মানুষের সফলতার জন্য ঈমান, সৎকর্ম ও সত্যের পথে থাকার শিক্ষা
সূরা আসরের আলোচনার সূচনা
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। যাবতীয় প্রশংসা গুনোগান একমাত্র মহিয়ান গরীয়ান আল্লাহ রাব্বিল আল আমিন এর জন্যে । যিনি আজকে পূর্ব খাসবাগ আলহিয়া হাদিস জামে মসজিদে বাদ এশা আমাদেরকে মাসিক তালিম কোরানি তালিম বৈঠকে বসার তৌফিক দান করেছেন সবাই শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ। দুরুদ এবং সালাত বর্ষিত হোক মহান আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ এবং চূড়ান্ত নবী মানবতার মুক্তির দুদ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি। আমরা সংক্ষিপ্ত আকারে দুরুদ পাঠ করি। আল্লাহুম্মা সাল্লি আলিহি আল্লাহুম্মা বারিক আলিহি। আজকে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে ইনশাল্লাহ আমরা কোরআন একটি ছোট্ট সূরা কে নিয়ে কথা বলব।যদিও বেশ কয়েকটা বিষয় নিয়ে আমি ভাবছিলাম। কোনটা বলা যায়। আমি choose করতে পারছিলাম না আসলে কোনটা বলবো।আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহ পাক যেন প্রতি মাসে অন্তত একটা দিন এভাবে বসার তৌফিক দান করেন আল্লাহুম্মা আমীন। একবার ভেবেছিলাম লোকমান হেকিম তার সন্তানকে যে উপদেশ দিয়েছেন সেই টা নিয়ে কথা বলব। আরেকবার ভাবছিলাম আশহাবুল কায়েফ কে নিয়ে কথা হবে। আবার ভাবছিলাম মুসা এবং খিজির আলাই সাল্লাম কে নিয়ে কথা হবে। আবার ভাবছিলাম যে সূরা আসর নিয়ে কথা হোক। তো আমি নিজেও একটু কনফিউজ ছিলাম কোনটা নিয়ে বললে বেশি ভালো হয়। তো তুলনামূলক আমার কাছে এখন মনে হচ্ছে সূরাতুল আসর বিষয়টা তুলনামূলক একটু সহজ হবে অন্য বিষয়ের চেয়ে। আল্লাহপাক আমাদেরকে শুনে বুঝে আমল করার তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন। আমরা জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য দোয়া করি। রাব্বি জিদনি ইলমা ,রাব্বি জিদনি ইলমা,রাব্বি জিদনি ইলমা ।সূরাতুল আসর আমরা জানি কুরআনে কারিম এ ১১৪টি সূরা আছে। ১১৪ সূরার মধ্যে ৮৬ টা সূরা হলো মাক্কী আর ২৮ টা সূরা হলো মাদানী। যে সূরাগুলা মক্কায় নাযিল হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতদিন মক্কায় ছিলেন মানে ১৩ বছর এগুলোকে মাক্কী সূরা বলে। দেখা যায় মাক্কী সূরার মধ্যে তাওহীদ,রিসালাত, পরকাল ,কেয়ামত ,হাশর , জান্নাত ,জাহান্নাম এই টপিক গুলা বেশি আলোচনায় আসে। আর পক্ষান্তরে মদিনায় হিজরত করার পর যে সূরাগুলা নাযিল হয়েছে এগুলোকে বলা হয় মাদিনা সূরা।আর মাদিনা কুলার মধ্যে বেশির ভাগই হালাল , হারাম , জায়েজ , নাজায়েজ, আদেশ-নিষেদ এগুলো বেশি আছে। কারণ মক্কার ১৩ বছরে আল্লাহ তার বান্দাদের ঈমানকে তাজা করেছেন ।ভেতরের হৃদয়ের জগৎকে আল্লাহ তায়ালা পরিবর্তন করেছেন। তারপরে গিয়ে মদিনায় আয়াত নাজিল হচ্ছে সুদ ছেড়ে দাও, মদ ছেড়ে দাও তখন সেগুলো মানুষ খুব easily আমল করতে পারছে । সর্বপ্রথম যেটা দরকার মানুষের হৃদয়ের আকিদার বিশ্বাসের পরিবর্তনের । এটা যখন আল্লাহ মুখী হবে পরকালমুখী হবে তখন একটা মানুষ অটোমেটিকলি ইনশাল্লাহ আল্লাহর বিধান পালন করবে। আর কোন মানুষের যদি আকিদাগত বিশ্বাসের কোন পরিবর্তন না করা যায় তো যতই চাপ দেন না কেন সে হয়তো মুখে মুসলিম হবে ভিতরে মুনাফিক থেকেই যাবে। সূরাতুল আসর একটা মাক্কী সূরা।
সূরা আসর ও কুরআনের বিভিন্ন সূরার বিষয়
সূরাতুল আসর একটা মাক্কী সূরা ,যেটা মক্কায় নাজিল করা হয়েছে। ইমাম শাফেয়ী (রা.) একটা কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যদি আল্লাহ পাক কোরআনের সব কিছু বাদ দিয়ে শুধু সূরা আসরই নাযিল করতেন তাহলেও যথেষ্ট ছিল। আমি আবারও বলছি তিনি বলেছেন আল্লাহ পাক যদি শুধু মাত্র সূরা আসর টুকি নাযিল করতেন। আর কিছুই নাযিল না করতেন , তার পরেও যথেষ্ট ছিল।কারণ এই সূরার মধ্যে সমস্ত মৌলিক বিষয়গুলো চলে আসে ।সময় সংক্ষিপ্ত তাই আমরা সব বিষয়গুলো আলোচনা করতে পারবো না কিন্তু মূল বিষয় গুলো আমরা টাচ করব ইনশাআল্লাহ।১১৪ টি সূরা আছে আমি বলেছি প্রত্যেকটি সূরায় এক একটা চূড়া। আমি বলেছিলাম যদি আপনি নারীদের সম্পর্কে জানতে চান ইসলামে নারীদের অধিকার কি,ইসলামে মেয়েদের কতটুকু সম্মান দেয়া হয়েছে,কোন কোন জায়গায় নারীরা যেতে পারবে, কোন কোন জায়গায় যেতে পারবে না। নারীদের সম্মান কোথায় মর্যাদা কোথায়? এগুলো যদি জানতে চান তাহলে আপনাকে সূরা নিসা পড়তে হবে। নারীদের সূরা। সূরা নিশা পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন ইসলাম নারীদের কোথায় রেখেছে।নারীদের ইসলাম কোথায় রেখেছে এটা জানার জন্য মিডিয়ায় যেতে হবে না। তাহলে তারা আমাদেরকে ভুল তথ্য দিবে। আমাদেরকে আল্লাহ এবং তার রাসূলের উচ্ছেদ থেকে আসতে হবে। সূরা নিসা,সূরা নূর,সূরা হেজার এগুলো আপনাকে জানাবে নারীদের মর্যাদা কোথায়। আবার আপনি যদি জিহাদ সম্পর্কে জানতে চান। ইসলামে জিহাদ কি কেন করতে হয় ,কার বিরুদ্ধে করতে হয় কখন করতে হয়।আপনাকে পড়তে হবে সূরাতুল তাওবা। আপনি যদি জানতে চান রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রের নীতি কেমন হবে?রাষ্ট্রের সংবিধান কেমন হবে? কিভাবে আমরা দেশ চালাবো তাহলে আপনাকে পড়তে হবে সূরা আনফাল।আপনি যদি হিস্ট্রি পড়তে যান একদম ধরেন ইতিহাস হযরত আদম আলাই সাল্লাম থেকে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম পর্যন্ত। এই পুরা ইতিহাস পড়তে হলে আপনাকে পড়তে হবে সূরা হুদ,সূরা শুআরা এই সূরাগুলো পড়তে হবে। আর যদি জানতে চান বনু ইসরাঈলদের সম্পর্কে । পড়তে হবে সূরা বনী ইসরাইল। যদি জানতে চান আপনি শেষ জমানায় কিভাবে চলবেন তাহলে পড়তে হবে সূরা কাহাফ । এইরকম একেকটা সূরা আপনাকে একেকটা রেজাল্ট দিবে। যদি আপনি উপন্যাস পড়তে পছন্দ করেন তাহলে আপনাকে পড়তে হবে সূরা ইউসুফ। সবচেয়ে সেরা উপন্যাস। এইরকম সূরাতুল আসর। আসর মানে সময় ।ইতিহাসের শুরু থেকে নিয়ে কেয়ামত পর্যন্ত এই সময়ে কারা সফল এবং কারা ব্যর্থ এটা জানতে হলে আপনাকে সূরা আছর পড়তে হবে। ইতিহাসের শুরু থেকে নিয়ে পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত কারা ক্ষতির মধ্যে আছে এবং কারা ক্ষতি থেকে মুক্ত এটা জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে সূরাতুল আসর। পড়া মানে আমি বুঝাচ্ছি না রিডিং পড়া। পড়া মানে আমি বুঝাচ্ছি আল্লাহ পাক বলেছেন কোরআন সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা চিন্তা ভাবনা , গবেষণা করে । কুরআন কোন সাধারণ মানুষদেন জন্য নয়। আল্লাহ পাক বলেছেন কোরআন একটা কিতাব ওইসব সম্প্রদায়ের জন্য যারা গভীর চিন্তাভাবনা এবং গবেষণা করে তাদের জন্য। তাদের জন্য নয় যারা হালুয়া রুটি সেমাই খেয়ে বাসায় গিয়ে ঘুমিয়ে যায়। তাদের জন্য কুরআন নয়। আল্লাহ রাব্বিল আলামিন সময়ের একটা সূরা নাযিল করেছেন। সময়ের চূড়া সময়ের সূরা টাইম এর ওপর উঠবেন অতীতকে দেখতে পারবেন ,বর্তমানকে দেখতে পারবেন ,ভবিষ্যৎ কে দেখতে পারবেন। তাহলে উঠতে হবে সূরা আসরের উপরে।
part 3 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আল্লাহপাক বলেছেন ওয়াল আসর,ওয়াল মানে হচ্ছে শপথ বা কসম। ওয়ালের দুইটা অর্থ হয় আরবিতে একটি হচ্ছে এবং অন্যটি হচ্ছে কসম। কখন এবং কখন কসম, যখন দুটি অংশ ,এই দুইটি অংশের মধ্যে জয়েন দিতে হবে তখন ওয়াও জবর ওয়া মানে হল এবং।ইল্লাল্লাযীনা আ-মানূ তারা নয় যারা ঈমান এনেছে ।ওয়া আমিলুসসা-লিহা-তি এবং সৎ আমল করেছে। এখানে ওয়া মানে হচ্ছে এবং। প্রথমে যেটা আছে ওয়ালা আসর। এই ওয়া মানে হচ্ছে কসম বা শপথ। কোরআনে আল্লাহ পাক অনেকগুলো কসম করেছেন। ডুমুর ফলের কসম আমাদের দেশের ডুমুর ফল না আবার মক্কা মদিনায় যে ডুমুর ফল পাওয়া যায়,আরবে পাওয়া যায়। কাঁচা খেতেও মিষ্টি লাগে। ওয়াত্তিন ওয়াহ যাইতুন।যাইতুন ফলের কসম । যায়তুনের তেল দিয়ে রাসূল (সা.) মালিশ করতে বলেছেন উপকারী ।তুর পাহাড়ের কসম সিনাই পাহাড়ের কসম। এরকম অনেক কসম আছে ওয়া লাই রাতের কসম।ওয়া দুহা দ্বিপ্রহরের কসম।ওয়াল ফজর ,ফজরের কসম করে আল্লাহ পাক বলেছেন ফজর সকাল। ফজর নিঃশ্বাস ছাড়ে ,অসাধারণ একটা আয়াত ফজর নিঃশ্বাস ছাড়ে। আজকে এডুকেশন সিস্টেম এটা বিশ্বাস করবে?সকাল নিঃশ্বাস ছাড়ে। কোরআন বলেছেন ফজর ,ফজরের সময় মালা ইকা চলে আসেন। কেরাত হয় ইমামের তারা শুনেন।কারা কারা নামাজে আসছেন তারা লিখে থাকেন।আল্লাহর কাছে লিস্টটা নিয়ে যান নিয়ে গিয়ে তারা দেখান যে ফজরের জামাতে একজন হাজী ছিল। আবার আসরের জামাতে একদল ফেরেশতা আসে। দেখেন আসরের জামাতে কারা কারা আসেন ।তারা আবার ফজর পর্যন্ত থাকে।কোরআনের সূরা ফজরের মধ্যে শপথ করে বলা হচ্ছে যে ফজর নিঃশ্বাস ছাড়ে ।আমাদের এডুকেশন সিস্টেমটা কি বিশ্বাস করবে কথাটা, ফজর নিঃশ্বাস ছাড়ে তারা বলবে পাগলের প্রলাপ,কি বলে ,অহেতুক গাল গল্প বলে।এর জন্যই আমি বারবার বলি। this educated system is created by Dajjal. এই educated system টা create করেছে দাজ্জাল নিজেই উদ্দেশ্য একটাই কিভাবে আমাদের পুরো জেনারেশনের পর জেনারেশন ,প্রজন্মের পর প্রজন্ম কে আল্লাহ থেকে দূরে সরানো যায়। এই উদ্দেশ্য আর কোন উদ্দেশ্য নাই। একজন পি এইচ ডি ডিগ্রী অর্জন করবে কিন্তু ভেতর থেকে হবে অন্ধ। একজন ডক্টরেট করবে বাইরে থেকে ডিগ্রী নিয়ে আসবে তার বাবা-মা থাকবে বৃদ্ধাশ্রমে।সে ইন্টার্নালী ব্লাইন্ড। আল্লাহ পাক এমন অনেক কসম করেছেন। একটা হল সময়ের কসম। সময়ের কসম আল্লাহ কেন করলেন? তার আগে একটা কথা বলে রাখি। আমাদের জন্য কি কসম করার বিধান নাই ,আছে।আমরা যদি কসম করি তাহলে শুধু আল্লাহর নামেই করতে হবে ।কারণ একটা হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন ,যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করলো সে কুফরি করলো। আমরা যখন কসম করব অবশ্যই আল্লাহর নামে কসম করতে হবে। ছোটবেলায় আমরা শিখেছিলাম আল্লাহ কসম করতে হয় না। এর জন্য আমরা মায়ের কসম করতাম, বাবার কসম করতাম ,এখন আমরা দেশের কসম করি,মাতৃভূমির কসম করি। তো আল্লাহ বলেছেন কসম করতে হবে শুধু মাত্র আল্লাহরই অন্য কারো না। তবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার সৃষ্টির কসম করে যেমন রাত, দিন, ফজর , ডুমুর ফলে,চাঁদের ,কোরআন ,সময়ের ইত্যাদি। সময়ের কসম করার অর্থ কি? সময়ের কসম আল্লাহ পাক কেন করছেন? আল্লাহপাক যখন কসম করছেন বুঝতে হবে ওই বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা বোঝার জন্য খুব বেশি বুদ্ধির দরকার নাই আল্লাহপাক কোন বিষয়ের কসম করবেন না। আর কোরআন নাজিল করার সময় আল্লাহ পাক খুবই ইকোনোমিকেল ।কোন দিকে শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে পাক অতিরিক্ত শব্দ চয়ন করতে চাচ্ছেন না যেটা দরকার সেটাই নাজিল করেছে।অহেতুক কোন শব্দ কিন্তু কোরআনে নাই।
কোরআন এমন একটি কিতাব যেটার একটা শব্দ দিয়ে একটা জাতির ইতিহাস বলা হয়েছে। সূরা কাফের মধ্যে একটা শব্দ আছে। জুলকার নাইম বাদশা যাচ্ছে না একদিকে। একটা কওম কে দেখতে পেলেন যে কওমে সূর্যের আলো থেকে বাঁচার কোন বুদ্ধি ছিল না। তারা জানতো না কিভাবে সূর্যের আলো থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে। আল্লাহ ভালো জানেন এই জায়গাটা কোথায়।আল্লাহপাক শুধু বলেছেন কাজা লিকা ওরা এরকমই ছিল ব্যাস এতটুকুই। ওই সম্প্রদায় এমনই ছিল। ভুলে আল্লাহ পাক অন্য প্রসঙ্গে চলে গেছে। একটা ওয়ার্ড দিয়ে একটা সম্প্রদায়ের কথা বলেছেন আল্লাহ পাক। শব্দ আল্লাহ পাক অহেতুক চয়েস করবেন না। তাই সময় শপথ কেন করলেন? তিনটা কারণে করতে পারেন শর্ট করে বলছি। একটা হল অবশ্যই আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হচ্ছে সময়। আমাদের মানবজাতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হচ্ছে সময়। যেটা আমরা ফেইসবুকে, ইউটিউবে ,কফি খেয়ে,চায়ের দোকানে আড্ডা মেরে,গার্লফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করি।তো মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করবে কেয়ামতের মাঠে আর জান্নাতে যদি চলেও যায় সেখানে গিয়েও মানুষের আফসোস হবে সেই সময়ের জন্য যে সময় গুলো মানুষ অহেতুক নষ্ট করেছে। যেই সময়গুলোতে মানুষ আল্লাহর কথা বলেনি, আল্লাহর জিকির করেনি, রাসূলের প্রতি দরুদ পড়েনি ওই সময় গুলোর জন্য মানুষ আফসোস করতে থাকবে। একজন জান্নাতি ব্যক্তি ও আফসোস করতে থাকবে। কেন আমি ওই সময়গুলোতে আল্লাহর জিকির করিনি? সময় সবচেয়ে বেশি ইম্পরট্যান্ট জিনিস আর এই সভ্যতা এই গডলেস ওয়ার্ল্ড এন্ড এই এডুকেশন সিস্টেম আমাদের সময়গুলোকে খেয়ে ফেলেছে। এখন আমার মনে হয় এই ৩০ বছরের জীবনে এসে আমার কাছে মনে হয় আমার জীবনের ১৮ টা বছর অপচয় হয়ে গেছে। ১৮ বছরে আমি হাফেজ হতে পারতাম। আমি হয়তো হাদিসের ও হাফিজ হতে পারতাম বুদ্ধি ব্রেন ভালো ছিল। প্রথম হতাম সব সময়। এখন সারারাত দিন যত কাজই করি না কেন আত্মতৃপ্তি হয় না। মনে হয় কিছু না কিছু গ্যাপ থেকেই গেল। আর এই গ্যাপটা কখনো পুরনো হবে না অসম্ভব ।যারা ৪০ বছর ৫০ বছর বয়সে টিভি দেখছে, তাজ খেলছে ,আড্ডা পিটাচ্ছে এটা দেখে বুঝেই আসেনা এই বয়সে তারা এটা কিভাবে করতে পারে। একটা বার কি চিন্তা হয় না আমার হায়াত কমে আসছে আমি পৃথিবীতে হয়তো বেশি দিন থাকবো না। সুবহানাল্লাহ আল্লাহ পাক সময়ের কসম করে আমাদেরকে সময়ের দিকে দৃষ্টি দিতে বলেছেন। সময়ের দিকে সচেতন হতে বলেছেন ।মানুষ সারা জীবন কষ্ট করে ঠিকই কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে , একটা চাকরির জন্য একটা জমির জন্য। একটা ভালো জব ,স্ট্যাটাস ,টাকা সিকিউরিটি ,বাড়ি ,গাড়ি ,বউ, বাচ্চা গুলোই তো। এগুলো ছাড়া আর কিছুই নাই।সব গুলোই, এগুলোর পিছনে মানুষ দিনরাত প্রচন্ড পরিশ্রম করে, মানুষকিন্তু প্রচন্ড পরিশ্রম করে। আর শয়তান মানুষকে প্রচন্ড পরিশ্রম করিও নেয়। কষ্টের পর কষ্ট দিয়ে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চায়। কষ্টের ট্রাকটা ভুল। কষ্টের ট্র্যাকটা ঠিক নাই। রং ট্রাকের সে কষ্ট দিচ্ছে। এই যে আমাদের ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করছে নার্সারিতে ভর্তি হচ্ছে পাঁচ বা ছয় বছর বয়সে। ২৫ বছর পর্যন্ত ওদের কাঁধে ব্যাগ থাকবেই ।অনার্স মাস্টার্স করতে করতে ২৫ হয়ে যাবে বয়স । এই লম্বা সময় এ সে কোরআন শিখবে না। জেনারেল এডুকেটেড এর কথা বলছি কোরআন এ টু জেড ভালোভাবে শিখবে না। হাদিস শিখবে না,ইতিহাস শিখবে না, সে ইসলামে রাসূলের যে জীবনী এটা সে শিখবে না ,সাহাবীদের যে জীবনে এটা শিখবে না,এগুলো কিছুই শিখবে না। কিন্তু ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত সে কষ্ট করবে। আমরা যখন জেনারেল লাইনে পড়তাম আমাদেরকে এক একটা কবিতা এক একটা গল্প এমনভাবে পড়ানো হতো একদম ভেজে ভেজে খাওয়াই দেয়া হতো। রবীন্দ্রনাথের কবিতা, নজরুলের কবিতা,জীবন দাসের কবিতা শেক্সপিয়ারের গল্প তারপর মাইকেল মধুসূদন এর কবিতা। অবশ্য এখানে ইসলামপন্থীর কারো কবিতা ছিল না। আপনার কাছে যদি মনে হয় এই প্লানটা এমনি এমনি করা হয়েছে তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। এর পেছনে একটা মাস্টারমাইন্ড আছে। এই পুরো প্রসেসটা একদিনে হয়নি এটা সাজানো হয়েছে। এটা ভেবে সাজানো হয়েছে। যাতে করে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ইসলামের থেকে দূরে সরে যায়। তাদের জীবনের বড় একটা সময় নষ্ট হয়ে যায়।
সময়ের কসম ও অতীত থেকে শিক্ষা
সময়ের কসম করেছেন আল্লাহ তা'আলা এটা একটা কারণ সময়ের প্রতি মূল্যায়ন করা। সেকেন্ড কারণ হচ্ছে আল্লাহ পাক অতীতের দিকে তাকাতে বলেছেন। অতীতের দিকে। সময়ের কসম করে আল্লাহ পাক বলেছেন অতীতের দিকে তাকিয়ে দেখো সময়ে সময়ে যারা আল্লাহ পাকের বিধানকে অস্বীকার করেছে আল্লাহ পাক তাদেরকে এই দুনিয়াতেও লাঞ্ছিত করেছেন এবং পরকালেও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিয়েছেন। আল্লাহ পাক সময়ের কসম করে আমাদেরকে হিস্ট্রি পড়তে বলেছেন ইতিহাস । অতীতের দিকে তাকাও দেখো আদম আলাই সাল্লাম থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত এক ই সুন্নত আল্লাহর সুন্নতের মধ্যে কোন পরিবর্তন নাই। আল্লাহ বলেছেন আমার সুন্নত আমার স্টাইলে কোন পরিবর্তন পাবে না। যাদের কাছে আল্লাহর হেদায়েত এসেছে যারা স্বীকার করে নিয়েছে আল্লাহ পাক দুনিয়ায় সাফল্য দিয়েছেন পরকালেও সাফল্য দিয়েছেন। আর যারা আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করেছেন তাদেরকে আল্লাহ পাক দুনিয়াতেও শাস্তি দিয়েছেন পরকালেও শাস্তি দিয়েছেন। যেমন নূহ আলাই সাল্লাম এর কওম আল্লাহ পাক ডুবিয়ে দিয়েছেন। আট জাতি প্রচন্ড শক্তিশালী নারিকেল গাছের সমান সমান একজন মানুষ চেয়েও বড় পাহাড়ে মধ্যে বাসা করে থাকে ।আল্লাহপাক তাদেরকে ঝড় দিয়ে উড়িয়ে দিলেন। সুলাইমান আলাই সাল্লাম এর কওম খুবই দাপটের জাতি। ওদের অপরাধ ছিল মানুষকে অন্যায় ভাবে মারতো আমাদেরকে যেমন রিমান্ডে নিয়ে গিয়ে যেটা করে সেটা করত আর কি।রিমান্ডে নিয়ে গিয়ে যে পিটান তা পিটায় এগুলো তারা সমাজের মানুষের সাথে করতো। একজন মানুষ দোষী, দোষ তো প্রমাণ হয় নাই, তাদের সাথে কি এমনটা করা যাবে। একজন মানুষ খুনের কারণে বন্দী হয়েছে,সে যে খুনি তা কি প্রমাণ হয়েছে এখনো আপনি মারতে পারেন না তো। মেরে আপনি জবানবন্দি নিতে পারেন না ইসলামে হারাম চলছে এগুলো কে বুঝাবে। সুলাইমান আলাই সাল্লাম এর কওম এ এই কাজটা করত আরেকটা কাজ করত মাপে কম দিতো। আর মানুষের সম্পদ লুট করতো আমাদের এই ব্যাংকিং সিস্টেমের মত। মানুষকে কলা ঝুলায় টপ দেয়। একটি বাড়ির দাম ১০ লাখ টাকা আমরা আপনার পক্ষ থেকে বাড়িটি কিনে দিব কিন্তু দিতে হবে ৩০ লাখ টাকা। কারণ অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকার জন্য আমরা আপনাকে ২০ বছর সময় দিচ্ছি।আর আমরা বলি হ্যাঁ তাইতো তাইতো ২০ বছর সময় পাচ্ছি অল্প অল্প করে দিব কিস্তি হিসাবে সমস্যা নাই তো। এই কলা ঝুলাই দিয়ে আপনার সম্পদ লুটে নিলো সুদ।আরেকটা হচ্ছে পেপার মানি কাগজের টাকা। আমরা সোনা নিয়ে ওদের ব্যাংকে যাই,ওদেরকে সোনা দিয়ে ডলার নেই। সুলামান আলাই সাল্লাম এর কওমে এমন কাজ করত আল্লাহ পাক ভূমিকম্প দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে। সময়ের দিকে তাকিয়ে দেখেন শামুত জাতি এরকম শক্তিশালী ছিল আল্লাহ পাক তাদেরকে বজ্রপাত দিয়ে ধ্বংস করেছেন। ফেরাউন পৃথিবীতে এমন একজন মানুষ যে মনে করতো আমিই আল্লাহ। আমি ছাড়া আমাদের মহান কোন রব নাই। আল্লাহ পাক তাকে পানিতে ডুবাই দিলেন এখানে একটা ঘটনা আছে সেটা বলা হয়নি বলতে চাচ্ছিলাম। ফেরাউন যখন ডুব ছিল তখন সে ঈমান এনেছিল এটা কি জানেন।ফেরাউন যখন ডুব ছিল তখন সে ঈমান নিয়ে আসছিল। ফেরাউন যখন ডুবছে তার সেনাবাহিনী সহ তখন জিব্রাইল আলাই সাল্লাম এবং অন্যান্য ফেরেশতারা চলে আসছে কারণ মৃত্যু হবে এখন জান কবজ করা হবে। আর যারা পাপী তাদের চেহারার মধ্যে মারা হয় প্রচন্ড জোরে জোরে মারা হয়,থাপ্পর দেয়া হয় ওরা দেখতে পারে আমরা দেখতে পারিনা। তখন জিব্রাইল আলাই সাল্লাম তার মুখে কাদা ছুটছিলেন। কাদা নিয়ে তার মুখে ছুর ছিলেন। তখন ফেরাউন বলল আমি হারুন এবং মুসার রবের প্রতি ঈমান নিয়ে আসলাম। আল্লাহপাক বলেছেন এখন,আজকে তোমার এই দেহকে আমি সংরক্ষণ করব। যাতে করে তুমি নিদর্শন হও তোমার পরবর্তী জাতিদের জন্য। জিব্রাইল আলাই সাল্লাম বলেছিলেন একটা হাদিসের মধ্যে হাদিসে গুচ্ছের মধ্যে ওই সময় জিবরাঈল আলাইহিস সালামও ভয় পাচ্ছিলেন। কারণ সে তওবা করছে,যদি আল্লাহ পাক এই সময় তার তওবা কবুল করে নেন।আর তিনি যে ওকে মারছেন ,এর জন্য যদি আল্লাহপাক তাকে ধরেন, তাই জিবরাঈল আলাইহিস সাল্লামও ভয় পাচ্ছিলেন।আল্লাহর রহমত এত প্রশস্ত। আল্লাহপাক চাইলে যদি তাকে সেই সময় মাফ করে দিতেন। জিব্রাইল আলাই সাল্লাম বলেছেন যেদিন থেকে ফেরাউন বলেছেন আনা রাব্বুকুল আলা ঐদিন থেকে আমি ফেরাউনকে ঘৃণা করি। ঐদিন থেকে আমি ওয়েট করতেছি সে কবে মরবে আমি তাকে আজাব দিব। এই যে ফেরাউন সে সময়ের সাথে হারিয়ে গেল। নমরুদ হারায় গেল। এই যুগের ফেরাউমরাও হারাই যাবে। যুগের নমরুদ যারা তারাও হারায় যাবে। কোন কিছু সময়ের মধ্যে টিকে থাকবে না।
শেষ জামানার ইতিহাস ও আলামত
সময়ের কসম করে আল্লাহপাক বলেছে হিস্ট্রি দেখো শিক্ষা নাও। আরেকটা উদ্দেশ্য হতে পারে সময়ের সেটা হলো যে এই যে আমরা যে সময়ে বসবাস করছি আখেরি জামানা মানে শেষ জামানার সময় এই শেষ জামানায় সময়ের উপরে আল্লাহপাক বেশি গভীর দৃষ্টিপাত দিতে বলেছেন। এটা হচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট টাইম। এখানে এমন এমন ঘটনা ঘটবে যা পৃথিবীর ইতিহাসে কখনোই ঘটে নাই। যেমন একদিন সাহাবীরা বসে ছিলেন মহানবী সাঃ আসলেন এবং এসে বললেন তোমরা কি নিয়ে কথা বলছো। সাহাবীরা বলল আমরা কেয়ামত নিয়ে কথা বলছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বললেন শুনে রাখো দশটা আলামত না দেখা পর্যন্ত কিয়ামত হবে না।এক নাম্বার দাজ্জাল,দুই নাম্বার ইয়াজুজ-মাজুজ ,তিন নাম্বার ঈসা আঃ এর আগমন ,চার নাম্বার দাব্বাতুল আরদ জমি থেকে অনেকগুলো প্রাণী বের হবে। পাঁচ নাম্বার দুখান (ধোঁয়া),সারা পৃথিবী ধোঁয়ায় ছেয়ে যাবে। ছয় ,সাত, আট নাম্বার হচ্ছে পৃথিবীতে সম্ভবত তিনটা বড় ভূমিকম্প হবে,পৃথিবীর পূর্ব পশ্চিম ও মাঝখানে হবে। ৯ নাম্বার হচ্ছে পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠবে। আর সর্বশেষ হচ্ছে ইয়ামান থেকে আগুন বের হবে ,আর এই আগুনটা মানুষকে তাড়িয়ে নিয়ে আসবে আরাফাতের ময়দানের দিকে ।রাসূল সাঃ বলেছে দশটায় আলামত না দেখলে কিয়ামত হবে না। এগুলো মেজর আলামত। এজন্য এই সময়টা শেষ যুগের এই সময়টা বেশি ইম্পোর্টেন্ট। এখানে এমন একটা ঘটনা ঘটবে যা ইতিহাসে কখনো ঘটে নাই। দাজ্জাল কখনো বের হয়নি।ইয়াজুজ-মাজুজ কখনো বের হয়নি। সূর্য কখনো পশ্চিম দিক থেকে উঠেনি। ধোঁয়ায় সারা বিশ্ব ছেয়ে যায়নি। জমিনের থেকে বড় বড় জানোয়ার বের হওয়া শুরু হয়নি এখনো। এমন ও হাদিসে আছে ওরা মানুষের সাথে কথা বলবে। একজন পুরুষ ঘর থেকে বের হলে ঘরে ফিরে আসবে বাড়ির দেওয়াল,ওই ব্যক্তির পা এবং অন্য জানোয়ার বলে দিবে বাড়িতে কি হয়েছিল। মানে এমন প্রযুক্তি আসতেছে সামনে। সময়ের কসম করে আল্লাহ পাক এই শেষ জমানার দিকে আমাদের তাকাতে বলেছেন। এই শেষ জামানায় ভালো করে বুঝেন, এই শেষ জামানায় প্রত্যেকটা মানুষ ক্ষতির মধ্যে আছে। এটা আল্লাহ বুঝাচ্ছেন আমাদেরকে। ইন্নাল ইনসানা লাফি খুশু ।ইন্নাল মানে নিশ্চয়ই। ইনসান মানে মানুষ। লা মানে অবশ্যই। ফি মানে মধ্যে। খুশু মানে ক্ষতি। এর সার্বিক অর্থ হচ্ছে নিশ্চয়ই মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে আছে। আখেরুজ্জামান এমন একটি জামান এমন একটি যুগ যে যুগে কোন মানুষ ক্ষতি থেকে বাইরে নয়। যতই দাড়ি টুপি জুব্বা আর পাগড়ী থাকুক না কেন।সে ক্ষতি থেকে বাইরে নয়। যে মনে করবে সে ক্ষতির থেকে বাইরে সে বোকার স্বর্গে বাস করছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম কি বলেননি আখেরি জামানায় এমন একটা মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাবে না যে সুদ থেকে মুক্ত থাকতে পারবে । তিনি কি বলেননি এ জামানায় সবচেয়ে বেশি হবে মেয়েরা ।এবং মেয়েরা নগ্ন হয়ে বাইরে ঘুরবে। মুমিন ভাই , মুমিন স্বামী তাকে বাড়িতে রাখতে পারবে না। সে ডাইনসিতে পরিণত হবে। শেষ জামানায় দাজ্জাল এবং তার সেনাবাহিনীরা এমনভাবে সারা পৃথিবীকে শাসন করবে তাদের গ্রিপ্ট থেকে মুমিনরা বের হতে পারবে না। সবচেয়ে বড় হাদিসটা হচ্ছে,সবচেয়ে বড় হাদিসটা হচ্ছে মুমিনের হাতে জলন্ত কয়লা রাখা যেমন ঈমান ধরে রাখা ঐরকম কঠিন হয়ে যাবে। নিজেকে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যাবে আমাদেরকে সবাইকে। আমরা যে ইসলামটা ফলো করছি এটাকি হাতে কয়লা ধরার মত কিনা। আসলেই কি আমরা হাতে জ্বলন্ত কয়লা ধরে রাখছি কিনা আমাদের কষ্ট হচ্ছে কিনা? যদি কষ্ট হয় তাহলে সুসংবাদ আপনার জন্য। আপনি সেই ব্যক্তি যার কথা রাসূল সাঃ বলেছেন।
ঈমান ও সৎকর্ম দিয়ে ক্ষতি থেকে বাঁচা
আর যদি কষ্ট না হয় আফসোস আমাদের জন্য । আমাদের ওপর ধিক্কার। আমি সেই ব্যক্তি যার কথা রাসূল বলেছেন নেগেটিভলি পজিটিভলি না। কি বলেছেন রাসুলুল্লাহ সাঃ? সকালে মুমিন থাকবেন বিকেলে কাফের হয়ে যাবেন। বিকেলে কাফের থাকবে সকালে মুমিন হয়ে যাবে। দুনিয়ার বিনিময় একজন ব্যক্তি তার দিনকে বিক্রি করে দিবে। এই হল আখেরি জামান। এই জামানায় প্রত্যেকটা মানুষ ক্ষতির মধ্যে তবে আল্লাহ পাক বলেছেন চার শ্রেণীর মানুষ নয়। চারটা শ্রেণীর মানুষ বাদে। চারটা কাজ যারা করবে একই সাথে চারটা কাজ । চারটার মধ্যে যেকোনো একটি নয় চারটা কাজই একসাথে এট দা সেম টাইম চার টাকার যারা করবে এবং এর মধ্যে দৃঢ় থাকবে। তারাই ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকবে। তার মধ্যে এক নম্বর হল ঈমান ।ঈমানটা কেন?এখন আমি বুঝি এই ওয়ার্ল্ডটাকে রিড করতে হলে, এই বিশ্বে আসলেই কি হচ্ছে এটা বুঝতে হলে। আপনার ভেতর থেকে একটা নলেজ দরকার।ইন্টারনাল একটা লাইট দরকার । যার ভিতরে ঈমান নাই তার তোরে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা নূর আসবেনা পসিবল না ।যার হৃদয়ে ঈমান নাই তার ভিতরে আল্লাহর পক্ষ থেকে লাইট বা নূর আসবে না। এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে কলবে লাইট বা নূর না আসলে সে ভেতর থেকে দেখতে পারবেনা আসলে কি হচ্ছে।যেমন আমাদের মেয়েদের কথা বলা হচ্ছে মিডিয়ায়। মেয়েরা অনেক এগিয়ে যাচ্ছে প্রগ্রেস প্রগতি সমান তালে চলছে সমানতালে তো চলছে সমধিকার অগ্রগতি। কিন্তু কোরআন-সুন্নাহ আখেরি জামানায় স্টাডি করে দেখছি মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু জাহান্নামের দিকে। এই যে চিন্তার জগতের বিশেষ একটা পরিবর্তন মানুষের কাছে এটা প্রগ্রেস আর আমি বলছি এটা জাহান্নামের রাস্তা। একশ্রেণি লোকের কাছে এটা প্রগ্রেস আর আমি বলছি এটা জাহান্নামের রাস্তা। বিশাল একটা পার্থক্য না। এই পার্থক্যের কারণটা হচ্ছে যে এই মন্তব্য টা করেছে সে বাহ্যিক দৃষ্টি থেকে করেছে।আর আমরা কুরআন সুন্নাহ থেকে ঘেটে ইন্টারনাল অবজারভেশন থেকে মন্তব্যটা করলাম। ইন্টারনি লাইট পেতে হলে আমাকে নূর দরকার আর এই নূর আসবে আল্লাহর পক্ষ থেকে।আর কখন আসবে যখন আপনি কুরআনের কাছে আসবেন।যখন ঈমান নিয়ে আসবেন। আর হাদিসে আছে হাদীসে জিবরাঈল এর মধ্যে ছয়টা পিলার। তা অনেকেই জানিনা। ঈমানের ৬ টা পিলার মধ্যে হচ্ছে এক নাম্বার আমান্তু বিল্লাহ, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করা,ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস করা,আসমানী কিতাবের উপর বিশ্বাস করা,রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস করা,পরকালের প্রতি বিশ্বাস করা,তাকদিরের ভালো-মন্দে এর প্রতি বিশ্বাস করা। এই ৬ টা পিলারকে বিশ্বাস করাকে বলা হয় ঈমান। এখানেও তিনটা কথা আসবে শুধু বিশ্বাস করা না হৃদয়ে বিশ্বাস করা , মুখের স্বীকৃতি দেওয়া , এবং কাজে বাস্তবায়ন করা।শুধু বললেই হবে না আমি মুমিন কাজে প্রমাণ করতে হবে। কিছু মানুষ আছে যে বলে আমি তো গুনাহ করিনি তাহলে নামাজ পড়ার কি দরকার, আমি তো কোন খারাপ কাজ করি না, সারাদিন ভালো কাজ করি। জনকল্যাণমূলক কাজ করি, আমি তো জননেতা, আমার তো নামাজের প্রয়োজন নাই। নামাজ তাদের জন্য যারা গুনাহ করে এবং তাদের গুনাহ মাফ করার প্রয়োজন আছে,তারা যাবে নামাজে , আমি কেন নামাজে যাব?কিছু মানুষ আছে কোরআন, সুন্নাহ ,ইসলাম এর সামনে আত্মসমর্পণ করবেই না। আমি মানবতার জন্য কাজ করি আমি জনকল্যাণমূলক কাজ করি। আমি গাছ লাগিয়ে দেই , আমি কম্বল বিতরণ করি ,আমি কত ভালো কাজ করি ।আমি সদা সত্য কথা বলি, হালাল খাই। আমার তো নামাজের দরকার নাই। ঈমান হচ্ছে মুখে স্বীকৃতি দেওয়া ,অন্তরে বিশ্বাস করা এবং কাজে বাস্তবায়ন করা।
ঈমানের ছয়টি রুকন ও মধ্যমপন্থা
ঈমানের একটা পিলার হচ্ছে মনে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি দেওয়ার সাথে সাথে কাজে বাস্তবায়ন করতে হবে। এই কাজে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কিছু মানুষ শৈথিল্য বাদী হয়ে যাবে আর কিছু হয়ে যাবে চরমপন্থী। আমাদেরকে হতে হবে মধ্যমপন্থী। খুব চরমপন্থী ও না আবার শৈথিল্য বাদী ও না। কারণ আল্লাহপাক এই উম্মতকে বলেছেন তোমরা হচ্ছো মধ্যমপন্থীর উম্মত। তোমাদেরকে অন্যান্য উম্মতের ওপর সাক্ষী হিসাবে উপস্থাপন করা হবে। এক নাম্বার ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকবে তারাই যারা মুমিন আর এই ছয়টি পিলারের ওপর বিশ্বাস করে,মুখে স্বীকৃতি দেয় এবং কাজে বাস্তবায়ন করে। দুই নাম্বার ওয়া আমিনুল সলিহাত ঈমান আনার সাথে সাথে যারা সৎ আমল করে। এখন আমিনুল সলিহ এর সংজ্ঞা কি? এক কথায় খুব সহজ করে যদি সংজ্ঞা বলি যে আমল বা যে কাজগুলো আল্লাহ করেছেন বা তার রাসুল অনুমোদন করেছেন , বা রাসূল সাঃ করেছেন বা করতে বলেছেন অথবা মৌন সম্মতি দিয়েছেন সোজা সিম্পল।যে প্রত্যেকটা কাজ আল্লাহর রাসূল সাঃ আল্লাহর বিধানের আলোকে আমাদেরকে করতে বলেছেন অথবা নিজে করেছেন অথবা কেউ করেছেন তিনি মৌন সম্মতি দিয়েছেন। যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। রমজান মাসের সওম। রমজান মাসের কথা আসল আসেন একটা দোয়া করে নেই , আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা ফি রামাদান ওয়া বারিকলানা ফি হীম আমিন ।এর মানে হচ্ছে আল্লাহ আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন এবং বরকত দিন। রমজানের আগে থেকে রাসুলুল্লাহ সাঃ এ দোয়াটা করতেন।আল্লাহ আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন এবং সেখানে বরকত দিন ।এবং আল্লাহ পাক আমাদের জীবনে রমজানের সংখ্যা বাড়িয়ে দিন আল্লাহুম্মা আমীন।আমলে সালেহার মধ্যে আছে সালাত , আছে সওম ফরজের কথা বলছি আছে যাকাত।সামর্থ্য হলে যাকাত দিবেন । সামর্থ হলে হজ করবেন ওমরা করবেন। সদা সত্য কথা বলা, পিতা মাতার খেদমত করা। আল্লাহর বিধানের উপর দৃঢ় থাকা। এই প্রত্যেকটা কাজই আমলে সালহে । এমনকি বাথরুমে যদি কেউ প্রবেশ করে এবং প্রবেশ করার সময় যদি এই দোয়াটা পড়ে বিসমিল্লাহ আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবা-ইস ।টয়লেট করার কাজ তো তার আমলের সলেহ। টয়লেট করার পর বের হওয়ার সময় যদি সে বলে আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আজহাবা আন্নিল আজা ওয়া আফানি।এই কথাগুলো যদি বলেন এটাও আমলের সলেহ।
আমলে সালেহ কী ও তার উদাহরণ
স্ত্রী সহবাস করা , স্ত্রীকে চুমু খাওয়া,স্ত্রীর হাত ধরা এটাও আমলের সলেহ ।দের হাত ধরে বসে থাকা , স্ত্রীর হাত ধরে চাঁদ দেখা, স্ত্রীর সাথে গল্প করা,সময় কাটানো এগুলো আমলের সলেহ । স্ত্রীর সাথে সহবাস করার সময় যদি সূরা পড়ে। তার সহবাসের জন্য সে নাকি পাবে। সাহাবীরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন এটাও নেকির কাজ। আল্লাহর রাসূল বলেছেন এই কাজটা যদি তুমি স্ত্রী ছাড়া অন্য নারীর সাথে করতা তাহলে তোমার জেনা হতো না গুনাহ হতো না। সাহাবীরা বললো হ্যাঁ হত।তাহলে স্ত্রীর সাথে করলে তা নেকি হবে। ইসলামের মত সহজ রিলিজন কোথাও পাবেন না।খেতে বসেছেন খিদা লেগেছে খাবেন বিসমিল্লাহ বললে খাওয়া শুরু করলেন লোকমাতে বললেন আলহামদুলিল্লাহ ।আল্লাহ পাক বলেছেন আল্লাহ ঐ বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান আমলের সলহে ।কোরআন তেলাওয়াত করছেন,প্রতি হরফে ১০ নেকি করে পাচ্ছেন। জিকির করছেন,সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ এটাও আমলের সলহে। সারাদিন আপনি যদি রাসূলের স্টাইল ফলো করেন । সকাল থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত ঘুমাবেন, ঘুমানো তো রেস্ট। ঘুমানোর আগে ওযু করলেন আচ্ছা ওযু করা সম্ভব না তাহলে দোয়াগুলো পড়লেন পরে ফু দিলেন , সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়লেন ।পুরো ঘুমটা আপনার আমলের সলহে ।ঘুমের মধ্যে যদি আপনি স্বপ্ন দেখেন এবং ওই স্বপ্ন যদি আপনি জেনা করতেছেন ওই জেনার জন্য আপনার কোন দোষ নাই। মাফ হয় না স্বপ্নে অনেক সময়। ওইটার জন্য কোন গুনাহ নাই কারণ আপনি দোয়া পড়ে ঘুমিয়েছেন। শয়তান আপনাকে ডিস্টার্ব করেছে। এরকম প্রতিটা কাজ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন,বা করতে বলেছেন বা মৌন সম্মতি দিয়েছেন বা বলেছেন করতে পারো। সেগুলো আমলের সলহে ।একই সাথে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যে কাজগুলো করতে বলেছেন যে কাজগুলো করতে নিষেধ করেছেন যে কাজগুলো করলে শাস্তি কথা বলেছেন সে প্রত্যেকটা কাজ ছেড়ে দেওয়া আমলের সলহে ।যেমন রাসূল বলেছেন শিরিক করো না। শিরিক ছেড়ে দেওয়াও আমলের সলহে । আবার বলেছেন সুদ খেয়ো না,সুদ খাচ্ছেন না এটাও আমলের সলহে । আপনি সুদ খাবেন না তাই আপনি রিজিকের জন্য অন্য একটা সোর্স বের করেছেন যে আপনি কলা বিক্রি করে খাবেন। এটা হল আমলের সলহে । আপনি আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান ওই কোট-প্যান্ট টাই পরা ব্যাংকার এর চাইতে। কোট-প্যান্ট টাই পরা ব্যাংকার আল্লাহর কাছে রক্ত চোষা প্রাণীর মতো। কুরআনের ভাষায় বললে হয়তো অনেকেই কষ্ট পাবেন। আল্লাহ পাক বলেছেন জানোয়ারের মতন। সূরা আরাফ আয়াত নাম্বার ১৭৯ । মাঝে মাঝে একটু হিট দিয়ে কথা বলতে হয় বলে আল্লাহপাক এগুলো বলেন।
Part 9 এই যে আমরা অন্যায় থেকে দূরে থাকছি এটাও আমাদের সলহে ।টাকনুর নিচে কাপড় পড়লে গুনাহ হয় তাহলে আপনি প্যান্টটা কেটে নিলেন এটাও আমলের সলহে । কারণ আপনি টাখনুর নিচে কাপড় পড়তে চাচ্ছেন না। দাড়ি সেভ করতে হয় না তাই আপনি দাড়ি সেভ করা ছেড়ে দিয়েছেন। দাড়ি যতদিন থাকবে আপনি আমলে সলহের মধ্যে আছেন। continuously নেকি লেখা হচ্ছে ।আর এটাই একমাত্র সুন্নাহ যা মৃত্যুর পর আপনার পরিচয় বলে দিবে আপনি মুসলিম না অমুসলিম ।যে একমাত্র সুন্নাহ ভিসিবল সুন্নাহ যা নিয়ে আমরা কবরে যাব। আর কোন সুন্নাহ নিয়ে আমরা কবরে যাচ্ছি না ভিসিবল সুন্নাহ দেখা যাচ্ছে না। পাগড়ী নিয়েও যাবে না কবরে। জুব্বা নিয়েও যাবে না কবরে। যেটা বলছিলাম আপনারা অন্যায় থেকে বিরত থাকছেন এটাও এক ধরনের আমলে সলহে। সেটা যে কোন অন্যায় হোক না কেন যত বড় স্কেলের হোক বা যত ছোট স্কেলের হোক এটাই আমলের সলহে।আমি তাহলে বুঝাতে পারছি আমলে সলহে ।যে আমলগুলো নবীজি করেছেন করতে বলেছেন এবং সম্মতি দিয়েছেন সেগুলোই হচ্ছে আমলে সলহে।একই সাথে যেগুলো নবীজি নিষেধ করেছেন এবং ছেড়ে দেওয়া ও আমলে সলেহ । আর একটা বিষয় আছে যে আমলের সলহের বিপরীত জিনিস কে বলা হয় বেদাত। যখন কোন ব্যক্তি আমলে সলহে করে না অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করেন যেটা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল অনুমোদ করেন নাই ইসলামে একেই বলে বেদাত।এটা সংখ্যার ক্ষেত্রে হতে পারে সময়ের ক্ষেত্রে হতে পারে এবং পদ্ধতির ক্ষেত্রে হতে পারে যেমন দুরুদ পাঠ করাটা ইবাদত এবং মিলাদ মাহফিলের স্টাইলে দরুদ পাঠ করাটা বেদাত। একজন ব্যক্তির দোয়া করবে, একাকী দোয়া করতে পারে কিন্তু সম্বলিতভাবে একটা সিস্টেম তৈরি করে নেয়া বেদাত। একজন মানুষ রোজা রাখবে ভালো কাজ একটা নির্দিষ্ট দিনকে বেছে নিল যে এই দিনে আমি হাজার রাকাত নামাজ পড়বো এই দিনে আমি হালুয়া রুটি খাব ঐদিন আমি রোজা রাখব এই সিস্টেমটা বেদাত। আমলের সলহের বিপরীত তাই হচ্ছে বেদাত। আমলে সলহের পরিনাম টা জান্নাত। আর বেদাতের পরিনাম জাহান্নাম। আল্লাহ পাক আমাদেরকে হেফাজত করুন। এই হলো দুই নাম্বার ঈমান এবং আমলের সলহে আর দুইটা আছে। তিন নাম্বার হচ্ছে তারা ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকবে শেষ জামানায় যারা নিজেরা আগে হকের ওপরে দৃঢ় থাকে পাহাড়ের মত। খিজির আঃ এর মত পাহারে পাথরের উপর বসে ছিলেন রকের উপরে । নিজেরা দৃঢ় থাকে এবং এরপর অন্যকে হকের দিকে ডাকে । এরা ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকবে। যারা ঈমান এনেছে,আমলের সলহে করছে এখন মাশাল্লাহ নিজেদের পরিবার গঠন করে ফেলেছে। নিজের যোগ্যতা হয়ে গেছে নিজের হকের উপর আছে মাশাল্লাহ এবার সে মানুষকে হকের দিকে ডাকছে ।
দাওয়াতের যোগ্যতা ও সঠিক পদ্ধতি
কারণ ডাকার কাজটা ইস্কুল বয়দের কাজ না এটা স্কলারদের কাজ। আমরা যদি দাওয়াত দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন না করি তাহলে আমরা মানুষকে ভুল পথে দাওয়াত দিব simple । আমি যদি ইংরেজি প্রফেসর হতে চাই তাহলে ইংরেজির উপরে আমাকে বড় ডিগ্রি নিতে হবে তারপরে আমাকে ইংরেজি ক্লাস নিতে হবে। তাহলে আগে যদি আমরা নিজেরা এগুলোর প্রতি স্টীল থাকে। তারপরে আমরা যখন মানুষকে দাওয়াত দিব যোগ্যতা অর্জন করব জ্ঞান অর্জন করব তখন আমরা মানুষকে সঠিক পথে দাওয়াত দিতে পারব । আর এই জায়গায় কিন্তু সমস্যা আছে। আমরা দাওয়াতটা খুব পছন্দ করি যোগ্যতা থাক বা না থাক একটু সুর দিয়ে বলতে পারি পড়াশোনা থাক বা না থাক, পড়াশোনা খুব একটা নাই কিন্তু সুর আছে গলার মধ্যে সারা দেশব্যাপী দাওয়াতের কাজ করা হচ্ছে । অসংখ্য মানুষ জিকিরের নামে প্যান্ডেলে উপরে উঠে লাফাচ্ছে ।অসংখ্য মানুষ ইসলামের নামে দলীয় তাকদিরে যাচ্ছে। অসংখ্য মানুষ জিহাদের নামে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা জায়গায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে কারণ কি কারণ হচ্ছে যে দাওয়াত দিচ্ছে সে জানে না সঠিকভাবে দাওয়াত দেওয়ার ম্যাথলজি টা কি? কোথা থেকে শিখব আল্লাহ রাসূলের কাছ থেকে শিখব অন্য জায়গায় যাওয়ার দরকার নাই। শুধু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনীর দিকে তাকাবেন । জীবনে সে কোন জায়গায় কোন অবস্থায় তিনি কিভাবে দাওয়াত দিয়েছেন ব্যাস। জীবনে কোন সিচুয়েশনে তিনি কিভাবে দাওয়াত দিয়েছেন। মক্কায় তিনি মূর্তির সামনে নামাজ পড়েছেন ১৩ বছর। তখন মূর্তি ভাঙ্গার মতো সিচুয়েশন ছিল না ।মদিনায় খেলাফত কায়েম করার পরে যখন আবার মক্কা পূর্ণ উদ্ধার করা হলো তখন তিনি আবার মূর্তি ভেঙ্গে দিলেন । নিজের হাতে মূর্তি ভাঙলেন।জালহক ওয়াজাকল বাতিল করলেন ।তাহলে দুইটা সিচুয়েশন আলাদা ছিল। দায়কে বুঝতে হবে তার যোগ্যতা কতটুকু ? তাকে কোন সিচুয়েশনে কি বলা যাবে কি বলা যাবে না? কি বলা যাবে না? কোন দিকে মানুষকে ডাকতে হবে কোন সময় কোন দিকে মানুষকে দাওয়াত দিতে হবে।এখন উম্মার যে সময় এই সময়ে ছোট্ট ছোট্ট এখতালাকের দিকে মতভেদ করার সময় নয় ।এখন আমরা এমন একটা সময়ে আছি end time শেষ সময়ের দিকে আছি। সারা বিশ্ব একত্রিত হয়ে আমাদের উপর প্রভাকান্ড চালাচ্ছে। আর এই সময় যদি আমরা বিভিন্ন দলে উপদলে ভাগ হয়ে থাকি ।আমাদের হাওয়া বেরিয়ে যাবে আল্লাহ পাক সূরা আনফালে বলেছেন। বাতাস বেরিয়ে যাবে, হাওয়া বেরিয়ে যাবে ,তোমরা পাদস্তলিত হবে । এক ভাইকে মারবে আরেক ভাই হাসবে। বলবে আমাকে তো মারে নাই আমার দলকে তো কিছু বলে নাই সমস্যা নাই। বোকা বুঝতে পারেনি যে পরে ওর কাছেও তারা আসতেছে।
হক চেনা ও হকের দাওয়াত
হকের দাওয়াত দেওয়ার আগে আমাদেরকে হক টা কে আগে চিনতে হবে। এর উপর আগে নিজেকে দৃঢ় থাকতে হবে তারপরে অন্যকে দাওয়াত দিতে হবে। এবং দাওয়াত দেওয়ার আগে আমাকে আমাদেরকে পরিবেশ, পরিস্থিতি, এবং সময় বুঝতে হবে। কোন সময় কোন প্রেক্ষাপটে কিসের দাওয়াত দিতে হবে ।এবং এই দাওয়াত দেওয়ার সময় মানুষের সাথে হতে হবে নরম, উদার ।একটা মানুষ এখনো ইসলামের বেসিক কিছু জানেই না। ধরেন সে সালাত আদায় করে না। আপনি কি আগে তাকে সালাতের দিকে ডাকবেন নাকি আগে তাকে বুকে হাত বাধা শেখাবেন? আপনার বুদ্ধিমানের কাজ কি? এটলিস্ট আপনি তাকে সালাতের দিকে ডাকবেন। সে নামাজ পড়তেছে মাশাল্লাহ। এখন সে নিয়মিত জামাতে আসে। তার হৃদয়টা পরিবর্তন হচ্ছে। আস্তে আস্তে আস্তে আপনি তাকে মাসালাগুলো বুঝান। আমরা কি করি ? আমরা প্রথমে আক্রমণ করি যেখানে যাই আগে বলি এটা ঠিক না ঐটা ঠিক না আপনার এটা ভুল হয়েছে আপনার ওইটা ভুল হয়েছে। এতে কি হয় ওরা তো এই ব্যাপারটাকে ভালোভাবে দেখেই না।এখানে ওরাও তখন ডিফেন্সিভ হয়ে যায়।। ওরা তখন বলে আমাদের টাই ঠিক।ওরাও মাহফিল করবে আমাদের বিরুদ্ধে আমরাও মাহফিল করব ওদের বিরুদ্ধে। এই হল উম্মাহর সার্কাস। এখন এই বাংলাদেশে সার্কাস চলে। হকের দাওয়াত দিতে হলে হকের সংজ্ঞা জানতে হবে। আল্লাহপাক সূরা কাহাফের মধ্যে বলেছেন আয়াত নাম্বার ২৩ বা ২৪ ।আল্লাহ বলেছেন ওয়াকিলুল হক বি রাব্বিকুন। হক সেটাই সত্য সেটাই যেটা তোমার রবের পক্ষ থেকে নাযিল হয়।যার ইচ্ছা হয় সে ঈমান নিয়ে আসুক। যার ইচ্ছা হয় সে অস্বীকার করুক। আর আমি আল্লাহ জালিমদের জন্য আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। আল্লাহ পাক হকের সংজ্ঞা দিলেন, হক সেটাই যেটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে কি গণতন্ত্রের নাযিল হয়েছে। ধর্ম নিরপেক্ষতা,কমিউনিজম ,আমাদের সিকিউরিজম, আমাদের ইউনাইটেড ন্যাশন জাতিসংঘ, আমাদের ইসরাইলের ব্যাংকিং সিস্টেম এগুলা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে । কি নাযিল হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে? এক সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওরাত নাযিল হয়েছিল।ওই তাওরাত ই ছিল ওই সময়ের হক। এরপর জাবুর ,এই জাবুরটা ও ওই সময়ের হক ছিল। ইঞ্জিলটা ওই সময়ের হক ছিল। এখন কেয়ামত পর্যন্ত হকের মানদণ্ড কুরআনএবং সুন্নাহ । এর বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নাই। জীবনে প্রতিটা ক্ষেত্রে আমল একজন ব্যক্তির না থাকে। সে ব্যক্তি নামে মুসলিম হলেও কাজে এখন পর্যন্ত মুসলিম হতে পারেনি।
নম্র ভাষায় দাওয়াত ও মুসলিমদের ঐক্য
এটাকে বলে আত্মসমর্পণ। এই হক টাকে আগে আমরা চিনলাম এরপর আপনি হকের দিকে মানুষকে দাওয়াত দিবেন। আর আমি বললাম হকের দিকে দাওয়াত দেওয়ার সময় আমাদেরকে হতে হবে একটু রিবারেল একটু নমনীয়। মানুষকে আগে বেসিক জিনিসের দিকে নিয়ে আসা তারপরে আস্তে আস্তে আপনি কঠিন জিনিস গুলো আলোচনা করেন। আর সবচেয়ে বেশি যেটা ইম্পরট্যান্ট এই সেই জামানায় সবার মাঝে একটা মৈত্রিক বন্ধন তৈরি করা বেশি ইম্পর্টেন্ট ।সে যেকোনো সংগঠন করুক না কেন, সে যে কোন দল করুক না কেন।আমাদের দেখা উচিত ওর মধ্যে ভাল কতটুকু আছে ।হানাফিদের মধ্যে ভালো আছে , আহলুল হাদিসের মধ্যে ভালো আছে , তাবলিকের মধ্যেও দেখবেন আপনি কিছু ভালো আছে , জামাত ইসলামের মধ্যেও আপনি দেখবেন কিছু ভালো আছে সবার মধ্যে দেখবেন কিছু না কিছু ভালো অবশ্যই আছে। আপনি কেমন করে বুঝবেন কোনটা ভালো কোনটা খারাপ? ওই যে বললাম হক থেকে বুঝতে হবে , হকের মানদণ্ড দেখে বুঝতে হবে এটা ভালো এটা খারাপ। আর একান্ত আর আমি না বুঝতে পারি কোনটা ভালো কোনটা খারাপ তাহলে সমসাময়িক যত ওলামা ইকরাম আছে তাদের কাছে যাব। গিয়ে বলবো , পরামর্শ করবো আসলে কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা। এবং তারপর আমি যাচাই-বাছাই করে দেখব কোনটা সত্যের বেশি কাছাকাছি। আর যদি দেখা যায় দুইটা অপশন দেখা যাচ্ছে এটাও ঠিক ওইটাও ঠিক। যেমন দেখা গেল সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার করে পড়া যায় ৩৩, ৩৩, ৩৩।লাস্টে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু পড়তে হবে ।আরেকটা হাদিসে রাসূলুল্লাহ বলেছেন ৩৩ বা ৩৩ বার এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়তে এটা কি সহী । এটাও সহী। তাহলে কখনো আপনি ঐটা আমল করেন, কখনো এইটা আমল করলেন বৈচিত্র থাকলো। বেতের সালাত কত রাকাত পড়েছেন রাসূলুল্লাহ ৩, ৭, ৫ , ৯ কোনটা সহী । সবই সহী । এখন কিছু মানুষ বলবে আমরা গোল আলু মার্কা আলেম সবই সহী বলে ।এক জায়গায় এই কথাটা বলে আসলাম মিঠাপুর জায়গীর হাটে একজন মানুষ খুবই খেপে গেছে আমার উপরে।খাবার টেবিলে আমার উপর খুব আক্রোশ ছাড়লো। বলল যে আপনি গোল আলু মার্কা আলেম আপনি সবকিছুকেই সহী বললেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম বেতের নামাজে কোনটা সহী । বলল আমি তো অতো পন্ডিত না পড়াশোনা তো জানি না , বলে চলে গেল। এই যে আমাদের আচরণগত সমস্যা এটা আসলে অজ্ঞতা ।অজ্ঞতা এবং আমাদের সব নলেজ গুলো না থাকা। প্রতিটা মাসালা পায়খানা করতে বসা থেকে শুরু করে ঘুমানো পর্যন্ত যতগুলো আমল করে থাকি প্রতিটা আমলে একাধিক অপশন আছে।
মাসআলার বিভিন্ন বৈধ অপশন ও সবর
একবারে হাটু গেড়ে বসার অপশন আছে।এক পা ,ডান পা খাড়া করে অপশন আছে পায়খানাতে । খাবার টেবিলে বসা হাঁটু উপরে বসার একটা অপশন আছে না। তাশাহুদ এর মত বসার অপশন আছে না। কোনটা সহী?বলবেন দুইটাই সহী । আপনি সালাতে দাঁড়াবেন কখনো দুই রাকাত সুন্নত পড়ার অপশন আছে আবার কখনো চার রাকাত, আছে না। কখনো বেতের এক রাকাত সালাত আদায় করার অপশন আছে আবার কখনো তিন রাকাত, আছে না। কুরআন তেলাওয়াত করবেন অপশন নাই , অপশন আছে। আপনি যেকোনো সুন্নাহর দিকে জান ,কোনটা সহী ঘুমাবেন, ঘুমানোর মধ্যে অনেক দোয়া কোনটা সহী । সবগুলো সহী ।সূরা কাফিরুন পড়ে ঘুমানোর হাদিসে আছে সূরা কাফিরুন। অনেকে বলবে ওইটা নাই আছে কিন্তু অনেক জানেনা হয়তো। তো আমাদেরকে এটা করতে হবে যে সব ডাটা গুলোকে এক জায়গায় আনতে হবে। যদি আমার কাছে না থাকে তাহলে আমি ওলা ইকরামদের বই পড়বো সহযোগিতা নিব।এবং আমি বুঝতে পারতেছি ওর টা হয়তো একটু দুর্বল আমারটা বেশি সহী । সে এটা করতেছে করুক। আমি তাকে হিকমার সাথে এটা বুঝাবো যে এটা থেকে এটা বেশি সহী । আপনি করতে চাইলে এটা করতে পারেন আমার কাছে বেশি ভালো মনে হয় মাশাল্লাহ । কোন ইমামের মধ্যে কি কোন দ্বন্দ্ব ছিল। হানাফী মাযাবির ইমাম সাফি মাযাবীর ইমামকে কি ঘুষি মারতেন নাকি । আমরা এগুলো করি কেন? আমাদের এগুলো অজ্ঞতা, অথবা হিংসা , অথবা হতকারিতার কারণে এগুলো করি। এতে করে আমাদের একটা লাভ হয়। আমরা ইহুদি , খ্রিস্টানদের দাসে পরিণত হয় । কারণ তারা বিভিন্ন উম্মাতকে সুযোগ পেয়ে ধ্বংস করার পথ খুলে যায় ।এটা হল হক ।হকের দাওয়াত আমরা দিব। আরেকটা হল সবর ।দাওয়াত দেওয়ার সাথে সাথে যারা সবর করে। আচ্ছা, দাওয়াত এর সাথে সবরের সম্পর্ক কি? বিনা প্রয়োজনে কেউ যদি কুকুর পালে প্রতিদিন তার আমলনামা থেকে এক কেরাত নেকি কাটা হবে। এক কেরাত মানে হচ্ছে উহুদ পাহাড়ের সমান। আমি দেখেছি উহুদ পাহাড়। আপনারা যারা হজ করেছেন তারা অবশ্যই দেখেছেন উহুদ পাহাড়। এত বড় নেকি তার আমলনামা থেকে কেটে দেওয়া হবে। আবার যদি কোন ভাই কারো জানাযায় যায় তাহলে তার আমলনামায় এক কেরাত নেকি লিখে দেওয়া হবে। মাটি দিলে আরো এক কেরাত নেকি লিখে দেওয়া হবে।সবরের সম্পর্কটা কি ? হকের সাথে সবরের একটা সম্পর্ক আছে। সেটা হল সত্য এমন একটা জিনিস যেটাকে আক্রমণত ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। হক এমন একটা জিনিস যেটাকে আক্রমণত ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। ধৈর্যের সাথে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। ফর এক্সাম্পল নূহ আঃ এর দিকে তাকান ৯৫০ বছর ইসলামের দাওয়াত দিলেন ৪০-বাসী ইসলাম গ্রহণ করলেন। আপনি দেখেন হযরত ইব্রাহিম আঃ সবর করতে করতে দেশে থাকতে পারলেন না পরে হিজরত করতে হলো।
Part 14 তারপর দেখেন আপনি ফেরাউন, মুসা , ঈসা আলাই সাল্লাম এর জায়গাই হলো না পৃথিবীতে। মুসা আলাই সাল্লাম তাকে উম্মা এত কষ্ট দিয়েছেন। মাঝে মাঝে আমাদের প্রিয় নবী মোহাম্মদ সা: মুসা আলাই সাল্লাম এর কথা চিন্তা করতেন এবং সান্তনা পেতেন। একদিন আল্লাহর রাসূল গনিমতের মাল ডিস্ট্রিবিউট করছিলেন। ইয়া মুহাম্মদ ইয়াদিল । ইয়া মুহাম্মদ ইনসাফ করো, তুমি ইনসাফ করছো। আল্লাহর রাসূলকে বললেন এইভাবে ডাইরেক্ট । রাসূলুল্লাহ সা: এর পাশে সাহাবীরা ও ছিলেন তারা বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আমাদেরকে অনুমতি দেন গর্দান উড়িয়ে দিব বেটার ।মুসাকে তার কওম এর চেয়েও বেশি কষ্ট দিয়েছিল। তিনি মুসা আলাই সাল্লাম এর কথা চিন্তা করে সান্ত্বনা নিতেন। এত বেশি কষ্ট বনি ইসরাইলরা তাকে দিয়েছিল কল্পনার বাইরে।আল্লাহ পাক বনী ইসরাঈলদের মধ্যে এমন অনেক নবী পাঠিয়েছিলেন যাদের সাথে কোন উম্মত ই ছিল না দুজন চারজন পাঁচজন দশজন আবার এমনও হয়েছে একই সাথে একটা জায়গায় অনেকগুলো নবীকে পাঠানো হয়েছে এবং সবাইকে তারা হত্যা করেছে। একদিনে ৪০ জন নবীকেও তারা হত্যা করেছিল। এরকম হিস্ট্রি আছে । সবরের ব্যাপারটা নবীদের সাথে সম্পর্কিত তাদের দাওয়াতের সাথে দেখেন হকের সাথে সফর সম্পর্কিত আছে ।তিনি এত ভালো মানুষ তাকে আলামিন বলা হয় ।তিনি কখনো মিথ্যা বলেন না, কাউকে কষ্ট দেন নাই , এতিম কে ভরণ পোষণ করেন , বিধবাকে দেখেন ,নবী হওয়ার পর থেকেই তার টাইটেল গুলো চেঞ্জ হয়ে গেল তাকে বলা হচ্ছে মিথ্যাবাদী ,ভন্ড , প্রতারক ক্ষমতা লোভী তাই না জিন গ্রস্ত,শয়তানের বোলি আওলা এগুলো বলা হচ্ছে হঠাৎ করে চেঞ্জ হয়ে গেল । তাকে ১৫ টা গালি খেতে হচ্ছে। ১৪ বার তাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। নিজের মাতৃভূমিতে তার থাকা হলো না হিজরত করতে হলো। সবর করলেন। তার এই যে হকের দাওয়াত এটার সাথে সবর টা খুব ইম্পর্টেন্ট। আমরা যেন এই হকের দাওয়াত দিতে গিয়ে অধৈর্য হয়ে না যায়। লিভালার মধ্যমপন্থ অবলম্বন করি। এবং সবার সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করি। সবর করি একদিনে কোন কিছু পরিবর্তন হবে না। একদিনে কখনো কোনো কিছু পরিবর্তন হবে না।একটা সুন্দর গঠনমূলক দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা করলে হয় তো বা কোন ফলাফল পাওয়া যাবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শেষ জামানের এই সূরা , সূরাতুল আসর আমল করা তৌফিক দান করুক। যে বিষয় গুলো আছে এক বাক্যে বলছি আল্লাহপাক সময়ের কসম করে আমাদেরকে সময়ের গুরুত্ব সম্পর্ক বুঝেছেন ।অতীত থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন। শেষ জামানার দিকে বেশি ফোকাস করতে বলেছেন। তিনি বলেছেন শেষ জামানার বেশির ভাগ মানুষই ক্ষতির মধ্যে আছে তবে তারা নয় যারা ঈমানদার।যারা ঈমান এনেছে , যারা সৎ আমল করেছে।তারপর যারা হকের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং হকের দাওয়াত দিয়েছে। এবং সর্বশেষ যারা ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে পরস্পরকে। গুনগুলা আল্লাহপাক আমাদের অর্জন করার তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন।আল্লাহ পাক আমাদের কোরআন বুঝে পড়ার তৌফিক দান করুক আল্লাহুম্মা আমীন।
সাধারণ প্রশ্ন
সূরা আসরে কোন তিনটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে?
আলোচনায় বলা হয়েছে, যারা ঈমান আনে, সৎ আমল করে এবং একে অপরকে হকের ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়, তারাই ক্ষতি থেকে বাঁচে। লেখক এই তিনটিকে সূরার মূল শিক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সময়ের কসম করার একটি কারণ কী বলা হয়েছে?
আলোচনায় বলা হয়েছে, সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস, তাই অহেতুক নষ্ট না করে আল্লাহর জিকির ও স্মরণে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। এর আগে অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
আমলে সালেহ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
আলোচক বলেছেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যে কাজ করতে বলেছেন, করেছেন বা মৌন সম্মতি দিয়েছেন, তাকেই আমলে সালেহ বলা হয়। যে কাজ নিষেধ করা হয়েছে তা ছেড়ে দেওয়াও আমলে সালেহের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে।