Islamবাংলা

জীবন পাল্টানো একটি ওয়াজ

মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও জীবনের ইবাদত

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। শুধুমাত্র তার ইবাদত করার জন্য। আল্লাহ পাক সুরাতুল জারিয়াত এর ৫৬ নাম্বার আয়াতে বলেছেন আমি জ্বীন এবং মানুষকে শুধু মাত্র আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি। আমাদের এই পৃথিবীতে আশা এই দুনিয়ার হায়াতের পিছনের উদ্দেশ্য একটাই। আল্লাহপাক আমাদের কাছে ইবাদত চান। শুধুই ইবাদত করার জন্যই আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর এটা আল্লাহ পাকের দয়া। যে আপনি যুদি জীবনের প্রত্যেকটা কাজ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী করেন। তাহলে আপনার পুরো জীবনটাই ইবাদত হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা হাশরের মধ্যে বলেছেন ৭ নাম্বার আয়াতে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা তোমাদেরকে দিয়েছে তা গ্রহণ করো। তোমাদেরকে যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তোমরা বিরত থাকো। রাসূল যা দিয়েছেন গ্রহণ করো যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন বিরত থাকো। যদি আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ মাফিক।আমাদের জীবনের প্রত্যেকটা কাজ করতে পারি।সেটা ব্যক্তিগত জীবনেই হোক। ইবাদত বন্দেগী জীবনেই হোক আপনার ব্যবসার জীবনেই হোক। অর্থনৈতিক জীবন হোক বা সামাজিক একবার রাষ্ট্রীয় জীবন হোক না কেন সে ক্ষেত্রে প্রত্যেকটা কাজ আপনার ইবাদত বন্দেগী বলে গণ্য হবে ইনশাল্লাহ। শুধুমাত্র নামাজ রোজা হজ যাকাত এগুলোকেই বোঝানো হচ্ছে না। বরং পরিবার আপনার ব্যবসা-বাণিজ্য আপনার মমেলাত।আপনার সামাজিক কাঠামো। আপনার প্রতিবেশীর হক। আপনার আত্মীয়র হক। জনগণের হক। প্রত্যেকটা বিষয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি অনুকরণে হলে পরে আপনার পুরো জীবনটাই ইবাদত হয়ে যাবে ইনশাল্লাহুতালা। আর এই কাজটা করার জন্যই আল্লাহ পাক আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।একটা সময় ছিল যখন আল্লাহ পাক একা ছিলেন। আর কোন কিছুই ছিল না। আল্লাহপাক সূরা হাদীসের মধ্যে বলেছেন তিনি প্রথম আল্লাহ পাকই প্রথম এর আগে কিছু ছিল না। আল্লাহ রব্বুল আলামিন এরপরে আরশ তৈরি করেছেন। তার আরশটা ছিল পানির ওপরে।আল্লাহ পাক এর পরে সৃষ্টি করেছেন কলম।লিখার কলম।কলম কে বলেছেন কলম তুমি লিখো । কলম বলেছে আমি কি লিখব? আল্লাহপাক বলেছেন কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে সব লিখে ফেলো। কলম লাওহে মাহফুজের মধ্যে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কি হবে। কখন কি হবে প্রত্যেকটা বিষয় লিখে ফেলেছে। এর বাইরে আপনি কিছু করতে পারবেন না। যতই চেষ্টা করি না কেন আমরা। আল্লাহ পাক তাকদীরের মধ্যে যা লিখেছেন এর বাইরে আপনি কিছু করতে পারবেন না। কিছু কিছু বিষয় আছে তাকদীরের। যেগুলো কনস্ট্যান্ট ফিক্সড এগুলো কোন পরিবর্তন নেই। কিছু কিছু বিষয় আছে তাকবীরে যেগুলো দোয়ার মাধ্যমে ভালো কাজের মাধ্যমে। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার মাধ্যমে। ফরজের পর নফল করার মধ্য দিয়ে। গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মধ্য দিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব। এরপরে আল্লাহ রব্বুল আলামীন এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন মাত্র ছয় দিনে। আল্লাহ পাকের দিন আমাদের দিনের মত নয়। শুধু কিয়ামতের দিন যেদিন আমরা দাঁড়িয়ে থাকবো। এই দিনটা হচ্ছে পৃথিবীর ৫০ হাজার বছরের সমান। কেয়ামতের দিন আমরা যেদিন দাঁড়িয়ে থাকবো এই দিনটা পৃথিবীর ৫০ হাজার বছরের সমান।আল্লাহ পাক ছয় দিনে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন বিগ ব্যাংক থেকে শূন্য থেকে । আমরা এখন এই বিগ ব্যাংক শব্দটার সাথে পরিচিত। যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামানা চলছিল তারা কিন্তু এই শব্দের সাথে পরিচিত ছিলেন না। তার পরেও তারা বিশ্বাস করেছে।

সৃষ্টির শুরু ও তাকদীরের বিশ্বাস

এখন বিজ্ঞান যুক্তি এবং দর্শন আমাদেরকে ওই পর্যন্ত নিয়ে যায়। তারা বলে মহাবিশ্বের কোন স্রষ্ঠা নাই।মহাবিশ্ব একটা বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। আল্লাহ রব্বুল আলামিন সূরা আম্বিয়ার এর ৩০ নাম্বার আয়াতে বলেছেন কাফেররা কি লক্ষ্য করে দেখেনা। এই আসমানসমূহ এই মহাবিশ্ব এই জমিন এই পৃথিবী এটা একটা বিন্দুর মধ্যে ছিল। একটা বিন্দু পয়েন্টের মধ্যে ছিল। আমরা উভয়কে পৃথক করে দিলাম। বিস্ফোরিত করে দিলাম। এবং প্রত্যেক জীবন্ত প্রাণী কে সৃষ্টি করেছি আমি পানি দ্বারা। তবুও কি তারা বিশ্বাস করবে না। আল্লাহ রব্বুল আলামিন এই আয়াতের মধ্যে বলছেন আসমান সমূহ জমিন একটা বিন্দুর মধ্যে ছিল। এরপর আল্লাহ পাক এটাকে বিস্ফোরিত করেছেন।যেই কথাটা এখন বিজ্ঞান বলছে মহাবিশ্ব বিগ ব্যাংক থেকে সৃষ্টি হয়েছে।ওরা বিগ ব্যাংক পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে । তারা এই সস্তা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারেনি। তো তাদের সাথে আমাদের এই জ্ঞানতাত্ত্বিক এখানেই পার্থক্য রয়েছে। তাদের জ্ঞানতত্ত্বটা হচ্ছে পরীক্ষার নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যা লাভ করা যাবে তাই হচ্ছে জ্ঞান। আল্লাহ মালাইকা আসমানী কিতাব নবী-রাসূলগণ মিজান পুলসিরাত কবরের আজাব জান্নাত জাহান্নাম এগুলোকে তারা কিন্তু ল্যাবে প্রমাণিত করতে পারে না। এ কারণে তারা এগুলোর অস্তিত্বকে বিশ্বাস করে না।দ্বীনের গাম্ভীর্য দ্বীনের ব্যক্তিত্ব দ্বীনের মর্যাদা আমরা রক্ষা করতে পারছি না। এই দ্বীনটা সূর্য বীর্যের দ্বীন। গাম্ভীর্য ব্যক্তিত্বের দ্বীন।গায়রতের দ্বীন। একজন মুসলিম গাইরতের সামনে সারা দুনিয়া মাথা নত করতে পারে এর নাম মুসলিম। আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদেরকে একটা জ্ঞানতত্ত্ব দিয়েছেন। এটা ওদের জ্ঞানতত্ত্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ছাড়া বিশ্বাস করবে না। এবং এই পুরো বিশ্বের যত সিস্টেম দাই আছে এখন। আপনার ইকোনমিক্স সিস্টেম বলেন এডুকেশন সিস্টেম বলেন পলিটিক্যাল সিস্টেম বলেন প্রত্যেকটা সিস্টেম এই তত্ত্বের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। চাক্ষুষ না দেখলে তারা বিশ্বাস করবে না। আপনি ফেরেশতাকে বিশ্বাস করাতে চান? তারা বলবে একে লেবে প্রমাণ করে দাও তাহলে বিশ্বাস করব।ল্যাবটরীতে ফেরেশতার অস্তিত্ব প্রমাণ করেন তাহলে বিশ্বাস করবে। কারণ আমি তো ওকে দেখছি না আমি কেন বিশ্বাস করব। এই দর্শনের চলছে সারা বিশ্ব। এর বাইরে একটা দর্শন যেটা মুসলিমরা লালন করে। অনলি মুসলিমরা এই দর্শন লালন করে সেটা হলো একমাত্র মুসলিমরা এই তত্ত্ব বিশ্বাস করে যে সত্য এবং জ্ঞান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। মানুষকে তিনি শিখিয়েছেন সেই জ্ঞান যেটা মানুষ জানতো না। মানুষ সৃষ্টি গত ভাবে অজ্ঞ ছিল। তিনি আদম আলাইহিস সাল্লাম কে সমস্ত নাম শিখিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি ঈমানের যে ছয় পিলার। আল্লাহ কে বিশ্বাস ফেরেশতা গণের বিশ্বাস নবী রাসূলগণের বিশ্বাস আসমানী কিতাব তারপরে পরকাল তারপরে তাকবীরে ভালো মন দিয়ে বিশ্বাস এই ছয়টি পিলার। এই ছয়টি পিলারকে কি আপনি যুক্তিবিদ্যা দর্শন দিয়ে ল্যাবে প্রমাণ করতে পারবেন? এগুলো সবই গায়েব অদৃশ্য। আল্লাহকে দেখেছেন,দেখি নাই তাও বিশ্বাস করি। নবী-রাসূলগণকে দেখেছেন? আমরা তো আমাদের নবীকেই দেখি নাই তাও আমরা বিশ্বাস করি। আসমানী কিতাব গুলো দেখেছেন। অনেক মুসলিম তো কোরআনও দেখেনি। এমনও অনেক হতভাগা মুসলিম আছে যারা কোরআন টুকু চোখে দেখেনি কখনো। শুনেছে কোরআন বলে একটা কিতাব আছে।

বিজ্ঞান, দর্শন ও গায়েবি বিশ্বাস

ফেরেস্তাগণ দেখেছি আমরা। দেখি নাই। এই জায়গা ফেরেশতারা ঘিরে রেখেছেন বিশ্বাস করেন। দেখেছেন দেখেন নাই। পরকাল এই যে কবর। কবরের প্রশ্ন উত্তর। আপনার কবর হবে জান্নাতের টুকরা অথবা জাহান্নামের গর্ত। আপনার পুলসিরাত মিজান জান্নাত জাহান্নাম আমলনামা ছুঁড়ে দেওয়া হবে। রুহু বা আত্মা। আত্মা আছে না রুহু । সত্য স্বপ্ন এগুলো কি আপনি ল্যাবে প্রমাণ করতে পারবেন। এগুলো দেখিনি বিশ্বাস করি। মুসলিমদের ঈমানের ছয়টি পিলারি হচ্ছে গাইবি বিশ্বাস। আমাদের জ্ঞানতত্ত্ব হচ্ছে এই যে আমাদের জ্ঞান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। আল্লাহ পাক মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে নিছক ছেড়ে দেননি। আল্লাহপাক প্রত্যেকটা আসমানের মধ্যে তার আমর বা কাজ নাযিল করেছেন। প্রত্যেকটা বিষয়ে সুশৃংখল ভাবে চলছে। এক জাররা পরিমাণ বিশৃঙ্খলা থাকলে এই মহাবিশ্ব ধ্বংস হয়ে যেতো।এবং আল্লাহ আরো বলেছেন যদি দুইজন ইলাহ থাকতো এই মহাবিশ্ব ধ্বংস হয়ে যেত। মহাবিশ্ব সৃষ্টি করার পর আল্লাহ পাক অনেক সময় পরে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের ওপর এমন একটা সময় চলে গেছে যখন মানুষ কোন আলোচ্য বিষয় ছিল না। এখন আমাদের মনে হয় যে আমরাই সব কিছু। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা দাহার মধ্যে বলেছেন এক নাম্বার আয়াতে যে মানুষের ওপরে এমন একটা সময় চলে গেছে।যখন মানুষ কোন আলোচ্য বিষয় ছিল না। এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করার পর আল্লাহ পাক অনেক সময় পরে এই মানুষ সৃষ্টি করেছেন। প্রথমে করেননি। এবং মানুষকে সৃষ্টি করে আল্লাহপাক একা একা ছেড়ে দেননি। প্রথমে জান্নাতে রেখেছেন তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন। ইবলিসকে দিয়ে পরীক্ষা করিয়েছেন। পরীক্ষার ফলে আজকে আমরা পৃথিবীতে আছি এবং চিরদিন থাকবো না হয়তো ৩০-৪০,৫০,৬০,১০০,২০০ বছর থাকবো হায়েস্ট। এর বেশি থাকবো না। আল্লাহ পাক এই সময়ের মধ্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়েত নাযিল করেছেন। প্রত্যেক যুগে যুগে শুধু একটা যুগে নয়। নূহ আলাইহিস সাল্লাম তার কাছে হেদায়েত এসেছে। তার আগে আদম আলাইহিস সাল্লাম আল্লাহর বিধানে এসেছে।আপনি একটা একটা করে নবী দেখেন ইব্রাহিম আলাইহি সাল্লাম আল্লাহর হেদায়েত এসেছে। আর্থ জাতির নবী হুদ আলাইহিস সাল্লাম তার কাছে হেদায়েত এসেছে।সামুদ জাতির নবী সলেহ আলাইহিস সাল্লাম এর হেদায়েত এসেছে। শোয়াইব আলাইহিস সাল্লাম মাদিয়ানীর নবী আল্লাহর বিধান হেদায়েত এসেছে। মুসা আলাইহিস সাল্লাম তাওরাত এসেছে। দাউদ আলাইহিস সাল্লাম যাবুর এসেছে। ইঞ্জিন ঈসা আলাইহি সাল্লাম এসেছে। মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল কুরআন এসেছে। খেয়াল করে দেখেন সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একদম মানব জাতিকে পৃথিবীতে পাঠানোর পর থেকে নিয়ে কেয়ামত পর্যন্ত। প্রত্যেক যুগে যুগে আল্লাহ পাক তার পক্ষ থেকে হেদায়েত পাঠিয়েছেন। পাঠিয়ে একটা শর্ত দিয়েছেন। যারা আমার এই হেদায়েত মেনে চলবে তাদের কোন টেনশন নেই কোন ভয় নেই কোন দুশ্চিন্তা নেই। যে জান্নাত থেকে এসেছেন সে জান্নাতে ফিরে যাবেন ইনশাল্লাহ। কিন্তু যারা আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা প্রতিবন্ধক করবে অস্বীকার করবে এরা হচ্ছে জাহান্নামের অধিবাসী। তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। সহজ সরল দর্শন। আল্লাহর দর্শন এ কোন সমস্যা আছে। একদম সরল দর্শন। মানুষ সৃষ্টি করেছেন জান্নাতে রেখেছেন পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন পরীক্ষা করছেন। প্রত্যেক যুগে যুগে আল্লাহ পাক নবী পাঠিয়েছেন। আল্লাহ পাক নবীর সাথে আসমানী কিতাব পাঠিয়েছেন। সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত আল্লাহপাক অসংখ্য নবী পাঠিয়েছেন। এবং প্রত্যেক যুগে যুগে যারা আল্লাহ পাকের বিধানগুলো মেনে নিয়েছে হেদায়েত অনুসরণ করেছেন আল্লাহ পাক আল্লাহ পাক দুনিয়াতেও সফল করেছেন এবং পরকালেও সফল করেছেন।

নবীদের হেদায়েত ও আল্লাহর শর্ত

আর প্রত্যেক যুগে যুগে যারা আল্লাহ পাকের হেদায়েত অস্বীকার করেছে। মেনে নেয়নি বিরোধিতা করেছে বিরুদ্ধাচারণ করেছে আল্লাহপাক দুনিয়াতে ও লাঞ্ছিত করেছেন পরকালেও জাহান্নাম দিবে ইনশাল্লাহুতালা। এই সহজ সরল কথাটা মনে রাখবেন তোকে যদি আল্লাহপাক তার পক্ষ থেকে হেদায়েত পাঠিয়েছেন। এবং আমাদের কাছে সর্বশেষ যে হেদায়েতের সোর্স টা আছে সেটা কি? আল কুরআন এবং তার ব্যাখ্যা হচ্ছে কি নবীর হাদিস নবীর সুন্নাহ। ২৩ বছর দাওয়াতে জীবন শেষে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমি মাত্র দুইটা বস্তু ছেড়ে গেলাম। তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত এগুলোকে আঁকে ধরে থাকবে। তোমাদের কোন টেনশন নাই ভয় নেই তোমরা কখনো পথভ্রস্টা হবে না ইনশাল্লাহুতালা। একটা কিতাব হচ্ছে আল্লাহর কিতাব। একটা কি সুন্নতে কিতাব নবীর নবীর সুন্নাহ। এই দুইটা কেয়ামত পর্যন্ত আপনি আঁকড়ে ধরে থাকলে। ইনশাল্লাহ আপনি পথভ্রষ্ট হবেন না আপনি দুনিয়াতেও লাঞ্ছিত হবেন না ইনশাল্লাহ আপনি পরকালেও জাহান্নামে যাবেন না ইনশাল্লাহুতালা। এটা সহজ সরল কথা। যত কথা শুনবেন মাহফিলে এটা মূল কথা। এবং এই মূল কথাগুলোকে আপনার আমল করতে হলে যে প্রতিবন্ধকতা আপনাকে ফেস করতে হবে সেগুলো হচ্ছে এরকম আপনার উপর দায়িত্ব হচ্ছে যে এগুলোকে প্রথমে নিজের ওপর বাস্তবায়ন করা। কুরআন এবং সুন্নাহ আগে নিজে মেনে চলা। তারপরে আপনার পরিবারের উপর প্রতিষ্ঠিত করা। আর পরিবার বলতে কারা যারা আপনার আন্ডারে আছে তারা। আপনি যার আন্ডারে আছেন তার ওপর আপনি ফোর্স করতে পারবেন না। যে আপনার আন্ডারে আছে তাকে আপনি ফোর্স করতে পারবেন এই তো। আপনার পরিবারের ওপর প্রতিষ্ঠা করা। এরপর আপনার যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে এটা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করবেন। আল্লাহ পাক যদি আপনাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দেন বিশ্বের ক্ষমতা দেন তাহলে আপনি সেখানে প্রয়োগ করবেন। গেজুয়ালি আপনি যাবেন।এখন এই হক গুলোর উপর টিকে থাকতে হলে। চারটা ক্ষেত্র থেকে আপনাকে বাধা ও পেতে হবে। প্রথম যে বাধাটা আসবে সেটা হল পরিবার থেকে। তার পরের বাধাটা আসবে আপনার ধর্ম নেতাদের থেকে। তারপর বাধা আসবে সমাজের নেতাদের থেকে। সর্বশেষ বাধা আসবে রাষ্ট্রীয় পক্ষ থেকে। যখন এই সবগুলো বিষয়ে হকের প্রতিকূলে চলবে আপনি হকের অনুকূলে থাকতে চাইবেন। তখন এই চারটা ক্ষেত্র থেকে আপনাকে বাধা পেতে হবে। আর এই চারটা ক্ষেত্র থেকে বাধা পেয়েছেন আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। প্রথম বাধা পেয়েছেন পরিবার থেকে। তারপরে সমাজ থেকে। তারপরে ধর্ম নেতা থেকে তারপরে রাষ্ট্রনেতা থেকে। সেইম জীবন ছিল ইব্রাহিম আলাইহি সাল্লাম এর ও। সেও প্রথম বাধা পেয়েছেন তার পরিবার থেকে তারপর সমাজ তারপর ধর্মনেতা তারপরে রাষ্ট্রনেতা থেকে। এরপরে নমরুদ। নমরুদ প্রথমে আসবেনা। এই হকের ওপর আপনি টিকে থাকলে আপনি জান্নাত পাবেন। জান্নাত পাওয়ার জন্য আপনি যা করার তাই করবেন এটাই কাম্য। আল্লাহ পাক আপনাকে বলে পাঠিয়েছেন আমি কি তোমাদের রব নই। আমরা বলেছিলাম আপনি আমাদের রব। এই কথাটা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহপাক যুগে যুগে নবী রাসূলগণদের কে পাঠিয়েছেন। এবং সর্বশেষ নবীর কাছে আমাদের জন্য আল্লাহ পাক দুইটা হেদায়েত দিয়েছেন সুন্নাহ।

কুরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার পথ

এখন কুরআন এবং সুন্নাহকে নিয়ে চলতে গেলে আপনি এগুলো ফেস করবেন। এই ফেস করতে গিয়ে যদি আপনি হতাশ হন হেরে যান হাল ছেড়ে দেন আপনি সময়ের গহবরে হারিয়ে যাবেন। আর এই হক টাকে যদি আপনি দুনিয়ার কাছে বিক্রি করে দেন আল্লাহর কাছে আপনার দাম থাকবে না। এখন এই হকের উপর টিকে থেকে আপনি যদি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারেন। এই পুরো দুনিয়ার কষ্টগুলো আপনার কাছে কষ্ট মনে হবে না। কারণ ওই যে আল্লাহ যিনি প্রথমে ছিলেন তিনিই শেষে থাকবেন আর কেউ দুনিয়াতে থাকবেন না। যেই আল্লাহর কাছ থেকে আমরা এসেছি সেখানে আবার আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। এবং যেতে হবে একা। আমার বাবা আমার মা আমার আত্মীয়-স্বজন আমার ভাই বোন কেউ আমাদের আমার সঙ্গে যাবে না। আমার প্রিয়তমা স্ত্রী আমার প্রিয় গার্লফ্রেন্ড কেউ আমার সঙ্গে যাবে না। আমি বারবার একটা কথা বলেছি যে মানুষ তার অবস্থানকে মূল্যায়ন করে। মানুষ তার ব্যক্তি সত্তাকে মূল্যায়ন করে না ভালোবাসে না। যখন আপনার অবস্থা ভালো তখন আপনাকে তেল দেওয়ার মানুষের অভাব থাকবে না। যখন আপনার অবস্থা ভালো না তখন মানুষ কেন আপনার কাছের মানুষই আপনাকে চিনবে না। আপন আল্লাহ রব্বুল আলামিন। যেখান থেকে এসেছি আমরা আবার যেখানে ফিরে যেতে হবে আমাদের। মাঝখানে সময় এতোটুকু ষাট, সত্তর, ১০০ বছর। দুনিয়াতে থাকবো। আর দুনিয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে এতিম করে ছেড়ে দেন নাই। নবী রসূল পাঠিয়েছেন হেদায়েত দিয়েছেন গ্রন্থ পাঠিয়েছেন শেষ নবীকে পাইনি তাতে কি হয়েছে।শেষ নবীকে দেখি নাই তাতে কি হয়েছে। নবীজির ওয়ারিশগন এবং ওলামারা সব জায়গায় চুষে বেড়াচ্ছেন। প্রতিটা মসজিদে মিম্বরে মাদ্রাসায় মক্তবে তারা কি অবাক বিচরণ করছেন না। ওলামা ইকরাম ওয়া রাসুল আম্বিয়া আল্লাহ আপনার কাছ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। এর মধ্যে কিছু দেখবেন দুনিয়া পূজারী আর কিছু দেখবেন সত্যিকারের হককারী। যারা দুনিয়া পূজারী তারা কোশ্চিনকালেও প্রকৃত আলেম হতে পারে না। যারা নিঃসন্দেহে কুরআন এবং সুন্নাহর সামনে বাতিলের সামনে কোরআন সুন্নাহর আলোকে কখনো মাথা নত করবেনা এটাই নিঃসন্দেহে সত্যিকারের হক কারি ওলামা ইকরাম। এবং তাদের কাছে আপনি যাবেন। তাদের সহবতে গিয়ে দ্বীন শিখবেন। দ্বীনের বেসিক বিষয়গুলো শিখবেন। ওই যে কুরআন এবং সুন্নাহ রেখে গিয়েছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আগে কোরআন তেলাওয়াত করতে শিখবেন। এরপরে আপনি আরবি ভাষাটা শেখার চেষ্টা করবেন। আরবি ব্যাকরণ শেখার চেষ্টা করবেন। তারপরে আপনি কুরআনের অনুবাদ পড়বেন। তাফসীরের বইগুলো পড়বেন যেটা বুঝবেন না আলেমদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন। হাদিসের বইগুলোতে হাত দিবেন। পর্যায়ক্রমে সহজ হাদিসের বই থেকে কঠিন বইয়ের দিকে যাবেন। সহজ বই হাদিসের আরবাইন ফয়জুল কালাম এই সহজ বই থেকে শুরু করবেন। একবারে লাফ দিয়ে উপরের বড় বুখারী মুসলিম আগে হাত দিয়ে ধরবেন না। আপনি বিভ্রান্ত হতে পারেন এটা আমার নসীহত। এর পাশাপাশি আপনি ইসলামিক অর্থনৈতিক পড়বেন। ইসলামিক জিও পলিটিক্স পড়বেন। আপনি চেষ্টা করবেন ভূ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট জানার জন্য। আপনি চেষ্টা করবেন ইসলামিক ইতিহাস গুলো পড়ার জন্য। আর স্পেশালি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী এবং তার সাহাবী ইকরামের জীবনী গুলো পড়বেন। একদম উমাইয়া খেলাফত থেকে শুরু করে ওসমানী খেলাফত পর্যন্ত। পুরো হিস্টরি পড়বেন। তখন দেখবেন আপনি জ্ঞানের সমৃদ্ধ হচ্ছেন।

দ্বীন শেখার ধাপ ও আলেমদের সহবত

এর পাশাপাশি আপনি সাইন্স আর্টস কমার্স যেখানে পড়ছেন সেটা কন্টিনিউ করবেন। এগুলোকে ছেড়ে দিবেন না। এই গানগুলোকে যদি আপনি ইসলামের দিকে কনভার্ট করতে পারেন। আপনার দ্বারা ইনশাল্লাহ আমার চেয়ে বেশি খেদমত হতে পারে। আপনার দ্বারা আরও বড় খেদমত হতে পারে এটা সম্ভব। অতএব এখান থেকে সুইচ করার দরকার নাই আছেন থাকেন ইসলামের বেসিক বিষয়গুলো পড়াশোনা করেন।পড়াশোনা করলে কি হবে আপনার ওই দুই চোখ খুলবে। বাহ্যিক চোখ আর ভিতরের চোখ। আপনি ফিতনাময় যুগে বসে আছেন এখন। এই যুগের মত ফিতনামায় যুগ আর কখনো আসে নাই। এবং যত দিন যাবে ফেতনা তত বাড়তে থাকবে কমবে না। যতদিন যাবে ফিতনা কিন্তু ততই বাড়তে থাকবে কোশ্চিনকালেও কমবে না। কেউ যদি মনে করে এগুলো সব ঠিক হয়ে যাবে আবার সোনালী সময় আসবে। এটা আসবে শুধু ঈসা আলাইহি সাল্লাম এর সময় এবং ইমাম মাহাদীর সময়। তার আগ পর্যন্ত ফেতনা বাড়তে থাকবে কন্টিনিউজলি। এমন ভাবে বাড়বে মনে হবে যে বিগত দিনগুলো আজকের থেকে ভালো ছিল। এখন বলে যাচ্ছি এখন যেভাবে এই মাহফিল গুলো করছেন। দ্বীনের যে কাজগুলো করতে পারছেন এট লিস্ট। আগামী দিনগুলোতে এতটুকু পারবেন কিনা সন্দেহ আছে। এতোটুকুও পারবেন কিনা সন্দেহ আছে। দুই চোখ ওয়ালা মানুষের কাছে যাবেন। যাদের দূরদর্শিতা আছে। যারা দূর পর্যন্ত দেখতে পারে। আর দুই চোখ খুলতে হলে প্রথমে জ্ঞান লাগে জ্ঞানের সাথে আরো কিছু লাগে। জ্ঞানের সাথে আল্লাহর নুর লাগে। যেটা খিজির আলাইহিস সাল্লাম এর কাছে ছিল। নৌকা কেন ফুটা করলেন দেয়াল কেন নির্মাণ করলেন বাচ্চাকে কেন হত্যা করলেন মুসা আলাইহিস সাল্লাম প্রশ্ন করছেন। মনে আছে সূরা কাহাফ। আর খিজির আলাইহিস সাল্লাম বলছেন নৌকা এজন্য ফুটো করেছিলাম না হলে নৌকা নিয়ে যেত জলদস্যু। বাচ্চাকে এজন্য হত্যা করেছি না হলে বাচ্চাটা বড় হয়ে কাফের হত এবং তার পিতা মাতাকে কাফের বানাতো। দেয়ালটা নির্মাণ করেছি এই কারণে কারণ এই দেয়ালের নিচে এতিম দুই বাচ্চার সম্পদ আছে এরা যখন বড় হবে এতিম বাচ্চা দুটো পাবে। এটা মুসা আলাইহিস সাল্লাম ধরতে পারেন নাই বানু ইসরাইলের নবী হয়ে। বানু ইসরাইলের নবী হয়েও তিনি এটা ধরতে পারেন নাই। কারণ বাহ্যিক চোখ দিয়ে আপনি যা দেখছেন এগুলো সব সত্যি নয়।আর খিজির আলাইহিস সাল্লাম ভেতরের চোখ দিয়ে দেখেছেন দূর পর্যন্ত । এই খিজির আলাইহিস সাল্লাম না হতে পারলে শেষ জামানায় টিকবেন না। আর খিজির আলাইহিস সাল্লাম এর কাছে শুধুমাত্র জ্ঞানী ছিল না। আল্লাহর নূর বাসিরা এবং দূরদর্শিতা ছিল। এটা কখন আসবে? যখন মনের মধ্যে হিংসা বিদ্বেস রিয়া দুনিয়ার পূজা লোভ ঘৃণা অহংকার। স্পেশালি অহংকার এগুলো যখন মনের মধ্যে থাকবে না তখন নূর আসবে। ডিগ্রী সার্টিফিকেট অনেক আছে কিন্তু মনের মধ্যে হিংসা বিদ্বেষ গীবত তহমদ পরশ্রীকাতরতা অহংকার রিয়া দুনিয়া প্রেম দুনিয়া পূজা। এগুলো যদি মনের মধ্যে লালন করতে থাকেন। ডিগ্রি সার্টিফিকেটের নূর অর্জন করা যাবে না৷ ইনশাল্লাহ । এটা অন্য জিনিস আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। এগুলোর পাশাপাশি মনটা আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করবে। কলবটা বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করবে। বেশি বেশি জিকির করবে। আল্লাহ তাজবীদ তাহালির বেশি বেশি করবে। ফরজের পর নফল বেশি আদায় করবে। মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করবে পরকালকে বেশি বেশি স্মরণ করবে। এবং কোরআন বেশি বেশি তেলাওয়াত করবে। তখন মনের মধ্যে নূর আসবে ইনশাল্লাহুতালা।

ফিতনার যুগে দূরদর্শিতা ও অন্তরের নূর

তখন আপনি খিজির আলাইহিস সাল্লাম হবেন ইনশাল্লাহ তায়ালা। এটা কেন দরকার? আপনি যে যুগে বসে আছেন এই যুগের প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্ট ফিতনাময়।আপনার পরিবারের মধ্যে দেখেন ফিতনা আপনার সংস্কৃতির মধ্যে দেখেন না ফিতনা । মহিলাদের মধ্যে দেখেন ফিতনা। আপনার সমাজের মধ্যে তাকান ফিতনা। ইভেন আপনি ধর্মের মধ্যে দেখেন সেখানেও ফিতনা। ফিতনা আর ফ্যাসাদ দিয়ে ভর্তি পুরা বিশ্ব। এখন এই যুগে আপনি কি করবেন? এটা বুঝতে হলে আগে আপনাকে সিচুয়েশন রিট করতে হবে কোথায় আপনি বসে আছেন? আগে সমস্যা চিহ্নিত করা তারপরও সমাধান। সমস্যা চিহ্নিত করতে হলে এক চোখ দিয়ে দেখলে হবে না দুই চোখ লাগবে। তারপরে আপনি সমস্যা ফাইন্ড আউট করেন। এরপরে সলিউশনে যান। দুই চোখ না থাকলে সমস্যাই তো ফাইন্ড আউট করতে পারবেন না খুঁজে পাবেন না। কুরআন এবং হাদিস আপনাকে মূল বিষয়টা দিবে। এবং এরপরেও আপনাকে আরো যুগ উপযোগী যেu বিষয়গুলো আছে এগুলোতে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। মন থেকে যাবতীয় খারাপ রিপু বলী কে দূর করতে হবে। আল্লাহর জন্য নিজেকে ওয়াকফ করতে হবে। পরকালের বান্দা হয়ে যান দুনিয়া ত্যাগ করেন। নিজের হায়াতকে মূল্যায়ন করেন। নিজের হায়াতকে মাস সপ্তাহ দিন দিয়ে ভাগ করেন। ইস্টিমেট করে নেন যদি আপনি ৬০ বছর বাঁচেন। কত বছর চলে গেছে আর কত বছর আছে। আর কতদিন আছে। এই দিনগুলো কিভাবে কাটালে ওই কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছাতে পারবেন। এটা হিসাব করে নিজেকে চিন্তা করেন। থামেন যে ফ্লোতে ছুটছেন। পরিবারের পেছনে ব্যবসার পিছনে চাকরির পেছনে সমাজের পিছনে দুনিয়ার পিছনে বাড়ি গাড়ি স্ট্যাটাসের পেছনে। একটু দাঁড়ান রিলাক্স হন। একটা রাত একটু থামেন। রিলাক্সে চোখটা বন্ধ করে খাতা কলম নিয়ে বসেন করার টেবিলে। চিন্তা করেন আপনি দুনিয়াতে থাকতে আসেন নাই মরতে এসেছেন। দুনিয়াতে আপনি থাকতে আসেননি দুনিয়াতে আপনি মরতে এসেছেন। এবং সময় লিমিটেড। আপনি জানেন না কতটুকু ধরে নেন ৬০ বছর। আপনার ৩০ চলে গেছে বাকি ৩০ রয়ে গেছে। বাকি ৩০ এর শেষ বা ১০ আপনি আমল করতে পারবেন না আপনি চাইলেও। এখন আপনার হাতে ২০-২৫ এটা কে দিন দিয়ে আপনি ভাগ করুন। এখন দেখেন বিগত যে সময়টা পার করে এসেছেন। এ সময়ের মধ্যে কতটা রোজা রাখেন নাই কতবার নামাজ পড়েন নাই কতবার জেনা করেছেন কতবার সুট খেয়েছেন কতবার মানুষের হক নষ্ট করেছেন কতবার দুর্নীতি করেছেন কতবার মাদক সেবন করেছেন কতবার গার্লফ্রেন্ড চেঞ্জ করেছেন আপনি হিসাব করেন।আমলনামা হিসাব করেন। আপনার আমলনামা নিজে হিসাব করেন। দিন আসার আগে হিসাব করে ফেলেন। আল্লাহ পাক কেয়ামতের মাঠে উঠানোর পরে আমলনামা ছুড়ি দিয়ে বলবে পড়ো তোমার বই আজকে তুমি তোমার হিসাব নেয়ার জন্য যথেষ্ট। এই সময়টুকু মূল্যায়ন করেন। এখন আপনি যদি ডেডিকেট হয়ে যান যে না আমি যা করেছি করেছি। আগের পাপ থেকে তওবা করব। যার যার হক তাকে তাকে ফিরিয়ে দিব। কাউকে যদি গালি দিয়ে থাকি তাহলে তার কাছে গিয়ে বলব ভাই আমি আপনাকে গালি দিয়েছিলাম আমাকে মাফ করে দেন।

নিজের হিসাব ও তওবার পথ

কারো সম্পত্তি যদি আত্মসাৎ করে থাকি তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বলবো তোমার সম্পত্তি ভাই তুমি নিয়ে নাও। যা নেয়ার দুনিয়ায় নিয়ে নাও পরকালে আমার জন্য দাবি রেখো না । সুদ খেয়ে থাকলে এখনই ছেড়ে দেন। সবজি বিক্রি করে খান তাও সুদি ব্যাংকে চাকরি করেন না। মাদক খেয়েছেন তওবা করেন। রোজা রাখেন না হিসাব করেন কতগুলো রোজা রাখেন নাই। চেষ্টা করেন আদায় করে দেওয়ার জন্য। হ্যাঁ খারেজ তওবা করলে আল্লাহপাক এমনেই মাফ করে দিবেন। আল্লাহ আপনাকে এমনি মাফ করে দিবেন বরং আল্লাহ আপনাকে গুনাগুলোকে নেকি দিয়ে পরিবর্তন করে দিবেন আল্লাহ পাক ওয়াদা করেছেন। তারপরেও চেষ্টা করা উচিত আমাদের যে হিসাব করে আমি এটা আদায় করে দেব। কতবার তো সালাত পড়ি নাই আল্লাহ পাকের কাছে মাফ চাইলে আল্লাহ পাক হয়তো এমনি মাফ করে দিবেন। তারপরও চেষ্টা করব ফরজের সাথে সাথে নফল ও বাড়িয়ে দেওয়ার। যাতে আমার ফরজের গ্যাপ টা পূরণ হয়ে যায়। হিসাব করেন লাইফ কে সিরিয়াসলি নেন। আপনি দুনিয়াতে পাবজি খেলতে আসেননি। এখানে ফ্রী ফায়ার খেলতে আসেননি। এখানে একটা গার্লফ্রেন্ড এর পিছনে সময় নষ্ট করার জন্য আসেননি। আপনি এখানে সুদ খেতে আসেন নাই জেনা করতে আসেন নাই। আপনি এখানে আইসক্রিম বিক্রি করছেনা মেয়েগুলো এসব করতে আসেন নাই। আপনি পৃথিবীতে বেহায়ার মতন নগ্ন হয়ে রাস্তাঘাটে ঘুরতে আসেন নাই। আপনি পৃথিবীর মাঝে উম্মার মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করতে আসেন নাই। আপনি দুনিয়াতে দুনিয়াবী পূজা করতে আসেন নাই। এসব কারণে আপনাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়নি। আপনাকে আল্লাহর ইবাদত করতে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। টাইম আল্লাহ পাক আপনাকে একটা দিবেন না। যতটুকু লেখা আছে আপনার লাওহে মাহফুজে একটা দিন বাড়বে না একটা দিন কমবে না। আপনি জানেন না আজকে লাস্ট দিন কিনা। আপনি চাইলেও যদি আজকে লাস্ট দিন হয়ে থাকে আপনি চাইলেও আর একদিন বেশি বাঁচতে পারবেন না। অতএব আল্লাহর হয়ে যান। আল্লাহ থেকে এসেছি আল্লাহই চলে যাব। আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন আমাদেরকে ওখান থেকে এসেছি। ওখানে আবার ফিরে যাব মাঝখানে অনেক সময় চলে গেছে। হিসাব করে মিটিয়ে ফেলেন।বাকি সময় বাকি আছে। এমন নিয়ত করেন ইস্তেকাম এর ওপর থাকেন যে আমি জীবন চলে গেলে। আগামী যে দিনগুলো আমি বেঁচে থাকব পৃথিবীতে কুরআন এবং সুন্নাহর এক চুল বাইরে যাব না ইনশাল্লাহুতালা। আমার পরিবার আমাকে বুঝুক আর না বুঝুক আমার চাকরি থাকুক আর না থাকুক। আমার রিযিক কমে যাক আর নাই যাক। আমার সামাজিক পথ থাক আর নাই থাক। রাষ্ট্রীয় পদ আমার থাক বা নাই থাক। আমি কুরআন এবং সুন্নাহর বাহিরে যাব না সিম্পল। এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে অনন্তকালের জান্নাত। আপনি যা চান সেখানে পাবেন। এটা পরীক্ষার মাঠ এটা ফলাফল পাওয়ার মাঠ না। ওইটা ফলাফল পাওয়ার জায়গা। এবং বিশ্বাস করেন আল্লাহ পাকের কথা এত কঠিন। সূরা দুখান এর মধ্যে আছে। আজাব যখন দেওয়া হবে আজাব চাখো আজাব ভোগ করো। দুনিয়াতে অনেক আজিজ ছিলে অনেক কারিম ছিলে এখন আজব ভোগ করো। বহু স্যুট প্যান্ট টাই পড়া ফিট ফাট মানুষ পরকালে নগ্ন থাকবে। বহু ফ্যাশন করা মেয়েরা পরকালে নগ্ন থাকবে। কাপড় থাকবে না পড়ার জন্য।

সাফল্যের প্রকৃত সংজ্ঞা ও সুন্নাহর জীবন

দুনিয়াতে বহু মানুষ যারা ভোগ বিলাস এ ব্যস্ত আছে যাদেরকে দেখলে আপনার ঈর্ষা হয়। একটা সেকেন্ড জাহান্নামের আগুন থেকে বের হওয়ার জন্য তারা তাদের সবকিছু ফিরিয়ে দিতে চাইবে। আল্লাহপাক দিবেন না এদেরকে। এরকম বহু মানুষ আছে পৃথিবীতে। এমন অনেক মিসকিন পৃথিবীতে আছে এখন। যাদেরকে মানুষ চিনেই না হাসতে হাসতে জান্নাতে চলে যাবে। এমন অনেক দরিদ্র মানুষ এখন পৃথিবীতে আছে। ওদেরকে মানুষ চিনেও না মূল্যায়নও করেনা। তারা সেলিব্রিটি ও না। তাদের বড় কোন পদ নাই। পলিটিক্যাল বা সোশ্যাল। শুধু ফরজ আদায় করে। সাধ্যমত নফল পড়ে।তাওহীদের ওপর থাকে শিরিক করে না। সুন্নতে থাকে বেদাত করে না দেখবেন পরকালের মাঠে এরা আগে আগে জান্নাতে চলে গেছে। মনে রাখবেন যে ব্যক্তিকে পুলসিরাত পার করিয়ে দেওয়া হবে। জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচানো হবে। একমাত্র সে ব্যক্তি সফল আর কেউ সফল না । আজকের লেকচারে সব ভুলে গেলেও সাফল্যের সংজ্ঞাটা জেনে যাই। এই যে লিমিটেড হায়াত আছে। এই হায়াতকে আপনি যদি চান।আমি যা করেছি করেছি এখন তওবা করে ফিরে আসবো। বাকি জীবনটা আমি কুরআন সুন্নাহর ওপরে থাকবো। আল্লাহ পাক সবাইকে তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। এখন আপনার ওপরে এই দায়িত্ব গুলো বর্তাবে। যে আপনাকে পড়াশোনা করতে হবে। আপনাকে প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ মাফিক জীবন যাপন করতে হবে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমানো পর্যন্ত। প্রতিটা কাজ সুন্নাহ মাফিক করতে হবে। ইবাদতের ক্ষেত্রে সুন্নাহ করবেন। ব্যবসায় ক্ষেত্রে সুন্না করবেন। জিকির আজগার করবেন সেটা সুন্নাহ মাফিক করবেন। আপনি নামাজ পড়বেন সেই সুন্নাহ করবেন।মোমলাতে গেলে মোমালাতে সুন্নাহ । পরিবারে পরিবারের সুন্নাহ।আপনার সমাজ নীতিতে সমাজনীতি সুন্নাহ। সব সুন্নাহ আপনাকে মেনে চলতে হবে। তখন আপনার পুরো জীবনটাই ইবাদত হবে ইনশাল্লাহুতালা। এ অবস্থায় যদি আপনি প্রত্যেকদিন পার করতে থাকেন। আপনি নিজেই ফিল করবেন যে আল্লাহর কাছে আপনার মর্যাদা বেড়ে গেছে। আপনি বেঁচে থাকলে আল্লাহ পাক কিয়ামত পর্যন্ত দিবেনা ইনশাল্লাহুতালা। যদি আপনি এমন হয়ে যেতে পারেন তাওহিদের ওপর আছেন সুন্নাহর উপর আছেন। আপনি বেচে থাকা পর্যন্ত আল্লাহপাক কেয়ামত দিবে না ইনশাল্লাহুতালা। এত বড় মর্যাদা আল্লাহ পাক আপনাকে দিবে ইনশাল্লাহুতালা। প্রথম কথা হচ্ছে আল্লাহ পাক আপনাকে আমাকে দুনিয়াতে একা ছেড়ে দেননি। নবী রাসুল পাঠিয়েছিলেন আসমানী কিতাবের হেদায়েত পাঠিয়েছেন। প্রত্যেক যুগে পাঠিয়েছেন। আমাদের কাছে হেদায়েতের উৎসটা কি এখন। শেষ কুরআন এবং সুন্নাহ। এই কুরআন পড়বেন এবং আমল করবেন। আদেশ মানবেন নিষেধ বর্জন করবেন। এর দাওয়াত মানুষকে দিবেন কোরআন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবেন এবং সুন্নাহ মাফিক আপনি ডেইলি জীবনযাপন করবেন। আপনি আপনার জীবনটাকে মূল্যায়ন করবেন এবং ভাববেন আপনি এই দুনিয়া থেকে একদিন চলে যাবেন। আজ হোক বা কাল হোক। ধরে নিবেন আপনার হায়াত ৬০ বছর বা ৭০ বছর। আপনি যতগুলো পাপ করেছেন এই পাপের হিসাব করবেন। এবং যা বাকি আছে এই সময়টুকু আপনি কিভাবে চলবেন এই হিসাব আজকে রাতে বসে বসে করবেন। এর পরে আপনার জব ডিসাইড করবেন যে আমি আল্লাহর জন্য ওয়াকফো করব। এরপরে আপনি পড়াশোনা শুরু করেন। আলেম ওলামাদের কাছে আসেন। তাদের সহবতে যান। আপনি জানা অনুযায়ী আমল করেন হালাল খান। পরিবারটা গড়েন সুন্দর করে। আপনি আপনার সাধ্যমত ইসলামের দাওয়াতি কাজ করেন।দ্বীন টাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আপনার ছোট ছোট উদ্যোগ আপনার জান এবং মাল আপনার সময় শ্রমকে কাজে লাগান। এক সময় আপনি মারা যাবেন ওই সময় আপনার কন্ঠে থাকবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। এবং এই অবস্থায় আপনার মৃত্যু হয়ে গেলে ইনশাল্লাহুতালা আপনার জন্য অনন্তকালের জান্নাত অপেক্ষা করছে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে কথাগুলো বোঝার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন।

সাধারণ প্রশ্ন

এই ওয়াজ অনুযায়ী মানুষ কেন সৃষ্টি হয়েছে?

ওয়াজে বলা হয়েছে, সূরা যারিয়াতের ৫৬ নম্বর আয়াত অনুযায়ী আল্লাহ জ্বীন ও মানুষকে শুধু তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।

জীবনের প্রতিটি কাজ কিভাবে ইবাদত হতে পারে?

ওয়াজ অনুযায়ী, জীবনের প্রতিটি কাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী করলে পুরো জীবনই ইবাদত হয়ে যাবে।

ওয়াজে কোন দুটি জিনিস আঁকড়ে ধরার কথা বলা হয়েছে?

ওয়াজে বলা হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কিতাব ও তাঁর সুন্নাহ রেখে গেছেন, এবং এই দুটি আঁকড়ে ধরে থাকলে পথভ্রষ্ট না হওয়ার কথা বলা হয়েছে।