হযরত উমর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের অবিস্মরণীয় ঘটনা
হামজা রাঃ-এর আবু জাহেলের সাথে ঘটনা
হামজা রাঃ যখন ইসলাম গ্রহণ করেননি। শিকার করে ফিরছিলেন। হামজা রাঃ সিংহ শিকার করতে পারতেন। সিংহ শিকার চারটাখানি কথা মনে করছেন। তিনি যখন যাচ্ছিলেন এই দাসী হামজা রাঃ কে বললেন আপনি যদি দেখতেন কিভাবে আপনার ভাতিজাকে আবু জাহেল অপমান করল। তাকে গালিগালাজ করলো তাকে আঘাত করল তাহলে আপনি স্থির থাকতে পারতেন না। হামজা রাঃ বলল সে কি সত্যিই এই কাজ করেছে ?সেই দাসী বলল বেলা ওয়াআল্লাহ ,আমি আল্লাহর কসম করে বলছি অবশ্যই সে এই কাজ করেছে। হামজা রাঃ বাসার দিকে না গিয়ে দারুন নাদওয়া অর্থাৎ মক্কায় যেখানে কাবা দেখেন ওখানে গেলেন ।সেখানে দেখলেন আবু জাহেল তার দলবল নিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। হামজা রাঃ ঘোড়া থেকে নেমে আবু জাহেলের কলার ধরলেন। এবং প্রচন্ড জোরে একটা ঘুসি দিলেন। প্রচন্ড জোরে বলে দেই আবু জাহেল কিন্তু ওই সময় এর মক্কার রাষ্ট্র নেতা। মক্কার গোত্রের সব গোত্রের বনু মাখজুম এর সরদার। হামজা রাঃ এই কাজটা করলেন। এবং বললেন তোর যদি ক্ষমতা থাকে আমাকে ঘুষি মেরে ফেরত দে। ক্ষমতা থাকলে আমার গালে ও একটা মেরে দেখা , কথাটা এই রকম আর কি।আবু জাহেল কিছু করতে পারল না। হামজা রাঃ বললেন আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই আমার ভাতিজা যা বলেআমিও তাই বলি । যদি তোমার ক্ষমতা থাকে তাহলে আমাকে আঘাত করে দেখাও। আজকে থেকে আমিও তার দলে সে যা বলে আমিও তাই বলি। হামজা রাঃ ছুটলেন তার ভাতিজার দিকে দারুল আরকামে গিয়ে তাকে পেলেন এবং তাকে বললেন হে আমার ভাতিজা আমি তোমাকে এর আগে আত্মীয়তার সম্পর্কের জন্য প্রটেক্ট করতাম। আর আজকের থেকে আমি তোমাকে ইসলামের জন্য প্রটেক্ট করব, ইনশাআল্লাহ। এই ঘটনায় রাসুলুল্লাহ সাঃ এত খুশি হয়েছিলেন । তিনি হামজা রাঃ কে একদম বুকে জড়িয়ে চুমু খেলেন। যখন হামজা রাঃ ওহুদের মাঠে শহীদ হন তখন আমাদের নবীজি অঝোর নয়নে কেঁদেছেন ।তার শাহাদাতের দৃশ্য যদি দেখতেন বা আমরা দেখতে পারতাম। তাকে বর্ষা নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয়েছে। বর্ষাটা তার কলিজা ভেদ করে পিছন থেকে বেরিয়ে গেছে। চোরা গুপ্ত হামলা চালিয়ে কারণ সামনে থেকে তাকে হত্যা করা যেত না। আজকেও ইসলামকে সামনে থেকে শেষ করা এত সহজ না তাই পেছন থেকে সব সময় চক্রান্ত করতে থাকে এরা। কিভাবে কি করে কোথায় লাগায় দেয়া যাবে? কলিজাটা ছিড়ে দাঁত দিয়ে কামড়ানোর চেষ্টা করেছিল। এই হলো আমাদের শিকড়ের পূর্বপুরুষেরা। এই ঘটনাটা ওমর রাঃ দেখেছিলেন। ঐদিন এই ঘটনাটা ওমর রাঃ দেখলেন এবং বাসায় গিয়ে চিন্তা করতে থাকলেন সব ফাসাদের মূল মনে হয় মোহাম্মদ। এই ব্যক্তিটার কারণে আরবের মধ্যে বিভক্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হচ্ছে। তাহলে আমার করনীয় কি ?আমিও তো একটা গোত্রের নেতা। তিনি আদি গোত্রের নেতা ছিলেন। তিনি খোলার তরোয়ালি হাতে চললেন। এইবার তিনি নবীজিকে হত্যা করবেন। ওই যে ঘটনাটা জানেন আপনারা। পথে একজনের সাথে দেখা হল তিনি বললেন নবীজীকে হত্যা করার আগে তুমি তোমার বোন ও ভগ্নিপতির বাসায় যাও। তারা তো ইসলাম কবুল করেছেন। তিনি আসলেন এসে যখন দরজা নক করলেন।দরজার আড়াল থেকে শুনতে পারলেন তেলাওয়াত হচ্ছে কিছু একটার ।সূরা ত্বোয়া তেলাওয়াত হচ্ছিল।
part 2 তা - হা।
মাআনঝালনা আলাইকাল কুরআ-না লিতাশকা।
ইল্লা -তাযকিরাতাল লিমাইইয়াখসশা ।
তানঝীলাম মিম্মান খালাকাল আরদা ওয়াছছামা - ওয়া - তিল ঊলা।
আররাহমা - নু আলাল আরশিছ তাওয়া।
তিনি দরজা খুলে ঢুকলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন তোমরা কি পড়ছিলে ?বোন অস্বীকার করল বলল কিছু না। আমরা পরস্পর কথা বলছিলাম। তিনি বললেন আমি শুনেছি তোমরা দুজন সাবা হয়ে গেছো, মানে বেদিন হয়ে গেছো। মিথ্যা বলবে না আমার কাছে। তখন তার ভগ্নিপতি বললেন। হে ওমর তুমি কি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দীনের মধ্যে হক খুঁজে পেয়েছো। তখন তিনি বুঝতে পারলেন ওরা সত্যি সত্যি ইসলাম কবুল করেছেন। তিনি মারধর শুরু করলেন । একপর্যায়ে বোনকে থাপ্পড় মারলেন বোন রক্তাক্ত হয়ে গেলেন। এক পর্যায় তার বোন তার নাকের উপরেই বললেন যে তোমার যা ইচ্ছা তাই কর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই , এবং মোহাম্মদ আল্লাহর রাসূল সাঃ।ওমর রাঃ ঠান্ডা হলেন যেহেতু বোনকে মারছেন একটা ভালোবাসা তো কাজ করে। মাথা যখন ঠান্ডা হলো তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন তোমরা কি পড়ছিলে? আমাকে ওই কাগজটা একটু দাও আমার বোন আমি একটু পড়ে দেখি। প্রথমে তিনি দিতে চান নাই। পরে তার ভগ্নিপতি মানে তার বোনের স্বামী তাকে ইশারা করে বলল যে তাকে দাও। তারা জানতেন যে ওমর রাঃ একজন স্বচ্ছ মনের মানুষ ছিলেন। হয় হকের পক্ষে না হলে বাতিলের পক্ষে মন একদম ফ্রেশ, ভেতরে কোন প্যাচ নাই। আমাদের মত না কিন্তু কিছু কিছু হকে আবার কিছু কিছু বাতিলে ।দেখেন না সুবিধার খোঁজে আজকে অনুকূলে থাকলে তাইলে পরে প্রতিকূল থাকলে নাই ।এই টাইপের ছিলেন না। তিনি ছিলেন ইস্টেড ফরওয়ার্ড। আমি হয় এদিকে আছি না হয় ওদিকে আছি ।এবার ওমর রাঃ সেই চিরকুটটা পড়া শুরু করলেন। সেখানে সূরা তোহা লেখা ছিল। এবং বলে রাখি ওই সময় আরবে আমি ভুল হতে পারি ১৬ থেকে ১৭ জন লেখাপড়া করতে পারতেন। বাকিরা লেখাপড়া জানতেন না। ইভেন আমাদের নবীজি ও লিখতে পড়তে জানতেন না। ওমর রাঃ পড়তে জানতেন। তিনি পড়লেন এবং বুঝতে পারলেন এবং তিনি সূরা তোহা তেলাওয়া করতে করতে করতে এই আয়াতে আসলেন ।সূরা তোহার ১০ থেকে ২০ এর মধ্যে এই আয়াতগুলা আছে। তাদেরকে অবকাশ দাও সেই দিন পর্যন্ত। জালিমদের কে অবকাশ দাও সেদিন পর্যন্ত যেদিন আল্লাহ পাক তাদের প্রত্যেককে ধরে ধরে হিসাব নিবেন। এই আয়াতগুলো যখন তিনি পড়তে লাগলেন তার মনের ভেতর।
উমর রাঃ-এর দারুল আরকামে প্রবেশ
তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না । তিনি একটা কথাই বললেন কুরাইশরা কি এটা থেকে পালাচ্ছে? তারা ইশারা করলেন কুরাইশরা এখান থেকেই পালাচ্ছে। তার চোখ থেকে দরদর করে পানি পড়তে লাগলেন ।তিনি বললেন আমাকে আল্লাহর রাসূল এবং তার সাহাবীদের কাছে নিয়ে চলো। আমি তার কাছে যাবো এবং ইসলাম কবুল করবো। তিনি চললেন দারুল আরকাম এর দিকে। সেখানে ছিল হামজা রাঃ ওই যে কিছুদিন আগে ইসলাম কবুল করেছেন। হামজা রাঃ একজনকে পাঠালেন যে দেখো দরজায় কে নক করছে। সাহাবীর নাম তো খাব্বাব রাঃ তিনি দেখলেন দরজার ফটো দিয়ে ওমর রাঃ দরজার বাইরে তরোয়াল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ।তিনি ভয় পেয়ে গেলেন এবং ভিতরে গিয়ে বললেন। ইবনুল খাত্তাব তরোয়ালি হাতে এসেছে। তখন সবাই ভয় পেয়ে গেলেন আবু বক্কর সিদ্দিকী সহ । এবার না জানি কি হয় কেয়ামত হয়ে যাবে এখানে। কারণ তার প্রচন্ড রাগ ছিল। তিনি যে কত বড় যোদ্ধা ছিলেন তা বদরের মাঠে গেলে বুঝতে পারবেন ।বদরের মাঠে আমরা যাব ইনশাআল্লাহ। হামজা রাঃ বললেন তোমাদের কি হয়েছে তোমরা ভয় পাচ্ছ কেন? তার জন্য দরজাটা খুলে দাও। সে যদি উত্তম কিছু জন্য আসে তাহলে ইসলাম কবুল করবে। আর যদি সে খারাপ কোন ইন্টেনশনে আসে তাহলে ওকে আমরাই মেরে দিব ।এই যে হামজা উনিও কাউকে ভয় পান না। তুমি এত বড় যোদ্ধা তো কি হয়েছে আমরাও তোমার চেয়ে কম না। তিনি ওমর রাঃ কলার টা ধরে ভিতরে নিয়ে আসলেন। ভিতরে নিয়ে এসে দরজার সাথে ঠেকিয়ে দিয়ে বললেন তুমি কি ততদিন পর্যন্ত বিরত হবে না যতদিন পর্যন্ত আল্লাহ পাক তোমার উপর শাস্তি বা আজব পাঠাচ্ছেন আসমান থেকে। এ ভাবে তিনি ধমক দিলেন আর কি ।ওমর রাঃ ঠান্ডা হলেন কারণ তিনি তো ইসলাম কবুল করতে এসেছেন ওখানে ।এরপর রাসুল সাঃ সেখানে বের হলেন তিনি রাসূলের সামনে দাঁড়িয়ে ওমরে খাত্তা রাসূলের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন হে আল্লাহর রাসূল আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমানদার হয়ে এখানে এসেছি।এবং আপনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যে কিতাব নিয়ে আসছেন তার প্রতি ঈমানদার হয়েই আমি আমি এসেছি ।কালিমা সাক্ষ্য দিলেন রাসূলকে বুক ভরে বললেন যে এর আগ পর্যন্ত আমি ইসলামের যে বিরোধিতা করেছি আজকের পর থেকে আমি ইসলাম এর পক্ষে শক্তি হয়ে কাজ করব ইনশাআল্লাহ ।আর তোমরা আমার আগে ইসলাম গ্রহণ করে যতগুলো নেকি কামাইছো আজকে থেকে আমি তোমাদেরকে টক্কর দিব ইনশাল্লাহ। তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন প্রথমে গেলেন আবু জাহিলের বাসায়। আবু জাহেলের বাসায় নক করে বললেন তুমি কি জানো আমি ইসলাম কবুল করেছি? বুকের পাঠা দেখছেন।দীন পালন করে বাসায় গিয়ে বলতেই পারেনা যে আমি কোরআন সুন্নাহ ফলো করছি আমি দীন পালন করছি বাপের ভয়ে মায়ের ভয়ে সরকারের ভয়ে নেতা খ্যাতার ভয় কত ভয়। আমাদের বাপ দাদারা কি আসলে এরকম ছিলেন। আবু জাবিলের বাসায় গিয়ে বললেন এই আবু জাহিল তুমি কি জানলা আমি ইসলাম কবুল করেছি। আবু জাহিল আকাশ থেকে পড়ল। তিনি বললেন তুমি কি সত্যিই এটা করেছ। তিনি বললেন এটা করিও না। ওতো ভয় পেয়ে যাচ্ছে কারণ ও যদি ইসলামে যায় খবর আছে আমাদের । তখন উনি চোখ মুখ বড় করে বললেন আমি অবশ্য ইসলাম কবুল করেছি। এরপর গেলেন ওয়ালিদ বিন মুগীরার বাসায় ওখানে গিয়েও তিনি একই কথা বললেন। তারপর তিনি আরেক কাফেরের বাসায় গেলেন। ওখানেও তিনি একই কথা বললেন ।এরপর আসলেন কাবা ঘরে। কাবা ঘরে এসে বললেন হে লোক সকল তোমরা জেনে রাখো আমি ইসলাম কবুল করেছি। আমি সাক্ষ্য দিয়েছে আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল।
সাহাবীদের নির্যাতন ও হাবশায় হিজরত
এরপর লোকজন তাকে মারা শুরু করল। সবাই তাকে মারা শুরু করল। পারতেছিল না তার সাথে তিনি একাই আট দশজনকে ডিফেন্ড করতেছিলেন। একপর্যায়ে সেখানে আরো কিছু গোত্র নেতা আছে এবং তাদের মারামারি বন্ধ করে দেয় ।এবার দেখেন মারামারি বন্ধ করে একজন ওমর রাঃ বলছিলেন যে ওমর তুমি কি চুপ থাকতে পারতে না ।এই যে আমাদের হিকমা আছে না চুপ থাকো ,ওমর তুমি কি চুপ থাকতে পারতে না। তখন ওমর রাঃ বলেছেন যখন আমি সত্য জেনেছি আমি আল্লাহর কসম করে বলছি আমি সত্য গোপন করে রাখবো না। আমি সত্যকে মিথ্যার থেকে আলাদা করে দিব ঠিক যেমন আল্লাহ তা'আলা রাতকে দিন থেকে আলাদা করে দেন সুবহানাল্লাহ ।এই ঘটনার পর থেকে তার নাম হয়েছে আল ফারুক পার্থক্যকারী। যেমন করে মিরাজের ঘটনার পর আবু বক্কর সিদ্দিকীর নাম হয়েছে কি সিদ্দিক । প্রত্যেকটার পিছনে একটা ঘটনা আছে পড়তে হবে এগুলো জানতে হবে। আপনি তখন রাজ্য বিজারণ করবেন ইনশাল্লাহ। এবার ইসলাম শক্তিশালী কারণ বড় বড় দুইজন নেতা আমাদের পক্ষে । মনে করেন পুতিন আমাদের পক্ষে মনে করেন আরো কিছু বড় বড় নেতা আমাদের পক্ষে। তাহলে এখন ইসলাম শক্তিশালী কারণ আমাদের কাছে এখন ক্ষমতা আছে ,লোকবল আছে ,অর্থ সম্পদ আছে এবার রাসুলুল্লাহ সাঃ কাছে গিয়ে ওমর রাঃ বললেন হে রাসূলুল্লাহ আমরা কি হকের উপর নাই ওরা কি বাতিলের ওপর নাই? আমরা কি মুসলিম না তারা কি মুশরিক না? আমরা কেন এখানে গোপনে ইসলামের দাওয়াত দিব আমরা আজকের থেকে প্রকাশ্যে দাওয়াত দিব।এই তারপর থেকে ইসলামে প্রকাশের দাওয়াত দেওয়া শুরু হলো। এবং মিছিল করতে করতে তারা কাবা ঘরে গেলেন এবং সবাই মিলে বললেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ,লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ । এবার আরবের লোকেরা একটা জাযাল্যময় দৃশ্য দেখতেছে। রেভুলেশন হঠাৎ করে ৫০,৬০,৭০ জন জন লোক বের হচ্ছে রাস্তায় এবং কালেমার সাক্ষ্য দিচ্ছে। ওই সময় কিন্তু এ পপুলেশনটা কম না একটু বেশি। এবার নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়তে থাকলো। একপর্যায়ে সাহাবীদের ওপর এমন মর্মান্তিক নির্যাতন করা হলো কিছু নমুন আপনারা জানেন। ওই যে বেলাল রাঃ ঘটনা সুমাইয়ার রাঃ ঘটনা , খাব্বাব , ওসমান রাঃ,আবু বক্কর সিদ্দিকী সমস্ত সাহাবীকেই টর্চার করা হলো। মানে ফিজিক্যাল,মেন্টাল এবং ইকনোমিক্যাল এমন কোন টর্চার নাই যা করা হয়নি। এরপর রাসূলুল্লাহ সাঃ তাদেরকে বললেন আবিসিনিয়ায় তোমরা হিজরত কর। দ্বীন কায়েম দেখেন অনুকূল পরিবেশে এখন আমরা প্রকাশ্যে দাওয়াত দিচ্ছি। এখানে নির্যাতন হচ্ছে ওখানে কিন্তু বোম ব্লাস্ট করছি না। আমরা বলছি যেখানে দ্বীন পালনের সুযোগ আছে ,অনুকূল পরিবেশ আছে তোমরা ওখানে চলে যাও। সাহাবীরা চলে গেল আবিসিনিয়ায় সেখানে একজন বাদশা ছিলেন ।সেই বাদশার নাম নাজাশি ।সে ছিল একজন খ্রিষ্টান নাসারা । একজন খ্রিস্টান আমাদেরকে আশ্রয় দিলেন। সব খ্রিষ্টান এক না। সব খ্রিষ্টান পশ্চিমা সভ্যতার মতো ছেলে ছেলে বিয়েকে জায়েজ বলে না। এরা গডলেস পিপল। এই পৃথিবীর সবচেয়ে জালিম ফেরাউন এরা। এবং আবু জাহিলও বটে। এই বাদশা আমাদেরকে আশ্রয় দিলেন আমরা রিফিউজি ছিলাম সেখানে। ওরা আমাদেরকে আশ্রয় দিল এবং আমরা ওখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দ্বীন পালন করতে থাকলাম। প্রথমে একটা হিজরত হল তারপরে আরো একটা দল হিজরত করবে। কাফেররা বসে থাকেনি সেখানে কূটনৈতিক তৎপরতা চালালো।
Part 5 আমরীব নাজকে সেখানে পাঠানো হয়। মুনাজারা বাহাজ হয়। সেই বাহাজে জাফর রাঃ বাদশার সামনে দাঁড়িয়ে সূরা মারিয়াম তেলাওয়াত করেছিলেন। আর সেই বাদশা ছিলেন নাছারা বা খ্রিষ্টান। সূরা মারিয়ামের তেলওয়াত শুনে সেই বাদশার চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়তে থাকলো ।তিনি বুঝতে পারলেন এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। তিনি বলেছিলেন একটা কথা এই বাদশা নাজাসি বলেছেন তুমি যে তেলাওয়াত করেছ শুনে মনে ইচ্ছে ঈসার কাছে যেটা এসেছিল এটা সেই আলোকবর্তিকা থেকেই এসেছে ।এ তো খ্রিস্টান,এ কি এদের মতো খ্রিস্টার। এরা কি এখান থেকে হেদায়েত নিবে না? সেই বাদশা নাজাশি মুসলিমদেরকে আশ্রয় দিলেন। সেখানে আমরা থাকলাম ।এক পর্যায়ে দিকে নির্যাতন আরও বাড়তে থাকলো। রাসুল সাঃ এবং সাহাবীদেরকে তিন বছর বয়কট করা হলো। তিন বছর তারা ওই যে পাহাড়ের পাদদেশে সিয়ারের আবু তালেব সেখানে গাছে ছাল পাতা খেয়ে থেকেছে। সামান্য ভাই একটু কষ্ট করে সেমিনারে আসতে পারেন না। দ্বীন কায়েমের স্বপ্ন দেখেন। সামান্য ১০ টাকা খরচ করতে পারেন না। মাসিক জ্ঞানও নিতে পারতেছেন না। সামান্য সীরাহ পড়বেন সেটাও পড়তে পারতেছেন না। দ্বীন এর জন্য সামান্য একটু এফোর্ট দিবেন জান মাল ব্যয় করবেন। কোন মুখ দিয়ে সাহাবীদের নাম উচ্চারণ করেন। তিন বছর শুধু গাছের ছাল পাতা খেয়ে থেকেছে ।ওই সময় অনেক ত্রান আসতো হামজা রাঃ ত্রান ফেরত দিতেন ,ত্রান দরকার নাই। আল্লাহ রিজিক দিবেন কি ঈমান কি জাজবাহ ? আমাদের বাপ দাদারা সবাই আমাদের শিকড়। আমাদের গায়ে তাদেরই রক্ত আছে কিন্তু কোন না কোন ভাবে। উপমহাদেশে ইসলাম তারা প্রচার করেছে। যাইহোক এই বয়কট টা যখন উঠে যায় তখন রাসূল সাঃ তায়েফে হিজরত করলেন। সেই ঘটনা আপনারা জানেন। সেখান থেকে তাকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। তিনি আবার মক্কায় চলে আসেন এবার মক্কায় তিনি যখন ইস্টে করলেন নবুওয়াতের ১০ ,১১ এবং ১২ এই তিনটা বছর। ১০,১১,১২ এই তিনটা বছর মদিনায় ইয়াশরিফ থেকে প্রথমে ৬ জন তারপরে ১২ জন তারপরে ৭৩ জন ।পরপর তিন বছরে তিনটা গ্রুপ আসলো প্রথমে ৬ জন তার নেতৃত্বে ছিল আসাদ বিন জারুরা , এর পরের বছর ১২ জন ,তারপরের বছর ৭৩ জন আর দুইজন নারী মোট ৭৫ জন। এই ৭৫ জন এসে রাসুলের কাছে বায়াত করলেন। বায়াত করে রাসূলকে বললেন আপনি মদিনায় হিজরত করেন। এবার রাসুল সাঃ সাহাবীদেরকে নিয়ে মদিনায় হিজরত করলেন ।আর মদিনা হিজরত করার পরে সেখানে ইসলামী স্টেট বা খিলাফা স্টেট কায়েম হল। প্রথমে মদিনা থেকে ছয় জন যুবক মক্কায় আসেন হজ্জের মৌসুমে। হজ্জ কিন্তু তখনও ছিল। মানে এই হজ্জ সিস্টেম না বিকৃত হজ্জ এর সিস্টেম । কারণ তারা দাবি করত আমরা ইব্রাহিম আঃ এর রিলিজন ফলো করি। মক্কার কুরাইশরা এটা দাবি করত আমরা ইব্রাহিম আঃ এর দ্বীন ফলো করি। এজন্য তারা কিন্তু হজ্জ ও করতো।এখন ও দেখবেন যারা মুশরিক আকিদা পালন করে তারাও কিন্তু বছর বছর হজ্জ এ যায়। এটা তেমন কিছু না।
ইয়াসরিবের ছয় যুবকের ইসলাম গ্রহণ
তো হজের মৌসুমে ইয়াসরিফ থেকেপ্রথমে ৬ জন যুবক মক্কায় আসে হজ্জ করতে। যারা আগে শুনেছিল শেষ জামানায় একজন নবী আসবেন। এই যে শেষ জামানার সম্পর্কে সচেতনতা এটা নতুন কিছু না। এটা সবাই করেছে আগে যুগে যুগে। ইহুদীরা খুঁজে খুঁজে বেড়াতো কবে নবী বের হবে আর আমরা কবে তার কাছে বায়াত নিব । যখন দেখল নবী ইসমাইল আঃ সালামের বংশধর থেকে আসছে তখন তারা আর সেখান থেকে বায়াত নিল না। উদ্ধত অহংকার করল।অথচ আমরা কিন্তু ওদের কাবা বায়তুল মাকদিসকে কেন্দ্র করে নামাজ পড়েছি।এটা বোঝানোর জন্য যে একই সোর্স থেকে সকল নবী এসেছেন। যাই হোক এই ৬ জন যুবককে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আসাদ বিন জাররা রাঃ একজন সাহাবী। তিনি রাসুল সাঃ এর সাথে দেখা করলেন ৬ জন সাহাবীকে সাথে নিয়ে। আমাদের রাসূলুল্লাহ সাঃ তাদেরকে কুরআন পাঠ করে শুনালেন ,তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং এই ছয় জন ইসলাম গ্রহণ করলেন আলহামদুলিল্লাহ। এই প্রথম মদিনা থেকে কেউ এসে ইসলাম কবুল করল। এর আগ পর্যন্ত দেখলেন দীর্ঘ ১০ বছর কত চড়াই উত্তরায় আমাদেরকে পার হতে হলো। এদিকে কাফেরদের নির্যাতন কিন্তু ব্যাপক হচ্ছিল। বয়কট করা হয়েছিল তিন বছর। তারপরের বৎসর খাদিজা রাঃ মারা যান ,একই বছরে চাচা আবু তালেব ও মারা যান। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে সম্ভবত। এবং এতে করে নির্যাতন আরো বেড়ে যায়। ওখানে থাকা আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যায়। তখন নবীজি চাচ্ছিলেন হিজরত করার জন্যে আল্লাহ পাকের আদেশের অপেক্ষা করছিলেন । এর জন্য প্রথমে আবু সিনিয়ায় পাঠিয়েছিলেন সাহাবীদেরকে ।এবং তারপর নিজে গিয়েছেন তায়েফ এ ।আপনারা জানেন তায়েফ থেকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফিরে আসতে হয়। তায়েফ বাসি ইসলাম কবুল করেনি। সেখানে তিনজন ভাই ছিল আবদে ইয়ালিল,আবদে মাসউদ ও হাবিব বিন মাসউদ ও হাবিব এরা নবীজিকে পাথর নিক্ষেপ করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। ছোট ছোট ছেলেপেলেদেরকে লেলিয়ে দিয়েছিল। যারা নবীজিকে রক্তাক্ত করেছিল। আমাদের নবীজি তাদের জন্য বদ দোয়া করেননি বরং দোয়া করেছিলেন যে আমি আশা করি আল্লাহ পাক এর পরবর্তী জেনারেশন থেকে এমন কাউকে বের করবেন যারা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করবেন। একটা তথ্য দিয়ে রাখি আপনাদেরকে আবু হুরায়রা রাঃ ওই তায়েফ বাসীর সন্তান। যদি নবীজি ঐদিন বদ দোয়া করতেন তাহলে আমরা আজকে আবু হুরায়রা রাঃ কে পেতাম না ।তার কাছে কিন্তু পাহাড় পর্বতের ফেরেশতাকে পাঠানো হয়েছিল। পাহাড় পর্বতের ফেরেশতা থাকে একথা আমাদের গডলেস ওয়ার্ল্ড। বিশ্বাস করবে না। এডুকেশন সিস্টেম সেকুলার কনসার্ট বিশ্বাস করবে না। তো আমরা তাদেরকে বলি তোমরা গেট লস্ট। তোমরা দূর হও এখান থেকে।
তায়েফের ঘটনা ও পাহাড়ের ফেরেশতা
পাহাড় পর্বতের ফেরেশতারা যখন এসেছিলেন । তারা বলেছেন আপনার সাথে তায়েফ বাসি যা করেছে আল্লাহ পাক তা দেখেছেন। আপনি যদি চান দুই পাহাড়কে পিসে একদম তায়েফ বাসীকে শেষ করে দিব। নবীজি বললেন আমি চাই আল্লাহ পাক তাদেরকে হেদায়েত দান করুক সুবহানাল্লাহ ।তারপর যাই হোক নবীজি হিজরতের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এই সময় এই ঘটনাটা ঘটে ছয় জন ইয়াসরিফের যুবক আসেন এবং ইসলাম কবুল করেন। তারপর তাদেরকে নবীজি আবার পাঠিয়ে দেন ।মদিনায় পাঠিয়ে দেন বলেন তোমরা ওখানে দাওয়াতি কাজ করতে থাকো। পরের বৎসর এটা ছিল নবুওয়াতের দশম বছরে ১১ তম বছরে ওরা আরো ছয় জনকে সাথে করে নিয়ে আসে। দেখেন দিন কায়েম কিভাবে হচ্ছে। প্রথমে গোপন দাওয়াত তারপর প্রকাশ্যে দাওয়াত যখন আমাদের জনগণ বেশি হয়ে গেল বড় বড় নেতাখেতা টাইপের মানুষগুলো যখন আমাদের দলে চলে আসলো। তখন আমরা আরো ফ্রিকুয়েন্সির সাথে দাওয়াত দেওয়া শুরু করলাম। যত ফ্রিকুইন দাওয়াত হবে ততই নির্যাতন বেশি হবে এটাই সুন্নাহ। এটা হতে থাকলো, এক পর্যায়ে হিজরত করলাম, বয়কট হলো ,সোশ্যাল বয়কট ,অর্থনৈতিক বয়কট, সবকিছু থেকে বয়কট করল । তারপরে আমরা হিজরতের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। পরের বছর আরো ৬ জন ৬ জন করে মোট ১২ জনকে নিয়ে আসলেন। এই ১২ জনের সাথে নবীজি সাঃ একজন সাহাবীর সাথে মদিনায় পাঠালেন। বিখ্যাত সেই সাহাবী তার নাম মুসআব ইবনে উমাইর রাঃ তিনি প্রচণ্ড রকমের ধোনির দুলাল ছিলেন। ইসলামের জন্য সব ছেড়ে দিয়েছিলেন। যখন উহুদের মাঠে তাকে শহীদ করা হয় তখন তাকে কবর দেওয়ার মত একটা জামা পাওয়া যায়নি। তাকে ঘাস দিয়ে ঢেকে কবর দেয়া হয়েছে ।আমরা যারা দায়ী আমরা কি মুসআব ইবনে উমাইর। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ সৃজনে বক্তব্য হবে তারা কি সবাই মুসআব ইবনে উমাইর ।আলাদা জিনিস। তাকে নবীজি পাঠালেন এই ১২ জনের সাথে মদিনায় ।এবার তিনি গিয়ে মদিনায় ঘরে ঘরে দাওয়াত দিতে থাকলেন। আর মদিনায় ছিল আওস এবং খায়রাজ দুইটি গোত্র আপনারা জানেন। মদিনায় ছিল আওস এবং খায়রাজ এর পাশাপাশি আরো কিছু ইহুদির দল ছিল বনু নাজিল , বনু কুরাইযা আরেকটা হচ্ছে বনু কাইনুকা ।আর কিছু কিছু মুশরিক ছিল আর এই মুশরিকরা কিছুদিন পরে মুনাফিক হয়ে যায় আর কি মুসআব ইবনে উমাইর অনুসারী ।তো তিনি ঘরে ঘরে দাওয়াত দিতে থাকলেন। মাশাল্লাহ আল্লাহপাক দাওয়াত কবুল করলেন।এবং আস্তে আস্তে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ জন ইসলামের দাওয়াত কবুল করলেন মাশাআল্লাহ । প্রত্যেকে মুসআব ইবনে উমাইর রাঃ মাধ্যমে ইসলামের হেদায়েত টা পেলেন । চিন্তা করেন তাকে আল্লাহ পাক কেয়ামতের ময়দানে কি নেকি টা দিবেন ?
মদিনায় বায়াত ও ছয়টি বিষয়
এবার ওখানে হিজরত করার পটভূমি রচিত হলো। মানে এমন কোন জায়গায় যাওয়া যাবে না দ্বীনের ব্যাপারটা নিয়ে হিজরত করে যেখানে আমাদের লোকাল সাপোর্ট নাই। প্রতিটা জায়গায় আপনি একটি দলিল পাবেন। একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করেন দেখেন নবীজি কিভাবে দ্বীন কায়েম করেছেন। ওখানে লোকাল সাপোর্ট পেলাম। আওস এবং খায়রাজ তারা ইসলাম কবুল করল। এবার নবুওয়াতের ১৩ তম বর্ষে এই ৭৫ জন পুরুষ এবং দুইজন নারী একজন নারীর নাম হচ্ছে নুসাইবা রাঃ তিনি ও উহুদের মাঠে যুদ্ধ করেছেন বীর বিক্রমে ।আরেকজনের নাম আসমা। তিনিও মাশাল্লাহ একজন বলিষ্ঠ সাহাবী ছিলেন।আবু ওবাইদা সিদ্দিকীর মেয়ে না আরেকজন। তো এই দুইজন নারী এবং ৭৩ জন পুরুষ রাসূলের কাছে আসলেন নবুয়াতের ১৩ তম বর্ষে। এবার বায়াত হচ্ছে। বায়াত তো বুঝেন আমাদের দল সংগঠন বা পীর মুরিদের বায়াত না এটা। বায়ার দুইটা ক্ষেত্রে হয় এক নবীর হাতে। অথবা ইসলামের রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে। এই দুইটা সেক্টরে বায়াত হয়েছি ইসলামে ।অন্য কোন সেক্টরে বায়াত হয়নি। এট দ্যা সেম টাইম আবু বক্কর সিদ্দিকী ও বায়াত নিচ্ছেন এবং অন্যান্য সাহাবীরাও বায়াত নিচ্ছেন এমন কোন ঘটনা নাই । ইসলাম স্টেটের খলিফা যিনি হবেন তার হাতে আপনি বায়াত নিবেন । জনগণ মৌখিক স্বীকৃতি দিবেন। আর নবীর হাতে হাত রেখে সবাই বায়াত নিতেন মহিলারা বাদ দিয়ে। ভাইয়া কিসের উপরে হলো ? ছয়টা বিষয়ের উপরে , বিষয়গুলো একটু বলি। এক নাম্বার তারা আল্লাহ নবীর হাতে বায়াত করলেন হাতে হাত রেখে যে আমরা আপনার কথা শুনবো এবং মানবো। যারা এসোসিয়েশন করতে চান , ফাউন্ডেশন করেন বা দ্বীন কায়েম করেন ছোট স্কেলে হোক বা বড় স্কেলে হোক যেই নেতা হোক না কেন ।সে হাফসি গোলাম হোক না কেন, সে যদি কোরআন এবং সুন্নাহ অনুযায়ী আপনাদেরকে পরিচালিত করে। তার কথা আপনাদের কে শুনতে হবে মানতে হবে ।প্রথম বায়াতের এটা সেক্টর ছিল। আমরা হাতে হাত রেখে বায়াত করতে বলিনি। আর শিক্ষা তার কথা বলছি। তা না হলে কোন অ্যাসোসিয়েশন ,কোন সংগঠন কোন ফাউন্ডেশন কোন দাওয়াতি কাফেলা টিকবে না অসম্ভব। শৌবন আনুগত্য নাই সামিয়ানা আতোয়ানা নাই টিকবে না। দুই নাম্বার তারা বায়াত করেছেন যে আমরা সুখে অথবা দুঃখে , সচ্ছল অথবা অসচ্ছল উভয় অবস্থায় আল্লাহর পথের দান করব বা ব্যয় করবো। তিন নাম্বার বলেছে আমরা সৎ কাজে আদেশ করব। চার নাম্বার অসৎ কাজে নিষেধ করব। পাচ নাম্বার সত্য প্রচারে নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করবো না।চিন্তা করতে পারেন কি বিষয়ে বায়াত হচ্ছে সত্য প্রচারে কারো নিন্দার পরোয়া আমরা করবো না। ছয় নাম্বার আমরা আপনাকে হে নবী এমন ভাবে প্রটেক্ট করব মানে হেফাজত করবো মদিনায় ইনশাল্লাহ। যেভাবে আমরা আমাদের স্ত্রী সন্তানকে হেফাজত করি। এই ৬ টা বিষয়ে ওপর তারা হাতে হাত রেখে বায়াত করলেন। এবং তারা জিজ্ঞাসা করলেন হে রাসূলুল্লাহ এগুলো করলে আমরা কি পাবো? রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন আল জান্নাত তোমরা জান্নাত পাবে।
হিজরত ও মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্র
এখন নাযিল হয়েছে সূরা তওবার ১১১ নাম্বার আয়াত। নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের জানমাল ক্রয় করেছেন এই জান্নাতের বিনিময়। এই হলো আয়াতের পটভূমি। যখন আপনি এ বিষয়গুলো জানবেন তখন কুরআন হাদিস পড়ে আপনার মজা পাবেন। কখন কোনটা কোন জায়গায় আসছে? এবার নবীজি হিজরত করলেন তিনি একা না তিনি সবার শেষে গেলেন। প্রথমে সাহাবীদেরকে পাঠিয়ে দিলেন। নেতা যে হবে সে আগে বিপদ ফেস করবেন । তার অনুসারীদেরকে সে আগে সিকিউর জায়গায় নিয়ে যাবেন ।তারপর সে যাবে। একজন নেতাকে হতে হবে আত্মত্যাগী। কর্মীদের স্বার্থ দেখতে হবে। তাদের মেন্টালিটি বুঝতে হবে কার মানসিকতা কি, কার মধ্যে কি পটেনশিয়াল আছে। তিনি যাকে তাকে দাওয়াত দিতে পাঠাননি মুসআব ইবনে উমাইর রাঃ কে পাঠিয়েছেন ।কারণ তিনি জানতেন যে তার মধ্যে এই যোগ্যতাটা আছে। তারপর তিনি হিজরত করলেন। তারপর আপনারা জানেন গারে সাওরে কি হলো ।এদিকে একশ উটের ঘোষণা হলো ,ধরে আনতে পারলে একশ উট দেওয়া হবে। আল্লাহপাক নিরাপদে পৌছে দিলেন মদিনায়। মদিনায় গিয়ে ইসলামী স্টেট কায়েম হল কিভাবে আওস এবং খায়রাজ এর সাহাবীরা আনুগত্য করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাঃ কে ইসলামী স্টেটের প্রেসিডেন্ট বানিয়ে দিলেন। আল্লাহপাক এই ওয়াদাটা করেছিলেন সূরা নূরের ৫৫ নম্বর আয়াতে পড়ে দেখবেন। আল্লাহপাক বলছেন নিশ্চয়ই আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যারা ঈমানদার এবং যারা সৎ আমল করে যে আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই খেলাফত দান করবেন ।সূরা নূরে আছে ৫৫ নাম্বার আয়াতে। খেলাফত হওয়ার শর্ত এটা আপনাকে ইমানদার হতে হবে প্রকৃত আর আপনাকে আমলে সলহে করতে হবে। শেষের দিকে আরো দুইটা বড় শর্ত আছে এক আল্লাহর সাথে শিরক করা যাবে না। আর দুই নাম্বার আল্লাহ যখন ক্ষমতা দিবেন তখন ইনসাফ ছাড়া অন্য কোন দুর্নীতি করা যাবে না। তাহলে শক্তি নষ্ট হয়ে যাবে খিলাফত চলে যাবে। যেটা হয়েছে এখন আমাদের আর কি।খিলাফত কায়েম হলো এবং সেখানে ইহুদিদের সাথে একটা চুক্তি হলো। আওস , খায়রাজ এবং ইহুদি সবার সাথে একটা চুক্তি হলো। কারণ ওরা ইসলাম স্টেটের মধ্যে চলে আসলো।ওরা পছন্দ করেনি নবীকে তারপরও তারা থাকতে তারা বাধ্য হলো। এবং মুশরিক যারা ছিল তারা মুনাফিক হয়ে আব্দুল বিন উবাই এর নেতৃত্বে ইসলামের শত্রুতা করতে থাকলো। তারা বাহ্যিকভাবে ইসলাম কবুল করল ঠিকই ।কিন্তু অভ্যন্তরীণ দিক থেকে তারা ইসলামকে পছন্দ করেননি। আমাদের নবী এই সনদ টার নাম দিয়েছিলেন মদিনা সনদ।আজকে যদি প্রতিটা মুসলিম দেশ এটলিস্ট মুসলিম দেশ মদিনা সনদ অনুযায়ী চলতো তাহলে আমাদের সমাজ অবস্থা আজকে এমন হতো না। মুখে আমরা বলি শুধু মদিনা সনদ মদিনা সনদ। কোন মদিনা সনদদের বাস্তবায়ন নাই সবই ভোকাস আইওয়াশ খালি মানুষকে ধোকা দেওয়া।
part 10 এরপর কি হলো? এরপর আমরা দেখেন স্টেট পেলাম। দেখেন ইসলামী আইন কখন বাস্তবায়ন হলো যখন আমরা স্ট্রেট পেলাম তারপরে । মক্কা ইসলামী আইন বাস্তবায়ন করলেন নবীজি। মক্কায় যখন সাহাবীদেরকে নির্যাতন করা হচ্ছিল সাহাবীরা বলছিল আমাদেরকে যুদ্ধ করার অনুমতি দেন ইয়া রাসূলুল্লাহ। আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবো এই মুশরিকদের বিরুদ্ধে । আমাদের নবীজি বলেছেন সবর করো। তোমরা ধৈর্য ধরো তোমাদের জন্য জান্নাত আছে। ওই সময় ধৈর্য টাই ছিল আমাদের জিহাদ। কারণ মক্কায় আমাদের এরকম পরিবেশ ছিল না কখন কি করতে হবে দ্বীন কায়েম এর এক্ষেত্রে বুঝতে হবে। মদিনায় গিয়ে আমরা পেলাম ইসলামী স্টেট। আমাদের সার্বভৌমত্ব মদিনায় চুক্তি হয়ে গেল ।এবার আমরা ইকনোমিক দিকে প্রকাশ করলাম ।অর্থনৈতিক শক্তিশালী করা শুরু করব। সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করলো। সাহাবীরা অসস্ত্র শস্ত্র বানানো শুরু করলেন। একদম কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হল। এবং সারিয়া অভিযান শুরু হলো। আজকে ওই গোত্রে কালকে ওই গোত্রে কারণ এখন আমাদের কাছে মিলিটারি পাওয়ার আছে। এখন আমরা ফোর্সফুল্লি অন্য গোত্রে যাচ্ছি। এবং গিয়ে অন্যদেরকে দাওয়াত দিচ্ছি। কোন কোন ক্ষেত্রে ওরা যদি অন্যায় করে আমাদের বিরুদ্ধে তাহলে অস্ত্র দিয়ে প্রতিবাদ করছি। এক পর্যায়ে মুশফিকরা যখন মক্কার বদর প্রান্তে আসলো তখন আমরা ওখানে গেলাম। আমরা আক্রমণ করিনি বদরে। তোমরা যারা ইসলামকে জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসের ধর্ম বানিয়েছ মিডিয়ার মাধ্যমে তোমাদের মত ছোটলোকে পৃথিবীতে আর কেউ নাই। এদের মত বড় মিথ্যাবাদী এই পৃথিবীতে আর কেউ নাই। বদরে ওরা আক্রমণ করেছে প্রথমে আমরা ডিফেন্ড করেছি । এবং ওদের সৈন্য সংখ্যা ছিল এক হাজার আমাদের মাত্র তিনশ জন। ওদের ৭০ টা উট এতগুলো ঘোড়া আমাদের মাত্র দুইটা ঘোড়া। এটা অসম যুদ্ধ । কোন ক্যালকুলেশন মিলবে না যুদ্ধের।তারপর আল্লাহ পাক আমাদেরকে ওই যুদ্ধে বিজয় দান করলেন ।ওই যুদ্ধের ঘটনা অনেক ডিটেলস আজকে বলার মত সময় নাই। এতোটুকু বলছি ওই যুদ্ধে আল্লাহপাক আমাদেরকে ফেরেশতাকে দিয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। যদি আজও সেই ঈমান ,সেই আমল ,সে তাকওয়া , সেই ইসলাম থাকে তাহলে আল্লাহ পাক সেই ফেরেশতাদেরকে নামায় আমাদেরকে হেল্প করতে পারেন ইনশাআল্লাহ। এবং সেটা হচ্ছে পৃথিবীতে বিভিন্ন জায়গায় দেখবেন অনেক মুসলিম ভাই কুফফারি , নিফাসিক এবং জালিমদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে।আপনি দেখবেন তাদের হাতে এমন কোনো অস্ত্রশস্ত্র নাই। কিন্তু তারপরও বড় বড় শক্তিরা তাদের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হচ্ছে। আল্লাহপাক সাহায্য করেন। আল্লাহ পাক সূরা আনফানের মধ্যে বলেছেন যে আল্লাহ পাক প্রায় ৫ হাজার ৩ হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন সেদিন ।মুসলিমদের সহযোগিতা করার জন্য। আল্লাহ পাক চাইলে আরো ১ হাজার জন ফেরেশতা পাঠাতে পারতেন। আল্লাহপাক বলেছেন এই কথাগুলো। বদরের যুদ্ধে জিতলাম আমরা। শোচনীয় পরাজয় হলো তাদের ৭০ জন বড় বড় নেতাকে শেষ করে দেওয়া হল ।একটা কেউ বাকি রাখা হয়নি। মক্কায় এই নবীদের নাম ধরে ধরে বদদোয়া দেওয়া হয়েছিল আপনারা হয়তো জানেন। আল্লাহ একে দেখে নিও একে দেখে নিও একে দেখে নিও। ইসলামের বিরুদ্ধে শত্রুতা করছেন আলিমগন দের ঢুকাচ্ছেন ভিতরে ।তাদের বদদোয়া খুব খারাপ জিনিস। এই বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকবেন। আপনাদের মসনত গুরা গুরা হয়ে যাবে ওদের বদদোয়ায় ।আপনাদের মসনত, অহংকার এই যে জুলুম ,জুলুমের ভিত্তিতে গড়া এই সাম্রাজ্য একটা বদ দোয়ায় চুরমার হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ । আলেম মাওলানা কে এভাবে কষ্ট দিবেন না। আজকে এগুলো বলার কেউ নাই বলতে হচ্ছে আমাদেরকে।
part 11 নবী সাঃ নাম ধরে ধরে দোয়া করেছিল সবগুলোর লাশ বদরের কুপে পাওয়া গেছে।আপনারা জানেন ছোট ছোট কচি কাঁচা সাহাবী ১২-১৩ -১৪ বছরের এরা আবু জাহেলের গলা কেটে হত্যা করেছে। আব্দুল আল মাকসুদ তার গলাটা নিয়ে নবীজির সামনে দিয়ে দিয়েছে এই যে আবু জাহেলের মাথা। শেষ সব বড়াই দম্ভ শেষ জাহান্নামে চলে গেল।এর পরের বছর তারা উহুদে আসলো প্রতিশোধ নিতে। এবারও আমরা যুদ্ধে জিতছিলাম। এবারও কিন্তু আমরা যুদ্ধে প্রায় জিতে গিয়েছিলাম। নবীজি বলেছিলেন তোমরা এই পাহাড় থেকে ৫০ জন নামবে না। যদি দেখো আমাদেরকে পাখি ঠুকরাচ্ছে লাশের উপরে তার পরেও তোমরা এই ৫০ জন নামবে না। নেতার আদেশ ভালো করে দেখেন। আমি বারবার বলছি আপনাদের নেতা যেই হোক না কেন,সে যদি কুরআন সুন্নাহর অনুকূলে আদেশ করে আপনি আল্লাহর ওয়াস্তে সেটা মানতে বাধ্য। কেন ? তা না হলে ইসলামের ক্ষতি হয়ে যাবে দ্বীনের ক্ষতি হয়ে যাবে ।ওই ৫০ জন দেখলেন আমরা যুদ্ধে প্রায় জিতে গিয়েছি , আলগানিমা ,আলগাণিমা বলে তারা ওখানে দৌড়ানো শুরু করলেন ।আর এই সুযোগের অপেক্ষা করছিলেন কে? খালিদ বিন ওয়ালিদ তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি। তিনি পিছন দিক থেকে ঘোড়া সাওয়ার নিয়ে আসলেন এবং একেবারে কচুকাটা বলতে যা বুঝায়। একেবারে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল যুদ্ধের ময়দান। সমস্ত সাহাবী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন ইভেন আমাদের নবীজি সাঃ একা হয়ে পড়লেন ।তার পাশে মাত্র সাতজন কি নয় জন সাহাবী বাকি ছিলেন। আমাদের নবীজি বললেন কে আছো এদের থেকে আমাকে প্রটেক্ট করবে। একটা একটা করে সাহাবী বলছিলেন আমি আমি আমি আমি এবং জীবন দিচ্ছিলেম জীবন দিচ্ছি ছিলেন। তালহা রাঃ তিনি বলেছেন আমার এই বুকটা এই বুকের মধ্যে তীরে এসে লাগছিল। এবং আমার ওই সময় ঘুম পাচ্ছিল সুবহানাল্লাহ। এমন সাকিন আল্লাহ পাক দিয়েছিলেন। তিনি এক হাতে তরোয়াল নিয়ে লড়াই করছিলেন। তার গায়ে পরে দেখা গেছিল ৭০ টা অস্ত্র চটেন দাগ আছে ৭০ টা। এই তালহা রাঃ তাকে বলা হয় জীবন্ত শহীদ। তার পাশে মাত্র সাত থেকে নয় জন সাহাবী ছিল তারা প্রত্যেকে তাদের জীবন উৎসর্গ করে দিয়ে নবীজিকে প্রটেক্ট করলেন। আমাদের নবীজী আহত হলেন তার দাঁত ভেঙে গেল। দান চোয়ালের ভিতরে করাত আছে না লৌহ বর্ণের করাত ঢুকে গেল।
উহুদ যুদ্ধের শিক্ষা
তিনজনের নাম আজকে বলতেছি না ।এই তিনজন নবীকে আক্রমণ করেছিল। ইবনু কামিয়া একজনের নাম ।নবীজি রক্তাক্ত হলেন আহত হলেন। প্রায় ৭০ জন সাহাবীর শহীদ হয়ে গেলেন। তার মধ্যে বিখ্যাত সাহাবী হামজা রাঃ ছিলেন বর্ষা নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয়। এই মুসআব ইবনে উমাইর রাঃ শহীদ হয়ে গেলেন। এই সাহাবীর ডান হাত কেটে ফেলা হয় । ডান হাত দিয়ে অস্ত্র চালাচ্ছিলেন ডান হাত কেটে ফেলা হয় অস্ত্র দিয়ে । তারপর বা হাত দিয়ে অস্ত্র চালাচ্ছিলেন। একজন মুসলিম কোনদিন পরাজিত হয় না শেষ পর্যন্ত ।শেষ পর্যন্ত সে সারফাইড করবে। তারপর তিনি বুকের সাথে পতাকা টাকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। এ অবস্থায় তাকে দ্বিখন্ডিত করে হত্যা করা হয়। এই হল মুসআব ইবনে উমাইর রাঃ।এরকম অসংখ্য সাহাবী ৭০ জন সাহাবীর শহীদ হয়ে গেল। কেন? ওই যে নেতা আদেশ করেছিলেন ওখান থেকে নেমোনা । যদি আমাদেরকে দেখো পাখি ঠোঁকড়াচ্ছে তাও নেমোনা। তারা কিন্তু দৌড়ালেন গানিমা গনিমা এই ভুলের মাশুল দিতে হলো। সাময়িকভাবে কিন্তু আমরা ওহুদ যুদ্ধে মোটামুটি ভাবে বলা যায় পরাজয়ের দ্বার প্রান্তে চলে গেলাম।যদিও বা তারপরে ওই সাহাবীদের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল ডাক দিলেন এই সাহাবীরা তোমরা আমার কাছে চলে আসো। তখন সাহাবীরা যখন তার কাছে আসলেন। নবী সাঃ আস্তে আস্তে করে উহুদ পাহাড়ে উঠে গেলেন। এবং তাকে সেইফ করা হলো। কিন্তু ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেল ইসলামের। ৭০ জন সাহাবীর শহীদ হয়ে গেলেন। এই হল উহুর , তারপরে আসলো খন্দক। পরের বছর তারা আবার আক্রমণ করল। এবার তারা ইহুদিদের সাথে চুক্তি করে আক্রমণ করল। ভেতরের ইহুদি বন কুরাইশদের সাথে চুক্তি করে আক্রমণ করল। ভিতরেও শত্রু বাহিরেও শত্রু কি করবে? এখন সালমান আল ফারসি পরামর্শ দিলেন। ইয়া রাসুলুল্লাহ সামনে একটা খন্দক করে ফেলেন। এটা হচ্ছে পারস্যের টেকনিক। মানে ঐ সময় ইরাক, ইরান এর যুদ্ধের টেকনিক। এই খন্দক করলে ওরাও আসতে পারবে না আমরাও ডিফেন্স করতে পারবো । আমাদের নবীজি খেয়ে না খেয়ে ওই খন্দক করলেন নিজের হাতে খালি পেটে। পেটের মধ্যে পাথর বেঁধে। প্রত্যেক সাহাবীকে দশ হাত জায়গা করে দেওয়া হল তোমরা খুরো। আমাদের নবীজি নিজে সেখানে খন্দক খুরলেন এত বড় নেতা হয়েও।আজকে আমাদের অপমান ফিল হয় দ্বীনের জন্য কাজ করতে। দ্বীনের কোন কাজই ছোট না।এবং ওই সময় অনেক মুজেজা দেখা গেল। নবীজির বরকতে খাবার বেড়ে গেল অনেক ঘটনা ঘটেছে আর কি । যাইহোক ওরা আক্রমণ করল কিন্তু ওরা কিছু করতে পারল না। কারণ খন্দক ছিল। এই প্ল্যানটা খুব মাস্টার প্লান ছিল। এই টেকনিকটা তখন আরবের কেউ দেখে নাই প্রথম দেখা হল । আর সালমান আল ফারসিকে আল্লাহ রাসূল বুকে জড়ায় ধরলেন । তিনি বললেন সালমান আজকে থেকে আমার পরিবারের একজন।
খন্দকের যুদ্ধ ও সালমান ফারসি
চিন্তা করছেন নবীজি বলেছেন সালমান আমার পরিবারের একজন। এজন্য শিয়ারা তাকে নিয়ে একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে আর কি । এখন বুঝবেন এই জিনিসগুলা। তারপরে এবার সেখানে একজন বিখ্যাত সাহাবী ছিলেন রাঃ তার একটা কথা ছিল এই কথাটা বলে আমি আগাচ্ছি। তিনি বলেছিলেন ইয়া রাসূলুল্লাহ আপনি যুদ্ধ করেন আমরা মুসাকে তার কওম যা বলেছিল আমরা কখনো আপনাকে সেটা বলবো না। আপনি যদি আমাদেরকে নিয়ে সমুদ্রে ঝাপাতে চান আমরা আপনার সাথে সমুদ্রে লাফ দিতে প্রস্তুত আছি। পাবেন এরকম অনুসারী এখন , এমন মুসলিম কি এখন পাবেন। এই সাদ ইবনে মুয়াজ কে এই খন্দকার যুদ্ধে শহীদ করা হয় । এবং তিনি দোয়া করেছিলেন আল্লাহ মুশরিকদের সাথে যদি কোন যুদ্ধ বাকি থাকে তাহলে আমাকে জীবিত রেখো। তিনি শহীদ হলেন। এবং তিনি শহীদ হওয়ার আগে বললেন আজকের পর থেকে মুশরিকরা আমাদের আর আক্রমণ করবে না। কারণ আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলাম যদি মুশরিকদের সাথে কোন যুদ্ধ বাকি থেকে থাকে আল্লাহ আপনি আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন। আজকে আমি শহীদ হচ্ছি। তারমানে ইসলাম আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবে আর ওরা আমাদেরকে আক্রমণ করতে পারবে না। এবং তাই হলো এ পর থেকে তারা আর আমাদেরকে আক্রমণ করতে পারল না। এরপর থেকে সব কাউন্টের অ্যাটাক শুরু হলো। এখন আমরা offensively attack করা শুরু করলাম ।আগে আমরা ডিফারেন্স করছিলাম। এবার আমরা আক্রমণ করা শুরু করলাম। বিভিন্ন গোত্রগুলো আমরা আস্তে আস্তে করতলগত করলাম। এবার ষষ্ঠ হিজরীতে গিয়ে নবী সাঃ ওমরা করতে যেতে চাইলেন তারা পথ আটকে দিল। এবং ওখানে খালিদ বিন ওয়ালিদ এবং অন্যান্য ওই সময় ওখানে তারা কুফফার ছিলেন ।তারা পথ আটকে দিল এবং সেখানে চুক্তি হলো দশ বছর আমরা লড়াই করব না। আমাদেরকে আপনাদের ওখানে গেলে ফিরিয়ে দিবেন না এবং আমাদের এখানে আপনি আসলে আমরাও ফিরিয়ে দিব না ইত্যাদি ।সবগুলোতে নবীজি বললেন ঠিক আছে তোমরা যা বলবা তাই হবে। কারণ নবীজি জানতেন কোন মুসলিম মুরতাজ হয়ে তোমাদের দলে যাবে না। যদি আসে তাহলে তোমাদের থেকে আমাদের এখানে আসবে। এবং তিনি চাচ্ছিলেন তার মাস্টার প্ল্যানটা ছিল এই দ্বীন কায়েম করতে হলে মাস্টার প্লান করতে হবে। ইভেন বড় প্ল্যান ছক কোষে আপনাকে প্লান মাফিক যেতে হবে। সেটা হল নবীজি চাচ্ছিলেন আগে বড় শক্তিটার সাথে আমরা চুক্তিবদ্ধ হই। তারপরে আমি ছোট ছোট সবগুলোকে দেখে নিব। ছোট ছোট কারা? মদিনার মুনাফিক , বনু কুরাইযা ,বনু কাইরূকা ,বনু নাজির এদেরকে দেখতে হবে কারণ এরা আমাদের খুব ক্ষতি করছে। ইহুদি হচ্ছে একটা সবচেয়ে বি ক্লাস একটা জাত আর কি ।এবার নবীজির মুশরিকদের সাথে যখন ১০ বছরের চুক্তি হয়ে গেল। তিনি নিশ্চিত হয়ে গেল এরা আমাদেরকে আর কিছু করবে না চুক্তি বদ্ধ আছি আমরা । এবার তিনি খাইবারের ডাক করলেন কাউকে না জানিয়ে। ইভেন তিনি তার স্ত্রী কেউ বুঝতে দিলেন না যে কালকে সকালে আমি আক্রমণ করতে যাচ্ছি ।
part 14 এবার খাইবারের পতাকা দিলেন তিনি আলী রাঃ হাতে । যাকে আল্লাহ ভালোবাসেন তার রাসূল ও ভালোবাসেন সুবহানাল্লাহ। সবাই আশা করছিলেন আমি হব সেই সাহাবী। কিন্তু সকালবেলায় তিনি খুজলেন আলী কোথায়? ওই ছোট্ট আলী যার কথা বললাম প্রথমে। বড় হয়ে গেছে এখন। উনি ইসলামের এমন কোন যুদ্ধ নাই যেখানে রাসূলের পাশে ছিলেন না। বদরে, উহুদে সব জাগায়। আমাদের বাচ্চাদেরকে আলী রাঃ মতো তৈরি করতে হবে। তাকে পতাকা দেওয়া হল এবং বলা হলো এবং বলা হলো তোমার দ্বারা একটা ব্যক্তি যদি হেদায়াত পায় তাহলে সেটা হবে লাল উট কোরবানির থেকেও বেশি নেকির কাজ। এখানে একটা ঘটনা ঘটে আলী রাঃ যে দুর্গ জয় হচ্ছিল না তার একটা সেনাপতি ছিল যার নাম হচ্ছে মারহাব। এই মারহাব এত বড়ই যোদ্ধা ছিল যে একাই সে ১০ ,২০ জনের সাথে লড়তে পারতো।আলী রাঃ তার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন আমার মা আমার নাম রেখেছেন হায়দার। এবার দ্বন্দ্ব-যুদ্ধ শুরু হলো ও প্রচন্ড আক্রমণ করল। ইতিহাসের বই গুলোতে এসেছে আলী রাঃ ঢালটা হাত থেকে পড়ে যায়। আলী রাঃ হে আল্লাহ পাক ওই সময় এমন শক্তি দেন বা হাত দিয়ে লোহার কপার টা খুলে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন সুবহানাল্লাহ । এবং তার একটা কোপ মারহাবের কোথা থেকে পা পর্যন্ত শরীরটা দ্বিখন্ডিত হয়ে গেল এবং তরোয়ালটা মাটিতে গেঁথে গেল। এইভাবে মারহাবকে নিহত হতে হয়। এবং আলী রাঃ মাধ্যমে এই দুর্গটা জয় হয় নামুস দুর্গ। এবার খাইবার বিজয় হয়ে গেল। খাইবার বিজয়ের পর প্রচুর সম্পত্তি পেলাম আমরা গনিমতের মাল। এবং মুসলিমদের মধ্যে যারা দরিদ্র ছিল সবার ইকোনমিক অবস্থা ভালো হয়ে গেল। আল্লাহর প্রতি জিহাদ করবেন না কখনো অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা আসবেনা। শুধু ধার ঋণ করে চললে আমাদের হবে না। যেদিন থেকে যে উম্মা জিহাদ ছেড়ে দিয়েছে সেদিন থেকে আমরা দাস হয়ে গিয়েছি। একসময় যারা আমাদেরকে ট্যাক্স দিত জিজিয়া দিত আমাদের সেলটারে বড় হত । এরা আজকে আমাদেরকে ঋণ দেয় লোন দেয়। ওদের লোনে আমরা আমাদের রাষ্ট্র চালাই । তাও সুদে, সুদ খাওয়াবে এজন্য যাতে আপনার দোয়া কবুল না হয়। আমি আজকে একটা হাদিস পড়েছি যেটা আমি আগে কখনো পড়িনি। সেটা হচ্ছে সুদখোর কে ,আমি শুধু সতর্ক করার জন্য বলছি। যারা রিবার সাথে সম্পৃক্ত থাকবেএবং বীণা তওবায় মারা যাবে আল্লাহ পাক যে শাস্তিটা দিবে কেয়ামতের মাঠে ।সেটা দেখেন তাদের পেটটা ফুলে থাকবে এবং ফেরাউনের যে অনুসারীরা ছিল । এই ফেরাউনের অনুসারীরা সুদখোরদের কে মাড়িয়ে মাড়িয়ে মারিয়ে মারিয়ে জাহান্নামে যাবে। ফেরাউনের অনুসারীদের পায়ের তলে পিষ্ট করে এদেরকে জাহান্নামে দেয়া হবে । কত বড় অপমানজনক শাস্তি। কারণ কি? কারণ এই রিবার মাধ্যমে পুরো বিশ্বে একটা ফেরাউনি অর্থনৈতিক দাসত্ব সৃষ্টি করা হয়েছে। একই জিনিস ফেরাউন যা করেছে রিবার মাধ্যমে তা করা হয়েছে। তো এবার স্বচ্ছলতা চলে আসলো। তারপরে দেখেন এবার নবী সাঃ পর রাষ্ট্রবিদ শুরু করলেন। রোমে সম্রাট কে দাওয়াত দিচ্ছেন ইরানে দাওয়াত দিচ্ছেন ওদিকে মিশরে দাওয়াত দিচ্ছেন আস্তে আস্তে এটাকে স্পেন্ড করলেন। আগে ছিল শুধু মদিনায় এখন চলে গেল পুরো বিশ্বব্যাপী। কিভাবে দ্বীন কায়েম হচ্ছে দেখেন, লেভেল গুলা দেখেন।
সুলহে হুদাইবিয়া ও খাইবার অভিযান
এবার দলে দলে মানুষ ইসলামের দিকে আসতে থাকলো। দলে দলে মানুষ। এর মধ্যে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে ।যেমন বীরে মাওনার ঘটনা, 70 জন সাহাবীকে ট্রাপে ফেলে হত্যা করা হয়।সেইটাও একটা ঘটনা আরো অনেক ঘটনা ঘটেছে। অনেক সাহাবীকে কিন্তু অনেক মুনাফিক কাফেররা ট্রাপ সৃষ্টি করে মেরে ফেলেছে। খুবাইব রাঃ তাকে শুলে চড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। অনেক সাহাবীকে মেরে ফেলা হয়েছে কিন্তু তারপরও ইসলাম থেমে ছিল না। মানুষ দলে দলে ইসলাম কবুল করতে থাকলো। এবং রাসূলুল্লাহ সাঃ এবার মক্কায় অভিযানের জন্য একটা সুযোগ খুঁজছিলেন। আল্লাহ পাক সেই সুযোগ দিয়েও দিলেন। কারণ মদিনা শেল্টার একটা গোত্র ছিল এবং মক্কার শেল্টারে আরেকটা গোত্র ছিল। কোন না কোন ভাবে এই দুই গোত্রের একটা দ্বন্দ্ব হয়ে যায়। এবং ওই মুশরিকদের আন্ডারে যে ছিল তারা মুসলিমদের একজন যেটাকে বলে জিম্মি তাকে হত্যা করে ফেলে।এবং তারা চুক্তি লঙ্ঘন করে । এবার রাসুল সাঃ সুযোগ পেয়ে গেলেন প্রায় লক্ষাদিক সৈন্য বলা হয় সাহাবী নিয়ে তিনি মক্কা অভিযানে রওনা হলেন । এবং কাউকে না জানিয়ে উল্টা দিক দিয়ে যাতে কেউ বুঝতে না পারে মক্কায় যাচ্ছে। টেকনিক কত স্মার্টলি করলেন ।দেখেন মুশরিকদের সাথে চুক্তি করে খাইবার অ্যাটাক করলেন। কারণ বড় শত্রু এখন আমার কিছু করতে পারবে না এখন আগে একে দেখে নেই। তারপরে আমি ওকে দেখে নিব। আমাদের মতো মসজিদে আসো যাও আসো যাও এই কনসেপ্টে তিনি বিশ্বাস করতেন না। প্লান করে আগাতেন তিনি এর পরে কি , তারপরে কি? তিনি কখনো ক্লান্ত হতেন না। তারপর মক্কা যখন অ্যাটাক করা হয় মক্কার মোরশেকরা বুঝে ফেলল আর আমাদের পক্ষান্তর নাই। এরপর আবু সুফিয়ান পর্যন্ত এসে নতযান হয়ে ইসলাম কবুল করল । প্রথমে ইসলাম কবুল করতে চাইনি পরে কিন্তু কবুল করল নতযান হয়ে । এবং রাসূলুল্লাহ সাঃ বিনা যুদ্ধে পুরা মক্কা টাকে জয় করলেন। আমাদের নবী রহমাতুল আলামিন মক্কার প্রতিটা মানুষকে মাফ করে দিলেন। তবে তিনি একশ্রেণীর মানুষকে মাফ করেন নাই। কাবার গ্লাভস ধরা অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয়েছে তারা কারা? যারা নবীজিকে গালি দিয়ে কবিতা লিখে কষ্ট দিয়েছিল তাদেরকে তিনি মাফ করেন নাই। আজকে আমরা বাক স্বাধীনতার নামে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর শানে, তার সম্মানে তার ইজ্জতে আঘাত করি আর দাবি করি আমরা বড় মুসলিম,বড় মুসলিম কান্ট্রি ৯০% মুসলিমের দেশ সুবহানাল্লাহ ।
মক্কা বিজয় ও তায়েফ-হুনাইন যুদ্ধ
আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করি আল্লাহ পাক এদের মস্তিষ্ক গুঁড়িয়ে দেন ধ্বংস করে দেন । যাদের নবীকে গালি দেওয়ার পর যাদের হৃদয়ে আঘাত লাগে না কষ্ট হয় না। নিজের বাবাকে গালি দিলে কষ্ট লাগে নাবিকে গালি দিলে কষ্ট লাগে না। তাদের জন্য বদ দোয়া ছাড়া আমাদের ভেতর থেকে দোয়া আসে না। কিছু করার নেই মাফ করবেন। দোয়া আমাদের ভেতর থেকে আসে না কারণ নবীর প্রতি আপনার রেস্পেক্ট দেখাতে পারেননি। আমাদের নবী যে সবাইকে মাফ করে দিলেন। তোমরা সবাই আজকে ক্ষমাপ্রাপ্য ।তোমাদের সবাইকে আজকে ক্ষমা করে দিলাম।কিন্তু কাবার গ্লাব ধরা অবস্থাতেও তিনি ওই রাসূলকে গালি দানকারী ব্যক্তিকে হত্যা করলেন গলা কেটে ফেললেন তাকে মাফ করলেন না । এবার ইসলাম দেখেন শুধু মদিনায় না পুরা মক্কায় জাজিলাতুল আরবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল। এরপর তিনি তায়েফে আক্রমণ করল। ওই যে তায়েফ যারা তাকে বের করে দিয়েছিল। দেখেন আজকে ফল না পেলেও দ্বীনের কাজের ফল আপনি আগামীতে পাবেন। এত অধৈর্য হওয়ার কিছু নাই। এত অধৈর্য হবেন না। তায়েফ বাসী তাকে বের করে দিলেন পরবর্তীতে তিনি তায়েফে আক্রমণ করলেন । সেখানে আবার ইসলামের পতাকা প্রতিষ্ঠিত হলো। এরপর তিনি মুনাইন এ অ্যাটাক করল মুনাইন। সেখানে কিন্তু সাহাবীদের মধ্যে একটা চেতনা ছিল আমরা জিতব। আল্লাহ পাক কিন্তু সেই যুদ্ধে তাদেরকে একটা শিক্ষা দিয়েছেন। সূরা তওবায় দেখবেন। সাহাবীরা বলেছিল আজকে আমরা সংখ্যায় অনেক আজকে আমাদেরকে কে হারাতে পারবে। কিন্তু ওই সময় পদস্খরণ হলো এবং অল্প কিছু হুরাইনের সৈন্য কাফের তারা কিন্তু মুসলিমদেরকে ছিন্নভিন্ন অবস্থা করে ফেলল । এজন্য শিক্ষা কি ? কখনো সংখ্যা নিয়ে গর্ব করতে নেই। কতইনা ক্ষুদ্র দল বড় বড় দলের ওপর বিজয় হয়েছে । প্রতিটা যুদ্ধে আমরা ছিলাম অল্পসংখ্যক। আমাদের শক্তি ঈমান থেকে আসবে। আরবিতে একটা প্রবাদ আছে এটা বলছিল লোভ সামলাতে পারছি না। হাত তরোয়ালি ধারণ করে না , তরোয়াল কলপ ধারণ করে ।মানে কলিজা লাগে তরোয়াল ধরতে হাত লাগে না । এটা হচ্ছে বাংলা কথা আর কি ।সংখ্যা আদিত্য এগুলা আমাদের পাওয়ার না আমাদের পাওয়ার হচ্ছে ঈমান তাকওয়া এবং সুন্নাহ। এবার হুরাইনও আমাদের আন্ডারে চলে আসলো। দেখেন পুরা জাজিরাতুল আরব ই আমাদের আন্ডারে চলে আসলো। এবার বিদায় হজ্জ হলো। নবীজি সবার সামনে ভাষণ দিলেন। বিদায় হজের ভাষণ আলাদা ভাষণ দেওয়া হল এত বড় এবং শিক্ষানীয় ভাষণ।
বিদায় হজ্জের ভাষণ ও ভ্রাতৃত্ব
তিনি সমস্ত শিরিক সমস্ত বেদাদ সমস্ত পাপাচার , দুর্নীতি,সুদ সবকিছু পায়ের তলে পিষ্ট করে দিলেন । এবং পুরো আরবের মধ্যে ভাই ভাই ভ্রাতৃত্ব ছড়িয়ে দিলেন। তিনি বললেন আজকের থেকে আরবে অনাদরের ওপর কোন অধিকার নাই । অনাদরের উপরে কোন কর্তৃত্ব নাই। সাদার কালোর উপরে কোন কর্তৃত্ব নাই। তোমরা সবাই আদম সন্তান। এবং আদম মাটির সন্তান। ইসলামে ভাতৃত্ব সৃষ্টি হলো। জাজিলাতুল আরব ইসলামে করতলরত হলো। এরপর আপনারা জানেন আবু বক্কর সিদ্দিক ,ওমর , আলী,ওসমান আরো অনেকে সময় চলেছে। ইভেন এই ১৯১৪ সালের আগ পর্যন্ত খেলাফতের একটা সেল ছিল অটোমএর মাধ্যমে । আর আজকে বিগত ১০০ বছর পর থেকে আমাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আমরা মিসকিন, আমরা এতিম আমাদের কেউ নেই দুর্বল , আমাদের অর্থ নাই ,অস্ত্র নাই ,নেতা নাই । এজন্যই করলাম যাতে আপনারা শিকর চিনতে পারেন। নবি সাঃ এভাবেই দাওয়াতে কাজ করে দ্বীন কায়েম করেছেন ।এটা হচ্ছে ইকামতের দ্বীনের সুন্নতি পদ্ধতি। দেখেন নবী সাঃ সুন্নাহ এখনো আছে। আল্লাহ পাকের কিতাব কুরআন এখনো আছে। আল্লাহর ফেরেশতারা এখনো জীবিত আছেন। আল্লাহ পাক এখনো জীবিত আছেন। আমরা যারা ইসলাম এখনো ধারণ করি আমরা এখনো মাঠে আছি। আমরা আল্লাহপাক কে ছেড়ে কোন অদৃশ্য শক্তিকে ভয় করছি। এই দ্বীনের পথে বিজয়ের কাফেলায় অংশগ্রহণের বদলে । সেই আল্লাহ এখনো জীবিত সে কুরআন সুন্নাহ এখন আমাদের কাছে আছে। আজও যদি সে ঈমান আমাদের কাছে থাকে ইনশাআল্লাহ এই পৃথিবীতে খেলাফত কায়েম হবে ইনশাআল্লাহ । যেটা আমাদেরকে জানিয়েছেন আল্লাহ পাক তার নবীর মাধ্যমে আগামী দিন গুলোতে ইনশাআল্লাহ জেরুজালেম থেকে এই খেলাফা প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। টেকনিক অবলম্বন করতে হবে নবীর সুন্নাহ ফলো করতে হবে। যখন যে পরিবেশ পরিস্থিতি সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। প্রথমে গোপনে দাওয়াত দেন প্রকাশে দাওয়াত অনুকূল পরিবেশ ,প্রয়োজনে হিজরত ইসলামী স্টেট ,যুদ্ধ, জিহাদ সামরিক প্রশিক্ষণ । সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। খালি একটা দিকে ফোকাস করলে দ্বীন কায়েম কোনদিনও হবে না।আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে এই আলোচনা বোঝার তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন। আমাদের সবার মাঝে রাসুলের সুন্নাহকে জাগ্রত করুন। আমাদেরকে কুরআন এবং সুন্নাহ চেতনায় আল্লাহ পাক বলিয়ান করুন। এবং আমাদেরকে আল্লাহর জন্য আল্লাহর দ্বীনের জন্য আমাদের জানমাল শ্রম সময় যা কিছু আছে সব ব্যয় করে দ্বীন প্রতিষ্ঠা এবং একামতের কাজে নিয়োজিত করুন আল্লাহুম্মা আমীন।
সাধারণ প্রশ্ন
হযরত উমর (রা.) কোথায় গিয়ে ইসলাম কবুল করেন?
নবীজি সাঃ ও সাহাবীদের কাছে যাওয়ার জন্য তিনি দারুল আরকামের দিকে রওনা হন এবং সেখানে গিয়ে ইসলাম কবুল করেন।
উমর (রা.) কোন সূরা শুনে প্রভাবিত হন?
বোনের ঘরে দরজার আড়াল থেকে তিনি সূরা ত্বোয়া তেলাওয়াত শুনতে পান, এবং পড়ার সময় সূরা ত্বোয়ার আয়াতগুলো তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
উমর (রা.)-এর নাম আল ফারুক কেন হয়?
এই ঘটনার পর থেকে তাঁর নাম হয়েছে আল ফারুক, যার অর্থ পার্থক্যকারী, কারণ তিনি সত্যকে মিথ্যা থেকে আলাদা করে দেখানোর কথা বলেছিলেন।