রবকে জানুন
মৃত্যু ও জীবনের সৃষ্টি
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরাতুল বাকারা এর ২৯ নাম্বার আয়াতে বলেছেন। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলছেন তোমরা কিভাবে আল্লাহকে অস্বীকার করতে পারো। তোমরা কিভাবে আল্লাহর সাথে কুফুরি করতে পারো। তোমরা সবাই ছেলে মৃত। আমরা সবাই ছিলাম মৃত। অতএব আল্লাহ পাক তোমাদেরকে জীবিত করেছেন। এই জীবনই শেষ জীবন নয় এর পরে তোমরা আবার মৃত্যুবরণ করবে। মৃত্যু বরণের পর আবার আমি তোমাদেরকে জীবিত করব। অতপর তোমরা আমার দিকে মানে আল্লাহর দিকে ফিরে যাবে। সুরাতুল বাকারায় ২৯ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যা বলতে চাচ্ছেন। কিভাবে আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে অস্বীকার করতে পারি তার অবাধ্য হতে পারি যখন আমরা ছিলাম মৃত। মানে আল্লাহ রব্বুল আলামিন আগে সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু তার পরে সৃষ্টি করেছেন জীবন। যেমনটা আল্লাহপাক সূরা মুলকে এক নাম্বার আয়াতে বলেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু এবং জীবন। আল্লাহ পাক মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন তারপর শেখান থেকে জীবন সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ পাক শুধু দেখতে চান দুনিয়ার জীবনে কে আমলে সর্বোত্তম। এই পরীক্ষাটা করার জন্য আল্লাহপাক জীবন এবং মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন। আমরা এটাও জানি যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের মায়ের গর্ভে এই রুহুটাকে পাঠিয়ে দেন তার আগে আমরা একটা মাংসের পিণ্ড ছিলাম। আলাক কুরআনের ভাষায় হচ্ছে আলাক। মানে জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ড এখানে কোন প্রাণ ছিল না। এরপর আল্লাহ পাকের হুকুমে দুইজন ফেরেশতা আল্লাহর পক্ষ থেকে রুহ নিয়ে আসেন। যখন ভ্রুনের বয়স হয় চার মাস ১০ দিন তখন ভ্রুনের মধ্যে রূহটাকে ফুকে দেওয়া হয়। এবং তখন বাচ্চাটা নড়াচড়া শুরু করে এর আগ পর্যন্ত কিন্তু বেবি নড়াচড়া করে না। এই যে এবার দুনিয়ার জীবনটা যে আল্লাহপাক আমাদেরকে দিলেন। এই জীবনটা দেওয়ার পরে এর হায়াত হবে সর্বোচ্চ ৬০-৭০,১০০,৫০০ বছর। আল্লাহ পাক ভাল জানেন। আল্লাহপাক বলেছেন এই জীবনটাই তোমাদের একমাত্র জীবন নয়। তোমরা কিভাবে আল্লাহকে অস্বীকার করছ। তোমরা আগে মৃত ছিলে। ওই যে জমাট বাধা রক্তপিণ্ড ছিলেন।আল্লাহ পাক তোমাদেরকে জীবন দিলেন মানে দুনিয়ার জীবন আমরা পেলাম। এটাই চূড়ান্ত জীবন নয়। তোমরা আবার মৃত্যুবরণ করবে। ওই মৃত্যুর পরে আল্লাহ পাক বলছেন আবারো আমি তোমাদেরকে জীবন দিব। তারমানে দুইটা জীবন দুইটা মন। আর শেষের জীবনের পরে আল্লাহপাক বলছেন এরপর আল্লাহপাক বলেননি যে আবারো জীবন দিব আবারো মৃত্যু দিব। শেষে গিয়ে আল্লাহপাক বলছেন এরপর তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে। মানে কিয়ামতের মাঠে মৃত্যুকে জবাই করে দেওয়া হবে। এটাও হাদিসে এসেছে। কেয়ামতের মাঠে যখন সকল মানুষকে আল্লাহপাক উঠাবেন হিসাব-নিকাশ নেওয়া হবে এবং চুল ছেঁড়া বিশ্লেষণ করা হবে। যার ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন একটা শিং ওয়ালা ছাগল যদি একটা শিং ছাড়া ছাগলকে গুতো দিয়ে থাকে অন্যায় ভাবে। তখন আল্লাহ পাক ঐ শিংহীন ছাগলকে শিং দিয়ে বলবে এখন তুমি এর প্রতিশোধ নাও। মানে বিচারটা এতটাই সূক্ষ্ম হবে। এরপর আল্লাহ পাক মৃত্যুকে হাজির করবে একটা প্রাণীর রূপে বা একটা পশুররূপে। একটা প্রাণী বা একটা পশুর রূপে মৃত্যুকে ডেকে আনা হবে। এবং এটাকে জবাই করে দেয়া হবে। মানে মৃত্যুকেও মৃত্যু করতে বরণ করতে হবে । আমি কি বুঝাতে পারছি। এতে কি হবে জান্নাতীদের উৎফল্য যে মেজাজ যে খুশি এটা আরো বেড়ে যাবে। কারণ এরা বুঝে যাবে এরপরে আর কোন মৃত্যু নাই আমরা অনন্তকাল জান্নাতে থাকতে পারবো ইনশাল্লাহ। আর যারা জাহান্নামী তাদের দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা আরও বেড়ে যাবে। কাশ যদি মৃত্যু হতো জাহান্নামের আজাব ভোগ করে মরে যেতাম মাটি হয়ে যেতাম।
জীবন দর্শন ও আমলের পরীক্ষা
সূরা নাবার শেষের দিকে পড়ে দেখবেন। হায় আমি যদি আজকে মাটি হয়ে যেতাম। সুরা ফুরকানে আল্লাহপাক বলছেন তোমরা একটা মৃত্যুকে ডেকো না বহুৎ মৃত্যুকে ডাকতে থাকো। জাহান্নামিরা মৃত্যুকে ডাকতে থাকবে কিন্তু মওত হবে না। তাহলে মৃত্যুকেও মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হচ্ছে। আল্লাহপাক সূরা বাকারা ২৯ নাম্বার আয়াতে আমাদেরকে একটা জীবন এবং সৃষ্টির দর্শন দিয়েছেন এখানে। এটা একটা সৃষ্টির দর্শন বা জীবন দর্শন বলতে পারি এটা। কি সেটা? যে আমরা এখানে কেউই চিরস্থায়ী নয়। আমরা একসময় পৃথিবীতে ছিলাম না একসময় থাকবো না মাঝখানে একটা সংক্ষিপ্ত সময় আছে। এ সময়ের মধ্যে আমাদের আসবে শৈশব আমাদের কৈশোর আমাদের যৌবন আমাদের বাধ্যক্য। এই সময়ের মধ্যে আমাদের পড়াশোনা আমাদের রুজি রোজগার আমাদের পরিবার আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য আমাদের ইলমি আমল আমাদের মমেলাত আমাদের আমলে জিন্দেগি এই সময়টুকুর মধ্যে আমাদের সবকিছু। আল্লাহপাক আমাদেরকে এই সময়ের মধ্যে একটা পরীক্ষা করছেন। যে আমরা আমলের দিক থেকে কে সর্ব উত্তম হতে পারে। এই আয়াতটাও খেয়াল করবেন যে আল্লাহ পাক বলেননি যে আমলে কে ভালো। আল্লাহ পাক বলেছেন আমি দেখতে চাই আমলের শ্রেষ্ঠ টা কে ? যারা আরবি ব্যাকরণ বুঝেন তারা বুঝবেন। হাসান মানে হচ্ছে উত্তম। আহসান মানে হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম। যেমন কাবির মানে বড় আকবর মানে সবচেয়ে বড়। সাগির মানে ছোট আর আজগর মানে সবচেয়ে ছোট। এখানে আল্লাহপাক বলেছেন আহসান। আল্লাহ পাক দেখতে চান আমলে আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম কে? এই আয়াতে প্রমাণ করে যে এভারেজ মুসলিম হলে চলবে না। এভারেজ মুসলিমকে এটা দেখার জন্য আল্লাহপাক আমাদেরকে সৃষ্টি করেন নাই। আল্লাহ পাক দেখতে চান আমাদের মধ্যে বেস্ট কে সবচেয়ে ভালো টা কে। এভারেস মুসলিম হওয়ার যে মন-মানসিকতা আমাদের মধ্যে কাজ করে। নামাজ পড়ব পাঁচ ওয়াক্ত রমজান মাসে রোজা রাখব যাকাত দিব ইত্যাদি এতটুকু করব আর আমি জান্নাতে চলে যাব। আল্লাহ পাক কিন্তু এটা দেখতে চাচ্ছেন নাকি এভারেস্ট মুসলিম। আল্লাহ পাক দেখতে চান সবচাইতে শ্রেষ্ঠ কে আমলের দিক থেকে। এই আমলটা কিন্তু আমাদের জীবন দর্শন ক্রিয়েট করে। যে আমরা পৃথিবীতে এসেছি চিরস্থায়ী নই আমাদেরকে মৌতের স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। অতএব এই সময়টুকুতে আমার কাজ কি এখন? প্রথম কাজ কি? রব কে চেনা আমার। রব চেনার জন্য আল্লাহপাক কী দিয়েছেন? কোরআন কথা বলুক আমাদের কথা বলার চাইতে কোরআনই কথা বলুক। কোরআনকে বলতে দেন। কোরআন বলছে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম তোমার রব কে? তোমার রব সেই আল্লাহ যিনি হচ্ছেন এক। যিনি এক। তার কোন শরীক নাই। এবং এই আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্ত না করে তার ইবাদত করার জন্য নবী-রাসূলদের কে আদেশ করেছেন। আল্লাহ পাক ও মুখপেক্ষি । পুরো মহাবিশ্বের এক আল্লাহকে প্রয়োজন আছে। মহাবিশ্বের প্রতিটা সৃষ্টি আল্লাহর মুখাপেক্ষী। কিন্তু আল্লাহ পাক কারো মুখাপেক্ষী নন। যদি এই মহাবিশ্বের সমস্ত মাখলুক মিলে সেজদায় পড়ে যায় আল্লাহ পাকের যে ইজ্জত যে সম্মান এটা এক চুল বাড়বেও না কমবেও না। আল্লাহ পাকের ইজ্জত যেমন সম্মান যেমন ঠিক তেমনই থাকবে। ঠিক একইভাবে এই মহাবিশ্বের সমস্ত মানুষ যদি আল্লাহর সাথে কুফুরি করে আল্লাহ পাকের বিধানের পরোয়া করে না আল্লাহপাকের হুকুম আহকাম এরপর পরোয়া করে না। আল্লাহ পাকের ইজ্জত সম্মান ক্ষমতা যাররা পরিমাণ কমে যাবে না।
আল্লাহর অমুখাপেক্ষিতা ও শয়তানের চ্যালেঞ্জ
পুরা বিশ্বের সমস্ত মাখলুক যদি একত্রিত হয়ে আল্লাহর কাছে চায়। যে আল্লাহ আমাকে এটা দাও আমাকে ওইটা দাও এটা আমার দরকার ওইটা আমার দরকার। আল্লাহ পাক সবার চাহিদা যদি পূরণ করে দেন আল্লাহর খাজানা থেকে যারা পরিমাণ কমে যাবে না। আল্লাহুস সামাদ মানে এইটা আল্লাহ পাক ওমুখাপেক্ষী।লাম ইয়ালিদ অলাম ইউলাদ। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো কাছ থেকে জন্ম নেননি। এখন মুক্ত একটা প্রশ্ন বাকস্বাধীনতা নামে মুক্ত চিন্তার নামে নাস্তিকতা কে আমরা প্রমোট করছি। বাক স্বাধীনতার নামে যে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করল। আল্লাহ যদি সব সৃষ্টি করে থাকেন নাউজুবিল্লাহ আল্লাহকে কে সৃষ্টি করলো। আল্লাহকে যদি কেউ সৃষ্টি করে থাকে তাহলে সে৷ তো আল্লাহর স্রষ্টা হয়ে যাবে নাউজুবিল্লাহ। তো এভাবে পিছনে যেতে যেতে তো একটা জায়গায় শেষ হয়ে যাবে। আমরা যখন ফিলোসফি পড়েছিলাম তখন একটা তত্ত্ব ছিল তার নাম হচ্ছে কার্যকারণ তত্ত্ব। কার্যকারণ তত্ত্ব মানে প্রত্যেকটা কাজের পিছনে একটা কারণ থাকে। এই যে ব্যথা হচ্ছে কেন কনো একটা কারণ আছে। জ্বর হয়েছে কেন কোন একটা ভাইরাস আছে। মানে প্রত্যেকটা বিষয়ের পিছনে একটা কারণ আছে। এই কারণ যদি আপনি সার্চ করতে যান। এটা কেন, এই কারণে। ওইটা কেন, ওই কারণে। এই করতে করতে করতে গিয়ে আপনাকে একটা জায়গায় থামতে হবে। আর সেই মহান সত্তার নাম কি আল্লাহ। এটা আমরা বিশ্বাস করি। এখন আপনি যতই প্রশ্ন করেন এইভাবে আপনি কোন কূলকিনারা পাবেন না। এজন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যখনই তোমাদের মনের মধ্যে এই চিন্তা আসবে। আল্লাহ পাক সব সৃষ্টি করেছেন তাকে আবার কে সৃষ্টি করলো। তখন আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম বলে বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলবেন। তখন শয়তানের ওয়াস ওয়াসা মনের দিক থেকে কেটে যাবে। কাটণ শয়তান এই চিন্তাটা তোমার মনের মধ্যে দিয়েছে। যে শয়তান আপনার মনের মধ্যে এই চিন্তাটা দিয়েছে সেই শয়তান কিন্তু নাস্তিক নয়। আমি কোরআন থেকে প্রমাণ করছি। শয়তান কিন্তু আস্তিক। যখন শয়তানকে বের করে দেওয়া হচ্ছে জান্নাত থেকে ওই যে সেজদা না করার কারণে। শয়তান আল্লাহকে বলছে হে আমার রব আমাকে অবকাশ দেন সেই দিন পর্যন্ত যেদিন সবাইকে পুনরুত্থান করা হবে। মানে এখানে শয়তান আল্লাহকে রব বলে ডাকছে। তাহলে শয়তান আস্তিক না নাস্তিক। অথচ শয়তান পৃথিবীতে এসে চ্যালেঞ্জ নিয়েছে সে পুরো মানবজাতিকে জাহান্নামী নিয়ে যাবে। আর আল্লাহ পাক বলছেন আমার মুখলেস বান্দাদের তুমি কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আবার শয়তান চ্যালেঞ্জ করছে আমি ডান দিক থেকে আসব বাম দিক থেকে আসব আমি সামনের দিক থেকে আসব পিছন দিক থেকে আসব। আল্লাহ আপনি বেশিরভাগ কে শুকর গুজার পাবেন না। যেটার বাস্তব প্রতিফলন এখন আমরা দেখছি। বেশিরভাগ মানুষ নামাজ পড়ে না। বেশিরভাগ দেখবেন রোজা রাখেনা। বেশিরভাগ দেখবেন কুরআন পড়তে জানে না। ম্যাক্সিমাম মানুষ দেখবেন সুদ খাচ্ছে। ম্যাক্সিমাম মানুষ জেনা করবে। অল্প কিছু মানুষ আল্লাহর বিধানের পরোয়া করছে। এই কথাটা আল্লাহ পাক কোরআনে বলেছেন। এই কথা আল্লাহপাক কুরআনে বলেছেন যে আমার শুকুর গুজার বান্দার পরিমাণ হবে কি কম। এবং নবীর করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হাদিসে বলেছেন আমার উম্মতের মধ্যে ৭৩ টা দল হয়ে যাবে। তার মধ্যে ৭২ টা দলই হবে জাহান্নামে নাউজুবিল্লাহ।
নাজাতপ্রাপ্ত দল ও তাওহিদের বিশ্বাস
আর মাত্র একটা দল যাবে জান্নাতে। নবীজি বলছেন আমি যার উপরে আছি এবং আমার সাহাবীরা যার উপরে আছেন। মানে পৃথিবীর যেকোনো জায়গার মানুষ পৃথিবীর যেকোনো দেশ যে কোনো ভাষার মানুষ যেকোনো রং বর্ণ ইত্যাদি তার ঈমান তার আকিদা তার আমল যদি নবী এবং সাহাবীদের সাথে মিলে যায়। ইনশাল্লাহুতালা সে জান্নাতে যাবে। এটার জন্য একটা ফরম তুলে সে ফরম ফিলাপ করে সেই দল গ্রহণ করতে হবে এটা জরুরী না। এটা ঈমানের ব্যাপার আকিদা আমলের ব্যাপার। যে কোন জায়গার মানুষ যদি আল্লাহ এবং তার রাসূল এবং তার সাহাবীদের মানহাস ফলো করে ইনশাল্লাহ সে জান্নাতে যাবে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে তৌফিক দান করুন আমিন । তো এখানে বলছিলাম একটা বিষয় জীবন দর্শন পাওয়ার পরে আপনাকে রব কে চিনতে হবে। রব কে চেনার জন্য আমি সূরা ইখলাস বলছি।লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ। আল্লাহ পাক কে কেউ জন্ম দেননি এবং আল্লাহ পাক কারো কাছ থেকে জন্মিত নন । এখন কিছু মানুষ বলছে পৃথিবীর কোটি কোটি শত কোটি মানুষ বলছে আল্লাহ পাকের সন্তান আছে নাউজুবিল্লাহ। আল্লাহ পাক সূরা মারিয়াম এর মধ্যে বলছেন এই যে তারা এই কথা বলছে আল্লাহপাক সন্তান গ্রহণ করেছেন তার নাম ঈসা আলাইহিস সাল্লাম নাউজুবিল্লাহ । আল্লাহ পাক বলছেন এই কথাটা যখন আসমানে উঠে। আমরা যখন কথা বলি এই কথাগুলো বায়ুমণ্ডলের ছড়িয়ে পড়ে না। আসমানের দিকে উঠে তখন আসমান এবং জমিন অপমানে কষ্টে ফেটে পড়তে চায়। যখন এই কথাটা মানুষ বলে নাউজুবিল্লাহ। তো বেশিরভাগ মানুষ বলছে যে আল্লাহ সন্তান আছে নাউজুবিল্লাহ। আবার ইহুদিরা বলছে উযায়ের আলাইহিস সাল্লাম আল্লাহর পুত্র নাউজুবিল্লাহ। আবার খ্রিস্টানরা বলছে ঈসা আলাইহিস সাল্লাম আল্লাহর পুত্র নাউজুবিল্লাহ। এখন আমরা একটা কথা বলি না যে বেশিরভাগ মানুষ যা বলবে সেটাই সঠিক। তাহলে বেশিরভাগ মানুষ যে বলছে আল্লাহর সন্তান আছে এটা কি সঠিক। না। তাহলে এখানে কিন্তু এই কনসেপটা টিকছে না। বেশিরভাগ মানুষ যা বলবে সেটা তখনই সঠিক হবে যখন তাদের কথা কুরআন সুন্নাহ মানদণ্ডে হবে। যদি বেশিরভাগ মানুষ বলে হ্যাঁ সুদ হারাম তাহলে অবশ্যই হারাম। কারণ কুরআন সুন্নাহ এটাকে হারাম করেছে। যদি বেশিরভাগ মানুষ বলে সুূদ হালাল তাহলে আপনি কি করবেন এটা মানবেন। না। যদি বেশিরভাগ মানুষ বলে মদ হালাল জেনা হালাল তাহলে এই যে একটা কনসেপ্ট চালু হয়ে গেছে আমাদের মধ্যে। এটা কিন্তু ডেমোক্রেসি না।। এটা ডেমোক্রেসির ভুল ব্যাখ্যা। হ্যাঁ বেশিরভাগ মানুষের কথা মতামত কখন গ্রহণযোগ্য হবে সেটা আল্লাহর ঐশী গ্রন্থের আলোকে হবে। তখন অবশ্যই নিঃসন্দেহে এটা গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু যখন বেশিরভাগ মানুষ আল্লাহ এবং রাসূলের বাহিরে কথা বলে হালাল করে দেয় মদ কে যেনা কে হালাল করে দেয়। আপনার ওই যে পর্নোগ্রাফিকে হালাল করে দেয়। সুদকে হালাল করে দেয় তাহলে কি আমরা হালাল মেনে নিব। অবশ্যই না। যদি আপনি মেনে নেন তাহলে আপনি আল্লাহপাকের সাথে শিরিক করলেন। এটা সূরার ৩১ নাম্বার আয়াতে পড়ে দেখবেন। লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ। আল্লাহ পাক কাউকে জন্ম দেননি কারো পক্ষ থেকে জন্মিত নন। ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফু ওয়ান আহাদ। আল্লাহ পাকের সমতুল্য কিছু নাই। কখনো যদি আপনার চিন্তায় আসে এটা আল্লাহর সমকক্ষ হতে পারে নাউজুবিল্লাহ। সাথে সাথে ওই কনসেপ্টটা বাতিল করতে হবে। কারণ আল্লাহ পাকের সমতুল্য কিছু হতেই পারে না।
আল্লাহর গুণাবলি ও সাদৃশ্য বর্জন
কিছু মানুষ আছে মুসলিমদের মধ্যেও দেখা যায় যে আল্লাহ পাকের গুণগুলোকে মানুষের সাথে তুলনা করছে। অনেকে বলেছে আল্লাহপাকের হাত আমাদের মানুষের হাতের মতো নাউজুবিল্লাহ। এইসব কথা বলা যাবে না। অনেকে বলেছে আল্লাহ পাকের পা মানুষের পায়ের মতো। আল্লাহ পাকের চেহারা মানুষের চেহারার মতো। অনেক ফিলোসফি বই আমরা পড়েছি। এগুলোতে অনেক মানুষ এগুলো লিখেছে এগুলো সম্পূর্ণ বাতিল আকিদা । আল্লাহ পাকের মত কিছুই নাই। কোন কিছুই তার সাথে সাদৃশ্য হওয়ার যোগ্য নয়। এখানে যদি কোন মুসলিম এরকম আকিদা পোষণ করে থাকে এটাও বাতিল আকিদা হবে । আল্লাহকে চিনতে হলে আপনাকে একটা আয়াত বলছি এটাই আপনাদের জন্য যথেষ্ট হবো। আল্লাহ পাক বলছেন আল্লাহ পাক তিনি যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নাই। তিনি হাইয়ুম এবং কাইয়ুম। চিরঞ্জিত চিরস্থায়ী। চিরঞ্জিত মানে কি? মানে যখন কিছু ছিল না আল্লাহ পাক ছিলেন। যখন কিছু থাকবে না আল্লাহ পাক থাকবেন। সময়ের ঊর্ধ্বে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। সময়ের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে বরং তো আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন। আর আমরা সবাই সময়ের মধ্যে পড়ে আছি। আমাদের কাছে দিনরাত যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে এমনটা নয়। মোটেই এমন নয়। বল কেয়ামতের দিনটাই হবে আল্লাহ পাকের হিসেবে আমাদের দিনের চেয়ে ৫০ হাজার বছরের সমান। তাহলে এই সময় এর যে আমরা একটা গোলকধাঁধায় পড়ে আছি।এক একটা গ্রহের সময় একেক রকম। একেকটা গ্যালাক্সির সময় একেক রকম । আল্লাহ পাক এর ঊর্ধ্বে চিরঞ্জিত চিরস্থায়ী। আপনারা যারা সাইন্সে পড়েছেন তারা আইনস্টাইনের সূত্র পড়েছেন না। যে সময়ের আলোর বেগে যদি কোন বাহন ছুটে মহাকাশে তাহলে পৃথিবীতে দেখা গেল একজনের বয়স ২৫ সে মহাকাশে ২৫ বছর ঘুরে এসেছে। তার ওই ভাই যার বয়স ২৫ বছর দেখে গিয়েছিল তার এখন বয়স ৫০ বছর আর তার বয়স ২৫ ই রয়ে গেছে সূত্র তা জানেন না। সময় কিন্তু সব জায়গায় এক রকম নয়। এখানে অনেক ব্যাপার আছে আল্লাহ পাক চিরঞ্জীত এবং চিরস্থায়ী। আল্লাহ পাক বলছেন তাকে তন্দ্রা ও স্পর্শ করতে পারেনা নিদ্রাও স্পর্শ করতে পারে না। তন্দ্রা কি এই যে আমাদের ঝিমুনি আসে না এটাকে তন্দ্রা বলে। আর নিদ্রা কি? আমরা যে ঘুমিয়ে যায় এটাকে নিদ্রা বলে। আর নিদ্রা কে বলা হয়েছে মৃত্যুর ভাই। এ কারণে জান্নাতে যখন মানুষ যাবে তাদের ঘুম হবে না। মানে জান্নাতে কোন ঘুম নাই। কারণ ঘুম হচ্ছে মৃত্যুর ভাই। আল্লাহ পাক কে ঘুম স্পর্শ করতে পারেনা এবং ঝিমুনি তন্দ্র স্পর্শ করতে পারেনা। এখন একটু চিন্তা করে দেখেন এই যে লক্ষ্য কোটি বছর ধরে এই যে মহাকাশ চলছে সৃষ্টির পর থেকে। আল্লা রব্বুল আলামিন একটা সময় কি রেস্ট নিয়েছেন। একটা যাররা পরিমাণ সময় কি তিনি রেস্ট নিয়েছেন? তাহলে সেই মহান সত্তা যার এক যাররা পরিমাণ তার ক্লান্তি বোধ হয় না। তার কোন ঘুম আসে না তার কোন তন্দ্রা স্পর্শ করে না। আর আমরা সেই আল্লাহর বান্দা হয়ে তার বিধান বা তার আনুগত্যের বাইরে যাওয়া ঠিক হবে। আল্লাহ পাক কে চিনতে শিখুন যে আল্লাহ পাক কে।
আল্লাহর কর্তৃত্ব ও সুপারিশের অনুমতি
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এমন একজন সত্তা। যে আপনি সারাটা জীবন আল্লাহর বিপক্ষে চলেছেন যদি আজকে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে যদি তওবা করেন ফিরে আসেন তাহলে ইমিডিয়েটলি আল্লাহপাক আপনাকে মাফ করতে পারেন। আবার আপনি সারা জীবন ভালো কাজ করেছেন শেষে গিয়ে এমন একটা কাজ করলেন বা এমন একটা কথা বললেন। হতে পারে আল্লাহ না করুক সে কাজের জন্য বা কথা বলার জন্য আপনার জাহান্নামের ফয়সালা হয়ে যেতে পারে নাউজুবিল্লাহ । তো আল্লাহকে চিনতে শিখুন। তিনি আল রাজ্জাক তিনি আপনার রিজিক দেন। জন্ম দিয়েছেন সৃষ্টি করেছেন পরিণত করেছেন আমাদেরকে আকৃতি দিয়েছেন আমাদের জান আমাদের মাল আমাদের ইজ্জত সম্মান পরিবার পতিপত্তি সবকিছুর মালিক কে? একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন । এই কনসেপ্ট যার মনে ক্লিয়ার। তার মনে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ঠিক আছে ইনশাল্লাহ সে একদিন না একদিন জান্নাতে যাবে ইনশাল্লাহ। আসমান সমূহ এখানে একটা আসমানের কথা বলা হয়নি। পুরো আসমানসমূহ এবং জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু কার? আল্লাহর। আসমান সমূহ তা বুঝেন একদিন বলেছিলাম একটা এক্সাম্পল যে এই পুরো মহাবিশ্বে পৃথিবীর অবস্থানটা কতটুকু। একটা সমুদ্রে কিনারায় যখন হাঁটবেন। একটা চড়ের মধ্যেই ধরেন হাটছেন ওই চরের মধ্যে একটা বালুর কনার কি পরিমান দাম আছে। খুব বড় অবস্থান। অবস্থানই নাই। এই পুরো মহাবিশ্বের পৃথিবীর অবস্থান তার চাইতেও কম। এই যে সৌরজগত দেখছেন এই সৌরজগতের মধ্যে হাজারটা সৌরজগত মিলে একটা গ্যালাক্সি হয়। আর এই হাজার হাজার গ্যালাক্সি মিলে একটা আসমান হয়। এরকম করে ৭ আসমান। এরপরে কুরশি।তার উপরে মহাসাগর তার উপরে আরশ। তার ওপরে আল্লাহ রব্বুল আলামিন। তাহলে চিন্তা করেন পৃথিবীতে আমরা কতটুকু অবস্থানে আছি। এই সমস্ত কিছু কাজ সৃষ্টি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের। যে আল্লাহ পাকের এত ক্ষমতা আল্লাহ পাক বলছেন কে আছে যে তার অনুমতি ছাড়া আল্লাহর সামনে সুপারিশ করতে পারে ? এখান থেকে আমাদের আকিদা পরিষ্কার হওয়ার দরকার আছে না। আমরা তো অনেক সময় মনে করি যে পীর সাহেব ধরেছে জান্নাতে চলে যাব তাই নয় কি। এমন করার দরকার নাই। বায়াত হয়েছি ব্যাস জানাতে চলে যাব আমার আমলের দরকার নাই। আল্লাহ পাক বলছেন এত সহজ না। কে আছে আমার কাছে সুপারিশ করবে আমার অনুমতি ছাড়া। আল্লাহ পাকের অনুমতি না পেয়ে কেউ এ কাজ করতে পারবে। পারবে না। আমরা জানি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের জন্য সুপারিশ করবেন। শহীদগণ সুপারিশ করবেন এই যে হাফেজ গন আলেম অনেক মানুষ অনেক শ্রেণীর মানুষকে আল্লাহ পাক সুপারিশ করার এখতিয়ার দিবেন। কেন দিবেন কারণ আল্লাহপাক তাদের আমলে সন্তুষ্ট। এবং আল্লাহ পাক তাদেরকে সম্মানিত করবেন সবার উপরে। মনে করেন এখানে অনেক মানুষ আছে এর মধ্যে একজন মানুষকে আপনি অনেক পছন্দ করেন। সে আপনাকে সন্তুষ্ট করেছে। তাকে সম্মানিত করতে চাচ্ছেন আপনি। তাকে ডেকে নিয়ে আসলেন সবার সামনে আপনি। এনে তাকে ফুলের তোড়া উপহার দিলেন। মানে আপনি তাকে ভালবাসেন তাকে সম্মান দিলেন। এখন সে আপনাকে যদি কিছু বলে যে আমার অমক ভাই আছে সেও মাশাল্লাহ চেষ্টা করছে এই পথে আপনি যদি তাকে একটু সুযোগ দেন। তখন আপনি কিন্তু তাকে সুযোগ দিবেন এটাই হচ্ছে সুপারিশ।
আল্লাহর জ্ঞান ও বিধানের প্রতি আত্মসমর্পণ
মানে বিষয়টা হচ্ছে যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কিছু মানুষের ওপরে সন্তুষ্ট হবেন তখন গিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদেরকে সুপারিশ করার এখতিয়ার দিবেন। কিন্তু আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কেউ এই কাজ করতে পারবে না। এটা আমাদের কনসেপ্ট ক্লিয়ার থাকা উচিত। আল্লাহ পাক সেই সত্তা আপনার রব সেই সত্তা যে সামনে এবং পিছনের খবর জানেন। মানে অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ সব জানেন। প্রথম দিন কি খেয়েছেন আল্লাহ পাক এখন জানেন। আমরা কি জানি? কোন ইতিহাসের বই আমাদেরকে সলিউশন দিতে পারবে। জান্নাত জাহান্নামের ফয়সালা হয়ে যাওয়ার পর। জান্নাতীরা ১০০ কোটি বছর পরে কি খাবে কি পড়বে আল্লাহ পাক এই মুহূর্তে সেটা জানেন। একইভাবে জাহান্নামেরা জাহান্নামে শত কোটি বছর পর তাদের কি আজব হবে কি পানিশমেন্ট দেয়া হবে ওদের অবস্থা কি হবে আল্লাহ পাক এখনি সেটা দেখতে পারেন। আমরা তো আল্লাহকে চিনি না এই কারণে আমরা আল্লাহর বিরোধিতা করি এবং তার নবীর বিরোধিতা করি এবং কুরআন হাদিসের বিরোধিতা করছি। আমরা তো আল্লাহপাক কে চিনি না। সামনে পিছনে যা আছে অতীত ভবিষ্যৎ বর্তমান সব আল্লাহপাক জানেন। আল্লাহ পাকের যে মহান জ্ঞান সে যে অসীম জ্ঞান এই জ্ঞান টা কে কোন কিছুই পরিব্যক্ত করতে পারেনা। ইসলামের এগেনস্টে যত প্রশ্ন করা হয়। আল্লাহকে কে সৃষ্টি করল ইসলামে ওই বিধান কেন পর্দা কেন, কেন বহুবিবাহ। এটার একমাত্র কারণ কি জানেন? একমাত্র কারণ জ্ঞানের স্বল্পতা। কারণ তাদের ক্ষুদ্র জ্ঞান আল্লাহর বিশাল জ্ঞানকে প্রেনিটেড করতে পারেনা এই কারণে এটা কেন ওইটা কেন তোদের প্রশ্ন। এখানে বিষয়টা হচ্ছে যে মহান সত্তা যে মহাবিশ্বটাকে সৃষ্টি করেছেন নিঃসন্দেহে তার জ্ঞান আমার জ্ঞান এর চেয়ে অনেক বেশি।এখন তিনি যে বিধানটা নাযিল করবেন। তার প্রতিটা বিধান নিঃসন্দেহে সত্য। আমার বুঝে আসুক আর না আসুক আমাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে এটা বুদ্ধিমানের কাজ।এর মধ্যে অনেক কিছু ব্যাখ্যা আমি বের করতে পারবো । যেটা ব্যথা বের করতে পারব সেটা আলহামদুলিল্লাহ যেটা পারব না সেটা আগামীতে এর ব্যাখ্যা বের হবে আর ইনশাআল্লাহ। কোরআন দিয়ে প্রত্যেকটা যুগ এবং জিজ্ঞাসা জবাব দেওয়া হয়েছে না। এখন হয়তো ওয়ার্ল্ডে নতুন নতুন কিছু মাসালাহ এসেছে। যেগুলো এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হচ্ছে না। কিন্তু সামনের দিনগুলো তো দেখবেন এগুলো ঠিকই আবিষ্কৃত হচ্ছে। দেখবেন কিছুদিন পর নাসা যদি বলে জান্নাত জাহান্নাম বলে কিছু আছে আমরা দেখেছি। ওরা এখন বউ বলছে না মহাবিশ্বের দিকে প্রাণ আছে এটা আছে সেটা আছে। কয়দিন পরে যদি তারা এই কথাটা বলে দেখবেন সারা বিশ্বের মানুষ বিশ্বাস করবে। এটা আগামীতে হবে সেটা আল্লাহপাক আগেই জানিয়ে দিয়েছে। প্রকৃত মুসলিম এবং বুদ্ধিমান মুসলিম সে যে নিঃস্বার্থভাবে আল্লাহর এই বিধানগুলো মেনে চলে। এখানে কোন প্রশ্ন করতে যায় না। সে জানে আমার জ্ঞানটা সসীম আল্লাহ পাকের জ্ঞানটা অসীম। ক্ষুদ্র জ্ঞান কখনো আল্লাহর মহান জ্ঞানকে ফ্যানিটেট করতে পারে না। এটা আল্লাহ পাক বলেছেন আল্লাহর জ্ঞানকে কোন সত্তা পরিপিষ্ট করতে পারবে না। আল্লাহ পাক যতটুকু দিতে চান ততটুকু বাদ দিয়ে। যতটুকু জানিয়েছেন ততটুকু বাদ দিয়ে বাকিটা আমরা জানিনা।যেমন কেয়ামতের অনেক সাইন এর কথা বলা আছে না এক্সাক্টলি কোন টাইমে কেয়ামত হবে কেউ বলতে পারবে পারবেনা। আল্লাহ পাক যতটুকু চান ততটুকু আমরা জানি। আল্লাহ পাক বলছেন এই মহাবিশ্বকে আল্লাহ পাকের কুরসি টা ঘিরে রেখেছে। এই কুরসি কিন্তু আরশ নয়। এ কুরসি মহাবিশ্বকে ঘিরে রেখেছে এর উপরে আছে মহাসাগর তার ওপরে আছে আরশে আজিম।
রব চেনা ও সত্যের মানদণ্ড
এবং এই পূর মহাবিশ্বকে পরিচালনা করতে পরিচালনা করতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে আল্লাহ পাকের জাররা পরিমাণ কষ্ট হয় না। তো এই হচ্ছে আপনার রব। যে রব আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। এবং দুনিয়াতে একটা হায়াত দিয়েছেন।। এরপর আপনাকে তিনি মৃত্যু দিবেন। আপনাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন। এরপর বিচার ফয়সালা করবেন। এরপর হয় জান্নাত না হয় জাহান্নাম। আপনি আপনার রব কে চিনতে শিখুন। তাহলে ইনশাল্লাহুতায়ালা এটা আপনার জন্য সহজ হবে। আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তার দাসত্ব করা। এরপর কি? আল্লাহ পাক কি করলেন? আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রব কে চিনতে শেখার পরে পৃথিবীতে আমাদেরকে পাঠিয়েছেন। পৃথিবীতে পাঠিয়ে কি আমাদেরকে আল্লাহপাক ছেড়ে দিয়েছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঐশী গ্রন্থ নাযিল করেছেন। এবং এই ঐশী গ্রন্থটাই হচ্ছে সত্য মিথ্যার চূড়ান্ত মানদণ্ড। রব কে চেনার পরে আপনাকে চিনতে হবে সত্য কোনটা মিথ্যা কোনটা। কিন্তু আপনাকে এখন জীবনে চলার পথে অনেক কিছু ফেইস করতে হবে। এখন ফেস করতে গিয়ে হয় সত্যের পথে যাবেন নয় মিথ্যার পথে যাবেন। তাহলে আপনার আগে চেনার দরকার আছে কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা। এটার উত্তর ও কে দেবে? কোরআন দিবে। কুরআনে বলছে সূরা কাহাফের ২৯ নাম্বার আয়াতে হে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি বলে দিন সত্য সেটাই হক সেটাই যা আপনার রবের পক্ষ থেকে নাযিল হয় সুবহানাল্লাহ । তারমানে যখন তাওরাত নাযিল হক হয়েছিল হক ছিল যখন যাব নাযিল হয়েছিল তখন সেটাই হক ছিল যখন ইঞ্জিল নাজিল হয়েছিল তখন সেইটাই হক ছিল। এখন কোরআন নাজিল হয়েছে কেয়ামত পর্যন্ত কোন নবীও আসবেন না আর কোন কিতাবও আসবে না। তাহলে কুরআন এবং সুন্নাহর ব্যাখ্যায় হচ্ছে সত্য মিথ্যার চূড়ান্ত মানদণ্ড। এখন দুনিয়াতে চলার পথে আপনি একটা গাইডনেস পেলেন। আমি যে এখন রব কে পেতে হবে রবের কাছে যেতে হবে জান্নাতে যেতে হবে । জেনে রেখো সত্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। এবং তোমরা সন্দেহবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। কুরআন সম্পর্কে আল্লাহ পাক এমন কথা বলেছেন সুরা হামিন সেজদার মধ্যে কুরআন হচ্ছে এমন একটা সত্তার পক্ষ থেকে এসেছে। যে সত্য হচ্ছে প্রশংসিত মহামান্বিত। কুরআন হচ্ছে এমন একটা কিতাব যা ডান বাম পিছন সামনে কোন দিক থেকে বাতিল স্পর্শ করতে পারেনা। আপনি একটা গাইডিয়ান্স পেলেন কি ফলো করবেন আপনি। আল্লাহ পাক এটা কিন্তু সূরা বাকারাতেও বলেছেন। তোমরা পৃথিবীতে নেমে যাও। তোমাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে হেদায়েত আসবে।যারা আমার হেদায়েত মেনে চলবে। তাদের কোন ভয় নাই কোন দুশ্চিন্তা নাই। যারা কুফুরি করবে আমার আয়াতে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে এরা হবে জাহান্নামের আদিবাসি। তাহলে আপনারা গাইডেন্স কিন্তু পেয়ে গেলেন। কোত্থেকে আসবে গাইডেন্স। অনেকে বলে কুরআনই যথেষ্ট হাদিসের প্রয়োজন নাই। মূল কথা হলো এই এই কথার মধ্য দিয়ে আপনি কুরআনকে অস্বীকার করেছেন। আমি আপনাকে দেখাচ্ছি সূরা হাশরের ৭ নাম্বার আয়াত আল্লাহপাক বলছেন রাসূল যা দেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে যা দেন তোমরা সেটা গ্রহণ করো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তার থেকে বিরত থাকো। এইযে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেন এবং যার থেকে বিরত থাকতে বলেছেন এটা কোথায় দেয়া আছে। হাদিসে। আপনি যদি হাদিস না মানেন তাহলে কুরআনের এই আয়াত ফলো করতে পারছেন না। এমন অনেক বিধান আপনি পাবেন যেগুলোর মূলনীতি কোরআনে দেয়া আছে ব্যাখ্যা কুরআনে দেয়া আছে।
কুরআন ও হাদিসের একই উৎস
আমাদের অনেকের একটা ধারণা যে হাদিস এবং কুরআন আলাদা আলাদা উৎস। আসলে এমন বিষয়টা নয়। কুরআন এবং হাদিস একই উৎস থেকে এসেছে। একই সত্তার পক্ষ থেকে আশা অভ্রান্ত সত্যের উৎস। আল্লাহ পাক বলছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মনগড়া কোন কথাই বলেন না। তিনি সেই কথাটাই বলেন যেটা আল্লাহ তাকে ওহী করেন। রাসূল যে বলেছেন দাড়ির কথা টুপির কথা এই যে পাগড়ীর কথা টাকনুর উপরে কাপড়ের কথা এগুলো মন থেকে বলেন নাই নিজের ইচ্ছা থেকে বলেন নাই ।আল্লাহ পাকের আদেশ এসেছে বলেই বলেছেন। প্রতিটা কথাই আল্লাহর ওহী। এখানে কুরআন এবং হাদিস দুইটা শাস্ত্র হয়েছে। আল্টিমেটলি দুইটাই কিন্তু একই উৎস থেকে আসা। এখন আপনি গাইডিয়ান পাবেন আপনি কি কি ফলো করে চলবেন। এখন এই কুরআন এবং হাদিস কি শুধু হাতে ধরিয়ে দাওয়াই যথেষ্ট। এখন একটা কোরআনের বই দিয়ে দিলাম একটা হাদিসের বই দিয়ে দিলাম ব্যাস এখন জীবন চলেন। পারবেন পারা যায় না। এটা কি এত সহজ। কোরআন ধরিয়ে দেওয়া হলো হাদিস ধরিয়ে দেওয়া হল। আপনাকে বলা হলো এখন আপনি চলেন। এটা কি হবে হবে না। এই কারণে আল্লাহ রব্বুল আলামিন শুধু হেদায়েত পাঠিয়ে ক্ষান্ত হন নাই। নবী রাসুল ও পাঠিয়েছেন। আল্লাহ পাকের দয়া দেখেন। নবী রাসুল পাঠাতে পাঠাতে কেউ বলে এক লক্ষ ২৪ হাজার কেউ বলে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার। সংখ্যাটা যাই হোক না কেন। সর্বশেষ নবী হিসেবে আপনি পাচ্ছেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্য দিয়ে কুরআন আমল করে দেখিয়েছেন। কিভাবে কুরআন সুন্নাহ আমল করে জান্নাতে যেতে হবে। তাহলে আপনি রব কে চিনলেন গাইডিয়ানস পেলেন এবং রাসুলও পাচ্ছেন আপনি একজন পথপ্রদর্শক পাচ্ছেন আপনি। কাকে ফলো করবেন কিভাবে ফলো করবেন। আল্লাহ পাক নামাজ পড়তে বলেছেন যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে নামাজ পড়তে পারবো? রাসূল যেভাবে নামাজ পড়েছেন সেই ভাবেই পড়তে হবে। রোজা রাখতে বলেছেন আমি কি নিজের ইচ্ছামত রোজা রাখতে পারব। পারবো না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে রোজা রেখেছেন সেইভাবেই রোজা রাখতে হবে। যাকাত দিতে বলেছেন আমি কি নিজের ইচ্ছামত যাকাত দিতে পারব। রাসূল যেভাবে দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই দিবেন। আপনার জীবনের প্রতিটা কাজ একদম ঘুমানো থেকে শুরু করে ঘুম থেকে ওঠা খাওয়া দাওয়া করা কাপড় পড়া নামাজ পড়া জিকির করা আপনার তাজবীদ তাহালির তেলাওয়াত ইলম অর্জন করা আমল করা আপনার ব্যবসা আপনার চাকরি রাষ্ট্র পরিচালনা করার সমাজ পরিচালনা করা সবকিছুর একটা গাইডেন্স দেওয়া আছে। কোরআন সুন্নাতে গাইডেন্স আছে এটা প্র্যাকটিক্যালি আমল করে কে দেখিয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এবং তার সাহাবীগন তাকে ফলো করেছেন। এই যে আপনি গাইডেন্স পেয়ে গিয়েছেন। আপনার দুনিয়ার জীবন চলাটা কি হলো সহজ হলো। এখন যদি কোন ব্যক্তি তার জীবনের ২৪ ঘন্টাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহমোতাবেক ঢেলে সাজায়। সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে ইনশাল্লাহ। এবং সেই ইনশাল্লাহ হাউজে কাউসারের পানি পাবে। রাসুলের সো সুপারিশও পাবে। অনন্ত কাল সে জান্নাতে চিরস্থায়ী হবে ইনশাআল্লাহ।
ব্যক্তির আত্মসংশোধন ও তাকওয়া
এবং সে ইনশাআল্লাহ হাউজে কাউসারের পানীয় পাবে। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুপারিশও পাবে। অনন্ত কাল সে জান্নাতে চিরস্থায়ী হবে ইনশাল্লাহ । এখন আপনি পাচ্ছেন এখানে রব কে চেনার দর্শন। একজন গাইডেন্সের দর্শন। একজন পদপদর্শকের দর্শন। আরো পাবেন আপনি এখানে ব্যক্তি দর্শন পাবেন এখানে। গাইডিয়ানস দেওয়া আছে রাসুলকে পাঠানো হয়েছে এখন আপনার আমার দায়িত্ব কি? একটা আয়াত আপনাকে জবাব দিবে। একটা আয়াত বলছি সুরাতুল আল ইমরান এর ১০২, তিন নাম্বার আয়াত পড়ে দেখেন আল্লাহ তায়ালা বলছেন হে মুমিনগণ। আপনাকে আমাকে ইন্ডিভিজুয়ালি বুঝানো হচ্ছে। সব বাধ্য এখন আপনি আর আমি চিন্তা করব। তুমি আল্লাহকে ভয় কর। এমনভাবে ভয় করো যেভাবে ভয় করা দরকার। মানে পরিপূর্ণ তাকওয়া অবলম্বন কর। পরিপূর্ণ মুসলিম বা মুসলমান না হয়ে তোমরা মৃত্যুবরণ করো না। যে ব্যক্তি দর্শন পাচ্ছেন আপনারা আমাকে এখন কি করতে হবে আমাকে এখন পরিপূর্ণ মুসলিম হতে হবে। মুসলিম হতে হলে কি করতে হবে রব কে চিনতে হবে চিনলাম গাইডেন্স নিয়ে মানতে হবে মানলাম। আমার কিতাব লাগবে পেলাম। আমার ব্যাখ্যা লাগবে পেলাম। এবার আমি ব্যক্তি দর্শন পেলাম যে আমাকে নিজেকে এখন মুসলিম হতে হবে। মানুষের কথা পরে আমার পরিবার পরে আমার রাষ্ট্র পড়ে সমাজ পড়ে । সবার আগে নিজে আমি। কারণ আমাকে আমার রব কে ফেস করতে হবে একা একা। আল্লাহ পাক সূরা মারিয়ামে বলেছেন এই পৃথিবীতে যত মানুষ আছে এরা সবাই একা একা একজন একজন করে আল্লাহর কাছে হিসাব দিবে। একসাথে ১০ জন হিসাব দিবে না। চিন্তা করতে পারেন পৃথিবীতে কত কোটি মানুষ চলে গেছে। এবং তাদের মাঝখানে কোন দোভাষীও থাকবে না। তারা ভাষা বুঝবে। মানুষের মউতের সাথে সাথে ভাষা কি হয়ে যাবে আরবি। এজন্য জীবন থাকতে আরবিটা শিখেন আরবিটা শিখলে কুরআন বুঝতে পারবেন উপলব্ধি করতে পারবেন। আল্লাহ পাক তৌফিক দান করুন আমীন। দেখুন প্রথমে ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে। সবকিছু বাদ দেন। আল্লাহ ওকে ভয় করো এবং ভয় করার মতো ভয় করো। পরিপূর্ণ মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। পরিপূর্ণ মুসলিম হতে হলে আমাকে কি করতে হবে। এক কথা কুরআন এবং হাদিসে যা আছে সবকিছু মেনে চলতে হবে। এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ফলো করতে হবে। এটা ফলো করতে গিয়ে যদি আমি হোঁচট খাই। তাহলে কি হবে আবার উঠবেন আবার অজু করবেন আবার নামাজে দাঁড়াবেন। আবার তওবা করবেন। জীবনের একটা পর্যায়ে মনে করেন আপনি হেদায়েতের পথে ছিলেন না তাহলে কি করবেন। তখন আল্লাহ পাক কে বলবে আল্লাহ যা নামাজ কাজা করেছি যা রোজা কাজা করেছি আমাকে মাফ করে দাও। আগামী দিনগুলোতে ইনশাল্লাহ আমি নামাজ রোজা কাজা করব না। আগামী দিনগুলোতে আমি মৃত্যু পর্যন্ত কোরআন সুন্নাহ মেনে চলবে ইনশাল্লাহ। তওবা করে ফিরে আসেন। ব্যক্তি ভালো হলে পরিবার ভালো হবে না। পরিবারগুলো ভালো হয়ে গেলে সমাজটা ভালো হবে না ইনশাল্লাহ তায়ালা। আর এই রাষ্ট্রটা কি সমাজের বাহিরে নাকি ভিতরে। সমাজ দিয়ে রাষ্ট্র হয় নাকি রাষ্ট্র দিয়ে সমাজ হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়েন সমাজবিজ্ঞান পড়েন। সমাজ নিয়ে কিন্তু রাষ্ট্র হয়।
শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের দিকনির্দেশনা
আগে কিন্তু বর্তমান সময়কালে সমাজের গ্লোবাল কাঠামোটা ছিল না কিন্তু।প্রাচীন গ্রীকের দর্শন পড়েন ফিলোসফি পড়েন ওখানে কিন্তু ছোট ছোট নগর রাষ্ট্র ছিল। ছোট ছোট নগর রাষ্ট্র ছিল। এগুলোই তখন রাষ্ট্রের ভিত্তি ছিল। মদিনা কি আগে এত বড় ইউনাইটেড রাষ্ট্রের মত ছিল। ছোট্ট একটা কাঠামো ছিল ওইটাই রাষ্ট্র ছিল। কুরাইশ রা যে গোত্র কেন্দ্রিক থাকতো ঐটাই ওই সময়কার রাষ্ট্রকেন্দ্রিক কাঠামো। তো সমাজ নিয়ে রাষ্ট্র হয়।সো এখানে আমরা যদি সমাজের মানুষই ঠিক না হই। উপরের দিকে আঙ্গুল তুলে লাভ হবে হবে না। কারণ এই মানুষগুলো তো আসমান থেকে টপকে পড়ে নাই। এই মানুষগুলো সমাজ থেকে উঠে আসছে। এজন্য ব্যক্তির কথা আল্লাহপাক আগে বলেছেন। যে তোমরা পরিপূর্ণ মুসলমান না হয়ে মারা যেওনা। আর সূরা মায়েদা আল্লাহ পাক বলছেন হে মুমিনগণ তোমরা নিজেরা নিজেদের নফসের খবর আগে নাও। তোমরা যদি হেদায়েতের উপরে থাকো যারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে। পথভ্রষ্টতা তোমাদের কোন ক্ষতি করবে না। কেউ যদি পথভ্রষ্ট হয়ে যায় আপনার কোন সমস্যা না আপনি আগে নিজে ঠিক থাকবেন। পরে আপনি তাকে ঠিক করতে যাবেন। যখন আপনি তার যোগ্য হবেন তখন। এমন জামানার কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে জামানায় সত্য মিথ্যা হয়ে যাবে মিথ্যা সত্য হয়ে যাবে। আমানত থাকবে না। হক বাতিল হয়ে যাবে।ন্যায় অন্যায় হয়ে যাবে অন্যায় ন্যায় হয়ে যাবে। এই সময়ের কথা নবীজি বলেছেন। সাহাবী জিজ্ঞেস করছেন ঐ সময় আমি কি করবো ইয়া রাসুলুল্লাহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ওই সময় তুমি তোমার নিজের নফসের খবর নাও। তুমি নিজের ঘরে থাকো বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাহিরে যেও না। মানুষের সাথে কম মেলামেশা কর বেশি কথা বলতে যেও না। বাসায় থাকো এবং নিজের পাপের জন্য কান্না করতে থাকো ইনশাল্লাহ আল্লাহ পাক তোমাকে মাপ করে দিবেন।তো ঐরকম জামার নাকি এখন আসে নাই। বুঝতে পারেন না পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে। এখানে সবার আগে আমাদের কর্তব্য হচ্ছে নিজেদেরকে ঠিক করা বা ঠিক রাখা নিজের নফসের যত্ন নেওয়া নিজের যত্ন নেওয়া। এরপরে আপনি চলে যাবেন আপনার শিক্ষাক্ষেত্রে। আপনি শিক্ষা দর্শনে যাবেন। আমি সব সময় বলি আপনারা যেখানে পড়াশোনা করছেন সেখানে পড়ালেখা করবেন কোন সমস্যা নাই। কিন্তু আপনাকে কুরআন এবং হাদিসের কিছু বেসিক জিনিস নলেজে রাখতে হবে। এই জন্য আমি কিছু সাবজেক্টের কথা বলি যে কুরআন সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে। আরবি ব্যাকরণ একটু টুকটাক পড়াশোনা করতে হবে। তাফসীরের কিছু বই পড়বেন। পাশাপাশি আপনি ইসলামের ইতিহাস পড়বেন। আরবি অর্থনৈতিক পড়বেন জিও পলিটিক্স পড়বেন। এভাবে সাবজেক্ট পুরোটাই ভাগ করে নিবেন। এমন না আপনি মেডিকেল সাইন্সে পড়া বাদ দিয়ে এসে এখানে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে যাচ্ছেন। সবাই এটা পারবে না এবং সবাই এটা প্রয়োজনও নাই।সব সেকশনে ভালো মানুষের দরকার আছে। অতএব সবাইকে আলেম বক্তা দায়ী হতে হবে এটা জরুরী না। আপনি যেখানে পড়াশোনা করছেন সেখানেই করবেন। কিন্তু বেসিকটা ঠিক করবেন কুরআন সুন্নাহর বেসিক টা ঠিক রাখবেন কুরআন সুন্নাহর বেসিক পড়াটা করে।
হালাল রিজিক ও সুদ থেকে বেঁচে থাকা
তাহলে আপনার শিক্ষার দর্শন হবে কি ওহীর জ্ঞানটা শিখতে হবে। আপনি পড়ুন আপনার সেই রবের নামে যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। মানে আপনাকে সেই জ্ঞান অর্জন করতে হবে যা আপনাকে আপনার সৃষ্টিকর্তার কাছে পৌঁছে দিবেন ইনশাআল্লাহ। এমন জ্ঞান অর্জন করতে যায় না যেই জ্ঞান অর্জন করলে সৃষ্টিকর্তা থেকে দূরে সরে যাবেন। এই জ্ঞান অর্জন করতে যাইয়েন না। এবার আসেন আপনি মুসলিম হচ্ছেন এলিম অর্জন করছেন এবার কি লাগে? রিজিক লাগে তাই না। খাবার দাবার চলতে হবে পৃথিবীতে আমাকে চলতে হবে। এখন চলার জন্য আপনার রিজিক লাগবে হয় ব্যবসা নয়তো চাকরি বা অন্য কোন সেক্টর আপনাকে চলতে হবে। এখানে কি ইসলাম কোন কথা বলে নাই। অবশ্যই বলেছেন। ইসলাম আমাদেরকে এখানে কি বলেছেন? কুরআন এখানে কি বলেছে? আমাদেরকে অর্থনীতির কি দর্শন দিচ্ছে কোরআন? আল্লাহ পাক সহজ সরল কথা বলেছেন যে অর্থনৈতিক জীবনে চলার ক্ষেত্রে রিবা থেকে বেঁচে থাকবে। তোমার সম্পত্তাকে সংকুচিত করে ফেলবে। আর সদকা দান যাকাত এরা তোমার সম্পর্কে বৃদ্ধি করতে থাকবে। তার মানে ইসলামের অর্থনৈতিক একটা ভিত্তি পেলাম যাকাত দান সদাকা। আর রিবা থেকে দূরে থাকবেন। আল্লাহ পাক আরো বলছেন যে আল্লাহ পাক ব্যবসা কে হালাল করেছেন এবং রিভাকে হারাম করেছেন। তারমানে আপনি একটা গাইডেন্স পেলেন আপনাকে ব্যবসা করতে হবে। আপনি ব্যবসা করেন কোন সমস্যা নেই কিন্তু আপনাকে সুদে যাওয়া যাবে না। সুদে গেলে প্রবলেম। এ মমিনগণ আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা সুদের অবশিষ্ট সব অংশগুলো ছেড়ে দাও। শুধু লভ্যাংশ গুলো ছেড়ে দাও। চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না। তোমরা যদি এটা না ছাড়ো তাহলে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে রাখো। এখানে আপনি জীবনে চলার পথের রিজিকের একটা গাইডেন্স পেলেন। ব্যবসা করবেন আলহামদুলিল্লাহ চাকরি করবেন আলহামদুলিল্লাহ আপনার দান সদগা করবেন যাকাত দিবেন এগুলো সব পারমিটেড কিন্তু আপনি রিভায় যেতে পারবেন না।মজুতদারি কালোবাজারি দুর্নীতি মাপে কম দিতে পারবেন না। মানে আল্লাহপাক আপনাকে জীবনের চলার পথে রিজিকের সোর্সের ব্যাপারেও গাইডেন্স দিলেন। এখানে আমরা যারা এখনো সুদের সাথে সম্পৃক্ত আছি তারা আজকে তওবা করে ফিরে আসবে ইনশাল্লাহুতালা। কারণ আপনার তাকবীরে যেই রিজিকটা আছে এই রিজিক শেষ না করে আপনি পৃথিবীতে কে বিদায় নিবেন না। আপনার জন্য চয়েজ দুইটা। আপনি হালাল পথে যাচ্ছেন নাকি হারাম পথে যাচ্ছেন। হারাম পথ চাইলে আপনাকে আল্লাহপাক ওই পথে দিবেন। আপনি রিজিক শেষ করবেন মৃত্যুবরণ করবেন। আর হালাল পথ চাইলে আপনি আল্লাহ পাক ওই পথে আপনাকে দিবেন। শেষ করবেন তারপরে মৃত্যুবরণ করবেন তার আগে মৃত্যুবরণ করবেন না। আল্লাহপাক কথাগুলো বোঝার তৌফিক দান করুন আমীন। এই যে ব্যবসা-বাণিজ্য চাকরি-বাকরি হয়ে গেল। এখন কি আপনার পরিবারের ব্যাপার আছে। আপনার পরিবারের কিছু ব্যাপার আছে। এখন পরিবার গঠন করবেন মাশাল্লাহ।এখানে কি কুরআন পরিবারের ব্যাপারে কি আল্লাহ পাক গাইডেন্স দেয় নাই? অতএব সুরা তাহরিম এর ৬ নাম্বার আয়াত পড়ে দেখেন আল্লাহপাক বলছেন হে মুমিনগণ তুমি নিজে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো এবং তোমার পরিবারবর্গ সকলকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও।
দ্বীনদার পরিবার গঠন ও সন্তান প্রতিপালন
এখন পরিবার গঠন করতে হলে আমাকে এটা মেনে চলতে হবে। এমন পরিবার গঠন করতে হবে যে পরিবারের সদস্যরা আল্লাহকে ভয় করে। রাসূলের আদেশ মেনে চলে। নামাজ কালাম ঠিকমতো পরে। দ্বীনের বুঝ আছে। ফরজ ওয়াজিব সুন্নত মুস্তাক মেনে চলে। এমন পরিবার গঠন করা ছাড়া অন্য জায়গায় যাওয়া চলে।আমাদেরকে এমন পরিবার গঠন করতে বলেছেন আল্লাহ পাক যে পরিবারকে তুমি জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাবে। তো এখানে আমি পারিবারিক দর্শন পেলাম। বিয়ে করার সময় অবশ্যই দ্বীন -দারিতাকে প্রাধান্য দিবেন। বাকি বিষয়গুলো পরে। ।রুপস সৌন্দর্য টাকা-পয়সা বংশ পরে। আগের দ্বীন দারিতে দেখবেন। ছেলের ক্ষেত্রেও মেয়ের ক্ষেত্রেও। বিয়েটা কে সহজ করবেন কঠিন করবেন না। বিয়ে যত সহজ হবে জেনা কমে যাবে। বিয়ে যত কঠিন হবে জেনা ততবাড়তে থাকবে। এখনকার যুগটা জেনার যুগ। ঘরে ঘরে যেনা পরক্রিয়া চলছেই।। রেপ ধর্ষণ এখন একটা কমন সমস্যা। পর্নোগ্রাফি দিয়ে যুবক সমাজের মস্তিষ্ক ধোলাই করে দিয়েছে। এরা এখন জানোয়ার হয়ে গিয়েছে। যাকে তাকে যেখানে সেখানে রেপ করে ফেলছে । ইন্টার্নালী তারা করাপটেড ইন্টার্নাল তারা বিষ হয়ে গেছে। একই সাথে সব বিষয়ে আমরা উপযুক্ত ইসলামিক শাস্তি নিশ্চিত করতে পারছি না এর জন্য এরা পার পেয়ে যাচ্ছে এরা লাই পেয়ে যাচ্ছে। তো সব মিলিয়ে আপনার পরিবারকে যখন আপনি গঠন করবেন। দ্বীন - দারি টাকে প্রাধান্য দিবেন পর্দা কে প্রাধান্য দিবেন।নামাজ পড়ে কিনা ফরজ ওয়াজিব মেনে চলে কিনা এগুলো প্রাধান্য দিবেন। এরপরেও যদি কোন সমস্যা ফিল হয় তখন সবর সাথে ধৈর্যের সাথে ইসলা এবং সংশোধনের মধ্য দিয়ে আপনার জীবন করতে থাকবেন ইনশাল্লাহুতালা। আল্লাহপাক সবাইকে আদর্শ পরিবার গড়ে তোলার তৌফিক দান করুন আমিন। এবং এই পরিবারে আপনার সন্তান-সন্ততি হবে। আপনি আমি যে পরিবেশটা পাইনি আপনার আমার বাচ্চাকে সে পরিবেশটা দিতে হবে। তো আপনার সন্তান সন্ততি পালনের দর্শনটা কোথায় কোরআনে। সূরা লোকমানের আপনি ১০ থেকে ২০ এই আয়াতগুলো পড়ে দেখেন। আল্লা রব্বুল আলামীন এখানে পুরো গাইডেন্স দিয়ে দিয়েছেন। বাচ্চাকে কিভাবে মানুষ করবেন কি শিক্ষা দিবেন কি শিখাবেন না সব। লোকমান আলাইহিস সালাম তার বাচ্চাকে কে শিক্ষা দিচ্ছেন কখনো শিরিক করোনা সৎ কাজের আদেশ করো অসৎ কাজের নিষেধ কর শবর কর মানুষ ভালো মন্দ বলবে। পিতা মাতার অবাধ্য হয়ো না। পিতা-মাতা যদি তোমাকে রবের বিরুদ্ধে নিয়ে যায় তাহলে সবর এর সাথে আচরণ কর পিতা-মাতার সাথে কটু কথা বলোনা। তাদের কথা মেনে নিও না। তারা যদি শিরিক করতে বললে ওদের কথা মেনে নিও না কিন্তু তাদের সাথে ভালো আচরণ করো। এখানে আপনাকে পুরো গাইডিয়ান্স দিয়ে দেওয়া হবে কিভাবে সন্তানকে মানুষ করবেন। এখনকার প্যারেন্টিং এর অনেক বই আছে এগুলো কিনে নিবেন। ইসলামিক ফ্যামিলি গড়ে তুলুন আল্লাহপাক তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। সর্বশেষে যে বিষয় চলাফেরা করছেন সমাজ নিয়ে কি ইসলাম কিছু বলে নাই। এক বাক্যে আমি বলছি সমাজের বিষয়গুলো কোথায় আছে। কুরআনের কারীমের মধ্যে একটা সূরা আছে সূরা হচ্ছে সূরাতুল হুজুরাত। এই সূরার হুজুরাত পুরোটা পড়ে ফেলেন। দেখবেন একটা সমাজ কিভাবে চলবে এবং চলা উচিত আল্লাহ পাক এখানে সবকিছু বলেছেন। একটা বিষয় আল্লাহ পাক বাদ দেন নাই। শুধুমাত্র এই সূরার ওপরে যদি বাংলার মুসলিম সমাজ আমল করতে পারে ইনশাল্লাহুতালা কোন অন্যায় অবিচার জুলুম থাকবে না ইনশাল্লাহুতালা। ইনশাল্লাহ পুরো সোসাইটি মিলে জান্নাতে যাবে ইনশাল্লাহ। আমরা আমাদের সমাজকে ভালোবাসবো অবশ্যই আমাদের দেশকে ভালোবাসবো। এবং আমরা চাবো যে পুরো কমিউনিটি নিয়ে এবং সমাজকে নিয়ে জান্নাতে যেতে পারি এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করতে পারি। এই কারণে আমাদের নৈতিক নৈতিক দায়িত্ব এই কোরআন থেকে এই সল্যুশন গুলো মানুষের সামনে তুলে ধরা। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে যেন আদর্শ সমাজ গড়ে তোলার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন এবং সূরা হুজুরাতের ওপর আমল করার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন।
সারসংক্ষেপ ও খিলাফতের দায়িত্ব
সর্বশেষ একটা পয়েন্ট বলে শেষ করছি। আমি এতক্ষণ যে কথাগুলো বলেছি এই কথাগুলো সামারি করে দেই আগে। প্রথমে আমি আপনাকে বলেছি যে এই জীবনে আমরা চিরস্থায়ী নই। মৃত্যুবরণ করতে হবে। সো আমাদের হাতে সময় আছে ৫০-৬০ -১00 বছর। এই সময়টুকুতে আমি কিভাবে চলব আল্লাহর পথে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে একা ছেড়ে দেন নাই। আমরা রব কে চিনেছি আয়তাল কুরসির মধ্য দিয়ে। সূরা ইখলাসের মধ্য দিয়ে। এই রবের দাসত্ব করব কিভাবে? আল্লাহ পাক দিয়েছেন কোরআন এবং ব্যাখ্যা হাদিস সেটা ফলো করবো। কিভাবে ফলো করবো? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুযায়ী ফলো করবো সাহাবীদের মতো করে ফলো করবো। এরপরে কি হবে? এরপরে আমি ব্যক্তি জীবনকে সমৃদ্ধ করব। আমার ব্যক্তি জীবনে আমি জ্ঞান অর্জন করব আমল করব তাসকি অর্জন করব। আমার ব্যক্তি জীবনকে আমি ইসলামের পথে উৎসর্গ করব। এরপরে কি? এরপর আমিও চলে যাব অর্থনীতিতে। আমার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজন আছে। আমি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হালাল-হারাম মেনে চলব। ইকনোমিক সিস্টেমে আমি হালাল হারাম মেনে চলবো আল্লাহর বিধান মেনে চলবো। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমি আল্লাহর ওহীর জ্ঞান অর্জন করব। পরিবার গঠন করব শেখানো ইনশাল্লাহ আমি আদর্শ ইসলামিক পরিবার গড়ে তোলার চেষ্টা করব।এরপরে যদি সমাজ গঠন করতে হয় তখন গিয়ে আমি সূরা হুজুরাতের সাহায্য নিব। এর মধ্য দিয়ে আমি একটা ইনশাল্লাহ তায়ালা আদর্শ সমাজের ওল্ড মডেল পাব। সর্বশেষ যেটা হল আরো বড় সেকশন যে বড় রাষ্ট্রের কথা বলছেন রাষ্ট্রীয় কথাগুলো বলছেন বিচারের কথাগুলো বলছেন এই প্রতিটা বিষয়ের হেদায়াত কোরাআনে দেয়া আছে। এখন এই যুগে এই সময়ে এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে এই পশ্চিমাদের এই দূরত্বের সময় কতটুকু করতে পারব আমরা জানিনা। কিন্তু জেনে রাখা ভালো। যার জানার জন্য বলছি আল্লাহ রব্বুল আলামীন কুরআনূল কারীমের মধ্যে বলেছেন হে দাউদ সূরা সোয়াদ এর ২৬ নাম্বার আয়াতে বলেছেন হে দাউদ আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলিফা করেছি। আল্লাহর খলিফা কে? যে আল্লাহর বিধান মেনে চলে সেই তো আল্লাহর খলিফা। হে দাউদ আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলিফা করেছি তোমার কাজ কি? তোমার কাজ হচ্ছে মানুষের মধ্যে হকের মান দ্বন্দ্ব বিচার বিবেচনা করা। সত্যি আমি কিন্তু আগেই বলেছি সূরা কাহাফ ২৯ নাম্বার আয়াতে হোক সেটাই যেটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়। এই মানদণ্ডে তুমি মানুষের মধ্যে বিচার ফয়সালা করবা। এবং তুমি তোমার প্রবৃত্তির দাসত্ব করবে না। তাহলে এটা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। তাদের জন্য আছে প্রচন্ড যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এই কারণে যে তারা হিসাবের দিনটা ভুলে গিয়েছে। আমার তো এখানে আমরা একটা দর্শন পেয়ে গেলাম। যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে বড় লেভেলে নিয়ে যান। তখন আপনাকে কি ফলো করে সমাজ রাষ্ট্র এবং পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার ডিল করতে হবে। আমি আপনাদের থেকে বেশি জানি যে বর্তমান বিশ্বে ইম্পসিবল। বর্তমান বিশ্বে যে কাঠামো ঈসা আলাইহিস সাল্লাম এবং মাহাদি আলাইহিস সাল্লাম আসা পর্যন্ত এটা ইমপোজ করা অলমোস্ট ইম্পসিবল। তারপরে আমরা এটা জেনে রাখছি বিকজ এটা জানার অধিকার আমাদের সকলের আছে। সূরা মায়েদা পড়েন ৪৪, ৪৫, ৪৭ এই তিনটা আয়াত পড়েন।আল্লাহ পাক বলছেন যে ব্যক্তি বা যারাই আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানে অনুযায়ী ফয়সালা করছে না তারা জালেম তারা ফাসেক তারা কাফের এটা আল্লাহ বলছেন আমার কথা নয়। আল্লাহপাক আরো বলেছেন যখন তোমরা পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স এ যাবে তোমরা ইহুদি এবং নাসেরা দেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। এই আয়াতটা তেলাওয়াত করলে আমাদের মিডেল লিস্টে যারা আছে তাদের কলিজা কাঁপা শুরু হয়ে যায়। আল্লাহপাক বলেছেন হে মুমিনগণ তোমরা ইহুদী এবং নাসোরাদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। কেন বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না? কারণ এরা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ওদের দিকে মুখ ফিরায় তাহলে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত। এরকম অনেক আয়াত কুরআনে আছে। আল্লাহ পাক এই জালেম গুলোদের কে হেদায়েত করেন না। আছে যদি আল্লাহ পাক মানুষদেরকে ওই লেভেলে নিয়ে যায় তখন তার উচিত হবে তার সামর্থ্য থাকে তার ক্ষমতা থাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সেই বিধানগুলোকে ইম্পোজ করা। যেটা আমি বলে দিলাম এই দাজ্জালীয় সভ্যতায় অলমোস্ট ইম্পসিবল। তারপরও যেই ন্যায়ের কথা বলা হয়। যতটুকু পারা যায় ততটুকুর মধ্যে হক নেয় যেটা আমাদের সমাজের কল্যাণের জন্য এই ডিসিশন গুলো নিতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে কুরআন এবং হাদিস বোঝার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। ইসলামের বিধান অনুসরণ করার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে মাফ করে দিন আমিন।
সাধারণ প্রশ্ন
সূরা বাকারার ২৯ নং আয়াতে আল্লাহ কী বলেছেন?
লেখায় বলা হয়েছে, আল্লাহ মৃত অবস্থা থেকে জীবন দিয়েছেন, এরপর আবার মৃত্যু হবে এবং অবশেষে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে হবে। এই আয়াতকে জীবন-দর্শনের ভিত্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আল্লাহ মানুষের কাছে কোন বিষয় দেখতে চান?
লেখার মতে, আল্লাহ দেখতে চান দুনিয়ার জীবনে কে আমলে সর্বোত্তম, শুধু সাধারণ বা এভারেজ মুসলিম হওয়া যথেষ্ট নয়। এই পরীক্ষার জন্যই জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করা হয়েছে বলে উল্লেখ আছে।
লেখা অনুযায়ী প্রথম কাজ কী?
লেখায় বলা হয়েছে, প্রথম কাজ হলো রব কে চেনা, এবং কুরআনকে নিজের কথার চেয়ে আগে কথা বলতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।