠিক হয়।অনুমান ভিত্তিক , ধারণাভিত্তিক যেন না হয়। আবার জুলুমের শিকার যেন না হয় এটা খেয়াল রাখতে হবে। এই কাজটা ঠিক আছে এটা একটা জরুরী কাজ।

part 7 আর এখানে বুঝানো হচ্ছে তোমরা যে দোষ গুলো দেখা যায় তার বাহিরে অতিরিক্ত দোষ খুঁজতে যেও না মানুষকে। আপনার ভেতরে এমন কিছু দোষ আছে যেটা আমি জানিনা এটা জানার জন্য ওত পেতে থাকার দরকার নাই এটা তাজাসসাসূ বলা হয়। তোমরা এভাবে জাসুজি করোনা। এক ভাই আরেক ভাইয়ের গীবত করোনা। গীবত কি আপনারা জানেন? নবীজিকে বলা হয়েছে কি গীবত? তিনি বলেছেন তোমার ভাই এর সম্পর্কে এমন কথা বলা যা তার অনুপস্থিত্বেতে বললে সে যখন শুনবে সে কষ্ট পাবে। সাহাবীরা বললেন তার মধ্যে সেই দোষ যদি থেকে থাকে তাহলে। নবীজি বললেন তার মধ্যে যদি সেই দোষ থাকে তাহলেই তো তুমি তার গীবত করলে। আর যদি তার মধ্যে সেই দোষ না থাকে তাহলে তো তুমি তাকে অপবাদ দিলে। তো অলমোস্ট এভরিবডি আমরা এই রোগে আক্রান্ত। আল্লাহ পাক আমাদেরকে এই রোগ থেকে হেফাজত করুন আমীন। এই রোগের একটা সুফল পাবে যার গীবত করা হচ্ছে সেই ব্যক্তি। কি রকম ? ধরেন আপনার গীবত করেছে অনেক মানুষ এবং আপনার কাছে ক্ষমাও চাই নাই যার যোগ্য আপনি ছিলেন না। এখন কিয়ামতের মাঠে উঠে দেখবেন অনেক নেকি আপনার আমলনামায় যুক্ত হচ্ছে । কিভাবে? এই মানুষগুলো আপনার গীবত করেছে আপনি তার যোগ্য ছিলেন না। আপনার উপর জুলুম হয়েছে আল্লাহ পাক সেদিন আপনাকে নেকি দিবে ইনশাল্লাহ। ওদের আমলনামা থেকে নিয়ে আপনাকে দিবে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে গীবতের মহামারী থেকে বেঁচে থাকা তৌফিক দান করুন আমীন। আল্লাহপাক বলছেন তোমরা কি তোমাদের মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করতে পছন্দ করবে। তোমরা তো এটাকে অপছন্দ কর ।অতএব গীবতকে আল্লাহপাক এখানে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করেছেন। এখন দেখেন না কাক কাকের গোশত খায় না ।অনেক অনেক সময় দেখা যায় এক আলেম আরেক আলেমের গোশত খাচ্ছে দেখেন না। এখনকার যুগ এমন চলছে। কাকও কাকের গোশত খায় না। মুসলিম মুসলিমের গোশত খায়। মুমিন মুমিনের গোশত খায়। কোন কোন সময় দেখবেন এক দাড়ি টুপিওয়ালা লোক আরেক দাড়ি টুপিওয়ালা লোকের গোশত খাচ্ছে। এমন অনেক মানুষ জুলুমের শিকার আছে এই সমাজে যাদের পিছনে এমন মানুষ কাজ করেছে যারা দেখতে ওই মানুষের মতই। এমন অনেক মানুষ জুলুমের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়তই এদের পেছনে এমন মানুষ আছে যে ওই মানুষের মতই দেখতে। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহপাক নিঃসন্দেহে তওবা কবুলকারী এবং পরম দয়ালু। এবার কিন্তু আর মুমিন বলছেন না আল্লাহ পাক। সে পুরো মানবজাতি। এখন আর মুমিনদেরকে নিয়ে কথা বলছে না এখন পুরো মানবজাতিকে নিয়ে কথা বলছেন আল্লাহ পাক। এবার পুরো মানবজাতিকে বলছেন আল্লাহ পাক। হে মানবজাতি আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে। হে মানবজাতি আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে আদম এবং হাওয়া থেকে। অতঃপর তোমাদেরকে বিভক্ত করে দিয়েছি বিভিন্ন কবিলায় এবং দলে উপদলে জাতিতে কবিলায় গোত্রে বিভক্ত করেছি । কেন? যাতে তোমরা একে অপর সাথে পরিচিত হতে পারো।

তাকওয়া, ঈমান ও প্রকৃত মুমিনের পরিচয়

ভাষার পার্থক্য থাকবে , রঙের পার্থক্য থাকবে , সংস্কৃতি পার্থক্য থাকবে ,রুচির অভ্যাসের পার্থক্য থাকবে , ভৌগলিক পার্থক্য থাকবে কিন্তু পরিচিত হওয়ার জন্য তোমাদেরকে আমি এভাবে বিভক্ত করেছি। গর্ব ফকর করার জন্য নয়। কারণ আল্লার কাছে সম্মানের মানদণ্ড এগুলো নয়। ভাষা , বর্ণ , রং জাতীয়তাবাদ এগুলো সম্মানের মানদন্ড নয়। কি মানদণ্ড ?তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত সেই ব্যক্তি যে ব্যক্তি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী। যার তাকওয়া বেশি সে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত ।হোক সে গরিব বা ধনী সাদা বা কালো যেকোন ভূগোলিকতার বা যেকোন জাতির হতে পারে যে কোন ভাষার বাজে কোন রঙের হতে পারে। আল্লাহপাক আরো বলেছেন হে নবী আরবেরা বলে আরবের যারা বেদুইন ছিল তারা বলে আমরা ঈমান এনেছি আমরা ঈমান এনে ফেলেছি। হে নবী আপনি বলে দিন তোমরা ঈমান নিয়ে আসনি এখনো । তোমরা প্রকৃতঅর্থে ঈমান নিয়ে আসনি। তোমরা বলো যে আমরা কেবল ইসলাম কবুল করেছি। মানে কেবল কালেমা সাক্ষ্য দিয়ে মুসলিম হয়েছে এখনো পরিপূর্ণ ঈমান তোমাদের কলবে ঢুকে নাই। তোমাদের কলবের মধ্যে এখনো ঈমানের সব লেভেল প্রবেশ করে নাই। কিন্তু তোমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তার রাসূলের আনুগত্য কর তাহলে আল্লাহ পাক তোমাদের আমলের কিছুই বিনষ্ট করবেন না। মানে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করলে তোমরা প্রকৃতপক্ষে মুমিন হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহপাক তোমাদের আমল বিনষ্ট করবেন না। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা পরম করুনাময় এবং অসীম দয়ালু। এবার আল্লাহপাক বলছেন আসলেই মুমিন কারা? ১৫ নাম্বার আয়াত থেকে আল্লাহ পাক বলছেন নিশ্চয়ই মুমিন তারাই যারা যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান নিয়ে এসেছে এবং তার রাসূলের প্রতি ঈমান নিয়ে এসেছে। ঈমান আনার পরে কখনো সংশয় সন্দেহ করে না। প্রকৃতপক্ষে মুমিন কারা যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং তার রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে এবং ঈমান আনার পরে আর কোন সংশয় আরোপ করে নাই। নিঃসন্দেহে এবং নিঃসংকচে আল্লাহ এবং তার রাসূলের আনুগত্য করেছে। আর কি করেছে? এবং আল্লাহর পথে তারা নিজেদের মাল এবং নিজেদের জান দিয়ে জিহাদ করেছে। কি এইটা? আল্লাহ পাকের দ্বীন ইসলাম আল্লাহ পাকের জমিনে প্রচার হবে প্রসার হবে প্রতিষ্ঠিত হবে এর জন্য আপনি আপনার কথা আপনার কলম আপনার আপনার মাল আপনার জান আপনার যা কিছু আছে আল্লাহপাক আপনাকে দিয়েছেন এই বিষয়গুলোকে আপনি ব্যবহার করে আপনি যখন দ্বীন টাকে প্রচার করার চেষ্টা করছেন প্রসার করার চেষ্টা করছেন এস্টাবলিস্ট করার চেষ্টা করছেন।এই প্রতিটা কাজই জিহাদ অন্তর্ভুক্ত । এটা কোশ্চেনকালেও নিরাপরাধ মানুষকে বোম মেরে হত্যা করার নাম নয়। এটা কোশ্চেন কালও একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ফাসাদ সৃষ্টি করার নাম নয়। এটা কখনো পশ্চিমের গোলক ধাধায় পড়ে উগ্রতা প্রদর্শন করার নাম নয়। মুসলিমদের মসজিদে বোমা মারার নাম নয় । নিরপরাধ মানুষদের হত্যা করার নাম নয়। এটা ইসলাম থেকে বহিঃসৃত দল হালখাওয়ার এর আকিদার মধ্যে চটে গিয়ে কবিরা গুনাহ করলেই মানুষকে হত্যা করতে হবে এইসব কনসেপ্ট এর নাম নয় ।বরং একটা ইবাদতের নাম। আল্লাহ পাক সূরা আনকাবুতে বলেছেন যারা আমার মতে প্রচেষ্টা চালায় আমি তাদেরকে পথ দেখাই। অনেক আয়াতে আছে প্রায় একশোর উপরে আয়াতে এটা আছে। এই শব্দটাকে নিয়ে বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নাই। এবং এটার মানে উগ্রতা প্রদর্শন করে সন্ত্রাসী কার্যকলম চালানোর নাম নয়। আল্লাহপাকের দ্বীনটা সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক প্রচার হোক প্রসার হোক প্রতিষ্ঠা লাভ করুক। জন্য আপনি নফসের সাথে বলুন জান দিয়ে মাল দিয়ে সময় দিয়ে শ্রম দিয়ে প্রতিটা ইন্সেন্টিভ এটার সাথে অন্তর্ভুক্ত। এবং এটা একটা ইবাদতের নাম। আল্লাহপাক বলেছেন প্রকৃত মুমিন তারায় যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি রাসূলের প্রতি এবং কোন সন্দেহ পোষণ করে না। তারপর দ্বীনর জন্য প্রচেষ্টা চালায় আল্লাহর পথে।এরাই হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে সত্য মমিন । হে নবী বলে দেন তোমরা কি আল্লাহকে তার দ্বীন শিখাতে চাচ্ছো। অথচ আল্লাহ পাকের আসমান জমিনের প্রতিটা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত আছে। সেই সত্তাকে কি তোমরা দ্বীন শিখাতে যাচ্ছ। যে সত্তা আসমান জমিনের প্রতিটা বিষয় সম্পর্কে অবগত। আল্লাহ পাক প্রত্যেকটা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানী। শেষের দুইটা আয়াতে আল্লাহপাক বলেছেন একশ্রেণীর মুসলিমের চরিত্র এখানে উন্মোচন করছেন। কিছু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে বলে তোমার সামনে এমন একটা ভাব প্রকাশ করে যে তোমার প্রতি খুব এহসান করে ফেলেছে। তোমরা কি ইসলাম কবুল করে করুণা করেছ নাকি আল্লাহর প্রতি? তোমাদের ইসলাম কবুল আল্লাহ পাকের কোন করুণা নাই আল্লাহ পাকের কোন কিছু যায় আসে না। তোমরা ইসলাম কবুল করেছ মনে করেছ তোমরা আল্লাহকে ঋণ দিয়ে ফেলেছ আল্লাহ পাক কে এহসান করে ফেলেছ। তোমাদের ইসলাম কবুলে আল্লাহর কিছুই যায় আসে না। বরং আল্লাহ পাকই তোমাদের ওপর এহসান করেছেন করুণা করেছেন যে আল্লাহ পাক তোমাদের কে ইসলাম কবুলের তৌফিক দিয়েছেন। যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো তাহলে বিশ্বাস করো এই বিষয়টা। নিশ্চয় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন গায়েবের সকল বিষয় জানেন আসমান জমিন গায়েবের সকল বিষয় জানেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সব কিছু দেখেন তোমরা যা করছো এ কথাটা বলে আল্লাহ পাক সুরাটাকে শেষ করেছেন। এই সূরাটা হচ্ছে সূরা হুজরত। যার সংক্ষিপ্ত এক্সপ্লেশন আমরা শুনলাম।

সাধারণ প্রশ্ন

এই আলোচনায় তাকওয়া অর্জনের উপায় কী বলা হয়েছে?

আলোচনা অনুযায়ী, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহর উপর থাকা এবং তাঁর সামনে আত্মসমর্পণ করা তাকওয়া অর্জনের পথ। এতে আল্লাহ ব্যক্তির কলবে তাকওয়া ঢেলে দেবেন বলা হয়েছে।

যারা রাসূলের সামনে কণ্ঠস্বর নিচু রাখে, তাদের জন্য কী রয়েছে?

আলোচনায় বলা হয়েছে, তাদের জন্য মাগফিরাত (ক্ষমা) এবং মহান পুরস্কার রয়েছে। সেই পুরস্কার এমন, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি এবং কোন মন কল্পনাও করতে পারেনি।

ফাসেক ব্যক্তির খবরের ব্যাপারে আয়াত কী শিক্ষা দেয়?

আলোচনায় বলা হয়েছে, ফাসেক বা পাপাচারী কেউ কোন সংবাদ আনলে তা আগে তদন্ত ও যাচাই করতে হবে এবং যাচাই ছাড়া বিশ্বাস বা পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। অজ্ঞতাবশত কিছু করে পরে অনুতপ্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।

গীবত সম্পর্কে আলোচনায় কী বলা হয়েছে?

আলোচনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বর্ণনার উল্লেখ আছে যে ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে এমন কথা বলা যা সে শুনলে কষ্ট পাবে, সেটাই গীবত। আর সেই দোষ তার মধ্যে না থাকলে তা অপবাদ হবে।