জ্ঞান, বিনয় ও আল্লাহর হিকমত
মুসা আঃ ও খিজির আঃ এর গল্পের সূচনা
আমি আজকে আমি আজকে একটা গল্প বলবো ইনশাআল্লাহ ঠিক আছে । আজকে আমি শুধু চুজ করছি একটা গল্প। সেটা হল নবী মুসা আঃ এবং খিজির আঃ গল্পটা এটা দিয়ে শুরু করছি। কোরআনে ও আছে , সূরা কাহাফে ও আছে ,সহি বুখারীর মধ্যে ও আসছে গল্পটা আমি শর্ট করে বলছি একদিন নবী মুসা আঃ যিনি বনি ইসরাইলদের নবী যেটা আপনারাও জানেন। তিনি অনেক সম্ভ্রান্ত নবী বনি ইসরাইলদের নবী ।তিনি বনি ইসরাইলদের সামনে ভাষণ দিচ্ছিলেন খুতবা ।খুতবা শুনে জনগণ বললেন , জনগণদের মধ্যে একজন বললেন বাহ আপনি তো খুব চমৎকার খুতবা দিলেন। মনে হচ্ছে আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ। মুসা আঃ বললেন হ্যাঁ আমি পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ।কি বললেন , হ্যাঁ আমি পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ। তিনি বলতে ভুলে গেলেন। তিনি বলতে ভুলে গেলেন আল্লাহ সব চেয়ে ভালো জানেন কে পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ। সূরা কাহাফের নাজিলের একটা ঘটনা আছে আপনাদেরকে বলিনি সেটা হল কিছু মানুষ এসেছিল নবীজির কাছে। আমাদের নবীর কাছে। তুমি যদি সত্যিই নবী হয়ে থাকো তাহলে বল দেখি জুলক্ষার নাইম বাদশার কি হয়েছিল? হে মোহাম্মদ তুমি যদি সত্যিই নবী হয়ে থাকো বল দেখি আসহাবে কাহাফ এর কি হয়েছিল? হে মোহাম্মদ তুমি সত্যি নবী হয়ে থাকলে বল দেখি রুহ কাকে বলে? তিনটা প্রশ্ন করেছিল জুলক্ষার নাইম বাদশার কি হয়েছিল,আসহাবে কাহাফ এর কি হয়েছিল ,রুহ মানে আত্মা কাকে বলে ?আমাদের নবী মোহাম্মদ সাঃ বলেছিলেন আগামী কালকে এসো আমি বলে দিব। কি বলেছিলেন? আগামীকালকে এসো আমি বলে দিব। ওহী আসা বন্ধ হয়ে গেল। তিন মাস , চার মাস , ছয় মাস কোন ওহী আসে না। আমাদের মহানবী সাঃ একটা শব্দ বলতে ভুলে গিয়েছিলেন একটা। সেটা হল ইনশাআল্লাহ। এরপরে এই সূরার প্রথম যে আয়াতটা নাযিল হয় । হে নবী ২৩ এবং ২৪ নাম্বার আয়াত কখনো বলবেন না ,কখনো কোনো কিছু বলবেন না যে আগামীকাল কিছু করব ইনশাআল্লাহ বলা ব্যতীত। একটা প্রথমে নাযিল হলো তারপরে আল্লাহ পাক তিনটা প্রশ্নের উত্তর জানিয়ে দিলেন। তার আগে জানিয়ে দেন নি। ঠিক একই ভাবে মুসা আঃ একটা ভুল করে বসলেন । তিনি বললেন আমি পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবীদের ছোট ছোট ভুল ধরে ফেলেন। ধরে ফেলে বললেন না মুসা তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ নোও ।আমার এক জন বান্দা আছে যাকে তুমি পাবে দুই সাগরের মিলনের স্থলে। আমার সেই বান্দা তোমার চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী। মুসা আঃ এই কথা শোনা মাত্র সেই বান্দার সাথে দেখা করার জন্য উদগ্রিপ হয়ে উঠলেন। তিনি আল্লাহকে বললেন আমি তার সাথে দেখা করতে চাই। তুমি একটা ঝুড়ি নাও। সেই ঝুড়ির মধ্যে কিছু মাছ নিবে , মৃত মাছ। এবং সাথে একজন সহযোগী নেও , নিয়ে সফর কর। যখন ওই দুই সাগরের মিলনস্থল পেয়ে যাবে ,ওই জায়গায় দেখবে আমার সেই বান্দা বসে আছে। মুসা আঃ করলেন সাথে একজন যুবককে নিলেন। যুবকের নাম ইউসাবিন্নুন । একটা ঝুড়ি নিলেন সেখানে মাছ রাখলেন এবং এখন তিনি সফর করা শুরু করলেন। তিনি বলছেন আমি সফর করতে থাকব যদি আমাকে যুগ যুগ ধরেও চলতে হয়।
মাছের ঘটনা ও দুই সাগরের মিলনস্থল
সফর করতে শুরু করলেন । একটা পর্যায়ে সফর করতে করতে করতে করতে করতেইউসেব নুন দুই সাগরের মিলনস্থল পেয়ে গেলেন। সেই সময় তারা রেস্ট করলেন মানে বিশ্রাম নিলেন । এই বিশ্রাম নেওয়ার সময় এই যে মৃত মাছ গুলো ছিল এগুলো জীবিত হয়ে নদীর বা সমুদ্রে চলে গেল। কিন্তু ইউসাবিন্নুন এই ঘটনাটি দেখলেন কিন্তু দেখে সে মুসা আঃ কে বলতে ভুলে গেলেন। শয়তান অনেক সময় আমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে ভুলিয়ে দেয়। এরপর মুসা আঃ উঠলেন রেস্ট নিয়ে তারপর চলা শুরু করলেন সামনের দিকে। এইবার চলতে চলতে উনি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়লেন, খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। এতক্ষণ পর্যন্ত কিন্তু তিনি ক্লান্ত বোধ করছিলেন না। মাছ টা যেই নদীতে বা সমুদ্রে চলে গেল এবার তিনি অন্য পথে যাচ্ছেন ভুল পথে এবং তিনি ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন ।এর মানে জীবনে চলার পথে যদি আপনি ভুল পথে যান পথটা যদি ভুল হয় তাহলে আপনি খুব সহজে ক্লান্ত হয়ে যাবেন। আর আপনার পথ যদি আল্লাহ এবং তার রাসূলের পথে হয় তাহলে আপনি সহজে ক্লান্ত হবেন না। আপনার ভিতরে সব সময় চিরযৌবন কাজ করবে। যাই হোক তিনি ক্লান্ত হয়ে গেলেন এবং ইউসাবিন্নুনকে বললেন নাস্তা নিয়ে আসো মাছ গুলোকে নিয়ে আসো আমি খুব ক্ষুধার্ত। তখন ইউসাবিন্নুনএর খেয়াল হল মাছ তো চলে গেছে নদীতে। তিনি বললেন মাছ তো চলে গেছে নদীতে আমি তো আপনাকে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। তখন মুসা আঃ বললেন এটা তুমি কি করেছ? ওইটাই তো সেই জায়গা যে জায়গার সন্ধান আমরা করছিলাম। তারা আবার ফেরত আসলেন। এসে দেখলেন ২ সাগরের মিলনস্থলে একটা শাখরা ,শাখরা বলে আরবিতে একটা পাথর বা শীলা খন্ড এর উপর একজন ব্যক্তি বসে আছেন । মুসা আঃ তাকে সালাম দিলেন বললেন আসসালামু আলাইকুম। খিজির আঃ বললেন ওয়ালাইকুম আসসালাম। এই জনমানব শূন্য জায়গায় কে সালাম দিচ্ছে তখন মুসা আঃ বললেন আমি মুসা। খিজির আঃ বললেন কোন মোছা বাণী ইসরাইলের মুসা। কোন মুসা বাণী ইসরাইলের মুসা। তার মানে খিজির আঃ বনু ইসরাইলের ব্যক্তি নন। খিজির আঃ ইহুদি খ্রিস্টানদের কেউ নন। তিনি বনু ইসরাইলদের মধ্যে কেউ নন। সালাম দেওয়া হল মুসা আঃ বললেন আমি কি আপনার সাথে এই শর্তে থাকতে পারি যে আল্লাহ পাক আপনাকে যে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন সেখান থেকে আপনি আমাকে কিছু শেখাবেন। ওস্তাদের সহবত। এবার খিজির আঃ বললেন ,উত্তর টার দিকে খেয়াল করেন,মুসা তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবে না। কি বললেন? মুসা তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবে না। কারণ খিজির আঃ শেষ পর্যন্ত জানেন যে কি হবে? গল্পের শেষে আমরা তাই দেখবো যে মুসা আঃ ধৈর্য ধরতে পারেননি। কিন্তু মুসা আঃ বললেন ইনশাল্লাহ আমি ধৈর্য ধরবো। আমাকে আপনি সাথে নেন ইনশাল্লাহ আমি ধৈর্য ধরবো। খিজির আঃ ইনশাল্লাহকে সম্মান করলেন এবং মুসা আঃ কে সাথে নিলেন এবং বললেন তুমি আমার সাথে সফর করো কিন্তু কোন প্রশ্ন করতে পারবে না। একটা প্রশ্ন করা যাবে না আমি কি করবো না করবো কোন বিষয়ে কোন প্রশ্ন করা যাবে না। মুসা আঃ বললেন ঠিক আছে এবার তারা চলতে শুরু করলেন। এবার ঘটনা শুরু চলতে চলতে চলতে চলতে একটা নদী আসে। এবার তারা নদী পার হবেন কিন্তু কোন টাকা পয়সা সাথে নাই। খিজির আঃ কে ওই মাঝিরা চিনত ।সেই মাঝিরা তাকে বলল আপনি নৌকায় ওঠেন কোন টাকা পয়সা লাগবেনা।
নৌকা, পাখি ও বাচ্চার ঘটনা
খিজির আঃ মুসা আঃ কে নিয়ে নৌকায় উঠলেন। এবার নৌকা চলতে শুরু করলো। নৌকার পাতা টানে একটা পাখি এসে বসলো। পাখিটা নদী থেকে একটু পানি খেয়ে চলে গেল। খিজির আঃ বললেন হে মুসা এই পাখিটা যতটুকু পানি খেয়ে চলে গেল , ততটুকুই হচ্ছে তোমার আর আমার জ্ঞান। আর এই যে নদীতে যত পানি দেখছো এগুলো হচ্ছে আল্লাহর জ্ঞান। আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় মানুষের জ্ঞান এতটুকু ওই যে পাখিটা পানি খেয়ে গেছে ঠিক অতটুকু। যাইহোক নৌকা চলতে থাকলো এক পর্যায়ে একটা ঘটনা ঘটলো খিজির আঃ একটা কুড়াল নিলেন। নৌকার যে পাতা টান নিচে একটা ফুটো করে দিলেন। এবার এই দৃশ্য দেখে মুসা আঃ বললেন আপনি এটা কি করলেন? যারা বিনা পয়সা আমাদেরকে সফল করালো আমাদের উপকার করল ।ওই বেচারা গরিব মানুষের একমাত্র নৌকা সহায় সম্বল নৌকাটা আপনি ফুটো করে দিলেন। আপনি তো বিশাল একটা ভয়ঙ্কর কাজ করলেন। গুনার কাজ করলেন আপনি একটা। এখন খিজির আঃ বললেন হে মুসা আমি কি তোমাকে বলিনি তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবে না। মুসা আঃ বললেন আমাকে ক্ষমা করে দিন আমি ভুলে গিয়েছিলাম। এরপর ইনশাআল্লাহ আমি আর কোন প্রশ্ন করব না। তারা আবার চলতে লাগলেন চলতে চলতে চলতে চলতে একটা বাচ্চার সাক্ষাৎ হলো ছোট বাচ্চার। খিজির আঃ বাচ্চাটাকে হত্যা করলেন। এটাতো আরো ভয়ংকর ব্যাপার। নৌকা ফুটো করা কোথায় আর বাচ্চা হত্যা করা কোথায় ? আর মুসা আঃ নিজেও মার্ডার কেসের আসামী এটা কি জানেন? মুসা আঃ একজন ব্যক্তিকে ঘুষি মেরে হত্যা করে ফেলেছিলেন ভুলবশত।মুসা আঃ বললেন আপনি মহা একটা অপরাধ করলেন এটি ।আপনি নিরপরাধ একটি শিশুকে হত্যা করলেন। খিজির আঃ আবারো বললেন হে মুসা আমি কি তোমাকে বলিনি তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবে না। এবার মুসা আঃ সর্বশেষ অজুহাত দিলেন । আমি যদি আর একটা প্রশ্ন করি তাহলে আমাকে আর সাথে নিয়েন না এটাই লাস্ট চান্স। আর একটাও প্রশ্ন করবো না ইনশাল্লাহ। তারা আবার চলতে লাগলেন চলতে চলতে একটা গ্রাম আসলো। সেই গ্রামের মানুষগুলো ছিল একটু আমাদের নিউইয়র্ক এর মানুষের মত অনেকটা এখনকার আমাদের ঢাকা শহরের মতো। মেহমানদারি করতে চায় না। মেহমান আসলে বিরক্ত হয় আর কি । তারা মেহমানদারী করতে চায় না। তারা মূসা এবং খিজিরকে কোন খাবার দিলো না কোন পানি ও দিল না। সামান্য টুকু সৌজন্যবোধ ও তারা দেখালো না। কিন্তু খিজির আঃ দেখলেন ওই গ্রামের একটি বাড়ির দেয়াল ধসে পড়ে আছে । একটা দেয়াল পড়ে গেছে খিজির আঃ নিজে কষ্ট করে এই পুরো দেওয়ালটা তৈরি করলেন । ইট পাথর যা যা লাগে তাই দিয়ে তিনি এই দেওয়ালটা তৈরি করলেন , তৈরি করে এই দেওয়ালটা নতুন জায়গায় রিপ্লেস করলেন। এই দৃশ্য দেখে মুসা আঃ বললেন আপনি চাইলে তো কিছু পারিশ্রমিক নিতে পারতেন। এত কষ্ট করলেন ওরা আমাদেরকে খাবারও দিল না পানিও দিল না। আপনি ওদের কাজ করে দিলেন একটু তো সামান্য নাস্তার টাকা নিতে পারতেন। খিজির আঃ বললেন এই হল তোমার আর আমার ফারাক ।আমাদের রাস্তা আলাদা এখন যাও , তুমি চুক্তি ভঙ্গ করছো তিনবার। আমাদের রাস্তা আলাদা। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সাঃ বলেছিলেন একটা হাদিসে যদি মুসা আঃ ঐ দিন প্রশ্নগুলো না করতেন তাহলে অনেক কিছু শেখা যেত। যাই হোক তিনটা শর্ত লঙ্ঘন হলো মূসা আঃ কে তিনি আর সাথে রাখলেন না।
ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা ও শিক্ষা
তবে তিনি বললেন তুমি চলে যাও ,কিন্তু যাওয়ার আগে আমি তোমাকে তিনটা যে ঘটনা ঘটলো এই তিনটা ঘটনার ব্যাখ্যা আমি তোমাকে জানিয়ে দিব যে আমি কেন করেছি? ওই যে প্রথম নৌকাটা আমি ফোটা এজন্য করেছি যে। ওই নৌকার পিছনে ছিল একটা জলদস্যুর দল। ওই জলদস্যুর দল যদি এই নৌকাটা দেখতো ভালো সুন্দর তাহলে ওরা এই নৌকাটা হাইজ্যাক করত তাই আমি নৌকাটা ফুটো করে দিয়েছি। এই ত্রুটিযুক্ত নৌকাটা তার আর নেবে না। নষ্ট নৌকা তারা আর নেবে না যদি নৌকাটা ভালো থাকত তাহলে গরিব মাঝির শেষ সম্বল টুকু তারা ওর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যেত। তোমার মনে হয়েছে যে আমি ওর ক্ষতি করেছি কিন্তু আমি পরোক্ষভাবে ওর উপকার করেছি। সেটা তুমি সবর করতে পারোনি। দ্বিতীয় যে আমি বাচ্চাটাকে হত্যা করেছিলাম। আমি এই জন্য হত্যা করেছিলাম । যে আল্লাহ আমাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে এই বাচ্চাটা যখন বড় হত সে অনেক বড় একটা কাফের হতো। এবং সে নিজেও কুফরি করত এবং অন্যকেও সে কুফরি করতে আহবান করত। এবং কি সে তার বাবা-মাকেও কাফের বানিয়ে ছাড়তো। আল্লাহ পাক আমাকে আদেশ করেছেন তাই আমি হত্যা করেছি। আর আল্লাহপাক এই বাচ্চার বদলতে ওই বাবা মাকে আরো ভালো ভালো সন্তান-সন্তনই দিবেন। দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর । আর তৃতীয় প্রশ্নটা কি ? ওই যে আমি দেয়ালটা নির্মাণ করলাম তোমার কাছে মনে হলো আমি অযথাই পরিশ্রম করলাম। তো আল্লাহ আমাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন ।ওই দেয়ালের নিচে ওই বাড়ির এতিম দুইটা বাচ্চার সম্পত্তি লুকানো আছে। ওই দেয়ালের নিচে ওই বাড়ির এতিম দুইটা বাচ্চার সম্পত্তি ওই দেয়ালের নিচে লুকানো আছে গুপ্তধন।আল্লাহপাক চাইলেন আমি দেয়ালটা নির্মাণ করে দেই ওই বাচ্চারা যখন বড় হবে তখন তারা এই সম্পত্তি পাবে ।আর আমি যদি দেয়ালটা নির্মাণ না করতাম তাহলে অন্যরা এই সম্পত্তিগুলো লুট করে নিয়ে যেত তারা ভোগ করতে পারত না। এই হল তিনটা ঘটনা উত্তর । যার জন্য তুমি সবর করতে পারোনি। খিজির আঃ এর সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেছেন আমি খিজির কে দুটি গুণ দিয়েছিলাম ।আমি খিজির কে দুইটা গুন দিয়েছিলাম ।আমাদের কেউ এই দুইটা গুণ অর্জন করতে হবে ।আল্লাহপাক বলেছেন আমি তাকে আমার পক্ষ থেকে রহমত দিয়েছিলাম।মানে সে মানুষের প্রতি খুব দয়ালু ছিল।তিনি বলেছেন আমি আল্লাহ খিজিরকে আমার পক্ষ থেকে খিজিরকে জ্ঞান শিখিয়েছিলাম। তাই এই জামানায় খিজির আঃ এর মত হয়ে রাতের অন্ধকার দূর করে সকাল আনতে হলে আমাদেরকে যেমন দুই চোখ দিয়ে দেখতে হবে একই সাথে দয়ালু হতে হবে । এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যে জ্ঞানের উৎস ওই উৎসের কাছে ফিরে আসতে হবে। ইনশাল্লাহ তখনই দেখা যাবে আমরা শেষ জামানাকে ডিল করতে পারব। খিজির আঃ এর মত হতে পারব যাকে আল্লাহ পাক শেষ জামানার স্কলার রূপে তুলে ধরেছেন।আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে কুরআন এবং হাদিস অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমীন।
সাধারণ প্রশ্ন
মুসা আঃ ও খিজির আঃ-এর গল্পটি কোথায় উল্লেখ আছে?
লেখায় বলা হয়েছে গল্পটি কোরআনে, সূরা কাহাফে এবং সহি বুখারীতে আছে।
মুসা আঃ কেন ধৈর্য ধরতে পারেননি?
খিজির আঃ আগেই বলেছিলেন মুসা আঃ তাঁর সাথে ধৈর্য ধরতে পারবেন না। নৌকা ফুটো করা, শিশু হত্যা ও দেয়াল নির্মাণের ঘটনায় মুসা আঃ প্রশ্ন করায় তাদের পথ আলাদা হয়ে যায়।
খিজির আঃ নৌকা ফুটো করার কারণ কী ছিল?
খিজির আঃ জানান, নৌকার পিছনে একটি জলদস্যুর দল ছিল যারা ভালো নৌকা হাইজ্যাক করত। নৌকাটি ত্রুটিযুক্ত করায় গরিব মাঝির শেষ সম্বল রক্ষা পায়।
দেয়াল নির্মাণের কারণ কী ছিল?
দেয়ালের নিচে এতিম দুই বাচ্চার গুপ্তধন লুকানো ছিল। দেয়াল না করা হলে অন্যরা সম্পত্তি লুট করে নিত, তাই আল্লাহর আদেশে দেয়ালটি নির্মাণ করা হয়।