Islamবাংলা

ঘুমানোর পূর্বে যে কাজ গুলো করতে ভুলবেন না

ঘুমানোর আগে রাতের নিরাপত্তা ও করণীয়

রাতের বেলায় অনেক বিপদ হতে পারে চুরি হতে পারে ডাকাতি হতে পারে। তারপর আপনার দুষ্ট জ্বীন শয়তান উৎপাত করতে পারে। এছাড়া আপনার যাদু বিদ্যার কাজ হয় রাতের বেলা মানুষ এগুলো করতে পারে।কুফরি কালাম করতে পারে। বিষাক্ত পশু প্রাণী আপনাকে কামড় দিতে পারে। রাতের বেলায় অনেক কিছুই হতে পারে। আপনিতো ঘুমের মধ্যে আছেন আপনি তো জানেন না কি হতে যাচ্ছে ।ঘুমানোর আগে আইতাল কুরসি পড়বেন ইনশাল্লাহু তায়ালা আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করবেন ইনশাল্লাহু তায়ালা। প্রথম কাজ কি করবেন ? এশার নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে যাবেন। এশার নামাজের পরে যদি খাবার খান । তারপরে কিছুক্ষণ পড়াশোনা করে হাটাহাটি করে ঘুমাবেন। কারণ খাবার খাওয়ার সাথে সাথে বিছানায় যাওয়া উচিত নয়। আর যদি রাতে এশার নামাজের আগে খাবার খেতে পারেন তাহলে সবচেয়ে বেশি ভালো। এটাই সুন্নাহ সম্মত এশার নামাজের আগেই রাতের খাবার খেয়ে ফেলা। মাগরিব এবং এশার মধ্যেই রাতের খাবার খেয়ে ফেলা। তারপরে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে বাসায় এসে ঘুমিয়ে পড়া। এটাই বেস্ট। বলেন তো আমাদের কোন ফিকির আছে। আমরা সবাই ঘুমায় কয়টায় না হয় একটাই না হয় দুইটাই না হয় তিনটায়। ম্যাক্সিমাম মানুষ এখনকার লেট করে ঘুমায়। আমি যে কথাটা বলছি এটা খুবই কঠিন এখনকার জেনারেশনের কাছে ৯ টা থেকে ১১ঃ০০ টার মধ্যে ঘুমাতে হবে। এর জন্য প্রথমে যে কাজটা করতে হবে সেইটা হচ্ছে রাত্রে আর স্মার্টফোন চালানো যাবে না। এশার নামাজ শেষ ফোন একদম ড্রয়ারে লক করে রাখতে হবে। এটা না করলে আপনি ঘুমাতে পারবেন না। ঘুমাতে পারবেনই না। এরপর দ্বীনে আসছি দ্বীনের কিছু কাজ আছে। দিনের কাজগুলো যদি আমরা ঠিকঠাক মতো করি তাহলে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুম আসবে ইনশাল্লাহ। আর যদি না করি তাহলে ঘুম আসবে না। এখন ঘুমানোর আগে কি করবেন ? ঘুমানোর আগে প্রথমত পড়বেন আইতাল কুরসি। আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম। লা তা খুজুহু সিনাতু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিস সামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ। মান জাল্লাজি ইয়াশ ফাউ ইনদাহু ইল্লা বি ইজনিহি, ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম মিন ইল মিহি ইল্লা বিমা শা আ, ওয়াসিয়া কুরসি ইউহুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলি ইয়ুল আজিম। সূরা বাকারার আয়াত নাম্বার ২৫৫। সূরা বাকারার ২৫৫ নাম্বার আয়াত হচ্ছে আয়তাল কুরসি। ঘুমানোর আগে আইতাল কুরসি পরে ঘুমাবেন। সূরা বাকারার শেষের তিন আয়াত পড়বেন। লিল্লা-হি মা ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদিওয়া ইন তুবদুমা-ফিআনফুছিকুম আও তুখফুহু ইউহা-ছিবকুম বিহিল্লা-হু ফাইয়াগফিরু লি মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইউ'আজজিবু মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদির।এই শেষের তিনটা আয়াত অবশ্যই পড়বেন। ঘুমানোর আগে যে ব্যক্তি আয়তাল কুরসি পড়বে আল্লাহর একজন ফেরেশতা তার কাছে থাকবে। সারারাত এই ফেরেশতা ওই ব্যক্তিকে পাহাড় দিবে ইনশাল্লাহ। কোন বিপদ-আপদটা কি স্পর্শ করবেন ইনশাল্লাহু তায়ালা।

সূরা বাকারার শেষ আয়াত ও তিন কুল

আর সূরা বাকারা কেন পড়বেন? কারণ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি রাতের বেলায় সূরা বাকারার শেষের তিনটা আয়াত পড়বেন। সারা রাত আপনি যে নফল নামাজ পড়তেন যে নেকি হতো এই আয়াত পড়ার মাধ্যমে সেই নেকি হয়ে যাবে ইনশাল্লাহু তায়ালা । সারারাত ধরে নফল নামাজ পড়া কি কষ্টকর না। এর চেয়ে সবচেয়ে সহজ হচ্ছে সুরা বাকারার শেষের তিন টা আয়াত পড়বেন ঘুমিয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ সারা রাতে নফল নামাজের নেকি আপনার আমল নামায় লিখা হবে । এগুলো শুধু বললেই হবে না। আর শুনলেই হবে না। আমল করতে হবে কবে থেকে? আজকে থেকে ইনশাল্লাহ আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে আমল করার তৌফিক এনায়েত করুন আমিন। এরপর কি করবেন ? এরপর তিন কূল পড়বেন। কোনটাকে তিন কুল বলে? বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। কুলহু আল্লাহু আহাদ এটা একটা। কুল আউযুবি রাব্বিল ফালাক এটা একটা। কুল আউযুবি রাব্বিন নাস এটা একটা। এই তিনটা সুরা কার মুখস্থ নাই এমন কেউ আছে। যদি থাকে তার গলায় দড়ি দেওয়া উচিত। যদি এমন কেউ থাকে এই মুসলিম সমাজে যার এই তিন কুল সূরা মুখস্ত নাই তাহলে তার গলায় দড়ি দেওয়া উচিত লজ্জায় । আত্মহত্যা করার উৎসাহিত করছি না। ওই যে পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হলে আত্মহত্যা করে না দেখেন না। তারও আগে তোমার লটকানো উচিত ছিল এই জন্য যে তুমি তিন কুল পড়তে পারো না এখনো। মুসলিম ঘরে জন্মগ্রহণ করে মুসলিম সমাজে বসবাস করে তুমি তিন কূলই পড়তে পারো না এখনো। তার কি দরকার আছে বেঁচে থাকার? কোন মুখ নিয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবেন। কোন মুখ নিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাবেন। ইয়া রাসুলুল্লাহ আপনার উপরে পুরা ৩০ পারা কোরআন নাজিল হয়েছিল আমি তিন কুলই মুখস্ত করতে পারিনি। আমার জন্য সুপারিশ করেন। এই কথা কোন মুখ নিয়ে বলতে যাবেন। তবে কুরআন একটা কিতাব আলহামদুলিল্লাহ। একজন হিরন খোরও সূরা ফাতিহা পড়তে পারে। একজন হিরনখোর ও সুরা ফাতিহা বলতে পারে কোরানের মজাইজা। সবার মনের মধ্যে আল্লাহপাক কোরআন ঢুকিয়ে দিবেন তবে চেষ্টা থাকতে হবে না। বাচ্চাদেরকে শেখান। বাচ্চাদেরকে লারেরাপ্পা না শিখিয়ে বাচ্চাদেরকে কোরআন শেখান। না, হলে এসব সন্তানরা এসব বাচ্চারা বড় হয়ে ফিল্ম স্টারদের পেছনে দৌড়াবে। পর্ন স্টারদের পেছনে দৌড়াবে। বিদেশ থেকে কোন মেয়ে যদি আসে নাচতে এদেরকে দেখতে যাবে টিকেট কেটে ১২ হাজার ১৫ হাজার টাকা দিয়ে। সু সন্তান মানুষ করে যান। কুলাঙ্গার প্রজন্ম জন্ম দিয়ে কি দরকার এর চেয়ে ভালো বাচ্চা নেওয়ারই দরকার নেই। যদি বাচ্চাকাচ্চা এভাবে মানুষ করবেন তাহলে নেয়ারই দরকার নাই ভাই। যদি বাচ্চাকাচ্চা এমন ভাবেই মানুষ করবেন তাহলে নেয়ারই দরকার নাই। বন্দা থাকেন বিয়ে করার দরকার নাই আপনার । কারণ বাচ্চা তো মানুষ করতে পারছেন না আপনি। আল্লাহপাক আমাদেরকে বোঝার তৌফিক দান করুন আমীন। তিন কুল পরে ঘুমাবেন । তিন কূলের মধ্যে একটা হচ্ছে সূরা ইখলাস একটা হচ্ছে সূরা ফালাক এবং আরেকটা হচ্ছে সূরা নাস।

তিন কুল ও সূরা কাফিরুন পাঠের ফজিলত

কি হবে এটা পড়লে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন দৃশ্য বা অদৃশ্য (মানে যা দেখা যায় এবং যা দেখা যায় না) ।দৃশ্য এবং অদৃশ্যের কোন ক্ষতি তাকে স্পর্শ করবে না ইনশাআল্লাহ । প্রটেকশন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রটেকশন দেয়া হবে। আর এটা যখন রাতে পড়বেন তখন এইভাবে পড়বেন এক বার সূরা ইখলাস ( কুলহু আল্লাহু আহাদ) তারপর সূরা ফালাক ফুল ( আউযুবি রাব্বিল ফালাক) তারপর সূরা নাস ( কূল আউযুবি রাব্বিন নাস) পড়ে দুই হাত একত্রিত করে ফু দিবেন। ফু দিয়ে মাথা থেকে নিয়ে পুরো বডি মাসাহ করবেন। এটা তিনবার করবেন একবার না। একবার করবেন আবার করবেন আবার আরেকবার করবেন। এরপরে পড়বেন সূরা কাফিরুন। কুলিয়া আইয়ুহাল কাফিরুন লাবুদুমাতাবুদু।( কুল ইয়াআইয়ুহাল কা-ফিরুন।লাআ‘বুদুমা-তা‘বুদুন।) পড়বেন (লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দিন।) পর্যন্ত। তাহলে কি হবে? রাতের বেলায় ঘুমানোর আগে যদি কোন ব্যক্তি সূরা কাফিরুন তেলাওয়াত করে ঘুমিয়ে যায় আল্লাহ পাক ওই ব্যক্তিকে শিরিকের পাপ থেকে মুক্ত রাখবে ইনশাআল্লাহু তায়ালা। আমি অনেক লেকচারে বলেছি আবারো বলছি যত মানুষ জাহান্নামে যাবে । হাজারে যে ৯৯৯ জনই জাহান্নামে যাবে তাদের আমলনামায় মূল পাপ টাই হচ্ছে শিরক। কথা কি বুঝতে পারছেন? এইযে হাজারে যে ৯৯% মানুষ জাহান্নামে যাচ্ছে। এটাতো হাদিস তার মধ্যে যারা জাহান্নামে যাবে তাদের আমলনামায় সবচেয়ে কমন যে পাপটা থাকবে সেটা হচ্ছে শিরকের পাপ। কারণ শিরক ছাড়া আল্লাহ পাক যেকোনো পাপ তওবা করলে আল্লাহ পাক যাকে ইচ্ছা মাফ করে দিতে পারেন । যদি শিরকরত অবস্থায় কোন ব্যক্তি মারা যান। সেই ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে এটাই চূড়ান্ত ইল্লা মাশা-আল্লাহ । সূরা কাফিরুন যদি আপনি রাতের বেলায় ঘুমানোর আগে তেলাওয়াত করেন আল্লাহপাক আপনাকে শিরিক থেকে বাঁচাবেন। শিরিক সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানার জন্য আপনি পড়েন কিতাবুল তাওহীদ। এই বইটি পড়েন দেখবেন এখানে শিরিক সম্পর্কে সমস্ত কিছু লিখা আছে।। কোন কোন কাজ করলে শিরক হয় কোন কোন কথা বললে শিরিক হয়। কি চিন্তা করলে শিরিক হয়? মনে রাখবেন এই যুগে বেশিরভাগ মানুষ যে পাপে ডুবে আছে সেটা হচ্ছে শিরিকের পাপ। মনে রাখবেন শিরিক কথায় হয় চিন্তায় হয় এবং কাজে হয়। এই তিন শ্রেণীর শিরিকের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া আছে একটি বইতে কিতাবুল তাওহীদে। বাজারে কিনতে পাওয়া যায় পড়ে দেখবেন। আজকে রাতের বেলায় শোয়ার সময় পড়বেন ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ৩৪ বার আল্লাহু আকবার। আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার শরীরের শক্তি আসবে। কারণ এইটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাকে শিখিয়ে দিয়েছেন? তার মেয়ে ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা কে। ফাতিমা রাদিআল্লাহু আনহা এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু গিয়েছেন আল্লাহর রাসূলের দরবারে গিয়ে বলেছেন আমাদেরকে একজন দাসী বা দাস দেন বাসায় অনেক কাজ আমরা করতে পারি না। লাগেনা কাজের মানুষ। নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু শিখিয়ে দিব যাতে এই দাস-দাসীর অভাব পূরণ করে দিবে দাস দাসীর প্রয়োজন হবে না। তখন নবীজির নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখালেন যে ঘুমানোর আগে 33 বার সুবহানআল্লাহ পড়বে ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ পড়বে এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়বে। তোমাদের দাসদাসীর প্রয়োজন হবে না ইনশাআল্লাহ।

তাসবিহ পাঠ ও ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘটনা

তো এর ব্যাখ্যা অনেক ওলামা একরাম বলেছেন এটা নিয়মিত আমল করতে থাকলে রোগব্যাধি কম হয়। শরীরে শক্তি আসে এনার্জি বারে আপনি নিজের কাজ নিজেই করতে পারবেন ইনশাল্লাহু আজুয়াল আযীম। এরকম ঘুমানোর বেশ কিছু আমল আছে। আমি অল্প কয়েকটা বললাম এগুলো দিয়েই শুরু করেন আল্লাহ পাক তৌফিক দান করুন আমিন। আর যদি পারেন অজু করে ঘুমাতে পারলে আরো বেশি ভালো হয়। ওযু করে আপনি ঘুমাচ্ছেন ডান দিকে তখন কি পড়বেন আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া । এবার ঘুমান। এই যে আপনি ঘুমাচ্ছেন তিন ঘন্টা বা চার ঘণ্টা ছয় ঘন্টা সাড়ে ৬ ঘন্টা। আপনার এই পুরো ঘুমটা হবে ইবাদত ইনশাল্লাহু তায়ালা। এবং পবিত্র অবস্থায় আপনি ঘুমানোর অভ্যাস করতে থাকলে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনি সত্য স্বপ্ন দেখা তৌফিক দান করবে ইনশাল্লাহু তায়ালা। এখনকার সাইন্স সেগুলো বিশ্বাস করে না আর এই সাইন্স নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা ও নাই। এ আজকে একটা কথা বলে কালকে আরেকটা কথা বলে ঠিক আছে। তো আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনি সত্য স্বপ্ন দেখতে পারেন। ইউসুফ আলাইহিস সাল্লাম জেলখানায় বন্ধি সূরা ইউসুফ পড়ে দেখেন। তখন কয়েদিদের মধ্যে দুজন স্বপ্ন দেখেছে। একজন স্বপ্ন দেখেছে তার মাথার ওপর রুটি পাখি ঠুকরে এটাকে খেয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে। আরেকজন স্বপ্ন দেখেছে যে সে একজনকে সাড়াপ পান করাচ্ছে । কি আছে না এটা সূরা ইউসুফ এ? তো ইউসুফ আলাইহিস সাল্লাম বললেন যার মাথা থেকে পাখি ঠুকরে খেয়ে নিচ্ছে খাবার তাকে শুলদন্ড দেওয়া হবে।আর যে সারাপ পান করাচ্ছে সে অতিশীঘ্রই মুক্ত হয়ে যাবে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যাবে। কয়দিন পর তাই হল। এই যে স্বপ্ন যারা দেখেছে তারা কি মুসলিম ছিল? এই স্বপ্ন যারা দেখেছে তারা কিন্তু মুসলিম ছিল না। কিন্তু ইউসুফ আলাইহিস সাল্লাম মুসলিম ছিল। তিনি আল্লাহর নবী তিনি এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করছেন। কিন্তু এখানে একজন অমুসলিমের স্বপ্ন সত্য হয়েছে। একজন অমুসলিম কেউ আল্লাহ পাক স্বপ্ন দেখাতে পারেন। দলিল আছে কোরাআনে। সত্য স্বপ্নের একটা বিষয় আছে। যেটার জন্য অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা নূর দরকার , স্বচ্ছ একটা মন দরকার। বেশি বেশি আমল দরকার আল্লাহর মারেফত দরকার আধ্যাত্মিকতা দরকার। তারপর ইনশাল্লাহ সত্য স্বপ্ন আসবে। সারাদিন টিভি দেখে গান শুনে গালিগালাজ করে গীবত তহমত করে খোঁচাখুঁচি করে চুলাচুলি করে এদের সাথে সত্য স্বপ্নের কি সম্পর্ক? এদেরকে শয়তান স্বপ্ন দেখাবে। ফজরের নামাজের পরে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে থাকতেন সাহাবীরা এসে বলতেন। কে কোন স্বপ্ন দেখেছে তিনি বলতেন। এবং তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলতেন এটা এমন এটা এরকম এটা ওরকম। এবং কি ওহুদের যুদ্ধের আগেও অনেক সাহাবী স্বপ্ন দেখেছেন। পরের দিন দেখবেন ওহুদের যুদ্ধে অনেক সাহাবী শহীদ হয়েছেন। যাইহোক ওদিকে আমি যাচ্ছি না। এই যে আপনি ঘুমটা ঘুমাচ্ছেন ইনশাআল্লাহ আপনার এই ঘুমটা কি হচ্ছে? ইবাদত হচ্ছে না। আলেম যারা তাদের ঘুমটাও হচ্ছে ইবাদত। যারা মুমিন মুসলিম মুত্তাকীন আলেম তাদের ঘুম গুলোও ইবাদত।

সত্য স্বপ্ন ও ঘুমের ইবাদত

ঘুমের মধ্যে যদি দুঃস্বপ্ন দেখেন তাহলে আপনি বামদিকে তিনবার থুতু ফেলবেন। আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম পড়বেন পরে পাশ ফিরে আবার ঘুমাবেন। এটা হয় না মাঝে মাঝে ঘুমের মধ্যে। অনেককে বোবা ধরে , সাহস নিতে পারে না। এগুলো হয় কারণ তারা ঘুমানোর আগে জিকির আজগার করেন না। নিয়মিত করলে এগুলো সমস্যা ইনশাল্লাহ হবে না। আপনার নিজের ভালো নিজেই বুঝেন হুজুরের কাছে দৌড়ানোর দরকার নেই এত বেশি। নিজের বাচ্চাকে নিয়ে এই কবিরাজ ওই কবিরাজ এই তাবিজ ওই তাবিজ এগুলো দরকার নাই তো। নিজের আমল নিজে করেন দেখবেন আপনি আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপদে আছেন ইনশাআল্লাহ । আল্লাহ পাক তৌফিক দান করুন আমীন। এবার ঘুম থেকে উঠলেন । কয়টার সময় আমরা ঘুম থেকে উঠবো? চেষ্টা করব ঘুম থেকে ওঠার পাঁচটার সময় যদি ফজরের আজান হয় বা সাড়ে চারটায় যদি ফজরের আজান হয়। মিনিমাম চারটায় উঠতে হবে। এর জন্য যদি এলার্ম দেন ঘড়িতে তাহলে এলার্ম দিবেন প্রত্যেক দেড় ঘন্টা পর পর। মনে করেন আপনি দেড় ঘন্টা পরে ঘুমাতে যাচ্ছেন তাহলে দেড় ঘন্টা পর অথবা তিন ঘন্টা পর অথবা সাড়ে চার ঘন্টা অথবা ছয় ঘন্টা। দেড় ঘন্টার গুণিতক দিয়ে আপনি এলাম সেট করবেন দেখবেন ঘুম থেকে উঠতে পারবেন খুব ইজিলি । এই দেড় ঘন্টা তে আপনার ঘুমের সার্কেলটা পূর্ণ হয়। আমাদের ঘুমের সাইকেলটা পূর্ণ হতে মাথার একটা রেস্টের তো দরকার আছে এটা পূর্ণ হতে দেড় ঘন্টা সময় লাগে। তো এটা একটা ট্রিক বললাম আপনাদেরকে। এটা ফলো করলে আপনারা উপকৃত হবেন ইনশাআল্লাহ। ফজরের নামাজের মিনিমাম আধা ঘন্টা আগে আমাদের ওঠার অভ্যাস করতে হবে। এই যে ঘুমটা ভাঙলো ভাঙার সাথে সাথে কি করব? ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে আল্লাহর শুকরিয়া করতে হবে। আমাদের জীবনে কি চাওয়া পাওয়ার কি অভাব আছে প্রচুর চাওয়া পাওয়া। তো বৈধ চাওয়া-পাওয়া সে পাওয়ার জন্য আল্লাহর সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। আল্লাহর সাথে সম্পর্ক তৈরি করার কিছু উসিলা বা মাধ্যম লাগে। এই সূরাগুলো হচ্ছে আল্লাহর চাওয়া-পাওয়ার উসিলা বা মাধ্যম। আমলগুলো হচ্ছে মাধ্যম। তো আল্লাহপাক বলেছেন তোমরা আমাকে স্মরণ করো আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। যখন একজন মানুষ মনে মনে আমাকে ডাকে তখন আমিও মনে মনে ওকে স্মরণ করি।

দুঃস্বপ্ন, ঘুম থেকে ওঠা ও স্মরণ

ধরেন আপনি অসুস্থ আপনি মনে মনে বলছেন আল্লাহ আমি অসুস্থ আমাকে শিফা দাও। আমার রিজিকের টেনশন আছে আল্লাহ আমার রিযিকের টেনশন দূর করে দাও। আল্লাহ আমাকে হেফাজত কর আল্লাহ আমাকে জ্ঞানের দান দাও। আমাকে তোমার আনুগত্য করার তৌফিক দান করো। এই যে মনে মনে আপনি আল্লাহকে ডাকছেন নিঃসন্দেহে ওই মুহূর্তে আল্লাহ পাক আপনাকে স্মরণ করছেন। সাত আসমান ভেদ করে আরশের উপর থেকে আল্লাহ পাক আপনাকে স্মরণ করেছেন । আল্লাহ পাক বলছেন যখন একজন মানুষ জনসমুক্ষে আল্লাহকে স্মরণ করেন। আল্লাহ পাক বলেছেন আমিও এইরকম এর চেয়েও আরও উত্তম জন সমাবেশে ওই বান্দাদের কথা স্মরণ করি। আল্লাহপাক আমাদের কথা স্মরণ করছেন আমাদের কোন ফিলিংস আছে। আল্লাহপাক আমাদের কথা স্মরণ করছেন আর যুবক ছেলেরা বসে বসে ফোন টিপছে। কোন ফিলিংস আছে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে অন্তরে যখন নূর থাকে না। পাপ করতে করতে অন্তরটা যখন কুলুষিত হয়ে যায়। তখন কোনো ফিলিংস কাজ করে না। একজন খুন করছে কোন ফিলিংস নাই একজন সুদ খাচ্ছে কোন ফিলিংস নাই।জেনা করছে ডেইলি দেখবেন কোন ফিলিংস নাই ।দেখবেন ঘুষ খাচ্ছে সুদ খাচ্ছে দুর্নীতি করছে মানুষের সম্পত্তি আত্মসাৎ করছে জাররা পরিমাণ কোন ফিলিংস নাই। যে আমি একটা পাপ করছি। এক কথায় যখন পাপ মানুষ করতে করতে করতে করতে এই কলব বলে একটা জিনিস আছে এই কলবটার উপরে যখন কালো কুৎসিত একটা মরিচা পড়ে যায় তখন আর ফিলিংস কাজ করে না। কাজ করানোর বুদ্ধি কি ? দুইটা বুদ্ধি আছে। এক বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে। তাহলে অন্তরের মরিচা দূর হয়ে যাবে ইনশাল্লাহুতালা। আর দুই হচ্ছে বেশি বেশি মৃত্যুর কথা স্মরণ করা। তাহলে মনের মধ্যে যে কালিমা গুলো আছে এগুলো আস্তে আস্তে দূর হবে ইনশাআল্লাহ । তো মৃত্যুর কথা কে স্মরণ করে এখন? মানুষ তো চলাফেরা করে এমন ভাবে যেন কোনদিন মরবেই না। যে টেবিলের নিচ থেকে ঘুষ নিচ্ছে সে কি স্মরণ করে মৃত্যুর কথা। যে মেয়েটা বোরখা পড়ে জেনা করে বেড়াচ্ছে ডেটিং করে বেড়াচ্ছে সে কি মৃত্যুর কথা স্মরণ করে। যে ছেলেগুলো এখন যুব সমাজের মাদকের সাথে সম্পর্কিত বেশির ভাগই মাদকের সাথে সম্পৃক্ত গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ডের সাথে অ্যাফিয়ার আছে। টিকটক প্রজন্ম আড্ডা বাজি করে গুন্ডামি করে সময় কাটায় ।এর মৃত্যুর কোন ফিকির আছে। একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সে সবার সম্পত্তি লুটপাত করে খাচ্ছে এর কি মৃত্যুর ফিকির আছে। এর মধ্যে ফেরাউনের চেতনা এসেছে। আমি তোমাদের মহান রব আমি তোমাদের মহান রব। ওদের মধ্যে ওই চেতনা কাজ করছে যে। সূরা মুমিনুন এ যেটা বলা আছে যে আমরা আমরা এখানে জন্ম নেই এখানেই মাড়া যাবো আমরা পূর্ণরত্থীত হব না।

সাধারণ প্রশ্ন

ঘুমানোর আগে কোন কোন আমল করার কথা বলা হয়েছে?

লেখায় ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি, সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত, তিন কুল এবং সূরা কাফিরুন পড়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়ার কথাও আছে।

ঘুমানোর আগে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়ার কথা কেন বলা হয়েছে?

লেখায় বলা হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে এই তাসবিহ শিখিয়েছিলেন, যখন তিনি দাস-দাসীর অভাব নিয়ে আবেদন করেছিলেন। লেখায় আরও বলা হয়েছে, এটি নিয়মিত করলে শরীরে শক্তি আসে।

সূরা কাফিরুন রাতে পড়লে কী হবে বলা হয়েছে?

লেখায় বলা হয়েছে, ঘুমানোর আগে সূরা কাফিরুন তেলাওয়াত করলে আল্লাহ তাকে শিরকের পাপ থেকে মুক্ত রাখবেন ইনশাআল্লাহ। লেখক শিরক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কিতাবুল তাওহীদ পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।