সুদভিত্তিক চাকরি ছেড়ে হালাল ব্যবসায় বরকত: নিজের পরিবর্তনেই সমাজের পরিবর্তন |
সুদের চাকরি ছেড়ে হালাল ব্যবসায় বরকত
আমার পরিবারের একজন বলছে যে আমার একজন ছাত্রী আছেন। আমার না অবশ্য আমার স্ত্রীর। সে আমার কোর্স করে সে আমাকে একটা মেসেজ দিয়েছে। কি মেসেজ? তার হাজব্যান্ড ব্যাংক জব করত। এবং সে মাশাআল্লাহ ৮০ থেকে ১ লাখ টাকা বেতন পেতো। তো তোমার লেকচার শুনে সে চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। এবং চাকরি ছেড়ে দিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রীর দুইজন মিলে একটা চায়ের স্টল দিয়েছে। এবং আমাদের মত রাস্তাঘাটের স্টল না একটা ভালো মানের টি স্টল মানে একটা কফি শপ টাইপের টি স্টল দিয়েছে। এই টি স্টল দোওয়াত তিন-চার মাস পরে আমার ওয়াইফের কাছে মেসেজ করেছে। আগে অনেক টাকা আসতো কিন্তু পরিবারে বরকত ছিল না। এখন চা বিক্রি করে খাচ্ছি আমরা কিন্তু পরিবারে বরকত আছে সুবহানআল্লাহ। তো কিছু মানুষের মন কিন্তু পরিবর্তন হচ্ছে। রিভার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে না এটা সেই জাহেলিয়াত যেটা আইএম এর জাহেলিয়াত ছিল। এটাকে এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে তো একটা মক্কার মধ্যে আছে বা মদিনার মধ্যে আছে বা বিভিন্ন জায়গায় আছে আলাদা আলাদা ভাবে। এখন একটা বিশ্বের কেন্দ্র থেকে পুরা রিবে কে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। রিবা মানে হচ্ছে গরিবের রক্ত চুষে খাওয়া হবে। ধনি আরো ধরি হতে থাকবে গরীব আরো গরীব হতে থাকবে। কারণ এখানে লস এর কোন রিস্ক নাই সব লাভ। আর ব্যবসায় লাভ লসের রিস্ক আছে। আজকে কেউ ধনী কালকে গরীব হবে। এখানে আল্লাহ পাক রিজিক কারো কাছ থেকে নিবেন কারও কাছে দিবেন ব্যবসায়। আল্লাহ বাজার নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর রিবা আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ করবেন না। কারণ আপনি লাভের রিক্স নিয়েছেন লসের রিস্ক নেন নাই। এ কারণে আল্লাহপাক আপনাকে ছেড়ে দিবেন আপনার হাতে কারণ আপনি আল্লাহ এবং তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। এটাই চলছে সারা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড। ওয়ার্ল্ডের একটা অংশ দিন দিন ধনী হচ্ছে আর ওয়ার্ল্ডের একটা অংশ দিন দিন গরীব হচ্ছে।। আর আমরা মাশাআল্লাহ জিলাপি খুরমা খাচ্ছি হালুয়া রুটি খাচ্ছি বাসায় গিয়ে ঘুমাচ্ছি। আর এর বাইরে যারা ইসলামিক ভাবে চেষ্টা করছে আবার এদের কেউ আমরা ভালো-মন্দ বলতে সারচ্ছি না। মাশআল্লাহ তারা তো চেষ্টা করছে কিছু মানুষ উৎসাহিত করা উচিত। নিজে কিছু করতে পারবো না কেউ করতে গেলে ঢোল পিটিয়ে শেষ করে ফেলব। মানুষ যদি ভালো কিছু করতে চায় তার পিছনে লেগে যাই এই হচ্ছে আমাদের চরিত্র। এই কারণে আমাদের এখন এই অবস্থা। আমরা মানুষকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করি কিন্তু নিজে পরিবর্তন হওয়ার চেষ্টা করি না। কিন্তু আমি যদি পরিবর্তন না হই আমার দ্বারা আপনিও পরিবর্তন হবেন না। বরং সব সময় আমরা অন্যের দোষ নিয়ে পড়ে থাকবো এতে বিশৃঙ্খলা আরো বাড়বে। সবাই নিজ নিজ ফিকির করেন। সবাই নিজ নিজ আত্মার ফিকির করেন নিজ নিজ কবরের ফিকির করেন। সমাজ ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। লাঠি পেটা করতে হবে না কিছু করার প্রয়োজন হবে না নিজের ফিকির নিজে করেন ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ পাক বোঝার তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন।
মাদক ও যুবসমাজের হতাশা
রিবার সাথে সম্পৃক্ত হয়েন না এটা এরকম পাপ। তিন নাম্বার হচ্ছে মাদক। এটা নিয়ে তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যুবক সমাজের মেজর প্রবলেম হচ্ছে এখন মাদক। যুব সমাজের মৌলিক সমস্যা তারা হয় সিগারেট খাচ্ছে, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা বিভিন্ন ক্যাটাগরির মাদক একটার পর একটা একটার পর একটা। এবং এটার মধ্য দিয়ে তারা হতাশা দূর করতে চায়। কখনো সঙ্গ দোষে খায় কখনো ও গার্লফ্রেন্ডের কাছে ছ্যাকা খেয়ে খায় কখনো দেখবেন যে স্মার্টনেস ফ্যাশন এটা মনে করেও খায়। আর কেউ প্রবৃত্তির তাড়না দিয়ে খায়। প্রথমে শুরু হয় মেয়ে দিয়ে। প্রথমে মেয়ের সাথে একটা সম্পর্ক হয় হারাম। হারাম সম্পর্কে পরে প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরপর দেখবেন দেখা সাক্ষাৎ করছে কফি খাচ্ছে পরে দেখা যাবে জেনা করছে। এক পর্যায়ে ব্রেকআপ। এই যে ব্রেকআপ এক পর্যায়ে দেখা যাবে আত্মহত্যা করছে না হলে মাদকের দিকে যাচ্ছে। শান্তি খোঁজার জন্য চলে যাবে হয়তো গান শুনতে ওখানে শান্তি খুঁজে। পড়ে দেখবেন পাইকারি যেনাকারী হয়ে গেছে অথবা রেপিস্ট হবে। অথবা দেখবেন আরো বড় কিছু হবে স্মাগলিং করবে ছিনতাই করবে ইয়াবা খাবে জীবনটা শেষ। এই পুরো যৌবনকালটা শেষ হওয়ার পিছনে একটা চরিত্র কাজ করলে সেটা হচ্ছে নারী। এখানে ওই নারীর দোষ যতটুকু আপনার দোষও ততটুকু। সে যেমন আপনার কাছে এসেছে আপনিও গিয়েছেন। আর যারা এই যাওয়া আসার পথ উন্মুক্ত করছে তারাই সবচেয়ে বেশি দোষী। এবং এদের বিচার আল্লাহ করবেন। যারা এটা উন্মুক্ত করে দিচ্ছে পথ যে ছেলে মেয়ে ফ্রি মিক্সিং করে একে অপরের সাথে চলতে পারে এটা কোন পাপ নয় এটা কোন অন্যায় নয় এরা সবচেয়ে বড় দায়ী এই সমাজকে নষ্ট করার জন্য। এমন কনসেপ্ট তৈরি করেছে যে চারজন পাঁচজন মিলে একটা মেয়েকে জোরপূর্বক রেপ করে বা সেক্সচুয়াল সম্পর্ক করে তখন অপরাধ। কিন্তু পরস্পরসম্মতিতে যদি কেউ জেনা করে তখন অপরাধ নেই নাউজুবিল্লাহ। ব্যাপারটা এমন না উসকে দেওয়া হয়। এগুলোই কাছে আসার গল্প নাউজুবিল্লাহ। এভাবে পুরো যুব সমাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এবং এই যুবকরা পরবর্তীতে বৈবাহিক জীবনেও সুখী হবে না ইল্লা মাশাআল্লাহ আল্লাহ যদি হেদায়েত না দেন। এবং ঐ যে মেয়ে গুলো যে পরিবারে যাবে ওই পরিবারে সুখ সমৃদ্ধি দিতে পারবে না ধ্বংস করেছে দিবে দেখবেন। ওদেরকে যে ঘরে নিবে তাদের ও অবস্থা খারাপ। তো চারদিকে সমস্যা। এবং এদেরকে দেখে দেখে পরবর্তী যে প্রজন্ম আসবে দেখবেন তারাও একই ধাচের। এগুলো মৌলিক সমস্যা গোড়ায় যান দেখবেন এগুলো সমস্যা। মাদকের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে শান্তি খুঁজবেন না। আর এই মাদককে আইন দিয়ে পিটিয়ে অভিযান চালিয়ে এভাবে করে যতটা না কমানো যাবে আল্লাহর ভয় অন্তরে ঢুকালে তারচেয়ে বেশি কমানো যাবে। শুধুমাত্র তাদের কুরআনের কাছে নিয়ে আসলে হাদিসের কাছে আনলে নামাজের কাছে আনলে আল্লাহ ওয়ালা মানুষের সহবতের কাছে আনলে দেখবেন মাদক ছেড়ে দিয়েছে ইনশাআল্লাহ। একদিনের মধ্যে মদিনা বাসি মাদক ছেড়ে দেয় নাই ?প্রথমে কয়েক ধাপে আয়াত নাজিল হয়েছে কারণ এটা ছাড়তে একটু সময় লাগে মানুষের। মাদক ছাড়া টা ডিফিকাল্ট। যারা অ্যাডেক্টেড হয়ে গেছে তাদের মাদক ছাড়াটা ডিফিকাল্ট।
মাদক ত্যাগে কুরআনের ধাপে ধাপে নির্দেশনা
প্রথমে আল্লাহ পাক বলেছেন মাদক খেয়ে নামাজে আসবেনা। তো নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত পড়তে গেলে তো সারাদিন মাদক খাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে আল্লাহ পাক একটা ধাক্কা দিলেন। এরপরে বললেন শয়তানের কাজ। এর মধ্যে কিছু উপকার আছে কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এভাবে দ্বিতীয় ধাপ তৃতীয় ধাপে আল্লাহ পাক বললেন এটা শয়তানের কাজ ছেড়ে দাও। তোমরা এগুলো ছেড়ে দাও এটা শয়তানের কাজ বলার সাথে সাথে মদিনায় সব কলস ভেঙে ফেলে দেওয়া হলো। তো এই মাদকের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে আপনি শান্তি পাবেন না। আল কুরআনের কাছে আসলে আপনি শান্তি পাবেন ইনশাআল্লাহ। কোরআন আপনাকে প্রশান্তি দিবে। আর যুবক ভাইদের মধ্যে একটা হতাশা কাজ করে। আর হতাশার কারণেই তারা এই পথে পা বাড়ায়। জীবনে কিছু করতে পারছিনা গার্লফ্রেন্ড চলে গেছে বা রিযিকের টেনশন বা রেজাল্ট ভালো না। দুনিয়ার টেনশন দুনিয়ার চিন্তা অহেতুক। অনেক সময় দেখা যায় পারিবারিক চাপ ,ব্যর্থতার গ্লানি , ইত্যাদির চাপে পড়ে এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে এই যে সিগারেটটা শুরু করল। সিগার থেকে আস্তে আস্তে ইয়াবা। এই হচ্ছে শয়তানের খুতুয়াতি শয়তানি বা শয়তানের প্রদান কর। আপনি ব্যর্থ হবেন না কখনোই । যদি আপনি কুরআন ওয়ালা হন। আপনি ব্যর্থই হবেন না। আপনি যদি নবীর সুন্নতের উপর থাকেন ২৪ ঘন্টা আপনি ব্যর্থ হবেন না। ব্যর্থতা বলে কোন শব্দ আপনার ডিকশনারিতেই থাকবে না। আপনি যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী হন। আপনি দ্বীন ইসলাম আল্লাহর জমিনে দ্বীনটাকে প্রচার প্রসারনের কাজে ব্যস্ত থাকেন। হতাশা আপনি কে স্পর্শ করবে কিভাবে ? তখন আপনি আল্লাহর বান্দা আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসবেন এবং আল্লাহ আপনাকে ভালো মন্দ দেখার দায়িত্ব নিয়ে নিবেন আপনার টেনশনের কোন কারণ নাই । এবং এই পথে চলতে চলতে চলতে চলতে আপনার যদি মওত হয়ে যায় ইনশাআল্লাহ আপনি কাল কিয়ামতের মাঠে আরশে ছায়ায় ছায়া পাবেন।এই হাদিসটা আছে না? সাত শ্রেণীর মানুষকে আল্লাহপাক আরশের ছায়ায় ছায়া দিবেন তার মধ্যে এক শ্রেণী হচ্ছে ওই যুবক যে তার পুরো যৌবন কাল আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছেন। আর দুনিয়ার সাফল্যটাই চূড়ান্ত সাফল্য নয় আর দুনিয়ার ব্যর্থতাটাই চূড়ান্ত ব্যর্থতা নয়। পরকালের সাফল্যতাটাই চূড়ান্ত সাফল্য। পরকালের যে ব্যর্থতা সেটাই চূড়ান্ত ব্যর্থতা। আল্লাহপাক আমাদেরকে বোঝার তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন। ৪ নাম্বার সমস্যা আর কিছু না নারীরা অবমাননা এটা নিয়ে আমার বলার কিছুই নাই। আমি এটা নিয়ে অনেক বলেছি এই পর্যন্ত। নারীর অবমাননা এই যুগে যা দেখা যাচ্ছে এটা কোন যুগে দেখা যায়নি। পরিবারের অবমাননার শিকার হচ্ছে তারা। কন্যা সন্তান জন্ম দিলে আমরা বাঁকা চোখে দেখছি। কারো বাচ্চা হলে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করে যে সুখের সংবাদ না দুঃসংবাদ। মানে ছেলে হলে সুখের সংবাদ। আমাদের এক ভাই ব্যাক টু ব্যাক কন্যা সন্তান হয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ এটা সৌভাগ্যের নিদর্শন । আমাদের নবীগন ছিলেন কন্যা সন্তানের পিতা। এবং কন্যা সন্তান যারা প্রতিপালন করবে জান্নাতে ওয়াদা আছে জাহান্নাতের ঢাল হয়ে যাবে জান্নাতে যাবে ইনশাআল্লাহ। তার আত্মীয় তাকে ফোন দিয়ে বলছে সে খুব বিমর্ষক । আচ্ছা এবারও মেয়ে হইছে পরেরবার ট্রাই করিস। সে বলছে ভাই আমার কোন টেনশন নেই আমার কোন কষ্ট নাই আমার আত্মীয়স্বজনের কষ্ট । মেয়ে হল কেন? তো দৃষ্টি ভঙ্গি দেখেন মেয়েদের কে এভাবে ট্রিট করছে। অনেক সময় দেখবেন ধর্মের নামেও আমরা মেয়েদেরকে পিছিয়ে ফেলেছি। অনেক সময় ধর্মের নামে পিছিয়েছি। আমরা ওদেরকে সম্পত্তির অধিকার দিচ্ছি না। আমরা দিচ্ছি না মুসলিমরাই দিচ্ছি না অন্যদের কথা বাদ দেন। কতজন মুসলিম পিতা ভাই বা স্বামী যারা আছি আমরা ছেলে মানুষ পরিবারের মধ্যে মেয়েদের সম্পত্তির অধিকার দিয়েছি কতজন। এটা কি জুলুম নয়? জুলুম।
নারীর সম্মান ও কন্যা সন্তানের মর্যাদা
এর বাইরে যারা মেয়েদেরকে পণ্য রূপে ব্যবহার করতে চায়। ওদের অবস্থা তো দেখতেই পাচ্ছেন। যে কোন ইস্যুতেই মেয়ে। একটা সেন্টু গেঞ্জি কিনতে যাবেন দেখবেন মেয়ের ছবি। একটা আন্ডার ওয়ার কিনতে যাবেন দেখবেন মেয়ের ছবি। একটা bmw কিনতে যাবেন সেখানেও দেখবেন মেয়ে মডেল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যেখানে যাবেন সেখানেই। মানে কি আমরা কি তার দিগনিটি বা সম্মান বাড়াচ্ছি নাকি কমাচ্ছি? একটা কাপড়ের দোকানে যাবেন সেখানে অনেক মেয়ে পুতুল রাখা থাকে। দোকানের মেয়ে পুতুলগুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে ফেলবেন। আপনার মায়ের পুতুল থাকলে রাখতেন দোকানে ? আপনার বোনের পুতুল বানিয়ে রাখতেন দোকানে? আপনার স্ত্রীর সুন্দর পুতুল বানিয়ে ঐরকম কাপড় পরিয়ে রাখতেন দোকানে? এই যে মেয়েদের পুতুল বানিয়ে দোকানে রাখছেন এতে মেয়েদের সম্মান বাড়ছে না কমছে। মেয়েদের internal পোশাক গুলোকে পড়িয়ে রেখে দিয়েছেন। এই টা কিন টাইল দেওয়া হচ্ছে এতে করে কি মেয়েদের সম্মান বাড়ছে? কাপড়ের দোকানদার যারা আছেন আল্লাহর ওয়াস্তে এই মূর্তিগুলো সরিয়ে ফেলবেন। কোন মুসলমানের দোকানে যেন ওগুলো না থাকে। ওগুলো দেখে পোশাক কিনতে হবে। শত শত বছর চলে গিয়েছে এইভাবে ব্যবসার ইতিহাস । এভাবে ব্যবসা করেছে মানুষ এভাবে ক্রয় বিক্রয় করেছে মানুষ। প্রতিটা ক্ষেত্রে মেয়েদেরকে পণ্যের মতো ইউজ করা হয়েছে। আইসক্রিম কিনতে যাবেন মেয়ে নাচছে। এবং যেখানে যাবেন দেখবেন মেয়েরা ছেলেদের পোশাক পড়ে ঘুরছে। ছেলেদের পোশাক মেয়েরা পড়ছে মেয়েদের পোশাক ছেলেরা পড়ছে । দিন দিন ছেলেদের সাইকোলজি মেয়েদের মত হয়ে যাচ্ছে এবং মেয়েদের সাইকোলজি ছেলেদের মতো হয়ে যাচ্ছে । এখন পুরুষ যারা আছে এই যে যুবসমাজ এদের মধ্যে পুরুষত্বের গাইরুতি নাই। আগেকার পুরুষদের মধ্যেও ওই সূর্য বীর্য ব্যক্তিত্ব গাম্ভীর্য চলন বরনে পুরুষ পুরুষ ভাব নাই। গলার কন্ঠশ্বর মেয়েদের মত। মেন্টাল সাইকোলজিক্যাল ফেইস গুলো যা আছে এগুলো মেয়েদের মত। দেখবেন অনলাইনে সারাদিন মেয়েদের মত ঝগড়া করছে। এগুলো কিন্তু মেয়েলি স্বভাব । মেয়েদের মত কেমন কেমন করে কথা বলে কেমন কেমন করে চলে। পুরুষের একটি ব্যক্তিত্ব নাই যে আমি একজন পুরুষ মানুষ। আমার একটা গায়রত্ব আছে আমার একটা সূর্য বীর্য আছে আমার একটা ব্যক্তিত্ব আছে আমার একটা গাম্ভীর্য আছে । দেখবেন এগুলো নাই যুবকদের মধ্যে। পক্ষান্তরে মেয়েদের মধ্যে দেখবেন পুরুষদের পুরো সফটওয়্যার দিয়ে দেওয়া হয়েছে। গলার ভয়েস ছেলেদের মত, অ্যাটিটিউড ছেলেদের মতো, পোশাক ছেলেদের মত, হাঁটা ছেলেদের মত। রুল করবে ছেলেদের মত সব পুরুষদের মত। এটাই সেই হাদিসের বাস্তবতা যে আখিরুজ্জামান এ ছেলেরা মেয়েদের পোশাক পরবে আর মেয়েরা ছেলেদের পোশাক পরবে। আল্লাহ পাক আমাদের মা-বোনদেরকে খাস পর্দায় থাকার তৌফিক দান করুন আমীন। অন্যান্য ক্ষেত্রে দেখবেন একটা উপন্যাস লিখছে সেখানে মেয়েকে নগ্ন ভাবে উপস্থাপন করে রেখে দিল। এবং সেই উপন্যাস মার্কেট পেয়ে গেল। একটা কবিতা লিখছে সেখানে দেখবেন মেয়ের ব্যাপারে খারাপ মন্তব্য করে কবিতা লিখেছে। গানের লিরিক্স গুলা দেখবেন সবগুলা হচ্ছে জেনা কেন্দ্রিক। হারাম প্রেম নিয়ে গান। যতগুলো দেখবেন ম্যাক্সিমামই হারাম প্রেম নিয়ে গান। যেই জেনার ধারের কাছে যেতেও আল্লাহ নিষেধ করেছেন ওটা কে নিয়েই গান। প্রেম করেছে পায় নাই তাকে নিয়েই গান। এ প্রেমিকা কি তার জন্য যায়েদ ছিল? হারাম ।দু'রকম গান বা মিউজিক হয়ে থাকে ভক্তিমূলক বা প্রেম মূলক।
নারীর পণ্যায়ন ও গানে নৈতিক অবক্ষয়
ভক্তিমূলক সাধারণত ঐশ্বরিক হয়। ঈশ্বর কেন্দ্রিক। মানে যেখানে ঈশ্বরের অস্তিত্বের জানান দেয়া হয়। ভক্তি প্রদর্শন করা হয়। বাকি দেখবেন সব প্রেম মুলক । বাকি দেখবেন প্রেম মূলক । প্রেম মূলক দেখবেন সব হারাম জেনা কেন্দ্রিক। কতটা গান আছে দেশপ্রেম নিয়ে কতটা গান আছে মায়ের প্রেম নিয়ে। কতটা গান আছে স্ত্রীর প্রেম নিয়ে। ম্যাক্সিমাম গানই তো দেখবেন হারাম প্রেম নিয়ে। তো এখানে দেখবেন মেয়েদেরকে তুচ্ছ করা হচ্ছে তাদেরকে অবমাননা করা হচ্ছে। আবার দেখবেন বিউটি কনটেস্ট। মেয়েদেরকে শর্ট শর্ট পোশাক পরিয়ে সবাই বসে থাকবে জাজরা বসে থাকবে। খাতা কলম নিয়ে বসে থাকবে না জানি কি জাজ করছে আল্লাহু আলম । কি একটা জাজ করছে মাশাআল্লাহ ? সে মনে হয় চোখ দিয়ে তার ভিতর পর্যন্ত দেখে ফেলছে। সে হেটে হেঁটে আসছে তার হাটা দেখে মনে হচ্ছে সে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে । দেখে সামনে গেল আবার পিছনে ব্যাক করে চলে আসলো । আর এই গুলো দেখতে হলে এখন কোথাও গিয়ে দেখতে হয় না এগুলো এখন দেখাই যায় সবসময় চারপাশে । এই বিষয়ে মধ্য দিয়ে নারীদের ডিগনিটি বা সম্মান বেড়েছে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে আঘাত করেছেন আমি সেভাবেই বলতে চাই আপনার মা হলে কি বিউটি কনটেস্টে পাঠাতেন। আল্লাহর নবী এটাই বলেছিলেন। একজন সাহাবী এসে বলেছিলেন আমি জেনা করতে চাই আমাকে অনুমতি দেন। নবীজী বলেছিলেন তোমার মায়ের সাথে যদি কেউ এই কাজ করে তুমি কি রাজি হবে তোমার স্ত্রীর সাথে কেউ যদি করে তুমি কি রাজি হবে। তোমার বোনকে কেউ যদি রেপ করে বা সেক্সুয়াল সম্পর্ক করে তুমি কি রাজি হবে। এভাবে আঘাত করেছেন একটার পর একটা একটার পর একটা একটার পর একটা। তখন ওই যুবক বলেছে আমি তো এগুলো পছন্দ করব না ইয়া রাসুল আল্লাহ। তখন নবীজি তার পিঠে হাত বুলিয়ে দেন এবং তার জন্য দোয়া করে দেন । আল্লাহ তার কলবকে পবিত্র করে দেন।এই যুবক ভবিষ্যতে কোন মেয়ের দিকে চোখ তুলে তাকায়নি। নিজের করে চিন্তা করেন তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন শালীনতা কাকে বলে আর অবমাননা কাকে বলে । আর যেসব নারী ইচ্ছায় এসব পথে যাচ্ছে তাদের ব্যাপারে বলার ভাষা আমাদের কাছে নেই। যে নিজেই নিজের সম্মান বুঝে না তাকে আপনি কিভাবে সম্মানিত করবেন । ইসলাম নারীদেরকে দিয়েছেন অগ্রাধিকার আর তারা খুঁজতে যাচ্ছে সম অধিকার। প্রতিটা ক্ষেত্রে ইসলাম অগ্রাধিকার দিয়েছে । প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে অগ্রধিকার দিয়েছে নারীদেরকে। তারা বুঝতে পারেনি বা আমরা তাদেরকে বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। আমি বারবার বলছি একটা কথা আমরা অনেক ক্ষেত্রে ধর্মের নামেও নারীদের উপর জুলুম করেছি তাদের ওপর । ইভেন আমরা তাদেরকে৷ দ্বীন শেখানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করিনি। দেখবেন সমস্ত জায়গায় তারা ঘুরে বেড়াবে এটা আমাদের কোন আপত্তি নাই। দ্বীনের কাজে আসবে এমন কি মসজিদে আসতে চায় বা দ্বীনের হালাকায় আলাদা ভাবে বসতে চাই বাধা যেও না ফেতনা হবে । সারাদিন ঠ্যং ঠ্যাং করে সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়ায় এতে কোন ফেতনা হয় না। আমরা অনেক কিছু করেছি। আল্লাহপাক আমাদেরকে বেশি বেশি কোয়ালিটি সম্পূর্ণ মেয়েদের মাদ্রাসা গড়ে তোলার তৌফিক দান করুন আমিন।
পরিবার, সমাজ ও বিশ্বে হানাহানি এবং দোয়া
প্রত্যেক পরিবারে আল্লাহ তায়ালা খাদ্য আয়শা রাদি আল্লাহু আনহার মত স্ত্রী কন্যা এবং ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার মতো স্ত্রী কন্যা এবং খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার মতো স্ত্রী কন্যা সন্তান দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন ।একজন মাই পারবে তার সন্তানকে ইসমাইল বানাতে, ওমর বানাতে, খালিদ বানাতে আমরা দোয়া করি আল্লাহপাক তাদেরকে হেদায়েত করুন এবং ইসলামের পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন আল্লাহুম্মা আমীন। সর্বশেষ যে সমস্যা ছিল হানাহানি। এই হানাহানি বিশ্বে নাই? আনাচে কানাচে দেখবেন। পরিবারে হানাহানি, সমাজে হানাহানি , পলিটিক্যাল দলে হানাহানি , বিশ্বে এক দেশ আরেক দেশের সাথে হানাহানি চলছে না। আল্লাহ পাক যখন ফেরেশতাদেরকে বলেছিলেন পৃথিবীতে আমি মানুষ পাঠাতে চাই খলিফা করে । তারা কিন্তু এই কথাই বলেছিলেন আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন যে পৃথিবীতে গিয়ে ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে। আপনি খেয়াল করে দেখেন সারা দুনিয়ার মানুষ এই একই কাজ করছে । ওই জাহেলী যুগের গৈত্রীও হানাহানি এখন পুরো বিশ্বে একটা বৈশ্বিক হানাহানি তে রূপ নিয়েছে । এবং এগুলো দিন দিন বাড়তে থাকবে কমবে না। ডে বাই ডে বাড়তে বাড়তে বাড়তে বাড়তে বাড়তে এমন একটা পর্যায়ে যাবে। যখন হোক এবং বাতিল স্পষ্ট হয়ে যাবে। এবং সর্বশেষ একটা বাটেল হবে ইমাম মাহাদীর সাথে সত্যের সাথে মিথ্যা। এবং এখানে তিনি বিজয় লাভ করবেন। এবং তারপরে মাছিহুদ দাজ্জালের বাহিনী বের হবে। এবং তাকে ইমাম মাহদী হত্যা করতে পারবেন না তখন ঈসা আলাইহিস সাল্লাম কে পাঠাবেন। তখন একটা কাউন্টার হবে ফাইট হবে যুদ্ধ হবে। এরপরে ইসলাম সারা দুনিয়াতে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থিতিশীলতা বজাবে প্রায় ৪0 বছর। তারপরে মানুষ আবারও খারাপ হওয়া শুরু করবে। এবং কি রাস্তার ঘাটে ঘাটে মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে জেনা করবে।এই মানুষ গুলোর সামনে কেয়ামত হবে। পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠবে। এটা কতদিন পর কত বছর পর এটা ননসেন্স প্রশ্ন এটা কোন প্রশ্নই না। মূল কথা হচ্ছে এটা হবে সামনে এটাই সবচেয়ে বড় কথা। আর এই হানাহানি কাটাকাটি দিন দিন বাড়তে থাকবে। আল্লাহপাক আমাদেরকে এগুলো বোঝার তৌফিক দান করুন। নিজে বাঁচার তৌফিক দান করুন পরিবারকে বাঁচানোর তৌফিক দান করুন, আত্মশুদ্ধি করার তৌফিক এনায়েত করুন। হালার রিজিক আমাদের জন্য যথেষ্ট করে দিন। হারাম থেকে আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখুন। আমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ আছে তাদের সবাইকে আল্লাহপাক সেফায় কামেলা দান করুন। আর যারা মারা গেছেন আল্লাহ পাক সবাইকে ক্ষমা করে দিন। আমাদের জান মাল দিয়ে দ্বীন ইসলামের খেদমত করার আল্লাহ পাক তৌফিক দান করুন। আল্লাহপাক আমাদের ব্যক্তি , পরিবার , সমাজ , প্রশাসন , সরকার এবং রাষ্ট্র সবাইকে আল্লাহর হেদায়েতে আলোয় আলোকিত করুন। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে মাফ করে দিন। আল্লাহপাক আমাদের সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখুন স্থিতিশীলতা বজায় রাখুন। আল্লাহপাক আমাদেরকে মহামারী থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। আমাদের নেত্রী স্নেহ ব্যক্তিদের কে হেদায়েত দান করুন। তাদের মধ্যে থেকে ওমর এবং হামজার মত মানুষ কে বের করে নিয়ে আসুন। এবং তাদের মনের মধ্যে কুরআন এবং সুন্নাহর সঠিক বুঝ পয়দা করে দিন। আল্লাহুম্মা আমীন।
সাধারণ প্রশ্ন
সুদভিত্তিক চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করার পর লেখক কী পরিবর্তন দেখেছেন?
লেখকের ছাত্রীর স্বামী ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি ভালো মানের চায়ের স্টল দিয়েছেন। লেখকের ভাষ্যমতে আগে অনেক টাকা আসলেও পরিবারে বরকত ছিল না, এখন চা বিক্রি করে খেলেও পরিবারে বরকত আছে।
মাদক থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে লেখক কোন পথের কথা বলেছেন?
লেখক বলেছেন মাদক ছাড়তে হলে কুরআন, হাদিস, নামাজ এবং আল্লাহওয়ালা মানুষের সান্নিধ্যের কাছে আনতে হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে মাদক নিষেধাজ্ঞা কয়েক ধাপে নাজিল হয়েছিল।