যে ভাবে আলোকিত জ্ঞানীতে চ্যাম্পিয়ন হলেন
ইসলামিক ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের গল্প
আমার জীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে এটা এখন মনে পড়ে গেছে তাই বলতেছি। এক লক্ষ বিশ হাজার টাকার ঋণ আছে আমার শোধ করার কোন অপশন নাই। আমার চোখে ধরা পড়ছে না যে আমি এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা কিভাবে দিব।কি হলো হঠাৎ করে একটা সার্কুলার দেখলাম যে সারা বাংলাদেশে ইসলামিক ট্যালেন্ট খোঁজা হচ্ছে। ২০১৮ এর ঘটনা। আমার ওয়াইফ বলছে যে আপনি এটাতে এপ্লাই করেন। আমি বলছি আমি এখানে অ্যাপ্লাই করবো এখানে তো আলেমরা আছে আমি কিভাবে একজন জেনারেল থেকে আসা মানুষ কেমন করে কি। সে বলছে আপনি পারবেন ইনশাল্লাহ আপনি পড়াশোনা করেন আপনি পারবেন। আমি দেখলাম প্রাইজ টা কি আছে।পুরস্কারটা হচ্ছে একটা ওমরা করাবে আর ওমরা করা যে কোন মানুষের জন্য একটা স্বপ্নের ব্যাপার তাই না।ওমরা করা আমরা সবাই পছন্দ করি আল্লাহ পাক যেন আমাদের সবাইকে ওমরা করার তৌফিক দান করুক। লেখা আছে ফাস্ট প্রাইস তিন লাখ টাকা সেকেন্ড প্রাইস ২ লক্ষ টাকার আর থার্ড প্রাইজ এক লক্ষ টাকা। টানা ৫ থেকে ৪ মাস দৈনিক ১০ ঘন্টা। থাকা খাওয়া ওখানেই। আর যত সহজ মনে করছেন প্রতিযোগিতা তত সহজ নয়। যে কোন জায়গা থেকে প্রশ্ন আসতে পারে আকিদা সিরাত যে কোন জায়গা থেকে আসতে পারে। প্রায় ৩৬ টা বিভাগ আছে। আলহামদুলিল্লাহ কিভাবে জানি আস্তে আস্তে উঠতে পারলাম।আমি তেমন কিছুই করি নাই আমি শুধু পরিশ্রম করেছি আমি শুধু আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করেছি ।হে আল্লাহ আমার ঋণ আছে ঋণ শোধ করতে হবে আমার আমি চাচ্ছি যে এই প্রোগ্রাম দিয়ে দিনের একটা বড় সার্কেল যাতে পাওয়া যায়। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় সেখানে একটা ভালো রেজাল্ট হলো এবং সেখানে উমরাও করা হলো এবং তারা সেখানে খুব তাড়াতাড়ি ক্যাশ দিয়ে দিয়েছে। আমি পুরো ক্যাশ টা পেয়ে আগে ঋণ শোধ করেছি। দেখেন আমি কিন্তু জানতাম না এমন কোন প্রতিযোগিতা হবে আর আমি সেখানে পার্টিসিপেট করব। ওই ওসিলায় ওমরা করবো আবার ওই উসিলা ঋণটা শোধ হবে আমার মাথায় এসব ছিল না। আপনি যে ব্যাংক থেকে তিন চার লক্ষ টাকা লোন নিয়ে বসে আছেন দিব্যি শান্তিতে বসে আছেন এমন চিন্তা যে আপনার মৃত্যু হবে না। মহানবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম সময় একজন মারা গেছেন তিনি বলছেন তোমরা জানাজা পড়ে নাও আমি জানাজা পড়তে চাচ্ছি না। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি তিনি জানাজাও করতেন না। তারপর একজন এসে বললেন ইয়া রাসুল আল্লাহ আমি তার ঋণ শোধ করে দিব। তখন নবী এসে জানাজা পড়লেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আপনার এই কোটি কোটি টাকার ঋণশোধ করার লোক তো রেডি আছে তাই না।সমস্যা নাই আপনার জানাজা পড়া হবে। হুজুরকে আপনি ৫ হাজার টাকা দিবেন হুজুর জানাজা পরিয়ে দিবে কোন সমস্যা নেই। তারপর আপনার একটা মিলাদ হবে। তারপর আপনার বড়সড় একটা মিলাদ হবে ইনশাল্লাহ। আল্লাহপাক বলেছেন যে ব্যক্তি যুদ্ধ করেও শহীদ হয়েছেন ওই ব্যক্তির আত্মাও ঝুলে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না তার ঋণ শোধ হয়। এবার বলেন আমি কি বুঝাবো আপনাদেরকে। আর কিছু বলতে হবে।
ঋণ থেকে মুক্তির দোয়া ও রিজিকে তাওয়াক্কুল
এখন সেই দোয়া শিখাচ্ছে আপনাদেরকে যেই দোয়া শিখলে আপনারা ঋণ থেকে বাঁচবেন ইনশাল্লাহুতালা। দোয়া করবেন আল্লাহ পাকের দ্বীনটাকে যেন আল্লাহর জমিনে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। দোয়াটা হচ্ছে আল্লা-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা ‘আন হারা-মিকা ওয়া আগনিনী বিফাদ্বলিকা ‘আম্মান সিওয়া-ক।এই দোয়াটা ছোট না এটা মুখস্থ করবেন সেজদায় পড়বেন। আত্তাহিয়াতু দুরুদ শেষ তারপরে পড়বেন। নামাজ শেষে হাত তুলে পড়বেন। যখন তখন পড়বেন। শেষ রাতে পড়বেন। ইনশাল্লাহ দেখবেন আপনার ঋণ বলতে কিছুই থাকবে না ইনশাআল্লাহ তাআলা। যদি থাকে ও আলাপ-পাক অন্য কোন উসিলায় এটা শোধ করার ব্যবস্থা করে দিবেন ইনশাল্লাহুতালা। সূরা ওয়াকিয়া। এই সূরাটি যে ব্যক্তি রাতের বেলায় পড়বে। একটা বর্ণনায় এসেছে যে দারিদ্রতা আপনাকে স্পর্শ করবে না ইনশাল্লাহ তাআলা।এই যে সুদ খাচ্ছেন কি জন্য টাকার জন্যই তো নাকি। টাকা পয়সা ধন দৌলত করবেন এজন্যই তো সুদ খাচ্ছেন। এর জন্যই তো মায়ের সাথে জেনা করছেন নাকি। আল্লাহ পাক বলছেন সূরা ওয়াকিয়া পড়েন আপনার দারিদ্রতা দূর হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ তায়ালা ।বিশ্বাস হচ্ছে না রিযিক কার হাতে। মানুষ মুখে বলে রিজিক আল্লাহর হাতে কিন্তু এটা মানুষ মনে বিশ্বাস করে না। মানুষ যদি বিশ্বাস করত রিজিক আল্লাহর হাতে তাহলে মানুষকে কেমন করে সুদ খাবে।মানুষ মনে করে রিজিক আমার হাতে। আমি যদি সুদ খাই তাহলে আমি ভালো থাকবো আর যদি আমি শোধ না খাই তাহলে আমি দারিদ্রতায় ভুগবো। যদি আমি ঘুষ নেই তাহলে আমার উন্নত হবে অর্থনৈতিক। আর যদি না নেই তাহলে আমি না খেয়ে মরে যাব। যদি আমি দুর্নীতি করি তাহলে আমি বাঁচবো আমার সন্তানরা ভালো থাকবে। আর যদি না করি তাহলে আমি দারিদ্রতায় মরে যাব এই তো। এই কনসেপ্ট ছাড়া কেউ এগুলো কাজ এমনি করতে পারে নাকি। নিঃসন্দেহে আমরা মনে করি রিজিকের মালিক আমরা আল্লাহ নয়। শুধু মুখে মুখে বলি রিজিকের মালিক আল্লাহ। রিজিকের মালিক যদি আল্লাহ থাকত তাহলে আমি হালালের পথে থাকতাম। এবং যদি আমি তাওয়াক্কুল করতাম আল্লাহ আমাকে যা রিজিক দিয়েছে তা তো আসবেই আসবে না।আপনার তাকবীরে যদি লেখা থাকে আপনি একশ একর জমিনের ধান খাবেন তারপরে মারা যাবেন । একটা বেশি দানা কম বেশি হবে। আপনি যদি আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল করেন তাহলে আপনি হালাল পথে থাকবেন এবং বিশ্বাস করবেন আল্লাহ পাক আমার রিজিকে যা লিখে রেখেছেন তার একটা দানাও রেখে আমি পৃথিবী থেকে যাব না। সিম্পল তখন আপনার অন্য পথে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। আর যদি মনে করেন না এটা আমার হাতে আমি যত কামাই করব তত রিজিক বাড়বে। যত ঘুষ খাব তত রিযিক বাড়বে যত দুর্নীতি করব তত রিযিক বাড়বে যত সুদ খাব তত রিযিক বাড়বে। তখন তো রিজিকের পুরো দায়িত্বটা আল্লাহ পাক আপনার হাতে ছেড়ে দিবে। আল্লাহপাক আপনাকে কোন বারাকাত দিবে না। ছতকা করলে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর রিভার মাধ্যমে সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায় একদম মাটিতে মিশে যায়।
সুদ, ঋণ ও সম্পদ নিয়ে উপদেশ
এটা সমাজের নিচু লেভেল থেকে উঁচু পর্যন্ত দরিদ্র মানুষদেরকে আরও দরিদ্র করবে আর ধনী মানুষদেরকে আরও ধনী করবে। সম্পদ একশ্রেণীর মানুষের হাতে গিয়ে জমা হয়ে যাবে। সবার হাতে সম্পদ এভাবে সার্কুলার করতে থাকবে না। যখন আপনি যাকাত ভিত্তিক অর্থনৈতিক চালু করবেন সাদকা করবেন হালালে থাকবেন ব্যবসা করবেন তখন সম্পদ এক হাত থেকে আরেক হাতে ঘুরতে থাকবে ঘুরতে থাকবে ঘুরতে থাকবে। এটা এমনি বুঝবেন না। দারিদ্রতা দূর করতে চান স্বচ্ছ চান তাহলে একটা কাজ করেন এই যে বললাম এক নাম্বার সূরাতুল ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করবেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়েন। ডেইলি কিছু সময়ের জন্য কোরআন তেলাওয়াত করেন। আর আল্লাহর কাছে রিজিক চান জিকির বেশি বাড়িয়ে দেন পারবেন না ইনশাআল্লাহ । আরো একটা দোয়া শিখিয়ে দিচ্ছি। এই দোয়া করলে ইনশাল্লাহ রিজিক তো বাড়বে ইনশাল্লাহ। আপনার যত ঋণ আছে ইনশাল্লাহ আল্লাহপাক সব করে দিবেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন কোন ব্যক্তি যদি পাহাড় সমান ঋণ ও হয়ে থাকে এই দোয়া যদি আমল করে আল্লাহপাক ওই দিনও শোধ করে দিবেন ইনশাল্লাহুতালা। ঋণ কেমন জানেন ওই যে মানুষ এখন ঋণ নিচ্ছে এক কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ২ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে। কত বছরের জন্য ১০ বছরের জন্য ২০ বছরের জন্য বাড়ি করছে তাই না। তার ধারণা এমন যে সে যদি মারা যায় কেউ না কেউ তার ঋণটা শোধ করে দিবে তাই না। এবং আল্লাহর রাসূল কি বলছেন দেখেন একজন ব্যক্তি মারা গিয়েছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় একজন ব্যক্তি মারা গেছেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন এই ব্যক্তির কি কোন ঋণ আছে। একজন সাহাবী বললেন হ্যাঁ নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এই ব্যক্তির তো ঋণ আছে। নবীজি বললেন তোমরা ওর জানাজা পড়ো আমাকে ডেকো না। তোমরা ওর জানাজা পড়ে নাও আমি জানাজা পড়তে চাচ্ছি না। আমি আপনাকে কেমন করে বুঝাবো যে ঋণ কত ভয়ানক জিনিস। এটাই হচ্ছে আল্লাহ পাকের সেই আয়াত।আল্লাহ পাক কে যে ভয় করবেন আল্লাহ পাক তার জন্য রাস্তা খুলে দিবেন ইনশাআল্লাহ। এবং এমন উৎস থেকে আল্লাহ পাক রিজিক দিবেন যেটা সে কল্পনাও করতে পারবেন না। এটা শুধু আল্লাহ পাকের উপর তাওয়াক্কুল রাখেন ব্যাস। ওই ইসমাইল আলাইহিস সাল্লাম এর মায়ের মতন হাজেরা আলাইহিস সাল্লাম ইব্রাহীম আলাইহিস সাল্লাম কে বলছেন আপনি আমাকে এখানে ছেড়ে যাচ্ছেন কি জন্যে। ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম বলছেন আল্লাহর আদেশে। তখন তিনি বলছেন আল্লাহ আমাকে ফেলে দিবে না ইনশাআল্লাহ তায়ালা। সেই মায়ের গর্ভ থেকে ইসমাইল আলাইহিস সাল্লাম এর জন্ম হলো। যে সন্তানকে বাবা বলছে আমি তোমাকে জবাই করছি স্বপ্ন দেখেছি। তোমার রায় কি? সে বলছে আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি সেটাই করেন। ইনশাল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। দেখেন কোন মায়ের গর্ভ থেকে কোন সন্তান। তাকে কি তার বাবা-মা মানুষ করেছেন না তাকে তার মা মানুষ করেছেন।এরকম তা তাওয়াক্কুল কারিনী হাজেরা আলাইহিস সাল্লাম এর মত মা যদি ঘরে ঘরে থাকে বোন ও স্ত্রী ঘরে ঘরে থাকে তখন ইসমাইল আলাইহিস সাল্লাম এর মতই প্রজন্ম আসবে ইনশাল্লাহ।
সাধারণ প্রশ্ন
লেখক কেন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন?
লেখকের এক লক্ষ বিশ হাজার টাকার ঋণ ছিল এবং তিনি তা শোধ করার উপায় খুঁজছিলেন। স্ত্রীর পরামর্শে তিনি ইসলামিক ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতায় আবেদন করেন।
প্রতিযোগিতার পুরস্কার কী ছিল?
প্রথম পুরস্কার ছিল তিন লাখ টাকা, দ্বিতীয় দুই লাখ টাকা এবং তৃতীয় এক লক্ষ টাকা। পুরস্কারের মধ্যে ওমরা করানোর কথাও উল্লেখ আছে।
লেখক ঋণ থেকে বাঁচার জন্য কোন দোয়ার কথা বলেছেন?
লেখক এই দোয়াটি শেখান: আল্লা-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা ‘আন হারা-মিকা ওয়া আগনিনী বিফাদ্বলিকা ‘আম্মান সিওয়া-ক। তিনি বলেন এটি মুখস্থ করে সেজদায়, নামাজের শেষে বা শেষ রাতে পড়া যায়।
লেখক ঋণ সম্পর্কে কী সতর্কতা দিয়েছেন?
লেখক বলেন ঋণ অত্যন্ত ভয়ানক জিনিস এবং তিনি এ প্রসঙ্গে একটি জানাজার ঘটনা উল্লেখ করেন, যেখানে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জানাজা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়তে চাননি।