Islamবাংলা

সূরা ফালাক ও সূরা নাসের ফজিলত: কুরআনের মাধ্যমে শয়তান ও অকল্যাণ থেকে সুরক্ষা

Part 1 আসসালামু আলাইকুম ওয়াবারাকাতুহু আলহামদুলিল্লাহ ওয়াহদা আলহামদুলিল্লাহ ওয়াআসসালাতু আসসালামু আসসালাআন্না ইয়া নাবি ইউ আম্মাবাদ আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহ সুবহান তালার জন্যে। যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। আজকে আমাদেরকে সাতমাথা জামে মসজিদে বাদ এশা। মাসিক কুরআনি তামিলের বৈঠকে বসার তৌফিক দান করেছেন। সকলের শুকরিয়া আদায় করে আরেকবার আলহামদুলিল্লাহ। দুরুদ এবং সালাত বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবীর মুহাম্মদূর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি। আল্লাহুম্মা সাল্লি আলাইহি। আল্লাহুম্মা বারিক আলাহি। আজকে আমাদের কুরআনী তালিমের বৈঠকের দ্বিতীয় ক্লাস। আজকে আমাদের টপিক হচ্ছে বিষয় হচ্ছে। সূরাতুল ফালাক এবং সুরাতুল নাস। আমরা সরাসরি টপিকে চলে যাচ্ছি। আমরা আপনাদের কাছ থেকে আজকে বেশি সময় নিব না ইনশাআল্লাহ ঠিক আছে। আর একটু লেকচারটা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। কারণ নয়তো গতানুগতিক লেকচারের মতন হবে না। লেকচার শেষে আমি আপনাদেরকে প্রশ্ন করব ইনশাআল্লাহ। এই টপিকের ওপরেই পাঁচটা থেকে দশটা। আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করে নিচ্ছি আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করুন এবং কোরআন আমাদের জন্য যেন পরকালে সুপারিশ করে নাজাতের মাধ্যম হয়। আল্লাহ পাক যেন কবুল করেন আল্লাহুম্মা আমীন। প্রথমেই বলে নেই সুরাতুল ফালাক এবং সুরাতুল নাস পবিত্র কুরআনে ১১৩ এবং ১১৪ নাম্বার সূরা। জানি আল কুরআন ১১৪ টি সূরা আছে। তার সবচেয়ে বড় সূরা সূরাতুল বাকারা আর সবচেয়ে ছোট সূরা সূরাতুল কাওসার। আমরা জানি সুরাতুল বাকারা এবং সূরা আল ইমরান আমাদের জন্য পরকালে সুপারিশ করবে।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ঘরে সূরা বাকারা তেলাওয়াত করা হয় সে ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায়। তিনি বলেছেন সুরা বাকারা এবং সূরা আল ইমরান মেঘের মতন পাঠ কারিকে ছায়া দিবেন। ছায়া দিবেন তিনি আরো বলেছেন সূরাতুল মুলক যে ব্যক্তি সুরা মুলক প্রতিরাতে পাঠ করে আর ইসলামের রাত শুরু হয় সূর্য ডোবার পর থেকে আমাদের বারোটা 31st এর মত নয়। এটা পশ্চিমা সভ্যতা থেকে আসছে। যেটা এখন আমাদের ক্যাবলা। তো যে ব্যক্তি সূরাতুল মুলক সূর্য ডোবার পর থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত বা রাতের বেলা পাঠ করবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কেয়ামতের দিনে সুপারিশ করবেই এছাড়া কবরের আজাব থেকে তাকে রক্ষা করবে ইনশাআল্লাহ ।এটা বিশাল ব্যাপার,এটা একটি বিশাল amazing ব্যাপার ।তিনি আরো বলেছেন সূরা ইখলাস এর ব্যাপারে। তিনবার যে সূরা ইখলাস পাঠ করে সে ব্যক্তি এক খতম কুরআনের নেকি পাবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেছেন সূরাতুল ইখলাস হল কোরআনের এক তৃতীয়াংশ তিন ভাগের এক ভাগ। একজন সাহাবী ছিলেন যিনি প্রত্যেক সালাতে এবং প্রত্যেক রাকাতে সূরা ইখলাস পাঠ করতেন। তার অভ্যাস ছিল এমন তিনি যাই পাঠ করতেন তার শেষে গিয়ে সূরা ইখলাস পাঠ করতেন। তো মুসল্লিরা complain করল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর কাছে এর কাছে অমুক ইমাম এই কাজটা করে,তিনি তাকে ডাকলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন তুমি এই কাজটা কেন কর? তিনি বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি এই সূরাটিকে ভালোবাসি। আমি সূরা ইখলাসকে ভালোবাসি। তিনি বললেন এই ভালোবাসাই তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে দেখো ।আপনারা আবু হুরাইয়া আনহু রাদে আল্লাহুর ঘটনা জানেন তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাম অলি মতের মাল পাহারা দিতে বলেছিলেন। তো চোর আসছিল তার কাছে পরপর তিন রাত। সে দু রাত ছেড়ে দিয়েছিলেন কিন্তু শেষ রাতে ছাড়েননি ধরেছিলেন ।তো সেই চোর তাকে বলেছিল , আমাকে যদি তুমি ছেড়ে দাও আজকের মত আমি তোমাকে এমন একটা আমল শিখিয়ে দেব যেটা তোমাকে সারা রাত শয়তান এবং জিন এবং যাবতীয় অকল্যাণ থেকে তোমাকে হেফাজত করবে। তো আবু হুরাইয়া আনহু রাদে আল্লাহু বললেন আমাকে শেখাও সেটা কোন কি আমল। যদি তুমি ঘুমানোর আগে আয়তাল কুরসি তেলাওয়াত করো। তাহলে সারারাত যাবতীয় অকল্যাণ থেকে তুমি হেফাজত থাকবে। তো তিনি তার কাছ থেকে এই জ্ঞানটা নিয়ে তাকে ছেড়ে দিলেন। পরেরদিন সকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেসা করলেন তোমার গতরাতে চোরের কি খবর? আল্লাহপাক তো তাকে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ওহীর মাধ্যমে। তিনি বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ এ রকম ঘটনা ঘটেছিল আমি তো তাকে ছেড়ে দিয়েছি, সে তো আমাকে একটা আমল শিখিয়ে দিয়েছে। তখন তিনি বললেন যে ,যে তোমাকে আমলটি শিখিয়ে দিয়েছিল ,সে ছিল ইবলিশ। কিন্তু সে বরাবরই মিথ্যা কথা বলে কিন্তু এই কথাটি সে সত্য বলেছে। সুবহান আল্লাহ। তারমানে ইবলিশের কাছ থেকেও খেয়ার নেয়া যায়। যদি সেটা আল্লাহ তাআলা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের অনুকূলে হয়। আর আমরা এখন সত্য বা ভালোটা নিতে চাই না। সত্য বা ভালো যার মাঝে আছে নিতে হবে।

সূরা বাকারার শেষ আয়াতের ফজিলত

ভালো টুকু নিতে হবে ।আর খারাপ তো সবার মাঝেই আছে সেটাকে ছাড়লে ভালো হয় । এই ভাবে আমরা হয়তো ঐক্যবদ্ধ হতে পারবো ।অন্য কোন পথ আমার কাছে জানা নাই ।যাইহোক এর পরে আরো আছে যে একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সাহাবী কে বলেছেন ,সূরাতুল বাকারার আমি আবারও বলছি সূরাতুল বাকারা মানুষের জীবনে বরকতের কারণ ,মানুষের জীবনে যে বরকত হয় এটার কারণ হচ্ছে সুরাতুল বাকারা ।আর যখন মানুষ এটা তেলওয়াত করে ছেড়ে দিবে ,তখন তার জীবনে খাসারা নেমে আসবে। বরকতটা উঠে যাবে। একটু খেয়াল করে দেখবেন আমাদের জীবন থেকে বারকাত আস্তে আস্তে উঠে যাচ্ছে কিনা। এটার অন্যতম কারণ হচ্ছে এইযে আমাদের সাথে সূরা বাকারার সম্পর্ক নাই। তিনি বলেছেন সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত অথবা কোন বর্ণনা শেষ তিন আয়াত যে ব্যক্তি রাতের বেলায় পাঠ করবে। আমি আবারও বলছি, রাত মানে সূর্য ডোবার পর থেকে রাতের বেলায় পাঠ করবে সে ব্যক্তি সারা রাত নফল সালাতের নেকি পেয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ ।এটা আলী রাদেয়াল্লাহু আনহু একবার বলেছিলেন,কোন জ্ঞানী ব্যক্তি,যার বিবেক আছে তার পক্ষে সম্ভবই না রাতের বেলায় সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত পাঠ করবে না। কারণ মাত্র দুটি আয়াত পাঠ করলে আপনি সারা রাত নফল ইবাদতের নেকি পেয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয় যাবতীয় দৃশ্য অদৃশ্য অকল্যান থেকে আপনাকে এটা হেফাজত করবে ইনশাআল্লাহ ।আরেকবার তিনি বলেছিলেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ব্যক্তি ফরজ সালাতের পরে। আমরা তো ফরজ নামাজের পরে ইমাম সাহেবের অপেক্ষায় বসে থাকি। তিনি বলেছেন যে ব্যক্তি ফরজ নামাজের পরে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে আয়তাল কুরসি তিলাওয়াত করবেন। আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াআল হাইয়ুল কাইয়ুম ,এখান থেকে সূরা বাকারার ২৫৫ নাম্বারআয়াতটি হচ্ছে আয়তাল কুরসি।এইটা যদি পরে কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন মৃত্যু ছাড়া তার জান্নাতে প্রবেশ করার কোন বাধা নাই। সে ব্যক্তি মারা গেলে জান্নাতে চলে যাবে ইনশাআল্লাহ। এই যে ফজিলত পূর্ণ ব্যাপার গুলো আছে সবগুলো কোরআনের সাথে সম্পর্কিত। এগুলো বললেই একটা লেকচার শেষ হয়ে যাবে। তো আমাদের সূরার দিকে আসি, এরকম প্রতিটা সূরার ক্ষেত্রে আছে কম বেশি।সূরাতুল ফালাক এবং নাস কে বলা হয় মুয়াউয়িযাতাইন। মুয়াউয়িযাতাইন মানে আশ্রয় প্রার্থনার দুইটি সূরা।

রাসূলের উপর জাদুর ঘটনা ও শানে নুযূল

আজকের সূরাটা কে আপনাদের অন্যভাবে শিখাবো ইনশাআল্লাহ ।আমি বলেছি এটা ১১৩ এবং ১১৪ নাম্বার সূরা। এই সূরাটা মাক্কী। মাক্কী সূরা বুঝেন?যেই সূরাগুলো মক্কায় নাযিল হয়েছে হিজরতের আগে। আর যে সূরা গুলো মদিনায় নাযিল হয়েছে সেগুলো হলো মাদানী সূরা। মাক্কী সূরা কিছু জিনিস common থাকে। common গুলো হচ্ছে এখানে তাওহীদ ,রিসালাত,পরকাল ,মৃত্যু ,কবর ,পুনরুত্থান এই বিষয়গুলো আলোচনা বেশি আসছে মাক্কী সূরায় ।কারণ শুরুর দিকে তো সবাই অমুসলিম তাদেরকে আগে না আল্লাহর দিকে নিয়ে আসতে হবে। তারপরে না বিধান প্রয়োগ করবেন তাইনা, বোমা মেরে কি আর ইসলাম কায়েম হয় ।আগে মানুষের ভিতরটা তো সংশোধন করতে হবে। এই হল পদ্ধতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাম মক্কায় ছিলেন ১৩ বছর। ১৩ বছরে যতগুলো সূরা নাযিল হয়েছে এই সবগুলো সূরা কে বলা হয় মাক্কী সূরা। আর হিজরত করার পরে যেই সূরাগুলো সেগুলো হল মাদানী সূরা। মাক্কী সূরার সংখ্যা ৮৬ টা মাশাল্লাহ ।আর মাদানী সূরার সংখ্যা ২৮ টা মাশাল্লাহ ।এই হল ১১৪ টি সূরা। এই সূরাতুল ফালাক এবং নাস যেটা আজকের আমাদের আলোচনার টপিক। এটার একটা শানে নজরুল আছে। শানে নুযূল নজরুল মানে নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট। মনে রাখবেন প্রত্যেকটা সূরার প্রত্যেকটা আয়াত নাযিল হওয়ার পেছনে কোন না কোন ঘটনা আছে। শুধু তাই নয় যে হাদিস গুলো আমরা জানি সেই হাদিস গুলো ও শানে নুযূল আছে। এই হাদিসগুলোরও শানে নুযূল আছে। এখানে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে আয়াত বা যে সূরা টি আপনি পড়ছেন তার পেছনের ঘটনাটা কি? কোন প্রেক্ষাপটে এই সূরা বা এই আয়াত নাযিল হয়েছে। যদি আপনি এই পুরো গল্পটা না বুঝেন তাহলে কুরআনের আয়াত দিয়ে আপনি বিভ্রান্ত হতে পারেন।যেমন অনেক ভাই আমাদের জিহাদের আয়াত শুনে বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক ভাই আছেন যারা কোন হাদিস কোথায় প্রয়োগ করতে হবে সেটার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। এখন দেখা যাচ্ছে গরুর মাথা ছাগলের লেজে ছাগলের লেজ গরুর মাথায় লাগিয়ে দিয়েছে। এটা সমস্যা তাই শানে নুযূল জানা দরকার আছে। সূরা ফালাক এবং নাসের শানে নুযূল হচ্ছে এই একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লামকে জাদু করা হয়েছিল। মারাত্মক ব্যাপার আমাদের নবীকে জাদুকরা হয়েছিল ।জাদু সত্য।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম যাদু গ্রস্থ নিজেই হয়েছিলেন। আর জাদু যে সত্য এর প্রমাণে কুরআনে অসংখ্য আয়াত আছে ।

part 4 ঐ মুসা আলাই সাল্লাম এর আগ থেকে শুরু করে কিয়ামতের আগ পর্যন্ত জাদু থাকবে। এগুলোর অস্তিত্ব আছে। এগুলো practice করা আমাদের জন্য হারাম। কেউ যদি জাদু practice করে ইসলামের শরীয়ত অনুযায়ী তার শাস্তি কি জানেন? তাকে হত্যা করতে হবে , এটাই তার শাস্তি। ইসলামের স্টেটে যিনি প্রেসিডেন্ট থাকবেন তার হুকুমে এটা হবে। যেমন আমাদের মৃত্যুদণ্ড ঠিক ঐ রকম জাদুর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। যাক আমাদের নবীকে জাদু করা হয়েছিল আর করেছিল এক ইহুদী মহিলা। ইহুদি মহিলা তার মানে ইহুদিরা জাদুতে পাণ্ডিত্য রাখে। আজকের দিন পর্যন্ত ইহুদীরা জাদু practice করে। এবং তারা সাইন্স বলে যত কিছু প্রচার করে আসলে সবকিছু সাইন্স নয়। এর পিছে আছে সেহের বা জাদু। এবং আপনারা টেলিভিশনে যা যা কিছু দেখছেন তাও হচ্ছে সেহের বা জাদু। আমাদের মা বোনদেরকে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে রেখেছে টেলিভিশনে আইসোলেন্সে হিপনোটাইস করে ফেলছে,নেশা হয়ে গেছে। অনেক রকম জাদু আছে। আমি যাদু নিয়ে পাঁচটা খুতবা দিতে পারব ইনশাআল্লাহ। আমার স্টাডিস এর ওই ব্যাচটাই জাদুর সেহের ।এটার উপর ডক্টরেট ও করা যায়। অনেক স্কোলার এটার উপর ডক্টরেট করেছে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জাদু গ্রস্থ করা হয়েছিল আর করেছিলেন একজন ইহুদি মহিলা ।নবীজির মাথার চুল দিয়ে। নবীজির চিরুনি থেকে কোন ভাবে তার মাথার চুল চুরি করেছিল বা কোন ভাবে manage করেছিল । করে সে কোন ভাবে সেখানে কুফরি কালাম বা মন্ত্র তন্ত্র পড়ে ফু দিয়েছিল এবং এগারোটা গিট দিয়েছিল। খেয়াল করে দেখবেন সূরা ফালাক আর নাসে ১১ টা আয়াত আছে। দুইটা মিলিয়ে ১১ টা আয়াত আছে। এই যে যাদুটা করা হলো আর ইহুদী মহিলা জাদুটা করল। আর এটা বলে রাখি নবীজিকে সারা জীবন ইহুদীরা কষ্ট দিয়েছে। আর আজ পর্যন্তই আমাদের বড় শত্রু হচ্ছে ইহুদিরা ।আল্লাহ পাক কুরআনে সেটা বলেছেন। সূরা মাইদা পড়ে দেখবেন তোমাদের সাথে সবচেয়ে বেশি শত্রুতা রাখে ইহুদী জাতি এবং মুশরিকরা।তারা একে অপরের বন্ধু ।যদি আপনি কোরআন পড়েন তাহলে আপনার কাছে জগত স্পষ্ট হয়ে যাবে। কেন নিতেন ইয়াহু মোদিকে ডাকে? যদি কুরআন আপনার ভিতরে না থাকে তাহলে আপনি এই জগতকে ডিল করতে পারবেন না। তো এই যে ১১ টা গিট দেওয়া হলো এতে করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাম অসুস্থ হয়ে জান ।যদি যাদু করা হয় কারো প্রতি তো সে অসুস্থ হয়ে যাবে। ইভেন সবচেয়ে পরহেজগার ব্যক্তি ও জাদুগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে। আপনি আমি যে কেউ হতে পারে।

part 5 যারা ইসলামের বিধান পালন করেন না। কোরআনের সাথে সম্পর্ক কম বা নাই হারাম রিজিকের সাথে সম্পর্ক আছে। যারা সুদ খাচ্ছেন গান-বাজনা করছেন,যারা বাদ্যযন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত। যারা অশ্লীল মুভি ,টিভি দেখছেন এদের যাদু গ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা 95% ।একবার জাদুগ্রস্ত হয়ে গেলে তাকে recover করা খুবই difficult ।এইজন্য ইসলাম এই প্রটেকশন গুলো দিয়েছে। একবার জাদুগ্রস্ত হয়ে গেলে এটাকে solved করা খুবই difficult । কারণ জাদু জ্বিনের সহযোগিতা ছাড়া হয় না। যারা যাদু করে তারা জ্বিন কে তায়াবির করে । আপনারা কিন্তু কোরআন পড়লে দেখবেন আল্লাহ পাক বলেছেন জাহান্নামের ইন্ধন হবে মানুষ আর জ্বিন যারা একে অপরকে সহযোগিতা করত। আজ পর্যন্ত কিছু মানুষ আছে এই পৃথিবীতে যারা আপনাদের আশেপাশেও যারা জ্বিনের সহযোগিতা নিয়েবিভিন্ন কুফরি কালাম তন্ত্র মন্ত্র করে। এবং গ্রাম অঞ্চলে এটার প্রচলন অনেক বেশি। even এখন শহরেও এগুলো ঢুকে পড়েছে। প্রেমে জোড়া দেওয়ার জন্য, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক উন্নতির জন্য ঘরে বরকতের জন্য বিভিন্ন কাজে এগুলো করা হচ্ছে। আমাদের দেশে কবিরাজের সংখ্যার তো অভাব নাই। আর এইসব সম্পর্কে আমরা জানি কম কিছুহলেই আমরা ওদের কাছে দৌড়াই।আর সে এই সুযোগ তাই আমাদের কাছ থেকে নেয়। এবং সে এদিক থেকেও টাকা খায় ওদিক থেকেও টাকা খায়। শয়তান এক কথায় শয়তানের চ্যালা পেলা এগুলো। আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাম কেউ ও ইহুদিরা জাদু করেছিল। এবং আপনারা জানেন কিনা ইহুদিরা আমাদের নবীজিকে হত্যা করারও চেষ্টা করেছিল। তার খাবারের মধ্যে বিষও দিয়েছিল। যে জাতি আমাদের নবীকে হত্যা করতে পারে আর যে জাতি আমাদের অসংখ্য নবীদেরকে আগেও হত্যা করে আসছে। কিভাবে ভাবলাম যে তারা আমাদের বন্ধু? অথচ আল্লাহ কুরআনে বলেছেন তারা কখনোই তোমাদের কল্যাণ চায় না। তারা ভিতরে যেটা গোপন করে সেটা আরো বেশি ভয়ংকর। তিনি জাদুগ্রস্ত হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যেই সমস্যাটা হচ্ছিল সেটা হচ্ছে তিনি ভুলে যাচ্ছিলেন। কোন কাজ করলে মনে রাখতে পারছিলেন না। এমন কি তিনি তার স্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন কিনা সেটাও মনে রাখতে পারছিলেন না। জাদুগ্রস্ত হলে খুব খারাপ অবস্থা হয়। even আমার রিকোয়েস্ট থাকবে আপনারা অনতিবিলম্বে কুরআন,সুন্নাহ, সহি, জিকির, আজকার ,দোয়া কালাম এগুলো শিখে নিবেন। এবং সকাল সন্ধ্যা এগুলো প্র্যাকটিস করবেন। তখন ইনশাআল্লাহ কোন জ্বীন বা জাদুকর আপনাকে ক্ষতি করতে পারবে না। এই যে সমস্যাটা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হলো এরপর একদিন তিনি শুয়ে আছেন আল্লাহর তরফ থেকে দুইজন ফেরেশতা তার কাছে আসলেন। এসে তারা একে অপরের সাথে কথোপকথন করছেন এবং এই কথোপকথন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একজন ফেরেশতা আরেকজন ফেরেশতা কে বলছেন এই ব্যক্তির কি হয়েছে? ওই ফেরেশতা জবাব দিচ্ছেন ,তাকে জাদু করা হয়েছে। আবার ইনি বলছেন কে যাদু করেছে? মানে কথোপকথনের মাধ্যমে তাকে message দেওয়া হচ্ছে। উনি বলছেন অমুক মহিলা জাদু করেছেন।

part 6 তিনি বলছেন যাদু কি দিয়ে করা হয়েছে। উনি বলছেন জাদু চুল দিয়ে করা হয়েছে। তিনি বলছেন জাদুর উপকরণ গুলো কোথায় আছে? উনি বলছেন জাদু উপকরণ গুলো অমুক কুয়ার এবার তিনি মেসেজ পেলেন যে জাদুর উপকরণ আসলে কোথায় আছেন ?এই মেসেজ তো আর আমরা পাব না কেউ জাদুগ্রস্ত হয়ে গেলে। তখন জ্বীনকে সামনে হাজির করায় কথা বলতে হয়। তারপর সে উপকরণগুলো বলে দেয় এই ট্রিটমেন্ট গুলো খুব ভয়ঙ্কর। আপনারা যদি দেখে থাকেন তাহলে দেখবেন ভয় পেয়ে যাবেন। যাই হোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মেসেজ দেওয়া হলো যে জাদুর উপকরণগুলো ওই কূপের নিচে আছে। তিনি সকাল বেলায় উঠলেন এবং উঠে আলী রাদেয়াল্লাহু আনহুকে বললেন। এই আলী ওই কুপের নিচে জাদুর উপকরণ আছে ওটাকে ধ্বংস করে আসো। এই একমাত্র সাহাবী যার জীবনী পড়লে আমাদের ঈর্ষা হয়। শুরু থেকে যখন তার বয়স ছয় সাত তখন থেকে সে ইসলামের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন ।আর এই সাহাবী কেউ মানুষ হত্যা করেছেন। আলী রাদেয়াল্লাহু আনহু কে ও মানুষ হত্যা করেছে। আর যে হত্যা করেছে সে বলেছিল যে আল্লাহর শুকরিয়া যে আল্লাহ আমার হাতে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষকে হত্যা করালেন নাউজুবিল্লাহ ।তাহলে এই যে আমরা সমাজে একটা কথা শুনি না যে লোকটা দোষ না করলে এমনি জেলে আছে। ঠিক না কথাটা। ভালো মানুষকে এইভাবেই মরতে হয়েছে শুধু তাকেই নয় ওসমান রাদেয়াল্লাহু আনহু কে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছে। even আমাদের রাসূলকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। অনেক নবীকে হত্যা করা হয়েছে। যাই হোক তার জীবনিটা পড়লে দেখবেন সেই শুরু থেকে ইসলামের পাশে পাথরের মত পাহাড়ের মত।তো উনি গেলেন এবং গিয়ে ওই উপকরণগুলো ধ্বংস করলেন। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অনুমতি চাইলেন। ইয়া রাসুলুল্লাহ আমাদেরকে অনুমতি দেন যে আপনাকে যাদু করেছেন আমরা তার গর্দান উড়িয়ে দিব। এবং সাথে ওমর রাদেয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন কারণ এটা বিশাল অপরাধ। ইসলাম স্টেট এর যিনি department of president তাকে আপনি যাদু করেছেন। এখন তো ইসলাম স্টেটের কোন দেশের কাউকে যদি সামান্য একটা ওয়ার্ডও বলা হয় তাহলে তো তার অবস্থা খারাপ। আর সেটা তো বিশাল ব্যাপার। আমাদের নবীজি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানবতার মুক্তির দূত। তিনি বললেন আমি ওই মহিলাকে মাফ করে দিলাম। তিনি বললেন আমি ওই মহিলাকে মাফ করে দিলাম। কারণ এই যে ঘটনাটা ঘটলো। এটা আসলে কাদের জন্য ঘটলো জানেন,তার উম্মার জন্য ঘটলো। এই ঘটনাটার মধ্যে দিয়ে আল্লাহ পাক আমাদের কে দুইটা সূরা দিলেন। যাতে কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ এইসব সমস্যা থেকে বেঁচে থাকতে পারে। এটা আল্লাহর হিকমা প্রজ্ঞা ।আল্লাহ তাআলা ইউসুফ আলাইহিস সাল্লাম কে জেল খাটাইছে। খাটান নাই। ইউসুফ (আঃ) এর জেলে যাওয়ার বদলতে লক্ষ লক্ষ মানুষ দুর্ভিক্ষ থেকে বেঁচে গেছে। এই হল আল্লাহর হিকমা। মাঝে মাঝে যে বিপদ গুলো আমাদের মাঝে হয় তার পেছনে কোন না কোন কল্যাণ বা খেইর থাকে যেটা আমরা বুঝতে পারি না।

part 7 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মাফ করে দিলেন। এবং তখন সূরা নাস এবং ফালাক নাযিল হলো একসাথে। একসাথে নাযিল হলো এবং তিনি তেলাওয়াত করছিল একটা একটা করে আয়াত আর তখন একটা একটা করে গিট খুলে যাচ্ছিল। এই হল এর শানে নুযূল বা প্রেক্ষাপট। এবার আসেন এর ফজিলত দুইটা বলি। সূরা নাস এবং ফালাকে স্পেশাল দুইটা ফজিলত আছে। যেমন যে ব্যক্তি সূরা ফালাক ,সূরা নাসএবং সূরা ইখলাস এই তিনটা সূরা যে সকাল এবং সন্ধ্যা তিনবার তিনবার তিনবার করে পড়বে। যদি সকালে পড়ে তাহলে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাবতীয় হঠাৎ বিপদ থেকে বেঁচে থাকবে। ধাপাশ করে কোন বিপদে পড়বে না ইনশাল্লাহ। আপনারা দেখবেন সপরিবারে যাচ্ছে মাইক্রো নিয়ে বিয়ের দাওয়াত খাইতেই ডেড স্পট ডেড। হঠাৎ করে দেখবেন সকালে ঠিক মত আসে হঠাৎ দেখবেন স্টক নাই ।হঠাৎ করে বিপদে ইনশাল্লাহ সে পড়বে না। যে ব্যক্তি সকালে তিনবার করে সূরা ফালাক ,সূরা নাস এবং সূরা ইখলাস পড়বে। আর বিশ্বাস করেন এই কাজগুলো আমাদের চাচাদের বয়সে যারা আছে তাদেরকে শিখাতে হয় না। আমাদেরকে শিখাতে হয় ,তাদেরকে শিখাতে হয় না। আবার যে ব্যক্তি সন্ধাবেলায় সূরা ফালাক সূরা নাস এবং সূরা ইখলাস ও তিনবার করে পড়বে সারারাত সে যাবতীয় ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকবে। এই হলো একটা বড় ফজিলত। তাহলে ইনশাল্লাহ আমরা আজকে থেকে বরং এখন থেকে তিনবার সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং সূরা ইখলাস প্রতিদিন পড়ার অভ্যাস করব ইনশাআল্লাহ। এটা একটা আমল, দ্বিতীয় ফজিলত হলো ঘুমানোর পূর্বে যখন বিছানায় যাবেন অনেকগুলো সুন্নাহ আছে বিছানা ছেড়ে নেওয়া,লাইট অফ করা,প্রয়োজনে অজু করে নিবেন, আয়তাল কুরসি পড়বেন,তাজবি তাহলিল করবেন প্রয়োজনে সূরা মুলক পড়বেন। যদি কিছুই করতে না পারেন তাহলে সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং সূরা ইখলাস তিনবার করে পড়বেন। কিভাবে পড়বেন তা আমি বলে দিচ্ছি,প্রথমে হাত সামনে নিয়ে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পড়ে সূরাতুল ইখলাস , সূরাতুল ফালাক এবং সূরাতুল নাস পড়ে হাতের তালুতে ফু দিবেন তারপরে মাথা থেকেশুরু করে পুরা শরীরে যতটুকু হাত যায় মাসে করবেন একবার তারপরে আবার একবার করবেন তারপর আবার একবার করবেন মোট তিন বার। তিনবার কেন এটা আমি এখন এসে বুঝতে পারছি। স্টুডেন্ট লাইফে বুঝতে পারি নাই। আসলে কুরআন এবং সুন্নাহর এত জ্ঞানের সমুদ্র যেখানে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি আসলে কোন কূল কিনারা খুঁজে পাচ্ছি না। আসলে কি সল্যুশন দিব? তাই যতই জানি মনে হয় আমি কিছুই জানি না।একটা হাদিস সেদিন আমরা জানলাম সেটা হল যখন মানুষ ঘুমায় তখন শয়তান চলে আসে কাছে। মানে সবার সাথে একটা করে শয়তান আছে ওই শয়তান চলে আসে ওর নাম হচ্ছে কারিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মাফ করে দিলেন। এবং তখন সূরা নাস এবং ফালাক নাযিল হলো একসাথে। একসাথে নাযিল হলো এবং তিনি তেলাওয়াত করছিল একটা একটা করে আয়াত আর তখন একটা একটা করে গিট খুলে যাচ্ছিল। এই হল এর শানে নুযূল বা প্রেক্ষাপট। এবার আসেন এর ফজিলত দুইটা বলি। সূরা নাস এবং ফালাকে স্পেশাল দুইটা ফজিলত আছে। যেমন যে ব্যক্তি সূরা ফালাক ,সূরা নাসএবং সূরা ইখলাস এই তিনটা সূরা যে সকাল এবং সন্ধ্যা তিনবার তিনবার তিনবার করে পড়বে। যদি সকালে পড়ে তাহলে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাবতীয় হঠাৎ বিপদ থেকে বেঁচে থাকবে। ধাপাশ করে কোন বিপদে পড়বে না ইনশাল্লাহ। আপনারা দেখবেন সপরিবারে যাচ্ছে মাইক্রো নিয়ে বিয়ের দাওয়াত খাইতেই ডেড স্পট ডেড। হঠাৎ করে দেখবেন সকালে ঠিক মত আসে হঠাৎ দেখবেন স্টক নাই ।হঠাৎ করে বিপদে ইনশাল্লাহ সে পড়বে না। যে ব্যক্তি সকালে তিনবার করে সূরা ফালাক ,সূরা নাস এবং সূরা ইখলাস পড়বে। আর বিশ্বাস করেন এই কাজগুলো আমাদের চাচাদের বয়সে যারা আছে তাদেরকে শিখাতে হয় না। আমাদেরকে শিখাতে হয় ,তাদেরকে শিখাতে হয় না। আবার যে ব্যক্তি সন্ধাবেলায় সূরা ফালাক সূরা নাস এবং সূরা ইখলাস ও তিনবার করে পড়বে সারারাত সে যাবতীয় ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকবে। এই হলো একটা বড় ফজিলত। তাহলে ইনশাল্লাহ আমরা আজকে থেকে বরং এখন থেকে তিনবার সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং সূরা ইখলাস প্রতিদিন পড়ার অভ্যাস করব ইনশাআল্লাহ। এটা একটা আমল, দ্বিতীয় ফজিলত হলো ঘুমানোর পূর্বে যখন বিছানায় যাবেন অনেকগুলো সুন্নাহ আছে বিছানা ছেড়ে নেওয়া,লাইট অফ করা,প্রয়োজনে অজু করে নিবেন, আয়তাল কুরসি পড়বেন,তাজবি তাহলিল করবেন প্রয়োজনে সূরা মুলক পড়বেন। যদি কিছুই করতে না পারেন তাহলে সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং সূরা ইখলাস তিনবার করে পড়বেন। কিভাবে পড়বেন তা আমি বলে দিচ্ছি,প্রথমে হাত সামনে নিয়ে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পড়ে সূরাতুল ইখলাস , সূরাতুল ফালাক এবং সূরাতুল নাস পড়ে হাতের তালুতে ফু দিবেন তারপরে মাথা থেকেশুরু করে পুরা শরীরে যতটুকু হাত যায় মাসে করবেন একবার তারপরে আবার একবার করবেন তারপর আবার একবার করবেন মোট তিন বার। তিনবার কেন এটা আমি এখন এসে বুঝতে পারছি। স্টুডেন্ট লাইফে বুঝতে পারি নাই। আসলে কুরআন এবং সুন্নাহর এত জ্ঞানের সমুদ্র যেখানে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি আসলে কোন কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছিনা ।আসলে কি সল্যুশন দিব ,যতই জানছি মনে হয় আমি কিছুই জানিনা।একটা হাদিস সেদিন আমরা জানলাম ,সেটা হলো মানুষ যখন ঘুমায় তখন শয়তান কাছে চলে আসে। মানে সবার সাথে একটা করে শয়তান আছে ঐ শয়তান টা চলে আসে যার নাম হচ্ছে কারিন। যেটা কোরআনে আছে।সে এসে এই যে আমাদের গর্দান আছে এই গর্দানে তিনটা গিট দেয় এবং প্রতিটা গিটে সে বলে তোমার সামনে দীর্ঘ রাত তুমি ঘুমাও,তোমার সামনে দীর্ঘ রাত তুমি ঘুমাও,তোমার সামনে দীর্ঘ রাত তুমি ঘুমাও। আরামে ঘুমাও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যখন বান্দা যদি ফজরের আযান শুনে উঠে যায় তখন একটা গিট খুলে যায়। যখন সে ওজু করে তখন আরো একটা গিট খুলে যায়। আর যখন সে জামাতের সাথে সালাত আদায় করে তখন তিনটা গিট খুলে যায়।

ফু দিয়ে মাসেহ ও সকাল-সন্ধ্যার আমল

আর আমরা এই তিনটা কাজ যদি না করি সকাল আটটা নয়টা দশটায় উঠি তাহলে এই তিন টা গিট নিয়েই সকাল করবে সে ।তাহলে চিন্তা করেন তার সারাদিনটা কেমন যাবে? হয়তো এই কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম তিনবার করে মাসেহ করেছেন। যাতে শয়তানের প্রভাবটা কম হয়। এটা একটা রিজেন্ট এটা একটা ফজিল। আর আমি যে এই কথাগুলো বলছি ফু দিয়ে মাসেহ করা, গিটের কথা আমাদের মর্ডান সো কল ওয়েস্টেন্স সিভিলাইজেশন এন্ড সাইন্স এগুলো অস্বীকার করবে। এবং এই কথাগুলো আমাদের স্কুল কলেজের প্রফেসররা শুনলে হাসবে। আপনারা ডিসাইড করবেন আপনারা কুরআনকে ফলো করবেন নাকি ওয়ান আই পিপলদেরকে ফলো করবেন। তবে হ্যাঁ ,এটাও বলি আজকে বা আগামীকাল যদি দেখি ডিসকভারি চ্যানেল বা ন্যাশনাল জিওগ্রাফি তারা বলছে আমরা নতুন একটা তথ্য পেয়েছি। কি সেই তথ্য? মানুষ যখন ঘুমায় এটা হয় সেটা হয় একজন সত্তা এসে গিট দেয় হ্যাঁ, তারপর যখন মানুষ ভালো কোন কালাম পড়ে তখন শরীর ভালো ফিল করে। একটা নাম দিয়ে দিল কঠিন একটা মেডিকেল সাইন্স এর নাম তখন মানুষ ঠিক ই বিশ্বাস করবে, অবশ্যই বিশ্বাস করবে। এখন মানুষে অনেকেই বিশ্বাস করে না। এটাকে বলা হয় তাদের ইবাদত করা। যদি বলে অমুক গ্যালাক্সির দূরে একটা গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে। যেই গ্রহটা হিরা দিয়ে তৈরি,যেখানে সোনার গাছ আছে। সেখানে অন্য গ্রহের কিছু প্রাণী আছে সবাই সেইটা এক বাক্যে বিশ্বাস করে নিবে ।আমি চ্যালেঞ্জ করলাম এক বাক্যে বিশ্বাস করবে ।কিন্তু আল্লাহ বলেছেন অমুক জান্নাত রেডি রেখেছি যেখানে হীরা দিয়ে তৈরি , সোনা দিয়ে তৈরি , সেখানে এটা আছে সেই টা আছে। তারা বলবে এটা তো অলৌকি গাল গল্প বলতেছে এটা তো ব্যাকডেটেড। কুরআন আনসিভিলাইজ পিপলদের কাজিন । তো এদের ধোকায় পড়বেন না। এটা দাজ্জাল। যেটা আপনাদেরকে ওয়ান আইড বানাচ্ছে একচোখা বানাচ্ছে। তাদের দৌড় এখন পর্যন্ত ওই পর্যন্ত যায়নি যা আল্লাহু রাব্বুল আলামিন ১৪০০ বছর আগেই ফাজিল করেছেন। ইয়াকিন তা না থাকলে ঈমান শেক করবে। তারপর এই হল আপনার ফজিলত কয়েকটা কয়েকটা বললাম। এই যে আমরা ফরজ সালাত পরি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার করে সুরা ফালাক ,সূরা নাস এবং সূরা ইখলাস পড়তেন। এটা একটা ,এই কাজগুলো করলে যেটা হবে সেটা হলো এই যদি সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং সূরা ইখলাস আপনি শোয়ার সময় পড়েন,সকালে সন্ধ্যায় পড়েন এবং প্রত্যেক ফরজ সালাতের পরে পড়েন। আপনি অনেকগুলো বেনিফিট পাবেন, সেগুলো কি? এক নাম্বার হচ্ছে আপনি দৃশ্য অদৃশ্য অনেকগুলো বিপদ আপদ থেকে বেঁচে থাকবেন। দুই নাম্বার হচ্ছে আপনি হঠাৎ করে বিপদে পড়বেন না। তিন নাম্বার হচ্ছে এই কুরআন আপনার জন্য পরকালে সুপারিশ করবেন ।এটা সবচেয়ে বড় হাদিস ।কারণ কোরআনের সাথে আপনার সম্পর্ক আছে।এ আপনাকে পরকালে সুপারিশ করবে। তাছাড়া চোখ লাগা থেকে আপনি বেঁচে থাকবেন, বদ নজর থেকে বেঁচে থাকবেন। এগুলোর প্রত্যেকটার অস্তিত্ব ইসলাম অস্বীকার করে নেই ,স্বীকার করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন ইন্নাল আয়নাল হাক মানুষের বদ নজর সত্য। আপনার ছেলের স্বাস্থ্য খুব ভালো ,আপনি এক জায়গায় নিয়ে গেলেন তারপরে মানুষ দেখল আর বলল বাহ আপনার ছেলে তো অনেক সুস্বাস্থ্যর অধিকারী। পর দিন দেখবেন আপনার ছেলে অসুস্থ হয়ে গেছে। ব্যবসা করতেছেন খুব সুন্দর অনেকে আসতেছে আর বলছে বাহ ভালই তো ব্যবসা দাঁড়া করিয়েছেন ।দেখবেন খলাপস পড়ে গেল। চোখের বদ নজরটা সত্য।এর দলিল সূরা কাফের মধ্যে আছে,যদি কারোর কোন কিছু ভালো লাগে তাহলে তখন বলতে হবে মাশাল্লাহ ,খুব সুন্দর সুবহানাল্লাহ, চমৎকার আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ পাক দিয়েছেন। এই কথাগুলোর প্র্যাকটিস করবেন। এ সংস্কৃতি গুলো আপনাকে চোখ লাগা থেকে বাঁচাবে। এগুলো তো আমাদের স্কুল ,কলেজ ,বিশ্ববিদ্যালয় শেখানো হয় না। চোখ লাগা আবার কি জিনিস ওটা ব্যাকডেটেড মানুষের কাজ। ওটা কুসংস্কার। এটা হচ্ছে গোরা মুসলিমদের কথা। রাস্তায় যে মেয়েরা ঘুরে বেড়ায় এরা চোখ লাগায় ।এদের পিছনে চোখ লাগছে মানুষের। আর একবার চোখ লাগলে খুব সমস্যা আছে। একবার এক সাহাবী গোসল করছিলেন, আরেকজন সাহাবী তাকে দেখে বললেন বাহ তোমার স্কিন টা তো খুব সুন্দর।একদম মনে হচ্ছে কুমারী মেয়ের মতো স্কিন ।সাথে সাথে ওই সাহাবী সেখানে বেহুশ হয়ে পড়ে গেলেন। একদম সাথে সাথেই। এটা বুখারীর হাদিস। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই সাহাবীকে ডাকলেনএবং ডেকে বললেন তুমি কি তোমার ভাইকে মারতে চাও। তিনি বললেন আমি আবার কখন মারতে চাইলাম আমি তো শুধু বললাম তার স্কিনটা খুব সুন্দর। ,সে তো অনেক সুন্দর আমি তো তার প্রশংসা করলাম। তখন নবীজি বললেন যে কেন তুমি কল্যাণ বা বরকতের দোয়া করলা না। মাশাল্লাহ তোমার স্কিন টা অনেক সুন্দর। মাশাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ ,এগুলা কেন বললা না। তখন ওই সাহাবীকে গোসল দেওয়া হলো। এবং ওই সাহাবীর গোসলের পানি দিয়ে এই সাহাবীকে গোসল দেওয়া হলো। তারপর উনি সুস্থ হলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন ইন্না আয়নাল হাক। চোখের বদনজর সত্য। তো যাই হোক এই হল সূরা ফালাক নাসের ফজিলত। অনেক ফজিলত যেটা বলে শেষ করা যাবে না। এখন আমরা আসি শুধু এর সার্ধিক অর্থগুলো আপনাদেরকে শেয়ার করব,করে শেষ করবো ইনশাল্লাহ। সূরা ফালাক এবং নাস একসাথে অনুবাদ করে দিচ্ছি আপনাদেরকে। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আল্লাহপাক বলেছেন। কুল আমি জানি আমাদের মুখস্ত আছে। কুল মানে হচ্ছে বলুন।আউজু ,আউজু মানে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর নাউজু মানে আমরা আশ্রয় প্রার্থনা করছি। যখন আপনি বলেন আউজুবিল্লা এটা হচ্ছে এক বচন ।আর যখন আপনি বলেন নাউজুবিল্লাহ এটা হচ্ছে বহুবচন। ভালো কথা এরাবিক গ্রামার শিখবেন টুকটাক। না, হলে কি হবে জানেন। না হলে যেটা হয় আমি একটা মসজিদে দেখেছি একজন ইমাম আছেন মাশাল্লাহ আল্লাহ পাক তাকে নেক হায়াত দারাজ করুক। তিনি প্রতিদিন নিজের জন্য দোয়া করেন এবং মুসল্লিরা আমিন আমিন বলে।

part 9 সে প্রতিদিন নিজের জন্য দোয়া করেন হে আল্লাহ আমাকে বার্ধক্য থেকে বাঁচাও ,হে আল্লাহ আমাকে কবরের আযাব থেকে বাঁচাও,আমার রিজিকে বরকত দাও। আর সবাই আমিন আমিন বলে উঠে চলে যায়। তাহলে তাদের দোয়ার কি হলো? দোয়া বহুবচনে করতে হতো। হোক এরাবিক গ্রামার একটু শিখবেন টুকটাক। কুল মানে বলুন, আউজু মানে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি,বি রব্বিল ফালাক ,বি রব্বিল মানে রবের কাছে বা রবের নিকটে,আর ফালাক মানে হচ্ছে সকাল বা প্রভাত বা ঊষা। এই আয়াতে সরল অর্থ হলো,বলুন হে নবী আপনি বলুন যে আমি সকালের রবের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এটা প্রথম আয়াত, তারপরে হলো মিন শাররি মা খালাক মীন মানে হতে,আর শার মানে ক্ষতি অনিষ্ট বা অকল্যাণ ,মা খালাক মানে যা কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহপাক যত কিছু সৃষ্টি করেছেন সমস্ত সৃষ্টির সমস্ত সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আমি আল্লাহর বা সকালে রবের কাছ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। সমস্ত সৃষ্টি পড়ে গেল এখানে এক কথায় সব শেষ। আল্লাহ নিজে এবং তার কালাম কুরআন বাদে সমস্ত কিছুই তো তার সৃষ্টি। এই সমস্ত সৃষ্টির কোন না কোন অকল্যাণ রয়েছে। এই অকল্যাণ থেকে আমি হে আল্লাহ আপনার কাছ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। সকালের রবের আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তিন নাম্বার আয়াত হচ্ছে অমিন্ শাররি গ-সিক্বিন্ ইযা-অক্বাব্ ,অ মানে এবং, মিনশাররি মানে ক্ষতি থেকে। গসিক মানে রাত। ইযা-অক্বাব্ মানে যখন সেটা গভীর হয়। গভীর রাতের নিষ্ঠা থেকে বা ক্ষতি থেকে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তার মানে গভীর রাতে ক্ষতি আছে। যারা আজকে 31st নাইটের কনসার্ট করবে তারা বুঝবে না। ৪ নাম্বার আয়াতে আসেন,অমিন্ শাররি ন্নাফ্ফা-ছা-তি ফিল্ ‘উক্বদ্।অ মানে এবং,মিনশাররি মানে ক্ষতি থেকে,ন্নাফ্ফা-ছা-ত শব্দের অর্থ হচ্ছে জাদু করিনি মহিলারা ।যত মহিলারা জাদু করে। আর জাদুর সাথে মহিলার সম্পর্ক বললাম আমি শুরুতে। জাদুর সাথে ম্যাক্সিমাম সময় মহিলাদের সম্পর্ক থাকে। বেশিরভাগ মহিলারাই জাদু করে সাধারণত। জাদু চর্চা করে, প্র্যাকটিস করে। এসব মহিলাদের জাদু থেকে বা জাদু করিনি থেকে। ফিল্ ‘উক্বদ মানে গিট ,আমি যে বললাম গিটের মধ্যে ফু দিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জাদু করেছিল। ওই গিটে ফু দিয়ে যাদুকরিনি মহিলাদের ক্ষতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আরেকটা আছে শেষের আয়াত অমিন্ শাররি হা-সিদিন্ ইযা-হাসাদ্।হাসিদ মানে হিংসুক। ইযা-হাসাদ্ মানে যখন সে হিংসা করে। তাহলে এই আয়াতের অর্থ হচ্ছে হিংসুকের অর্নিষ্ঠা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি,যখন সে হিংসা করে। আবারও বলছি ভালো করে শুনুন। হে নবী আপনি বলুন,আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি সকালের রবের কাছে।তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সবকিছুর ক্ষতি থেকে। স্পেশালিফ রাতের ক্ষতি থেকে যখন সেটা গভীর হয় জাদু করিনি নারীদের থেকে যারা গিটে ফুৎকার দেয়। আর হিংসুকের হিংসা থেকে যখন সে হিংসা করে। এই হল সূরাতুল ফালাক। সূরা নাসে আসেন, আল্লাহ বলছেন কুল অর্থ হচ্ছে বলুন। আ’উযুবিরাব্বিন্না-ছ ,আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি,রাব্বিন্না-ছ মানে মানুষের রবের কাছে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি। মালিকিন্না-ছ,মানে মানুষের মালিকের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ইলা-হিন্না-ছ,মানে মানুষের ইলাহের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। কি থেকে ,মিন শাররীল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ, মিন শাররীল মানে ক্ষতি থেকে,ওয়াছ ওয়াছ মানে কুমন্ত্রণা দেওয়া বা ওয়াছ ওয়াছা দেওয়া। যে গুলা আমাদের হৃদয়ের মাঝে আসে। খান্না-ছ মানে হল আত্মগোপনকারী। যে আমাদের এই টাইম ফ্রেমের আড়ালে থাকে দেখা যায় না। যাকে দেখা যায় না নিজেকে হাইট করতে পারে। এই আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণা দাতা অনিষ্ঠ থেকে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি আল্লাহর ।আল্লাযি ইউওয়াছ ইসু ফী সুদুরিন্নাছ।যে ব্যক্তি মানে যে ইউওয়াছ ইসু মানে ওয়াছ ওয়াছা দেয় ফী সুদুরিন্নাছ,সুদুর মানে সদর বা বুক মানুষের হৃদয়ে। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ , জীন জাতির মধ্য থেকে এবং মানবজাতির মধ্য থেকে। এই হল সূরা ফালাক এবং নাস এর সরল অনুবাদ।

part 10 এবার আপনাদের আমি একটা সামারি করে দিচ্ছি। ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন এই দুটি সূরাকে একসাথে চিন্তা করতে হবে।এটা একটা প্যারালাল সূরা। আলাদা করে না একসাথে চিন্তা করে দেখবেন,এই দুইটা সূরা থেকে আমরা বেশ কয়টা বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। এক নাম্বার আমরা আশ্রয় চাচ্ছিলাম আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টির ক্ষতি থেকে। এটা কমন একদম সমস্ত সৃষ্টির যতগুলো ক্ষতি সব ক্ষতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছিলাম। দুই নাম্বার স্পেশালি এই ক্ষতিগুলো থেকেই স্পেশালি রাতের ক্ষতি থেকে গভীর রাতের ক্ষতি থেকে আরো চাচ্ছিলাম জাদু করিনি মহিলাদের থেকে। আরো চাচ্ছিলাম হিংসা এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে। চারটা স্পেশাল ।এবং সূরা নাসে আরো আছে।যে খান্না-ছ হৃদয়ে ওয়াছ ওয়াছা দেয় তার ক্ষতি থেকে।এই পাঁচটা স্পেশাল ক্ষতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি এই দুইটি সূরায় । কিন্তু কেন? কারণ,কারণটা বলার আগে আরেকটা কথা বলি,সেটা হলো এই যে ক্ষতিগুলো এগুলো থেকে আপনি সূরা ফালাক এবং নাসের মাধ্যমে আশ্রয় পাবেন। কখন আসলে পাবেন যখন আপনি আল্লাহকে রব হিসাবে গ্রহণ করছেন। যখন আপনি আল্লাহকে মানুষের ইলাহ হিসাবে গ্রহণ করছেন। যখন আপনি আল্লাহকে মানুষের মালিক হিসেবে গ্রহণ করছে। আল্লাহ পাক একটার পর একটা বলছেন রাব্বিন্না-ছ,মালিকিন্না-ছ,ইলা-হিন্না-ছ যে ব্যক্তির মনে সন্দেহ আছে যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ তার ইবাদত পাওয়ার যোগ্য। সে এই দুই টি সূরার মধ্যে কোন উপকার পাবে না। যে ব্যক্তির মধ্যে ডাউট আছে যে আল্লাহ ছাড়া কেউ সন্তান দিতে পারে,আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদা করা যায়। আল্লাহ ছাড়া অন্যরাও বিধান দিতে পারে ।হ্যাঁ, আল্লাহ বিধানের চেয়ে এদের বিধান ভালো। এই রকম ডাউট যাদের ইলাহ যাদের ভিতরে আছে, এইসব সূরা তাদের কোন কাজে আসবে না। এগুলো আগে তাওহীদ আগে প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহই রব তিনি মালিক,আল্লাহ রব মানে প্রতিপালক। ,তিনি আবার মালিক যার হুকুম চলে অন্য কারো হুকুম চলে না ।তিনি হলেন ইলাহ , যিনি উপাসনার যোগ্য, অন্য কেউ উপাসনার যোগ্য নয়। এগুলো তাওহীদ জার স্ট্রং মনের ভিতরে ।তারপর আপনি এই পাঁচটা বিষয় থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছেন। এই হল সূরা ফালাক এর সরল অর্থ। একটা প্রশ্ন শেষ করে দেই।তা হল এই পাঁচটা বিষয়ই স্পেশালী কেন? কারণ জগতে অনেক ক্ষতি আছে,আল্লাহ তাই আগেই বলে দিয়েছেন, তার সমস্ত সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষতি স্পেশাল। যেগুলো আমাদের সাধ্যের বাইরে। আপনার সামনে যদি শত্রু থাকে আপনি দেখতে পারবেন। আর কিছু কিছু জিনিস আছে যা অদৃশ্য যা আপনি দেখতে পারবেন না। সেইটা দেখার মত চোখে আমাদের ক্ষমতা দেয়া হয়নি। আল্লাহ পাক বলেছেন কুকুরেরা শয়তানকে দেখতে পারে। কুকুর শয়তানকে দেখতে পারে, আযানের সময় কুকুররা শয়তানকে দেখতে পারে, আযানের সময় কুকুরা চিল্লায় বেশি ,আযানের সময় শয়তানরা পালায়। হাদিসে আসছে আযানের সময় শয়তানরা পালায়। কুকুর শুনে বেশি আমাদের চাইতে। এরকম বিভিন্ন প্রাণি সম্পর্কে কিন্তু আসছে। তার মানে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা অদৃশ্যকে দেখি না। এইজন্যে অদৃশ্য গায়েবের বিষয়গুলা সব ক্ষতির চাইতেও স্পেশালি , স্পেশালি বলেছেন হিংসা হিংসুক ,স্পেশালি বলেছেন রাত্রের অনিষ্ঠ রাতের গভীরতা ।স্পেশালি বলেছেন জাদুকরিনি নারীরা। এবং বলেছেন এর মধ্যে ওয়াছ ওয়াছা দেয় যে শয়তান খান্না-ছ।এগুলা এটা আমরা দেখতে পারি না কোনটাই। আর যেটা আমরা দেখতে পারিনা সেই শত্রুর সাথে আমি কিভাবে লড়তে পারি। এটা আমার পক্ষে সম্ভব না। তাহলে কে আমার হয়ে লড়বে? যে বিশ্ব এবং বিশ্বের সব দেখতে পারে। তাই এই দুটি সুরা কে বলা মুয়াউয়িযাতাইন বা আশ্রয় প্রার্থনার দুটি স্পেশাল সূরা। আর যেদিন থেকে এই সূরা নাযিল হয়েছে সেদিন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগের সব দোয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। আগে তিনি আশ্রয় চাওয়ার জন্য অনেক দোয়া পড়তেন। সব দোয়া ছেড়ে দিয়ে তিনি সূরা ফালাক এবং নাসের প্রতি আমল করা শুরু করলেন। এবং এই দুটি সূরার মধ্যেই সব কিছু চলে আসছে। শুধু কয়েকটা পয়েন্ট বলছি। সেটা হলো যে, রাতের বেলা কিছু ক্ষতি আছে, আপনাদের বাচ্চাদেরকে কখন সন্ধার পরে বাইরে যেতে দিবেন না। রাসূলুল্লাহ বলেছেন সন্ধার পরে বাচ্চাদেরকে ঘরের মধ্যে রাখবেন। কারণ সন্ধ্যার সময় জীন জাতি বের হয় যাদেরকে তোমরা দেখো না। এবং তারা আমাদের কখনো কল্যাণ চায় না বেশির ভাগ জীন দুষ্ট প্রকৃতি।তারা কিন্তু চ্যালেঞ্জ করছে আল্লাহকে এদেরকে আমি জাহান্নামে নিয়ে যাব। একটাবার যদি কাউকে আক্রমণ করে ফেলে তাদেরকে solved করা অনেক ডিফিকাল্ট কাজ আমি বারবার বলছি ।সন্ধ্যা বেলায় দেখবেন যেন বাচ্চারা বাইরে না যায়। এখানে এই সূরায় রাতের কথা আসছে। গভীর রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে ঘোরাফেরা করতে নিষেদ করেছেন ।তিনি বলেছেন গভীর রাতে এমন অনেক মাখলুক আকাশে এবং জমিনের মাঝখানে থাকে যাদেরকে তোমরা দেখতে পারো না। তাই গভীর রাতে আমরা যেন বাইরে না যাই। আসলে আমাদের সিস্টেম চেঞ্জ হয়ে গেছে তো রাত এখন দিনের জায়গায়,দিন রাতের জায়গায়। এজন্য এগুলো আমরা কেয়ার করি না। কিন্তু সমস্যা গুলো কিন্তু ঠিকই হচ্ছে। আরো ব্যাপার আছে সেটা হলো আমাদের সন্তানকে এবং আমাদের পরিবার পরীজনকে সব সময় ঝাড়ফুঁক করবেন। ঝাড়ফুঁক মানে আমি তাবিজ ঝুলানো বুঝাই নাই। আমি বুঝিয়েছি সূরা ফালাক ,নাস, আইতাল কুরসি,সূরা বাকার এগুলো পড়ে পড়ে ফু দিবেন আর যারা পড়তে জানেন না তারা অডিও টেপ শুনতে পারেন। অডিও টেপ রেকর্ডিং ছেড়ে দিবেন বাসায় দেখবেন ওখান থেকে শয়তান পালিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ ।

part 11 আপনি যদি কোরআন শরীফ পড়তেও না জানেন আমার রিকোয়েস্ট হচ্ছে কাইন্ডলি রিকোয়েস্ট হচ্ছে কোরআন শুনবেন। কুরআন এমন একটি কিতাব শুনতে শুনতে ওই বইয়ের প্রতি আপনার ভালোবাসা সৃষ্টি হয়ে যাবে। এক সময় আপনি পড়তেও বসবেন ইনশাআল্লাহ। কোরআনের সাথে সম্পর্ক তৈরি করেন ইনশাল্লাহ। আরেকটা আমি টিপস দিচ্ছিলাম জাদুর ।এটা থেকে সেফ থাকার জন্য সকাল এবং সন্ধ্যায় অনেক আমল আছে। ফজরের পরে মাগরিবের পরে আমলগুলো ছাড়বেন না। প্রিয় সম্মানিত ভাইয়েরা, এবং আমার চাচার বয়সি যারা আছেন সবাইকে বলছি এই আমলগুলা কোনদিনও ছাড়বেন না। যদি একটা দিনও গাফেলতি করেন আমি আমার জীবন থেকে বলছি ,যদি একটা দিনও আমলগুলো করতে গাফিলতি করেন সেই দিনই কোন না কোন অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে। সকালে সন্ধ্যায় যেই জিকির আজগার আছে সে গুলোর দিকে একটু বেশি শক্তিশালী হতে হবে।কমন কিছু জিনিস আছে যেমন আয়তাল কুরসির,সূরা বাকারার শেষের দুই আয়াত আছে ,সূরা হাশরের শেষের তিন আয়াত আছে,তারপরে তাজবীর তাহালিল আছে সুবহানাল্লাহ ,আলহামদুলিল্লাহ। দোয়া যদি হিসাব করেন ৫০ টা পার হয়ে যাবে। আমি কিছু দুআর নাম ও সাজেস্ট করছি যেমন আইনের রাসুল দোয়ার বই আছে,হিসনুল মুসলিম এটা সবচেয়ে বেস্ট একটিদোয়ার বই কিনতে পারেন ,তারপরে হানাফী মাজহাব অনেক ভালো একটা বই। আরো আছে হিসনে হাসিন সেই বইটা আমার বাসায় আছে । ওইটাও ফলো করতে পারেন। তারপর রুকিয়া একটা বই আছে ওইটাও ফলো করতে পারেন। শহী দোয়া ঝাড়ফুঁক একটা বই আসছে মদিনা থেকে সেটাও ফলো করতে পারেন। অনেক বই আছে এই বইগুলা কালেক্ট করবেন। এবং সকাল সন্ধ্যা এই দোয়া গুলো পড়বেন তাহলে জাদু এবং চোখ লাগা বদ নজর জীন গ্রস্ত থেকে ইনশাল্লাহ আপনারা সেইফ থাকবেন। আরেকটা ক্ষতি বলছিলাম মহিলা খুব সাবধান জাদুকরিনি মহিলা ,কবিরাজ এদের থেকে খুব সাবধান । রাসূল বলেছিলেন যদি কোন ব্যক্তি কোন গণকের কাছে যায়, গিয়ে যদি বলে দেখেন তো আমার ভবিষ্যৎটা। এগুলো হচ্ছে না আমাদের দেশে টিয়া পাখি নিয়ে রাস্তায় বসে থাকে না। যদি কোন ব্যক্তি যায় এবং বলে দেখেন তো আমার ভাগ্যে কি আছে এটা শুধু জিজ্ঞাসা করে তাহলে সেই ব্যক্তির ৪০ দিনের সালাত বাতিল বলার সাথে সাথে নাউজুবিল্লাহ ।আর যদি গণক যা বলেছে ওইটা যদি সে বিশ্বাস করে ইয়াকিন করে নেয় হ্যাঁ, আমার ভালো হবে চাকরি বাকরি হবে। রাসূল বলেছেন তার নাম কুরআন অস্বীকারকারী খাতায় লেখা হবে। এই হাদিসগুলো আমাদের বেশি বেশি চর্চার দরকার ছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা এগুলো জানিও কম,আমল কম। এজন্য দেখবেন আমাদের দেশে এগুলোর প্রচলন অনেক বেশি। তো এগুলো থেকে সাবধান ।আরেকটা বিষয় শেষ করছি হিংসার হিংসুক। এটা খুব মারাত্মক। রাসূল বলেছেন যে হিংসা করে ,যদি আপনি হিংসা করেন তাহলে আপনার আমলনামায় যত নেকি আছে সেগুলো সব পুড়ে যাবে, নাউজুবিল্লাহ।রাসূল বলেছেন যে হিংসা করে বলেছেন যে হিংসা করে,হিংসা তার নেক আমল গুলোকে খেয়ে ফেলে ঠিক যেমন করে আগুন কাঠ কে খেয়ে ফেলে। সেইভাবে নেক আমলকে হিংসা খেয়ে ফেলে। সো আমরা হিংসা থেকে দূরে থাকবো। হিংসা আর ঈর্ষা এক নয়। হিংসা হচ্ছে আল্লাহ তোকে যা দিয়েছে ধ্বংস হয়ে যাক খারাপ নেগেটিভ জিনিস চিন্তা করা । আর ঈর্ষা হচ্ছে আমিও যদি ওই লোকটার মত আল্লাহর পথে দান করতে পারতাম ,আমিও যদি ওই লোকটার মত মানুষকে আল্লাহর পথের দাওয়াত দিতে পারতাম বা ভালো কিছু বলতে পারতাম , বা কুরআনের জ্ঞান পেতাম ।এগুলো জায়েজ। আল্লাহ বলেছেন দুইজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঈর্ষা জায়েজ। যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং সে দিন রাত আল্লাহর পথে খরচ করে এই ব্যক্তিকে দেখে ঈর্ষা করা জায়েজ । যে আল্লাহ আমাকে দিলে আমিও করতাম ।আরেক ব্যক্তিকে দেখলে জায়েজ। যে ব্যক্তির জ্ঞান আছে কুরআন সুন্নাহর জ্ঞান আছে এবং সেই জ্ঞান দিয়ে মানুষকে ভালো কিছু শেখায়। এটা তার জন্য ঈর্ষা করা জায়েজ ।আর হিংসা অন্য জিনিস নেগেটিভ ট্রথ যেটা হচ্ছে মানুষকে তোরটা ধ্বংস হয়ে যাক এটাই হিংসা। আর একটা হচ্ছে হিংসুক এটা থেকে খুব সাবধান। আপনি হিংসা করছেন না কিন্তু হিংসার শিকার হতে পারেন। আর বিশ্বাস করেন আমার কথা এটা যেমন ইসলাম বিরোধীদের মধ্যে যেমন আছে ইসলাম পন্থীদের মধ্যেও সেই রকম আছে।

বদনজর থেকে সুরক্ষা ও হিংসা থেকে বাঁচা

সব জায়গায় হিংসার ছড়াছড়ি ,হিংসা আছে এটা আপনি দেখতে পাচ্ছেন না। তো এইটা থেকে প্রটেকশন কি করবেন? কি পদ্ধতিতে এটা থেকে প্রটেকশন করবেন? একজন সাহাবী সম্পর্কে রাসূল বলেছেন ওই সাহাবী জান্নাতে যাবে।তো ইনভেস্টিগেশন করে দেখা গেল সেই সাহাবী কোন আমলই করে না শুধু ফরজ ,ওয়াজিব আমল করে ।তাকে আরেকজন সাহাবী ডাকলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কি এমন আমল করো? রাসূল বলেছেন তুমি জান্নাতে যাবে। তিনি বললেন ভাই আমি তো এত আমল করি না,আমি ফরজ ওয়াজিব যা আপনারা করেন সেটাই করি। আমি রাতে যখন ঘুমাই সবাইকে মাফ করে দিয়ে ঘুমাই। আপনার যদি এমন হতে পারেন তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ পাক তৌফিক দান করে সহজ করুন। যদি কেউ আপনার উপর হিংসা করে তাহলে কি করবেন আপনি তো বুঝতে পারবেন না। প্রটেকশন হচ্ছে এই সূরা ফালাক। আপনি দিনরাত সূরা ফালাক পড়েন হিংসুকের হিংসা থেকে আপনি বেঁচে থাকবেন ইনশাল্লাহ। লাস্ট যেটা হচ্ছে ওয়াছ ওয়াছা এটা হচ্ছে কুমন্ত্রণা এটা একটা রোগ ডাক্তাররা অনেক নাম দিয়েছে। কুরআন বলেছে ইউওয়াছ ইসু ফী সুদুরিন্নাছ হৃদয়ের মাঝে ওয়াছ ওয়াছা দেয়। নামাজে দাঁড়াবেন দেখবেন ওয়াছ ওয়াছা শুরু হয়ে গেছে।অনেক ঘটনা আপনার নামাজে মনে পড়বে যেটা আপনার কখনো মনে ছিল না সারা জীবনও মনে ছিল না। তো এই ওয়াছ ওয়াছা থেকে বাঁচার বুদ্ধি হচ্ছে সূরা নাস । আমি একটা ছেলের কথা জানি ইয়াং ছেলে কি যে ওর মাথায় একটা ওয়াছ ওয়াছা ঢুকে গেছে যে ওর অজু হয় না। সারাদিন ও অজুইএই হল সূরা ফালাক এবং নাস এর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতে থাকে ওর নামাজ চলে যাচ্ছে। ওর মনে হয় ওর অজু হয়নি আবার অজু করে। আবার কেউ টয়লেটে যাচ্ছে বের হয়েছে মনে হচ্ছে যেন ওর পেশাব এক ফোঁটা দুই ফোঁটা বের হচ্ছে আবার সে টয়লেটে দৌড়ায়। এগুলো শয়তান ওয়াছ ওয়াছা দেয়। আপনার ব্যাপার গুলো নরমালি নিতে হবে ।কিন্তু নরমালি নিতে পারবেন তখনই যখন সূরা ফালাক এবং নাস এর উপর আমল করবেন ।এগুলো ওয়াছ ওয়াছা আরো ওয়াছ ওয়াছা আছে যেমন আমাদের হৃদয়ের মধ্যে অনেক সময় অনেক চিন্তা আসে এগুলো কমন এগুলো নিয়ে আপনারা উদ্বিগ্ন হবেন না। রাসূলের কাছে সাহাবীরা বলেছিলেন আমাদের মাঝে এমন অনেক চিন্তা আসে যেগুলো প্রকাশ হওয়াটা আমরা কষ্টকর মনে করি। রাসূল বলেছেন এটা হচ্ছে ঈমানের লক্ষণ। যখন এমন কোন ওয়াছ ওয়াছা আসবে এখন আপনি বলবেন আমানতু বিল্লাহি ওয়া রাসূলিহি। এই হল সূরা ফালাক এবং নাস এর সংক্ষিপ্ত আলোচনা। আরো অনেক আলোচনা করার ছিল কিন্তু আপনাদের ধৈর্যের ত্রুটি হবে। শেষ একটা হাদিস বলে আমি শেষ করছি সেটা হল যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে আল কুরআন হুজ্জাতুন লাকা আও আলাইকা এই হাদিসটা যদি আমরা মনে রাখি এটাই যথেষ্ট। তিনি বলেছেন এই কুরআন কিয়ামতের মাঠে তোমার পক্ষে বা বিপক্ষে আল্লাহর কাছে বিচার দিবে বা সাক্ষী দিবে। হয় পক্ষে দিবে না, হলে বিপক্ষে। তাহলে এখন আমরা কি করব? ঠান্ডা মাথায় ভাবি কি করলে কুরআন আমাদের পক্ষে সাক্ষী দেবে। আর কি করলে আমাদের বিপক্ষে সাক্ষী দেবে।আর বিশ্বাস করেন কুরআন যার বিপক্ষে সাক্ষী দেবে তার নাজাতের কোন পথ নাই। আরেকটা হাদিস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ইন্নাল্লাল হাইয়া রাফফাউ বিহাজাল কিতাবুন আককিউ ওয়ামান। আল্লাহ পাক বহু সম্প্রদায় কে এই বইয়ের দ্বারা উন্নত করেন ,মর্যাদা মন্ডিত করেন। আর অসংখ্য সম্প্রদায়কে এই বই না আমার কারনে অপদস্ত করেন। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে কোরআনের কাছে ফিরে আসার তৌফিক দান করুন। আমাদেরকে ধারাবিকভাবে কুরআন শেখার তৌফিক দান করুন। আল্লাহ পাক কোরআনের মাধ্যমে আমাদের হায়াতে ,রিজিকে বারাকাত দান করুন ।আমাদেরকে দৃশ্য-অদৃশ্য সমস্ত বিপদ থেকে আল্লাহ পাক আমাদের বাঁচিয়ে রাখুন। আমাদের বাচ্চাদের এবং আমাদের নেক্সট প্রজন্মদেরকে কোরআনের আলোয় আলোকিত করতে পারি এবং ওদেরকে শিখাইতে পারি সেই তৌফিক দান করুন। নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াতে তৌফিক দান করুন। এবং আল্লাহ পাক আমাদের হালাল রুজির পথ করে দিন। সূরা ফালাক এবং নাস উপর আমল করার আল্লাহ পাক তৌফিক দান করুন। সবাই একটু দোয়া করি সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়াবি হামদিকা আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লা আনতা নাস্তাগ ফিরুকা আতুবু ইলাইক। আসসালামু আলাইকুম ।

সাধারণ প্রশ্ন

সূরা ফালাক ও নাস কোন সূরা নামে পরিচিত?

আলোচনায় বলা হয়েছে, সূরা ফালাক ও নাসকে একসাথে মুয়াউয়িযাতাইন বলা হয়, যার অর্থ আশ্রয় প্রার্থনার দুইটি সূরা।

সকাল ও সন্ধ্যায় কোন সূরাগুলো তিনবার পড়ার কথা বলা হয়েছে?

সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং সূরা ইখলাস সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়ার কথা বলা হয়েছে।

ঘুমানোর আগে কীভাবে এই সূরাগুলো পড়ার কথা বলা হয়েছে?

হাতের তালুতে সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে ফু দিয়ে মাথা থেকে শুরু করে শরীরে হাত বুলানোর কথা বলা হয়েছে, এটি তিনবার করতে বলা হয়েছে।

সূরা ফালাক ও নাসের শানে নুযূল কী বলা হয়েছে?

আলোচনায় বলা হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জাদু করা হয়েছিল এবং এই দুই সূরা নাযিলের সময় একটি একটি করে আয়াত তেলাওয়াতে একটি একটি করে গিট খুলে যাচ্ছিল।