Islamবাংলা

নামাজ, হজ ও কুরবানির সঙ্গে ইবরাহিম (আ.)-এর পরিবারের শিক্ষা

ইবাদতে মনোযোগ ও অন্তরের অনুভূতি

আমাদের ইবাদত গুলো অনেকটা অন্ধ শাশূন্য হয়ে গেছে। কিভাবে? নামাজ পড়ি নামাজে কি পড়ি বুঝি না। নামাজে মনোযোগ আসে না। দীর্ঘদিন নামাজ পড়ছি চোখ দিয়ে কোনদিন পানি বের হচ্ছে না। রোজা রাখছি রোজা আধ্যাত্মিক অর্থ কি বুঝতে পারছি না। হজ্জ করছি হজ্জের মূল চেতনা কি বুঝতে পারছি না। ওমরা করছি এর চেতনা কি বুঝতে পারছি না।হজ্জ বলেন , উমরা বলেন , কুরবানী বলেন , সাফা মারওয়া সাই বলেন , শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ বলেন , মাকা ইব্রাহিমের সালাত বলেন , জমজম কূপ বলেন , আরাফাতের মাঠ বলেন এই পুরো বিষয় এবং ইয়ামুন নাহার মানে পশু যে কুরবানী করলাম আমরা ঈদুল আযহা পালন করলাম আমরা এই পুরো বিষয়গুলোর সাথে একটা পরিবারের স্মৃতি জড়িত আছে। একটা পরিবার তার নাম নাবি ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম। একটু আগে আমরা দুরুদ পাঠ করলাম আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ। হে আল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর ওপর আপনি শান্তি বর্ষিত করুন। ওয়া আলা আলি মুহাম্মদ মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারের ওপরেও। কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহিম যেমনি আপনি শান্তি বর্ষিত করেছিলেন ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম এবং তার পরিবার বর্গের উপরেও । একই ভাবে পরের টুকু। কামা বারক্তা আলা ইব্রাহিম। তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সাথে ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম এর নাম জুড়ে দেওয়া হল কেন? এখানে অন্য কোন নবীর নাম কেন এলো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সাথে ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম এর জীবনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মিল ছিল। অন্য নবীদের চাইতে ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম এর জীবনের সাথে সবচেয়ে বেশি মিল ছিল। যখন মেরাজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম গিয়েছিলেন আল্লাহ পাকের সাথে সাক্ষাৎ করতে তখন তিনি বলেছিলেন ফিরে এসে আমি সপ্তম আসমানে বায়তুল মায়মুরের সাথে হেলান দিয়ে অবস্থায় ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম কে দেখেছি? আমি আবারও বলছি। আমি সপ্তম আসমানে পার হয়ে বায়তুল মায়মুরে ,বাইতুল মায়মুরে কি? ফেরেশতাদের তাওয়াফ করার জায়গা ।কাবা ঘরের সোজা উপরে ,এই বায়তুল মায়মুরে ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম কে হেলান দিয়ে বসে থাকতে দেখেছেন ।এবং আমি দেখেছি আমার চেহারা এবং তার চেহারা সম্পূর্ণ এক। আমাদের মোহাম্মদ সাঃ এবং আমাদের নবীগণের পিতা আবু আম্বিয়ান মুরসালিন ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম তাদের দুইজনের চেহারা ছিল একই রকম। চেহারা একই রকমের একটা রূপক অর্থ হতে পারে। সেটা হলো তাদের জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই মিল আছে।

ইব্রাহিম (আ.)-এর জন্ম ও কুরাইশ সমাজ

একটু আমি সংক্ষিপ্ত আকারে দেখাবো। ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম জন্ম গ্রহন করেছিলেন ব্যাবিলন শহরে । ব্যাবিলন সভ্যতার নাম শুনেছিলেন। আজকের থেকে আড়াই বছর আগের সভ্যতা। এখন আমরা সভ্যতা নিয়ে বড়াই করতে থাকি কিন্তু অনেক বড় বড় উঁচু উঁচু সভ্যতা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেছে। আমরা ওদের নামও জানি না। আজ যাদের নাম শুনছেন আর্য জাতির নাম শুনেছিলেন ইরাম ,সামুদ এগুলোর নাম শুনেছেন। আল্লাহ বলেছেন ইরাম এবং সামুদ এমন সভ্যতা ছিল এমন সভ্যতা ছিল।এইরকম সভ্যতা, এর পরে আর প্রতিষ্ঠিত হয় নাই ।পৃথিবীতে এর চেয়ে অন্যতম সভ্যতা আর আসে নাই। আমরা সভ্যতার বড়াই করাটা একটু কমিয়ে দেই। এরকম অনেক সভ্যতা চলে গেছে নাম ও নিশান মিটে গেছে যেগুলো আমাদের থেকেও অনেক উচ্চ ছিল। ব্যাবিলনের শেষ মূল যে বিষয় ছিল শিরক মূর্তি পূজা। এবং মূর্তি পূজার শাসক তার নাম কি ছিল? নমরুদ ।কি নাম ছিল নমরুদ?এবং এই নমরুদের যে প্রধান পুরোহিত ছিল তার নাম ছিল আজর। এবং এই আজরের ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম। সবচেয়ে বড় পুরোহিতে ঘরে জন্ম নিল সবচেয়ে বড় আল্লাহর পন্থীকে । ঠিক যেমন নবী সাঃ যে সমাজে ছিলেন সে সমাজটা কেমন ছিল? শিরক, রেবা, সুদ, ঘুষ ,জেনায় ভর্তি ।আল্লাহ পাক ওই কুরাইশদের মধ্যেই জন্ম দিয়েছেন কাকে ? মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। চেহারায় মিল পাচ্ছেন এবং জীবনেও মিল। দেখেন ইব্রাহিম আঃ যখন সত্যকে চিনতে পারলেন তখন তিনি তার বাবাকে বললেন কি বলেছেন সূরা মারিয়াম পড়ে দেখবেন ।তিনি বলছেন হে আমার বাবা তুমি কেন তার উপাসনা কর? যে শুনতে পায় না,যে দেখতে পায় না এবং যে তোমার কোন উপকারও করতে পারে না। ইব্রাহিম তার বাবাকে বলছে আজর কে তুমি কেন এমন এক সত্তার উপাসনা করো যে না শুনে , না দেখে না তোমার কোন ক্ষতি করতে পারে , না তোমার কোন উপকারে করতে পারে । সেম দাওয়াত দিয়েছিলেন নবী সাঃ তার চাচাদেরকে কুরাইশদেরকে । তিনি এই পাহাড়ের উপরে দাঁড়িয়ে বলছে হে কুরাইশ নবী সাঃ তোমাদেরকে আমি যদি বলি এই পাহাড়ের পিছে শত্রু দল আছে তোমাদেরকে আক্রমণ করবে তোমরা কি বিশ্বাস করবে। অবশ্যই বিশ্বাস করব কারণ তুমি হচ্ছো আল আমিন যাকে কখনো মিথ্যা কথা বলতে দেখিনি। তোমরা শুধু বলো আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই সফল হবো। সেম দাওয়াত না। পরিণতিও সেম। ইব্রাহিমের পিতা আজর তাঁকে বলছেন। ইব্রাহিম তুমি যদি আমার উপাস্যগুলো থেকে মুখ ফিরাও।আমি তোমাকে রজম করব পাথর নিক্ষেপ করব এখান থেকে বের করে দেব। এখান থেকে দূর হও হতভাগা। তার বাবা সন্তানটিকে তাড়িয়ে দিলেন। ইব্রাহিম আঃ দোয়া করলেন আমি তোমার জন্য আমার রবের কাছে ক্ষমা চাইবো আশা করি আমার রব তোমাকে মাফ করতেও পারেন। যদিও বা তাকে মাফ করা হবে না। পরবর্তীতে তিনি আর ক্ষমা চান নাই। ঠিক নবী সাঃ কে দেখেন তার এই যে কুরাইশরা তার ওপর এই তাওহীদের দাওয়াত দেওয়ার পর থেকে শুরু করলো নির্মম অত্যাচার। তাকে হত্যার চেষ্টা , গালিগালাজ , তার ওপর উটের ভুড়ি চাপিয়ে দেওয়া। শারীরিক আঘাত মানসিক কষ্ট বয়কট করা দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া কি না করেছে। তাকে ১৬ বার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। সারা জীবনে ১৫ টা গালি খেতে হয়েছে । রক্ত দিয়েছে ,অর্থ সম্পদ দিয়েছে , তার সম্মান হানি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এবং কি তাকে অসম্মান করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

মহাবিশ্ব সৃষ্টি ও আল্লাহর ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা

এবার ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম চলে যাচ্ছেন। এখান থেকে চলে যাওয়ার আগে ওই সমাজের মানুষের সাথে তর্ক হচ্ছে। চাঁদ হচ্ছে আল্লাহ নাউজুবিল্লাহ। চাঁদ যখন ডুবে গেল তখন তিনি বলল না এটা আল্লাহ হতে পারে না। এটা সূরা আনফালে আছে। রাতে যখন তারা দেখছে তখন তিনি বললেন তারা ইলাহ হতে পারে। যখন তারা অস্ত যাচ্ছে তখন তিনি বললেন না এটা হতে পারে না। দিনের বেলা যখন সূর্য উঠছে তখন তিনি বলল হ্যাঁ এটা সবচেয়ে বড় এটা আমার রব। যখন সূর্য অস্ত গেল তখন তিনি বুঝতে পারল যে এটা আমার রব নয়। কোন কিছুই আমার লাভ নয় ।ওই যে এখন একটা ছবি বের হয়েছে ১৩৫০ বিলিয়ন বছর আগের। এই সব কিছুর ওপর একজন স্রষ্টা নাই ? পশ্চিমারা বলবে নাই। এটা এমনি এমনি একটা পিগ ম্যান এর মাধ্যমে হয়েছে। অথচ আল্লাহপাক বলেছেন এগুলো সবকিছুই প্রথম আকাশের অন্তর্ভুক্ত। এরপরে আছে দ্বিতীয় তারপরে তৃতীয় তারপর চতুর্থ এমন করতে করতে সপ্তম আসমান পর্যন্ত আছে। এখন পর্যন্ত যেগুলো দেখছেন ১৩৫০ বিলিয়ন বছর আগের ছবি টবি ইত্যাদি এগুলো প্রথম আসমানের অংশ ।প্রথম আসমানের সামান্য একটু অংশ মাত্র। এভাবে সাত আসমান এবং প্রত্যেক আসমানের মাঝখানে distance হচ্ছে ৫০০ বছরের পথ। সাত আসমানের উপরে আছে করছি। আল্লাহ পাকের কুরসির এই সাত আসমানকে ঘিরে রেখেছে সুবহানাল্লাহ। এর উপরে আছে মহাসাগর একটা সাগর। এগুলো বিশ্বাস করবে না এখন বললে। কালকে নাসা গবেষণা করে বের করলে বিশ্বাস করবে। এগুলো মোটেও বিশ্বাস করবে না মানুষ এখন। কিন্তু কাল যখন বলবে অমুক একটা উপগ্রহ পাঠিয়েছিলাম সে ছবি তুলে পাঠিয়েছে যে মহাসাগর আছে হ্যাঁ। তখন বিশ্বাস করবে হ্যাঁ আছে। প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে বেড়াচ্ছে মহাকাশে। আল্লাহ পাক আগেই বলেছে অসংখ্য প্রাণ আছে মহাবিশ্বে। কিন্তু কোরআন বিশ্বাস করবে না। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে যদি জান্নাতের দেখা পাবে , পাবেনা যদি পায় আরকি। তখন মানুষকে বলবে একটা গ্রহের সন্ধান পেয়েছি । গ্রহের মধ্যে হুর পরী আছে। তাদের ওড়নার দিয়ে এমন সুগন্ধ বের হয় । তাদের ওড়নার কোনা যদি পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হতো সারা পৃথিবী সুগন্ধে ভরে যেত।তখন মানুষ বিশ্বাস করত হ্যাঁ আছে ।যদি ওরা বলে জাহান্নাম বলতে কিছু আছে যেখানে আজব দেওয়া হয় শাস্তি দেওয়া হয় যেখানে ১৯ জন বড় বড় ফেরেস্তা আছেন তখন এই বিশ্ববাসী বিশ্বাস করবে হ্যাঁ আছে । আর ওরা যদি কিছু বিশ্বাস করে তাহলে সারা বিশ্বকে বিশ্বাস করাতে বাধ্য করে হ্যাঁ আছে। ওরা বলছে করোনা করোনা সবাই বলছে হ্যাঁ করোনা করোনা । তারা যখন বলছে অমিক্রম অমিক্রম তখন সবাই বলছে হ্যাঁ অমিক্রম অমিক্রম । এগুলো বন্ধ তারপর বলছে রাশিয়া ইউক্রেন রাশিয়া ইউক্রেন এখন সবাই বলছে রাশিয়া ইউক্রেন রাশিয়া ইউক্রেন। করোনার কথা মানুষ কিন্তু কিছুদিন আগে ভুলে গিয়েছে। মাঝে মাঝে আবার মনে করায় দেয় আজকে এতজন মৃত্যুবরণ করেছে আজকে এতজন আক্রান্ত। যাতে আপনি ভুলে না যান। পুরা মাইন্ড প্রোগ্রামিং, আপনার মাথা আমার মাথা পুরোটাই প্রোগ্রামিং। তার কিছুদিন আগে ক্ষেপণাস্ত ক্ষেপণাস্ত উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত দিচ্ছে ক্ষেপণাস্ত ক্ষেপণাস্ত। মানে একেক সময় একেকটা জিনিস দিয়ে মানুষকে ব্যস্ত রাখা। এখন ব্যস্ত রাখছে ১৩৫০ বিলিয়ন বছর আগের ছবি। ব্যস্ত থাকেন এখন। এটা নিয়ে নাচো এবং গাও। কয়েক মাস যাক এই ফাঁকে তারা কিছু কাজ করবে। আমাদের বাসায় ছোট বাচ্চারা আছেনা। ছোট বাচ্চারা অনেক জ্বালায় না, খুব জ্বালায় অনেক জালায়। ক্ষেত ক্ষেত প্যাট প্যাট শুরু করে তখন আমরা কি করি? অনেক সময় বাধ্য হয়ে এই স্মার্টফোনটা দেই আর বলি কার্টুন দেখ। তো ঠিক আছে কার্টুন দেখতে বসে গেল কয়েক ঘণ্টা কার্টুন দেখছে। এই এক ঘন্টা কিন্তু সে আর আপনাকে ডিস্টার্ব করবে না। আপনি রিল্যাক্স এ কাজ করতে পারবেন। তাই বলে বাচ্চাদেরকে কার্টুনের অভ্যস্ত করায়েন না উদাহরণ দিচ্ছি আর কি । যদি কার্টুন দেখাইতেই হয় তাহলে ইসলামিক কোন কার্টুন দেখাইয়েন।

মহাবিশ্বের বিষয়ে বিশ্বাস ও প্রচারণা

তো ওয়ার্ড যারা নিয়ন্ত্রণ করে তারা বিশ্ববাশির সাথে গেমস খেলছে। এরকম কিছু প্রযুক্তি বা এইরকম কিছু প্রলোবন বা আপডেট কিছু ফিচার বা ইন্টারটেইনমেন্ট আপনার সামনে দিয়ে দিয়েছে আপনি এতে ব্যস্ত। এরকম ইসুগুলো দিয়ে দেয় আপনি এটা নিয়ে ব্যস্ত কিন্তু তারা তাদের কাজ ঠিকই করছে। ইসরাইল পুরো প্যালেস্টাইন যে দখল করার প্লান সেদিকে কিন্তু এগিয়ে যাচ্ছে। আসছে এগোচ্ছে আর আমরা এক একটা জিনিস নিয়ে ব্যস্ত থাকি। যাইহোক অনেক ভিতরে চলে যাচ্ছি। তো যেটা বলছিলাম এই ৭ টা আসমানের উপরে আছে কুরসি তারপরে আছে মহাসাগর তার ওপরে আছে আরশে আজিম। যে আরশে আজিমে আছে আটটা খুঁটি। আটটা খুঁটি ধরে আছেন মাত্র আট জন ফেরেশতা। সূরা হাক্কার মধ্যে এটা আছে। এই আটজন ফেরেশতা এটাকে বহন করে কিয়ামতের দিন নিয়ে আসবে। তাদের শক্তি চিন্তা করেন। আর একজন ফেরেশতার ফুৎকারে এই যে দেখছেন গ্যালাক্সির পর গ্যালাক্সি, হাবিজাবি সব ধ্বংস হয়ে যাবে। মাত্র একজন ফেরেশতা ফুৎকারে সব ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহ বলছেন এরপরেও তোমরা কি ঈমান আনবে না? কাফেররা কি লক্ষ্য করে দেখেনা? এই ৭ টা আকাশ ,মহাবিশ্ব এবং পৃথিবী একটি কেন্দ্রের মধ্যে ছিল বিন্দুর মধ্যে ছিল। আমি এটাকে বিভক্ত করে দিলাম। আমি বিভক্ত করে দিলাম। প্রত্যেক জীবন্ত প্রাণ কে সৃষ্টি করলাম পানি দিয়ে। আমাদের কোষের মধ্যে সাইটোপ্লাজম এর মধ্যে পানির পরিমাণ কত? কত পারসেন্ট? নিউক্লিয়ারস এর মধ্যে পানির পরিমাণ কত? বেশির ভাগই পানি। ৭০-৮০%। এরপর আল্লাহ বলছেন তবুও কি তারা বিশ্বাস করবে না। তো ওই আরশে আজিম ধরে আছে আট জন ফেরেশতা। তারপর আরশে আজিমের উপরে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই যে প্রথম মহাবিশ্ব দেখছেন এর উর্ধ্বে অবস্থান করছে তার মানে এখানে যে সময় চলছে তার এখানকার অতীত এখানকার বর্তমান এখানকার ভবিষ্যৎ এই তিন কালের উর্ধ্বে অবস্থান করছেন। আল্লাহপাক যখন বলছেন আবুল লাহাব জাহান্নামে যাবে। আল্লাহ পাক দেখে দেখে বলছেন। এই যে ভবিষ্যৎটা আল্লাহ পাক দেখছেন। ইন ফিউচারে সে এখানে যাবে , এখানে গিয়ে সে জাহান্নামে যাবে। আল্লাহর চোখের সামনে সব। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ কিন্তু আল্লাহর সামনে এগুলো কিছুই নাই। ওই যে নক্ষত্রের কথা বলা হচ্ছে এটা অতীত কালের ছবি কত বছর আগের ছবি। এত বিলিয়ন বছর আগের ছবি মানে আপনি আমি আকাশে যা দেখি এগুলো পাস্ট টেন্স অতীত কাল । এই যে সূর্য দেখছেন আপনি এখন এটা ২০ সেকেন্ড আগে সূর্য। ওদের থিউরি মতে। আলো আসতে যে সময়টুকু লাগে এই সময়টুকু চলে যাচ্ছে আবার। আলো আসতে কতটুকু সময় লাগে পৃথিবীতে। ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের মত। তারমানে আপনি যে সূর্যটাকে দেখছেন সেটা আট মিনিট উনিশ সেকেন্ড আগে সূর্য। তারমানে আমরা যা দেখছি আকাশে গুলো সব পাস্ট টেন্স অতীতকাল । তাহলে সূর্য থেকে যদি পৃথিবীকে দেখা যায় তাহলে ওরা পৃথিবীর অতীতকাল দেখবে। কথা কি বুঝতে পারছেন? আল্লাহ পাক সবার ঊর্ধ্বে। এই আলোর চেয়ে প্রচন্ড গতিতে আলোর বেগের চেয়ে অনেক অনেক অসীম গতিতে কেউ যদি ছুটতে পারে মহাআকাশে তাহলে সে এইসব কালের উর্ধ্বে চলে যাবে।

ইব্রাহিম (আ.) ও নবী (সা.)-এর জীবনের মিল

স্টিফেন হকিং এর সূত্র আছে এরকম। এটাই নবী সাঃ এর মিরাজের সাথে মিলে যায়। তিনি গিয়েছেন ফিরে এসেছেন এসে দেখেছেন ওযুর পানি গড়িয়ে পড়ছে টাইম এর উর্ধ্বে । সবই বৈজ্ঞানিক আসলে প্রমাণ করতে পারে না তখন বলবে ধর্ম মূল্যবাদ অন্ধবিশ্বাস ইত্যাদি ইত্যাদি। যখন প্রমাণ করতে পারবে তখন ধার্মিক হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। প্রতিটা বিষয়ে এটা নিয়ে অনেক ডীপ কথা আছে আজকে ওই দিকে যাচ্ছি না। শুধু এতোটুকু বলছি আল্লাহ পাক এই সব কিছু ঊর্ধ্বে। সেখান থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সব কিছু দেখেন এবং শোনেন। আল্লাহ কোথায় এটা খুঁজতে ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম বলছেন হয় তারা আমার রব , চাঁদ আমার রব , নক্ষত্র আমার রব , সূর্য বড় সূর্য আমার রব। যখন এগুলো ডুবে গেল তখন তিনি একটা কথা বললেন এটা কি? ইন্নি ওয়াজ্জাতু ওয়াজি ইয়াললিল আজিম ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়ালআরুদা হানিফাও ওমাআনা মিনার মুশরিকিন। আল্লাহ পাক এটা অন্য জায়গায় বলেছেন ইব্রাহিম ইহুদি ছিল না , নাসারা ছিল না। তিনি একনিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন। তিনি মুশরেকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তিনি তোমাদের নাম দিয়েছেন মুসলিম। তো একই ভাবে নবী সাঃ দেখেন সমাজের অরাজকতা দেখে হেরা গুহায় চলে গেলেন। সেখানে গিয়ে আল্লাহকে ডাকতে থাকলেন ধ্যান করতে থাকলেন এক পর্যায় ওহী তার কাছে আসলো। দুইজনের দেখেন কত মিল পাওয়া যাচ্ছে। যেমন ইব্রাহিম আলাই সালাম কে সমাজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হল। নবী সাঃ কে ও সমাজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হল । মারা হলো , গালি দেওয়া হলো , রক্তাক্ত করা হলো একপর্যায়ে তাকে হিজরত করে চলে যেতে হল , মিল পাচ্ছেন। পরিবার বাধা দিয়েছে ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম কেও মোহাম্মদ সাঃ কেও ।আত্মীয় বাধা দিয়েছে ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম কেও মোহাম্মদ সাঃ কেও ।সমাজ বাধা দিয়েছি ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম কেও মোহাম্মদ সাঃ কেও। হিজাব করতে হয়েছে তাকেও এবং তাকেও সাঃ কে ।দুইজনের চেহারার মিল। চলে যাওয়ার সময় তাদের সাথে কে ছিল? ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম এর সাথে ছিল তার স্ত্রী সারা । বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী মহিলা ছিলেন দুজন। একজন হাওয়া আলাইহিস সাল্লাম। এবং অন্যজন সারা আলাইহিস সাল্লাম । তাদের মতো সুন্দরী নারী পৃথিবীতে খুব একটা আসে নাই। হিজরতের সময় তাদের দুইজনের সঙ্গী ছিল তাদের স্ত্রীরা। দেখেন শুরু থেকে নবী সাঃ এর সঙ্গী ছিল তার স্ত্রী খাদিজা রাঃ ।আর ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম এর পাশে ছিলেন তার স্ত্রী সারা আলাই সাল্লাম। খাদিজা রাঃ অবদান এর কথা তিনি বলছেন আমার কথা যখন কেউ শুনতো না তখন খাদিজা আমার ওর ঈমান এনেছিল। অতএব তোমরা তাকে নিয়ে ভালো মন্দ বলো না। খাদিজা রাঃ সেই মহীয়সী নারী যাকে জিবরাঈল আলাইহিস সাল্লাম সালাম দিয়েছিলেন। যার জন্য জান্নাতে এমন একটা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে ।যেই ঘরের মধ্যে কোন শোরগোল নাই। কোন রকমের শব্দ দূষণ নাই সুকুন আর সালাম। আমাদের মা-বোনকে যেন আল্লাহ পাক খাদিজা রাঃ মত বানিয়ে দিক আমিন। এবার হিজরত তাকেও করতে হলে তাকেও করতে হলো। তিনি হিজরত করলো মদিনায় সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম। আর ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম প্রথমে করেছিল ফিলিস্তিনিতে । সার্ক দেশ বলা হয় ফিলিস্তিন কে।যাওয়ার পথে একটা ঘটনা। একটু দাঁড়ায়। যাওয়ার আগে একটা ঘটনা ঘটেছে আর যাওয়ার পরে আরেকটা ঘটনা।

মূর্তি ভাঙা ও আগুনের ঘটনা

যাওয়ার আগের ঘটনা কি? সমাজের লোকজন মূর্তি পূজা করছে সূরা আম্বিয়ার মধ্যে আছে আমি শর্ট করে বলছি।সূরা আম্বিয়ার মধ্যে আছে লোকজন শিরক করছে। ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম বলছেন এইসব কিসব তোমরা মূর্তির পূজা করো? যারা শুনেও না উপকারও করতে পারে না অপকারও করতে পারে না। তখন তার কওম তাকে বলছে তুমি কি আমাদের সাথে ঠাট্টা মশকরা করছো নাকি তোমার কাছে কোন সত্য আছে। তখন ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম বললেন তোমরা চলে গেলে আমি এদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিব। যখন তারা চলে গেল ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম এইসব মূর্তি গুলোকে ভেঙ্গে ফেললেন ।শুধু বড় মূর্তিটা বাদ দিয়ে। তারা ফিরে আসলো এসে দেখল মূর্তি ভাঙ্গা। কে মূর্তি ভাঙল? আমাদের উপাসনার সাথে এই কাজ কে করেছে? একজন তাদের মধ্যে বলে উঠল হয়তো সেই ব্যক্তি করেছেন যার নাম ইব্রাহিম। ইব্রাহিমকে ডাকা হলো এবং বলল তুমি কি করেছ? তিনি বলল হয়তো বড় মূর্তিটা করেছে। ওকে জিজ্ঞাসা কর যদি সে কথা বলতে পারে। এবার তারা বুঝতে পারলো এত কথা বলতে পারেনা। তখন ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম বলল তুমি কেন এমন কিছুর উপাসনা করছো যে শুনেও না দেখেও না কথাও বলতে পারেনা। আমি যাকে ভাঙলাম সে তো প্রতিহত করতে পারলো না। একটা মাছি বসলে সে তাড়াতেও পারে না। তাহলে কেন এর উপাসনা করছো ? কোন জবাব নাই ।জবাব নাই কিন্তু হট্টকারি অহংকার আছে। ঠিক এখনকার ফেরাউনের মত জবাব নাই কিন্তু হট্টকারি অহংকার আছে। তাকে দরবারে নিয়ে যাওয়া হলো। ওখানকার শাসক কে নমরুদ ।ডেকে বলছে কি সমস্যা? ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম বলছেন আমার রব সে যে জীবন দেয় মৃত্যু দেয়। নমরুদ বলছে আমিই তো জীবন দেই মৃত্যু দেই। কিভাবে? একজন ফাঁসির আসামি তাকে ডেকে এনে ছেড়ে দিব এভাবেই জীবন দেই। আরেক জায়গায় ৮৭ জন নিরপরাধ মানুষকে ডেকে এনে গর্দান নিলাম এই যে মৃত্যু দিলাম। তো ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম বলল ঠিক আছে। তারপর তিনি বলছেন আমার রব আল্লাহ যিনি পূর্ব দিক থেকে সূর্য কে উদিত করেন তুমি যদি রব হয়ে থাকো তাহলে পশ্চিম দিক থেকে সূর্যকে উদিত করে দেখাও। এরপর সে কাফের হতভম্ব হয়ে গেল কিন্তু কিছু করতে পারল না। সবাইকে বলল একে ধরো। তোমাদের ইলাহ কে সাহায্য কর একে ধরো। তাকে ধরো এবং আগুনে পুড়িয়ে দাও। ওই যে আগুনের কুণ্ডলী খোলা হল। এবার আগুন জালানো হলো এবং তাকে আগুনে ফেলা হচ্ছে । আগুনে পরাশ্রম হয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার কাছে পাঠালেন জিব্রাইল আলাই সাল্লাম তার কাছে এসে বললেন তোমার কি কোন হাজত আছে আমার কাছে। তখন ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম বললেন না আমার হাজত আল্লাহর কাছে আছেন ।এই কথা বলার সাথে সাথে আল্লাহ পাকের সাহায্য অবতারিত হয়ে পড়ল। আল্লাহ পাক বললেন হে আগুন ঠান্ডা হয়ে যাও ইব্রাহিমের জন্য শীতল ঠান্ডা হয়ে যাও। ব্যাস সবাই দেখল ইব্রাহিম আগুনে পড়ে আছে কিন্তু আগুনে পুড়ছে না। ঠিক এরকম পরীক্ষা নবী সাঃ কে দিতে হয়েছে না। বদরে উহুদে আল্লাহ সাহায্য এসেছে না । আল্লাহর ফেরেশতা এসেছে তার মাধ্যমে সাহায্য এসেছে । মানে মাত্রাটা ডিফারেন্ট ছিল কিন্তু ঘটনা কিন্তু সেইম।

নামাজে আশ্রয় ও ইসমাইল (আ.)-এর কুরবানি

যাই হোক এখন ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম চলে যাচ্ছিল ওই কমান্ডো থেকে। মিশরের এক বাদশা লম্পট সে স্ত্রী সারা কে কিডন্যাপ করল।সে এবার তার সাথে খারাপ কিছু করার ইচ্ছা করা মাত্র পড়ে গেল তিনবার প্যারালাইসড হয়ে গেল। এই জায়গায় এ বাদশা বুঝতে পারে যে এই মহিলা বা এই নারী সাধারণ কোন নারী নয়। তখন তিনি ছেড়ে দেন তাকে এবং সাথে হরযত হাজেরা আলাই সাল্লাম কেও হাদিয়া দিয়ে দেন। এই সময় ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম নামাজে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যখন তার স্ত্রী বিপদে পড়েছে এবং তিনি বিপদে পড়েছেন সাথে সাথে সে নামাজে দাঁড়িয়ে দিয়েছেন ।ঠিক নবী সাঃ এর মত। তিনি বলতেন যখনই আমি উদ্বিগ্ন হয়ে যাই তখনই আমি নামাজে দাঁড়িয়ে যাই। আমরা যদি কোন বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হই বা টেনশন করি তাহলে নামাজে দাঁড়াবেন সিগারেট ধরানোর দরকার নাই না। স্মোক করার দরকার নাই ,ড্রাগস নেওয়ার দরকার নাই একটা মিউজিক ছাড়ার দরকার নেই। নামাজে দাড়িয়ে যান আল্লাহ পাক টেনশন দূর করে দিবে ইনশাআল্লাহ। একই জিনিস। এরপর হাজেরা আলাই সাল্লাম কে ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম বিয়ে করে নেন এবং প্যালেস্টাইনে চলে যান। এখন সন্তান হচ্ছে না শেষ বয়সে গিয়ে ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম বলছেন আমি চললাম আমার রবের দিকে আমার রব আমাকে পথ দেখাবে। আমার রব আমাকে উত্তম এবং নেককার সন্তান দিবেন। আল্লাহ পাক বলেছেন এরপর আমি তাকে একজন সহনশীল সন্তানের সুসংবাদ দিলাম। এরপর এই সন্তান যখন বড় হলো এবং যখন সে দৌড়ানো শিখলো। ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম বলেন হে আমার সন্তান আমি স্বপ্নে দেখেছি আমি তোমাকে জবাই করছি। তোমার কি রায় আমাকে বলো? এই বাচ্চার বয়স কত হবে ১০ বা ১২। তখন ইসমাইল আলাই সাল্লাম বলছেন হে আমার বাবা আল্লাহ পাক আপনাকে যা আদেশ করেছেন সেটা আপনি করুন । ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। কত বছর বয়স ১০ বা ১২? আমাদের এই জেনারেশনের ১০-১২ বাদ দেন ২০-৩০ বছরের মানুষকে জিজ্ঞাসা করেন এই রকম কোনো চেতনা আছে কি না আদৌ । আল্লাহর হুকুমের সামনে মাথা নত করার। আল্লাহ পাক হুকুম করেছেন মাথা নত করার। জীবন দেওয়া তো অনেক বড় বিষয় । আল্লাহর জন্য জীবন উৎসর্গ করা বিশাল ব্যাপার , সবচেয়ে চূড়ান্ত লেভেল। নামাজ পড়ে কিনা জিজ্ঞাসা করেন। হারাম অ্যাফিয়ার ছাড়তে পারছে কি না জিজ্ঞাসা করেন। মিউজিক ছাড়তে পারছে কিনা জিজ্ঞাসা করেন। বাদ্যযন্ত্র ছাড়তে পারছে কিনা জিজ্ঞাসা করেন আল্লাহর জন্য। আল্লাহর জন্য সুদ ছাড়তে পারছে কিনা জিজ্ঞাসা করেন। আল্লাহর জন্য যার যার সম্পত্তি তাকে তাকে দিয়ে দিতে পারছে কি না জিজ্ঞাসা করেন। আল্লাহর জন্য সদকা করতে পারে কিনা আল্লাহর জন্য একটা মসজিদ বা একটা মাদ্রাসা করতে পারে কিনা। জীবন দেয়া অনেক বড় বিষয়। যারা ছোট ছোট কুরবানী করতে পারে না তারা যে বড় কুরবানী করতে পারবে না ভাবা যায় না। এত সহজ না। যারা ছোট ছোট কুরবানী করতে পারেনা। যে ৫ টাকা দান করার মানসিকতা রাখে না তার কাছে আপনি পাঁচ লাখ টাকা চাচ্ছেন সম্ভব । তো এই বাচ্চার বয়স ১২ বছর ।আল্লাহপাক যা আদেশ করেছেন করেন আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যখন তারা উভয় আত্মসমর্পণ করলেন। এবং বাবা ছেলেকে পাস করে শুইয়ে দিলেন জবাই করার মত করে। তখন আল্লাহ পাক বললেন আমি ইব্রাহিমকে ডাকলাম হে ইব্রাহিম তুমি তোমার স্বপ্নকে সত্যি করেছো। এটা ছিল একটা স্পষ্ট পরীক্ষা। এই জায়গায় আমি একটা মহান কোরবানি উৎসর্গ করলাম। নিজের সন্তান কুরবানী দেওয়া লাগবে না। ইব্রাহিমের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এই হল ঈদুল আযহা। কয়জন মানুষ কুরবানী করার সময় এই চেতনা লালন করেছে। যে আমি ইব্রাহিম আমি যাকে কুরবানী করছি আমার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু ইসমাইলকে ।যদি কোনদিন আমার জীবনে সুযোগ আসে আমার জান আমার মাল আমার সম্পদ আল্লাহর রাহে কুরবানী করব ইনশাআল্লাহ। কয়জন এই রাহে কুরবানী করেছে। শুধু গোস্ত খাওয়ার উৎসব বানিয়ে নিয়েছি আমরা এটাকে। শুধু গোস্ত খাওয়া। আর গোস্ত ভাগাভাগি কারাকারী নিয়ে কি যে এক অবস্থায় আমার থেকে আপনারা ভালো জানেন।

কাবা নির্মাণ ও ইব্রাহিমী দোয়ার ফল

এরপর বাবা ছেলে মিলে নির্মাণ করলেন কাবা। আল্লাহপাক তাদের সম্পর্কে বলছেন যে যখনই ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম কে আল্লাহ পাক কোন আদেশ করেছেন তিনি সঙ্গে সঙ্গে তা মাথা পেতে নিয়েছেন। এর নাম হচ্ছে মুসলিম। এবং তিনি মুসলিম জাতির পিতা। আমরা কথা বলছি কাকে নিয়ে , মুসলিম উম্মার জাতির পিতা ,রিয়েল ফাদার অফ নেশন ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম কে নিয়ে, তাই নয় কি ।তার ব্যাপারে আল্লাহপাক বলেছেন যখনই আমি ইব্রাহিম আলাই সালাম কে বলেছি আত্মসমর্পণ করো তিনি সাথে সাথে আত্মসমর্পণ করেছেন। এবং যতগুলো পরীক্ষা তাকে দিয়েছি সকল পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছে।এরপর কাবা ঘর নির্মাণ করেছেন এবং দোয়া করেছেন ।এর আগে জমজম কূপের ঘটনা আছে হাজেরা আলাই সাল্লাম ছুটছেন ছুটছেন খাবার পানি কিছুই নাই। অলৌকিক এক ঘটনা আল্লাহ পাক এই জমজম কূপ তৈরি করলেন । প্রতিটা ঘটনা সম্পর্কিত ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লামের পরিবারের সাথে সম্পর্কিত। এই দোয়া করার পর তিনি আরও একটা দোয়া করেছেন। সেই দোয়াটা কি জানেন ? ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম শেষ দোয়াটা করেছেন হে আমার রব এরপরে আপনি এমন একটা ন্যাশন পাঠাবেন। যে ন্যাশনের মধ্যে এমন একজন নবী পাঠাবেন। যেই নবী তাদেরকে আপনার কিতাব শিখাবে আপনার সুন্নত শিখাবে তাদেরকে পবিত্র করবে। তার দোয়ার ফসল হচ্ছে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ। ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম এর দুই ছেলে একজন হচ্ছে ইসমাইল আলাই সাল্লাম যাকে কেন্দ্র করে মক্কার এই ঘটনাগুলো। আরেক ছেলের নাম ইসহাক আলাই সাল্লাম যাকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনির ওই ঘটনা। ইসহাক আলাই সাল্লাম এর ছেলে ইয়াকুব আলাইহিস সাল্লাম। তার ১২ বা ১৩ জন সন্তান । একজন বিন ইয়ামিন আরেকজন ইউসুফ আর এদিকে ইউসুফের ভাইরা। ১২ বা ১৩ জন সন্তান। এভাবে ইউসুফ থেকে মিশুক এভাবেই ঘুরছে আর কি মধ্যপ্রাচ্য । এই ইয়াকুব আলাইহিস সাল্লাম এর বংশধরদের মধ্যেই আছে দাউদ ,আছে সুলাইমান , আছে ইউনুস , আছে ইউসুফ সব এখানে ।এটাকে বলা হয় বানী ইসরাইল। এই কারণে ইহুদিরা jealous যে আমাদের এখানে শেষ নবী কেন আসলো না। এখানে কেন আসলো ? এইদিকে মক্কার থেকে ইসমাইল আলাই সাল্লাম পরে একজন নবী। ইসমাইল আলাই সাল্লাম এর পরে এই একজন শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ। আমরা হচ্ছি বোনু ইসমাইল বুঝতে পারছেন কথাটা। ওই যে দোয়া করলেন তার ফসল হযরত মুহাম্মদ সাঃ। এবার তিনি যখন দাওয়াতি কাজ শুরু করলেন সেইম। পরিবার থেকে বাধা সমাজ থেকে বাধা হিজরত , রক্তক্ষরণ , গাছের ছাল পালা খেয়ে থাকতে হয়েছে , তায়েফে মার খেতে হয়েছে। মদিনায় গিয়ে ইসলামিক স্টেট কায়েম করেছেন। বদরের যুদ্ধ করতে হয়েছে উহুদ , খন্দক , তারপর খাইবার আক্রমণ তারপর মক্কা বিজয়। ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম কে আল্লাহ পাক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দেন নাই শুধু। কিন্তু হযরত মোহাম্মদ সাঃ কে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাও দিয়েছেন আল্লাহ পাক। উভয়ের জীবনে এত মিল বলেই নবীজি বলেছেন আমার চেহারা তার চেহারা মিলে । এবং আমরাও দুরুদের মধ্যে পড়ি কি? আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মোহাম্মদ কামা সল্লাইতা য়ালা ইব্রাহিম ওয়ালা আলি ইব্রাহীম ইন্না কা হামীদুম মাজীদ আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও কামা বারাক তা'আলা ইব্রাহিম ওয়ালা আলি ইব্রাহীম ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ। এতোটুকু আপনারা বুঝতে পেরেছেন।তো শেষ করার আগে এতোটুকুই বলবো প্রত্যেকটা ইবাদতের পেছনে স্বাদ গল্প না জানলে সেই ইবাদতের স্বাদ পাওয়া যায় না। আমাদের ঈদুল আযহার মূল চেতনা কি ছিল ? ত্যাগের চেতনা। আল্লাহর জন্য নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কুরবানী করার মানসিকতা থাকতে হবে।

ত্যাগের চেতনা ও পরিবারের আদর্শ

আপনি নিজেকে প্রশ্ন করেন আয়নার সামনে দাঁড়ান। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করেন আমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কি? আমার সম্পদ , আমার চাকরি , আমার বাড়ি গাড়ি , আমার স্ত্রীর সন্তান , আমার জমি জমা বা আমার নিজের জীবন এইতো। আমি বলছি না আপনি আপনার জীবন আল্লাহর পথে এখনই কুরবান করে দেন। আমি বলছি আপনি আগে শুরু থেকে শুরু করেন। এটলিস্ট আল্লাহর জন্য নামাজ পড়া শুরু করেন। আল্লাহর জন্য রোজা রাখেন , আল্লাহর জন্য যাকাত দেন , আল্লাহ জন্য সাদকা করেন।আল্লাহর জন্য একটা মাদ্রাসা করেন আল্লাহ জন্য একটা মসজিদ করেন। দ্বীনের জন্য প্রজেক্ট করেন , দ্বীনের জন্য খেদমত করেন। এরপর আপনি আপনার পরিবারকে আদর্শ পরিবার বানান। আপনার পরিবারটা কেও আল্লাহর পথে নিয়ে চলেন। যদি কখনো আপনার সামনে এমন সুযোগ দ্বারায় আল্লাহর জন্য আপনাকে জীবন দিতে হচ্ছে তখন আপনি দিতে পারবেন ইনশাল্লাহ। এখন পারবেন না। কারণ এখন আপনি নামাজই পড়ছেন না। আল্লাহপাক আমাদেরকে বুঝার তৌফিক দান করেন। এক নাম্বার ত্যাগের মানসিকতা। দুই নাম্বার ভোগবেদী বিষয়গুলো থেকে বেরিয়ে আসা। এখন সিস্টেম হচ্ছে ভোগবাদ খাও দাও ফুর্তি কর। ওইযে রবীন্দ্রনাথের কবিতার মত। যিনি অবশ্য ১৭ বা ১৮ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন এবং তার স্ত্রীর বয়স ছিল ১০ কিংবা ১১ বছর। এটা নিয়ে এখনো কোনো নাস্তিকের মাথা ব্যথা দেখি নাই । তার কবিতার মত দুহাতে যা পাও , হাত পেতে নাও। দুই হাতে যা পাও হাত পেতে নাও বাকির খাতা শূন্য রাখো এটা তাদের কনসেপ্ট। মানের দুনিয়াতে যা পাচ্ছেন হাত পেতে নেন বাকির খাতা শূন্য থাক। বাকির লোভে নগদ পাওনা কে ছাড়ে ভূবনে লালন বলেছে । ঠিক পশ্চিমাদের একই কনসেপ্ট খাও দাও ফুর্তি কর ভোগ বিলাস কর , পরকাল বলে কিছুই নাই। যদি হয়ও পরকাল তখন দেখা যাবে বিষয়টা এমন। আর আমাদের কনসেপ্ট কি? দ্বীনের জন্য যা পারেন সব ছেড়ে দেন। দ্বীনের জন্য যদি দুনিয়া চলে যায় যাক। বাকির খাতা পরোকালের খাতা পূর্ণ হোক। এটা খালি থাকবে কিন্তু পরকালের খাতা পূর্ণ থাকবে। এটা আমাদের কনসেপ্ট। আল্লাহপাক জাহান্নামের ভিতরে একজন ব্যক্তিকে ঢুকাবেন এক সেকেন্ড এর জন্য। ঢুকাবেন আর বের করবেন। আল্লাহ পাকের এক সেকেন্ড এটা কত বছর আমি জানিনা। আল্লাহ পাকের একদিন হচ্ছে ৫০ হাজার বছর এর সমান। তো তাকে জিজ্ঞেস করা হবে দুনিয়াতে কি সুখে ছিলে। তো সে বলবে সুখ কি জিনিস আমি তো জানিনা। সে ব্যক্তি দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী ব্যক্তি ছিল। তাকে জাহান্নামে এক সেকেন্ডের জন্য ঢুকানো হবে আর বের করা হবে। সে বলবে সুখ কি আমি জানিনা। আর আমরা মনে করি এখনকার যারা মিলিয়ন বিলিয়ন যারা আছেন হয়তো বা এরকম কেউ হতে পারে সেই ব্যক্তি । যে চোখের ইশারা করলে এক দেশ দখল হয়ে যায় ঠিক আছে। আর সবচেয়ে দুঃখী মানুষকে আল্লাহপাক ঢুকাবেন জান্নাতে এক সেকেন্ডের জন্য ঢুকাবেন আর বের করবেন। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবে দুনিয়াতে কষ্টের ছিলে। সে বলবে কষ্ট কি জিনিস আল্লাহ আমি তো জানিনা সুবহানাল্লাহ। তো চূড়ান্ত সফলতা এটাই। এর জন্য ভোগবাদী দর্শন না। ইসলামের জন্য আল্লাহর জন্য ছাড় দিতে শিখেন ত্যাগ করতে শিখেন। তিন নাম্বার পরিবারের আদর্শ ঠিক করতে হবে। দেখেন ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম এর পরিবার মা হাজেরা , সন্তান ইসমাইল , বাবা ইব্রাহিম। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কর্তারা ইব্রাহিমের মতো হচ্ছেন না। মা হাজেরার মত হতে পারছেন না। আর আমরা সন্তানেরা যতক্ষণ না ইসমাইল আলাই সাল্লাম এর মত হতে পাচ্ছিনা টিকটক প্রজন্মই থেকে যাচ্ছি ততদিন পর্যন্ত ইসলামে বিজয়ী সম্ভব না। আর নবী মোহাম্মদ সাঃ ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম এর দোয়ার ফসল। আমাদের সামনের দায়িত্ব হচ্ছে তার রেখে যাওয়া এই দ্বীন টাকে বাঁচানো । এই দ্বীন টাকে প্রচার করা এই দ্বীন টাকে প্রসার করা নিজের জানমাল , অর্থ সম্পদ যা কিছু আছে তা দিয়ে দ্বীন জন্য খেদমত বা কল্যাণ আনজাম দেওয়ার চেষ্টা করা। এতে করে ইনশাআল্লাহ আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা যখন একত্রিত হবে এতে করে আমাদের দ্বীন ইসলাম আস্তে আস্তে বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ। একদিনে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ বিজয় সম্ভব না। আমরা ঈদুল আযহা এবং ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম তার পরিবার এবং নবী সাঃ এর সাথে তার যে মিল এগুলো থেকে আমরা যে শিক্ষা অর্জন করলাম। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে এগুলোর উপর আমল করার তৌফিক দান করুন আল্লাহ আমিন। ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম শিরিকের সাথে আপোষ করেন নাই আমরাও যেন শিরিকের সাথে আপোষ না করি। তিনি আদর্শ পরিবার গড়েছেন আমরাও যেন গড়ার চেষ্টা করি। তিনি দ্বীনের জন্য অগ্নিপরীক্ষা দিয়েছেন দ্বীনের জন্য পরীক্ষা আসলে আমরাও যেন সবর করতে পারি। ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটাকে কুরবানী করার মানসিকতা দেখিয়েছেন। আমরা যেন আমাদের প্রিয় বস্তু, অর্থ সম্পদ , জান মাল যেগুলো আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করা সম্ভব সেগুলোর করার মানসিকতা লালন করার চেষ্টা করি। আল্লাহপাক সেই তৌফিক দান করুন। সর্বোপরি আমাদের নবী সাঃ তার রেখে যাওয়া এই দ্বীন ইসলাম মুসলিম অমুসলিম সবার ঘরে পৌছে দেওয়ার চেষ্টা করি। আল্লাহুম্মা আমীন।

সাধারণ প্রশ্ন

ঈদুল আযহার মূল চেতনা কী বলা হয়েছে?

লেখা অনুযায়ী ঈদুল আযহার মূল চেতনা হলো ত্যাগের চেতনা। আল্লাহর জন্য নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কুরবানী করার মানসিকতা থাকতে হবে।

ইসমাইল (আ.) কত বছর বয়সী ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে?

লেখায় ইসমাইল (আ.)-এর বয়স ১০ বা ১২ বছর বলা হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা করুন, ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন।

নবী মুহাম্মদ (সা.) উদ্বিগ্ন হলে কী করতেন?

লেখায় বলা হয়েছে, নবী (সা.) বলতেন যখনই তিনি উদ্বিগ্ন হতেন তখন নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। ইব্রাহিম (আ.)-ও স্ত্রীর বিপদের সময় নামাজে দাঁড়িয়েছিলেন।

ইব্রাহিম (আ.) ও নবী (সা.)-এর মধ্যে কী মিল উল্লেখ করা হয়েছে?

লেখায় বলা হয়েছে, দুজনের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মিল রয়েছে, যেমন তাঁদের স্বজাতি ও পরিবারের বিরোধিতা এবং হিজরত। লেখক এই মিলকে নবী (সা.)-এর চেহারার মিলের রূপক অর্থ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।