Islamবাংলা

মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ এর উপদেশ

মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ এর দশটি ওয়াসিয়াত

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। মুয়াজ বিন জাবাল রাদেআল্লাহু আনহু তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দশটি কালিমা ওয়াসিয়ত করেছেন বা দশটি কথা আমাকে ওয়াসিয়ত করেছেন। মুয়াজ বিন জাবাল রাদেআল্লাহু আনহুবলছেন আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যে দশটি ওয়াসিয়াত করেছেন। তার প্রথম টি হচ্ছে তুমি আল্লাহর সাথে কাউ কে শরিক করবে না যদি তোমাকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় অথবা তোমাকে হত্যা করা হয় ।এক নাম্বার আল্লাহ তায়ালার সাথে বিন্দুমাত্র কাউকে শরিক করবে না যদি তোমাকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় অথবা তোমাকে হত্যা করা হয়। দুই নাম্বার তুমি তোমার পিতা মাতার অবাধ্য হবে না। যদিও তারা তোমাকে তোমার সম্পদ এবং তাদের পরিবার থেকে বঞ্চিত করে। তিন নাম্বার কোশ্চিন কালে কখনোই তোমার ওপরে যে ফরজ সালাত আছে এটা কে ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে তোমার ওপরে যে আল্লাহ পাক ফরজ সালাত নির্ধারিত করেছে এটাকে কখনোই ছেড়ে দেবে না কারণ এটা অন্য একটা হাদিসে এসেছে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ সালাত ছেড়ে দিল সে ব্যক্তি কুফরি করল।অনেক আলেম বলেছেন সে ব্যক্তি মুসলিম লিস্ট থেকে নাম কাটা পড়ে গেল সে ব্যক্তি কাফের হয়ে গেল। আর এই হাদিসের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কেউ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের যদি জিম্মায় থাকতে চায় সে যেন ফরজ নামাজগুলো আদায় করে। যদি ফরজ নামাজগুলো ছেড়ে দিলো সে ব্যক্তি আল্লাহর জিম্মা থেকে মুক্ত হয়ে গেল। আল্লাহ পাকের যে জিম্মা বা নিরাপত্তা এখান থেকে সে মুক্ত হয়ে গেল যদি সে ফরজ নামাজ ছেড়ে দেয়। চার নাম্বার কোন অবস্থাতেই মদ পান করবে না। কোন অবস্থাতেই মাদকদ্রব্য সেবন করবে না। কারণ এটা যত রকম ফাইসা কাজ আছে যত রকম নোংরা কাজ আছে যতরকম পাপ কাজ আছে অশ্লীল কাজ আছে ফাহেসা কাজ আছে এর মাথা হচ্ছে মাদকদ্রব্য সেবন করা। ৫ নাম্বার যত রকম কবিরা গুনাহ আছে এই কবিরা গুনাহ থেকে হে মুয়াজ তুমি বেঁচে থাকবে। কারণ আল্লাহর অবাধ্যতা বা আল্লাহর ক্রোধটা কে হালাল করে ফেলে। মানে আল্লাহপাক রাগান্বিত হন যখন মানুষ কবিরা গুনায় লিপ্ত থাকে। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন আল্লাহুম্মা আমীন। 6 নাম্বার যুদ্ধের ময়দান থেকে কখনো পালিয়ে যাবে না হে মুয়াজ। যদি দেখো তোমার জীবন দশায় মুসলিমদের সাথে কুফফারদের জিহাদ হচ্ছে যুদ্ধ হচ্ছে তাহলে যুদ্ধের মাঠ থেকে কখনো পালিয়ে যাবে না। যদি সমস্ত মানুষ ধ্বংস হয়ে যায়। যদি সমস্ত মানুষ ধ্বংস হয়ে যায় হে মুয়াজ তুমি যুদ্ধের মাঠ থেকে পালিয়ে যাবে না। সাত নাম্বার যদি দেখো তুমি এমন একটা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আছো যেখানে মহামারী দেখা দিয়েছে। যদি দেখো তুমি এমন একটা অবস্থানে আছো যেখানে মানুষের মধ্যে মহামারী দেখা দিয়েছে। এবং তুমি সেখানে অবস্থান করছ তাহলে তুমি সেখানেই থাকো। এখান থেকে অন্য কোথাও যেও না। কোরেন্ট টাইম বুঝতে পারছেন। তাহলে সেখান থেকে অন্য কোথাও যেওনা।

আল্লাহর সাথে শিরক না করা

৮ নাম্বার তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী তুমি তোমার পরিবার বর্গের ওপর খরচ করো। আল্লাহ পাক তোমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছে এই সামর্থ্য অনুযায়ী তুমি তোমার পরিবার বর্গের ওপর খরচ কর। ৯ নাম্বার পরিবার বর্গের ওপর থেকে কোশ্চিনকালেও আদবের লাঠি উঠিয়ে নিবে না। পরিবার বর্গের ওপর থেকে কোশ্চিন কালেও শাসন বা আদবের লাঠি উঠিয়ে নিবে না। বুঝতে পারছেন কথা। ১০ নাম্বার এবং পরিবার বর্গকে সবসময় আল্লাহর ভয় দেখাতে থাকবে। শেষের তিনটা হচ্ছে পরিবার সংক্রান্ত আর বাকিগুলো সব আলাদা আলাদা।( ৮, ৯, ১০) আট তোমার পরিবারের ওপর খরচ করো সামর্থ্য অনুযায়ী। তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী। নয় কখনোই পরিবার বর্গের ওপর থেকে শাসনের লাঠি টা উঠিয়ে নিবে না। ১০ তোমার পরিবারকে সবসময় আল্লাহর ভয় দেখাতে থাকবে। এই দশটা নসিহত বা ওয়াসিয়াত মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু কে স্পেশালি করেছেন। এই হাদিসটা পড়তে গিয়ে মনে হল যদি আমরা সবাই সকাল বেলায় আল্লাহ পাক তৌফিক দান করুন যদি আমরা সবাই প্রত্যেক ব্যক্তি প্রত্যেক মুসলিম যুবক তরুণ তরুণী বৃদ্ধ যারাই আছেন এই হাদিসটার ওপর যদি আমরা আমল করতে পারি ইনশাআল্লাহ তায়ালা সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে ইনশাল্লাহুতালা।একটু ব্যাখ্যায় আসি যেহেতু আমাদের হাতে বেশি সময় নেই। তো আমি খুব সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যায় আসছি। এই হাদিসের রাবি সম্পর্কে দুটি কথা। রাবি নাম কি? মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু। এ হাদিসটা মুখস্ত করে ফেলবেন। ময়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু এমন একজন সাহাবী। যিনি ছিলেন তরুণ। যখন তার সামনে ইসলামের দাওয়াত পেশ করা হয়েছে। যুবক সাহাবী টগবগে রক্ত ওই অবস্থায় ওই বয়সে তিনি আল্লাহকে চিনতে শিখেছেন তারপর তিনি মুসলিম হয়ে গেছেন। বায়াতে আ কুবাইওব কুবরো নামের একটা বায়াত হয়েছে। যে বায়ারটা মূলত্ব মক্কা থেকে মদিনা হিজরতের পটভূমি তৈরি করে দেয়। সে ৭৫ জন সাহাবীর মধ্যে মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন অন্যতম প্রধান । ইসলাম কবুল করার সময় তার বয়স ছিল হয়তো ১৯ থেকে ২০ বছর। আর আপনি আমাদের জেনারেশনের ১৯ থেকে ২০ বছরের যুবকদের দিকে তাকিয়ে দেখেন। আর মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর দিকে তাকিয়ে দেখেন। ৬ জন সাহাবী ছিলেন স্পেশাল। যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওহী লেখক ছিলেন। অর্থাৎ কোরআন সংকলন করতেন হাদিস সংকলন করতেন। তার মধ্যে একজন ছিলেন মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি ছিলেন জাহেদ। জাহেদ মানে হচ্ছে দুনিয়া বিমুখ। দুনিয়া নিয়ে তার এত পেরেশানি ছিল না এত টেনশন ছিল না।এখনকার যুবকদের মেইন চিন্তা কি দুনিয়া না ।স্ট্যাটাস টাকা পয়সা গাড়ি-বাড়ি ইত্যাদি। মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন জাহেদও ছিলেন।জাহেদ মানে হচ্ছে দুনিয়া বিরাগি দুনিয়াকে তিনি প্রয়োজন মনে করতেন। এর মধ্যে ডুবে থাকতেন না কখনো। অথচ তিনি একজন তরুণ মানুষ ছিল।একটা হাদিসে এসেছে হালাল এবং হারাম এর মধ্যে এই উম্মতের মধ্যে শর্পাধিক জ্ঞান যাদেরকে দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন।

পিতামাতার প্রতি আনুগত্য

তিনি ১৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন। এবং তিনি অত্যন্ত সুদর্শন ছিলেন। খুব চমৎকার করে কথা বলতে পারতেন এবং জনগণকে বুঝাতে পারতেন। আল্লাহ পাক আমাদেরকে তার মত হবার তৌফিক দান করুন আমীন। জাফর ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর দ্বীনি ভাই ছিলেন। মানে দ্বীনি ভাই কেমন? যখন মুয়াজ সাহাবীরা হিজরত করে মদিনায় গিয়েছে তখন ওখানকার সাহাবীদেরকে বলা হতো আনসার সাহাবী। যারা আউস এবং খাসরাজ গোত্রের ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম মসজিদের নববী তৈরি করলেন। এরপর সামরিক প্রশিক্ষণ অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত করা। ইহুদিদের সাথে মদিনা সনদ এবং মুসলিমদের মধ্যে ভাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করলেন। এক সাহাবীর সাথে আরেক সাহাবীর দ্বীনি ভাই সম্পর্ক করলেন। মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন জাফর ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর দ্বীনি ভাই। জাফর ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু ছিলেন মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আপন চাচাতো ভাই আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভাই । জাফর ইবনে রাদিয়াল্লাহু আবু সিনিয়ায় ওই যে বাদশা নাজাসি তার সামনে সূরা মারিয়াম তেলাওয়াত করেছিলেন। যার তেলাওয়াত শুনে জাফফার ইবনে এর তেলাওয়াত শুনে বাদশা নাজাসির চোখ থেকে দরদর করে পানি পড়তে শুরু করে। এবং পরবর্তীতে ওই খ্রিস্টান বাদশা ইসলাম ধর্ম কবুল করেন সুবহানাল্লাহ। আর জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলা হয় কি? দুই ডানা ওয়ালা। দুই ডানা ওয়ালা বলা হয় এই কারণে জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুম মোতার যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। মুসলিমদের মাত্র তিন হাজার সৈন্য। এবং মোতার যুদ্ধে কুফফারদের এবং রোনকদের দুই লক্ষ সৈন্য এটা কি যুদ্ধ হয়? কোনভাবে সম্ভব। ওই যুদ্ধে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনজনকে সেনাপতি করেছিলেন। যদি আব্দুল ইবনে রহা যদি ইন্তেকাল করে তাহলে জায়েদ ইবনে হারাসা ।যদি জায়েদ ইবনে হারাসা ইন্তেকাল করে তাহলে জাফর ইবনে আবু তালেব। যদি জাফর ইবনে আবু তালেব শহীদ হয় তাহলে তোমরা তোমাদের মধ্যে থেকে একজনকে আমির বানিয়ে নিও বা একজনকে নেতা বানিয়ে নিও। তো তিনজনই আলহামদুলিল্লাহ এই যুদ্ধে শহীদ হন। এবং জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুর দুই হাত কেটে পড়ে যায়। প্রথমে তার এক হাত কেটে যায় ডান হাত কেটে যায় তখন তিনি বাম হাত দিয়ে যুদ্ধ করতে থাকেন। বাম হাত যখন কেটে পড়ে যায় তখন তিনি এই বাহু দিয়ে পতাকাটা দেহের মধ্যে আকড়ে ধরে রেখেছিলেন।তারপরে কাফেররা তার শিরচ্ছেদ করে এভাবে তার ইন্তেকাল হয়। তিনি শাহাদাত বরণ করেন। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা থেকে বলছিলেন জাফর দুইজন ফেরেশতার কাঁধে ভর দিয়ে আমাকে সালাম দিয়ে চলে গেল সুবাহানাল্লাহ । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহু কে এই দুইটা কাটা হাতের বিনিময় আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতে দুইটা পাখা দিয়েছেন। এর জন্য তাকে বলা হয় দুই ডানা ওয়ালা বা দুই বাহু ওয়ালা। তো জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুর দ্বীনি ভাই ছিলেন কে? মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন বসে আছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তার হাত ধরলেন। চিন্তা করেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজে তার হাত ধরলেন।

ফরজ সালাত ত্যাগের ভয়াবহতা

হে মুয়াজ আল্লাহর কসম আমি তোমাকে ভালোবাসি। চিন্তা করে দেখেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন হে মুয়াজ আল্লাহর কসম আমি তোমাকে ভালবাসি। এরপর তিনি বলছেন তুমি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর এই দোয়াটা করা ছেড়ে দিও না। কোন দোয়াটা। আল্লাহুম্মা আ-ইন্নি আলা জিকরিকা, ওয়া শুকরিকা, ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা। প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর হে মুয়াজ এই দোয়াটা করা ছেড়ে দিও না।এই কথাটি বলার আগে বলেছেন মুয়াজ আমি তোমাকে আল্লাহর কসম ভালোবাসি। মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই সাহাবী যাকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গাধার পিঠে বসিয়েছেন। গাধার পিঠে বসিয়ে তিনি যাচ্ছেন এবং কিছু কথাবার্তা বলছেন। যখনই আল্লাহর রাসূল বলছেন হে মুয়াজ তখনই মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন লাব্বাইক। হে আল্লাহর রাসূল আমি উপস্থিত আছি ।আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক বলুন। হে মুয়াজ তুমি কি জানো? তুমি কি জানো? আল্লাহর প্রতি বান্দার কি হক আছে আর বান্দার প্রতি আল্লাহর কি হক আছে। মুয়াজ রাদিআল্লাহু আনহু বলছেন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভাল জানেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন আল্লাহর প্রতি বান্দা যে হক আছে সেটা হলো বান্দা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং আল্লাহর সাথে কারো শরিক করবে না। এটা হচ্ছে আল্লাহর প্রতি বান্দার হক। এটা আল্লাহর হক। আল্লাহ আমাদের কাছে এটা প্রাপ্য। আল্লাহপাক আমাদের কাছে এটা পান সে এটার প্রাপ্য যে আমরা শুধু তার ইবাদতই করব। তার সাথে কাউকে শরিক করব না। আর বান্দার ওপরে আল্লাহর হক। মানে আল্লাহ পাকের দায়িত্ব হচ্ছে আল্লাহ পাকের উপরে এই আল্লাহ পাক বান্দাকে শাস্তি দিবেন না। আল্লাহপাক বান্দাকে কোন আজাব দিবেন না যদি বান্দা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক না করে। আল্লাহ পাকের ওইটা দায়িত্ব যে তিনি ওই বান্দাকে কোন আজাব দিবেন না ইনশাল্লাহ। তখন মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন আমি কি এই কথাটা মানুষকে বলবো না? আমি কি মানুষকে সুসংবাদ দিব না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছে তুমি তাদেরকে এই সুসংবাদ দিও না আপাতত তুমি তাদেরকে এই সুসংবাদ দিও না। তাহলে মানুষ এটার উপর তাওয়াক্কুল করে বসে থাকবে। তাহলে মানুষ এটার উপর তাওয়াক্কুল করে বসে থাকবে অন্য সব আমল করা ছেড়ে দিবে। মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই সাহাবী জিনিস শেষ মুহূর্তে এই হাদিসটা বলেছেন যার কালি বা হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। সে ব্যক্তি জান্নাতে যাবে ইনশাআল্লাহ। এই হাদিসটা যখন মানুষ জানবে তখন তো মানুষ আমল ছেড়ে দিবে তাই না। এজন্য নবীজি বলেছেন এখন সুসংবাদ দিও না মানুষকে আমল করতে দাও।কিন্তু আল্লাহর এটা হক যদি মানুষ আল্লাহর সাথে শিরক না করে তাহলে মানুষকে আল্লাহ পাক আজাব দিবেন না ইনশাল্লাহ তায়ালা। মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই সাহাবী যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামেনের শাসনকর্তা হিসেবে পাঠিয়েছেন। এখানে তিন একটা কথা বলেছিলেন হে মুয়াজ তুমি ইয়ামেনে যাচ্ছ সেখানকার শাসনকর্তা হিসাবে একটা কথা মনে রেখো।দেখেন কি নসিহত তা করছে একটা কথা মনে রেখো? এই নসিহতটা প্রত্যেকটা পলিটিশিয়ান এর জন্য।

মদ ও মাদকদ্রব্য থেকে বিরত থাকা

আল্লাহ পাক যাকেই ইকোনমিক্স সেক্টর হক পলিটিক্যাল সেক্টর হোক সোশ্যাল সেক্টর হোক যেখানে আল্লাহপাক দায়িত্ব দিয়েছেন বা ক্ষমতা দিয়েছেন। তাদের সবার জন্য এই নসিহত। কি নসিহত? হে মুয়াজ তুমি ইয়েমেনের গভারমেন্ট হচ্ছ ঠিক আছে। তবে তুমি মজলুমের দোয়া থেকে বেঁচে থাকবে। মজলুম কাকে বলে ? যার উপরে জুলুম করা হচ্ছে। যার উপরে জুলুম করা হচ্ছে এই মাজলুমের দোয়া থেকে তুমি বেঁচে থেকো। কারণ ওই মাজলুমের দোয়া আর আল্লাহ পাকের মাঝে কোন পর্দা নাই। কথা কি বুঝতে পেরেছেন। মাজলুমের দোয়া আর আল্লাহ পাকের মাঝে কোন পার্থক্য নাই। যদি আপনি কারো প্রতি জুলুম করেন এবং সে যদি আল্লাহ পাকের কাছে হাত তুলে দোয়া করে হে আল্লাহ আমাকে অমুক নেতা জুলুম করেছে আপনি শেষ। আপনি নিজে ধ্বংস হবেন এবং ধ্বংসী তো হবেন। মানে আপনি যদি কারো উপর জুলুম করে থাকেন আপনার ক্ষমতার বশে আর সে যদি আল্লাহর কাছে অভিযোগ পেশ করে। আপনি শেষ ধরা। কারণ এই মাজলুমের দোয়া আর আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা নেই। এর জন্য ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মত জালিলে কাঁদার সাহাবী যিনি খলাফার রাশিদীর অন্যতম তিনি পর্যন্ত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলছিলেন। একদিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার উটের যে ময়লা গুলো আছে এগুলো পরিষ্কার করছিলেন ।এজ এ প্রেসিডেন্ট তিনি উটের ময়লা পরিষ্কার করছিলেন। তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কে দেখিয়ে বলছেন। ইয়া আমিনুল মুমিনিন আপনি পরবর্তী খলিফাতের জন্য কত কঠিন দায়িত্ব ছেড়ে যাচ্ছেন। তখন তিনি বলছেন হে আবুল হাসান তুমি এভাবে আমাকে বেশি প্রশংসা করে ধ্বংস করো না। কারণ আমি ভয় করি ইরাকের ফোরাক নদীর কিনারায় যদি কোন মেষ পালক বা ছাগলের বাচ্চা পর্যন্ত না খেয়ে মারা যায়। আমি ভয় পাই আল্লাহপাক সেজন্য আমাকে জবাবদিহি করাবেন। আর আমি তো আপনাদেরকে ম্যাচ করে দেখাতে পারবো না যে এই যুগে কি চলছে আর ওই যুগে কি চলত? কি চলে না এখন সবই চলে আইনের ফাক ফোকর, ঘুষ, জেনা, দুর্নীতি আপনার মাদক আপনার প্রতারণা। অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ কি চলে না ভাই। আর এগুলো যে চলে এগুলো কে আমরা স্বাভাবিক নিয়ে নিয়েছি যে এগুলো হয়ই। দুর্নীতি করতে হয় , ঘুষ দিতে হয় , ওকে ৫ টাকা খাওয়াতে হয় ওকে ১০ টাকা দিতে হয়। এটা ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে আমাদের কাছে।শুধু একটা মৃত্যু বাকি আছে ।কবরে জান দেখেন একটা দিনের হিসাব কিভাবে দিতে হয়। এক একটা মাজলুমের কান্না হিসাব কিভাবে দেওয়া লাগে। আবু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন যে আমি দায়িত্ব থেকে ভয় পাই। আমি ভয় পাই যে কেউ আমাকে দায়িত্ব দিবে। কারণ নবীজি বলেছেন যদি তোমাকে দুইজন ব্যক্তির দায়িত্ব দেওয়া হয় তাহলে তোমাকে ছুরিবিহীন জবাই করে দেওয়া হয়েছে। আর আমরা এখন দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকি আমাকে দেন আমি ভালো ও খারাপ। দায়িত্বের যখন হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া লাগবে আল্লাহর কাছে তখন আপনি কান্না করতে করতে শেষ হয়ে যাবেন। বিশ্বাস হচ্ছে না অপেক্ষা করতে থাকেন। এই যে বড় বড় বিশ্ব নেতাদেরকে দেখছেন না এদের আকিদা হবে পিঁপড়ার মত। যদি এরা জুলুম করে থাকে তাহলে এদের আকৃতি হবে পিঁপড়ার মত। অন্ধকারে ছেয়ে থাকবে এদের ওপরে। পুলসিরাতে আটকা পড়ে থাকবে। যত মানুষের হক নষ্ট করেছে। সবাই একদিকে আঙুল তুলে থাকবে যে আমার এই করেছে আমার সেই করেছে। আমার এই দেইনি আমার সেই দেইনি দেখেন এটা।

কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা

আমি শুধু এতটুকু বলবো প্রত্যেক পলিটিশিয়ান এর জন্য একটাই নসিহাত। যেটা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলেছিলেন হে মুয়াজ তুমি ইয়ামেনের গভারমেন্ট হচ্ছো হও তোমাকে শাসনের কার্য দেওয়া হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। তবে মাজলুমের দোয়া থেকে বেঁচে থেকো। কারণ মাজলুমের দোয়া আর আল্লাহর মাঝখানে কোন পর্দা থাকে না। বাস একটা নসিহত আপনার জন্য যথেষ্ট। মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই সাহাবী যিনি একটা বিখ্যাত হাদিস বর্ণনা করেছেন। সেটা হচ্ছে তিনি বলছেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাকে বলছেন যদি দুইজন ব্যক্তি আল্লাহর জন্য শুধু পরস্পরকে ভালবাসে। তাহলে এই দুইজন ব্যক্তিকে কেয়ামতের মাঠে নূর আলোর মিম্বর দেয়া হবে। যেতা দেখে নবীগণ এবং শহীদগণ ঈর্ষা করবে। কি আমলের কারণে তাকে এই মর্তবা দেওয়া হলো? আমলটা কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক আমল বাহ্যিক কোন আমল না। কি আমল? আল্লাহর জন্য একজন আরেকজনকে ভালোবাসছে। এই ভালোবাসা আবার আপনাদের বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ডের ভালবাসার আমল না আবার। এটা বইলেন না যে আমি তোমাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি। এইটা জেনা। আল্লাহর জন্য ভালোবাসা হচ্ছে হালাল ভালোবাসা যেটা বৈধ। এই হাদিসের সংক্ষিপ্ত কয়েকটা ব্যাখ্যা দিচ্ছি। এখানে ১০ টা বিষয়ে সম্পর্কে বলা হয়েছে। দশটা বিষয় নিয়ে দশটা লেকচার দেওয়া সম্ভব। এক নাম্বার হচ্ছে তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করোনা। তোমাকে যদি জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বা তোমাকে হত্যা করা হয় তাও তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করো না। এখানে একটা চমৎকার হাদিস মনে পড়ে গেল। যে একদিন দুই ব্যক্তি একটা গ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই হাদিসটি কিতাবে তাওহীদের মধ্যে আছে। সেই গ্রামের মানুষেরা মূর্তি পূজারী। তো ওদের পথ আটকে দিল এবং বলল তোমরা যেতে পারবেনা সামনে। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমাদের এই দেবতার সামনে কিছু না কিছু উৎসর্গ করছো। তো একজন বলল আমি কিছু দিতে পারবো না কারণ আমি তাওহিদ পন্থির মানুষ আমি কিচ্ছু দিবো না। আমি কোন মূর্তির সামনে নজর মান্নত পেশ করবো না। তখন তাকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে যে একটা মাছির ডানা হলেও দিতে হবে। সে বলল আমি মাছির ডানাও দিব না। তখন তারা সবাই মিলে তাকে ধরে হত্যা করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন এই ব্যক্তি জান্নাতে চলে গেল। আর যে দ্বিতীয় বন্ধু সে বন্ধু বলছে আমার কাছে কিছু নাই। তখন তাকে ফোর্স করা হচ্ছে যে একটা মাছি হলেও দিতে হবে। তখন সে একটা মাছি কোরবানি করল সেই স্ট্যাচু এর জন্য একটা মাছি উৎসর্গ করলো। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন এই মাছিটা উৎসর্গ করার কারণে সে জাহান্নামে চলে গেছে। আমি কিভাবে বুঝাবো আপনাকে শিরক এবং তাওহীদ কি জিনিস? মানে আপনার চিন্তার মধ্যে যারা পরিবার শিরক বা আকিদা থাকা যাবে না। আপনার কাজ বা আমল আপনার আমলের মধ্যে যাররা পরিমাণ শিরক থাকা যাবে না। আপনার কথা কথার মধ্যে যাররা পরিমাণ শিরকের ছোঁয়া থাকা যাবে না।

পরিবারের জন্য সাধ্যমত খরচ

এই তিনটা ক্ষেত্রে মূলত শিরক হয়। হয় কথায় হয় চিন্তায় হয় কাজে। চিন্তা বলতে কেমন কেউ মনে করছে যে আল্লাহ বলতে কেউ নাই নাউজুবিল্লাহ। এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে বিগ ব্যাংক থেকে কেউ সৃষ্টি করে নাই। মহাবিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে অটোমেটিকলি পৃথিবী সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। পৃথিবী ঘুরছিল অনেক উত্তপ্ত ছিল তারপরে আস্তে আস্তে ঠান্ডা হলো তারপরে হঠাৎ করে ওখানে প্রাণ চলে আসলো তারপর কোথা থেকে জানি মানুষ আসলো তারপর মানুষ গাছের ছাল বাকল পড়ে থাকতো। বন জঙ্গলে ঘুরতো আর পশু শিকার করত। সব ভোকাশ কথাবার্তা সব মিথ্যা কথাবার্তা। এগুলো একটা কথা সাথেও কোরআন সুন্নাহর কোন মিল নাই। এ প্রত্যেকটা কথা পশ্চিমার সভ্যতা থেকে এখানে আসছে। এই প্রত্যেকটা কথা কুরআন সুন্নাহর বিরোধী। মানুষ না কখনো গাছের ছাল পালা পড়েছিল না কখনো বন্য প্রাণীর মত জীবনযাপন করতো। মানুষ সৃষ্টির শুরু থেকেই সভ্য ছিল। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কি আদম আলাইহিস সাল্লামকে নগ্ন করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন? তাকে পোশাক দিয়েছেন। জীবন উপকরণের জ্ঞান দিয়েছেন। ওহীর জ্ঞান দিয়েছেন। এই পৃথিবীতে চলার জন্য যা যা প্রয়োজন সবকিছু আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাকে ওহীর মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছে। সভ্যতা শুরু হয়েছে একজন নবীর দ্বারা। সেই নবীর নাম কি? আদম আলাইহিস সাল্লাম। প্রত্যেক যুগে যুগে সভ্যতা এগিয়ে গিয়েছে নবীদের দ্বারা। আর এখন আমাদের সমাজ বিজ্ঞানের বইতে পড়ানো হয় যে সভ্যতা এগিয়ে গিয়েছে রনকদের দ্বারা গ্রিকদের দ্বারা পশ্চিমাদের দ্বারা। এর বাইরে কিছু নাই। ফিলোসফি পড়েন। ফিলোসফির প্রত্যেকটা বইয়ে এভাবে লেখা আছে।অথচ সভ্যতা শুরু হয়েছে নবীদের দ্বারা ।আর সভ্যতা শেষও হবে একজন নবীর দ্বারা। তার নাম কি? ঈসা আলাইহিস সাল্লাম । এবং তিনি অচিরেই আগমন করবেন ইনশাল্লাহুতালা । সেটা হতে পারে ১০০, ২০০ বা ৩০০ বছর মধ্যে ।কিন্তু সভ্যতা শেষ হবে একজন নবীর হাতে। তো যাই হোক এ প্রতিটা কথা যেমন আল্লাহ বলতে কেউ নাই , বা আল্লাহর সাথে আরও ইলাহা আছে নাউজুবিল্লাহ। বা পৃথিবী বা মহাবিশ্ব আল্লাহ সৃষ্টি করেন নাই। বিগ ব্যাংক থেকে সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবী এগুলো হচ্ছে চিন্তা গত শিরক।এমনও শিরক আছে যেগুলো আধুনিক শিরক। বিজ্ঞান কোন কিছুকে প্রমাণ করলে মানুষ বিশ্বাস করে আর বিজ্ঞান প্রমাণ না করতে পারলে সেটা মানুষ বিশ্বাস করে না। বিজ্ঞান বলছে এই ছবি এত বছর আগের মানুষ বিশ্বাস করে। বিজ্ঞান বলছে এই রকম কোটি কোটি বছর আগে মানুষ বলতে কিছুই ছিল না মানুষের অস্তিত্ব ছিল না। তারপর মানুষকে আল্লাহ পাক সৃষ্টি করলেন নাম শিখালেন। তারপর সেখানে পরীক্ষা নেওয়া হলো। বিজ্ঞান যদি বলে জান্নাত বলতে কিছু আছে তাহলে মানুষ বিশ্বাস করবে। নাসা যদি বলে জাহান্নাম বলতে কিছু আছে মানুষ বিশ্বাস করবে। কুরআনে বলা আছে জান্নাত জাহান্নামের কথা মানুষ বিশ্বাস করতে চায় না। নাস্তিকরা বলে এগুলো মৌলবাদী কথাবার্তা। বলে ধর্ম অন্ধ নাকি আপনারা। অন্ধভাবেই ধর্ম পালন করতে হয়। ধর্ম কে নাজিল করেছেন? আল্লাহপাক ।

পরিবারে শাসন ও সদয় আচরণ

আমি কি আল্লাহর চাইতে বেশি বুঝি? আমি যদি আল্লাহর ইচ্ছার সামনে আত্মসমর্পণ করে দেই। তাহলে তো আমি ধর্ম অন্ধই হলাম। সমস্যা কোথায়? ধর্ম অন্ধ না হলে আপনি ইসলাম পালন করবেন কিভাবে? আল্লাহ চাইতে কি আপনি বেশি দেখতে জানেন। আল্লাহর দৃষ্টি চাইতে কি আপনার দৃষ্টি বেশি প্রখর। আল্লাহ পাক যেটা দেখছেন যেটা ওহী করেছেন। আমি চোখ বন্ধ করে সেটা পালন করছি। তো আমি তো অন্ধভাবে ধর্ম পালন করব। ইসলামের মৌলিক যে বিষয়গুলো সালাত , কালিমা , রোজা, হজ্জ, যাকাত এগুলো মৌলিক না। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো মেনে চলায় তো মৌলবাদ। ইসলামের মৌলিক বিষয় গুলোকে আমি মেনে চলব বলেই তো আমি মৌলবাদী। যদি আপনি মৌলিক বিষয়গুলো না মানেন যে আমি কালিমা মানি না, নামাজ মানি না, রোজা মানি না, যাকাত মানি না, হজ্জ মানি না তাহলে আপনি মুসলিম থাকছেন না। আর মুসলিম হতে হলে তো আপনাকে মৌলবাদী হতে হচ্ছে। কোন শব্দকে কিভাবে তামিল করেন আল্লাহ ভালো জানেন।তো কুরআন এবং সুন্নাহ অন্ধভাবেই মানতে হবে ।এখানে যা আছে এটাই চূড়ান্ত এর বাইরে কোন সত্যের উৎস নেই। হ্যাঁ, কুরআন সুন্নাহর সাথে যদি কোন কিছু মিলে যায়। সেটা মানতে আমাদের কোন আপত্তি নাই। হোক সেটা সাইন্স , দর্শন বা যুক্তি যেকোনো কিছুই হোক না কেন।কুরআন সুন্নাহর সাথে যাই মিলে যাবে মানতে কি অসুবিধা আছে? না নেই। কিন্তু কুরআন সুন্নাহর সাথে কিছু যদি না মিলে তাহলে সেটা কি আপনি মানতে পারবেন । তাহলে কুরআন এবং সুন্নাহকে আপনার এভাবেই মানতে হবে। চোখ বন্ধ করে কুরআন সুন্নাহ মানতে হবে। আর আল্লাহ পাক আমার চেয়ে অনেক ভালো বোঝেন আমার জন্য ভালো কোনটা। তাহলে আল্লাহ পাকের ভালোটা আমি চোখ বন্ধ করে মানবো না। আপনি ডাক্তারের কাছে গিয়েছেন আপনার মনে করেন অনেক বড় একটা রোগ হয়েছে অনেক ডাক্তার দেখিয়েছেন কিন্তু সল্ভ হচ্ছে না । একজন বড় ডাক্তারের খোঁজ পাওয়া গেল তিনি মাদ্রাস এ থাকেন কথার কথা। সেখানে গেলেন এবং আপনাকে অনেকগুলো টেস্ট দিল । আপনি তো জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছেন না এই টেস্ট কেন দিলেন ওই টেস্ট কেন দিলেন? এই ওষুধ কেন দিলেন ওই ওষুধ কেন দিলেন ? এই প্রেসক্রিপশন কেন? ডাক্তার যা দিচ্ছে আপনি অন্ধভাবে নিচ্ছেন। নাকি ডাক্তারের এই সব টেস্ট গুলো নিজের করার ক্ষমতা আছে। আপনি কি নিজে এই টেস্টগুলো করতে পারবেন? ওই ঔষধ কেন দিয়েছে কি গুন আছে। কি উপকারিতা অপকারিতা আছে? এটা তো ডাক্তার ভালো জানে আমার চাইতে। তখন কিন্তু আমরা অন্ধভাবেই ডাক্তারের কথা মেনে নেই এবং ট্রিটমেন্ট নেই। আর আল্লাহ রব্বুল আলামীন মহাবিশ্বের স্রষ্ঠা । তিনি জানেন মহাবিশ্বে কার জন্য কি কল্যাণকর? তিনি মুসলিমদেরকে দিয়েছেন কোরআন এবং সুন্নাহ পুরা মানবজাতিকে দিয়েছেন। এর মধ্যে আল্লাহপাক সমস্ত বিষয়ে দিয়েছেন। তাহলে কি এটা আমি অন্ধভাবে মানবো না? নাকি আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করব কেন আপনি এটা দিলেন কেন নামাজ পড়তে দিলেন কেন রোজা রাখতে বলছেন কেন হজ্জ করতে বলছেন? সবকিছুর কারণ আছে নিশ্চয়ই। সব কারণ ব্যাখ্যা করার মত জ্ঞান কি আমার আছে।

মুয়াজ রাঃ এর জীবন ও ইসলাম গ্রহণ

আমার জ্ঞান কি আল্লাহ পাকের চাইতেও অসীম। নাকি আল্লাহ পাকের জ্ঞান আমার চাইতেও আসীম । যেহেতু আল্লাহ পাকের জ্ঞান অসীম। এই অসীম জ্ঞানের অধিকারীর কাছে আত্মসমর্পণ করব এটাই তো ইসলাম এটাই তো মৌলবাদ এটাই তো অন্ধত্ব। তাহলে এইসব শব্দ দিয়ে মুসলিমদেরকে ডমিনেট করার কোন মানে হয় না। এবং এই শব্দগুলোর অপপ্রয়োগটা চেঞ্জ করতে হবে। এটা হচ্ছে মিডিয়ার মাধ্যমে ইসলামী পন্থীদের একটা আকর্ষিক আঘাত। এইসব শব্দগুলো যারা উচ্চারণ করছে তারা শিরক করছে। সূরা তওবা পড়ে দেখেন এভাবে ইসলামকে টিটকারি করাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুফুরি বলেছেন। ইসলামকে এইভাবে টিটকারি করার কোন সুযোগ নাই। প্রতিটা ফান্ডামেন্টাল আমাকে চোখ বন্ধ করেই মানতে হবে। এর মধ্যে নিঃসন্দেহে আমার জন্য কল্যাণ আছে। আর কিছু কিছু বিষয়ে আমি ব্যাখ্যা করার জ্ঞান রাখবো আর কিছু রাখবো না। যেগুলো আমি রাখবো না সেগুলো নিয়ে আমার এত বাড়াবাড়ি করার কিছু নাই। হয়তো সেই লেভেলে আমার জ্ঞান পৌঁছায় নেই এখনও। আল্লাহপাক বোঝার তৌফিক দান করুন। বলছিলাম চিন্তা গত শিরক।দেখেন সাইন্স যেটা প্রমাণ করে সেটা আমরা মেনে নিই আর যেটা প্রমাণ করে না সেটা আমরা মানতে চাই না। তো এই যে একটা শিরক চিন্তা গত শিরক।এটা আধুনিক শিরকে ভুগছি আমরা। আধুনিক আরও অনেক শিরক আছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে একটা বিষয়ে হালাল করেছেন। আমরা ওটাকে হারাম করে নিচ্ছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে একটা জিনিস হারাম করেছেন আমরা সেটাকে দিদারসে হালাল করে নিচ্ছি। এই যে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের হালালকে হারাম করা এবং হারামকে হালাল করা এটা বর্তমান যুগের বর্তমান বিশ্বের আধুনি শিরক । এটাও শিরক। সূরা তওবার ৩১ নাম্বার আয়াত পড়ে দেখেন। এই নয় যে এরকম শিরকে যারা লিপ্ত থাকবে তাদেরকে হত্যা করতে হবে বিষয়টা এমন নয়। তারা শিরক করছে তারা কুফরি করছে। আল্লাহ ছাড়া কেউ আমার দোয়া কবুল করতে পারে। আল্লাহ ছাড়া কেউ আমার উপকার করতে পারে। আল্লাহ ছাড়া কেউ আমার নাউজুবিল্লাহ অপকার করতে পারে। আল্লাহ ছাড়া কেউ জীবন দিতে পারে বা মৃত্যু দিতে পারে। আল্লাহ ছাড়া কেউ সন্তান দিতে পারে। ইত্যাদি ইত্যাদি মানুষ চিন্তা করছে না। অনেকে দেখি হাতের মধ্যে কিছু পড়ছে তার বিশ্বাস এটা খুলে ফেললে তার ক্ষতি হতে পারে। অনেকে টিয়া পাখি দিয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করছে না। অনেকে রাশিফল দিয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করছে না। আগামীকাল কি হবে একদম সঠিক তথ্য প্রদান করছে। এই যে বিষয়গুলো এগুলো সবই কিন্তু শিরকের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। ভবিচার সম্পর্কে কিছু বলতে হলে বলতে হবে আল্লাহ পাক ভালো জানেন। আলামতে সাইন নিয়ে কথা হচ্ছে কেয়ামতের সাইন নিয়ে কথা হচ্ছে। এই সাইন গুলো যখন আসবে তখন বুঝে নিতে হবে কিয়ামত নিকটবর্তী। এক্সাক্টলি কেউ বলতে পারবে না কত সালে কত বছরে কত মাসে কিয়ামত আসবে। তো এরকম চিন্তা গত প্রচুর শিরক আছে প্রচুর শিরক। তো এগুলো জানার জন্য একটা কিতাবুল তাওহীদ নামের গ্রন্থ আছে এটা পড়তে পারেন। দুই নাম্বার আমল গত শিরক। আমল গত অনেক শিরক আছে । কি রকম? কেউ আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদা করছে। আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে দোয়া করছে। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে নজর করছে মান্নত করছে। অনেকে দেখা যায় যে কবরে গিয়ে গরু জবাই করছে খাসি জবাই করছে। মৃত ব্যক্তির সন্তুষ্টি অর্জন করার চেষ্টা করছে।

জাফর ইবনে আবু তালিব রাঃ ও মোতার যুদ্ধ

এই যে কাজগুলো আছে। এগুলো হচ্ছে কর্মগত শিরক। এগুলোর মধ্যে লিপ্ত থাকলেও কিন্তু এই মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহর হাদিস থেকে আসলে আমরা শিক্ষা নিতে পারি নাই। এখান থেকে বাঁচতে পারছি না। আরেকটা আছে কথার মধ্যে শিরক। কেমন? ধরেন অনেকে আমরা অনেক রকম কথা বলে ফেলি। এমন এমন কিছু কথা বলে ফেলি যেগুলো আসলে শিরকের পর্যায়ে পড়ে যায়। যেমন আমরা সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী এটাও শিরক। যদি বলি আমরা এই বিশ্বের নিয়ন্ত্রা তাহলেও শিরক । যদি বলি বৈশ্বিক জীবনে আমরা যা ডিল করবো সেটাই এখানে ধর্মের কোন ঢোকা স্বাধীনতা নাই তাহলে এটাও শিরক হবে। অর্থনৈতিক বা ইকোনমিক নিয়ে কথা বলতে গেলে যদি বলেন যে এটা নিয়ে ভালো-মন্দ আমরাই ভালো বুঝি এখানে কোন মৌলবাদী কনসেপ্ট ঢুকানো যাবে না ধর্মীয় কোন কনসেপ্ট ঢোকানো যাবে না ধর্মকে এখানে আনা যাবে না এটাও শিরক হবে । ইভেন আপনি পলিটিক্স করছেন এবং শেখানো যদি বলেন এখানে আমি যা বুঝি তাই এখানে ধর্মের কোন অনুপ্রবেশ নাই তাহলে এটাও শিরক হবে। তারমানে আপনি ধর্মকে ৫ পয়সাও দাম দিচ্ছেন না। অথচ ইসলামের প্রতিটা বিষয়ে হেদায়েত এখানে ছিল কিন্তু আপনি নেন নাই। বিশ্বকে এখন ডিল করছে যারা তারা যদি এখন বলে আমরাই বিশ্বের হর্তা কর্তা । ভাব খানা তো ওইটাই বিশ্বের হর্তা কর্তা তো এখন তারাই। কিভাবে এক দেশের সাথে আরেক দেশের যুদ্ধ লাগানো যাবে? কিভাবে আরেক দেশকে অস্ত্র বিক্রি করা যাবে? কিভাবে মহামারী ছড়ানো যাবে? কিভাবে শান্তিপূর্ণ একটা মুসলিম কান্ট্রির মধ্যে সন্ত্রাসী ইস্যু ছড়ানো যাবে? কিভাবে ইকোনমিক্স স্যানসন দেওয়া যাবে কিভাবে একটা দেশকে ডমিনেট করা যাবে এগুলোই চিন্তা করে সারাদিন? বিশ্ব থেকে এখন শাসন করছে বদ শ্রেনীর কিছু মানুষ। পাপি, বদ, ফাসেক , মোশরেক , কাফের টাইপের কিছু মানুষ। এরা বিশ্বকে ধ্বংস করে ফেলেছে। এখানে না আছে কোন মানবতা না আছে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ঐশিক কোন গ্রন্থ না, আছে কোন সাম্য না আছে কোন বাক স্বাধীনতা। না, আছে কোন মুসলিমদের অধিকার না আছে কোন শিশুদের অধিকার না আছে নারীদের হিজাবের অধিকার। কোন কিছুই নাই। এই সব কিছু শিরকের অন্তর্ভুক্ত। এরা আল্লাহ পাককে পাঁচ পয়সাও দাম দেয় না ।যে ব্যক্তি আল্লাহ পাকের বিধানের ৫ পয়সা ও দাম দেয় না নিজের মন গড়া বিধান দিয়ে পুরা বিশ্ব পরিচালনা করে এগুলো শিরকের কনসেপ্ট । এই সমস্ত মানুষকে যদি আল্লাহ পাক একদিনে ধ্বংস করে দেন তাহলে আল্লাহ পাকের জাররা পরিমাণ ক্ষতি হবে না। আর এই সমস্ত মানুষকে যদি আল্লাহপাক উল্টা করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন আল্লাহ পাকের কিছু যায় আসবে না। এর জন্য একটা হাদিস বলে রাখি ।কিয়ামতের মাঠে হাজার ৯৯৯ জন মানুষকে আল্লাহপাক জাহান্নামে দিবে নাউজুবিল্লাহ । আর এক পার্সেন্ট মানুষ জান্নাতে যাবে । আর এই কথা শোনার সাথে সাথে সাহাবী একরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভয়ে কাঁপতে থাকলেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমরা দুশ্চিন্তা করো না । কারন জান্নাতীদের মধ্যে আমার উম্মতের সংখ্যায় হবে সবচেয়ে বেশি সুবহানাল্লাহ ।

মাজলুমের দোয়ার সতর্কতা

কিভাবে জান্নাতে যাবে ? যে ব্যক্তির আমলে কোন শিরক নাই আল্লাহ পাক তাকে মাফ করে দিবে ইনশাআল্লাহু তায়ালা? আল্লাহ পাক বলেছেন যত বড়ই পাপ করুক না কেন যদি আমলনামায় কোন শিরক না থাকে তাহলে আল্লাহ পাক মাফ করে দিবেন। কিন্তু এখনকার বিশ্বের প্রতিটা সেক্টরেই শিরক আছে আপনি ভালোভাবে চোখ দিয়ে দেখুন। পড়াশোনাতেও শিরক আছে লেখাপড়াতেও শিরকে আকীদা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে । অর্থনৈতিক পলিটিক্স এগুলো তো বাদ ওগুলো তো আগেই শেষ। এখন পড়ালেখার মধ্যেও শিরিক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধর্মের মধ্যেও শিরিক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিরিক থেকে বাচা খুবই ডিফিকাল্ট। এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে বলছেন তোমাকে জ্বালিয়ে দেওয়া হোক বা হত্যা করা হোক শিরক করোনা কখনো। আরেকটা হাদিসে বলেছেন যে ব্যক্তি শিরিক মুক্ত হয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে আল্লাহপাক তার সাথে আসমান জমিন সমান রহমত নিয়ে সাক্ষাৎ করবেন ইনশাল্লাহুতালা। ধরে নেন এটা আপনি ধরে নেন আপনি যদি শিরক না করেন যে কোন বড় পাপ যেকোনো পাপ আল্লাহ্‌ পাক আপনার মাফ করে দিবেন যে কোন পাপ । এবং আপনি একদিন না একদিন জান্নাতে যাবেন ইনশাল্লাহু তায়ালা । তবে শিরিক থেকে বেঁচে থাকতে হবে এটা খুবই ডিফিকাল্ট। আল্লাহ পাক শিরক থেকে বাঁচার তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন। এরপরে আসেন পিতা মাতার কথা বলা হয়েছে। পিতা মাতার অবাধ্য হইও না। তোমার পিতা মাতার অবাধ্য হইও না। এখানে একটা কথা স্পষ্ট পিতা-মাতার সাথে সেই জামানায় দাস-দাসীর মত আচরণ করা হবে এটা হাদিসে এসেছে। আমরা এখন এটার প্রমাণ দেখছি। সন্তান মাকে হত্যা করছে ।কোন কোন ক্ষেত্রে সন্তান বাবাকে হত্যা করছে সম্পত্তির জন্য। বাপ মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসছে অনেক ঘটনাই ঘটছে। কিন্তু এখানে ইসলামের বিধান চিরত্ব । পিতা মাতা যদি কাফেরও হয় তারপরেও পৃথিবীতে তার হক তাকে দিতে হবে তার অধিকার তাকে দিতে হবে। তার ভরণপোষণ তার মর্যাদা তার সম্মান তাকে দিতেই হবে। তবে এখন যুগ বদলে গেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় পিতা-মাতা ও জালেম হচ্ছে সন্তানের ক্ষেত্রে। আর সন্তান হচ্ছে মাজলুম। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সন্তানেরা ইসলামের দিকে আসতে চায় কিন্তু পিতা-মাতা সাপোর্ট করছে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সন্তানেরা দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করতে চায় মা-বাবা সাপোর্ট করে না। অনেক সময় সন্তান দেখা যায় দ্বীনি একটা পর্দাশীল মেয়েকে বিয়ে করতে চায় কিন্তু মা-বাবা রাজি না। অনেক সময় দেখা যায় ছেলে মেয়েরা দ্বীনের পথে আসতে চায় কিন্তু বাপ মা রাজি না। অনেক মেয়ের কথা শুনেছি যারা সুদখোর ছেলেকে বিয়ে করবে না ঘুষখোর ছেলেকে বিয়ে করবে না দ্বীনি ছেলেকে বিয়ে করতে চায়। পিতা মাতা বিয়ে দিবে না। পিতামাতা চাই দুনিয়াদার একজন। বাহির থেকে ডিগ্রী আনা দুনিয়াদার একজন। কত বড় সুদখোর হোক তাতে সমস্যা নাই পাঁচতালা বাড়ি থাকলেই হল। কত বড় দুর্নীতিবাজ হোক ঘুষখোর হোক তাতে সমস্যা নাই চোর-ডাকাত হলেও সমস্যা নাই। জমি আছে বাড়ি আছে স্ট্যাটাস আসছে তাতেই হবে। মেয়েকে মনে হয় বিক্রি করতেছে। মেয়েকে বিক্রি করার সময় দেখা যাবে ১০ লাখ ২০ লাখ টাকা মুহুর দিয়ে দেবে। দিবেনা খালি লিখবে। সবাই হচ্ছে দুর্নীতিবাজ।

মুমিনদের পরস্পর আল্লাহর জন্য ভালোবাসা

সবাই সবার স্বার্থ বুঝে ফাক ফোকর খুজতে থাকে। এখানেও ফাঁকফোকর খুঁজে ওখানেও খুঁজে । একটা স্বচ্ছ যে মন দরকার হয় মুসলিম হওয়ার জন্য এই মনটার অভাব আছে এখন। অনেক সময় দেখা যায় পিতা-মাতা জালেম হচ্ছেন সন্তান মাজলুম। এই ক্ষেত্রে কি করবেন ? এই ক্ষেত্রে আপনাকে সবর করতে হবে। যদি দেখেন পিতা-মাতার কোন সিদ্ধান্ত দ্বীনের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। এর চাইতে আপনার বুঝটা ভালো যে দ্বীনের জন্য যেটা কল্যাণকর সেই সিদ্ধান্তে আপনি থাকেন। এমন হতে পারে পিতা-মাতা সিদ্ধান্ত অনেক সময় দিনের বাইরে যেতে পারে। পিতা-মাতা বলছে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করার দরকার নাই। আলেম হওয়ার দরকার নাই। নামাজ পড়ার দরকার নাই। দাড়ি রাখার দরকার নাই। এই সিদ্ধান্তগুলো কি ঠিক আছে। না, ঠিক নাই। পর্দা করার দরকার নাই সুদখোর কে বিয়ে কর। ঘুষখোর কে বিয়ে কর অত দেখার দরকার নাই। শেষ বয়সে পর্দা করিস। শেষ বয়সে ভালো হয়ে যাইস। এগুলোর কি মিনিং আছে কোন ? তো বুঝতে পারছি এগুলো পিতা মাতার ভুল ডিসিশন। যখন বুঝতে পারবেন এগুলো ভুল ডিসিশন তখন এগুলো মানা যাবে না। তবে তাদের সাথে নম্র ব্যবহার করতে হবে ঝগড়া করা যাবে না। তাদের গায়ে হাত তোলা তো যাবেই না তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না। সম্পর্ক ছিন্ন না করে হিকমার সাথে আপনি দাওয়াতি কাজ করবেন দাওয়াত দিবেন বুঝাবেন । তবে আপনি আপনার দ্বীনের ওপর অটল থাকবেন। যে ডিসিশন টা আপনার জন্য বেস্ট হবে। দ্বীনের জন্য বেস্ট হবে সেটার দিকে অটল থাকবেন। এখানে কে আপনাকে কি বলল সেদিকে দেখার দরকার নাই । সবাই যদি দুনিয়ার ফিকির করে তাহলে দ্বীনের ফিকির করবে কারা ? আল্লাহপাক বোঝার তৌফিক দান করুন আমীন। তিন নাম্বারে তিনি বলছেন ফরজ সালাত ছেড়ো না। এর সম্পর্কে একটা কথাই যথেষ্ট। যে ব্যক্তি ফরজ সালাত ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেয় সে ব্যক্তির নাম মুসলিমদের লিস্ট থেকে বাদ হয়ে যায়। একজন আল্লাহর বান্দার কুফর এবং শিরকের মাঝে পার্থক্যই হচ্ছে নামাজ।নামাজ নাই ইসলাম নাই সিম্পল । নামাজ হচ্ছে সমস্ত কাজের শিরোমনি বা শিরোধার্য। সালাত নাই ইসলাম নাই। সালাত থাকতেই হবে এবং সালাত হতে হবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতিতে । ধ্রীস্তের ভাবে ভাবে খুঁসু খুঁজু সাথে এবং এবং এই পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ ঠিকঠাক মত পড়ার পর আপনি সুন্নত এবং নফলের দিকে ফোকাছ করেন। এবং আজকের থেকে নিয়ত করেন জীবনের শেষ পর্যন্ত যে পাপ করেন করেন । মানে পাপ করতে উৎসাহ দিচ্ছি না । যে পাপ হলে হোক নামাজটা যেন না ছাড়েন। পারা যাবে না ইনশাআল্লাহ। যেকোনো পাপ হয়ে যাক আপনি পড়ে যান আবার উঠে দাঁড়ান আপনি পড়ে যান আবার উঠে দাঁড়ান। পাপ হচ্ছে হোক হতাশ হয়েন না। আপনি হয়তো নেশা ছাড়তে পারছেন না, অ্যাফিয়ার ছাড়তে পারছেন না , সুদ ছাড়তে পারছেন না। নামাজটাকে শক্ত করে ধরে রাখেন দেখবেন নামাজী আপনার সব পাপ থেকে আপনাকে মুক্তি দিবে ইনশাল্লাহু তায়ালা । নামাজের এই ক্ষমতা আছে ।

চিন্তাগত ও কথাগত শিরক

চার নাম্বার বলা হয়েছে যে কোশ্চিনকালেও মাদকদ্রব্য সেবন করোনা।এটা নিয়ে কি বলবো এখন? আপনারা আরো ভালো জানেন এটার কি অবস্থা এখন? এই সমাজে দুইটা জিনিস খুব রেয়ার এখন । এক কুমারী মেয়ে খুঁজে পাওয়া খুব রেয়ার। ছাকনি দিয়ে ছাকলেও দেখবেন কুমারী মেয়ে খুঁজে পাচ্ছেন না। জন্ম যখন হবে তখনই বুকিং দেয়া লাগবে। এমন যুগ চলে আসছে না বাচ্চা কাচ্চা কচি কচি মেয়েরা ক্লাস এইট ,নাইন ,টেনে পড়ে নাই শেষ। আপনার বিশ্বাস হচ্ছে না। বাস্তবতা দেখবেন আরেকটু দিন যাক এমনিই দেখতে পাবেন। মেয়েরা যখন একটু বড় হয় তখন তো পর্দার কোন বালাই নাই। প্রত্যেকজন ভাবছে একেক জন একেকটা হিরোইন। আর কোন মেয়ে যদি বুঝে ফেলে যে সে একটু সুন্দর তাহলে ওকে কে হাত দেয়। ওর চলাফেরা দেখলে মনে হবে যে দুনিয়াটাই সবকিছু পরকাল বলে কিছুই না। দুনিয়াতে শুধু ওই আছে আর কেউ নাই। ভাবটা এরকম। আর যারা বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিতে চলে গেছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বলেন মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি বলেন বিউটি কনটেস্ট বলেন এসব জায়গায় যারা চলে গেছে। তাদের কার কত পারসেন্ট সতীত্ব আছে তাদের একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন? যাদেরকে তোমরা ফলো করছো যাতে ছবি পোস্টার ঘরের মধ্যে লাগিয়ে রেখেছো। তাদের কত শতাংশ সতীত্ব আছে খোঁজ নিয়ে দেখো? দুইটা জিনিস খুব রেয়ার যতদিন যাবে ততই আরো রেয়ার হয়ে যাবে। পবিত্র পুতপবিত্র মেয়ে খুজে পাওয়া খুব রেয়ার এখন । দুই নাম্বার এমন ছেলে খুঁজে পাওয়া খুব রেয়ার এমন যুবক যে কখনো সিগারেট খাই নাই বা কোন মাদকদ্রব্য সেবন করে নাই। ম্যাক্সিমাম ছেলেপুলে স্মোক করে এবং এটাকে ফ্যাশন মনে করে। স্মোক করতে করতে করতে একসময় দেখা যায় যে ফেনসিডিল তার পরে করে গাজা , তারপরে ইয়াবা তারপরে হিরোইন আরো বড় বড় কত নেশা এসেছে নতুন নতুন। এই জেনা বলেন ব্যভিচার বলেন আর মাদকই বলেন এগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলিম তরুণ তরুণীদেরকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া এটাই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য। যখন কেউ মাদকদ্রব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকবে বা জেনার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকবে বেপর্দার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকবে। তখন কিন্তু মুসলিম সমাজের মধ্যে নামাজী ব্যক্তির সংখ্যা কমে যায়। দ্বীনি এলেম অর্জন কারীর সংখ্যা কমে যায়। বেপর্দামি বেড়ে যায় ধর্ষণ বেড়ে যায় পরকীয়া বেড়ে যায় এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী প্রজন্ম গড়ে ওঠে। তখন এই প্রজন্ম কি আগামী দিন ইসলামের পতাকা বহন করতে পারবে। যার মধ্যে ঈমানের কোন পেজ নাই ইসলামের কোন ফিকির নাই হালাল-হারামের কোন পরোয়া নাই। একি ইসলামের জন্য কিছু করতে পারবে? তাহলে আমরা পৃথিবীতে আসছি কেন? দ্বীনের জন্য কিছু করার জন্য দ্বীন পালন করার জন্য। এবং দ্বীনটাকে আল্লাহর জমিনে বিজয় করার জন্য। তাহলে যুবকদের প্রতি আগ্রাসনের মূল কারণ হচ্ছে। পিছন থেকে আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে ফেলতে চাচ্ছে এরা। করছে কারা পশ্চিমা সভ্যতারা। ওরা পুরো পরিকল্পিতভাবে এই কাজগুলো করছে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ।

আধুনিক যুগে শিরক ও হালালকে হারাম করা

এবং এমন একটা মুসলিম কান্ট্রি এখন খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে জেনা ঢুকে যায়নি পর্নোগ্রাফি ঢুকে যায়নি মাদক ঢুকে যায়নি। সবখানে ঢুকে গেছে। সুদূর প্রসারী ১০০ বছরের পরিকল্পনা ছিল তাদের। এই প্লানে ওরা ১০০% সফল। automan empare ধ্বংস করার পরে ওদের এই প্ল্যান ছিল। এই প্রাণে ওরা ১০০% সফল। আর আমাদের কোন মাথা ব্যথায় ছিল না কারন আমরা বিরিয়ানি খাচ্ছিলাম হালুয়া রুটি সেমাই খাচ্ছিলাম। বাসায় গিয়ে ঘুমাচ্ছি। আল্লাহ পাক বোঝা তৌফিক দান করুন আমীন। যে কারণে মাদকের কাছে যান হতাশা হোক বা চাকরি পাচ্ছেন না বলেন, পারিবারিক চাপে বলেন, বন্ধুদের পাল্লায় পরে বলেন বা ফার্স্ট স্টেশন বলেন যত যাই বলেন। কোন কিছুই এই পৃথিবীতে স্থায়ী না। সবকিছুর পরিবর্তন আছে এবং সময়ের পরিবর্তন আছে। এবং মাদক এইসব সমস্যা থেকে আপনাকে সলিউশন দিতে পারবে না। চিরস্থায়ী শান্তি মোটেই দিতে পারবে না। সাময়িক একটা আপনাকে ভাইপ দিতে পারে বা ফ্লেভার দিতে পারে। সামান্য একটা ভাইপ। যেমন আপনি যখন খাচ্ছেন মনে হচ্ছে আপনি চিন্তা মুক্ত আছেন বা শান্তিতে আছেন। কিন্তু এটা আপনাকে চিরস্থায়ী শান্তি দিবে না। দুইটা জিনিস আপনাকে চিরস্থায়ী শান্তি দিবে। এক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে পড়বেন মনটা প্রশান্তির সাথে ভরে যাবে ইনশাআল্লাহ । শুধু ট্রাই করে দেখেন না ভাই ।৪০ টা দিন ট্রাই করে দেখেন। দুই নাম্বারটা হচ্ছে এটা আরো বড় অস্ত্র। আপনাকে ডেইলি কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে মিনিমাম ১ থেকে ২ ঘন্টা।এক থেকে দুই ঘন্টা কোরআন তেলাওয়াত করবেন দেখবেন অশান্তি বলতে কোন কিছু থাকবে না ইনশাল্লাহু তায়ালা। সারা পৃথিবীর মানুষ যদি আপনাকে চারপাশ থেকে প্যারা দেয় , পেরেশানি দেয় পেইন দেয় আপনার মাথা রিল্যাক্স ঠান্ডা থাকবে। কারণ আপনার মধ্যে কুরআন আছে। বিশ্বাস করছেন না কথা? আল্লাহর কিতাবের কাছে এসে দেখেন মাদক ছেড়ে দেন। আর আইন দিয়ে এসব দেয়ালে দেয়ালে লিখে আর দুই চারটা মাইকিং করে দু'চারটা বুলিয়া উড়িয়ে যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা যাবে না । যতক্ষণ পর্যন্ত ওদের আত্মিক পরিশুদ্ধ না হচ্ছে নিজেকে আল্লার কাছে আত্ম সমর্পণ না করছে। কেন খাব না? যখন সে জবাব দিবে যে আমি আল্লাহর ভয়ে খাব না। ব্যাস তার মানে সে মুমিন হয়ে গেছে। এখন কেন খাচ্ছে কারণ সে হতাশ চাকরি পায় না গার্লফ্রেন্ড ছেড়ে গেছে এই হইছে সেই হইছে পারিবারিক চাপ তাই সে মাদক খাচ্ছে। আরেকটা জিনিস থাকতে হবে শুধু নুসরাত করেই হয় না আইনের সুশাসনও নিশ্চিত করতে হবে ।সত্যিকারের অর্থে যদি আইনের সুশাসন যদি নিশ্চিত নিশ্চিত হয় যে তৈরি করছে যে বানাচ্ছে যে খাচ্ছে সবাইকে যদি শাসনের আওতায় আনা যায়। ওই যে আছে না শাসনের লাঠি উঠিয়ে নিও না। তখন দেখবেন ইনশাল্লাহ সমাজটা মাদক মুক্ত হবে আদারওয়াইজ হবে না। সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে আল্লাহর ভীতি। আল্লাহ কে ভয় করে মাদক ছেড়ে দেন। আল্লাহ পাক আপনাকে জান্নাতে মদ খাওয়াবে ইনশাআল্লাহ। হ্যাঁ, জান্নাতে সারাব আছে তো আর আমরা জান্নাতের সারাব খাবো ইনশাআল্লাহ তায়ালা। ওই সারাব খেলে কেউ মাতাল হবে না বরং আপনার শক্তি আরো বাড়বে। আপনার সব ধরনের শক্তি বাড়বে। আল্লাহপাক বলেছেন এটা যারা পান করবে এটা চমৎকার সুস্বাদু হবে। আদার একটা ফ্লেভার থাকবে। সূরা দাহার এর মধ্যে আল্লাহপাক বলেছেন পড়ে দেখেন।

পিতামাতার ভুল সিদ্ধান্তে করণীয়

দুনিয়াতে এগুলো ভোগ করে নিলে জান্নাতে তো এগুলো কিছু পাবেন না। তো জান্নাতের জন্য এগুলো রেখে দেন। এই বেপর্দা মেয়েদের পিছনে ছুটেন না। আপনার জন্য অনেক সুন্দর সুন্দর হুর জান্নাতে অপেক্ষা করছে। আমি একটা হাদিস পড়েছি মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর থেকেই বর্ণিত। আল্লাহর নবী আমাকে একদিন বলেছেন। যে দুনিয়াতে যদি কোন স্ত্রী কোন স্বামীর সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে। এমন যদি হয় জান্নাতে তার জন্য যে হুর আছে মানে ওই মুসলিম ব্যক্তির জন্য যে হুর আছে ডাগর ডাগর চোখ ওয়ালা। ওই হুরইন অদৃশ্য ভাবে বলতে থাকে এই মেয়েকে উদ্দেশ্য করে তুমি তাকে কষ্ট দিও না তুমি তাকে কষ্ট দিও না। সে তোমার কাছে কয়েকদিনের মেহমান মাত্র অচিরে সে আমাদের কাছে চলে আসবে সুবহানআল্লাহ । আর এখন যদি আপনি এসব নগ্ন বেপর্দা অশ্লীলতার ফেরিওয়ালা দেহ ব্যবসায়ীদের পিছনে ছুটে বেড়ান তাহলে আপনি জান্নাতে হুর পাচ্ছেন না। আল্লাহপাক আপনাদের সবাইকে হুরইন দান করুন দোয়া করি। অতএব সেভাবে চলার মত আল্লাহপাক তৌফিক এবং ঈমান দান করুন আমিন। ৫ নাম্বার হচ্ছে কবিরা গুনাহ করোনা। যদি কবিরা গুনাহ করো তাহলে আল্লাহ পাকের গজব তোমার উপরে অবধারিত হবে। কবিরা গুনাহ গুলো তো জানেন যেগুলো বড় বড় গুনাহ। কবিরা গুনাহের লিস্ট আছে একটা বই পাওয়া যায়। বইটির নাম হচ্ছে কিতাবুল কাবাইর। এই বইয়ের মধ্যে দেখবেন প্রায় ১০০ দেড়শো কবীরা গুনাহ লিস্ট করা আছে। যত বড় বড় কবিরা গুনাহ আছে চুরি বলেন ডাকাতি বলেন জেনা বলেন ধর্ষণ বলেন গীবত বলেন অপবাদ বলেন মাদকদ্রব্য সেবন ইত্যাদি। সমস্ত গুনাহ থেকে আমাদেরকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হবে। একেবারে পারবোনা আস্তে আস্তে চেষ্টা করতে হবে।ইনশাআল্লাহ আস্তে আস্তে আমরা যত পরিণত হব তত যত বয়স হবে যত ম্যাচুরিটি আসবে তত গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারবো ইনশাল্লাহু তায়ালা আল্লাহ পাক তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। আর কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে না থাকতে পারলে আল্লাহ পাক তার উপর গজব অবধারিত করবে। আল্লাহ পাক রাগ হয় তার ওপরে। ৬ নাম্বার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যদি তোমার জীবন দশায় মুসলিম এবং কাফেরদের মধ্যে ব্যাটেল হয়। যদি হয় না, হলে আবার জোর করে লাগানোর দরকার নেই। মিডিয়া দেখেন না জোর করে যুদ্ধ লাগায় দেয়। চীন এবং তাইওয়ানের সম্পর্ক আছে মানে মোহনারা চলছে। মিডিয়ার ভাইপ দেখলে মনে হয় যুদ্ধ লেগে গেছে। এই ক্ষেপণাস্ত চালালো এই এটা করলো এই সেটা করল সে নিজেই যুদ্ধ লাগিয়ে দিচ্ছে । নিজের যুদ্ধ লাগায় দিবে যুদ্ধ লাগার আগে তো এই ভাইগুলো থেকে দূরে থাকবেন। যদি তোমার জীবন দশায় দেখো কুফফার এবং মুসলিমদের মধ্যে ব্যাটেল হচ্ছে আর তুমি সেখান উপস্থিত আছো তাহলে তুমি সেখান থেকে পালিয়ে যেও না। যদি সমস্ত মানুষ হালাক বা ধ্বংস হয়ে যাক তবুও তুমি পালিয়ে যেও না। তো ওইটা তো অনেক বড় স্কেল। এখন কি? ইসলামের জন্য তো জ্ঞানের দ্বীন অর্জন করা যায় ইসলামের জন্য আমল করা যায় ইসলামের জন্য একটা পরিবার গড়া যায় ইসলামের জন্য সন্তানদেরকে মানুষ করা যায় একটা মসজিদ করা যায় একটা মাদ্রাসা করা যায়। সমাজকল্যাণমূলক কাজ করা যায়। দ্বীনের এলেম মানুষদেরকে শিখানো যায়। দ্বীনের প্রচার প্রসার এবং প্রতিষ্ঠিত একটা অন্তর্ভুক্ত ব্যাপার এখান থেকেও আমরা সরে আসছি। এখান থেকে যদি কেউ সরে আসে তাহলে কি মানুষ ওই অবস্থায় নিজেকে ঠিক রাখতে পারবে। নিজের কথা দিয়ে নিজের কলম দিয়ে নিজের জান দিয়ে নিজের মাল দিয়ে আপনার সময় দিয়ে শ্রম দিয়ে আল্লাহর পাশে থাকা। এই প্রতিটা বিষয়ে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।

মাদক, বেপর্দা ও যুব সমাজের বাস্তবতা

এখানে যদি আমরা পিছুপা হয় তাহলে বড় বড় ক্ষেত্রে কিছু করতে পারবো না। এরপরে নবীজি বলেছেন যদি মহামারী আসে আর তুমি যদি এর মধ্যে থাকো তাহলে তুমি পালিয়ে যেও না। কারণ তুমি যখন অন্য কোথাও চলে যাবে ওরাও তখন ওই ভাইরাসের শিকার হবে। তার মানে মহামারী আসবে এটাও বুঝা যাচ্ছে। এবং শেষ জামানায় মহামারী কিন্তু বাড়বে এটা বোঝা যাচ্ছে। এবং এটা একটার পর একটা আসতে থাকবে। এবং সব মহামারী যে আল্লাহর গজব হিসেবে ধরে নেওয়া যায় এমনটাও নয়। অনেক বিষয়ে আছে যেগুলো ম্যানুফ্যাকচার। যেগুলো মানুষ ইচ্ছাকৃত ভাবেই ছড়ায় । world কে লিড করে এমন কিছু মানুষ যারা ইন্টার্নালি করাপটেড। যাদের একটা সুদূর প্রসারী খারাপ নিয়ত আছে বিশ্বকে কেন্দ্র করে। বিশ্বে একটা যুদ্ধ লাগানোর খুব পাইতারী চলছে এখন। যেকোনো উপায়ে হোক একটা সভ্যতা চাচ্ছে বিশ্বটার মধ্যে একটা পারমানবিক যুদ্ধ লাগাতে চাইছে। কি উদ্দেশ্য সেটা পরে বুঝবেন যখন দেখবেন ইসরাইল পুরো বিশ্বটাকে শাসন করছে তখন বুঝবেন উদ্দেশ্য সফল। এটা এখন বুঝবেন না পরে বুঝবেন। এজন্য তারা পারমানবিক শক্তিধর কান্ট্রি গুলোকে উস্কানো শুরু করেছে একজনকে আরেকজন। তো যদি মহামারী আসে তুমি তাদের মধ্যেই থেকো পালিয়ে যেও না। ওখানেই থেকো। কারণ যদি একজন ব্যক্তি মুমিন হয় এবং মহামারিতে মৃত্যুবরণ করেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সে ব্যক্তি বেহেশতের দরজা পাবি ইনশাল্লাহুতালা। এরপর তিনটা পরিবার সংক্রান্ত। পরিবার সংক্রান্ত তিনটা নসিহত করেছেন। এক হচ্ছে তুমি পরিবারে সাধ্যমত খরচ করো। তোমার যা সাধ্য আছে সেই অনুযায়ী খরচ করো। আপনি যদি কোটিপতি হন আপনার পরিবারে সাধ্যমত খরচ করেন কোন সমস্যা নাই । ওইটা বিলাসিতা নয়। আর আপনার যদি মাসে ৫০০০০ টাকা বা ১ লাখ টাকা আর্নিং থাকে আপনি সেভাবে খরচ করেন। কারো পরিবারের আরনিং যদি ২০ হাজার টাকা হয় সেভাবেই খরচ করেন। মানে সাধ্যের বাইরে যাওয়ার ও দরকার নাই এবং অতিরিক্ত কৃপণতা করারও দরকার নাই। মধ্যম পন্থায় আপনি খরচ করবেন তাও সাধ্যমত। আর এখন সাধ্যমত খরচ করার সুযোগ কোথায়? ঘরে ঘরে তো সব মাশাআল্লাহ এমন স্ত্রীদেরকে নিয়ে আসছেন। পাশের বাসার আপা গুলোকে দেখে দেখে আসবে এবং এসে বলবে আপনাকে কমুকের তো এটা দেখলাম তমুকের তো এটা দেখলাম। তুমি তো আমাকে বিয়ের পর থেকে কিছুই দিতে পারলা না ঠিক আছে। তো বুঝাবেন। আমি একটা জিনিস ফিল করি যে স্ত্রীদের সাথে কঠোর হয়ে কোন লাভ নাই। বিয়ে তো করেই ফেলেছে। এখন বিয়ে করাটা যত সহজ মুক্ত হওয়া তো অত সহজ না ঠিক আছে। একবার করে ফেললে ব্যাস করে ফেলছেন সারা জীবন টানটে হবে। ইল্লা মাশাআল্লাহ পরিবার ধ্বংস হওয়ার চাইতে। এটলিস্ট থাকাটাও উত্তম। এবং একবারেই যখন কোন ভাবি টিকা যায় না তখন একটা উপায় আছে। তখন ইসলামে একটা বিচ্ছেদের ব্যবস্থা আছে। ডিভোর্সের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু নারী জাতিকে আল্লাহপাক এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন। আপনি যত কঠোর হবেন নারী জাতি তত ব্যাঁকা হবে। আপনি যত কঠোর হবেন তারা ব্যাকে বসবে।তাদের সাথে এত বেশি কঠোর হয়ে কোন ফায়দা নাই।

মহামারিতে ধৈর্য ও সবর

কিভাবে ডিল করতে হবে একটা সূত্র বলে দেই।আপনি আপনার মেয়ের প্রতি যেমন। আপনার যদি একটা মেয়ে থাকে পাঁচ বছর বয়স দুই বছর বয়স বা ১০ বছর বয়স। একটা মেয়ের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন খুব মিষ্টি সম্পর্ক। ও হাজারটা ভুল করলেও আপনি তাকে কোলে তুলে নেন আদর করেন জেদ করলে আপনি ঠান্ডা মাথায় শবর করেন।ওই মেয়ের সাথে আপনার সম্পর্ক কখনো বিচ্ছেদ হয়। হয় না কিন্তু। মেয়েরা অনেক জালাতে পারে ছোট বাচ্চা আট , পাঁচ , দশ বছর বয়স। খুব জ্বালাচ্ছে আপনি সবর করেন আপনি তার চাহিদা পূরণ করেন। এটা কিনে দেন ওইটা কিনে দেন বুঝান আদর করেন। এইভাবে যদি আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে থাকতে পারেন তাহলে আপনি ফ্যামিলি লাইফে হ্যাপি। আর যদি অন্য কোন পলিসিতে যান। খুব কঠোরতা করেন বয়কট করেন কথাবার্তা বন্ধ খাওয়া দাওয়া বন্ধ। সে ওই বাসায় চলে গেলো। এভাবে চলতে থাকলে না আপনি দ্বীনের কাজ করতে পারবেন না, না দুনিয়ার কাজ করতে পারবেন। এখানে শবর ছাড়া কোন নসিহত নাই শবরি শবর। ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা দেওয়া লাগবে এইখানে। আর দুনিয়াতে যদি একটু কষ্ট করে চলতে পারেন জান্নাতে হুর অপেক্ষা করছে ইনশাআল্লাহ। একজন স্ত্রীর সাথে আপনি নিজের মেয়ের মত করে মিশুন মেয়ের সাথে আপনি যেমন নিজের ছেলে সন্তানের সাথে আপনি যেমন। এভাবে করে একটু ডিল করুন মাশাল্লাহ দেখবেন আপনার মত ভালো মানুষই থাকবে না তার কাছে। আল্লাহ পাক পরিবারগুলোকে সুখী করুন দোয়া করি । কারণ পরিবারের ভাঙ্গন টা এখন খুব বেশি হচ্ছে। প্রায় পরিবারের ডিভোর্স এবং পরকীয়া। এগুলো থেকে দূরে থাকতে হলে আমাদের কিছু ইসলামিক মোটিভেশন এর দরকার আছে। আল্লাহ পাক আপনাদেরকে বোঝার তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন। এক পরিবারের ব্যয় সাধ্য মত করুন।শেষের দুইটা নবীজি বলেছেন আদবের লাঠি উঠিয়ে নিও না। আদবের যে লাঠিটা আছে এটা পরিবারের থেকে উঠিয়ে নিও না। কারণ পরিবারের শাসন বলে একটা কথা থাকতে হবে। সবকিছু যদি সবার জন্য ওপেন করে দেন যা ইচ্ছা তাই করুক। তাহলে আপনার মূল্য থাকবে না এবং আপনার কথাকে কেউ দাম দিবে না। আপনার পরিবারে অশ্লীলতা ফাইসা বেপর্দা ঢুকে যাবে। আর একবার ঢুকে গেলে আপনি খুব সহজে বের করতে পারবেন না। তাই শাসনের লাঠি টা কখনো উঠিয়ে নিবেন না। শাসনে লাঠিটা থাকবে পরিবারে। আর সর্বশেষটা হচ্ছে। তাদেরকে আল্লাহ পাকের ভয় দেখাতে হবে। কারণ আল্লাহ পাকের ভয় সব কিছুর কেন্দ্র যার মধ্যে আল্লাহপাকের ভয় ঢুকে গেছে। তাকে কি আর শাসন করা লাগবে? শাসন করা লাগবে না কিন্তু । যার মধ্যে আল্লাহপাকের ভয় ঢুকে গেছে সে অটোমেটিকলি আল্লাহর পথে চলবে ইনশাল্লাহ। আল্লাহপাক আমাদের সবাই এর পরিবারকে জান্নাতের পরিবার হিসেবে কবুল করে নিন আল্লাহুম্মা আমীন। আমাদের পরিবার বর্গকে আল্লাহপাক হেদায়েত দান করুন। আমাদের পরিবারের জন্য সাধ্যমত ব্যয় করা তৌফিক এনায়েত করুন। পরিবারের মধ্যে আমরা যারা বাবা-মা ভাই-বোন সন্তানেরা আছি তাদের মধ্যে ভালোবাসার হৃদ্যতার বন্ধন আল্লাহপাক তৈরি করুন। আল্লাহ না করুক যদি আমাদের মধ্যে মহামারী ছড়িয়ে পড়ে সেখানে সবর করার তৌফিক আমাদেরকে দান করুন আল্লাহ পাক। আমরা সবাই যেন কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারি আল্লাহপাক সেই তৌফিক আমাদেরকে দান করুন আমিন।

সাধারণ প্রশ্ন

এই হাদিসে নবীজি মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কয়টি ওয়াসিয়ত করেছিলেন?

লেখায় বলা হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দশটি ওয়াসিয়ত করেছিলেন। প্রথম ওয়াসিয়ত হলো আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক না করা।

হাদিসে ফরজ সালাত সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

লেখায় বলা হয়েছে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ সালাত ছেড়ে দেয় তার নাম মুসলিমদের তালিকা থেকে বাদ যায়, এবং এটি কুফর ও শিরকের মাঝে পার্থক্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পিতা-মাতার সাথে আচরণ সম্পর্কে হাদিসে কী উপদেশ আছে?

হাদিসে পিতা-মাতার অবাধ্য না হওয়ার কথা বলা হয়েছে। লেখায় আরও বলা হয়েছে যে পিতা-মাতা কাফের হলেও তাদের হক দিতে হবে এবং তাদের সাথে নম্র ব্যবহার করতে হবে।