Islamবাংলা

জুমার খুতবা

আবু জাহেলকে নবীজির ওসিয়ত ও তাকওয়া

আবু জাহেল রাদিয়াল্লাহু আনহু বিশিষ্ট সাহাবী তিনি বলেন আমি বললাম হে আল্লাহর নবী ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কিছু ওয়াসিহত করুন আমাকে কিছু ওয়াসিয়ত করুন নাসিহাত না ওয়াসিহত। যেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয় ওইটার নাম হচ্ছে ওয়াসিহাত।নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হে আবু জাহেল আমি তোমাকে ওয়াসিহাত করছি আল্লাহকে ভয় করার। কারণ আল্লাহকে ভয় করাই হচ্ছে এমন বিষয়ে যা তোমার প্রত্যেকটা কাজকে সুন্দর করে দিবে ইনশাল্লাহ। কিন্তু আবু জাহেল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন আমি বললাম আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিয়েন ইয়া রাসুলুল্লাহ আরো কিছু বলুন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমার ওপর কোরআন তেলোয়াতকে অবধারিত করে নাও। এবং আল্লাহ রব্বুল আলামিনের জিকির বা স্মরণ করার বিষয় টাকে অবধারিত করে নাও। কারণ এই দুটো কাজের মধ্য দিয়ে আসমানে তোমাকে স্মরণ করা হবে। আসমান বাসী তোমাকে স্মরণ করবে। এবং এই দুইটা কাজের বদলাতে পৃথিবীতে তোমাকে নূর দেওয়া হবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে নূর বা আলো দেওয়া হবে। আমি বললাম আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দেন ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বলছেন তোমার ওপর অবধারিত করে নাও দীর্ঘ নীরবতা।দীর্ঘ সময় চুপ করে থাকার বিষয়টা তোমার ওপর অবধারিত করে নাও। কারন এই কাজটার মধ্যে দিয়ে শয়তান বিতাড়িত হয়ে যায় সুবহানাল্লাহ । দীর্ঘ সময় চুপ থাকলে তোমার দ্বীনের প্রতিটা কাজ করার ব্যাপারে আল্লাহ তোমাকে সাহায্য করবেন। বা দীর্ঘ নিরবতার ব্যাপারটা দ্বীনের প্রতিটা কাজ করার জন্য তোমাকে সহযোগিতা করবে। আমি বললাম ইয়া রাসুলুল্লাহ আমাকে আরো কিছু বাড়িয়ে দেন আরো কিছু বলুন আরো কিছু ওসিহাত করুন। তিনি বললেন সাবধান থাকবে বেশি বেশি হাসবে না। এখন যারা অধিক বেশি হাসাহাসি করে তাদের কলব মরে যায়। তাদের কলবের মৃত্যু ঘটে। এবং চেহারার মধ্যে নূর চলে যায়। চেহারায় কোন জ্যোতি বা নূর থাকে না। ইয়া রাসূলুল্লাহ আমাকে আরো বাড়িয়ে দেন আরো কিছু নসিহত করুন। এবার তিনি বললেন সর্বদা সত্য কথা বলবে সত্যর উপরে থাকবে যদিও এটা অন্যের কাছে তিক্ত হয়। সত্য কথা বলবে যদিও এটা তিক্ত শোনায়। আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল আরো বাড়িয়ে দেন আমাকে। এবার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আল্লাহর পথে কাজ করার ব্যাপারে বা আল্লাহর পথে চলার ক্ষেত্রে আল্লাহর দ্বীন পালন করার ক্ষেত্রে নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করবে না। আল্লাহর ব্যাপারে নিন্দুকের নিন্দার সমালোচনার পরোয়া করবে না। আমি বললাম হে রাসুলুল্লাহ আরও বাড়িয়ে দেন আমার জন্য। যখন মানুষের ব্যাপারে তোমার নেগেটিভ কোন মন্তব্য করতে হয় বা কারো ব্যাপারে যদি নিন্দা করতে চাও এরকম ইচ্ছা জাগে মনের মধ্যে তাহলে আগে চিন্তা করবে এই দোষটা তোমার মধ্যে আগের থেকে আছে কিনা। অর্থাৎ নিজের নফসের খেয়ালটা তুমি আগে নিবে অন্যের নিন্দা করার আগে। হাদিসটা এসেছে বাই হাকি শরীফের মধ্যে এবং মিশকাতুল মাসাবীহ মধ্যে এসেছে হাদিসটা ৪১৪ এবং ৪১৫ পৃষ্ঠায়। অত্যন্ত চমৎকার একটা হাদিস। আমরা আজকে এই হাদিসটার ওপরে কিছু আলোচনা করে আলোচনা শেষ করব ইনশাল্লাহ। আবু জাহেল রাদিয়াল্লাহু আনহুর একজন বিশিষ্ট সাহাবী আপনারা জানেন। যার ব্যাপারে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আবু জাহেল তুমি খুব নরম মানুষ তাই কখনো দায়িত্ব চেয়ে নিও না।

ওসিয়ত কী ও খাস নসিহতের গুরুত্ব

কারণ তোমার ওপরে যদি দুইজন মানুষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তোমাকে যেন ছুরিবিহীন জবাই দেওয়া হল। আবু জাহেল রাদিয়াল্লাহু আনহু খুব আধ্যাত্মিক নরম মনের মানুষ ছিলেন। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খাস করে বলছেন। আমি যেমন অ্যাম ভাবে সবার উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলছি। এভাবে অ্যাম ভাববে নবীজি এই ভাবে কথাগুলো বলেননি। বরং খাস ভাবে বলেছেন পার্সোনাল নাসিহত। ইন্ডিভিজুয়ালি বলেছেন।তিনি বলছেন হে আল্লাহ রাসুল আমাকে কিছু ওসিহত করুন । ওসিয়াত মানে কি? কেউ চলে যাচ্ছে তার আগে ওসিয়ত করে।বাবা ইন্তেকাল করছে তার আগে ওসিয়ত করে যে মাকে দেখিস বোনদের খোঁজখবর রাখিস সন্তানের ব্যাপারে খোঁজখবর রাখিস ইত্যাদি এটা ওসিয়ত করা । যে কথাগুলো আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে চাই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করি। এরকম কথা বা কনভারসেশন। চিন্তা করেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাস করে আপনাকে আমাকে এই কথাগুলো যদি ডেকে নিয়ে বলতো তাহলে কেমন হতো? মনে করেন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত আছেন বা আমরা তার সাক্ষাৎ পেয়েছি। আমাদের মধ্যে কেউ একজন গিয়ে তাকে বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ আমাদেরকে কিছু ওসিহত করেন। আমাকে খাস করে কিছু ওছিয়ত করেন। তখন এই ওসিয়ত গুলো স্পেশাল হবে। এবং আপনি আমি কখনো চাইবো না জীবন চলে গেলেও কোন একটা আমরা ছেড়ে দেই তাই না। আবু জাহেদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এই সুযোগটা নিয়েছেন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন যে আমি তোমাকে সর্বপ্রথম ওসিয়ত করছি তুমি আল্লাহকে ভয় কর। তাকওয়া কি জিনিস? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন এই তাকওয়াটাই সমস্ত কাজের সৌন্দর্য বহন করবে তোমার জীবনে। তুমি যতটা কাজ করবে প্রত্যেকটা কাজ যদি আল্লাহকে ভয় করে করো। প্রত্যেকটা কাজ তোমার জীবনের সৌন্দর্য বহন করবে ইনশাল্লাহু তায়ালা। খুব সংক্ষিপ্ত আকারে বলতে পারি। আল্লাহ রব্বুল আলামীনের তাওহীদের সাথে কাউকে শরিক না করা। এককথায় আল্লাহর সাথে শিরিক না করার নামে হচ্ছে তাকওয়া। আল্লাহ এক আল্লাহ অদ্বিতীয় তিনি মহাবিশ্বের স্রষ্টা আমাদের স্রষ্টা। সৃষ্টিকর্তার রিজিকদাতা পালনকর্তা জীবন মৃত্যুর মালিক বিধানদাতা। এ প্রত্যেকটা কনসেপ্ট আল্লাহর নামে খাস মনে করার নামই হচ্ছে তাওহী। আর এখানে যদি আমরা কাউকে সমপক্ষে দাঁড় করি তাহলে এটা শির্ক হয়ে যাবে। এই শিখতে তিন ভাবে হতে পারে। মানুষের চিন্তার মাধ্যমে শিরক হতে পারে। কেউ যদি মনে করে মহাবিশ্বে কোন স্রষ্টা নাই তাহলে শিরিক হবে। কেউ যদি মনে করে স্রষ্টা আরো একজন আছে বা একাধিক আছে তাহলে শিরক হবে। কেউ যদি মনে করে আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদত পাওয়ার যোগ্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা করা যায় নাউজুবিল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া কেউ প্রয়োজন পূরণ করতে পারে কেউ সন্তান দিতে পারে। কেউ কল্যাণ করতে পারে কেউ অকল্যাণ করতে পারে ইত্যাদি। বা আল্লাহ ছাড়া কেউ বিধান দেওয়ার মালিক। এরকম কনসেপ্ট যার মনের মধ্যে আছে তা হচ্ছে আকিদাগত শিরক বা চিন্তা গত শিরক।আমি কি বুঝাতে পারছি? দুই নাম্বার কাজের শিরক।কেউ যদি আল্লাহকে সিজদা না করে অন্য কাউকে সিজদা করে সে কর্মগত শিরক করেছে। আল্লাহ পাকের হালাল কে কেউ হারাম করে নেয় সে কর্মগত শিরক করেছে। আল্লাহ পাকের হারামকে কেউ যদি হালাল করে নেয় সে কর্মগত শিরক করেছে।

শিরকের ভয়াবহতা ও তওবার গুরুত্ব

আল্লাহর কাছে দোয়া না করে মৃত মানুষের কাছে দোয়া করে শিরক করেছে। এবং কাজ করতে গিয়ে শিরক করেছে । এবং আল্লাহর নামে কসম না করে অন্য কারো নামে কসম করলেও শিরক হয়ে যায়। অনেক সময় আমরা হাতের মধ্যে রশি পরে পাথর পরি আরো অনেক কিছু করি এবং আমাদের বিশ্বাস হয় এগুলো আমাদের উপকার করতে পারবে অপকার করতে পারবে তাহলে শিরক হয়ে যাবে। সন্তান আল্লাহু দেয় আমরা যদি মনে করি মাজারে গিয়ে দোয়া করলে সন্তান হয়ে যাবে তাহলে শিরিক হয়ে যাবে। শিরিক এমন একটা পাপ যে পাপ আল্লাপাক তওবা ছাড়া ক্ষমা করেন না। মৃত্যুর আগে যদি তওবা করেন মানুষ ইনশাল্লাহ আল্লাহ পাক মাফ করে দিবেন। যদি তবা না করে মারা যায় মানুষ সম্ভাবনা বেশি সেই ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে। প্রত্যেক হাজারে ৯৯৯ জন মানুষ জাহান্নামে যাবে। যাদের আমল নামায় শিরিকের পাপ থাকবে। আল্লাহ পাক সূরা নিসার মধ্যে বলেছেন আল্লাহ পাক শিরিকের গুনাহ ব্যতীত যে কোন আল্লাহ পাক মাফ করে দিতে পারেন যাকে ইচ্ছা মাফ করে দিতে পারেন। যেকোনো গুনাহ। আপনি জেনা করেছেন সেজদা করেন ফিরে আসেন আপনাকে আল্লাহপাক মাফ করে দিবেন ইনশাল্লাহুতালা। আপনার সুদ খেয়েছেন দীর্ঘদিন থেকে ফিরে আসেন তওবা করে ফিরে আসেন দীর্ঘদিন আপনি মায়ের সাথে জেনা করেছেন আপনি তওবা করে ফিরে আসেন আল্লাহ পাক আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন ইনশাআল্লাহ তায়ালা। আপনি খুন করেছেন মানুষকে যদি আপনি মনে করেন যে এটা আপনার আমার অপরাধ হয়েছে তাহলে তওবা করে ফিরে আসেন আল্লাহপাক মাফ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ তায়ালা। ব্যভিচার করেছেন বিবাহিত বিবাহিত হওয়ার পরেও জেনা করেছেন এই ব্যক্তি কিন্তু পৃথিবীতে বাঁচার কোন আর কোন অধিকার নাই। তারপরও সে গোপনে আল্লাহর কাছে যদি তওবা করে ফিরে আসে রাতের অন্ধকারে তাহলে আল্লাহ পাক চাইলে মাফ করে দিবেন ইনশাল্লাহুতালা। যেকোনো পাপ আল্লাহ পাক যাকে ইচ্ছা মাপ করতে পারেন। শিরিক ছাড়া।শিরিক করে যদি তওবা করে মারা যায় তাহলে বেশিরভাগ সম্ভাবনা হচ্ছে সে জাহান্নামে যাবে। আরেকটা ডেঞ্জারেস বিষয় হচ্ছে শিরিক করে মারা গেলে কবরে মান রাব্বুক উত্তর দিতে পারবে না। যারা মান রাব্বুক উত্তর পারবে নিঃসন্দেহে তারা কোনদিন শিরিক করে নাই। আল্লাহ পাকের তাওহীদের ওপরে ছিল। আমরা শিরিকের অনেক কিছু বুঝি ঠিকই কিন্তু আধুনিক একটা শিরিক বুঝিনা এটা কেমন আল্লাহপাক যা নাযিল করেছেন এখানে যে বিধান গুলো আছে এগুলোকে যদি কেউ ডিনাই করেন বা অস্বীকার করে। বা এ গুলোকে পাশ ফিরিয়ে অন্য কোন বিধানকে বেটার মনে করে। আল্লাহর বিধান এর চাইতে বেটার মনে করে বা সমকক্ষ মনে করে এটাও শিরিক।আল্লাহ পাক কিছু হালাল করেছেন আমরা যদি মনে করি এটা হারাম তাহলে এটাও শিরিক। সূরা তওবা ৩১ নাম্বার আয়াতটা পড়ে দেখবেন ইনশাল্লাহুতালা। তাকওয়ার প্রথম স্টেজটা হচ্ছে আমাদের শিরিক করা যাবে না। তাওহীদের থাকতে হবে ইনশাল্লাহুতালা। দুই নাম্বার আল্লাহ পাকের যত আদেশ আছে এগুলোকে মেনে চলার নামই হচ্ছে তাকওয়া। ফর এক্সাম্পল সালাত সওম হজ যাকাত সত্য কথা বলা পিতা মাতার ক্ষেত্রে খেদমত করা ইত্যাদি যত আদেশ কুরআন এবং সুন্নাহর মধ্যে আছে এগুলোকে মেনে চলা তাকওয়ার পরিচয়।

আদেশ পালন ও নিষেধ বর্জনের তাকওয়া

তিন নাম্বার আল্লাহ পাকের যত নিষেধ আছে। সেই সমস্ত নিষেধগুলোকে বর্জন করার নামও তাকওয়া। শুধু আদেশ মানলাম তা নিষেধ গুলো বর্জন করলাম না তাহলে সেটা তাকওয়ার পরিচয় নয়। আজকে আমরা মাশাল্লাহ সবাই সালাত আদায় করেছি। কালকে সকালে যদি আমি আবার সুদ লেনদেন করি তাহলে আমার মধ্যে আসলেই তাকওয়া নাই। আমি ধর্মীয় জীবনে পাক্কা মুসল্লী হলেও অর্থনৈতিক জীবনে পাক্কা সুদখোর থেকে গেছি। এ অবস্থায় যদি কেউ তওবা না করে মারা যায় মায়ের সাথে জেনার অপরাধ নিয়ে কেয়ামতের মাঠে উঠবো ইনশাল্লাহ। এটা আমার কথা না এটা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা। সহী বুখারীর হাদিস যে কোন আলেমকে জিজ্ঞেস করবেন যেকোনো মাদ্রাসায় যাবেন যেকোনো প্রকাশনীর বুখারী শরীফ কিনেন না কেন এই হাদিসটা পাবেন। যে ব্যক্তি এক দিরহাম সুদ খেলো সে ব্যক্তি যেন ৩৬ বার জেনা করল। আপনি যদি জানেন আপনার ক্লোজ কোন ফ্রেন্ড বা কোন রিলেটিভ যে জেনা করে বেড়ায় বা একাধিক মেয়ের সাথে তার সম্পর্ক আছে। আপনি নিশ্চয়ই তার দিকে সম্মানের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। আর আখেরুজ জামানা এমন একটা যুগ যেখানে সুখ থেকে বাঁচা সো ভেরি ডিফিকাল্ট। এখানে হাজারে খুব কম মানুষই সুদ থেকে বাঁচতে পারবে। যারা বেঁচে থাকবে তাদের গায়ে এসে সুদের ছিটা ফোটা লাগবেই লাগবে। কারণ পুরো বিশ্বের ইকোনমিক সিস্টেমটাই হচ্ছে সুদভিত্তিক। এটা পরিপূর্ণরূপে ইসলামিক ধাঁচে সাজানো এখন সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করতে পারি। সম্ভব কখন হবে ? যখন শেকর উপরে আসবে। আর শেকর কখন উপরে আসবে? যখন মালহামা হবে। আর মালহামা কখন হবে? যখন মদিনার গুরুত্ব কমে যাবে এবং জেরুজালেমের গুরুত্ব বেড়ে যাবে। আর যখন আল মাহাদী আসবে এবং ঈসা আলাইহিস সাল্লাম আসবেন তখন পৃথিবীতে ইনশাল্লাহু তায়ালা ইসলাম ব্যতীত কোন কিছুই বাকি থাকবে না। তবে এখন কি করবেন? এতোটুকুই করবেন তোমরা সাধ্যমতো আল্লাহকে ভয় কর। আপনার সাধে যতটুকু কুলায় ততটুকুই দূরে থাকবেন। পারাত্যপক্ষ চেষ্টা করবেন সুদ যেন আপনার গায়ে না লাগে।আল্লাহ পাক বোঝার তৌফিক দান করুন আমীন।বলছিলাম আল্লাহ পাকের নিষেধ গুলোকে বর্জন করার নাম তাকওয়া। নামাজ পড়ছি রোজা রাখছি যাকাত দিচ্ছি না এদিকে সুদ খাচ্ছি। হারাম রিলেশনশিপে আছি। বা পরকীয়ায় লিপ্ত আছি। মানুষের সম্পদের অধিকার দিচ্ছি না,। ব্যবসা করছি। আর ব্যবসা আমরা যারা করি তারা বেশি ভাগে মিথ্যা কথা বলি। আমরা ব্যবসা যারা করি ম্যাক্সিমাম মিথ্যা কথা বলি। মিথ্যা কসম করি। আমাদের এই মিথ্যা কসম আর প্রতারণার কারণে। জালেম শাসকের শাসন চাপিয়ে দেওয়া হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে। এটা হাদিসে এসেছে। যখন ব্যবসায়ীরা প্রতারণা করবে মিথ্যা কথা কসম করে পণ্য বিক্রি করবে এবং মাপে কম দিবে সিন্ডিকেট করবে তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে দুইটা আজাব আসবে। এক জালেম বড় শক্তিকে চাপিয়ে দেওয়া হয়। যারা এদের উপর জুলুম করবে। দুই সমাজের মধ্যে দুর্ভিক্ষ নেমে আসে। এগুলো মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা বদনামের কোন সুযোগ নাই।

সৎ ব্যবসা ও সমাজে ইসলাম পালনের চিত্র

আজ হোক বা কাল হোক এগুলো পড়ে যাবে ইনশাল্লাহুতালা যদি না আমরা এগুলো থেকে সরে আসি। আর যারা আমরা ব্যবসা করছি তারা সবাই মিথ্যা কথা বলে ম্যাক্সিমাম আমি মিথ্যা কথা বলি। এবং মনে করি ব্যবসা এগুলো মিথ্যা কথা বলার জায়েজ। এটা ব্যবসার অংশ মনে করি আমরা। সৎ ব্যবসায়ী কেয়ামতের দিন নবীগণের সাথে থাকবেন। যারা সৎ ব্যবসায়ী তারা কিয়ামতের মাঠে নবীগণের সাথে হাশর করবেন। যেটা বলছিলাম ভাই শুধু আদেশ মানার নাম তাকওয়া নয় নিষেধ টা বর্জন করতে হবে। আমরা নামাজ রোজা হজ্ব যাকাত সবই করছি মাশাল্লাহ। ব্যবসায়ী জীবনে মাপে কম দিচ্ছি। ইকনোমিক লাইফে সুদ খাচ্ছি। আর পলিটিক্যাল লাইফ নিয়ে আমি কোন কথা বলতে চাচ্ছি না। সেখানে কতটুকু আল্লাহ এবং কতটুকু রাসূল আছেন আল্লাহ ভালো জানেন আল্লাহ বিচার করবেন। আমি মৌলিক কথাগুলো বলছি। দেখেন ফ্যামিলিগত ব্যাপারে দেখবেন বাহ্যিক ভাবে ইসলামিক পোশাক আছে থেকে কিন্তু ভিতরে অরজিনাল ইসলাম নাই। মেক্সিমাম পরিবারের দেখবেন পর্দা নাই। নামাজি ব্যক্তির খুব অভাব। নামাজের চিন্তা হলে ফজরের নামাজে যাবেন মসজিদে। দেখবেন সকালে ফিফটি পার্সেন্ট মুসল্লি রাই নাই নামাজের জামাতে ইল্লাহ মাশাল্লাহ । আমরা পার্শিয়ান ইসলাম ফলো করছি কিছু মানছি কিছু মানছি না। আল্লাহ বলছে এটা না পরিপূর্ণরূপী ইসলামে প্রবেশ করো, এটার নামই হচ্ছে তাকওয়া। আমি তোমাকে আল্লাহকে ভয় করার অসিয়ত করছি খাস করে অনুরোধ করছি আদেশ করছি নিয়োগ করছি। আদেশ মানার নাম যেমন তাকওয়া নিষেধ বর্জন করার নাম ও তাকওয়া। শুধু আদেশ মানলে হবেনা নিষেধগুলো বর্জন করার চেষ্টা করতে হবে। আমরা এই জায়গাটাতেই সমস্যায় ভুগছি। আদেশ আমরা অনেকেই পালন করতে পারি আর পারিনা নামাজ পড়তে পারি রোজা রাখতে পারি অনেকে যাকাত দেই মাশাআল্লাহ সদকা করি দান সদকা করি। ইসলামের প্রতি ভালোবাসা আছে। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে মহব্বত করি। কিন্তু হারাম রিলেশনশিপ ছাড়তে পারছেন না। এফিয়ার ছাড়তে পারছেন না ফ্রি মিক্সিং ছাড়তে পারছেন না। রিবা ছাড়তে পারছেন না। পরকীয়া থাকতে পারছেন না। নোংরা অপসংস্কৃতি ছাড়তে পারছেন না। খেয়াল করে দেখেন স্মোকিং ছাড়তে পারছেন না। মাদকদ্রব্য সেবন ছাড়তে পারছেন না। কিন্তু আপনি ইসলামকে ভালোবাসেন। আল্লাহকে ভালোবাসেন এবং রাসূলকে ভালোবাসেন। এটাই মূল সমস্যা।আমি ফিল করি। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে আদেশ মানার সাথে সাথে নিষেধ বর্জন করার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। চার আল্লাহ রব্বুল আলামিন কে হাজির এবং নাজির জানার নামই হচ্ছে তাকওয়া। হাজির নাজির কেমন? আমার জীবনের প্রতিটা স্টেপ আল্লাহপাক শুনছেন এবং দেখছেন। আল্লাহ পাক আরশে আজিম থেকেই আমাকে শুনছেন এবং দেখছেন প্রতিটা মুহূর্তে। এবং আজকাল আগামী অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ সব সময় দেখছেন এবং শুনছেন। প্রত্যেকটা মুহূর্তে এই কথা যার মাথায় থাকবে তার পাপ করার প্রবণতা কম হবে ইনশাল্লাহু তায়ালা। পাপ করবে ও না সে তওবা করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসবে। যদি তার দাঁড়াও কোন পাপ হয়েও যায়। আপনি দেখবেন তাকওয়াই তাকে আবার আল্লাহর কাছে ফিরে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে এবং সে তওবা করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।আল্লাহ পাকের হাজীর এবং নাজির জানা । এর আরেকটা নাম আছে সেটা হচ্ছে এহসান।হাদিসে জিবরীল নামের একটা হাদিস আছে। সহীহ মুসলিমের নয় নাম্বার হাদিস। মিসকাতুল মাসআবের দুই নাম্বার হাদিস।

ইহসান ও নামাজে মনোযোগের প্রয়োজন

এহেসান কি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম জিজ্ঞেস করেছিলেন । তুমি এমন ভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ। এবং তুমি যদি আল্লাহকে দেখতে না পাও তাহলে তুমি সবসময় মনে রাখবে আল্লাহ পাক তোমাকে দেখছেন। এই কনসেপ্ট টার নাম হচ্ছে এহেসান। যেটা আমাকে তাকওয়া দিবে ইনশাল্লাহ। দেখবেন নামাজ পড়ছি আমাদের মনোযোগ বেশিভাগই থাকে না আল্লাহ ভালো জানেন। আমি আপনাদের পার্সোনাল ব্যাপারে ইন্টারফেয়ার করতে চাচ্ছি না। নামাজে বেশিরভাগ মানুষেরই মনোযোগ থাকে না। কারণ বেশিরভাগ মানুষই আমরা নামাজে যা পড়ছি তার অর্থ জানে না। যখন আপনার সন্তান অসুস্থ হয়েছিল আপনি হাত উঁচু করে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করেছিলেন। তখন আপনার চোখ দিয়ে পানি পড়েছে। এবং আপনি যা চেয়েছেন তা ফিল করে বলেছেন আল্লাহর কাছে চেয়েছেন এবং আপনার চোখ থেকে পানি পড়েছে। কতদিন আপনি নামাজের সেজদায় কাঁদতে পেরেছেন এবং আমি কাঁদতে পেরেছি ভাবতে হবে ।কাঁদতে না পাড়ার কারণ কি? আমরা যা পড়ি তার কিছুই বুঝিনা। আমার কাছে নামাজ একটা ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ এর মত হয়ে গেছে। দুঃখিত আমার ভাষা ভাষার জন্য। আমি কোন কিছুকে অবমাননা করতে চাচ্ছি না। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এরকম হয়ে গেছে। বাহ্যিকতা নিয়ে আমরা বেশি ব্যস্ত। হাত কোথায় বাধতে হবে নাভির নিচে নাকি বুকে। নফল আদায় করতে হবে কিনা। পায়ের উপর পা লাগাবো কিনা।আমিন জোরে বলব কিনা আসতে বাহ্যিক বিষয় নিয়ে আমরা বেশি ব্যস্ত।রুহু বা আলীয়াত যেটা নামাজের ভিতরে রুহ বা আত্মা এহসান মনোযোগ। আল্লাহর সাথে কতটুকু আমি কমিউনিকেট করতে পারলাম। মনের কথা কতটুকু আল্লাহর কাছে ব্যক্ত করতে পারলাম।নামাজে আমি আল্লাহকে কতটুকু ফিল করতে পারলাম এটা কিন্তু বেশি আলোচনা করা হয় না। অতএব কোনটা মৌলিক বিষয় বলেন দেখি? নামাজের এই মারেফাতটা কি মূল না। আধ্যাত্মিকতাটাই মূল। আর বাহ্যিক বিষয়গুলো তো আল্লাহপাক দেখছেন ইনশাল্লাহু তায়ালা। এই যে প্রাণহীন ইবাদত হচ্ছে। রোজা রাখছি রোজার মর্ম বুঝতে পারছি না। হজ করে আসলো হাজী সাহেব টাইটেল পেলো ঠিকই কিন্তু হজের মূল মর্ম ইব্রাহিমের সেই চেতনা সে শিখে আসতে পারলো না। শাই করছে সে সাফওয়া আর মারওয়া সে ফিল করতে পারল না এটা হাজিরা আলাইহিস সাল্লাম এর সুন্নাহ। এই যে আমরা কুরবানী করলাম ম্যাক্সিমাম আমাদের মধ্যে ফিল করতে পারি নাই এটা হচ্ছে ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম এর সেই কুরবানী যেটা তার ছেলেকে করতে চেয়েছিলেন। এই চেতনাটা আসলো না। রস কস হীন ইবাদত কতটুকু কবুল হয়। প্রাণহীন ইবাদত কতটুকু আল্লাহর কাছে পৌঁছায় সেটা আল্লাহই ভাল জানেন। যেটা নিয়ে কথা বলছিলাম এহেসান হচ্ছে সেই জিনিস যেটা আপনাকে মনে করাবে আমি আল্লাহকে দেখছি বা শুনছি বা আল্লাহ আমাকে দেখছে বা শুনছে। এর জন্য প্রয়োজন আপনি ইবাদতে যা যা করছেন বা যা যা পড়ছেন এর অন্তত অর্থটা বোঝার। তাহলে আপনার মনের মধ্যে অন্তত সে ফিলিংসটা আসবে ইনশাল্লাহ। ফর এক্সাম্পল আপনি নামাজের আগে পড়ছেন অর্থ হচ্ছে কোরআন আল্লাহপাক নাযিল করেছেন এই কুরআনের মধ্যে আছে শেফা বা আরোগ্য এবং মুমিনদের জন্য রহমত। যখন আপনি বুঝতে পারবেন তখন আপনার নামাজের মধ্যে মনোযোগ আসবেনা। সুবাহানাল্লাহ রাব্বিয়াল আলা যখন বলছেন মানে আমার রব সর্বোচ্চ বা সবার উচিতে আমার রব তখন আপনার মনোযোগ বাড়বে না। আত্তাহিয়াতুতে আপনি কি পড়ছেন দুরুদে কি পড়ছেন।

দোয়ায়ে মাসুরার অর্থ ও ইবাদতে ধীরতা

দোয়ায়ে মাসুরা আপনি পড়ছেন আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু নাফসি জুলমান কাছীরাওঁ ওয়া লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা, ফাগফিরলি মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা, ওয়ার হামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রহিম।আল্লাহ আমি আমার নফসের উপর প্রচুর জুলুম করেছি কখনো কি ফিলিংস হয়। জুলুমের এখানে স্বীকারোক্তি দিচ্ছি আমি। কারণটা একটাই। অর্থটা বুঝতে পারছি না। অর্থ না বুঝলে আপনি রস কস হীন প্রাণীর ইবাদত করবেন। অর্থটা বোঝা কি অপরাধ? অর্থ বুঝলে কি আপনি আলেম-ওলামাদের থেকে দূরে সরে যাবেন? সবকিছুর অর্থ বা ব্যাখ্যা তো আপনি বুঝতে পারবেন না তাই আলেম-ওলামাদের কাছে এসে আপনি ব্যাখ্যাটা বুঝবেন। তো অর্থ অনুধাবন করলে ইনশাআল্লাহ তায়ালা আপনার এহসান বাড়বে যেটা আপনাকে তাকওয়ার দিকে নিয়ে আসবে। এহসান মানে আল্লাহ কে হাজির নাজির জেনে ইবাদত করা। আরেকটা বিষয় ইবাদতের মধ্যে ধীর স্থিরতা আনতে হবে তাড়াহুড়া বন্ধ করতে হবে। তাড়াহুড়া বন্ধ করলে ইবাদতের মধ্যে স্বাদ পাবেন ইনশাআল্লাহ। দুনিয়া বি হ্যায় সেল দুনিয়া বি যে ব্যস্ততা এগুলো কমিয়ে আনতে হবে তাহলে দেখবেন ইবাদতের স্বাদ পাচ্ছেন ইনশাআল্লাহ। প্রত্যেকটা ইবাদতের পটভূমি জানতে হবে। নামাজ আমি কি জন্য পড়ি কোথায় গিয়ে ফরজ হয়েছিল? কুরবানী কেন দিব কোরবানির ইতিহাসটা কি? হজ্জে আমি করব এর পেছনের গল্প গুলা কি? এগুলো না জানলে আপনি ইবাদতের স্বাদ পাবেন না। এই জিনিসগুলো একটু দিলাম আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে এহসানের সাথে ইবাদত করার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। তো প্রথম ওসিহত করছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু জাহেল রাদিয়াল্লাহু আনহু কে তুমি আল্লাহকে ভয় করবে এটা তোমার সমস্ত আমুল কে সুন্দর করে দিবে ইনশাল্লাহ। সৌন্দর্য মন্ডিত করে দিবে। তাকওয়া মানে আমরা জানলাম যে আল্লাহর সাথে শিরক না করা তাওহীদের ওপরে থাকা। দুই আল্লাহ পাকের আদেশ গুলোকে মেনে চলা চেষ্টা করা । তিন নাম্বার একই সাথে এড দা সেম টাইম আল্লাহ পাকের নিষেধগুলো বর্জন করা। 4 নাম্বার আল্লাহ পাক কে হাজির এবং নাজির জানা। আল্লাহপাক আমার সমস্ত কাজ দেখছেন শুনছেন এবং এগুলোর জন্য আল্লাহপাক আমাকে জবাবদিহি করাবেন। তো বিদায় হজ্জে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন এই তাকওয়ার কথাই বলেছিলেন। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেছিলেন আজকে থেকে আরবের উপর অন্য কোন ভেদাভেদ নাই। সাদার উপর কালো কালো রূপোর লালের কোন ভেদাভেদ নাই। তোমরা সবাই আদম সন্তান এবং আদম হচ্ছে মাতির সন্তান। শুধু তাকওয়া নয় যার মধ্যে ভীতি যত বেশি তার কাছে আল্লাহর তত বেশি মর্যাদা সম্পন্ন । সূরা হুজুরাতের সেম কথা আছে ১৩ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন হে মানবজাতি তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদা পূর্ন সেই ব্যক্তি যে অধিক মুক্তাকী এবং অধিক তাকওয়া ওয়ালা। এবং এই তাকওয়ার পজিশন কোথায় এটা মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন। এটা আমার টুপিতে নাই আমার দাঁড়ি আমার লেবাজ আমার পোশাক চলাফেরা এসবের মধ্যে তাকওয়া প্রকৃত পরিচয় নাই। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তাকওয়া হচ্ছে এইখানে এই বলে তিনি কলিজার দিকে তিনবার ইশারা করেছেন। অর্থাৎ তাকওয়ার মূল কেন্দ্র কোথায় আপনার কলবে। এবং কলব সম্পর্কে কিছু কথা আসবে হাদিসে একটু আগে। তো কলবের ব্যাপার তাকওয়া তো কলবের যত নেওয়া লাগবে। আমরা দেহের যেমন যত্ন নেই পোশাকের যেমন যত্ন নেই পরিপাটি থাকতে পছন্দ করি। বাড়িঘর চকচকে রাখতে পছন্দ করি। তাহলে কলবটাও পরিষ্কার করার চেষ্টা করতে হবে।

কলবের যত্ন ও হৃদয় জীবিত রাখা

কি করলে কলমের যত্ন হবে? তার কথা এই হাদিসে আছে একটু সামনে যাচ্ছি একটু পরে। আমি ওই হাদিসের বাইরে কিছু কথা বলছি কলমের যত্ন। বেশি বেশি মউতের স্মরণ এবং পরকালের ফিকির। কলব কে জিন্দা করবে ইনশাআল্লাহ। মনের মধ্যে কোনো প্রকার রিয়া অহংকার রাখা যাবে না। কলব জীবিত হবে ইনশাআল্লাহ। কারো প্রতি হিংসা বিদ্বেষ পোষণ করবেন না। কলব জিন্দা থাকবে ইনশাআল্লাহ। মানব সেবামূলক যে কাজগুলো আছে ফোর এক্সামপল এতিমের দেখাশোনা করা, বিধবাদের খোঁজখবর নেওয়া , মিসকিনদের পাশে দাঁড়ানো এই কাজগুলো করলে কলব জিন্দা হয়। কলবের মধ্যে নূর আসে কাক্কিয়া আসে ।কলব পরিষ্কার না করে যতই দাড়ি টুপি জুব্বা পড়ি না কেন আদতে কোন লাভ হবে না।তাসাউফ এবং তাসকিয়া এই বইগুলো পড়তে পারেন।এখানে ডিটেলসে এ বিষয়ে জানতে পারবেন ইনশাল্লাহুতালা। সামনে যাই আবু জাহেল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন রাসূলুল্লাহ আমার জন্য আরও বাড়িয়ে দেন আরো কিছু ওসিয়াত করুন। দ্বিতীয় ওসিয়ত কি? তোমার ওপরে ওয়াজিব করে ফ্যালো মানে তোমার উপরে শক্ত করে নাও কোরআনের তেলাওয়াত। তোমার ওপরে কোরআনের তেলাওয়াতটা অবধারিত করে নাও শক্ত করে নাও। এবং আল্লাহ পাকের জিকির তাকে অবধারিত করে নাও। কারণ এই বিষয়টা আসমানে তোমার স্মরণের মাধ্যম হবে। এবং পৃথিবীতে আল্লাহ পাক তোমাকে নূর দান করবে। দ্বিতীয় ওসিয়তের মধ্যে দুটো জিনিস একটা হচ্ছে কোরআন তেলোয়াত আরেকটা হচ্ছে আল্লাহর জিকির। কোরআন তেলাওয়াত সম্পর্কে খুব সরল একটা কথা বলছি কুরআনুল কারীম বিশুদ্ধ করে তেলাওয়াত করা শিখতে হবে এক নাম্বার বিষয়। বিশুদ্ধভাবে মদ মাকরার এবং তাজবীদ এর সাথে না শিখেন তাহলে সারা জীবন ভুল পড়ে যাবেন। আর কোরআনের অর্থ বিকৃত হয়ে যাবে। আপনার অজান্তে এমন অর্থ চলে আসবে যা আপনি কল্পনাও করেন নাই এবং কামনাও করেন নাই। ফর এক্সাম্পল আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন অর্থ সুন্দর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক। হা এর উচ্চারণ ভুল করেছেন। বলেছেন আলহামদুলিল্লাহ রাব্বিল আলামিন অর্থ বিকৃত হয়ে গেছে অর্থ হয়েছে সমস্ত নিন্দা বিশ্ব জাহান প্রতিপালক আল্লাহর জন্য নাউজুবিল্লাহ।পড়েছেন কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন হে কাফেররা। লা আব্বু মাতাবুদুন আমি তার ইবাদত করি না যা ইবাদত তোমরা কর। অর্থ ঠিক আছে। ঈমান তাওহিদ আছে। অথচ আপনি যদি বলেন কুল ইয়া আইয়ু হাল কাফিরুন লাহাবুদুমাতাবুদুন। বাহ রং কেস। আমি অবশ্যই তার ইবাদত করি যার ইবাদত তোমরা কর। কাফেররা তোমরা কর। একটা মদের কারণে আপনার এই পার্থক্য হল। এক বাক্যে বলে ফেলছি যেভাবেই হোক যত সময় লাগুক সেই বয়সেই থাকেন বিশুদ্ধভাবে কোরআন তেলোয়াত না শিখে মৃত্যুবরণ করবেন না ওয়াদা করেন। যেখানে পড়েন যে প্রফেশনে থাকেন। যত গরীবই হন যত বড়লোকই হন কোরআন তেলোয়াত বিশুদ্ধভাবে না শিখে মৃত্যুবরণ করবেন না। সারা জীবনের যা করেছেন যত কিছু শিখেছেন আপনার সাইন্স আপনার কমার্স মেডিকেল সাইন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিসিএস ক্যাডার যা কিছু শিখেছেন সবকিছু বৃথা হয়ে যাবে যদি পরকালে আপনি পুলসিরাত পার হতে না পারেন।

কুরআন তেলাওয়াত ও বিশুদ্ধ উচ্চারণ

আর কুরআন হয়তো পক্ষে দলিল হবে নয়তো বিপক্ষে। যারা কুরআন বিশুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করতে শিখছে না। কোরআন কি তার পক্ষে দলিল হবে মনে হয়। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন আমিন। এটলিস্ট কোরআনটা সঠিকভাবে তেলাওয়াত করার শিখেন আপনি অর্থ বুঝেন আর না বুঝেন। আমি আবারো স্পষ্ট করে বলছি কোরআন বিশুদ্ধভাবে তেলোয়াত করলে প্রত্যেক হরফে ১০ নেকি করে পাবেন। কুরআন আপনার পক্ষে সুপারিশ করবে ইনশাল্লাহুতালা।আল্লাহপাক আপনাকে নূর দেবেন। এবং কুরআনের সুপারিশ কবুল করা হবে এবং আল্লাহ পাক আপনাকে জান্নাত দিবে ইনশাল্লাহ। এবং আলিফ লাম মিম পড়লে তিনটা হরফে ৩০ নেকি হয়ে যায় । বিশুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত করলে আপনি অর্থ বুঝেন আর না বুঝেন প্রত্যেকটা হরফের দশটা করে নেকি পাবেন। কিন্তু কুরআনের অর্থ অনুধাবন করতে না পারলে কোরআনের অর্থ বুঝতে না পারলে আপনি কুরআনকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারবেন না। আর আপনি কোরআনকে বাস্তবে করতে না পারলে আপনি কুরআনের মৌলিক হকটা আদায় করতে পারবেন না সিম্পল। অর্থ না বুঝে যদি সারাজীবন কোরআন তেলাওয়াত করে যায়। কোরআন তেলাওয়াতের নেকি হবে ঠিকই। প্রত্যেক হরফে দশ নিয়ে কি হবে ঠিকই। কুরআন আপনার পক্ষে সুপারিশও করতে পারে। কিন্তু কোরআনের প্রকৃত হক টা দুনিয়াতে আদায় হয়নি। কোরআন নাজিল করা হয়েছে যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করে একটা তাআব্বুর করে ফিকির করে কোরআন কে নিয়ে গবেষণা করে। এবং এর মধ্য দিয়ে যেন মানুষ পথ খুঁজে পায়। এই কারণে। আপনি ইস্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি তে যা পড়ছেন এগুলো সব যদি ফারসি ভাষায় হতো বা টার্কিশ ভাষায় হত বা ধরেন রাশিয়ান ভাষায় হতো এবং আপনি এগুলোর অর্থ জানেন না। শুধু পড়েন আর মুখস্ত করেন। তাহলে কি আদৌ আপনি পরীক্ষায় পাশ করতে পারবেন। প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন। একটা সিম্পল বিষয় কেন এটা হজম করতে এত সমস্যা হয় আমি বুঝিনা। অর্থ জানার জন্য কি করতে হবে? অর্থ জানার জন্য আরবি ব্যাকরণ এর মৌলিক বইগুলো শিখতে হবে। আরবি ব্যাকরণের মৌলিক বইগুলো পড়তে হবে। মাদ্রাসায় যেতে হবে। মাদ্রাসায় যে আলেম-ওলামারা আছে তাদের কাছে পড়ে থাকতে হবে। আরবি ভাষা শিখতে হবে। এগুলো যদি খুব কঠিন মনে হয় তাহলে কমপক্ষে আপনি একটা বিশুদ্ধ বিষ তাফসির কিনবেন। কোরআন নিয়মিত অর্থ সহকারে পড়বেন। তবে এতোটুকু পড়াশোনা করে কখনো নিজেকে মুক্তি ভাববেন না। ফতোয়াবাজি শুরু করবেন না। এটা গুরুত্বপূর্ণ নসিহত। কারণ অনেকে অর্থ পরে ফতোয়া দেওয়া শুরু করে। একজন কোরআন পড়ে আমাকে বলেছিল কোরআনে তো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পেলাম না মাত্র দুই অর্থ নামাজ পেয়েছি নাউজুবিল্লাহ। ফজর যোহর আসর মাগরিব এশা এটা তো এটা সিরিয়াল তো কোথাও দেয়াই নাই। একজন কোরআনের অর্থ পরে বলছে কোরআনে তো কোন হাদিস মানার দলিল পেলাম না। কোরআনে কোথাও বলা হয়নি যে হাদিস মানো এটা বলছে। আমি যে প্রথমে একটা আয়াত তেলাওয়াত করলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দিয়েছেন তা গ্রহণ করো। সূরা হাশরের ৭ নাম্বার আয়াত। এবং রাসুল যা নিষেধ করেছে তার থেকে বিরত থাকো।

কুরআনের অর্থ বোঝা ও গবেষণা

তাহলে এই রাসুলের আদেশ নিয়েছেন মেনে চলার জন্য হাদিস লাগবে না। তাহলে কুরআন পড়ে হাদিস না পাওয়ার কারণ কি? তাহলে সে শুধু কাটপেস্ট প্রটেশনই ভার্সন পাঠ করেছে। তাফসীরটা সে দেখে নাই। অর্থ পড়েন উৎসাহিত করছি তবে ফতোয়াবাজি করতে যাবেন না। যেটা বুঝবেন না আলেম-ওলামাদের কাছে গিয়ে অবশ্যই অর্থ জেনে নিবেন। তোমরা জ্ঞানীদের কে জিজ্ঞেস করবে যদি তোমাদের সেই বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান না থাকে। আবু জাহেল রাদে আল্লাহু আনহু কে নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কোরআন তেলাওয়াত তাকে ওয়াজিব করে নাও নিজের ওপরে। তো আমরা কি প্রতিদিন একটা করে সূরা পড়তে পারি না ভাই। কমপক্ষে একটা পৃষ্ঠা পড়তে পারি না। যারা আরেকটু বেশি পারি ৫ পৃষ্ঠা যারা আরো একটু বেশি পারি 10 পৃষ্ঠা। হাফেজির কুরআনের ৬০০ পৃষ্ঠা আছে। এই ৬০০ পৃষ্ঠা থেকে আপনি ৩০ পাড়ায় ভাগ করেন। প্রত্যেক পাড়ায় বিশ পৃষ্ঠা। এক পাড়ায় বিশ পৃষ্ঠা। আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে কি অর্ধেক পাড়া পড়তে পারি না দশ পৃষ্ঠা। যারা আরেকটু ভালো জোরে পড়তে পারে ইনফ্লুয়েন্সি আছে। তারা এক পারা করে পড়তে পারি। প্রতিদিন এক পারা করে পড়লে প্রতি মাসে আপনি একটা করে খতম দিতে পারবেন।আচ্ছা না পারেন। প্রতিদিন ১০ পৃষ্ঠা করে যদি পড়েন তাহলে দুই মাসে একটা খতম দিতে পারবেন। পারা যাবে। যদি তাও না পারেন প্রতিদিন ৫ পিষ্ঠা করে পড়েন । চার মাসে একটা খতম হবে। বছরের তিনটা ক্ষত কম নাকি অনেক । এতোটুকু যদি করেন আলহামদুলিল্লাহ। কোরআন গবেষণা আসার আগে আপনাকে আগে তেলাওয়াত বিশুদ্ধ করে শিখতে হবে। তারপরে গবেষণার বুঝ আল্লাহর পক্ষ থেকে আসবে ইনশাল্লাহ তায়ালা। এত সহজে আসবেনা। আল্লাহ পাক আমাদেরকে নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করার তৌফিক এনায়েত করুন আমিন। অনেক কোর্স এখন বের হয়েছে। যেগুলোর মধ্য দিয়ে খুব সহজে আপনি কোরআনের অর্থ আপনি শিখতে পারেন। আপনি আরবি ব্যাকরণ শিখতে পারেন আপনি আরবি ভাষা শিখতে পারেন। কুরআনের গ্রামার শিখতে পারেন বা বিশুদ্ধভাবে মদ মাকরাজের সাথে কোরআন তেলোয়াত শিখতে পারেন। অনলাইনেও আছো অফলাইনেও আছে। কিভাবে শিখবেন আমি জানিনা। কার কাছে যাবেন আমি জানিনা। এতটুকু জানি আমি আপনাকে ওসিয়ত করতে চাই। কমপক্ষে একটাবার কোরআন টা অর্থ সহকারে পড়েন। আর অবশ্যই অবশ্যই বিশুদ্ধভাবে কোরআন তেলোয়াত করে পড়ার চেষ্টা করেন। আপনি যে বয়সেরই হন যে পেশারী হোন আজ যেখানকার মানুষই হোন আল্লাহপাক তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। আরেকটা ওছিয়ত করা হয়েছে আল্লাহ পাকের জিকির এই দুটা করলে আসমানে তোমাকে স্মরণ করা হবে এবং জমিনে আল্লাহ পাক তোমাকে নূর দেবেন। জিকির দিয়ে আল্লাহকে স্মরণ করো। সবচেয়ে সেরা জিকির কি নামাজ। তারপরে সেরা জিকির কোরআন তেলোয়াত। কোরআনকে আল্লাহ পাক জিকির বলেছেন। আমি কোরআনকে বা জিকির কে নাজিল করেছে আমি এর হিফাজত করব ইনশাল্লাহ । এছাড়া জিকির বলতে আমরা যা বুঝি এগুলো খুব শর্ট করে বললে প্রতিদিন কিছু মাশলুম দোয়া এলাম আছে যেগুলো পড়লে জিকিরের হকটা আদায় হয়ে যাবে। খুব সহজ ১০০ বার সুবহানাল্লাহ পড়লে ১০০০ নেকি হয়ে যাবে পারা যাবে না। এটা আপনি ড্রাইভ করতে করতে পড়তে পারেন হাঁটতে চলতে পড়তে পারেন। মা বোনেরা রান্নাবান্না করতে করতে পড়তে পারেন।এটার জন্য আলাদা করে অজু করে বসতে হবে তার প্রয়োজন নেই। ওযু সত্ত্বেও না। আপনি চলতে ফিরতে এই কাজটা করতে পারেন । ১০০ বার আলহামদুলিল্লাহ পড়া যাবে না। ১০০ বার আল্লাহু আকবার পড়া যাবে না। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ১০০ বার পড়া যাবে না। খুব সহজ। বা সকালবেলা একটা বার আয়তাল কুরসি পড়লেন। একবার পড়লেন সাইয়েদা ইস্তেগফার। সাইয়েদা ইস্তেগফার একবার পড়লে যে ব্যক্তি মারা যায় মাগরিবের ওয়াক্তে পড়লে ফজর হওয়ার আগে যদি মারা গেলে জান্নাত।

কুরআন ও হাদিস অনুসরণের গুরুত্ব

এরকম অনেক দোয়া আছে। জিন ভূত জিন শয়তান জাদু টোনা চোখ লাগা বদ নজর কোন কিছুই কাজ করবে না ইনশাল্লাহুতালা। এগুলো নিয়ে অনেক রোগী দেখেন না। জিন গ্রস্ত রোগে। মানুষ হয়ে আছে পাগল মেন্টালি ডিপ্রেস মানসিক ভারসাম্য হারানো। এখন তো বেশিরভাগ মানুষ মানসিক রোগী। ফিজিক্যাল রোগী কম মানসিক রোগী বেশি। এখন এমন এমন জেনারেশন তৈরি হচ্ছে এরা হচ্ছে ক্রেজি। এরা হচ্ছে মানসিকভাবে বিকালঙ্গ। পরীক্ষা করতে চান? সবার হাত থেকেই স্মার্ট ফোন কেড়ে নেন.। ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ করে গ্রামে পাঠিয়ে দেন। এক মাসের মধ্যে সব পাগল হয়ে দেশে ফিরে আসবে। পাগল হয়ে যাবে। ইন্টারনেট কানেকশন নাই স্মার্টফোন নাই দেখবেন পাগল। যাইহোক আল্লাহপাক আমাদেরকে হেফাজত করুন। জিকির বাড়িয়ে দেন।একটা জিকির আছে। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আদাদা খালকিহি ওয়া রিজা নাফসিহি ওয়া জিনাতা আরশিহি ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি। যে ব্যক্তি এটা তিনবার পড়বে। ফজরের আজানের পর থেকে নিয়ে সূর্য ওঠা পর্যন্ত যে ব্যক্তির সারাদিন বসে বসে জিকির করতে এতোটুকু পড়লে সারাদিনের নেকি হয়ে যাবে ইনশাল্লাহুতালা।আপনি যদি প্রতিদিন হজ করতে যান উমরা করতে যান ইসরাকের নামাজ পড়বেন ফজরের নামাজ পড়ার পর একটা হজ একটা ওমরার সওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ। অনেক জিকির আছে আমি শর্ট করে বলে দেই। হিজনুর মুসলিম নামের একটা বই আছে। এই বইয়ের মধ্যে সব জিকির আছে। এই জিকির আজগার গুলো বাড়িয়ে দেন আল্লাহ পাক বলছেন আসমানে তোমাকে স্মরণ করা হবে। এবং পৃথিবীতে আল্লাহ পাক তোমাকে নূর দান করবেন ইনশাল্লাহুতালা। আসমানেও যে স্মরণ করা যায় এটা তো আপনাদের এখন বোঝার কথা। এখন তো এই পিকচারগুলো বের হয়ে আসছে। ওখান থেকে পৃথিবীতে দেখতে কিন্তু এরকমই লাগবে। ওখান ওখানে গিয়ে যদি দেখা যায় পৃথিবীর কোন রশ্নি ধরা পড়েছে তাহলে ওখানে পৃথিবীর এত হাজার বছরের অতীত একই রকম দেখবে। যে সূর্যকে আপনি এখন দেখেন সেই সূর্য এখনকার সূর্য নয়। যে সূর্য ডুবছে যেটা আপনি দেখছেন এটা ওই সময় সূর্য নয়। এটা ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড পূর্বের সূর্য। আমরা আসলে বর্তমান দেখি না আমরা আসলে অতীত দেখি। আমরা মহা আকাশে আসলে বর্তমান দেখিনা অতীত দেখি। এই পুরো জিনিসটা যে বিজ্ঞানের জয় জয়কার বলা হচ্ছে না। এখানে অন্য একটা মেসেজ আছে এই পুরো বিষয়টা আপনা কে অন্য কিছু বুঝাচ্ছে। এ বিষয় তাতে আপনাকে আরো কিছু বুঝাচ্ছে। তার মধ্যে প্রথমটা কি জানেন? পরকালের অস্তিত্ব। এখন বলে জটিল হয়ে যাবে তাই ওদিকে যাচ্ছি না। এই পুরো আবিষ্কারটাই পরকালের অস্তিত্ব আপনাকে বোঝাচ্ছে। এবং আল্লাহ পাক যে টাইম ফ্রেমের উর্ধ্বে অবস্থান করছেন। এটা আমাদেরকে বুঝাচ্ছে। এটার হাদিসও আছে। যা আবিষ্কার করা হয়েছে তা প্রথম আসমানের বিষয়। এরকম আরো দুই তিন চার পাঁচ সাতটা আসমান আছে। এবং সপ্তম আকাশের উর্ধ্বে আছে মহাসাগর। তার ওপরে আছে করশি তারপরে আছে আরশে আজিম তার ওপরে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ।আল্লাহ তালা পাকের এই টাইমের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবই অতীত সবই বর্তমান সবই ভবিষ্যৎ। এর উর্ধ্বে আল্লাহপাক। অতীত বর্তমান ভবিষ্যতে আল্লাহপাক কাজ করতে পারেন না। আরো অনেক ব্যাপার আছে এসব নিয়ে আমরা পরে কথা বলব।আসমানে আপনাকে স্মরণ করা হবে।তার মানে আসমানে ও আল্লাহপাকের সৃষ্টি আছে। আবার আপনাকে স্মরণ করবে ইনশাআল্লাহ।

জিকির, মানসিক স্বাস্থ্য ও স্মার্টফোনের প্রভাব

পৃথিবীতে আপনাকে নূর দেওয়া হবে। নূর মানে কি আলো।আলো কখন লাগে যখন অন্ধকার দূর করতে হয় তাই তো।এখানে অন্ধকার বলতে কি বুঝানো হয়েছে। রাতের অন্ধকার। জাহেলিয়াতের অন্ধকার। চারিদিকে জাহেলিয়াত নাই। সুদ ঘুষ ব্যাবিচা জাহেলিয়া দিয়া ভর্তি না। এ জাহেলিয়া দূর করতে হবে আপনার টচ লাইট লাগবে নূর লাগবে। সে নুর আল্লাহ পাক আপনাকে দিবে যদি আপনি কোরআন তেলাওয়াত করেন। এবং আল্লাহ পাকের জিকির বাড়িয়ে দেন ।আল্লাহপাক আমাদের সকলকে নূর দান করুন আমিন। এরপর একটা ওসিয়ত ছিল ।তিনি বললেন হে আল্লাহর নবী আমাকে আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বলছেন দীর্ঘ সময় নীরবতা অবলম্বন করার ব্যাপারে আমি তোমাকে ওসিয়ত করছি তুমি ওয়াজিব করে নাও। দীর্ঘ সময় চুপ করে থাকা মারেফতের পরিচয়। যত চুপচাপ থাকবেন বেশি অপ্রয়োজনীয় কথা বলবেন না প্রয়োজনে কথা বলবেন পক্ষ থেকে আপনার উপর ইলম আসবে। ইলেম আল্লাহর পক্ষ থেকে আসবে ইনশাল্লাহ। ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলে গুছানোভাবে চিন্তা করা যায় না। চিন্তাগুলো এলোমেলো হয় না । আমরা যদি বেশি ব্যস্ত থাকি বেশি কথা বলি তখন কিন্তু চিন্তা করলে এলোমেলো হয়ে যায়। এটা বলা হচ্ছে প্রয়োজনে বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও কথা সতর্কতা অবলম্বন করা। তাহলে অপ্রয়োজনীয় কথাগুলো যে আছে গীবত পরনিন্দা পরো চর্চা অহেতুক মিউজিক সোনা অহেতুক কাব্য চর্চা বা উপন্যাস চর্চা। এগুলোর কি মূল্য আছে তাহলে।যখন প্রয়োজনে ক্ষেত্রে আল্লাহপাক বলছে তোমার উপর দীর্ঘ নীরবতা ওয়াজিব করে নাও। অপ্রয়োজনীয় গাল গল্প আড্ডাবাজি চায়ের দোকানে যে আমরা বসে থাকি লুডু খেলতে খেলতে যে গল্প করছি। হয়তো কারটা বাজি করছি। অহেতুক গল্প হয়ে যায়। বেশিরভাগ গল্পে হয় গীবত আত্মপ্রকাশন ।জাতি হিসেবে আমরা খুব বাচাল জাতি। আমরা কাজের চাইতে কথা বলতে বেশি পছন্দ করি।আমরা কাজের চাইতে কথা বলতে বেশি পছন্দ করি কিন্তু যারা উন্নত সভ্যতা তারা কথা কম বলে কাজ বেশি করে। আমরা কাজের কে কথা বলতে বেশি পছন্দ করি এবং কোন কাজ যদি করে ফেলি যদি কাজ হয় ৫ ডিগ্রী আমরা কথা বলতে শুরু করি ১০০ ডিগ্রি। আমাদের জাতিগত পরিবর্তন আনতে হবে। কথা কম বলি আমরা কাজ বেশি করার তৌফিক দান করুক আল্লাহ আমাদের আমিন। কথা যখন বলব সেটা যাতে প্রয়োজনীয় কথা হয়। যদি অপ্রয়োজনে কথা হয়ে থাকে তাহলে একটা দোয়া পড়বেন ইনশাল্লাহ কাফফারা হয়ে যাবে। এটা বেশি জড়িয়ে যদি কোন জায়গায় বসলেন একটা অপ্রয়োজনীয় কথা হয়ে গেছে। ওঠার আগে সুরাটি পড়বেন ইনশাল্লাহ আপনার সব পাপ গুলো মাফ হয়ে যাবে এটা আপনার মা বোনদের কেউ শিখাবেন। এর পর আসেন তিনি বলছেন আমাকে আরো কিছু অসিয়ত করুন। খুবই ইম্পোর্টেন্ট তোমার ওপর এটা অবধারিত কর। তুমি বেশি হাসবে না।বেশি বেশি হাসবেনা সূরা তাওবার মধ্যে একটা আয়াত আছে । সূরা তওবার মধ্যে একটা আয়াত আছে। তারা বেশি বেশি হেসে নিক অচিরে তারা অনেক বেশি কান্নাকাটি শুরু করবে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি হাদিসে বলেছিলেন তোমরা যদি জানতে আমি যা জানি। আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি যা জানি তোমরা যদি জানতে তাহলে তোমরা একটি মাঠে একত্রিত হয়ে যেতে।

দীর্ঘ নীরবতা ও অপ্রয়োজনীয় কথা

স্ত্রী সহবাসও ছেড়ে দিতে। স্ত্রীকে ছেড়ে দিয়ে একটি মাঠে একত্রিত হতে। এবং সেজদায় পড়ে কান্নাকাটি শুরু করতে। তোমরা যদি জানতে আমি যা জানি। তোমরা সেটা জানো না। বেশি হাসাটার কুফল কি? নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন এটা ওই যে কলবের কথা বললাম কলবের যত্ন নিতে হবে। বেশি বেশি হাসলে কলব কে মেরে ফেলবে। আবার এখন দেখি কিছু ব্যায়ামের অ্যাসোসিয়ান বের হয়েছে যারা মানুষকে হাসায় হো হো করে। এরা সবাইকে হাসায় জোরে জোরে হো হো করে হার্টের অসুখ কমে যায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যারা বেশি হাসে তাদের কলব মরে যায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে হাসতেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসতেন। তিনি হাসতেন এমনকি বলা হয়েছে হাদিসে তিনি দ্বীনি ভাইয়ের সাথে বা মুসলিম ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করলে আমলনামায় লিখে লেখা হয়। হাসবো অবশ্যই আমরা। কখনোই হাসা কমিয়ে দেব না। অবশ্যই হাসবো কিন্তু অট্টহাসি না। অট্টহাসির কি করে নিজের হৃদয় তাকে মেরে ফেলে। আর নবীজি কখনো কখনো এমন ভাবে হেসেছেন যে তার দাঁত দেখা গেছেন। এমন ভাববে ও হেসেছেন। তো আসুন এর একটা কুফল আছে। এই অট্টহাসি বেশি বেশি দেয়ার ফলে চেহারার যে নূর মুত্তাকী মানুষ যারা নামাজী মানুষ যারা কুরআনের সাথে সম্পর্ক রাখে দেখবেন চেহারায় একটা নূর থাকে একটা আলো থাকে। আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা নূর থাকে একটা রব থাকে একটা প্রভাব থাকে। রব মানে হচ্ছে প্রভাব। তো বেশি বেশি জোরে জোরে হাসলে চেহারা নুর কমে যায়। একটু খেয়াল করে দেখবেন আপনি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতের সাথে পড়ার চেষ্টা করেন নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার চেষ্টা করেন। দেখবেন ফজরের ওয়াক্ত দিয়ে আপনার চেহারা দিয়ে কিছু একটা নূর বের হচ্ছে। চেহারাটা নূরানী লাগবে। অনেক ভাই যারা মারা গেছেন জানাজা পড়াতে গিয়ে দেখবেন নূরানী চেহারা। চেহারা দিয়ে আলো বের হচ্ছে। আর মানুষ যত বেশি পাপ করতে থাকে। চেহারার নূর তত কমতে থাকে। যত বেশি প্রকাশ্য এবং গোপন পাপ মানুষ করতে থাকে চেহারার নূর তত কমতে থাকে। তবে অনেক নূরানি চেহারার পিছনেও কিন্তু শয়তান থাকে।এটাও মাথায় রাখতে হবে। আল্লাহপাক আমাদেরকে আল্লাহ পাকের প্রকৃতি মুক্তাকি বান্দা হওয়া তৌফিক এনায়েত করুন আমীন । আরো দুটো ওসিহত করেছে আল্লাহ পাক সেটা হল যে হে রাসুল আমাকে আরো বাড়িয়ে দেন আরো আরো কিছু ওছিয়ত করুন। সব সময় সত্য কথা বলবে যদিও এটা তিতা শোনায় এটা মানুষের কাছে তিক্ত শোনায়। আর সত্যের সংজ্ঞা টা আমাদেরকে জানতে হবে। সত্যের সংজ্ঞাটা আমরা যা শিখেছি এটাই চূড়ান্ত সংজ্ঞা নয়। ডেফিনেশন আছে সূরা কাহাফ এর ২৯ নাম্বার আয়াতে আছে। আল্লাহপাক বলেছেন সত্য সেটাই ভালো করে শুনুন সত্য সেটাই যা তোমার রবের পক্ষ থেকে নাযিল হয়। যার ইচ্ছা মেনে নিক বা ঈমান আনুক যার ইচ্ছা হয় অস্বীকার করুক। আমি জালেমদের জন্য আগুন প্রস্তুত করেছি। এখানে আল্লাহ পাক সত্যের ডেফিনেশন দিয়েছেন। ডেফিনেশন অফ ট্রুথ। সত্যের ডেফিনেশন কি? আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নাযিল হবে সেটাই সত্য। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওরাত নাযিল হয়েছে ঠিক আছে। যাবুর নাযিল হয়েছে ইঞ্জিল নাজির হয়েছে। কোরআন নাযিল হয়েছে।

অতিরিক্ত হাসি ও চেহারার নূর

যখন তাওরাত নাযিল হয়েছিল তাওরাত ওই যুগের জন্য সত্য মিথ্যার চূড়ান্ত মানদণ্ড ছিল। এখন না। কারণ সেটা লোহিত হয়ে গেছে। জাবুর ওই যুগের জন্য চূড়ান্ত মানদন্ড ছিল। ইঞ্জিল ওই যুগের জন্য ছিল। যখন থেকে কোরআন নাজিল হয়েছে এবং সুন্নাহ এসেছে কেয়ামত পর্যন্ত সত্য মিথ্যা এর বাইরে কি কোন মানদন্ড আছে। তবে যে কোনো বুদ্ধি বা যে কোন দর্শন ফিলোসফি যে কোন স্কুল অফ থট যে কোন মতবাদ যে কোন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার যেটাই হোক না কেন কোরআন এবং সুন্নাহর সাথে মিলে যায় সেটাকে মেনে নিতে আমাদের কোন আপত্তি নাই। কিন্তু যে কোন বিজ্ঞান বা দর্শন বা যুক্তি মানব রচিত মতবাদ যেটাই হোক এগুলো কুরআন এবং সুন্নাহর সাথে যদি না মিলে সেক্ষেত্রে এটা না মানাই আপনি আমি মনে করব এটা ওয়াজিব। এটা সত্য মিথ্যা মানদণ্ড থাকবে না। এখন আমাদের কাজ কি কোরআন সুন্নাহর সাথে মিলিয়ে দেখা যে এটা মিলছে কিনা ব্যাস। যদি সত্য তিতাও হয় তবুও বলতে হবে। যদি চাকরি চলেও যায় ইমাম সাহেব কে সুদের এগেনস্টে বলতে হবে।ঘুষের এগেনস্টে বলা শিখতে হবে । যদি তিতা ও লাগে তবে বলার ভাষাটা এগ্রেসিভ হবে না। মানুষকে আঘাত করে বলার ব্যাপারটা ইসলাম সমর্থক করছে না। কিভাবে? ফেরাউনের কাছে নবী মুসা আলাইহিস সাল্লামকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। হারান কারুণ নাম মনে আছে তো তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে মুসা আলাইহি সাল্লামকে এবং তার ভাই হারুন আলাইহিস সাল্লাম কে। আল্লাহ পাক এদের দুই ভাইকে বলছে তোমরা এখন ফেরাউনের কাছে যাও। ফেরাউন এর কাছে গিয়ে নরম ভাষায় কথা বল। হতে পারে সে উপদেশ গ্রহণ করবে এবং আমাকে ভয় করবে। তো প্রেজেন্টেশনের একটা ব্যাপার আছে। আল্লাহ পাক মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলছে তুমি তোমার রবের দিকে মানুষকে ডাকো। প্রজ্ঞার সাথে এবং উত্তম উপদেশের সাথে। রুড ভাবে না এগ্রিসেভলী না। চরমপন্থা প্রয়োগ করে নয়। এমন ভাবে ডাকো যাতে সত্যতা উপস্থাপন হয় এবং আপনার ভাষার উপস্থাপন বা এক্সপ্রেশন অ্যাটিটিউড টা এগ্রেসিভ মনে না হয়। এই বিষয়টা আমাদের খেয়াল রাখা উচিত। আমরা যারা বক্তা বা দায়ী আছি। মানুষকে আঘাত করে কথা বলে খুব একটা ফায়দা হয় না। তাকে যদি বুঝিয়ে দেওয়া যায় এবং সত্যটা উপস্থাপন করা যায়। এবং আল্লাহ যদি তার তাকবীরে হেদায়েত লিখে থাকেন। ইনশাল্লাহ সে হেদায়েত পাবে। আর যদি না পাই তাহলে আপনার দায়িত্ব শেষ। আপনি শুধু উপদেশ দেন আপনি শুধু উপদেশ দাতা। আপনি কারো প্রতি দারোগা নন। আপনি উপদেচ দিন যদি উপদেশ কাজে আসে। যারা আল্লাহকে ভয় করে তারা শীঘ্রই উপদেশ গ্রহণ করবে ইনশাল্লাহুতালা। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে প্রকৃত দায়ী হওয়ার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। একজনের কথা বলে আমি সামনে যাচ্ছি। মুসা ইবনে উমাই রাদি আল্লাহু আনহু ইসলামের ইতিহাসে প্রথম দায়ী। যাকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদিনায় পাঠিয়ে ছিলেন। তিনি বিলাসী জীবন যাপন করতেন জাহিলিয়াত যুগে। তার এত দামে পারফিউম ছিল আতর ছিল খুশবু ছিল । যে মক্কায় কারো কাছে নাই।

সত্য কথা ও কুরআন সুন্নাহর মানদণ্ড

ইসলাম কবুল করার পর তার অবস্থা এরকম হয়েছিল তার একাধিক পোশাকও নাই। যে চেঞ্জ করে নামাজ পড়বেন। উহুদের যুদ্ধে তিনি শহীদ হয়েছেন। তাকে দাফন করার জন্য কাফনের কাপড় পাওয়া যায়নি। তাকে ঘাস দিয়ে দাফন করা হয়েছে। এটা হচ্ছে তার দুনিয়া শেষ পরিনিতি। কিন্তু পরকালে তিনি এখন জান্নাতের ফেরদৌস এ আছেন ইনশাল্লাহুতালা। এখন এখানে তিনি সাফল্য বুঝতে পারছেন। মুসা ইবনে উমাইয়া রাদে আল্লাহু আনহু যখন মদিনায় গিয়ে দাওয়াত দিচ্ছেন। সাদ ইবনে মুয়াজ নামের একজন সাহাবী ছিলেন।যিনি আউস গোত্রের নেতা। তিনি দাওয়াতী কাজ করছেন কিন্তু সাদ ইবনে মুয়াজ্জার দাওয়াতী কাজ পছন্দ হচ্ছে না। সাদ ইবনে মুয়াজ তার কাছে এসে খুব কড়া ভাষায় বললেন মদিনা থেকে যদি এই দাওয়াতি কাজ বের না করো। তোমার আমার মাঝে যে আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে। সে আত্মীয় সম্পর্কটা থাকবে না মানে তোমাকে আমি হত্যা করব। মানে তিনি ইসলামটাকে পছন্দ করছে না। তিনি বলছেন এখান থেকে বের হও। দাওয়াতি কাজ এখান থেকে বন্ধ কর মদিনা থেকে বের হও। তখন মুসা ইবনে উমাই রাদিআল্লাহু কি বলছেন শোনেন তিনি বলছেন কোনরকম এগ্রেসিভ কথা বললেন না আমরা হলে কি করতাম? আমরা হলে কিন্তু এগ্রেসিভ কথা বলতাম। কিছু না হলেও যেসব এগ্রেসিভ কথাগুলো আমরা বলি একজনের মানহানি করার জন্য। মানুষের চোখে তাকে আন্ডারস্টেটমেন্ট করার জন্য কত কিছুই না করি। ইস্যু না থাকলেও। এখানে তো ইস্যু দারুণ ব্যাপার এখানে তাকে কড়া ভাষায় বলছে বের হও এখান থেকে। দাওয়াতি কাজ করা যাবে না। তিনি বলছেন আপনি কি একটু বসবেন একটু শুনবেন । আমি যে দাওয়াতটা দিচ্ছি যদি এটা পছন্দ হয় তাহলে আপনি কবুল করবেন আর যদি আপনি অপছন্দ করেন আর আপনি যদি এটা অপছন্দ করেন তাহলে আমি এখানে থেকে চলে যাব আর থাকবো না । কত ডিপ্লোম্যাটিক অ্যানসার? এখন তিনি বসলেন তাকে তাওহীদের দাওয়াত দিলেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ইসলামের দাওয়াত দিলেন। ইসলামের সব বেসিক জিনিস গুলো বোঝালেন। সাব ইবনে মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনি ইমিডিয়েটলি ইসলাম কবুল করলেন। এবং তার মধ্য দিয়ে আশিটা পরিবার ইসলাম কবুল করল সুবহানাল্লাহ। এই হল দায়ী ক্যারেক্টার হওয়া উচিত। আল্লাহপাক আমাদেরকে তার মত দায়ী হওয়ার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। যেটা বলছিলাম সত্য উপস্থাপন করতে হবে। তবে হিকমার সাথে প্রজ্ঞার সাথে এবং যুগ উপযোগী ভাবে। কোরআন সুন্নাহকে হাতে নিয়ে ওয়ার্ল্ড কে ডিল করার মতো জ্ঞান থাকতে হবে। সর্বশেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ওছিয়তগুলো করেছেন তিনি বলছেন হে আবু জাফর আল্লাহর পথে চলার খেতে নিন্দুকের নিন্দার কোন পরোয়া করবে না। আল্লাহর পথে যখন তুমি চলতে শুরু করবে।কোন চলা? প্রকৃত চলার কথা বলছে কথিত চলার কথা বলছে না। আমরা কিন্তু ম্যাক্সিমাম কথিত চলি প্রকৃত চলি না। মানে ইসলামের বেসিক প্রতিটা বিষয় আপনি মেনে চলেন এটা হচ্ছে প্রকৃত চলা। এবং বেসিক নিষেধ সব ছেড়ে দেন এর নাম প্রকৃত চলা। কথিত কি? মানে এদিকেও আছে ওদিকে আছে। মানে যখন যেদিকে মাথা সেদিকেই ফল তাই নয় কি। পাবলিক দেখলো একটা ফতোয়া দিলাম পাবলিক চেতে গেছে ফতোয়া চেঞ্জ করে ফেললাম। যখন তুমি প্রকৃত রূপে আল্লাহর পথে চলবে। মানুষ তোমার নিন্দা করবে সমালোচনা করবেই। মানুষ নিন্দা করবেই সমালোচনা করবেই। এটা নবীগণের সুন্নত।

দাওয়াতের নরম ভাষা ও হিকমত

নূহ আলাইহিস সাল্লাম থেকে শুরু করে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত এমন কোন নবী নাই যাকে তার কওম তিরস্কার করে নাই অত্যাচার করে নাই বের করে দেয় নাই কোন কোন ক্ষেত্রে নবীগণকে হত্যা করার চেষ্টা পর্যন্ত করা হয়েছে। নবীগণের মতো নিষ্পাপ কোন মানুষ আছে। তাহলে তাদেরকে এই ভোগান্তি কেন পোহাতে হল। তারা কি আমাদের হচ্ছে অন্য কোন ইসলাম ফলো করতো তাহলে? আমরা কি এমন কোন ইসলাম ফলো করছি যেটা করলে আমাদের সব ঠিক থাকে? চাকরিও যায় না। পরিবারের সব ঠিক থাকে। এদিকে আমি ব্যবসায় লাভ উন্নতি করছি। আবার আমার হজ ওমরাও ঠিক আছে মাশাআল্লাহ। সো এমন ইসলামের কথা বলা হয়েছে। যে ইসলাম পালন করলে পরিপূর্ণ ইসলাম যারা পালন করছে না তারা আপনাকে নিন্দা করবে সমালোচনা করবে তিরস্কার করবে। এটা শুরু হবে আপনার পরিবার থেকে। আপনি টোটালি ইসলাম ফলো করার চেষ্টা করেন। আপনার পরিবার থেকে বাধা শুরু হবে। প্রথমে এখান থেকেই। তারপরে সমাজ মেনে নিবে না। তারপরে দেখা যাবে ধর্ম নেতারা মেনে নিবে না। প্রচলিত একটা সিস্টেম চলছে আপনি এসে নতুন একটা কিছু বলছেন। যে নতুন বিষয়টা অবশ্যই কোরআন সুন্নাহর সাথে মিল আছে। তারপর সর্বোচ্চ লেভেল ফেরাউন এবং নমরুদদের এটা পরে ওটা সবার আগে আসবে । তবে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কোন নিন্দুকের নিন্দা বা সমালোচনার পরোয়া তোমরা করবে না। মনে রাখবেন যা বীর তাদের গায়ে আঘাতের চিহ্ন থাকে। যারা কাপুরুষ এদের গায়ে কখনো আঘাতের চিহ্ন থাকে না। আর যারা ইসলাম ফলো করেও খুব কুতুবকথিত করে থাকতে চায়। আমিও যাবো না বামেও যাবে না এভাবেই চলতে থাকবে। তাদের ইমান ইসলাম এবং এহেসান নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে এখন। আল্লাহপাক আমাদেরকে প্রকৃত ইসলাম ফলো করার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। আর প্রকৃত ইসলাম মধ্যমপন্থী এটা সত্যলো বাদী ও নয় এবং চরমপন্থীও নয়। প্রকৃত ইসলাম মধ্যমপন্থী না সত্যলো বাদী না চরমপন্থী। সর্বশেষ ওসিয়াত ছিল তার জীদনী রাসূলুল্লাহ তিনি বলছেন অন্য মানুষের সম্পর্কে নিন্দা করার মানসিকতা যদি তোমার তৈরি হয়।অন্য কারো সম্পর্কের নিন্দা করা বা সমালোচনা করার মানসিকতা যদি তোমার তৈরি হয়। তুমি আগে নিজের দিকে খেয়াল করবে ঐটা তোমার নিজের মধ্যে আছে কিনা। তারপরে তুমি কথা বলবে। মানুষের সম্পর্কে নিন্দা সমালোচনা করার আগে তুমি আগে নিজের তোমার কলব এবং তোমার নফস কে দেখবে যে তোমার মধ্যে সেই গুনগুলো আছে কিনা। এটা যেন তোমাকে বাধা দেয় যে তোমার মধ্যেও তো এই বিষয়গুলো আছে তুমি কেন ওই বিষয়টা নিয়ে অন্য কোন মানুষের সমালোচনা করতে যাবে। আর এখন অনলাইনের যুগ এটা আমাদের খুব ভালোভাবে মাথায় রাখতে হবে। আমরা কিছু পারি আর না পারি দ্বীনের জন্য কিছু করতে পারি আর না পারি। সমালোচনা গীবত তহমতে এক্সপার্ট আমরা। দেখেন ফেসবুককে কমেন্ট বক্স এ ফাটাই ফেলছে কিন্তু বাস্তবে তিনি কিছুই করে নাই। না দ্বীনের জন্য একটা বই লিখেছে না একটা লেকচার দিয়েছে না মানুষকে হক কথা বলেছে। না কোন হ্যাসেল পুহিয়েছে । না তার ওপরে কোন সাফারিংস আসার পরে সবর করেছে কিছুই করেনি।

দায়ী হওয়ার আদর্শ ও মধ্যমপন্থা

ইভেন গিয়ে দেখেন ভালো করে সে বিশুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারে না। বকর বকর করার সময় কমেন্ট করার সময় মানুষকে সমালোচনা করার সময় দেখবেন সবার অগ্রগতি। ভাবখান এরকম যে সে জাতির উম্মাহ।যে সে উম্মাহদের নেতৃত্ব দিচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা আল্লাহ পাক মানুষের ভেতরের কথা জানেন । আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই হাদিসের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে জানাচ্ছেন। অন্যের ব্যাপারে কটু কথা বা নিন্দা সমালোচনা করার আগে তুমি দেখবে তোমার মধ্যে সে প্রবলেমটা আছে কিনা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সবার আগে নিজের চেহারা দেখ আয়নায় দেখার তৌফিক এনায়েত করুন আমিন। এরপর অন্য কারো বিষয়ে মানদণ্ড আনার তৌফিক এনায়েত করুন। সবাই সবকিছু সমালোচনা করবে না। যে ব্যক্তি আলেম সে একজন আলেমের সমালোচনা করতে পারে এটা মানায়। যে ব্যক্তি আলেম না যে৷ দ্বীনের কিছুই বোঝে না যে কোরআন তেলোয়াত করতে পারে না সে কেন আলমের সমালোচনা করবে। তার কি অধিকার আছে আলেমকে নিয়ে সমালোচনা করার। একজন পলিটিশিয়ান আরেকজন পলিটিশিয়ানের সমালোচনা করতে পারে।আমি পলিটিক্স বুঝি না আমি সমালোচনা করবো না সিম্পল। একজন ইকোনমিক ব্যক্তিত্ব যিনি ইকোনমিক্স নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি সমালোচনা করতে পারেন আরেকজন ইকোনমিক্সের। আমি ইকোনমিক্স এর কিছুই বুঝিনা আমি কেন সমালোচনা করতে যাব। এই জাতিগত পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা যে যে সেক্টরে আছি সেই সেই জায়গার দক্ষ মানুষদেরকে সেই জায়গা নেতৃত্ব দিতে হবে। তখন দেখবেন ইনশাল্লাহ সমাজে সুশৃংখলা আসবে। আপসে ভেদাভেদ কাদা ছড়াছড়ি এবং অতিরিক্ত কথা বলার মানসিকতা কম কাজ করার মানসিকতা এগুলো চলে যাবে। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে আবু জাহেল রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই প্রশ্ন-উত্তরের মধ্য দিয়ে যে ওসিয়ত গুলো আমরা পেলাম এইগুলো আমল করা তৌফিক আমাদেরকে দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন। আমি শেষ করার আগে জাস্ট পয়েন্ট গুলো একবার বলছি। এই হাদিসের মধ্য দিয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ওছিয়ত গুলো করেছিলেন গুলো হচ্ছে এক তাকওয়া অবলম্বন করতে হবে। তাকওয়া হচ্ছে আল্লাহর ভিত্তি এটা আমাদের প্রতিটি আমলকে সুন্দর করে দিবে ইনশাল্লাহ । দুই কোরআন তেলোয়াত নিজের উপর ওয়াজিব করে দিতে হবে এবং আল্লাহর জিকির কে নিজের উপর ওয়াজিব করে নিতে হবে। তাহলে কি হবে আল্লাহ আসমানে আমাদেরকে স্মরণ করবেন। এবং পৃথিবীতে আল্লাহ পাক জাহেলিয়াত কে পাশ কাটিয়ে চলার মত নুর আমাদেরকে দান করবেন ইনশাল্লাহুতালা। তারপরে নবীজি বলেছেন দীর্ঘ সময় নিরব থাকার একটা অভ্যাস তৈরি কর। নীরবতা অবলম্বনে চর্চা করো তাহলে তোমার দ্বীনের কাজগুলো গুছিয়ে আসবে ইনশাল্লাহ। আল্লাহ পাকের নূর এবং মারেফত অর্জন হবে। তারপরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে বেশি বেশি হাসা থেকে বিরত থাকবে। বেশি বেশি অট্ট হাসি দিলে কলব মরে যায় এবং চেহারার নুর এবং জ্যোতি চলে যায়। শেষের দিকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সব সময় সত্যের ওপর থাকবে সত্য কথা বলবে যদিও সেটা তিতা হয়। যদিও সেটা তিক্ত হয়। তবু সে বলেছেন আল্লাহর পথে চলার ক্ষেত্রে কোন নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করবে না। সর্বশেষ তিনি বলেছেন অন্যের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে তোমার মন যদি সাই দেয় তাহলে তোমার নবসকে কন্ট্রোল করবে এই বলে ওই দোষটা তোমার মধ্যে ও আছে। সবাইকে এই হাদিস থেকে শিক্ষা অর্জনে তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। আমরা দোয়া করি আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে কুরআন এবং সুন্নাহ চর্চা করার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন।

সাধারণ প্রশ্ন

খুতবায় আবু জাহেল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে প্রথম কী ওসিয়ত করা হয়েছিল?

প্রথম ওসিয়ত ছিল আল্লাহকে ভয় করা, যাকে তাকওয়া বলা হয়েছে। খুতবা অনুযায়ী এই তাকওয়া জীবনের সব কাজকে সুন্দর করে তুলবে।

খুতবা অনুযায়ী তাকওয়া কী?

খুতবায় বলা হয়েছে, আল্লাহর সাথে শিরক না করা ও তাওহীদের ওপর থাকাই তাকওয়ার প্রথম স্তর। এরপর আল্লাহর আদেশ মানা এবং নিষেধ বর্জন করাও তাকওয়ার পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

খুতবায় কলব পরিষ্কার রাখার জন্য কী কী করার কথা বলা হয়েছে?

বেশি বেশি মউতের স্মরণ ও পরকালের ফিকির, রিয়া-অহংকার ও হিংসা-বিদ্বেষ বর্জন, এবং এতিম-বিধবা-মিসকিনদের সেবার কথা বলা হয়েছে। খুতবা বলে এসব করলে কলব জীবিত থাকে।

খুতবায় কোরআন তেলাওয়াত সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

বিশুদ্ধভাবে তেলাওয়াত শেখার গুরুত্ব বলা হয়েছে, কারণ ভুল উচ্চারণে অর্থ বিকৃত হতে পারে। অর্থ জেনে পড়াকেও উৎসাহিত করা হয়েছে।