Islamবাংলা

প্রকৃত মুমিনের পরিচয়, চরিত্র ও সফলতার পথ

সূরা মুমিনুনের পরিচয় ও কুরআনের সূরাসমূহ

মুমিনদের জন্য বিশ্বাসীদের জন্য একটি স্পেশাল সূরা নাযিল করেছেন। এই সূরাটির নাম হচ্ছে সূরাতুল মুমিনুন।ইমামদারদের সূরা। কুরআনের এক একটা সুরা হচ্ছে এক একটা পাহাড়ের চূড়া। আপনারা পাহাড় আমাদের থেকে ভালো জানেন পাহাড়ের চূড়া থাকে না। পাহাড়ের চূড়ায় যদি কোন মানুষ গিয়ে দাঁড়ায় তাহলে অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পায়। পাহাড়ের চূড়ায় যদি কোন মানুষ গিয়ে দাঁড়ায় তাহলে সে অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পায়। যেমনটা সে জমিনে চলাকালীন দেখতে পেত না। কুরআনের এক একটা সূরা হচ্ছে এক একটা চূড়া। যার ওপরে উঠলে আপনি অন্তর্দৃষ্টি লাভ করবেন দূরদর্শিতা লাভ করবেন ইনশাল্লাহু তায়ালা। যেমন সূরা নিসা। নিসা মানে কি নারীগণ মহিলা। সূরা নিসার চূড়ার উপরে দাঁড়ালে আপনি বুঝতে পারবেন যে মেয়েদের সত্যিকারের অধিকার কোথায় আছে? সূরা নূর। নূর মানে কি আলো। সূরা নূর যদি পরে গবেষণা করেন এবং এর গভীরে ঢুকতে পারেন এর চূড়ায় গিয়ে দাঁড়ালে আপনি বুঝতে পারবেন সত্যিকারের আলো কোথায় আছে। আর এখন এমন জামানা চলছে যেই জামানায় অন্ধকারের পথযাত্রীরা আমাদেরকে আলোর সংজ্ঞা শেখায়। অন্ধকারের পথযাত্রীরা যারা এরা এখনকার বিশ্বের মানুষদেরকে আলোর সংজ্ঞা শেখায়।সত্যিকারের আলো আপনি পাবেন সূরা নূর এর মধ্যে। এই সূরার টি পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন আলোর সংজ্ঞা কি আলো কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি? আলো কোন উৎস থেকে আসে বুঝতে পারবেন ইনশাল্লাহু তায়ালা। তো এক একটা সূরা এক একটা চূড়ার মত। আপনি সূরা তওবা পড়েন তাহলে বুঝতে পারবেন ঈমানের কি হালত আমাদের এখন । সূরা তওবা পড়লে মনে হবে আমরা সবাই কম বেশি মুনাফিকদের মধ্যে আছি। সূরা মুনাফিকূন পড়েন তাহলে বুঝতে পারবেন মুনাফিকদের আসল চরিত্র কেমন? সূরা কাহাফ পড়েন। সূরা কাহাফের চূড়ায় গিয়ে দাঁড়ান। সেখানে গেলে আপনি দেখবেন কিভাবে দাজ্জালের হাত থেকে আপনি বাঁচবেন। মাসিহুদ দাজ্জালের থেকে কিভাবে আপনি বাঁচবেন সূরা কাহাফ আপনাকে শিখিয়ে দিবে ইনশাআল্লাহ তা'আলা। ঠিক একই ভাবে যদি আপনি সূরা মুমিনুন এর উপরে ওঠেন তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন। ইমান কাকে বলে মুমিনদের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত এবং ঈমানদারদের জন্য কোন কোন কাজ করা উচিত এবং কোন কোন কাজ করা উচিত নয়। আজকে আমি আপনাদের সাথে সূরা মুমিনুন এর প্রথম কয়েকটা আয়াত নিয়ে কথা বলবো ইনশাল্লাহু তায়ালা। আমরা দোয়া করছি আল্লাহ যেন আমাদের আলোচনা শুনে বুঝে আমল করার তৌফিক এনায়েত করেন আমিন। আল্লাহ রব্বুল আলামিন প্রথম আয়াতে বলেছেন।

" বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম । "
কাদ আফলা হাল ম 'মিনূন।
ঈমানদারগণ সফল হয়ে গেছে। যারা ঈমান এনেছে তারা সফল হয়ে গেছে। আল্লাহ পাক স্টেটমেন্ট দিচ্ছেন মুমিনগণ সফল হয়ে গেছে। দুটা শব্দ এখানে সাফল্য এবং ঈমানদার। আগে বুঝতে হবে আমাদেরকে সাফল্য কাকে বলে। এবং বুঝতে হবে ঈমানদার কাকে বলে। সাফল্যের সংজ্ঞা কি? আমরা সাধারণত মনে করি দুনিয়াতে যার অনেক বেশি জমি জামা আছে ধনসম্পদ আছে ব্যাংক ব্যালেন্স আছে বাড়ি গাড়ি আছে টাকা পয়সা আছে। সোসাইটি তে ক্ষমতা আছে স্ট্যাটাস আছে এরাই হচ্ছে সাফল তাই না । আমরা সাধারণত এটা মনে করি।

দুনিয়ার সাফল্যের মানদণ্ড ও পরকালের সফলতা

এবং আমাদের জেনারেশনদেরকে তো শেখানো হয়েছে সাফল্যের সংজ্ঞা হচ্ছে কিভাবে আপনি এই দুনিয়াতে ভালো থাকবেন? একটা চাকরি , একটা ব্যবসা , একটা সুন্দরী নারী বা স্ত্রী , একটা বাড়ির জমি জামা একটা মার্সিটিজ গাড়ি পলিটিক্যাল পাওয়ার এগুলো হচ্ছে সাফল্যের মানদন্ড আমাদের কাছে। এগুলো অর্জন করতে পারলে সমাজের মানুষ বলে হ্যাঁ লোকটা সফল জীবনে কিছু করতে পেরেছে। এগুলো অর্জন করতে যদি সে ব্যর্থ হয় সে যত ভালো মানুষই হোক না কেন? মানুষ মনে করে ব্যর্থ। সারা জীবন পানির দোকান করলাম কি করলাম? সারা জীবন সবজি বিক্রি করলাম, সারা জীবন ছোট্ট একটা ব্যবসা করে খাইলাম, ছোট্ট চাকরি করলাম জীবনটাই যেন বৃথা। মানুষের চিন্তা দর্শন এখন এমন। আল্লাহ পাক এটা কুরআনে বলেছেন বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে থাকো প্রকৃতপক্ষে পরকাল উত্তম এবং চিরস্থায়ী। সূরা আল ইমরানে আল্লাহ পাক বলেছেন ১৮৫ নাম্বার আয়াতে প্রত্যেকটা নাফস মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর কেয়ামতের দিন তোমাদেরকে পূর্ণ মাত্রায় প্রতিদান দেয়া হবে। কেয়ামতের মাঠে যাকে পুলসিরাত পার করানো হবে জাহান্নাম থেকে বাঁচানো হবে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে একমাত্র সেই ব্যক্তি সফল আর কেউ সফল নয়। দুনিয়ার জীবন ধোঁকা প্রতারণা ছাড়া কিচ্ছু নয়। মরীচিকা দেখেছেন। মরীচিকা রোদের মধ্যে দেখা যায় এটা দুনিয়ার জীবন। আল্লাহ পাক এর সাথে তুলনা করেছেন। আরেকটা আয়াত আছে সূরা হাদীদের মধ্যে ওই আয়াতের মধ্যে আল্লাপাক দুনিয়ার জীবনের একটা এক্সাম্পল দিয়েছেন দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। কেমন? আল্লাহপাক বলেছেন তোমরা জেনে রাখো তোমরা সবাই জেনে রাখো। তোমরা জেনে রাখো দুনিয়ার জীবনটা হচ্ছে খেলাধুলা । ছোট বাচ্চা যারা থাকে এরা খেলাধুলা ছাড়া কিছু বোঝে। ওদের কাছে দুনিয়াটা এমনই খেলার মত। খেলাধুলা করবো এটাই দুনিয়ার জীবন ওদের কাছে এটাই মনে হয়। আরেকটু বড় হলে দেখবেন কিশোর কিশোরীদের এখন দুনিয়ার জীবনের কোন উদ্দেশ্য নাই। সারাদিন বস্তুবাদিতা আর স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছে। সারাদিন ছেলে খেলায় সময় পার করছে । সারাদিন দেখবেন ফেসবুকিং, ইউটিউবিং, টিকটক, আড্ডাবাজিতা করা, লুডু খেলা, পাবজি , ফ্রী ফায়ার ওদের কাছে মজা , হাসি তামাশা দুনিয়ার জীবন কি ঠাট্টা।আরেকটু বুঝ বেশি হলে ড্রাগ অ্যাডিক্টেড হবে। গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে ঘুরবে, পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হবে, জুয়া খেলবে , ক্যাসিনোতে যাবে দুনিয়ার জীবন তার কাছে এমন। আর তো বড় যখন হবে ম্যাচিউরিটি যখন আসবে তখন প্রতিযোগিতা প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা কে কত বেশি সম্পদ আর্ন করতে পারে।আর কত বেশি জমি আছে, কার কত বেশি সুন্দরী স্ত্রী আছে , কার কত বড় চাকরি , কার কত বড় সম্পত্তি , কার কত বেশি ক্ষমতা , কার কত বেশি জনবল আছে ? আল্লাহ পাক এটা সূরা তাকাছুরও বলেছেন প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মহাউচ্ছন্ন করেছে। যতক্ষণ না তোমরা কবরের সাহিত হচ্ছো। কক্ষনো নয় শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে আবারও বলছি শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে। তখন ইলবাল ইয়াকিন জানবে। একটা জিনিস পড়ে জানার নাম ইলবাল ইয়াকিন নয় ।অনুধাবন করবেন যখন তখন আপনার কাছে ইলবাল ইয়াকিন হবে।

ইলমুল ইয়াকিন ও দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবন

আপনাকে যদি বলি গোলাপ ফুলের গন্ধ আর রজনীগন্ধা ফুলের গন্ধের মধ্যে পার্থক্য লিখে বলেন। লিখিত আকারের পার্থক্য বলেন বা ভাষায় প্রকাশ করেন পারবেন। গোলাপ ফুলের গন্ধ বা রজনীগন্ধা ফুলের গ্রন্থের মধ্যে কি পার্থক্য আছে আমাকে ভাষায় প্রকাশ করেন বা লিখিত আকারে দেন পারবেন । এটা সম্ভব। মধুর মিষ্টি কেমন এবং গুড়ের মিষ্টি কেমন এটা লিখিত আকারে দেন বা ভাষায় প্রকাশ করেন পারবেন। পারা যাবে কিভাবে? যদি আপনি দুইটা ফুল কাছে নেন নিয়ে আপনি ঘ্রাণ সুখেন ধান সুখে আপনি বুঝতে পারবেন এবং এটার অনুধাবন করতে পারবেন এটাই হচ্ছে ইলমান ইয়াকিন। আপনার নিশ্চিত জ্ঞান হল যে এই গন্ধটা এমন ওই গন্ধটা এমন। পরে আপনি বলবেন অমুকের গন্ধটা গোলাপের মতো অমুকের গন্ধটা রজনীগন্ধার মত। এই যে ইলমান ইয়াকিন মধু খান আবার গুড়ও খান। স্বাদ যখন বুঝবেন তখন আপনি বুঝে যাবেন কোনটা কেমন স্বাদ। এই চাক্ষুষ জ্ঞানটাকে বলা হয় কি ইলমান ইয়াকিন। কবরের আজাব ভোগ না করলে মানুষ বুঝতে পারবে না ওইটা কি জিনিস এটাই ইলমান ইয়াকিন। আমি বুঝাতে পারছি। কবর যখন চাপ দিবে নাউজুবিল্লাহ। তখন মানুষের ইলমান ইয়াকিন হবে এটাই সেই শাস্তি। সূরা দুখান পড়ে দেখেন। শাস্তি ভোগ কর আজকে শাস্তি ভোগ করো পৃথিবীতে অনেক সম্মানিত ছিলে আজকে শাস্তি ভোগ করো।এটাই সেই শাস্তি যা তুমি অস্বীকার করেছিলে। তখন বুঝবেন কোনটাই ইলমান ইয়াকিন। তো আল্লাহ পাক এই কথাটি বলেছেন সূরা তাকাসুর এর মধ্যে। তোমাদের প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত করে রেখেছে যতক্ষণ না পর্যন্ত তোমরা কবরের সাহিত হচ্ছ। নিশ্চিত জ্ঞান সহকারে তোমরা জানবেই ইনশাল্লাহু তায়ালা। আল্লাহ পাক সূরা হাদীদতে এ আয়াতটা বলেছে দুনিয়ার জীবনটা খেলাধুলা , প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা , অনর্থক বিষয়ে ব্যস্ত থাকা। এই প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা হচ্ছে সম্পদের ক্ষেত্রে সন্তানদের ক্ষেত্রে। আল্লাহ এটাই বলছে দুনিয়ার জীবনের উদাহরণ হচ্ছে এমন একটা বৃষ্টির মতো এমন একটা বৃষ্টি যে বৃষ্টি মরা জমিনে পড়ল , জমিনটা মৃত ছিল এরপর জমিনটা সজীব হলো। সজীব হওয়ার পরে সেখানে ফসল ফললো । ফসলটা এক পর্যায়ে সবুজ হলো। কি হলো? ফসলটা সবুজ শস্য শ্যামল হয়ে গেল। এরপরে এই ফসলটা হলুদ বর্ণ ধারণ করল। হলুদ বর্ণ ধারণ করে না শেষে। এরপর চাষি এটাকে কেটে ফেলল। এই যে বৃষ্টি পরলো মৃত জমিন জীবিত হলো এখানে বীজ দেওয়া হলো ফসল ফললো ফসলটা সবুজ হলো। তখন চাকচিক্য ময় চারপাশ শস্য শ্যামল সুজলা সুফলা তাই না। তারপর দেখবেন ওইটা পিত বর্ণ ধারণ করবে হলুদ হয়ে যাবে চাষি ওটাকে কেটে ফেলবে। এরপর এই যে ফসলটা কেটে ফেললেন এটার খড়কুটা পড়ে থাকল না। এটা দিয়ে আপনি জাল দিবেন আগুন জ্বালাবেন রান্নার কাজে ব্যবহার করবেন তাই না। এই হলো দুনিয়ার জীবন। পরকালের জীবন হচ্ছে স্থায়ী এখানে আছে কঠিন শাস্তি। অথবা থাকবে আল্লাহর ক্ষমা এবং সন্তুষ্টি। ওই দুনিয়ার ওই ছোট্ট জীবনটাকে যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী চালাতে পারবে পরকালে তাদের শাস্তির কোন ভয় নাই। এই জীবনে যারা ভোগ বিলাস তাকাসূর লাহু এগুলোতে ব্যস্ত থাকবে এদের পরকালে হবে কঠিন শাস্তি।এই হলো সূরা হাদীদের আয়াত। দুনিয়ার জীবন প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।

পরকালমুখী জীবন ও জান্নাতের আহ্বান

অতএব তোমাদের করনীয় কি? তারপরের আয়াতে বলা হয়েছে। অতএব তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য না দিয়ে তোমাদের পরকালের জীবনের দিকে ফোকাস কর তোমার রবের পথের দিকে ফোকাস কর । ছুটে চলো তোমরা ছুটে চলো সেই জান্নাতে দিকে যার প্রশস্ততা আসমান এবং জমিনের সমান। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে কাদের জন্য যারা ঈমান এনেছে এবং তত অনুযায়ী আমল করেছে। আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে রাসূলগণদের প্রতি ঈমান এনেছে এবং তত অনুযায়ী আমল করেছে। এই মুমিনদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত করা আছে। সফল কারা হয়েছে এই মুমিনরা। পরকালে যে ব্যক্তি জান্নাতে যাবে জাহান্নাম থেকে বাঁচবে একমাত্র সেই ব্যক্তি সফল আর কেউ সফল নয়। এখন কদআফলাহাল মুমিনের মধ্যে সাফল্যের শেষ সংজ্ঞাটা আপনারা শিখে ফেললেন। দুনিয়ার জীবনে সাফল্য চিরস্থায়ী নয় পরকালে সাফল্য চিরস্থায়ী।দুনিয়ার সব থেকে আরামে আয়েশে থাকার ব্যক্তিকে আল্লাহপাক এক সেকেন্ডের জন্য জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন হাদিসে এসেছে । দুনিয়াতে আল্লাহপাক সবচেয়ে বেশি যাকে নিয়ামত দিয়েছেন ওয়ান কাইন্ড অফ বিল গেটস কথা বুঝতে পারছেন। ঈমানদার ছিলনা কাফের ছিল প্রচুর ধনসম্পদ আল্লাহ পাক দিয়েছেন। আল্লাহ পাক তাকে এক সেকেন্ডের জন্য জাহান্নামে ঢুকাবেন। ঢুকিয়ে বের করবেন বের করে বলবেন। দুনিয়াতে কি সুখে ছিলে তুমি ? তখন সেই ব্যক্তি বলবে সুখ কি জিনিস আমি জানি না। সুখ শান্তি কি জিনিস আমি জানিনা। এবং পৃথিবীতে কষ্টে যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি ছিল। ধরে দেন আজকের সিরিয়ার মাজলুমদের মত কেউ বা প্যালেস্টাইনের মাজলুমদের মত কেউ বা আপনাদের মধ্যে অনেক মাজলুম আছে। যাইহোক তাকে ঢোকানো হবে জান্নাতে এক সেকেন্ডের জন্য।তাকে ঢুকিয়ে আবার বের করা হবে। আল্লাহর এক মুহুর্ত আবার আমাদের মতন নয়। আল্লাহ পাকের এক মুহূর্তে এসে অনন্তকালের স্বাদ পেয়ে যাবে। আল্লাহ পাকের এক মুহূর্ত তাতেই সে অনন্তকালের স্বাদ পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ। এবার বের করবে। তাকে জিজ্ঞেস করবে দুনিয়াতে কষ্টে ছিলে দুনিয়াতে কখনো কষ্টে ছিলে। এই ব্যক্তি বলবে কষ্ট কি জিনিস তা আমি জানি না। কষ্ট কি জিনিস তা আমি জানিনা? অর্থাৎ এই হাদিস দিয়ে আমরা বুঝতে পারছি দুনিয়াতে আমরা যে যতই ভালো থাকি না কেন? পরকালে যদি সফল হতে না পারি তাহলে দুনিয়ার জীবন বৃথা। ওই যে বাবু তোমার তো ষোল আনাই বৃথা একটা কবিতা আছে না পড়েছিলেন। এখন তো এগুলো বই থেকে উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে মোটামুটি। ওমর ফারুক একটা কবিতা ছিল পড়েছিলেন। আমরা পড়েছিলাম। এখন এগুলো নাই আস্তে আস্তে টেকনিক্যালি এগুলো ভ্যানিশ হয়ে যাচ্ছে । এখন এগুলো হাওয়ায় মিশে যাচ্ছে। এ বিশ্বের কোন কিছু এমনি এমনি হচ্ছে না। এ বিশ্বে যা কিছু হচ্ছে তার পিছনে কোন না কোন কারণ থাকে । কারণটা ফাইন্ড আউট করতে হলে আপনাকে খিজির হতে হবে ।তাকে পাবেন কোথায়? দুই সাগরের মিলন স্থানে পাবেন। সূরা কাহাফ। মুসা আলাইহিস সাল্লাম এবং খিজিয়া আলাইহিস সাল্লাম এর গল্প পড়েন ঘটনাটা পড়েন।

বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ জ্ঞান এবং নূরের সন্ধান

এখানে দেখবেন আল্লাহ পাক খিজির আলাইহিস সাল্লাম কে বাহ্যিক জ্ঞানের সাথে সাথে এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞান দিয়েছিলেন। যখন বাহ্যিক এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞান একসাথে হবে দুই সাগর মিলে যাবে তখন আপনি নূর লাভ করবেন, বাসীরা লাভ করবেন, অন্তর্দৃষ্টি লাভ করবেন তখন আপনি চারপাশের বিষয়গুলো গভীর ভাবে বুঝতে পারবেন ইনশাল্লাহু তায়ালা। শুধু বাহ্যিক চোখ দিয়ে দেখলে খালি প্রশ্ন করবেন নৌকা কেন ফুটা করলেন, বাচ্চাকে কেন হত্যা করলেন, এই দেয়াল কেন নির্বাণ করলেন কারণ মূসা আলাইহিস সাল্লাম বাহিরে চোখ দিয়ে দেখছিলেন আর খিজির আলাইহিস সাল্লাম ভেতরের চোখ দিয়ে দেখছিলেন। আর ভেতরের চোখ তখনই খুলবে যখন আল্লাহর নূর আসবে। আর নূর পাবেন সূরা নূর এর মধ্যে। নূর কোথায় পাবেন? সূরা নূরের মধ্যে । আরো কিছু কাজ আছে নূর পাওয়ার। তার মধ্যে অন্যতম একটা হচ্ছে মনের মধ্য থেকে যাবতীয় হিংসা, গীবত, বিদ্বেষ, তহমত, সমালোচনার অপসংস্কৃতি, আর অহংকার রিবা দূর করে ফেলতে হবে। আর এগুলো চাইলে দূর করা সম্ভব নয়। যাদের মনের মধ্যে এগুলো নাই তাদের সাথে ঘোরাফেরা করতে হয়। যাদের ফোনের মধ্যে এগুলো নাই তাদের সাথে ঘোরাফেরা করলে তাদের সাথে করলে তাদের বই পড়লে লেকচার শুনলে কোন আপনার মধ্যে একটা তাসীল হবে। শুধু দূর থেকে কথা শুনে বই পড়লে কিন্তু সব অর্জন হয় না । তাহলে একটা কিতাব ধরিয়ে দিয়ে আল্লাহপাক ক্ষান্ত হয়ে যেতেন। তাহলে আল্লাহ পাক বলতেন কিতাব নাজিল করে দিয়েছেন পড়ে নিও বাসায় গিয়ে।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন যেই সূরাগুলো নাযিল হয়েছে বাসায় গিয়ে পড়ে নিও তাহলেই হয়ে যাবে। ব্যাপারটা কি এমন ছিল? তিনি নিজে আমল করেছেন সাহাবীদেরকে আমল করে দেখিয়েছেন। সাহাবীগণ তার সংস্পর্শে থেকে ইসলাম শিখেছেন। এখন ডিফিকাল্ট সিচুয়েশন আপনি যাবেন কোথায় কার সংস্পর্শে যাবেন। অনেক সময় দেখা যাবে যারা ইসলামের ধারক এবং বাহক তাদের মধ্যে ইসলাম নাই। বাহ্যিক ভাববে মনে হবে তারা ইসলামের ধারক বাহক আসল তাদের মধ্যে ইসলাম নাই। তো ডিফিকাল্ট এর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে আল্লাহ আমাদেরকে উপযুক্ত আলেম উপযুক্ত ওলামা একরাম উপযুক্ত ওস্তাদ উপযুক্ত মাসাইক এগুলো আমাদেরকে দান করুন। তারপর আল্লাহ পাক ইনশাল্লাহ দান করবেন ইনশাল্লাহ। যাইহোক পয়েন্ট একটা শিখলাম দুনিয়ার জীবন চূড়ান্ত না। দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী ব্যক্তি ও জাহান্নামে গিয়ে বলবে সুখ কি জিনিস আমি জানি নাই। আর দুনিয়ার সবচেয়ে কষ্টে থাকার ব্যক্তি জান্নাতে গিয়ে বলবে দুঃখ কি জিনিস আমি জানিনা। মানুষ দোয়া করলে কয়েকটা জিনিস হয়। মানুষ দোয়া করলে রিজিক যদি হালাল হয় আকিদায় যদি শিরিক না থাকে আমলে যদি বেদাত না থাকে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। দোয়া করলে দোয়া ডাইরেক্ট কবুল হয় অথবা আল্লাহ এই দোয়ার বিনিময়ে তার ভবিষ্যতের কিছু বিপদ-আপদ সরিয়ে দেন। মনে করেন আপনি দোয়া করেছেন অনেক দোয়া করেছেন ইনস্ট্যান্ট আপনি কোন রেজাল্ট পান নাই। আপনি জানেনই না আপনার এই দুয়ার বিনিময়ে আপনার আগামী দিনের বিপদ কাটিয়ে দিয়েছেন।এটা আল্লাহ জানেন আপনি জানেন না। অথবা কি হতে পারে? অথবা কেয়ামতের মাঠে এর বিনিময়ে প্রতিদান রেখে দিবেন নিজের কাছে।এবং আমরা অনেকেই কিয়ামতের মাঠে উঠবো। আল্লাহপাক আমাদেরকে আমলনামা দেখাবেন।এবং বলবেন অমুক দিন তুমি এই দোয়াটা করেছিলে আমি এই দোয়াটা ওই সময় দেইনি। তোমার জন্য জমা রেখেছি আজকে সেই দুয়ার বিনিময়ে তোমাকে দান করব। ঐদিন মানুষ বলবে বা আমরা বলব কাস দুনিয়াতে যদি আমাদের কোন দোয়াই কবুল না হতো। দুনিয়াতে যদি আমার কোন দোয়ায় কবুল না হতো তাহলে আজকে সব প্রতিদান পেতাম।

ঈমানের ছয়টি মূল বিষয় ও জিবরীলের হাদিস

একজন অসুস্থ ব্যক্তি যার দুনিয়াতে প্রচুর রোগ ছিল। কেয়ামতের মাঠে যখন দেখবে যে এগুলোর প্রতিদান কত হাজার হাজার কোটি কোটি নেকি সে পাচ্ছে তখন সে বলবে জীবনের পুরোটাই যদি অসুস্থ থাকতাম কতই না ভালো হতো। দুনিয়ার জীবনের মূল্য আল্লাহর কাছে খুব বেশি নয়। একটা মাছির পাখার সমানও নয়। যদি হতো তাহলে কোন কাফের মুশরেক কে আল্লাহ পাক এক ঢোক পানি খেতে দিতেন না। আর আজকে আমাদের চিন্তা চেতনা সমস্ত বিষয় দুনিয়া কেন্দ্রিক। আমাদের পড়াশোনার উদ্দেশ্য দুনিয়া , ব্যবসার উদ্দেশ্য দুনিয়া , চাকরির উদ্দেশ্য দুনিয়া , আমাদের সামাজিক কাজগুলোর উদ্দেশ্য দুনিয়া সবকিছুই দুনিয়া কেন্দ্রিক। আর আমরা সবাই মনে করছি দুনিয়ায় দুনিয়া এর বাইরে কিছু নাই । মনে রাখবেন যে ব্যক্তি শুধু দুনিয়ার জন্য দুনিয়া করে সে দুনিয়া পরকাল দুটোই হারাবে। আর যে ব্যক্তি পরকালের জন্য দুনিয়া করবে সে ব্যক্তি ইহকাল এবং পরকাল দুটোই পাবে ইনশাআল্লাহ। যে ব্যক্তি দুনিয়ার জন্য দুনিয়া করবে সে দুনিয়া এবং আখিরাত দুটোই হারাবে। দুনিয়ার জন্য যদি আমি দ্বীনের কাজ করি তাও হারাবো। দুনিয়ার স্বার্থে যদি আমি দ্বীনের কাজ করি ইসলামকে নিয়ে দুনিয়ার স্বার্থ অর্জন করতে চাই। তাহলে দুনিয়া আখিরাত দুটোই হারাবো। আর পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার জন্য যদি আমি দুনিয়া করি। আল্লাহপাক পরকাল দুনিয়া দুটোই দিবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ পাক আমাদেরকে বোঝার তৌফিক দান করুন আমীন। আশা করি আমরা সাফল্যের সংজ্ঞাটা বুঝতে পেরেছি। কারা সাফল্য হবে? মুমিনরা । এখন আসেন মুমিন কারা?সহজ কথায় বলছি যারা ছয়টা বিষয় বিশ্বাস করে ।ছয়টা পিলারে যারা বিশ্বাস করে এক নাম্বার মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল না এ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। মনে আছে হাদিসটা হাদিসে জিবরীল মিশকাতের দুই নাম্বার হাদিস মে বি। আর মুসলিম শরীফের নয় নাম্বার হাদিস। জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম মানুষের ভেজ ধরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসেছিলেন। তার হাঁটুর সাথে হাঁটু লাগিয়ে বসে ছিলেন এবং বসে চারটা প্রশ্ন করেছিলেন। ইসলাম কাকে বলে ? ঈমান কাকে বলে? এহসান কাকে বলে এবং কেয়ামত কবে হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কিয়ামত কবে হবে এই বিষয়ে প্রশ্নকারি এবং উত্তর দাতার জ্ঞান সমান। তখন তিনি আবার করেছিলেন তাহলে আলামত কিছু বলে দিন। তো এর মধ্যে একটা প্রশ্ন ছিল ঈমান কাকে বলে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিয়েছিলেন ঈমান হচ্ছে তুমি বিশ্বাস করবে এক আল্লাহর প্রতি। এক আল্লার প্রতি ঈমান। দুই নাম্বার তার ফেরেস্তা মন্ডলীর প্রতি। তিন নাম্বার তার আসমানী কিতাব সমূহের প্রতি সমস্ত আসমানী কিতাব সমূহের প্রতি।চার নাম্বার তার সমস্ত রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস করবে। ৫ নাম্বার পরকালে জীবনের প্রতি বিশ্বাস করবে। ৬ নাম্বার তাকদীরের ভালো এবং মন্দের প্রতি বিশ্বাস করবে। এই ছয়টা পিলারের প্রতি বিশ্বাস করার নাম কি ঈমান।

গায়েবের প্রতি ঈমান ও অদৃশ্য বিশ্বাস

এখন মজার ব্যাপার হচ্ছে এই ছয়টার কোনটাই চোখে দেখা যায় না। এই ছয়টার কোনটাই আপনি চোখে দেখতে পারবেন না। আল্লাহ দেখেছেন , মালাইকা ফেরেশতা দেখেছেন , আসমানি কিতাবসমূহ আগের আসমানী কিতাব গুলো দেখেছেন। আমি একটা কথা বারবার বলি যে অনেক মুসলিম তো কোরআনও দেখেনি কখনো।এমন মুসলিম নাই ।অবশ্যই আছে দিন দিন এমন মুসলিমের সংখ্যা বাড়ছে। কেমব্রিক্স অক্সফোর্ড হারভেস্ট থেকে পড়ে আসছে কোরআন দেখেনি। আপনি তোলা তোলা করে বড় করেছেন। ইউনিভার্সিটিতে পড়ে আপনার ছেলে কোরআন দেখেনি কখনও। দেখেছে হয়তো তার বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে হুজুররা এসে একটি বই পড়ে সেই বইটির নামই হচ্ছে কোরআন। এরকম জেনারেশন আছে না এদেরকে খিজির আলাইহিস সাল্লাম পেলে হত্যা করতেন। ওই যে ছোট্ট একটা বাচ্চাকে হত্যা করেছিল মনে আছে। মুসা আলাইহিস সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন কি জন্য বাচ্চাটাকে হত্যা করেছিলেন খিজির আলাইহিস সাল্লাম বললেন এই বাচ্চাটি যখন যদি বড় হতো বিশাল আকারের কাফের হতো সে নিজে কুফুরি করত এবং পিতা মাতাকে কাফের বানিয়ে ছাত্র এই হচ্ছে সেই জেনারেশন। যেটাকে আমরা বড় করছি এখন। বিশ্বাস করেন এটাই সেই জেনারেশন। আর সূরা কাহাফ কিন্তু শেষ জামানার সূরা। কেন শেষ জামানা সূরা? কারণ এই সূরা আপনাকে দাজ্জাল থেকে বাঁচাবে। দাজ্জাল আগমনের সময় বিশ্বের কি অবস্থা হবে এটাও সেই সূরার মধ্যে বর্ণিত আছে। এটা কে আপনার বুঝতে হবে গভীরভাবে।আসমানী কিতাবসমূহ কিন্তু আমরা দেখিনি কুরআন আমরা দেখেছি। নবী-রাসূলগণ কোন নবীকে কি দেখেছেন। এমনকি আমরা কি আমাদের নবীকে দেখেছি দেখি নাই । পরকালকে কেউ দেখেছেন? পরকালের কিছুই দেখিনি আমরা দেখেছি। আমরা শুনেছি কবরের আজাব হয় দেখেছেন কখনো। কবর চাপা দিবে দেখেছেন কখনো। কবরে প্রশ্ন উত্তর হবে দেখেছেন কখনো ।কবরে যে আমরা দাফন করে দিয়ে আসি কখনো কি দেখা যায় এগুলো । আমরা কি রূহ বা আত্মাকে দেখেছি? এরকম কিয়ামতের প্রতিটা স্তর কেয়ামতের মাঠ , মিজান , পুলসিরাত , জান্নাত, জাহান্নাম , আমলনামা দেখেছি দেখি নাই। আমাদের কাঁধে ফেরেশতা দেখেছি কিছু দেখি নাই। এই যে ৬ টা পিলার সব কিন্তু গায়েব ঈমানের অদৃশ্য বিশ্বাস। এটাই সেই আয়াতের ব্যাখ্যা। আল্লাহ পাক বলেছেন এই বইটি মুত্তাকীনদের জন্য হেদায়েত যে বইগুলোতে কোন সন্দেহ নাই যে কিতাবে কোন সন্দেহ নাই। এই মুত্তাকী কারা? যারা কিনা প্রথমত গায়েবের প্রতি ঈমান আনে। এই হলো গায়েবের ছয়টা পিলার আর সবচেয়ে মজার কথা হচ্ছে। এখনকার শিক্ষা এবং জ্ঞান দর্শন হচ্ছে এমন। যে পরীক্ষা নিরীক্ষা বিজ্ঞান যুক্তি এবং দর্শন দিয়ে কোন কিছুকে যদি প্রমাণ করতে না পারেন।তাহলে তার অস্তিত্ব নেই। এটা আমাদেরকে শিখানো হয় পশ্চিমারা এটা আমাদেরকে শিখিয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণ , যুক্তি , দর্শন , বিজ্ঞান এগুলো দিয়ে যদি আপনি প্রমাণ করতে না পারেন কোন কিছুকে তাহলে এগুলোর অস্তিত্ব নেই। এ জন্যই তারা ঈমানের ৬ পিলারের কোনটাকে বিশ্বাস করে না। আল্লাহকে তো আপনি ল্যাবের প্রমাণ করতে পারবেন না, পারবেন ।আর আল্লাহ যদি সামনে থাকতেন তাহলে কি ফেরাউন তাকে সেজদা করত না , করত। তাহলে কি দুনিয়ার জীবনটা কোন পরীক্ষা হতো , হত না।

গায়েবি বিষয় ও বস্তুবাদী জ্ঞানতত্ত্বের সীমাবদ্ধতা

এই যে মালাইকা আপনি কি লাবে পরীক্ষা করতে পারবেন? পারবেন না। রুহ বা আত্মাকে প্রমাণ করতে পারবেন? স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে পারবেন? ঘুম মানুষ যে ঘুমায় ঘুমের মধ্যে হাসে বা কাঁদে আবার ঘুমের মধ্যে ভয় পায় এই ঘুমের ব্যাখ্যা দিতে পারবেন? এই যে পরকালের জীবনের কবরের আজাব , জান্নাত , জাহান্নাম , মিজান , পুলসিরাত একটা কেউ কি ব্যাখ্যা করা যাবে ল্যাবে? ওদের জ্ঞান দর্শন হচ্ছে এটাকে বলে অপিষ্টিমলিজি বা জ্ঞানতত্ত্ব ।ওদের জ্ঞানতত্ত্ব হচ্ছে যে যেহেতু এগুলো কে আমরা প্রমান করতে পারছি না অতএব এগুলোর কোন অস্তিত্ব নেই।চাক্ষুষ যা দেখব তাই সত্য।এটা ওই যে মুসা আলাইহিস সাল্লাম কে বলেছিল তার কওম । আমরা বিশ্বাস করবো না ততক্ষণ হে মূসা যতক্ষণ না আল্লাহকে হাজির করছো আমাদের সামনে। দেখব তারপরে বিশ্বাস করব ।এই জ্ঞানতত্ত্ব দিয়েই সারা বিশ্বের শিক্ষা দর্শন চলছে। এ কারণে আমি বলি শিক্ষার মধ্যে শিরক আছে। শিক্ষা দর্শনের মধ্যে শিরক আছে। যদি এই চিন্তা চেতনা লালন করে কেউ জ্ঞান অর্জন করে তার এই পুরো জ্ঞান অর্জন টাই বৃথা। এই জ্ঞান দিয়ে সে দুনিয়া পাবে পরকাল পাবে না। ঈমানের ৬ পিলার এগুলো কি প্রত্যেকটাই গায়েবী বিশ্বাস। এগুলো বিশ্বাস করতে হবে এটাই দুনিয়ার জীবনের পরীক্ষা। মনে রাখবেন এগুলোর প্রতিটা বিষয়ে পেছনে বিজ্ঞান আছে যুক্তিদর্শন আছে। কিন্তু আমাদেরকে সেই ক্যাটাবিলিটি অফ থিংকিং দেওয়া হয় নাই। আমাদের মাথার মধ্যে ওই চিন্তাশক্তি দেয়া হয়নি যে আপনি মালাইকা ব্যাখ্যা করতে পারবেন। যখন মৌতের আলামত শুরু হবে মানুষের চোখ লোহার মতো তীক্ষ্ণ হয়ে যাবে। আছে না সূরা কাওফ এর মধ্যে। এই যে তোমার চোখ আজকে লোহার মতো তীক্ষ্ণো হয়ে গেছে পরকালকে দেখতে পারবে সে। মৃত্যুর সময় দেখবেন মানুষ চোখ খুলে তাকিয়ে থাকে। তার চোখ বন্ধ করে দেয়া হয়। তার রুহুটা যে মালাইকা নিয়ে চলে গেছে সে দেখতে থাকে। রুহু টাকে ফলো করতে থাকে। সাইন্স বলে এখন মানুষের বডি যখন মারা যায় তারপরও চোখ জীবিত থাকে। চোখ সবচেয়ে শেষে নষ্ট হয়। ইন্দের এই ক্ষমতাটা মানুষ মারা যাওয়ার পর পর শেষ হয়ে যায় না এটা বেঁচে থাকে।চোখের এই ক্ষমতা বাকি থাকে। দেখবেন মানুষ তাকিয়ে আছে। যদি ভালো মানুষ হয় একটা জামার থেকে সিঁড়ি নামিয়ে দেওয়া হয় এবং সেই সিঁড়ি দিয়ে তার আত্মা জান্নাতে চলে যাবে ইনশাআল্লাহ। আর খারাপ হলে কোথায় যাবে সিজজিন। এটা বাজজাখের জীবন এখানে আজাব দেওয়া হচ্ছে। মিরাজের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম দেখে আসছেন না সুদখোরের শাস্তি রক্তের নদীতে ফেলে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জেনা কারীর শাস্তি সামনে ভালো গোস্ত আছে পাশে খারাপ গোস্ত আছে, খারাপ গোস্ত খাচ্ছে। গীবত করা শাস্তি দেখেছেন। এতিমের মাল আত্মসাৎকারী আগুনের দলা খাচ্ছে পায়ু পথ থেকে আগুনের দলা বের হচ্ছে। অনেক শাস্তি দেখে এসেছেন। একশ্রেণীর বক্তার শাস্তিও দেখে এসেছেন নাউজুবিল্লাহ আল্লাহপাক হেফাজত করুন আমাদেরকে। আগুনের কেচি দিয়ে জিব্বা কেটে দেওয়া হচ্ছে। আগুনের কেচি দিয়ে জিব্বা কেটে দেওয়া হচ্ছে।

ঈমানের তিন স্তর ও কবিরা গুনাহের বিধান

সেটা হচ্ছে বলতো কাজের বেলায় কিছুই ছিল না। এবং শরীয়তের মূল বিষয়কে বিকৃত করে ফেলত এই শাস্তি। যাইহোক এই ছয় পিলারে কি করতে হবে? এই ছয় পিলারে তিনটা কাজ করতে হবে। এক নাম্বার হচ্ছে এই ছয় পিলারের আপনাকে আমাকে মন থেকে বিশ্বাস করতে হবে। এরপর আপনাকে মৌখিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। এরপর কাজে বাস্তবায়ন করতে হবে। আল্লাহর আনুগত্যে ঈমান বৃদ্ধি পায়। আর আল্লাহর অবাধ্যতা করলে ঈমান কমে যায়। ঈমান বাড়ে আবার ঈমান কমে। ইমন খানের ছয়টি পিলার কে আবার তিনটি কাজ করতে হবে। মনে বিশ্বাস মুখে স্বীকৃতি এবং কাজে বাস্তবায়ন করা। কাজে বাস্তবায়ন করতে গেলে আপনি অনেক সময় ভুল করে ফেলতে পারেন গুনাহ করে ফেলতে পারেন। গুনাহ করে ফেললে বা কবিরা গুনাহ করলে সে কাফের হয়ে যাবে না। সে বড়জোর ফাসেক জালিম হতে পারে । তার তওবার দরজা কি থাকবে খোলা থাকবে। তওবা করে সে ফিরে আসতে পারে। মওতের আগ পর্যন্ত তার তওবার দরজা খোলা আছে। আল্লাহ পাক চাইলে তাকে তওবা নসিব করতে পারেন। অন্য কেউ কবিরা গুনাহ করলে তাকে কাফের মনে করার কোন সুযোগ নাই। যারা ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ ছড়িয়েছে তারা এই আকিদায় বিশ্বাস করে কেউ যদি কবিরা গুনাহ করে তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে। এটাকে খারেজি আকিদা বলে। এরা বিশ্বাস করে কেউ কবিরা গুনাহ করলে সে কাফের হয়ে যায় একে মারা হালাল ওর রক্ত হালাল ওর সম্পদ হালাল। এর জন্য দেখবেন মুসলিম কান্ট্রির মধ্যে মুসলিমদেরকে হত্যা করা হচ্ছে। হত্যা মুসলিমদেরকে করা হচ্ছে নাম দেয়া হচ্ছে জিহাদ। এটা আমেরিকা এবং ইসরাইলদের এজেন্ডা ছিল এর বেশি কিছু না। খুব সতর্ক যুব সমাজ খুব সতর্ক থাকবেন। কিছু মানুষের গরম গরম লেকচারে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবেন না। এত সহজে একজন মুসলিম কাফের হয়ে যায় না। কবিরা গুনাহ করলেই কোন মুসলিম ব্যক্তি কাফের হয়ে যায় না। সে বড়জোর ফাসেক জালেম হতে পারবে। তার তওবার দরজা বরং বন্ধ হয়ে যায় না সব সময় খোলা থাকবে। মওত পর্যন্ত সময় আছে তার তওবা করে ফিরে আসার। খুব সাবধান এই জায়গায় সেই সমস্যা যেটা আপনারা ধরতে পারবেন না। এই সমস্যা গুলো পলিটিশিয়ানরাও ধরতে পারবে না। এটা হচ্ছে জ্ঞানতাত্ত্বিক সমস্যা ধর্মতাত্ত্বিক সমস্যা। এই ব্যাখ্যা দিয়ে যুবকদের মাথা নষ্ট করা হয়েছে। খুব সাবধান। আল্লাহ পাক বলছেন এভাবে যারা ঈমান নিয়ে আসবে তারা সফল। একটা বিষয় আমরা বুঝলাম আমরা শৈথল্য বাদী হবো না আমরা চরমপন্থী ও হবো না। মানে ছয় পিলার কে বিশ্বাস করব মুখে বিকৃতি দেওয়া অন্তরে বিশ্বাস করা এবং কাজে বাস্তবায়ন করা। কাজ করতে গিয়ে যদি ভুল ত্রুটি হয়ে যায় কবিরা গুনাহ হয়ে যায় তওবা করে ফিরে আসার সুযোগ আছে। কবিরা গুনাহ করলে কেউ কাফের হয়ে যায় না বরং সে বড়জোর ফাসেক জালেম হয়ে যায় না। তওবা করে ফিরে আসা সুযোগ আছে। তার তওবার রাস্তা খোলা আছে তাকে হত্যা করা আমার জন্য বৈধ নয় সিম্পল।

নামাজে খুশু-খুজু ও মনোযোগের উপায়

এইভাবে যারা ঈমান আনবে তাদেরকে বলা হয় আফলা হাল মুমিনুন তারা সফল হয়ে গেছে। এবং তাদের আরো কিছু কোয়ালিটি আল্লাহপাক বলেছেন আমি একটা একটা করে বলছি। আল্লাহ পাক বলেছেন এভাবে ঈমান আনার পর তাদের প্রথম কাজ তাদের নামাজের মধ্যে খুশু খুজু সাথে নামাজ পড়বে যেটা এখনকার দিনে ডিজিটাল নামাজে আপনি পাবেন না। খুশু খুজু সাথে নামাজের কয়েকটা শর্ত ওয়াক্ত ঠিক থাকতে হবে। নামাজের পদ্ধতি ঠিক থাকতে হবে। নামাজের ধীর স্থিরতা বজায় রাখতে হবে। নামাজে আপনি কি পড়ছেন বা কি বলছেন এটা বোঝার চেষ্টা করতে হবে । এর জন্য আমি কিছু টিপস এর আগেও আপনাদেরকে দিয়েছি। আবারো বলছি এটা আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে উপলব্ধি করতে পেরেছি। যে নামাজের মধ্যে আপনি প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্তে যদি একই সূরা পড়তে থাকেন তাহলে মনোযোগ কমে যাবে। আপনি একে ওয়াক্ত নামাজে এক এক সূরা পড়েন। ভেরিয়েশন রাখেন আপনি নামাজে মনোযোগ পাবেন বেশি। এটা একটা টিপস। আরেকটা টিপস হচ্ছে নামাজে যা পড়ছেন আল্লাহু আকবার থেকে আসসালামু আলাইকুম রাহমাতুল্লাহ পর্যন্ত প্রতিটা শব্দের অর্থ জানার চেষ্টা করেন। এবং ওই অর্থের দিকে মনোযোগ দেন তাহলে আপনার নামাজে মনোযোগ এদিকে ওদিকে যাবে না ইনশাআল্লাহ। নামাজ যে ইমাম সাহেব পড়াবেন তাকে স্বাধীনতা দেন ধীর-স্থির ভাবে তাকে নামাজ পড়তে বলেন । এবং চিনি তেলাওয়াত করবেন তা তেলাওয়াত টাকে অত্যন্ত সুরেলিতো করার চেষ্টা করেন। সুন্দর তেলাওয়াত শুনলে নামাজ পড়ায় মনোযোগ বেড়ে যায় খেয়াল করে দেখবেন। তারাবি নামাজে সুন্দর তেলাওয়াত থাকলে দেখবেন নামাজে মনোযোগ এদিকে ওদিকে যাচ্ছে না। এবং দুনিয়াবী কাজ গুলোকে ফারেক হয়ে নামাজ পড়তে আসেন। মাথায় দশটা কাজ নিয়ে নামাজ পড়তে আসবেন না। রিলাক্সে নামাজ পড়েন। এবং নামাজের সময় যেন আশে পাশে শব্দ না হয় খেয়াল রাখেন। বাসায় বলে দিবেন নামাজের সময় আমাকে ডিস্টার্ব করবেন না। নামাজের সময় ফোন আসলে আমাকে নক করার দরকার নেই। নামাজের সময় গেট নক করবেন না। মানে নামাজটাকে আপনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। কারণ কি এটা পড়ার জন্যই তো পৃথিবীতে এসেছি। দুনিয়াতে আসছে কেন ভাই? আল্লাহর ইবাদত করতেই তো। তো এখানে এত তাড়াহুড়ার কি আছে? এরপর তো আল্লাহ পাক সহজ করে দিয়েছেন। আপনি মুসাফির হলে কসর করতে পারবেন, পারবেন না। আল্লাহপাক নামাজের যে আহকাম আরকান দিয়েছেন এগুলোর মধ্যে নামাজের ফরজ , সুন্নত ,ওয়াজিব , মোস্তাব যেগুলো আছে ঠিকঠাক ভাবে নামাজ পড়লে নামাজটা খুশু খুজুর সাথে হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে খুশু খুজুর সাথে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজি বানিয়ে দিন আল্লাহুম্মা আমীন ।আর মুকিম যারা থাকবেন চেষ্টা করবেন জামাত ধরার সাথে ।এটা ব্যক্তিগত উপলব্ধি আমার। জামাতের সাথে সালাত পড়লে যেরকম মনোযোগ আসে মনটা তৃপ্তি হয়। বাসায় নামাজ পড়লে সেটা হয় না। নামাজ জামাতে যখন যাব ওযু করলাম ইবাদত পায়ে হেঁটে যাচ্ছি গুনা মাফ হচ্ছে। সবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয় প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর যোগ হয়। ইমামতি করলে নামাজে আরও মনোযোগ বেশি হয়। নামাজের পরে জিকির আজগার করার সুযোগ হয়। নামাজের পরে দুই একটা হাদিস শোনার সুযোগ হয়। পুরো কাজটাই দেখবেন মনটা প্রশান্তিময় হয়ে ওঠে। বাসায় একা একা থুক থাক নামাজ পড়লে এটা হয়ে ওঠেনা কিন্তু কিছু নামাজ নবীজি বাসায় পড়তে বলেছেন। এতে করে বাসায় রহমত বরকত নাযিল হবে।

স্বামী-স্ত্রীর একসাথে ইবাদত ও অহেতুক কথা-কাজ

অনেকে প্রশ্ন করে যে স্বামী স্ত্রী কি একসাথে নামাজ পড়তে পারবে। স্বামী-স্ত্রীর একসাথে সিনেমা দেখতে পারবে কিন্তুনামাজ পড়তে পারবে না নাকি। এগুলো প্রশ্ন করে যে স্বামী-স্ত্রীর একসাথে নামাজ পড়তে পারবে। নামাজ পড়েন না বলেই তো এই সমস্যা। স্বামী স্ত্রীর মাঝে মাঝে একসাথে নামাজ পড়বেন। মাঝে মাঝে নফল নামাজ পড়বেন স্বামী-স্ত্রী একসাথে। এতে করে দেখবেন মোহাম্মদ বাড়ছে পরিবারের শান্তি বাড়ছে। আল্লাহপাক বোঝার তৌফিক দান করুন বোধ শক্তি দান করুন। ঈমান আনার পরে প্রথম কাজ কি ভাই? সালাত । যার অনর্থক কথা এবং কাজ থেকে দূরে থাকে। অনর্থক অহেতুক ফাহেসা কথা এবং কাছ থেকে দূরে থাকে এরা হচ্ছে মুমিন এরা সফল হয়েছে। খেয়াল করে দেখবেন আমাদের জীবনের বেশিরভাগ কথা এখন অহেতুক হচ্ছে। অহেতুক গীবত অহেতুক তহমত অহেতুক সমালোচনা। তিন চারজন একসাথে বসলেই গিবোত। যে ব্যক্তি কিছুই বোঝেনা সে ব্যক্তি পলিটিক্স নিয়ে কথা বলল ইকোনমিক্স নিয়ে কথা বলা শুরু করল দেশ নিয়ে রাষ্ট্র নিয়ে কত বুদ্ধি তার মাশাআল্লাহ । অথচ সে এসবের ধারই ধারে না জ্ঞানের কোন ধারই ধারে না। এই জ্ঞান তার মধ্যে নাই। এমন কেউ নাই যে এই সব বিষয় নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করে না। সবাইকে সব বিষয়ে কথা বলতে হবে না তো। যে যে বিষয়ে দক্ষ সে সে বিষয় নিয়ে কথা বলবে। তো আমরা কিন্তু কথা খুব বেশি বলি। অহেতুক কথাবার্তা অহেতুক কাজ। দেখবেন অহেতুক কাজে আমাদের যুবসমাজ সময় নষ্ট করছে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে অহেতুক আড্ডা মারবে অহেতুক বাইক নিয়ে ঘুরছে মেয়েদের পেছনে। অহেতুক বান্ধবীদের পেছনে ঘুড়া। অহেতুক আড্ডা মারা কফি শপে বসে থাকা। সারাদিন অনলাইনে স্ক্রুল করতে থাকা। অহেতুক দেখবেন বসে বসে গেমস খেলছে যেই গেমসের কোন মূল্যই নেই সময় নষ্ট করছে। নিছক মনোরঞ্জনের জন্য। এরকম প্রচুর কাজ। মেয়েদের কেউ দেখবেন সেম কাজ করছে। সারাদিন দেখবেন সাজুগুজু নিয়ে পড়ে আছে। অহেতুক সিরিয়াল দেখছে বসে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা চলে যাচ্ছে । রিমোট নিয়াই যায় না হাত থেকে। সারাদিনের সব কাজ আগে শেষ করে সন্ধ্যার সময় বসতেই হবে। সন্ধ্যা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত সিরিয়াল দেখে শেষ করবে। বাঘের মুখ থেকে খাবার কেড়ে নিয়ে আসতে পারবেন কিন্তু আপনার স্ত্রীর হাত থেকে রিমোট নিয়ে আসতে পারবেন না। মানে সবই অহেতুক কাজ খেয়াল করে দেখবেন । প্রচুর কাজ আমরা করি নিছক অহেতুক কথা এবং কাজ । আল্লাহপাক বলেছেন মমিনদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাদের অহেতুক কথা এবং কাজ এড়িয়ে চলা । কথা বলে দ্বীনের কথা বলবে আল্লাহর কথা বলবে রাসূলগণের কথা বলবে। যে কথায় উপকার আছে এমন কথা বলবে। যে কথায় নিজের, নিজের পরিবারের, নিজের দেশের , নিজের জাতির , নিজের উম্মার উপকার হয় বা দ্বীনের খেদমত হয় এমন কোন কথা বলবে বা কাজ করবে । আর যদি কোনখানে বসে দেখেন অহেতুক কথা কাজ হয়ে গেছে তাহলে ওঠার আগে এই দোয়াটা পড়বেন সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আন লা-ইলাহা ইল্লা আনতা আসতাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইক।আশা করা যায় ওই বৈঠকে আপনি যে অহেতুক কথা বলেছেন। এটা মাফ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে অহেতুক কথা এবং কাজ থেকে বিরত থাকার তৌফিক এনায়েত করুন আল্লাহুম্মা আমীন।

যাকাত, সম্পদের শাস্তি ও আত্মশুদ্ধি

এরপর আল্লাহপাক বলেছেন যারা যাকাত আদায় করেন। এখানে যাকাতের দুইটা অর্থ । একটা হচ্ছে মালের যাকাত প্রদান করা নিসাব পরিমাণ সম্পত্তির থাকলে আড়াই পারসেন্ট যাকাত দিবেন। যাকাত দেন তো। শুধু যাকাতটা যদি আমরা কালেক্ট করতে পারতাম তাহলে আমাদের সমাজে দারিদ্রতা বলে কিছুই থাকত না। যদি জাকাতটা শুধু সংগ্রহ করতে পারতাম আর যাকাতটা যদি আমরা সবাই দিতাম। আমরা অনেকে নামাজ পড়ি কিন্তু যাকাত দেইনা। রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়তে এসো অনেক বড় বড় বাহাদুরি দেখায় কিন্তু যাকাতটা ঠিকঠাক মতো দেই না। বহু মানুষ আছে আমরা যাকাত দেই না এরকম অনেক মানুষ আছে সমাজে যাদের একেকজনের যাকাতের টাকা দিয়ে শত শত মানুষের কর্ম সংস্থান করা সম্ভব। এমনও অনেক মানুষ আছে আমাদের দেশে। আমরা বলি না আমরা মধ্যম উন্নয়ন অগ্রগতির দেশ এটা বলছি না এখন। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশ হলে আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষে আছে মাশাআল্লাহ তাদের সম্পদ আকাশ এর চূড়ায় পৌঁছে গেছে। যাকাত নেন দেখবেন অনেক কিছু করা সম্ভব। স্বেচ্ছায় যাকাত দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করেন এটা ফরজ জিনিস। এটা নফল নয়।এটা একটা অর্থ নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে যাকাত দিয়ে দিন। যদি যাকাত না দেন তাহলে সূরা তওবা পড়ে দেখেন আপনার জন্য কি শাস্তি অপেক্ষা করছে। সম্পদ গলিয়ে কপালে গালে পিঠে সব জায়গায় আল্লাহ পাক লেপটে দিবেন। দিয়ে বলবেন এটাই সেই সম্পদ যেটা তুমি জমিয়ে রেখে দিয়েছিলে। আজকে সাধ ভোগ করো আজাব চাক্ষো যে সম্পদ তুমি সঞ্চয় করেছিলে এর সাদ তুমি চেখে দেখো। যে সম্পদ তুমি সঞ্চয় করেছিলে এর সাদ তুমি চোখে দেখো। আল্লাহ পাক আমাদেরকে যাকাত প্রদান করার তৌফিক দান করুন আমীন। আরেকটা অর্থ হচ্ছে যাকাতের এখানেও অনেক ওলামা একরামরা বলেছেন এখানে যাকাতের আরেকটা অর্থ হচ্ছে আত্মশুদ্ধি। মনটাকে পবিত্র করা। আর আত্মশুদ্ধি অর্জন হবে কিছু কাজে। আমি আবারো বলছি আত্মশুদ্ধি অর্জন হবে নামাজ বেশি বেশি করে পড়লে এবং নফল নামাজ বাড়িয়ে দিলে। আল্লাহর জিকির বেশি বেশি করে করলে। তাজবীর তাহলিল গুলো বাড়িয়ে দিলে। সকাল সন্ধ্যা জিকির করলে। আল্লাহ পাকের কাছে বেশি বেশি দোয়া করলে , বেশি বেশি মউতের কথা স্মরণ করলে। এতিমের মাথায় হাত বুলালে , মানব সেবামূলক কাজ করলেন , জনগণের কল্যাণ হয় এমন কাজ করলে। মন নরম হবে সফ্ট হবে ইনশাআল্লাহ। এবং মন যত নরম হবে তত বেশি আল্লাহর নূর সেখানে আসবে। একই সাথে মনের মধ্যে যত ধরনের হিংসা বিদ্বেষ গীবত তহমত অহংকার রিয়া বের করে ফেলতে পারলে ইনশাল্লাহ দেখবেন আপনার আমার মনটা পবিত্র হবে। এটাই হচ্ছে তাসকিয়া। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে আত্মশুদ্ধি অর্জন করার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। এরপরে আল্লাহপাক বলেছেন যারা লজ্জাস্থানের হেফাজত করেন। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই লজ্জাস্থান হেফাজত করার কথা বলা হয়েছে। আর নারীদের ক্ষেত্রে নারীদের পুরো দেহই লজ্জার স্থান। আর পুরুষদের সতর আপনারা জানেন। এখানে বৈধ সম্পর্কের বাইরে যত অবৈধ সম্পর্ক আছে সবকিছু থেকে দূরে থাকার কথা বলা হয়েছে।

লজ্জাস্থান হেফাজত ও বিবাহের গুরুত্ব

আপনার চোখের জেনা, হাতের জেনা, মুখের জেনা, পায়ের জেনা সমস্ত জেনা এবং সত্যিকারের জেনা সবকিছু থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। আর লজ্জাস্থান পবিত্র রাখার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হচ্ছে পবিত্র স্ত্রীকে বিয়ে করা। বিয়ে-শাদী করে নিজের ইজ্জত টাকে হেফাজত করা। এবং এটা প্রাপ্তবয়স হয়ে গেলেই করে ফেলা উচিত। যত দেরি করবেন পাপ বাড়তে থাকবে। এবং গার্ডেনের উচিত যদি একটা রিজিকের ব্যবস্থা হয়ে থাকে সন্তানের বস হয়ে গেলে বিয়ে দিয়ে দেওয়া ছেলে এবং মেয়ের। যাতে করে ওরা পবিত্র জীবনযাপন করে। অবৈধ সম্পর্ক গুলো থেকে বেঁচে থাকে। আবার অনেক সময় দেখা যায় বিয়ের পরেও যে পরকীয়া, ব্যভিচার, পতিতালয়ে যাওয়া , নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা। এগুলো কিন্তু জেনার অন্তর্ভুক্ত। এগুলো লজ্জার স্থান হেফাজতের খেলাফ । এর বাহিরে আছে সমকামিতা। একটা পর্যায়ে দেখা যায় ছেলে ছেলের সাথে নাউজুবিল্লাহ সম্পর্ক স্থাপন করে। মেয়ে মেয়ের সাথে নাউজুবিল্লাহ সম্পর্কে স্থাপন করে। এরা হচ্ছে কওমে লুত। লুত আলাইহিস সাল্লাম এর কওম। এদের শাস্তি আল্লাহ পাক দিয়েছেন এভাবে এবং আগামীতেও দিবেন ইনশাআল্লাহ। সেটা হলো আল্লাহ পাক এদেরকে আসমানে উঠিয়ে ছিলেন উঠিয়ে পাথর বর্ষণ করে আবার মাটিতে দাবিয়ে দিয়েছেন। এটা কওমে লুত এর শাস্তি ছিল। এই উম্মতের মধ্যে যদি কেউ এই কাজটা করে তার শরীয়তের শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। কেউ যদি এই কাজ করে থাকে তাহলে শরীয়ত সম্মত ভাবে তার মৃত্যুদন্ড ঠেকানোর কোন রাস্তা নাই। আমি বুঝাতে পারছি না এখানে শরীয়তের আইন নাই। এখনকার বিশ্বের সব জায়গায় শরীয়তের আইন নাই। শরীয়তের আইন হচ্ছে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। সে যে এখন বেঁচে আছে সেটা আল্লাহ পাকের দয়ায় বেঁচে আছে। সে যদি তওবা করে একজন ব্যক্তি যদি বিবাহিত হয় এবং সে যদি জেনা করে নাউজুবিল্লাহ। অথবা একজন ব্যক্তি যদি সমকামিতায় লিপ্ত হয় নাউজুবিল্লাহ। অথবা কোন ব্যক্তি যদি পশু পাখি বা প্রাণীর সাথে মানে সেক্সুয়াল সম্পর্কে লিপ্ত হয় নাউজুবিল্লাহ । এই কাজগুলো করার পর সে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার সে হারিয়ে ফেলে। সে যদি তওবা করে আল্লাহ হয়তো তার তওবা কবুল করতে পারেন কিন্তু বেঁচে থাকার অধিকার হারিয়ে গেছে। আমি মনে হয় বুঝাতে পারছি না। একজন মহিলা , মহিলা সাহাবী ভুলবশত এই কাজ করে ফেলেছেন। নবীর কাছে এসেছেন। কোন কাজ করেছেন। বিবাহিত হওয়ার পরেও ব্যভিচার করেছেন সমকামিতা নয় কিন্তু। আর সমকামিতা এর চাইতেও ডেঞ্জারাস।তো এই মহিলা কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন বাসায় যাও তওবা কর। সেই মহিলা বার বার জোর করছে ইয়া রাসুলুল্লাহ আমাকে পবিত্র করেন আমাকে পবিত্র করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানতে পারলেন এই মহিলা সুস্থ পাগল নয়। এবং সে এরকম ব্যভিচার করেছে তিনি তাকে বললেন তোমার গর্ভের সন্তান এসেছে এই সন্তান জন্ম গ্রহণ করে আমার কাছে এসো বিচার করে দিব। সে মহিলা ফিরে গেল। এ মহিলা ফিরে গিয়ে এই যে বাচ্চা তার কি বাবার পরিচয় আছে। এই যে বাচ্চা বড় করলেন তারপর বাচ্চা খালাস করলেন। বাচ্চা জন্মদান করলেন তারপর কোলের বাচ্চা কে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসেছেন।

ব্যভিচার, সমকামিতা ও শরীয়তের শাস্তি

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ এই যে বাচ্চা জন্ম হয়ে গিয়েছে এবার আমাকে পবিত্র করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ফিরে যাও এই বাচ্চা যখন দুধ ছাড়বে তখন আমার কাছে এসো। দুই বছরের মধ্যে এই বাচ্চা দুধ ছেড়ে দিল শক্ত খাবার খেতে শিখলো। এবার সেই মহিলা আবার এসেছে এসে বলছেন ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পবিত্র করেন। পবিত্র হওয়ার কি বাসনা কারণ তারা পরকাল চিনেছেন। দুনিয়াতে আমাকে শাস্তি দেন রজম করে দেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন বাচ্চার হাতে রুটি আছে বাচ্চা শক্ত খাবার খেতে পারে। একজন মুসলমানকে বললেন তুমি এই বাচ্চার দায়িত্ব নাও। এবং অন্য সাহাবীকে বললেন এই মহিলাকে তুমি নিয়ে যাও দূরে নিয়ে যাও। তাকে নিয়ে গিয়ে কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলো। এবং চারপাশ থেকে তোমরা সবাই ওকে রজম করে হত্যা করো। খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বিখ্যাত বীর সাহাবী তিনিও একটা পাথর ছুড়ে ছিলেন। তার পাথর মহিলার গায়ে লেগে রক্ত বের হয়ে গিয়েছিলেন ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়ে তার রক্ত কাপড়ে এসে পড়েছে। খালিদ ইবনে ওয়ালিদ মুখ দিয়ে একটা বাজে কথা বলে ফেলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন ছি ছি ছি তোমার রক্ত আমার গায়ে লাগলো। ছিঃ তোমার রক্ত আমার গায়ে লাগলো। এই কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন হে খালিদ গুনাহ করার পর এই মহিলা যত তওবা করেছে এই সমস্ত তওবা গুলোকে একত্রিত করে আল্লাহ পাক মদিনা বাসীদের মধ্যে বন্টন করে দেন তাও এই মহিলার সমান হবে না। এই মহিলা এখন জান্নাতে আছে। আমি আপনাদেরকে বুঝাতে পারি নাই। তার তওবা আল্লাহ পাক কবুল করেছেন তার তওবাকে আল্লাহ পাক প্রশংসিত করেছেন। কিন্তু তার রজম কিন্তু কার্যকর করা হয়েছে। বিবাহ করার পরেও যারা ব্যভিচার সম্পর্কে লিপ্ত আছেন বেঁচে থাকার অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন। আর যারা সমকামিতায় আছেন এরা তো আরো আগেই হারিয়ে ফেলেছেন। এদেরকে জনসম্মুখে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার কাজ। ইসলামের শরীয়ত মোতাবেক। এই বিধান এখন নাই আপনাকে কেউ এটা করবে না। আল্লাহর কাছে তওবা করেন নীরবে নিবৃত্তিতে। আল্লাহপাক আশা করা যায় গুনা মাফ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ তায়ালা। কিন্তু পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার হারিয়ে ফেলে মানুষ কিছু আমল করলে। এটা সেই আমল। আল্লাহ পাক এই সূরায় বলেছেন লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে। এবং পবিত্র স্ত্রী ব্যতীত আমরা অন্য কোথাও যেন সম্পর্কে লিপ্ত না হই । আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে পবিত্র থাকা তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। আর দুইটা কথা বলে আল্লাহপাক শেষ করেছেন প্রথম দিকের আয়াতগুলো। আল্লাহপাক বলেছেন মুমিন তারা যারা আমানত রক্ষা করে এবং ওয়াদা রক্ষা করে। আমানত আর ওয়াদা। কিয়ামতের আলামত কেয়ামত কবে হবে সাহাবীরা জিজ্ঞাস করছেন। নবীজি বলছেন যখন আমানতের খেয়ানত করা হবে। সাহাবীরা বলছেন আমানতের খেয়ানত কিভাবে হবে? নবীজি বলছেন যখন অনুপযুক্ত ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান করা হবে বিভিন্ন সেক্টরে। তখন বুঝে নিবে এটাই সেই যুগ।

আমানত, দায়িত্ব ও সালাত সংরক্ষণ

আমানত কি জিনিস? কথা দিলাম রাখলাম না। ওয়াদা করলাম খিলাফ করলাম। কথা বললাম মিথ্যা বললাম। প্রতিশ্রুতি দিলাম ভঙ্গ করলাম সব আমানতের খেয়ানত। সবচেয়ে বড় আমানত কি জানেন কুরআন এবং সুন্নাহ। আল্লাহ পাক এই কথাটা সূরা হাশরে বলেছেন। এই যে কোরআন, সুন্নাহ, ইসলাম, শরীয়ত এই আমানতটা কে আমি আসমান, জমিন , পাহাড়ে দিতে চেয়েছিলাম। তারা অস্বীকার করেছে আমরা পারবো না। মানুষ সেটা বহন করেছে হ্যাঁ আমি পারবো। মানুষ বলেছে কি হ্যাঁ আমি পারবো দেন আমাকে দায়িত্ব দেন। এই যে আমরা যে দায়িত্ব চেয়ে চেয়ে নেই না দেন আমাকে দায়িত্ব দেন আমাকে দায়িত্ব দেন আমি পারবো। মানুষ এই কথা বলেছিল। আল্লাহপাক বলেছিলেন মানুষ বড় জালেম এবং জাহেল। আবুজাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তুমি মানুষের দায়িত্ব নিতে যেও না। যদি তোমাকে দুইজনের দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে যেন তোমাকে ছুরিবিহীন জবাই করে ফেলা হয়েছে। কঠিন জিনিস। মানে যার যেই সেক্টরে দায়িত্ব আছে পরিবারে সমাজে আরো বড় জায়গায় ইকোনমিক্স সেক্টরে তাকে ঐ সেক্টরের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুরো বিষয়ে ক্লিয়ার না হওয়া পর্যন্ত পুলসিরাত পার হতে দেওয়া হবে না। আর যদি দায়িত্ব পাওয়ার পরে তার দ্বারা খেয়ানত হয় এবং অন্যের ওপর জুলুম হয়ে থাকে তাহলে মাজলুমদেরকে দাঁড় করানো হবে যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিভাবে? একটা শিং ওয়ালা ছাগল যদি একটা শিং ছাড়া ছাগলকে গুঁতা দিয়ে থাকে তাহলে কেয়ামতের মাঠে আল্লাহপাক ওই ছাগলটাকে শিং দিবে যাকে গুতা দিয়েছে ওকে শিং গজিয়ে দিবেন। শিং গুজিয়ে দিয়ে বলবে ওকে গুটা দিয়ে গুটার প্রতিশোধ নাও। এই হল কেয়ামতের মাঠ। আল্লাহপাক আমাদেরকে বোঝার তৌফিক দান করুন। আমানত কি জিনিস। এবং ওয়াদা রক্ষা করার তৌফিক আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে দেন আমিন। বক্তা এবং শ্রোতা সকলকে আয়াতের ওপর আমল করার তৌফিক এনায়েত করুন আল্লাহুম্মা আমীন। সর্বশেষে গিয়ে আল্লাহপাক আবারো সালাতের কথা বলেছেন। যারা সালাতকে হেফাজত করে রক্ষণাবেক্ষণ করে। পাঁচ ওয়াক্ত সালাতকে রক্ষণাবেক্ষণ করে। একদিন দুইদিন পড়লাম ছেড়ে দিলাম এমন নয়। রমজান মাসে ভালো হয়ে গেলাম এমন নয়। যে সালাত কে আমৃত্যু ধরে রেখেছে আল্লাহপাক এই মুমিনদের জন্য বলেছেন এরা হচ্ছে উত্তর অধিকারী। কার উত্তর অধিকারী? যারা প্রথম ঈমান এনেছে এবং খুশু খুযুর সাথে নামাজ পড়েছে। তারপরে লজ্জার স্থানে হেফাজত করেছে। যাকাত প্রদান করেছে। আত্মশুদ্ধি অর্জন করেছে। আমানত রক্ষা করেছে। ওয়াদা পালন করেছে। এবং সালাতকে হেফাজত করেছে। অহেতুক কথা কাজ ত্যাগ করেছে। এই মমিনদেরকে আল্লাহপাক বলেছেন উত্তরাধিকারী। কিসের উত্তরাধিকারী। এরা হচ্ছে জান্নাতুল ফেরদৌসের উত্তরাধিকারী যেখানে চিরস্থায়ী হবে ইনশাল্লাহুতালা। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে ঈমানের এই সমস্ত স্তরগুলোকে অতিক্রম করে জান্নাতুল ফেরদৌস পাওয়ার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন।

সাধারণ প্রশ্ন

সূরা মুমিনুনের প্রথম আয়াতে কী বলা হয়েছে?

আলোচনায় বলা হয়েছে যে মুমিনগণ সফল হয়ে গেছে। এখানে সাফল্য ও ঈমানদার এই দুটি শব্দ বোঝা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঈমানের ছয়টি বিষয় কী কী?

আল্লাহ, ফেরেশতা, আসমানী কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, পরকাল এবং তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি বিশ্বাসকে ছয়টি পিলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো গায়েবী বিশ্বাস।

ঈমানের দাবি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়?

মনে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি এবং কাজে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঈমান প্রকাশ পায়। আল্লাহর আনুগত্যে ঈমান বাড়ে এবং অবাধ্যতায় কমে বলা হয়েছে।

কবিরা গুনাহ করলে কী হয় বলা হয়েছে?

আলোচনায় বলা হয়েছে যে কবিরা গুনাহ করলে সে কাফের হয়ে যায় না, বড়জোর ফাসেক ও জালিম হতে পারে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তওবার দরজা খোলা থাকে।