ঈমান-আমল-দাওয়াত ও সবর
সূরা আসরের মূল বার্তা ও চারটি গুণ
আলহামদুলিল্লাহ যাবতীয় প্রশংসা এবং গুনো গান একমাত্র মুহিয়ান এবং গড়িয়ান মহান আল্লাহ তায়ালার জন্যে ।যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নাযিল করেছে মহাবিশ্বের মহাবিস্ময় মহাগ্রন্থ আল কুরআন এবং প্রেরণ করেছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে । হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে সালাত এবং দরুদ বর্ষণ করে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর প্রতি ।যাকে আল্লাহপাক মানবতার মুক্তি দুদ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। এবং যিনি তার প্রতি অর্পিত রিসালাতের এই গুরু দায়িত্ব যথাযথভাবে আদায় করেছেন। এবং উম্মাহর কাছে কুরআন এবং সুন্নাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। আমরা দুরুদ পাঠ করি আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মদ আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মদ। সম্মানিত প্রাণপ্রিয় মুসল্লী বৃন্দ। আজকের সংক্ষিপ্ত বয়ানে সংক্ষিপ্ত খুতবায় পবিত্র কুরআন শরীফের ছোট্ট একটি সূরা সূরাতুল আসর সম্পর্কে কথা বলতে চাচ্ছি। আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করছি আল্লাহ পাক যেন আমাদের প্রত্যেককে আলোচনা শুনে বুঝে আমল করার তৌফিক দান করুন আমীন। আল্লাহ সুবহানআল্লাহ তায়ালা কুরআন শরীফে ১০৩ নাম্বার সূরা সূরাতুল আসর যেটা কিনা একটা মাক্কী সূরা। এখানে চারটি মৌলিক বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যে চারটি মৌলিক গুণ অর্জন করা ব্যতীত কোন মানুষের পক্ষে জান্নাতে যাওয়া সম্ভব নয়। আর এই চারটি গুণ যদি আমরা অর্জন করতে ব্যর্থ হই তাহলে কোন সন্দেহ নাই যে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। আল্লাহ যখন বলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার মানে আমরা জাহান্নামে যাব ।ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই সূরার মধ্যে বলেছেন ওয়ালা আসরী সময়ের কসম । ইন্নাল ইনছা - না - লাফী খুছর।ইন্না মানে নিশ্চয়ই ইনসান মানে মানুষ বা পুরা মানবজাতি লাফী মানে অবশ্যই খুছর মানে ক্ষতি। নিশ্চয়ই মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত আছে।। ইল্লাল্লাহযীনা আ মানু। তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে। ওয়া আমিলুস সালি হাত । সৎ আমল সম্পাদন করেছে। ওয়া তাওয়া সাওবিল হাকিক ।পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে। ওয়া তাওয়া সাও বিসসাবরী। এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে। এই চারটি গুন অর্জন না করলে পুরো মানবজাতি ক্ষতির মধ্যে আছে। ঈমান , আমলের সলেহ , হকের উপদেশ হকের দাওয়াত শবর বা ধর্য্য। আমরা সংক্ষিপ্ত আকারে সূরাটাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রথমে সময়ের কসম করেছেন। আল্লাহ সুবহানহু তায়ালা অনর্থক কোনো কিছুর কসম করবেন না এটাই স্বাভাবিক। আল্লাহ পাক যে বিষয়ে কসম করে সেটা নিঃসন্দেহেই খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় ।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক অনেক বিষয়ের কসম করেছেন ।
কসম ও সময়ের গুরুত্ব
ওয়াত্তিন ডুমুর ফলের কসম। ওয়া যাইতুন যায়তুনের কসম। ওয়াত্তুর সিনিন তুর পাহাড়ের কসম সিনাই উপত্যকার কসম। এ পবিত্র নগরী মক্কা কসম।আল্লাহ পাক অনেক কসম করেছেন। ওয়া সামসি সূর্যের কসম। ওয়াদু হা হা, সূর্যের কিরণের কসম। ওয়াল লাইলি রাতের কসম। এরকম অনেক কসম আল্লাহ পাক কোরআনে করেছেন। আল্লাহ পাক যখন কোন বিষয়ে শপথ করছেন বা কসম করছেন তাহলে আমাদেরকে বুঝে নিতে হবে সেই বিষয়টা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটা বিষয় বলে রাখি যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর সৃষ্টির নামে কসম করেন কিন্তু সৃষ্টি ,আমরা যারা সৃষ্টি আমাদের জন্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন নামে কসম করা জায়েজ নাই। যদি কসম করতেই হয় আল্লাহর নামে কসম করতে হবে। রাসূল সাঃ বলেছেন যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন বিষয় নিয়ে কসম করলো সে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কুফরী করলো। যদি কসম করতে চান তাহলে আল্লাহর নামে কসম করতে হবে। এই যে আমরা কথায় কথায় বলি মাটির কসম , আগুনের কসম , বজ্র শপথ , অগ্নি শপথ কথাগুলো আমরা বলি এবং মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এগুলো কুফুরি কথা । অজান্তে বললে আল্লাহপাক হয়তো মাফ করতেও পারেন। জেনে শুনে কুফরি করলে সম্ভাবনা বেশি যে আল্লাহ পাক ক্ষমা করবেন না। যদি তওবা করে ফিরে আসে সেটা আলাদা বিষয়। আল্লাহ পাক সময় কসম করে আমাদেরকে বুঝাতে চাচ্ছেন মোটামুটি ভাবে তিনটা জিনিস। একটা হচ্ছে এই সময় আপনার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান বিষয়। একটা করে দিনরাত চলে যাচ্ছে এর মানে আমাদের যে হায়াতের গাছ আছে তার থেকে একটা করে পাতা ঝরে পড়ছে। তো দুনিয়াতে মানুষের চলা ফেরা, উঠাবসা , আচার-ব্যবহার মানুষকে পরকালে যাত্রা করতে হবে এটা দেখলে মনে হচ্ছে না এখন। অথচ আল্লাহ পাক সময় কসম করে এটা বুঝাতে চাচ্ছেন এটা হায়াতের কসম , এটা হায়াত আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে আর আমরা বেখবর। ছোটবেলা থেকে শুরু করে আমাদের স্ট্রাগেল শুরু হয়। স্কুল পড়বেন , কলেজ পড়বেন , ইউনিভার্সিটি পড়বেন , চাকরি বাকরি করবেন , বিয়ে-শাদী করবেন , ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন শেষ বয়সে গিয়ে হজ্জ করে সব পাপ মাফ করিয়ে নিবেন। এই হচ্ছে আমাদের একটা কমন ফিলোসফি বা দর্শন। ইবলিশের এটা দর্শন যে সে মানুষকে সময় সম্পর্কে গাফেল করে রাখে। একটু চিন্তা করেন ঠান্ডা মাথায়। ধরে নেন আল্লাহতালা আপনাকে ৫০ বছর আয়ু দিয়েছি। ধরে নেন কথার কথা। এখন আপনার বয়স ৩০ বছর বা ৪০ বছর। কাগজে কলমে খারাপ বাকি আছে দশ বছর। এই দশ বছরে আপনি হয়তো গল্প গুজবে সময় নষ্ট করবেন। খাওয়া-দাওয়ায় সময় নষ্ট করবেন , বাথরুমে সময় নষ্ট করবেন। আপনি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকবেন। কতটুকু সময় আপনি আল্লাহর জন্য বরাদ্দ রাখলেন?
সময় সচেতনতা ও জীবনের হিসাব
এটা কিন্তু বাড়বেও না কমবেও না। এইযে হিসাবগুলো আমাদের করা উচিত ।আমাদের প্লান করা উচিত যে এই দশ বছর আমরা কি করব? ২০২১ সালের আমার প্ল্যান কি? ২০২১ সালে আমি দিনের জন্য কি করতে চাই। ২০২২ সালে আমি আরো কতটুকু আগাতে চাচ্ছি। ২৩ সালে আমার পরিকল্পনা কি? ২৪ ,২৫ এভাবে করে আমার পরিকল্পনা টা কি ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিকগতা অর্জন করা ।পারিবারিক মূল্যবোধ , সামাজিক দাওয়াত ইসলামের ঐক্য, ইসলামের পথে দাওয়াত , জিহাদ এই বিষয়ে আমার পরিকল্পনাটা কি । এই কাগজে -কলমে হিসাবটা করতে যদি আমরা ব্যর্থ হই। তাহলে আল্লাহ পাক ওই যে সূরা নাহলে বলেছেন সূরা আরাফের মধ্যে আছে এটা ১৭৯ নাম্বার আয়াতে। এরা হচ্ছে গবাদি পশুর মত। বরং তার চেয়েও এরা নিকৃষ্ট। এরা হচ্ছে গাফেল ,গাফেল । তাদের পরিণত সম্পর্কে এরা অজ্ঞ গাফেল। কারা এরা ? হৃদয়ে ছিল উপলব্ধি করত না। কান দিয়েছিলাম শুনতো না। চোখ দিয়েছিলাম চোখ দিয়ে দেখত না। এরাই হচ্ছে গবাদি পশুর মত এরা তার চেয়েও নিকৃষ্ট এবং এরা গাফেল।আল্লাহপাক বলেছেন এদেরকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করবেন । প্রচুর মানুষ এবং জিন দিয়ে আমি জাহান্নাম পূর্ণ করব। এই গাফেল সম্প্রদায় কে দিয়ে । তো সময় সম্পর্কে আমরা যদি সচেতন না থাকি আমরাও গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হব কোন সন্দেহ নাই। তো আমাদের সবার উচিত লাইফ স্টাইলটাকে চেঞ্জ করা। লাইফের শিডিউল প্লান্ট পরিকল্পনা করা। যে আমার হায়াত কতটুকু বাকি থাকতে পারে। একটা ধরে নিলাম একজন মানুষের গড় আয়ু ৬০ বছর। এরপর হিসাব করে আগান। আরেকটা বিষয় আল্লাহ পাক সময়ের কসম করে আমাদের বুঝাতে চাচ্ছে সেটা হল স্পেশালি আমরা যারা শেষ জামানার মানুষ। আমরা যার উম্মতের মোহাম্মদী শেষ জামানার মানুষ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর ইন্তেকাল নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় চৌদ্দশ বছর পার হয়ে গেছে। তো এই চৌদ্দশ বছর পরের আমরা যারা মানুষ এই যে যেই মানুষগুলো আছি আমরা শেষ জামানার মানুষরা ।তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মধ্যে থাকবে। কারণ সময় যত গড়াবে দুনিয়াতে ফিতনা ফাসাদ ততই আসতে থাকবে। আপনি যদি কুরআন এবং হাদিস থেকে শেষ জামানার আমার আলামত গুলো পড়াশোনা করেন দেখবেন ৯০ থেকে ৯৫ পার্সেন্ট আলামত আমরা দু চোখ দিয়ে দেখতে পাচ্ছি এখন। উচু উচু বিল্ডিং সমাজের সমস্ত মানুষ সুদ খাচ্ছে ব্যাপক হারে মানুষ যেনা করছে , ব্যভিচার করছে , পরকীয়া করছে ,ধর্ষণ হচ্ছে , ঘুষ খাচ্ছে , দুর্নীতি করছে , খুন হচ্ছে ,হত্যা হচ্ছে , রাহাজানি হচ্ছে , মুসলিমদেরকে হত্যা করছে , ইসলামের খিলাফত উঠে যাচ্ছে , আল্লাহ বিরোধী আইন শাসন বাস্তবায়ন হচ্ছে । এমন কোন সাইন বা আলামত আমরা দেখি নাযেটা কুরআন হাদিস থেকে যেটা এই জামানায় আসলে বাস্তবায়ন হয় নি । সেগুলো শেষ জামানা সাইন ।
part 4 শেষ জামানায় আমরা যারা বাস করছি। আমাদের জন্য সময়টা আরো বেশি সংকীর্ণ। কারণ এই জামানাতেই মাসিহুদ দাজ্জালের ফেতনা বের হবে। আর দাজ্জাল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাম বলেছেন এ হচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফেতনা। শেষ জামানায় যে মানুষগুলো আছে এরা বেশি ক্ষতির মধ্যে থাকবে। আরেকটা বিষয় আল্লাহপাক বুঝাতে চাচ্ছেন সেটা হচ্ছে যে সময়কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শপথ করে হিস্ট্রি বা ইতিহাসকে যাচাই করতে বলেছে। একটু খেয়াল করে দেখেন আদম আঃ থেকে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত যুগে যুগে আল্লাহ তাঁর রাসূল তার কিতাব এগুলো বিরোধিতা করেছে। এগুলার সাথে শত্রুতা করেছে। গুলোকে দমন প্রেরণ করার চেষ্টা করেছে হক থেকে দূরে থেকেছে। আল্লাহ পাক কাউকে ছাড় দেননি। আল্লাহ পাক সবাইকে ধ্বংস করেছে। আল্লাহ পাক সবাইকে সমানে ধ্বংস করেছে। ওই নুহ আলাই সাল্লাম এর দিকে তাকিয়ে দেখেন ধ্বংস। তার কওম কে প্লাবন দিয়ে ধ্বংস করা হলো। আদ জাতির দিকে তাকান সুঠামদেহের অধিকারী সবাই আল্লাহ পাক ঝড় দিয়ে ধ্বংস করে দিলেন সামুদ জাতির তারাও সুঠামদেহের অধিকারী আল্লাহপাক বজ্রপাত দিয়ে প্রচন্ড শব্দ দিয়ে ধ্বংস করে দিলেন। কমিলুত সহকামি আল্লাহ পাক পুরা জমিটাকে তুলে আবার নিচে ধসিয়ে দিলেন। শোয়াইব আঃ এর কওম তার কওমকে আল্লাহ পাক ভূমিকম্প দিয়ে ধ্বংস করে দিলেন। ফেরাউনের কওম আল্লাহ পাক তাদেরকে পানিতে ডুবিয়ে মারলেন। একটা একটা করে এক্সামপল দেখেন হিস্ট্রিতে। যারাই আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল এবং ইসলামের বিরোধিতা করেছে আল্লাহ পাক কাউকে বাদ রাখেন নাই সবাইকে ধ্বংস করে ফেলেছেন ।তো এই যুগেও যারা কোরআন ,ইসলাম এবং সুন্নাহর বিরোধিতা করবে আল্লাহ পাক এদেরকেও ছাড় দিবেন না ইনশাআল্লাহ । কাউকে আল্লাহ পাক ছাড় দিবেন না। আল্লাহ পাক সূরা বনী ইসরাঈলের মধ্যে বলেছেন কিয়ামতের আগেই এমন কোন জালিম জনপদ নেই যাদেরকে আমি আল্লাহ ধ্বংস করব না। অথবা তাদেরকে প্রচন্ড শাস্তি না দিচ্ছি। আর এটা অনেক আগেই কিতাবে লিখা হয়ে গিয়েছে মানে তাকদিরের যে কিতাব সেখানে লেখা হয়ে গেছে অলরেডি । আমি এই যুগে আবু জাহেল যারা আছে এই যুগের যারা ফেরাউন এই যুগে যারা নমরুদ তাদেরকে সতর্ক করব আল্লাহ পাক সময় কসম করে তাদেরকে সতর্ক করেছে। প্রত্যেক যুগে যুগে আল্লাহর সুন্নাহ। আল্লাহ সুন্নাতের মধ্যে কোন ব্যক্ত আপনি দেখতে পারবেন না। আর যুগে যুগে যারা আল্লাহ তার রাসূল এবং ইসলামের আনুগত্য স্বীকার করেছেন মন থেকে মেনে নিয়েছে মুখে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং আমল করেছে ।আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছে আল্লাহ পাক তাদেরকে জান্নাত দান করেছেন।
শেষ জামানা ও ফিতনার আলামত
দুনিয়াতে হয়তো তাদের পরিনীতি আপাতত দৃষ্টিতে ভালো মনে হচ্ছে না। দুনিয়াতে ওরা অনেক মার খাচ্ছে । দুনিয়াতে ওরা অনেকে স্ট্রেগাল করতে হচ্ছে । অনেক সমস্যা ফেস করতে হচ্ছে । কিন্তু ইনশাআল্লাহ তায়ালা তারা পরকালে জান্নাতি হবে ইনশাআল্লাহ। এই হল সহজ সরল সমাধান । আল্লাহ তায়ালা সময়ের কসম করে একটা বার্তা দিচ্ছেন আপনাকে আমাকে সেটা হল নিঃসন্দেহে পুরো মানবজাতি ক্ষতির মধ্যে আছে। এই ক্ষতিটা কেমন? এই ক্ষতিটা আসলে দুই প্রকার। একটা হচ্ছে দুনিয়াবী ক্ষতি আরেকটা হচ্ছে পরকালের ক্ষতি। পরকালের ক্ষতি তো আমরা বুঝতে পারি মাশাল্লাহ মোটামুটি যে মানুষকে এবং জ্বীনকে হিসেবে সম্মুখীন হতে হবে। তাদের জান্নাত জাহান্নামের ফয়সালা হবে। মানুষের মৃত্যু হবে কবরের প্রশ্ন হবে। আবার হাশরের মাঠে আবার পাঁচটা প্রশ্ন হবে। আবার মিজানের ব্যাপার আছে পুলসিরাতের ব্যাপার আছে জাহান্নামকে টেনে আনা হবে। কত সমস্যা এগুলো পরকালীন ক্ষতি । কিন্তু মানুষের চলাফেরা দেখলে মনে হয় না যে এগুলো পরকালে মানুষকে ফেস করতে হবে। আমাদের চলাফেরা দেখলে মনে হয় না আমাদেরকে এগুলো ফেস করতে হবে সুবহানআল্লাহ । আসলে আমরা দুনিয়ার মোহে এতটাই গাফেল হয়ে আছি শয়তান আমাদেরকে এমনভাবে ভুলিয়ে দিয়েছে বিষয়গুলা। আমরা এগুলো ভুলে থাকতে চাই। খেয়াল করে দেখবেন একটা সময় ছিল কবরস্থানগুলোকে মসজিদের আশেপাশে রাখা হতো। এখন দেখবেন সমাজে কবরস্থান থাকে সমাজের অন্য একটা প্রান্তে যেখানে আপনি বছরে একদিনও যাবেন না। প্রতিদিন মানুষ নামাজ পড়তে যাবে আসবে কবরস্থান দেখবে এবং মনে মনে ভাববে যে আমাকেও একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে এটা ছিল রাসুলের সুন্নাহ। এখনো দেখেন নববীর পাশে। বাকিউল গারকাদ মদিনার নববী মসজিদের পাশেই আছে । তো এই গডলেস সভ্যতায় পশ্চিমা সভ্যতায় সেকুলার যারা সোসাইটি আছে এরা মানুষকে পরকাল থেকে দূরে রাখতে চায়। এরা চায়না মানুষ পরকালীন জীবন নিয়ে চিন্তা করুক। কারণ যদি কোন মানুষ পরকাল নিয়ে চিন্তা করে। এবং তার আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে আল্লাহকে জবাবদিহি করতে হবে। এই বিষয় গুলো নিয়ে তিনি যদি চিন্তা ভাবনা করেন । তাহলে তার পক্ষে পাপ করা সম্ভব না। বা করলেও সে আল্লাহর কাছে ফিরে আসবেন তওবা করে। এজন্য গডলেস এই সভ্যতা সেক্যুলার এই সভ্যতা তারা চায়। আমরা যেন আল্লাহর থেকে দূরে থাকি। পরকালের সম্পর্কে চিন্তাভাবনা না করি খালি দুনিয়া দুনিয়া আর দুনিয়া । আল্লাহর কাছে দুনিয়ার মূল্য কতটুকু একটা মাছির ডানার চেয়েও কম। একটা হাদিসে এসেছে যদি আল্লাহর কাছে এই দুনিয়ার মূল্য হত একটা মাছির ডানার সমানও। তাহলে আল্লাহ পাক কোন কাফের মুশরিককে এক ঢোক পানি খেতে দিতেন না। আল্লাহ পাক বলেছেন প্রত্যেক মানুষ ক্ষতির মধ্যে আছে একটা ক্ষতি পরকালীন ক্ষতি আরেকটা হচ্ছে ইহকালীন ক্ষতি। ইহকালীন ক্ষতিটা কেমন? ইহকালীন ক্ষতিটা এমন যে একটু খেয়াল করে দেখেন আমাদের জীবনে যতগুলো সেক্টর আছে ব্যক্তি জীবন , পারিবারিক জীবন , সামাজিক জীবন , অর্থনৈতিক জীবন বা পলিটিক্যাল লাইফ বা রাষ্ট্রীয় জীবন। প্রত্যেকটা জীবনের দিকে তাকাবেন দেখবেন যে প্রতিটা সমস্যার মূল কেন্দ্র হচ্ছে মানুষ। কোন সমস্যা আল্লাহপাক আসমান থেকে নাযিল করে দেন না। এর দলিল কুরআনে আছে। আল্লাহপাক নাযিল করেন শাস্তি সমস্যা নয়। যখন উম্মাহ কথা শুনেনা তখন আল্লাহ পাক শায়েস্তা করার জন্য শাস্তি দেন ওইটা আলাদা জিনিস । প্রবলেম এর রুট ওটা হচ্ছে মানুষ। সূরা রাদ এর মধ্যে আছে আরেকটা হচ্ছে সূরা রুমের মধ্যেও আছে। সূরা রুমের মধ্যে সম্ভবত ৩৪ নম্বর আয়াত বা ৩৮ নাম্বার আয়াত খেয়াল করে দেখবেন আল্লাহ পাক বলেছেন জলে এবং স্থলে যত বিপদজয় ছড়িয়ে পড়েছে সব বিপদজয় মানুষের হাতের কামাই। এটা আল্লাহর কথা।
মানবজাতির ক্ষতি ও এর উৎস
জলে এবং স্থলে যত বিপদজয় ফাসাদ ছড়িয়ে পড়েছে এগুলো মানুষের হাতের কামাই। আল্লাহ পাক যখন আদম আলাইহিস সাল্লামকে সৃষ্টি করছিলেন ফেরেশতারা কিন্তু ভেটো দিয়েছিলেন। তারাও কিন্তু দুটো কথা বলেছিলেন। আপনি কি এমন কাউকে সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন যে ব্যক্তি পৃথিবীতে গিয়ে ফাসাদ সৃষ্টি করবে অথবা রক্তপাত ঘটাবে। পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখেন মানুষ এখন পৃথিবীতে কি করে , হয় ফাসাদ সৃষ্টি করে না হয় রক্তপাত ঘটায়। তাদের দূরদর্শিতা দেখেন আমরা আজকের তা বাস্তবায়ন করছি। কিন্তু আল্লাহ বলেছিলেন না আমার কিছু বান্দা থাকবে যারা আমার অনুগত্য করবে। আমি যা জানি তোমরা সেটা জানো না। এই যে দুনিয়ার যে ক্ষতিগুলো আছে আল্লাহ পাক যেটা বললেন সূরা আছরের মধ্যে এর মূল জর আর উৎস হচ্ছে মানুষ। আমাদের ব্যক্তিগত সমস্যা মানুষের পক্ষ থেকে আসছে। পরিবারের সমস্যা মানুষের মস্তিষ্ক বসত সমস্যা। সমাজের সমস্যা সমাজে যখন মানুষ আল্লাহর বিধান শাসন বাদ দিয়ে মানুষের বিধান শাসন চাপিয়ে দিয়েছেন তখন এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে । পলিটিক্যাল লাইফের সমস্যা একই সিস্টেম। গ্লোবারির সমস্যা একই কারণ। আর অর্থনৈতিক সমস্যা আল্লাহর হেদায়েত বাদ দিয়ে সুদ চালু করেছেন এখন আর প্রগ্রতি হবে না এখন খালি প্রোপার্টি এবং ডিস্ট্রিবিউশন হবে । অধঃপতনের অধঃপতলে যাবে মানুষ। তো সমস্যার জর বা উৎস হচ্ছে মানুষ। আল্লাহপাক বলেছেন চারটা গুণ যারা অর্জন করতে পারবে তারা এই ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকবে । সুসংবাদ চারটা গুণ একই সাথে এমন না দুইটা গুন আছে দুইটা গুণ নাই। চারটা গুনই যারা অর্জন করতে পারবে আল্লাহ বলছেন তারা এই ক্ষতি থেকে মুক্ত থাকবেন ইনশাআল্লাহ । ক্ষতি মুক্ত থাকবে মানে ইনশাআল্লাহ তারা জান্নাতে যাবে। যারা ঈমান এনেছে। প্রথম কাজ কি যারা ঈমান নিয়ে এসেছে। দুই নাম্বার কি সৎ আমল সম্পাদন করেছে। পরস্পরকে হকের দাওয়াত দিয়েছে। পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছেন । তাহলে আমরা বুঝতে পারছি আমাদেরকে প্রথম যে কাজটা করতে হবে সেটা হচ্ছে ঈমান। দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের শিক্ষিত এই সমাজকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় ঈমানের ভিত্তি কয়টা তাহলে তারা বলতে পারেনা। তাদের নাম কিন্তু আব্দুল্লাহ , আব্দুল রহিম , আব্দুর রহমান। তারা বছর বছর হজ্ব করে উমরা ও করে। যদি বলেন ওযুর ফরজ কয়টা বলতে পারেনা। ইসলামের ভিত্তি কয়টা বা আরকান কয়টা বলতে পারেনা। কুরআনে কয়টা সূরা আছে সেটাও বলতে পারে না? আর যদি ভুলে জিজ্ঞাসা করে ফেলেন এই সূরাতে কি বলা হয়েছে বা এই আয়াতটা কোন সূরায় আছে তাহলে তো মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়বে। এদিকে মাশাল্লাহ তার ডিগ্রি আছে। তো আমাদের প্রথম কাজই হচ্ছে ঈমান ।ঈমান মানে হচ্ছে বিশ্বাস। কিসে বিশ্বাস করব। হাদিসের জিবরীল পড়লে দেখবেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে জিব্রাইল আলাই সাল্লাম প্রশ্ন করেছিলেন ঈমান কাকে বলে। তিনি ছয়টা পিলারের কথা বলেছিলেন। এক নাম্বার হচ্ছে আল্লাহই বিশ্বাস করা। দুই নাম্বার হচ্ছে ফেরেশতা গণের প্রতি বিশ্বাস। তিন নাম্বার হচ্ছে আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস। চার নাম্বার নবী রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাস। ৫ নাম্বার পরকালের জীবনের প্রতি বিশ্বাস। ৬ নাম্বার তাকদির ভাগ্যের ভালো-মন্দের দিকে বিশ্বাস। এই ছয়টা পিলারের প্রতি যে ব্যক্তি মন থেকে বিশ্বাস করে মুখে স্বীকৃতি দেয়। এবং কাজে বাস্তবায়ন করে তাকে বলা হয় মুমিন।
ঈমানের ছয়টি মূলনীতি
আবারো বলছি এই ছয়টা পিলারকে যে ব্যক্তি মনে বিশ্বাস করে হৃদয় থেকে বিশ্বাস করে , মুখে স্বীকৃতি দেয় এবং কাজেও বাস্তবায়ন করে তার নাম হচ্ছে মুমিন । যে ব্যক্তি মনে বিশ্বাস করে না মুখে স্বীকৃতি দেয় না কাজও করে না এর নাম কাফের। আর যে ব্যক্তি মনে বিশ্বাস করে না , মুখে স্বীকৃতি দেয় আর কাজও করে না সে হচ্ছে মুনাফিক। আমি বুঝাতে পারলাম এই হল ক্লাসিফিকেশন। আবার কিছু মানুষ মনে বিশ্বাস করে আবার মুখেও স্বীকৃতি দেয় কিন্তু কাজে বাস্তবায়ন করে না এর নাম হচ্ছে জালেম ফাসেক ।একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে অনেকগুলো হুকুম চলে আসে আর কি ।আমাদের কাজ হবে এই ছয়টা পিলারকে মন থেকে বিশ্বাস করা মুখে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তথা অনুযায়ী কাজে বাস্তবায়ন করা । শুধু বললেই হবে না আমি মুমিন আমি মুসলিম আপনাকে কাজেও বাস্তবায়ন করতে হবে। অনেকেই বলে আমি নামাজ পড়ি না তাতে কি হয়েছে আমার ঈমান পাক্কা মজবুত আছে ।কথাগুলো শুনলে আমাদের মাঝে মাঝে খারাপ লাগে। কথাগুলো আমরা শুনি দুঃখ জনক। তো এইটা ঈমান নয় ভাই । ঈমান আনতে হলে আপনাকে কাজও বাস্তবায়ন করতে হবে। আপনার জন্য সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হচ্ছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি ছিলেন সবচেয়ে উচু স্তরের মুমিন। তার জীবনটা আপনি দেখেন তার সিরতটা আপনি পড়েন।তিনি যেভাবে চলেছেন আপনাকেও সেভাবেই চলতে হবে। এটাই সুন্নাহ এটাই উশয়াতুল হাসানা। একটা বিষয় আপনাদেরকে দৃষ্টি আকর্ষণ করবো দেখুন। ঈমানের যে এই ছয়টা পিলার এই ছয়টা পিলারকে আপনি বিজ্ঞান দিয়ে যুক্তি দিয়ে দর্শন দিয়ে প্রমাণ করতে পারবেন না। আজকালকার যে এডুকেশন সিস্টেম লেখাপড়া সিস্টেম এখানে শেখানো হয় জ্ঞান হচ্ছে সেটাই যেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যেটা সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় সেটাই হচ্ছে জ্ঞান। এখন আল্লাহকে ল্যাবরেটরিতে প্রমাণ করা যাচ্ছে না অতএব আল্লাহর অস্তিত্ব নাই। মালাইকা কে ল্যাবরেটরীতে প্রমাণ করা যায় না যুক্তি দিয়ে বিজ্ঞান দিয়ে দর্শন দিয়ে অতএব মালাইকার কনসেপ্ট বাদ । নবী রাসূলগনদের আমরা দেখি নাই বিশ্বাস করা যাবেনা কারণ আনছিন কোন কিছু বিশ্বাস করা যাবে না। তারপর তাকদীর , তাকদীর আবার কি জিনিস এটা তো দেখাও যায় না ছুঁয়াও যায় না স্পর্শ করা যায়না পরীক্ষাগারে প্রমাণ করাও যায় না আপনার বেটাকে বিশ্বাস করা যাবে না। তারপরে আবার পরকালের জীবন কবরের আজাব , জান্নাত , জাহান্নাম এগুলো আমরা দেখি নাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিজ্ঞান দর্শন যুক্তি দিয়ে এগুলোকে প্রমাণ করা যায় না। অতএব এগুলো বাদ। এই একটা কারণে এই জ্ঞানের ভিত্তির পার্থক্যের কারণে আজকের এই সিস্টেম সেকুলার। তাদের জ্ঞানের উৎস হচ্ছে পরীক্ষা নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণ এবং প্রমাণ হলে তারপরে জ্ঞান নিব। আর আমাদের জ্ঞানের উৎস হচ্ছে অদৃশ্যককে বিশ্বাস করা। আল্লাহকে দেখি নাই বিশ্বাস করি রাসূলগণদেরকে দেখি নাই বিশ্বাস করি। ফেরেস্তাগনদেরকে দেখি নাই তাও বিশ্বাস করি। আসমানি কিতাবগুলো কি একটাও আমরা দেখেছি আগের গুলো তাও বিশ্বাস করতে হয় । তাকদীর দেখেছেন কখনো বিশ্বাস করতে হয়। পরকালের জীবন মৃত্যু হাসর নাসর কবরের আজাব দেখেছেন আমাদের বিশ্বাস করতে হয় । আমাদের বিশ্বাসের ভিত্তি হচ্ছে গায়েব।
মুমিন, কাফির ও মুনাফিকের পরিচয়
আর ওই পশ্চিমা সভ্যতা আর তাদের যত দোসোর আছে সারা ওয়ার্ল্ডে তাদের জ্ঞানের ভিত্তি হচ্ছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা যুক্তি বিজ্ঞান আর দর্শন। এই জায়গাটা শিকড়ের পার্থক্য আছে ওদের সাথে আমাদের মধ্যে। এই কারণে ওরা গডলেস ওয়াল্ড আল্লাহ ছাড়া একটা সভ্যতা। আর ওই সভ্যতার কার্বন কপি এখন সমস্ত মুসলিম দেশে।প্রতিটা মুসলিম কান্ট্রিতে এখন সেই সভ্যতাই চলছে। আর আমাদের ছেলেমেয়েরা যে এডুকেশন সিস্টেমে পড়াশোনা করছে সেটাও এই গডলেস এডুকেশন সিস্টেম। ওরা কখনো গায়েবীকে বিশ্বাস করবে না ইভেন তারা কখনো ইনশাআল্লাহ কথাটাও বলবে না। ইনশাআল্লাহ বললে আপনি মৌলবাদী হয়ে যাবেন । যাইহোক ইমানের এইচ ৬ টি পিলার। আমাদের কাজ হল মনে বিশ্বাস করা মুখে স্বীকৃতি দেওয়া এবং কাজে বাস্তবায়ন করা। দুই নাম্বার ঈমানের পরপর যে কাজটা হোক সেটা হলো আমিনুসলিহাত আমলের সলেহ করতে হবে সৎ আমল করতে হবে। এখন আমলের সলেহ এর সংজ্ঞাটা কি? সহজ কথায় সংজ্ঞা হচ্ছে আল্লাহ পাক তার পাক কালাম এর মধ্যে কোরআনে কারিম এর মধ্যে এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোরআন এবং হাদিসের কিতাব গুলোর মধ্যে যত ভালো কাজ করতে বলেছেন সবই আমলে সলহে । ফর এক্সাম্পল পাঁচ ওয়াক্তের সালাত আপনার আমলের সলহে । আপনি যাকাত দিবেন সামর্থ্য হলে এটাও আমলের সলহে । সামর্থ্য হলে আপনি হজ্ব করবেন ওমরা করবেন এটাও আমলের সলহে। রমজানে সওম রাখবেন এটাও আমলের সলহে। ইভেন আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে হাসিমুখে কথা বলছেন বা স্ত্রীর সাথে মিলিত হচ্ছেন দোয়া পড়ে এটাও আমলে সলহে । বাথরুমে ঢুকছেন দোয়া পড়ে এটাও আমলে সলহে । ঘুমাচ্ছেন দোয়া পড়ে এটা আমলের সলহে । একজন মুমিন ভাইয়ের সাথে কথা বলছেন হাসিমুখে এটাও আমলের সলহে । এই যে জুম্মার নামাজ পড়তে আসলেন প্রতি পদে পদে কদম ফেলছেন এটাও আমলের সলহে । প্রতিটা কাজ মুমিনদের প্রতিটা কাজ যদি সুন্নাহ মোতাবেক হয় যদি রাসূলের আদর্শ মোতাবেক হয় তাহলে প্রতিটা কাজই আমলে সলহে । তো সমস্যা অন্য জায়গায় সমস্যাটা হচ্ছে আল্লাহ এবং তার রাসুল কুরআন এবং হাদিসে যত কাজ থেকে আমাদেরকে নিষেধ করেছেন সেই কাজগুলো থেকে দূরে থাকাও কিন্তু আমলে সলহে । এই জায়গায় আমাদের সমস্যা। কারণ আমরা কাজ তো করতে চাই অনেক কিন্তু নিষেধ গুলো বর্জন করতে চাই না। খেয়াল করে দেখবেন মাশাআল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়ে আবার সুদ খায়। বছর বছর হজ্ব ওমরা করছে আবার ঘুষ ও নিচ্ছে দুর্নীতি ও করছে। মানুষের সম্পদকে আত্মসাৎ ও করছে। বোনের জমি দিচ্ছে না , পিতা-মাতার খেয়াল রাখছেনা। ভাইয়ের সাথে ভাইয়ের শত্রুতা , প্রতিবেশীর সাথে প্রতিবেশী শত্রুতা। মানে আমরা কিন্তু নিষেধ ছাড়তে চাই না। আমরা আমল করতে চাই আল্লাহ রাসুল যা আদেশ করেছেন তা আমল করতে চাই মাশাল্লাহ।এতে কারো কোন আপত্তি নাই ।কিন্তু নিষেধগুলো ছাড়তে চাই না। তাদের জন্য আল্লাহ পাক একটা সুসংবাদ দিয়েছেন । সুরা বাকারার মধ্যে আছে আয়াত নাম্বার ৮৫ বা ৮৬ । তোমরা কি কুরআনের বা শরীয়তের কিছু অংশকে মানো এবং কিছু অংশকে মাননা? তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশকে মানো এবং কিছু অংশকে মানো না? ভালো কাজ করো খারাপ কাজ ছাড়ো না অনেকটা এমন। যারা এ কাজগুলো করবে তার সাজা হচ্ছে আল্লাহ পাক তাদেরকে এই দুনিয়াতেই লাঞ্ছিত করবেন। এটা শাস্তি। আল্লাহ পাক এই দুনিয়ায় তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন। আমাদের লাঞ্ছনা আর কারণ হচ্ছে আমরা কিতাবের কিছু অংশকে মানি কিছু অংশকে মানি না এটাই বাস্তবতা । আমরা নামাজ পড়তে চাই সুদ ছাড়তে চাই না। আমরা যাকাত দিতে চাই কিন্তু ঘুষ ছাড়তে চাই না। রমজান মাসে রোজা রাখতে চাই গীবত , তহমত হিংসা-বিদ্বেষ ছাড়তে চাই না।
সৎ আমল ও নিষেধ বর্জনের গুরুত্ব
আমরা বছর বছর হজ্ব ওমরা করতে চাই।আল্লাহ পাকের সারিয়া বাস্তবায়ন করতে চাই না। আমরা মসজিদের কোনায় বসে তসবি টিপতে চাই। কিন্তু আল্লাহর পথে দাওয়াত জিহাদ করতে চাই না। আমরা কিছু অংশ মানি কিছু অংশ মানি না। এ কারণে আল্লাহ পাক বলেছেন তোমাদেরকে আমি লাঞ্ছিত করব। এই যে লাঞ্ছিত হচ্ছি আমরা। আল্লাহ আরো কঠিন কথা বলেছেন। সেটা হচ্ছে তোমরা যদি দায়িত্ব পালন না কর হে উম্মতি মোহাম্মদ তোমরা যদি দায়িত্ব পালন না কর আমানতের খেয়ানত করো ।আল্লাহ পাক অন্য কওমকে তোমাদের জায়গায় নিয়ে আসবেন। তোমাদেরকে সরিয়ে দিবেন তোমাদের জায়গায় অন্য কওমকে নিয়ে আসবেন। ওরা তোমাদের মত অকৃতজ্ঞ হবে না এটা আল্লাহর কথা সূরা মুহাম্মদ এর মধ্যে আছে। সূরা তাওবার মধ্যে আরো এসেছে যদি তোমরা বের না হও আল্লাহ পাক তোমাদেরকে ভয়ংকর শাস্তি দিবে। তো আমাদের উচিত হবে যে আমরা কুরআনের। তো আমাদের উচিত হবে যে আমরা কুরআনের আদেশগুলো মানি হাদিসের আদেশগুলোও মানি । এট দা সেম টাইম আমরা যেন নিষেধগুলো থেকে দূরে থাকি। যদি না মানি তাহলে আমলের সলহে এর ডেফিনেশন পূর্ণ হবে না। ঈমান এনেছি মাশাআল্লাহ আমলের সলহে মেনেছি মাশাল্লাহ এবার হচ্ছে পরস্পরকে হকের উপদেশ দেয়া হকের দাওয়াত দেওয়া। তো হকের দাওয়াত দেয়ার জন্য আগে জানতে হবে হকটা কি জিনিস। আমি যদি আমার মস্তিষ্কের থেকে একটা দর্শন বের করি সেটা কি হক? আমি যদি আমার মস্তিষ্ক থেকে একটা মতবেক বের করি সেটা কি হকের মানদণ্ড হবে ? আমি যদি আমার মন গড়া একটা বিধান রচনা সংবিধান করি এটাই কি চূড়ান্ত হক ? হকের সংজ্ঞাটা আসলে কি ? হকের সংজ্ঞাটা পাবেন আপনি কুরআনে , কুরআনকে কথা বলতে দেন যে কুরআন কি বলে? কুরআন বলেছে সূরা কাহাফ এর মধ্যে আয়াত নাম্বার ২৪ থেকে ২৯ এই পর্যন্ত পড়বেন। আল্লাহপাক বলেছেন হে নবী আপনি বলেদেন হক সেটাই যেটা আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে নাযিল হয় সুবহানআল্লাহ। হক সেটাই সত্য সেটাই যেটা তোমার রবের পক্ষ থেকে নাযিল হয় সুবহানাল্লাহ। যার ইচ্ছা হয় সে ঈমান নিয়ে আসুক যার ইচ্ছা হয় সে অস্বীকার করুক। আল্লাহপাক জরজবরদস্তি করবেন না। যারা অস্বীকার করবে আমি ওই জালেমদের জন্য পরকালে আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। দুনিয়াতে হয়তো আমি ছাড় দিব পরকালে আমি ছেড়ে দিব না। তো হকের সংজ্ঞা এখান থেকে নিতে হবে। হে নবী হক তোমার রবের পক্ষ থেকে আসে তুমি সন্দেহবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হইওনা। এখন প্রশ্ন হলো হক যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে তো আল্লাহর পক্ষ থেকে কি এসেছে? রবীন্দ্রনাথের কবিতা , নজরুলের দর্শন , পশ্চিমা সভ্যতার দর্শন , কাল মাক্স এর দর্শন , ডেমোক্রেসি , গণতন্ত্র , সেকিউরিজম , না জাতীয়তাবাদ কি আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। আল্লাহর পক্ষ থেকে আসছে তা কি? সিম্পল প্রশ্ন। এর আগে আসছে তাওরাত। তখন তাওরাত ছিল হক। তারপর আসছে যাবুর ।যাবুর ছিল ওই সময়ের হক । তারপর আসলো ইঞ্জিল । ইঞ্জিল ওই সময়ের হক। এখন কোন কিতাব আমার কাছে বাকি আছে। আল্লাহ পাকের কোন কিতাব কোন নবীর সুন্নাহ কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। সিম্পল উত্তর আল্লাহর কিতাব পুরাণ আর নবীর সুন্নাহ হাদিস কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। আল্লাহর নবী শেষ ভাষণে কি বলে গিয়েছিলেন। আমি দুটো বস্তু ছেড়ে যাচ্ছি। কোনদিন পথভ্রষ্ট হবে না যতদিন পর্যন্ত তোমরা এই দুটোকে আঁকড়ে ধরে থাকবে। মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে থাকবে কোনদিন পথভ্রষ্ট হবে না।
হকের সংজ্ঞা ও কুরআন-সুন্নাহর মানদণ্ড
আল্লাহর কিতাব আল-কুরান তার নবীর সুন্নাহ হাদিস এর বাইরে কিছু নাই। কেউ যদি মনে করে আল্লাহর এই হকের বাইরেও হকের কোন উৎস আছে সেই ব্যক্তি নিশ্চিত কাফের কোন ডাউট নাই । কেউ যদি মনে করে কুরআন এবং সুন্নাহ হকের চূড়ান্ত মানদন্ড নয়। আমার বুদ্ধি , আমার যুক্তি , আমার দর্শন , আমার মতবাদ এর চেয়ে ভালো সে ব্যক্তি নিশ্চিত কাফের । সূরা মায়েদা আয়াত নাম্বার ৪৪ , ৪৫ এবং ৪৭। আল্লাহ নাযিলকৃত বিধান দ্বারা যে বিচার এবং ফয়সালা করে না। তারা কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহপাক আরো বলেছেন তারা জালেমদের অন্তর্ভুক্ত , তারা ফাসেক দের অন্তর্ভুক্ত। অতএব হকের মানদণ্ড হবে কুরআন এবং সুন্নাহ। এই হকটাকে আগে নিজে ধারণ করা এরপর আপনি আপনার পরিবারের প্রতি বাস্তবায়ন করুন। আপনার সামর্থ্য থাকলে আপনি সমাজে বাস্তবায়ন করুন। আপনাকে যদি আল্লাহ পাক রাষ্ট্রের ক্ষমতা দেয় তাহলে আপনাকে রাষ্ট্রে বাস্তবায়ন করতে হবে। যে যেই সেক্টরে দায়িত্বশীল আল্লাহপাক তাকে সেই সেই সেক্টরের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। আমাকে আল্লাহপাক জিজ্ঞাসা করবেন না যে তুমি রাষ্ট্রীয়ভাবে তুমি হক প্রতিষ্ঠা কেন করো নাই নো। আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে কারণ আল্লাহপাক আপনাকে ওই দায়িত্ব দিয়েছে। আপনাকে আমাকে জিজ্ঞাসা করবে কি? আপনি আমি ব্যক্তিগত জীবনে বাস্তবায়ন করেছি কিনা পরিবারে বাস্তবায়ন করেছি কিনা। এবং আমাদেরকে আল্লাহ পাক যেই ক্ষেত্রে দিয়েছিলেন দাওয়াতি ক্ষেত্র সেখানে আমরা বাস্তবায়ন করেছি কিনা। যার দায়িত্ব যত উঁচু তার হিসাব হবে তত কঠিন।কেয়ামতের দিনে আল্লাহ পাকের সামনে সবাইকে খালি পায়ে ন্যাংটা হয়ে দাঁড়াতে হবে কোন কাপড়-চোপড় থাকবে না। খুব কঠিন বিষয়। অতএব হকের সাথে গাদ্দারি যেন আমরা না করি। হকটাকে আমরা বাস্তবায়ন করি আমাদের ব্যক্তি জীবনে আমাদের পারিবারিক জীবনে । আমাদের ব্যক্তি জীবন এবং পারিবারিক জীবন আগে। আল্লাহপাক বলেছেন আগে নিজে বাঁচো পরিবারকে বাঁচাও। তারপর আমাদের সামর্থ্য থাকলে সমাজে নামবো । আল্লাহপাক যদি ক্ষমতা দেন বিশ্বে ইসলামী হুকুমাত কায়েম হবে ইনশাআল্লাহ। আর এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই মুসলিমদের দীনমন্যতায় তাই ভোগ আর কোন কারণ নাই যে ইসলাম বিশ্বে বিজয় হবে না। ইসলামী বিশ্ববিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ তায়ালা আগামী অল্প কিছু সময়ের পরে। এখন যা দেখছেন এগুলোর কিছুই থাকবে না ইনশাল্লাহ তায়ালা। সবকিছু আল্লাহ পাক পরিবর্তন করে দিবেন যদি আমাদের মধ্যে সেই ঈমান , সেই চেতনা এবং সেই প্রচেষ্টা থাকতে শুধু দোয়া দিয়ে হবে না। দোয়ার সাথে সাথে কাজও করতে হয়। আল্লাহ পাক ওয়াদা করেছেন আল্লাহ পাক বলেছেন যে তিনি সেই আল্লাহ যিনি তার রাসূলকে প্রেরণ করেছেন হেদায়েতসহ এবং দ্বীনই হক সহ। যাতে করে ইসলাম অন্য সব দ্বীন এর ওপর বিজয়ী হতে পারে। যদিও বা কাফেররা এটা পছন্দ করবে না মুশরেকরা পছন্দ করবে না। আল্লাহপাক বলেছেন হীনোবল হইয়ো না দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ো না। তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। ওই যে ঈমানের কথা বললাম। আল্লাহ আরো বলেছেন তোমরা হীনবল হইও না। তোমরা ওদেরকে শান্তির চুক্তির দিকে ডেকো না। ওদের সাথে শান্তি চুক্তির দিকে ডাকার দরকার নাই। তোমরাই বিজয়ী হবে আল্লাহ তোমাদের সাথেই আছেন। আল্লাহ তোমাদের আমল বিনষ্ট করবেন না। কুরআন এগুলো কথা বলেছেন তার মানে সামনের সময়টা আমাদের। আমরা জানি ইমাম মাহাদী এবং ঈসা আলাইহিস সাল্লাম জেরুজালেম থেকে ইসলামের খেলাফত সামনে কায়েম করবে ইনশাআল্লাহ তায়ালা । এবং সারা বিশ্বে এমন কোন কাঁচা বাড়ি বা পাকা বাড়ি বাদ থাকবে না যেখানে ইসলামের কালেমা প্রবেশ করবে না। সম্মানের ঘরে সম্মানের সাথে। অসম্মানের ঘরে অসম্মানের সাথে। কেউ যদি এটা মেনে নেয় ইসলামকে মেনে নেয় তাহলে সে সম্মানিত হবে । এবং কেউ যদি ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চায় সে অসম্মানিত হবে লাঞ্ছিত হবে ইনশাআল্লাহ ।
ঐক্য, দাওয়াত ও সবরের পথ
এই হকটাকে আমাদেরকে প্রচার করতে হবে। এই হক প্রচার করতে গিয়ে একটা রিকোয়েস্ট থাকবে এখানে দল মতের সংকীর্ণ নিয়ে আসবেন না কাইন্ডলি। উম্মার জন্য এই সময়টা এখন খুবই খুবই সেনসিটিভ একটা সময়। এখন যদি আমরা বিভিন্ন দলে বিপক্ষ হয়ে যাই। তাহলে আমাদের ধ্বংস কেউ ঠেকাতে পারবেনা। আল্লাহর , রাসূল , কোরআন , সুন্নাহ এগুলো নিয়ে কারো মধ্যে কোন ইখতেলাফ নাই। আমাদের মধ্যে যে বিষয়ে ঐক্য আছে ওই দিকে আসেন। যে বিষয়ে ইখতেলাফ আছে ওইটা বাদ দেন আপাতত। সাহাবীদের যুগ থেকে ইখতেলাফ ছিল। সাহাবীদের যুগ থেকেই কিন্তু ইখতেলাফটা ছিল। এই ইখতেলাফ এর মাসালা গুলোকে নিয়ে যদি আমরা আঘাতে থাকি কোনদিনও এই উম্মার ঐক্য সম্ভব হবে না। তাই ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মে আসতে হলে আমাদেরকে একটু উদারনৈতিক হতে হবে। ছাড় দেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে তা না হলে ভাই ভাই এক জায়গায় বসতে পারবো না। একটা হাদিস বলি যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন তোমরা ততদিন পর্যন্ত জান্নাতে যেতে পারবা না যতদিন না পর্যন্ত তোমরা একে অপরকে ভালোবাসছো । আর আমি কি তোমাদেরকে বলে দিব কিভাবে তোমরা একে অপরের প্রতি ভালবাসা বৃদ্ধি করবে। সাহাবীরা বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ বলে দিন। তোমরা একে অপরকে সালাম দিতে শেখো। খেয়াল করে দেখেন আজকে সালাম সাম্প্রদায়িক হয়ে গেছে। নিজের দলের মধ্যে খুব ইকরামুল মুসলিমীন। নিজের দলের বাইরে আর কোন ইকরামুল মুসলিমীন নাই। আমার দলের মানুষকে আমি খুব সালাম-কালাম দিচ্ছি। আর আমি যে মানহাজ বা মাযহাব যে দল করি না ওটার বাইরের মানুষকে আমি সালাম কালাম দিচ্ছি না মুসলিম মনে করছি না । এমন একটা অবস্থা একদল আরেক দলকে মুসলিমই মনে করছে না। মনে করছে এরা মনে হয় কাফের হয়ে গেছে। এটা যদি চলতে থাকে আমাদের উন্মার ধ্বংস কেউ ঠেকাতে পারবেনা। যদি আপনি উম্মার বিজয় দেখতে চান তাহলে উম্মার স্বার্থে আপনাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একটা জায়গায় আসতে হবে। ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। এবং ইখতেলাফ বিষয়গুলোর মধ্যে জড়ানো যাবে না। ইসলাম বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য মন্দিতো আল্লাহ পাক সবাইকে বোঝার তৌফিক দান করুন আমিন। এটা হল হকের দাওয়াত। হকের দাওয়াত দিলে ফজিলত পাবেন কি যত মানুষ হক কবুল করবে সমস্ত মানুষের নেকি আপনি পাবেন। আর হক ছেড়ে দিলে কি হবে? হক ছেড়ে দিলে আল্লাহর গজব আসবে আসমান থেকে জমিন থেকে। এরপর মানুষ আল্লাহর কাছে দোয়া করবে এই দোয়া আল্লাহপাক কবুল করবেন না। এটা সহি হাদিসে আসছে। এই হকের দাওয়াত আমাদেরকে দিতে হবে আল্লাহ পাক তৌফিক দান করুক। আরেকটা হল সবর হকের সাথে সবরের কি সম্পর্ক? যখনই আপনি হক নিয়ে মাঠে নামবেন তখনই আপনার ওপর বিভিন্ন রকমের বালা মুসিবত আসবে স্বাভাবিক। প্রথম বালা মুসিবত আসবে পরিবার থেকে তারপরে আসবে সমাজ থেকে। তারপর আসবে ধর্ম নেতার থেকে তারপর আসবে রাষ্ট্রীয় নেতার থেকে। ধাপে ধাপে যাবে আরকি । আমাদের নবীজির দিকে তাকিয়ে দেখেন তাকে পরিবার বয়কট করেছেন গাছের ছালপালা খেয়ে থেকেছেন। মানুষ তাকে ১৬ বার হত্যা করার চেষ্টা করেছে। মানুষ তাকে ১৫ টা গালি দিয়েছে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। তার দাঁত শহীদ হয়ে গিয়েছে। তাকে তায়েব বাসী এমন ভাবে আহত করেছে যে রক্ত দিয়ে তার জুতা আটকে গিয়েছে । তাকে বদরে যেতে হয়েছে , উহুদে যেতে হয়েছে , খন্দকে যেতে হয়েছে। কত যুদ্ধ করতে হয়েছে ।কত মানুষের লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছে । নিজের আপন লোকেরা , পরিবারের লোকেরা , চাচারা , নিজের কওম , নিজের সম্প্রদায় তাকে বের করে দিয়েছে। এটাই সুন্নাহ । হকের পথে থাকলে এরকম বিপদ আপদ বালা মুসিবত আসবে তখন সবর করতে হবে। আল্লাহ পাক সবরকারীদের সাথেই আছেন। তোমরা হীনবল হইয়ো না। আল্লাহ পাক সবরকারীদের সাথেই আছেন। প্রত্যেক নবী রাসূলকে সবর করতে হয়েছে এবং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে সবর করতে হয়েছে। এবং সাহাবা ইকরাম সবরের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তাহলে আজকেও যদি আমরা ঈমান নিয়ে আসছি আমলের সলহে করি এবং হকের দাওয়াত দেই। তখন বিভিন্ন রকমের চাপ আসবে তখন আপনাকে আমাকে সবর করতে হবে। সবর করার অর্থ কিন্তু এটাও নয় যে হাতগুটিয়ে ঘরে বসে থাকবেন। কম্বল গায়ে দিয়ে ঘরে বসে থাকবেন এটাও সবরের দৃষ্টান্ত নয়। সবর মানে পরিস্থিতির পরিবর্তন করার চেষ্টা করা। এবং এই চেষ্টা করার মধ্য দিয়ে যে বালা মুসিবত আসবে এই ক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করা। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে ধৈর্যধারণ করার তৌফিক দান করুন আমিন।
সাধারণ প্রশ্ন
সূরা আসরে কয়টি গুণের কথা বলা হয়েছে?
লেখায় বলা হয়েছে সূরা আসরে চারটি মৌলিক গুণের কথা আছে: ঈমান, সৎ আমল, হকের উপদেশ এবং ধৈর্যের উপদেশ। এই চারটি গুণ অর্জন না করলে মানুষ ক্ষতির মধ্যে থাকবে বলে বলা হয়েছে।
ঈমানের ছয়টি পিলার কী কী?
লেখায় উল্লেখ আছে ঈমানের ছয়টি পিলার হলো: আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ফেরেশতাগণের প্রতি বিশ্বাস, আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস, নবী-রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস, পরকালের প্রতি বিশ্বাস এবং তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস।
হকের মানদণ্ড কী বলা হয়েছে?
লেখায় বলা হয়েছে হকের মানদণ্ড হবে কুরআন ও সুন্নাহ। নিজের বুদ্ধি বা মতবাদকে চূড়ান্ত হক মানা যাবে না বলেও উল্লেখ আছে।
আল্লাহর নামে ছাড়া অন্য কিছুর কসম করা সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
লেখায় বলা হয়েছে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো নামে কসম করা জায়েজ নেই এবং যদি কসম করতেই হয় তবে আল্লাহর নামে করতে হবে। অজান্তে বললে আল্লাহ ক্ষমা করতে পারেন, তবে জেনেশুনে করলে তওবা ছাড়া ক্ষমার সম্ভাবনা কম বলা হয়েছে।