আসহাবুল উখদুদ এর ঘটনা
সুরা বুরুজের কসম ও কিয়ামতের দিন
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনূর কারীমে ৮৫ নাম্বার সূরাতে সুরাতুল বুরুজের এক নাম্বার আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলছেন এই আকাশের কসম যে আকাশের মধ্যে অনেক বুরুজ আছে। বুরুজ কি? বুরুজ হচ্ছে বিশাল বিশাল সব নক্ষত্র। অর্থাৎ প্রকাণ্ড আকৃতির নক্ষত্র সম্বলিত আকাশের কসম। তার মানে আমরা বুঝতে পারলাম এই মহাবিশ্বে অনেক প্রকাণ্ডের আকৃতির গ্রহ - নক্ষত্র আছে। যারা আমরা সাইন্স পড়াশোনা করেছি তারা জানি। আমাদের এই সৌরজগৎ টা খুব ক্ষুদ্র একটা জায়গা জুড়ে আছে। এরকম সৌরজগৎ আছে শত শত কোটি কোটি। এবং এমন কোটি কোটি সৌরজগৎ কে নিয়ে একটি গ্যালাক্সি হয়। এরকম অনেকগুলো গ্যালাক্সি এরকম লক্ষ লক্ষ গ্যালাক্সি নিয়ে ছায়াপথ হচ্ছে। যেটাকে কুরআনের ভাষায় বলছি আসমান। আর এরকম আসমানের সংখ্যা হচ্ছে একটা দুইটা নয় বরং সাতটা। তারমানে মহাকাশে সাত আসমান আছে। যে আসমানের কোন একটা গ্যালাক্সির কোন একটা সৌরজগতের কোন একটা গ্রহের কোন একটা দেশের ওই দেশের কোন একটা জেলায় ওই জেলার কোন এক থানায় ওই থানার কোন এক গ্রামে আপনি এখন বসে আছেন। তো এই মহাকাশে আমাদের অবস্থান কত ক্ষুদ্র তা কি বোঝা যাচ্ছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এটাই বলেছে যে এই বিশাল বিশাল গ্রহ নক্ষত্র সম্বলিত আসমানের কসম করে বলছি। আল্লাহ পাক তার সৃষ্টির কসম করতে পারেন। কিন্তু আমাদের জন্যে সৃষ্টির জন্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করা জায়েজ নাই। একটা হাদিসে আছে যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করে। সে ব্যক্তি কুফরি করল। এটা একটা কুফরি। এই যে আমরা বলি মায়ের কসম বাপের কসম আগুনের কসম আছে না বলি না আমরা মাটির কসম অনেক কসম আমরা করি। এই কসম গুলো শপথ করা ঠিক নয়। যদি আপনাকে কসম করতে হয় তবে আল্লাহর নামে কসম করতে হবে। তো এখানে আল্লাহপাক বরুজ বিশিষ্ট আসমানের কসম করে বলছেন এবং আমি আরো কসম করছি প্রতিশ্রুত দিনের। এটা কোন দিন? কিয়ামতের দিন। কিয়ামতের দিনের কসম। কিয়ামতের দিনটা কি? কিয়ামতের দিন এমন একটা দিন যে দিন কোন সত্তা অন্য কোন সত্তার জাররা পরিমাণ উপকার করতে পারবে না। যেদিনের সমস্ত কিছু দায়িত্ব আমর কর্তৃত্ব শুধুমাত্র আল্লাহ পাকের হাতে থাকবে। এই হল কেয়ামতের দিন। এখানে কোন পলিটিক্যাল সম্পর্ক চলবে না। কোন বংশের সম্পর্ক চলবে না। রক্ত বর্ণ জাতীয়তাবাদ চলবে না। চলবে কি ঈমান এবং আমল। ঈমান এবং আমল এর ওপরে আল্লাহ পাক যাকে রহম করবেন সেই জান্নাতে যাবেন। মানুষ তার আমলের বদলতে ও জান্নাতে যাবে না। একজন আবেদ ব্যক্তি ঘটনা আছে। এগুলো সহি হাদিসের মধ্যেই আছে। ৫০০ বছর আল্লাহ পাকের ইবাদত করেছিল। কত বছর.? ৫০০ বছর। তাকে যখন বলা হবে তুমি আল্লাহর রহমতে জান্নাতে যাও।সে বলে বসবে কেয়ামতের মাঠে আমার আমলের বদলতে। তখন আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাকে দেখে বলবেন যে তোমার সকল আমল এক পাল্লায় রাখা হবে এবং আর আমি যে তোমাকে নেয়ামত গুলো দিয়েছিলাম সেগুলো আরেক পাল্লায় রাখা হবে। দেখা যাবে আল্লাহ পাকের দুই চোখের যে নেয়ামত। আল্লাহ পাকের দুই চোখের যে নেয়ামত যা আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন ওই ৫০০ বছর ইবাদতের নেকি তারচেয়ে বেশি হয়ে যাবে। মানে দুই চোখের নিয়ামতের চাইতে ৫০০ বছরের ইবাদত কম হয়ে যাবে। এই তাহলে এই হল আল্লাহ পাকের রহমতের একটা নমুনা আমি আপনাদেরকে দিলাম। আল্লাহ পাকের রহমত ছাড়া কেউ জান্নাতে যেতে পারবেনা।
কিয়ামতের দিনে নবীজির উম্মতের জন্য আকুতি
কেয়ামতের দিন সেই দিন কোন নফস কোন নফসের উপকার করতে পারবে না। পৃথিবীর কোন সম্পর্ক সেখানে টিকবে না। সূরা আদনান এর মধ্যে আল্লাহপাক বলছেন। যেদিন ভাই ভাইয়ের থেকে পালিয়ে যাবে। মানুষ তার বাবা এবং মা থেকে পালিয়ে যাবে। তার স্ত্রী পুত্র সন্তান এগুলো থেকে মানুষ পালিয়ে যাবে। সেদিন প্রত্যেক মানুষ নিজের নফসের কথা নিয়েই ব্যস্ত থাকবে। সবাই বলবে ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি। তবে শুধু একজন ব্যক্তি আছেন পুরো এই মহাবিশ্বে যিনি বলবেন ইয়া উম্মাতি ইয়া উম্মাতি।তিনি কে ? আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এই একমাত্র মানুষ যিনি কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ সামনে বলবেন ইয়া উম্মাতি ইয়া উম্মাতি। হে আল্লাহ আমার উম্মত হে আল্লাহ আমার উম্মত। আজকে সেই নবীর আদর্শ আমরা ভুলে গেছি। সেই নবীর সুন্নত পালন করতে গেলে আমাদের লজ্জা লাগে। ইয়াং জেনারেশন দেখবেন বিটিএস এর সুন্নত পালন করে। ক্রিকেট প্লেয়ার ফুটবল প্লেয়ার বলিউডের নায়ক হলিউডের নায়ক নায়িকা এদের সুন্নত পালন করছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মত দাড়ি রাখতে লজ্জা লাগে। তার মতো কাপড় পড়তে লজ্জা লাগে। তার আদর্শ তাকে ফলো করতে লজ্জা লাগে। অথচ সেই মানুষটা কিয়ামতের মাঠে এই উম্মতের পক্ষে কথা বলবেন যে হে আল্লাহ আমার উম্মত আমার উম্মত। এবং এই মানুষটাকে জীবিত অবস্থায় ১৫ বার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কাকে? মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। বিস্তারিত জানতে বিশ্ব বিখ্যাত বই আল রাহীকুল মাখলুম এই বইটা পড়ে দেখেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনের ওপর একটা সেরা বই আর রাহীকুল মাখলুম বইটি পড়ে দেখেন। তাকে প্রায় ১৫ বার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাকে প্রায় ১৬টা গালি খেতে হয়েছে সারা জীবনে। যার চরিত্রের মধ্যে জাররা পরিমান কোন অঙ্কিলতা নাই। তাকে মানুষ ষোলটা গালি দিয়েছে। মানুষ বলেছে এই ব্যক্তি জাদুকর সাহের নাউজুবিল্লাহ এই ব্যক্তি কাদ্দাব।কাদ্দাব মানে মহা মিথ্যাবাদী নাউজুবিল্লাহ। এ ব্যক্তি হচ্ছে সাহের জাদুকর। এ ব্যক্তি হচ্ছে মাজনুন পাগল। এগুলো মানুষ বলেছে আহেলিয়াত জাহিলিয়াতের মানুষ। এইযে আবু জাহেল আবু লাহাব যে কথাগুলো বলেছিল। আজকের এই বাক স্বাধীনতার যুগে এ কথাগুলো বলে না। এরা কার উত্তরসূরী বুঝতে পারছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন তোমরা শুধু বলো হে আমার চাচারা কুরাইশ বংশে যারা আছেন। আপনারা শুধু একবার বলেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আপনারা সফল হয়ে যাবেন আরব আজম উভয় রাজত্ব পাবেন নবীজি বলেছেন। তখন আবু লাহাব হাততালি দিয়ে বলেছেন এর জন্য আমাদেরকে একত্রিত করেছ। তখনই হাততালি দিয়ে পাথর নিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর নিক্ষেপ করেছে নাউজুবিল্লাহ। তখনই আল্লাহপাক আয়াত নাজিল করলেন৷ ( তাব্বাত ইয়াদা আবী লাহাবিওঁ ওয়া তাব্বা )। ধ্বংস হোক আবু লাহাবেন দুই হাত।যে হাতে দিয়ে সে পাথর নিক্ষেপ করেছে।ওয়া তাব্বা এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক। কিয়ামত পর্যন্ত কুরআন থাকবে না এই সূরাটা থাকবে না। তো কিয়ামত পর্যন্ত কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মানুষ আবুল হাফ কে গালি দিবে। কেয়ামত পর্যন্ত মানুষ আবু লাহাবকে কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে অভিশাপ করতে থাকবে যে তুমি ধ্বংস হও তোমার দুই হাত ধ্বংস হোক। এই হলো মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শান। তাকে কষ্ট দিচ্ছে মানুষ বলছে যে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার সন্তান জীবিত থাকে না পুত্র সন্তান জীবিত থাকে না।
কাউসার ও রাসূলের সুন্নাত অনুসরণ
তখন আল্লাহ রব্বুল আলামীন আয়াত নাজিল করলেন ( ইন্না আ'তাইনাকাল কাওসার )। নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউসার মহান মর্যাদা দিয়েছি। এটা শুধু হাউসে কাউসার নয় কিন্তু। হাউজে কাউসারসহ এই যে দুনিয়ার সম্মান তার নাম শুনলে আমরা দরুদ পরি। তার ইজ্জত তার শান শওকত। এগুলো কাউসার সবই কাওসার। নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউসার দিয়ে দিয়েছি। ( ফাসাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ানহার )। আপনি মন খারাপ করেন না। আপনি আপনার রবের জন্য সালাত আদায় করেন। তার পথে সেক্রিফাইস করেন। কোরবানি মানে কিন্তু শুধু পশু কুরবানী নয়। এখানে তার পথে আত্মত্যাগ করা। যেটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা জীবন করে গিয়েছে। ( ইন্ন শা'নিআকা হুওয়াল আবতার )। নিশ্চয়ই আপনার যারা শত্রু তারা সবাই নির্বংশ হয়ে যাবে। ওইযে আবু জাহেলের সুন্নত গুলো কিন্তু এখনো চালু আছে। দেখবেন সুযোগ পেলে মানুষ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র চরিত্র নিয়ে কথা বলা শুরু করে। তো যারা অজ্ঞ তাদের নিয়ে আমাদের আফসোস অতটা নয়। যতটা আমাদের এই মুসলিম যুবকদের নিয়ে আফসোস। মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করার পরেও আজ পর্যন্ত কেউ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী পড়ে দেখল না। আজ পর্যন্ত রাসুলের সুন্নত ফলো করার তৌফিক হলো না সুযোগ হলো না তার । পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার সময় হলো না। দাড়িটা ছাড়তে পারছেন না। টাখনুর উপরে কাপড় উঠাতে পারছেন না। হারাম রিজিক ছাড়তে পারছেন না। মাদক নেশা ছাড়তে পারছেন না। যেনা পর্ন ছাড়তে পারছেন না। অথচ আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মা। আপনার জন্য আমার জন্যই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেয়ামতের মাঠে সুপারিশ করবেন ইনশাল্লাহুতালা। সুপারিশ পেতে হলে তো যোগ্য হতে হবে তাই নয় কি সুপারিশ পেতে হলে তো যোগ্য হতে হবে। যোগ্যতা কি? এক কথায় উত্তর হচ্ছে আপনি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোতাবেক ২৪ ঘন্টা নিজেকে তার সুন্নত মোতাবেক ঢেলে সাজাবেন একদম । উঠবেন বসবেন খাবেন চলবেন কথা বলবেন নামাজ পড়বেন যত কাজ আছে সব নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকায় । যদি এটা শিখতে না পারেন ওই যে আল্লাহর রাস্তায় সময় দিচ্ছে ভাইরা তিন দিন সাত দিন ৪০ দিন যান চলে যান। যান দেখবেন আপনাকে ৪০ দিনের মধ্যে সুন্নত শিখে বাসায় পাঠায় দিবে ইনশাআল্লাহ । এমন কোন জামাত নাই যেখানে ১০০% পরিশুদ্ধ আছে। তো ওই বিতর্কিত বিষয়গুলো ছাড়েন। বিতর্কিত বিষয়গুলো আপাতত ছেড়ে দেন। সুন্নত টা তো শিখাবে আপনাকে। আপনাকে তো নামাজটা শিখাবে। জামাতে নামাজের পাবন্দি শিখাবে। হাদিস চর্চা শিখাবে। তালিম করা শিখাবে। দাওয়াত দেওয়া শিখাবে। এইটুকু শিখে চলে আসুন। কমপক্ষে আপনি আপনার ব্যক্তি জীবনের রাসূলের সুন্নাত প্রতিষ্ঠা করুন। সারা দুনিয়ার মানুষ সুদ খায় খাক। অর্থনৈতিক জীবনে গিয়ে আমি সুদ খাব না। প্রয়োজনে কৃষিকাজ করে খাবো। মাছ চাষ করে খাব। গরু ছাগল প্রতিপালন করে খাব তাও সুদ খাব না। আমি ব্যবসা করতে গিয়েছে ওখানেও নবী সুন্নত লাগবে। আমি মাপে কম দিতে পারবো না। সারা দুনিয়ার মানুষ মাপে কম দেয় দিক। সারা দুনিয়ার মানুষ মজুদ করে করুক আমি করবো না। সারা দুনিয়ার মানুষ ব্যবসায় কালোবাজারি করে করুক আমি করবো না। একজন মুসলিম যুবকের চরিত্র হবে এরকম।
চাকরি, কৃষি ও সমাজ সংস্কারে সুন্নাহ
চাকরি করতে গিয়েছেন। চাকরি করা অবস্থায় যদি দেখেন হ্যাঁ আপনি নীতি নৈতিকতা বজায় রেখে যদি চাকরি করতে পারছেন তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। যদি দেখেন এখানে আপনি ইসলাম নিয়ে টিকতে পাচ্ছেন না তাহলে রিজাইন দিয়ে চলে আসুন। এসে নিজস্ব প্রজেক্ট তৈরি করুন। অনেক মানুষকে আমরা দেখেছি যারা বড় বড় চাকরি ছেড়ে দিয়ে হারাম চাকরি ছেড়ে দিয়ে কৃষি কাজ করেছে। আল্লাহপাক তাদেরকে স্বাবলম্বী করেছে। রিজিক কার হাতে ভাই আল্লাহর হাতে। কুরআনে কিন্তু বেশি থেকে বেশি কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কথা বলা হয়েছে।কোরআন পড়ে দেখবেন বেশি থেকে বেশি কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কথা বলা হয়েছে। এবং ব্যবসার কথাও বলা হয়েছে। এর মানে এই না যে আপনি চাকরি করতে পারবেন না। পারবেন যদি আপনি চাকরি করা অবস্থায় কুরআন সুন্নাহ ফলো করতে পারবেন তাহলে আলহামদুলিল্লাহ চাকরি করতে পারবেন। যদি না পারেন প্রতিবন্ধকতা থাকে তাহলে একেবারে পাচ্ছেন না দেয়ালে পিট ঠেকে গেছে তাহলে ছেড়ে দেন। পরকালটা কে ইহকালের জন্য নষ্ট করেন না।আল্লাহপাক বোঝার তৌফিক দান করুন আমীন। এবার সমাজ চালাবেন এখানেও রাসূলের সুন্নাত এর প্রয়োজন আছে। মন গড়া সুন্নত দিয়ে সবার সংস্কার হবে না। রাসূলের সুন্নাত দিয়েই সমাজ সংস্কার হবে ইনশাল্লাহুতালা। দাওয়াতি কাজ করব সেখানে রাসুলের সুন্নত লাগবে। মনগড়া স্টাইলে দাওয়াতি কাজ করা যাবে না। যেটা বলব যেটা করবো যেটা মানুষের জন্য কল্যাণকর মনে হবে যেটা রাসুলের পক্ষ থেকে দলিল থাকতে হবে আল্লাহপাক বোঝার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। এবং এখানের শৈথলতা প্রদর্শন করা যাবেনা দাওয়াতি কাজের ক্ষেত্রে। গোল আলু মার্কা সব তরকারিতে চলে এমনটা হওয়া যাবে না। আবার খুব চরমপন্থী। মানে পাম থেকে চুন খসলে একজনকে খারেজি ফতোয়া দিয়ে একদম ভিতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে এসব চলবে না। মধ্যমপন্থী তরিকা লাগবে। আল্লাহপাক বলেছেন এভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী উম্মত করেছি। মধ্যমপন্থী উম্মত যারা সৈথলতা প্রদর্শন করবে না। আবার চরমপন্থীও হবে না। চরমপন্থীতে গিয়ে কি কোন লাভ হয়। চরমপন্থীতে উল্টা ইসলামের ক্ষতি হচ্ছে। আবার শৈথলতা বাদী ওই আকিদায় চলে গেলে সমস্যা। তখন দেখা যাবে হারাম হালাল সবঅনলাইন গুলাই ফেলছেন। তখন দেখা যাবে গোল আলু মার্কা কনসেপ্ট নিয়ে কবরে যাওয়া লাগতেছে। আল্লাহ পাক বোঝার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। এক কথায় প্রিয় ভাইয়েরা কিয়ামতের মাঠে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একমাত্র সত্তা যিনি পুরা উম্মার জন্য সুপারিশ করবেন ইনশাল্লাহুতালা। সেই সুপারিশ পাওয়ার যোগ্য হতে হলে। আমাদের চলনে বলনে কথাবার্তায় ব্যবসা-বাণিজ্যে রাসূলের সুন্নাহ অগ্রাধিকার দিতে হবে। অনেক আদর্শের কথা আমরা বলি। সবচেয়ে সেরা আদর্শ মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তার আদর্শের উপরে কোন আদর্শ নাই। অতএব এই আদর্শটাকে মনেপ্রাণে ধারণ করা লালন করা। মনে মননে ধারণ করে বাস্তবে ইমপ্লিমেন্ট করা আল্লাহপাক আমাদেরকে তৌফিক এনায়েত করুন আমীন।তো কিয়ামতের মাঠ সম্পর্কে অনেক ভয়াবহ চিত্র আছে। আজকে আমি সেটা বলার সুযোগ পাচ্ছিনা। এতোটুকুই বলবো এটা হচ্ছে ন্যায় বিচারের মাঠ। এখানে জাররা পরিমাণ বান্দার হক নষ্ট করে পার পাওয়া যাবে না। আল্লাহ পাকের সাথে জড়িত হাজারটা পাপ থাকলেও আল্লাহপাক মাফ করতে পারেন। কিন্তু বান্দার কাছে জড়িত হক থাকলে বান্দার কাছ থেকে ক্ষমা নিতে হবে। আর একটা আপনিও কবরে যাওয়া যাবে না। একটা পাপ সেটা কি? শিরকের পাপ।
জুমার দিন ও মাসহুদের কসম
শিরিকের পাপ নিয়ে কবরে যাওয়া যাবে না। বেঁচে থাকতে শিরিকের সাথে সম্পর্কিত যত আকীদা তওবা করতে হবে। ছাড়তে হবে। রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে শিরিক এবং কুফর থেকে হেফাজত করুন আল্লাহুম্মা আমিন। আল্লাহ পাক এর পরের আয়াতে বলছেন একটা চমৎকার ঘটনা আসবে সামনে ইনশাল্লাহুতালা মনোযোগ ধরে রাখেন। আল্লাহ পাক বলছেন আমি আল্লাহ কসম করছি শাহেদের এবং মাসহুদের। শাহেদ কি? তাফসীরের কিতাবে আসছে শাহেদ মানে হচ্ছে জুম্মার দিন। কোন দিন জুমার দিন। এই যে দেখেন জুমার দিন মুসলিমদের একটা কাজ কমুন সেটা হল গোশতের দোকানে দাঁড়িয়ে গরুর গোশত কেনা। সকাল সকাল দেখবেন জুমার দিনে হাজির কসাইয়ের দোকানে আজকে জুমার দিন গরু খাইতেই হবে। দেখবেন শহরে যতগুলো কসাইয়ের দোকান আছে সকাল সকাল হাজির গোস্ত খাইতে হবে। অথচ জুমার দিনটা এত ইম্পর্টেন্ট। এই দিনে দোয়া কবুল হয়। যে কোন দুয়া আল্লাহর কাছে চাইবেন কবুল হবে। এই দিনে সূরা কাহাফ পড়তে হয়। এই দিনে তাড়াতাড়ি মসজিদে আসতে হয়। গোসল করে সুগন্ধি মেখে সুন্দর কাপড় পড়ে ইমামের কাছা কাছি এসে বসতে হয়। তাহলে প্রত্যেক কদমে এক বছরের রোজা এক বছরের তাহাজ্জুদের নেকি হয়। তো জুমার দিন খুবই ইম্পরট্যান্ট। দেখবেন জুমার দিনে কি করে গরুর গোস্ত খাবে মুরগি তো খাওয়া যাবে না। সবজি খাওয়া যাবেনা ঠিক আছে। স্ত্রী সন্তান বউ-বাচ্চাকে নিয়ে সকাল সকাল বেরিয়ে চলে গেলাম। সারা বিকাল ঘুরতেছি রাত্রে ঘুরতেছি সন্ধ্যায় ঘুরতে এসেছি। ঐদিনটা দেখবেন গান বাজনা পার্টি বিয়ের অনুষ্ঠান জন্মদিন এই অরেন্টেশন অমুক তমুক সব জুমার দিনে। অথচ জুমার দিনটাকে আল্লাহপাক দিয়েছেন ওয়া শাহিদ মানে সাক্ষ্যদাতা। মানে জুমার দিন আপনাকে সাক্ষী দিবে। আপনি সেদিন কি করেছেন? জুমার দিনের কাজগুলো পড়ে নেবেন বই থেকে আল্লাহপাক তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। ওয়া মাসহুদ এবং মাসহুদের কসম করছি। মাসহুদ কি? মাসহুদ হচ্ছে আরাফাতের দিন। এখনকার তরুণ প্রজন্মকে দেখেন আরাফাতের দিন কোন দিন বলতে পারবেনা। জিজ্ঞাসা করেন পর্যায় সারণিতে মৌলের নাম হাইড্রোজেন থেকে শেষ পর্যন্ত একদমই বলে দিবে। পারমাণবিক ভর পারমানবিক সংখ্যা সব বলে দিবে। ফিজিক্সের প্রশ্নগুলো জিজ্ঞাসা করেন সব বলে দিবে।ওই যে হায়ার ম্যাথ আছে হায়ার ম্যাথের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন সব বলে দিবে। বায়োলজির যে কঠিন কঠিন বৈজ্ঞানিক নাম গুলো আছে না সব বলে দিবে। ব্যাঙের বৈজ্ঞানিক নাম ও মুখের তমুকের সব নাম বলে দিবে। যদি বলেন মাসহুদ কাকে বলে? ওয়া শাহিদী ওয়ামাসহুদ আয়াতটা শুনেছ কখনো শুনিনি বলবে শুনি নাই । এই হলো অবস্থা। শিখতে শিক্ষা সিস্টেমের এই হল অবস্থা। কেউ কি বলেছে ডাক্তার হওয়া যাবে না ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যাবে না বা জেনারেল লাইনে পড়া যাবে না এমনটা কি কেউ বলেছে। কুরআন সুন্নাহর জ্ঞানটা কি বিসর্জন দিয়ে। এই জ্ঞানটাকে বিসর্জন দিয়ে তোমাকে ডাক্তার হতে হবে। আমার তো মাঝে মাঝে মনে হয় এইসব সেকশনে এই সাইন্টিফিক পড়ালেখার পাশাপাশে মানবিক কিছু পড়াশোনা দেওয়া দরকার। আগে মানুষ বানানোর দরকার। কিভাবে পেশেন্টের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হয় শেখানো দরকার। কিভাবে একজন অসুস্থ মানুষের সাথে ভালো বিহেভ করতে হয় শিখানো দরকার। খালি কিভাবে ইনজেকশন পুশ করতে হয় কিভাবে ঔষধ দিতে হয় এটা শেখানো যথেষ্ট নয়। মানবতা শিখানো দরকার।
শিক্ষায় দ্বীনি জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধ
একটা ইঞ্জিনিয়ার কে শিখান যে চুরি করা হারাম এটা শিখান আগে। না হলে বড় হয়ে অনেক বড় ইঞ্জিনিয়ার হবে কিন্তু ভিতরে চুরি করছে। একটা মানবিক শিক্ষার দরকার আছে। বিহেভ হিউম্যান বিহেভিয়ার শিখাও দরকার। এই শিক্ষাগুলো কে দিবে? কুরআন দিবে হাদিস দিবে রাসূলের সুন্না দিবে। তখন গিয়ে তো সে পরিপূর্ণ মানুষ হবে। যাদের মধ্যে এই দুইটা শিক্ষা একত্রিত হবে। তখন দেখবেন তারা সোনার মানুষ হবে ইনশাল্লাহুতালা। তো এই দুইটা শিক্ষা কি আমরা অর্জন করতে পারি না। কেউ কি বলেছে জেনারেল লাইনের পড়া বাদ দিয়ে দাও। বাদ দিয়ে সবাই মৌলভী হয়ে যাও। সবাই যদি আলেম হয়ে যায় তাহলে ভাই সামরিক ক্ষেত্রে কে কাজ করবে। প্রশাসনে কে কাজ করবে। জনপ্রতিনিধি কে হবে। ইসলামী ব্যাংকিং সেকশন কে চালাবে। ঠিক আছে না সব সেকশনে মানুষের প্রয়োজন আছে না। তো সব সেকশনে মানুষের দরকার আছে। সে মানুষের আত্মাটাকে কুরআন সুন্নাহার আধ্যাত্মিকতা দিয়ে ঢেলে সাজাতে হবে। আল্লাহপাক তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। যদি অমুসলিম হয় অমুসলিম হওয়া সত্বেও সে যদি তার ধর্ম মেনে চলে তাহলে সেও কিন্তু ভালো মানুষ হবে দেখবেন। আসলে যারা এ বিশ্বে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে বেড়াচ্ছে এদের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নাই। যারা এ বিশ্বে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করছে তাদের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নাই। সে যদি সত্যি কারের অর্থে তার ধর্ম পালন করত তাহলে সে তার ধর্মের প্রতি অনুগত থাকতো। কোন ধর্ম কি বলেছে বিনা কারণে নিষ্পাপ মানুষকে হত্যা করো। কোন ধর্মকে বলেছে। একটা ধর্ম আমাকে দেখান যে বলেছে মিথ্যা কথা বল, হারাম খাও সুদ খাও বেপর্দায় চলো। নগ্ন হয়ে চলো একটা ধর্ম বলেছে। তাহলে প্রত্যেকটা ধর্মের মূল কথা কিন্তু মোটামুটি একই রকম। সবাই যদি সবার ধর্ম মেনে চলে কোন সমস্যা? এরপরে যদি পড়াশোনা করে দেখব যে ইসলামিক চূড়ান্ত ধর্ম এর মধ্যে সমস্ত বিষয়ের সমাধান আছে। তখন সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করবে এবং সাক্ষ্য দিবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। ইনশাল্লাহ মুসলিম হলে কালিমা পড়লে। একদিন না একদিন সে জান্নাতে যাবে ইনশাল্লাহুতালা। আলাপাক আমাদেরকে পরিপূর্ণ মুসলিম হওয়ার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। এই যে মাসহুদ বলছিলাম আরাফাতের দিন। আরাফাতের দিনের ফজিলত, এর যে তাৎপর্য, এবং এই দিনের মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটা বিদায় হজের ভাষণ আছে। এই তিনটা কসম।পুরো মহাবিশ্বের কসম। কিয়ামত দিবসের কসম। জুমা এবং আরাফাতের দিনের কসম। কসম গুলো কি বড় বড় না নাকি ছোট ছোট। বিশাল বিশাল কসম মানে বিশাল বিশাল কসম নিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এখন একটা বড় ঘটনা বলতে যাচ্ছে। বড় বড় কিছু কষ্ট আল্লাহপাক করলেন। মহাবিশ্বের কসম। বিশাল বিশাল নক্ষত্রের কসম। জুমার দিন বড়দিন আরাফাতের দিন এবং কিয়ামতের দিন একটা ভয়াবহ বিশাল দিন। এ সমস্ত বিশাল বিশাল বিষয়গুলোর কসম করে আল্লাহ পাক বলছেন আশহাবুল উখদুত ধ্বংস হয়েছে। কে এই আশহাবুল উখদুত।সামনে যাই মজার একটা ঘটনা আসবে। যখন আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল। আসহাবুল উখদূত ধ্বংস হয়ে গেছে যখন আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল। এবং এই আশহাবুল উখদুত এর লোকেরা আগুনের কুন্ডলির চারপাশে বসে ছিল।
আসহাবুল উখদুদের ঘটনা শুরু
একটা ইঞ্জিনিয়ার কে শিখান যে চুরি করা হারাম এটা শিখান আগে। না হলে বড় হয়ে অনেক বড় ইঞ্জিনিয়ার হবে কিন্তু ভিতরে চুরি করছে। একটা মানবিক শিক্ষার দরকার আছে। বিহেভ হিউম্যান বিহেভিয়ার শিখাও দরকার। এই শিক্ষাগুলো কে দিবে? কুরআন দিবে হাদিস দিবে রাসূলের সুন্না দিবে। তখন গিয়ে তো সে পরিপূর্ণ মানুষ হবে। যাদের মধ্যে এই দুইটা শিক্ষা একত্রিত হবে। তখন দেখবেন তারা সোনার মানুষ হবে ইনশাল্লাহুতালা। তো এই দুইটা শিক্ষা কি আমরা অর্জন করতে পারি না। কেউ কি বলেছে জেনারেল লাইনের পড়া বাদ দিয়ে দাও। বাদ দিয়ে সবাই মৌলভী হয়ে যাও। সবাই যদি আলেম হয়ে যায় তাহলে ভাই সামরিক ক্ষেত্রে কে কাজ করবে। প্রশাসনে কে কাজ করবে। জনপ্রতিনিধি কে হবে। ইসলামী ব্যাংকিং সেকশন কে চালাবে। ঠিক আছে না সব সেকশনে মানুষের প্রয়োজন আছে না। তো সব সেকশনে মানুষের দরকার আছে। সে মানুষের আত্মাটাকে কুরআন সুন্নাহার আধ্যাত্মিকতা দিয়ে ঢেলে সাজাতে হবে। আল্লাহপাক তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। যদি অমুসলিম হয় অমুসলিম হওয়া সত্বেও সে যদি তার ধর্ম মেনে চলে তাহলে সেও কিন্তু ভালো মানুষ হবে দেখবেন। আসলে যারা এ বিশ্বে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে বেড়াচ্ছে এদের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নাই। যারা এ বিশ্বে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করছে তাদের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নাই। সে যদি সত্যি কারের অর্থে তার ধর্ম পালন করত তাহলে সে তার ধর্মের প্রতি অনুগত থাকতো। কোন ধর্ম কি বলেছে বিনা কারণে নিষ্পাপ মানুষকে হত্যা করো। কোন ধর্মকে বলেছে। একটা ধর্ম আমাকে দেখান যে বলেছে মিথ্যা কথা বল, হারাম খাও সুদ খাও বেপর্দায় চলো। নগ্ন হয়ে চলো একটা ধর্ম বলেছে। তাহলে প্রত্যেকটা ধর্মের মূল কথা কিন্তু মোটামুটি একই রকম। সবাই যদি সবার ধর্ম মেনে চলে কোন সমস্যা? এরপরে যদি পড়াশোনা করে দেখব যে ইসলামিক চূড়ান্ত ধর্ম এর মধ্যে সমস্ত বিষয়ের সমাধান আছে। তখন সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করবে এবং সাক্ষ্য দিবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। ইনশাল্লাহ মুসলিম হলে কালিমা পড়লে। একদিন না একদিন সে জান্নাতে যাবে ইনশাল্লাহুতালা। আলাপাক আমাদেরকে পরিপূর্ণ মুসলিম হওয়ার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। এই যে মাসহুদ বলছিলাম আরাফাতের দিন। আরাফাতের দিনের ফজিলত, এর যে তাৎপর্য, এবং এই দিনের মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটা বিদায় হজের ভাষণ আছে। এই তিনটা কসম।পুরো মহাবিশ্বের কসম। কিয়ামত দিবসের কসম। জুমা এবং আরাফাতের দিনের কসম। কসম গুলো কি বড় বড় না নাকি ছোট ছোট। বিশাল বিশাল কসম মানে বিশাল বিশাল কসম নিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এখন একটা বড় ঘটনা বলতে যাচ্ছে। বড় বড় কিছু কষ্ট আল্লাহপাক করলেন। মহাবিশ্বের কসম। বিশাল বিশাল নক্ষত্রের কসম। জুমার দিন বড়দিন আরাফাতের দিন এবং কিয়ামতের দিন একটা ভয়াবহ বিশাল দিন। এ সমস্ত বিশাল বিশাল বিষয়গুলোর কসম করে আল্লাহ পাক বলছেন আশহাবুল উখদুত ধ্বংস হয়েছে। কে এই আশহাবুল উখদুত।সামনে যাই মজার একটা ঘটনা আসবে। যখন আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল। আসহাবুল উখদূত ধ্বংস হয়ে গেছে যখন আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল। এবং এই আশহাবুল উখদুত এর লোকেরা আগুনের কুন্ডলির চারপাশে বসে ছিল।
জাদুকর, পাদ্রী ও ঈমানের পরীক্ষা
মনে করেন এখানে বিশাল একটা আগুন জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে এখানে দাউ দাউ করে জ্বলছে। কিছু মানুষ তার চারপাশে বড় বড় কুরসিতে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে মজা উপভোগ করছে। এই হল আশহাবুল উখদুত।এদেরকে আল্লাহপাক বলছেন এরা ধ্বংস হোক। কুতিলা আশহাবুল উখদুত।তারা বসে বসে কি করছিল? তারা বসে বসে দেখছিল মুমিন মুসলিমদের সাথে কি নির্যাতন করা হচ্ছিল । মমিন মুসলিমদের সাথে ওই আগুনের মধ্যে যা নির্যাতন করা হচ্ছিল। ওরা চারপাশে বসে বসে এটা অবলক্ষণ করছিল দেখছিল হাসছিল এবং মজা নিচ্ছিল। এই আশহাবুল উখদুতরা ধ্বংস হোক। আল্লাহপাক বলছেন ওই মমিনদের কোন দোষ ছিল না। যেই মুমিনদেরকে ঐ অগ্নিকুণ্ডে পুড়িয়ে মারা হচ্ছিল। এবং চারপাশে কিছু মানুষ জড়ো হয়ে দেখছিল মজা নিচ্ছিল। আশহাবুল উখদুত ওই মমিনদের কোন দোষ ছিল না শুধু একটা অপরাধ ছিল তাদের দৃষ্টিতে । কি সেটা?সেই মুমিনরা এক আল্লাহর ওপরে ঈমান এনেছিল। এই মুমিন ছাড়া তাদের আর কোন দোষ ছিল না। এবার চলে আসেন এখানে কিভাবে আসলাম। বহুদিন আগের কথা। কত বছর আমরা জানিনা। একজন প্রতাপশালী বাদশা ছিল। এখনকার বিশ্ব নেতাদের মতোই করা শক্তি। ওই যে আশরাফুল কাহাফের মত বা নমরুদের মত ওই যে ফেরাউন তার মত। একজন প্রতাপশালী বাদশা ছিল। তার অধীনে একজন বড় জাদুকর ছিল। মজা আছে গল্পটি ভালো করে বুঝেন। একজন বড় জাদুকর ছিল।। পুরো কিন্তু বহু কান্ট্রি এই যাদুবিদ্যার চর্চা করে আপনারা কিন্তু জানেন না। ভিতরে ভিতরে জাদু বিদ্যার চর্চা এখনো চলছে। আর এই জাদু সত্য। চোখের বদ নজরও সত্য। সাইন্স বিশ্বাস করুক আর না করুক এগুলো সত্য। কারণ কুরআন বলেছে সত্য ব্যাস সত্য। জিন সত্য না মিথ্যা সত্য। ফেরেশতা সত্য না মিথ্যা। সত্য। কবরের আজাব সত্য না মিথ্যা। সত্য। এগুলো তো চোখে দেখা যায় না বিশ্বাস করলেন কিভাবে? এই যে চোখে দেখা যায় না এবং আপনি বিশ্বাস করেছেন এর জন্যই তো আপনি মৌলবাদী। চোখে দেখা যায় না অহেতুক বিশ্বাস করছেন। অতএব আপনি একজন মৌলবাদী মানুষ বুঝতে পেরেছেন। এই বিষয়গুলো যদি আপনি বিশ্বাস না করেন তাহলে কি আপনি মুমিন হতে পারবেন। কবরের আজাব সত্য নাকি মিথ্যা আমরা বিশ্বাস করেছি তোমরা মরার পরে বিশ্বাস করো। তারপরে তোমরা পাক্কা মৌলবাদী হয়ে যাবে। মরার পরে যখন কঠিন কবরের আজাব শুরু হবে তখন দেখবা যে ইয়াকিন কত প্রকার হয়। একটা আছে আয়নাল ইয়াকিন আরেকটা হচ্ছে হাক্কুল ইয়াকিন এগুলো আছে কোরআন মাজিদে। আয়নাল ইয়াকিন মানে হচ্ছে চোখে দেখলাম তার পরে বিশ্বাস করলাম। আলিফ লাম মিম সুরাতে আছে না। আল্লাহর সামনে জাহান্নামিরা বলবেন হে আমার রব। তোমার আজাব দেখেছি আমরা এখন। পরকালের কথা। শুনতে পাচ্ছি এখন আমরা আজাব। আমাদেরকে ফিরিয়ে দিন। কোথায় ফিরিয়ে দিবে?দুনিয়ায়। আমরা সৎ কাজ করব। আমাদের একিন হয়ে গেছে এখন। তারমানে সবাই বিশ্বাস করবে একদিন না একদিন তাইতো। ঈসা আলাইহিস সাল্লামকে যে মানুষ বলছে ক্রুসি ফাইট করা হয়েছে। তিনি মারা গেছেন নাউজুবিল্লাহ। ঈসা আলাইহিস সাল্লাম যখন নেমে আসবেন সবাই বিশ্বাস করবেন না।
বালকের দোয়া ও আল্লাহর সাহায্য
সূরা মায়েদা এজন্য বলা হয়েছে যে ঈসা আলাইহিস সাল্লাম কে যখন পাঠানো হবে। একজন আহেলা কেতাব বাকি থাকবে না যে তার প্রতি ঈমান আনবে না। ঈসা আলাইহিস সাল্লামকে ক্রুশী ফ্রেকশন করা হয়নি। ঈসা আলাইহিস সাল্লামকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন। যে আল্লাহ পুরা মহাবিশ্ব চালাতে পারেন। সে একজন মানুষকে উঠাতেই পারেন। এটা এমন কি বিষয়।যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনার দেহের মধ্যে রূহ রেখে দিয়েছেন। একটা হুকুমে রুহুটা বের হয়ে চলে যাবে। সে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মেরাজে উঠিও নিতে পারেন। এটা অবিশ্বাস করার কি আছে। আসুন সামনে যাই। এখানে যে বিষয়টা বহুদিন আগে এই রকম প্রতাপশালী বাদশার অধীনে একজন জাদুঘর ছিল। এই জাদুকর যখন বুড়ো হয়ে গেল। তখন সে ওই বাদশাকে বলছে যে আমার তো বয়স শেষ। আমার এই বিশাল জ্ঞানগুলো কি করব? আমাকে একজন বালক এনে দিন। যে বালককে আমি আমার এই সব জাদু বিদ্যা শিখিয়ে দিব। ছোট বাচ্চাদের মধ্যে একজন। এরকম একজন ফুটফুটে সুন্দর বাচ্চাকে খুজে বের করা হলো। যেই বাচ্চাটা বিচক্ষণ। এ কে নিয়ে আসা হলো জাদুঘরের কাছে। এবার জাদুকর তাকে জ্ঞান শিখায় জাদু শিখায়। জাদু শিখাতে শিখাতে শিখাতে শিখাতে একটু পরিণত হচ্ছে। মানে কৈশোরে পদার্পণ করেছে। এখন সে যখন জাদু শিখতে আসে তখন রাস্তায় দেখে একজন পাদ্রী আছে। পাদ্রী মানে কি? পাদ্রী মানে দরবেশ। যে আল্লাহ বিশ্বাস করে হয়তো আগেকার আসমানী কিতাবে সে বিশ্বাস করতো। এমন একজন পাদ্রীর সন্ধান সে পায়। সে সেই পাদ্রির কাছে গিয়ে বসে এবং সে পাদ্রী তাকে আসমানী কিতাবের যেই মর্ম বা বানি সেগুলো তাকে শোনায়। তার কাছে খুব ভালো লাগে। যে মাশাল্লাহ এটা ঈমানের স্বাদ। কোরআন শুনি যখন আমাদের ভালো লাগেনা। আসমানী কিতাব যখন শুনে তার কাছে ভালো লাগে। সে বলে আমিও শিখতে চাই। তখন সেই পাদ্রী বলে তুমি তো জাদু শিখতে যাও। এই বাদশার জাদুকরের কাছে। তারা যদি জানতে পারে তাহলে তো সমস্যা। তাহলে উপায় কি? যখন তুমি ওখানে যাবে এবং যখন দেরি হয়ে যাবে তখন তাদেরকে বলবে যে বাসা থেকে বের হতে দেরি হয়ে গিয়েছে। বাসা থেকে বের হতে দেরি হয়েছে। আমার এখান থেকে বসে যখন বাসায় যাবে তখন বলবে যে ওখান থেকে মানে জাদুগরের ওখান থেকে যেতে দেরি হয়ে গিয়েছে। মানে কৌশল অবলম্বন করতে তাকে শিক্ষা দিয়েছে। কৌশলের প্রয়োজন আছে না। হিকমার দরকার আছে না। সত্য থেকে সরে গিয়ে নয় কিন্তু কৌশলের তো দরকার আছে। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে হিজরত করেছিলেন মক্কা থেকে মদিনায় চলে গিয়েছিলেন সবাইকে জানান দিয়েছিলেন? এই শোনো আমি হিজরত করছি। জানান দিয়েছিলেন। রাতের বেলায় বের হয়েছিলেন কৌশল। এবং তাকে মারার জন্য চারপাশ থেকে লোক ঘিরে রেখেছিল। এর মধ্য থেকে আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাকে বের করে নিয়ে গিয়েছিল। তোমরা তো কৌশলী বুঝনা দ্বীনের কাজে। কাজ হবে ১% আর আই ওয়াশ হবে 99 শতাংশ এখন এই যুগ। দ্বীনের কাজ হবে ১% আর আই ওয়াশ শোডাউন হবে বেশি বেশি। এই সো ডাউন করতে করতে মানুষের চোখ লাগে। যত চোখ লাগে তত সমস্যা সৃষ্টি হয়। আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে দ্বীনের দায়রা মাইনাস হতে থাকে। এই বিষয়টার পিছনে তোমরাও দায়ী। কারণ তোমরা কৌশল বোঝনা। স্মার্ট এবং বিচক্ষণ মুসলিমদের বড় অভাব আছে এখন পৃথিবীতে। যতক্ষণ পর্যন্ত বিচক্ষণতা অর্জিত হচ্ছে না ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলামের বিজয়ী হচ্ছে না।
বালকের তীর ও এলাকার মানুষের ঈমান
এবার সে আল্লাহর প্রতি ঈমান নিয়ে আসলো এবং সে ভালো হয়ে গেল। এ ভালো হয়ে যাওয়ার পরের দিন যখন সে আবার পার্লামেন্টে গেল। তাদের তৎকালীন রাজদরবারে। রাজা তাকে দেখে বলছে তোমার তো চোখ অন্ধ ছিল। কিভাবে তুমি শিফা লাভ করলে। তখন সে বলে না কিভাবে সে শিফা লাভ করল। কারণ সে আচ করছে যে বললেই সমস্যা হবে। এক পর্যায়ে তাকে খুবই পিটুনি দেওয়া হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে গিয়ে কঠিন মাইর দেওয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে মারের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বলে ফেলল যে ওই বাচ্চা তার কাছে গিয়ে আমি শিফা লাব করেছি। এবং সে বলেছে যে তার রবের প্রতি ঈমান নিয়ে আসতে তাহলে আমি শিফা লাভ করব। এ বাদশা টি ফেরাউনের মতো বলছে এখন আমি তো তোমাদের রব।নমরুদের মত আমি তো তোমাদের রব আমি ছাড়া তোমাদের আর কে আছে ।আমি তো জানি না আমাকে ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ আছে। এবারে লোকটিকে হত্যা করা হলো। এই এমপি সাহেবকে হত্যা করা হলো। কারণ সে ঈমান নিয়ে এসেছে। এবার সে বালককে ডেকে নিয়ে আসা হলো এবং বলল বল তুমি নাকি তোমার রবের নাম নিয়ে মানুষকে ট্রিটমেন্ট করা শুরু করেছো। তখন সে বালক বললো হ্যাঁ আমি এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করি। রাসূলের প্রতি বিশ্বাস করি তার প্রেরিত আসমানি কিতাবের প্রতি বিশ্বাস করি। এখন রাজা বলছে আমি ছাড়া যে তোমাদের কোন ইলাহ আছে তা তো আমি জানি না। রাজা বলল এই সৈন্যবাহিনী শোনো এ বালককে ধরো ধরে নিয়ে একটা উঁচু পাহাড় থেকে ফেলে দাও। তারপর তাকে নিয়ে যাওয়া হল। ক্রসফায়ার দেওয়া হবে তাকে এবার। উপরে নেওয়া হয়েছে একদম পাহাড়ের উপরে। এবার বালকটি পাহাড়ে উপরে উঠে একটি দোয়া করেছে। সে বালক পাহাড়ে উঠে দোয়া করছে। পাহাড় থরথর করে কাঁপা শুরু করল। এবং ওই সৈন্যবাহিনী পাহাড় থেকে পড়ে গেল। বালকের কিচ্ছু হলো না। আমি কিন্তু বানোয়াট কোন গল্প বলছি না। এটা কোরআন থেকে বলছি এবং আপনি যে কোন তাফসীর পড়েন। এবং যেকোনো তাফসীর পড়েন মারেফুল কোরআন। জাস্ট পড়ে দেখেন। এবার সে বালক হেঁটে হেঁটে চলে আসলো সেই রাজদরবারে আবার। কি ব্যাপার তুমি মরো নাই। না আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়েছেন আমার রব আমাকে বাঁচিয়েছেন। আবার পাঠানো হচ্ছে। আরেকদল সেনাবাহিনীকে দিয়ে। যাও এবার ওকে সমুদ্রে নিয়ে যাও। সমুদ্রের মাছ সমুদ্রে ডুবিয়ে দিবে একদম। আবার সেখানে গিয়ে বালক বললো হে আল্লাহ আমার বিপক্ষে যারা আছে আপনি যা দিয়ে ইচ্ছা ওদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করেন। অর্থটা হচ্ছে এমন আল্লাহ আপনি আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। ওদের বিরুদ্ধে আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। যা ইচ্ছা তাই দিয়ে আমাকে হেফাজত করুন। ছোট্ট দোয়া। এবার সেই সমুদ্র উত্তল হওয়া শুরু করল। এবং ওরা জাহাজ থেকে পড়ে গেল। বালকটি সেফলি আবার চলে আসলো রাজ দরবারে। বিশ্বাস করছেন না। রাজদরবারে এসে বলল বালকটি। আমাকে এভাবে মারতে পারবেন না। আমাকে এইভাবে মারা যাবে না। আমি আপনাদেরকে বলে দিচ্ছি কিভাবে আমাকে মারতে হবে। তো বাদশা বলছে কিভাবে মারতে হবে বলো। এখন সে বালকটি বলছে আপনি সমস্ত এলাকার মানুষকে এক জায়গায় জড়ো করেন।
কাফিরদের শাস্তি ও আবু তালিবের প্রসঙ্গ
মানে পুরো নেশনে যত মানুষ সবাইকে একটা মাঠে নিয়ে আসবেন। মাঠের মাঝখানে একটা গাছ রোপন করবেন বা একটা স্তম্ভ নির্মাণ করবেন। ওখানে আমাকে বেঁধে ফেলবেন। বেঁধে ফেলার পরে আমার এই ধনুক থেকে একটা তীর বের করবেন। তীর বের করে আপনি নিজ হাতে এই তীরটা কে নিশানা দিবেন আর বলবেন বিসমিল্লাহ আল্লাহর নামে। বিসমিল্লাহ আল্লাহর নামে। বিসমিল্লাহির রব্বি হাদাল গোলাম। বলে তীর ছড়বেন । আচ্ছা আমি এই বাচ্চার রব আমি এই বাচ্চার রব আল্লার নামে তীর শুনলাম। এটা বলে তীরটা নিক্ষেপ করবেন তাহলে আমি মরবো। তার আগে আমি মরবো না। কথা কি বুঝাতে পারছি। এখন তাই করা হলো। সমস্ত এলাকার মানুষকে এখানে জড়ো করা হলো। সমস্ত এলাকার মানুষ মানে কি ওই এলাকার সব মানুষ। মানে মমিন কাফের যে আছে সব মানুষকে একত্রিত করা হলো । করার পরে বাচ্চাটাকে একটা জায়গায় বেঁধে দেওয়া হয়েছে খেজুর গাছে। তাফসীরে এসেছে খেজুর গাছে বাধা হয়েছিল। ওখান থেকে বাচ্চা তীর বের করে বাদশা বে বলল বিসমিল্লাহির রাব্বি হাদাল গোলাম। একটা নিক্ষেপ করলো তীর ঠিক আল্লাহ পাকের দৃষ্টি দেখেন এত সূক্ষ্ম ওইটাই বর্ণনা করেছেন তীর টা ঠিক বাচ্চার কপালে লেগেছে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বের হয়ে গিয়েছে। বাচ্চাটার কপালে তীরটা এইপার থেকে ওপারে চলে গেল এবং বাচ্চাটার সাথে সাথে শহীদ হয়ে গেল আলহামদুলিল্লাহ । এবং এই বাচ্চাটা যখন মারা গেল। সারা এলাকার মানুষ কি দেখল? দেখল বাচ্চা দুই দুই বার বাচ্চাটাকে মারার চেষ্টা করেছে কিন্তু মারতে পারে নি। কিন্তু তার রবের নাম যখন নেওয়া হয়েছে আল্লার নাম যখন নিয়েছে তখন মারতে পেরেছে। তারপরে সমস্ত এলাকার মানুষ মুসলিম হয়ে গেল আলহামদুলিল্লাহ।। একজন বাচ্চার জীবনের বিনিময়ে সমস্ত এলাকার মানুষ ইসলামের হেদায়েত পেয়ে গেল আলহামদুলিল্লাহ। এবার বাদশার মাথা তো আরো খারাপ। একটাকেই সামলাতে পারছিলাম না এখন তো সমস্ত এলাকার মানুষ ও মুসলিম হয়ে গেছে। এখন কি করবেন? এখন সেনাবাহিনীতে আদেশ করা হয়েছে সমস্ত মানুষগুলোকে জড়ো কর। সবাইকে জড়ো করে একটা গর্ত খোল কত খুরে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে সমস্ত মানুষকে সেখানে ফেলে দাও। দৃশ্যটা কি কল্পনা করতে পারছেন। একটা পুরো এলাকার মানুষকে একটা মাঠের মধ্যে একত্রিত করে। সেখানে আগুন জ্বালিয়ে সবাইকে সেখানে ফেলে দেওয়া হলো। এবং তারা চতুর্থ দিক থেকে সেটাকে অবলোকন করতে লাগলো মজা উপভোগ করতে লাগলো। এটাই আল্লাহপাক বলছেন। তাফসীর এসেছে শেষ পর্যায়ে একটা মায়ের কোলে ছোট্ট বাচ্চা ছিল সেই মা নিজে লাভ দিবে।এটাতে তার কোন সমস্যা নেই কিন্তু বাচ্চাকে নিয়ে লাফ দিতে সেই ইতস্ততাবোধ করছে। তখন আল্লাহ রব্বুল আলামীন সেই বাচ্চার জবানে মধ্যে আল্লাহর কুদরত নিদর্শন নাজিল করলেন সেই বাচ্চাটি কথা বলা শুরু করলো। সেই বাচ্চাটি বলল হে আমার মা তুমি ভয় করোনা। কারণ আপনি সত্যের ওপরে আছেন আপনি লাফ দিন। যারাই সেই অগ্নিকাণ্ডে লাফ দিয়েছে তারাই জান্নাতের স্বাদ পেয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। এই হলো আশহাবুল উখতুতের ঘটনা। সেটা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা বুরুজের মধ্যে বলেছেন। এখানে একটাই শিক্ষানীয় বিষয়। ঈমানের শক্তি একজন ছোট্ট বালকের মধ্য দিয়ে কিভাবে আল্লাহ রব্বুল আলামীন পুরো নেশন কে হেদায়েত দান করতে পারেন। এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সমস্ত পরিকল্পনার উপরে মহা পরিকল্পনাকারী।
part 12; এবং আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাদের কে চিরস্মরণী করে রেখেছেন কোরআনের পাতায় । কেয়ামত পর্যন্ত মানুষ এই ঘটনা পড়বে। তাদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে। তাহলে আল্লাহ রব্বুল আলামিন সবচেয়ে বেশি স্মার্ট নাকি আমরা সবচেয়ে বেশি স্মার্ট। এরপরে আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলছেন তারা ঈমান আনা ছাড়া অন্য কোন অপরাধ করেন নাই। এ মুমিন যারা ছিল তারা যে আগুনে লাফ দিয়েছিল তাদেরকে কোন অপরাধ ছিল? এদের কোন অপরাধ ছিল? কি অপরাধ ছিল? তারা শুধুমাত্র কি ছিল? মুমিন ছিল। ইমান আনার ফলে তাদের এই পরিণত হয়েছে। তারা অগ্নিকুণ্ডে লাফ দিতে বাধ্য হয়েছে। যারা অগ্নিকুণ্ড লাফ দিয়েছে তারা জান্নাতি নাকি জাহান্নামি। জান্নাতি।ওই যে বালক যে একা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেল। এবং পুরো নেশন কে হেদায়েত দিয়ে গেল। এই বালক সফল নাকি ব্যর্থ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যদি চান এরকম একজন দুজন মানুষকে দিয়ে পুরা নেশন কে হেদায়েত দিতে পারেন। এবং যেটা হয়ে গেছে আগে সেটা এই যুগেও সম্ভব। শুধু সম্ভব না এটা আপনাদের চোখের সামনে হয়েছে সেটা আপনারা বুঝতে পারেন নাই।আপনাদের চোখের সামনে যুগের পর যুগ এমন ঘটনা ঘটেছে আপনারা বুঝতে পারেন নাই ধরতে পারেন নাই। আল্লাহ পাক এমন মানুষদেরকে দিয়ে পুরো নেশনকে হেদায়েত করেন। কিছু মানুষকে আল্লাহপাক পরীক্ষায় ফেলেন। তাদের মধ্য দিয়ে আল্লাহ পাক পুরো নেশনকে হেদায়েত করতে পারেন সুবহানাল্লাহ। আশহাবুল উখদুতের এই বাচ্চার মধ্যে আমাদের সবার জন্য নিদর্শন আছে। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে প্রকৃত ঈমানদার হওয়া তৌফিক এনায়েত করুন। বেশি বেশি আমলে চলে করার তৌফিক এনায়েত করুন। ঈমানের ওপর দৃঢ় থাকা তৌফিক এনায়েত করুন। এবং দৃষ্টান্ত স্থাপন করার তৌফিক এনায়েত করুন আমিন। এবং যেকোনো রকম দৃশ্য অদৃশ্য বিপদ আপদ বালাম মুসিবতের বিপক্ষে আল্লাহ যেন যথেষ্ট হয়ে যান আমিন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরপরে যেটা বলেছেন যারা মুমিনদের সাথে এমন নির্যাতন করলো। কি করলো? আগুনে পুড়িয়ে জীবন্ত মেরে ফেলল। যারা মুমিনদের সাথে এমন দৃষ্টান্ত নির্যাতন করলো জুলুম করলো ফেতনায় ফেলল এবং তওবা করে ফিরেও আসলো না। আল্লাহ পাক বলছেন নিশ্চয়ই তাদের জন্য যন্ত্রণামূলক শাস্তি আছে জাহান্নামে। এবং তাদের জন্য মর্মান্তিক শাস্তি অপেক্ষা করছে। কাদের জন্য? যারা মুমিনদেরকে ফিতনায় ফেলেছে কষ্ট দিয়েছে জুলুম করেছে নিপিরন করেছে নির্যাতন করেছে।তারপরে আল্লাহ পাক বলছেন যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গেল যাদেরকে আশহাবুল উখদূতরা ফেলে দিল গর্তে । যারা আগুনে লাফ দিল অগ্নিপরীক্ষা দিল।তারা সফল হয়েছে। এরা জান্নাতে যাবে যার তলদেশ দিয়ে নহর সমূহ প্রবাহিত হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ। আর এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় সাফল্য। এটাই হচ্ছে সাফল্যের চূড়ান্ত সংজ্ঞা।দুনিয়াতে আপনি কতটুকু খাচ্ছেন পড়ছেন কতটুকু ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন কতটুকু স্ট্যাটাস এর মালিক এটা বড় কথা না। আমি আপনি দিনশেষে জান্নাতে যেতে পারবো কিনা এটাই বড় কথা। যদি আমরা জান্নাতে যেতে পারি তাহলে ইনশাল্লাহ আমরা সফল। আর আমরা যদি জান্নাতে যেতে ব্যর্থ হই তাহলে আল্লাহ না করুক তাহলে আমাদের চাইতে ব্যর্থ এই দুনিয়াতে আর কেউ নাই। আল্লাহ পাক তৌফিক এনায়েত করুন আমীন।
আল্লাহর ক্ষমা, রহমত ও আরশ-কুরসি
আল্লাহ পাক এর পরে বলছেন জেনে রাখো যারা আল্লাহর বিরোধিতা করবে তার নবীর তার আসমানী কিতাবে বিরোধিতা করবে। এবং তার দ্বীনের বিরোধিতা করবে। তাদের জন্য আল্লাহপাকের শাস্তি আছে আর এই শাস্তিটা খুবই কঠিন। আল্লাহ পাকের শাস্তি খুবই কঠিন। আমরা একটা কনসেপ্ট লালন করি মাথায় যে আল্লাহ গফুরুর রহিম আর রাহমানুর রাহিম। একই সাথে আল্লাহ পাক সাদিদুল ইয়াকব ও বটে।আল্লাহ পাক একই সাথে কিন্তু কঠিন শাস্তিদাতাও। আল্লাহপাক ছাড় দিচ্ছেন আমাদেরকে কিন্তু ছেড়ে দিবেন না। তোমরা যারা এখন নামাজ পড়ছো না সওম রাখছো না হারাম কাজে লিপ্ত আছো এবং হারাম খাচ্ছ। এবং জেনা পর্ন মাদকে লিপ্ত আছো।অহেতুক সময় নষ্ট করছো। দ্বীনের কোন ফিকিন নাই আল্লাহ পাক কিন্তু সবকিছু দেখছেন। আল্লাহ পাক কিন্তু সব কিছু শুনছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সুযোগ দিচ্ছেন সময় দিচ্ছেন তাই বলে কিন্তু আল্লাহপাক ছেড়ে দিবেন না কাউকে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কিন্তু পুঙ্খানুপুঙ্খম হিসাব নিবেন এটাই বলছেন। আল্লাহ পাকের শাস্তি কিন্তু বড়ই কঠিন। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে তার শাস্তি থেকে হেফাজত করুন আল্লাহুম্মা আমীন । একটা এক্সাম্পল দিচ্ছি জাস্ট আবু তালেব নাম শুনেছেন। কে ছিলেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা। দীর্ঘ দিন বছরের পর বছর তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাপোর্ট করেছেন। যদিও তিনি মুসলিম হননি কিন্তু সাপোর্ট করেছেন।ফাইনান্সিয়াল সাপোর্ট সোশ্যাল সাপোর্ট। একটা সাপোর্ট দিয়েছেন কিন্তু শেষ মেষ তিনি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ পড়তে পারেননি। মমিন মুসলিম হতে পারেননি। কিন্তু নবীকে এমন ভাবে সাপোর্ট দিয়েছেন যা আরবের কেউ দেননি তাকে। তাহলে এই ব্যক্তি কি পাবে পরকালে। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করছেন আপনার চাচার কি হবে পরকালে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমার চাচা আমাকে অনেক অনেক খেদমত করেছে অনেক উপকার করেছে দ্বীনের জন্য। কিন্তু ঈমান নিয়ে আসে নাই। যদি সে ঈমান নিয়ে আসতো তাহলে আমি তার জন্য সুপারিশ করতাম আল্লাহর কাছে। তিনি চাচাকে বলেছিল শুধু একবার বলেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আমি আপনার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করব ইনশাআল্লাহ। তিনি ঈমান আনেন নি। এর জন্য জাহান্নামের সবচেয়ে নিম্নতম শাস্তি তাকে দেওয়া হবে। সেটা কি তাকে আগুনের একজোড়া জুতা তাকে পরিয়ে দেওয়া হবে। এই আগুনের এক জোড়া জুতাতেই তার মাথার যে মগজ নাউজুবিল্লাহ সেই মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে। কিভাবে বুঝাবো? এটা হল আবু তোয়ালেবের ব্যাপারে।তাহলে যারা এখন প্রকাশে ইসলামের এগেনস্টে কথা বলছে কাজ করছে। সুন্নতের খেলাফে কাজ করছি আমরা যারা নামাজ পড়ছি না সুদ খাচ্ছি ঘুষ খাচ্ছি দুর্নীতি করছি আমাদের কি হবে? জাস্ট নিজের ফিকির করেন। ডান বাম সব ভুলে যান নিজের কবরের ফিকির করেন। যে আপনি আমি কবরে গেলে কি করব এই ফিকির করেন। দেখবেন নিজে ভালো হলে সব ভালো হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। নিজে ভালো হবো না কিছুই ভালো হবে না। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচান আমিন।
সূরার সারসংক্ষেপ
আল্লাহপাক আযাবের কথা বলছেন সাথে এটাও বলেছেন। আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তিদাতা বটে কিন্তু আল্লাহপাক সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তার দিকে সবকিছু ফিরে আসবেন। এবং তিনি হচ্ছেন পরম প্রেমময় একজন সত্তা। কেউ যদি আল্লাহতালাকে ভয় করে ইনস্ট্যান্ট তওবা করে ফিরে আসে। তার জীবনে যত গুনা থাক আল্লাহপাক সবকিছু মাফ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ। আপনি যদি সারা জীবন শিরিক করে থাকেন যেটা মহাপাপ এখনো যদি তওবা করে ফিরে আসেন আল্লাহ পাক আপনার সমস্ত পাপ মাফ করে দিবেনই।আপনার গুনাগুলোকে নেকি দিয়ে পরিপূর্ণ করে দিবে ইনশাল্লাহতালা। আল্লাহ পাক প্রেমময় ওয়াদুদ একজন সত্তা। তো আমরা যদি আল্লাহ পাকের দয়া যদি চায় আল্লাহ পাকের প্রেম ভালোবাসা চাই। আল্লাহ পাকের মারেফত লাগবে না আমাকে চিনতে হবে না। আল্লাহর আনুগত্য লাগবে না। তার রাসূলের আনুগত্য লাগবে না। কুরআন সুন্নাহক ফলো করতে হবে না। এগুলো করার পর ইনশাল্লাহ আমরা আল্লাহ পাকের রহমত পাব ইনশাআল্লাহ। আমরা আশাবাদী। আল্লাহ পাক আমাদেরকে তার রহমত দিয়ে ঘিরে রাখুন আমিন। আল্লাহপাক বলছেন তিনি মহান আরশের অধিপতি। আরশ সম্পর্কে একদিন বলেছি আমি। এই কুরসীটাই মহাবিশ্বকে ঘিরে রাখছে। আর এই কুরসিটা আরশের তুলনায় এমন। একটা মরুভূমিতে একটা ঢাল ফেলে দেন। একটা মরুভূমিতে একটা থালাকে ফেলে দেন অনুপাত যেমন হবে আরশ এবং কুরসির অনুপাতটা এরকম। আরশ এত বিশাল যেটা আট জন ফেরেশতা ধরে রেখেছে। তার ওপরে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরশে আজিমের সমন্বিত। তো আল্লাহকে চিনতে শিখুন আল্লাহর আনুগত্য করতে শিখুন। আল্লাহপাক তৌফিক দান করুন। আল্লাহপাক যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। হে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার কাছে কি এই সেনাবাহিনীর খবর পৌঁছেছে। ফেরাউন এবং সামুদের বিশাল পরক্রামোশালী এই বাহিনীর কথা তোমার কাছে কি পৌঁছেছে? আশহাবুল উখদুত এর সেনাবাহিনীর কথা বলেন বা ফেরাউন আর নমরুদ সামুদের সেনাবাহিনীর কথা বলেন। এরা সবাই কিন্তু আল্লাহর গজবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে সবাই তুচ্ছ। সবাই তুচ্ছ। আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ক্ষমতার কাছে তুচ্ছ। তাই এই নশ্বর দুনিয়ায় আল্লাহর অবাধ্যতা করে উদ্ধত অহংকারী হওয়ার কোন মানে হয়। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে বিনয়ী বানিয়ে দিন। আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল বানিয়ে দিন। বরণ যারা কুফুরি করছে এরা তো মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে। আল্লাহ রব্বুল আলামিন কুফফার দেরকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে রেখেছেন। এই যে কথাগুলো বলা হলো এগুলো কোন অলীক গল্প নয় বরং কোরআন মাজিদ থেকে নেওয়া হয়েছে। যেটা লাওহে মাহফুজ থেকে নাযিল হয়েছে। আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে এই সুরা থেকে শিক্ষা নেওয়ার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। সংক্ষেপে যদি সামারি করি তাহলে আল্লাহ রব্বুল আলামীন এই সূরার মধ্যে বিশাল বিশাল বিষয়ের কসম করেছেন। বিশাল বিশাল সবকিছুর কসম করে আল্লাহপাক বড় একটা ঘটনা বলেছেন। এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন একজন যুবকের মাধ্যমে পুরো কওমকে হেদায়েত করেছেন। একজন যুবককে জীবনের বিনিময়ে আল্লাহপাক পুরো জাতিকে হেদায়েত করেছেন। সেটা যদি আল্লাহ পাক ওই যুগে করতে পারেন তাহলে এখনো করতে পারেন। এখানে আল্লাহর কাছে তারা সাফল্য মন্ডিত হয়েছে যারা ঈমান এনেছিল। আর যারা ওদেরকে আজাব দিয়েছে। আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে এদেরকে আল্লাহপাক জাহান্নামী ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ পাক বলেছেন আমি শুধু গফুরুর রহিমই নয় বরং সাদিদুল ইয়াকওব কঠিন শাস্তিদাতাও বটে। ইতিহাস ঘেটে দেখো ফেরাউন নমরুদ যত বড় বড় জুলুম দের অধিকারী ছিল। এই পৃথিবীতে থাকতে দেওয়া হয়নি। যারা আল্লাহর আনুগত্য দাসত্ব করেছেন তাদেরকে সম্মানিত পুরস্কৃত করেছেন। যারা করেন নাই তারা তাকলীবের মধ্যে ছিল। এদেরকে আল্লাহপাক ধ্বংস করেছেন। আল্লাহ পাক শেষে গিয়ে বলেছেন এগুলো কোন অলীক গল্প কাহিনী নয়। এটা হচ্ছে সম্মানিত মোহমান্বিত কোরআন। যেটা লাউ হে মাহফুজ থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীতে আমাদের জন্য নাযিল করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে এই সূরা বুরুজের মধ্যে যে ঘটনা আশহাবুল উকদূদ এর ঘটনা ওখান থেকে শিক্ষা নেয়ার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন।
সাধারণ প্রশ্ন
সূরা বুরুজে আসহাবুল উখদুদ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
লেখায় বলা হয়েছে আল্লাহ সূরা বুরুজে আসহাবুল উখদুদের ধ্বংসের কথা বলেছেন। তাদের হাতে আগুনের কুণ্ডলির পাশে বসে ঈমানদারদের নির্যাতন দেখার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
ঈমানদারদের কী অপরাধ ছিল বলে লেখায় উল্লেখ আছে?
লেখায় বলা হয়েছে, ঈমানদারদের একমাত্র অপরাধ ছিল তারা এক আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছিল। এর বাইরে তাদের কোনো দোষ ছিল না।
ঘটনায় বালকটির ভূমিকা কী ছিল?
লেখায় বলা হয়েছে, বালকটি বিভিন্ন পরীক্ষার পর শেষ পর্যন্ত নিজের নির্দেশিত উপায়ে শহীদ হয় এবং এর ফলে এলাকার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে। লেখায় বালকের দোয়ার মাধ্যমে তার রক্ষা পাওয়ার ঘটনাও উল্লেখ আছে।