Islamবাংলা

লোকমান আঃ এর জীবনী

লোকমান হাকিমের প্রজ্ঞা ও শুকরিয়া

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরাতুল লোকমানের মধ্যে বলেছেন ১২ নাম্বার আয়াতে। আল্লাহ পাক বলছেন নিশ্চয়ই আমি লোকমানকে প্রজ্ঞা দিয়েছিলাম হিকমা দিয়েছিলাম। আমি লোকমানকে প্রজ্ঞা দিয়েছিলাম এবং তাকে আদেশ করেছিলাম। সে যেনো আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। প্রকৃতপক্ষে যে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে সে তার নিজের ভালোর জন্যই করে। যদি কেউ আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে কুফরি করে। এতে আল্লাহ পাকের কিছুই আসে যায় না। আল্লাহ পাক অনিউল হামিদ। আল্লাহ পাক অভাব মুক্ত এবং প্রশংসিত। কে এই লোকমান হাকিম যাকে প্রজ্ঞা দেওয়া হয়েছে? তাফসীরের গ্রন্থগুলো দেখলে দেখা যায় তিনি নবী ছিলেন কি ছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। একশ্রেণীর আলেম বলতেন যে তিনি নবী ছিলেন। আর এক শ্রেণীর আলেম বলতেন তিনি নবী ছিলেন না কিন্তু তিনি আল্লাহর ওলি ছিলেন। তিনি নবী ছিলেন না এই প্রবাদটা বেশি শক্তিশালী। কুরআনে কারীমে এমন কিছু মানুষের কথা উল্লেখ করা আছে। যারা নবী ছিলেন কি না এ বিষয়ে সন্দেহ আছে। কিন্তু তাদেরকে আল্লাহ পাক যে ইলাম বা হিকমা বা প্রজ্ঞা দিয়েছে এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। যেমন একজন ব্যক্তির নাম হচ্ছে খিজির আলাইহিস সাল্লাম নাম শুনেছেন। আরেকজনের নাম জুলকার নাইম নাম শুনেছেন । নবী মুসা আলাইহিস সাল্লাম একদিন জনগণের সম্মুখে ভাষণ দিচ্ছেন। খুতবা শেষ হওয়ার পর একজন ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন হে মুসা আলাইহিস সালাম তুমি অত্যন্ত চমৎকার একটা বক্তব্য দিয়েছ। তুমি কি পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ? নবী মুসা আলাইহিস সাল্লাম বললেন হ্যাঁ আমি পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ।তিনি এই অর্থে বলেছিলেন তার কাছে আল্লাহর ওহী আসেন ।তাওরাত তার ওপর নাযিল হয়। আল্লাহর ওহি যার কাছে আসে তার চেয়ে জ্ঞানী মানুষ আর কেউ থাকতে পারে। জ্ঞানের উৎস কি? মানুষের মস্তিষ্ক বসত যুক্তি দর্শন নাকি আল্লাহর ওহী। আল্লাহর ওহী। জ্ঞান কোথা থেকে এসেছে। আল্লাহ বলছেন আমি আদম আলাইহিস সাল্লামকে সমস্ত নামের জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছি। জ্ঞান কে শিক্ষা দিয়েছেন। আল্লাহ। তিনি মানুষকে সেই জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন যেই জ্ঞান মানুষ জানতো না। সৃষ্টিগতভাবে আমরা জ্ঞানী ছিলাম না। আল্লাহপাক আমাদেরকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। যান তাত্ত্বিক দর্শনের বইগুলো পড়লে আমরা দেখি। একশ্রেণীর দার্শনিক বিতর্ক করতেন জ্ঞান মানুষ সৃষ্টিগত ভাবেই নিজেদের ডিএনএ তে পেয়েছেন।এদেরকে বলে বুদ্ধি বাদী দার্শনিক। আবার আরেকজন দার্শনিক বলেছেন যে না মানুষ অভিজ্ঞতা থেকে যা অর্জন করে সেটাই হচ্ছে জ্ঞান। আবার নতুন আধুনিক কিছু দার্শনিক এসেছিলেন যারা বলতেন। বুদ্ধিবাদী নয় এবং অভিজ্ঞতাও নয় মানুষ বুদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা দুটো একত্রে মিলিয়েই জ্ঞান শিক্ষা লাভ করে। এদেরকে বলা হতো সমন্বয়বাদী দার্শনিক। আমরা দেখি যে দার্শনিকগণ কোন শুলেশনে যেতে পারেন না। তর্ক করতে থাকেন বিতর্ক করতে থাকেন কিন্তু কোন কূলকিনারা খুঁজে পান না। কারণ তারা চূড়ান্ত অসীম সত্তার কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারেন না। তিনি কে? তিনি হচ্ছেন আল্লাহ। আমরা জানি জ্ঞান আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। আল্লাহ পাক সূরা কাহাফ ২৯ নাম্বার আয়াতে বলেছেন। হে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হক বা সত্য বা জ্ঞান বা ন্যায় অন্যায়ের মানদণ্ড বা সত্য মিথ্যার মানদন্ড তোমার রবের পক্ষ থেকে আসে ।

ওহী ও জ্ঞানের উৎস

জ্ঞান ন্যায় অন্যায়ের মানদন্ড তোমার রবের পক্ষ থেকে আসে। যার ইচ্ছা হয় সে ঈমান নিয়ে আসুক। যার ইচ্ছা হয় সে অস্বীকার করুক। আমি অস্বীকার কারী জালিমদের জন্য আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি নাউজুবিল্লাহ । আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সমস্ত বিষয়ের স্রষ্ঠা । বিগ ব্যাংক থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়নি বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে। বিগ ব্যাংকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সৃষ্টি করেছেন আমরা এটা বিশ্বাস করি। আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত জ্ঞান আসে। কিভাবে আসে? ওহির মাধ্যমে আসে। আল্লাহ পাক কী সরাসরি মানুষের সাথে কথা বলেন? বলেন না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন একটা মাধ্যম অবলম্বন করেন। মানুষের মধ্যে কিছু মানুষকে আল্লাহপাক বাছাই করে নেন। যাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী নাজিল করা হয়। আর এই ওহী হচ্ছে চূড়ান্ত জ্ঞান। সত্য মিথ্যার চূড়ান্ত মানদণ্ড। কিভাবে নাযিল হয়? মালাইকার মাধ্যমে। কোন মালাইকা? তার নাম জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম। এভাবে প্রত্যেক যুগে যুগে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সৃষ্টির শুরু থেকে ওহী নাযিল করে এসেছেন। তাই আমরা বলতে পারি সভ্যতা শুরু হয়েছে নবী দ্বারা। বাকি যা কিছু আছে এগুলো বাতিল। আল্লাহর ওহীর বিপক্ষে যা কিছু যাবে ওগুলো বাতিল। মানুষের বুদ্ধি মানুষের অভিজ্ঞতা মানুষের দর্শন মানুষের বিজ্ঞান এগুলো যদি কুরআন সুন্নাহ বা ওহীর অনুকূলে হয় বা আলোকে হয় মানতে কোন আপত্তি নেই আমাদের । মানুষের কোন যুক্তি, দর্শন বা বিধান বা স্কুল অফ থট যেটাই বলেন। যদি কুরআন, সুন্নাহ এবং ওহীর অনুকূলে না হয় তাহলে এটা মানতে আমরা বাধ্য নই। কেউ যদি বলে সমকামিতা ভালো কাজ একজন ছেলে আরেকজন ছেলেকে বিয়ে করতে পারে। কেউ যদি বলে সমকামিতা ভালো এটা ব্যক্তি স্বাধীনতা একটা মেয়ে আরেকটা মেয়েকে বিয়ে করতে পারে। কেউ যদি বলে পর্দা করা ভাল কাজ নয় বেপর্দাই ভালো। ফ্যামিলিস্ট রেভুলেশন ভালো নারী পুরুষ একাকার হয়ে চলাফেরা করবে এটা ভালো।কেউ যদি বলে মাদকদ্রব্য ভালো মাদকদ্রব্য খেলে শরীরের মধ্যে জোস আসে ।কেউ যদি বলে সুদ ভালো সুদের মাধ্যমে সম্পদের অগ্রগতি হয় প্রগতি হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। ।এ ধরনের কথাবার্তা যে এবং যারা বলুক না কেন কুরআন এবং সুন্নায় অনুকূলে নই এগুলো মানতে আমরা বাধ্য নই। এগুলো ছেড়ে দেওয়াই অস্বীকার করাই এগুলোর সাথে কুফরি করাই আমাদের ইমাম। আল্লাহ পাক কিন্তু আমাদেরকে কুফরি ও করতে বলেছেন আছে না কোরআনে। যে ব্যক্তি তাবুদের সাথে কুফুরি করবে এবং ইমাম নিয়ে আসবে। সে ব্যক্তি এমন হাতল ধরল। এভাবে যারা চিন্তা করে তাদেরকে মুসলিম বলা হয়। আর ইসলাম নতুন কোন ধর্ম নয়। আর ইসলাম একটা ধর্ম নয় এটা কোড অফ লাইফ এটা একটা জীবন ব্যবস্থা। ধর্ম কাকে বলে? যেখানে আচার-অনুষ্ঠান দৃষ্টি কালচার থাকবে। আর জীবন ব্যবস্থা কাকে বলে?যেখানে জীবনের প্রতিটা বিষয়ে সমাধান থাকে। এখন ইসলাম কি এই প্রশ্ন শুধু আপনাকে করছে। আপনি বলুন ইসলামে কি শুধু দৃষ্টিকালচার আছে। না কি জীবনের সবকিছু সমাধান আছে। কিভাবে ইবাদত করবেন ইসলাম বলেনি? কিভাবে ব্যবসা করবেন কোরআন হাদিস বলে নাই? কিভাবে আপনি পরিবার চালাবেন সমাজ চালাবেন বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে আপনি ডিল করবেন এগুলো কি কুরআন সুন্নাহ বলে নাই।

ওহী ও মানুষের যুক্তির অবস্থান

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে শিখাচ্ছেন কিভাবে চুল আঁচড়াতে হয়। এটাও কোরআন হাদিসে আছে।কিভাবে করে বাথরুমে যেতে হয় এটাও কোরআন হাদিস আছে।কেমন করে খাবার খেতে হয় এটাও কোরআন হাদিস আছে। কেমন করে আপনি চলবেন পরিবারের সাথে থাকবেন কিভাবে কার সাথে মিশবেন প্রতিবেশীকে সাহায্য করবেন সবই কোরআন হাদিসে দেওয়া আছে। কিভাবে আল্লাহর দিনকে এস্টাবলিশ করবেন সবই কোরআন হাদিস দেওয়া আছে। সবকিছু দেওয়া আছে কোরআন হাদিসের মধ্যে এমন কোন জিনিস নাই যে আপনি দেখাতে পারবেন যে নেই ।অনেস্টলি দেখান যে কোরআন সুন্নাহই নেই এমন কোন জিনিস আছে কিনা। হটোকারিতা করে নয়।হটোকারিতা অর্থ হলো যে জানে কোরআন মসজিদে সব আছে তাও সে অস্বীকার করে।আরেকজন ব্যক্তি যে জানে না কুরআন মসজিদে কি আছে পরে বিরোধিতা করছে এদেরকে বলা হয় কুফরি করছে হটোকারিতা করছে না। একজন হঠকারী মানুষ না হয়ে একজন বিজ্ঞ মানুষ হয়ে আপনি বলেন যে কুরআন সুন্নাহ তে সব সমাধান আছে কিনা। কেউ মেনে না হে সব সমাধান আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি না। তার হিসেবে এক রকম হবে। সে মেনে নিয়েছে সবকিছু আছে এবং কুরআন এবং কুরআন সুন্নাহর মধ্যে জীবনের প্রত্যেকটা বিষয় সমাধান আছে ।কিন্তু পারিপার্শ্বিকতার কারণে বৈশ্বিক বৈষম্যের কারণে দুর্বলতার কারণে ঈমানের দুর্বলতার কারণে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কারণে আমি এগুলোকে। ১০০% বাস্তবায়ন করতে পারি না। তার হিসাব একরকম। আল্লাহ পাক কে মাফ করেও দিতে পারেন ইনশাআল্লাহ ।কারণ তার আকিদা ঠিক ছিল। আরেকজনের আকিদা হচ্ছে তার সব নাই কোরআন সুন্নাহর মধ্যে এসব নাই। কোরআন হাদিসে যা আছে এর চাইতে আমি ভালো বুঝি। আমার বুঝ অনুযায়ী এই ব্যক্তি স্পষ্ট কাফের স্পষ্ট অমুসলিম। এই দুইজনের হিসাব একরকম হবে না।এভাবে যারা চিন্তা করে তাদেরকে মুসলিম বলা হয়। আর ইসলাম নতুন কোন ধর্ম নয় আদম আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম পর্যন্ত প্রত্যেকটা নবী সভ্যতার ধারণতার বাহন ছিলেন। এবং তারা সকলেই মুসলিম ছিলেন। তারা নতুন কোন ধর্ম নিয়ে আসেন নাই। পরবর্তীতে মানুষ হারালো দিনকে বিকৃত করেছে ।আল্লাহর নাজিলকে তাওরাতকে যাবুলকে ইনজিলকে এসবকে বিকৃত করেছে। বিকৃত করার পর আল্লাহ পাক নতুন ধর্ম পাঠিয়েছেন। নতুন সেপে নতুন ফরমে নতুনভাবে একই বিষয়ে। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আল্লাহ পাক বলছেন আমি প্রত্যেকটা সম্পদের মধ্যে নবী রাসুল পাঠিয়েছি। দুইটা দাওয়াত দিয়ে নবী পাঠিয়েছিলাম। তোমরা আল্লাহকে ইবাদত করবে এবং তাগদকে বর্জন কর। প্রত্যেক নবী রাসুল একই কাজ করে গেছেন। তাই মুসা আলাই সালাম ইহুদি ছিলেন এমনটা বিষয় নয়। তিনি একজন মুসলিম ছিলেন। নবী ঈসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম খ্রিস্টান ছিলেন না তিনি একজন মুসলিম ছিলেন। আদম আলাই সাল্লাম মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরা সবাই মুসলিম ছিলেন। তারা কেউ নতুন ধর্ম নিয়ে আসেন নাই। এখনকার বইয়ের লেখা থাকে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ সাঃ। নাউজুবিল্লাহ ।তিনি কি ইসলাম ধর্মে প্রবর্তক নাকি প্রচারক? শব্দ উচ্চারণের এত গাফিলতি কেন? তিনি ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক নন ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হচ্ছে আল্লাহ রব্বুল আলামিন। আদম আলাই সাল্লাম মুসলিম ছিলেন।নূহ ওয়ালাইকুম আসসালাম মুসলিম ছিলেন। প্রত্যেক নবী রাসুলই মুসলিম ছিলেন।তারা নতুন কোন ধর্ম নিয়ে যান নাই। ইসলাম চির নতুন চির প্রাচীন চির আধুনিক। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক নন বরং প্রচারক।

কুরআন সুন্নাহ ও বাস্তবায়নের প্রশ্ন

আমরা সংক্ষিপ্ত আকার হিস্ট্রি ঘাটলে দেখব প্রত্যেক যুগে যুগে যারাই আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করেছে আল্লাহ পাক তাদেরকে উদ্ধার করেছে। বিপদ আপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। দুনিয়াতে সফল করেছেন এবং পরকালেও সফল করেছেন বলেন সুবহানাল্লাহ। নূহ আলাইহিস সাল্লাম ৯৫০ বছর ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। অল্প কিছু মানুষ ইসলাম ধর্ম কবুল করেছেন বাকিরা করেন নাই। ওই অল্প কিছু মানুষকে আল্লাহপাক বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। বাকিদেরকে ডুবিয়ে দিয়েছে। আমরা যারা পৃথিবীতে বেঁচে আছি এখনো। আমরা কোন না কোন ভাবে ওই ৪০ বা ৮০টি পরিবারের সদস্য। আমাদের বংশ ওখানে গিয়ে মিলে যাবে ওই ৪০ বা ৮০ জনের সাথে। এর বাইরে আর কোন মানুষ পৃথিবীতে ছিল না। ওই যে কিস্তির মধ্যে ৪০ বা ৮০ টা পরিবার চলে গেল না মনে আছে। তারাই পৃথিবীতে টিকে ছিল বাকি সবাইকে আল্লাহপাক ধংস করে দিয়েছিল। আমরা সবাই তাদেরই সন্তান। দেখবেন চেহারার মধ্যে মিল পাবেন। বিভিন্ন জায়গায় মানুষের চেহারার মধ্যে মিল পাবেন। আফ্রিকার মানুষের সাথে ও চেহারায় মিল থাকবে। আফ্রিকার মানুষের চেহারা এক রকম। আরবের মানুষের চেহারা একরকম। পশ্চিমার পশ্চিম বিশ্বের মানুষদের চেহারা এক রকম। চাইনিজ উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়া তাদের চেহারা এক রকম। সবাই একই পরিবার থেকে এসেছে। এবং আমরা সবাই একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে এসেছি। তারা কে? আদম আলাইহিস সাল্লাম আমাদের আদি পিতা এবং হাওয়া আলাইহিস সাল্লাম আমাদের আদি মাতা। আমরা সবাই কিন্তু ভাই। দুনিয়াতে এসে শয়তানের ধোকায় পরে আল্লাহর ওহীকে অগ্রাহ্য করে কেউ আল্লাহর আনুগত্য করছে কেউ কুফরি করছে। এভাবে আস্তে আস্তে মানুষের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়ে গেল। যাইহোক আমরা ওই দিকে যাচ্ছি না। আমি বলতে চাচ্ছি প্রত্যেক যুগে যুগে যারাই আল্লাহ এবং তার রাসুলের আনুগত্য করেছে। আল্লাহ পাক তাদেরকেই উদ্ধার করেছেন। নূহ আলাইহিস সাল্লাম কে দেখেন ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম কে দেখেন তার অনুসারীদেরকে উদ্ধার করেছেন এবং নমরুদকে ডুবিয়ে মেরেছেন । মারেন নাই নমরুদকে ধ্বংস করেছেন। মশা দিয়ে ধ্বংস করেছেন নমরুদকে। মুসা আলাইহিস সাল্লাম কে দেখেন।মুসা আলাইহিস সাল্লাম এবং তার অনুসারীদেরকে উদ্ধার করেছেন। ফেরাউন এবং তার দলবলকে লোহিত সাগরের ডুবিয়ে মেরেছেন। মুসা আলাইহিস সাল্লাম , নবী ঈসা আলাইহিস সাল্লাম একই সুন্নাহ। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবু জাহেল আবু লাহাব ওরা আছে নাই। আবু বক্কর, আবু সিদ্দিক ,ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু, ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের নাম কেয়ামত পর্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে তাই নয় কি । আল্লাহ পাকের একই সুন্নাহ। এই ইতিহাস ঘাটলে দেখবেন কিছু কিছু মানুষ এমন ছিলেন যারা আল্লাহর নবী ছিলেন না। আল্লাহ পাক তাদেরকে মনোনীত করেছিলেন ইলম এবং প্রজ্ঞা দিয়েছিলেন। আল্লাহ পাক সেগুলো এখনো করতে পারেন। আল্লাহ পাক এখনো মানুষের কল্বের মধ্যে ইলম, ঈমান, হিকমা ,নূর, প্রজ্ঞা নাযিল করতে পারেন। পারেন না পারেন । আল্লাহপাক দেখবেন যে কল্ব পরিচ্ছন্ন যে কলবের মধ্যে কোন হিংসা নাই কোন বিদ্বেষ নাই কোন রিয়া নাই লোক দেখানোর মত কোন বিষয় নাই কোন অহংকার নাই মনটা স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন। আল্লাহ পাক ওই কলবের মধ্যে আল্লাহর নূর নাযিল করবেন ইনশাল্লাহুতালা।এখনো সম্ভব।

নূহ আলাইহিস সালাম ও মানবজাতির উৎপত্তি

আর আল্লাহর নুন না পেলে কেউ দূরদর্শিতা সম্পূর্ণ হতে পারবেনা। এক চোখ দিয়ে দেখা এক জিনিস আর কলব দিয়ে দেখা আরেক জিনিস। এক চোখা মানুষ বলছে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। কলবের মধ্যে আল্লাহর নূর ওয়ালা মানুষ বলছে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কিয়ামতের দিকে। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু কিয়ামতের দিকে। তার শেষ সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। এবং এখন তো খুব দ্রুত যাচ্ছে। এখন তো সময় খুব দ্রুত যাচ্ছে। একটা বছর যাচ্ছে একটা মাসের মতো। একটা মাস যাচ্ছে একটা সপ্তাহর মতো। একটা সপ্তাহ যাচ্ছে একটা দিনের মতো।একটা দিন যাচ্ছে একটা ঘন্টার মত।যারা যারা আল্লাহর নূর এবং ওসিলা প্রাপ্ত তারা বুঝতে পারবে। এই যে রমজান চলে আসলো। কয়দিন আগে রমজান শেষ হলো আবার রমজান চলে আসলো। এই যে কয়দিন আগে জুমার নামাজ শেষ করলেন দেখবেন আবার জুম্মা চলে আসলো। সময় খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে। কিসের আলামত? কিয়ামতের আলামত। কত আলামত আছে আপনাকে বলে শেষ করতে পারবো না? মহিলাদের সংখ্যা বাড়ছে। পুরুষদের সংখ্যা কমছে। এমন মহিলাদেরকে রাস্তায় দেখবেন যারা পোশাক পরেও নগ্ন হয়ে রাস্তায় ঘুরছে।এদের সম্পর্কে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন শেষ জামানায় এমন এক শ্রেণীর মেয়ে আসবে যাদেরকে আমি দেখি নাই মানে ১৪০০ বছর আগে এরা ছিল না। তাদের খাসলত কি তারা কাপড় পড়বে কিন্তু নগ্ন থাকবে। আপনি ২০০-৩০০ বছর আগে এই মহিলাদের কে দেখতে পারতেন না। লাস্ট ২০০ - ৩০০ বছর আপনি এই মহিলাদের কে দেখতে পারবেন।যখন থেকে পশ্চিমা বিশ্ব এই ওয়ার্ল্ডের দায়িত্ব নিয়েছেন তখন থেকে ।এটাকে ফ্যামিনিস্ট রেভুলেশন বলে। এবং নগ্নতা বেহায়াপনা এবং অশ্লীলতা এমন পোশাক পরব যে পোশাক হচ্ছে পুরুষদের পোশাক। এটা কেয়ামতের আলামত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন গরিব মানুষেরা দরিদ্র মানুষেরা যাদের স্যান্ডেল পরার টাকা নাই তারা বড় বড় দালান কোঠা অট্টালিকা তৈরি করার প্রতিযোগিতায় নামবে। এটা আখিরুজ্জামান বাঁশের জামানার আমানত। বিশাল বিশাল সাইনট গুলো প্রতিদিন প্রকাশ পাচ্ছে ডে বাই ডে। মানুষ সুদ খাবে একজন ব্যক্তি সুদের থেকে দূরে থাকতে চাইবে তার গায়ে ও সুদের ছিটাফোঁটা লাগবে। এটা সেই যুগ। আপনি পারবেন না সুদ থেকে বাঁচতে। দাড়ি-টুপি নিয়ে ওষুধ খেতে হচ্ছে কোন উপায় নাই কারণ সব সিস্টেমই হচ্ছে সুদ ভিত্তিক । হয় খাচ্ছেন না হলে দিচ্ছেন না হয় লিখে রাখছেন না হলে সাক্ষী থাকছেন কিছু না কিছু করছেন । মানুষ মাদক খাবে মাদককে হালাল মনে করে খাবে।মানুষ জেনা করবে জেনাকে হালাল মনে করবে আর মনে করবে না। মানুষ মানুষকে হত্যা করবে।যে হত্যা করবে সে জানবে না যে কেন তাকে হত্যা করা হচ্ছে । আর যাকে মারা যাবে সেও জানবে না কি জন্য আমাকে মারলো? পিতা-মাতার সাথে দাস-দাসীর মতো আচরণ করা হবে। সম্পদের জন্য সন্তান মাকে হত্যা করবে বাবাকে হত্যা করবে। দুই চোখ ওয়ালা মানুষ এগুলো বুঝতে পারবে যে এ গুলো হচ্ছে দিন দিন বাড়ছে। সময় সংক্ষিপ্ত হয়ে আসছে। আল্লাহ পাকের আজাব গজব বারছে। আসমানের গজব বাড়ছে জমিনের বালা বাড়ছে। ডে বাই ডে ভূমিকম্প বাড়বে। এবং তিনটা বড় বড় ভূমিকম্প অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।

নূর, সময় ও কিয়ামতের আলামত

একটা পৃথিবীর পূর্ব দিকে একটা পশ্চিম দিকে। আমার ধারণা এটা পশ্চিমার সভ্যতাতে হবে। আরেকটা পৃথিবীর মাঝখানে। কিছু মুনাফিক কে আল্লাহপাক ধসিয়ে দিবে আরবের মধ্যে। আর ওখানেও কিছু মুনাফিক আছে এটা বুঝতে হলে আপনাকে জিও পলিটিক্স বুঝতে হবে। আরবিতে কথা বললেই কেউ আমিনুল মুমেনিন হয়ে যায় না। আরবি দিয়ে কথা বললেই কেউ আমিনুল মুমেনিন হয় না। আব্দুল ইবনে উবাইঅব ও আরবিতে কথা বলতো। তো হত্যা বাড়বে। একটা বড় জিনিস শেষ জামানায় হবে যেটা কোনদিন হয়নি। এটা বিগত ১০০ বছর ধরে আমরা দেখছি। এই পৃথিবী বুকে ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের একটা বন্ধুত্বের এলাইনস হয়েছে এটাকে আমরা জাইনিজ মুভমেন্ট বলি। এই মুভমেন্ট বিগত ১০০/২০০ বছর আগে ছিল না।এটা শেষ জামানায় হবে এমনটা এসেছে ।কুরআনেও আছে। তোমরা ওই সব ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। কোন সব সবাইকে না কোন সব। যারা একে অপরের বন্ধু, যারা একে অপরের বন্ধু। বিশ্বের ইতিহাস গুলো ঘাটলে দেখবেন। ইহুদি এবং খ্রিস্টান একে অপরের সাথে মারামারি করেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী কখনো বন্ধু ছিল না। এবং ঈসা আলাইহিস সাল্লামকে ইহুদিরাই হত্যা করতে চেয়েছিল ।কিন্তু ইহুদীরা পারেনি কারণ আল্লাহপাক তাকে উঠিয়ে নিয়েছিল । এখন দেখবেন তারা বন্ধু। এখন দেখবেন ইসরাইলের বন্ধু পশ্চিমারা। আশ্চর্যের একটা বিষয় আর কোন নিদর্শন এর জন্য অপেক্ষা করছেন। এগুলো আস্তে আস্তে ডে বাই ডে বাড়তে থাকবে। হারাজ বাড়বে হারাজ।মানে হত্যাকাণ্ড । প্রচুর হত্যা কাণ্ড হবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মানুষ মরেছে তিন থেকে চার কোটি ।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মানুষ ৭ থেকে ৮ কোটি। সামনে যেটা হবে সেটাতে দেখবেন পৃথিবীর তিন ভাগের এক ভাগই শেষ।এমনটাই হবে ইনশাল্লাহুতালা ।আমরা চাই না এমনটা হোক। কিন্তু এমনটা লিখা হয়ে গিয়েছে কিছু করার নাই। ঈসা আলাইহিস সাল্লাম আসার আগে পৃথিবী অবস্থা আর এমনটা থাকবে না।পৃথিবীর সংকীর্ণ হয়ে আসবে। জনসংখ্যা কমবে।প্রচুর মানুষ মহামারীতে মারা যাবে । মহামারী চলে যাবার পরে তারপরে কি হবে সেটাও হাদিসে লেখা আছে। এর পরে আসবে ভূমিকম্পের বছরগুলো। মহামারী চলে যাবে এরপরে আসবে ভূমিকম্পের বছর গুলো। আলেম ওলামারা আছে ওদের কাছে অনুবাদ করে নিয়েন। একটা বছর না অনেক বছর। অনেক ভূমিকম্প হবে। প্রত্যেক ভূমিকম্পের পরে কিন্তু পৃথিবীর সময় সংকীর্ণ হয়ে আসে। এটা আপনারা যারা সাইন্স জানেন তারা বুঝবেন। এ অবস্থার প্রেক্ষাপটে ইসলাম ছাড়া কোন জায়গা নাই। ইসলাম ছাড়া সমাধানও কেউ দিতে পারবে না। নিরপেক্ষভাবে আল্লাহর কাছে যেহেতু ফিরে যেতেই হবে আমাদের উচিত ইসলাম সম্পর্কে ভালোভাবে জানা। ইসলামকে আগে ভালোভাবে জানা এবং বুঝা হটকারী না হওয়া। ইসলামের প্রতিটা বিষয়ে সলিউশন আছে কি নাই।যদি দেখেন নিরপেক্ষ ভাবে হ্যাঁ আছে তাহলে আর দেরি করবেন না ইস্তেগফার করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন করেন ।আল্লাহ পাক আপনার জীবনের বিগত বছরের যত গুনাহ আছে আল্লাহ পাক সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবে ইনশাল্লাহু তায়ালা। যারা তওবা করবে ঈমান নিয়ে আসবে এবং বেশি বেশি আমলে সলেহ করবে। আল্লাহ পাক তাদের গুণায় শুধু মাফ করবেন না বরং গুনাহগুলোকে নেকি দিয়ে পরিপূর্ণ করবেন বলেন সুবহানাল্লাহ।

শেষ জামানা ও ফিতনার আলামত

আবার পয়েন্টে চলে আসছি। নবী মূসা আলাইহিস সাল্লাম যখন খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন তিনি বলে ফেলছিলেন যে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ কারণ তার কাছে ওহী আসছিল। আল্লাহ পাক ধরলেন ।আল্লাহপাক নবীদের ছোট ছোট ভুল ধরতেন। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন না আমি মধু খাবোনা আর আজকে থেকে , মনে আছে। মধু হারাম করে নিলাম। আল্লাহ পাক সূরা নাযিল করলেন না। কোন সূরায়? সূরা তাহরীম। ভাই এভাবে তো আল কুরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বলবে না। যখন আপনি কুরআন স্টাডি করবেন প্রত্যেক ঘরে ঘরে একজন করে কুরআন ওয়ালা মানুষ থাকবে। অটোমেটিকলি আল কুরআনের আলো আল্লাহর আলো ঘরে ঘরে জ্বলবে ইনশাল্লাহুতালা। কুরআন পড়ার লোক তো লাগবে। কুরআন পড়ার মানুষ তৈরি করতে হবে। প্রত্যেক ঘরে ঘরে একটা করে মানুষ তো চাই যে কোরআন গবেষণা করতে পারে। তখন দেখবেন অটোমেটিকলি কুরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বলে যাবে। আবেগ দিয়ে কিছু হয় না আবেগ দিয়ে কোন কিছুই হয় না। যারা ইসলামের বিরোধিতা করছে তারা কি আবেগ দিয়ে কাজ করছে না কি বিবেক দিয়ে কাজ করছে। তারা বিবেক দিয়ে কাজ করছে। আমরা আবেগি জাতি । খুব আবেগ আমাদের । দ্বীনের পিছে আবেগ ভালো জিনিস কিন্তু আবেগ দিয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়নি কখনো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিকমা দিয়ে বুদ্ধি দিয়ে কৌশল দিয়ে ধীরে ধীরে বেসিক ঠিক করে আস্তে আস্তে আস্তে ইসলামকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ২৩ বছর সময় লেগেছে। কত বছর? ২৩ বছর। কখনো কখনো অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। কখনো কখনো অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। কখনো কখনো মার খেতে হয়েছে খেয়েছেন । কখনো কখনো গালি খেতে হয়েছে খেয়েছেন। কখনো কখনো সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। করেছেন ।কখনো দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে ছেড়েছেন। হাল ছেড়ে দেন নাই। ধীরে ধীরে ইসলাম কে কায়েম করেছেন। একদিন এত দিন টাইম হয় নাই হয়েছে। নবী ঈসা আলাইহিস সাল্লাম যখন আসবেন তিনিও একদিনে দ্বীন কায়েম করবেন না। অনেক চড়াই উঠরাই পেরিয়ে ইনশাল্লাহুতালা জেরুজালেম থেকে পুরা বিশ্বে ইসলামী খিলাফত কায়েম করবেন ইনশাল্লাহুতালা। তার আগ পর্যন্ত এভাবে গ্লোবালি করে কি অনেক কিছু হবে আমার মনে হচ্ছে না। ক্ষুদ্র পরিসরে, ব্যক্তিগতভাবে বা সামাজিকভাবে ছোট ছোট ক্ষেত্রে কিছু হতে পারে। তো বড় পরিসারে আমার মনে হচ্ছে না এত সময় আমাদের হাতে বাকি আছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ভালো জানেন ইল্লা মাশাল্লাহ ।যখন মুসা আলাইহিস সাল্লাম একথা বলেছেন আল্লাহ পাক ধরে ফেলেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলছেন আমার একজন বান্দা আছে যার নাম খিদির আলাইহিস সাল্লাম। খিদির মানে শ্যামল বা সবুজ। তিনি যেখানে বসতেন সেই জায়গাটা সবুজ হয়ে যেত। একটা রুক্ষ জায়গায় তিনি বসলে সেই জায়গা সবুজ হয়ে যেত। আল্লাহ পাক বললেন মুসা তোমার থেকে বেশি জ্ঞানী মানুষ খিদির আলাইহিস সাল্লাম। মুসা আলাইহিস সাল্লাম। মুসা আলাইহিস সাল্লাম বললেন আমি তার সাথে দেখা করতে চাই। তিনি এগিয়ে গেলেন জ্ঞান শিখার পথে। সঙ্গে একজন সাথী নিলেন যার নাম ইউ শাবিন নূর। এগিয়ে গেলেন যেতে যেতে তাকে বলে দেয়া হয়েছিল এই মাছটা যেখানে গিয়ে জীবিত হয়ে যাবে সেখানে তাকে পাবে।

মুসা আলাইহিস সালাম ও ভুলের শিক্ষা

যেখানে দুইটা সাগর একসাথে মিলিত হয়ে যাবে সেখানে তুমি তাকে পাবে। মুসা আলাইহিস সাল্লাম ওই জায়গা থেকে আরও অনেক দূরে চলে গিয়েছিলেন। যখন তিনি পথটা ভুল করেছিলেন তখন তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। এই জায়গায় গিয়ে আমি বলি আপনার জীবনের চলার পথটা যদি আপনি ভুল করে ফেলেন তাহলে আপনি খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে যাবেন ।কথা কি বুঝতে পেরেছেন যদি আপনার জীবনে চলার পথটা যদি ভুল হয় তাহলে আপনি খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাবেন। মুসা আলাইহিস সাল্লাম যখন বুঝতে পারলেন তার পথ ভুল হয়েছে সে আবার ফিরে আসলেন এবং এসে দেখলেন পাথরের উপরে শিলাখণ্ডের ওপরে সেই ব্যক্তি বসে আছেন তার নাম খিদির আলাইহিস সাল্লাম। যে পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ তার চরিত্র হওয়া দরকার ঐ শিলার মতন। এটাও একটা নিদর্শন। খিদির আলাইহিস সাল্লাম পাথরের উপরে বসে ছিলেন। মুসা আলাইহিস সাল্লাম বললেন আমি জ্ঞান শিখতে চাই।আমি শুনেছি আপনাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে ।তিনি কিন্তু নবী নন। আমি বুঝাতে চাচ্ছি নবী না হয়েও আপনি জ্ঞানী হতে পারেন আল্লাহর পক্ষ থেকে যদি আপনার কলবে নূর থাকে স্বচ্ছ থাকে এবং আপনি আল্লাহর বেশি বেশি জিকির করেন আল্লাহকে ডাকেন এবং আল্লাহর মারফত অর্জন করতে পারেন মনের মধ্যে হিংসা থাকে না বিদ্বেষ থাকে না অহংকার থাকে না ।আল্লাহর নূর আসতে পারে। এ যুগেও সম্ভব ইনশাল্লাহ তায়ালা।মুসা আলাইহিস সাল্লাম বলছেন আমি কি আপনার সঙ্গে সফর সঙ্গী হতে পারি? এই শর্তে যে আপনি আমাকে জ্ঞান শিখাবেন যেই জ্ঞান আল্লাহ আপনাকে শিখিয়েছে। খিদির আলাইহিস সাল্লাম বলছেন তুমি তো আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবে না সুবহানাল্লাহ । একজন নবীকে বলছেন একজন মানুষ বলছেন তুমি তো আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবে না। আপনি মনে করেন আপনি একটা ইস্কুলের টিচার একশ টা বাচ্চাকে পড়াচ্ছেন।পরীক্ষার আগে আপনি বলে দিলেন এক বৎসর আমি তোমাদেরকে পড়িয়েছি।তুমি অমুক আব্দুল্লাহ ফাস্ট হতে পারো আর তুমি আব্দুর রহমান ফার্স্ট হতে পারবে না । তুমি হবে লাস্ট। আপনার অভিজ্ঞতা আপনি এক বছর পড়িয়েছেন। আপনি দেখলেন রেজাল্ট ঠিক তাই হলো। আব্দুল্লাহ ফার্স্ট হয়েছে আব্দুর রহমান লাস্ট হয়েছে। এর মানে কি এই টিচার গায়েব জানে। তার ইলম তার অভিজ্ঞতা তার প্রজ্ঞা খিদির আলাইহিস সাল্লাম তিনি মুসা আলাইহিস সাল্লাম কে বলছেন তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবে না। মানে গল্পের শেষে আপনি গিয়ে দেখবেন তিনি আসলেই ধৈর্য ধরতে পারেন নাই। মুসা আলাই সালাম বলেন ইনশাল্লাহ আমি ধৈর্য ধরবো। ইনশাআল্লাহ আমি ধৈর্য ধরবো এবং আপনার কোন কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করব না। খিজির আলাইহিস সাল্লাম বললেন আচ্ছা, ঠিক আছে চলো। গল্পটা অনেক বড় আমি সংক্ষিপ্তে বলে বলছি। তিনটা ঘটনা ঘটেছে। প্রথমবার একটা নৌকা ফুটো করে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়তঃ একটা বালককে হত্যা করেছিলেন। তৃতীয়টা হচ্ছে একটা দেয়াল নির্মাণ করেছিলেন দেয়ালটা পড়ে গিয়েছিল দেয়াল নির্মাণ করে দিয়েছিলেন

কোন পারিশ্রমিক নেননি। মুসা আলাইহিস সালাম প্রত্যেকবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন আপনি এই কাজটা কেন করলেন আপনি এই কাজটা কেন করলেন? বারবার জিজ্ঞাসা করছেন ইন্টারফেয়ার করছেন। কি দিয়ে আলায় সাল্লাম এক পর্যায়ে বললেন আমি কি তোমাকে বলিনি তুমি ধৈর্য ধরতে পারবে না? এক পর্যায়ে যখন তিনি তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর পারলেন না সবর করতে পারলেন না। তখন খিদির আলাইহিস সাল্লাম বললেন এই হল তোমার আর আমার পার্থক্য একসাথে আর চলা হল না।

খিযির আলাইহিস সালাম ও জ্ঞানের ঘটনা

তবে যাওয়ার আগে আমি তোমাকে জানিয়ে দেবো কেন আমি এই কাজগুলো করেছিলাম। ওই নৌকা ফোটা না করলে ওই নৌকার পিছনে জলদস্য ছিল। ভালো নৌকা মনে করে ওরা ওই নৌকা নিয়ে যেত। আমি ওই ব্যক্তির ক্ষতি করিনি বরং বড় উপকার করেছি ওই ব্যক্তির নৌকা ফুটো করে দিয়ে । ওই বাচ্চা কে হত্যা না করলে ওই বাচ্চার পিতা-মাতা ছিল বড় আলেম। বড় আল্লাহু ওয়ালা। এই বাচ্চা বড় হলে নিজে কাফের হতো বাপ-মাকেও কুফরিতে নিয়ে আসতো। অনেকটা আমাদের নাস্তিক প্রজন্মের মতো আর কি? তিনি হত্যা করেছেন আল্লাহর আদেশই হত্যা করেছেন। ওই যে দেয়াল নির্মাণ করেছি ওই দেয়ালের নিচে ছিল দুইজন এতিম বাচ্চার পৈত্রিক সম্পত্তি। তার বাবা মা রেখে গিয়েছিল সোনার কয়েন রুপার কয়েন এগুলো মাটির নিচে ছিল। তারা বড় হয়ে যেন এগুলো পায় অন্য কেউ সিস করতে না পারে। তার জন্য আমি দেয়াল নির্মাণ করে দিয়েছি। কোন পারিশ্রমিক নেই নাই। বাই দ্যা ওয়ে সোনার কয়েন এবং রুপার কয়েনের কথা কোরআনে আছে। বিনাম এবং বিহামের কথা কোরআনে আছে। যদিও বা বিশ্ব ব্যবস্থায় নেয়। বিশ্বব্যবস্থা আই এফ এস নামক একটা সংগঠন আছে। ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড তারা আইন করে সোনার কয়েন এবং রুপার কয়েন কে হারাম করে দিয়েছে আপনি কি সেটা জানেন। আপনারা কি সেটা জানেন পশ্চিমারা সোনার কয়েন এবং রুপার কয়েন কে হারাম করে দিয়েছে অর্থনীতি থেকে ? ব্যান্ড টোটালি ব্যান্ড। তাদের আর্টিকেলস অফ চার্টার এর মধ্যে আছে। এই বিশ্ব বাজার থেকে সোনার কয়েন এবং রুপার কয়েনকে ব্যান্ড করে দেওয়া হল । কেউ যদি আল্লাহর হালাল কে হারাম বলে থাকে আমরা কি করতে পারি। কেউ যদি আল্লাহর হালাল কে হারাম বলে এবং হারামকে হালাল করে নেয় তাহলে আমরা কি বলতে পারি। আর আমরা এই পাপ কে কি বলব? সূরা তওবার ৩১ নাম্বার আয়াত অনুযায়ী এই পাপকে বলা হয় শিরক। কে অধিকার দিল মানুষকে আল্লাহর হালাল কে হারাম করার? একটা কয়েন এর মধ্যে ইনট্রেনশিক ভ্যালু থাকে অন্তর্নিহিত মান থাকে। এখানে যতটুকু সোনা আছে ততটুকুই মান আছে।এর ইনট্রেন্ডশিক ভ্যালু আছে অন্তর্নিহিত মান আছে আর জীবনেও এই মান কমে যাবে না ইনশাল্লাহুতালা। বরং বাড়বে। কিন্তু আপনার কাছে যা দিয়েছে এটা হারাম করার পরে এর মান দিন দিন বারে না এর মান দিন দিন কমে। এর দ্বারা আপনার শ্রম হারাচ্ছেন। কঠোর পরিশ্রম করে যখন আপনি এই টাকাটা আন করছেন আর দিন দিন এই টাকার মান কমে যায় তখন আপনার শ্রমটা ও চলে যায়। কেউ আপনার শ্রম টাকে চুরি করে খেয়ে ফেলে। শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে না বড় বড় রাষ্ট্রকেউ তারা দেউলিয়া করতে পারে।পড়েছি হিস্ট্রিতে । যাইহোক আমি এখন ওই দিকে যাচ্ছি না। কুরআনের যে দিনাম এবং দিহামের কথা আছে সেটুকু জেনে রাখেন কিছু করতে পারবেন না জানি। বাট জেনে রাখেন জানতে কোন দোষ আছে। কিছু করার নাই জানতে কোন দোষ আছে। এরপরে নবী মুসা আলাইহিস সাল্লাম তিনটা উত্তর পেয়ে গেলেন। এখন এই যে ঘটনাটা আপনাকে বললাম সূরা কাহাফ এর মধ্যে আছে। এখানে খিদির আলাইহিস সাল্লাম এক চোখ দিয়ে দেখেছেন নাকি দুই চোখ দিয়ে দেখেছেন। নবী মূসা আলাইহিস সাল্লাম বাইরের চোখ দিয়ে দেখেছেন। তিনি বারবার জিজ্ঞেস করছেন এটা কেন করলেন এটা কেন করলেন এটা কেন করলেন? এর পেছনের কারণটা তিনি ধরতে পারেন নাই নবী হয়েও। ধরতে পেরেছেন কে খিদির আলাইহিস সাল্লাম। এর মানে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার মধ্যে যখন জ্ঞান আসবে হিকমা এবং প্রজ্ঞা আসবে আপনি অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পারবেন ইনশাল্লাহুতালা। যেটা সাধারণ মানুষ পারবে না।

নৌকা, দেয়াল ও সোনা-রুপার কয়েন

আল্লাহ পাক আরেক জন ব্যক্তির নামও উল্লেখ করেছেন যেটা আমি বলেছিলাম।আমি লোকমানকেও হিকমা দিয়েছিলাম। সুবহানাল্লাহ। লোকমান আলাইহিস সালাম নবী ছিলেন না কিন্তু আল্লাহপাক বলছেন আমি লোকমানকে হিকমা দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা দিয়েছিলাম। তিনজন ব্যক্তির জন্য জান্নাতের একটা সুসংবাদ আছে। জান্নাতের একটা বড় মর্যাদা আছে। জান্নাতে একটা বড় মর্যাদা আছে। তিনজনই হলো কালো বর্ণের। আফ্রিকার কন্টিনেন্টার মানুষ। কালো বর্ণের হয়তো চেহারা সুন্দর না কালো কুৎসিত। কুৎসিত বলতে আমি বুঝাচ্ছি না বীভৎস। কালো বলতে আমরা বুঝি কুৎসিত চেহারা। আসলে তো মানুষ কুৎসিত নয়। মানুষ কি কুৎসিত হয়? কালোর মধ্যে সৌন্দর্য আসছে না। নরমাল যে ভাষা ব্যবহার করা হয় সে ভাষায় বললাম। তিন জন কালো বর্ণের মানুষের জন্য জান্নাতে সুসংবাদ আছে। যারা কালো ছিলেন আফ্রিকার মানুষ ছিলেন। যাদের একজনের নাম বেলাল আল হাবাশী রাদিয়াল্লাহু আনহু। যাকে উমাইয়া বিন খেলাফ মক্কায় শুয়ে বুকের উপর পাথর চাপা দিয়েছিল না। তাকে শুইয়ে দিয়েছিলেন এবং বলেছিল বলো লাত এবং ওঝার নামে কসম কর।কিছু করতে হবে না ইসলামকে অস্বীকার করতে হবে না শুধু লাত এবং ওঝার নামে কসম কর। তিনি বলছেন আহাদুল আহাদ। যিনি এক তিনি এক। যিনি এক তিনি একক। অত্যাচার করা হচ্ছে নির্যাতন করা হচ্ছে তিনি একটা কথাই বলছে যিনি এক তিনি একক। আল্লাহ পাকের কাছে এত ভালো লেগেছে কথাটা তিনি সূরা নাযিল করেছেন। কুলহু আল্লাহু আহাদ। বলুন তিনি আল্লাহ এক সুবহানাল্লাহ। বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যে মক্কায় অত্যাচার করা হয়েছে নির্যাতন করা হয়েছে। সেই মক্কা নগরীতে মক্কা বিজয়ের দিন কাবা ঘরের ছাদে উঠে আযান দিয়েছেন । সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ পাক এভাবে দিন পরিবর্তন করে দেন। আল্লাহ পাক দিন সব সময় এক রকম রাখেন না। আজকে যাকে নির্যাতন করা হচ্ছে নিপরে নিপীড়ন করা হচ্ছে। যদি সে সৎপন্থী হয়ে থাকে আল্লাহ পাক সেই জায়গায় তাকে সম্মানিত করে তুলবেন ইনশাল্লাহুতালা। এটা আল্লাহর সুন্নাহ। এটা আল্লাহ পাক করেছেন হিস্ট্রিতে যুগে যুগে । আরেকজন হচ্ছে বাদশা নাজ্জাশি ।এটা হচ্ছে যার রাষ্ট্রে মুসলিমরা আশ্রয় নিয়েছিল হিজরত করে। আবি সিনিয়র বাদশা বাদশা নাজ্জাশি সিরাত পড়েছেন। আরেকজন হচ্ছেন লোকমান হেকিম। তার ওপরেও জান্নাতের বড় মর্যাদা আছে। তাকে অপশন দেওয়া হয়েছিল নবুওয়াত নিবেন নাকি প্রজ্ঞা নিবেন। তিনি নবুওয়াত টাকে ভারী মনে করেছিলেন। এবং প্রজ্ঞা তাকে সহজ মনে করেছিলেন। তাই তিনি প্রজ্ঞা টাকে বেশি বেশি নেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন । আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে বেশি বেশি প্রজ্ঞা নাযিল করেছেন প্রজ্ঞা দিয়েছেন। আসেন তিনি কি বলছেন? এবং একজন প্রজ্ঞাবান মানুষের আচরণ কেমন হওয়া উচিত।আল্লাহ পাক বলছেন আমি লোকমানকে প্রজ্ঞা এবং হিকমা দিয়েছি । জ্ঞানের প্রথম কাজটা হচ্ছে হে লোকমান তুমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে। সুবহানাল্লাহ । একজনকে জ্ঞানী মানুষ আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে সে ব্যক্তি নিজের নফসের ভালোর জন্যই শুকরিয়া আদায় করে। আল্লাহ পাক অন্য একটি আয়াতে বলেছেন যদি তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো। আমি তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামতকে বাড়িয়ে দেব।

বেলাল রাযিয়াল্লাহু আনহু ও শুকরিয়া

যদি তোমরা কুফরি কর আমার আজাব বড়ই কঠিন বড় কঠিন। আমাদের উচিত দিনে কমপক্ষে ১০০ বার হলেও আলহামদুলিল্লাহ পড়া। যে কোন অবস্থাতেই আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ। ভাই কেমন আছেন? আলহামদুলিল্লাহ। ভাই পরিবার কেমন আছে? আলহামদুলিল্লাহ। ভাই চাকরি কেমন চলছে? আলহামদুলিল্লাহ ।ভাই ব্যবসা কেমন চলছে? আলহামদুলিল্লাহ ।এটা হচ্ছে সেই বান্দা নিদর্শন যার ফোনের মধ্যে আল্লাহর প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা আছে। যার মনের মধ্যে আল্লাহর নূর আছে। তার নিদর্শন হচ্ছে সে সব সময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে। একটা এক্সামপল দিচ্ছি দেখেন। ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম প্যালেস্টাইনে থাকতেন ।আর এখানে মক্কায় তার স্ত্রীর হাজেরা আলাইহিস সাল্লাম । ওখানে তার আরেকটি স্ত্রীর সারাহ আলাইহিস সাল্লাম । মনে আছে সেই ঘটনাটা। তিনি আসলেন বাসায় দরজা নক করলেন যে বাসায় কে আছে? দরজা পিছন থেকে বলা হচ্ছে যে আমি। তো জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে ইসমাইল কোথায়? তখন জবাব আসছে যে ইসমাইল শিকার করতে গিয়েছে। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে স্বামী স্ত্রী তোমরা কেমন আছো? তো স্ত্রী জবাব দিচ্ছে আমরা ভালো নাই। আমাদের ঘরে অনেক অভাব। আমাদের অনেকের স্ত্রীর মত আছে না এরকম। সারা জীবন করে যাবেন কিন্তু শেষ বয়সে একটা কথাই শুনবেন জীবনে কিছুই পাইলাম না তোমার কাছে। নিজর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে করতেই থাকবেন করতেই থাকবেন করতেই থাকবেন করতেই থাকবেন। কিন্তু আপনি শুনবেন শুনতেই থাকবেন শুনতেই থাকবেন শুনতেই থাকবেন কিছু করলাম না কিছু করলাম না কিছু পাইলাম না কিছু পাইলাম না। অমুক ভাবি কত ভালো আছে অমুকের এত আছে অমুকে তত আছে। সুবহানাল্লাহ ।এটা আমাদেরই দোষ। বিয়ের সময় যদি দ্বীনদারি তা না দেখে শশুরের সম্পত্তি দেখবেন সুন্দরী মেয়ে দেখবেন। নিজের হারাম রিলেশন কে প্রাধান্য দিবেন। নিজের ওই বংশমর্যাদা ইত্যাদি ইত্যাদিকে প্রাধান্য দিবেন। তখন তো আফসোস করতেই হবে কিছু করার নাই। এর জন্যই তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন দ্বীনদার স্ত্রীকে দেখে বিয়ে কর যার মধ্যে দ্বীনের বুঝ আছে জ্ঞান আছে কে দেখে বিয়ে কর। তবে এখানে ও আপনাকে একটা বিষয় সতর্ক করতে চাই । প্রত্যেক বোরখার পিছনে সঠিক দ্বীনদারিতা থাকে না। অতএব এটা দেখেও ধোকা খাওয়ার কিছু নাই। দ্বীনদারিতা আল্লাহর সাথে বান্দার মনের ব্যাপার। দ্বীনের বেসিক কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে আপনি উত্তর পেতে পারেন। দিনের বেশি কিছু বুঝ বা আচরণ দেখে আপনি উত্তর পেতে পারেন। তাক তাকওয়া দেখে আপনি উত্তর পেতে পারেন। একজন আমিনুল মু'মিনীন খলিফা তিনি রাতের বেলায় জনগণের অভাব অনটন দেখেন। একদিন দেখতে দেখতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। একটা দেয়ালের আড়ালে তিনি বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। দেয়ালের পেছন থেকে তিনি শুনতে পাচ্ছেন মা এবং মেয়ে কথা বলছেন। মা বলছেন দুধে পানি মেশাও। মেয়ে বলছে হে মা আল্লাহকে ভয় কর। মা বলছেন এখানে ওমর নাই। এখানে ওমরের প্রশাসন নাই তো কি হয়েছে ভয় কেন পাচ্ছ পানি মিশাও দুধে। মেয়ে বলছে ওমর নাই তো কি হয়েছে? ওমরের রব আল্লাহ তো জীবিত আছেন তিনি দেখছেন। সুবহানাল্লাহ। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই বাড়িটা মার্ক করে রাখলেন রাতের বেলায়। পরের দিন সকালে তার ছেলেকে নিয়ে আসলেন সেই বাড়িতে। এসে মেয়ে দেখাচ্ছেন এই মেয়ে পছন্দ হয় কিনা দেখো। মেয়ে পছন্দ হয়ে গেছে। আমিনুল মুমিনিনের মানে রাষ্ট্র প্রধানের ছেলের সাথে এই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেল দুধ ওয়ালির। দুধ দুয়াছেন যেই মেয়ে। কি দেখে বিয়ে দিলেন? বংশমর্যাদা শ্বশুরের টাকা রুপ দেখে নাকি যৌতুক। দ্বীনদারিতা দেখে। এই কাজ যদি আমরা করতে না পারি তাহলে সংসারের সুখ আসবে না ।

ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও পারিবারিক ধৈর্য

তখন কিছু করার থাকবে না। এই ফেতনা একবার সংসারে ঢুকে গেলে জীবনটাই ম্যাসাকার। এগুলো সামলাতেই দিন চলে যাবে। দ্বীন এর ফিকির পরে পরিবার সামলাতেই জীবন চলে যাবে। মানসিকভাবে আপনি যদি ফ্রেশ না থাকেন ভালো না থাকেন তাহলে আপনি দ্বীনের জন্য কিছু করতে পারবেন না। আর পরিবারে যদি নেককার স্ত্রী না থাকে আপনি ভালো থাকবেন না। এটা প্র্যাকটিক্যাল কথা। ওই যে স্ত্রী বলছে আমরা ভালো নাই ইসমাইল শিকার করতে গেছে আমরা ভালো নাই এক বেলা খাই এক বেলা খেতে পারি ন না। ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম বললেন ইসমাইল বাসায় আসলে বোলো তার বাবা এসেছিল। আর তাকে বল ঘরের চৌকাঠ টা যেন পরিবর্তন করে। কথা কি বুঝতে পারছেন? ইসমাইল আলাইহিস সাল্লাম আসলেন। একজন বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন বাসায় তোমার বাবার পরিচয় দিয়েছেন। কি বলেছেন? বলেছেন ঘরের দরজা যেন পরিবর্তন করি। ইসমাইল আলাইহিস সাল্লাম বললেন তুমি কি এমন বলেছিলে যার কারণে সে এরকম কথা বললেন। আমি বলেছি আমরা ভালো নাই, আমরা অভাবে আছি তুমি শিকারে গেছো ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন তিনি বলছেন তুমি ভুল করেছো। তিনি আমার বাবা ছিলেন তিনি একজন নবী। সে আমাকে ইনডাইরেক্টলি বলেছেন আমি যেন তোমাকে তালাক দেই। এক কথায় তালাক হতে পারে।দ্বীনদারিতা না থাকলে তালাক দেয়া যায়। যদি আপনি ধৈর্য ধরতে ধরতে ধরতে ধরতে অতিষ্ঠ হয়ে যান। দ্বীনের ব্যাপারে আর কম্প্রোমাইজ করতে পারেন না সে ক্ষেত্রে তালাক একটা অপশন আছে। সেটা খারাপ নয়। যদিও এটা একটা মন্দের একটা অপশন। যদিও সবর করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। সবর করতে করতে করতে করতে করতে করতে করতে করতে যদি ভিতরটা পরিবর্তন না হয়। আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ মানুষকে নিয়ে আপনি সারা জীবন চলতে পারবেন না। দ্বীনের পথে চলতে গিয়ে যারা প্রতিবন্ধীকর্তার স্বীকার করে তাদেরকে নিয়ে আপনি আল্লাহর পথে দাওয়াত এবং মুজাহিদের নিয়ামত করতে পারবেন না। এই জায়গায় গিয়ে আপনাকে কিন্তু এক্সট্রিম ডিসিশন নিতে হতে পারে ।এটা কিন্তু ইসলাম আপনার জন্য অপশন রেখেছে। আমি উৎসাহিত করছি না অপশন রেখেছে। এরপরে তিনি আবার আসলেন অনেক বছর পর। এসে তিনি আবার নক করলেন। ইংলিশে বললে না আসসালামুয়ালাইকুম। অলাইকুম আসসালাম। ইসমাইল কোথায়? শিকার করতে গিয়েছে। তোমরা কেমন আছো? আলহামদুলিল্লাহ আমরা অনেক ভালো আছি। ঠিক আছে ইসমাইল বাসায় আসলে বোলো ঘরের চৌকাঠ টা জানো আদর করে যত্ন করে মহব্বত করে রাখে। কথা বুঝতে পারছেন ।এবার ইসমাইল আলাইহিস সাল্লাম আসলেন বাসায় তার স্ত্রী বলছেন একজন বৃদ্ধা এসেছিল তোমার বাবার পরিচয় দিলেন। তিনি কি বলেছেন? তিনি বলেছেন তুমি যেন তোমার চৌকাঠ তাকে অটুট রাখো বহাল রাখো। তুমি কি বলেছ? আমি বলেছি আমরা অনেক ভালো আছি। তখন তিনি বলেছেন আমার বাবা তোমাকে অনেক পছন্দ করেছেন এবং তোমাকে নিয়ে আমাকে সংসার করতে বলেছেন। এই হলো অবস্থা। শুকরিয়া আদায় যারা করতে পারবে না। তাদেরকে নিয়ে চলা মুশকিল। লোকমান হাকিম যাতে আল্লাহর প্রজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাকেও আল্লাহ পাক বলছেন তুমি আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় কর। যে ব্যক্তি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। যে কোন অবস্থাতেই বলতে পারে আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি।

বিবাহে দ্বীনদারি ও সবর

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন কখনো উঁচু স্তরের লোকদের দিকে তাকাবে না যার উঁচু বাড়ি আছে। তোমার চেয়ে উঁচু বাড়ি আছে গাড়ি আছে। তোমার চেয়ে বেশি টাকা আর্ন করে তাদের দিকে তুমি তাকাবে না। ওদের দিকে চোখ দিও না বরং যারা তোমার চেয়ে নিচুতে আছে তোমার চেয়ে দরিদ্র যারা ওদের দিকে তাকাও। তাহলে তুমি আল্লাহর নিয়ামতে শুকরিয়া আদায় করতে পারবে ইনশাআল্লাহ। আমরা যদি হসপিটালে যাই শুকরিয়া আদায় করতে পারবো না। এইযে হাজার হাজার মানুষ শুয়ে আছে কারো ক্যান্সার কারো ডায়াবেটিস কারো অমুক কারো তমুক কারো এক্সিডেন্ট কারো এটা সেটা।কারো ব্রেন টিউমার কারো এটা সেটা কত ধরনের রোগ ।কারো হাতে সমস্যা কেউ হাঁটতে পারে না কেউ শুইলে ঘুমাইতে পারেনা কত ধরনের সমস্যা আছে। আমরা ভালো আছি না ?আলহামদুলিল্লাহ ।যখন আপনি আপনার থেকে কোন বিপন্ন মানুষকে দেখবেন তখন যদি এই দোয়াটা পড়েন আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করছি যে আল্লাহ তোমাকে যে বিষয় নিয়ে পরীক্ষা করেছেন আমার থেকে তা নিরাপদ রেখেছেন।হাজার মানুষের চাইতে আল্লাহপাক আমাকে উত্তম জায়গায় রেখেছেন ভালো জায়গায় রেখেছেন। এ দুয়াটি যে পড়বে ওই ব্যক্তিকে বিপদ আর স্পর্শ করবে না ইনশাল্লাহ ।এভাবে আপনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে পারেন। আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করার সবচেয়ে বড় নিদর্শন হচ্ছে আপনি আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলছেন কিনা। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ এবং নিষেধ মেনে চলছে সে ব্যক্তি প্রকৃত নিয়মে আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করছে। যদি মুখে বলি আমি আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করি নামাজ নাই সাওম নাই যাকাত নাই কিচ্ছু নাই ।মুখে মুখে বলছি আমি আল্লাহ কে অনেক ভালবাসি এই ভালবাসি কি কোন দাম আছে। আল্লাহ পাক কি বলছেন যে তোমরা যদি আল্লাহ পাকের ভালোবাসা পেতে চাও আমার অনুসরণ করো। কার অনুসরণ? মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের। তার সুন্নাহ মাফিক জীবন গড় ইনশাআল্লাহ আল্লাহ পাক তোমাদেরকে মাফ করে দিবেন। আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন ইনশাল্লাহ। লোকমান আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। আমি আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছি কারণ তার উপর শান্তি বর্ষিত হোক এ কারণে বলছি। এরপর লুকমান আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন তার সাথে তার সন্তানের একটা কনভারসেশন হচ্ছে। এটা ভালো করে শুনেন। তার সাথে তার সন্তানের একটা কনভারসেশন হচ্ছে সেটা হল তিনি তার সন্তানকে কিছু নসিহত করছেন। এ নসিহত গুলো আল্লাহর কাছে এত ভালো লেগেছে আল্লাহ পাক কুরআনুল কারীমের মধ্যে নিয়ে এসেছে। কেয়ামত পর্যন্ত এটা থাকবে ইনশাআল্লাহ।কেয়ামত পর্যন্ত একজন বাবা এবং একজন ছেলের এই কনভারসেশন থাকবে ইনশাল্লাহ।আমরা তো জানি সন্তানকে মানুষ করবে তার মা।এখানে আমরা দেখছি সন্তানকে নসিহত করছে তার বাবা। ইউসুফ আলাইহিস সালাম এর ক্ষেত্রে তাই দেখেছি। যে সন্তানকে নসিহত করছে তার বাবা। আমরা কোরআন ঘাটলে দেখি যে বাবা তার সন্তানকে নসিহত করেন মা নসিহত কম করেন। ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম কথা বলছেন তার সন্তানের সাথে ইউসুফ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম এর সাথে তার বাবা কথা বলছেন।কোরআনে বলেছে বাপ যেমন সন্তান এরকম। বাপ হবে সন্তানের রিয়েল গার্ডিয়ান। মা তাকে মানুষ করবে। ইলেম প্রজ্ঞা বাস্তবতা শেখাবে কে? বাবা ।আর এখনকার বাবারা মানি মেকিং মেশিন। তারা এখন শুধু টাকা উপার্জন করার মেশিন। সকাল দশটায় বের হবে আর রাত দশটায় আসবে। সন্তানের সাথে বাবার কোন মিল মহব্বত নেই। দেখা সোনাই হয় না। এটা ঠিক নয়। সন্তানকে মানুষ করতে হবে তার বাবাকে।তাকে প্যারেন্টিং শেখাতে হবে তার বাবাকে। আমাদের বাবাদেরকে প্যারেন্টিং শিখাতে হবে, মেয়েদের কেও শিখাতে হবে। আসুন আমরা এখান থেকে দেখব কিভাবে তিনি তার সন্তানকে নসিহত করছেন।

নেয়ামতের শুকরিয়া ও দোয়া

এই নসিহত শুধু সন্তানের জন্য নয় প্রত্যেকটা মানুষের জন্য। যখন লোকমান হাকিম তার সন্তানদেরকে বলেছিলেন। কি বলেছিলেন? যে আমার সন্তান আদর করে বলছেন বাবা শুনো। প্রথম নসিহত কি? আল্লাহর সাথে শিরিক করোনা। আল্লাহর সাথে শিরিক করো না আমরা আমাদের সন্তানদেরকে প্রথমে কি শিখায় হামটি ডামটি সেট অন এ ওয়াল।আমরা শিখাই জ্যাক এন্ড জিল ওয়েট ইন দা হিল । আমরাও শিখেছি জাক ছেলের নাম জিল একটা মেয়ের নাম। ওয়েট ইন দা হিল একটা পাহাড়ে চলে গেল। বান্দরবানের পাহাড়ের কোনায় চলে গেল একটা ছেলে একটা মেয়ে ।তারপর কোনায় গিয়ে কি করল আপনারাই বোঝেন। তো আমরা ছোট থেকে বাচ্চাদেরকে শিখায় জ্যাক এন্ড জিল ওয়েট ইন দ্যা হিল। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে সমস্যা। আপনি আ তে কি শেখাচ্ছেন আমি খাব পেড়ে।কার গাছের আম আপনি পেরে খাবেন? ডাক্তার গাছের আম আপনি পেরে খেতে পারবেন ।শুরুতেই অ তে অজগরতি আসছে তেরে ।সন্তানকে ভয় দেখাচ্ছে। ওই বাচ্চা অজগরের কি বুঝে? আগে ভয় শেখানো হচ্ছে। অ তে অজগরটি আসছে তেড়ে। আপনি ভয় পাচ্ছেন বাচ্চা ভয় পাচ্ছে। রাতে বাচ্চার স্বপ্ন দেখছে অজগর আসছে তেড়ে। আপনি বাচ্চার সাথে যে কথোপকথন করবেন রাতে সে স্বপ্ন দেখতে পারে। আ তে আপনি শিখাচ্ছেন আমটি আমি খাব পেড়ে। কার গাছের আম পেড়ে খাও খাওয়াবেন? গাছ কি আপনার? যার তার গাছের আম পেরে খাওয়াবেন। চুরি করা শিখাবেন তাকে।এখানে শাব্দিক ভাবে পরিবর্তন না আনলে নৈতিকতা না ঢুকাতে পারলে সমস্যা তো। কালচার এভাবেই চলছে কেউ এটা নিয়ে মাথা ঘামায় না কেন? সুবহানাল্লাহ বই-পুস্তক এখন দিন দিন টোটালি চেঞ্জ হচ্ছে। দেখবেন আগে আমরা অনেকগুলো নজরুলের কবিতা পড়তাম এখন নজরুলের কবিতা নাই। আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে ভ্যানিশ। একটা ভিতর থেকে একটা আদর্শ আপনাকে ইনজেক্ট করা হচ্ছে। কোন আদর্শ সেটা আপনি খুঁজে বের করেন। এবং যে আদর্শটা রাখা উচিত সেটা আস্তে আস্তে মাইনাস করা হচ্ছে। কোনটা সেটা আপনিই ভাবেন। সন্তানকে বাবা শিখাচ্ছে। কোন পরিবারে এই লোকমান আলাইহিস সাল্লাম এর মত পিতা সন্তানদের৷ কে শেখায় ছোট বেলায় যে বাবা আল্লাহর সাথে শিরিক করো না । এটা একটা জায়গায় সম্ভব যারা ইসলামী লাইনে পড়াশোনা করছেন। মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছেন। আর আমরা এখন এদের দিকে এমন ভাবে তাকাই যেন এরা সমাজের সবচেয়ে নোংরা কীট নাউজুবিল্লাহ। দেখেন আমরা আরো শিখায় যে বাবা তোমাকে বড় হতে হবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। বৃদ্ধ বয়সে বাবাকে দেখতে হবে মাকে দেখতে হবে। তোমাকে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। আগে আমরা বাচ্চাদেরকে এগুলো শেখাই। আর লোকমান হাকিম তার সন্তানদেরকে শিখাচ্ছেন দেখেন পেরেন্টিং দেখেন ইসলামিক প্যারেন্টিং যে প্যারেন্টিং আল্লাহপাক কবুল করেছেন । কোরআন ও নাজিল করেছেন। কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে ইনশাল্লাহুতালা । বাবা আল্লাহর সাথে শিরিক করো না। আগে সন্তানদেরকে শেখান শিরিক কি জিনিস তাওহীদ কি জিনিস? তখন সন্তান প্রশ্ন করবে বাবা শিরিক কি? তখন আপনি ওর বুঝ অনুযায়ী তাকে আস্তে আস্তে বলবেন। যখন ওর বয়স পাঁচ বছর হবে তখন তাকে একটা কথা বুঝাবেন । যখন ১০ বছর হবে তাকে আরও বেশি বোঝাবেন ।যখন ১৫ বছর হবে তখন আরো বুঝাবেন। ম্যাচুয়েটে যেমন তেমনি বুঝাবেন।

শিশুদের শিক্ষা ও শিক্ষাপদ্ধতি

যদি ম্যাচুরিটি হয়ে যায় তাহলে আপনি মোটামুটি বুঝাবেন যে বাবা শোন শিরিক সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন কথায় শিরিক করে কাজের শিরিক করে এবং মানুষ বিশ্বাসে শিরক করে। কেউ যদি মনে করে আল্লাহ বলতে কেউ নাই তাহলে শিরক হবে। কেউ যদি মনে করে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ না অন্য কেউ তাহলে শিরিক হবে । কেউ যদি মনে করে আল্লাহর পাশাপাশি আরো সৃষ্টিকর্তা আছে তাহলে শিরিক হবে। সন্তান বুঝবে না একটা স্কুলের বাচ্চা বুঝবে না। ক্লাস নাইন টেনের বাচ্চারা বুঝবে না। কলেজের বাচ্চা বুঝবে না। একদম ছোট বাচ্চা ওকে বোঝানো যায় না আল্লাহ তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ ছাড়া কেউ নাই সৃষ্টিকর্তা। আল্লাহ তোমাকে সৃষ্টি করেছেন এটা হয়তো বাচ্চা বুঝবে না। কিন্তু তাকে যদি বলা হয় আল্লাহ তোমাকে বানিয়েছেন তাহলেও বুঝবে না। অবশ্যই বুঝবে। এই দেখো বাবা বাড়িতে আমরা বানিয়েছি তোমার বাড়ি আমাদের বাড়ি আমরা বানিয়েছি। আল্লাহ তোমাকে বানিয়েছে। তাহলে ও বুঝবে। ওকে যদি বলা হয় তুমি তোমার মায়ের পেটে ছিলে সেখান থেকে আল্লাহ তোমাকে দুনিয়ায় নিয়ে এসেছে। তাহলে সে বুঝবে না বাচ্চাদের একটা ফিলোসফি থাকে বাচ্চারা অনেক কিছু বুঝে জানেন। একটা বাচ্চাকে যদি আপনি বলেন প্যান্টটা খোলো তো তাহলে ও খুলবে না। একটা বাচ্চাকে যদি আপনি মজা করে বলেন তোমার প্যান্টটা খুলো তো দেখি তুমি মুসলমানি করেছ কি না তাহলে দেখবেন ও লজ্জায় প্যান্টটা খুলবে না। কারণ এই লজ্জাশীলতা আল্লাহ পাক তাকে দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। বাচ্চাদের ফিলোসফি আছে। এটা যারা বাচ্চাদেরকে নিয়ে পড়াশোনা করে কোর্স করে ট্রেনিং দেয় আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন। বাচ্চাদের সাথে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতে বলা হয়। বাচ্চাদের সাথে শুদ্ধ ভাষা কথা বলতে বলা হয় যাতে তারা শেখে। বাচ্চাদের সাথে বাচ্চাদের মতো আচরণ করতে নিষেধ করা হয়। বাচ্চাদের সাথে ম্যাচিউর আচরণ করতে বলা হয় কারণ তারা শিখবে বাস্তবতা কি জিনিস।বাচ্চাদেরকে বেশি বেশি খেলাধুলা উৎসাহিত করতে বলা হয়। কারণ তারা খেলার মধ্যে দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলী অর্জন হয় । ওদেরকে মাঠে খেলতে দিতে হয় ।ওদের বৃষ্টি কাদামাটির মধ্যে মাখামাখি করতে দিতে হয়। ওরা বুঝবে গায়ের সাথে যখন মাটি লাগবে প্রকৃতির সাথে মিশবে ওদের হৃদয়টা বড় হবে দেখবেন। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন তিনি জন্ম নিয়েছেন প্রথম চারটা পাঁচটা বছর ওই আরবের বেদুইনদের কাছে রাখা হয়েছে। ওখানে তিনি ভাষা শিখেছেন মরুভূমিতে দৌড়েছেন খেলেছেন ফিজিক্যালি স্ট্রং হয়েছেন। ভাষা শিখেছেন শুদ্ধ কথা শিখেছেন। এরপরের ডিস্টাপিষ্ট হয়ে মায়ের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে।এখনকার জেনারেশনের বাচ্চাগুলোকে দেখেন কিভাবে বড় হয়ে ওঠে ।বাচ্চার বয়স অনুযায়ী আপনি তাকে বোঝাবেন। আপনি তাকে বুঝাবেন কেউ যদি মনে করে বাবা আল্লাহর পাশাপাশি অন্য একজন সৃষ্টিকর্তা আছে যে তোমাকে বানিয়েছে তাহলে এটা শিরিক হয়ে যাবে এটা অনেক বড় মহাপাপ। তখন বাচ্চা জিজ্ঞেস করবে বাবা শিরিকটা কি? বাবা শিরিক এমন একটা পাপের নাম যেই পাপটা আল্লাহ পছন্দ করেন না। পাপ হয়ত বাচ্চা বুঝবে না তাই বলতে হবে এটা একটা খারাপ জিনিস। শিরিক একটা খারাপ জিনিস। তোমাকে আমি এখন আদর করছে এটা ভালো জিনিস। বাচ্চা বলবে হ্যাঁ এটা ভালো জিনিস। এখন আমি যদি তোমাকে একটা থাপ্পর দেই এটা কি ভালো জিনিস এটা খারাপ না। বাচ্চা বলবে হ্যাঁ বাবা এটা খারাপ। শিরিক একটা খারাপ জিনিস বাচ্চাকে বোঝানো যাবে না।

শিরকের প্রকার ও শিশুদের বোঝানো

স্কুল কলেজের পড়ুয়া বাচ্চাদেরকে বোঝান কেউ যদি আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কারো কসম করে তাহলে শিরিক হয়ে যায়। কেউ যদি আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কারো নামে নজর মান্নত করে তাহলে শিরিক হয়ে যায়। কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কুরবানী দেয় শিরিক হয়ে যায়। কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে নামাজ পড়ে হজ করে যাকাত দেয় তাহলে শিরিক হয়ে যাবে । কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে চায় তাহলে শিরিক হয়ে যাবে। ইত্যাদি ইত্যাদি আরো অনেক কিছুই আছে যা শিরিকের মধ্যে পড়ে। এতোটুকু তো বোঝানো যায় যে আল্লাহর কাছ থেকে সবকিছু হয় মানুষের কোন ক্ষমতা নাই। বুঝবে না সে। বাচ্চাকে প্রথম শিখাচ্ছেন তার বাবা যে বাবা শিরিক করোনা। শিরিক হচ্ছে সবচেয়ে বড় জুলুম সবচেয়ে বড় পাপ। আর আমরা আপনাদেরকে বলছি শিরিকের পাপ নিয়ে কেউ যদি মারা যায়। ৯৯ ভাগ সম্ভাবনা সে ব্যক্তি জাহান্নামী। ৯৯ পার্সেন্ট সম্ভবনা কেউ যদি শিরিকের পাপ নিয়ে মারা যায় সে ব্যক্তি ৯৯ ভাগ সম্ভাবনা যে সে জাহান্নামে যাবে। শিরিকের গুনা ছাড়া যে কোন গুনা আল্লাহপাক মাফ করতে পারেন কিন্তু শিরিকের গুনাহ মাফ করবেন না আল্লাহ তাআলা ।শিরিক ছাড়া যে কোন গুনাহ আল্লাহ পাক মাফ করতে পারেন কিন্তু শিরিকের গুনাহ আল্লাহ পাক মাফ করেন না। তাওহীদ শিখবেন। একটা বইয়ের নাম বলে দিচ্ছি সেটা পড়ে নিন তাওহিদ শিখতে পারবেন । কিতাবুল তাওহীদ এখানে শিরিকের সমস্ত ক্লাসিফিকেশন দেওয়া আছে। কি করলে কি চিন্তা করলে কি আমল করলে কি ভাবলে শিরিক হবে সমস্ত কথা এখানে তুলে ধরা হয়েছে।তাকদীরকে অস্বীকার করলে শিরিক হয়ে যায়। আল্লাহ পাকের হালাল কে হারাম করলে এবং হারাম কে হালাল করলে শিরিক হয়ে যায়। এই যে এখন কিছু মানুষ বলছে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ নবী নন আরও নবী আসতে পারেন। শিরিক আর কুফর। কেউ বলছে ভাগ্য বলতে কিছু নাই আমি নিজেই নিজে যা করব সেটাই ভাগ্য হয়ে যায়। এটাও শিরিক হয়ে যায়। এখন নতুন নতুন ফেতনা আমরা শুধু কুরআন মানি হাদিস মানিনা আছে না। শিরিক এবং কুফর। তারপরে তার সন্তানকে তিনি কি বলছেন? আল্লাহ পাক এই কতগুলো সবার জন্য নসিহত করেছেন। মানুষকে আদেশ করা হয়েছে যাতে মানুষ তার পিতা-মাতার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে গর্ভধারণ করেছে। তাকে প্রসব করিয়াছেন এবং দুই বছর দুধ পান করিয়েছেন ।মানুষকে আল্লাহপাক আদেশ করেছেন যাতে মানুষ আমার শুকরিয়া আদায় করে। মানে আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করেন। এবং তার পিতা-মাতার শুকরিয়া আদায় করে। আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। এই যে একটা আয়াতে কত শিক্ষা দেয়া হয়েছে। এখানে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে পিতা-মাতার সাথে সুন্দর আচরণ কর। সন্তানকে যদি ছোটবেলা থেকে শিখানো হয় পিতা-মাতা কি জিনিস সেই সন্তান কি বড় হয়ে পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাবে। ওই সন্তান পাঠাবে যাকে আপনি মানুষ করতে পারছেন না সময় দিতে পারছেন না। আপনিও ব্যস্ত এবং আপনার স্ত্রী ও ব্যস্ত। ফেমিনিস্ট রেভুলেশন আপনিও ব্যস্ত আপনার স্ত্রী ও ব্যস্ত। বাচ্চা মানুষ হচ্ছে ডে কেআর সেন্টারে । কাজের বুয়ার কাছে ।কাজের বুয়ার আদর্শে সে বড় হবে। আমি যেমন আমি আমার শিক্ষাটা যদি আমার সন্তানের মধ্যে দেই আমার সন্তানও সেই রকমই হবে এটাই স্বাভাবিক। আমার শিক্ষা যদি না পেয়ে অন্য কারো শিক্ষা পায় তাহলে তার মতই হবে এটাই স্বাভাবিক।

শিরকের বিভিন্ন রূপ ও তাওহীদ

আপনি আপনার দিক থেকে চেষ্টা করলেন কিন্তু ভবিষ্যতে গিয়ে আমাদের সন্তান কোন পথে যাবে সেটা কি আমরা জানি। আমাদের অবর্তমানে আমাদের সন্তান কোন পথে যাবে সেটা কি আমরা জানি। নূহ আলাইহিস সাল্লাম এর সন্তান বিপথগামী হয়নি হয়েছে। এটা পরের ব্যাপার আমরা তো আমাদের দিক থেকে চেষ্টা করব তাই না। সন্তানকে শেখানো হচ্ছে পিতা-মাতার সাথে ভক্তি শ্রদ্ধা করে চলো। কারণ তোমার মা তোমাকে কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তোমাকে জন্ম দিয়েছে । মায়ের প্রসব বেদনার একটা মোমেন্ট একটা সেকেন্ড আমরা শোধ করতে পারব। মায়ের দুধের এক ফোটা দুধের দাম আমরা শোধ করতে পারব। আজকে সেই মাকে দেখেন বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে। আজকে সেই মাকে দেখে মার্ডার করছে সম্পত্তির জন্য। এগুলো কি নতুন কথা নাকি অহরহ হচ্ছে এগুলো। এখানে পিতা মাতার দোষ ও এড়াতে পারেন না। এখানে পিতা-মাতা ইসলামিক আদর্শে বড় না করে অন্যান্য বস্তুবাদী আদর্শে বড় করেছে। তখন সন্তান বড় হয়ে এমন বিপত্তামি হয়েছে।এখানে পিতা মাতার ও দোষ আছে আল্লাহ পাক আমাদেরকে বোঝার তৌফিক দান করুন ।আল্লাহ পাক এরপরে আবারও বলছেন আমার শুকরিয়া আদায় কর। তোমার পিতা মাতাদেরও শুকরিয়া আদায় করো মনে রেখো আমার কাছে ফিরে আসতে হবে। একটা দোয়া আল্লাহ পাক শিখিয়ে দিয়েছেন অন্য একটা সূরার মধ্যে। যখন তোমাদের পিতা মাতা বৃদ্ধা বয়সে চলে যাবে তাদের সাথে এমন আচরণ কর উফ শব্দটা পর্যন্ত তাদের সাথে বলো না। বিরক্তি করে উফ শব্দটিও করোনা। কোন সূরায় আছে? সূরা বানি ইসরাইলের মধ্যে আছে ।তাদের জন্য ভালোবাসার এই বাহু প্রশস্ত করে দাও। রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানী সাগিরো। আমরা এই দোয়াগুলো করব আমাদের পিতা-মাতার জন্য। যাদের পিতা-মাতা নেই তারাই জানে মা কি জিনিস আর বাবা কি জিনিস। আরেকটা হাদিস বলি ।মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তিন ব্যক্তি হচ্ছে ধ্বংস তার মধ্যে একজন ব্যক্তি হচ্ছে যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েছে কিন্তু নআমল করে তার গুনা মাফ করতে পারেনি।দ্বিতীয় ব্যক্তি হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে তার বৃদ্ধ মাতা পিতাকে পেয়েছে দুজনকে পেয়েছে বা দুজনের একজনকে পেয়েছে তাদের খেদমত করে জান্নাত লাভ করতে পারেনি ।সেই ব্যক্তি যার সামনে নবীর নাম বলা হয় কিন্তু নাম পড়ার সময় সে দূরুদ পাঠ করে না সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনা ।এখানে আছে পিতা মাতাকে পেয়েছেন তাদের খেদমত করে জান্নাত লাভ করেন নি ।আমার জন্য ধ্বংস বলুন নাউজুবিল্লাহ ।এর পরে কি বললেন? এরপর তিনি আরো নসিহত করছেন। তিনি বলছেন আল্লাহ পাক বলছেন তিনি আরো নসিহত করছেন সন্তানকে পিতা মাতা যদি শিরিক করতে বলে তাহলে এ পিতা-মাতা ও ভালোবাসা শ্রদ্ধা সম্মানের আমার সাথে যদি শিরিক করতে বলে তাহলে তাদের আনুগত্য করবে না। সাথে কোন ছাড় আছে ? এই পিতা-মাতা মর্যাদা আল্লাহ এবং রাসূলের পরে। এই পিতা মাতা যদি তোমাকে শিরিক করতে বলে তাহলে তাদের কথা শুনবে না। এই দুনিয়াতে তাদের সাথে ভালো আচরণ করো। ওই পথটা অবলম্বন করো যে পথটা আমার কাছে নিয়ে আসবে তোমাকে। আমাদের মতো জন্য সেই পথ কোনটা ? যে পথ আল্লাহর নিকট আমাদেরকে নিয়ে যাবে। কার তরিকা বলেন ? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর তরিকা। হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর তরিকা ফলো করলেই আল্লাহর নিকট যাওয়া যাবে।

পিতা-মাতার হক ও সন্তানের তরবিয়ত

অন্য কোন তরিকায় যাওয়া যাবে। অতএব এটা আমাদের জন্য নসিহত আমরা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকা এবং সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করব আল্লাহপাক তৌফিক দান করুন আমীন। এরপর আল্লাহপাক আরো নাযিল করেছেন। আল্লাহপাক বলছেন মনে রেখো তোমরা সবাই আমার কাছে প্রত্যাবর্তন করবে আমার কাছে ফিরে আসার পরে আমি জানিয়ে দিব তোমরা কে কোন আমল করেছ অতএব পরকালিন চেতনায় দুনিয়ার জীবনটা পার করো এটা একটা শিক্ষা। এরপরে তিনি বলছে ইয়া বুনাই হে আমার বাবা তিনি বাচ্চা কে কি শিখাচ্ছেন দেখেন বাবা শুনো যদি সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম বিষয় ছোট বিষয় তুমি পাথরের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখো আসমানে লুকিয়ে রাখো জমিনে লুকিয়ে রাখো আল্লাহপাক সেটাকে বের করে নিয়ে আসবে সুবহানাল্লাহ। কোন কিছুই আল্লাহ পাকের কাছ থেকে গোপন থাকবে না। আল্লাহ পাক লাতিফুন কোন খাবির। এই চেতনা যদি আপনি আপনার বাচ্চাকে শিখান তাহলে এই বাচ্চা কি মাত খাইতে পারবে, এই বাচ্চা কি জেনা করবে, এই বাচ্চা কি মাদক করবে, এই বাচ্চা নামাজ ছাড়তে পারবে, এই বাচ্চা অন্যের ক্ষতি করতে পারবে । তাদের মধ্যে একটা চেতনা কাজ করবে যে আল্লাহ পাক সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম জিনিস বের করে আনতে পারেন । আল্লাহপাক আমাকে দেখছেন। এমন ভাবে ইবাদত করো যেন তুমি আল্লাহ পাক কে দেখছো। যদি তুমি আল্লাহ পাককে দেখতে না পারো মনে রেখো আল্লাপাক তোমাকে দেখছেন। এই চেতনা যার মধ্যে আছে তার পক্ষে সম্ভব ঘুষ খাওয়া দুর্নীতি করা জুয়া খেলা যেনা করা। সন্তানকে এই শিক্ষা দেন। লোকমান হাকিম তার সন্তানকে এই শিক্ষা দিচ্ছেন। সন্তানকে তিনি আরো বলছেন। তিনি সন্তানকে বলছেন হে বুনাই। সে আমার প্রিয় সন্তান। এই বুনাই শব্দটা কত স্নেহের।সন্তানকে শিক্ষা দিচ্ছেন বাবা সালাত কায়েম কর। এবং সৎ কাজের আদেশ করো মানুষকে। এবং অসৎ কাজে নিষেধ করো মানুষকে। এরপরে তোমার ওপরে যে বালা মুসিবত আসবে এর ওপর তুমি সবর করো । এই সবুর টাই হচ্ছে সবচাইতে কঠিন কাজ । কি বললেন বাচ্চাদেরকে সালাত কায়েম করো? আমরা কি আমাদের বাচ্চাদেরকে সালাত শিখাই? আমরা শিখায় বাবা ব্যাগটা কাঁধে নাও এবং চলো। ৩০ টা বছরে এভাবে পড়ো ৩০ বছর পড়ার পরে যখন অজুর ফরজ কয়টি জিজ্ঞেস কর বলতে পারে না। ৩০ বছর পর আপনি জিজ্ঞেস করেন নবীদের স্ত্রীর নাম কি বলতে পারে না। নামাজের আরকান কয়টি ইত্যাদি ইত্যাদি কিছু বলতে পারেনা। ডক্টরেট করেছে ডিগ্রি সার্টিফিকেট নিয়ে এসেছে বাইরের দেশ থেকে। ইসলামিক বেসিক পিলার ইমাম ভঙ্গের দশ কারণ বলতে পারেনা। তো এই হচ্ছে অবস্থা। কিন্তু তিনি তার সন্তানকে শেখাচ্ছে বাবা সালাত কায়েম করো। সালাত পড়ো বলছেন না সালাত কায়েম করো। তুমি নিজে পড়ো এবং তোমার স্বার্থ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠা কর। সালাত কায়েমের সাথে মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করো সুন্নত মোতাবেক চলতে বলল আল্লাহর আনুগত্য করতে বল সত্য কথা বলতে বলো রাসুলের আনুগত্য করতে বল যত ভাল কাজ আছে সবগুলো করতে বলো কোরআন তেলাওয়াত করতে বল। মানুষকে হালাল পথে থাকতে বলো। মানুষকে তাজবিহ তাহরিমা পড়তে বল। আল্লাহর নিকট্যতা অর্জন করতে বল। মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করতে থাকো। একই সাথে অসত্য কাজ গুলোকে নিষেধ কর। শুধু সৎ কাজের আদেশ করলে কোন সমস্যা হয় না কখনোই।

সৎ কাজের আদেশ ও সবর

যখনই আপনি সৎ কাজের পাশাপাশি অসৎ কাজের জন্য নিষেধ করবেন। নামাজ পড়ার পাশাপাশি যদি বলেন যে সুদছেড়ে দেন ঘুষ ছেড়ে দেন যেনা ছেড়ে দেন মাদক ছেড়ে দেন দুর্নীতি করেন না তখনই বিপদ বালা মুসিবত বিপদ আপদ আপনার কাছে আসবে। এটা সুন্নত। শুধু সুড়সুড়ি মার্কা দাওয়াত দিলে কখনো বালা মুসিবত আসে না কখনো আসবে না। বরং আপনাকে আরো অশ্ব শামুকের মতো লালন-পালন করা হবে। যখন আপনি সৎ কাজের আদেশের সাথে অসৎ কাজের নিষেধ করবেন তখনই সমস্যা আসবে। বিপদ আসবে মুসিব্বত আসবে বালা মুসিবত আসবে সমালোচনা আসবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এই জায়গায় তিনি তার সন্তানকে বলছেন যখন তোমার কাছে এরকম বাধা আসবে বিপত্তি আসবে তখন তুমি সবর করবে। এই কাজটি সবচাইতে কঠিন কাজ। সবর করা এই সময় সবচাইতে কঠিন কাজ। এরপরে তিনি আরো নসিহত করছেন যে মানুষের দিক থেকে দম্ভ ভোরে মুখটাকে ফিরিয়ে নিবে না । মানুষের সাথে কথা বলার সময় দম্ভ ভরে মুখটাকে ফিরিয়ে নিবে না। এবং জমিনে বুক ফুলিয়ে অহংকারী ভাবে চলবেনা। সন্তানকে কি নসিহত করছেন। অন্য সূরাই আল্লাহ পাক বলছেন এই জমিনের বুকে অহংকারীদের মত বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করো না। কি চমৎকার আয়াত। আল্লাহ পাক বলছেন হে আদম সন্তান এই জমিনের বুকে অহংকার করে চলুন না। কারণ তুমি জমিনকেসিয়ে দিতে পারবে না এবং পাহাড়ের উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবেনা সুবহানাল্লাহ। সুবহানাল্লাহ কত চমৎকার কথা। তিনি তার সন্তানকে বলছেন অহংকার করো না মানুষের দিক থেকে মুখটাকে ফিরিয়ে নিও না। আল্লাহপাক অহংকারী ঊর্ধ্ব মানুষদেরকে ভালোবাসেন না। সাহাবীরা নবীজি সাঃ কে প্রশ্ন করলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ আমার জামাটা সুন্দর হোক আমার জুতাটা সুন্দর হোক আমার পোশাকটা সুন্দর হোক এগুলো আমার কাছে ভালো লাগে এগুলো কি অহংকারী নিদর্শন। এগুলো অহংকারী নিদর্শন নয়। বরং অহংকারী নিদর্শন দুটো জিনিস। এক আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সত্যটা এসেছে এটাকে অস্বীকার করা এটাকে অহংকারী নিদর্শন বলে। আর মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে অহংকারী নিদর্শন। দুটো বিষয়। এর মানে এই নয় একটা সম্প্রদায় কুফুরি করছে আপনি তাকে কাফের বলতে পারবেন না। একটা সম্প্রদায়ের শিরিক করছে আপনি তাকে মুশরিক বলতে পারবেন না বিষয়টা এমন নয়। একটা সম্প্রদায় মুনাফিকি করছে আপনি তাকে মুনাফিক বলতে পারবেন না বিষয়টা এমন নয়। বরং আরম ভাবে সবার জন্য বলা হয়েছে আমি ওর চাইতে সুপেরিয়র আমি জান্নাতে যাব ও জাহান্নামে যাবে এমন কনসেপ্ট ধারণ করা ঠিক নয়। কেউ জানে না কে কোথায় যাবে? এরপর শেষে আরেকটা নসিহত করে শেষ করেছে সেটা হচ্ছে তিনি তার সন্তানকে বলছেন সময় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। টাকা এসেছে তো খুব বেশি খরচ করোনা আবার খুব বেশি কৃপণতা করোনা। মধ্যম পন্থায় থাকো। ইবাদত করবে একদম ছেড়ে দিও না এবং খুব বেশি লিপ্ত হয়ে যেও না। নিজের ওপরে কঠিনতা নিও না। মধ্যম পন্থায় থাকো।ব্যবসা করছ ব্যবসায় সব সময় ঢেলে দিও না আবার সময় দিও না এমন নয় মাঝামাঝি থাকো। সব ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থায় থাকো। আয় ব্যয় চলাফেরায় কথাবার্তা খাওয়া-দাওয়া সব সময় কি থাকবে মধ্যমপন্থায় থাকবে। আর আমরা তো মধ্যমপন্থীর উম্মত। এভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যমপন্থীর উম্মত করেছি। যাতে করে মানবজাতির আমরা সাক্ষী হতে পারি। বাবা সব সময় মধ্যমপন্থী থেকো। এবং গলার ভয়েস নিচু রেখো। কারণ সবচাইতে নিকৃষ্ট কন্ঠ হচ্ছে গাধার কন্ঠস্বর আর গাধা অনেক জোরে চিৎকার করে। এই বলে তিনি তার সন্তানের নসিহত শেষ করেছেন। তাফসীরে এসেছে এই নসিহত গুলো শোনার পরে সন্তানের অবস্থা এমন হয়েছিল।পাহাড়ের ওপরে যদি কোরআন নাযিল হতো পাহাড় যেমন চুপসে যেত।এই নসিহত গুলো শোনার পরে সন্তানও সেই রকম চুপসে গিয়েছিল ।আসুন আমরা আমাদের সন্তানদেরকে লোকমান হাকিমের মত নসিহত করি। এই নসিহত গুলো আমরা নিজেকে করি আমাদের পরিবার বর্গ কে করি আমাদের যুব সমাজকে করি আমাদের তরুণ সমাজদেরকে করি আমাদের মা-বোনকে করি আমাদের যে আগত প্রজন্ম পরবর্তী প্রজন্মকে আমরা এই বাচ্চা কাচ্চাদেরকে এই নসিয়ত এর মধ্য দিয়ে ইসলামিক প্যারেন্টিং এর মধ্য দিয়ে তাদেরকে গড়ে তুলি। ওদের খাবার-দাবারের দিকে খেয়াল রাখে ওরা কি খাচ্ছে না খাচ্ছে কখন ঘুমাচ্ছে সেই দিকে খেয়াল রাখি। কি পড়াশোনা করছে কোন বই পড়ছে কার সাথে মিশছে কার সাথে খেলছে তারা কি ফোন ইউজ করছে তারা অনলাইনে কি করছে তারা অফলাইনে কি করছে স্কুলে গিয়ে কার সাথে মিশছে কলেজে গিয়ে কি করছে টোটাল বিষয়গুলো দিকে খেয়াল রাখলে আপনি আদর্শ পিতা হতে পারবেন। আদর্শ মা হতে পারবেন।

সাধারণ প্রশ্ন

সূরা লোকমানের ১২ নম্বর আয়াতে লোকমান সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

লেখায় বলা হয়েছে, আল্লাহ লোকমানকে প্রজ্ঞা (হিকমা) দিয়েছিলেন এবং তাঁকে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের আদেশ দিয়েছিলেন। লেখায় আরও বলা হয়েছে যে যে শুকরিয়া আদায় করে সে নিজের ভালোর জন্যই করে।

লোকমান হাকিম কি নবী ছিলেন?

লেখায় উল্লেখ আছে যে এ নিয়ে তাফসীরবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; একশ্রেণীর আলেম তাঁকে নবী বলেছেন, আরেক শ্রেণীর আলেম বলেছেন তিনি নবী ছিলেন না কিন্তু আল্লাহর ওলি ছিলেন। লেখক মতে, নবী না ছিলেন এই মতটি বেশি শক্তিশালী।

লোকমানকে নবুওয়াত ও প্রজ্ঞার মধ্যে বেছে নিতে বলা হলে তিনি কী করেছিলেন?

লেখায় বলা হয়েছে, তাঁকে নবুওয়াত নেওয়া না প্রজ্ঞা নেওয়ার অপশন দেওয়া হয়েছিল। তিনি নবুওয়াতকে ভারী মনে করে প্রজ্ঞা বেশি নেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন।