Islamবাংলা

আদব, সুন্নাহ, সুন্দর আচরণ ও সংবাদ যাচাই

সূরা হুজুরাতের আদব ও সংবাদ যাচাইয়ের শিক্ষা

আমরা সূরাতূল হুজুরাত এর মধ্য থেকে যে মূল বিষয়গুলো যে শিখতে পারলাম তা এক বাক্যে বলে শেষ করছি। প্রথম থেকে যদি আসেন প্রথমত এটা সামাজিক সূরা , এটা শিষ্টাচার শিখাবে , আদব শিখাবে , ভদ্রতা শিখাবে।এবং ইসলামিক সমাজ ব্যবস্থার কাঠামো টা শিখাবে। প্রথমত জীবনের কোন ক্ষেত্রে আমাদের উচিত হবে না আল্লাহ এবং তার রাসূলের সামনে যাওয়া ।যেখানে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের বিধান চলে আসবে ফুল স্টপ আত্মসমর্পণ । এর নাম ইসলাম। এরপর আল্লাহপাক বলেছেন কি কণ্ঠস্বর উঁচু করোনা। মানে নবী সাঃ এর কণ্ঠস্বরের উপরে কণ্ঠস্বর উঁচু করণা এটাতে আল্লাহপাক বুঝিয়েছেন যে জীবনে কোন ক্ষেত্রে তার সুন্নতের এগেনস্টে যেওনা। এবং আল্লাহকে ভয় কর। যদি তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর কণ্ঠস্বর উঁচু করো তার সুন্নাহ কে বাদ দিয়ে অন্য কোন সুন্নাকে ফলো করো। তাহলে তোমাদের সব আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে তোমরা টেরও পাবে না। এরপর আল্লাহপাক বলেছেন যারা কণ্ঠস্বরকে নিচু করেন মানে আনুগত্য প্রকাশ করেন সুন্নাহ মেনে চলেনা নিজের মনগড়া আদর্শের চলেনা । আল্লাহপাক এই সকল মানুষের কলবের ভিতরে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকওয়া ঢেলে দিবেন। যে তাকওয়া কিন্তু আল্লাহর কাছে সম্মানের একমাত্র মানদণ্ড । আর তাদের জন্য থাকবে ক্ষমা এবং মহান পুরস্কার। এরপর আল্লাহপাক বলেছেন বিজুঈনরা যদি ঘরের পেছন থেকে না ডেকে যদি সবর করতো ভালো হতো। এখানে আমরা শিখব যারা আনকালচার কিছুটা , যারা একটু আকল হীন বা ভদ্রতা কিছুটা ঘাটতি আছে এইসব মানুষের সাথে তর্ক না করা । এবং তাদেরকে কাছে ডেকে আদরের সাথে বোঝানো। আল্লাহপাক এখানে কিন্তু কঠোর হননি আল্লাহপাক এখানে ক্ষমা করেছেন। আল্লাহপাক বলেছেন ভালো হত যদি তারা সবর করত তুমি বের হয়ে আসা পর্যন্ত। এইভাবেই মানুষকে শেখাতে হয়। এখন দেখবেন আমাদের শেখানোর ভাষা গুলো আক্রমত্বক । আমরা কাউকে কিছু শেখাতে গেলে আক্রমণ করি আগে।ব্যক্তিকে আক্রমণ করি এভাবে শেখানো যায় না। এভাবেই ইসলাহ করা যায় না। মানুষকে ইসলাহ সংশোধন করতে হলে নরম হতে হয় তার ভুলটাকে প্রাইভেটলি ডেকে শুধরে দিতে হয়। আর আমরা এখন মানুষের ভুল নিয়ে সোশিয়াল মিডিয়ায় মাতিয়ে ফেলতে পারলে বাঁচি আর কি । আমরা মনে করি এর দ্বারা অনেক উম্মার কল্যাণ করছি ।এর দ্বারা আমরা অনেক গুনা কামাই করছি এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ঐ ব্যক্তির মর্যাদা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছি। আল্লাহ পাক আমাদেরকে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর মত শিক্ষক হওয়ার তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন। এরপর আল্লাহপাক বলেছেন যদি কোন ফাসেক সংবাদ নিয়ে আসেন অবশ্যই সংবাদটি যাচাই করবে যাচাই না করে কোন পদক্ষেপ নিবে না। আমি একটা এক্সামপল দিয়েছিলাম একটা সংবাদের কারণে একটা পুরা দেশ ম্যাসাকার হয়ে গেছে , পরে বলেছে ওই দেশের মধ্যে কিছুই ছিল না। এই ধরনের ভ্রান্ত কথার মধ্যে আমরা কোনদিন ইনভলভ হব না। বরং যে কোন তথ্য আসুক না কেন স্পেশালি এমন সব মিডিয়া থেকে যে মিডিয়াম মিথ্যা বলতে পটু ।এইসব মিডিয়া থেকে খবর আসলে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস করবেন না। আল্লাহ পাক বোঝার তৌফিক দান করুন আমিন।

মুমিনদের মধ্যে ইসলাহ ও পরস্পর ভ্রাতৃত্ব

এরপর আল্লাহপাক বলেছেন যদি মুমিনদের দুটি দল পরস্পর মতবিরোধে লিপ্ত হয় তাহলে তোমাদের কাজ হচ্ছে ইসলাহ সংশোধন করে দেওয়া। তোমরা কোন পক্ষপাতিত্ব অবলম্বন করোনা। এরপর ইসলাহ করার পরে দেখা যায় একদল আরেকদলের ওপর চওড়া হয়েছে তাহলে তোমরা মাজলুমের পক্ষ নেবে জালিমের পক্ষ নেবে না। তারপর আবার ইসলাহ করে দিবে। কারণ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইসলাহকারীদেরকে ভালোবাসেন । কেন ইসলাহ করবে? কারণ মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই । আমরা আমরা সবাই মুসলিম। আমরা সবাই একটা উম্মার অন্তর্ভুক্ত। আমরা একে অপরের শত্রু নয়। আমরা পরস্পর ভাই ভাই। এবং তোমরা মুমিনদের মধ্যে ইসলাহ এবং সংশোধন কর এতে করে আল্লাহ পাক তোমাদের ওপর রহম করবে । এরপর আল্লাহপাক বলেছেন কোন মুসলিমের কওম যেন অন্য মুসলিমের কওম কে আন্ডার স্টেটমেন্ট না করে। কোন ব্যক্তি যেন অন্য ব্যক্তিকে আন্ডার স্টেটমেন্ট না করে। একজন মহিলা অন্য একজন মহিলাকে বা একদল মহিলা অন্য একদল মহিলাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না করে। হতে পারে যার সমালোচনা করা হচ্ছে যাকে নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে হতে পারে সেই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ওই ব্যক্তির চেয়ে উত্তম যে সমালোচনা করছে। এরপর তোমরা একে অপরের দোষ অনুসন্ধান করবে না এবং তোমরা পরস্পরকে মন্দ নামে ডাকবে না যদি ডাকো এটা হচ্ছে একটা ফাসেকি কাজ যদি তওবা না করো তাহলে তুমি জালেম হয়ে যাবে। তারপর আল্লাহপাক বলেছেন বেশি বেশি ধারণা করার থেকে দূরে থাকবো। ধারণার বর্ষভর্তি হয়ে কাজ করো না। যেটা ধারণা সেটার সাথে সত্যের কোন সম্পর্ক নাই। ধারনা সত্যকে পরাজিত করতে পারে না । তো তোমরা বেশি বেশি ধারণা করবে না বরং ওই যে খবর যাচাই-বাছাই করার মাধ্যমে ডিসিশন নিবে। আর জাসুজি করোনা একজনের দোষ অনুসন্ধান করার চেষ্টা করো না। আল্লাহপাক তাহলে ঘরের মধ্যে অপমানিত করে দিবেন ।আর একজন আরেকজনের গীবত করতে যেও না । তোমরা তো পছন্দ করবে না তোমরা এক মৃত ভাইয়ের গোশত খাবে ।তোমরা তো এটা অপছন্দ কর। আল্লাহ পাক তওবা কবুল কারী পরম দয়ালু আল্লাহপাক এগুলো থেকে তওবা করার আদেশ দিয়েছেন ।এরপর আল্লাহপাক বলেছেন হে মানবজাতি পুরা মানবজাতি তোমাদের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকবে ভাষা, রংয়ের ইত্যাদির ।আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ এবং একজন নারীর থেকে সৃষ্টি করেছি। এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দিয়েছি যাতে করে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। গর্ব সফল করার জন্য নয়। তবে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত সেই ব্যক্তি যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকি ।আল্লাহর কাছে তাকওয়াই হচ্ছে সম্মানের একমাত্র মানদণ্ড। এরপর আল্লাহপাক বলেছেন আরবরা বলে বেড়াচ্ছে যে তারা ঈমান এনেছে ,আল্লাহ পাক বলেছেন বল যে তোমরা কেবল ইসলাম কবুল করেছ। ঈমান কখন আসবে যখন তোমরা আল্লাহ এবং তার রাসূল সে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করবে। এবং কোন সন্দেহ পোষণ করবে না। এবং তার দ্বীনের প্রচার প্রসারের জন্য আল্লাহর পথে প্রচেষ্টা চালাবে। এই প্রচেষ্টা চালানো কে আল্লাহ পাক জিহাদ বলেছেন।

জিহাদের অর্থ ও সূরার সমাপ্তি দোয়া

এখানে জিহাদ কোন সন্ত্রাসবাদের নাম নয় , কোন জঙ্গিবাদীর নাম নয়। এবং কোন রকম চরমপন্থের নাম নয়। দ্বীনের মেহনতের নাম দ্বীনকে প্রচার প্রসার প্রতিষ্ঠা করার নাম। হতে পারে সেটা মাল দিয়ে , হতে পারে অর্থ দিয়ে , সম্পত্ত দিয়ে হতে পারে নফসের সাথে কথা দিয়ে বা কলম দিয়ে সবকিছু অন্তর্ভুক্ত আল্লাহ পাক বোঝার তৌফিক দান করুন । হ্যাঁ, এর চূড়ান্ত লেভেল আছে। যদি দেখা যায় কুফফাররা মিলে কুফফাররা সব ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুসলিমদের ওপর আক্রমণ করেছে সামরিক তখন প্রত্যেক মুসলিম তাদের আন্ডারে যারা যারা আছে সেই সরকার ,সেই প্রশাসন তারা তখন কি করবে ? তারা তখন ডিফেন্স করবে না ।ইউক্রেনের মত কান্ট্রি যার রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ করার ক্ষমতাই নাই পশ্চিমাদের কাছ থেকে অর্থশাস্ত্র নিয়ে তাদের সাপোর্ট নিয়ে সে কি চুপ করে বসে আছে। সে তার দেশের সারমর্ম রক্ষা করার চেষ্টা করছে। যদি কোন মুসলিম কান্ট্রিতে দেখা যায় বাহির থেকে কুফফাররা সরাসরি আক্রমণ করেছে তখন মুসলিমরা ডিফেন্ড করবে ।ওটাও তার অন্তর্ভুক্ত তবে শুধু এটাই নয় এবং চরমপন্থা সন্ত্রাসবাদ জিহাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটা দ্বীনকে এগিয়ে নেয়ার নাম প্রচারের নাম প্রতিষ্ঠার নাম। এবং এটা একটা ইবাদত। এরপর আল্লাহপাক বলেছেন , তোমরা কি আল্লাহকে দ্বীন শিখাতে চাও। তোমরা কি মনে করো তোমরা ইসলাম কবুল করে আল্লাহকে ধন্য করেছো? বরং আল্লাহপাক তোমাদেরকে ইসলাম কবুল করার তৌফিক দান করে তোমাদেরকে ধন্য করেছে । আর তোমরা যা করছো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সব কিছু দেখছেন। এই কথাগুলো বলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই সামাজিক সূরাটা শেষ করেছেন । আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে আল কোরআন বুঝে পড়ার তৌফিক দান করুন। ব্যাখা সহ পড়ার তৌফিক দান করুন। আল্লাহ পাক আমাদেরকে আরবি ভাষা শেখার তৌফিক দান করুন। এবং কুরআনের এক একটা সূরা যে শিক্ষা আমাদেরকে দিচ্ছে এগুলো জেনে বুঝে তেলওয়াত করার তৌফিক আল্লাহপাক দান করুন ।আলাপ পাক আমাদের দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করুন। একই সাথে আমরা দোয়া করব আল্লাহ পাক আমাদের যুবসমাজকে হেদায়েত দান করুন। আমাদের রিজিকে যে সমস্যা আছে আল্লাহ পাক সমস্যা গুলোকে দূর করে দিন। আল্লাহপাক আমাদের বৈশ্বিক ফেতনা থেকে আমাদের দেশকে হেফাজত করুন । আল্লাহপাক আমাদের মা-বোনকে খাস পর্দায় থাকার তৌফিক দান করুন। আমাদের মধ্যে যারা পারিবারিক সমস্যায় ভুগছেন আল্লাহপাক তাদের সকলের পরিবারের সমস্যা দূর করে দিন। আমাদের সন্তানদেরকে আল্লাহপাক মুসলিমদের মত মুসলিম রূপে মানুষ করার তৌফিক দান করুন। আল্লাহ পাক আমাদেরকে যাবতীয় দৃশ্য এবং অদৃশ্য বিপদ আপদ বালা মুসিবত থেকে আল্লাহ পাক আমাদের ব্যক্তি পরিবার রাষ্ট্রকে হেফাজত করুন আল্লাহুম্মা আমীন।

সাধারণ প্রশ্ন

সূরাতূল হুজুরাত থেকে সংবাদ সম্পর্কে কী শেখা যায়?

যদি কোন ফাসেক সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে যাচাই না করে কোন পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, এটাই লেখার মতে আল্লাহর নির্দেশ। লেখক বিশেষভাবে এমন মিডিয়া থেকে আসা খবর যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস না করার কথা বলেছেন।

মানুষের ভুল শুধরানোর সঠিক পদ্ধতি কী?

লেখার মতে ইসলাহ করতে হলে নরম হতে হয় এবং ভুলটি প্রাইভেটলি ডেকে শুধরে দিতে হয়। সোশিয়াল মিডিয়ায় মানুষের ভুল নিয়ে আলোচনা করাকে লেখক ভুল পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গীবত ও ধারণা সম্পর্কে এই সূরা কী বলে?

লেখায় বলা হয়েছে একে অপরের গীবত না করতে এবং বেশি বেশি ধারণা থেকে দূরে থাকতে, কারণ ধারণার সাথে সত্যের কোন সম্পর্ক নেই। পরিবর্তে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।

আল্লাহর কাছে সম্মানের মানদণ্ড কী?

লেখার মতে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সে, যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকি, এবং তাকওয়াই সম্মানের একমাত্র মানদণ্ড।