শেষ জামানায় যুবসমাজের করণীয়
মসজিদে একত্রিত হওয়ার ফজিলত
আলহামদুলিল্লাহ যাবতীয় প্রশংসা এবং গুনো গান একমাত্র মহীয়ান এবং গরীয়ান সুবহান আল্লাহ তায়ালার জন্যে। যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আজকে আমাদেরকে এশার নামাজ জামাতে জামায়াতে পড়ার তৌফিক দান করেছেন। এবং নামাজের পরে দ্বীনই কিছু আলোচনা শোনার জন্য সবাইকে একত্রিত করেছেন তার জন্য আল্লাহ তায়ালাকে শুকরিয়া বলি আলহামদুলিল্লাহ । দুরুদ এবং সালাত বর্ষিত হোক প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি যাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানবতার মুক্তির দুদ হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন । একটা হাদিস আছে আপনারা সবাই জানেন , যখন আল্লার কিছু বান্দা মসজিদে দ্বীনের বিষয় কোরআন হাদিস চর্চা করার জন্য একত্রিত হয় । আমাদের প্রিয় নবী বলেছেন তাদের ওপর সাকিনা বর্ষিত হয়। সাকিনা মানের শান্তি বর্ষিত হয়। রহমতের ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে রাখেন। এবং আল্লাহ পাকের কাছে যে ফেরেশতারা আছেন তাদের সামনে আল্লাহ পাক এই বান্দাদের নিয়ে গর্ব করেন সুবহানাল্লাহ । এই মুহূর্তে যখন আপনি মসজিদে বসে আছেন এই পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ আল্লাহর দ্বীনের বিরোধিতা করছেন। এখন বসে করছে এই মুহূর্তে বসে করছে ।লক্ষ লক্ষ মানুষ এই মুহূর্তে জিনা করছে। লক্ষ লক্ষ যুবক এই সময় ব্লু ফিল্ম দেখছে পর্নোগ্রাফি দেখছে এই মুহূর্তে এখন। যতক্ষণ আমরা এখানে বসে আছি এতক্ষণে কোটি কোটি মানুষ সুদ খেয়েছে, মদ খেয়েছে ,হত্যা হয়েছে মানুষ মানুষকে হত্যা করেছে এই সময়ের মধ্যে। এইটুকু সময়ের মধ্যে আল্লাহপাক আপনাকে তার দ্বীনের কাছে নিয়ে আসছেন । কোরআন হাদিসে কিছু কথা শোনার জন্য এটা কে আপনি কি মনে করছেন এখন ।আমরা আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করতে শিখি নাই। আমরা আল্লাহর নেয়ামত গুলো শুকরিয়া আদায় করবো এই চেতনা আমাদের মধ্যে জাগ্রত হয় নাই। আল্লাহ সুবহান তায়ালার সুরাতুল ইব্রাহিম এর মধ্যে বলেছেন তোমরা যদি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে বা করো আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য আমার নিয়ামত বাড়িয়ে দেব। আর তোমরা যদি আমার নিয়ামতকে কুফরি করো অস্বীকার করো তবে জেনে রেখো আমার শাস্তি প্রচন্ড কঠোর। প্রিয় দ্বীনি ভাইয়েরা আজকে এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে আমি একটা বিষয় নিয়ে আপনাদের সাথে কথা বলবো ইনশাআল্লাহ । সে বিষয়টা হলো শেষ জামানায় যুবসমাজের করণীয়। শেষ জামানায় যুবক যেই শ্রেণীর আছেন আপনাদের কি করতে হবে বা আপনারা কিভাবে করবেন এই বিষয়ে আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের কিছু দিক নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
part 2 তার আগে আপনাদেরকে একটা হাদিস শুনাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আল্লাহ পাক যখন থেকে এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তখন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফিতনা সবচেয়ে বড় বিপদ জয় , ফাসাদ এবং পরীক্ষার নাম হচ্ছে মাসি হুদ দাজ্জাল এর ফিতনা । এই নামটা কি শুনেছিলেন? এগুলোর নাম এখন মসজিদে শোনা যায় না। অথচ নবীজি বলেছে সবচেয়ে বড় ফিতনা শেষ জামানার মাসি হুদ দাজ্জালের ফিতনা। নবীজি সাঃ বলেছেন পৃথিবীর এমন কোন নবী নেই যিনি তার কওমকে দাজ্জালের ফিতনার সম্পর্কে সচেতন করেন নাই। এমন কোন নবী নাই যিনি তার কওম কে দাজ্জালের সম্পর্কে সতর্ক করেন নাই। উদাহরণ দিতে গিয়ে রাসুল সাঃ বলেছেন নূহ আঃ পর্যন্ত তার কওম কে দাজ্জালের সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আমিও তোমাদেরকে সচেতন করছি কিন্তু আমি তোমাদেরকে একটা কথা অতিরিক্ত বলতে চাই যেটা অন্য কোন নবী বলেন নি ।সেটা হচ্ছে মাসিহুদ দাজ্জাল হবে এক চোখে অন্ধ।কিন্তু তোমাদের রব আল্লাহ তিনি কিন্তু অন্ধ নন। তিনি আরো বলেছেন যে ব্যক্তি প্রত্যেক জুমার দিনে সূরাতুল কাহাফ তেলাওয়াত করবে আল্লাহ পাক সেই ব্যক্তিকে দাজ্জালের ফেতনা থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন।তিনি বলেছেন প্রথম দশটা আয়াত ও যদি মুখস্ত করে সূরা কাহাফের বা শেষের দশটা আয়াত মুখস্ত করতে পারে তাহলে আল্লাহ পাক তার ফেতনা থেকে সুরক্ষা রাখবে ইনশাআল্লাহ । মানে সূরাতুল কাহাফে এমন কিছু আছে যা আপনাকে দাজ্জালের ফেতনা থেকে বাঁচাবে। সেটা কি? সেটা জানতে হলে বুঝতে হলে আপনাকে সূরাতুল কাহাফ পড়তে হবে। আমার একটা সাজেশন হচ্ছে সেটা হল কোরআনের অর্থ বুঝে না আর না বুঝেন প্রতিদিন মিনিমাম আধাঘন্টা থেকে এক ঘন্টা কুরআন তেলাওয়াত করবেন। অর্থ বোঝেন আর নাই বুঝেন। আর যাদের শক্তি-সামর্থ্য আছে তারা অবশ্যই অর্থ বোঝার ট্রাই করবেন। এই যে হাদিসটা শুরুতেই বলেছিলাম কুরআন তোমার পক্ষের দলিল অথবা তোমার বিপক্ষে সাক্ষী দিবে। আপনার বিপক্ষে কোরআন সাক্ষী দিবে আপনি সেই ব্যক্তি ইনশাআল্লাহ । দেখা করতে থাকেন। কুরআনের ৬ টা হক আছে। কোরআন বিশুদ্ধ করে তেলাওয়াত করতে হয়। এর অর্থ গুলো বুঝতে হয় এর আদেশগুলো মানতে হয়। নিষেধ গুলো বর্জন করতে হয়। কুরআনের দাওয়াত মানুষকে দিতে হয়। আর কুরআনের হুকুম ,আহকাম ,বিধিবিধান বাস্তবায়ন করতে হয়। এই ছয় টা কাজ যারা করে না কুরআন অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কথা বলবে কেয়ামতের মাঠে । আর যারা এই হকগুলা আদায় করে কুরআন অবশ্যই তার পক্ষের সাক্ষী দিবে ইনশাল্লাহ। জেনে রাখেন কুরআন যার পক্ষে সাক্ষী দিবে নিশ্চিত জান্নাতে যাবে ইনশাল্লাহ। কোন সন্দেহ নাই এ বিষয়ে। তাই আমি অনুরোধ করব যারা সূরা কাহাফ এখনো পড়েননি অবশ্যই অর্থসহ পড়বেন। এই সূরার মধ্যে এমন কিছু আছে যা আপনাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে। সেটা জানতে হলে আপনাকে আশহাফুল কাহাফের গল্পটা পড়তে হবে। এতোটুকু বলছি আর কিছু বলবো না। রাসূল সাঃ আপনাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সচেতন করেছেন এবং আরো বলেছেন দাজ্জাল শেষ জামানায় বের হবে। ইসরাইল যে জায়গাটা দখল করে রাখছে ওই জেরুজালেম ,ওই জেরুজালেম থেকেই দাজ্জাল বের হবে।
দাজ্জালের ফিতনা ও জেরুজালেম
জেরুজালেমের ইহুদিরা দাজ্জালকে অনুসরণ করবে। দাজ্জালের হাতে সমস্ত ক্ষমতা থাকবে। সে যাকে চাইবে তাকে খাবার দিবে যাকে চাইবে তাকে দুর্ভিক্ষ দিয়ে দিবে। সে মহামারী ছড়াতে পারবে । সে আকাশ নিয়ন্ত্রণ করবে। এই পৃথিবীর প্রতিটা শহরে সে প্রবেশ করবে। সে এমন শক্তিশালী হবে যে মুমিনরা পর্যন্ত তার সামনে ঈমান নিয়ে দাঁড়াতে পারবে না। ইল্লা মাশাল্লাহ আল্লাহ যেটা চান সেটা বাদ দিয়ে। পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ তাকে আল্লাহ বলে স্বীকার করে নিবে। তার এক হাতে জান্নাত থাকবে এবং আরেক হাতে জাহান্নাম। নবী সাঃ বলেছেন এমন কোন ফিতনা নাই যেটা এই ফিতনার চেয়ে ভয়ংকর। এবার আপনাদের দুইটা কথা বলি ।দাজ্জাল বের হবে কোথা থেকে?জেরুজালেম থেকে। তারমানে দাজ্জাল যদি জেরুজালেম থেকে বের হয় ।ম্যাপে তো দেখেছেন জেরুজালেম কোন জায়গা। যেখানে একসময় দাউদ আঃ এর খেলাফত ছিল। কাপড় সুলাইমান আঃ এর খেলাফত ছিল। তারপরে নবী মুসা আঃ এর পরে ইউশা বিন নুন আক্রমণ করে জয় করেছিলেন। তারপর ইহুদিরা বানি ইসরাইল সেখানে ছিল। তারপরে যখনই ওরা আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করেছে আল্লাহ পাক ওখান থেকে ওদেরকে বের করে দিয়েছে। এবং ২০০০ বছরপর্যন্ত ,দুই হাজার বছর পর্যন্ত এই ইহুদি,খ্রিস্টানরা ওখানে ঢুকতে পারেনি। দুই হাজার বছর পর্যন্ত। কিন্তু ১৯১৪ সালে যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হয়। তারপরে সারা বিশ্বের ইহুদিরা ওই জেরুজালেম দখল করেছে। এবং ১৯৪৭ সালে এই ইহুদিরাই এই ইসরাইলকে একটা রাষ্ট্র ঘোষণা করেছে। এবং আজকের এই বিশ্বে সারা বিশ্বের সুপার পাওয়ার লিডিং , রুলিং স্টেট হচ্ছে এখন ইসরাইল এখন আমেরিকা না ।এখন আমেরিকা পৃথিবীর রুলিং স্টেট নয়। এখন ইসরাইল পৃথিবীর রুলিং স্টেট ।নেতৃত্ব দানকারী রাষ্ট্র। এ বিশ্বের সমস্ত রাজনীতি, এই বিশ্বের সমস্ত সুদ ভিত্তিক অর্থনীতি ,এই বিশ্বের সমস্ত মিডিয়া, সমস্ত প্রযুক্তি,সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র যা কিছু আছে। সবকিছু জেরুজালেম থেকে এখন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। জেরুজালেম থেকে পৃথিবীর সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা হবে , এখন সেটা হচ্ছে। এবং এখান থেকে মাসীহুদ দাজ্জাল বের হবে। তাহলে ইসরাইলও দখল হয়ে গেল। এবং ইহুদিরাও সেখানে চলে আসলো। এবং জেরুজালেমকে ২০১৭ সালের রাজধানী ঘোষণা করা হলো। আর এই জায়গা থেকেই বের হবে মাসিহুদ দাজ্জাল। তাহলে এর আগমনের কতটুকু সময় বাকি আছে চিন্তা করতে থাকেন এখন। এই চিন্তার খোরাক আপনাকে দিলাম। আমরা তো এইসব নিয়ে চিন্তা করার সময় পাইনা। মানে আমাদের চিন্তাটা হচ্ছে আত্মকেন্দ্রিক। নিজে কতটুকু আমল করব, কতটুকু বাঁচবো খাবো দাবো ফুর্তি করব । দুনিয়ায় বাড়ি গাড়ি টাকা পয়সা এগুলা। অথবা যুবকদের নারী ,নেশা ,মদ স্ট্যাটাস এই জিনিসগুলো আরকি। আর যারা ধার্মিক তাদের চিন্তা আরও বড় জায়গায়। ধার্মিকদের চিন্তা হচ্ছে কিভাবে ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি করা যায়। ইকতালাফি মাশালাকে নিয়ে কিভাবে মারামারি কাটাকাটি করে উম্মা কে ভাগ করা যায়। এটাই আমরা খুব ভালো শিখেছি আর কি? আর ওই ইহুদিরা সারা বিশ্ব থেকে জেরুজালেমকে দখল করে ফেলল। আমাদের জায়গা আমাদের দেশ আমাদের প্যালেস্টাইন যেখানে ঈসা আঃ নামবেন সেখান থেকে আল্লাহপাক ইসলামের খেলাফত সামনে বাস্তবায়ন করবেন । ইমাম মাহাদী এবং ঈসা আঃ মিলে ওই জেরুজালেম থেকে সারা বিশ্বে ইসলামিক খেলাফত বাস্তবায়ন করবেন সামনে। অপেক্ষা করতে থাকেন পাঁচ, দশ ,বিশ বছর আল্লাহপাক ভালো জানেন। অল্প সময়ের পরে ইনশাআল্লাহ, ইনশাআল্লাহ। আমাদের ওদিকে ভ্রুক্ষেপ নাই। সারা বিশ্বে মুসলিমদেরকে মেরে কোটি কোটি করে ফেলছে। রক্ত আর রক্ত সারা বিশ্বে মুসলিমদের ।যেদিকে তাকাবেন হোক সেটা ভারত , আফগানিস্তান ,বা ইরান বা সিরিয়া বা নেবালন , বা লিবিয়া ইভেন আমাদের বাংলাদেশ। যেখানে তাকাবেন মার খাচ্ছে কারা মুসলিমরা? ইহুদিরা মার খায়, খ্রিস্টানরা কি মার খাচ্ছে।এক মুসলিম ভাইকে মারলে আরেক মুসলিম ভাই হাসে। এর চেয়ে অপদার্থ মুসলিম আর কোথায় দেখছেন আমি তো দেখিনি কোথাও।
সুদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
বারনার শো একজন দার্শনিক ছিলেন। উনি খ্রিস্টান, উনি বলেছিলেন যে মুসলিমদের হাতে কুরআন থাকা সত্ত্বেও তাদের আজকে এই অবস্থা কি করে হলো আমার বুঝে আসেনা ।এটা একজন খ্রিস্টানের মন্তব্য। আজকে আমরা বিভক্ত হয়ে গেছি । সারা বিশ্বে আমরা মার খাচ্ছি। অর্থনৈতিক চাবিকাঠি আমাদের হাতে নাই ইহুদিদের হাতে। এবং সারা বিশ্বের ব্যাংকিং সিস্টেম সুদ ভিত্তিক। আপনি মনে করছেন আপনি খুব পরহেজগার , হয় আপনি সুদ খান ,নয়তো সুদ দেন ,না, হলে সাক্ষী দেন,না হলে লিখে রাখেন। কোন না কোন কাজ আপনি অবশ্যই করেন। আমরা কেউই সুদের ছোটাখটো থেকে মুক্ত নই। অথচ নবীজি সাঃ কত দিন আগে বলেছিলেন যে ব্যক্তি সুদ খায় সে যেন তার মায়ের সাথে জেনা করে। জেনা বুঝেন তো। মাকে ধর্ষণ করা। প্রত্যেক সুদখোরের পাপ ৭৩ টা পাপের সবচেয়ে নিচের পাপ। সে তার মাকে ধর্ষণ করছে প্রতিদিন ধর্ষণ করছে ।প্রতি বেলায় সে তার মাকে ধর্ষণ করছে। তিনবেলায় সে সুদের ভাত খাচ্ছে। কারো কোন ভুরুক্ষেপ নাই ।ইসলামিক যাকাত কেন্দ্রিক , ব্যবসায় ভিত্তিক অর্থনৈতিক সিস্টেম কি আমরা চালু করতে পেরেছি। আমরা যে এত বড় বড় ইসলামিক দল আছি আমাদের দেশে আমরা কি করতে পেরেছি এই পর্যন্ত । সুদ , নবীজি বলেছিলেন এক দিরহাম সুদ যে খায় সে যেন ৩৬ টা মেয়েকে ধর্ষণ করলো। আলেম ওলামারা আছেন এই হাদিসটা বুখারীতে আছে আপনারা জানেন ভাল করে। তিনি বলেছেন চার শ্রেণীর মানুষকে আমি অভিশাপ দিয়ে গেলাম। কে অভিশাপ দিলেন? নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম।যদি আপনি মনে করেন নবীর অভিশাপ নিয়ে কবরে গিয়ে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন। তাহলে আপনি মঙ্গল গ্রহে চলে যান এই পৃথিবীতে আপনার থাকার প্রয়োজন নেই। এত বোকা লোককে পৃথিবীতে থাকার দরকার নাই। চার শ্রেণীর মানুষকে আমি মোহাম্মদ অভিশাপ দিয়ে গেলাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ।এক শ্রেণী যে নিজে সুদ খায়।দ্বিতীয় শ্রেণী যে নিজের সুদ খায় না কিন্তু শুধু মানুষকে দেয় । তৃতীয় শ্রেণি যে নিজের সুদ খায়ও না দেয়ও না কিন্তু সাক্ষী থাকে। চার নাম্বার সুদ খাইও না দেয় না সাক্ষীও থাকেনা শুধু লিখে রাখে।এই চার শ্রেণীর মানুষকে নবীজি সাঃ সমান ভাবে অভিশপ্ত করেছেন ।এখন আপনি বলেন এই পুরো ব্যাংকিং সিস্টেমে এই চারটা শ্রেণীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে না। আর এই জবটা পাওয়ার জন্য আপনি কত কিছু ঠেলে দিচ্ছেন কত কোচিং করছেন কত কি করতেছেন । একটা ব্যাংক জব চাই চাই। তা না হলে পাশের বাসায় মেয়ের বাবা আপনাকে মেয়েটাকে দিবে না সুবহানাল্লাহ ।অর্থনীতি আমাদের হাতে নাই । রাজনীতির যে মূল ভিত্তি তা আমাদের হাতে নাই। আমাদের ভিত্তি ছিল ইসলামী খেলাফত। ইসলামিক খেলাফত সেই যে উঠে গেল আর কেউ এটা কে স্টাবলিশ করার জন্য চেষ্টা করছি না । যে ইসলামী কথা বলছে কুরআন, সুন্নাহ ইসলামিক খেলাফত ইসলামী আইন শাসন মুসলিমদের ঐক্য সেই হয়ে যাবে জঙ্গি ,সেই সন্ত্রাসী ,সেই মৌলবাদী । একে ধরো আর কাটো একে জেলে দাও,একে ফাঁসি দাও,একে মিডিয়াতে কালারিং করে ফেলো । এগুলোই চলতেছে। এটা মগের মুল্লুক । এটা এখন মগের মুল্লুক। মগ মানে জানেন তো , মগ মানে বলা হয় বারমিস। এই যে মায়ানমারের লোকগুলা রোহিঙ্গাদের যে মারলো। মায়ানমারের এই লোকগুলোকে বলা হয় মগ,মগ জাতি ।এরা খুবই দুর্ধর্ষ এরা আক্রমণ করে মানুষকে মেরে ফেলত। এ জন্য একটা প্রবাদ চালু হয়ে গিয়েছিল মগের মুল্লক ।
ইহুদি-খ্রিস্টান ষড়যন্ত্র ও মুসলিম ঐক্য
সারা বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ এখন ওদের হাতে। কাদের হাতে? ওই ইহুদি এবং ওই খ্রিস্টানদের হাতে। এবং তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে মুশরিকরা যারা শিরক করে। আর এর বাইরে আমরা যারা আছি মুসলিমরা আমরা এখন অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক দুর্বল। আমরা অস্ত্রের দিক থেকে দুর্বল। মিডিয়া আমাদের হাতে নাই। খেলাফত আমাদের নাই। একজন আমির নাই আমাদের। একজন নেতা নাই যান নেতৃত্বে আমরা আল্লাহর পথে লড়াই করব খুঁজে দেখেন। ইভেন ইসলামিক যতগুলো দল আছে আমাদের দেশে সবাই মিলে যদি একজন আমিরকে সিলেক্ট করে ।এই কাজটা আজ পর্যন্ত হয় নাই, হয়েছে। সমস্ত দল যারা হকপন্থের দাবি করে। সবার দলের মধ্যে থেকে একজন আমিরকে সিলেক্ট করতেন। যার নেতৃত্বে সবাই আল্লাহর পথে কাজ করবে। যিনি হবেন এখানকার ইমার আর প্রধান। হয়েছে হয় নাই।আমাদের ইমারত নাই আমরা এতিম। এতিম অবস্থায় আছেন বরং একে অপরের সাথে কাদা ছোড়াছুড়ি , মারামারি , কাটাকাটি ,গীবত এগুলোই চলছে । ওদের হাতের সবকিছু। নবীজি সাঃ এটাই বলেছিলেন ওই জেরুজালেম থেকে দাজ্জাল বের হবে। এখন আমি আমার যুবক ভাইদের দিকে আসছি। আমার পয়েন্টের দিকে আসছি। সেটা হচ্ছে দাজ্জাল খুব ভালোভাবেই জানে তার যে মিশন সারা বিশ্বকে সে শাসন করতে চায়।দাজ্জাল সারা বিশ্বকে শাসন করতে চায় ।এই শাসন করার জন্যে তার পথে বাধা কারা কারা? এই শাসন করার পথে প্রথমত বাধা মুসলিম জাতি। মুসলিমরা তাকে মেনে নিবে না। ইহুদিরা ওকে মেনে নিবে। কয়দিন পরে দেখবেন জেরুজালেম থেকে একজন বের হবে যে বলবে আমি মাসিহ । আমি হচ্ছি মাসিহ। মাসিহ মানে ত্রানকর্তা ।আমাদের নবীজি বলেছেন মাসিহ না মাসিহুদ দাজ্জাল হবে। মিথ্যা মাসিহ।কখন সে বের হবে ? যখন ইজরাইলএই পৃথিবীর রুলিং স্টেট হবে। মানে বিশ্বের প্রতিটা দেশ তার কথায় উঠবে এবং তার কথায় বসবে। এখন যেমন বিশ্বের দেশগুলো আমেরিকার কথায় উঠে এবং বসে।ঠিক ঐরকম ।সামনের দিনগুলোতে ওখান থেকে একজন ব্যক্তি বের হবে। যে হবে খুব শক্তিশালী, এক চোখে অন্ধ , চুলগুলো কোকড়ানো এক হাতে জান্নাত এক হাতে জাহান্নাম নিয়ে ঘুরবে ।মানে স্বাচ্ছন্ন না তাকে অনুসরণ করলে সে আপনাকে উন্নতি ,অগ্রগতি , প্রগ্রেস দিবে একদম আপনি জান্নাতে চলে যাবেন। এটাই জান্নাত। যে আপনি তার বিরোধিতা করবেন সে আপনাকে দুর্ভিক্ষ দিবে , আক্রমণ করবে , আপনাকে মিডিয়া দিয়ে আক্রমণ করবে , অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করবে ,আপনার ইকোনমিক সব ধ্বংস করে দিবে। এটাই জাহান্নাম। এখানে অরজিনাল জাহান্নাম অরজিনাল জান্নাত বুঝানো হয় নাই। এখন এর পথে প্রথম বাধা হচ্ছে মুসলিমরা। মুসলিমরা একে কখনো মেনে নিবে না। আরেক শ্রেণীর মানুষেরা একে মেনে নিবে না। যারা ধর্মকে বিশ্বাস করে। ধর্মের বিশ্বাস আছে যার মধ্যে। সে হতে পারে খ্রিষ্টান , বা হিন্দু , বা বৌদ্ধ , বা ইহুদি। যারা সত্যি কারের অর্থে তাওরাত ,বা যাবুর বা যতটুকু আছে এখনো বাকি ওরা ওদের ধর্মের মূলনীতিগুলা যারা মেনে চলে। এই মানুষগুলো এর পথের বাধা। এজন্য সে প্রথমে এদেরকে সাইজ করে ফেলছে। এখন দেখবেন সে পুরা পশ্চিমা সভ্যতা কে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলছে। ওর হাতেই সবকিছু। আর মুসলিমরা ওর পথের বাধা। মুসলিমদের মধ্যে সে কি করেছে? প্রথমত মুসলিমদের ইসলামিক খেলাফতটাকে তার অনুসারী ইহুদিদের হাত দিয়ে ধ্বংস করে ফেলেছে। তারপর এই খেলাফতটাকে ভেঙ্গে দিয়ে ৫৭ টা টুকরো টুকরো রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।আর এই রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে সিকিউলিসম, কমনিউজাম, ডেমোক্রেসি অন্যান্য মতবাদ গুলা।
তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা
এভাবে সে মুসলিমদের ঈমান, আমল, আখলাক, চরিত্র গুলোকে ধ্বংস করেছে। সেই তেজ সেই জাজবা এখন মুসলিমদের মধ্যে নাই। যাতে করে মুসলিমরা তার বিরুদ্ধে ফাইট করতে পারে যুদ্ধ করতে পারে। এর এই পথে আরেকটা শ্রেণি সবচেয়ে বড় বাধা।সেটা হলো এই মুসলিম উম্মার তরুণ প্রজন্মের ।যাদেরকে নিয়ে আমার আজকের লেকচার। এই জায়গা থেকে তোমাদের জন্য কথা । এতক্ষণ যা বলছি কিছুটা বুঝতে পারছেন কি আলহামদুলিল্লাহ । এই মাসিহুদ দাজ্জাল এবং এর অনুসারীদের জন্যে সবচেয়ে বাধা হচ্ছে এই মুসলিম উম্মার তরুণ প্রজন্ম। কারণ তরুণ প্রজন্ম চাইলে , তরুণ প্রজন্ম যদি একবার গর্জে উঠে মুসলিমদের ইনশাআল্লাহ তারা সকল বাতিলের ভিত্তি গুড়িয়ে দিতে পারে ইনশাল্লাহ। তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই ছিল খালিদ বিন-ওয়ালিদ , তারেক বিন জিয়াদ। এই মানুষগুলো ওমর আলী ইবনে মোতালেব, জায়েদ ইবনে হারসা,আসাদুল্লাহ সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এই যে সাহাবী ইকরামের নাম আপনারা জানেন ।তরুণ সাহাবী ছিলেন যখন তার ইসলামের পক্ষে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একাই ওমর সে সারা মক্কাকে পরিবর্তন করে ফেলল। এক হামজার সামনে ২০-৩০ টা মানুষ দাঁড়াতে সাহস পেত না। একজন তারেক বিন জিয়াদ তিনি পুরা স্পেন জয় করে ফেললেন।মাত্র অল্প কিছু সৈন্য নিয়ে মোহাম্মদ বিন কাশেম আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশ জয় করলেন । এখন আপনি মুসলিম হয়ে এখানে বসে আছেন।এই তরুণ প্রজন্ম পারে এই বাতিলের শিকড় উপড়ে ফেলতে। এর জন্য মাসিহুদ দাজ্জাল এবং তার অনুশীলনীরা খুব ভালো করে জানে মুসলিম তরুণ প্রজাতিদের যদি আমরা আটকাতে না পারি তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ খারাপ আছে। এজন্য সারা বিশ্বে দেখবেন তরুণদেরকে ধ্বংস করার জন্য চক্রান্ত চলছে। কিভাবে? point number one. প্রথমত ইহুদী এবং খ্রিস্টান সভ্যতা আপনার সাথে যা করেছে তা হচ্ছে আপনাকে আপনার জীবনের উদ্দেশ্য থেকে তারা সরিয়ে দিয়েছে। এটা এক নাম্বার কাজ তারা করেছে। আল্লাহ পাক কোরআনে বলেছিলেন আমি মানুষ এবং জ্বীনকে শুধু মাত্র আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি। তারা আপনাকে এই উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এখন যুবক শ্রেণী আল্লাহর জন্য বাঁচে না আল্লাহর জন্য মরে না। এখনকার যুবক শ্রেণী টাকার জন্য বাঁচে , পদবির জন্য বাঁচে , চাকরির জন্য বাঁচে , একটা মেয়ের জন্য বাঁচে। এখনকার যুবক শ্রেণী আল্লাহর জন্য বাঁচে না। অল্প কিছু ভাই আছে জানি তাদের কথা আলাদা। এটা প্রথম কাজ সেটা করেছে আপনাকে আপনার জীবনের উদ্দেশ্য থেকে ছড়িয়ে দিয়েছে আমি ১০০% নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি। আপনি যেই যুবককে জিজ্ঞাসা করবেন যে বাবা তোমার জীবনের উদ্দেশ্য কি? কেউই বলবে না আমার জীবনের উদ্দেশ্য জান্নাত। চ্যালেঞ্জ করলাম আমি জিজ্ঞাসা করে দেখেন।কোন যুবকই বলবে না আমার জীবনের উদ্দেশ্য জান্নাত। তার জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে একটা চাকরি ,অথবা একটা অ্যাফেয়ার , অথবা পলিটিক্যাল পাওয়ার , অথবা স্ট্যাটাস,অথবা জমি বাড়ি অথবা গাড়ি। কারণ সমাজ এবং পরিবার তাকে এটাই শিক্ষা দিয়েছে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে বাবা তোমাকে ।
জীবনের উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুতি
প্রথম যে কাজটা তারা করেছে সেটা হলো আপনাকে আপনার জীবনের উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে দিয়েছে। দুই নাম্বার কাজ তারা যেটা করেছে আপনার শারীরিক শক্তিটাকে তারা নষ্ট করেছে প্রথমত। এখনকার যুবকদের মধ্যে শারীরিক শক্তি আর আমাদের চাচাদের মধ্যে শারীরিক শক্তির মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ আছে। এখানকার কোন চাচাদের সাথে লড়াই করার ক্ষমতা তোমাদের নাই। তোমরা তিনজন মিলে একজন চাচার সাথে পারবা না ইনশাআল্লাহ আমি বিশ্বাস করি এটা। তোমাদের জীবন যাত্রার রুটিনটা তারা চেঞ্জ করে দিয়েছে। তোমরা এখন ঘুমাও একটা , দুইটা , তিনটায় , আর ওঠো দশটা , এগারোটা ,বারোটায়। তোমরা রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী চলনা। আমাদের চাচারা ঘুমাতো নয়টায় আর উঠতো ভোর চারটায় তাহাজ্জুদ পড়তেন ,তারপর নামাজ পড়তেন তারপর মাঠে কাজ করতে যেতেন । তাদের যে ফিজিক্যাল স্ট্রিট তা তোমাদের মধ্যে নেই। যদি আবার মুক্তিযোদ্ধ হয় তাহলে তোমরা কিছুই করতে পারবা না দেশের জন্য।বিশ্বাস না হলে একটা মাঠে যুবকদেরকে দশবার পাক রাউন্ড লাগান দেখেন কয়জন দৌড়াতে পারে। তোমাদের শারীরিক শক্তি তারা নষ্ট করে দিয়েছে । তোমাদের রুটিনটা তারা চেঞ্জ করে দিয়েছে ।তোমাদের হাতে ধরিয়ে দিয়েছি স্মার্ট ফোন , ল্যাপটপ , ইন্টারনেট ,ফেসবুকিং ইউটিউবিং সারাদিন সারারাত ওই মোবাইলের পিছে বসে আছি ।আরেকটা কাজ তারা করেছে আমরা যে খাবার খাই সেই প্রত্যেকটা খাবারের মধ্যে তারা এমন কিছু প্রয়োজন ঢুকিয়ে দিয়েছে যার মধ্যে দিয়ে এমন কিছু জটিল জটিল রোগ সৃষ্টি হয়েছে । যা আগামী ৫০/১০০ বছর আগে ছিল না। বিশ্বাস না হলে আপনি চেক করে দেখেন। যত খাবার তোমরা খাওয়ায় বাইরের খাবার মেনুফ্যাকচার্জ খাবার। এই প্রতিটা খাবার তোমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যা খাচ্ছ বাইরের মেনুফ্যাকচার্জ । এই যে ড্রিঙ্ক গুলো খাচ্ছ , ফুড গুলো খাচ্ছ , ফাস্টফুড গুলো খাচ্ছ , এই যে হোটেল গুলোতে খাচ্ছ । হাইজিনিক কোন খাবারই তোমরা খাচ্ছো না । অথচ আমাদের এই চাচাদের দিকে তাকিয়ে দেখো তারা সব দেশি খাবার খেয়ে বড় হয়েছে । ওই সময়ের ফ্রেশ বাতাস ফ্রেশ খাবার এখনো তারা স্ট্রং। আমরা এই ২৫-৩০ বছর বয়সে আমরা এটা করতে পারছি না এটা এমনি এমনি হয়নি ।এটা ওদের চক্রান্ত ছিল যাতে করে মুসলিম উম্মা তরুণ প্রজন্মকে তারা ধ্বংস করতে পারে। মুসলিম উম্মার তরুন প্রজন্ম সেই জাজবা আর রাখে না। এক নাম্বার তোমাদের জীবনের উদ্দেশ্য থেকে সরিয়েছে। দুই নাম্বার তোমাদের খাবারের অভ্যাস পরিবর্তন করেছে। তিন নাম্বার তোমাদের এই শারীরিক সক্ষমতা নষ্ট করেছে। ৪ নাম্বার তোমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে সে ধ্বংস করেছে। কথাটা ভালো করে শোনো , তোমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা তারা ধ্বংস করেছে।
part 8 তুমি ২৫ বছর সেকুলার লাইনে পড়াশোনা করবা। তুমি ২৫ টা সূরা শিখতে পারবা না ইম্পসিবল । তুমি ২৫ বছর এইদিকে পড়াশোনা করছো ।কিন্তু তোমার ২৫ টা হাদিস জানা নাই। ২৫ জন সাহাবীর নাম তুমি বলতে পারবে না। তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী কখনো পড়ে দেখো নাই ছুঁয়েও দেখো নাই। তার স্ত্রীদের নাম তোমার জানা নাই। দশ জন জান্নাতি সুসংবাদ পত্র সাহাবীর নাম তোমার জানা নাই। কিন্তু তুমি এদিকে সাইন্স , আর্টস ,কমার্স , ফিজিক্স ,কেমিস্ট্রি ,বায়োলজি হাবিজাবি সবকিছু পড়ে শেষ করেছ । ইসলামের বেসিক নলেজ তুমি অর্জন করনি। এটা ওদের চক্রান্ত ছিল শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে তোমাদের কে ইসলাম থেকে সরিয়ে দেওয়া । আর তারা সেখানে ১০০% সফল। এগুলো নিয়ে আমাদের কথা বলার সময় যেহেতু নাই। আমরা যেহেতু হাত বাধা আমিন-টামিন এগুলো নিয়ে মারামারি কাটাকাটি করি। এটাই হচ্ছে আমাদের বড় জিহাদ তাই না। এই জায়গায় কাজ করা উচিত ছিল। পক্ষান্তরে যারা মাদ্রাসায় পড়ছি আমরা অত্যন্ত দুঃখজনক, অত্যন্ত দুঃখজনক মাদ্রাসায় পড়ার পরও আমরা সাম্প্রদায়িক হয়ে যাচ্ছি কেন জানি ।নিজের বুঝ নিজের দল নিজের মাযহাব , নিজের তরিকার বাইরে আমরা আর চিন্তা করতে পারছিনা । ইসলাম যে একটা প্রশস্ত সাগর এখানে কত কি যে আছে এটা আমাদের জানা হচ্ছে না । একই সাথে কুরআন সুন্নাহ হাতে থাকা সত্ত্বেও আমরা বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করতে পারছি না। আল্লাহ পাক বলেছেন কুরআন আমি তোমার উপর নাজিল করেছি এটা প্রত্যেকটা বিষয়ের ব্যাখ্যা। কিন্তু কুরআন থেকে আমরা এখন পৃথিবীর সবকিছু ব্যাখ্যা করতে পারি না। আমরা অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা করতে পারিনা , আমরা রাজনৈতিক ব্যাখ্যা করতে পারি না ,আমরা শেষ জামানার ব্যাখ্যা করতে পারিনা। কিন্তু কুরআন আমাদের হাতে আছে ঘরে আছে। মাদ্রাসায় পড়ছি কিন্তু মাদ্রাসায় পড়ে ইংলিশ জানছিনা , আইসিটি জানছি না, বিশ্ব সম্পর্কে জানছি না ,অর্থনীতি সম্পর্কে জানছি না এমনকি ইসলামী ইতিহাস সম্পর্কেও জানছি না। তাহলে এখানেও কিছু সমস্যা থেকে গেছে। এটা দীমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চলছে। এটা একমুখী করার প্রয়োজন ছিল। যেটা হয়নি বিগত ৫০ ৬০ ৭০ বছরে। আগামীতে তো অল্প সময় বাকি আছে আর এটার জন্য চেষ্টা করেও লাভ হবে আমার মনে হয় না। এটা চার নাম্বার কাজ তারা করেছে এডুকেশন সিস্টেম কে দিয়ে তোমাদের ভিতরতাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। পাঁচ নাম্বার তারা তোমাদেরকে দুনিয়ার মোহে ব্যস্ত রেখেছে। দুনিয়াটাকে এত সুশোভিত করে তোমাদের সামনে তুলে ধরেছে যাতে করে মনে হয় এই দুনিয়ায় সবকিছু। আর এই দুনিয়ার পূজারী কোন যুবক ছেলেকে দিয়ে আপনি আল্লাহর পথে কোনো খেদমত আশা করতে পারেন না। কারণ ওর পুরা চিন্তাটাই দুনিয়া কেন্দ্রিক। সকালবেলায় ও ঘুম থেকে উঠে চিন্তা করে দুনিয়া দুনিয়া দুনিয়া রাতে ঘুমানো পর্যন্ত। আল্লাহপাক বলেছেন যতক্ষণ না পর্যন্ত তোমরা কবরে পৌঁছেছ ততক্ষণ এই প্রাচুর্যর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত আছো। দুনিয়ার সুশোভিত দেখবে দুনিয়ার যত মোহ তোমার কাছে সহজলভ্য করা হয়েছে , অল্প টাকা দিন এত জিপি কিনুন । মাত্র এত টাকা দেন এত কিছু কেনন।
শারীরিক শক্তি ও জীবনযাত্রা
ফোন করছেন মেয়ে রিসিভ করছে। মানে নারী , এই যে অনলাইন ,এই যে ইন্টারনেট , পর্নোগ্রাফি , ব্লু ফিল্ম , হারাম অ্যাফেয়ার বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড এগুলো কে আপনার কাছে এত সহজলভ্য করে দিয়েছে একটা যুবক ছেলে চাইলেই জেনা করতে পারে। তুমি যদি চাও এখনি জেনা করতে পারো কেউ তোমাকে বাধা দিবে না। তোমার সামনে জেনা কে এত সহজ করা হয়েছে। তুমি চাইলে এখনই মদ খেতে পারবে কেউ তোমাকে বাধা দিবে না। আর মদের তো লাইসেন্স দেওয়া আছে আমাদের দেশে। পতিতালয়ের ও লাইসেন্স দেওয়া আছে আমাদের দেশে। কেউ তোমাকে বাধা দিবে না। এটা এতো সহজ কেন করে দেওয়া হল। অথচ মদ যদি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সময় কেউ পান করতো তাকে আশিটা বেত্রাঘাত করা হতো। কেউ যদি জেনা করতো ওই সময় তাহলে তাকে প্রকাশ্যে ১০০ টা বেত্রাঘাত করা হতো। কোন বিবাহিত ব্যক্তি যদি জেনা করতো তাকে রজম করে হত্যা করা হতো। কেউ যদি কোন ব্যক্তিকে অন্যায় ভাবে হত্যা করতো তাকেও কেসাস করা হতো মানে হত্যা করা হতো। এগুলো তুমি এখন আর দেখবে না । এখন তুমি দেখবে সমস্ত পাপ সহজলভ্য হয়ে গেছে। এটা এমনি এমনি হয়নি তারা করেছে তোমার জন্য।কারণ তোমার ভেতরের ঈমানটা চলে যায়। কারণ পাপী হৃদয় নিয়ে তুমি আল্লাহর পথে দাওয়াত ওজিহাদ করতে পারবে না । যে পবিত্র হলো সে সফল । সে ধ্বংস হয়ে গেছে যার ভিতরটা কলুষিত হয়ে গেছে।তোমার ভিতরটা কলুষিত হয়ে গেছে। তোমার ভিতরে কোন রকম চেতনাই নাই আল্লাহর পথে দাওয়াতের এবং জিহাদের। এটা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। কারণ পাপ করতে করতে করতে করতে তোমার ভিতরে কালিমার লেপন হয়ে গেছে। কারণ তুমি দিনে একটা বারও বলোনা আল্লাহকে আস্তাগফিরুল্লাহ অতুবিইলাই ।খেয়াল করে দেখবা কোরআন তেলোয়াত শুনে তোমার চোখ দিয়ে কখনো পানি পড়ে না। কখনো কি খেয়াল করেছো? তোমার সামনে কোরআন তেলোয়াত দিনরাত করা হচ্ছে কিন্তু তোমার চোখ দিয়ে এক ফোটা পানি বের হচ্ছে না । কেন বের হচ্ছে না? কারণ তোমার ভিতরে সেই পরিশুদ্ধ হৃদয়টা নাই। তাসকিয়া নূরটা নাই। পাপ দিয়ে ভর্তি হয়ে গেছে। ছয় নাম্বার নারিকে তোমাদের জন্য সহজলভ্য করে দিয়েছে। মেয়েদেরকে তোমাদের সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাসুল সাঃ বলেছেন শেষ জামায় দুই শ্রেণীর মানুষ আসবে যাদেরকে আমি এখন পর্যন্ত দেখি নাই। এক নাম্বার হচ্ছে এমন এক শ্রেণীর মেয়ে বের হবে শেষ জামানায় যারা কাপড় পরেও উলঙ্গ হয়ে থাকবে। কাপড় পরেও তারা লগ্ন হয়ে থাকবে। আমার মনে হয় না এটার ব্যাখ্যা করার দরকার আছে।
খাদ্যে ভেজাল ও স্বাস্থ্য
কাপড় পড়বে কিন্তু ভেতরের সবকিছুই আপনি দেখতে পারবেন। কোন অঙ্গ কতটুকু উঁচু নিচু কোনটা কি ।এখন এমন ড্রেস বাহির থেকে সবকিছু দেখা যায়। । শরীরের কাঠামো কি সেটাও দেখা যায়।এমন কি এমন বোরখা বের হয়েছে যেটা পড়ার পর তার ফিজিক্যাল সমস্ত স্ট্রাকচার বুঝা যায়। এই যে নারীরা বের হবে এটা রাসূল সাঃ আগেই বলেছিল। একটা হাদিস আপনাদেরকে বলি , নবী সাঃ আরো বলেছিলেন এই মাসিহুদ দাজ্জালের সবচেয়ে শেষ অনুসারী হবে একশ্রেণীর নারী। একশ্রেণীর নগ্ন নারী যাদেরকে তাদের পিতা, ভাই, স্বামী ঘরে রাখতে চাইবে। কিন্তু তারা ঘরে থাকবে না। তারা বাধন ছিড়ে বের হয়ে চলে যাবে বাইরে। আবার বুঝায় শেষ জামানায় মাসিহুদ দাজ্জালের অনুসারী হবে একশ্রেণীর নারী। তাদেরকে তাদের পিতা, ভাই ,স্বামী ঘরে রাখতে চাইবে কিন্তু তারা ঘরে থাকবে না। আপনি কি বুঝতে পারছেন তারা কার? বর্তমান সময়ে যারা ফ্যামিলিস্ট রেগুলেশন করছে তারা সবাই দাজ্জালের অনুসারী। দাজ্জাল যখন বের হবে তারা সবাই একে অনুসরণ করবে অবশ্যই করবে। একটা কোভিট নাইনটিন যদি সবাইকে একমুখী করে ফেলতে পারে। দাজ্জালের ফিতনা যে কত ভয়ংকর হবে তা চিন্তাই করতে পারবেন না আপনি। একটা শুধু হুংকার যে মূর্তি স্থাপন হবেই। যে এর বিরোধিতা করবে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীর মামলা দেওয়া হবে। সারাদেশের মানুষ ম্যাক্সিমামই এখন ওদিকে অনুসরণ করছে। এই যদি অবস্থা হয় , দাজ্জাল যখন বের হবে তখন যে কোটি কোটি মানুষ তাকে অনুসরণ করবে না এটার কি কোন গ্যারান্টি আছে। বরং কোটি কোটি মানুষই তাকে অনুসরণ করবে। তোমার জন্য নারীকে সহজলভ্য করে দেওয়া হয়েছে। স্কুলে নারী ,স্কুল-কলেজের মধ্যে ছেলে মেয়ে একসাথে বসে পড়াশোনা করে। একটা মেয়ে এরকম নগ্ন পোশাক পড়ে আমার সামনে বসে থাকে দিনে ৫ ঘন্টা কয়দিন আপনি জেনা থেকে দূরে থাকবেন বলেন তো। আজকে আপনি দেখা করবেন , কালকে নোট নিবেন , তারপরে দেখা-সাক্ষাৎ করবেন ,তারপর কফি খাবেন এক পর্যায়ে ঘুরতে যাবেন , ডেটে যাবেন আস্তে আস্তে আস্তে তার সাথে আপনি যেনায় লিপ্ত হয়ে যাবেন। এর জন্য কি শুধু ছেলেটা দায়ী। এই মেয়েটাও দায়ী এই মেয়ের পরিবার ও দায়ী এই ছেলের পরিবারও দায়ী। আর সবচেয়ে বড় দায়ী হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে এই সিস্টেমটাকে লঞ্চ করেছে এই দেশের মধ্যে ।যে সিস্টেমের মধ্যে পড়াশোনা করাচ্ছে এরাই সবচেয়ে বড় দায়ী ।
অশ্লীলতা ও নৈতিক অবক্ষয়
সূরা নূরে একটা আয়াত আছে না । যারা মুমিনদের সমাজের মধ্যে এসব অশ্লীলতা ছড়ায় তারা যেন সতর্ক হয়ে যায় । আল্লাহর পক্ষ থেকে ভয়ংকর আযাব তাদের ওপর আসবে। হাদিসে আসছে এমন এমন রোগ ব্যাধি উদ্ভব হবে যেটা আগে কোনদিন হয়নি। এই দেখেন কি হচ্ছে এখন। এমন এমন রোগব্যাধি আসবে অশ্লীলতার কারণে বেহায়াপনার কারণে। যেটা আদেও কোনদিন পৃথিবীতে আসে নাই। দেখেন সামনে কি হয় আরো ভয়ংকর প্রলয় আসবে ইনশাল্লাহ। কেউ ঠেকাতে পারবে না নবীর কথা এগুলো। বদলানোর কোন সুযোগ নাই। তোমরা পড়াশোনা করবা তোমাদের সামনে মেয়েদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কলেজে যাবা তখন তো আরও অবস্থা খারাপ ফ্রি মিক্সিং তখন যা ইচ্ছা তাই করতে পারবা তোমরা ।আর সামনের দিনগুলোতে দেখবা লিভ টুগেদারকে জায়েজ করে দেওয়া হবে। এটাও হবে এটাও দেখার বাকি থাকবে না। অন্য দেশ গুলোর মত দেখতে পারবা ছেলেমেয়েগুলো একসাথে থাকতে পারবে বিয়ের দরকার হবে না । এটাও হবে সামনে। মেয়েকে সহজলভ্য করা হয়েছে চাইলেই তুমি যেনা করতে পারবে। এগুলো এমনি এমনি হয়নি। ওরা প্লান করে এটা করেছে যাতে তোমার ভিতরে ঈমানের এই তেজ টা নষ্ট হয়ে যায়। যার ঈমানের তেজ থাকবে না ধ্বংস হয়ে যাবে সে। সাত নাম্বার তোমার প্রতি প্লান করেছে তারা এমন যে তোমাকে ইসলামের মধ্যে যখন তুমি ইসলাম ফলো করতে চাইবা কোন ভাবে যদি তুমি ইসলাম ফলো করতে চাও। তখন তুমি ইসলামের মধ্যে এসে দেখবা ইসলামের মধ্যে হাজারটা দলাদলি হাজারটা। তখন তুমি কনফিউজড হয়ে যাবা কোথায় যাব এবং কোথায় হক পাব। যারা ইসলামপন্থী তাদের মাঝেও তারা এমন একটা চক্রান্ত করে দিয়েছে যাতে মুসলিমরা মুসলিমদের সাথে সারা জীবন মারামারি কাটাকাটি করতে থাকে । বাস্তবতা দেখেন তাই হচ্ছে। এভাবে তারা তোমাকে ওদের গোলাম বানানোর প্ল্যান করেছে। আট নাম্বার রিজিক ,তোমাকে সারাদিন রিজিকের টেনশন দিয়ে রেখেছে ওরা। রিজিক নিয়ে প্রতিটা যুবক টেনশন, টেনশন আর টেনশন। কি খাব,কি করবো ,কি পড়বো ,কবে চাকরি পাবো,কি ব্যবসা করব ? সারাদিন রিজিকের টেনশন ।এই যে দারিদ্রতার ভয় এবং রিজিকের ভয় দিয়ে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে রেখেছে। ৯ নাম্বার আমি খুব শর্ট করে বলছি। ৯ নাম্বার হচ্ছে তারা যেটা প্ল্যান করেছে তোমার রিজিকের মধ্যে তারা হারাম ঢুকিয়ে দিয়েছে হারাম। তুমি যেই সেক্টরেই যাবা রিজিকের সন্ধানে সেখানে গিয়ে দেখবা হারাম সেখানে যুক্ত হয়ে আছে। হয় সুদ থাকবে, হয় ঘুষ থাকবে, হয় প্রতারণা থাকবে,অথবা এমন কিছু থাকবে যার মধ্য দিয়ে তোমাকে রিযিক অন্বেষণ করতে হবে । চাকরি গুলোর দিকে তাকান দেখেন এখন কি অবস্থা?ঘুষ ছাড়া আপনি চাকরি পাবেন এটাও বিশ্বাস করতে বলেন আমাকে । আমি তো পাইলাম না ফার্স্ট ক্লাস রেজাল্ট নিয়ে।
ইসলামী জীবনের আদর্শ ও রাসূলের অনুসরণ
ব্যবসা করতে যাবেন সেখানেও দেখবেন এমন এমন সিস্টেম করে দিয়েছে আপনি চাইলেও অনেক সময় হালাল ব্যবসা করতে পারবেন না। একটা হালাল পণ্যের ব্যবসা করবেন সেখানেও তারা হারাম ঢুকিয়ে দিয়েছে। এগুলো এমনি এমনি হয়নি। আর ১০ নাম্বার হচ্ছে ইসলামিক জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে। জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে বুঝাচ্ছি আপনার ব্যক্তি জীবন , আপনার সামাজিক জীবন, আপনার পরিবার,আপনার রাষ্ট্র এবং বিশ্ব । ইসলামের প্রতিটা ক্ষেত্রে যে একজন ব্যক্তি হবে আপনার আদর্শ তিনি হচ্ছেন মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এটা কার কথা আমাদের কথা না আল্লাহর কথা? অবশ্যই আল্লাহর কথা। ওই ওয়াসয়াতুল হাসানা কে যাকে আপনার উচিত ছিল ব্যক্তি , পরিবার ,সমাজ , রাষ্ট্রে সমস্ত জীবনে বাস্তবায়ন করার। এই ওয়াসয়াতুল হাসানা তারা সরিয়ে দিয়েছে। দেয় নাই। এখন আপনার ওয়াসয়াতুল হাসানা কাল মার্ক্স অথবা লেলিন অথবা স্ট্রেলিং অথবা আব্রাম লিংকন অথবা অমুক তমুক দার্শনিক কেউ না কেউ। আপনি হযরত মোহাম্মদ সাঃ কে জীবনের সব ক্ষেত্রে নেতা হিসেবে গ্রহণ করতে চান না। কথা কি মিথ্যা বলেছি? আপনি হয়তো ইবাদত করছেন তার পদ্ধতিতে। কিন্তু অর্থনৈতিক জীবনে আপনি তার হেদায়েত মানছেন না। আপনি সামাজিক ক্ষেত্রে গিয়ে রাসূলের আদর্শ মানছেন না। বিশ্ব রাজনীতি করতে গিয়ে আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ মোটেই পরোয়া করছেন না। ওইটা জাদুঘরে। এই বিষয়গুলা আমরাই ভালো বুঝি। অপেক্ষা করতে থাকেন আমার তো কিছু করার নাই আমাদের কিছু বলারও নেই আমরা হচ্ছি মাজলুম এবং দুর্বল । শুধু এটুকুই বলবো আপনি ওয়াচ অ্যান্ড টেল ইউ রিচ ইউর গ্রেভ। আপনি যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার কবরে পৌঁছান নাই ওই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকেন। তারপরে দেখেন আপনার সাথে কি হয়? যখন ফেরেস্তারা কলার ধরে তুলে প্রশ্ন করবে এই ব্যক্তি কে ছিল যাকে তোমাদের কাছে রাসূল করে পাঠানো হয়েছিল। তখন এরা কোশ্চেন কালেও বলতে পারবে না ইনি হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।তখন বলবে আমি জানিনা আমি জানিনা আমি জানিনা। মানুষ কিছু বলতো আমি শুনতাম। খুবই ভয়ংকর জায়গা। একজন সাহাবীর নাম বলি সাদ ইবনে মুয়াজ রাঃ নাম শুনেছেন। সাদ ইবনে মুয়াজ এত ভালবাসতেন নবী তাকে। তার মৃত্যুতে নবীজি সাঃ এত কষ্ট পেয়েছিলেন। সাদ ইবনে মুয়াজ রাঃ একজন আনসার সাহাবী ছিলেন তার একার দাওয়াত এবং প্রচেষ্টায় মদিনায় বহু মানুষ ইসলাম কবুল করেছিল। এই সাহাবীর খণ্ডক যুদ্ধে তার গায়ে একটা তীর লাগে প্রচুর রক্ত প্রবাহ হয় এবং তিনি মারা যান। শহীদ হয়ে যান।
কবরের জীবন ও আখিরাতের প্রশ্ন
এই সাদ ইবনে মুয়াজ্জিনের জানাযায় ৭০ হাজার ফেরেশতা অংশ নিয়েছিল । এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আরশ এই বান্দার মৃত্যুতে কেঁপে উঠেছিল। আপনাকে বলছি সাদ ইবনে মুয়াজ্জিনের কবরেও চাপা দেয়া হয়েছে দুই দিক থেকে চাপা দেওয়া হয়েছে । তিনি বলেছেন রাসূল সাঃ কোন ব্যক্তির কবর আজাব না হতো তাহলে সাদ ইবনে মুয়াজ্জিনের কবরে আজাব হত না। তার কবরেও প্রশ্ন করা হয়েছে এবং চাপ দেওয়া হয়েছে। কবরের জীবন কেমন ,কেমন করে আপনাকে বুঝাবো , কিভাবে বুঝাবো আমরা ? আমাদের বুঝার কোন ক্ষমতাই নাই। আজকে আপনারা রাসূলের আদর্শকে পরোয়া করছেন না।কালকে যখন আপনাকে রেখে আসা হবে মিল্লাতে রাসূলুল্লাহ বলে তখন আপনি বুঝবেন মিল্লাতে রাসুলুল্লাহ কাকে বলে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে উয়াসয়াতুল হাসানাহ নির্ধারণ করার তৌফিক দান করুন । উয়াসয়াতুল হাসানাহ হবে একজন ব্যক্তি দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি না। তিনি হচ্ছেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। হ্যাঁ, এটা ঠিক। যদি কোন ব্যক্তির কথা রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কথার সাথে মিলে যায়। সে যেই হোক না কেন তার কথা মানতে আমরা প্রস্তুত। ইনশাআল্লাহ বরং ওই কথা মানাই আমাদের জন্য ফরজ। আর পৃথিবীর যে ব্যক্তি হোক না কেন সে যত বড়ই নেতা হোক না কেন কারো কথা যদি নবীজির কথার সাথে মিল না থাকে তাহলে তার কথা মানতে আমরা মোটেও বাধ্য নই। বরং তার কথা না মানাই হচ্ছে ঈমানের দাবি। এই দশটা কাজ তারা করেছে এছাড়া আরো কাজ করেছে। এখন আপনার প্রতি নাসিহা হচ্ছে যদি আপনি চান আপনার যৌবনকালটা আল্লাহর পথে ব্যয় করবেন। দুনিয়াতেও সুখী হবেন পরকালেও সুখী হবেন তাহলে আপনার জন্য একটা হাদিস আমি পেশ করছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কেয়ামতের মাঠে আল্লাহ পাক সাত শ্রেণীর মানুষকে আল্লাহ পাক আরশেদ ছায়ায় ছায়া দিবেন। তার মধ্যে একশ্রেণীর মানুষ হচ্ছে তারা যারা তাদের যৌবন কালকে আল্লাহর পথে ঢেলে দিয়েছে। আপনি কি চান কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ পাক আপনাকে আরশের ছায়ায় ছায়া দিক ? আমি অনেকদিন বলেছি হাদিসটা কেয়ামত এর দিন মানুষ যখন উঠবে তখন তাকে পাঁচটা প্রশ্ন করা হবে। তোমার জীবন কোন কালে ব্যয় করেছ। তোমার যৌবন কোন কাজে ব্যয় করেছ। কোন পথে সম্পদ উপার্জন করেছে এবং কোন পথে সম্পদ ব্যয় করেছ। জানা অনুযায়ী আমল করে ছেলে কিনা।এখানেও দেখেন তোমার যৌবন কোন কাজে ব্যয় করেছ আলাদা প্রশ্ন হবে ।
যৌবন আল্লাহর পথে ব্যয়ের ফজিলত
যদি আমরা যৌবন আল্লাহর পথে ব্যয় করতে পারি তাহলে আল্লাহর আরশে ছায়ায় ছায়া পাবে ইনশাআল্লাহ। আপনার নেতা হবে জান্নাতের হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু। এটা তো জানেন তিনি হবেন জান্নাতের যুবকদের সরদার। কত যুবক যে পৃথিবী থেকে চলে গেছে হে আমার ভাই কি করে বুঝাই? দিন রাত কোন কিছুর পরোয়া করেন নাই দিনরাত রাত আল্লাহর পথে ছুটে চলেছেন। ওই খালেদ বিন ওয়ালিদ রাঃ কে দেখেন তিনি মৃত্যুর শয্যায় বলেছিলেন যে আমি কতইনা যুদ্ধ করেছি আল্লাহর পথে। আমার শরীরে এমন একটা জায়গাও বাকি নাই যেখানে তরোয়ালের আঘাত বা বর্শার ছোয়া নাই। সেদিন তিনি মৃত্যু শয্যায় বলছিলেন আজকে আমি আমার বিছানায় মারা যাচ্ছি । আমি যুদ্ধের মাঠে মারা যাওয়া সৌভাগ্য আমার হলো না। তিনি বলেছিলেন কাপুরুষদের দুচোখ যেন কখনো না ঘুমায়। ওই দেখো যুবক তোমার আদর্শ। খুবাইব রাঃ ইসলামের জন্য তাকে দায়ী করে পাঠানো হয়। রাজি নামক একটা জায়গায় এবং কাফেররা তাকে ধরে ফেলে। এবং তাকে শূল দ্বন্দ্ব দিয়ে হত্যা করে। খুবাইব রাঃ কে যখন শূল দাওয়া হচ্ছিল ।তিনি বলছিলেন, এই কবিতাটা ভালো করে মনে পড়বা। তাকে যখন শূল দ্বন্দ্ব দেওয়া হচ্ছিল । শূল দ্বন্দ্ব দেওয়া মানে বুঝো। পিছন দিয়ে লোহ দ্বন্দ্ব প্রবেশ করিয়ে মাথা দিয়ে বের করে দিত । কঠিন দন্ত একটা। ফাঁসির থেকেও ভয়ংকর। তাকে শূল দ্বন্দ্ব দিচ্ছে এবং বলছে , তুমি কি চাও তোমাকে ছেড়ে দেই আর মোহাম্মদকে তোমার জায়গায় এই শূল দ্বন্দ দেই কাফেররা বলেছিল। আর এই যুবক বলেছিলেন আমার জীবনের বিনিময়ে নবীজি একটা চুলের আঘাত পাক সেটাও আমি চাইনা। এবং দোয়া করছিল হে আল্লাহ পাক আমার মৃত্যুর সংবাদ টা নবীকে পৌঁছে দিও । আল্লাহ পাক সেটা পৌঁছে দিলেন। রাসূল মদিনা থেকে খবর পেয়ে গেলেন যে খুবাইবকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি তখন কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। আমি কোন পরোয়া করিনা যখন আমাকে মুসলিম হিসাবে হত্যা করা হচ্ছে। আমাকে যেদিকেই পাশ ফেরানো হোক না কেন সেটা আল্লাহর জন্যই। এবং তিনি হচ্ছে এমন ইলাহ যিনি যদি চান তাহলে তিনি আমার প্রত্যেকটা গোশতের টুকরা হাড্ডির মধ্যে বরকত দিতে পারবেন । এই কবিতা বলতে বলতে তার জান চলে যায়। এরা তোমাদের আদর্শ। কখনো ভেবেছো এদের নিয়ে। এরা হচ্ছে সুপার হিরো। আজকে ফ্যান্টাসির দুনিয়া সুপার হিরো খুঁজে বেড়াও তোমরা। তো রাসূলের আদর্শ গ্রহণ করার সৌভাগ্য হলো না। খালিদ ইবনে ওয়ালিদ কে দেখতে পারলে না। ওমর ইবনে খাত্তাব এমন বীর যার সামনে ১০ জন ১৫ জন কিছুই না।তরোয়াল নিয়ে বের হয়েছে নবীকে হত্যা করবে ।পথের মধ্যে শুনলেন কি তার বোন আর ভগ্নিপতি ইসলাম কবুল করেছেন। চললেন বোন আর ভগ্নিপতিকে আগে মারব তারপর নবীকে ।
সাহাবীদের ত্যাগের ঘটনা
সেখানে গিয়ে শুনলেন কোরআন তেলাওয়াত করা হচ্ছে। তিনি শুনলেন কোরআন তেলাওয়াত করা হচ্ছে। কান লাগিয়ে শুনলেন কি তেলাওয়াত করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলেন কি তেলাওয়াত করছো ? তারা বলল আমরা কিছুই তেলাওয়াত করছিলাম না। তিনি মারধোর শুরু করলেন ,একপর্যায়ে একটা কাগজ বেরিয়ে এলো। নুসহা সেখানে লেখা ছিল সূরা তোহা ।সেই সূরা তোহা পড়তে পড়তে শুনতে শুনতে তার চোখ দিয়ে দর দর করে পানি পড়তে লাগলো । এবং তিনি বলতে লাগলেন যে সত্তা এরকম কোরআন নাজিল করতে পারে। উচিত হবে না তার সাথে কাউকে শরিক করা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন মাহবুব নাই। এবং মোহাম্মদ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমাকে আল্লাহর রাসূল এবং সাহাবীদের কাছে নিয়ে চলো আমি ইসলাম কবুল করব এখনই গিয়ে। সেখানে গিয়ে নবীজিকে বললেন হে রাসূলুল্লাহ আমি আপনার কাছে এসেছি আল্লাহ এবং আপনার প্রতি ঈমানদার হয়েই এসেছে। আপনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন এই কুরআনের প্রতি আমি ঈমানদার হয়েই এসেছি এখানে । তিনি বললেন ওমর ইবনে খাত্তাব ইয়া রাসুলুল্লাহ আমরা কি হকের উপর নাই। আমরা কি হকের উপর নাই মুশফিকরা কি বাতিলের ওপর নাই? তাহলে আমরা কেন গোপনে গোপনে ইসলামের দাওয়াত দিব। আজকে থেকে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দিব। তখন থেকে ইসলাম প্রকাশে দাওয়াত পেয়েছে তার আগে পাইনি। তুমি ওমর হতে পারো না। হামজা বীর সাহাবী। যাকে ওহুদের যুদ্ধে শহীদ করা হয়েছে। আবু জাহেল রাসূলকে চড় মেরেছিল একটা। হামজা রাঃ যখন শুনেছে আবু জাহেল রাসূলকে চড় মেরেছে , সরাসরি আবু জাহেলের বাসায় গিয়ে তাকে গলা ধরে বের করে প্রচন্ড বেগে কয়েকটা ঘুষি মারা হলো। এবং বলা হলো আমার ভাতিজা যে দ্বীনের ওপর আছে আমিও সেই দ্বীনের উপর আছি। তোমার ক্ষমতা থাকলে আমাদেরকে ঠেকিয়ে দেখাও। তিনি রাসূলের কাছে গেলেন এবং বললেন হে আমার ভাতিজা আমি তোমাকে সাহায্য করতাম আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে। আজকের দিন থেকে আমি ইসলামের জন্য তোমাকে সাহায্য করবো। আমি সাক্ষ্য দিলাম আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই আর তুমি আল্লাহর রাসূল।এই যে ইসলামের শক্তি বাড়তে থাকলো তখন। তুমি কি হামজার মত হতে পারো না? হামজা রাঃ যখন উহুদের যুদ্ধ করছিলেন তার সামনে কোন কাফের মুশরিক টিকতে পারেন নাই। আমি তোমাকে বলিনি এখন অস্ত্র নিয়ে বের হয়ে যাও।কথাটা অন্যদিকে নিয়ে যাবা না। কথাটা অন্যদিকে ঘুরাবা না। এখনতো মিডিয়ার যুগ কথাটা অন্যদিকে ঘুরায় খুব সহজে। আমি বলেছি তোমার কি সেই চেতনাটা নাই ? তুমি কি হামজার মত চেতনতা ধারণ করতে পারো না ।তুমি কি ওমরের মত চেতনা ধারণ করতে। অসংখ্য সাহাবী ছিলেন এরকম।
সাফল্যের প্রকৃত সংজ্ঞা
মুসআব ইবনে উমাইর রাঃ এত ধনী সাহাবী ছিলেন যার আতরের খুশবু ছিল আরবের সবচেয়ে দামি আতরের খুসবু। ইসলাম কবুল করে সব ছেড়ে দিলেন। এই এক পোশাকে তাকে কবর দেওয়া হয়েছে উহুদের মাঠে। মানে তাকে যখন শহীদ করা হয় তার দেহের মধ্যে এতগুলো তরোয়ালের দাগ ছিল যে তুমি কল্পনা করতে পারবা না। এই সাহাবীকে যখন রাসুলুল্লাহ সাঃ দাফন করলেন তখন কোন কাফনের কাপড় পাওয়া যাচ্ছিল না । ঘাস দিয়ে তাকে দাফন করা হয়েছে। এই হল মুসআব ইবনে উমাইর রাঃ । কত সাহাবী এমন চলে গেছেন দুনিয়া থেকে। কত বীর যোদ্ধা চলে গেলেন এই পৃথিবী থেকে । কিন্তু আজ পর্যন্ত তোমরা এই আদর্শ গুলো তোমরা অর্জন করতে পারলা না। তোমরা এখনো ওই পশ্চিমা সভ্যতার গোলকধাঁধায় পড়ে আছো। ওই ইহুদি , ওই খ্রিষ্টান , ওই দাজ্জালের অনুসারীরা যা শিখাচ্ছে তাই শিখছো , যা গিলাচ্ছে তাই গিলছো , মিডিয়ায় যা দেখছো তাই বিশ্বাস করছো। আল্লাহ তাআলা তোমাদের সবাইকে ইসলামের দিকে যেন হেদায়েত দান করেন । ইসলামের পথে যেন তোমাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন আল্লাহুম্মা আমীন। কয়েকটা পয়েন্ট খালি আকারে বলছি কি করবা তুমি এখন। এক নাম্বার তুমি তোমার জীবনের উদ্দেশ্য টাকে ফিক্সড করো ঠান্ডা মাথায় আজকে রাতে চিন্তা করবা যে আল্লাহ পাক তোমাকে কি জন্য দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন একটু চিন্তা করবা। একটু চিন্তা করবা তুমি পৃথিবীতে নাই। চিন্তা করবা তুমি মারা গেছো। এরপর চিন্তা করবা তুমি যে মারা গেছো পৃথিবীর কারো কি কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা। তুমি যে মারা গেছো পৃথিবী কি থেমে আছে বা তোমার পরিবার কি থেমে থাকবে তোমার শিক্ষা তোমার বন্ধু-বান্ধব তোমার আত্মীয়-স্বজন কেউ কি থেমে থাকবে। কেউ থেমে থাকবে না তুমি পৃথিবীতে থাকো বা না থাকো এতে কারো কিছু আসে যাবে না। আল্লাহপাক তোমাকে যে পৃথিবীতে রেখেছেন একটা সুযোগ খালি দিয়েছেন। যাতে তুমি আল্লাহপাকের দ্বীনের জন্য কিছু করতে পারো এটাই আল্লাহ পাক তোমার কাছে চান। আর কিছু চান না। আর কিচ্ছু আল্লাহ তোমার কাছে চান না। আল্লাহ চান তুমি একজন ভালো মানুষ হও , ভালো মুসলিম হও এবং দ্বীনের জন্য কিছু খেদমত করে পৃথিবী থেকে বিদায় নাও। এই দ্বীন তুমি ছাড়াও বিজয় হবা ইনশাআল্লাহ। তুমি থাকো আর নাই থাকো এই দ্বীন কিন্তু তুমি ছাড়া বিজয় হবেই । হয় তোমাকে নিয়ে হবে না হয় তোমাকে ছাড়াই হবে। জীবনের উদ্দেশ্য ফিক্সড করো । জীবনের উদ্দেশ্য একটাই জান্নাত। জান্নাত পাওয়ার জন্য যা করার দরকার তাই করতে হবে।
ইসলামী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা
কোরআন হাদিস মেনে চলা থেকে শুরু করে আমল করা আদব, আখলাক সবকিছু এর মধ্যে চলে আসবে। ইনশাল্লাহ আল্লাহ তোমাকে পথ দেখাবে। আগে তুমি তোমার জীবনের উদ্দেশ্য ফিক্সড করো। একটা কথা বলি অনেকেই তোমাকে বলবে জীবনের সফল হতে হবে। অনেক কথা বলছি আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। আল্লাহপাক আলহামদুলিল্লাহ ফার্স্ট সেকেন্ড থার্ড ছাড়া আমাদের রেজাল্ট হত না। যখন থেকে আমরা বুঝতে পেরেছি আমরা যে ট্রাকে যাচ্ছি সেই ট্রাকটা ভুল। এই বুঝটা যখন আসছে আমাদের মধ্যে আমরা চেষ্টা করছি অন্যজনকে আমাদের শিক্ষা দিয়ে সচেতন করার জন্য। আমরাও ভুল করেছি ভুলের উপর ভুল করেছি। আল্লাহ পাক যেন মাফ করেন আল্লাহুম্মা আমীন। সাফল্যের সংজ্ঞা আমাদেরকে শিখানো হতো পরিবার থেকে। সফল হতে হবে বাবা , নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে , বাবাকে দেখতে হবে মাকে দেখতে হবে অমুক তমুক ইত্যাদি ইত্যাদি । বিয়ে করবি কি নিয়ে তোর তো কিছুই নাই , বলে না এই কথাগুলো আপনাদেরকে । চাকরি বাকরি করতে হবে প্রতিষ্টিত হতে হবে। শোনো সাফল্যের একটা সংজ্ঞা দিয়েছে কোরআনে একটাই সংজ্ঞা।সূরা আল ইমরানের মধ্যে আছে ।কুল্লুনাফসিন জাইকাতুল মাওতি। প্রত্যেকটা নাফস মারা যাবে এবং কিয়ামতের মাঠের তাদেরকে পরিপূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। এখানে আল্লাহ পাক সাফল্যের সংজ্ঞা দিয়েছেন। ফামান ঝুহঝিহা আনিননা - রী ওয়া উদখিলাল জান্নাতা ফাকাদ ফা - ঝা ।ঐদিন কেয়ামতের মাঠে যাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানো হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে ফাকাদ ফা - ঝা ।এই ব্যক্তি হচ্ছে সফল। সাফল্যের সংজ্ঞা কোথায় পাইলেন? যদি আমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পারি প্রত্যেক ব্যক্তি এবং জান্নাতে যেতে পারি সেই সফল। এছাড়া কেউই সফল না। এই পৃথিবীর কেউই সফল না। কেউ না সে যত বড় রাষ্ট্র নেতা হোক , যত বড় পন্ডিত হোক, বিজ্ঞ হোক সে যে কেউ হোক । যার দাপটে পুরা বিশ্ব কাঁপে সেও সফল না যদি না সে জান্নাতে যেতে পারে। কিন্তু এক ভ্যান চাল ,এক রিকশা চালক , ওই আমার গরিব চাচা , সেই কৃষক সে যদি হিসাব দিয়ে জান্নাতে যেতে পারে সে সফল । তিনি সফল। তিনি আল্লাহর কাছে পছন্দের বান্দা। অতএব জীবনের উদ্দেশ্য টাকে প্রথমে ঠিক করে ফেলো এটা প্রথম কাজ। দ্বিতীয় কাজ তোমাকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কি জ্ঞান অর্জন করতে হবে? যে জ্ঞান তোমাকে আল্লাহর দিকে নিয়ে আসবে সেই জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কোন কোন সাবজেক্ট পড়তে হবে তোমাকে। তোমাকে প্রথমে কুরআন পড়াতে হবে , তেলাওয়াত করা শিখতে হবে , অর্থ জানবে , আরবি ভাষা শেখার চেষ্টা করো। কোরআনের আদেশ মানো নিষেধ গুলো ছেড়ে দাও।
তাড়াতাড়ি বিবাহ ও সামর্থ্য
এবং কোরআনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দাও। কোরআনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দাও এবং আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের জন্য আল্লাহর পথে চেষ্টা কর। আর কি সাবজেক্ট পড়তে হবে তোমাকে ? রাসূলের হাদিস পড়তে হবে হাদিস ।অসংখ্য হাদিস এগুলো পড়তে হবে তোমাকে। আর কি পড়বে? ইসলামের ইতিহাস পড়তে হবে তোমাকে। ইসলামের ইতিহাস জানবে না তাহলে হীনমন্য জাতি হবে। তুমি জানবেই না তোমার বাপ দাদারা ছিল সিংহপুরুষ তুমি এটা জানবেই না। তোমার শেখর যে এত সিংহ পুরুষ দিয়ে ভরা তুমি জানোই না। এই জন্য হীনমন্যতায় ভোগো মনে করা আমাদের কেউ নাই। আমরা এতিম ।জিনা আমরা এই বিশ্ব শাসন করেছি ১০০ বছর আগে। ১০০ বছর আগেও এই পুরো বিশ্ব আমাদের হাতেই ছিল। এখন যা দেখছো অতীতে এরকম ছিল না। একটা ওমরের হুংকারের সারা বিশ্ব কেঁপে যেত।এক আলী রাঃ যদি জিহাদের ময়দানে হুংকার দিত সমস্ত কাফেরদের হৃদয় দরদর করে কাঁপতে থাকতো। আমাদের সিংহ পুরুষ বাবারা দাদারা এরকম ছিলেন। আমরা এতো হীনমন্য জাতি ছিলাম না। আজকে আমরা আমাদের পরিচয় ভুলে গেছি। ইসলামের ইতিহাস পড়তে হবে তোমাকে । আর কি পড়তে হবে। ইসলামের অর্থনীতি পড়বে। অর্থনীতি জানো না তুমি হারাম হালাল বুঝতে পারবে না। ওরা তোমার সাথে প্রতারণা করে এমন হারাম ঢুকিয়ে দিবে যে তুমি বুঝতেই পারবে না যে এটা হারাম ছিল। ইকোনমিক্স পড়তে হবে খুব ইম্পরট্যান্ট সাবজেক্ট এই জামানার জন্য। আর কি পড়তে হবে পলিটিক্যাল সাইন্স ।এই বিশ্ব রাজনীতি সম্পর্কে পড়াশোনা করবে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সাবজেক্ট ।এছাড়াও যারা জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করছ এটা খুব ভালো আমি এগুলো নিষেধ করিনি ।আমি বলেছি এটার শিকড়টা হবে ইসলামিক । তুমি ডাক্তার হও বা ইঞ্জিনিয়ার হও আর কি হও হও এটা আমাদের কোন আপত্তি নেই । শিকড়টা হতে হবে ইসলামিক কুরআন এবং সুন্নাহ ভিত্তিক।আরেকটা সাবজেক্ট পড়বে ফিকহ । ফিকহ যদি না পড়ো তাহলে কি হবে জানো? নফল মুস্তাহাব আমূল নিয়ে মারামারি কাটাকাটি করে ফরজ ঐক্য নষ্ট করে ফেলবা। এখন দেখো না অল্প কিছু পড়াশোনা করে দুই পাতা পড়াশোনা করে দায়ী হয়ে গেছে একেবারে । কোরআন টা পড়তে পারেনা ঠিকমত। বড় বড় ফতোয়া দিয়ে বেড়াচ্ছে এইটা হারাম ওইটা হালাল ওইটা ওমুক অমুকের এই নাই অমুকের সেই নাই বলে বেড়াচ্ছে না এটা। এটা ফিকহ না জানার কারণে হচ্ছে। ফিকহ এর বুঝ কঠিন বুঝ গভীর বুঝ । ইবনে হানিফা থেকে যত ফকির ছিল সবাইকে ভক্তি শ্রদ্ধা সম্মান করতে শিখো। ফিকহটা অনেক কঠিন একটা জিনিস। আমরা তো এখানে সমালোচনা বেশি করতে চাই এটা ঠিক না। এই ফিকহের জ্ঞান না থাকলে তুমি কোনটা ফরজ কোনটাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া লাগবে কোনটা নফল কোনটা মোস্তাহাব পর্যায়ে কোনটা ওয়াজিব পর্যায় কোনটা সুন্নাতে মক্কাদা কোনটা কি সব বুঝতে পারবে না? আর তুমি না বুঝতে পারলে কি করবা যে বিষয়টাকে ছাড় দেয়া যেত সেটাকে ছাড় না দিয়ে তুমি বড় বড় জিনিসগুলোকে ভেঙ্গে ফেলবা খেয়াল করে দেখবেন ছোট ছোট মাসহালা কে নিয়ে যেগুলো ইখতালাফি মাসহালা যেগুলোকে নিয়ে সাহাবা ইকরামদের মধ্যে দ্বিমত ছিল । এগুলোকে নিয়ে বাংলাদেশে শত শত দল হয়ে গেছে। কি হয় নাই? কোন দল কি বলেছে আল্লাহ নাই। কোন দল বলে রাসূল নাই কোরআন নাই। আমাদেরকেবলা আলাদা । কেউ কি এটা বলেছে? সবার রাজ আল্লাহ এক কুরআন এক রাসূল এক সুন্নাহ এক তাহলে এতগুলো দল কেন হল ।ওই যে সংকীর্ণ মানসিকতা এবং ফিকহ এর বুঝ না থাকার কারণে এমনটা হয়েছে । তাই ফিকহটা পড়বে। তোমার দ্বারা উপকার না হয় উম্মার ক্ষতি হয়ে যাবে।আরো দুই একটা সাবজেক্ট বলছি। জিও পলিটিক্স ভু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটটা পড়তে হবে তোমাকে। এর সাথে একটা সাবজেক্ট অবশ্যই পড়বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী। এই কয়েকটা সাবজেক্ট যদি পড়তে পারো শেষ জামানায় ইনশাল্লাহ আল্লাহ তোমার হাতে পতাকা দিবেন। আর তুমি আল্লাহপাকের দ্বীনের পতাকা বহন করবে ইনশাআল্লাহ। জ্ঞান নাই কিছু করতে পারবে না। যদি জ্ঞান অর্জন করতে না পারো তুমি বাতিলের মোকাবেলা করতে পারবেনা। এখনকার যুদ্ধ অস্ত্রের যুদ্ধ না এখনকার যুদ্ধ জ্ঞানের যুদ্ধ। তুমি ওদের সাথে অস্ত্রের যুদ্ধ করে পারবে না এখন। এটাও আসবে সামনে যখন ইমামুল মাহাদী আসবেন সারা বিশ্বজুড়ে মালহামা শুরু হবে তখন মহাযুদ্ধ । এই ফিজিক্যাল স্ট্রেক নিয়ে এই মেন্টালিস্ট স্ট্রেক নিয়ে এই ঈমানের স্ট্রেক নিয়ে পারবে । পারবেনা ।জ্ঞান অর্জন করো। কারণ মহানবী সাঃ কে প্রথম আল্লাহ আদেশ করেছেন ইকরা পড়ুন পড়ুন পড়ুন। জ্ঞান নাই সমাজ সংস্কার করতে পারবে না এটা দুই। তিন নাম্বার হচ্ছে জ্ঞান অনুযায়ী আমল করতে শেখো দ্রুত । যতটুকু শিখলা তার ওপরে আমল করতে শেখ। আগামীকালের জন্য ফেলে রাখবে না আজকে যা শিখেছো আজকে আমল করো। রাসূলের সুন্নাহ গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কর। যেখানে ইসলাম প্রশস্ততা দিয়েছে সেখানে প্রশস্ততা প্রদর্শন কর। যেখানে প্রশস্ততা নাই সেখানে ওটাই মেনে চলো।ইসলাম একটা প্রশস্ততা রিলিজেন এখানে অনেক প্রশস্ততা আছে । সেই প্রশস্ত ইসলাম ফলো করো আমলগুলো কর। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্তের সালাত জামাতের সাথে পড়তে হবে। যখন তুমি রমজান মাস পাবে সাওম পালন করতে হবে। যাকাতের সম্পদ আসলে যাকাত দিবে। মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে শিখ। উম্মা কে ঐক্যবদ্ধ করতে শেখো। কুরআনে জ্ঞান অর্জন করো সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন কর। এবং জানা অনুযায়ী আমল করে তুমি তোমার নিজের ভিতরে পরিবর্তন নিয়ে। পবিত্র হওয়ার চেষ্টা করো সব পাপ থেকে তওবা করে ফিরে আসো। রাসূলের সুন্নাহ গুলোকে গুরুত্ব দাও। এ টু জেড বাথরুমে যাওয়া থেকে শুরু করে তোমার জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে নবীজির সুন্নাহ গুলোকে তোমার ওপরে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করো। নিজের উপর সুন্নাহ নাই তুমি সমাজে সুন্নাত বাস্তবায়ন করতে পারবে না। ৪ নাম্বার আদর্শ পরিবার গড়ে তুলো ।
হালাল রিজিক ও ইবাদত কবুল
আদর্শ পরিবার গড়ে তোলার জন্য তোমাকে তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে হবে। তোমার সামর্থ্য আছে শারীরিক তোমার সামর্থ্য আছে মানসিক তোমার সামর্থ্য আছে রুজি রুটির সো তাড়াতাড়ি বিয়ে করে ফেলো দেরি করবে না। বিয়ে করে ফেলো দেরি করবে না। অবশ্যই অবশ্যই তোমার শারীরিক সামর্থ্য থাকতে হবে , মানসিক সামর্থ্য থাকতে হবে , অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকতে হবে। একটা মেয়ের রেস্পন্সিবিলিটি নেওয়ার সামর্থ্য থাকতে হবে । সামর্থ্য হয়ে গেলেই তুমি বিয়ে করে ফেলো। আর কোন দিকে দেখার দরকার নাই। এমন কি তোমার একাধিক বিয়ের সামর্থ্য থাকলেও তুমি তা করতে পারো । যার একাধিক বিয়ে করার সামর্থ্য আছে সে যদি না করে সেটাও তার জন্যে হচ্ছে গুনার কাজ। জি এই কথাগুলো বলার সাহস পায় না অনেকেই। এই কথাগুলো বলার সাহস হয় না। আলেমদেরই হয় না। দুইটা বিয়ে করলে মানুষ আবার কি মনে করবে ? মনে হয় চরিত্রের সমস্যা আছে ইত্যাদি ইত্যাদি । আরে বোকা কুরআন পাকে তাহলে চারটা বিয়ের কথা আসলো কেন ? আল্লাহ পাক কি এমনি এমনি আয়াত নাজিল করলেন নাকি । আল্লাহ পাক ভালো করে জানেন যে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা বেশি হবে। অনেক ছেলেরা মারা যাবে ।মেয়েরা সমাজে বেঁচে থাকবে। কত অসংখ্য এতিম মেয়ে সমাজে পড়ে আছে। অসংখ্য বেধবা মেয়ে সমাজে পড়ে আছে ওদের দায়িত্ব নিতে হবে না। কে নিবে ওদের দায়িত্ব? যদি ছেলেরা দায়িত্ব না নেয় তাহলে কে নিবে তাদের দায়িত্ব। ওই মেয়েগুলো কি সমাজে প্রজাপতি হয়ে থাকবে। ওরা কি পতিতালয় সম্পত্তি হয়ে থাকবে ওদের কে অধিকার নাই? এখানে অধিকার দিলে আমাদের চরিত্র খারাপ হয়ে যায়। আর এদের সাথে সারাদেশে সারা বিশ্বে জেনা করে বেড়াচ্ছো এতে তোমাদের চরিত্র খারাপ হয় না। একটা ছেলে বিয়ে করার পরেও দশটা মেয়ের সাথে পরক্রিয়া করে এইটাতে চরিত্র খারাপ হয় না। কিন্তু যদি আরেকটা বিয়ে করে তাহলে সমাজের মানুষ তাকে বাঁকা চোখে দেখে। এটা জাহিলিয়াত এটা পুরা মক্কার জাহেলিয়াত চলছে। দ্রুত বিয়ে কর বিয়ে করে আদর্শ পরিবার গঠন করবে । পরিবারটা এত শক্তিশালী হবে পরিবারের ভেতরে যেন কোন শেরেক কোন বেদাত কোন কুফর কোন হারাম ঢুকতে না পারে । ৫ নাম্বার তোমার সন্তানদেরকে মানুষ করে যাও কালকে তুমি থাকবে না কিন্তু তোমার সন্তান বেঁচে থাকবে এক একটা সন্তানকে এমন ভাবে বড় করতে হবে যাতে এর আগামী দিনের ওমর হয় আগামী দিনের হামজা হয়।আগামী দিনের খালেদ বিন ওয়ালিদ রাঃ হতে পারে ইনশাআল্লাহ। নিজে কি করেছি,করেছি সারা জীবন বৃথা চলে গেল , গেল নিজের সাথে যা হয়েছে , হয়েছে বাচ্চাদের সাথে আর রিস্ক নিবেন না। বাচ্চাদেরকে ধ্বংস করবেন না আল্লাহর ওয়াস্তে। ওদেরকে আল্লাহর পথে দিয়ে দিন। দ্বীন শেখান , কোরআন শেখান , হাদিস শেখান। সাত নাম্বার হালাল রিজিক অনশন করো তোমরা। রিজিক টা যতই ছোট পেশা হোক না কেন যদি হালাল হয় সেটাই উত্তম। আর যতই বড় পেশা হোক না কেন সেটা যদি হারাম হয় সেটা তোমার জন্য জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে ।অনেক বড় পদ আছে কিন্তু সেখানে ঘুষ আছে, সুদ আছে , প্রতারণা আছে সেখানে তুমি যাবে না। আল্লাহর ওয়াস্তে সেখান থেকে তুমি দূরে থাকো। আর তুমি যদি কৃষক হয়ে থাকো আর তোমার রোজি রুটি যদি হালাল হয়ে থাকে তাহলে তুমি কৃষি কাজ করে সংসার চালাও কোন সমস্যা নাই ভাই। কোন সমস্যা নাই লজ্জার কিছু নাই অপমানের কিছু নাই। তুমি আল্লাহর কাছে প্রিয় বান্দা। আল্লাহপাক বলেছেন আল্লাহ পাক পবিত্র , পবিত্র রিজিক ছাড়া তিনি গ্রহণ করেন না।
উম্মাহর ঐক্য ও মতভেদে উদারতা
সারা জীবনের ইবাদত কবুল হবেন না যদি আপনার রিজিকের মধ্যে হারাম থাকে। কিচ্ছু করার নাই নবীর কথা পাল্টাতে পারবেন না। সারা জীবন সুদ ঘুষ খেয়ে আর বছর বছর হজ্জ উমরাহ করবেন আর হাজী সাহেবের নেকাব লাগাবেন ওইসব করে লাভ নাই আল্লাহর কাছে। কোন লাভ নাই ওরকম হজ্জ আবু জেহেল ও করতো। আবু জেহেল ও সেই রকম হজ্জ করত। ওই সব ভজ্জম আল্লাহপাকের কাছে দেখায় লাভ নাই। রিজিক হতে হবে পিওর পরিশুদ্ধ এটা খুব ডিফিকাল্ট। এজন্য আপনাকে নসিহা করছি কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিকের দিকে চলে আসেন কৃষিভিত্তিক। এটা আপনার জন্য ভালো হবে ইনশাল্লাহ আর ব্যবসা ভিত্তিক। ৮ নাম্বার হচ্ছে শারীরিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে। এজন্য আপনাকে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। নিয়মিত , ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ বলেন , জিম বলেন অন্যান্য যে বিষয়গুলো আছে সেগুলো আপনাকে করতে হবে। যে খাবারগুলো আপনারা খাবেন অবশ্যই সেগুলোকে বিশুদ্ধ করে খেতে হবে। অবশ্যই পরীক্ষা করে খাবেন। এমন কোন খাবার খাবেন না যেটা প্রস্তুত করেছেন ওরা , ওরা কারা অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন। ওদের খাবারের মধ্যে এমন কিছু থাকে যা আপনার শরীরকে আস্তে আস্তে ধ্বংস করে দিবে । এত ক্যান্সারের রোগী আগে ছিল এত ডায়াবেটিসের রোগী আগে ছিল। এই যে প্রেসার হাবি যাবি স্টক এগুলা আগে ছিল না । এগুলো আগে ছিল না। বিগত ৫০ বছর ধরে দেখবেন এমন এমন রোগ যে এত বেশি বেশি করে বাসা বেধেছে যে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছে এখন। অতএব খাবারের ব্যাপারে সচেতন থাকবেন। এমন খাবার খাবেন না বিশুদ্ধ না। যে খাবারটা মেনুফ্যাকচার সেটা গ্রহণ করবেন না। মানুষ কল-কারখানায় তৈরি করেছে এমন খাবার গ্রহণ করবেন না। নিজের খাবার উৎপাদন করে খান নিজে তৈরি করে খান। নিজে চাষ করে খান খাটি জিনিস খুঁজে খুঁজে খান। আপনি প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে যাবেন যদি আপনি ওদের খাবার খান। আজকে বুঝতে পারবেন না যখন হবে তখন আমার কথা বুঝতে পারবেন। ৯ নাম্বার হলো মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এই যে বিভক্তি চলছে , আপনি এই বিভক্তিটা দূর করে একটা জায়গায় নিয়ে আসা চেষ্টা করেন। কিভাবে করবেন , নতুন একটা দল খুলতে হবে ? নাহ ।আপনি যদি একটা প্রতিষ্ঠান করে থাকেন ,একটা সংগঠন করে থাকেন , একটা ফাউন্ডেশন করে থাকেন , যেটাই করে থাকেন না কেন আপনি ।আপনি যদি এতোটুকু নসিহা গ্রহণ করেন থাকেন যে হ্যাঁ এই সত্যতা বিভক্ত এই উম্মার প্রত্যেকেই আমার ভাই। সে যেই মাযহাবেরই হোক আর যে তড়িকারই হোক সে আমার ভাই। সেও মুসলিম আমিও মুসলিম। তার সাথে হয়তো আমার কিছু বিষয়ে দ্বিমত আছে । তার মানে এই না সে কাফের আমি মুসলিম এমন নয় । প্রত্যেকেই আমার ভাই আর প্রত্যেকটা দলের মধ্যে যদি ভালো ভালো কিছু পান। সেই ভালো টুকু আপনি গ্রহণ করেন। আপনি দেখবেন প্রতিটা দলের মধ্যে ভালো কিছু না কিছু আছে । আছে না ,নাকি নাই সবই খারাপ। প্রত্যেকটা ইসলামপন্থী ভাইদের মধ্যে ভালো কিছু না কিছু আছে সেই ভালোটা আপনারা নিয়ে নেন।
দাওয়াত প্রচার ও যুবকদের করণীয়
প্রতিটা ইসলামপন্থী দলের মধ্যে দেখবেন কিছু না কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্কিত আছে। নাকি সব ১০০% পারফেক্ট। আছেই ওগুলোকে আপনি ছেড়ে দেন।দিয়ে আপনি সবাইকে নিয়ে বসার চেষ্টা করেন যেটাই করবেন সবাইকে নিয়ে করার চেষ্টা করেন। হ্যাঁ, এখানে মতবিরোধ যে মাসহালা গুলো আছে এখানে ওই উদারতা প্রদর্শন করুন।ফিকহের এর ব্যাপারে উদারতা প্রকাশ করুন । আকিদার ব্যাপারে আপনি স্ট্রং থাকেন ব্যাস । এই ভাবে আপনি একটা উম্মার মধ্যে ঐক্য আনতে পারবেন ইনশাআল্লাহ । আর এই উম্মার মধ্যে যদি ঐক্য না থাকে আগামী দিনে এই উম্মাকে বাঁচাতে পারবে না কেউ,কেউ না। এই উম্মার ঐক্য যদি ধ্বংস হয়ে যায় , যেটা হয়ে গেছে প্রায়। এই অবস্থা যদি চলতে থাকে আগামী ১০ বছর। এই উম্মার ধ্বংস কেউ ঠেকাতে পারবেনা ইল্লা মাশাল্লাহ। খুবই কন্সিয়াস থাকেন এটা ফরজ জিনিস। আল্লাহ পাক বলেছেন আল্লাহর রজ্জু একসাথে শক্ত করে ধরো এটা আল্লাহর আদেশ। আর যেটা আল্লাহর আদেশ সেটা ফরজ। আপনার জোরে আমিন বলা ফরজ নয়। পায়ে পা লাগানো ফরজ নয়। নফলিয়ান আদায় করা ফরজ নয়। আপনারা যে আরও জিকিরের তরিকা গুলো বের করেছেন এগুলো ফরজ নয়। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে সুন্নাহ , ফরজ নয় । আল্লাহর রজ্জু একসাথে শক্ত করে ধরে থাকো এটা ফরজ। আপনারা ফরজটাকে ছেড়ে দিয়ে সুন্নাহ ধরতে পারেন না। যদি ধরেন আপনি নির্বোধ আপনি বোঝেন না কোনটাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। অতএব উম্মার ঐক্যের জন্য কাজ করুন। যারা উম্মার ঐক্যের জন্য কাজ করছে তাদেরকে সাহায্য করুন। আপনার সময় থাকলে সময় দেন , মেধা থাকলে মেধা দেন , অর্থ থাকলে অর্থ দেন। অথবা দোয়া করে সাহায্য সহযোগিতা করেন। লাস্ট আরেকটা হচ্ছে আপনাকে যে সময়টুকু দিয়েছে এই যৌবনের এই দুনিয়ার জীবনের আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত আপনি প্রচার করেন। তার মধ্যে যতটুকু এলেম কালাম আছে একটা আয়াতও যদি জানো আমার পক্ষ থেকে প্রচার করে দাও। প্রতিটা দিন আপনি আল্লাহর পথে দাওয়াতের জন্য নেমে পড়েন। ফুল টাইম দায়ী হতে বলছি না আমি পার্ট টাইম দায়ী হয়ে যায়। প্রতিটা দিন কিছু না কিছু সময় আল্লাহর দ্বীনের জন্য ব্যয় করেন। মসজিদে বসছেন তালিম করেন লোকজনকে নামাজের দিকে ডাকেন, আল্লাহর পথে সময় দেন , যারা দ্বীনের পথে কাজ করছে তাদেরকে হেল্প করেন, নিজে দাওয়াতী কাজ করেন। আপনার সেক্টরে দাওয়াতি কাজ করেন। নিজের মধ্যে আপনার বন্ধু মহলে , পরিবারে , আপনার আত্মীয় স্বজনের মধ্যে দাওয়াত দিতেই থাকেন । শুনলে শুনুক না শুনলে নাই কথা বুঝেন নাই। শুনুক আর না শুনুক কাঁথি দাওয়াতি কাজ করতেই থাকেন। ইনশাআল্লাহ এই দশটা কাজ যদি আপনারা যুবকরা করতে পারেন। আমি আশাবাদী ইনশাল্লাহ আগামী দিনগুলোতে আপনি হবেন ইমামুল মাহদীর সৈনিক ইনশাআল্লাহ। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে এই দশটা গুনাবলি অর্জন করার তৌফিক দান করুন। এবং আমাদের জীবন এবং যৌবন আল্লাহর পথে ঢেলে দেওয়ার উৎসর্গ করার তৌফিক দান করুন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের প্রত্যেকে কুরআন এবং হাদিসের বুঝ দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন। আল্লাহপাক আমাদের সবার আদর্শ পরিবার গড়ে দিন । হালাল রুজির ব্যবস্থা করে দিন। আমাদের বিয়ে গুলোকে সহজ করে দিন। আল্লাহ পাক আমাদের কে সমাজের সকল জাহিলিয়াত থেকে হেফাজত করুন। আল্লাহপাক আমাদেরকে কোরআন সুন্নাহ এবং রাসূলের আদর্শ অনুযায়ী জীবন করার তৌফিক দান করুক। আল্লাহ পাক আমাদের কে ইসলামের ইতিহাস পড়ার তৌফিক দান করুন। আমাদের কে ইসলামের বীর সেনানি হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমাদের মৃত আত্মীয়-স্বজনকে আল্লাহপাক মাফ করে দিন। যারা অসুস্থ আছে আল্লাহ পাক তাদের সকলকে শেফাই দান করুন। আমাদের যা কিছু আছে জান মাল ইজ্জত সবকিছু ব্যয় করে আল্লাহর পথে দাওয়াত এবং আল্লাহর জন্য জিহাদ করা তৌফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমীন।
সাধারণ প্রশ্ন
বক্তা যুবকদের জন্য সূরা কাহাফ সম্পর্কে কী বলেছেন?
বক্তা অনুরোধ করেছেন যারা এখনো সূরা কাহাফ পড়েননি তারা যেন অর্থসহ পড়েন। তিনি বলেছেন এই সূরায় এমন কিছু আছে যা দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে।
বক্তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন কতক্ষণ কুরআন তেলাওয়াত করা উচিত?
বক্তা পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিদিন মিনিমাম আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা কুরআন তেলাওয়াত করার, অর্থ বুঝুক বা না বুঝুক। যাদের সামর্থ্য আছে তারা অর্থ বোঝার চেষ্টা করবেন।
বক্তা কুরআনের কত হক আছে বলেছেন এবং সেগুলো কী?
বক্তা বলেছেন কুরআনের ছয়টি হক আছে: বিশুদ্ধভাবে তেলাওয়াত, অর্থ বোঝা, আদেশ মানা, নিষেধ বর্জন, মানুষকে দাওয়াত দেওয়া এবং হুকুম-আহকাম বাস্তবায়ন করা।