যে তথ্য আপনার অজানা
দাজ্জালের ফিতনা ও সূরা কাহাফ তেলাওয়াত
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে আদম আলাই সাল্লাম থেকে শুরু করে কেয়ামত পর্যন্ত দাজ্জালের মতো ভয়ংকর কোনো ফেতনা আসে নাই। এবং প্রত্যেক নবী আলাইহিস সাল্লাম তার কওম কে দাজ্জালের সম্পর্কে সতর্ক করেছেন । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন নুহ আলাই সাল্লাম পর্যন্ত তার কওমকে দাজ্জাল সম্পর্কে সর্তক করেছেন ।আমি তোমাদেরকে দজ্জাল সম্পর্কে এমন একটা কথা বলতে চাচ্ছি যেটা অন্য নবীগন বলেননি।সেটা হলো দাজ্জাল এক চোখে অন্ধ অন্য বর্ণনায় আছে ডান চোখে অন্ধ। তোমাদের আল্লাহ তিনি অন্ধ নন এতোটুকু অতিরিক্ত। এবং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন যে জুমার দিনে যারা সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে। মাসিহুদ দাজ্জাল যদি বের হয় তাদের সময়ে , বের হয় মানে মানুষের রূপে আত্মপ্রকাশ করে তাহলেও দাজ্জাল তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। যদি দাজ্জাল কথার কথা যদি এখন বের হলো এবং আপনি যদি সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করে থাকেন আজকের জুমার দিনে ইনশাল্লাহ দাজ্জাল আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। সূরাতুল কাহাফ পুরাটাতে ১১০টা আয়াত আছে। যদি ১১০ আয়াত পড়তে পারেন আলহামদুলিল্লাহ। অর্থ বুঝেন আর নাই বুঝেন পড়লেই নেকি হবে ইনশাআল্লাহ। আর অর্থ বুঝে পড়লে হক আদায় হবে। আর যদি না পারেন একশ দশ আয়াত পড়তে তাহলে কমপক্ষে প্রথম দশ আয়াত আর শেষে দশ আয়াত পড়বেন ।বলে রাখছি যে দাজ্জালের থেকে ভয়ংকর কোন ফিতনা নাই। কখনো ছিলও না কখনো আসবেও না। একটা এক্সাম্পল দিয়ে বুঝাতে পারি যে পৃথিবীতে এখন যত ফিতনা আছে এখন সুদের ফিতনা ,জেনার ফেতনা ,মেয়েদের বেপর্দার ফিতনা , রাষ্ট্রীয় ফিতনা , বিশ্বে মারামারি হানাহানি বিশ্বযুদ্ধ , পারমানবিক যুদ্ধ পরিবারের ফেতনা , ধর্মের মধ্যে ফেতনা যত ফিতনা দেখছেন এখন সবগুলোকে যদি একসাথে করেন। তবুও দাজ্জালের ফেতনার সমান বড় হবে না। এখন আপনি বুঝতে চেষ্টা করেন যে ফিতনা টা কত বড় হবে। আমি একটা হাদিস পড়েছি সেখানে আছে মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন মুমিন একজন ব্যক্তি তারা যেন উৎসাহবশত বা কিউরিসিটি বশত দাজ্জালকে দেখতে না যায় যদি সে বের হয়। যে সে এত ভয়ঙ্কর ফেতনা হবে যে তাকে দেখতে গেলেও তার ভেলকিবাজি দেখে তা বিশ্বাস করে ফেলতে পারে। মেবি দাজ্জালী আল্লাহ নাউজুবিল্লাহ। তো সূরা কাহাফ আপনি তেলাওয়াত করলে আপনাকে মাছিহুদ দাজ্জাল থেকে আল্লাহপাক আপনাকে বাঁচাবেন ইনশাআল্লাহ। বেশি বেশি দুরূদ পড়বেন যত বেশি দরুদ পড়বেন আল্লাহ পাক রহমত বরকত আপনাকে দান করবেন ইনশাআল্লাহ। দূরদের জবাব নবীজি সাঃ দিয়ে থাকেন সালাম দিলে সালামের উত্তর নবীজি সাঃ দিয়ে থাকে। আপনাকে যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন কথার কথা আসসালামু আলাইকুম বা ওয়ালাইকুমস আসসালাম তো আপনার জীবনটা ধন্য হবে না। তো আপনি যদি দুরুদ পড়েন সেই দরুদ গুলো ফেরেশতাগণ নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর রওজা বা কবরে পৌঁছে দিবেন। এবং তিনি আল্লাহর হুকুমে এর জবাব দিবেন। তো যে যত বেশি সুখ এবং সমৃদ্ধ চায় , রিলেক্স লাইফ লিড করতে চায় , টেনশন মুক্ত থাকতে চায় , আল্লাহর রহমত বরকত চাই তার উচিত বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করা। কমপক্ষে দিনে ২০বার সকালে ১০ বার সন্ধ্যায় ১০ বার। এতে করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সুপারিশ যে পাবে ইনশাআল্লাহ।
জুমার দিনের আমল ও দাজ্জাল আলোচনা
তবে ওই যে বললাম হারাম ত্যাগ করতে হবে সুদ , ঘুষ , জেনা , ব্যভিচার ইত্যাদি সব ত্যাগ করতে হবে। যদিও বা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবিরা গুনাহগার ব্যক্তিদের জন্যই সুপারিশ করবেন। যাদের অন্তরে এক জাররা পরিমাণ ঈমান আছে ইনশাল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম সুপারিশ করে তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাবেন। তবে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করার পরে। দুই নাম্বার বললাম বেশি বেশি দোয়া করবেন জুম্মার দিনে ।আপনার জীবনে যত চাওয়া পাওয়া আছে সব সপে দেন আল্লাহর কাছে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করবেন। আর তিন নাম্বার বললাম জুম্মার দিনে সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবেন। কমপক্ষে প্রথম দশ আয়াত এবং শেষের দশ আয়াত। করলে কি হবে? আপনি মাসিহুদ দাজ্জালের ফেৎনা থেকে বাঁচতে পারবেন। দাজ্জাল সম্পর্কে কিছু কথা বলছি। কারণ দাজ্জালের যখন আগমন ঘটবে ওই সময় মানুষ দাজ্জালের আলোচনা করা বন্ধ করে দিবে। এটাও একটা আলামত দাজ্জালের বের হওয়ার। এখন খুব বেশি আলোচনা হয় কি এটা নিয়ে।মাসিহুদ দাজ্জাল কে নিয়ে কি খুব বেশি আলোচনা হয়। কে দাজ্জাল , কোথায় আছে , কোত্থেকে আসবে , কি করবে , কিভাবে সে সারা বিশ্বে ফেতনা সৃষ্টি করবে এগুলো নিয়ে কি আমরা আলোচনা খুব বেশি করি ? অথচ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে শেষ বৈঠকে কস নামাজের শেষ বৈঠকে মানে আত্তাহিয়াতু দুরুদ পড়ার পরে একটা দোয়া করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে দাজ্জাল থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার কি দরকার ছিল। সাহাবা ইকরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু ব্যাপারটা নিয়ে ডিসকারস করতেন । এবং কি মদিনার একজন ছেলে জান্নাত ইবনে সাইয়েদ তাকে অনেক সাহাবী দাজ্জাল মনে করতেন। কারণ তার সাথে দাজ্জালের সাদৃশ্য ছিল। সেও ইহুদি ছিল তারও কোকড়ানো চুল ছিল তার ও এক চোখ সমস্যা ছিল সেও যাদুবিদ্যার চর্চা করতো আরো অনেক ব্যাপার স্যাপার ছিল। তো অনেক সাহাবী মনে করতেন যে ইবনে সাইয়েদই মনে হয় দাজ্জাল। জাবির ইবনে রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন যে আমি আল্লাহর কসম করে বলছি সেই দাজ্জাল। আরেকজন সাহাবী বলছে তুমি এত দৃঢ়তার সাথে কেমন করে বলতে পারো।তিনি বলছেন আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কে অনেকবার কসম করে বলতে শুনেছি যে এই দাজ্জাল। দাজ্জাল এমন একটা ফেতনা যে শেষ জামানায় বের হবে। দশটা বড় বড় ফেতনার মধ্যে সে একটা। এবং সে সবচেয়ে বড় ফেতনা। এবং দাজ্জালের আগমন এবং তার হত্যার আগে কেয়ামত হবে না। কিয়ামতের আগে সে বের হবে এবং তাকে হত্যা করা হবে।
ঈসা আলাইহিস সালাম ও দাজ্জালের শেষ পরিণতি
কে হত্যা করবে ? ঈশা আঃ সাল্লাম ।ঈসা আলাই সাল্লাম কোথায় আছেন এখন। আল্লাহ পাকের কাছে। আল্লাহ পাক তাকে উঠিয়ে নিয়েছেন তিনি জীবিত আছেন। তারা তাকে হত্যা করে নাই ক্রুষবিদ্ধ করতে পারে নাই। ঈসা আলাই সাল্লাম আসবেন সিরিয়ায়।দামাসকে এখানে তিনি নামবেন।তারপর দাজ্জালের সাথে তার ব্যাটেল যুদ্ধ হবে দাজ্জালকে তিনি নিহত সায়ামে লুদ নামক জায়গায় যেটা এখন ইসরাইলের মধ্যে পড়েছে। তো দাজ্জাল যখন বের হবে সে ৪০দিন পৃথিবীতে বিরাজ করবে। এবং ৪০ দিনের মধ্যে সে পৃথিবীকে ম্যাসাকার করে তুলবে। বাতাসের বেগে সে ভ্রমণ করতে পারবে। সে আবহাওয়া , বৃষ্টিপাতকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। ইচ্ছা হলে বৃষ্টি দিবে ইচ্ছে হলে দিবে না। যারা তার আনুগত্য করবে তাদেরকে সে স্বচ্ছলতা দিবে আর যারা করবে না ওদেরকে দুর্ভিক্ষ দিবে। সে একজন যুবককে ছিড়ে ফেলে দিবে পা ধরে ছিঁড়ে ফেলে দিবে । ছিঁড়ে ফেলে তাকে আবার জীবিত করে দিবে। তার এক হাতে জান্নাত আর এক হাতে জাহান্নাম থাকবে। একটা সত্যি কাদের জান্নাত জাহান্নাম না এটা রূপক অর্থে বোঝানো হয়েছে। মানে যারা আনুগত্য করবে সে তাদেরকে সচ্ছলতা দিবে এটাই জান্নাত আর যারা আনুগত্য করবে না তাদেরকে সে শাস্তি দিবে এটাই জাহান্নাম। তো সে ৪০ দিন পৃথিবীতে ভ্রমণ করে এভাবেই পৃথিবী শাসন করবে। তাকে সহযোগিতা করবে কারা? তাকে সহযোগিতা করবে ইহুদীরা। আর ইহুদিরা আশা করে বসে আছে যে তাদের একজন নেতা বা মাসিহ আসবে সে আসলে তারা বিশ্ব শাসন করবে। এবং সেই ইহুদিরা এখন জেরুজালেম দখল করেছে। ২০০০ বছর যেখানে প্রবেশ করতে পারে নাই এখন সেখানে প্রবেশ করেছে। ১৯১৭ সালে বৃটেনের হাত ধরে Bell for declaration এর পরে। তারপরে পৃথিবীর সমস্ত ইহুদিরা সেখানে এসেও গেছে। তারা রাষ্ট্র গঠন করেছে এবং এখন তারা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করছে মোটামুটি। বলা যায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে ।বিশ্বের প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্ট পলিটিক্স , ইকোনোমিক , আপনার ফাইনান্স , আপনার প্রযুক্তি , আপনার অস্ত্র , আপনার মিডিয়া প্রতিটা বিষয়ে তারা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণ করছে। এটা বোঝার জন্য আপনার পি এইচ ডি করার দরকার নেই আপনি এমনি বুঝতে পারবেন। এবং কি আরবের তেল পর্যন্ত সে নিয়ন্ত্রণ করছে।তো এইচ জিউস রাই আস্তে আস্তে তাদের কান্ট্রি টাকে বড় করবে এবং ইনশাল্লাহ , ইনশাল্লাহ বলছি এর জন্য যে যেহেতু এটা হবে দাজ্জাল তাদেরকে নিয়ে শাসন করবে। জিউসরা বিশ্ব শাসন করবে এইভাবে। তারপর ঈসা আলাই সালাম তাদেরকে হত্যা করবেন। এবং মাসিহুদ দাজ্জাল এর খেলার শেষ। এরপর ইসলামিক খেলাফত বাস্তবায়ন হবে ইনশাল্লাহ। তো বলছিলাম যে এই ফিতনাটা অনেক জটিল হবে এত জটিল হবে যে মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না। এর জন্য সুরাতুল কাহাফ তেলাওয়াত করা ছাড়া যাবে না প্রত্যেক জুম্মায়। কমপক্ষে প্রথম দশ আয়াত এবং শেষে দশ আয়াত আপনাকে তেলাওয়াত করতে হবে। আল্লাহুম্মা আমীন।
সাধারণ প্রশ্ন
জুমার দিনে সূরা কাহাফ কতটুকু তেলাওয়াত করতে বলা হয়েছে?
লেখায় বলা হয়েছে, কমপক্ষে প্রথম দশ আয়াত এবং শেষের দশ আয়াত তেলাওয়াত করা উচিত। সম্ভব হলে পুরো সূরা (১১০ আয়াত) পড়ার কথাও বলা হয়েছে।
দাজ্জাল সম্পর্কে কী বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে?
লেখায় বলা হয়েছে দাজ্জাল এক চোখে অন্ধ (অন্য বর্ণনায় ডান চোখে অন্ধ) এবং সে ৪০ দিন পৃথিবীতে বিচরণ করবে। ঈসা আলাইহিস সালাম তাকে হত্যা করবেন বলেও উল্লেখ আছে।
লেখক দুরূদ পাঠ সম্পর্কে কী পরামর্শ দিয়েছেন?
লেখায় বেশি বেশি দুরূদ পাঠের কথা বলা হয়েছে, কমপক্ষে দিনে ২০ বার (সকালে ১০ বার ও সন্ধ্যায় ১০ বার)। জুমার দিনে বেশি বেশি দোয়ার কথাও বলা হয়েছে।