Islamবাংলা

নারীদের জন্য ওয়াজ

সৃষ্টির শুরু ও আল্লাহর একত্ব

আমাদের সমাজের একটা বড় অংশ আমাদের মা আমাদের বোন আমাদের স্ত্রী এবং আমাদের কন্যা সন্তান। এই বিষয়গুলো আমি কিছুটা হাইলাইট করব ইনশাআল্লাহ তায়ালা। আমাদের সমাজে সবচেয়ে বড় একটা অংশ নারী জাতি। তাদের কিছু বিষয় আমি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ তালা ।আর স্বতন্ত্র ভাবে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য আলাদা করে নাসিহাত করার জায়গা হয়ে ওঠে না। এই কথাগুলো শুধু নারীদের জন্য নয় বরং আমাদের জন্যও । এবং আমি চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো বিষয়টাকে কুরআন এবং সুন্নাহ এর সাথে বর্তমান প্রেক্ষাপট দিয়ে বিশ্লেষণ করার জন্য। আল্লাহপাক সবাইকে বোঝার তৌফিক দান করুন আমাকে বলা তৌফিক দান করুন। সর্বাগ্রে আমাকে আমল করার তৌফিক দান করুন আমীন। আমরা সৃষ্টির শুরুতে চলে যাই সেখান থেকে শুরু করি ইনশাআল্লাহ। ইতিহাসের শেষ পৃষ্ঠাটা জানতে হলে আপনাকে শুরুর পৃষ্ঠাটা পড়তে হবে। একটা হিস্ট্রির ইতিহাসের শেষ পৃষ্ঠা সম্পর্কে আপনার জ্ঞান অর্জন করতে হলে প্রথম পৃষ্ঠাটা পড়া দরকার। এর জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনের প্রথম সূরা সূরা ফাতিহার ঠিক পরেই দেখবেন সূরা বাকারা নাযিল করেছেন।এবং এর শুরুর দিকেই ইতিহাসের প্রথম ঘটনাগুলো আল্লাহপাক বলেছেন ।আপনাকে স্টাডি শুরু করতে হবে শুরু থেকে। এক লাফে কেউ গাছে উঠতে পারে। আল্লাহপাক প্রথম থেকে শুরু করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা হাদীদের মধ্যে একটা আয়াত বলেছেন আল্লাহ পাকই প্রথম এবং আল্লাহ পাকই শেষ আল্লাহ পাক প্রকাশ্য আল্লাহ পাক গোপন এবং তিনি প্রত্যেকটা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানী।অর্থাৎ এই সৃষ্টির শুরুতে কিছুই ছিল না শুধু মাত্র আল্লাহ পাকই ছিলেন। পুরো মহাবিশ্ব সৃষ্টির আগে কিছুই ছিল না শুধু আল্লাহ একা ছিলেন। যদি কারো মধ্যে ওয়াসওয়াসা আসে যে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন নাউজুবিল্লাহ। তাহলে পড়বেন আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। তারপরে পড়বেন আমান তু বিল্লাহি ওয়া রসূলিহ । তারপরে পড়বেন হুওয়াল আউয়ালু ওয়াল আখিরু ওয়াজ জাহিরু ওয়াল বাতিনু ওয়াহুয়া বিকুল্লি শাইয়িন আলিম।ইনশাল্লাহ ওয়াসওয়াসা কেটে যাবে। আর এই ওয়াসওয়াসা সেই প্রজন্মের কাছে বেশি আসে যেই প্রজন্ম চোখ থাকতে অন্ধ কলব থাকতেও উপলব্ধি করে না এবং কান থাকতেও শোনে না। যে প্রজন্ম দীর্ঘদিন পড়াশোনা করেছে এবং পড়াশোনা করার পরে নাস্তিক হয়ে গেছে। এবং আমরা আমাদের এই প্রজন্মগুলো কে বড় করছি এমন ভাবে যে ছোটবেলা থেকে এদেরকে এমন আদর্শে গড়ে তুলছি , এমন শিক্ষা দিচ্ছি , এমন পরিবেশে বড় করছি। একটা পর্যায়ের গিয়ে যৌবন বয়সে এরা বলছে আল্লাহ বলতে কেউ নাই নাউজুবিল্লাহ । তারা বলে ইসলাম সেই যুগের চলত এই যুগে চলে না। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো যারা পালন করে এরা মৌলবাদী এরা সন্ত্রাসী। ইসলামে পর্দার বিধান এটা ওই যুগে চলতো এই যুগে চলেনা এটা আধুনিকতার যুগ এগিয়ে যাওয়ার যুগ । এখনকার জেনারেশন এই কথাগুলো বলছে। ২৫-৩০ বছর তারা পড়াশোনা করার পরে ওযুর চারটা ফরজ তারা বলতে পারে না। নামাজের আরকান আহকাম গুলো বলতে পারেনা। যাকাতে নিসাব বলতে পারবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সিরাত বা জীবনী একটা বারও পড়ে দেখে নাই । ইভেন তারা কুরআনুল কারীম শুদ্ধ ভাবে পড়তে জানে না। এটা হচ্ছে আমাদের প্রজন্ম ।এই প্রজন্মকে যদি সংশোধন করা না যায় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের কাছাকাছি যদি না আনা যায়। দ্বীনের জন্য জীবন দেওয়া অনেক দূরের কথা , দিনের জন্য জীবন দেওয়ার টা অনেক দূরের কথা মানবতার কল্যাণেও কিছু করতে পারবে না।

কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব

দ্বীনের জন্য জীবন , জান , মাল , সময় , শ্রম বিলিয়ে দেওয়াতো অনেক উঁচু ঈমানের পরিচয়। সাধারণ যে বিষয়গুলো আছে এগুলোতেই তারা পিছিয়ে পড়বে। আল্লাহপাক একা ছিলেন । আল্লাহকে কেউ সৃষ্টি করেননি। আল্লাহপাক সবকিছু সৃষ্টি করেছেন ।লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ। ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ। তিনবার পড়লে এই সূরা আপনি কুরআন খতমের নেকি পাচ্ছেন। বারবার আমি বলি একটা কথা আপনারা কোরআন তেলাওয়াত বাড়িয়ে দিন। দৈনিক অন্তত পাঁচ পৃষ্ঠা বা ১০ পৃষ্ঠা কোরআন পড়ুন । কুরআন কারীমে তেলাওয়াত আপনার জীবনে বারাকা নিয়ে আসবে। আপনার হায়াতে রিজিকে ইনশাআল্লাহ বরকত নেমে আসবে ।বিপদ আপদ বালা মুসিবতে আপনি কম পড়বেন এবং রোগ ব্যাধি কম হবে ইনশাআল্লাহ। এবং আল কুরআন আপনার জন্য সুপারিশ করবে কিয়ামতের মাঠে ইনশাআল্লাহ। তো আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর পরে সৃষ্টি করেছেন আরশে আজিম।এবং আরশে আজিম ছিল পানির ওপরে। আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের বর্ণনা আল্লাহ পাক কুরআনে সূরা হাক্কার মধ্যে দিয়েছেন। আট জন ফেরেশতা আরশ কে বহন করে নিয়ে আসবে। ফেরেশতাদের আকৃতি চিন্তা করুন তাহলে। এখনকার সাইন্স আপনাকে শিখাবে চোখে যা দেখবেন তাই বিশ্বাস করবেন। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে যা সিদ্ধান্তে আসা যায় তাই বিশ্বাস করবেন। এর বাইরে জ্ঞানের কোন অস্তিত্ব নাই। এই কারণে তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করবে না কারণ চাক্ষুষ দেখা যাচ্ছে না। এই কারণে তারা ফেরেশতাদের কেউ বিশ্বাস করবে না। যেহেতু ফেরেশতাদেরকে আপনি পরীক্ষা করে প্রমাণ করতে পারছেন না। এই কারণে তারা জ্বীন জাতিকে বিশ্বাস করবে না। কবরের আজাব বা পরকালকে বিশ্বাস করবে না। এবং রূহ বা আত্মাকেও বিশ্বাস করবে না। জ্ঞানের এই যে মানদণ্ড নির্ধারণ করা হচ্ছে এটা একটা শিক্ষা সেক্টরের শিরক । এখনকার বিশ্বে প্রতিটা সেক্টরেই শিরক আছে । শিক্ষা , পরিবার , অর্থনীতি , রাজনীতি , জিও পলিটিক্স প্রতিটা সেক্টরে শিরক আসছে । আপনাকে দুই চোখ দিয়ে দেখতে হবে খিজির আলাই সাল্লাম এর মত। শুধু মুসা আলাই সাল্লাম এর মত বাহ্যিক চোখে নয় কেন নৌকা ফোটা করলেন ? কেন বাচ্চাকে হত্যা করলেন? কেন দেয়াল নির্মাণ করলেন? এভাবে নয়। বরং পেছনের কারণ আপনাকে খুঁজতে হবে। নৌকা ফোটা না করলে জলদস্যু নিয়ে যেত। বাচ্চাকে হত্যা না করলে এই বাচ্চা বড় হয়ে কাফের হতো পিতা-মাতাকে কাফের বানাত । দেয়াল নির্মাণ না করলে এর নিচে কি ছিল গুপ্তধন।এটা ওই এতিম বাচ্চাগুলো পেতো না। খিজির আলাই সাল্লাম এর কাছে আল্লাহর আত্যাধিকতা ছিল আল্লাহর নূর দিয়ে তিনি দেখেছেন। এভাবে আপনি দেখলে আপনি বুঝবেন সারা ওয়ার্ল্ডের প্রতিটা সেক্টরে কারেপশন দুর্নীতি এবং শিরক আছে প্রতিটা সেক্টরে । এটা হচ্ছে শিক্ষার ক্ষেত্রে শিরক। আপনি জ্ঞানের মানদ্বন্দ্ব নির্ধারণ করেছেন এমন একটা বিষয়কে যার মূল বক্তব্য হচ্ছে চাক্ষুষ যেটা আপনি দেখবেন না পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণে আপনি সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন না এর কোন অস্তিত্ব নাই।এই কারণে এরা ঈমানের ৬ পিলারের কোনটাই বিশ্বাস করেনা। এই পশ্চিমারা এবং যারা এই শিক্ষার দর্শনটা ছড়িয়ে দিয়েছে সারা বিশ্বে। এরা ঈমানের ৬ পিলারের কোনটাই বিশ্বাস করে না। তারা কি আল্লাহকে বিশ্বাস করে? মালাইকায় বিশ্বাস করে ? আসমানী কিতাবসমূহকে বিশ্বাস করে ? নবী রাসুলগণকে দেখেছে বিশ্বাস করে ? পরকালকে বিশ্বাস করে ? তাকদীর কে বিশ্বাস করে? কোনটাই বিশ্বাস করে না। এটা হচ্ছে ঈমানের ৬ টি পিলার।

জ্ঞানের মানদণ্ড ও আত্মার প্রশ্ন

যেটা বিশ্বাস না করলে আমাদের ঈমান থাকে আমি। আর আমাদেরকে এগুলো শেখানো হয়েছে যে এগুলোর মধ্য দিয়েই আপনি জ্ঞানলাভ করতে পারেন। এটাকে ফিলোসফির ভাষায় বলে দর্শনের ভাষায় বলে এপিস্টি মনোজি বা জ্ঞানতত্ত্ব। মনে রাখবেন এই জ্ঞানতত্ত্ব দিয়ে তারা বিশ্বকে পরিচালনা করছে। এটা আপনার শিক্ষা দর্শনের শিরক । শুধু আপনি জিজ্ঞাসা করবেন এক্সকিউজ মি মিস্টার সাইন্স ক্যান ইউ গিভ আস দ্যা ডেফিনেশন অফ রুহ । সাইন্স আপনি কি আমাদেরকে আত্মার সংজ্ঞা দিতে পারবেন। সাইন্স কে জিজ্ঞাসা করেন ।এ বিজ্ঞান তুমি কি আমাদেরকে আত্মার সংজ্ঞা দিতে পারবে। ব্যাস বিজ্ঞানের দৌড় শেষ। আল্লাহ বলেছেন সূরা বানি ইসরাইলের মধ্যে তারা তোমাদেরকে আত্মার সংজ্ঞা জিজ্ঞাসা করে। কারা? ইহুদিরা যারা মদিনায় ছিল। তারা তোমাদেরকে আত্মার সংজ্ঞা জিজ্ঞাসা করে। তাদের বলে দাও আত্মা হচ্ছে তোমার রবের আদেশ মাত্র। তোমাদেরকে এই বিষয়ে বেশি জ্ঞান দেয়া হয় নাই। সামান্য জ্ঞান দেয়া হয়েছে। আপনি জিজ্ঞাসা করবেন মেডিকেল সাইন্সকে বা সাইন্টিফিক রেগুলেশন কে আত্মার সংজ্ঞা কি দিতে পারবেনা। যে আত্মার সংজ্ঞা দিতে পারবে না , স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে পারবেনা , ঘুমের সংজ্ঞা দিতে পারেনা। যে পরকালের প্রতিটা স্টেজ কবরের আজাব, মালাইকা, জান্নাত, জাহান্নাম, মিজান , পুলসিরাত , আমলনামা ছুরে দেয়া ,তাকদীর এগুলোর ব্যাখ্যা করতে পারেনা। তাকে আপনি জ্ঞানের একমাত্র মানদণ্ড কেমন করে ভাবছেন। যখন আপনি তাকে জ্ঞানের চূড়ান্ত মানদন্ড ভাবছেন তখন আপনি শিরক করছেন। এটা জ্ঞানের একটা শাখা হতে পারে জ্ঞানের চূড়ান্ত মানদন্ড নয়। সে যা বলবে সেটাই সত্য হবে যা মিথ্যা বলবে সেটাই মিথ্যা এটা চূড়ান্ত নয়। বরং আল্লাহ যেটা বলবেন সেটাই সত্য রাসূল যেটা বলবেন সেটাই সত্য। আর এই কনসেপ্টটাকে তারা নাম দিয়ে দিবে মৌলবাদী দর্শন। আল্লাহ পাক কুরআনে বলেছেন সূরা বাকারা হোক বা সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে আসে। তুমি সন্দেহবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। সূরা কাহাফ ২৯ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন হক বা সত্য সেটাই যেটা তোমার রবের পক্ষ থেকে নাযিল হয়। যা ইচ্ছা হয় সে ঈমান নিয়ে আসুক যার ইচ্ছা হয় সে অস্বীকার করুক। সত্য , জ্ঞান , ন্যায় অন্যায়ের মানদন্ড , হক বাতিলের মানদণ্ড কার পক্ষ থেকে আসে।নাকি মানুষের মাথা থেকে বের হয় । যে কোন জ্ঞান ,জ্ঞানের যে কোন শাখা যদি কুরআন এবং সুন্নাহর সাথে মিলে যায় তাহলে মানতে কোন আপত্তি আছে। কোন আপত্তি নাই। যদি জ্ঞানের কোন শাখা কোন তত্ত্ব কোন উপাত্য কোন যুক্তি কোন দর্শন কোন বিজ্ঞান যদি কোরআন এবং সুন্নাহর সাথে না মিলে যায় তাহলে আপনি কি মানতে বাধ্য ? না, এটা না মানা টাই আপনার জন্য ফরজ। আল্লাহ পাক আরশে আজিম সৃষ্টি করেছেন এই আরশে আজিমের নিচে সাত শ্রেণীর মানুষকে কেয়ামতের মাঠে ছায়া দিবেন। এক নম্বর হচ্ছে ন্যায়পরায়ন শাসক। যত মানুষকে আল্লাহ পাক আজকে শাসন ক্ষমতা দিয়েছেন। ছোট ক্ষেত্র থেকে বড় পর্যন্ত তাদের সবার সামনে দুইটা গন্তব্য অপেক্ষা করছে। এর বাইরে কোন গন্তব্য নাই তাদের জন্যে । যাকে আল্লাহপাক যেই দায়িত্ব দিয়েছেন একদম ছোট থেকে শুরু করে ,একদম ছোট লেভেল থেকে শুরু করে ওপরের লেবেল পর্যন্ত। যাদেরকে আল্লাহ পাক শাসন ক্ষমতা দিয়েছেন তাদের সামনে দুইটা গন্তব্য অপেক্ষা করছে। একটা হচ্ছে তারা ন্যায় পরায়ন হলে তাদেরকে আরশে আজিমের ছায়ায় ছায়া পাবে ইনশাআল্লাহ।

নিজের নফস ঠিক রাখার আহ্বান

যেমন ওমর ইবনুল খাত্তাব। তিনি কি আমিনুল মুমিনিন ছিলেন না? তিনি আরশে আজিমের ছায়ায় ছায়া পাবেন ইনশাআল্লাহ তায়ালা। জুলকার নাঈম নাম শুনেছেন। কোন সূরায় আছে ? এটা একটা খুব কমন প্রশ্ন জুলকার নাঈম আলাইহুহিস সাল্লাম এর এর ঘটনা সূরা কাহাফে আছে। খুব কমন প্রশ্ন মোটামুটি সবাই জানে যারা একবার কুরআন ঘাটাঘাটি করে দেখেছে।কিন্তু আমাদের বেশিরভাগ মানুষ দেখবেন বলতে পারবে না। তাহলে কি কোরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বলেছে? স্লোগান দিয়ে কি কোরআনের আলো জ্বলবে। স্লোগান দিয়ে জ্বললে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে এত মার খেতে হতো না। তার সাথে জিব্রাইল আলাইহিস সালাম ছিলেন তিনি যদি বলতেন মক্কার আবু জাহেল আবু লাহাব কে একটা পাখার ঝটকা দিয়ে উড়িয়ে দেন। দিয়ে মক্কায় আমাদেরকে খেলাফত দিয়ে দেন সম্ভব ছিল। তায়েব বাসীকে দুইটা পাহাড়ের মধ্যে পিষে ফেলা সম্ভব ছিল। তারপরেও মহানবী সাঃ কে তিন বছর গোপনে দাওয়াত দিতে হয়েছে। মানুষের গালমন্দ খেতে হয়েছে। মানুষ তাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে। তাকে দেশ থেকে চলে যেতে হয়েছে। তায়েব বাসীর নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। বদর, উহুদ , খন্দ , খাইবারের যুদ্ধ জয় করে মক্কা বিজয় করতে হয়েছে। এমনি এমনি হয়েছে। শুধু স্লোগান দিয়ে আই ওয়াশ করে শো ডাউন করে কাজ হবে। কোরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বলবে তখনই যখন প্রত্যেক ঘরে কোরআন ওয়ালা মানুষ তৈরি হবে ইনশাআল্লাহ । আল্লাহ পাক বলেছেন হে মুমিনগণ তোমরা নিজেরা তোমাদের নিজেদের নফস ঠিক করো। নিজেরা নিজেদের নফসটা ঠিক কর। যারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে ওদের পথভ্রষ্টটা তোমাদেরকে ক্ষতি করবে না যদি তোমরা হেদায়েতের ওপর থাকো। নিজে ঠিক হন নিজের ঘর ঠিক করেন বাকি সব ঠিক হবে ইনশাআল্লাহ। নিজে ঠিক না হলে মানুষের ঘর ঠিক হবে না। যাদের কথা অনুযায়ী কাজে মিল আছে এবং আত্মশুদ্ধি আছে। এই মানুষের কথা মানুষের কলবে তাহসির হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা দোয়া করি আল্লাহ তা'আলা এই সব মানুষকে এইসব জায়গা নিয়ে আসুন যাদের মাধ্যমে সমাজ সংস্কার হবে। এবং নিজেরাও আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে পারবে ইনশাআল্লাহ। কোরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বলবে ইনশাআল্লাহ । যদি আপনারা প্রত্যেক ঘরে ঘরে কুরআন ওয়ালা মানুষ তৈরি করেন। একটা সন্তানকে হাফেজ বানাতে পারবেন না। একটা মেয়েকে হাফেজা বানানো যায় না। বাসায় একজন সন্তানকে আলেম বানানো যায় না। আমরা কি এই পৃথিবীতে এসেছি খালি খাওয়া ভোগবিলাস পাশ্ববিক জীবনযাপন করতে। নাকি আমাদের জীবনের একটা উদ্দেশ্য আছে। মুসলিমদের জীবনের উদ্দেশ্য কি? আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য কি? জান্নাত মাশাল্লাহ। সূরা আল ইমরান 185 নাম্বার আয়াত পড়ে দেখেন আল্লাহপাক বলেছেন প্রত্যেকটি নফস মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। এরপরে আছে তোমাদেরকে কেয়ামতের মাঠে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। কেয়ামতের মাঠে যাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানো হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে একমাত্র সেই ব্যক্তি সফল । তারমানে জীবনের গন্তব্য কি? জান্নাত ।

সফলতার প্রকৃত সংজ্ঞা

সফল কে ? সাফল্যের সংজ্ঞা কি? যাকে পুলসিরাত পার করানো হবে সেই সফল। দুনিয়াতে যার বাড়ি গাড়ি টাকা পয়সা ব্যাংক ব্যালেন্স আছে সম্পত্তি আছে ক্ষমতা আছে তিনি যে সফল কোন গ্যারান্টি আছে। কোন গ্যারান্টি নাই। যে ব্যক্তি কেয়ামতের মাঠে পুলসিরাত পার হতে পারবে এই ব্যক্তি সফল। আর কে পার হতে পারবে? যে ব্যক্তি সূরা যারিয়াত এর ৫৬ নাম্বার আয়াতের ওপর আমল করবেন। আরেকটা কি? আমি মানুষ এবং জ্বীনকে শুধুমাত্র আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি। পৃথিবীতে যে আল্লার ইবাদত করবে। যার জীবনের গন্তব্য ঠিক রাখবে সেই ব্যক্তি সফল। আর কেউ সফল না। আল্লাহ কিছু মানুষকে তৈরি করেছেন , করবেন এবং করেছেন ।যাদের জীবনের উদ্দেশ্য জান্নাত যারা তাওহীদের সাথে শিরকে আপোষ করবে না। যারা সুন্নতে থাকবে বেদাত করবে না। যারা হালাল খাবে হারামে যাবে না। পরিবারকে ঠিক করে পর্দায় রাখবে। দ্বীনের জ্ঞান ঠিকমতো অর্জন করবে প্রচার করবে প্রসার করবে।এবং আগামী প্রজন্ম তৈরি করবে। এবং যাদের মধ্যে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার মুজাহিদা থাকবে। এমন মানুষ আছে , ছিল ভবিষ্যতেও আসবে। তাদের সংখ্যা নিত্যান্তই কম হবে। কিন্তু তাদের জন্য একটা সুসংবাদ আছে। আল্লাহ পাক বলেছেন কত ছোট ছোট সম্প্রদায় ছিল। যারা বড় বড় কওমের ওপর বিজয় লাভ করেছে। আগামীতে যখন ইসলামের বিজয়ী হবে সারা বিশ্বব্যাপী তখন দেখবেন মুসলিমদের সংখ্যা খুব কম থাকবে। আল্লাহ পাক সব গরু ছাগলকে শেষ করে ফেলবে কিভাবে? এইযে মহামারী দিয়ে শেষ করতে পারেন। অথবা দেখবেন জালেমের শাসন দিয়ে শেষ করতে পারেন। দেখবেন মুসলিমদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে শেষ করতে পারেন। যখন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে ভুলে যাবেন তখন বহি শত্রুকে চাপিয়ে দিয়ে তাদেরকে শেষ করে দিতে পারেন। কারণ আল্লাহর কোন প্রয়োজন নাই গরু ছাগলের। এখন আমি নিজে এবং আমরা সবাই গরু ছাগলের মতো জীবনযাপন করছি আল্লাহ পাক আমাদেরকে বোঝার তৌফিক দান করুন আমিন। জীবনের একটা উদ্দেশ্য থাকতে হবে। যেমন জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে দ্বীন শেখা বোঝা প্রচার করা প্রসার করার চেষ্টা করা । তখন গিয়ে আপনি পুরো জীবনের নেকি পাবেন। জীবনের তাওহীদ থাকতে হবে সুন্নত থাকতে হবে । তবে পুরো জীবনের প্রতিটা কাজ ইবাদত হবে তার আগে নয়। প্রতিটা কাজ করতে হবে আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্যে তার রাসূলের তরিকায় ।তবে আপনার এই আমলগুলো কবুল হবে তখনি যখন রিজিকটা হালাল হবে। অহেতুক শুধু মাত্র প্রোটেকশন ভার্সনে ইসলাম পালন করে কোন একটা ফায়দা নাই। যখন সুবিধা তখন পালন করলাম যখন সুবিধা নাই তখন পালন করলাম না। যেটা করলে কোন সমস্যা নাই করলাম। খাওয়ার পরে মিষ্টি খেলে কোন প্রবলেম নাই খাচ্ছি মধু খাচ্ছি ঠিক আছে । কিন্তু এমন কিছু কথা বললে সমস্যা বলবো না কাজ করলে সমস্যা করব না ঠিক আছে । আপনি দেখবেন নামাজে পাক্কা নামাজী কপালে সিজদার দাগ পড়ে গিয়েছে। অর্থনৈতিক জীবনে পাক্কা সুদখোর। কারণ সুদ ছাড়লে চাকরি থাকে না। বাস্তবতা এমনই বাস্তবতা খুব কঠিন এবং বাস্তবতা খুবই খারাপ। বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের নৈতিক অবস্থা এখন খুবই খারাপ।

আত্মশুদ্ধি ও ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা

এজন্য প্রাইমারি লেভেলের কাজগুলো আমাদের বেশি বেশি করা দরকার এখন। এজন্য যারা ইসলাম সংশোধনের চেষ্টা করছে এইসব আত্মশুদ্ধি ওয়ালা মানুষগুলো সহবত গিয়ে থাকে। আত্মশুদ্ধি ওয়ালা মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করেন সহবত নেন , পরামর্শ নেন জীবন গড়েন। একা একা বই পড়ে বা দুই একটা লেকচার শুনে আপনার সারা জীবন পরিবর্তিত হবে না । কন্সটেকটিভ কাজে আসেন। এবং শৈথিল্যবাদী হয়েন না একই সাথে বলবো চরমপন্থী হইয়েন না । চরমপন্থী হলে উম্মার ক্ষতি আছে। উম্মার বেস ঠিক নাই ।একটা বাড়ির ভিত্তি এখন ঠিক নাই। যারা ভিত্তি ঠিক করবে এই মানুষদের সংখ্যা এখন দিন দিন কমে গেছে। কমার পিছনে আমাদেরও ভূমিকা আছে ।আমরাও তাদেরকে কম বিতর্কিত করতে ছাড়ি নাই। এবং কোন কোন সময় আমরা একে অপরের গীবত তওমত করে সমালোচনা করে কাদা ছোড়াছুড়ি করে এতটা সময় নষ্ট করেছি। যে উম্মার অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। কথাগুলো খারাপ লাগলেও বাস্তব । যখন বাগদাদ আক্রমণ করেছিল এই যে তাতাররা মঙ্গোলিয়ানরা। এটা জানেন তো মঙ্গোলিয়ারা যারা ছিল হালা কু খা চেঙ্গিস খানের বংশধর যারা ছিল ।এরা যখন বাগদাদ আক্রমণ করেছিল এরা ছিল প্রচন্ড পার্শ্ববিগ মাত্র ৪০ দিনে মধ্যে দশ বিশ লাখ মানুষকে হত্যা করে ফেলেছে বাগদাতে। এই হত্যাটা কিন্তু গুলি করে না জবাই করে করেছিল। ১০ লাখ ২০ লাখ মানুষকে জবাই করে হত্যা করার চারটি খানি কথা না। কি পরিমান হিংস্র ছিল চিন্তা করেন? ইতিহাসের পাতায় আছে যে মঙ্গলদের একেক জন নারী সে হাজার হাজার মুসলিমদেরকে হত্যা করেছে। এক একেকটা মহিলা। ওই সময় যারা এই আব্বাসের খেলাফতে দায়িত্বে ছিল তারা সোনা দানা সবকিছু এই মাটির নিচে জমা করেছিল। এই মঙ্গোলিয়ানদের লিডার যখন এই বাদশা কে গলায় দড়ি দিয়ে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল সবার সামনে। তখন তাকে বলছিল তোমাদের সম্পদ গুলো কোথায়? সে দেখিয়ে দিল সম্পদ মাটির তলে। তখন সে ওই যে হালাকুক্ষার বংশধর যে লিডার সোনা দানা গুলো বের করে এই বাদশার মুখে থুসানো শুরু করল বলল খা। খিদা লেগেছে পানির পিপাসা লেগেছে তখন তাকে সোনা খাওয়াচ্ছে রুপা খাওয়াচ্ছে যে খা। সে বলছে আমি কি খাব সোনা রুপা তো আর খাওয়ার জিনিস নয়। তখন ওই মঙ্গল কমান্ডার বলছে এই সোনা দানাগুলো জমিয়ে না রেখে এগুলো যদি জনগণের কল্যাণের জন্য ব্যয় করতা তাহলে ওই জনগণ তোমাকে আজকে বাঁচাতে আসতো। ওরা বুঝতে পেরেছিল। যে পয়েন্টে কথা বলতে যাচ্ছি ।ওই সময় কিছু মুসলিম যখন তারা আক্রমণ করেছিল কিছু কিছু মুসলিম আপসে বাহাজ করছিল বাহাজ। একে অপরের সমালোচনা করছিল। যেটা আমরা এখন বেশি করতে চাই। যে কাকড়ার গোশত খাওয়া হারাম না হালাল। এটা নিয়ে তারা বাহাজে বসেছিল । চিংড়ি খাওয়া হারাম না হালাল এটা নিয়ে বাহাজে ছিল। ওই সময় কোনটা জরুরী ছিল এই বাহাজটা নাকি ওদেরকে প্রতিহত করা।প্রতিহত করার ।এটা বোঝার জন্য আপনাকে ডক্টরেট ডিগ্রি নেওয়া দরকার আছে। মাদ্রাসার স্যারে ঘর দরকার আছে ।কমনসেন্স । এখন পর্যন্ত বিশ্বে আমরা এই কাজটাই করছি। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন সারা ওয়ার্ল্ডের মুসলিমদের এখন অবস্থা এইরকমই। চতুর দিক থেকে চাপ আছে। এত সহজ না চতুর্দিক থেকে মুসলিমদের এখন চাপা আছে ।পলিটিক্যাল ,জিও পলিটিক্যাল , ইকোনমিক্স , সামাজিক , সোশ্যাল আপনার সাংস্কৃতিক চাপ , অর্থনৈতিক চাপ। প্রত্যেক দিক থেকে দেখবেন নৈতিকতার অভাব আছে। এখন ও আমরা ওই বিষয়গুলো নিয়ে একতালাফে ব্যস্ত আছি। একে অপরের গীবত করছি সমালোচনা করছি গীবত তহমত দিচ্ছি একে অপরের নিন্দা করছি ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা জানি না কবে আমাদের কমনসেন্স এর উদয় হবে। কবে আমরা বুঝতে পারবো? আমরা এক উম্মা। আমরা সবাই এক ।কিছু কিছু বিষয় সবার মধ্যে মতাবেক থাকতে পারে এটা স্বাভাবিক ।এরপরেও আপনি আমার ভাই আমি আপনার ভাই।কোনদিনও আমাদের সবার সব বিষয়ে এক হবে না।

হকের পাওনা ও দায়িত্বশীলদের সতর্কতা

কস্মিন কালেও প্রতিটা বিষয়কে প্রতিটা মাসলাকে বিষয়কে আকিদাগত বিষয় হোক , আমলের হোক আর মামলাতে হোক। আমরা কখনো সবগুলো বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারবো না। থাকবেই একতেলাফ। এরপরেও যদি আমরা সবাইকে এক উম্মা মনে করতে ব্যর্থ হই এই অবস্থা হবে। আল্লাহপাক সাত শ্রেণীর মানুষকে আরশের আজিমের ছায়ায় ছায়া দিবেন। একশ্রেণী হচ্ছে যারা ন্যায় পরায়ণ শাসক। যারা ন্যায় পরায়ণ শাসক হবে তাদের সামনে দুইটা গন্তব্য থাকবে। হয় তারা আরশের আজিমের ছায়ায় ছায়া পাবে। নয়তো জাহান্নামের আগুন অপেক্ষা করছে। কারণ প্রত্যেকটা দায়িত্ব সম্পর্কে আল্লাহ পাক জিজ্ঞাসা করবেন। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম একটা হাদিসের মধ্যে বলেছেন তোমরা কি জানো কিয়ামতের মাঠে সবচেয়ে বড় মিসকিন কারা হবে? সাহাবী ইকরামরা বলেছেন আমরা তো মনে করি যার সম্পদ কম , অর্থ বিত্ত কম সেই সবচেয়ে বড় মিসকিন । আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলছেন বরং প্রকৃত মিসকিন সেই ব্যক্তি যে কেয়ামতের মাঠে নামাজ , রোজা , হজ্ব , যাকাত আমলের নেকি নিয়ে উঠবে পাহাড় সমান নেকি নিয়ে উঠবে। কিন্তু অনেক পাওনাদার দাঁড়িয়ে থাকবে। কারো হক নষ্ট করেছে , কাউকে অপবাদ দিয়েছে , কারো গীবত করেছে , কাউকে অত্যাচার করেছে সবাই দাঁড়িয়ে থাকবে। এদের হক আদায় করা না পর্যন্ত সে পুলসিরাত পার হতে পারবে না। তখন কি করতে হবে? নিজের নেকি ওদেরকে দিতে হবে। কারণ তখন কোন বেচাকেনা সুযোগ নাই হক আদায়ের সুযোগ নাই। নিজের নেকি ওদেরকে দিয়ে শোধ করতে হবে। নিজের নেকি শেষ হয়ে গেলে তখন কি হবে? অন্যের গুনাহ তার আমলনামায় আসবে পরে দেখা যাবে ঐ ব্যক্তি জান্নাতে চলে গেছে আর এই ব্যক্তি পাহাড় সমান নেকি নিয়েও জাহান্নামে চলে গেছে। অতএব দায়িত্ব যারা পালন করবে তাদেরকে খুব সতর্ক সাবধানে থাকতে হবে। আপনার দ্বারা কল্যাণ ছাড়া অকল্যাণ যেন না হয়। আল্লাহপাক তৌফিক দান করুন আমীন। দ্বিতীয় শ্রেণি হচ্ছে সেই যুবক বা যুবতী যারা নিজের যৌবনটাকে আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছে। এই হাদিসের বাস্তবায়নে এসে দেখেন আমাদের যুব সমাজ কিভাবে তাদের জীবনটা কাটাচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যুবক যুবতীরা করছেটা কি? কতজন যুবক নামাজ পড়ছে মসজিদে এসে। কতজন যুবক কোরআন তেলোয়াত করে নিয়মিত। নবীর সুন্নাহ গুলো তাদেরকে শিখিয়ে দিতে হয়। ইভেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর স্ত্রীদের নাম ওদেরকে বলে দিতে হয়। দেখবেন এই যুবসমাজ ফিজিক্সস পড়েছে , কেমিস্ট্রি পড়েছে , বায়োলজি পড়েছে ,ইকোনমিক্স পড়ছে , পলিটিক্যাল সায়েন্স পড়ছে , জিও পলিটিক্স পড়ছে , ইউনিভার্সিটির কোচিং করছে , বিসিএস কোচিং করছে চাকরির জন্য পরীক্ষা দিচ্ছে এরা এমন কোন বই নাই যে সেক্যুলার লাইনে পড়ে নাই। তো যে চারজন পারছে তার মধ্যে একজন উত্তর দিচ্ছে যে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। এটা কি উত্তর সঠিক? না । এর চাইতে কঠিন কোশ্চেন করলে তাহলে অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। কোন সাহাবীকে দায়ী করে তিনি প্রথম পাঠিয়েছিল মদিনায়। খাইবার যুদ্ধ কোন সাহাবীর হাতে জয়ী হয়েছে। উহুদের যুদ্ধ কত হিজরীতে হয়েছে। বদর যুদ্ধে কতজন সাহাবী শাহাদাত বরণ করেছে। আপনার মতার যুদ্ধে কার হাতে নয়টা তরোয়াল ভেঙ্গেছে। হুনাইনের যুদ্ধে মুসলিমদের কি অবস্থা হয়েছে। হুনাইনের যুদ্ধের কথা কোন সূরার মধ্যে বলা আছে। একটু কঠিন প্রশ্ন করলে তো অবস্থা খারাপ।

যুবসমাজ ও যৌবনের আমল

যারা মাদ্রাসা লাইনে পড়েছেন তারা হয়তো উত্তর দিতে পারেন । কিন্তু লক্ষ লক্ষ কোটিপতি জেনারেল লাইনের পড়া ছাত্রছাত্রীরা উত্তর দিতে পারে না। তাহলে এরা কি আমাদের মুসলিম উম্মার অংশ নয়। এদেরকে ইসলা সংশোধন না করলে দ্বীনের পথে না আনতে পারলে একটা বড় অংশ কি জাহিলদের মধ্যে থাকবে না? আগামী ১০-২০ বছর পরে দেখবেন এরা অর্থনৈতিক সেক্টরে যাচ্ছে , এরাই পলিটিক্সে যাবে , এরাই সোশ্যাল দায়িত্বে যাবে এরাই দেখবেন বিভিন্ন জায়গায় চলে যাবে। তখন আরেকটা মূর্খ জেনারেশন আপনার মাথার উপর চেপে যাচ্ছে । এরপরে যে জেনারেশন আসছে আমার মেয়ে আপনার ছেলে এর অবস্থা যে কি হবে সেটা আল্লাহপাক ভালো জানেন। যদি এখন থেকে আমরা তাদেরকে সঠিকভাবে মানুষ করতে ব্যর্থ হই এটাই বাস্তবতা। অথচ আল্লাহ পাক আরশের আজিমে সেই যুবক যুবতীদের ছায়া ছায়া দিবেন যারা তাদের যৌবনকাল আল্লাহর পথে কাটাবে। আর কেয়ামতের মাঠে যে অতিরিক্ত পাঁচটা প্রশ্ন হবে তার মধ্যে একটা হচ্ছে তোমার যৌবন কাল কোন পথে ব্যয় করেছ। আর আল্লাহ পাকের কাছে একজন বৃদ্ধ লোকের চাইতে একজন যুবকের ইবাদত কত যে প্রিয় সেটা আমি বলে বুঝাতে পারবো না।আল্লাহপাক অবাক হয়ে যান সেই যুবককে দেখে যার প্রবৃত্তির তাড়না নাই হে আল্লাহ দ্বীনের পথের ছুটছে। এই যুবককে দেখে আল্লাহ পাক অবাক হয়ে যান। এবং তার দোয়া যেভাবে কবুল হবে একজন মানুষ যার এক পা কবরে চলে গেছে তার দোয়া কি সেভাবে কবুল হবে দুইটা কি সমান? এই বয়সে আপনি অনেক কিছু করতে পারেন। আপনি চাইলে এখন বড় সন্ত্রাসী হতে পারবেন বড় যেনাকারী হতে পারবেন , আপনি চাইলে এখন একজন বড় টিক টক সেলিব্রেটি হতে পারবেন আপনি চাইলে আরো অনেক বড় মাদক সেবনকারী হতে পারবেন। ৩০-৪০ টা গার্লফ্রেন্ড চেঞ্জ করতে পারবেন আপনাকে কেউ বাধা দিবে না। আপনি চাইলে এক দুই হাজার টাকা দিয়ে জেনা করতে পারবেন আপনার জন্য উন্মুক্ত আছে সবকিছু । ইভেন আপনি চাইলে মদ খেতে পারবেন আপনার জন্য লাইসেন্স দেওয়া আছে। আপনি করতে পারবেন। এই সময়টা আল্লাহপাক দেখতে চান আপনি কি করেন? যদি এই সময়টা আপনি আল্লাহর দিকে ফিরে আসেন আপনি কুরআনের দিকে ফিরে আসেন সুন্নত অনুযায়ী জীবন যাপন করেন তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে জান না সুবহানআল্লাহ। কি চান আপনি সিদ্ধান্ত নেন? শুরুটা হবে অধঃপতন মেয়েরা। মেয়ের দ্বারা অধঃপতন শুরু হবে। মেয়ের সাথে ফ্রি মিক্সিং এরপর প্রেমের সম্পর্ক হয়ে যাবে এরপর দেখবেন জেনা করে ফেলেছে তারপরে ব্রেকআপ দুজন হতাশ। কেউ আত্মহত্যা করেছে। অথবা দেখবেন কেউ পাইকারি জেনাকারী হয়েছে। বা রেপিস্ট হয়েছে বা মাদক সেবন করছে বাম মিউজিক শুনছে আস্তে আস্তে লাইট টা শেষ। এভাবে যুব সমাজ নষ্ট হচ্ছে । অনেক সময় দেখবেন পড়াশোনা করছে কোন কারণে রেজাল্ট ভালো হয় নাই আত্মহত্যা করে বসে আছে। ডে বাই ডে যুব সমাজের সাইকোলজি মেয়েলি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের যে ওস্তাদ আছেন যারা বৃদ্ধ প্রবীণ তাদের যে গাম্ভীর্য আছে ব্যক্তিত্ব আছে গলার ভয়েস কথা বলার অ্যাটিটিউড চলাফেরা এগুলো এখনকার যুবকদের মধ্যে পাওয়া যায় না। আমার কথা ভালো করে মিলিয়ে দেখেন। এখনকার যুবকদের মধ্যে মেয়েলি স্বভাব আছে কথা বলবে মেয়েদের মত করে , অ্যাটিটিউড কেমন জানি মেয়ে মেয়ে অ্যাটিটিউড ,লাজুক লাজুক ভাব মেয়ে মেয়ে অ্যাটিটিউড । মানে গায়ে রত নাই , সূর্যবীর্য নাই , ফিজিক্যালি ও দুর্বল , মানসিকভাবে দুর্বল , শারীরিকভাবে দুর্বল। একটা পাক লাগাইদেন মাঠে দৌড়াতে শেষ। ২০ বছর ২৫ বছরে বুড়ি হয়ে বসে আছে। গায়ে শক্তি নাই ইভেন খেলাধুলাও করে না এবং মিশেও না মানুষের সাথে।সামাজিক ও না ।দেখবেন কেমন জানি আন সোশ্যাল? সারাদিন অনলাইনে পড়ে আছে বা গেমস খেলছে , ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করছে , আর রাতের বেলায় সারারাত নগ্ন ছবি দেখছে। এত ভালো সাজার কারণ নাই। এগুলোতে ম্যাক্সিমামই আসক্ত ম্যাক্সিমাম।

যুবসমাজের প্রলোভন ও সূরা ইউসুফ

এটাতে আসক্ত হওয়ার কারণ আছে। এটাতো ফ্রি অ্যাকসেস ফ্রি আপনি চাইলেই করতে পারেন। আপনার হাতে স্মার্ট ফোন আছে আপনার বাবা দেখে না আপনি ফোনে কি করেন? আপনি চাইলেই করতে পারেন কে বাধা দিবে আপনাকে। কেউ বাধা দেয়ার নাই। আর গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড এই সংস্কৃতি যখন থেকে ছড়িয়েছে যা ইচ্ছা তাই করছে এরা। আর এখন এই কাজগুলো এখন শুধু ছেলেরা করছে না মেয়েরাও করছে। ওখানে দেখার কেউ ছিল না কিন্তু যুবকটা বলেছে আমি আল্লাহকে ভয় করি। আমাকে দেখান এমন একটা যুবক এই সমাজে যা চরিত্র ইউসুফ আলাইহিস সাল্লাম এর মত। ইউসুফ আলাইহিস সাল্লাম হচ্ছে চারিত্রিক আদর্শ পড়ে দেখেন সূরা ইউসুফ। আর অনেকেই সূরা ইউসুফ কে ইউসুফ এবং জুলেখার প্রেম কাহিনী বানিয়ে দিয়েছে । এগুলো কিন্তু মিথ্যা সিরিয়াল দেখছেন এগুলা ভালো না সিরিয়ালগুলো। এগুলো কিন্তু বাজে কথা ছড়ানো হচ্ছে। সূরা ইউসুফ , ইউসুফ জুলেখার প্রেম কাহিনী ছিল না। সূরা ইউসুফ মূলত ইউসুফ আলাইহিস সাল্লাম এবং তার পিতার প্রেম কাহিনী।ভালো করে পড়ে দেখবেন সন্তানের জন্য কাঁদতে কাঁদতে তার বাবার চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছে ।১২ বছর তার সন্তান জেলখানায় বিনা অপরাধে। তো তিনি বলছেন সৃজন কারা কারা আমার কাছে বেশি পছন্দ তারা যেদিকে আমাকে আহ্বান করছে এর চাইতে বেশি। ১২ বছর কিনা অপরাধে জেলখানায় আল্লাহ পাকের কৌশল ছিল এগুলো। এখানে মূল বিষয় হচ্ছে ইউসুফ আলাইহিস সাল্লামের পিতা যখন অন্ধ হয়ে গিয়েছেন ইউসুফ আলাইহিস সাল্লাম তখন একটা কাপড় পাঠিয়েছিলেন মনে আছে । এই কাপড়টা নিয়ে যখন যাওয়া হচ্ছে যোজন যোজন দূর থেকে তার পিতা বলছে আমি ইউসুফের গায়ের গন্ধ পাচ্ছি। এটা কার প্রেম কাহিনী? ইউসুফ আলাইহিস সাল্লাম এর সাথে তার বাবার তো এই চরিত্র ধারণ করতে হবে আল্লাহ পাক তৌফিক দান করুন । চার নাম্বার ওই দুইজন মানুষ যারা একে অপরকে শুধু আল্লাহর জন্য ভালোবাসে। এই যে ভালবাসার সংজ্ঞা শিখেন। মাকে ভালোবাসেন আল্লাহর জন্য , বাবাকে ভালবাসেন আল্লাহর জন্য ,স্ত্রী সন্তানকে ভালোবাসছেন আল্লাহর জন্য। আলেম-ওলামাদেরকে ভালোবাসেন আল্লাহর জন্য। আপনার ভালোবাসা হোক আল্লাহর জন্য তখন আপনি মানুষের দূর ব্যবহারে কষ্ট পাবেন না। যখন কাছের মানুষ আপনাকে কষ্ট দিবে এবং কাছের মানুষ আপনাকে কষ্ট দিবেই , কাছের মানুষটা আপনাকে বেশি কষ্ট দিবে জীবনে। তখন আপনি কষ্ট পাবেন না যদি আল্লাহর জন্য ওদেরকে ভালবাসেন। যে আমি তো আল্লাহর জন্য এই কাজগুলো করছি ।তারা শুকরিয়া আদায় করলেই বা কি আর না করলেই বা কি তখন আপনি কষ্ট পাবেন না। দুইজন ব্যক্তি যারা আল্লাহর জন্য পরস্পরকে মহব্বত করে এই দুইজন মানুষকে আল্লাহপাক আরশের ছায়ায় ছায়া দিবেন। ৫ নাম্বার সেই ব্যক্তি যে এত গোপনে দান সদকা করে যে তার বাম হাত জানে না ডান হাত কি দান সদকা করেছে। এখন তো আমরা মাশাআল্লাহ নাম লিখিয়ে সদকা করি। অমুককে দশ হাজার , অমুক সাহেব বিশ হাজার , অমুক সাহেব ৫০০। প্রথমে বড় বড় নোটের সদকা হয়। প্রথমে বড় বড় ফিগারের নাম লেখা হয় কে কে দিবেন ৫০০০ হাত তোলেন। কে কে দিবেন ১০০০ হাত তুলেন ।কে কে দিবেন ৫০০ হাত তুলেন তারপরে নাম লেখা হয়।পরে বলা হয় এই কালেকশন করছে পরে বলে খুচরা গুলো দেন পরে খুচরা গুলো নেয়। জানিয়ে দান করা যায় অনেক সময় এগুলো হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছে কার ঘরে কি আছে নিয়ে আসো। রিয়া চলে আসে মানুষের মধ্যে যে আমি ১০ হাজার দিলাম মানুষ আমার নাম জানলো। রিয়া আসতে সময় লাগেনা ।কেমন করে আসে?আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন অন্ধকার রাতে কালো পাথরের ওপরে কালো পিপড়া হেঁটে গেলে যেমন বোঝা যায় না। রিয়া এমন ভাবে আপনার কলবে আসতে পারে।

ছবি, রিয়া ও অহংকার

কিভাবে ঠেকাবেন? আপনি বুঝতেই পারবেন না। এই যে আপনি সেলফি তুলতে চান। ছবি তুলতে চান। আমি জানি আপনারা ভালবাসছেন। ভালোবাসা অতিরিক্ততা প্রদর্শন করতে চান । একটাই ভয় করি সেটা হচ্ছে রিয়া। রিয়া বা অহংকার যদি পেয়ে বসে তার দ্বারা দ্বীনের খেদমত করা সম্ভব না। আলেমদেরকে নিয়ে দায়ীদেরকে নিয়ে বক্তাদেরকে নিয়ে আল্লাহর পথে যারা মুজাহিদা করে এদেরকে নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করবেন না। আল্লাহর ওয়াস্তে অতিরিক্ত মাত্রায় বাড়াবাড়ি করবেন না। যত বেশি করবেন তত তাদের প্রতি মানুষের চোখ লাগবে। এবং চোখ লাগা সত্য। তত তাদের ভিতরে রিয়া আসতে পারে অহংকার আসতে পারে। কারণ আমরা অত্যন্ত দুর্বল ঈমানের মানুষ। আমরা যারা এই যুগে বসবাস করছি সবাই খুবই দুর্বল ঈমানের মানুষের জন্য রিয়া অহংকারের সুযোগ দিয়েন না। মুসাফা করেন ওকে ফাইন। ছবি টবির সংস্কৃতি বাদ দিয়ে দেন। এতে কোন ফায়দা নাই ক্ষতি ছাড়া উপকার নাই। এবং কি বিনা কারণে যারা চিত্র অঙ্কন করে বা ছবি তৈরি করে এদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে। হাদিসে আছে ওলামা ইকরামদেরকে জিজ্ঞাসা করেন। প্রাণ সঞ্চার করতে বলা হবে এর মধ্যে প্রাণ ঢুকাও। এটা আমাদের সংস্কার না। মূর্তি , ছবি , ভাস্কর্য উপাসনা করা এগুলো আমাদের সংস্কৃতি নয় । এগুলো অন্য কালচার থেকে এসেছে। আমাদের সংস্কৃতি হচ্ছে আমল গোপন করে ফেলা নিজেকে হাইট করা গোপন করে রাখা । আল্লাহপাক বোঝার তৌফিক দেন তরুণ প্রজন্মকে। মনে কষ্ট নিবেন না এটা বাস্তবতা। এগুলো করলে আমাদের মনে মধ্যে রিয়া অহংকার চলে আসে। আল্লাহর ওয়াস্তে আমাদেরকে মুখরেজ ভাবে দ্বীনের কাজ করতে দেন। শান্ত থাকেন এত আবেগী হয়েন না এত অতি উৎসাহিত হইয়েন না শান্ত থাকেন রিলাক্স থাকেন । দ্বীনের বিজয় একদিনে এক তাকবীরে হবে না। এক দিনে দ্বীনের বিজয় হবে না ।আস্তে আস্তে দ্বীন এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ পাক একটা সুন্নাহ ।আল্লাহ পাকের একটা চিরন্তন সুন্নাহ হচ্ছে হুটহাট কিছু আল্লাপাক করেন না। দিন থেকে রাত হয় কি ধাপ করে হয়? আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে রাত হয় খেয়াল করে দেখেছেন। তারপরে যখন দিন হবে রাত আস্তে আস্তে কেটে যাবে তারপরে আস্তে আস্তে দিন হবে।ধাপ করে কি সূর্য উদয় হয়? এটা আল্লাহর সুন্নাহ। একবারে কোন কিছু হয় না । আপনি অসুস্থ হয়েছেন দেখবেন আস্তে আস্তে সুস্থ হবেন। আবার আপনি আস্তে আস্তে অসুস্থ হবেন ধাপ করে হবেন না। আল্লাহ পাকের সুন্নাহ আছে দ্বীনের বিজয় নবী সাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম ২৩ বছর সময় লেগেছে। ধীরে ধীরে স্টেপ বাই স্টেপ ভাবে। অতএব অতি উৎসাহী হয়েন না অতি আবেগি হয়েন না কনস্ট্রাক্টিভ কাজ করেন। মাথা ঠান্ডা রাখেন অতি আবেগী হয়েেন না রিলাক্স থাকেন। আস্তে আস্তে দ্বীনের কাজ করেন ইনশাআল্লাহ দ্বীন এগিয়ে যাবে আস্তে আস্তে ।বেশি বেশি মানুষকে দেখাতে যাইয়েন না। আজকে বাংলাদেশে কয়জন কাদিয়ানী হয়েছে কয়েকজন খ্রিস্টান হয়েছে আপনি কি জেনেছেন? যারা করেছে ওরা কি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে ছবি দিয়েছে। আজকে অমুককে খ্রিস্টান বানালাম দেখেন। যদি দিত তাদের কাজে তারা এইরকম সফল হত না। যদি তারা শুরু থেকে এরকম করত তাহলে ওরা ওদের কাজে সফল হতো না।

দ্বীনের বিজয় ও ধৈর্যের পথ

এখন দেখবেন কয়দিন পরে কাদিয়ানীদের কনফারেন্স হবে দেখে নিয়েন। কয়দিন পরে দেখবেন যারা খ্রিষ্টান হচ্ছে তারাও প্রকাশ্যে সমাবেশ করবে। প্রকাশ্যে মানুষ শিয়া হয়ে যাচ্ছে। কত কি হয়ে যাচ্ছে আপনার খবরই নাই ।প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে এসে দেখেন এগুলো দিয়ে ভর্তি হয়ে গেছে। গলায় যে রশি পরিয়ে অলরেডি টান দিয়ে শেষ ।আর আমরা পড়ে আছি সোডাউন নিয়ে ছবি তোলা আপলোড দিয়া ভিডিও করা ইত্যাদি। আমরা এত আবেগী কেন? যারা প্র্যাকটিক্যালি কাজ করছে তারা এত আবেগ দিয়ে কাজ করছে না। প্র্যাকটিক্যালি কাজ করছে মাঠে ময়দানে কাজ করে শেষ করে ফেলছি। বিশ্বাস হচ্ছে না কথা আপনি উত্তরবঙ্গে গিয়ে ঘুরে আসেন দেখেন। পার্বত্য অঞ্চল ঘুরে আসছেন দেখেন। আর আমরা পড়ে আছি আই ওয়াশ সোডাউন নিয়ে। তারপরও দোয়া করি আল্লাহ পাক সবার মধ্যে সৎ বুদ্ধি উদ্ভব ঘটাক আমিন। আপনাদের কে স্মার্ট মুসলিম হওয়ার তৌফিক দান করুন আমিন।ভিতরে ভিতরে আপনি আত্মশুদ্ধি অর্জন করেন , ব্যক্তি জীবন সুন্দর করেন , পরিবার ঠিক করেন , পড়াশোনা করেন , হালাল রিজিকের দিকে ফোকাস করেন। আলেম ওলামাদের ওয়াজে জান। দ্বীন শেখেন , শেখান , চর্চা করেন , প্রচার করেন । আস্তে আস্তে দ্বীন আগাবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহপাক কি বলেছেন? তারা চায় আল্লাহর নূরকে , আল্লাহর নূর মানে ইসলাম। একে মুখের ফুতকার দিয়ে নিভিয়ে ফেলতে।আল্লাহ পাক তার নূর কে প্রজ্জ্বলিত করবেন যদিও কাফেররা তা পছন্দ করবেন না। তিনি সেই আল্লাহ যিনি তাঁর রাসূলকে পাঠিয়েছেন দ্বীনের হক সহ এবং হেদায়েত সহ। যাতে করে ইসলাম অন্য সব দ্বীনের ওপর বিজয় হতে পারে। যদিও মুশরিকরা এটা পছন্দ করবে না। এটা আল্লাহপাক করবেন কখন করবেন যখন আপনি আপনার কাজ দায়িত্ব পালন করতে ভুলে যান। যদি আমরা আল্লাহকে ভুলে যাই। আমরা ভুলে গেলে আল্লাহ ও ভুলে যাবেন। আল্লাহ তো ওয়াদা করেছেন তোমরা যদি মুমিন হতে পারো আল্লাহ তোমাদেরকে বিজয়ী দিবে। হীনবল হইয়ো না দুশ্চিন্তাও করোনা আল্লাহ তো ওয়াদা করেছেন । দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসে তারা আল্লাহর আরশে আজিমে ছায়ায় ছায়া পাবে। গোপনে দান সদকা করলে আরশে আজিমের ছায়ায় ছায়া পাবে। ৬ নাম্বার কে? মসজিদ , মসজিদের সাথে যাদের কলব অন্তর জড়িয়ে থাকে এরা হচ্ছে এক শ্রেণীর ।এক নাম্বার হচ্ছে ন্যায়পরেয়ান বাদশা। দুই নাম্বার যুবক যার যৌবন কালটা সে আল্লাহর পথে কাটিয়ে দিয়েছে। তিন নাম্বার সুন্দরী নারী তাকে আহ্বান করেছে কিন্তু সে বলেছে আমি আল্লাহকে ভয় করি। ৪ নাম্বার দান সদকা করেছে এমন গোপন ভাবে যে বাম হাত জানে না ডান হাত কি দান করেছে । একটা মিস করেছি মাঝখানে এমন শ্রেণীর মানুষ যাদের হৃদয়ে বা কলব মসজিদের সাথে ঝুলন্ত থাকে। মানে এক ওয়াক্তে নামাজ পড়ে এসেছে পরের ওয়াক্তে নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য মনটা ব্যাকুল থাকে।যারা নামাজ পড়ছে তারা নামাজ বুঝে পড়ছে কিনা । নামাজে দিল লাগে কি না ? যারা নামাজ পড়ছে তারা নামাজ পড়ে তৃপ্তি পাচ্ছে কিনা। নামাজ পড়েও হারাম ছাড়ছে পারচ্ছে কি না।

আরশের ছায়া ও তাকদীর

ফজর এশায় কয়জন আসছে খেয়াল করে। এগুলো ইম্পরট্যান্ট জিনিস বেসিক জিনিস। সাত নাম্বার হচ্ছে আল্লাহর স্মরণে যে ব্যক্তি গোপনে তার চোখের পানি ফেলতে পারে। আল্লাহকে স্মরণ করেছে গোপনে নিরবে নিভৃতে চোখ দিয়ে দরদর করে পানি পড়ছে এই চোখ জাহান্নামের আগুন দেখবে না ইনশাআল্লাহ। এই সাত শ্রেণীর মানুষকে আল্লাহ পাক তার আরশের ছায়ায় ছায়া দিবেন। আলা পাকা আমাদেরকে এই সাত শ্রেণীর মানুষের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তৌফিক দান করুন আমীন। আল্লাহ পাক এই আরশের ছায়ায় ছায়া দিবেন। এই আরশ আল্লাহ পাক সৃষ্টি করেছেন তারপরে সৃষ্টি করেছেন কলম। কলম সৃষ্টি করে বলেছেন কলম তুমি লিখো কলম বলেছে আমি কি লিখব? আল্লাহপাক বলেছেন কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে সব লিখে ফেলো। কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে সব লিখা আছে আপনি তাকদির নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন নাহ । এরপর আল্লাহ পাক সৃষ্টি করেছে এই মহাবিশ্ব মাত্র ছয় দিনে। ছয় দিনে এই মহাবিশ্ব আল্লাহপাক সৃষ্টি করেছেন। এরপরে আরশে আজিমের সমাসীন হয়েছেন । এরপরে শুনেন আল্লাহ পাক দীর্ঘদিন পর্যন্ত মানুষ সৃষ্টি করেননি। এমন একটা সময় চলে গেছে যে মানুষ কোন আলোচ্য বিষয় ছিল না। পরে আল্লাহ পাক সৃষ্টি করেছেন মানুষকে । খলিফা করে পাঠিয়েছেন। খলিফা কে এটাও বুঝতে হবে? খলিফা দাউদ আলাইহিস সাল্লামকে ও বলা হয়েছে। আল্লাহপাক সূরা দোয়াতে বলেছেন হে দাউদ আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলিফা করে পাঠিয়েছি ।তোমার কাজ কি? তোমার কাজ হচ্ছে মানুষের মাঝে হকের মানদণ্ড বিচার ফয়সালা করা। যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মানুষের মাঝখানে বিচার ফয়সালা করে এরা আল্লাহর খলিফা। যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মানুষের মাঝখানে বিচার ফয়সালা করে না এরা আল্লাহর খলিফা নয়। নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ কোরো না। তাহলে এটা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। আর যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এই কারণে তারা হিসাবে দিন ভুলে গেছে।খলিফার ফাংশন আল্লাহর বিধান দিয়েই বিচার ফয়সালা করবে । এরপর আল্লাহ পাক আদম আলাই সাল্লাম কে নাম শিক্ষা দিলেন। আল্লাহ পাক আদম আলাই সাল্লাম কে সমস্ত নাম শিক্ষা দিয়েছেন । এমন কোন নাম নাই যেটা আল্লাহ পাক তাকে শিক্ষা দেন নাই। আমি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিয়েছি। এরপরে ফেরেশতাদের সামনে এনেছি । ফেরেশতাদেরকে আল্লাহ পাক বলেছেন তোমরা এই নামগুলো বলে দাও তারা বলেছেন । এরপর আদম আলাইহি সাল্লামকে বলেছে তুমি এই নামগুলো বলে দাও। এরপর তিনি সমস্ত নাম বলে দিয়েছেন। আল্লাহপাক তারপরে বলেছেন এই যে জ্ঞানের কারণে আল্লাহ পাক সম্মানিত করেছেন। এখন বলছেন সেজদা কর। কি কারনে আমরা সম্মানিত বলেন তো? জ্ঞানের কারণে। অতএব জ্ঞান চর্চা করা আমাদের প্রথম কাজ । প্রথমেই জ্ঞান। আগে পড়েন তারপর লিখছেন জ্ঞান চর্চা। জ্ঞানের কারণে সম্মানিত হয়েছি । তারপর আল্লাহ পাক সেজদা করিয়েছে । সবাই সেজদা করেছে। কে বাদ দিয়ে? ইবলিশ বাদ দিয়ে। ইবলিশ কেন করলো না সেজদা? সে অহংকার করেছে ঊর্ধ্বতা আচরণ করেছে। সে যুক্তি দেখিয়েছে আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন দিয়ে আর আদমকে সৃষ্টি করেছেন মাটি দিয়ে । আমি কেন আদমকে সেজদা করতে যাব ? এই যে আল্লাহর আদেশকে লংঘন করা আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে কথা বলা চিরস্থায়ী জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। ইবলিশ কিন্তু কম জানতো এমন নয়। ইবলিস কিন্তু প্রচণ্ড জ্ঞানী ছিল। আবেগ ও ছিল কিন্তু মনের অহংকারে সে ব্যক্তি জাহান্নামে চলে গেছে। সে কিন্তু ফেরেশতা ছিল না । সে ছিল জিনদের একজন। সূরা কাহাফ এর মধ্যে আছে।

অহংকার থেকে সতর্কতা

এরপর খেয়াল করে দেখেন এই অহংকার যদি এখন আমাদের মধ্যে চলে আসে। যত বড় ডিগ্রী সার্টিফিকেট থাকুক না কেন আমার পরিনাম জাহান্নামি হবে নাউজুবিল্লাহ। যার হৃদয়ের মধ্যে যাররা পরিমাণ অহংকার থাকবে তাকে আল্লাহ পাক জান্নাত দিবে না তার পরিণাম হবে জাহান্নাম। অহংকার আল্লাহর চাদর। আল্লাহর চাদর নিয়ে টানাটানি করলে আল্লাহ পাক জান্নাত দিবেন না। অহংকার কাকে বলে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা আর হচ্ছে অন্য মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা এটা হচ্ছে অহংকারের নিদর্শন ।আপনার ড্রেসটা সুন্দর হোক আপনার কাপড়টা সুন্দর হোক এগুলো অহংকারী নিদর্শন নয়। আল্লাহপাক সুন্দর তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। এটা সমস্যা না । অন্যকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করলে এটাকে অহংকার হবে। আদম আলাইহিস সাল্লাম কে আল্লাহ পাক জান্নাতে রাখলেন এবং তার সঙ্গিনী হিসেবে হাওয়া আলাইহিস সাল্লাম কে সৃষ্টি করলেন। কি কারনে সৃষ্টি করলেন? আদম আলাইহিস সাল্লাম এর একাকীত্ব এবং আল্লাহ পাকের দীর্ঘ পরিকল্পনা আছে এবং ইবলিসকে দিয়ে পরীক্ষা করালেন ।আদম আলাইহিস সাল্লাম এর কোন জায়গা থেকে হাওয়া আলাইহিস সাল্লামকে সৃষ্টি করা হয়েছে। বাঁকা পাজরের হাড় থেকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন বাকা হারকে জোর করে সোজা করতে যেওনা ভেঙ্গে যাবে। আর ওই অবস্থায় ছেড়ে দিলে বাকায় থেকে যাবে। নসিয়াতের মধ্য দিয়ে উত্তম আচরণের মধ্য দিয়ে পথ চলতে হবে। এছাড়া কোনো অপশন নাই। আল্লাহ পাক আদম আলাইহিস সাল্লাম থেকে হাওয়া আলাইহিস সাল্লামকে সৃষ্টি করেছেন । নারী-পুরুষ একটা অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয় যেমনটা পশ্চিমারা শিখিয়েছে। এখনকার আধুনিকতা শিখাচ্ছে নারী-পুরুষ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বি। এখানে আল্লাহ পাক বলেছেন নারী পুরুষ একে অপরের পরিপূরক ।একজন আরেকজনের অংশ। মহব্বত ভালোবাসা প্রনয়ের মাধ্যম। একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। এখনকার সমাজ শিখায় ছেলে পারলে আমি কেন পারব না সে পারলে আমি কেন পারব না। counterterrorism মানে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। আল্লাহ পাক বলেছেন তোমরা একে অপরের পরিপূরক। খেয়াল করে দেখেন এখান থেকে শুরু হয়েছে সৃষ্টি ।তারপরে না সন্তান-সন্ততি জন্ম নেওয়া হয়েছে। এখান থেকে আপনাদেরকে হেদায়েত নিতে হবে যে নারীদেরকে বলবো আপনারা পুরুষদের প্রতিদ্বন্দ নন। আপনারা পুরুষদের পরিপূরক। একজন নেককার নারী একজন পুরুষের পেছনে থাকলে সেই পুরুষ বিশ্বজয় করতে পারবে ইনশাআল্লাহ। পরে আসেন নূহ আলাইহিস সাল্লাম তার স্ত্রী কি ঈমান এনেছিল? না, ঈমান আনে নাই। এখানে মনে রাখবেন আপনি যদি ঈমান না আনেন , আকিদা ঠিক না করেন , আমল ঠিক না করেন। আপনার পরিচয় , বংশ , গোত্র , বর্ণ আপনাকে বাঁচাতে পারবে না। নূহ আলাইহিস সাল্লাম এর স্ত্রী জাহান্নামে চলে গেছে। লুত আলাইহিস সাল্লাম এর স্ত্রী জাহান্নামে চলে গেছে যদিও তারা নবীদের আন্ডারে ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম তার মেয়ে ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলেছিলেন দুনিয়াতে যা চাওয়ার আমার কাছে চেয়ে নাও পরকালে তোমার উপকার করতে পারছি না আমি। আর ফাতেমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কেমন মানুষ ছিলেন আপনি ভালো করেই জানেন। তো আমি আমার মা বোনদেরকে অনুরোধ করব আল্লাহকে ভয় করে নিজের নফস ঠিক করেন , নিজের কবরের ফিকির করেন , আমল আকিদা ঠিক করেন। আপনি কত বড় আলেমের স্ত্রী কত বড় সাইকের স্ত্রী আপনার স্বামী কত বড় পলিটিক্যাল লিডার ,কত বড় সোশ্যাল লিডার এটার মানদণ্ড আল্লাহ দেখবেন না। আল্লাহপাক আপনার শুধু আমল এবং তাকওয়া দেখবেন।

ইবরাহীম ও হাজেরার ঘটনা

আসেন কোরআনের পাতায় পাতায় যাই চলেন আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি । ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম নাম শুনেছেন তার স্ত্রী সারা আলাইহিস সাল্লাম পৃথিবীর সুন্দরী নারীর মধ্যে অন্যতম । দুজন সুন্দরী নারীর কথা এসেছে একজন হাওয়া আলাইহিস সাল্লাম আরেকজন সারা আলাইহিস সাল্লাম। আমাদের এই সব সুন্দরী নারীর চেয়ে হাজার গুন সুন্দরী নারী ছিলেন তারা। অত্যন্ত সুন্দরী। খেয়াল করে দেখবেন ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লামের বংশধর তাদের চেহারা এবং সুরাত অত্যন্ত সুন্দর। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম অত্যান্ত সুন্দর ছিলেন না। তার আদি পিতা কে ইসমাইল আলাইহিস সাল্লাম না। ইসমাইল আলাইহিস সাল্লাম ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম এর সন্তান নয়। ওই দেখেন ব্লাড চলে আসছে। ইউসুফ আলাইহিস সাল্লাম তার বাবা কে ইয়াকুব আলাইহিস সাল্লাম , তার বাবা ইসহাক আলাইহিস সাল্লাম ,তার বাবা ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম। এবং কি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজের রাতে গিয়ে যখন ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম এর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি সাক্ষাৎ করার পরে বলেছেন আমার সাক্কাল সুরাত আর ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম এর চেহারার মধ্যে অনেক মিল আছে সাদৃশ্য আছে। আমরা কিন্তু দুরুদের মধ্যেও মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম এর নাম বলছি। তাদের উভয়ের জীবনে প্রচন্ড মিল ছিল। সারা আলাইহিস সাল্লাম অত্যন্ত সুন্দরী ছিলেন তিনি একাই তার স্বামীর সাথে বের হয়ে চলে গেলেন কোথায়? ওই যে প্যালেস্টাইন যেটা এখন দখল করে রেখেছে এই জিওস রা। তার সাথে কেউ নাই , ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম এর সাথে তার পরিবার নাই , সমাজ নাই , কেউ নাই শুধু একজন স্ত্রী আছে নেককার স্ত্রী। একজন নেক্কার স্ত্রী সাথে থাকলে স্বামী বিশ্বজয়ী করতে পারে। সারা আলাইহিস সালাম যখন যাচ্ছেন একজন লম্পট রাজা একজন লম্পট বাদশা তাকে ভোগ করতে চেয়েছিল তাকে তুলে নিয়ে কিডন্যাপ করেছিল। এই সময়ে ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম মাজোর ব্যক্তি নামাজে দাঁড়িয়ে গেছেন। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাচ্ছেন। এটাই নবী রাসুলের সুন্নাহ। কোন সমস্যায় পড়লে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন ।আর আমরা এখন সমস্যা পড়লে হাউ মাউ শুরু করি । এদিকে সারা আলাইহিস সাল্লাম দুহাত তুলে আল্লার কাছে দোয়া করছেন আল্লাহ তুমি যদি জেনে থাকো আমার সতীত্ব আমার স্বামী ছাড়া অন্য কাউকে দেই নাই। তাহলে আজকে এই জালেমের হাত থেকে আমাকে রক্ষা করো। হাত পাড়াতে না বাড়াতেই তার হাত অবশ হয়ে পরে গিয়েছে সুবহানাল্লাহ। তিন তিনবার চেষ্টা করেছে তিন তিনবার বেহুশ হয়ে পড়ে গিয়েছে। এই সারা আলাইহিস সালাম এর মত সতীত্ব রক্ষাকারী এখন কি এই জেনারেশন এ আছে। এখন তো নিজে নিজের সতীত্ব বিলিয়ে দিতে পারলে বাঁচে। মা বোনদেরকে বলব আমরা যেন আমাদের ঘরে সারা আলাইহিস সাল্লাম এর মত মেয়ে স্ত্রী তৈরি করতে পারি আল্লাহপাক তৌফিক দান করুন আমিন। দেখেন সতীত্বের পাওয়ার আল্লাহপাক হাত অবশ করে ফেললেন। এবার ওই বাদশা হাদিয়া দিয়েছে হাজেরা আলাইহিস সাল্লামকে। হাজের আলাইহিস সাল্লামকে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বিয়ে করলেন । কেন বিয়ে করলেন? সন্তানের জন্য। বাই দা ওয়ে এখন যদি একাধিক বিয়ে করা হয় তাহলে সমাজ তাকে বাঁকা চোখে দেখা হয়। তার মনে হয় চরিত্রে সমস্যা আছে। কিন্তু বিয়ে না করে বিয়ের আগে দশটা প্রেম করলে কোন সমস্যা নেই। বিয়ের আগে হাজারটা জেনা করলে কোন সমস্যা নেই। পতিতালয়ে গেলে সমস্যা নাই , ফ্রি মিক্সিং করলেও সমস্যা নাই , গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে ঘুরতে গেলে ডেটিং করলে কোন সমস্যা নাই। বিয়ে করে ঘরে বউ থাকতেও বাইরে পরক্রিয়া করলে কোন সমস্যা নাই। এগুলোকে আমরা উন্মুক্ত করছি। কিন্তু কেউ যদি কোন বিধবার দায়িত্ব নেয় তালাক প্রাপ্তর দায়িত্ব নেয় বা কোন অসহায়ের দায়িত্ব নেয় তাকে আমরা খারাপ চোখে দেখছি। এই হলো আমাদের সাইকোলজি আর কি। অথচ আল্লাহপাক এই বিধানটা দিয়েছেন কুরআন এবং সুন্নাহ।

দ্বীনদার জীবনসঙ্গী নির্বাচন

যাইহোক তার জন্য শর্ত আছে শর্ত পূরণ না হলে করবেন না। কখনো ফরজ নয়। কিন্তু কেউ যদি শর্ত পূরণ করে করতে পারে তাকে নিশকারেজ করতে কেন যাবেন? এখান থেকে আমার মা বোনদের কে একটা হেদায়েতের কথা বলব ইনশাআল্লাহ। হাজেরা আলাইহিস সাল্লাম এর ইমাম আমল তায়াকুল দেখেন তার গর্ভে আল্লাহ পাক সন্তান দিলেন ইসমাইল আলাইহিস সাল্লামকে। এখন আল্লাহপাক বলেছেন রেখে আসো । কোথায় ? ওই মক্কায় জনমানব শূন্য জায়গায় ।রেখে আসলেন সাথে আছে সামান্য পানি আর কিছু খেজুর । রেখে আসলেন এবং ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম পিছনে হেঁটে চলে যাচ্ছে। হাজেরা আলাইহিস সালাম বলছেন আপনি কোথায় যাচ্ছেন হে ইব্রাহীম। আপনি আমাদেরকে জনমানব শূন্য জায়গায় ফেলে কোথায় চলে যাচ্ছেন হে ইব্রাহিম। ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম কিছু বলছেন না বুকের মধ্যে পাথর স্ত্রী সন্তানকে জন মানব শূন্য জায়গায় রেখে গেলে কি ভালো লাগবে কারো। বুকের মধ্যে পাথর চুপ করে আছেন। একপর্যায়ে হাজের আলাইহিস সাল্লাম বলছেন আপনি কি আল্লাহর আদেশে এই কাজটা করছেন? তখন তিনি বলছেন হ্যাঁ। আমি আল্লাহর আদেশে এই কাজটা করছি। এবার এই দেখেন হাজেরা আলাইহিস সাল্লাম বলছেন যদি আপনি আল্লাহর আদেশে করে থাকেন তাহলে আল্লাহ কোনদিনই আমাদেরকে ধ্বংস করবেনা ইনশাআল্লাহ। তাওয়াক্কুল আমি আপনাদেরকে বুঝায় এদিকে কোন মানুষ নাই কোন খাবার নাই এবং কোন পানিও নাই তারপরও তিনি বলছেন আল্লাহ ধ্বংস করবেন না। আপনি কি বুঝতে পারছেন কি অবস্থা? এবার খাওয়ার পানি শেষ হয়ে গেল সায়ী করছেন সাফা টু মারুয়া ,মারুয়া টু সাফা। শুধু এক ফোঁটা পানির জন্য। কাকে খাওয়াবেন ? বাচ্চাকে খাওয়াবেন। এই দৌড়টা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে এত পছন্দ হয়েছে যে কেয়ামত পর্যন্ত হজের মধ্যে এই দৌড়টা রেখে দিয়েছেন এটা কে । আপনি সায়ী করছেন এটা কার সুন্নাহ হাজেরা আলাইহিস সাল্লামের সুন্নাহ। হজ্জে ম্যাক্সিমাম কাজগুলো তাদের পরিবারিক কেন্দ্রিক। জামরায় পাথর নিক্ষেপ করা , এইযে তাওয়াফ করছেন , মাকাম ইব্রাহিমে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছেন। সব কিন্তু এই বংশের সাথে জড়িত। এই ইসমাইল আলাইহিস সাল্লাম এই হাজেরা আলাইহিস সাল্লামের গর্ভ থেকে এসেছেন।যেমন মা তেমন সন্তান। ইসমাইল আলাইহিস সাল্লামকে তার বাবা মানুষ করেননি করেছেন তার মা। বাবা কিন্তু অনেক দূরে প্যালেস্টাইনে। মাঝে মাঝে আসেন মাঝে মাঝে যান। এমন মায়ের গর্ভ থেকে এমন সন্তান পাওয়া সম্ভব। যেই সন্তানকে তার বাবা বলছেন হে আমার সন্তান আমি স্বপ্নে দেখেছি আমি তোমাকে জবাই করছি। তোমার রায় কি আমাকে বলো। বাচ্চার বয়স ১০-১২-১৫ এরকম হবে। এই বাচ্চা বলছে হে আমার বাবা আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তাই করেন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যেমন মা তেমন সন্তান। মা বলেছেন আল্লাহ আমাকে দেখবেন। সন্তান বলছে আমাকে জবাই করে দেন আল্লাহ আমাকে ধৈর্যশীল পাবে ইনশাআল্লাহ। এরকম স্ত্রী ঘরে ঘরে না থাকলে আমরা কি ইসমাইলের মতো সন্তান পাব।আল্লাহর নবী কখনোই বলে নাই চারটা গুন দেখে বিয়ে কর। হাদিসের শব্দে এমন নয়।ওলামা একরাম কে জিজ্ঞাসা করবেন চারটা গুণ দেখে বিয়ে কর নয় শব্দটা । চারটা গুণ দেখে সাধারণত বিয়ে করা হয়। সম্পদ , সৌন্দর্য , বংশ , দ্বীনদারীতা। তোমরা দ্বীনদারীতাকে প্রাধান্য দাও না হলে তোমাদের হাত ধুলোয় ধূসরিত হবে।

মুসা ও শোয়াইব আলাইহিস সালামের ঘটনা

মনে তাকওয়া থাকলে। আল্লাহ ওয়ালা স্ত্রী হলে আপনি দুনিয়াতেই জান্নাতে থাকবেন ইনশাআল্লাহ। আর ঘরে যদি একটা বতকার স্ত্রী থাকে তাহলে আপনার দুনিয়াটাই জাহান্নাম। অতএব বিয়ের সময় খুব কেয়ারফুল থাকবেন আপনি দ্বীনদার মেয়েকেই প্রাধান্য দেন । এবং মেয়েদেরকেও বলবো দ্বীনদার ছেলে ছাড়া বিয়ে করবেন না। অনেক বড় চাকরি করে , অনেক বড় ব্যবসা করে , সুদ খায় , লাভ খায় , নামাজ পড়ে না আপনি রাজি হয়ে যাচ্ছেন। এরপর গিয়ে পস্তাচ্ছেন। আমার সংসারে অশান্তি এইটা সেইটা ইত্যাদি। এখন পস্তায় লাভ নাই। আপনার সন্তানও হবে নাস্তিক প্রজন্মের মতই নাউজুবিল্লাহ । আমরা দুনিয়ার স্বার্থ খুব ভালো চিনি। দুনিয়ার স্বার্থ ত্যাগ করে দিন এবং দ্বীনকে অগ্রাধিকার দেন আল্লাহ পাক কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ। এই হলো ইসমাইল আলাইহিস সাল্লাম এর মা। তিনি যেমন তার সন্তান তেমন। এখানে আমাদের জন্য একটা আদর্শ আছে। এখনো যদি আমরা দ্বীনের বিজয়ী চাই তাহলে প্রত্যেক ঘরের কর্তাকে হতে হবে ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম এর মত। প্রত্যেক পরিবারের সন্তানকে হতে হবে ইসমাইল আলাইহিস সাল্লাম এর মত। প্রত্যেক পরিবারের মা বোনদেরকে হতে হবে হাজেরা এবং সারা আলাইহিস সাল্লাম এর মত তবে আদর্শ পরিবার হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ পাক আমাদের সবার পরিবার এমন করে দিন আল্লাহুম্মা আমীন। এবং এটা অসম্ভব কিছু না এটা আপনার ওপরে এটা আপনি করতে পারেন ।এই ইসলা সংশোধন আপনি করতে পারেন। চেষ্টা করেন আল্লাহপাক তৌফিক এনায়েত করুন। তারপর আসেন মারিয়াম আলাইহিস সাল্লাম তার সতীত্ব এত পবিত্র ছিল যে আল্লাহ পাক তাকে মিরাক্কেল বানিয়েছেন। তার গর্ভে ঈসা আলাইহিস সাল্লাম কে জন্ম দিয়েছে। খেয়াল করে দেখেন ফেরাউন মনে আছে ফেরাউন তার ঘরে একজন ঈমানদার মহিলা ছিল না। মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম মেরাজে গিয়েছেন সেখানে গিয়ে দেখেন বেশিরভাগ অধিবাসী জাহান্নামে নারী। এর মধ্যে তিনি একটা সুগন্ধ পাচ্ছেন জান্নাতের । এই সুগন্ধ কোথা থেকে আসছে। তখন জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম তাকে জানিয়ে দিলেন এটা ফেরাউনের সেই যে দাসী যাকে ফেরাউন হত্যা করেছিল ঈমানের কারণে। ওর ঘর থেকে জান্নাতে সেই ঘর থেকে এই সুগন্ধ আসছে সুবহানাল্লাহ। ফেরাউনের ঘরেও মুমিন নারী থাকতে পারে তাহলে আমাদের ঘরে থাকতে পারেনা। মূসা আলাইহিস সাল্লাম তার মা সন্তানকে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন না সিন্দুকে মনে আছে। আল্লাহ পাক তার সন্তানকে আবারও তার কোলে ফিরিয়ে দিয়েছেন মনে আছে । এখানে একটা শিক্ষা আছে। প্রিয় মা বোনরা আপনারা যদি আপনাদের সন্তানকে আল্লাহর পথে দেন আল্লাহপাক আপনাকে চক্ষু শিতল করে দিবে ইনশাআল্লাহ। ওই সন্তানকে আল্লাহ পাক এমন ভাবে ঘুরিয়ে এমন একটা অবস্থান দিয়ে আপনার কাছে নিয়ে আসবেন আপনি তাকে দেখে পরিতৃপ্ত হয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। এখানে নসিয়াত আছে। তিনি ভাষাতে পারছিলেন না মন কাঁদছিল আল্লাহ পাক তার মনকে নরম করেছেন ,শক্ত করেছেন । আল্লাহপাক মনটাকে শক্ত করেছেন। তারপর আল্লাহপাক ওখানে একটা ইলহাম করেছেন তিনি ভাসিয়ে দিয়েছেন। তারপর আল্লাহ পাক ওই সন্তানকে তার কোলে আবার ফিরিয়ে দিয়েছেন দুধ পান করানোর জন্য। ঘটনাটা পড়ে দেখবেন। আপনি যদি আপনার সন্তানকে আল্লাহর পথে দেন আপনার সন্তানকে যোগ্য করে আল্লাহ পাক আপনার সামনে নিয়ে এসে দাঁড় করিয়ে দিবেন ইনশাআল্লাহ। আপনি দেখে চোখ শীতল করে ফেলবেন আল্লাহর উপর ভরসা রাখেন।

নারীর দাওয়াত ও খাদিজার ভূমিকা

মুসা আলাইহিস সাল্লামের কথায় আরেকটা ঘটনা মনে পড়ল। তিনি যখন ঘুসি মেরে একজনকে মেরে ফেলল। তিনি চলে গেলেন কওমের শোয়াইব মাদিয়ানা। সেখানে গিয়ে বসে আছেন এবং দেখছেন দুইজন মেয়ে পানি নেয়ার জন্য এসেছে । পানি নিতে পারছে না তিনি গিয়ে হেল্প করলেন। এই মেয়ে দুটো গিয়ে শোয়াইব আলাইহিস সাল্লাম কে বললেন যে একজন ব্যক্তিকে দেখেছি সে খুব শক্তিশালী এবং আমিন বিশ্বাসতো ।শোয়াইব আলাইহিস সাল্লাম তাকে পাঠালেন ডেকে নিয়ে আসো। এবার এই যে মেয়েটা হেঁটে হেঁটে আসছে এদিকে মুসা আলাইহিস সাল্লাম গাছের নিচে বসে দোয়া করছেন ।এই মেয়ে হেঁটে হেঁটে এসে মুসা আলাইহিস সাল্লাম কে বলছেন আমার বাবা আপনাকে ডাকছেন। এই মেয়েটার হেঁটে হেঁটে আসার কথাটা আল্লাহ পাক সূরার মধ্যে বলেছেন। এই মেয়েটা লাজুক পায়ে হেঁটে হেঁটে এসেছে। কিভাবে? লাজুক ভঙ্গিতে সে হেঁটে হেঁটে এসে বলেছে আমার বাবা আপনাকে ডাকছেন । এই লজ্জাশীলতা এখনকার মেয়েদের মধ্যে আমাকে দেখান । এই লাজুক ভঙ্গিতে যে হেঁটে আসা মেয়েদের যে হেটে আসে এটাও উঠে একটা পর্দা। মেয়েদেরকে কে বুঝাবে হাটার মধ্যে ও পর্দা আছে।কে বুঝাবে গলার ভয়েজে পর্দা আছে ।চোখের চাহুনিতে পর্দা আছে। একটা মেয়ে সবকিছু ঢেকেছে শুধু চোখ দুটো ঢাকে নাই। এই চোখ দেখে একটা ছেলে তার প্রেমে পড়তে পারে । এটা সম্ভব। একটা হাতের কব্জি দেখে আপনি একটা মেয়ের প্রেমে পড়তে পারেন ভালো লাগতে পারে এটা সম্ভব। আল্লাহ পাক মেয়েদেরকে এত সুন্দর করে সৃষ্টি করেছে । আল্লাহ পাকের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে মেয়েরা। মানুষ তো অবশ্যই তারপরে মেয়ে মানুষ। এই নারী হয়তো আপনার জান্নাতের মাধ্যম হবে অথবা আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ফেতনা হবে। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন আমি পুরুষদের জন্য মহিলাদের চেয়ে বড় কোন ফেতনা রেখে যাচ্ছি না। প্রচন্ড বড় ফেতনা হতে পারে সাবধান। এখন দেখেন এখানে মেয়ের হাটার বর্ণনা আল্লাহপাক দিয়েছেন। এখনকার জেনারেশনের মেয়েদেরকে আপনি হাঁটা শিখান রাস্তাঘাটে শপিং মলে সব জায়গায় দেখবেন গেঞ্জি টি-শার্ট জিন্স ফরমাল পোশাক পরে সুট বুট পড়ে ঘুরছে। মাঝে মাঝে পোশাকের এখানে ওখানে ছেঁড়াফাটা এটাই নাকি স্টাইল। এমন পোশাক পরছে যেটা পড়ে ও দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বুঝা যাচ্ছে। এমন পোশাক পড়ছে যেটা বাহির থেকে ভেতরের অঙ্গ দেখা যাচ্ছে। অমুসলিমদের পোশাক পরছে ছেলেদের পোশাক পরছে এগুলো সবই আখিরুজ্জামানের সাইন। আখিরুজ্জামান এ এমন মেয়েদের সংখ্যা বাড়বে।এরা কাপড় পরেও নগ্ন থাকবে ।এরা মানুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হবে। এরা জান্নাতের গন্ধ পাবে না যদিও জান্নাতের গন্ধ যোজন যোজন থেকে পাওয়া যায়।আখেরুজ্জামান এর সাইন আপনি দেখবেন মেয়েরা ছেলেদের পোশাক পড়ে ঘুরছে ।এখন এই শোয়াইব আলাইহিস সাল্লাম এর মেয়েদের মত এদেরকে কে লজ্জা শিখাবে।

নারীদের জাহান্নামের কারণ

বেশি বেশি মেয়েদের যুগ উপযোগী মাদ্রাসার প্রয়োজন। বেশি বেশি মেয়েদের ইসলাহি আলোচনার দরকার। মেয়েদের মধ্যে দাওয়াতী কাজের দরকার। মেয়েদেরকে অনেক সময় দাওয়াতী কাজের অভাবে ভুল দাওয়াত দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিচ্ছে। মারাম ছাড়া সফর দিচ্ছে।এমন অনেক জামাত বের হয়েছে মারাম ছাড়া জেলায় জেলায় সফর দিচ্ছে দলিল দিচ্ছে এটাও নাকি জিহাদ নাউজুবিল্লাহ । কিভাবে হচ্ছে? কারণ আমরা যখন ওদের দাওয়াতটা কমিয়ে দিচ্ছি।মেরা মেয়েদের মধ্যে দাওয়াত সংক্রান্ত কাজ করছে না ।বেদাদী এবং পথভ্রস্ত এরা ওদের ঘর থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। ইসলামের নামে বোরখা পড়িও বের করে নিয়ে যাচ্ছে ।খুব অবস্থা খারাপ আপনি খেয়াল করেন আপনি ধরতে পারবেন। এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখেন কোরআনের পাতায় পাতায় হেদায়েত আছে। সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম তার জীবনে এই যে সবচেয়ে বড় মিশন এই মিশনের সবচেয়ে বড় ভূমিকা কে রেখেছে বলেন তো। তার স্ত্রী খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা। মক্কায় ১৩ বছর মানুষ তাকে যতটা না বিশ্বাস করেছে খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা শুরু থেকে তার পাশে ছিলেন । শেষ বয়সে গিয়ে মহানবী সাঃ তার কথা বেশি বেশি করে বলতেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা স্বভাবগত কারণেই একটা মানবিক একটা মেয়েদের আচরণগত কারণে জেলাস ফিল করতেন । যে আপনি বারবার তার কথা কেন বলেন? তিনি বলতেন হে আয়েশা তোমরা খাদিজাকে ভালো-মন্দ বলো না। যখন কেউ আমার কথা বিশ্বাস করে নাই খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা বিশ্বাস করেছে। তিনি এমন একটা মানুষ ছিল যিনি তার প্রতিপত্তি সম্পদ সামাজিক খ্যাতি সবকিছু ইসলামের কল্যাণে ঢেলে দিয়েছেন । হেরা গুহায় নবী সাঃ যখন বসে থাকতেন তিনি গিয়ে খাবার পানি দিয়ে আসতেন। হেরা গুহায় একবার উঠে দেইখেন কত উঁচু কত কষ্ট? আমরা যুবক বয়স উঠতে পারবো না। এখন সহজ ।এখনো কষ্ট আছে। ওই সময় কি সিঁড়ি ছিল। না, তিনি উঠতেন খাবার দিতেন। চিন্তা করেন একজন নারী এই কাজটা করতেন । খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার বান্ধবীদেরকে খুঁজে খুঁজে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম গোস্ত হাদিয়া পাঠাতেন। তাকে এত ভালবাসতেন। জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম এসে খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে সালাম দিয়েছেন। নবীজিকে বলেছেন ওই যে খাদিজা আসছে ইয়া রাসুলুল্লাহ। তিনি যখন আসবেন তাকে বলবেন জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম তাকে সালাম দিয়েছেন। এবং আল্লাহ পাক তার জন্য জান্নাতে এমন একটা ঘর নির্মাণ করেছেন যেখানে কোন হট্টগোল নাই কোন গোল নাই। খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার মৃত্যুতে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত ব্যতীত হয়েছিলেন অত্যন্ত ব্যতীত হয়েছিলেন । তার বয়স তখন কত ২৩ আর খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার বয়স তখন ৪০ বিয়ের সময়। কোন ছেলে কি সাধারণত এত বছর ডিফারেন্স কোন মহিলাকে বিয়ে করতে চাইবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম করেছেন এবং তাদের মাঝে এত ভালবাসা ছিল যে অন্য কোথাও ছিল না । হ্যাঁ, পরবর্তীতে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমার মন আয়েশার দিকে বেশি টানে এর জন্য তোমরা আমাকে এই কারণে বৎসনা করো না। মানুষের মন সব দিকে সমান তো আর হবে না। চারোদিকে একটু বেশি ঝুকবে এর জন্য তোমরা আমাকে বৎসনা করো না। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যতগুলো হাদিস আপনি জানছেন এর মধ্যে ম্যাক্সিমাম হাদি যে কয়জন রাবি বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে একজন হচ্ছেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা। এই ঘরের হাদিস গুলো কার থেকে জানলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার থেকে। ইসলামের খেদমতে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার যে ভূমিকা আমাদের এই সেকুলার সুইসাইটি সমস্ত নারীদের কে একত্রে করলে এই খেদমত আসবেনা। তো এগুলো আমাদের দৃষ্টান্ত।

পরিবারে নারীর অধিকার ও শিক্ষা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এই উম্মতের নারীদের জন্য একটা কথা বলে গিয়েছেন ।তিনি দেখে এসেছেন মিরাজের রাতে এই উম্মতের বেশিরভাগ নারী জাহান্নামে যাচ্ছে । কারণ বলেছেন তিনি। স্বামীর অকৃতজ্ঞ হয় , লানত করে , অভিশাপ দেয় , বুক চাপড়ায় , মাতম করে এবং আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়। চারটা কারণে এসেছে মোটামুটি ভাবে।মৃত্যুবরণ করলে কেউ মাতম করে গা হাত পায় থাপ্পর দেয় চাপড়ায় , জামা কাপড় ছিড়ে ফেলে অনেক ক্ষেত্রে এমন করে। এই কারণে মাইয়াতকে শাস্তি দেওয়া হয়। মা বোনদের এটা ত্যাগ করতে হবে। এরপরে স্বামীর অকৃতজ্ঞ হয়। স্বামী সারাজীবন তার জন্য কাজ করে তার ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে একদিন যদি কোন কিছু কম পায় তাহলে বলে সারা জীবন তোমার কাছে কিছুই পেলাম না। এবং বেশি বেশি অভিশাপ দেয়। ঝগড়া লাগলেই গালিগালাজ আর অভিশাপ দিয়ে বসে এই কাজগুলো যদি তারা ত্যাগ করতে পারে। ইনশাল্লাহ তারা বেশি বেশি জাহান্নামে যাবে না। তবে তাদের বেশি বেশি জাহান্নামে যাওয়ার বর্তমান মর্ডান একটা কারণ হচ্ছে ফেমিনিস্ট রেভুলেশন।ফেমিনিস্ট রেভুলেশন সেই কারণ যার কারণে আপনি এখনকার নারীদেরকে বাসায় রাখতে পারছেন না পর্দায় । এর কারনে মেয়েরা বাহিরে বের হয়ে যাবে ফ্রিমিক্সিং এ যাবে পর্দা ছেড়ে দিবে নামাজ কালামের ঠিক ঠিকানা নাই। দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করবে না। বেশি বেশি হারাম রিলেশনশিপে লিপ্ত হবে , জেনা বাড়বে , ধর্ষণ বাড়বে , পরকীয়া বারবে আস্তে আস্তে তারা জাহান্নামে যাবে। এটা হচ্ছে ফলাফল। এটাই সেই কারণ যার কারনে বেশিরভাগ নারী জাহান্নামে যাবে। খুব সতর্ক থাকবেন। কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় সামান্য দুনিয়ার স্বার্থে তারা নগ্ন হয়ে মডেলিং করতেও তারা দ্বিধাবোধ করছে না মডেলিং করতে তারা দ্বিধাবোধ করছে না । নগ্ন হয়ে ফিল্ম গুলোতে ও কাজ করতে তারা দ্বিধাবোধ করছে না। ইজ্জত বিলিয়ে দিয়ে টাকা কামাতে তারা দ্বিধাবোধ করছে না । কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদেরকে ব্রেন ওয়াশ করানো হয়েছে যে এটা সামাজিক সোসাইটি। সামাজিক সোসাইটির মধ্যে এটা সম্মানের মাধ্যম এগুলো বলা হচ্ছে। এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন আল্লাহর ওয়াস্তে এগুলো সম্মানের মানদণ্ড নয়। সম্মানের মানদন্ড হচ্ছে আপনার ঈমান , আমল , তাকওয়া এবং আপনার সতীত্ব। একবার সতীত্ব চলে গেলে আর ফিরে আসবে না। আল্লাহপাক বোঝার তৌফিক দান করুন আমিন। আর সব সর্বশেষ কথা হচ্ছে এই উম্মতের নারীদের জন্যই হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম চারটা কাজের সুসংবাদ দিয়েছেন । চারটা কাজ করতে পারলেই জান্নাতে যে কোন দরজা দিয়ে তারা প্রবেশ করতে পারবেন সুবহানাল্লাহ। এক নাম্বার তারা যদি পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ পড়তে পারে। পাঁচ ওয়াক্ত এর নামাজ টাইম টু টাইম পড়তে পারে। দুই নাম্বার তারা যদি রমজান মাসের সওম রাখতে পারে। তিন নাম্বার তারা যদি লজ্জাস্থানে হেফাজত করতে পারে মানে পর্দা করতে পারে। এখানে আমি খাস পর্দা বুঝাচ্ছি। ডিজিটাল পর্দা বুঝাচ্ছি না খাস পর্দা বুঝাচ্ছি। পোশাক এমন হবে না যেটা পড়লে শরীরের কাঠামো বুঝা যায় এমন পোশাক চলবে না। পোশাক এমন হবে না যেটা পড়লে বাইরে থেকে ভেতরের অঙ্গ দেখা যায় এমন পোশাক হবে না। পোশাক এমন হবে না যেটা অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্য আছে। পোশাক এমন হবে না যেটা পুরুষদের পোশাক। তারা যদি তাদের লজ্জা স্থানকে হেফাজত করতে পারে। চার নাম্বার যদি স্বামীর আনুগত্য করতে পারে। এই চারটা কাজ যে নারী করতে পারবেন ইনশাল্লাহ জান্নাতে যে কোন দরজা দিয়ে সে প্রবেশ করতে পারবে।

মেয়েদের শিক্ষা ও সময়ের ব্যবস্থাপনা

আমি পারিবারিক ক্ষেত্রে স্বামীদেরকে অনুরোধ করবো আমাদের অনেক দোষ আছে। স্বামী ভাই পিতাদের অনুরোধ করবো যে মেয়েদেরকে ছোটবেলা থেকে পড়াশোনা শেখান। কন্যা সন্তান হলে মুখটা কালো করার দরকার নাই। তারা আমাদের বোঝা নয় বরং দেখবেন তারাই ওমর , খালেক , ওসমান ,আলীর মত সন্তান জন্ম দিবে ইনশাল্লাহ । তাদের গর্ভ থেকে সন্তান জন্ম হবে ইনশাআল্লাহ। সন্তান মেয়ে হলে মুখটা কালো করার প্রয়োজন নেই। আমরা ওদেরকে দ্বীন শিক্ষা দিব , উপযুক্ত পরিবেশ দিব, নিরাপত্তা দিব , নিরাপদ পরিবেশের দ্বীন শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করব। এটা আমাদের ওপর দায়িত্ব। তাদেরকে সম্পত্তির অধিকার দিতে হবে এটা আমাদের ওপর দায়িত্ব। জুলুম করা যাবে না তাদের ওপর জুলুম করা যাবে না। তাদের ফিতরত তাদের চরিত্র একটু বক্র হবে। এটা মেনে নিয়েই চলতে হবে। তাদের ফিতরত হবে তারা একটু বক্র হবে এটা মেনে নিয়ে আপনাকে আমাকে চলতে হবে। আল্লাহ পাক তৌফিক দান করুন আমীন। এটা এই জায়গায় শয়তান এসে সুযোগ খুঁজবে। এই জায়গায় সবরের পরীক্ষা দিতে হবে আল্লাহ পাক তৌফিক এনায়েত করুন। তাদের দ্বীন শিক্ষা নিশ্চিত করার পর তাদেরকে আমলের এখতিয়ার দিতে হবে। সারাদিন ওদেরকে দুনিয়ার কাজে ব্যস্ত করে রাখবেন না। আমরা ওদেরকে যত কাজের চাপ দিয়ে রাখি এই কাজগুলো করার পর তাদের আমল করার ফুরসত থাকে না। কাজের চাপ কমিয়ে দিতে হবে। এতগুলো তরকারি কেন রান্না করতে হবে একটা দুইটা রান্না করলে এনাফ । সময় দেন তাদেরকে সময় দেন। প্রতিবেলায় কেন তাদের কে চুলায় হাড়ি চড়াতে হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাড়িতে তিন মাস কখনো চুলায় জলে নাই। পরপর দুই বেলা তিনি কখনো পেট ভরে খাননি। আমাদের প্রত্যেক বেলায় কেন এত এত রান্না করতে হবে তাদেরকে এত ব্যস্ত রাখবেন কেন? সময় দেন পড়াশোনা করতে দেন তালিম করতে দেন। এক বেলা রান্না করেন তিন বেলা খান। ওরা এত মার্কেটে মার্কেটে ঘুরবে কেন আমরা কি মরে গেছি নাকি। আমরা মাসের বাজার করে দিব। রমজান মাস আসার আগেই রমজান এবং ঈদের শপিং করে ফেলবেন। যতটুকু সামর্থ্য আছে এটা দিয়েই করেন।রমজান মাস পুরা ইবাদতে কাটাবেন ইনশাআল্লাহ ।বাসার পরিবেশটাই মূল কথা আমরা তাদের ওপর অনেক জুলুম করে ফেলি। ওদের প্রতি ভুরুক্ষেপ করি না। দেখবেন নিজের স্ত্রীকে ভালো লাগেনা। সারাদিন বাইরে মুভিজ দেখতে দেখতে পর্নোগ্রাফি দেখতে দেখতে এবং ফ্রীমেক্সিং চলতে চলতে নিজের স্ত্রীর চেহারা আর ভালো লাগেনা। বিয়ের আগে যে ১০ টা প্রেম করে আসছে এখন স্ত্রীর চেহারা কিভাবে ভালো লাগবে। স্ত্রীর দিকে তাকাই না ভ্রূক্ষেপ করে না। আবার আমাদের স্ত্রীদেরকেও দেখবেন বাইরে যাওয়ার সময় সাজুগুজু করে একাকার। স্বামীর জন্য কখনো সাজবে না। সাহাবা একরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু ইজমাইন বাসায় ঢুকতেন বা জিহাদের মাঠ থেকে ফিরতেন বা দাওয়াত দিয়ে ফিরতেন।আহলাম জাহালম দাঁড়িয়ে থাকতে স্ত্রীরা আহালাম জাহালাম সুন্দর করে সেজে থাকবেন স্ত্রীরা। সুন্দর করে সেজে থাকতেন, পরিপাটি হয়ে থাকতেন স্বামী আসতো হাতে চুমু খেতেন জড়িয়ে ধরতেন এতে ভালোবাসা বাড়তো। একই প্লেটে খাবার খেতেন বড় প্লেট ছিল একসাথে খাবার খেতেন। মহাব্বাত বাড়তো ।হাত দিয়ে খাইয়ে দিতেন বাড়তো । কোলে শুয়ে কোরআন তেলাওয়াত করতেন মোহাব্বত বাড়তো । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে কামড় দিত যেখানে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু কামড় দিয়েছেন মহাব্বাত বাড়তো । সময় দিতেন পরিবারকে দিয়ে তারা অন্তরঙ্গ সম্পর্কে যেতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম তার স্ত্রীর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন , চাঁদ দেখেছেন । এখানে দেখবেন আপনি যাচ্ছেন ঘরে স্ত্রী আপনার দিকে তাকায় না আপনিও স্ত্রীর দিকে তাকান না। সে সাজেনা আপনার জন্য আপনিও তার কেয়ার করেন না। আপনি বসে গেলেন ফেসবুক নিয়ে মুভিজ নিয়ে সেও মাশাল্লাহ তারটা নিয়ে গুতাগুতি শুরু করল । কেউ কারো সাথে সম্পর্ক নাই। এক বছর যেতে না যেতেই বিয়ে ভালোবাসা মহব্বত সব শেষ। অথচ আল্লাহপাক বলেছেন এই ভালোবাসা ঠিক না রাখতে পারলে তাহলে পরিবারের মধ্যে কাঠামো ঠিক থাকবে না। এবং এইসব পরিবেশে যে বাচ্চারা বড় হবে এরা আগামী দিনে উম্মার হাল ধরতে পারবে না। মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম মানুষকে ভালবাসতেন কারণ ছোটবেলা থেকে তাকে ভালোবাসার পরিবেশে বড় করা হয়েছে। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু খুব কঠোর ছিলেন কারণ ছোটবেলা থেকে তাকে কঠোরতার মধ্যে মানুষ করা হয়েছে। এ বিষয়গুলো মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। আমরা আমাদের মা-বোনদেরকে রিকোয়েস্ট করব পাঁচ ওয়াক্তে সালাত ঠিকমতো আদায় করবেন। দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হবেন। মাদ্রাসার সাথে সম্পৃক্ত রাখেন। মহিলাদের তালিমি হালাকা করেন। তাদের মাঝে দাওয়াতি কাজ করেন পর্দার দিকে খেয়াল রাখেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইনশাআল্লাহ জান্নাতি পরিবার গড়ে দিবেন । এই পরিবারগুলো নিয়ে যখন সমাজ গঠিত হবে। এই সমাজ তখন একটা আলোকিত সমাজে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ তায়ালা।

সাধারণ প্রশ্ন

এই ওয়াজে কোন বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে?

ওয়াজে সৃষ্টির শুরু, আল্লাহর একত্ব, ঈমানের ছয়টি পিলার, কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব এবং আরশের ছায়া পাওয়া সাত শ্রেণীর মানুষের কথা বলা হয়েছে। নারী ও যুবসমাজের প্রসঙ্গও এসেছে।

আরশের ছায়া পাওয়ার সাত শ্রেণীর মধ্যে প্রথম কারা?

বক্তা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণী হলো ন্যায়পরায়ণ শাসক। দ্বিতীয় শ্রেণী হলো যে যুবক বা যুবতী নিজের যৌবন আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছে।

যে ব্যক্তি সফল বলে বক্তা উল্লেখ করেছেন তার সংজ্ঞা কি?

বক্তার ভাষ্যে সফল সেই ব্যক্তি যে কেয়ামতের মাঠে পুলসিরাত পার হতে পারবে এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। দুনিয়ার বাড়ি-গাড়ি বা সম্পদকে সাফল্যের গ্যারান্টি বলা হয়নি।