Islamবাংলা

গান-বাজনা, অশ্লীলতা ও মৃত হৃদয়: ঈমানের নূর হারানোর ভয়াবহতা

part 1 যেখানে যাবেন সেখানেই ধুম ধারাক্কা গান। আর গান শোনার মানুষের কিছু রুচি থাকে । কিছু গান ছিল না শুনলে তবু কিছুটা ভালো লাগে তাই না । এমন কেউ নাই যে গান কানে যায় নাই আছে না। এমন কোন মানুষ নাই যে গান কানে যায় নাই। গান কানে যাবে সবার ।গান সবাই ওপেনলি শুনে। কিছু কিছু গানের এটলিস্ট কিছু মান আছে। শুনলে মনে হয় যে ঠিক আছে ওইটা গান হচ্ছে। যদিও এটা হারাম। কিন্তু এখন যেগুলো প্লে হয় দেখবেন এমন কিছু মিউজিক এমন কিছু ধুম ধারাক্কা। গানের কোন জাতি না। কোন সন্দেহ নাই যে ওর পাশে শয়তান নাচছে ।এমন এমন সাউন্ড যদি যেয়ে বলেন ভাই একটু সাউন্ডটা কমায় দেন পাশে আলেম আছে , বা মসজিদ আছে বা নামাজ পড়তেছে আরও জোরে দিবে সাউন্ড । এদেরকে সামাজিকভাবে প্রতিহত করা দরকার। এদের বিরক্তি এত বেশি বেড়ে গেছে, মাঝে মাঝে কিছু দিবস আসে , দিবস গুলার গানের জ্বালায় রাত্রে ঘুম হয় না । মুমিন বান্দারা এশার নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে যাবে শেষ রাত্রে উঠবে তার সারারাত ঘুমই হবেনা এই গানের জ্বালায় । বিয়ে হবে দেখবেন ধুম ধারাক্কা গান লাগিয়ে দিয়েছে। একটা বিল্ডিং এর মধ্যে দশটা পরিবার আছে তার কোন খেয়ালই নাই ও একাই পরিবার ছাদের উপর যাবে ধুমধারাক্কা গান বাজাবে । মাশাল্লাহ এই বরকত নিয়ে জীবন শুরু করছে। এই অভিশাপ নিয়ে জীবন শুরু করলে বৈবাহিক জীবন সুখী হবে। শয়তানের আনুগত্য দিয়ে জীবন শুরু করেছে। আবার এমন কিছু কনসার্ট হয় দেখবেন স্টেজে এমন ভাবে নাচানাচি করে মনে হয় শুয়োর আর বানর নাচছে। হ্যাঁ, হাদিস এই শব্দ এসেছে আমার উপর রাগ করবেন না। নবী সাঃ বলেছেন যারা এই উম্মতের মধ্যে মাদককে হালাল করে নিবে বাদ্যযন্ত্রকে হালাল করে নিবে এবং যারা নর্তকী নাচাবে এবং মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট এর সাথে এদের গভীর সম্পর্ক থাকবে একদিন সকালে আল্লাহ পাক এদেরকে বানর এবং শুয়োর বানিয়ে দেবেন। একদম টাটকা হাদিস আখিরুজ্জামান এর হাদিস পড়ে দেখেন। এই হাদিসটা আছে । এটা কি ফিজিক্যালি হবে আমার কাছে মনে হয় না এটা ফিজিক্যালি হবে। আল্লাহ ভালো জানেন কিন্তু আমার কাছে মনে হয় না এটা ফিজিক্যালি হয়তো এরা হবে না । ইন্টারনাললি তারা বানর এবং শুয়োরের মতো হয়ে গেছে আমার কাছে তাই মনে হয়। ভিতর থেকে স্বভাবগত বাঁদর এবং শুয়োরের মত করছে। তো কি করবেন এখানে আপনি ঈমান নিয়ে চলবেন কি নূর কি জিনিস এ কথা বুঝাতে গিয়ে আপনাকে এ কথাগুলো বললাম। আপনি দশটা দিন ইফতেকাফ করে এই পরিবেশে যান আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আল্লাহর নূর কি জিনিস আধ্যাত্মিকগর্ত কি জিনিস? আপনার কাছে নিজে এগুলো ভালো লাগবে না। আপনার কান শুনতে চাইবে না আপনার চোখ দেখতে চাইবে না। আর এগুলোতে থাকতে থাকতে থাকতে যদি আপনার এগুলোকে স্বাভাবিক মনে হয়। তাহলে আপনি বুঝবেন আপনার কলবে নূরের ছিটা ফুটাও নাই। কলব আগেই মরে শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের কলব এই অবস্থায় আছে। আমাদের চারপাশে এগুলো দেখছিনা গান বাজনা ,বাদ্যযন্ত্র , মাদক , বেহায়াপনা, অশালীনতা , পর্নোগ্রাফি , বেপর্দা ,ব্লু ফিল্ম সব তো দেখছেন নিত্যদিন। প্রতিদিন দেখছি। তো এ গুলো দেখে যখন আমাদের মনের মধ্যে কোন রিঅ্যাকশন আসে না বুঝতে হবে মন কিন্তু নাই ডেট। উই লিভিং উইথ এ ডেট হার্ড । আমরা একটা মৃত হৃদয় নিয়ে ঘুরছি আর কিছু না। এখন এই হৃদয়ে ঝাঁকি দিবে কিভাবে? এই অবস্থায় মওত আসলে কি হবে মওতের কষ্ট অনেক বেশি হবে।

মৃত কলব ও মৃত্যুর যন্ত্রণা

মৃত কলব অবস্থায় যদি মওত চলে আসে।তাহলে মৃত্যুর যন্ত্রণা খুবই কঠিন হবে । কত কঠিন হবে আমি একটা হাদিস দিয়ে বুঝাচ্ছি । আমি এই হাদিসের নাম্বারটা আমি বলতে পারতেছি না। অনেকদিন আগে আমি এই হাদিসটা পড়েছি। বাট আমি হাদিসটা পড়েছি এবং যদি কেউ দলিল চান আমি আপনাকে প্রাইভেটলি দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ ।কোন একজন নবী আল্লাহ কে বলেছিলেন আমি বার্জাকের মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে চাই। কেমন আছে বার্জাকের মানুষেরা । বার্জাক বুঝেন তো ।পরকালে বার্জাকের মানুষ কেমন আজাব কেমন শাস্তি ভোগ করছে আল্লাহ আমি দেখতে চাই। একজন ব্যক্তি মে বি উনি মূসা আলাই সাল্লাম এর যুগে বাই ইসা আলাই সাল্লামের যুগের আমার ঠিক মনে পড়ছে না । এই দুজনের একজন হতে পারেন । আল্লাহপাক দেখালেন একজনকে এই যে এই ব্যক্তি। খুবই রুগ্ন ক্লান্ত তাকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি খুবই প্যারিসানের মধ্যে আছে। তাকে একজন নবী জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কি অবস্থায় আছো কেমন আছো? সে বলছে যে আমার মওত হয়েছে আজকে থেকে এক হাজার বছর আগে। এখন পর্যন্ত আমার মওতে যন্ত্রণা যায় নাই। আমার কথা কি বুঝতে পারলেন। যার কলব যত মৃত রুহ কবজ করার সময় তত বেশি শাস্তি হবে তত বেশি কষ্ট হবে। যার কলব যত পবিত্র রুহটা অত সুন্দর করে আস্তে করে বেরিয়ে চলে আসবে ইনশাআল্লাহ । কলসি থেকে পানি ঢাললে যেমন হয় ঠিক সেই ভাবে চলে আসবে। কলব পরিষ্কার না থাকলে এটা হবে না। এগুলো আধ্যাত্মিক মারফতি কথা নয় কিন্তু। বিষয়টা আমরা এগুলোকে অনেকে বানিয়ে দিয়েছি পীর মুরদি পীর মুরদি তাই না । এগুলো নেগলেট করি যে এসব পীর মুরদী বয়ান করবেন না। আসলে পীর মুরদী বিষয় না বিষয়টা হচ্ছে আত্মশুদ্ধি ।আর একজন পীর যদি একজন মানুষকে যদি আত্মশুদ্ধির পথে নিয়ে যেতে পারেন বিষয়টা কখনো খারাপ করে দেখার কিছুই নাই । একজন মানুষ যদি আরেকজন মানুষকে আত্মশুদ্ধির পথে নিয়ে যেতে পারেন এটাকে খারাপ করে দেখার কিছুই নাই। হ্যাঁ, এটার নামে আমরা অনেক কিছু তৈরি করেছি আসলে যেগুলোর হয়তো অস্তিত্ব নাই। এটার মানে আমরা অনেক কিছু তৈরি করেছি নিজেরা বানিয়ে নিয়েছি হ্যাঁ, এগুলো আপনারা বলতে পারেন যে এগুলো সুন্নাহ সম্মত হচ্ছে না ইত্যাদি। কিন্তু আত্মশুদ্ধির প্রক্রিয়াকে আপনি ডিসকারেজ করতে পারেন না। আর আত্মশুদ্ধি আল্লাহওয়ালা মানুষের কাছে না আসলে হবে না। আত্মশুদ্ধির এই বিষয় গুলো কিছু কাজ করা এবং কিছু কাজ বর্জনের সাথে জড়িত আছে। আবারো বলছি এই বিষয়গুলোর সাথে আপনি জড়িত থাকলে আপনি আত্মশুদ্ধি পাবেন না। যেমন মাদক,পর্নোগ্রাফি , হারাম মেয়েদের সাথে জেনার সম্পর্ক , হারাম বান্ধবী ,হারাম অ্যাফেয়ার্স ,সুদের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে , মনে অহংকার থাকলে , গীবত করলে , বেপর্দা থাকলে , বেহায়াপনা করলে , মিউজিকের সাথে থাকলে এই ধরনের কাজ জুয়ার সাথে থাকলে বা এই দুনিয়াকে খেল তামাশা মনে করেছেন। আল্লাহর হুকুম আহকামের পরোয়া করছেন না। আজকের দিনটা কে ইনজয় করে নিন কালকের কি পাতা এমন আকিদা আদর্শে যারা বিশ্বাসে এদের মনের মধ্যে আত্মশুদ্ধি আসবেনা। আল্লাহপাক আমাদের সবার কলবকে পরিষ্কার করুন পরিপূর্ণ রুপে আত্মশুদ্ধি করা তৌফিক দান করুন। এবং যে কাজগুলো করলে আল্লাহ আমাদের কলবে আল্লাহর নূর দান করবেন সেই কাজগুলো বেশি বেশি করার আল্লাহ তৌফিক দান করুন আমিন ।

part 3 একটা এক্সাম্পল দেই অন্য জায়গায় যাচ্ছে দেখেন । ইবলিশ কি কম জ্ঞানী ছিল? সে কি কম ইবাদত করেছে আল্লাহর? ইবাদতের ক্ষেত্রে জ্ঞানের ক্ষেত্রে সে তো অতুলনীয় হয়ে আছে। প্রচুর ইবাদত করেছে প্রচুর জ্ঞানী ।এই মহাবিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান আছে না তার। প্রচুর জ্ঞান আছে। কি কারনে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হলো? একটা আদেশ লংঘন করেছে তাই তো। একটা আদেশ তো আদম আলাই সাল্লাম ও লংঘন করেছে। তাকে বলা হয়েছিল গাছের কাছে যেওনা আমাদের পিতা ভুল করে গাছে কাছে চলে গিয়েছিল। এটাও তো একটা অন্যায় তাই নয় কি এটা ও তো আল্লাহর আদেশকে লঙ্ঘন করা হলো। কিন্তু আদম আলাই সাল্লাম তাওবা করে ফিরে এসেছিলে ।এটা আদম সন্তানের স্বভাব যে ভুল করবে এবং তওবা করে ফিরে আসবে। কিন্তু ইবলিশ সে তওবা করে ফিরে আসে নি। বরং সে অবাধ্য হয়েছে অহংকার করেছে। এই যে অন্যকে ছোট করা তুচ্ছ করা আল্লাহর আদেশ কে অস্বীকার করা এবং অহংকার করার । এই অহংকারের কারণে তার সমস্ত এলেম এবং আমল সব ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন আমরা যদি অনেক এলেম এবং আমল করি মনে অহংকার থাকে তাহলে কি আত্মশুদ্ধ অর্জন হবে । আত্মশুদ্ধি সবচেয়ে ইম্পোর্টেন্ট একটা জিনিস। আমি একটা বই সাজেস্ট করছি। বইটা আমি পড়ছি কিন্তু পড়ার পর আমার পিপাসা মেটেনি এখনো । এই টপিকের আমি আরো বেশ কিছু বই সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ আগামীতে আমি শুধুমাত্র এই টপিকে শুধু এই টপিকেই আলাদা স্বতেন্ত্র একটা লেকচার দিব ইনশাআল্লাহ। মুফতি মোহাম্মদ তাকি ওসমানী হাফেজ উল্লাহ তার একটা বই আছে আত্মশুদ্ধির তাসাওউফ বইটা পড়বেন।বইটা পড়লে আপনার কাছে মনে হবে বইটা আপনার জন্যই লেখা হয়েছে। বইটা পড়ছিলাম আর মনে হচ্ছিল যে বইটা আমার জন্যই লেখা হয়েছে। মনে হয় বইটার প্রতিটা ওয়ার্ড আমাকেই বলা হয়েছে । মন দিয়ে পড়েন এবং পড়াশোনার অভ্যাস করেন। একদিন লেকচার শুনলেন এক ঘন্টা দেড় ঘন্টা এটা আপনার জীবন পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। হ্যাঁ যদি আল্লাহ ওয়ালা মানুষ হন তাহলে হবে। আমাদের মত মানুষের লেকচারে এক ঘন্টা দেড় ঘন্টা লেকচার শুনে আপনার জীবন পরিবর্তন না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কথা তাসিল হয় তখনই যখন বক্তার মধ্যে ইখলাস থাকে , দ্বীনের প্রতি মহব্বত থাকে। আল্লাহর দ্বীন আল্লাহর জমিনে প্রতিষ্ঠিত করার মানসীক চেষ্টা থাকে মনে দরদ থাকে। যে কথাগুলো দিল থেকে বের হয় সেগুলো মানুষের দিলের মধ্যে গিয়ে কি হয় আসার করে। এখন এইরকম মানুষের সংখ্যায় বা কত? আর আমরা যে জ্ঞান এবং আমল পড়ি তাতে বোঝাই যাচ্ছে আমাদের দ্বারা কি হতে পারে। তার পরেও আলহামদুলিল্লাহ কিছু মানুষের উপকার হচ্ছে এতেই আলহামদুলিল্লাহ। তবে আমরা যথেষ্ট নই। আমরা আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করি আল্লাহ পাক এমন মানুষকে নিয়ে আসেন এই চেয়ারে যাদের কথায় পুরো সমাজটা পরিবর্তন হবে ইনশাআল্লাহ । এবং আল্লাহ পাক আমাদের সন্তানকে যেন ওইভাবে বড় করার তৌফিক দান করেন আমিন। প্রথম কথা বলছি দেখেন আত্মশুদ্ধি , মনের নিয়ত , ইখলাস এটা সবচেয়ে ইম্পোর্ট্যান্ট জিনিস ।এটা ছিল না বলেই ওই তিন ব্যক্তি কোথায় গিয়েছে জাহান্নামে। শহীদ হয়েছে জাহান্নামে , দান করেছে জাহান্নামে , আলেম হয়েছে জাহান্নামে। এটা সেই হাদিস যেটা বর্ণনা করতে গিয়ে আবূ হুরায়রা (রাঃ) অজ্ঞান হয়ে পড়ে যেতেন।

সুদ, শিরক ও নবীজির লানত

প্রথম যেটা সমস্যা ছিল সেটা হচ্ছে শিরক।এই শিরকটা প্রত্যেকটা সেক্টরে আছে না ব্যক্তি , পরিবার , সমাজ , রাষ্ট্রে আছে না। একি সুন্নাহ ওই জায়েমে জাহিলদের শিরক এখন কার বিশ্বে আছে না ,আছে । তো এখনকার বিশ্বেও কি কিছু তাওহীদ পন্থী মানুষের প্রয়োজন আছে না , আছে ।দ্বিতীয় সমস্যা সুদ। ওই সমস্যা কি এখনকার বিশ্বে নাই ? এখনকার ব্যক্তি জীবনে দেখেন সুদ খায় না ? পরিবার সুদখোর না ? সমাজে সুদের কারবার নাই ? সুদে এনজিও ছয় লাভ আছে না ?ছোট ছোট গ্রাম কি বাদ পড়েছে সুদ থেকে? টপ টু বটম কোন গ্রাম কি বাদ পড়েছে সুদ থেকে। বৈশ্বিক ক্ষেত্রের সুদের ব্যাংকিং সিস্টেম নাই? এবং এগুলোর সাথে আমরা জড়িত নয় কি? আর নবীজি সাঃ কি বলেন নাই যে চার শ্রেণীর মানুষকে আমি লানত করলাম। যে সুদ খায় , যে সুদ দেয় , যে সাক্ষী থাকে এবং যে লিখে রাখে। চার শ্রেণীকেই তিনি লানত করেছেন। নবীর অভিশাপ নিয়ে কেউ হাউজে কাউসের পানি পাবে ? নবী সাঃ এর অভিশাপ নিয়ে কেউ কি কবরের উত্তর দিতে পারবে ? সত্যি তাই মনে হয় আপনাদের। আর নবীজি যাকে অভিশাপ দিবেন , তাদের জন্য কি সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যাবেন । এত সহজ না। এত সহজ না। নবীর লানত কি জিনিস এটা আমরা পরকালে বুঝতে পারবো। আমল করেছে আমল করেছে । শুনেন অনেক নেক আমল করেছে কিন্তু আমল গুলোর মধ্যে বেদাত ছিল। মানে সুন্নতকে পরিবর্তন করে নতুন আমল দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছে। কিন্তু আমল করেছে। এই বেদাতিরা যখন হাউজে কাউসারের পানি খেতে যাবে একটা পর্দা পড়ে যাবে। এবং নবীজি বলবেন তারা তো আমার উম্মত কেন পর্দা পড়ে গেল। তাকে বলা হবে হে নবী আপনি জানেন না আপনার মৃত্যুর পরে এরা আপনার দ্বীনকে কিভাবে বিকৃত করা করেছিল? তখন নবীজি বলবেন দূর হও দূর হও যারা আমার পরে দ্বীনকে পরিবর্তন করেছ বেদাত করেছ। এটা বেদাতির শাস্তি তাকে দূর করে দেয়া হলো। যে আমল করেছে সারা জীবন আমল করেছে। হালাল খেয়ে আমল করেছে কিন্তু বেদাত করেছে । তাকে তাড়িয়ে দেয়া হলো । আর যে সুদ খাচ্ছে তাকে কি করা হবে ভাবেন? একজন মানুষ যদি তার মায়ের সাথে জেনা করে তাহলে তাকে কি করবেন বলেন। মনে করেন কালকে উঠে দেখলেন আপনার এই গ্রামে ১০ জন মানুষ পাওয়া গেছে। আজকে রাতে নাউজুবিল্লাহ তারা মায়ের সাথে কথাটা বলতে আমার খারাপ লাগছে ,তারা মায়ের সাথে খারাপ কাজ করেছে আজকের রাতে । কালকে সকালে যদি এই ১০ জনের দোষ প্রকাশ হয় তাহলে আপনি কি করবেন? কি করবেন ফুলের মালা দিবেন? বড় বড় সুন্দর সুন্দর চেয়ার দিবেন , না কি বড় বড় অফিস করে দিবেন।

part 5 কোর্ট টাই পড়িয়ে বসিয়ে দিবেন ।সুদের মধ্য দিয়ে আমরা তাই করছি। নবী সাঃ বলেছেন ৭৩ টা পাপের শাখা আছে তার সবচেয়ে নিম্ন শাখা কি? আপনারা বলেন হাদিসটা আপনারাও জানেন বলেন। সবচেয়ে নিম্ন শাখা কি? নিজের মায়ের সাথে জেনা করা। আর কোন ব্যক্তি যদি এ কাজটা করে আপনি তাকে কিভাবে দেখবেন। একজন ব্যক্তি যদি একাধিক বিয়ে করেন তাকেই তো দেখতে পারেন না। একজন ব্যক্তি যদি ধর্ষণ করে তাহলে ধর্ষকের শাস্তি আছে না। ধর্ষককে কি সমাজের মানুষ ভালো চোখে দেখে নাকি ঘৃণা করে? এবং দেখা যায় যে মজলুম মেয়েটার উপর অত্যাচার করা হয়েছে ওই মেয়েটারই তো সারা জীবন বিয়ে হয় না এমন হয় না । কত বড় ফলাফল সমাজে বয়ে নিয়ে আসে তাই না । এখন একজন ব্যক্তি যদি মায়ের সাথে জেনা করে তাহলে তাকে আপনি কি করতে চাইবেন। নবী সাঃ বলেছেন আপনারই নবী আপনারই নবী যাকে কবরে দেখানো হবে আপনাকে তিনি বলেছেন এই ৭৩ টা পাপ আছে। তার সবচেয়ে নিচের পাপ হচ্ছে নিজের মাকে বিয়ে করা। নবীর সাথে ডিল করেন এখন আমার সাথে প্লিজ রাগ হবেন না। কিয়ামতের মাঠের জন্য অপেক্ষা করেন। আল্লাহর নবীর সাথে সাক্ষাৎ হবে সেদিন তাকে জিজ্ঞাসা করবেন কেন আপনি এই হাদিস বলে গিয়েছিলেন? আপনি সমাজকে পিছিয়ে দিয়েছেন। অর্থনৈতিক কে পিছিয়ে দিয়েছেন এই হাদিস কেন বলতে গেলেন? এটাই তো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ ও পদ্ধতি তাই না। রিবা এই হচ্ছে রিবা। আর সবচেয়ে উঁচু শাখা টা কি তাহলে ? এটি আপনি পাবেন সূরা বাকারায় আয়াত নাম্বার ২৭৯ থেকে শুরু করে পড়া শুরু করবেন। দেখবেন ওখানে আল্লাহপাক বলেছেন হে মুমিনগণ আল্লাহকে ভয় করো সুদ ছেড়ে দাও সুদ ছেড়ে দাও। আল্লাহ বলেছেন তোমরা যদি এটা না কর আল্লাহ এবং তার রাসূলের সাথে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে রাখো এটা সবচেয়ে উঁচু লেভেল। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সাথে কারো যুদ্ধ হচ্ছে মনে করেন এটা কথার কথা আপনি কার পক্ষ নিবেন। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ হচ্ছে কিছু মানুষ তার সাথে যুদ্ধ করছে মনে করে রাসুল সাঃ জীবিত আছে এবং এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে কথার কথা এবং তার অপজিশনে এক লক্ষ মানুষ দাঁড়িয়ে আছে তাদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র। নবী সাঃ হাতে কিছু নাই তিনি একা মনে করেন। আপনি তার উম্মত এখন আপনি এই যুদ্ধে কার পক্ষে দাঁড়াবেন। কথা এখন বুঝতে পারছেন। আমরা এখন কার পক্ষে দাঁড়িয়ে আছি জানেন। ওই মানুষদের পক্ষে যারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নবীজির বিপক্ষে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের উচিত ছিল নবীর পক্ষে আল্লাহর পক্ষে দাঁড়ানোর । আমরা এই রিবার মধ্য দিয়ে তার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে আছি। সুরা বাকারা পড়ে দেখেন এটা আমার কথা না। একটা কথা বানিয়ে বলিনি একটা কথাও এদিক-ওদিক যাবেনা ইনশাআল্লাহ এটাই লেখা আছে কুরআনে। যে কোন আলেমকে জিজ্ঞেস করেন যে কোন মাযহাবের। এই কথাই বলবে যদি সাহস থেকে থাকে সৎ সাহস।

সাধারণ প্রশ্ন

লেখক কোন বিষয়ের উপর জোর দিয়েছেন?

লেখক বলেছেন আত্মশুদ্ধি, মনের নিয়ত ও ইখলাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি এটিকে ঈমানের নূর ধরে রাখার সাথে যুক্ত করেছেন।

গান-বাজনা ও অশ্লীলতার বিষয়ে লেখক কী বলেছেন?

লেখক বলেছেন, বারবার এসব দেখতে দেখতে মনে প্রতিক্রিয়া না হলে বুঝতে হবে হৃদয় মৃত। তিনি গান-বাজনাকে হারাম বলে উল্লেখ করেছেন।

সুদ সম্পর্কে লেখক কোন সূরার কথা বলেছেন?

লেখক সূরা বাকারার ২৭৯ নম্বর আয়াত থেকে পড়ার কথা বলেছেন, যেখানে সুদ ছাড়ার নির্দেশ রয়েছে। তিনি সুদকে আল্লাহ ও রাসূলের সাথে যুদ্ধের সমতুল্য বলে উল্লেখ করেছেন।