Islamবাংলা

মোটিভেশন

আল্লাহকে আপন করে নেওয়া ও তওবা

আমাদের প্রকৃত আপন সত্তা হচ্ছে আল্লাহ রব্বুল আলামীন। আল্লাহর চেয়ে আপন আপনার কেউ নেই পৃথিবীতে। তো সেই আল্লাহকে আপন করে নেন আপনি বুদ্ধিমান। আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য সবকিছু কে আপনি আপন করে নেন আপনার মৌতের পর আপনাকে এরা ভুলে যাবে। আপনার মৃত্যুর পর এরা আপনাকে খুব বেশিদিন মনে রাখবে বলে মনে হয় না। রাখলেও বছরে বছরে একদিন। কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন একটা মুহূর্ত আপনাকে ভুলে থাকবেন না। একটা হাদিস মনে পড়ল। যে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ১০০ টা রহমত আছে মানে ১০০ ভাগ রহমত আছে , দয়া আছে , ভালবাসা আছে তার মধ্যে এক ভাগ তিনি সৃষ্টি জগতের মধ্যে দিয়েছেন। ওই যে গাভী তার বাচ্চাকে চ্যাটে পরিষ্কার করে না। কুকুর তার বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায় না। ওই এক ভাগ রহমতের জন্য ওই এক ভাগ দয়ার কারণে। বাকি ৯৯ ভাগ রহমত আল্লাহ পাক তার নিজের কাছে রেখেছেন। যেটা দিয়ে তিনি কেয়ামতের মাঠে বান্দার প্রতি রহমত করবেন। আমরা আল্লাহর রহমত পাবো ইনশাআল্লাহ। প্রয়োজন হচ্ছে তওবা করে ফিরে আসা। পাপ হবেই ভাই জীবনে চলতে গেলে পাপ হবেই উঠতে-বসতে চলতে ফিরতে পাপ হতেই থাকবে। কিন্তু তওবাও হতে থাকবে ইনশাআল্লাহ। যত পাপ তত তওবা। যত পাপ তত তওবা। আপনি ঠান্ডা মাথায় একটি কাগজ নিয়ে বসেন বাসায়। কাগজ নিয়ে বসে আপনি হিসাব করেন। অংক করেন, মনে করেন যে আপনার হায়াত ৬০ বছর কথার কথা। চলে গেছে ৩০ বছর। বাকি আছে ৩০ বছর। শেষের পাঁচ বছর মাইনাস করেন। এই পাঁচ বছর চাইলেও আপনি মনের মত আমল করতে পারবেন না। শরীরের শক্তি থাকবে না আপনার রোগব্যাধি থাকবে। ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, হার্ট স্টক ইত্যাদি নাউজুবিল্লাহ আল্লাহ পাক হেফাজত করুন থাকতে পারে সম্ভাবনা কি বেশি না। ২৫ বছর আছে আপনার কাছে ২৫ কে আপনি মাস দিয়ে গুণ করেন দিন দিয়ে গুণ করেন। দিনের হিসাব পাবেন। পাবেন না। এখানে দাঁড়িয়ে হিসাব করেন আগের জীবনে কোন বছর থেকে আপনার নামাজ ফরজ হয়েছিল। কত বছরের নামাজ আপনি পড়েন নাই? কত বছরের রোজা আপনি রাখেন নি? কত যাকাত ফরজ ছিল দেন নাই? যেগুলো পাপ মনে পড়ছে লিখেন। আমি অমুকের সাথে জেনা করেছি , আমি অমুক দিন অমুক অমুক জায়গায় মদ খেয়েছি , আমি অমুককে হত্যা করেছি , আমি অমুককে পিটিয়েছি , আমি কিশোরগঞ্জে ছিলাম , আমি ক্যাসিনতে গিয়েছি, আমি এটা পড়েছি আমি ওটা করেছি এগুলো সব লিস্ট করেন । প্রত্যেকটা পাপ দেখবেন এক একটা পাপের জন্য আপনি আল্লাহর কাছে আলাদা আলাদা করে আলাদা আলাদা করে আল্লাহর কাছে দোয়ায় বলবেন আল্লাহ আমি ঐ পাপ করেছিলাম আল্লাহ তুমি আমাকে মাফ করে দাও। আল্লাহ আমি ওই পাপ থেকে তওবা করছি আল্লাহ আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও আর জীবনে ওই পাপ করবো না ইনশাআল্লাহ । এরকম ভাবে তওবা করেন। তওবা তাকে ফিল করতে পারবেন। মুখে শুধু আস্তাগফিরুল্লাহ পড়লে ফিল করতে পারবেন না। আপনি লিখেন লিখলে বুঝবেন আপনি কি কি পাপ করেছেন।

তওবার পদ্ধতি ও শয়তানের ধোঁকা

এরপরে অজু করবেন। অজু করে সুন্দর করে দুই রাকাত সালাত আদায় করবেন। পড়ে চোখের পানি ছেড়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করবেন।আল্লাহর কাছে বলবেন হে আল্লাহ আমি এই এই কাজ করেছিলাম এবং আমি স্বীকার করছি যে আমি প্রত্যেকটা কাজ ভুল করেছি। হে আল্লাহ তুমি আমাকে যতগুলো নেয়ামত দিয়েছ আমি স্বীকার করছি আল্লাহ । এবং আমি যত পাপ করেছি এবং তোমার অবাধ্য হয়েছি সবকিছু আমি স্বীকার করছি হে আল্লাহ তুমি আমাকে মাফ করে দাও। এক মুহুর্তের মধ্যে আল্লাহ পাক মাফ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ তায়ালা। শুধু তাই না আল্লাহ পাক বলেছেন এই সমস্ত গুনাহ গুলোকে নেকি দিয়ে পরিবর্তন করে দিবেন ইনশাআল্লাহ তায়ালা।" ইল্লা মান তা বা ওয়া আ মানা ওয়া আমিলা আমালান সালিহান " আছে না আয়াতটা সুরা ফুরকানে। ।" ইল্লা মান তা বা ওয়া আ মানা ওয়া আমিলা আমালান সালিহান " তারা নয় যারা তওবা করেছে এবং ঈমান এনেছে এবং বেশি বেশি সৎ আমল করেছে। "ফাউলাইকা ইউবাদ্দিলুল্লা - হু - সাইয়িআ - তিহিম হাছানাত " এরাই তারা যাদের সমস্ত গুনাহকে আল্লাহপাক নেকি দিয়ে পরিবর্তন করবেন। শয়তান ধোঁকা দিবে আপনাকে শয়তান বুঝাবে এত তাড়াতাড়ি কেন এখনো সময় পড়ে আছে পরে তওবা করো। এত দ্রুত দ্বীনের পথে আসতে হবে কেন অনেক সময় পড়ে আছে। আগে পড়াশোনা শেষ করো এসএসসি শেষ হোক, ইন্টার শেষ হোক, অনার্স শেষ হোক, মাস্টার্স শেষ হোক, চাকরি আগে পাও , বিয়ে-শাদী শেষ হোক, পরিবার আগে হোক, শেষ বয়সে গিয়ে একটা হজ্জ করে আলহাজ্ব ট্যাগ নিয়ে নিব ব্যাস হয়ে গেল। শয়তান আপনাকে বুঝাবে অনেক কিছু। মনে রাখবেন নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্যে স্পষ্ট শত্রু। এর ধোকায় পা দিবেন না। আর ইবলিশ অনেক বেশি স্মার্ট কারণ তার অনেক বয়স হয়ে গেছে সে অনেক প্রবীণ এবং অনেক প্রজ্ঞা অর্জন করেছে। সে অনেক স্মার্ট সে জানে মানুষকে কিভাবে পদস্থলী তো করতে হয়। সে মানুষকে নেক সুরতেও ধোঁকা দিতে পারে। নেক সুরতে মনে হচ্ছে ভালো কাজ করছি আমি। দেখবেন এই ভালো কাজের মধ্যেও ধোঁকা দিয়ে ফেলেছে। এত স্মার্ট। যুব সমাজকে যদি ইব্রাহিম এর মত ইসমাইল আলাইহিস সাল্লাম এর মত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মত আদর্শে উদযাপিত হয়ে জীবন গড়তে হয় তাহলে প্রথমে তওবা করতে হবে ।খালেছ তওবা করে জীবনের সমস্ত পাপ ছেড়ে দিয়ে। বাকিটা জীবন এই যে ২৫ বছর টার্গেট করেন। এই ২৫ বছরে আমি কি করতে চাই। আমার লাইফের গন্তব্য জান্নাত। জানাতে যেতে হলে আমার কি দরকার? আল্লাহর সন্তুষ্টি। আমি একটা জীবন পেয়েছি এই ২৫ বছর পরে আমি আর থাকবো না পৃথিবীতে। এই সময়টুকুতে আমি কি করতে পারি নিজের জন্য নিজের পরিবারের জন্য আমার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমার দেশের জন্য আমার রাষ্ট্রের জন্য আমার উম্মার জন্যে। প্ল্যান করতে হবে। আমি কি কি পড়বো এখন? কোন কোন বই পড়বো কোন কোন সাবজেক্ট পড়বো। পড়াশুনা করতে হলে আমাকে কার কার কাছে যেতে হতে পারে। পড়াশোনার পরে আমি কিভাবে আমল করব। দিনরাত কিভাবে গুছাবো? ২৪ ঘন্টার রুটিন করে ফেলেন। তারপর আমার রিজিকের দরকার।আমার কি রিজেক দরকার হালাল না হারাম? আমি হালাল চাচ্ছি।

হালাল রিজিক ও মুত্তাকী জীবনসঙ্গী

আমি যদি হালাল রিজিক চাই তাহলে হালাল জব খুঁজবো হালাল ব্যবসা করব হালাল কৃষিভিত্তিক কাজ করব। হালাল কিছু করব হারামে যাব না। প্রত্যেকটা কাজ ক্যালকুলেশন করে করেন। বিয়ে করবো এরপর আমি। কাকে বিয়ে করবো। জিন্স এবং টি-শার্ট পরা মেয়েকে নাকি একজন পর্দা করা মুত্তাকী মেয়েকে। এবার আসেন মুত্তাকী মেয়ে খুঁজতে হবে। মুত্তাকী মেয়ে ফেসবুকে পাওয়া যাবে না মেসেঞ্জারে পাওয়া হোয়াটস অ্যাপে, ইমো, ভাইবারে পাওয়া যাবে না। উপরওয়ালার কাছে যোগাযোগ করতে হবে। বলতে হবে " রব্বানা-হাবলানা-মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররতা আ'ইউনিউ ওজা আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা "।সূরা ফুরকান শেষের দিকে আছে এই দোয়াটি। এই দোয়াটি করতে থাকেন আল্লাহ পাকের কাছে আল্লাহ পাক মিলাই দিবেন ইনশাল্লাহ তায়ালা। ভুলেও এই জিনস এবং টি-শার্ট পরা সংস্কৃতির মেয়েকে ঘরে তুলেন না। আপনার পরিবারটা জাহান্নামের টুকরা হয়ে যাবে ভুলেও এই কাজ করবেন না। আর এটাও মনে রাখবেন যে সব বোরখা মানেই মুত্তাকি পরহেজগার মেয়ে নয়। সব বোরখার মাঝেও দ্বীনদার মেয়ে থাকে না এটা মাথায় রাখবেন। উপরওয়ালার সাথে কানেকশন করেন আল্লাহপাক ঠিকই ব্যবস্থা করে দিবেন ইনশাল্লাহ তায়ালা। রিজিক কে দেয়? আল্লাহ। আসমান জমিনের সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে আল্লাহপাক তাকদির লিখে ফেলেছেন। লিখা হয়ে গেছে আপনার কার সাথে বিয়ে হবে। আপনার কয়টা বাচ্চা হবে? আপনি কত বছর থাকবেন পৃথিবীতে? কিভাবে মারা যাবেন? কোন দিন মারা যাবেন? এবং মওতের পর আপনার কি হবে? এই পৃথিবীতে আপনি কত কোটি চালের দানা খাবেন? কত কোটি ডালের দানা খাবেন ? কতগুলো মাছ খাবেন কতগুলো মাংস খাবেন সব লিখা আছে? আল্লাহ পাকের পুরো সিস্টেমের মধ্যে আমরা এর বাইরে যাওয়ার কোন ক্ষমতা নেই। মানুষ তো আল্লাহকে চিনে না। মানুষ আল্লাহকে চিনে না বলেই আল্লাহর অবাধ্য হয়। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমিনুল মুমিনিন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা রাতের বেলায় তাহাজ্জুদ পড়তেন এবং রাতের একটা অংশ অল্প একটু সময় বিশ্রাম নিতেন বিশ্রাম নিয়েই বের হয়ে পড়তেন জনগণের খোঁজখবর নেয়ার জন্য। উনি দেখছেন এক মা চুলার উপরে হাড়ি বসিয়ে রেখেছেন হাঁড়ির ভেতরে কিছু নাই বাচ্চারা কাঁদছে। গল্পটা জানেন না এটা প্রসিদ্ধ গল্প কিন্তু। প্রসিদ্ধ কাহিনী বিভিন্ন কিতাবে এসেছে। তো তিনি গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন কি সমস্যা বাচ্চারা কাঁদছে কেন খাবার কোথায়? তো এই মহিলা বলছে আল্লাহর কসম করে বলছি এই অবস্থাটা আমার , ওমরের ও আল্লাহর মাঝখানের ব্যাপার। মানে এই মহিলাটি অভিযোগ করছে আল্লাহর কাছে ওমর রাদিয়াল্লাহুর সম্পর্কে। সে তো চিনতে পারেনি এই ব্যক্তিটা ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু। এবার ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একটু ভয় পেয়ে গেলেন মানে বিচলিত হয়ে পড়লেন । আমার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে দাবি রাখলে তো সমস্যা। সমস্যা না? তিনি এমন মানুষ ছিলেন তিনি বলেছিলেন যে ইরাকের ফোরাত নদীর কিনারায় যদি কোন ছাগলের বাচ্চা না খেয়ে মারা যায়। আমি ভয় পাই আল্লাহ পাক আমাকে সেজন্য জবাবদিহিতা করাতে পারেন। এমন ছিলেন তিনি আমিনুল মুমিনিন। খেজুর পাতার মসজিদে বসে অর্ধ বিশ্ব শাসন করেছেন। এবং মাটিতে ঘুমাচ্ছেন। তার ব্যাপার একটা প্রসিদ্ধ কথা আছে। হে অমর তুমি বিচার কার্য পরিচালনা করেছো, ন্যায় বিচার করেছো, নিরাপত্তা দিয়েছো এরপর ঘুমিয়েছো। তারপর তিনি কি করলেন? তিনি বললেন হে আল্লাহর বান্দি একটু অপেক্ষা করো আমি আসছি । তিনি চলে গেলেন মদিনায় গিয়ে ওই যে রিলিফ দেয়না ট্রান রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। সেখান থেকে একটা বড় বস্তা খাদ্য জব বা গম নিজের কাধে উঠালেন। নিজের কাঁধে উঠালেন এসিস্ট্যান্ট এর কাঁধে নয় নিজের কাঁধে। গাড়িতে করেও নয় পায়ে হেঁটে। কাঁধের ওপর ওই বস্তাটা নিয়ে সে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছেন সেই মহিলাটার বাসা পর্যন্ত। তার পাশে একজন সাহাবী ছিলেন তার নাম হচ্ছে আসলাম রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি বলছেন হে আমিনুল মুমিনিন আমাকে দেন আমি বহন করছি। তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন তুমি কি কিয়ামতের দিন আমার পাপ বহন করবে? তুমি কি কেয়ামতের দিন আমার পাপ বা আমার বোঝা বহন করবে তুমি যে আজকে চাচ্ছ এটা আমার কাছে । নিজে কাধে কাঁধে করে নিয়ে ওই মহিলাকে দিলেন নিজের হাতে রান্না করে বাচ্চাদেরকে খাওয়ালেন। এরপরে আল্লাহর কাছে কেঁদে কেটে দোয়া করলেন। আল্লাহ তুমি আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছো আমি মনে হয় সে দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে পারছি না। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি কিভাবে আপনাদেরকে বুঝাবো যে এটা হচ্ছে ইসলাম

যুবসমাজের জন্য তওবা ও আহ্বান

ইসলামের এই সৌন্দর্য দেখে হাজার হাজার অমুসলিম ইসলাম ধর্ম কবুল করেছে। ইসলাম তরোয়ালের জোরে ছড়ানো হয়নি। মানুষকে জোর করে বোমাবাজি করে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে এভাবে ইসলাম কখনো প্রচার করা হয়নি আর হবেও না ইনশাআল্লাহ। ইসলাম এরকম সুন্দর্য দিয়ে প্রচারিত হয়েছে ন্যায় বিচার দিয়ে, আমানত, আদালত দিয়ে মুসলিমদের তাকওয়া পরহেজগার এবং চরিত্র দিয়ে। এবং এই যুব সমাজের চারিত্রিক এবং অধঃপতনের দিকে তাকান। এটা কি আসলে সেই উম্মা সদস্য? আদেও কি আমরা ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর উত্তরসূরী? আবু বক্কর ওসমানের উত্তরসূরী? খালেদ ইবনে ওয়ালিদ, তারেক ইবনে জিয়াদ , জায়েদ ইবনে হাফসা, আব্দুল্লাহ ইবনে রাহা তাদের অনুসারী ? বদর এবং উহুদের সাহাবীদের মত আমরা? আমাদের উচিত নিজের চেহারা আগে আয়নায় দেখা। কারণ প্রত্যেকটা নফসকে মৌতের স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এরপর কিয়ামতের মাঠে তোমাদেরকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। ঐদিন যাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানো হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে একমাত্র সেই ব্যক্তি সফল তা ছাড়া কেউ সফল নয়। তাই আমি যুবসমাজকে আমার হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে অনুরোধ করবো এই যে সময় নষ্ট করা অহেতুক পড়াশোনায় ফাঁকি দেওয়া, আপনার ইসলামের বেসিক জিনিসগুলো না শেখা , কোরআন হাদিস না পড়া , রোজা না রাখা, নামাজ না পড়া, কোরআন তেলোয়াত না করা, আল্লাহ জিকির আজগার না করা। সারাটা দিন এই যে ফেসবুকিং ইউটিউবিং আপনার পাপজি আপনার টিক টক পর্নোগ্রাফি আপনার অশ্লীল সাইড গুলোকে ভিজিট করা। মেয়েদের সাথে চ্যাটিং করা, গার্লফ্রেন্ডের সাথে ডেটে যাওয়া, জিনা করা, মাদকব্য সেবন করা। পশ্চিমাদের নোংরা সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। আল্লাহর ওয়াস্তে এখান থেকে তওবা করে ফিরে আসেন। ফিরে আসেন আপনার জন্য ২ টা সুসংবাদ। একটা হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ পাক সাত শ্রেণীর মানুষকে আল্লাহর আরশে ছায়ায় ছায়া দিবেন। সেদিন ওই ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে না। যার মধ্যে এক শ্রেণী হচ্ছে যে যুবক সমাজ বা যুবক শ্রেণী যুবতী ও পড়বে এর মধ্যে। যারা তাদের যৌবন কালকে আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিয়েছে। মনে রাখবেন বার্ধক্যে গেলে মওতের ফিকির সবার হয়। বার্ধক্য গেলে সবারই মওতের ফিকির হয় কিন্তু সে গোল্ডেন টাইম টা আর কক্ষনো ফিরে আসবে না। কোশ্চেনকালেও এই সময়টা আর ফিরে পাবেন না। আরেকটা হচ্ছে আল্লাহ পাক সেই যুবককে দেখে বিস্মিত বোধ করেন যা তার প্রবৃত্তির চাহিদা টাকে দমন করেছেন এবং যৌবনকালটা আল্লাহর পথে দিয়ে দিয়েছে। যৌবন কালের ইবাদত আল্লাহর কাছে এত মূল্য এত মূল্য এমন এই সময়টাতে মানুষ যা ইচ্ছা তাই করতে পারত কিন্তু যুবক শ্রেণী আল্লাহকে ভয় করে তার রাসূলকে ভালোবেসে রাসুলের সুন্নাহ গুলোর উপর আমল করলে , নামাজ পড়লে , রোজা রাখলে , তাহাজ্জুদ পড়লে , জিকির করলে , সৎ কাজের আদেশ করলে , অসৎ কাজের নিষেধ করলে , জ্ঞান অর্জন করলে , তেলাওয়াত করলে। একটা কথায় ন্যায়ের পথে থাকলে আল্লাহ পাক অফুরন্ত নেকি পুরষ্কার দিবেন ইনশাল্লাহুতালা।

সাধারণ প্রশ্ন

লেখাটিতে গুনাহ থেকে ফেরার জন্য কী করতে বলা হয়েছে?

লেখায় বলা হয়েছে প্রতিটি পাপ কাগজে লিখে আলাদা করে আল্লাহর কাছে তওবা করতে। এরপর অজু করে দুই রাকাত সালাত পড়ে চোখের পানি ফেলে কান্নাকাটি করার কথা বলা হয়েছে।

লেখায় কোন আয়াতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে?

লেখায় সূরা ফুরকানের একটি আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে যারা তওবা করে ঈমান আনে ও সৎ আমল করে তাদের গুনাহকে আল্লাহ নেকি দিয়ে পরিবর্তন করবেন বলা আছে। এছাড়া সেখানে একটি দোয়াও উল্লেখ আছে।

লেখায় হালাল রিজিক ও বিয়ের বিষয়ে কী বলা হয়েছে?

লেখায় বলা হয়েছে হালাল জব, হালাল ব্যবসা ও হালাল কৃষিভিত্তিক কাজের মাধ্যমে হালাল রিজিক খোঁজার কথা। বিয়ের ক্ষেত্রে পর্দা করা ও মুত্তাকী মেয়েকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।