রাসুল (সাঃ) এর জীবনী
নবীজির চরিত্র নিয়ে কটূক্তির প্রেক্ষাপট
বিশেষ করে শেষ ১০০ বছরে যখন থেকে অটোম্যান এম্পিয়ারদের ডিফিট করা হয়েছে ১৯২১ সালের পর থেকে। এই ট্রেনটা খুব বেড়ে গেছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র চরিত্র নিয়ে এখন যে যার মতো ব্যাখ্যা করার প্রয়াস পেয়েছে আর কি? যদিও এটা আবু লাহাবের সুন্নাহ আবু জাহেলের সুন্নাহ। উৎবা ইবনে মোহিত ,আরেকজন ছিল উদবা ইবনে আমির আরেকজন ছিল সাল্লাম ইবনে আবু হুকাইদ এইসব মানুষ ছিল আইয়ামে জাহিলেতের মধ্যে। এই মানুষের সুন্নাহ গুলোই এখন নতুন করে চালু করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। মুক্ত চিন্তার নামে বাক স্বাধীনতার নামে কলম চর্চার নামে বিভিন্ন নাম দিয়ে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র চরিত্র নিয়ে যা ইচ্ছা তাই কথা বলার চেষ্টা করছি বা দুঃসাহস দেখাচ্ছি। তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাবিউ ওয়া তাবব। কি জন্য নাযিল হয়েছিল? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সবাইকে সমবেত করে বলেছিলেন আমি যদি তোমাদেরকে বলি এই পাহাড়ের পিছনে শত্রু দল অপেক্ষা করছে তোমরা কি আমার কথা বিশ্বাস করবে। সবাই বলেছিল আমরা তোমাকে আল আমিন বা সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করি আমরা অবশ্যই তোমার কথা বিশ্বাস করব। তখন তিনি বলেছিলেন তোমরা শুধু বলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তোমরা সফল হয়ে যাবে। একটা আইয়ামে জালিয়াতের কথা। আবু লাহাব তালি দিয়েছিল। হাত দিয়ে তালি দিয়েছিল এবং ঢিল নিক্ষেপ করেছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কষ্ট দিয়েছিল। আল্লাহ পাক সূরা নাযিল করেছিল তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাবিউ ওয়াতাব্বা । ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হাত এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক। কেয়ামত পর্যন্ত এই পৃথিবীতে যদি একটা মুসলিমও বেঁচে থাকে এবং সে যদি কোরআন পড়তে জানে সে এই সূরা পড়ার মধ্য দিয়ে আবু লাহাবকে অভিশাপ দিতে থাকবে ইনশাআল্লাহ তাআলা । এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শান এবং মর্যাদা ।সে শুধু একবার বলেছে হাত তালি দিয়ে এই কথা বলার জন্য আমাদেরকে ডেকেছিলে। এই কথা বলার জন্য আমাদেরকে ডেকেছো। আমরা আমাদের বাপ-দাদার ইলাহ কে বাদ দিয়ে আমরা তোমার একার ইলাহকে বিশ্বাস করব এর জন্য ডেকেছ ঢিল নিক্ষেপ করেছিল। গালি দিয়েছিল। তার আপন চাচা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আপন চাচা আল্লাহপাক আয়াত নাজিল করলেন আবু লাহাব ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও। তার যে সম্পদ এবং সে যা অর্জন করেছে পৃথিবীতে এগুলো কোন কাজেই আসবে না। শীঘ্রই অচিরে সে এমন এক আগুনে প্রবেশ করবে যে আগুন লাল অগ্নিশিখা নির্বাপিত করছে। সাথে তার স্ত্রীও যে কিনা কি করতো? খড়কুটা বহন করত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর আঙ্গিনায় ফেলতো। তার গলায় থাকবে খেজুর পাকানো রশি এটা দিয়ে তাকে আজাব দেওয়া হবে নাউজুবিল্লাহ। কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ বেঁচে থাকবে মুসলিম যারা কোরআন পড়বে ছোট হোক বড় হোক ধনী হোক গরিব হোক সাদা হোক কালো হোক যে কোন জায়গায় যে কোন বর্ণের যেকোনো জাতি যেকোন রঙের। আবু লাহাব কে সে কেয়ামত পর্যন্ত গালি দিতে থাকবে। এটা আল্লাহ পাকের বিচার। আর পরকালে তো তার যন্ত্রণা দায়ক শাস্তি অপেক্ষা করছেই।
উতাইবা ও তায়েফ-রাজীর ঘটনা
আরেকজন ব্যক্তি ছিল যার নাম উতাইবা । এ আবু লাহাবেরই ছেলে। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সে গিয়ে বলছে। এই সূরার এই প্রথম দিকের আয়াতগুলো আমি বিশ্বাস করিনা। এক পর্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বাক বিদ্বন্দ্ব করতে লাগলো। আমাদের নবীজি তো তর্ক করতেন না। স্বল্পভাষী , মিষ্টিভাষী , নরম মানুষ তর্ক করতেন না নিজে কখনো কাউকে একটা থাপ্পরও দেননি এমন মানুষ ছিলেন। এই মানুষটাকে সে সে থুতু দিক্ষেপ করেছিলেন কিন্তু সেই থুতু আল্লাহপাক তার মুখ পর্যন্ত পৌঁছাতে দেননি নাউজুবিল্লাহ। আরো কষ্ট দেয়ার জন্য তার জামাকাপড় ধরে টানা হেচরা করছিলো। আর রাহীকুল মাখতুম বইতে আছে পড়ে দেখবেন। তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কষ্ট পেয়েছিলেন এবং কষ্টে পেয়ে সে বলেছিলেন আল্লাহর কাছে ওই মুহূর্তে বলেছিলেন আল্লাহ জাহান্নামে তোমার যে কুকুরগুলো আছে। জাহান্নামে কুকুর আছে আজাব দেওয়ার জন্য। এর পিছনে আল্লাহ তুমি লেলিয়ে দিও। এটা বদদোয়া করেছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমাদের কিছু সুশীল আছে যারা বলতে চায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কখনো কুতু ভাষা ব্যবহার করতেন না কখনোই না। প্রয়োজনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদদোয়া করেছেন। প্রয়োজনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টানা দের দুই মাস বদ দোয়া করেছেন। কোথায়? রাজাইর ঘটনা। রাজাই একটাও ঝর্ণার নাম বা একটা কুপের নাম একেকজন একেক ভাবে ব্যাখ্যা করে। এখানে দশজন সাহাবীকে চোরা গুপ্তা হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়। একদল লোক এসে বলেছিল আপনার সাহাবীদের মধ্যে এমন কিছু সাহাবীদেরকে পাঠান যাদেরকে আমাদের কওমে নিয়ে গেলে ইসলাম শেখা যাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১০ জন সাহাবী কে পাঠিয়েছিলেন। এই ১০ জনকে ট্রাপে ফেলে এখন যেমন মুসলিমদেরকে ট্রাপে ফেলে হত্যা করা হয়। তিনজন ভাগ্যবশত বেঁচে যান পাহাড়ের উপরে আশ্রয় নেন। তাদেরকে বলে তোমরা নেমে আসো তোমাদেরকে ছেড়ে দেব। তারা তীরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত ছিলেন তারা মনে করলেন হয়তোবা তারা তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করবেন তারা নেমে আসলেন। নামার সাথে সাথে তাদেরকে মেরে ফেলল। মক্কায় বিক্রি করে দিল। তাদের মধ্যে একজনের নাম খুবাইব রাদিআল্লাহু আনহু। খুবাইব রাদিআল্লাহু আনহু যার নাম আমাদের যুবসমাজ জানে না। আমাদের যুব সমাজ শাহরুখ খানের নাম জানে খুবাইব রাদিআল্লাহু আনহুর নাম জানে না।যাকে মক্কার সবার সামনে একটা গাছের নিচে মক্কার সবার সামনে শূল দ্বন্দ্ব দিয়ে হত্যা করা হলো। শূল দ্বন্দ্ব মানে পিছনের রাস্তা দিয়ে লোহার মতো কিছু একটা ঢুকে মাথা থেকে বের করে হত্যা করা । এই দ্বন্দ্ব দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করার আগে তাকে বলা হয়েছে তুমি কি চাও? সে বলেছিল আমি দুই রাকাত নামাজ পড়তে চাই। এবং নামাজটাকে সে সংক্ষিপ্ত করেছিল এবং সংক্ষিপ্ত করে সে আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে দোয়া করেছিল হে আল্লাহ উপস্থিত যারা আছে তুমি তাদের একজনকেও তুমি ছেড়ো না । তাদের সবাইকে তুমি এক জায়গায় করে হত্যা করো। দেখা গেছে ওই সবার লাশ বদরের কূপে পড়েছিল। বদরের পরেও যে যুদ্ধগুলো হয়েছিল এগুলোতে এরা মারা গেছে। আসলে ঘটনাটা বদরের পরেই সম্ভবত।
খুবাইব ও বীরে মাউনার ট্র্যাপের ঘটনা
যাই হোক আমি যেটা বলতে চাচ্ছিলাম খুবাইব রাদিআল্লাহু আনহুকে অপশন দেওয়া হয়েছিল তোমার জায়গায় যদি মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করি তুমি কি নিষ্কৃতি নিবে? সে বলেছিল আমার জায়গায় যদি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটা চুল কেও যদি আঘাত প্রাপ্ত করা হয় আমি সেটাও বরদাশ করবো না। এবং তিনি তখন একটা কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন। বিভিন্ন কিতাবের মধ্যে কবিতাটি আছে। আমি কোন পরোয়া করিনা যখন আমাকে মুসলিম হিসাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। যেই পাশে আমাকে পাশ ফেরানো হোক না কেন এই পাশ আল্লাহর জন্যেই। তিনি এমন একজন ইলাহ তিনি চাইলে মানব দেহের প্রত্যেকটা হার এবং গোশতের বারাকা দিতে পারেন। তাকে এভাবে শহীদ করা হয়। তো এই ১০ জনকে ট্রাপে ফেলে হত্যা করা হয়। খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের মধ্যে একজন। খেয়াল করে দেখেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ঘটনার পরে এক থেকে দেড় মাস তিনি টানা বদ দোয়া করেছেন এই কওম কে যেন আল্লাহপাক ধ্বংস করেন। ঠিক আরেকটা ঘটনা এর কয়েক মাস পরে ঘটে যায়। বীরে মাওনার ঘটনা। বীরে মাওনায় একটা ঘটনা ঘটে যায়। যেখানে একইভাবে দ্বীন শেখার কথা বলে দায়ীদের কে ডেকে নিয়ে এসে ৭০ জন দায়ীকে একসাথে হত্যা করা হয়েছে ট্রাপে ফেলে । এই জিনিসগুলো হিস্ট্রির কথা মনে করিয়ে দেয় আমাদেরকে। ইসলামের ইতিহাস পড়ে দেখেন মঙ্গলরা , বাইজিন টাইনরা বিভিন্ন সময় মুসলিমদেরকে ট্রাপে ফেলে হত্যা করেছে। মসজিদে ঢুকিয়ে চারদিক থেকে মসজিদ পুড়িয়ে মুসলিমদেরকে হত্যা করেছে। এরকম অনেক ঘটনা ঘটেছে ইতিহাসে। আব্বাসের খেলাফতের সময় মঙ্গলরা যখন আক্রমণ করেছিল। মাত্র ৪০ দিনের ব্যবধানে ১০ থেকে ২০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল সবাই মুসলিম। একটা কথা মনে পড়ে যায় ওই ঘটনাটা বলতে গেলেই। ওই সময় আব্বাসিয়ার খেলাফতের যে আমীর ছিলেন বা খলিফা ছিলেন তারা মোটামুটি দুনিয়ার পূজারী হয়ে গিয়েছিলেন। দুনিয়ার যে মোহ তাদের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল। ধন সম্পদ জমা করে করে একেক জন স্তপ করেছিল আর কি। তো মঙ্গল যে কমান্ডার ছিল যে হত্যা করেছে সে আব্বাসের খলিফা কে টেনে হিছড়ে নিয়ে এসে বলছে কি চাও? সে বলছে আমি পিপাসক্ত আমি পানি চাই। তাকে কারাগারে নিয়ে গিয়ে ওর মুখটা দুইজন দুই দিক থেকে ধরে দুই দিক থেকে খুলে সোনার কয়েন ঢালা হয়েছে ওর মুখে। বলা হয়েছে খাও এগুলো এগুলো পান করো। মঙ্গল কমান্ডার যে মঙ্গল হালাকু খা নাম শুনেছেন চেঙ্গিস হালাকু খা তার বংশধর। সে বলেছিল মুসলিম খলিফাদেরকে এই যে ধন সম্পদ তোমরা জমা করেছিলে । এগুলো যদি তোমরা জমা না করে তোমাদের লোকেদের মধ্যে ব্যয় করতে তাহলে তোমাদের পক্ষে তারা যুদ্ধ করত ।এখন এগুলো খাও পানি নাই। মঙ্গল কমান্ডার কাছে শিক্ষানীয় বিষয় আছে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষেত্র বিশেষে বদ দোয়া করেছিলেন। এ ব্যক্তির সম্পর্কে বদ দোয়া দিয়েছিলেন যে আল্লাহ এই ব্যক্তি আমাকে কষ্ট দিয়েছেন এই ব্যক্তি আমার মুখে থুতু নিক্ষেপ করতে চেয়েছে সে আমার পোশাক ছিড়ে ফেলেছে । আল্লাহ তুমি তোমার জাহান্নামের কুকুরদের মধ্যে একটা কুকুর দিয়ে একে খাইয়ে দিও।
উকবা ইবনে মুঈদের আচরণ ও বদদোয়ার ফল
এই ব্যক্তি সিরিয়ায় গিয়েছিল ব্যবসা করতে। হঠাৎ করে রাত্রে বেলায় দেখে চারপাশে বাঘ। আর এগুলো কোন গাল গল্প নয়। হঠাৎ করে বাঘ চারপাশে। সে বলছে আমি মারা যাব। তার সঙ্গী সাথী যারা আছে তারা বলছে আমরা তো এখানে আছি কোন সমস্যা নেই আমরা তো কিছু দেখতে পাচ্ছি না। সে বলছে আমি যা দেখতে পাচ্ছি তোমরা তা দেখতে পাচ্ছ না। রাতের অন্ধকারে ঠিকই একটা বাঘ এসে তার গলা গর্দান ছিঁড়ে নিয়ে চলে গেছে। ওই যে বদদোয়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই যে ফল। আরেকদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ পড়ছেন কাবা হাতিমে। সেজদা দিয়েছেন উকবা ইবনে মুঈদ একজন কাফের। ওই যে উটের বড় উটের একটা নারি ভুড়ি ওই গল্পটা জানেন না। উঠে নারীভুড়ি নিয়ে এসে তার গর্দানে চাপিয়ে দিল। এবং পা দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসাল্লামের গালটাকে ঠেসা দিয়েছিল। যাতে প্রায় তার চোখ বের হয়ে আসতেছে এমন একটা অবস্থা। যদি কারো গালে খুব জোরে চাপ দেয়া হয় তাহলে চোখ লাল হয়ে আসবে না। এভাবেই স্পষ্ট লেখা আছে সিরাতের গ্রন্থ গুলোতে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করলেন তার মেয়ে ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহু। আল্লাহর নবী প্রচন্ড কষ্ট পেলেন সেই দিন। প্রচন্ড কষ্ট পেলেন। হাত তুলে তিনি একটা একটা করে নাম উল্লেখ করতে থাকেন আল্লাহ আবু জাহেল ইবনে হিসাব , উকবা ইবনে মুঈদ, উদবা ,সাইদা নাম উল্লেখ করতে থাকলেন একটা একটা করে । আল্লাহ তুমি এদেরকে ছেড়ো না তুমি এদেরকে দেখে নিও। নবীজি একবার যদি বলবেন কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ আমার উম্মত আল্লাহ আমার উম্মত ।আল্লাহ পাক নবীজির এক দোয়াতেই বলবেন তোমার উম্মতের মধ্যে যার মনের মধ্যে সরিষা পরিমাণ ঈমান আছে ওকে বের করে নিয়ে আসো। সে মানুষ যদি বদদোয়া করে নাম ধরে তাহলে বুঝেন তার কি অবস্থা হবে এবার চিন্তা করেন । সেই মানুষের শান, মর্যাদা এবং চরিত্র নিয়ে যদি কেউ কথা বলে কুতুক্তি করে তার কি অবস্থা হবে পরকালে তা চিন্তা করেন। হয়তোবা দুনিয়াতে কিছু হবে না পার পেয়ে যাবে। এই দুনিয়াটা চূড়ান্ত ফলাফলের জায়গা নয়। আর মুসলিমরা এখন দুর্বল। তাদের আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়া এখন আর কোন অপশনও নাই। দুয়ার অনেক অনেক অনেক ক্ষমতা আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন আর এই দশজনের লাশ বদরের প্রান্তরে পাওয়া গেছে। আবু জাহেল দেখবেন বদরের প্রান্তরে নিহিত হয়েছে উদবা, সাইদা সবাই বদরের কুপে ওখানে মারা গেছে ।এবং কুপে যখন তাদেরকে ফেলা হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলছিলেন তোমরা কি তোমাদের যা যাপ পেয়ে গিয়েছো। তখন সাহাবীরা বলছিলেন ইয়া রাসূলুল্লাহ তারা তো মাইয়াদ তারা তো শুনতে পাচ্ছে না আপনি কার সাথে কথা বলছেন। নবীজি বলছেন অবশ্যই তারা আমার কথা শুনছে এখন।
কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে মক্কা ও মদিনার অবস্থা
আরেকজন ব্যক্তি ছিল যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে কবিতা, গল্প, সাহিত্য, নৃত্য মেয়েদেরকে নাচাতো এ সব তৈরি করতো আর মক্কায় ছড়া তো। তার নাম আসনাক ইবনে শারীক।একটু বৃদ্ধ লোক ছিল বুদ্ধিজীবী টাইপের আর কি। খুব পন্ডিত । তো এ এই কাজ করতে থাকতো। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদ দোয়া করেছিলেন। প্লেগ বসন্ত গায়ে পচন ধরার মধ্য দিয়ে লোকের মৃত্যু হয়েছে। আমি বলতে চাচ্ছি এই আইয়ামে জালিয়াত থেকে এটা চলে আসছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জীবিত অবস্থায় এই ২৩ বছরে মোট ১৬ বার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এবং তার এই ২৩ বছরের নববী জীবনে ১৫ টা গালি খেতে হয়েছে। জাদুকর, মহা মিথ্যাবাদী, জামাত বিভক্ত কারী , ঐক্য বিনষ্টকারী অনেক কথা শুনতে হয়েছে ১৫ টার মতো । কাবা ঘরে যখন সে তাওয়াফ করছেন মক্কা বিজয়ের পরে তখন তাকে চোরা গুপ্ত হামলা চালিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে । তিনি বসে আছেন সামনে তরোয়ালি নিয়ে গেছে আল্লাহ পাক ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন তরোয়াল কেন নিয়ে এসেছ আমাকে হত্যা করার জন্য। সাথে সাথে সে মুসলিম হয়ে গেছে। দিদিরা দেখেছে বন নাজির । বন নাজির গোত্র যাদের ঘটনা সূরা হাসরের মধ্যে বর্ণিত আছে সূরা হাশরের পেছনে দেখবেন বনি নাজিরের ঘটনা আছে। এরা ডেকেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে চুক্তি নিয়ে কথা বলব শান্তি নিয়ে কথা বলব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বক্কর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নিয়ে গিয়েছেন দেয়ালের পাশে বসেছেন ওপর থেকে পাথর ফেলে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আল্লাহ পাক জানিয়ে দিয়েছেন তিনি সেখান থেকে চলে গিয়েছেন। প্রায় ১৬ বার আমার ছোট্ট গবেষণা সিরাতের বই পড়ে দেখেন। প্রায় ১৬ বার তাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাকে জীবিত অবস্থায় প্রায় ১৫ টা গালি খেতে হয়েছে কিন্তু প্রত্যেকটা বিষয়ের রিফলেকশন একই রকম ছিল না। মাক্কি জীবনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচন্ড সবর এবং ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। দোয়া করেছেন বদ দোয়া করেছেন হেদায়েতের দোয়া করেছেন। কিন্তু মাদানি জীবনে যখন নাবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন একটা স্টেটের প্রধান রাষ্ট্রপ্রধান তার কাছে ইকোনমিক পাওয়ার পলিটিক্যাল পাওয়ার সামরিক পাওয়ার সবকিছু আছে একটা সুপার পাওয়ার এর মতো। তখন তিনি এই অপবাদ গুলো সহ্য করেন নাই। একজন ব্যক্তির নাম কাহাব ইবনে আশরাফ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে বলেছেন ওকে মেরে চলে আসো। সাহাবীগণ এই মিশনটা বাস্তবায়ন করেছেন। পরে আরেকজন ছিলেন সাল্লাম ইবনে কায়ের এ এক ইহুদী নেতা। নবীজি বলেছেন এ আমাকে একদিন কষ্ট দিয়েছে কে আছো আমার মনে শান্তি দিতে পারো । তিনজন সাহাবী চলে গেলেন। খাইবারে দুর্গের মধ্যে ঢুকে তাকে হত্যা করা হয়েছে। সব সময় রিফলেকশন এক রকম ছিল না । মক্কা বিজয়ের পরে মক্কা বিজয়ের দিনে তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আম ভাবে। শুধু কয়েক শ্রেণীর মানুষকে বাদ দিয়ে।
মুসলিমদের বর্তমান করণীয় ও নিজেকে সংশোধন
যার মধ্যে একশ্রেণীর মানুষ হচ্ছে যারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সারা জীবন বিভিন্নভাবে কথা, গান, লেখা, নর্তকী বিভিন্নভাবে নবীজিকে কষ্ট দিত। ইবনুল খাত্তাল নামের একজন ব্যক্তি ছিল সে কাবাঘরের ক্লাব ধরে ঝুলে ছিল। ওই অবস্থায় আলী রাদিআল্লাহু আনহু তাকে হত্যা করেছে। আমি আপনাদেরকে এটা বলছি না যে এটাই সলিউশন আমি এটা বলছি না। আমি এটা বলছি যে জীবিত অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রায় পনেরোটা গালি খেতে হয়েছে। তাকে ১৬ বার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সব সময় তার রিফ্লেকশন একরকম ছিল না তার প্রতিক্রিয়া একরকম ছিল না। যখন মাক্কি যুগ মুসলিমদের অবস্থা দুর্বল মুসলিমদের হাতে কোন ক্ষমতা নেই , আলাদা রাষ্ট্র নেই , ইকোনোমিক্স ব্যাজ নেই। আমরা সেখানে অনেকটাই দুর্বল বেশ দুর্বল। বরং সেখান থেকে হিজরত করে চলে যেতে হয়েছে মদিনায়। সে ক্ষেত্রে ওই জায়গায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনরকম সামরিক এগ্রেশন নেন নাই। কোনরকম সামরিক বা আঘাদের বদলে আঘাত এইরকম কোন কনক্লিউশন এ যান নাই। সবর করেছেন বদদোয়া করেছেন ঠিক আমি যেমন বললাম আমাদের করণীয় এখন এটাই সবর করতে হবে আপনাকে বদদোয়া করতে হবে আপনাকে। আপনি নিজেকে এখন নবীজির আদর্শে থেকে দেখাবেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন আপনার সেই ক্ষমতা নাই সিম্পল । এখন আপনি এমন করে ইন স্ট্রেপ নিতে যাবেন না। এমন করে এখন আপনি ইন্ স্ট্রেপ নিতে যাবেন না যেমন করে মদিনায় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়েছিলেন। তাহলে মুসলিমরা উল্টা ক্ষতির মধ্যে পড়তে পারে। জমিন মুসলিমদের জন্য আর সংকুচিত হয়ে আসতে পারে। কিন্তু মদিনার যুগে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে যখন ক্ষমতা ছিল তখন তিনি একশন অন্যরকম নিয়েছেন। যদি কখনো আল্লাহ পাক এই জমিনে মুসলিমদের অবস্থা আবার সেই জায়গায় নিয়ে যান তখন সেই একশন নেয়া হবে। চোরের যে হাত কাটে, চুরি করলে যে হাত কেটে দেয় এটা কি আপনি এ ধরনের কোন সিচুয়েশনে বাস্তবায়ন করতে পারবেন। পারবেন না কারণ এটা ইসলামিক স্টেট নয়। যদি আল্লাহ পাক এই পৃথিবীর কোন জায়গায় ভবিষ্যতে কোথাও এরকম কোন স্টেট কায়েম করেন। আল্লাহ চাইলে করতে পারেন ।আল্লাহ চাইলে পারেন। যেটা বলতে গেলে সারা বিশ্বের কোথাও নেই। যেখানে আছে মোটামুটি এগুলো হচ্ছে আই ওয়াস। আই ওয়াসই থাক। এখন চোরের হাত কেটে যদি আমি ইহুদীদের সাথে বন্ধুত্ব করি তাহলে এটা কতটুকু ইসলামিক রাষ্ট্র হবে সেটা আল্লাহ ভালো জানেন। কথা বুঝতে পারছেন। চোরের হাত কাটলাম ঠিকই কিন্তু এখানে আমি ইকোনমিক্স সেকশনে সামরিক সেকশনে ইহুদী-খ্রিস্টানদের সাথে আমি বন্ধুত্ব করে রেখেছি। এটা কতটুকু ইসলামিক স্টেট এটা আল্লাহ পাক ভালো জানেন। যাইহোক ওদের কে নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নাই। বিষয়টা হচ্ছে যদি কোনদিন আল্লাহ পাক এমন কোন জায়গা দেন ভবিষ্যতে মুসলিমদেরকে তখন চোরের হাত ঠিকই কাটা হবে । তখন ব্যাভিচার এর শাস্তি ঠিকই দেওয়া হবে। জেনার জন্য বেত্রাঘাত ঠিকই করা হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু সেটা তো আপনি এখন করতে পারবেন না।
সমাজে শিরক, সুদ ও মাদকের বিস্তার
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে এবং চারপাশে হবে। এমন কোন আত্মঘাতী পদক্ষেপ নিবেন না। যাতে করে ইসলাম আরো সংকুচিত হয় এবং মুসলিমদের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। এখন কি করবেন সেটা আমি আগে বলছি? প্রথম কথা হচ্ছে আপনাকে আমাকে আমাদের সবাইকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত এর ওপর দাঁড়াতে হবে। আমি প্রতিদিন ক্লিন সেভ করি। আমার নবীকে কেউ গালি দিয়েছে কটুক্তি করেছে এটা নিয়ে আমার মাথাব্যথার শেষ নাই । আগে নিজের গালে দাড়ি নিয়ে আসো তুমি। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি না। আমার ইসলামকে নিয়ে কেউ যদি ব্যঙ্গ করে আমি এমন শোডাউন শুরু করি যাতে মনে হয় আমি একমাত্র পাক্কা মুসলিম আর কেউ মুসলিম না। আগে নামাজ পড়েন পাঁচ ওয়াক্ত। নবীর সুন্নাহ গুলো আগে নিজের ওপরে বাস্তবায়ন করেন। সবার আগে এটা কাজ আমাদের। দ্বিতীয় কাজ কি? নিজের পরিবারের ওপরে আগে ইসলামের নবীর যে সুন্নাহ গুলো আছে বাস্তবায়ন করা। এখানে তো কেউ আপনাকে চাপ প্রয়োগ করছে না। আপনি চাইলে আপনার পরিবারকে ইসলামিক পরিবার হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। এটা আপনার প্রথম দায়িত্ব প্রথম দিকের কাজ। নবীর সুন্নাহর ওপর থেকে মানুষকে নবীর সুন্নাহর দিকে ডাকা এটাও একটা কাজ। নবী সুন্নাহর ওপর নিজে আগে এস্টাবলিস্ট হয়ে তারপরে মানুষকে দেখানো যে এটাই নবীর সুন্নাহ ।আজকে আমাদেরকে দেখলে অনেকে সময়ই বাজে মন্তব্য করে। মুসলিমরা এই যে মাপে কম দিচ্ছে , মুসলিমরা মজুদ করছে , মুসলিমরা সুদ খাচ্ছে, মুসলিমরা ঘুষ নিচ্ছে , মুসলিমরা দুর্নীতি করছে মুসলিমদের দিকে আঙ্গুল তুলছে সবাই । এই জিনিসগুলো কি নবীর আদর্শ। আমরা তো নিজেরাই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের ওপরে এপ্রোপিয়েট থাকতে পারছি না। তাহলে আমরা কি সত্যি কারের অর্থে আদর্শ উম্মাহ হতে পেরেছি? আমাদের প্রথম কাজ আগে এইটা। আগে নিজের উপরে এটা প্রয়োগ করা। দেখবেন এভাবে আমরা যখন প্রত্যেকে নবী সুন্নাহ মেনে চলব। জীবনে , পারিবারিক জীবনে , ইবাদতে , অর্থনৈতিটে , সমাজে চলাফেরায় দেখবেন ইনশাল্লাহুতালা। ইনশাল্লাহুতালা আস্তে আস্তে আস্তে দেখবেন পরিবেশ সমাজ সব পরিবর্তন হবে আস্তে আস্তে। তাই প্রথমে এই নসিহাত অনেকেই উগ্রপন্থী ফেসবুকে পোস্ট করে থাকেন এটা ওইটা এগুলোতে যাবেন না আমার প্রিয় ভাইরা। এগুলো আমাদের দ্বীনের জন্য উল্টা ক্ষতি ডেকে আনবে। এবং যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিমদেরকে উস্কায় তারা চায় মুসলিমরা এমন কোন কাজ করুক যাতে করে তারা মুসলিমদেরকে ডমিনেট করার সুযোগ পায়। সো আত্মঘাতী কোন পদক্ষেপে যাবে না এটা আমার প্রথম নসিহত। আমরা কয়েকটা পয়েন্টে দেখাবো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেমন টাইপের মানুষ ছিলেন এবং কি করেছেন এবং দিনশেষে তিনি কি পেয়েছেন এবং আমাদেরকে কি দিয়ে গিয়েছেন। এবং আমাদের বেসিকেলি তার জীবনী নিয়ে আমাদের কি কি কাজ করা দরকার। আমি একটা পয়েন্ট দিয়ে শুরু করছি এক নাম্বার দেখেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সমাজে ছিলেন আইয়ামে জাহিলিয়াত বলিনা আমরা। কেন বলি সেখানে জাহিলিয়াত কাজ হতো তাই তো? জাহিলিয়াত কাজ বলতে অজ্ঞতা পূর্ণ কাজ মূর্খতা পূর্ণ কাজ। তো জাহেলকে যে জাহিলিয়াত কাজ করে সে জাহেল। আলেমকে যে ইলম অনুযায়ী আমল করে সে আলেম। একই সাথে জাহেল সে যে জাহিলিয়াত কাজ করে। আলেমে জাহিলিয়াতে যখন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নবী হচ্ছেন বা নবী হওয়ার আগে পরের সময়টা আপনি একটু সিরাট ঘাটাঘাটি করে দেখেন। ওখানে মেইন সমস্যা ছিল শিরকের মিশ্রণ । দুই নাম্বার ছিল রিবা বা সুদ। সমাজের ইকোনমিক পুরাই সুদ ভিত্তিক ছিল।
মক্কা বিজয়ের পর সমাজের অবস্থা
তিন নাম্বার হচ্ছে মাদক। চার নাম্বার হচ্ছে নারী জাতির ফেতনা। নারীর অবমাননা নারীদেরকে মোটেও মূল্যায়ন করা হতো না। তবে এতোটুকু বলে রাখি ওই যুগেও নারীদের পোশাক শালীন ছিল এই যুগে চাইতে। কিন্তু ওদেরকে অধিকার দেওয়া হতো না বৈবাহিক অর্থনৈতিক অধিকার দেওয়া হতো না। জেনা ছিল বেশি ব্যভিচার ছিল বেশি জুয়া এগুলো বেশি ছিল। গোত্রীয় হানাহানি দ্বন্দ্ব বেশি ছিল। এই প্রত্যেকটা প্রবলেম কি আমাদের এই বিশ্বে নাই। এখন কোন যুগটাকে আমরা আইয়ামে জাহেলিয়াত বলব। ওই যুগটাই কি খালি আইয়ামে জাহেলিয়াত নাকি আবার আইয়ামে জাহেলিয়াত ফিরে এসেছে। প্রতিটা জায়গা আপনি ঘেঁটে দেখেন শিরকে ছড়াছড়ি আছে ইভেন মুসলিমদের মধ্যেও শিরক আছে। প্রতিটা ডিপার্টমেন্ট ঘাটেন রিবা আর রিবা সুদ ছাড়া আমরা চলতে পারি না। সুদ খাবো আর বলবো নবীকে যে গালি দিয়েছে তাদেরকে হত্যা করো এই কথা বলব।নিজে আবার সুদখোর। তুমি নিজেই তো আল্লাহ এবং তার রাসুলের সাথে যুদ্ধ করছো। আল্লাহ পাক কি বলেছেন যে ব্যক্তি সুদ ছাড়ছে না সে কার সাথে যুদ্ধ করছে? আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ করছে তাহলে আমরা কোন মুখ নিয়ে এই কথা বলতে পারি যখন আমি নিজেই রিবা খাই। পরিবর্তন টা কোথায় দরকার ভাই। নিজেদের আগে না। এখন দেখেন সারা ওয়ার্ল্ড রিবা কেন্দ্রিক । এটা নিয়ে এখন আমি ব্যাখ্যা করতে চাচ্ছি না। এরপর হচ্ছে মাদক। আপনারা ভালো জানেন প্রত্যেকটা যুব সমাজের এই যে সেক্টর স্কুল লেভেলের বাচ্চারা এখন ভয়াবহ মাদক সেবন করছে এগুলোর নামও শুনিনি আমরা কখনো। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যত কাজ করছে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে তাও মাদক থামাতে পারছে না। প্রশাসনের লোকেরা মাদকের পিছে রেড দিতে দিতে মিশন চালাতে চালাতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। একটাকে ডিফেন্ড করছে আবার নতুন একটা মাদক আসছে এটা কি পরিকল্পিত না। একটা যুবসমাজ ধ্বংস করার জন্য। ওই জাহেলিয়াত এখন নাই। আছে । নারীর যে ফেতনা অবমাননা এটা আগের চেয়ে কমেছে না বেড়েছে। এই সংক্ষিপ্ত সময় ব্যাখ্যা করতে চাচ্ছিনা আপনারা ভালো জানেন বেড়েছে না কমেছে। মেয়েদের পোশাক এখন মেয়েদের পোশাক আছে না ছেলেদের পোশাক। পোশাক পরেও এখন মেয়েরা নগ্ন থাকছে না। ফেমিনিস্ট রেভুলেশন এর কারণে মেয়েরা ছেলেদের জায়গা নিয়ে নিয়েছে না। সমাজে যেনা বেড়েছে পরকীয়া বেড়েছে ধর্ষণ বেড়েছে। এর বিপক্ষে পশ্চিমা কোন সমাধান দিতে পেরেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বহুবিবাহ নিয়ে যারা কথা বলে। তাদের দেশে ৯১% যে মেয়ে বা মহিলা যারা ধর্ষণ হয় তাদের বয়স ২০ বছরের কম ১৮ বছরের কম। প্রায় ৬৪% আমি দেখলাম মেয়ে ধর্ষণ হয়েছে ওই সম্প্রদায় যারা আমাদেরকে শিখায় ইসলামে বহুবিবাহ কেন । কেন নবীজী অনেকগুলো বিবাহ করেছিলেন। বাদ দেন ওদিকে আমি যাচ্ছি না। মূল কথা হচ্ছে এই জাহেলিয়াত সমাজটাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবর্তন করেছিলেন কিনা। কত বছরের মধ্যে? মাত্র ২৩ বছরের মধ্যে।
নবীজির চরিত্র বনাম সমালোচনা
আমাকে একটা সমাজ বিজ্ঞানি দেখান, একটা রাজনৈতিক নেতা দেখান , একটা অর্থনৈতিক বিদ দেখান, একটা দার্শনিক দেখান, একজন মহামানব দেখান বা একজন লিডার দেখান। যে মাত্র ২৩ বছরের ব্যবধানে পুরো আইয়েমে জালিয়াতকে এমন ভাবে পরিবর্তন করেছেন। মক্কা বিজয়ের পরে না মক্কায় কোন শিরক আছে না, কোন সুদ আছে না, কোন মাদক আছে, না কোন নারীর হেনস্থা অবমাননা আছে না কোন বেপর্দা অশ্লীলতা আছে , না কোন জেনা আছে না ব্যভিচার আছে না গোত্রীয় হানাহানি দ্বন্দ্ব আছে। একটা মানুষ দেখান সারা বিশ্বে। চরিত্র কি নিয়ে গঠিত হয় শুধু কি বিবাহ কেন্দ্রিক বিষয় নিয়ে চরিত্র গঠিত হয়। মানুষের চরিত্র বলতে আমরা কি বুঝি? তার কথা , তার কাজ , তার আকিদা , তার ইবাদত তার আচরণ তার মমলাত তার সামাজিক ব্যাপার স্যাপার। একটা সমাজের জ্ঞান তার অর্থনৈতিক জ্ঞান তার পলিটিক্যাল জ্ঞান সবকিছু মিলায় তো একটা মানুষের ক্যারেক্টার। যখনই প্রশ্ন আসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে? সরাসরি চলে যায় তার বিবাহ নিয়ে কেন আর কোন সেক্টর নেই ক্যারেক্টার নিয়ে আলোচনা করার। ওগুলো তো ডিফেন্ড করাই যাবে। যাদের সাথে এ পর্যন্ত বাহাজ এ বসেছেন তারা তো এ বিষয়ে বোঝে না। কোন জ্ঞান দিয়ে এই ইন্টারনাল ব্লাইন্ড সেকুলার প্রজন্মকে ডিফেক্ট করা যায়। তারা শুধু ইসলামিক বিষয়গুলো শুধু আলোচনা করবে বাইরের বিষয়গুলো তা আনতে পারছে না। সো একটা মানুষের চরিত্র কত মহান হলে স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজে তাকে বলতে পারেন নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী আল্লাহপাক বলছেন সুবহানাল্লাহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ২৩ বছর সময় লেগেছে এগুলো পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ আলোকিত একটা ইসলামিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে। একটা পয়েন্ট বললাম তা চরিত্র আপনি বুঝে নিন তার ক্যাপাবিলিটি আপনি বুঝেন তার ব্যক্তিত্ব বুঝেন তার গাইরোধ বুঝেন তার শান মর্যাদা বুঝেন। দুই নাম্বার পয়েন্ট দেখেন নবীজি যখন নবী হননি তার আগের থেকে চেষ্টা করতো সমাজ পরিবর্তন করার জন্য। হিলফল ফজল তৈরি করেছিলেন ইত্যাদি। ৪০ বছর বয়সে যখন ওহি আসলো। কি আসলো আল কুরআন এবং তার ব্যাখ্যা সুন্নাহ। এই কুরআন এবং সুন্নাহকে কাজে লাগিয়ে এর শিক্ষা দিয়ে এর জ্ঞান টাকে প্রচার করে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরো সমাজটাকে সংস্কার করলেন। তাহলে এই যে জ্ঞান-তাত্ত্বিক বিপ্লব। আমরা যেটার কথা বলি জ্ঞান তাত্ত্বিক বিপ্লব জ্ঞানের রেভুলেশন , জ্ঞান নিয়ে কথা বলা , শিক্ষা দেওয়া , শিক্ষার মাধ্যমে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করার কে সবার আগে করেছে। এই ১৪০০ বছরের হিস্ট্রিতে। যারা আমাদেরকে সাইন্টিফিক এবং টেকনোলজিকেল জ্ঞানের কথা বলে তারা কতদিন হলো সভ্য হয়েছে। কতশ বছর আগে সেখানে ফরাসির বিপ্লব হয়েছে? কত শতাব্দি হলো সেখানে সাইন্টিফিক এবং টেকনোলজিক্যাল রেভুলেশন হয়েছে একশ দুইশ বছর। সর্বোচ্চ তিনশ বছর। ১৪০০ বছর আগে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কুরআন দিয়ে জ্ঞানের রেজুলেশন করেছেন। সাহাবীদেরকে জ্ঞানের শিক্ষা দিয়েছেন। কোন জ্ঞান। অভ্যান্ত সত্যের উৎস ওহির জ্ঞান। ওরা যেটা শিখাচ্ছে ওইটা বস্তুবাদী জ্ঞান এখানে পরকাল নাই এখানে জিন নাই, মালাইকা নাই, জান্নাত নাই, জাহান্নাম নাই , বেশ তো নাই হাসন নাই , ঈশ্বর নাই কিছুই নাই। ঈশ্বর নাই গডলেস এডুকেশন সিস্টেম।
মক্কার ১৩ বছরের দাওয়াতের শিক্ষা
গডলেস বলতে বুঝিয়েছি তাদের ভাষায়। ঈশ্বরহীন একটা সিস্টেম। তো আমরা যে জ্ঞানের একটা সিলসিলা দিয়েছি চৌদ্দশ বছর আগে। প্রত্যেকটা সাহাবী আবু বক্কর , ওমর , আলী , ওসমান থেকে শুরু করে একদম শেষ পর্যন্ত দেখবেন এই জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়েই সমাজ পরিবর্তন করেছেন । মক্কায় ১৩ বছর আমরা ছিলাম একজন সাহাবী কি কোন কাফেরের উপর হাত তুলে ছিল দেখাতে পারবেন? কোন কাফেরকে একজন সাহাবী হত্যা করেছে বা আঘাত করেছে বা থাপ্পড় দিয়েছে। বরং আপনি দেখবেন শত শত কাফের মুসলিমদেরকে নির্মমভাবে আঘাত করেছে অত্যাচার করেছে। বেলাল রাদিয়াল্লাহুকে শুইয়ে পাথর বিছিয়েছে , চাবুক মেরেছে , গা পুড়িয়ে দিয়েছে। কত কি করেছে। আবু সিনহায় চলে যেতে হয়েছে। তাইয়েবে গিয়ে নিজে মার খেয়ে আসতে হয়েছে। এই ১৩ বছর সহনশীল পরিচয় দিয়েছেন এই শিক্ষায় শিক্ষনীয় মানুষেরা। তারা কি উগ্র ছিলেন তারা কি সন্ত্রাসী ছিলেন তাদেরকে কি তরোয়ালের জোরে ইসলাম কবুল করানো হয়েছে? এই ১৩ বছরে যারা ইসলাম কবুল করেছিল তারাই তো পরে উহুদের যুদ্ধ করেছিল। পরে উহুদে গিয়েছেন পরে খন্দক খাইবারে গিয়েছেন। এই যে বেসিকটা তৈরি করেছি এই ১৩ বছরে । এ ১৩ বছরটা কি উগ্রতা দিয়ে প্রদর্শন করা হয়েছিল। কোন রকম আগ্রাসী মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছিল কোন কিছুই না। শুধু জ্ঞানতাত্ত্বিক সলিউশন দেওয়া হয়েছে । শুধু জ্ঞানের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয়েছে । হাদিস শিক্ষা দেওয়া হয়েছে । এই শিক্ষা দেওয়ার মধ্য দিয়ে যখন ভেতরটা পরিবর্তন হয়েছে তখন মানুষ আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছে। এই ছিল আমাদের মক্কার ১৩ বছর। যে মানুষটার কাছে কুরআনের মতো কিতাব আসে এক বাক্যে বলেন আমাকে কুরআনের একটা আয়াতকে কেউ মিথ্যা প্রমাণিত করতে পারবে। কুরআনে কারিম এর মধ্যে যাররা পরিমাণ কি মিথ্যা আছে বা অমানবিক কি কোন কিছু আছে? মানুষ ভুল ভাবে সেটাকে উপস্থাপন করে। যদি সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারে বা সৎ সাহস থাকে তাহলে কোশ্চিন কালেও আপনি কুরআনে যাররা পরিমাণ ভুল পাবেন না। কোন সন্দেহ নাই। এখন বলেন এমন পবিত্র একটা কিতাব একজন মহান পবিত্র সত্তার কাছ থেকে এসেছে। আরেকজন জিবরাইল আলাইহিস সাল্লাম যিনি ফেরেশতাদের লিডার তিনি এটাকে বহন করে নিয়ে এসেছেন। যে মানুষটার ওপর এটা নাযিল করা হয়েছে তিনি কতটা পবিত্র চরিত্রের অধিকারী তা আপনি চিন্তা করেন। তার চরিত্রের মধ্যে যদি জাররা পরিমাণ অপবিত্রতা থাকত তাহলে কি তার ওপর কোরআন নাজিল হতো। মনে করেন আমি। আমাদের চরিত্রের মধ্যে প্রচন্ড রকমের অপবিত্রতা আছে না। আমার উপরে কি আল্লাহর নূর আল্লাহর কিতাব বা ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ আছে কি কখনো? না, নেই। আল্লাহ পাক পবিত্র মানুষদেরকে বাছাই করেন। সবচেয়ে পবিত্র মানুষকে বাছাই করেছিলেন মহা পবিত্র কিতাব দেয়ার জন্য। এটাই তো যথেষ্ট তা চরিত্র ব্যাখ্যা করার জন্য আর কি প্রমাণ প্রয়োজন। যার কাছে কুরআন নাযিল হতে পারে তার চরিত্র নিয়ে কথা বলার কোন অবকাশই নাই। যে কাজই করেছেন যখন যে কথা বলেছেন প্রত্যেকটা আল্লাহর হুকুমে নিয়েছেন এর বাইরে কোন কিছু করেননি। শুধু তাই নয়। তার শত্রুরা কখনো বলতে পারেন নাই তিনি মিথ্যাবাদী তিনি মাপে কম দেন তিনি ওয়াদা খেলাপ করেন তিনি অমুক তিনি তমুক। তা শত্রুরা পর্যন্ত বলতে পারেননি।
কুরআন ও সুন্নাহর পূর্ণতা নিয়ে আলোচনা
বরং তার শত্রুরা বলেছিল এইভাবে। তোমাকে আমরা অবিশ্বাস করিনা। বরং তুমি যে কোরআনের কথা বলছো এটা কে আমরা অস্বীকার করছি। এটা দুই নাম্বার পয়েন্ট। জ্ঞানের রেভুলেশন আমরা দিয়েছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছে। আর এই জ্ঞান না থাকলে আপনি তো শূন্য? আর একটা বিষয় সবার কান খুলে শুনে রাখা উচিত। পবিত্র কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহ বা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর মধ্যে এমন কোন বিষয় নাই যেটা ব্যাখ্যা করা হয় নাই। এটা মানতে যদি আপনার আপত্তি থাকে আমরা আপনাদের সাথে লড়াই করব না। আমরা আপনার সাথে ঝগড়া করবো না বিবাদ করবো না আপনার গায়ে আঘাত ও করবো না। শুধু আপনাকে বিনয়ের সাথে বলব আপনি আরো ১০ বার স্টাডি করেন। কোরআন এবং সুন্নাহ কে আরো ১০ বার স্টাডি করেন আপনি খুঁজে পাবেন ইনশাআল্লাহ। কুরআন এবং সুন্নাহর মধ্যে কোন রকমের ভুল ত্রুটি মানবতা বিরোধী কোন কিছু নাই। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে বোঝার তৌফিক দান করুন আমীন। তিন নাম্বার পয়েন্ট হচ্ছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লাম শুধু এমন মানুষ ছিলেন না যিনি শুধু কোরআন সুন্নাহর কথা নিজেই বলে ক্ষান্ত হয়েছেন নিজের ওপর আমল করেন নাই এমন মানুষ তিনি ছিলেন না । প্রত্যেকটা আয়াত এবং হাদিস যখন এসেছে তার কাছে তিনি নিজে আগে সেটার ওপর আমল করে দেখিয়েছে । দেখেন একজন মানুষ দ্বীন প্রচার করছে। একজন মানুষ তিনি পরিবার চালানো জন্য রোজি রোজগার করছেন। একজন মানুষ যিনি পিতার দায়িত্ব পালন করছেন একজন মানুষ যিনি স্বামীর দায়িত্ব পালন করছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীরা কি তার প্রতি অসন্তুষ্ট ছিল। একজন মানুষ যখন তিনি মদিনায় গিয়েছেন তখন সেখানকার সাময়িক বিষয়গুলো ডিল করছেন। পররাষ্ট্রনীতি অ্যাপ্লাই করছেন রাজা বাদশাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছেন। যখন প্রয়োজন হচ্ছে তখন বদরের ময়দানে তিনি অস্ত্র ধরছেন। একজন মানুষ যখন এতগুলো কাজ করছেন। এই ভার্সোটাল ক্যারেক্টার একটা মানুষ পাওয়া যাবে এই মহাবিশ্বে। একটা মানুষ দেখান যার কাছে চরিত্রের এই সমস্ত দিকগুলো আছে। যিনি একজন আদর্শ পিতা আদর্শ নেতা, আদর্শ অর্থনৈতিক বিদ আদর্শ ফিলোসফার, আদর্শ পলিটিশিয়ান, আদর্শ লিডার কমান্ডার। একটা লোক দেখান যার মধ্যে এই সব গুনাবলি সংমিশ্রণ আছে। তারপরেও কি ব্যাখ্যা করতে হবে এই মানুষের চরিত্র আল্লাহপাক কর্তৃক স্যাটিস্ফাইড। এই মানুষ আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত একজন বান্দা। আর তো কিছুর প্রয়োজন নাই। আবার নিজের উপর আমল দেখেন এত কিছুর পরেও রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ছেন পা ফুলিয়ে ফেলছেন। সবচেয়ে বেশি জিকির করছেন সবচেয়ে বেশি তেলাওয়াত করছেন সবচেয়ে বেশি রোজা রাখছেন সবচেয়ে বেশি নামাজ পড়ছেন শুধু কথা বলে ক্ষান্ত থাকছেন না নিজেও আমল করছেন এবং সবচেয়ে সেরা তা করছেন। এমন একজন মানুষকে দেখান যে বড় বড় কথা শুধু বলেই না বরং আমল করে দেখায়। বহু অর্থনীতি বিদ আছে দেখবেন অনেক বড় বড় কথা বলে কিন্তু নিজে সুদখোর। বহু পলিটিশিয়ান আছে বড় বড় কথা বলবে কিন্তু নিজে করাপটেড দুর্নীতিবাজ। বহু দেখবেন সোশ্যাল নেতা আছে অনেক বড় বড় সামাজিক রেভ্যুলেশন নিয়ে কথা বলে। আপনি দেখবেন এমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম এর এই সোনালী সমাজকে সে মূল্যায়নই করছে না।
নবীজির বাস্তব আমল ও বহুমুখী ভূমিকা
বহু দেখবেন ফিলোসফার আছে দার্শনিক আমরা এটাতে পড়েছি দর্শনের বড় বড় বিষয় নিয়ে কথা বলছে জ্ঞান আত্মা ঈশ্বর মহান সত্তা পরম সত্তা জ্ঞানের ডেফিনেশন বস্তুবাদ অভিজ্ঞতাবাদ কত কথা বলছে। কিন্তু দেখবেন শেষে গিয়ে একটা ও কনক্লিউশনে আসতে পারেনি আজ পর্যন্ত। জ্ঞান আসলে কি এটার ব্যাখ্যাতেই আসতে পারেনি কনক্লিউশনেএই আসতে পারেনি। আমরা যেমন বলছি জ্ঞান মানে ওহি । আল্লাহর ওহী হচ্ছে চূড়ান্ত জ্ঞান সিম্পল ফুলস্টপ শেষ। আল্লাহর ওহী হচ্ছে চূড়ান্ত জ্ঞানের উৎস। এটা আমাদের কমপ্লিমেন্ট আমাদের আকিদা মালহাজ। আর তাদেরকে দেখবেন জ্ঞান মানে বুদ্ধি জ্ঞান মানে অভিজ্ঞতা জ্ঞান মানে সমন্বয় ইত্যাদি ইত্যাদি। বলতে বলতে মুখের ফেনা উঠে যাচ্ছে কোন কনক্লিউশনে আসতে পারছে না কেউ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একজন মানুষ ছিলেন তিনি সবকিছু ব্যাখ্যা করে শুধু আলোচনা করে মানুষকে দাওয়াত দিয়ে ক্ষান্ত ছিলেন না বরং তিনি কাজ করে দেখিয়েছেন। এজ এ ফিলোসফার তিনি সফল এজ এ পলিটিশন তিনি সফল এজ এ সামরিক লিডার সে সফল একজন কূটনীতিবিদ তিনি সফল। সমাজবিজ্ঞানে তিনি সফল এজ এ ফাদার তিনি সফল এজ এ হাজবেন্ড তিনি সফল। কি চাচ্ছেন একজন মানুষের মধ্যে এত কোয়ালিটি থাকার পরেও তার চরিত্র নিয়ে কথা বলছেন। ওইযে বিয়ে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কেন বিয়ে করলেন এত কম বয়সে। আপনি কি জানেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাবা কত বছর বয়সে বিয়ে করেছেন? আপনি কি জানেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে কত বছর বয়সে বিয়ে করেছেন? এবং যাকে বিয়ে করেছেন তার বয়স কত ছিল? সে তো আপনাদের টেগর। বিয়ে করেছেন ১৭ বছর বয়সে বা ১৮ বছর বয়সে এবং তার স্ত্রী বয়স ছিল ১১ বছর কই এটা নিয়ে তো কোন কথা বলেন না কখনো। সুবহানাল্লাহ এটা বলতে গেলেও সময় চলে যাবে। তাওরাত ইহুদিরা কথা বলে এটা নিয়ে। তালমুদ ওদের একটা কিতা আছে। ওখানে এমনও লেখা আছে নয় বছরের নিচে মেয়েকে বিয়ে করা পুন্যের কাজ।নেন ইহুদির ।মনোসঙ্গতি একটা বই আছে। এখানে এসেছে মেয়ের যখন বয়স সন্ধিকাল আসবে পানি ঋতুস্রাব আসবে তাকে বিয়ে দিয়ে দিতে হবে। আমরা রামায়ণ পড়েছি। জিজ্ঞাসা করবেন ওদেরকে বিনয়ের সাথে আমাকে একটু কাইন্ডলি বলবেন রাম আর সিতা যখন বিয়ে হয়েছিল সীতার বয়স তখন কত ছিল? যদি সে হনেস্ট হয়ে থাকে তাকে আনসার করতে বলেন কত বছর? বলেন কত বছর ৭ বছর? বহুবিবাহ নিয়ে কথা বলছেন আপনাদের অবতারদের হিস্ট্রি ঘেঁটে দেখেন কতটা করে বিয়ে করেছে। কি বুঝাতে চাচ্ছেন ? মানে একটা মানুষের চরিত্র ব্যাখ্যা করার জন্য একটা অপশন সেটা হল মেয়ে মানে নারী। ওইটা ধরে টান দিলেই চরিত্র কালার করা যায়। সবচেয়ে বড় কথা শোনেন হাদিসটা সহী বুখারীতে এসেছে। অনেক স্কলার অনেক স্কলার মুসলিম বিশ্বের মুসলিম বিশ্বের এর সাথে অনেক সময় দ্বিমত পোষণ করেছেন যে সত্যিকারের অর্থে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বয়স তখন ৯ বছর ছিল কি না এটা নিয়ে অনেক কথা আছে । অনেক কথা আছে। আমি শুধু না এটা নিয়ে অনেকেই কথা বলেছে। হিস্ট্রি ঘেঁটে দেখেন অনেক আলেম কথা বলেছে। কেউ বলেছেন তখন বয়স ছিল ১৫ কেউ বলেছেন ১৭ কেউ বলেছেন ১৮। একজন তো গাণিতিক হিসাব মিলিয়ে দিকে দেখিয়েছেন যে বয়স ছিল ১৮। আর একটা কথা আসলে এটাকে আমরা চোখ বন্ধ করে হজম করে নি এবং এটাকে আমরা ডিফেন্ড করার চেষ্টা করি সুবহানাল্লাহ । বাদ দেন ওদিকে আমরা যাচ্ছি না
দার্শনিকদের জ্ঞান ও ওহীর পার্থক্য
তার চরিত্রের যে মৌলিক বিষয়গুলো এগুলো আমরা সমাজের সামনে উপস্থাপন করাটা মূল উদ্দেশ্য । আমি ৩ টা পয়েন্ট বলেছি আরেকটা পয়েন্ট বলছি শুনেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম ২৩ বছরের জীবনীর কথা বলেছি প্রথম তিন বছর সে গোপনে দাওয়াত দিয়েছে এরপর প্রকাশ্যে দাওয়াত দিয়েছেন ধৈর্যশীল ছিলেন সবর করেছেন মার খেয়েছেন। নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে চলে গেছেন। সেখানে আল্লাহপাক তাকে ক্ষমতা দিয়েছেন। আমি আপনাকে তার সেক্রিফাইস গুলো দেখাচ্ছি। একটু সেক্রিফাইস গুলো দেখেন। তিনি কি ভালো করার সন্তান ছিলেন না? তার কি টাকা-পয়সার অভাব ছিল? তার স্ত্রী খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা যাকে তিনি বিয়ে করেছেন ৪০ বছরের একজন নারীকে তিনি বিয়ে করেছেন এই জায়গায় তাদের কোন কথা নাই ,আছে? যখন তার বয়স মাত্র ২৫ বছর। কোন ২৫ বছরের যুবক ৪০ বছরের নারীকে বিয়ে করতে চাইবে। এবং তিনি যতদিন জীবিত ছিলেন তিনি আরও স্ত্রী গ্রহণ করেন নাই। তার কিন্তু টাকা পয়সা আধিপত্য প্রতি পত্তির বংশের গৌরবের এগুলোর অভাব ছিল না। তারপরও তার সেক্রিফাইস গুলো দেখেন। তিনি মার খাচ্ছেন তার দাঁত শহীদ হচ্ছে তার রক্ত ঝরছে। তাইয়েফে তার রক্ত দিয়ে তার জুতা আটকে গেছে। তাকে গালি খেতে হচ্ছে তাকে হত্যা করার চেষ্টা সহ্য করতে হচ্ছে তার আত্মীয়-স্বজন তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে । তাকে অর্থনৈতিক বয়কট করা হচ্ছে গাছের ছাল পাতা খেয়ে ছিয়ারে আবু তালেব তিন বছর তিনি সময় কাটাচ্ছেন। নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে। কষ্ট যুদ্ধ করতে হচ্ছে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। খন্দকের যুদ্ধে নিজের পেটের মধ্যে পাথর বেঁধে থাকতে হচ্ছে। পরপর তিনদিন তার ঘরে চুলা চলছে না তার ঘরে খাবার নাই। খেজুরের রস খেয়ে তিনি জীবন যাপন করছেন। তার স্ত্রীদের ঘরেও খাবার নেই। একজন মুসাফির এসেছে খাবার চাচ্ছে তিনি বলছেন দেখো আমার স্ত্রীদের ঘরে খাবার আছে কি না। প্রত্যেকটা স্ত্রীর ঘরে সার্চ করে একটা খাবার ও পাওয়া গেল না স্যাক্রিফাইস করছেন। ঘুম নাই। বিনীত রজনী যাপন করছেন। এই যে শারীরিক কষ্ট অর্থনৈতিক কষ্ট দেশ ত্যাগ করা। এই যে কঠিন শবর সংগ্রাম উজহাদা তার সার্থকতা কি আমাকে বলেন। তার কি স্বার্থ? এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তির স্বার্থটা কোথায়? তাকে তো আল্লাহ পাক মাকামে মাহমুদ দিয়েছেন। জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম আল্লাহ পাক তাকে দিয়েছেন। ইন্না আতাইনা কাল কাওসার। তোমাকে আমি কাউসার দিয়েছি সম্মান দিয়েছে মর্যাদা দিয়েছে। তার জিকির তার স্মরণকে সম্মানিত করা হয়েছে। সারা দুনিয়ার মানুষ তার নাম শুনলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়ে। প্রত্যেকটা মুসলিম এই উম্মতি মুহাম্মাদের মধ্যে । মুসলিম হোক আর অমুসলিম তার মৃত্যুর পরে তাকে এই ব্যক্তি চেহারা দেখানো হবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে এই ব্যক্তি কে? যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আমাদেরকে ভাই বলে সম্বোধন করছেন। কে বলছেন কাশ আমি আমার ভাইদের কে দেখতে পেতাম? সাহাবীরা বলছেন আমরা কি আপনার ভাই নই। তিনি বলছেন না তোমাদের পরে যারা আসবে আমাকে না দেখেই বিশ্বাস করবে এরাই আমার ভাই সুবহানাল্লাহ ।
নবীজির ত্যাগ ও কষ্টের বিবরণ
সব নবীকে দোয়া কবুলের এক্তিয়ার দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব নবী দোয়া দুনিয়াতে করে ফেলেছেন। আমাদের নবী যে এত কষ্ট করার পরে ও দোয়া দুনিয়াতে করেন না। তিনি পরকালের দোয়াটা জমা রেখেছেন সেটা সাফায়াত। আমাদের সকলের জন্য তিনি সাফায়েত করবেন। ইনশাল্লাহ এই শাফায়াতের কারণে সমস্ত কবিরা গুনাগার ব্যক্তিরা জান্নাতে যাবেন। আমাকে বলেন সব নবীরা যখন ইয়া নাফসিয়ানাফসি করবে এর মধ্যে আদম আলাইহিস সাল্লাম আছে নূহ আলাইহিস সাল্লাম আছে এর মধ্যে মুসা আলাইহিস সাল্লাম ঈসা আলাইহিস সালাম এর মত নবী আছেন ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লামও আছেন। তখন তিনি বলবেন ইয়া উম্মাতি ইয়া উম্মাতি । এখন আমাকে বলেন তার স্বার্থ কোথায়? তিনি যে একটা হিউজ স্ট্রাগাল করলেন সারাটা জীবন ধরে। আমি আপনাকে তার সর্বশেষ স্ট্রাগলের নমুনাটা বলছি। একদম মৃত্যুর শয্যায় যখন তার মৌতের যন্ত্রণা উঠেছে। তিনি বলছেন মৃত্যুর যন্ত্রণা প্রচন্ড। তিনি এ কথাটা বলছেন এবং চেহারাটা মুছেন পানি দিয়ে। তখন ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু এসে বলছেন আমার বাবার কষ্ট আমার বাবার কষ্ট। আর ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কানে কানে তিনি একটা কথা বললেন। ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা হাসতে শুরু করলেন। তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা পরে জিজ্ঞেস করেছিলেন ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কি বলেছিলেন তোমাকে তোমার বাবা। তিনি বলেছেন আমাকে আমার বাবা বলেছেন এই যন্ত্রণায় তার ইন্তেকাল হবে তখন আমি কাঁদতে শুরু করলাম। তারপর তিনি আমাকে আবারও বললেন আমার পরিবারের মধ্যে তুমি সবার আগে আমার সাথে দেখা করবে জান্নাতে তখন আমি হাসতে শুরু করলাম সুবহানাল্লাহ । এই জায়গায় একটা ঘটনা ছিল যখন তিনি প্রচণ্ড কষ্ট করছেন মৃত্যুর যন্ত্রণায়। তখন ফাতেমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন আমার বাবার কষ্ট। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন শুনো হে ফাতেমা (এই কথাটা ভালো করে শুনেন এবং মন থেকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন) আজকের পর থেকে তোমার বাবার আর কোন কষ্ট থাকবে না। আমার কথা বুঝতে পারছেন না মানে আজকের পর থেকে তার কোন কষ্ট থাকবে না। কারণ আজকের পর থেকে সে জান্নাতে ফেরদৌস এ চলে যাবেন। এই যে ২৩ বছর তিনি ছিলেন নবী হিসেবে। প্রতিটা দিন রাত তাকে দ্বীনের জন্য কষ্ট করতে হয়েছে। শারীরিক কষ্ট মানসিক কষ্ট খাদ্যের কষ্ট বাসস্থান। আচ্ছা, আমরা তো অনেক কথা বলি অনেক নেতাদেরকে নিয়ে।অনেক দার্শনিক , বিজ্ঞানী , সমাজ বিজ্ঞানী , ফিলোসফার , বুদ্ধিজীবী ইত্যাদি। আমাদের যা আছে আমরা একটু মিলাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কি ছিল? এই মহান নেতা যিনি সারা জীবন কষ্ট করলেন এবং ফাতেমা রাদি আল্লাহু আনহুকে বললেন আজকের পর থেকে আমার আর কষ্ট থাকবে না আজকের শেষ সব কষ্ট আজকেই শেষ হয়ে যাবে। এই ব্যক্তির কি বাড়ি ছিল ডুপ্লেক্স। এই ব্যক্তির কতটুকু জমি ছিল। এই ব্যক্তি কতটুকু খাবার খেয়েছে প্রতিদিন। এই ব্যক্তির কয়টা আলিশান জামা ছিল আমার মত আপনার মত। এই ব্যক্তির কত ব্যাংক ব্যালেন্স ছিল। এই ব্যক্তির কি ছিল দুনিয়াতে। দুনিয়ার জীবন চলার জন্য তার ঘরে কি ছিল?
শাফায়াত ও উম্মতের প্রতি ভালোবাসা
আমাদের প্রত্যেকের ঘরে যা আছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে বেশি সম্পদ আছে। এই হিউজ স্ট্রেগালটা যে তিনি করলেন কার জন্য কাদের জন্য পেলেন টা কি তিনি? এক কথায় উত্তর হচ্ছে এই কষ্টটা তিনি করেছেন এই উম্মতি মুহাম্মাদের জন্য। আফসোস তার উম্মতি মোহাম্মদের মধ্যেই একশ্রেণীর মানুষ তা চরিত্র নিয়ে কথা বলে দুঃসাহস করে লজ্জায় তাদের মাথা হেড হয়ে যায় না। লজ্জা থাকতে হয় মানুষের মধ্যে তাইতো। ধরেন কেউ একজন আপনার প্রতি আহসান করেছে অনেক উপকার করেছে আপনার। আপনি যদি তাকে নিয়ে ভালো মন্দ কথা বলা শুরু করেন তাহলে বুঝতে হবে আপনি নির্লজ্জ প্রকৃতির মানুষ। লজ্জাই নেই আপনার মধ্যে । আপনি একজন মানুষের কাছে এহেসান গুজার সে আমার প্রতি কত এহেসান করেছে আপনার তার পা ধুয়ে দেওয়া উচিত। সাহাবা রাদিয়াল্লাহু রা এই কাজটাই করতেন এবং তারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে আপন মনে করতেন। কোনদিন রাসূলের কাছে গিয়ে হাত যে পেতেছেন খালি হাতে ফিরে আসেন নি কখনো । কোন দিন কেউ যদি দান চেয়েছে সে কখনো ফিরিয়ে দেননি। একদিন নামাজে দাঁড়িয়েছেন একামত হওয়ার পরে বাসায় চলে গিয়েছেন সাহাবীরা অবাক। কি ব্যাপার? একটু পরে ফিরে আসলেন বললেন আমার কাছে কিছু দিনার ছিল। এগুলো সদকা করে দাও তারপরে নামাজে দাঁড়াবো। সব সময় সত্য বলেছেন সত্যের ওপর থেকেছেন এতিমদের খোঁজ নিয়েছেন বিধবাদের পাশে ছিলেন। উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করেছে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ দূর করেছেন। ওয়ান উম্মা নেশন গঠন করেছেন। সুদ দূর দূর করেছে মাদক দূর করেছেন শিরিক দূর করেছেন। আল্লাহ ওয়ালা মানুষদেরকে আল্লাহকে চিনিয়েছেন পরকালকে চিনিয়েছেন। মানুষকে জান্নাতের পথ দেখিয়েছেন। কি করেন নাই? আপনি আমাকে একটা সেক্টর দেখান যেটা মানুষের করার বাকি থাকে যেটা তিনি করেন নাই। একটা সেক্টর দেখান। তারপরও এই মহান মানুষের সম্পর্কে আমরা বাজে ধারণা পালন করছি আজেবাজে কথা বলছি। দেখুন এখন মুসলিমদের কিছু করার নাই বদদোয়া তাড়া করবেই। এবং এই বদ দোয়ায় নিঃসন্দেহে ইফেক্ট হবে তারা যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে শত্রুতা করছে। কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু এমন একটা সময় আসবে আজকে থেকে ১০০ , ২০০ , ৩০০, ৪০০ , ৫০০ বছর আমরা জানি না এই পৃথিবীর বুকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে একটা বাজে মন্তব্য করার মানুষ অবশিষ্ট একজনও থাকবে না ইনশাআল্লাহ। এটা আসবেই। কবে ননসেন্স প্রশ্ন আমরা জানিনা? কিন্তু আল্লাহ এবং রাসূল কুরআনে বলেছেন আসবেই। ওটা না আসা পর্যন্ত কেয়ামত হবে না ইনশাআল্লাহ। এখানে একটা পয়েন্ট বলবো। প্রিয় ভাইয়েরা এবং বোনেরা আমাদের নিজেদের কিছু কাজ আছে। আমি আম ভাবে সমস্ত মুসলিমদেরকে অনুরোধ করব ইনক্লুডিং মি। সবার প্রথমে আমাদের কাজ হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ গুলোর ওপর আমল করা। সর্ব প্রথম আমাদের কাজ হচ্ছে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী মুখস্ত করে ফেলা ।
নবীজির জীবনী জানার গুরুত্ব ও প্রতিবাদের পথ
এখন ওয়াদা করেন আল্লাহর কাছে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে যে যেখানে পড়াশোনা করছেন করেন আমার কোন আপত্তি নাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনী আর রাহীকুল মাখতুম বইটি মুখস্ত করে ফেলবেন। নিজে কতটুকু জানেন নবী সম্পর্কে এটা বড় টেস্ট। আমাদের নিজেদেরকে আগে জানতে হবে নবী সম্পর্কে। আমরা কতটুকু জানি নবী সম্পর্কে। আমি হয়তো একটু এগ্রিসিভলি কথা গুলো বললাম কিন্তু এটা দুঃখের সাথে বলা বলছি যে আমাদের যুব সমাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চিনেনা। তারা জানে না তার নাম কি তার বংশ কি তার শৈশব কেমন করে কেটেছে। তার স্ত্রী কতজন তাদের নাম কি। তিনি মক্কায় কখন কি করেছেন মদিনায় কি কি করেছেন তার হাদিস গুলো কি কি? তার ১০০ টা হাদিস কখনো পড়ে দেখে নাই। দশটা হাদিস তারা আরবিসহ বলতে পারেনা। তার ওপর নাযিলকৃত কোরআন পড়ে দেখছে না পড়া শিখছেও না। দেখেন এরকম ধ্বজভঙ্গ উম্মা দিয়ে ইসলামের রেভুলেশন সম্ভব না। যত বড় বড় কথা বলেন না কেন? যতদিন যাবে জমিন আরও সংকীর্ণ হতে থাকবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা আমাদের অবস্থান পরিবর্তন করব ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ আমাদের উন্নতি দিবেন না। আল্লাহ পাক কোন কওমের অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করার চেষ্টা না করে।অতএব প্রথম কাজ আমাদেরকে আমাদের নবী সম্পর্কে জানতে হবে। আপনার প্রতিবাদী ভাষা হবে জ্ঞানের মধ্য দিয়ে। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসগুলো জানবো তার সুন্নাহ মতে চলবো। চলে দেখাবো এটাই আমার প্রতিবাদ। এটাই হবে আমার প্রতিবাদ যে আমি নবী সম্পর্কে জানব তার সিরাত সম্পর্কে তথাস্তু মুখস্ত করে ফেলব। নবীজির জীবনের সম্পর্কে জানব তার সম্পর্কে যে বাজে মন্তব্য করা হয় এগুলোর কাউন্টার জবাব দেওয়ার জ্ঞান আমার থাকবে। আমি তার হাদিসের উপর আমল করব এবং মানুষকে দাওয়াত দিব এটাই হলো আমার প্রতিবাদ। প্রতিবাদের অনেক ভাষা থাকে। শুধু উচ্চবাচ্য করলে প্রতিবাদ হয় না। নিজেদেরকে আগে তার আদর্শের ওপর ইস্টাবলিশড হতে হবে। তখন গিয়ে ওই আয়াতের ওপর আমল হবে এই ওসালাতুল হাসানা আমরা জীবনের সব ক্ষেত্রে আমল করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। প্রিয় ভাই-বোনেরা রাসূলের সিরাত পড়ুন সিরাত মুখস্ত করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস গুলো পড়ুন মুখস্থ করুন। কোরআন অবশ্যই পড়া শিখুন কোরআনের দাওয়াত সবাইকে দিন। উগ্রপন্থায় যাবেন না একই সাথে সইতল্যবাদী ও হবেন না। মধ্যম পন্থায় থাকেন এবং ইসলামের দিকে মানুষকে ডাকতে থাকে। রাতারাতি কোন ফলাফল পাওয়া যায় না।আস্তে আস্তে আস্তে দেখবেন ফলাফল আসবে। নিজের সন্তানদেরকে কোরআন শিখান হাদিস শেখান নবীজির আদর্শ শেখান। মসজিদ মাদ্রাসা গুলো গড়ে তুলেন আবাদ করেন। সিলেবাসের পরিবর্তন করেন আধুনিকতা নিয়ে আসেন। যে জ্ঞান অর্জন করলে দুনিয়া এবং আখিরাত দুটোকে পাবে এই জ্ঞানে তাদেরকে শিক্ষিত করেন ।এবং ইলমের সাথে প্রজ্ঞার সাথে নূর ওয়াজিয়া সাথে এগুলো দিয়ে আপনি ইসলামের দুশমনদের মোকাবেলা করেন। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শে আদর্শিত হওয়ার তৌফিক দান করুন আমীন।
সাধারণ প্রশ্ন
এই লেখায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে?
লেখায় তাঁর চরিত্র, তাঁর উপর হওয়া কষ্ট ও হত্যার চেষ্টা, মক্কী ও মাদানী জীবনের পার্থক্য, এবং ২৩ বছরে সমাজ পরিবর্তনের বিষয় আলোচনা করা হয়েছে।
লেখা অনুযায়ী মক্কী ও মাদানী জীবনে নবীজির প্রতিক্রিয়ার পার্থক্য কী ছিল?
লেখায় বলা হয়েছে মক্কী জীবনে তিনি সবর ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন, আর মাদানী জীবনে যখন ক্ষমতা ছিল তখন তিনি ভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন।
লেখায় মক্কা বিজয়ের দিনে নবীজির আচরণ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
লেখায় বলা হয়েছে মক্কা বিজয়ের দিনে তিনি সাধারণভাবে সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, শুধু কয়েক শ্রেণীর মানুষকে বাদ দিয়ে।