আলেমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও খারিজি আকিদার ইতিহাস
আলেমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও ক্ষমার আবেদন
একটা কথা শুধু বলে যাই ।আমরা তো সবাই চিরদিন পৃথিবীতে থাকবো না। যদি কখনো এইসব মুনাফিকদের কারণে ইসলামের বড় বড় আলেম , শায়েখ , দায়ী তাদেরকে যদি আপনারা হারান অন্ততপক্ষ মন থেকে এদেরকে মাফ করবেন না এতটুকু রিকোয়েস্ট করব। যদি এ ধরনের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের কারনে এবং মিথ্যা প্রচারণা ও অপকাণ্ডের কারণে বড় বড় আলেম বড় বড় শায়েখ বড় বড় দায়ীদেরকে আপনারা হারিয়ে ফেলেন আর কিছু হোক না হোক এদেরকে কখনো মন থেকে মাফ করিয়েন না এরা ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য না। কাক কাকের গোস্ত খায় না বাট এখানে আলেম হয়ে আলেমের গোস্ত খাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণকে ধোকা দেওয়া এবং ইসলামের ভালো ফ্লোকে ডমিনেট করা। আর মানুষ যখন ভালো কিছু পাচ্ছে তাকে থামিয়ে দেওয়া। আমি আর কিছু বলতে চাচ্ছি না। যতটুকু বললাম কিছুটা আবেগী হয়েই বলেছি। কারণ এই বয়সে এসেও , এই অল্প বয়সেই যে সাফারিংসগুলা আমাদেরকে পোহাতে হয়েছে। ব্যাক অফ দ্যা জায়গায় এই শ্রেণীর মানুষগুলো হাত ছিল। আর কিছু বলার মত আমার মন মানসিকতা এখানে নাই। এক ভাই প্রশ্ন করেছেন ফারাজি আকিদা বলতে কি বুঝায়? তো অনেক লম্বা উত্তর আমি যতটুকু পারছি শর্ট করে বলছি। এ দুইটা উত্তর আছে তুই ধরনের। একটা উত্তর হচ্ছে প্রকৃত কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে উত্তর। আরেকটা উত্তর হচ্ছে যে আমাদের সমাজে কিছু খারেজি মেনুফ্যাকচারার কোম্পানি লিমিটেড আছে। মানে এমন কিছু খারেজি বেনুফ্যাকচার কোম্পানি আছে যেখানে যেকোনো নাম ঢুকিয়ে দিবেন খারেজি হয়ে বের হয়ে চলে আসবে। কথা কি বুঝতে পারছেন।যে কোন নাম উপর থেকে ঢুকিয়ে দিবেন দেখবেন পরিসমাপ্তিতে ওই নামটি খারিজি হয়ে বের হয়ে আসবে।এমন কিছু কোম্পানি আছ ।তো প্রথমে আমি কুরআন সুন্নাহর কথাটা আগে বলি ।তো খারিজী মানে হচ্ছে দলত্যাগী। দলত্যাগ করে যারা বের হয়ে গেছে। কিসের দল ত্যাগী কোত্থেকে দল ত্যাগী । আপনাকে আগে হিস্ট্রি জানতে হবে। হিস্ট্রিটা হচ্ছে ওসমান রাঃ আনহু কে হত্যা করা হয়ে করা হয়েছিল মনে আছে। ওসমান রাঃ আনহুকে হত্যা করা হয়েছিল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর জামাতা যিনি দুইজন মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন জিন্নুর আইন যাকে বলা হয়। তাকে শেষ বয়সে কিছু মানুষ আতাতাই বিদ্রোহী তারা তাকে জবাই করে হত্যা করেছে নাউজুবিল্লাহ। এটা হৃদয়বিদারক ঘটনা। এই ঘটনার পরে খিলাফতের দায়িত্বে আসেন কে আলী রাদে আল্লাহু আনহু ঠিক আছে। আলী রাঃ আনহু দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি যখন মক্কা মদিনায় এই কন্টিনেন্টের দায়িত্বে আছেন ওইদিকে শাম অঞ্চলের দায়িত্বে আছেন মুয়াবিয়া রাঃ আনহু।তিনি তখন সেখানকার আমির ছিলেন। এবং মুয়াবিয়া রাঃ আনহুর দাবিটা হচ্ছে যে আগে উসমান রাঃ আনহুর হত্যাকারীর বিচার হোক তারপর অন্য কিছু। কারণ তার সাথে ওসমান রাঃ আনহুর বংশের একটা কঠিন সম্পর্ক ছিল। ইন্টারনাল খুব ক্লোজ ব্লাড রিলেশনশীপ ছিল। তার দাবিটা যুক্তিক । তার বিচারটা হোক।
সিফফিনের যুদ্ধ ও তৃতীয় পক্ষের সমাধান
এদিকে আলী রাঃ আনহু তিনি বলছেন যে আগে অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর সমাধান করে নেই তারপর বিচার তো অবশ্যই করব । কোন একটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে এটা পলিটিকাল একটা প্রবলেম আর কি। এবং এখানে ইহুদিদের কিছু ইন্ধন ও ছিল। সব মিলে দুর্ভাগ্য জনক ভাবে সিফফিনের একটা যুদ্ধ হয়ে যায়। কিসের যুদ্ধ সিফফিনের যুদ্ধ। আলী রাঃ আনহুর খেলাফতের সময় সিফফিনের একটা যুদ্ধ হয়ে যায়। এ যুদ্ধে দুর্ভাগ্যজনক ভাবে একদিকে মুয়াবিয়া রাঃ আনহুর বাহিনী আরেক দিকে আলী রাঃ আনহুর বাহিনী। দুইজন ই কিন্তু সাহাবী খেয়াল করে দেখেন দুইজনই সাহাবী। পলিটিক্যাল একটা দ্বন্দ্ব। এখন এক পর্যায়ে তারা উভয়েই সম্মত হলেন যে আমরা যুদ্ধ করব না। আমরা যুদ্ধ করবো না তো এখন প্রবলেম গুলো সলভ করার জন্য উভয় পক্ষ থেকে দুইজন সাহাবী গেলেন। এটাকে বলে তৃতীয় পক্ষ ঠিক আছে । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ থেকে দুইজন সাহাবী গিয়ে আরেকটা কমিটি তৈরি করলেন , করে তারা এই বিষয়ের ফয়সালা করবেন। এই বিষয়টাকে কিছু মাথা মোটা মানুষ উগ্রপন্থী আলী রাঃ আনহুর বাহিনীর মধ্যে যারা লুকিয়ে ছিলেন ।তারা বলছেন না এটা আমরা মানি না । আমরা তৃতীয় পক্ষের সমাধান মানি না। সমাধান কুরআন করবে। আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারো হুকুম মানি না । কুরআনের আয়াত দিয়ে দলিল দিচ্ছে। যারা আল্লাহর হুকুম ছাড়া অন্য কোন বিধান দিয়ে বিচার ফয়সালা করে এরা কাফের । তিনটাই বলা আছে সূরা মাইদার মেবি ৪৪, ৪৫, ৪৭ এই তিনটা আয়াতে। তো এই শ্রেণীর মানুষগুলো এইরকম দলিল বানানো শুরু করল এবং বলল যে এরা এখন সবাই কাফের । এই শ্রেণীর মানুষ ফতোয়া দিয়ে দিল যে আলী রাঃ সেও কাফের হয়ে গেছে মুয়াবিয়া রাঃ সেও কাফের হয়ে গেছে এবং তৃতীয় পক্ষের এরা সবাই কাফের হয়ে গেছে। কথা কি বুঝতে পারছেন।তাহলে খারেজী কারা যারা আলী রাঃ আনহুর দল ত্যাগ করল এমন ঠুনকো অজুহাত দিয়ে যেগুলোর সাথে বাস্তবতার কোন সম্পর্ক নাই। কুরআন এবং হাদিসের আয়াত এই বাণী গুলো কি মুয়াবিয়া , আলী রাঃ আনহুর চেয়ে তারা বেশি বুঝে। তারা বেশি বুঝত? তো এখন তারা দল থেকে বের হয়ে গেল ।প্রায় ১২ হাজারের মতো মানুষ দল থেকে বের হয়ে গেল । কত হাজার? ১২ হাজার ।এরপর আরেকজন সাহাবী গেলেন গিয়ে তাদেরকে বুঝিয়ে কিছু মানুষকে ফেরত আনতে সক্ষম হলেন। বাকিরা আর ফেরত আসলো না। পরবর্তীতে এরা আলী রাঃ আনহুর এগেনস্টে গিয়ে বিদ্রোহী করল। তাদের যুক্তিটা কি যেহেতু আলী রাঃ আনহু এবং মুয়াবিয়া রাঃ আনহু দুজনে কোরআন বাদ দিয়ে তৃতীয় পক্ষের সমাধান এরা মেনেছে এই কারণে তারা কাফের। কথাটা বুঝতে পারছেন। আসলে বাস্তবতা কি এমন? না।
খারেজি আকিদার মূল বিশ্বাস ও আহলে সুন্নাহর অবস্থান
ওদের কনসেপ্ট কি? খারেজি কনসেপ্ট হচ্ছে কবিরা গুনাহ যে করবে ওদের দৃষ্টিভঙ্গি আর কি।কেউ যদি কবিরা গুনাহ করে সে ব্যক্তি কাফের হয়ে যায় । তাদের ধারণা এখানে আলী রাঃ কবিরা গুনাহ করেন নাই ,করেছেন , মুয়াবিয়া রাঃ কবিরা গুনা করেন নাই। তারপরও তারা এটাকে তালগুল পাকিয়ে একটা ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝালো যে যেহেতু এটা কুরআন না মেনে মানুষের ফয়সালায় তারা মানছে এজন্য তারা কাফের। ব্যাখ্যাটা কত ঠুনকো বুঝতে পারছেন? ওদের আকিদা হচ্ছে খারিজের আকিদা হচ্ছে যারা কবিরা গুনাহ করে তারা কাফের হয়ে যায় এটা তাদের আকিদা। কবিরা গুনাহ করলেই কাফের। তওবা করে ফিরে আসার সুযোগ নাই। তো এখন এই ব্যক্তিরা যারা বের হয়ে গেল এদের সাথে আলী রাঃ সাথে নাহরাওয়ান নামক জায়গায় যুদ্ধ করলেন এবং এদের পরাজিত করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আগে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন এইটা। যে জুল খুয়াইসিলাহ বলল তামিম গোত্রের একজন ব্যক্তি এর ওরস থেকে এমন কিছু মানুষ আসবে ভবিষ্যতে যারা মুসলিমদেরকে হত্যা করবে অমুসলিমদেরকে ছেড়ে দিবে। এরা প্রচুর কোরআন তেলোয়াত করবে প্রচুর আমল করবে এত আমল করবে যে তোমরা তোমাদের আমলকে ওদের সামনে অল্প মনে করবে । তোমরা তোমাদের দান , সদকা , সিয়াম,নামাজকে ওদের সামনে অল্প মনে করবে । এত বেশি আমল করবে। বাস্তবে এরা অনেক আমলকারী ছিল কিন্তু ওরা কোরআন তেলাওয়াত করবে কিন্তু কোরআনের মর্ম ওদের গলার ভেতর ঢুকবে না। তারা ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে যেমন করে ধনুক তীর থেকে বের হয়ে যায়। এই ঘটনা ঘটেছে না , আসলেই এটাই ঘটেছে। এদের সাথে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু যুদ্ধ করেছেন এবং পরাজিত করেছেন। এটা হল প্রথম খারেজীর হিস্ট্রি। তো এখান থেকে আহলে সুন্নাহর জামানের আকিদা হচ্ছে খারিজিদের আকিদা একটাই মৌলিক আকিদা সেটা হলো তারা কবিরা গুনাহগার ব্যক্তিকে কাফের মনে করে। কবিরা গুনাহ করলে কেউ কাফের হয়ে যায় এটা ওদের আকিদা। কিন্তু আহলে সুন্নাহর জামানের আকিদা হচ্ছে কোন ব্যক্তি কবিরা গুনা করলে সে কাফের হয়ে যায় না। বড়জোর সে ফাসেক হতে পারে বা জালেম হতে পারে । তার তওবা করে ফিরে আসা সুযোগ আছে। এবং কোন অবস্থায় তার মৃত্যু হবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। তাই তাকে হত্যা করা যাবে না তার রক্ত আমাদের জন্য হালাল নয়। এটা হল আহলে সুন্নাহর জামানের আকিদা ।এখন বলেন এই হলো কুরআন এবং সুন্নাহর ব্যাখ্যা। এখন যুগে যুগে কিছু মানুষ থেকে গেছে যারা মনে করে মুসলিমদের মধ্যে কেউ কবিরা গুনাহ করলেই সে কাফের হয়ে যায়। এখন এটা হচ্ছে ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে। এটা অলমোস্ট প্রত্যেক মাযহাবের আলেম আপনাকে এটাই বলবে যেটা আমি বললাম। ইনশাল্লাহ এটাই বলবে এটাই খারিজ আকিদা ।
সমকালীন প্রেক্ষাপটে খারেজি ট্যাগ ও রাজনৈতিক সমালোচনা
এর সাথে সমকালীন প্রেক্ষাপটে যে পান থেকে চুন করলেই কাউকে ট্যাগ দিয়ে দেওয়া হয়। কেউ যদি মধ্যপ্রাচ্যের কোন কান্ট্রির বিরোধিতা করে বা সমালোচনা করে বলবে খারেজি। কেউ যদি দেখা যায় পলিটিক্যাল কারো সমালোচনা করে তাহলে বলবে খারিজি। কেউ যদি ভুল করে আল জিহাদ শব্দটা মুখে বলেও ফেলছে ব্যাস খারেজি । বাস্তবতার সাথে এগুলোর কোন মিল নাই। কোন মিল নাই একদম টোটাললি জোর যার মুলুক তার ব্যাখ্যা চাপিয়ে দেয়ার মত। এর জন্যই বললাম আরেকটি ব্যাখ্যা আছে এই ব্যাখ্যার বাহিরে। যেটা হলো খারেজি মেনুফ্যাকচার কোম্পানি লিমিটেড এর ব্যাখ্যা। এখানে যে কোন নাম ঢুকিয়ে দিবেন এই ব্যক্তি কে শেষে বের হয়ে আসবে খারেজি। রাম শ্যাম যদু মধু যে কোন ব্যক্তির নাম ঢুকিয়ে দিবেন শেষে বের হয়ে আসবে খারেজি । তো ঐতিহাসিক ব্যাখ্যাটা বুঝেন । কবিরা গুনাহগার ব্যক্তিকে কেউ যদি কাফের মনে করে সে খারিজি। কোনদিন আমার কোন লেকচারে শুনেছেন আমি কোন কবিরা গুনাহগার ব্যক্তি কে খারেজি বলেছি। মানে কাফের বলেছি। কবিরা গুনা করলেই কোন ব্যক্তি কাফের হয়ে যায় তাকে হত্যা করো এমন কোন কথা শুনেছেন। ট্যাগ খেয়েছে। বিকজ নতুন ব্যাখ্যা আছে কিছু খাওয়ার জন্য ।সেটা হলো আপনি যদি গলফ কান্ট্রির বিরোধিতা করেন আপনি খারিজি হয়ে যাবেন। আপনি পেট্রোলাইজার মনিটরিং সিস্টেম নিয়ে কথা বললে আপনি খারেজি হয়ে যাবেন। আরব ইসরাইলের মিত্রটা নিয়ে কথা বললে খারেজী হয়ে যাবেন। আপনি আমেরিকার কন্টিনেন্টারের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধুত্ব সুলভ কথা নিয়ে এ ধরনের কথা বললে আপনি খারেজি হয়ে যাবেন। যদি আপনি বলেন আল্লাহর দ্বীন কে আল্লাহর জমিনের মধ্যে আমাদেরকে ইস্টাবলিশ করার চেষ্টা করতে হবে জান ,মাল , সময় , শ্রম ব্যয় করে এবং প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে আপনি জিহাদ শব্দ ব্যবহার করেন তাহলেই খারেজী হয়ে যাবেন । মানে এক কথায় জোর যার মুল্লুক তার ব্যাখ্যা চাপিয়ে দেওয়া। পলিটিক্যাল সমালোচনার সাথে এই বিষয়ের কোন সম্পর্ক নাই। খারেজি এই যে কনসেপ্টটা এর সাথে পলিটিক্যাল সমালোচনার কোন সম্পর্ক নাই। আমি আপনাকে এক্সামপল দেখাচ্ছি টাটকা দুইটা এক্সাম্পল দেখায়। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতের পরে অল্প কিছু দিন পাঁচ থেকে ছয় মাস খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেছেন ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু ঠিক আছে। আচ্ছা এরপর ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু খিলাফত নিজে ছেড়ে দিয়েছেন মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে ঠিক আছে । মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু ২০ বছর খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেছেন। এবং সাফল্যের সাথে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে কোন সমস্যা হয়নি। বরং ইসলাম আরো সম্প্রসারিত হয়েছে। মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরে ঐতিহাসিক যে ভুলটা আমাদের কাছে মনে হয় ইতিহাস পড়ে ,আমি ইতিহাসের একজন গভীর স্টুডেন্ট এই লিস্টে ।মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরে তিনি ক্ষমতা দিয়ে গেছেন তার ছেলে এজিদ কে । এই যে শুরু হল বাবার পরে সন্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পালা। কাকে ক্ষমতা দিয়েছেন এজিদকে এবং এজিদের সময় সাহাবা একরামের অনেকেই এই বিষয়টা মানতে চান নাই।
রাজনৈতিক বিরোধিতা ও খারেজি আকিদার পার্থক্য
আব্দুল্লাহ বিন ওমর , আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস , আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু এনারা কেউ কিন্তু তাকে মানতে চান নাই। পরবর্তীতে এজিদ কিছু লোক পাঠিয়ে অনেক অনুনয় বিনয় করে কয়েকজনকে মানানোর চেষ্টা করল। কিন্তু আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রাদিআল্লাহু আনহু মানেন নাই। এজিদ ওই সিরিয়াল ওখানে তার শাসন ক্ষমতা চালাতে শুরু করল। এবং দমন প্রেরণ করা শুরু করল। ইভেন সে সময় মক্কা মদিনায় হামলা হয়েছে ইতিহাস পড়েন। সেই শাসন আমলে মক্কা মদিনাতে ও হামলা হয়েছে ৫ থেকে ৭ দিন মদিনায় ম্যাসাকার করা হয়েছে , মদিনায় মানুষ হত্যা করা হয়েছে। মিনজালিক ওই সময়কার কামান ওইটা দিয়ে কাবা ঘরে পর্যন্ত গোলা মারা হয়েছে। কাবা ঘরের একটা দেয়ালের পার্ট ও ভেঙ্গে গিয়ে। ইতিহাস পড়তে বলেন হিস্টির তো পড়ে না । ওই সময় অনেক সাহাবী এই রাজনৈতিক যে ক্ষমতা এজিদের এর বিরোধিতা করেছে । বিরোধিতা করেছেন কেউ কেউ বিপক্ষে ও দাঁড়িয়েছেন। স্পেশালি আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনি তো মানে নি নাই। তিনি মক্কা মদিনার এই কন্টিমেটম আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন , বায়াত নিয়েছেন এবং তিনি রাজনৈতিক লিডার হয়েছেন ।পরের আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাদের হাতে এখানে শহীদ হতে হয়েছে। এখন আপনি আমাকে বলেন আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু কি খারিজী ছিলেন ? যিনি এজিদের বিরোধিতা করেছিলেন । তো পলিটিক্যাল বিরোধিতার সাথে খারেজির কোন সম্পর্ক নাই। একটা ডেমোক্রেটিভ কান্ট্রির মধ্যে গভার্মেন্ট এর একটা দল থাকে না। আবার একটা বিরোধী দল থাকে। ওই যে বললাম খারেজি মেনুফ্যাকচার কোম্পানি লিমিটেডের আকিদা হচ্ছে যেহেতু বিরোধী দল গভমেন্টের এগেনস্ট এ অতএব তারাও খারেজী। আবার যদি তারা কখনো ক্ষমতায় আসে আর এরা বিরোধী দলে যায় এবং এরাও বিরোধিতা করবে এরাও খারেজি। আল্টিমেটলি সবাই খারেজি। কি বোঝাচ্ছে বুঝতে পারছি না? মানে পলিটিক্যাল মত পার্থক্যের সাথে খারেজির কোন সম্পর্ক নাই। আর খারেজি আকিদার সাথে একটা জিনিসের সম্পর্ক সেটা হলো কবিরা গুনাহ ব্যক্তিকে তারা কাফের মনে করে। যেটা আমরা আদেও মনে করি না। কবিরা গুনাহ করলে একজন ব্যক্তি ফাসেক হতে পারে বা জালিম হতে পারে সে তওবা করে ফিরে আসা তার সুযোগ আছে , তাকে হত্যা করা যাবে না কোনোভাবেই। নিরপরাধ কোন মানুষকে হত্যা করা যাবে না। নিরপরাধ নারী-পুরুষ শিশু মুসলিম-অমুসলিম কাউকে হত্যা করা যাবে না। একজন শিয়া যদি নিরপরাধ হয় তাকেও হত্যা করা যাবে না জানেন। একজন হিন্দু ভাই সে যদি নিরপরাধ হয় তাকে কি হত্যা করা যাবে , যাবে না। অতএব খারেজি সম্পর্কে আপনার জানতে হলে আপনি হিস্ট্রি পড়েন। সিফিনের যুদ্ধ পড়েন। আলী রাদিয়াল্লাহু এবং মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর ব্যাটেল পড়েন । জুল খইশিয়ার গোত্রের ঘটনা পড়েন তারা কি কারণে বেরিয়ে কি হলো ।এদের সাথে বর্তমান কালের যারা সত্য কথা বলছে হক কথা বলছে এদের কোন সম্পর্ক নাই। এটা টোটালি একটা আকিদাপদ বিষয়। আরো বিস্তারিত জানতে আপনারা আরও বড় বড় ওলা আলেম এর কাছে দারস্ত এখন ওরা আরো ভালো ভাবে ব্যাখ্যা দিবে ইনশাল্লাহ তায়ালা ।আল্লাহপাক আমাদেরকে আরো ভালোভাবে বোঝার তৌফিক দান করুন । হকপন্থী বাতিল পন্থী চেনার তৌফিক দান করুন। এবং অভ্যন্তরীণ শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে আমাদের মুসলিম , মুমিন , দায়ী ,আলেম সবাইকে হেফাজত করুন আমীন।
সাধারণ প্রশ্ন
খারিজি আকিদা কী?
লেখকের মতে, খারিজিদের মৌলিক আকিদা হলো কবিরা গুনাহগার ব্যক্তিকে কাফের মনে করা। লেখায় বলা হয়েছে যে আহলে সুন্নাহর আকিদা হলো কবিরা গুনাহ করলে কেউ কাফের হয় না, বড়জোর ফাসেক বা জালেম হতে পারে।
কবিরা গুনাহগার ব্যক্তির তওবার সুযোগ আছে কি?
লেখায় বলা হয়েছে যে কবিরা গুনাহগার ব্যক্তির তওবা করে ফিরে আসার সুযোগ আছে। তার মৃত্যু কোন অবস্থায় হবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।
পলিটিক্যাল বিরোধিতা ও খারিজি আকিদার মধ্যে সম্পর্ক কী?
লেখক বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা সরকারের সমালোচনার সাথে খারিজি আকিদার কোন সম্পর্ক নেই। উদাহরণ হিসেবে আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুর এজিদের বিরোধিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।