পরিবার, সমাজ ও মুসলিম উম্মাহর সংকট
ফিতনা ও ফাসাদে ভরা বর্তমান বিশ্ব
ফেতনাময় পরিবেশে যতটা ভালো থাকা যায় ততটা ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। বর্তমান বিশ্ব এমন একটা জায়গা দাঁড়িয়ে আছে। যার প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্ট ফিতনা ফাসাদে ভর্তি। যেকোনো টপিক চুজ করেন পরিবার সমাজ ধর্ম রাজনীতি অর্থনীতি এমন কোন সেক্টর নাই যেটা এখন ফিতনা-ফাসাদের মুক্ত। প্রত্যেকটা সেক্টরি ফেতনা এবং ফ্যাসাদ ।ফাসাদ ধর্মের মধ্যেও আছে। ফাসাদ এখন পরিবারের মধ্যেও আছে। সব জায়গায়ই এখন ফাসাদ আছে যেমন পরিবার ধর্ম অর্থনীতি রাজনীতি সবকিছুতেই আছে। ফেরেশতারা বলেছিল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে হে আল্লাহ আপনি কি এখন কাউকে পৃথিবীতে পাঠাতে চাচ্ছেন?যে পৃথিবীতে গিয়ে ফিতনা এবং ফাসাদ সৃষ্টি করবে অথবা রক্তপাত ঘটাবে। কার ব্যাপারে কথাগুলো বলা হয়েছে ? আদম সন্তানের ব্যাপারে। আল্লাহপাক যখন ফেরেশতাদের ডেকে বললেন আমি পৃথিবীতে আমার খলিফা পাঠাতে চাই।তখন ফেরেশতাদের উত্তর ছিল এরকম হে আল্লাহ আপনি কি এমন কাউকে পৃথিবীতে পাঠাবেন যে পৃথিবীতে গিয়ে ফিতনা এবং ফ্যাসাদ সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে। অথচ আমরা ফেরেশতাই তো আপনার হামদ সানা স্তুতি এসব বর্ণনা করছি এবং আপনার পবিত্রতা জয়গান গাচ্ছি। আল্লাহ পাক এখানে বলছিলেন আমি যা জানি তোমরা তা জানো না। এখন বিশ্বের দিকে তাকালে ফেরেশতাদের কথা মাশাল্লাহ ফলে গেছে। আপনি ধর্মের দিকে তাকাবেন দেখবেন মনের মধ্যে আমি বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। আল্লাহপাক হচ্ছেন প্রত্যেক আদম সন্তানের একমাত্র রব। তিনি ছাড়া আর কোন রব নেই। তারপর ধর্মীয় কনসেপ্টে আমরা বিভিন্ন মতবাদের বিভক্ত হয়ে গেছি। আপনি যদি প্রত্যেক ধর্মগ্রন্থ পড়েন একটু যদি টুকটাক পড়ে দেখেন তাহলে দেখবেন যে প্রত্যেক ধর্মগ্রন্থে বলেছে আল্লাহ একজন। যেকোনো ধর্মগ্রন্থ দেখবেন আল্লাহ একজন। শুধু তাই নয় বড় বড় রিলিজিয়ান গুলো রেজিয়াস স্ট্রাকচার যেগুলো আছে ধর্মগ্রন্থগুলো যেখানে আছে সেখানে মহানবী সাঃ যে শেষ নবী সেটাও বলা আছে ।তাহলে এরপরও আমরা এত সততা বিভক্ত কেন করি? কারণ আমাদের মধ্যে দুটি স্বভাব ঢুকে গেছে। ইবলিশের স্বভাব। আমরা অস্বীকার করছি এবং অহংকার করছি। সত্যকে প্রত্যাখ্যান করছি। আবার মুসলিমদের মধ্যে তাকিয়ে দেখবেন যে এখানেও হাজারটা দলাদলি আছে। মানুষ হাজার দলে বিভক্ত। এক এক দলের এক এক কনসেপ্ট। যদিও আল্লাহ এক নবী এক কোরআন এক তবুও বুঝার মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। এক একজন কেউ রয়ে গেছে মর্জিয়া কেউ রয়ে গেছে যাবারিয়া কেউ রয়েছে কাদারিয়া। কেউ হয়ে গেছে সিয়া কেউ হয়ে গেছে খালেজি ।বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন দলে গ্রন্থ হয়ে গেছে। মুসলিমদের মধ্যেই কেউ বলছে কালিমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু পরলে যথেষ্ট আমলের কোন প্রয়োজন নেই। এদেরকে বলে মুরজিয়া। মুসলিমদের মধ্যে কেউ বলছে কবিরা গুনাহ করলেই তাকে হত্যা করা যাবে। এরা হচ্ছে এই জেনারেশনের খাওয়ারেজ ।মানে যারা মনে করেন কবিরা গুনাহ করলেই মানুষ কাফের হয়ে যায় হত্যা করা জায়েজ এদেরকে পুঁজি করে ইসলামের নামে সন্ত্রাস বাদী ছড়ানো হয়েছে।এ কনসেপটি মানুষকে পুজি করে। মুসলিমদের মধ্যে কিছু মানুষ বলছে তাকদীর বলতে কিছু নাই। মানুষ নিজে তার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এদেরকে বলা হয় কাদারিয়া ।
ধর্মীয় দলাদলি ও নৈতিক অবক্ষয়
মুসলিমদের মধ্যে কিছু মানুষ বলছে ভাগ্যে যা আছে শুধু তাই হবে। আমার কর্মের কোন স্বাধীনতা নাই। অদৃষ্ঠ বাদি এদেরকে বলা হয় যাবারিয়া। মুসলিমদের মধ্যে কিছু মানুষ আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে। এবং বড় বড় সাহাবীদেরকে গালি দিচ্ছি। রাফিজি আছে মুতাজিলান। এরা কেমন? অতি যুক্তিবাদী। যুক্তি দিয়ে যতটুকু বুঝে আসবে সেটুকুই গ্রহণ করবে এর বাইরে তারা যাবে না। মতাজিলান এর বাইরে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের শুকরিয়া আহালিয়া সুন্নাহ আল জামাহ এই আকিদাটা সমাজে প্রতিষ্ঠিত রেখেছেন। যারা কুরআন এবং সুন্নাহর বাইরে যায় না এবং কুরআন এবং সুন্নাহর সেই বুঝ এবং ব্যাখ্যাটা গ্রহণ করে। যেটা আল্লাহর নবী এবং সাহাবীর পক্ষ থেকে এসেছে। এটাই হচ্ছে আহালিয়া সুন্নাহ আল জামাহ। এই কথাটা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন হাদিসে যে মুসলিম উম্মাহ ৭৩ টা দলে ভাগ হয়ে যাবে। তার মধ্যে একটি দল হচ্ছে জান্নাতি বাকি দল সব জাহান্নামে যাবে। এই গেল ধর্মীয় দলাদলির কথা। নৈতিকতার অবক্ষয় দেখেন। মুসলিমদের মধ্যে এখন ম্যাক্সিমামই দেখবেন সুদখোর। ঘুষ খাচ্ছে দিব্যি। দুর্নীতি করছে কোন সমস্যা নাই । ইভেন অনেক সময় আমরা অনেক মানুষের টাকা লুটপাট করে খাচ্ছি কোন সমস্যা নাই। রাষ্ট্রীয় সম্পর্কে নিজের গনিমত মনে করছি কোন সমস্যা নাই । কিয়ামতের আলামতের মধ্যে এটা অন্যতম যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ কে মানুষ নিজের সম্পদ মনে করে খাওয়া শুরু করবে। মানুষ দান সদকা এবং যাকাতকে নিজের উপর বার্ডেন মনে করবে। এটা কি বোঝা যাকাতের বোঝা? এখানে দশটা বারোটা কথা আছে। মানুষ যেনা, বাদ্যযন্ত্র, ব্যভিচার এটাকে হালাল মনে করবে । হালাল মনে করে নিবে। মদ্যপান করবে নাম অন্য দিবে। আমানতকারী ব্যক্তি হয়ে যাবে খেয়ানতকারী।খেয়ানতকারী মানুষদেরকে মনে করবে মানুষ আমানতদার।তো নৈতিক অবক্ষয় তা দেখেন যে মুসলিম হিসেবে জন্মগ্রহণ করার পরেও কুরআন সুন্নাহ হাতে পাওয়ার পরেও আমরা এখন সুদ খাচ্ছি দিব্যি। এটা এখন কোন ব্যাপার না। বরং এমন একটা কনসেপ্ট চলছে যে সুদ না খেলে এই যুগে চলে নাকি। মানে মায়ের সাথে জেনা না করলে এই যুগে চলে নাকি। বা আমরা এখন দিব্যি সুদ খাচ্ছি মায়ের সাথে জেনা করছি। বরং যুক্তি দিচ্ছে এগুলো না করলে কি এযুগে চলে। মহিলাদের অবস্থা দেখেন গ্রামে গঞ্জে সব সুদ এবং এনজিওতে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা সদস্য। জমির জামা পিটে মাটি গরু ছাগল সব খোয়াচ্ছে তাও সুদ খেতে হবে। কারণ ওই যে আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে পাঠাবেন যে ফাসাদ সৃষ্টি করবে এটা হচ্ছে ইকোনমিক ফাসাদ। অর্থনৈতিক ফাসাদ। দেখেন মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও ম্যাক্সিমাম মুসলমান নামাজ পড়ে না। কতজন মানুষ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এটা একটা জরিপ করার ব্যাপার। দেখবেন বেশিরভাগ সংখ্যক কোরআনটাকে শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করতে পারে না। কথাগুলো কি রূপকথার মনে হচ্ছে ।বাস্তব জীবনে নেমে এসে দেখেন। ওই যে আমরা বলি না তাওহীদি জনতা মাঠে আছে। তাওহীদের জনতা মসজিদেই নাই। কি বুঝলেন? কোন মাঠে আছে? মুসলিম ঘরে জন্মগ্রহণ করে দেখবেন পর্দার যে একটা ফজিলত। সেই কনসেপ্টটি নাই। বরং এমন চেতনা যে গায়ে জামা কাপড় ছিড়ে খুলে ফেললেই বাঁচে । মানে এখন এই যুগ চলছে।
সিগারেট, মাদক ও বদলে যাওয়া সমাজ
একটা সময় ছিল মানুষ সিগারেট খেতে স্মোক করত ।আমরা ওই জেনারেশন টা দেখেছি ।স্মার্ট কত চুপিচুপু করে ।চায়ের দোকানের কর্নারে বা বাথরুমে । মাঠে গিয়ে ওই কর্নারে কেউ যদি দেখে না ফেলে । তারপরে কয়েক বছর পর পরিস্থিতি একটু পরিবর্তন হলো । ওপেন স্মোকিং করা শুরু করলো সবাই । ভাইয়ের সাথে স্মোকিং বন্ধুর সাথে স্মোকিং ইভেন লাস্টের দিকে বাবার সাথে ও স্মোকিং করা শুরু করল । এই একটা যুগ আসলো । তারপর দেখেন নতুন নতুন মদ আসতে লাগল গাজা , হিরোইন, ইয়াবা , হুইস্কি ইত্যাদি ইত্যাদি। ফেনসিডিল, ইয়াবা। এখনই ইয়াবার যুগ। আরো আপডেট কোন মদ আসতে হয়তো । এখন সিগারেট অত কোন বিষয় নয় ।কিন্তু ফ্যাশন ।যদি কেউ ইয়াবা খায় তাহলে লোকে বলছে হ্যাঁ ও মাদক সেবন করে। বাই দ্যা ওয়ে আমাদের দেশে কিন্তু নিবন্ধিত ১৯০ টা বাড় আছে। দেশে ২০৪ টা ব্রান্ড চলছে এবং বিদেশী ৩৮ টা ব্র্যান্ড চলছে। পারমিট পেয়েছে ৮৫ হাজার ৭0 জন ।এবং এই মাদক সংশ্লিষ্ট এনজিও আছে প্রায় ৭৬। ২১ বছর হলে কেউ পারমিট থাকলে সে মদ খেতে পারে কোন সমস্যা নেই ।এটা নাগরিক অধিকার আপনার ।আবার আশ্চর্যের ব্যাপার হলো এএগুলো খুলে উন্মুক্ত করার পরও। মাদক নিরাময় কেন্দ্র আছে ৭ টা। আর ওইভাবে খাবেন এভাবে আপনার জীবনটা নষ্ট হবে তখন এই সাতটা কেন্দ্রতে এসে আপনি চিকিৎসা নেন।সদর দত্ত আছে সব গোয়েন্দা সংস্থা আছে। এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের প্রতিদপ্তর আছে। এটা একটা সার্কাস। পৃথিবীটা একটা সার্কাসের যুগ।এই যুগে যা হচ্ছে খালী চোখে যা দেখছেন তার বেশিরভাগই হচ্ছে সার্কাস।এখন ইবার যুগ চলছে।একটা সময় ছিল যখন ছেলে মেয়ে এফিয়ার করতো তখন লুকিয়ে লুকিয়ে চিঠি আদান প্রদান করতো যাতে কেউ জানতে না পারে। খুব লুকিয়ে লুকিয়ে করতো ।কফি শপে বসলে খুব সাবধানে যাতে কেউ না দেখে ফেলে। রিক্সায় বসলে যেন কেউ না দেখে । তারপর একটা যুগ আসলো যে জানলে কোন অসুবিধা নেই । বাসায় বলবো ও আমার গার্লফ্রেন্ড। ও আমার বয়ফ্রেন্ড। আমরা বিয়ে করবো আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি একে অপরকে। তারপর একটা যুগ আসলো যে যেহেতু প্রেম করছি বিয়ে তো করতে যাচ্ছি তাহলে সেক্স করলে অসুবিধা কোথায়। তখন আবার সেক্সুয়াল এক্টিভিটি শুরু হয়। মেয়েরা যদি বাইরে বের হতো আর তার পরনে যদি শর্ট কামিজ বা আটসাটে কাপড় পড়া থাকতো তাহলে সে খুব গিলতি ফিল করত যে আমাকে সবাই দেখছে আমার দিকে তাকাচ্ছে আমাকে কেমন দেখাচ্ছে। বেশিরভাগ মানুষ এমনটা করত না ওই কয়েকজন করত। আস্তে আস্তে একটা যুগ আসলো যে না এখন বেশির ভাগই করে তো শয়ে গেল এটা। তারপর একটা যুগ আসলো সরাসরি সেক্স । প্রেম-টেম কিছুই নাই সরাসরি সেক্স। পতিতালয়ে যাব সেক্স করবো চলে আসব। গার্লফ্রেন্ডের সাথে আগে সেক্স করবো তারপর কোনটা ভালো লাগে তারপরে বিয়ে করবো।বাই দ্যা ওয়ে আমাদের দেশে ১৪ টা পতিতালয়েও আছে ।আর এগুলো আমি বানিয়ে বলছি না আপনি গুগল করলেই দেখবেন। তারপর একটা যুগ আসছে এখন হিজাব তো সড়িয়েছি এখন আস্তে আস্তে ড্রেসটা আরো ছোট হলো। তারপরে আর একটু টাইট ফিটিং তারপরে আর একটু শট আর একটু শট করতে করতে। এখন রেভুলেশন আসছে এটাও খুলে ফেলি।
প্রকাশ্যে অশ্লীলতার বিস্তার ও পোশাক বিতর্ক
আমি আপনাকে বলে দেই হাদিস থেকে এরপরে কি হবে? এই যে গোপনে গোপনে যেনা থেকে অল্প অল্প প্রকাশে যেনা অশ্লীলতার জয় লাভের যুগটা আসছে এখন । এরপর হবে কি মানুষ রাস্তাঘাটে জেনা করবে। রাস্তাঘাটে এখানে কেউ সেক্স করতেছে ওইখানে কেউ সেক্স করতেছে। এটা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। কেয়ামত হবে না ততদিন পর্যন্ত যতদিন পর্যন্ত মানুষ রাস্তাঘাটে আনাচে-কানাচে জেনা করবে। তখনকার সবচেয়ে ভালো মানুষ যে হবে সে কে জানেন? দেশে গিয়ে বলবে কাজটা এখানে করছো তো করছো দেয়ালের পেছনে গিয়ে করলে ভালো হতো না। এই হবে সবচেয়ে ভালো মানুষ। হাদিস এমন ভাষা এসেছে। যুগ কিন্তু হঠাৎ করে এরকম ফাসাদ পূর্ণ হয় নাই। আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে দেখেন প্রথমে গাও মাদক গোপনে তারপরে প্রকাশ্যে। তারপরে এটা ফ্যাশন হয়ে গেল সবাই খাচ্ছে। প্রথমে পর্দা সবাই করতো। বিগত ১০০ বছর আগে যান। দেখবেন সবাই পর্দা করত। আস্তে আস্তে রেভুলেশন ফ্যামিলিস্ট রেগুলেশন। কাপড় ছোট হতে হতে এখন বিকিনির যুগ আসতেছে। সবাই বিকিনি পরে ঘুরবে। কে এগুলো বলার আছে? আমার পোশাক আমি পড়বো। আপনার কি বলার অধিকার আছে? আমার দেহ আমার সিদ্ধান্ত। আমার দেহ আমার সিদ্ধান্ত । এরপর আসবে ওই যুগটা যখন মানুষ রাস্তাঘাটে জেনা করবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর মাধ্যমে ওদের সামনে কেয়ামত হবে ইনশাআল্লাহ । মানুষ এভাবে ফাসাদে জুড়িয়েছে। পরিবারে জন্মগ্রহণ করার পরেও এই জিনিসটা অমুসলিম বা করুক খ্রিস্টানরা করুক বৌদ্ধরা করুন ইহুদীরা করুক আমাদের কিছু যায় আসে না। ওরা সারা দেশ সভ্যতা একাকার করে ফেলুক আমাদের কিছু যায় আসে না। মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করার পর একজন মুসলিম ছেলে একজন মুসলিম মেয়ে কিভাবে এগুলো করতে পারে? দেখবেন মুসলিম ফ্যামিলিতে জন্মগ্রহণ করেছে নামাজ নাই কোরআন তেলোয়াত নাই। আল্লাহ তো জিকিরের কোন খবরই নাই। দিব্যি ঘুষ খাচ্ছে। সুদ খাচ্ছে এটা ফ্যাশন। দুর্নীতি এটা সবাই করে আমি একটু করলে সমস্যা কোথায়? সবার মধ্যে একটা আত্মিক দুর্নীতি। মানে আমাদের আত্মাটা এখন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছে। তখন কারো আত্মা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে যাবে তখন তার কাজগুলো হবে এইরকম। একজন রাইটারের বই পড়ছিলাম তিনি লিখেছেন। এটা কিন্তু অনেক আগের বই এখন চলমান যে সময়টা চলছে। আত্মতাকে দেহের রূপ দেওয়া যায় এবং দেহ তাকে আত্মার রূপ দেওয়া যায়। তাহলে দুর্গন্ধে কোন মানুষ আমার কাছে আসতে পারবে না। আমি বুঝাতে পারি নাই মনে হয়। আমাদের সুন্দর দেহ টাকে যদি আত্মা বানিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের কুৎসিত আত্মাকে যদি দেহ বানিয়ে দেওয়া হয়। এত বীভৎস দেখাবে যে সামনে কেউ যাবে না। তো যেটা বলছিলাম ধর্ম মুসলিমদের মধ্যে ফাসাদ চলছে। ইকোনোমিক্স সিস্টেমে ফাসাদ রিবা দুর্নীতি সুদ ঘুষ গোপনে নয় সবাই করছে। মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত কিন্তু আমরা। আমরা কিন্তু আল্লাহর সেই বান্দা যাদের ফিতা কে আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের সামনে সিজদা করিয়েছেন জ্ঞানের কারণে।
সমাজের কাঠামো ভাঙন ও মানবিকতার অবনতি
সমাজের ক্ষেত্রে জান দেখবেন সমাজের কাঠামো গুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে। প্রতিবেশী কে থাকে সেটাও মানুষ জানে না যে আমার পাশের বাসায় আছে এটা কে? একজন আরেকজনকে উপকার করা বা ছাড় দেওয়া দিন দিন কমে যাচ্ছে । দেখবেন কারো উপকার করে এটাকে মানুষ বিরক্ত মনে করছে এখন। রাস্তাঘাটে চলবেন কেউ ছাড় দিতে রাজি নয়। যে আপনার আগে যেতে পারবে সে সফল কেউ ছাড় দিতে রাজি নয়। রাস্তার নিচু থেকে উচু শ্রেণীর মানুষ কেউ অন্যের সাথে নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিব ছাড় দিব এটা চিন্তা করা যাচ্ছে না। সমাজের কাঠামো গুলো ভেঙে গেছে। রাস্তাঘাটে দেখবেন বেপর্দা নারী ফ্রিমিক্সিং যে না ব্যাভিচারিতা অশ্লীল মুভি সমাজের কাঠামো বলতে কিছু নাই আর। যা আছে একটা খোলস। ভিতর থেকে এটা পুরা পচে গেছে। পোচলো কার কারণে? আমার আপনার কারণেই তো। কিভাবে পচছে আমি সেদিকেই যাচ্ছি।পলিটিক্স এ যান গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স এ যান সব জায়গায় ফাসাদ আর ফাসাদ। বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের এখন একটাই কাজ যুদ্ধ লাগিয়ে দেওয়া অস্ত্র বিক্রি করা। কার কার সাথে যুদ্ধ বাধাবে আর অস্ত্র বিক্রি করবে। এটাই টেন্ডেন্সি। মানুষের জীবনে কোন মূল্য নাই ।একটা বোমে যে ইয়ামেনের হাজার হাজার শিশু মারা গেল এর কোন পরোয়াই নাই। বাচ্চাগুলো মারা গেছে তো কি হয়েছে ? মানে পিঁপড়া ডলে দিলে মানুষের কোন ফিলিংস থাকে না। এখন মানুষের জীবন সেই রকমই হয়ে গিয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন সেইটা মনে হয় হারাজ বেড়ে যাবে হারাজ। মানে হত্যা। যে মারা যাবে সে জানবে না কেন তাকে হত্যা করা হলো এবং হত্যা করল সেও জানবে না কিসের জন্য তাকে হত্যা করা হলো। আমিও তোর শক্তিশালী যারা তারা সমস্ত বিশ্বটাকে ওদের দাসত্বের মধ্যে আনতে চায়। আর এই দাসত্বের মধ্যে একমাত্র বাধা হচ্ছে মুসলিমরা। বাকি ধর্ম বলি বাধা না। এ কারণে মুসলিম সমাজের মধ্যে এগুলো বেশি বেশি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মদ জেনা এটা সেটা ইত্যাদি। যাতে করে মুসলিমদের কাছে আধ্যাত্মিক কোন শক্তি না থাকে। যখন আপনার কাছে আধ্যাত্মিক কোন শক্তি থাকবে না তখন আপনি পরাজিত। তো সুদ ছড়িয়ে দিয়েছে সারা ওয়ার্ল্ডে। সুদ কি বাংলাদেশ থেকে এসেছে? সুদ পশ্চিম দিক থেকে এসেছে। এদিকে প্রথম পর্ন যে মুভি এটা তৈরি করেছে আমেরিকা। ৭ মিনিটের ক্লিপস।এটা শুট করা হয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়াতে। তারপর আস্তে আস্তে সারা ওয়ার্ল্ডে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সারা বিশ্বে এই পর্ণের বিজনেস হয় ৯৭ বিলিয়ন ডলার প্রতিবছর। যার মধ্যে ১২ বিলিয়ন প্রফিট করে আমেরিকান। এটা ইন্ডাস্ট্রিএট। এটা দিয়ে মুসলিম যুবকদের নৈতিক চরিত্রটাকে শেষ করে ফেলা হয়েছে । আমাকে খুব ভালো মনে হচ্ছে আপনাকে খুব ভালো মনে হচ্ছে অমুক হুজুরকে কি খুব ভালো মনে হচ্ছে। চোখে এসব পড়ে নাই এমন একটা মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না এই যুগে। এটা আমার মন্তব্য ইলা মাশাআল্লাহ। ইলা মাশাআল্লাহ ইল্লা মাশাল্লাহ যদি এমন কেউ থেকে থাকেন যে ইন্টারনেট সেকশনের সাথে কোন সম্পর্ক নাই তার কথা ভিন্ন। বাকি সবার চোখে গুলো পড়েছে এগুলো খুব কমন।
গ্রামে অপরাধ বৃদ্ধি ও ইসলামী বিচার ব্যবস্থা
এবং এগুলো দিন দিন গ্রামে বাড়ছে বেশি। কারণ কি শহরের মানুষ এগুলো দেখতে দেখতে অভ্যস্ত যে এরা এভাবে হাটে ওইভাবে হাটে । এরা এরকমই ড্রেস পরে। আর গ্রামে তো এসব কম ছিল। যখন গ্রামে পর্ন চলে গেছে এখন গ্রামের যুবকদেরকে কে ঠেকায়? এখন দেখা যায় প্রতিদিন গ্রামেগঞ্জে ধর্ষণ বাড়ছে। মেয়ে হয়ে গেছে তাদের কাছে একটা ভোগের বস্তু। আর এসবের যেহেতু ইসলামিক কোন বিচার হচ্ছে না। ইসলামিক "ল "স কেমন? যে একজন চুরি করেছে জুমার দিন নামাজ হবে নামাজের পরে সকল এলাকা বাসী একত্রিত হবে এবং দাঁড়িয়ে থাকবে তাদের সকলের সামনে লোকটার হাত কেটে ফেলা হবে । এলাকার সব লোক দেখবে যে চুরি করলে এই শাস্তি হয়। ভয়ে আর কেউ চুরি করতে যাবে না। কেউ কাউকে অন্যায় ভাবে হত্যা করেছে তাকেও সার্চ করতে হবে। সবাই জানবে যে সে হত্যা করেছে তাই তাকে সার্চ করা হয়েছে। কেউ কারো চোখ উপড়ে দিয়েছে তারও চোখ উপড়ে দিতে হবে কেউ কারো হাত ভেঙে দিয়েছে তারও হাত ভেঙে দিতে হবে। হাতের বদলে হাত, চোখের বদলে চোখ, কানের বদলে কান। ধর্ষণ করেছে জনসম্মুখে সবার সামনে নিয়ে এসে। দেনান দেন কোট বসিয়ে মৃত্যু মৃত্যুদণ্ড আদেশ করা। সবাই দেখবে তার মৃত্যুদণ্ড। প্রয়োজনে প্রজেক্টের লাগিয়ে লাগিয়ে দেখানো। এই যে এই কাজ করেছে এই কাজের জন্য এই শাস্তি সে পেয়েছে। রাস্তাঘাটে ইভটিচিং করছে। মোবাইল কোট থাকবে। রিপোর্ট প্রমাণ ধরা হবে সাথে সাথে বিচার করা হবে। এরকম একটা মাস করলে দেখবেন অপরাধীর মাত্রা বাড়বে না। আল্লাহর কসম করে বলছি এটা করলে অপরাধ 100% কমে যাবে।কিন্তু এটা করলে কি হবে জানেন ।ওই যে পশ্চিমাতে বসে আছে বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। ওরা বলবে যে এই স্টেট এর দিকে নজর রাখো এরা মৌলবাদী হয়ে গিয়েছে। এরা সন্ত্রাসী হয়ে যাচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে ইত্যাদি ইত্যাদি। আর তুমি মিয়া সারা বিশ্বের মধ্যে শত শত বোম মেরে মানুষকে মেরে ফেলতেছ হাজার হাজার তোমার মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় না। সব জায়গায় ফ্যাসাদ। হকটাকে মানুষ বাতিল মনে করছে । বাতিলকে মানুষ হক মনে করছে। সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী বলা হচ্ছে এবং মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী বলা হচ্ছে। এখানে মুসলিমদের জীবনের মূল্য কমে গেছে। এই সমস্ত প্রবলেম আমাদের পক্ষে সল্ভ করা সম্ভব নয়।সলভ করার মত ক্ষমতা আমাদের নাই। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সেই জ্ঞানও নাই। এগুলো নিয়ে আমাদের ভাবার সময় নাই। আমরা একটা জায়গায় ফোকাস করতে পারি একটা জায়গায়। সেটা হচ্ছে আল্লাহ পাক আমাদেরকে স্ব স্ব পরিবার দিয়েছে। দেন নাই। আর এই পরিবারটা হচ্ছে একটা সমাজ গঠনের একক। সমাজের অনু এবং পরমাণু হচ্ছে পরিবার। একটা সমাজে যদি একশটা পরিবার থাকে তার মধ্যে যদি ৯০ টা পরিবার সৎ হয় আল্লাহ ওয়ালা হয় ইসলামের অনুশাসন মেনে চলে সত্যিকার অর্থে। ইনশাল্লাহ দেখবেন ওই সমাজটাই আট দশটা সমাজের চাইতে ভালো থাকবে ইনশাল্লাহুতালা ।আবার একটা সমাজে দেখবেন একশটা পরিবার আছে ৯০ টা ইসলামের বিরুদ্ধে। ইসলামের প্রতি কোন পরোয়া নায় আল্লাহর হুকুম আহকামের ৫ পয়সা পরোয়া করে না। ওই সমাজ নিঃসন্দেহে আল্লাহর হুকুমে এই দুনিয়াতে ধ্বংস হবে এবং আখিরাতেও ধ্বংস হবে।
পরিবার থেকে শুরু: নিজেকে ও পরিবারকে বাঁচানো
আর এই সমাজ গুলোকে নিয়েই তো একটা রাষ্ট্র হয় তাই নয় কি। আর এই রাষ্ট্র নিয়েই তো হয় একটা বিশ্ব ।তাহলে ক্ষুদ্রতম যে জায়গাটা সেটা কি? সেটা হচ্ছে পরিবার। এই জায়গা আল্লাহ পাক আপনাকে কর্তৃত্ব কিন্তু দিয়েছেন। এখানে কিন্তু আপনার ওপরে কেউ লাঠি ঘুরাচ্ছে না। আপনি এজ এ বাবা আপনি পরিবারের কর্তা। আপনি এজ এ স্বামী আপনি পরিবারের কর্তা। ভাই পরিবারের কর্তা। আমাদের প্রথম স্টার্টিংটা এই ফ্যামিলি থেকে করা উচিত। আল্লাহ পাক এই বিষয়ে কি বলছেন তার পরে বলে আমরা একটু সামনে যাই। আল্লাহ পাক সূরা তাহরীম এর মধ্যে 6 নাম্বার আয়াতে বলেছেন হে মমিনগণ আমাদেরকে আল্লাহপাক বলছেন হে মুমিনগণ। তুমি নিজে আগে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচ আগে তুমি নিজের চরকায় তেল দাও। নিজে আগে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো। তোমার যে পরিবারবর্গ আছে এদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। এই বাঁচানোটা কেমন দেখেন? আপনাদের বাসায় ছোট ছোট বাচ্চা আছে না। আছে তো। একটা ছোট বাচ্চা যদি আগুন ধরতে যায়। সে বোঝেনা আগুন কি জিনিস? কয়লা ধরতে যাচ্ছে আগুনে হাত দিতে যাচ্ছে। তো আপনি কি করবেন আপনি তাকে সেভ করার চেষ্টা করবেন। সে যদি বলে না আমাকে ছেড়ে দাও আমি ধরবোই আপনি প্রয়োজনে একটা থাপ্পড় মেরে তাকে সেভ করার চেষ্টা করবেন। এটা হচ্ছে বাঁচানো। আপনি আপনার শিশুটাকে আগুন থেকে বাঁচিয়েছেন। তো আল্লাহপাক বলছেন তুমি নিজে বাঁচো এবং পরিবার বর্গকেও বাঁচাও। পরিবারবর্গ যদি শুনতে না চায় না আমি জেনা করবো , না আমি মদ খাব , না আমি গান শুনবো না, আমি এটা করব এটা করব যদি আপনি বুঝে থাকেন। আপনার কথাটা হক শাসন করা লাগলেও আপনি তাকে শাসন করে বারণ করতে হবে। এখানে আল্লাহ পাককে নসিহত হচ্ছে তোমরা নিজেরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো এবং তোমাদের পরিবার বর্গকেও বাঁচাও। কোন জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচবে। যে জাহান্নামে কঠিন কঠিন মনের ফেরেশতারা আছে। পাষাণ মনের ফেরেশতা। আল্লাহ পাক তাদের মনের মধ্যে কোন দয়া মায়া দেননি। আমাদের মনের দয়া মায়া আছে না। এই দয়া মায়া ও আল্লাহ পাক তাদের মধ্যে দেন নাই। শুধু আজাব দেয়ার মত শক্তি সামর্থ্য এবং কঠিন একটা মন দিয়েছে। অন্য একটি সূরায় আছে তাদের সংখ্যা আছে ১৯ জন। তারা দায়িত্বশীল। বাকি যে কত হাজার কোটি আছেন সেটা আল্লাহ ভালো জানেন। আল্লাহপাক ওই ফেরেশতাদেরকে যে আদেশ করেন সে আদেশ পালনে তারা বিন্দুমাত্র গাফলতি করে না ।এইসব ফেরেশতাদের থেকে যারা জাহান্নামের প্রহরী। এই জাহান্নাম থেকে তুমি নিজে বাঁচো এবং নিজের পরিবারকে বাঁচাও। তোমরা যারা এখনো ফ্যামিলি শুরু করো নাই যুবকদেরকে বলছি। তাদের জন্য এই অংশটুকু বেশি বেনি ফেসিয়াল হবে ইনশাআল্লাহ । তোমাদের জন্য পথ চলাটা তুলনামূলক সহজ হবে তাদের চাইতে যারা অলরেডি ফ্যামিলি লাইফে ঢুকে পড়েছে। এবং বিপদেও পড়ে গেছেন। বা বড় হয়ে গেছেন দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ইসলামের এজেন্টস এ চলেছেন। বা আল্লাহর হুকুম আহকামের ত্বককা করেন নাই তাদের জন্য এটা অনেক কঠিন।
স্বামী-স্ত্রীর জীবনের লক্ষ্য ও পরিবারের শান্তি
কিন্তু যারা স্টার্ট করো নাই বা এখনো করেছ বা করতে চাচ্ছো। তোমাদের জন্য এই অংশটা বেশি ইম্পর্টেন্ট। আল্লাহপাক এখানে একটা মূলনীতি দিয়ে দিয়েছেন। নিজে বাঁচতে হবে পরিবারগুলোকে বাঁচাতে হবে। আর আমি আগেই বললাম পরিবারে বাঁচলে সমাজ বাঁচবে। আর সমাজ বাঁচলে রাষ্ট্র বাঁচবে ।প্রথমে আমরা দেখি যে কোরআন কি বলছে? কোরআন কি বলছে? আদম এবং হওয়ার কথা মনে আছে।তাদের দুইজনকে আল্লাহপাক পৃথিবীতে নামিয়েছেন।যে ভুলটা তারা দুজন করেছেন সে ভুলের ফল দুজন মিলে সমান ভাবে শেয়ার করে ভোগ করেছেন। আল্লাহর সীমা লংঘন করার পরে তাদেরকে যে আল্লাহর শাস্তি দিয়েছেন থেকে পৃথিবীতে নামিয়ে দিয়েছেন। এখন এই যে লম্বা সময় তাদেরকে পৃথিবীতে থাকতে হবে। পৃথিবীর এসব ভুগ ভোগান্তি ভুগতে হবে। জান্নাতের মতো আর নাজ নেয়ামত থাকছে না। এই যে কষ্টের পথ চলা এই পথ চলা পথ চলাটাতে স্বামী-স্ত্রী একসাথে না ?এভাবে যদি পরিবারের স্বামী আর স্ত্রীরা তাদের জীবন উদ্দেশ্যটা ফিক্স করতে পারে এবং সকল বাধা বিভক্তিকে একসঙ্গে ডিঙ্গাতে পারে তাহলে পরিবারের শান্তি আছে। যদি না পারো তাহলে বুঝবেন সে আদর্শ স্বামী ছিল না অথবা সে আদর্শ স্ত্রী ছিল না। ওখান থেকে শিক্ষনীয় হচ্ছে। দুইজনের জীবনের উদ্দেশ্য একই হতে হবে। দুইজনের লাইফের মিশন সেম হতে হবে। তখন আপনি পরিবারে শান্তি পাবেন ইনশাল্লাহ। যদি এমন না হয় তাহলে আপনি বিয়ের মধ্যেই ভুল করেছেন। অতএব এখানে নসিহত্যা প্রথম দেন। তারপর আসেন নূহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনে আছে না তার নাম ?আরেকজন ছেলে ছিল সে কি মুমিন ছিল ?সে কিন্তু মমিন ছিল না। সে অস্বীকারকারী ছিল। নূহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী কি মুসলিম ছিলেন ? চিন্তা করতে পারেন একজন নবীর স্ত্রী মুসলিম নন। একজন নবীর ছেলে তিনি আল্লাহর আদেশের পরোয়া করছেন না। আল্লাহ বলেছেন এই ছেলে তোমার পরিবারের কেউ না। নবীজি বলেন হে আল্লাহ সে আমার পরিবারের একজন তাকে ক্ষমা করে দাও। আল্লাহতালা বলছেন সে তোমার পরিবারের কেউ না। নবীর পরিবারের সদস্য হওয়ার সত্বেও লুত আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রী সে কি জান্নাতি? তাহলে এখানে বুঝেন নবীর পরিবারের হলেও যদি ব্যক্তিগত পর্যায়ে মানুষের মনে ঈমান এবং ইসলাম না থাকে তাহলে এসব বংশ জাতি ধর্ম কিছুই আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচাতে পারবে না। নবীজির পরিবারের সদস্য হওয়ার পরেও তারা জাহান্নামে গিয়েছে। আমাদের কাজ কি নিজের চরকায় তেল দেওয়া ভালো। আমি কত বড় আলেমের ছেলে আমি কত বড় দায়ের স্ত্রী আমি কত বড় মুফাসসের মহাফিসের সন্তান ভাই এসবের কোন মূল্য নাই। নিজে আমি ভালো কিনা নিজে প্রকৃত মুমিন কিনা এটাতেই আমার মূল্য আছে। এ কারণে হয়তো আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মেয়ে ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলছেন হে ফাতিমা হে আমার কলিজার টুকরা মেয়ে। হে আমার কলিজার টুকরা মেয়ে তুমি শোনো পৃথিবীতে আমার কাছে তোমার যা চাওয়ার চেয়ে নাও। পরকালে আমি তোমার কোন হেল্প করতে পারছি না। অথচ আমরা জানি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলের জন্য সুপারিশ করবেন। সেটা অন্য বিষয় তোমাকে তোমার হিসাব একাই দিতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা বলেছেন। একদিন নবীজি সাঃ বাসায় ঢুকলেন দেখলেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কান্নাকাটি করছেন। বলে রাখি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে আমাদের নবীজি বলেছেন তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে আপনি পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি কাকে ভালবাসেন। তিনি বলছেন আয়েশাকে।
নূহ ও লূত আলাইহিমাস সালামের পরিবারের শিক্ষা
তারপরে কাকে ভালবাসেন ? আবু বক্করকে। তারপরে কাকে ভালবাসেন উমার কে। সেই আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বাসায় কান্নাকাটি করছেন। তিনি বলছেন কি জন্য কাঁদছো হে আয়েশা। আয়েশা আল্লাহু আনহু বলছেন জাহান্নামের আযাবের ভয়ে আমি কাঁদছি। কি হবে ইয়া রাসূলুল্লাহ আমাদের সাথে? তখন আল্লাহর নবী তিনি তার স্ত্রীকে বলছেন যাকে তিনি সবচেয়ে বেশি ভালবাসেন। তিনটা ক্ষেত্র তিনটা জায়গা যেখানে পৃথিবীর কোন মানুষ কোন মানুষকে চিনতে পারবে না পরকালে । এবং কি আমিও তোমাকে চিনতে পারবো না পরকালে। সেটা কি যখন মিজানের পাল্লাটা দার করানো হবে? এটা ভারী হচ্ছে না হালকা হচ্ছে এই সময় কারো কথা কারো মনে থাকবে না। যে গার্লফ্রেন্ডের জন্য আপনি জীবন দিচ্ছেন তার কথা আপনার মনে থাকবে না। দৃষ্টি সন্তানের জন্য আপনি ঘুষ খাচ্ছেন তাদের কথা আপনার মনে থাকবে না। এবং কি যে স্ত্রীর কাছে আপনি অনেক প্রেমময় স্বামী সেই স্ত্রীর ও আপনার কথা মনে থাকবে না। যখন মিজানের পাল্লাটা উঁচু করা হবে। দুই যখন আমলনামা ছুড়ে দেওয়া হবে। আমলনামা এভাবে উন্মুক্ত করে ছুঁড়ে দেওয়া হবে। আজকে তুমি তোমার কিতাব পড়ো আজকে তুমি তোমার নিজের নফসের হিসাব নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই সময় আয়েশা আমি তোমার কথা মনে রাখতে পারবো না। আরেকটা হচ্ছে মানুষ যখন পুলসিরাত পার হবে তখন কেউ কারো কথা মনে রাখতে পারবে না। এখান থেকে শিক্ষা কি নূহ আলাইহি সাল্লাম এর পরিবারের লোকজন হয়েও তারা আল্লাহর আনুগত্য না করার কারণে তারা জাহান্নামে যাচ্ছে। লুত আলাইহিস সালামের পরিবারের সদস্য হয়েও তারা ঈমান না আনার কারণে জাহান্নামে যাচ্ছেন। আমাদের শিক্ষা হচ্ছে আমাদের পরিবারগুলো। আমাদের এই যে বংশ আমাদের টাকা পয়সা আমাদের স্ট্যাটাস আমাদের বাড়ি গাড়ি পলিটিক্যাল পদ কোন কিছুই আমাদেরকে আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচাতে পারবেন। যদি আমরা প্রকৃত মুসলিম মুমিন না হতে পারি। পরিবারের সদস্যদেরকে আল্লাহপাক ঈমানদার হওয়ার তৌফিক এনায়েত করুন। এবার আসেন সামনে আরো সামনে যান। ওই যে ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম বাবা হচ্ছেন ওই সময়ের সবচেয়ে বড় লিডারের ডান হাত।নমরুদের ডান হাত ।সে হচ্ছে মূর্তি পূজারী সর্দার। মানে সে মূর্তি বানাতো। ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লামকে আল্লাহপাক ওই ঘরে জন্মগ্রহণ করিয়েছেন ।যেখানে তার বাবা একজন শিরিকের কাঙ্গারি। ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম তার বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন বাবার এটা শিরক এটা শয়তানের কাজ। তুমি এখান থেকে ফিরে আসো আমি আল্লাহর কাছে তোমার জন্য প্রার্থনা করব। কিন্তু বাবা তার কথা শুনল না। এমন না যে তিনি একবার এই কথা বলেছেন তিনি বলতেই ছিলেন বলতেই ছিলেন বলতেই ছিলেন বলতে ছিলেন। তিনি বললেন বাবা আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে আমার আব্বা আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্য দোয়া করব। পরে যখন আল্লাহ পাক বললেন কোন মুশরিকের জন্য তোমার দোয়া করা শোভা পাবে না। তখন থেকে ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম দোয়া করা বন্ধ করে দিলেন ।এখানে দেখেন একজন যুবক ছেলে তার মধ্যে ঈমান এসেছে। সে তার পরিবারের চলমান শিরিকের বিরুদ্ধে কথা বলছে। প্রয়োজনের সে সেখান থেকে স্কিপ করেছে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে সে চলে গেছে। তারপরে কিন্তু সে তাওহীদের সাথে শিরিকের আপোষ করে নাই।
আখিরাতে আত্মীয়তার কাজে না আসার শিক্ষা
ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই যে তার স্ত্রী হাজেরা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ।তার সন্তান এবং স্ত্রীকে রেখে এসেছেন কোথায়? মক্কায় তাই না। মরুভূমিতে ।সেখানে খাবারও নাই পানিও নাই এখন ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে যাওয়ার সময় বৃষ্টি বলছেন আপনি কি আল্লাহর আদেশে আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন? তিনি বলছেন হ্যাঁ। তখন তিনি বলছেন আল্লাহ পাক আমাদেরকে ধ্বংস করবে না ইনশাআল্লাহ। এখানে খেয়াল করে দেখেন তারপর সাফা মাইসান করলেন জমজম কূপ পানি বের হল। কমিউনিটি গড়ে উঠল। ইসমাইল আলাইহি সালামের পৌরুষ থেকে পরবর্তীতে মোহাম্মদ সালাহ সালাম জন্মগ্রহণ করলেন। এখানে খেয়াল করেন এই যে সন্তান ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামের যখন একটু বড় হচ্ছেন তখন ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসছেন আর বলছেন আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি। আমি স্বপ্ন দেখেছি আমি তোমাকে জবাই করছি। তোমার কি রায় আমাকে বল? যখন ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কিশোর ইসমাইল হে আমার বাবা আপনি সেটা করেন যেটা আপনাকে আল্লাহ আদেশ করেছেন। কার কথা এটা? ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামের। এখন দেখেন ইসমাইল আঃ সালামের বাবা কিন্তু তাকে ২৪ ঘণ্টা কাছে রেখে লালন-পালন করেন নাই। কারণ তিনি থাকতেন ওই যে প্যালেস্টাইনে সেখানে তার আরেক স্ত্রী আছেন সারা আলাইহিস ওয়াসাল্লাম। আসা-যাওয়া করতো।মূলত তাকে মানুষ করেছেন তার মা হাজেরা আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যেই শবরককারী আল্লাহর আছে তাওয়াক্কুলকারি মা বলেছিল আল্লাহ যদি আপনাকে আদেশ করে থাকেন আমাদেরকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য ইনশাআল্লাহ আমাদেরকে ধ্বংস করবেন না। ওই যে তাওয়াক্কুল শবর তার গর্ভ থেকে আল্লাহ পাক জন্ম দিয়েছেন ইসমাইল আঃ কে ।যেমন মা তেমন সন্তান যে সন্তান বলছে আল্লাহতালা আপনাকে যে আদেশ দিয়েছেন তা পালন করেন। আমাদের ঘরের স্ত্রীরা যদি হাজেরা আঃ এর মত না, হতে পারে সবরকারিণী এবং তাওয়াক্কুল কারীনি। আমাদের বোনের আমাদের মায়েরা যদি হাজেরা আলাইহি ওয়াসাল্লামের মত সবরকারিনি না হতে পারে তাহলে আল্লাহর কাছে তাওয়াক্কুল কারীনি না হতে পারে তাহলে তাদের গর্ব থেকে কোশ্চেনকালে কোন ইসমাইলের জন্ম হবে না। ইসমাইলি প্রজন্ম গড়ে উঠবে না।এজন্য এখন তাকিয়ে দেখেন ম্যাক্সিমাম পরিবারের সন্তানগুলো বেলাইনে চলে গেছে ।কারণ কি জানেন? মায়ের মধ্যে সমস্যা আছে শুধু বাপের মধ্যে সমস্যা থাকলেই হয় না। মায়ের ফিতরাত সন্তানের মধ্যে চলে আসে। নারীরা যদি আল্লাহর আনুগত্যশীলতা না হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ না পড়া লজ্জা স্থানে হেফাজত না করা খাস পদ্মা করা স্বামীর আনুগত্যকারী প্রেমময়ী তারা যদি না হতে পারে সবরকারীনি তাওয়াক্কুল কারীনি তাহলে ওই মেয়েদের মধ্যে থেকে আপনি ইসমাইলের মতো সন্তান পাবেন না। আরো সামনে যান। দেখেন নবী মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম। একজন ব্যক্তিকে একটা ঘুসি দিয়েছেন ওই ব্যক্তি ওখানে স্পটডেট। ফেরাউনের লোকজন তাকে ধাওয়া করছেন। মুসা আলাই সাল্লাম মিশর থেকে চলে গেলেন মাদিয়ান নামের জায়গায়।
মাদিয়ানে আরেক নদী আছে তার নাম শুয়াইদ আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সেখানে গিয়ে তিনি গাছের নিচে বসে আছেন। দেখলেন দুইজন মেয়ের দূরে দাঁড়িয়ে আছে পানি নেওয়ার মতো চান্স পাচ্ছে না। ওই দলের লোকদের শক্তি বেশি অতিরিক্ত শক্তিশালী ছিলেন। তিনি শক্তিশালী ছিলেন তিনিই গেলেন। তিনি গিয়ে শক্তি খাটিয়ে তাদেরকে পানির ব্যবস্থা করে দিলেন। দিয়ে আবার গাছের নিচে এসে বসলেন বসে আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন। এখানে কিন্তু তার ঘর নেই জায়গা নেই খাবার মত কিছু নেই কোন পরিচিত নেই ।একদম নিঃস্ব তিনি ।
ইবরাহীম ও হাজেরা আলাইহিমাস সালামের ত্যাগ
তাও তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন হে আল্লাহ আপনি যে অনুগ্রহ টা আমার উপর বর্ষণ করবেন আমি এর জন্য ভিখারী হয়ে বসে আছি। এবার আল্লাহ পাক ওই একটা মেয়েকে পাঠালেন। মেয়েটা আসলো লাজুক ভঙ্গিতে। লজ্জা ছিল তার চোখ নিচু করে আসলেন। এখনকার যে মেয়েরা ব্লাউজ ছাড়া শাড়ি পরা জেনারেশন এর মেয়েরা। চোখ নিচু করে আসলেন তার প্রশংসা করেছেন তখনই প্রশংসা করেছেন। বললেন সে লজ্জার সাথে হেঁটে আসলো এবং তার সামনে দাঁড়িয়ে বলল যে আমার বাবা আপনাকে ডাকছে। এই লজ্জাশীলতা এখনকার মেয়েদের মধ্যে কোথায় পাবেন আপনি। একটা হাদিস আছে। যখন তোমার মধ্যে কোন লজ্জা থাকবে তখন তোমার যেকোনো পাপ করার ক্ষমতা থাকবে। বিকিনি পড়েও ঘুরবে কিছুদিন পরে দেখবেন আপনারা। ইনশাল্লাহ এসব করতে করতে দেখবেন একপর্যায়ে ওইটা পরেও রাস্তায় ঘুরছে। ওরা দেশটাকে আমেরিকান এবং ব্রিটেন্ট এর পশ্চিম রঙের সংস্কৃতিতে সাজাতে চায় ।এই নোংরা অসভ্যতার নাম দিয়েছে প্রবনশীলতা। শয়তান অনেক বেশি প্রবণতাশীল ছিল এখনো আছে ও। ওই মেয়ের হেঁটে আসাটা আল্লাহ পাক প্রশংসা করছেন। আসার পর যখন মেয়েটি বলছে আমার বাবা আপনাকে ডাকছেন। তিনি গেলেন। তখন শুয়াইদ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন আমার এই দুই মেয়ে। এদের মধ্যে একজনকে আমি আপনার সাথে বিয়ে দিতে চাই।মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওখানে বিয়ে করলেন। শর্ত হচ্ছে ৮ থেকে ১০ বছর তাকে তার ফার্মের চাকরি করতে হবে। কৃষি কাজ মানে গবাদি পশু। এখানে ৮ থেকে ১০ বছর তাকে সার্ভিস দিতে হবে। এটাই হচ্ছে মোহর। আমি এখন বুঝেছি যে মুসা আলাইহিস সাল্লাম কে আল্লাহ পাক রাখালের কাজ কেন করিয়েছেন জানেন ।কারণ এ কাজগুলো মানুষের ধৈর্য বাড়ায়। মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আল্লাহপাক বড় একটা দায়িত্ব দিবেন পরে তাই এখানে ট্রেনিং দিচ্ছেন।তাকে বড় একটা জাতিতে সামলাতে হবে যারা আরও বেশি উদ্যত ।অনেক বেশি গবাদি পশুর মত। তারা কারা ওই যে বনি ইসরাইল।চোখের সামনে দেখলেন আল্লাহ পাক ফেরাউন দেরকে সাগরে ডুবিয়ে দিলেন। ৪০ দিনের মধ্যে আবার শিরক করা শুরু করে দিলেন তারা। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একজন কষ্ট দিয়েছিল। কষ্টটা এমন ডাইরেক্ট দিয়েছিল যে সে এসে বলেছিল আপনি ইনসাফ করেন হে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আপনি ইনসাফ করছেন না হে মোহাম্মদ আপনি ইনসাফ করেন। সাহাবীদের চোখ মুখ লাল হয়ে গেল যে এত বড় কথা নবীকে বলল। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন সাহাবীদেরকে দাঁড়াও। আমার ভাই মুসাকে তার কওম এর চেয়েও অনেক বেশি কষ্ট দিয়েছিল। মুসা আলাইহিস সাল্লাম এর কথা চিন্তা করে আমাদের নবী সান্ত্বনা নিচ্ছেন যে এটা কিছুই না। মুসা আলাইহিস সালামকে তার কওম এর চেয়ে অনেক বেশি কষ্ট দিয়েছে। এই কওম কে সঠিকভাবে চালনা করার জন্য আল্লাহ পাক তাকে আট বছর রাখালি করিয়েছে। আপনারা জানেন কিনা জানিনা বেশিরভাগ নবীজি কিন্তু কৃষি কাজ করেছেন। যারা কৃষি কাজ করছেন তারা নিজেকে ছোট মনে করা হীনতা মনে করার কোন সুযোগ নাই। আপনি একটা নোবেল প্রফেশনার মধ্যে আছেন খাঁটি প্রফেশনার মধ্যে আছেন।
মায়ের ভূমিকা ও সন্তানের ঈমান
এবার মুসা আলাইহিস সাল্লাম একজন ভালো গার্ডিয়ান পেলেন তার নাম শুয়াইব আলাইহিস সাল্লাম । সেখানে বাড়ি পেলেন সেখানকার জামাই তিনি সেখানে তিনি চাকরি পেলেন সবকিছু তার অনুকূলে। ওই যে দোয়া কিন্তু কবুল হয়ে গেছে। সতি পতি পবিত্র একটা মেয়ে আল্লাহ পাক তাকে দিলেন। মুসা আলাইহিস সাল্লাম ছিলেন অনেস্ট তিনি ছিলেন সৎ ব্যক্তি। তিনি কখনো অশ্লীল কোন পথে পা বাড়ার নাই ঠিক তেমন একজন মেয়েকে তার জীবন সঙ্গী করে আল্লাপাক পাঠিয়েছেন । আমাদের শিক্ষা হচ্ছে আমরা যদি আমাদের জীবনকে পবিত্র রাখতে পারি তাহলে আমরা আমাদের জীবনে পতি পুত পবিত্র স্ত্রী পাবো। আর তোমরা এখনকার এইসব পলোভনে পড়ে মদ জুয়া জেনা পর্ন হাবিজাবি সব কিছু মধ্যে যদি ঢুকে যাও। মাদক ইত্যাদির মধ্যে। পুতুপবিত্র নারী আসবেনা। দেখবা যে এমন নারী যে তোমার জীবনে আসছে যে নিজেও পবিত্র না। আল্লাহ পাক ব্যালেন্স করেন সব সময় ইল্লা মাসাল্লাহ। শুধু তাই নয় শুয়াইব আলাইহিস সাল্লাম এর মত একজন গার্জিয়ান তিনি পেলেন। যিনি তাকে দ্বীনের পথে হেল্প করলেন পরবর্তীতে মুসা আলাইহিস সাল্লাম একজন নবী হলেন। এখানে একটা প্রবাদ আছে ঘরের গার্জিয়ান যদি দ্বীনদার হয়। শোয়াইব আলাইহিস সাল্লাম এর মত যদি সাপোর্টিং হয়। পরিবার বর্গকে দ্বীনের জন্য সাপোর্ট করছে। সেই পরিবারের মধ্যে শান্তি আসবে ইনশাল্লাহ। এবং সেই পরিবারের যুবকরাও সৌভাগ্যবান যুবতীরা ও সৌভাগ্যবান। সেই পরিবারের সন্তান সন্ততিরা সৌভাগ্যবান। তাই পরিবারের গার্জেন যারা আছেন আপনারা সাপোর্টিং হন। একটা ভাল প্যারেন্টিং করেন মানে সন্তানদেরকে ভালো একটা সুন্দর প্যারেন্টিং এর মধ্যে নিয়ে আসেন। এবার একটু কনক্লিউশন এর দিকে যাচ্ছি। তো কোরআনের পরতে পরতে দেখবেন এরকম দলিল আছে। আবার দেখবেন ইয়াকুব আলাইহিস সাল্লাম মৃত্যুবরণ করছেন সন্তানদেরকে ডেকে বলছেন আমার পরে তোমরা কার ইবাদত করবে। মানে তিনি কন্সিয়াস যে আমার পরে বাচ্চা কাচ্চা যেন বিভ্রান্ত হয়ে না যায়। তাই তিনি জিজ্ঞেস করছেন তোমরা কার ইবাদত করবে আমার পরে। আর আমরা হলে বাচ্চাকাচ্চাকে যেতে বলতাম আমার ব্যাংকে ১০ কোটি টাকা আছে এক কোটি ওকে দিস আর এক কোটি ওকে দিস । আমার জমি জমা এগুলো আছে। একে এটা দিস ওকে ওটা দিস ।আর ইয়াকুব আলাইহিস সালাম বলছে আমার পরে তোমরা কার ইবাদত করবে। সন্তানরা বলছে আমরা এক আল্লাহর ইবাদত করব যার ইবাদত আপনি করেছেন আমরাও তার ইবাদত করব। সচেতন গার্ডিয়ান। সামনে যান আপনি দেখবেন ইউসুফ আলাইহিস সাল্লাম । যিনি জেলখানায় বন্দি হলেন এবং পরবর্তীতে মিশরের খাদ্য মন্ত্রীর পদে নিযুক্ত হলেন । তার বাবা ইয়াকুব আলাইহিস সাল্লাম কাঁদতে কাঁদতে চোখ অন্ধ হয়ে গেল। যখন ইউসুফ আলাইহিস সাল্লাম তার ভাইদেরকে একটা রুমাল দিলেন এবং দিয়ে বললেন এই রুমালটা নিয়ে যাও এবং আমার বাবার চোখের উপরে দিবে দেখবে ইনশাআল্লাহ আমার বাবা দৃষ্টি শক্তি ফিরে পাবে। সূরা ইউসুফ এর মধ্যে আছে। এই রুমালটা যখন আমার বাবার চোখের ওপরে দিবে আমার বাবা দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে। তখন ওই রুমালটা যখন তারা বহন করে নিয়ে আসছেন। অন্ধ ইয়াকুব আলাইহিস সাল্লাম বলছেন আমি দূর থেকে ইউসুফের গন্ধ পাচ্ছি।
শুয়াইব ও মুসা আলাইহিমাস সালামের গল্প থেকে শিক্ষা
সূরা ইউসুফ ইউসুফ আর জুলেখার প্রেম কাহিনী নয়। সূরা ইউসুফ হচ্ছে ইয়াকুব আলাইহিস সাল্লাম এবং তার সন্তান ইউসুফ আলাইহিস সালামের মধ্যে ভালোবাসার কাহিনী। এটা ভালো করে পড়েন ভালো করে বুঝবেন এখানে পিতা এবং সন্তানের ভালোবাসা কে বুঝানো হয়েছে । এত ভালবাসেন তিনি তার সন্তানকে। এখান থেকে শিক্ষা কি? শিক্ষা হচ্ছে পিতাদেরকে সন্তানদেরকে ভালবাসতে হবে। আদর করতে হবে কাছে ডেকে বুঝাতে হবে। সব সময় শাসনের লাঠি ঘুরানো যাবে না। বাচ্চা যদি হোচট খায় তাহলে তার হাতটা ধরতে হবে এবং ধরে বলতে হবে বাবা কি হয়েছে আমি তো তোমার সাথেই আছি। মা কি হয়েছে আমি তো আছি সাথে। হতাশ কেন হচ্ছ একটা রেজাল্ট খারাপ হয়েছে তো কি হয়েছে আমি তোমার সাথে আছি। বাবা নামাজ পড়ো বাবা কুরআন তেলাওয়াত করো আল্লাহকে ডাকো আল্লাহ তোমার সাথে আছে। তাকে কনফিডেন্স দিতে হবে। যখন পিছন থেকে সন্তানেরা কনফিডেন্স পাবে এই সন্তানরা বড় হলে আত্মবিশ্বাসী হবে। আর পিছন থেকে আপনি যখন সবসময় তাকে শাসন করতে থাকবেন। তার ওপর জুলুম করতে থাকবেন এ বড় হয়ে আপনাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাবে না তো কে পাঠাবে? সন্তান-সন্ততিদেরকে ভালবাসতে হবে। এটা বলে রাখি আমাদের দেশে ৩০ টা বৃদ্ধাশ্রম আছে। ইসলামে বৃদ্ধাশ্রম এর কোন জায়গা নাই। এখন আমি চলমান একটা পত্রিকার রিপোর্ট দেখলাম google এ নামকরা পত্রিকা নাম বলছি না। তারা বলছে এখন বৃদ্ধা আশ্রমের সময়ের দাবি। বৃদ্ধাশ্রম এখন সময়ের দাবি নাউজুবিল্লাহ। আর ইসলামে বলছে সবচেয়ে সেরা অধিকার দিবে মাকে তারপরে মাকে তারপরে মাকে তারপরে মাকে তার পরে মাকে। তারপরে বাবাকে। মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত।বাবা সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্ট এগুলো ইসলাম বলছে। আর এখনকার সভ্যতা আমাদেরকে বলছে যে বৃদ্ধাশ্রম এখন সময়ের দাবি। ইউসুফ আলাইহিস সালামকে যেভাবে ভালবাসতেন তার বাবা সেই ভাবে সন্তানদেরকে ভালবাসেন। আমাদের মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে এত ভালবাসতেন এর কারন কি জানেন? ছোটবেলা থেকে তাকে খুব ভালোবাসা দিয়ে মানুষ করা হয়েছে। তার মা তাকে ভালোবাসতেন তার দুধ মা তাকে ভালবাসতেন। তার দাদা আব্দুল মুতালিব তাকে সাথে নিয়ে ঘুরতেন কাবার সামনে নিয়ে গিয়ে বসাতেন। বসিয়ে বলতেন তার নাম হচ্ছে মোহাম্মদ । যার অর্থ হচ্ছে প্রশংসীয়। এই নামটা আরবে তখন কেউ রাখতো না ।আমার এই নাতি আমার এই ছেলের ছেলে ইনশাল্লাহ বড় হয়ে নেতা হবে। এই কথা বলতেন তাকে আত্মবিশ্বাস দিতেন। তারপরও তার দাদা ইন্তেকাল করার পরেও তার চাচা আবু তালেব তিনি মুসলিম না হয়েও সুদীর্ঘ দিন পর্যন্ত ভাতিজা কে সাপোর্ট দিয়েছেন। এই সাপোর্ট এই কনফিডেন্স এগুলো খুব ইম্পরট্যান্ট। এগুলো যখন ঘাটতি হবে তখন এই যুবসমাজ এই পরিবারের সদস্যরা ফেডাপ হয়ে যাবে। মানসিক কষ্টে ভুগবে। মাদকের কাছে যাবে অন্য একটা মেয়ের কাছে যাবে। পর্নের কাছে যাবে। এখান থেকে আমাদের একটা শিক্ষা হচ্ছে আমাদের পরিবারের সদস্যদেরকে ভালোবাসা দেওয়া এবং কনফিডেন্স দেওয়া এবং তাদের কে আল্লাহর পথে চলতে সাহায্য করা। ইনশাল্লাহ দেখবেন তারা আপনাকে সম্মান করবে আপনাকে একজন ভালো বন্ধু মনে করবে। সে মনে করবে আমার পাশে কেউ আছে আমি একা নই এমনটা ফিল করবে। এটা খুব ইম্পোর্টেন্ট।
ইয়াকুব ও ইউসুফ আলাইহিমাস সালামের ভালোবাসা
কুরআনে কিছু এক্সামপল দিলাম যেগুলো বিচ্ছিন্ন কিছু এক্সাম্পল। যে কোরআনে এইভাবে এসেছে। সূরা লোকমানের মধ্যে দেখবেন অনেকগুলো উপদেশ আছে। বাবা শিরিক কোরো না সৎ কাজের আদেশ করো অসৎ কাজের নিষেধ কর। পিতা মাতার খেদমত করো। আর আমরা বাচ্চাদেরকে কি শিখাই? জমি জমা বাড়ি গাড়ি দাঁড়াতে হবে চাকরি করতে হবে এইটা সেটা। আগে সন্তানদেরকে চিনাতে হবে আল্লাহকে চিনো ।আল্লাহ বলে কেউ আছে আল্লাহ কে চিনো। কাউকে শরিক করিও না। শিরকের শিক্ষা কোথায় এখন পরিবারের মধ্যে ?কোরআনে এরকম অসংখ্য দলিল আছে। কথা শেষ করার আগে এটাই বলতে চাই যে আমাদেরকে কিছু কিছু বিষয় যদি এখনো মেনে যদি চলি তাহলে এই ভঙ্গুর সমাজ ব্যবস্থায় আদর্শ পরিবার ধরে রাখা সম্ভব। পরিবার সদস্য আছে তাদেরকে ইলম বা জ্ঞানের চর্চা করতে হবে। সেকেন্ড হচ্ছে পরিবারে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর সুন্নত প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ দায়িত্ব গুলো হচ্ছে পরিবারেরকর্তাদের স্বামী স্বামী না থাকলে স্ত্রী পিতা মা, ভাই এটা সবার এইসব দায়িত্ব ।পরিবারে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা সুন্নত প্রতিষ্ঠা করা ।পরিবারের নামাজ থাকতে হবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ থাকতেই হবে। যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নেই সেখানে পরিবার সুখী হবে না। পরিবারের সদস্যদের দান-সাক্ষার দিকে উৎসাহিত করতে হবে। যত দান করবেন সম্পদ ততই বাড়বে। যদি দান কমিয়ে দেন তাহলে সম্পদ কমে আসবে এজন্য দান করতে থাকতে হবে।পরিবারের সদস্যদেরকে নৈতিকতা শিক্ষা দিতে হবে মূল্যবোধ শিখাতে হবে। কালচার গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক যারা সমাজের পাশের অত্যাচার তাদেরকে সামাজিক মূলক কাজগুলো শেখাতে হবে। পরিবারের সদস্য গুলোকে তাদেরকে পিছন থেকে উৎসাহিত দিতে হবে যে আমরা আছি তোমার সাথে তুমি তোমার প্রতিভা অনুযায়ী সামনে যাও। যার যেখানে প্রতিভা তাকে সেখানে আত্মবিশ্বাস দিতে হবে হ্যাঁ তুমি লিখতে পারো ভালো হ্যাঁ তুমি লিখ বাবা ।তোমাকে টাকা পয়সা চিন্তা করতে হবে না তোমাকে যবে চিন্তা করতে হবে না। তোমাকে আল্লাহ পাক লেখার ক্ষমতা দিয়েছে তুমি লিখ আল্লাহ পাক তোমার ওইখানে রিজিক লিখেছে। তোমাকে আল্লাহপাক বলার ক্ষমতা দিয়েছি তুমি ভালোভাবে বলো।তুমি বিজ্ঞান ভালো পারো তুমি বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা কর। তুমি ভালো খেলতে পারো তাহলে তুমি ভালোভাবেই খেলো। আপনাকে ওর প্রতিভা ভেবেই ওকে বুষ্টাপ করতে হবে। বাসায় পর্দার বিধান চালু করতে হবে। যাদের বাসায় পদ্মার বিধান নেই তাদেরকে এখনই চালু করতে হবে। এসব শক্ত ভাবে ধরতে হবে হেলায় ফেলায় ছেড়ে দিলে হবে না। বাসার মধ্যে অপসংস্কৃতি যারা আছে বাহিরের কালচার যেগুলো ভিতরে ঢুকে সেগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। ইন্টারনেট সেকশনগুলো লিমিটেড করতে হবে। এবং যা দেখবেন সবাই একসাথে দেখবেন ড্রয়িং রুমে বসে। স্মার্টফোনে এভেলেবেল করে দিবেন না। এমন অনেক কান্ট্রি আছে যেখানে ১৮ বছর না হলে ফোন ইউজ করতে পারে না। আর আমাদের দেশে জন্মের পর থেকেই বাচ্চার হাতে ফোন দিয়ে দেওয়া হয়। বাচ্চার হাতে ফোনটা দেওয়া মানে বাচ্চার মস্তিষ্ক ড্যামেজ করে দেওয়া। ফোনের মধ্যে কত পাপ করছে এখন ফোনকে আমরা কন্ট্রোল করছি না।ফোনই আমাদেরকে কন্ট্রোল করছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। খাওয়া-দাওয়ার দিকে ফোকাস করতে হবে। তারা কি খাচ্ছে কেমন খাবার খাচ্ছে?
আদর্শ ইসলামী পরিবার গড়ার করণীয়
ফ্রেস ফুডের ব্যবস্থা করতে হবে। কালচার কথাবার্তা বলতে হবে। সুন্দর করে কথা বলতে হবে তাদের সাথে। ঝগড়াঝাটি দেখে তারা যখন অভ্যস্ত হয়ে যাবে তখন তো তাদের মধ্যে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটবে। আরো কিছু বিষয় আছে। যেমন পরিবারের হৃদ্ধতা ভালোবাসা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে আছে কিনা পিতা মাতার মধ্যে আছে কিনা। এই বিষয়টা যেন ছোটদের কে ইফেক্ট না করে খেয়াল রাখতে হবে। এভাবে যখন ইফেক্টিভ প্যারেন্টিং আসবে। পরিবারের রিজিক হালাল সালাত আছে জিকির আছে কোরআন তেলাওয়াত আছে। তারা সমাজ কল্যাণমূলক কাজ করছে ইসলামিক কমিউনিটির মধ্যে আছে। সবার সাথে একটা হৃদ্ধতা পরিপূর্ণ সম্পর্ক আছে। তখন দেখবেন ইনশাল্লাহ এই পরিবারের সন্তানরা ভবিষ্যতে গিয়ে ভালো কিছু করবে ইনশাল্লাহুতালা। এই পরিবারের মেয়েরা ইনশাল্লাহ শালীন হবে। তারা যখন অন্য ঘরে যাবে ওই পরিবারের সদস্যরাও ঠিক থাকবে ইনশাল্লাহ। তো দিনের জ্ঞান আমল হালার রিজিক সুন্দর প্যারেন্টিং। এগুলোর মধ্য দিয়ে আমরা আদর্শ পরিবার গড়তে পারবো ইনশাল্লাহ। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে তৌফিক এনায়েত করুন। আমরা দোয়া করি আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে আদর্শ ইসলামিক পরিবার গড়ে তোলার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। এবং যারা এখনো পরিবারে যান নাই আল্লাহপাক তাদেরকে যেন সুন্দর দ্বীনদার পবিত্র নেক্কার স্ত্রী দান করুন আমিন। আমরা দোয়া করি যারা পরিবার গঠন করে ফেলেছেন এখন তাদের মধ্যে যে ভুল ত্রুটি হচ্ছে এগুলো সংশোধন করা তৌফিক আল্লাহ পাক এনায়েত করুন আমিন । পরিবারের মধ্যে দ্বীনই জ্ঞানের চর্চা আল্লাহ পাক বাড়িয়ে দিন। পরিবারের মধ্যে তালিমের ব্যবস্থা করুন। পরিবারের মধ্যে হৃদ্ধতা ভালবাসা সম্পর্ক গড়ে তুলুন। আরো বলবো পরিবারের মধ্যে হালাল রিজিক আল্লাহ পাক ঢুকিয়ে দিন হারাম থেকে বাঁচান। পরিবারে কোরআনের চর্চা যেন সবসময় থাকে আল্লাহ পাক সেই তৌফিক সবাইকে দান করুন। আল্লাহ পাক আমাদেরকে যে একতালাফ গুলো বা ভুল বুঝি গুলো এগুলো থেকে আল্লাহপাক আমাদেরকে হেফাজত করুন। যখন পরিবার সুন্দর হবে তখন ইনশাল্লাহুতায়ালা সমাজটা ভালো হবে। সমাজ যদি ভালো হয় তাহলে রাষ্ট্র ভালো হবে। যখন রাষ্ট্রটা ভালো হবে তখন ইনশাল্লাহ তায়ালা আমরা একটা সোনার বাংলা পাব। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে তৌফিক এনায়েত করুন আমীন।
সাধারণ প্রশ্ন
লেখক কোন জায়গা থেকে সংস্কার শুরু করার কথা বলেছেন?
লেখক বলেছেন, ফিতনাময় পরিবেশে সমাজ ও রাষ্ট্রের বড় সমস্যা সমাধান করা কঠিন, তাই পরিবার থেকে শুরু করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তার মতে পরিবার সমাজ গঠনের একক।
সূরা তাহরীমের ৬ নম্বর আয়াত অনুযায়ী মুমিনদের কী করতে বলা হয়েছে?
লেখক জানিয়েছেন, এই আয়াতে বলা হয়েছে নিজে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে এবং পরিবারকে বাঁচাতে। লেখক এটিকে মূলনীতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইব্রাহিম (আঃ) এর বাবার ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল?
লেখক বলেছেন, ইব্রাহিম (আঃ) তার বাবাকে শিরক থেকে ফিরে আসতে বুঝিয়েছিলেন, কিন্তু বাবা শোনেননি। আল্লাহ মুশরিকদের জন্য দোয়া না করার নির্দেশ দিলে তিনি দোয়া বন্ধ করে দেন।