তওবার মাধ্যমে পাপমুক্তি ও তাকদীর পরিবর্তনে দোয়া-আমলের ভূমিকা
জেনা করেছেন , চুরি করেছেন , ডাকাতি করেছেন হোয়াট এভার আল্লাহ পাক ক্ষমা করতে সক্ষম। এমন কোন পাপ নাই যে আল্লাহ পাক ক্ষমা করতে পারেন না। আপনি পাপের জন্য তওবা করবেন , সুন্দর করে ওযু করবেন , অজু করে দুই রাকাত সালাত পড়বেন , সালাত পড়ে সেজদায় আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন ক্ষমা চাইবেন। এরপরে হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন পাপের কথা উল্লেখ করে। আল্লাহ আমি এই পাপ করেছিলাম নিজের অজান্তে জেনে করেছি বা না জেনে করেছি তুমি আমার এই পাপকে ক্ষমা করে দাও। জীবনে কখনো এই পাপ করবেন না মরণ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে এই অঙ্গীকার করবেন। আল্লাহ শুধু আপনার পাপ ক্ষমা করবেন না ইনশাআল্লাহ আপনার গুনাগুলোকে নেকি দিয়ে পরিবর্তন করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। তবে আপনার পাপটা যদি অন্য কোন মানুষের সাথে জড়িত হয়ে থাকে যেমন কারো টাকা নিয়েছেন ফেরত দেননি, কারো সম্পদকে আত্মসাৎ করেছেন ফেরত দেননি , কাউকে গালি দিয়েছেন বা কারো ইজ্জত হানি করেছেন অপবাদ দিয়েছেন। এগুলো তার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবার পরে তার কাছে যে বলতে হবে ভাই আমি অমুক দিন আপনার নামে খারাপ কথা বলেছি বা আপনার ব্যাপারে মানুষকে খারাপ কথা বলেছি বা আপনাকে অপবাদ দিয়েছি বা আপনার টাকা চুরি করেছি ফেরত দিতে পারি নাই ইত্যাদি। আপনি আমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করে দেন। তার কাছ থেকে ক্ষমা নিতে হবে এটা মানুষের সাথে জড়িত হক।
এক বোন প্রশ্ন করেছেন আপনি একটি লেকচারে বলেছিলেন তাকদীরের কিছু জিনিস ঝুলন্ত আছে সেগুলো কি কি এবং বিয়ের সাথে তাকদীরের সম্পর্ক কি রকম? বোনদের প্রশ্নগুলো এত ক্রিটিক্যাল হয় কেন? জি তাকদীরের কিছু বিষয় আছে যেগুলো কনস্ট্রাক্ট ফিক্সড এগুলোর কোন পরিবর্তন নেই। জন্ম, মৃত্যু আপনার বিবাহ , আপনার হায়াত , রিজিক এগুলো ফিক্সড । কিছু জিনিস আছে যেগুলো দোয়া দিয়ে পরিবর্তন হতে পারে। ফর এক্সামপল যে আপনার তাকদিরে মধ্যে কিছু বিপদ আপদ ছিল এটা আপনাকে আল্লাহপাক পরীক্ষা করার জন্য রেখেছে। এখন আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন বেশি বেশি ভালো কাজ করছেন। বেশি বেশি ভালো কাজ করছেন আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন। এই দোয়া আমলের বদলতে আল্লাহ পাক আপনার তাকদিরের বিপদ দূর করে দিতে পারেন ঠিক আছে। ভালো কাজ , নেক কাজ , বেশি বেশি নেক আমল , আপনার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা , পিতা মাতার খেদমত করা , পিতা না থাকলে মায়ের খেদমত করা , মা না থাকলে খালার খেদমত করা। এরপরে আপনার বেশি বেশি দান সদকা করা ঠিক আছে । এরপরে মানব সেবা মূলক কাজ করা। অন্য মুসলিম ভাইয়ের বিপদে পাশে দাঁড়ানো । অন্য মুসলিম ভাইয়ের দোষ ত্রুটি গোপন রাখা। অন্য মুসলিম ভাইদের প্রয়োজন পূরণ করা। রমজান মাসে সওম রাখা ঠিক আছে। এরকম অনেক গুলো কাজ আছে যেগুলো করার মধ্য দিয়ে আপনার তাকদীর কে আপনি সুন্দর করার প্রয়াস পেতে পারেন এই সুযোগটা আছে। বেশি বেশি যারা এই কাজগুলো করবেন ইনশাল্লাহ তাদের তাকদীরের মধ্যে ভালো হবে ,বিপদ আপদ কমে যাবে । তার রিজিকের বারাকাত হবে হায়াতে বরকত হবে এটা সম্ভব। এগুলো ঝুলন্ত আছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন হে আমার বান্দারা যারা নিজেদের নফসের প্রতি জুলুম করছ তারা হতাশ হয়ো না। আমার রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।
সাধারণ প্রশ্ন
যেকোনো পাপ কি আল্লাহ ক্ষমা করতে পারেন?
লেখার ভাষ্য অনুযায়ী জেনা, চুরি, ডাকাতির মতো যেকোনো পাপই আল্লাহ ক্ষমা করতে সক্ষম, এবং এমন কোনো পাপ নেই যা তিনি ক্ষমা করতে পারেন না।
পাপ ক্ষমার জন্য কী কী করতে বলা হয়েছে?
তওবা করে সুন্দর করে ওযু করে দুই রাকাত সালাত পড়ার কথা বলা হয়েছে, সেজদায় ক্ষমা চাওয়ার পর হাত তুলে পাপের কথা উল্লেখ করে দোয়া করতে হবে এবং ভবিষ্যতে সেই পাপ না করার অঙ্গীকার করতে হবে।
মানুষের হক বা অধিকার নিয়ে কী বলা হয়েছে?
কারো টাকা, সম্পদ, সম্মান নষ্ট বা অপবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে, কারণ এটি মানুষের সাথে জড়িত হক।
কোন তাকদীর পরিবর্তনযোগ্য এবং কোনটি নয়?
জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ, হায়াত ও রিজিককে লেখায় ফিক্সড বলা হয়েছে, আর কিছু বিষয় যেমন তাকদীরের বিপদ দোয়া ও ভালো কাজের মাধ্যমে দূর হতে পারে বলা হয়েছে।
তাকদীর সুন্দর করার জন্য কোন আমলের কথা বলা হয়েছে?
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, পিতা-মাতার খেদমত, দান-সদকা, মানব সেবা, মুসলিম ভাইয়ের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, দোষ গোপন রাখা, প্রয়োজন পূরণ ও রমজানে সওম রাখার কথা বলা হয়েছে।