ঈমান, আমল ও জীবনের প্রকৃত সফলতার শিক্ষা
সূরাতুল আসর নির্বাচনের কারণ
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। যাবতীয় প্রশংসা গুনোগান একমাত্র মহিয়ান গরীয়ান আল্লাহ রাব্বিল আল আমিন এর জন্যে । যিনি আজকে পূর্ব খাসবাগ আলহিয়া হাদিস জামে মসজিদে বাদ এশা আমাদেরকে মাসিক তালিম কোরানি তালিম বৈঠকে বসার তৌফিক দান করেছেন সবাই শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ। দুরুদ এবং সালাত বর্ষিত হোক মহান আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ এবং চূড়ান্ত নবী মানবতার মুক্তির দুদ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি। আমরা সংক্ষিপ্ত আকারে দুরুদ পাঠ করি। আল্লাহুম্মা সাল্লি আলিহি আল্লাহুম্মা বারিক আলিহি। আজকে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে ইনশাল্লাহ আমরা কোরআন একটি ছোট্ট সূরা কে নিয়ে কথা বলব।যদিও বেশ কয়েকটা বিষয় নিয়ে আমি ভাবছিলাম। কোনটা বলা যায়। আমি choose করতে পারছিলাম না আসলে কোনটা বলবো।আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহ পাক যেন প্রতি মাসে অন্তত একটা দিন এভাবে বসার তৌফিক দান করেন আল্লাহুম্মা আমীন। একবার ভেবেছিলাম লোকমান হেকিম তার সন্তানকে যে উপদেশ দিয়েছেন সেই টা নিয়ে কথা বলব। আরেকবার ভাবছিলাম আশহাবুল কায়েফ কে নিয়ে কথা হবে। আবার ভাবছিলাম মুসা এবং খিজির আলাই সাল্লাম কে নিয়ে কথা হবে। আবার ভাবছিলাম যে সূরা আসর নিয়ে কথা হোক। তো আমি নিজেও একটু কনফিউজ ছিলাম কোনটা নিয়ে বললে বেশি ভালো হয়। তো তুলনামূলক আমার কাছে এখন মনে হচ্ছে সূরাতুল আসর বিষয়টা তুলনামূলক একটু সহজ হবে অন্য বিষয়ের চেয়ে। আল্লাহপাক আমাদেরকে শুনে বুঝে আমল করার তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন। আমরা জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য দোয়া করি। রাব্বি জিদনি ইলমা ,রাব্বি জিদনি ইলমা,রাব্বি জিদনি ইলমা ।সূরাতুল আসর আমরা জানি কুরআনে কারিম এ ১১৪টি সূরা আছে। ১১৪ সূরার মধ্যে ৮৬ টা সূরা হলো মাক্কী আর ২৮ টা সূরা হলো মাদানী। যে সূরাগুলা মক্কায় নাযিল হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতদিন মক্কায় ছিলেন মানে ১৩ বছর এগুলোকে মাক্কী সূরা বলে। দেখা যায় মাক্কী সূরার মধ্যে তাওহীদ,রিসালাত, পরকাল ,কেয়ামত ,হাশর , জান্নাত ,জাহান্নাম এই টপিক গুলা বেশি আলোচনায় আসে। আর পক্ষান্তরে মদিনায় হিজরত করার পর যে সূরাগুলা নাযিল হয়েছে এগুলোকে বলা হয় মাদিনা সূরা।আর মাদিনা কুলার মধ্যে বেশির ভাগই হালাল , হারাম , জায়েজ , নাজায়েজ, আদেশ-নিষেদ এগুলো বেশি আছে। কারণ মক্কার ১৩ বছরে আল্লাহ তার বান্দাদের ঈমানকে তাজা করেছেন ।ভেতরের হৃদয়ের জগৎকে আল্লাহ তায়ালা পরিবর্তন করেছেন। তারপরে গিয়ে মদিনায় আয়াত নাজিল হচ্ছে সুদ ছেড়ে দাও, মদ ছেড়ে দাও তখন সেগুলো মানুষ খুব easily আমল করতে পারছে । সর্বপ্রথম যেটা দরকার মানুষের হৃদয়ের আকিদার বিশ্বাসের পরিবর্তনের । এটা যখন আল্লাহ মুখী হবে পরকালমুখী হবে তখন একটা মানুষ অটোমেটিকলি ইনশাল্লাহ আল্লাহর বিধান পালন করবে। আর কোন মানুষের যদি আকিদাগত বিশ্বাসের কোন পরিবর্তন না করা যায় তো যতই চাপ দেন না কেন সে হয়তো মুখে মুসলিম হবে ভিতরে মুনাফিক থেকেই যাবে। সূরাতুল আসর একটা মাক্কী সূরা।
সাধারণ প্রশ্ন
এই আলোচনায় কোন সূরা নিয়ে কথা হয়েছে?
এই আলোচনায় সূরাতুল আসর নিয়ে কথা বলা হয়েছে, যেটিকে লেখক একটি মক্কী সূরা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মক্কী ও মাদানী সূরার মধ্যে আলোচনার বিষয়বস্তুতে কী পার্থক্য বলা হয়েছে?
মক্কী সূরায় তাওহীদ, রিসালাত, পরকাল ও জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনা বেশি আসে, আর মাদানী সূরায় হালাল-হারাম ও আদেশ-নিষেধের বিষয় বেশি থাকে।
মদিনায় বিধান সহজে পালন করা সম্ভব হওয়ার কারণ কী বলা হয়েছে?
বক্তব্য অনুযায়ী মক্কার ১৩ বছরে আল্লাহ বান্দাদের ঈমান তাজা করেছিলেন এবং হৃদয়ের জগৎ পরিবর্তন করেছিলেন, তাই পরে বিধান মানুষ সহজে পালন করতে পেরেছে।