সুন্দর ওয়াজ
মসজিদে সুন্দর পোশাক পরার শিক্ষা
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মসজিদে বসে আছেন। একজন ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলেন। যার গায়ে ছিল ধবধবে সাদা পোশাক। এবং যার চুলগুলো ছিল অত্যন্ত কুচকুচে কালো । অত্যন্ত কালো। তিনি এসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসলেন। তিনি তার দুই হাটুকে অনেকটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই হাঁটু সাথে লাগিয়ে দিয়ে বসলেন। অনেকটা আমরা তাশাহুদে যেভাবে বসি ওইরকম ভাবে। মসজিদে আসলেন অত্যন্ত সুন্দর কাপড় পড়ে। আমরা সাধারণত মসজিদে যাই অর্ডিনারি কাপড় পড়ে। খেয়াল করে দেখবেন আমরা বিয়েতে যাই অনেক ১৪ই ফেব্রুয়ারি গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে যাই বসন্ত পালন করি সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরার চেষ্টা করি। আর মসজিদে যখন আমরা যাবো সেটা একটা লুঙ্গি কোন রকমের একটা চাদর বা জুব্বা যেটা ধুয়া হয়নি সাতদিনও একবার। বা পাঞ্জাবি যেটা নিজের গায়ে ফিট হচ্ছে না। আমরা মসজিদের যাওয়ার সময় পোশাকের খুব একটা খেয়াল করি না। আল্লাহ পাক প্রত্যেক সালাতের জন্য মসজিদে যাওয়ার জন্য উত্তম পোশাক পরতে বলেছেন । সাধ্যমত আপনার সামর্থের সেরা পোশাকটা পরতে বলেছেন। কারণ নামাজের মাধ্যমে আপনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করতে যাচ্ছেন। এগুলো আমরা খেয়াল রাখি না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন সে সফরে গেলও তার কাছে আতর থাকতো চিরুনি থাকতো তেল থাকতো । ওই সময় টিপটপ পরিপাটি থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন ছিল সবকিছু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে থাকতো।তো ওই ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলেন সবচেয়ে উত্তম পোশাক পড়ে ।এখান থেকে একটা শিক্ষা আছে। আমরা যখন মসজিদে যাব আমাদের উচিত হবে আমাদের সামর্থ্যের সেরা পোশাকটা পড়া। পারা যাবে ইনশাল্লাহ। তিনি এসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসলেন হাঁটুর সাথে হাঁটু লাগিয়ে দিয়ে বসলেন। এবং তার দুই হাত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উরু বা থাই এর উপরে রাখলেন। এরপরে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করছেন ইয়া মোহাম্মদ বলেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। মনে রাখবেন সবচেয়ে কৃপণ ব্যক্তি সে যার সামনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রাসূলের নাম উচ্চারিত হয় কিন্তু সে দুরুদ পাঠ করে না। আর তিন ব্যক্তির জন্য আল্লাহর নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধ্বংসের বদদোয়া করেছেন। এক নাম্বার সে ব্যক্তি যে রমজান মাস পেল কিন্তু রমজান মাসে আমল করে গুনাহ মাফ করাতে পারল না। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহ পাক যেন আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিক।এবং রমজান মাসকে সর্ব উত্তম ভাবে কাজে লাগিয়ে গুনা গুলো মাফ করানো তৌফিক আল্লাহপাক তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন। এবং আমাদের হায়াতে যেন আল্লাহ পাক বেশি বেশি রমজান মাস দান করুন আমীন। এবং লাইলাতুল কদরের নিয়ামত দান করুন আমীন। আসলে রমজানের কথায় মনে পড়ে গেল যে রমজান মাসের কিন্তু আর বেশি দিন বাকি নেই। আমরা মনে করছি যে অনেক দেরি আছে আসলে কিন্তু অনেক দেরি নেই। সাহাবা একরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুরা ছয় মাস আগে থেকে রমজানের প্রিপারেশন নিতেন। এই রমজানে আমি কি করব? কোরআন কতটুকু পড়বো। দ্বীনের জন্য কি করব? যাকাত গুলোর কিভাবে হিসাব করব? রমজান কেন্দ্রিক তাদের কিছু প্ল্যান থাকতো আগে থেকে। আমরা রমজান মাস কে গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করি আল্লাহুম্মা আমীন।
পিতামাতার খেদমত ও দুরুদ পাঠ
দুই নাম্বার যার অধীনে পিতা মাতা আছে বৃদ্ধ। পিতা মাতা দুজনেই আসছে। অথবা পিতা আছে অথবা মাতা আছে দুজনের একজন তাদেরকে পেয়ে তাদের খেদমত করে জান্নাত লাভ করতে পারল না এই ব্যক্তির জন্য ধ্বংস। নবীজি বলেছেন আমিন। তৃতীয় হচ্ছে যে ব্যক্তির সামনে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে সে তার নাম শুনে দুরুদ শরীফ পড়েনি তার জন্য ধ্বংস। যখন আপনার সামনে মোহাম্মদ এই শব্দটা উৎসাহিত হবে বা নামটা উৎসাহিত হবে তখন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই পড়বেন । একবার দুরুদ শরীফ পড়লে দশটা নেকী হয় দশটা গুনা মাফ হয়। আল্লাহপাক দশ বার আপনার প্রতি রহম করবেন। আপনার মর্যাদা আল্লাহপাক দশ গুণ বাড়িয়ে দিবেন সুবহানাল্লাহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এই ব্যক্তি এসে তার দুই হাত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উরুর ওপরে রেখে তাকে জিজ্ঞেস করছেন হে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। ইসলাম হচ্ছে তুমি সাক্ষী দিবে বা সাক্ষ্য দিবে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই কোন উপাস্য নাই। এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রাসূল এবং বান্দার এক নাম্বার। দুই নাম্বার তুমি সালাত কায়েম করবে পাঁচ ওয়াক্ত। এবং তুমি যাকাত প্রদান করবেন নিসাব পরিমাণ সম্পদ হয়ে গেলে তুমি যাকাত প্রদান করবে। রমজান মাসের সওম পালন করবে। এবং সামর্থ্য হয়ে গেলে তুমি হজ সম্পাদন করবে। এই পাঁচটাকে বলা হয় ইসলামের পিলার। কি বলা হয় ইসলামের ভিত্তি। আর ইসলামে একমাত্র গ্রহণযোগ্য দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা যেটা আল্লাহর কাছে স্বীকৃত আর অন্য কিছু স্বীকৃত নয়। পৃথিবীতে শুরু থেকে নিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত ইসলাম ছাড়া কোন দ্বীন ছিলও না আসলে। প্রত্যেক নবী মুসা আলাইহিস সাল্লাম যার উপরে তাওরাত নাযিল হয়েছিল তিনি মুসলিম ছিলেন। ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম মুসলিম ছিলেন। আদম নূহ হুদ সামুদ সবাইকে ছিলেন। সবাই মুসলিম ছিলেন। শোয়াইব আলাইহিস সাল্লাম, নবী মুসা, ঈসা , দাউদ, সুলাইমান, ইউসুফ, ইসহাক, ইয়াকুব সবাই কি ছিলেন মুসলিম ছিলেন।পৃথিবীতে ইসলাম ছাড়া কোন ধর্মই ছিল না আসলে। ইসলাম চির প্রাচীন চির নতুন চির আধুনিক। মানুষ এটাকে বিকৃত করেছে। আল্লাহ পাক তখনই নতুন করে আবার কিতাব নাজিল করেছেন। আবার নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। আমাদেরকে পশ্চিমারা শিক্ষায় বা বোঝায় পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছেন রোমকদের দ্বারা তাইনা। যারা পড়াশুনা করছেন রুমক সভ্যতার রিক সভ্যতা মনে হয় যেন এখান থেকে সভ্যতা শুরু হয়েছে ভাবখানা এরকম না। কিন্তু সভ্যতা শুরু হয়েছে নবী দ্বারা। প্রত্যেকটা সভ্যতার শুরু হয়েছে নবী দ্বারা। আমাদেরকে বুঝানো হয় মানুষ আগে পোশাক করতে পারত না গাছের ছাল বাকল পড়ে থাকতো। শিখেছেন না এগুলো। আল্লাহপাক কুরআনে বলছেন আমি আসমান থেকে আদম এবং হাওয়া আলাইহিস সাল্লাম এর জন্য আসমান থেকে কাপড় পাঠিয়েছিলাম। আমার শিখেছিলাম ছোটবেলায় মানুষ পশু শিকার করে খেত। বন্যপ্রাণীর মত ছিল গুহায় ছবি এঁকে রাখতো তাই না। কিন্তু আল্লাহপাক কুরআনে বলছেন আল্লাহ পাক আসমান থেকে হেদায়েত পাঠিয়েছেন আসমানী কিতাব পাঠিয়েছেন একদম শুরু থেকেই। জিব্রাইল আলাই সাল্লাম আগেই এসেছিলেন এবং কি চাষাবাদ কিভাবে করতে হবে সেটাও আদম আলাইহি সাল্লামকে শিখিয়ে ছিলেন।
ইসলামের একমাত্র গ্রহণযোগ্য দ্বীন
আমাদেরকে শিখানো হয় বাঁদর থেকে মানুষ হয়েছে নাউজুবিল্লাহ। কি শিখছেন এই শিক্ষা যদি মাথার মধ্যে ইন্সটল হয়ে যায়। তার কাছে ইসলাম এবং চলমান বিষয়গুলো কনটেটেক্ময় মনে হবে।তো ইসলাম শুরু থেকেই ছিল আর সভ্যতা সৃষ্টি হয়েছে নবী দ্বারা। আদম আলাইহিস সাল্লামকে দিয়ে পৃথিবীর সভ্যতা শুরু হয়েছে।প্রত্যেক যুগে যুগে নবীরাই সভ্যতার ধারক এবং বাহক ছিলেন। তো যে কথাটা বলতে গিয়ে এখানে আসলাম। তো প্রথম যেদিন বিষয়টা তিনি বলেছেন ইসলামের ডেফিনেশন এখানে প্রথমে বলেছে তাওহীদ অর্থাৎ শাহাদাত। এখানে দুইটি অংশ আছে একটা হচ্ছে তাওহীদ আরেকটা হচ্ছে সুন্নাহ। যখন আপনি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন আপনি তাওহীদের সাক্ষ্য দিচ্ছেন। আর এটা দ্বীনের প্রথম অংশ প্রথম খন্ড প্রথম পিলার।দ্বীন টাই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য অন্য কোন রিলেজিওন জীবন ব্যবস্থা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সূরা আল ইমরানের আয়াত গুলো পড়েন। ৮৫ নাম্বার আয়াত ৮৭ নাম্বার আয়াত ১৭ নাম্বার আয়াত এগুলো পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন। আল্লাহ পাক বলছেন আমার কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবন ব্যবস্থা যেটা হচ্ছে সেটা হচ্ছে ইসলাম। আর কোন প্রয়োজন আছে আল্লাহর কথার বাইরে আর কোন কথা আছে। আল্লাহ নিজে বলছেন আমি আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছি আমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই। কথা বুঝতে পেরেছেন আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছে আমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই। মালাইকা সাক্ষ্য দিচ্ছেন এবং যারা জ্ঞানী সম্প্রদায় এবং সত্য সেবি তারাও সাক্ষ্য দিচ্ছে। আল্লাহপাক সাক্ষ্য দিচ্ছেন আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই এবং তার পরের আয়াতে আল্লাহপাক বলছেন যে আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন আমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই সে আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন আমার কাছে একমাত্র ধর্মের নাম হচ্ছে ইসলাম। একই সুরাই আল্লাহ পাক আরো বলছেন যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন জীবন ব্যবস্থা তালাশ করবে তাকে কোশ্চিনকালেও কোন কিছু কবুল করা হবে না। এই সূরায় আবার বলা হচ্ছে তারা কি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন তালাশ করছে।অথচ আসমান সমূহ এবং জমিনে প্রতিটি সৃষ্টি ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক আল্লাহ সামনে আত্মসমর্পণ করেছেন। আর কোন প্রমাণের দরকার আছে। এই দ্বীনটা কি আংশিক না পরিপূর্ণ। সূরা মাইদায় চলে যান। বিদায় হজের দিন এই আয়াতটা নাযিল হয়েছে। যেদিন নবীজি বলেছেন ছেড়ে যাচ্ছি দুটি বস্তু কুরআন এবং সুন্নাহ। ঐদিন এই আয়াত নাজিল হয়েছে। আজকে তোমাদের জন্য এই দ্বীন ইসলামকে কামিল করলাম পরিপূর্ণ করলাম।ইসলামে ঢুকানোর কোন অবকাশ নাই বের করারও কোন অবকাশ নাই পরিপূর্ণ। সূরা নাহাল ৮৯ আয়াত আল্লাহ বলছেন আমি আপনার প্রতি এমন একটা কিতাব নাযিল করেছি অর্থাৎ কুরআন । যেখানে প্রত্যেকটা বিষয়ের ব্যাখ্যা আছে। এমন কিছু নাই যেটা কুরআনে আল্লাহপাক ব্যাখ্যা করেন নাই। এমন কিছু নেই। এবং এটা হেদায়েত এবং দয়া এবং মুসলিমদের জন্য এটা সুসংবাদ। এরকম আয়াত আরো অনেক জায়গায় আছে। স্পেশালি সূরা কাহাফের ৪৪ নাম্বার আয়াতে আছে। আরো অনেক সূরা আছে সূরা বানি ইসরাইলের মধ্যেও আছে। আল্লাহ পাক বলছেন কুরআন এবং সুন্নাহয় সবকিছু ব্যাখ্যা করা আছে। এই দুইটা হচ্ছে ইসলামের মেইন পিলার। এই দুটোর ওপরে দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ। এখানে ঢুকানোর কিছু সম্ভব নয় এবং বের করাও কিছু সম্ভব নয়।
ইসলাম কি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা
ইসলাম কি শুধুই ইবাদত করতে শিখায় নাকি আপনার পরিবার চর্চা করতেও শেখায়? ইসলামে কি শুধু পারিবারিক হেদায়েত আছে নাকি সামাজিক হেদায়েতও আছে? শুধু কি সামাজিক আছে নাকি অর্থনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ও আছে। নাকি সবই আছে, উত্তর কোনটা। সব আছে এটা মেনে নেন। এখন আমল করতে গিয়ে যদি সেটা না পারেন সেটা আলাদা বিষয়। আমল করতে গিয়ে হয়তো আপনি পারছেন না আপনি ইবাদত করতে পারছেন কিন্তু পারিবারিক বিষয়টা আপনি পারছেন না। পারিবারিকটা পারছেন কিন্তু সামাজিকটা পারছেন না। সামাজিকটা পারছেন কিন্তু পলিটিক্স টা পারছেন না। না পারার বিষয় টা ডিফারেন্স। আগে আকিদা ঠিক করেন। যে ইসলামে আছে সমাধান। আকিদা ঠিক করে যদি কেউ আমল করতে না পারে ইনশাআল্লাহ আল্লাহপাক মাফ করতে পারেন। আল্লাহপাক মাফ করতে পারেন যে আমার বান্দার আকিদা ঠিক ছিল। সে ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে মেনে নিয়েছে। এরপরেও সে আমল করতে পারে নাই বিভিন্ন কারণে। হতেই পারে সব সময় এক রকম সিচুয়েশন থাকে না। কিন্তু যদি আকিদাই ঠিক না থাকে। যদি মনে করে ইসলামে এই জিনিসটা নাই এটা এই যুগে চলে না। ওই যুগের চলত। ইসলামের বিধান গুলো সব মৌলবাদী বিধান। এগুলো করতে গেলে আমরা পিছায় যাব। আকিদায় যদি গলদ থাকে তাহলে তো সমস্যা। কবর যখন প্রশ্ন করবে তোমার দিন কি সে বলবে আমি জানিনা আমি জানি না। কারণ দুনিয়াতে সেই ইসলামকে পরিপূর্ণ ভাবে স্বীকার করে নাই। আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে স্বীকার করে নেওয়া যে ইসলামের সমাধান আছে। আপনি এখন আমল করতে পারবেন না আমিও জানি। কেউ এখন ইসলামে পরিপূর্ণ বিষয়গুলো পালন করতে পারবে না। পুরো সিচুয়েশন তাই ডিফিকাল্ট। এবং ইসলামের ও মুসলিমদের বিপক্ষে। মক্কা মাক্কী যুগে যেখানে মক্কার জাহিলিয়াত ছিল। ওই যুগে কি ইসলামের সমস্ত বিধানগুলো বাস্তবায়ন করা গেছে। সম্ভব হয়। হয় না। আপনার দুই চোখ লাগবে বাইরের চোখ এবং ভিতরের চোখ দিয়ে দেখেন। আপনি নিজে বুঝতে পারবেন যে পুরো ওয়ার্ল্ড ওয়ারে যে অবস্থা চলছে এটা মাক্কী যুগের জাহিলিয়াত থেকে কম না। এখানে যদি আপনি শুরুতেই সবকিছু প্রকাশ করতে চান তাহলে পারবেন না । এবং এটা ভুল হবে। বরং বেসিক প্রাইমারি জিনিস দিয়ে শুরু করতে হবে। যেমন নামাজ দিয়ে শুরু করতে পারেন। জ্ঞান চর্চা দিয়ে শুরু করেন। পারিবারিক আদর্শ সুন্দর করার দিক থেকে শুরু করেন। সামাজিক কাজ করেন বেসিক জিনিস দিয়ে শুরু করেন। আগে যদি চলে যান খেলাফত প্রতিষ্ঠা করে শুরু করবো। বড় বড় টারম যদি আগে ইউজ করেন তাহলে আপনি ভুল করবেন। কারণ বেশ ঠিক নাই। একটি বাড়ি বানাবেন যার ভিত্তি নাই এখানে দশ তলা ২০ তলা উঠবে। উঠবেনা। আমার সমাজে বেশিরভাগ মানুষ নামাজ পড়ে না ম্যাক্সিমাম পড়ে না নামাজ। ম্যাক্সিমাম ছেলে মেয়ে দেখবেন কুরআন করতে পারেনা তেলাওয়াত করতে পারে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী কখনো পরেও দেখে নাই। তো বেসিক যাদের ঠিক নাই এই জেনারেশন দিয়ে কি আপনি ইসলামের বড় বিজয় কামনা করছেন? হবে না। শুরুর থেকে কাজ করতে হয় । যাই হোক ইসলামের বাইরে কোন কিছু নাই আল্লাহর কাছে। যদি কেউ তালাশ করতে যায় তাহলে সে ভুল করবে।
তাওহীদ শিরক ও সুন্নাতের অনুসরণ
এখন এই ইসলামের পিলার নবীজি বলেছেন পাঁচটা। প্রথমে তাওহীদ। এক আল্লাহকে পালনকর্তা সৃষ্টিকর্তা রিজিকদাতা সন্তান দাতা ভালো-মন্দের মালিক এভরি সিঙ্গেল সেক্টরে আল্লাহকে মানা এর নাম হচ্ছে তাওহীদ। এর বাইরে কেউ যদি মানে আল্লাহ ছাড়া ইলা আছে নাউজুবিল্লাহ।বা আল্লাহ আছে এবং অন্য ইলাহ আছে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সিজদা করে অন্য কারো কাছে দোয়া করে অন্য কারো নামে নজর মান্নত করে। অন্য কারো নামে কসম করে অন্য কারো নামে কুরবানী করে ইত্যাদি ইত্যাদি। আল্লাহকে বাদ দিয়ে গাইরুল্লাহ কাউকে ইবাদত করলে তাহলে শিরক হয়ে যাবে। শিরিকের পাপ থাকা অবস্থায় বিনা তওবায় কেউ যদি মারা যায় 99 পারসেন্ট সম্ভাবনা হচ্ছে এই ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে। কোন সুযোগ নাই। সূরা নিসায় আল্লাহপাক বলেছেন আল্লাহ পাক তার সাথে শিরিকের গুনা মাফ করে না অন্য যে কোন গুনাহ যাকে ইচ্ছা সে মাফ করতে পারেন। শিরিক থাকলে সে সঠিক উত্তর দিতে পারবে না। আরেকটা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ অর্থাৎ আপনাকে আমল করতে গিয়ে ইবাদত করতে গিয়ে একজন ব্যক্তি কে ওল্ড মডেল মানতে হবে তিনি হচ্ছেন কে? আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। জীবনের প্রতিটা কাজ তার মত করে করার চেষ্টা করতে হবে। আপনার বাথরুম থেকে নিয়ে শুরু করে সবকিছু। ঘুমানো থেকে শুরু করে বাথরুমে যাওয়া খাওয়া-দাওয়া আপনার পোশাক পরিচ্ছেদ আপনার কথাবার্তা চলাফেরা পরিবার ব্যবসা এভ্রি সিঙ্গেল সেক্টর আপনাকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত মোতাবেক করার চেষ্টা করতে হবে। আমি আবারও বলছি আমি জানি আপনি পারবেন না আমিও পারবো না। ১০০% আপনি পারবেন না এটা সম্ভব না। ১০০% কেউ দাবি করতে পারবে যে আমি সুন্নতের উপরে আছি। কিন্তু চেষ্টা আল্লাহ পাক কি দেখবেন যে চেষ্টা করছে আমার বান্দা। ট্রেডিশন এরকম হয়ে গেছে যে আমরা ঘুমাচ্ছি রাত তিনটায়। কি বলবো যে সবাই এর মধ্যে পড়ে গেছে আপনি আমি সবাই। এমন একটা সিস্টেম চলে আসছে যে দিন রাতের জায়গায় চলে গেছে আর রাত দিনের জায়গায় চলে গেছে। করে দেখেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতেন শেষ রাত্রে উঠতেন ইবাদত করতেন। ফজরের নামাজ পড়তেন সকাল একটা রিফ্রেশিং মাইন্ডে তিনি সকাল করতেন। আর আমাদের খেয়াল করে দেখেন আমরা যারা এই জেনারেশনে আছি বেশিরভাগই দেখাই লেট নাইট এবং দিনটা তাদের জন্য ছোট হয়ে যায় দেরি করে ওঠায়। তো সকালের বারাকাত থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।আল্লাহ পাক আমাদেরকে এই তৌফিক টা দেন যেন আপনাদের সবাই এই বারাকাতটা পেয়ে যায়। এবং এই অভ্যাসটা কঠিন ভাবে আঁকড়ে ধরে রাখতে হবে আল্লাহপাক তৌফিক এনায়েত করুন আল্লাহুম্মা আমীন।তোর সুন্নতের কথা বলছিলাম যে প্রতিটা কাজের সুন্নতের সাথে করার চেষ্টা করতে হবে । হয়তো আমরা পারবো না কিন্তু আল্লাহ পাক আমাদের চেষ্টা দেখবেন। দুই নাম্বার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ইসলামের সেকেন্ড পিলার কি? পাঁচ ওয়াক্তের সালাত।পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার চেষ্টা করতে হবে না নিজের উপর আবশ্যক করে নিতে হবে। আপনি যাই করেন যত পাপী করেন না কেন নামাজটা ছাড়িয়েন না। নামাজ তাই আপনাকে পাপ থেকে দূরে রাখবে ইনশাল্লাহুতালা। যে ব্যক্তি নামাজ পড়ে তার মনের ভিতর একটা ভয় কাজ করে। নামাজটা পড়লাম কিভাবে ঘুষ নিব নামাজটা পড়লাম কেন সুদ খাব। নামাজ পড়লাম কেন মানুষকে ঠকাবো। তার মনের মধ্যে একটা সারা বা নকিং হবেই।
নামাজ, ওযু ও মনোযোগ
সালাত আপনাকে সমস্ত অশ্লীল এবং বর্ধিত কাজ থেকে বিরত রাখবে ইনশাল্লাহ। নামাজটা ছাড়বেন না যত পাপ করছেন করেন কিন্তু নামাজটা ছাড়বেন না। ইনশাল্লাহ একদিন নামাজ আপনাকে পাপ থেকে বের করে আনবে ইনশাআল্লাহ। আর শয়তান আপনাকে হতাশ করতে চাইবে। শয়তান আপনাকে করতে চাইবে যে তুইতো গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বললি রাতের বেলায় পর্ন দেখলি তুইতো ফ্রিমিক্সিং এ আছিস। তুই মাদকদ্রব্য খাচ্ছিস তুই কাজে ফাঁকি মারিস। তুই ট্যাক্স আদায় করিস না তুই দুর্নীতি করিস। তুই নামাজ পড়বি কেন।শয়তান আপনাকে এগুলো বোঝাবে কিন্তু। নামাজ তো আমায় শোভা পায় না কারণ আমি অনেক পাপী মানুষ এই ধোকায় পা দিবেন না। আপনি নামাজ কন্টিনিউ করতে থাকেন ইনশাল্লাহ আল্লাহ পাক আপনাকে পাপ থেকে বের করে আনবে। আর ওই নামাজটা যদি আপনি ছেড়ে দেন আর কোন হাদিয়ার বাকি থাকবে না। আপনি পাপ করেন না কেন মায়ুস হবেন না। মন ছোট করবেন না। আপনার একটা সেজদা যে সেজদায় চোখের পানি ঢেলে দিয়েছেন আল্লাহর কাছে। যে আল্লাহ আমার ভুলগুলো তুমি ক্ষমা করে দাও আমার তওবা গুলো কবুল করো ইনশাআল্লাহ দেখবেন ওই একটা সিজদা যদি আল্লাহ কবুল করে নেয় তাহলে আপনার সমস্ত গুনাহ আল্লাহপাক মাফ করে দিবেন ইনশাল্লাহ তায়ালা। হতাশ হবেন না শয়তান হতাশ করতে চাইবে মানুষকে। শয়তান হতাশ করতে চাইবে মানুষকে এমনকি আপনার যদি পাহাড়ের সমান ঋণ থাকে ঋণ শোধ করার ব্যবস্থা আল্লাহ পাক করে দিবেন ইনশাল্লাহুতালা। হতাশ হবেন না এবং নামাজ ছাড়বেন না। আর আমি একটা কথা বারবার বলি আর এখনো বলছি যে চলমান যে থ্রিজি ফোরজি নামাজ চলছে এগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন। সব এখন ডিজিটাল নামাজ ও ডিজিটাল। দেখা যায় যে ৫ মিনিটের মধ্যে চার রাকাত নামাজ শেষ মাশাআল্লাহ। ইমাম সাহেব যদি ১০ মিনিট পড়ায় দেয় তাহলে তো তার চাকরি নট। বুঝেন না এত তারা আমরা ব্যস্ত মানুষ এত সময় লাগে নামাজ পড়তে ইমাম সাহেবকে বলছে। কমিটি ইমাম সাহেব কে চার্জ করছে। অথচ ইমামের উচিত তাদেরকে চার্জ করা। উল্টে গেছে সবকিছু দাসী তার মনিবকে জন্ম দিবে। মানে সমাজের ন্যায়-অন্যায় হক বাতিলের মানদন্ড উল্টে যাবে। দাসী কখনো মনিবকে জন্ম দেয়। রিলাক্সে নামাজ পড়বেন ইনশাআল্লাহ তালা। আল্লাহ পাক তৌফিক এনায়েত করুন। নামাজের মধ্যে যা পড়ছেন এটা বোঝার চেষ্টা করতে হবে এটার অর্থটা। তখন দেখবেন নামাজে মনোযোগ বাড়বে ইনশাল্লাহ। তার আগে ও অজুটা ভালো করে করবেন তাড়াহুড়া করে ওযু করবেন না। ওযু সুন্দর করে করবেন রিলাক্স এ অজু করবেন। ওযুর অঙ্গ গুলোকে ভালো করে ধোন। অজু পরিষ্কার হয় না এজন্য নামাজে মনোযোগ থাকে না। আর একটা বদ অভ্যাস আমারও আছে আপনাদের সবারও আছে আমি জানি। অজুতে আমরা যে পরিমাণ পানি খরচ করি এই পরিমাণ পানি দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করতেন। আর আমার আপনার মাথায় যত পরিমান চুল আছে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ চুল ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাথায়। তারপরেও সে অল্প পানিতে গোসল করে ফেলতেন।আর আমাদের দেখবেন যার ঈমানের জোর যত বেশি তার ট্যাপের স্পিড ও তত বেশি। মসজিদে যাবেন দেখবেন জোরে ট্যাপ ছেড়ে ওযু করতেছে একজন মানুষের গোসলের পানি দিয়ে ওযু করতেছে। পানির লেয়ার দিন দিন নেমে যাবে আমাদের এই পাপের কারণে।
ওযুতে পানির অপচয় ও সালাতে মনোযোগ
সুরা মুলক এর শেষ আয়াত পড়ে দেখেন। বলেন হে নবী তোমরা যদি সকালে উঠে দেখো পানির স্তর সব নিচে নেমে গেছে। পানি নাই। কোন সে সত্তা আছে যে তোমাদেরকে পানি এনে দিবে প্রবাহমান পানি। দিন দিন ঢাকা শহর সহ বড় বড় সিটিগুলো যেগুলো আছে সেগুলোর পানির লেয়ার দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে । আমাদের অপচয়ের কারণে এগুলো হচ্ছে। প্রচুর পানি আমরা ওযুতে অপচয় করি। গোসল করার সময় যখন আমার শাওয়ার নিচ্ছি আমাদের যে ডিজিটাল ইয়াজুজ আর মাজুজের বাথরুম আছে পানি চোষা বাথরুম। মানে ১০/ ২০ বালতি পানি দিয়ে শাওয়ার নিয়ে নেই। আর মহিলা হলে তো কথাই নেই আরো ১০ বালতি পানি এক্সটা লাগিয়ে দেয়। তো সমস্যা ওযু ঠিক করতে হবে। তারপরে সালাতে মনোযোগ বসবে ইনশাল্লাহ তালা। আল্লাহ পাক আমাদেরকে সালাত বুঝে পড়ার তৌফিক এনায়েত করুন আল্লাহুম্মা আমীন। মনোযোগ চলে যাবে যাওয়া আসা করবে মনোযোগ। মনোযোগ যাওয়া আসা করবে কিন্তু মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। ইনশাল্লাহ তালা আল্লাহ পাক যদি এহসান এনায়েত করেন তাহলে নামাজে মনোযোগ বাড়বে ইনশাল্লাহুতালা। আরেকটা ট্রিপ বলবো নামাজের সূরাগুলোর মধ্যে ভেরিয়েশন রাখতে হয়। যেমন প্রতিদিন যদি আপনি একই রকম সুরা পড়েন আমি নিজেও দেখেছি। যদি আপনি প্রত্যেক ওয়াক্তে একই রকম সুরা দিয়ে নামাজ পড়ে থাকেন দেখবেন মনোযোগ টা তুলনামূলক কম পাচ্ছেন। এক এক রাকাতে যদি আপনি ভেরিয়েশন নিয়ে আসেন। সুরার মধ্যে ভেরিয়েশন নিয়ে আসেন ভেরিয়েশন বুঝেন তো বৈচিত্র্য নিয়ে আসেন। আপনি দেখবেন মনোযোগ বাড়বে। এবং তাসবিহ তাহলিল যেগুলো করছেন এগুলোর অর্থ টার দিকে ফোকাশ করেন তাহলে দেখবেন মনোযোগ কিছুটা হলেও বাড়বে । আরেকটা কাজ করলে মনোযোগ বাড়বে প্রত্যেক সিজদায় দোয়া করতে পারলে মনোযোগ বাড়বে। যখন সিজদা করছেন সুবহানা রাব্বিয়াল আলা বলে উঠে যাইয়েন না কমপক্ষে একটা দুইটা দোয়া করেন।সেজদায় একটা দুইটা দোয়া করেন কারন সেজদা দোয়া করলে সে দোয়া কবুল হয় তাড়াতাড়ি । আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সেজদায় বান্দা আল্লাহর কাছাকাছি যতটা থাকে অন্য সময় বান্দা আল্লাহর কাছাকাছি ততটা থাকে না। এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমরা বেশি বেশি দোয়া করো। দোয়া করানোর জন্য হুজুর ডেকে এত খাওয়ানোর দরকার নাই নিজে দোয়া করা শিখেন। নিজে দোয়া করা শিখুন নিজের বাবার জন্য নিজের মায়ের জন্য আপনার নিজের আত্মীয়র জন্য আপনার নিজের জন্য আপনার স্ত্রীর সন্তানের জন্য সমাজের জন্য। উম্মার জন্য দেশের জন্য আপনি নিজে দোয়া করতে শিখেন। আপনার একটা প্রয়োজন সেই প্রয়োজনটা কি আমি বুঝতে পারবো। ঐই আবেগটা কি আমার আসবে। আপনার যেটা প্রয়োজন আপনার আবেগ সেটাই আসবে। আপনার সন্তান অসুস্থ আমি কি বুঝবো সেই ফিলিংস টা কেমন? আপনি বুঝবেন সেই ফিলিংস টা কেমন। অতএব নিজে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করেন। আপনি নিজেকে এত ছোট কেন মনে করছেন। আপনিও আল্লাহর সেই বান্দা যে বান্দা আমি আর ১০ জন মানুষ। আল্লাহপাক আপনাকেও ভালোবাসেন। আল্লাহপাক অবশ্যই আপনাকে ভালবাসেন। জীবনের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আপনি আল্লাহকে ডাকেন নাই আল্লাহ আপনাকে ফেলে দেয় নাই। আল্লাহ আপনাকে খাওয়ান আপনাকে পড়ান এখনো বাঁচিয়ে রেখেছেন। আল্লাহ পাক নিয়ামত দিয়েছেন আল্লাহ পাক ভালো না বাসলে এমনিই দিয়েছেন।
সিজদায় দোয়া ও আল্লাহর কাছে ফেরা
আল্লাহ পাক অপেক্ষায় রয়েছেন কখন আপনি আসবেন আল্লাহর কাছে। এসব বলবেন আস্তাগফিরুল্লাহ। আল্লাহপাক অপেক্ষা করে বসে আছেন আপনি কোথায় যাচ্ছেন? আল্লাহ পাক বলছেন কোথায় যাচ্ছ তোমরা? কোথায় যাচ্ছেন টাকা পয়সা গাড়ি বাড়ি স্ত্রী সন্তান ভোগবিলাসের পিছনে। আল্লাহ পাক অপেক্ষা করছেন আপনার জন্য। আসেন সিজদা করেন। সেজদা করেন নিকটবর্তী হোন আল্লাহ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। যাবেন না আল্লাহর কাছে। আল্লাহ পাক সবাইকে আল্লাহর কাছে ফিরে আসার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। এটাই হলো আমাদের কাছে আসার গল্প। এটাই হোক আমাদের কাছে আসার গল্প। আমাদের জেনা করার গল্পের দরকার নেই। ওদের কাছে যেনাই হচ্ছে কাছে আসার গল্প। আল্লাহপাক বলেছেন যার ধারের কাছেও যেও না। আর তারা ওইটাকে বলবে কাছে আসার গল্প। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহপাক আমাদের যুবক যুবতীদের কে হেদায়াত দান করুন। পিতা মাতাকে পরিবারের অনুশাসন বজায় রাখার তৌফিক দান করুন। আমাদের এই কাজের প্রতিফল কিন্তু আমাদেরকে ভোগ করতে হবে। আমাদের মেয়েদেরকে এবং আমাদের ছেলেদেরকে কিভাবে বড় করছি এটার হিসাব কিন্তু আমাদেরকে চুকিয়ে দিতেই হবে। পিতা মাতাকে বলব সচেতন হয়ে যান আল্লাহ পাক তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। আর যারা ঐ পথে চলে গেছেন তাদের উদ্দেশে একটা কথা বলব। সেটা হচ্ছে এটা একটা মোহ একটা ভ্রম। বাস্তবতা হচ্ছে যে আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে সে আপনাকে অনেক ভালোবাসে আদতে সে আপনাকে ভালোবাসে না। আদতে সে আপনার অবস্থানকে ভালোবাসে। আপনি আজ হোক বা কাল হোক আপনি এটা বুঝতে পারবেন যে সে আপনাকে আদতেও ভালোবাসে না। সে আপনাকে ভালোবাসে না আপনার অবস্থানকে ভালবাসে। আপনার অবস্থান যদি ভাল থাকে তাহলে সে আপনাকে ভালোবাসবে। আর অবস্থান যদি ভালো না থাকে সে আপনাকে ভালোবাসবে না। একইভাবে আপনি যে মেয়ের কাছে একটা ভোগ বিলাস চাচ্ছেন। একটা ছেলে একটা গাইড়ে মাহরম মেয়ের সাথে ফ্রি মিক্সিং করলে তার একটাই উদ্দেশ্য থাকে সেই মেয়েটাকে ভোগ করা। সুযোগ পেলেই সে মেয়েটাকে ভোগ করে ফেলবে।একইভাবে সেই মেয়েটাকে দেখবেন সেও আপনার যে অর্থবিত্ত আছে সেটাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করবে তার স্বার্থে । বাস্তবিক অর্থে দুজন দুজনকে ভালোবাসে না মোটেই। দুইজন দুইজনার স্বার্থকে ভালোবাস। ভালোবাসা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। কখন আসবে যখন আপনি হালালের ওপরে থাকবেন। যখন আপনি বিয়ে করবেন হালাল ভাবে অচেনা একটা মেয়ের প্রতি আল্লাহ পাক দেখবেন এমন একটা ডিভাইন লাভ দিয়ে দিবেন। আল্লাহ পাক তার পক্ষ থেকে উভয়ের মাঝে হৃদ্যতা ভালোবাসা মহব্বত দান করবেন সুবহানাল্লাহ। এটা ডিভাইন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসবে ঐশ্বরিক। বাকিটা হচ্ছে পৈশাচিক শয়তানি প্রবৃত্তির দাসত্ব ভোগবাদ এগুলো খেয়াল রাখবেন। এতে কি হবে একবার আপনি আপনার ইজ্জত হারিয়ে ফেললে আর পাবেন না। মানে এই বিষয়গুলোকে আমরা কিছু মনে করি না এখন। আমরা তো কিছু মনেই করি না মনে করি এটা একটা সোশ্যাল কালচার। গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড থাকবে এটা একটা সোশ্যাল কালচার। এভাবে কত ছেলে কত মেয়ে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি ছেলে মেয়ে জেনা করছে নিত্যদিন আল্লাহ ভালো জানে। আল্লাহ পাক আমাদের যুব সমাজকে হেদায়েত করুন আল্লাহুম্মা আমীন। আর যে প্রশান্তির জন্য আপনি তার কাছে যাচ্ছেন সেটা তার কাছে নাই। প্রশান্তি আছে কোরআনের কাছে। প্রশান্তি আছেন নবীর সুন্নাহায়।প্রশান্তি আছে আল্লাহর জন্য সেজদায়। আল্লাহর জন্য আল্লাহকে স্মরণ করে আপনি কাদবেন দেখবেন প্রশান্তি পাবেন।
যুবসমাজ, হালাল সম্পর্ক ও ভোগবাদ
আল্লাহর জন্য কিছু কাজ করবেন তার দ্বীনের জন্য কাজ করবেন দেখবেন প্রশান্তি পাবেন। আল্লাহর কোরআনে 10 টি আয়াত মুখস্ত করেন দেখবেন মনে এমন প্রশান্তি পাবেন। যেটা আপনি কোথাও পাবেন না। আপনি আজকে আল্লাহর কিতাবের পাঁচটি আয়াত মুখস্ত করেন অর্থটা পড়বেন কয়বার চর্চা করেন মানুষকে শোনান আপনার মনে এমন একটা প্রশান্তি আসবে। যেটা পৃথিবীর কোথাও পাবেন না। এখানে প্রশান্তি এত বেশি মাত্রায় আসবে যার খবর যদি ওই পশ্চিমারা জানতো তাহলে আমার কলিজায় বোম মেরে উড়িয়ে দিত। আল্লাহর পথে চললে যে প্রশান্তিটা পাওয়া যায় এটা যদি ইসলামের শত্রুরা জানতো তাহলে মুসলিমদের কলিজা পারমাণবিক বোমা মারতো। তারা জানে না কি প্রশান্তি এখানে পাওয়া যায়। আপনি যে প্রশান্তির জন্য ওখানে যাচ্ছেন সেটা তাদের কাছে নাই। কুরআনের কাছে আছেন নামাজে আছে সেজদায় আছে নামাজে আছে তাহাজ্জুতে আছে আল্লাহর জিকিরে আছে। আর নেক্কার স্ত্রীর কাছে আপনি প্রশান্তি পাবেন। এটা আল্লাহপাক আপনাকে গিফট দিয়েছেন। আদম আলাই সাল্লাম কে আল্লাহ পাক দিয়েছেন না। তার একাকী বোধ হচ্ছিল জান্নাতে আল্লাহ পাক সঙ্গীনি সৃষ্টি করেছেন। এখানে আপনি প্রশান্তি পাবেন বাকিগুলো প্রশান্তির উৎস নয়। পরে দেখা যাবে ওখানে ছ্যাকা খেয়েছে, খেয়ে তারপর মাদক সেবন করবে। তারপরে দেখবেন মিউজিক এর কাছে যাবে। তারপর দেখবেন পতিতালয় যাবে। তারপরে অহেতুক গুন্ডামি করবে। জীবনটা উশৃংখল হয়ে গেল। কেউ কেউ আত্মহত্যা ও করবে। কারণ হচ্ছে শুরুতে একটা মেয়ের সাথে প্রেম করেছে ছ্যাকা খেয়েছে। ওখানে প্রশান্তি খুঁজেছে শয়তান এদের দুজনকে নিয়ে খেলেছে একপর্যায়ে দুজনের জীবন নষ্ট করে ফেলল। আদতে কি হলো মুসলিম উম্মার থেকে দুইজন নক্ষত্র ঝরে গেল। হয়তো ওই যুবককে দিয়ে দ্বীনের কোন খেদমত হত কিন্তু এখন আর হলো না। হয়তো ওই যুবক তার জীবনটা ইবাদত করে কাটাতে পারতো আরশের ছায়ায় ছায়া পেতো কিন্তু এখন আর পেল না। শয়তান জিতে গেল। বাস্তবতা বুঝেন আল্লাহর কাছে ফিরে আসেন আল্লাহ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।এটাই হোক আমাদের আল্লাহর কাছে আসার গল্প আল্লাহ পাক আমাদেরকে তৌফিক দান করুন আমিন। সুন্নতের কথা বলতে গিয়ে আসলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ আমরা যেন আমাদের সামগ্রিক জীবনে পালন করার চেষ্টা করি। আল্লাহ পাক আমাদের চেষ্টাকে যেন কবুল করেন আল্লাহুম্মা আমীন। এরপরে আছে সালাতের কথা তারপরে আছে যাকাতের কথা। নিসাব পরিমাণ সম্পত্তি হয়ে গেলেই যাকাত দিতে হবে। এটা নফল কিছু নয় ফরজ জিনিস। যদি আপনি সামর্থ্য বানদের যাকাত গুলো কালেক্ট করতে পারতেন। কেউ যদি পারতো তাহলে দেখতেন এই যাকাতের অর্থ দিয়ে বিগ বিগ প্রজেক্ট করা যেত। যেটা আপনি কল্পনাও করতে পারতেন না। এটা কিন্তু নকল কিছু নয় দিতেই হবে বাধ্যতামূলক ।ডাকাত আল্লাহ পাক এর জন্য সৃষ্টি করেছেন যাতে গরিব এবং ধনির মধ্যে সাম্য বজায় থাকে। এটা গরিবের হক। যাদের ওপর যাকাত ফরজ হয়েছে তবুও যাকাত দিচ্ছে না। এদের সম্পত্তিগুলোকে আল্লাহ পাক কেয়ামতের দিন গলাবে। মানে ধাতুতে পরিণত করে গলাবেন। গলিয়ে কপালে গালে পিঠে মুখে লেপটে দিবেন নাউজুবিল্লাহ। সূরা তাওবা পড়ে দেখেন সূরা তাওবার মধ্যে এটা আছে। সম্পত্তি গলানো হবে। সোনা তামা ব্রোঞ্জ এগুলো গলালে কেমন হবে? এগুলো উত্ত্যক্ত করে যখন গায়ে লাগিয়ে দেওয়া হবে তাহলে কেমন শাস্তি হবে।
কুরআন চর্চা, প্রশান্তি ও যাকাতের গুরুত্ব
বলা হবে এটাই সেই সম্পদ তোমার। যা তুমি সঞ্চয় করেছিলে। আজকে এটার আযাব ভোগ করো নাউজুবিল্লাহ। এটা সমাজের সাম্য বজায় রাখে। গরিব আর ধনির মধ্যে একটা ব্যালেন্স বজায় রাখে। এটা গরিবের হক। যখন আমরা যাকাত দিব না গরিব মানুষের যে মাথাপিছু যে মানটা আছে জীবনযাত্রা সেটা আরো কমে যাবে। এটাতে শুধু একটা রাষ্ট্রের উপকার হয় না ব্যক্তি পর্যায়ে উপকার হয়। যখন ব্যক্তি পর্যায়ে যাকাত চলে যাবে সবার হাতে হাতে আজকে যে খেতে পারছে না দুই বেলা সে দেখবেন খেতে পারবে দুবেলা। আর আমরা অনেক মুসলিম আছি যারা সালাত পড়ে যাকাত দেই না আছি না। যাকাতকে আমরা ফরজ ই মনে করি না। যদি বলেন ইসলামে পাঁচটা পিলারের নাম বলেন তাহলে বলবে কালিমা, রোজা, নামাজ, হজ্জ, যাকাত। যাকাত টা দেখবেন সবার শেষে। যাকাতকে পাঠাইছে সবচেয়ে শেষে। অথচ আল্লাহ বলেছেন কালিমা তারপরে নামাজ তারপরে যাকাত তারপরে সওম তারপরে হজ। যাকাত কে গুরুত্ব দিন এটা ইসলামের অর্থনৈতিক এর মূল ভিত্তি। ডাকাতের ওপরে শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী উনার একটা বই আছে এই বইটি পড়তে পারেন। অত্যন্ত চমৎকার এবং যাকাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এবং যাকাত কিভাবে মানবতার উপকার করবে এটা বলা আছে। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে যাকাত দেওয়ার তৌফিক দান করুন আমিন। এর পরে সওমের কথা বলা হয়েছে।সওম ইনশাল্লাহ সামনে আসবে আমরা সবাই রাখবো।আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে ৩০ টা সওম রাখার এবং পুরো মানুষের সওম রাখার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। এবং সওমটা শুধু না খেয়ে থাকা বা পিপাসা তো থাকার নাম নয়। বরং আল্লাহপাকের যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার নামই সওম।এটা একটা হিজরত। মানে আল্লাহপাক যত কিছু নিষেধ করেছেন এগুলো ছেড়ে দেওয়ার নামই হচ্ছে রোজা। শুধু না খেয়ে থাকার নাম কিন্তু সওম নয়। না খেয়ে যদি কেউ গালি দেয় গীবত করে সুদ খায় জেনা করে তাহলে কি তার রোজা হবে। হবে না। আল্লাহর পাকের নিষেধ গুলো বর্জন করলে রোজা হবে ইনশাল্লাহ তায়ালা। এর উদ্দেশ্য কি তাকওয়া অবলম্বন করা। আল্লাহ পাকের নিষেধগুলো ছাড়তে না পারলে তাকওয়া অর্জন হবে। অতএব সিয়ামের মূল উদ্দেশ্য কি তাকওয়া অবলম্বন করা। আল্লাহ পাকের যাবতীয় নিষেধগুলো বর্জন করা। আল্লাহ পাক আমাদেরকে সিয়াম রাখার মত রাখার তৌফিক এনায়েত করুন । রমজান মাসে আমরা মানুষকে বেশি বেশি ইফতার করাবো ইনশাআল্লাহতায়ালা। বেশি বেশি মানুষকে ইফতার করাবেন বেশি বেশি দান সদকা করবেন। বেশি বেশি নফল দান সদকা করবেন যাকাত দিয়ে দিবেন। রমজান মাসে কুরআন তেলাওয়াত করবেন। তারাবির নামাজ লম্বা সময় নিয়ে পড়বেন।রাকাতের সংখ্যা নিয়ে ঝগড়া করবেন না। আমরা যে কাজ করি ঝগড়াটা বেশি করি। আল্লাহ পাক কোয়ালিটি দেখবেন কোয়ান্টিটি না। নামাজটা কেমন কোয়ালিটি সম্পূর্ণ ছিল। এই রমজান মাসের সবচেয়ে বেস্ট নিয়ামত হচ্ছে কোরআন। এই মাস কোরআন নাজিল হয়েছে কোরআনকে বেশি বেশি সময় দিতে হবে। যারা কোরআন তেলোয়াত করতে জানে না তাদের রমজান মাসের শিখতে হবে। যারা জানেন তারা কোরআন তেলাওয়াত করবেন এবং খতম দিবেন। যারা আরো ভালো জানেন তারা পুরো কুরআনটা গবেষণা করবেন পারা যাবে না ইনশাল্লাহ।
যাকাতের সামাজিক উপকার ও রোজার উদ্দেশ্য
দ্বীনের জন্য তালিম করবেন। ঈমানের আলোচনা করবেন ।মসজিদের ডাক দিবেন ইফতারি করাবেন। গরিবদেরকে সাদাকা করবেন। ফিতরা আদায় করবেন ।রমজান মাসকে একটা ইবাদতের সংস্কৃতি বানিয়ে ফেলবেন। রমজানের প্রত্যেকটা মোমেন্টকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন আল্লাহপাক সবাইকে তৌফিক দান করুন আমীন। ইফতার একসাথে করবেন। একটা কমিউনিটি বা একটা উৎসব যেন বিরাজ করে। পরিবারের ছোটরা দেখবে রমজানে আমরা সবাই একসাথে ইফতার করি। একটা বড় থাল কিনবেন বাসায় এই বড় থালে খাওয়া কিন্তু সুন্নত। একটা বড় থাল যেখানে পরিবারের সকল সদস্য মিলে খাবেন। ছোট ছোট বাচ্চারা দেখে দেখে বড় হবে যে আমরা রমজান মাসে বাবা-মায়ের সাথে বসে খেয়েছি এইভাবে। ওদেরকে হাদিয়া দিবেন রোজা রাখলে ওদেরকে উৎসাহ দিবেন হাদিয়া দিবেন গিফট দিবেন। বলবেন তোমার ওপরে রোজা ফরজ হয়নি তাও তুমি রাখার চেষ্টা করো যদি তুমি রাখতে পারো তাহলে তোমাকে আমি একটা গিফট কিনে দিব। রোজা রাখতে উৎসাহিত করেন ইনশাল্লাহ দেখবেন এই চর্চা গুলো পরবর্তীতে তাদের মধ্যে তাকওয়া নিয়ে আসবে ইনশাল্লাহুতালা।আমাদেরকে পুরস্কৃত করা হতে এভাবে। প্রথমে কয়টা রোজা রাখবে সাতটা তারপর রাখবে আটটা পরের বছর রাখবে ১০টা এভাবে করতে করতে দেখবেন আপনার সন্তান রোজা রাখার অভ্যস্ত হয়ে যাবে। এবং সওম রাখলে শরীরের কোন ক্ষতি নাই উপকার ছাড়া । কোন ক্ষতি নাই উপকার ছাড়া। সত্যি কথা হচ্ছে যারা খেতে পারে না আপনি তাদের ফিলিংসটা বুঝবেন। আপনিও বুঝতে পারবেন যে না খেয়ে থাকা কেমন। আল্লাহ পাক আমাকে যে খাওয়াচ্ছেন এটা কত বড় নেয়ামত ছিল। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিক। এবং রমজানের ত্রিশটা সওম পুরো মাস রমজান মাসের যাবতীয় কাজের সাথে আদায় করার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। আর সম্ভব হলে রমজান মাসে ওমরা করবেন। এটা খুব বড় একটা ইবাদত। এবং এটাতে নববী নুহানির মত একটা স্বাদ পাবেন এটা বলে বোঝাতে পারবো না আমি। আপনি করলেই বুঝতে পারবেন। আল্লাহ পাক তৌফিক দান করুন সবাইকে আল্লাহুম্মা আমীন। এরপরে আছে সামর্থ্য হলে হজের কথা। আলহাজ্ব টাইটেল এর জন্য নয়। মানুষ আমাকে আলহাজ্ব বলবে মানুষকে দেখানোর জন্য হজ। মানুষ আমাকে হাজী সাহেব বলবে। এর জন্য হজ নয়। হজ করতে যাবেন ইব্রাহীম ই চেতনা শিখতে। হজের মধ্যে ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম এর একত্ববাদ এর চেতনা আসছে। আরাফাতের মাঠ কে আপনি কেয়ামতের মাঠ ফিল করবেন। সায়ী করবেন তখন হাজেরা আলাইহিস সাল্লামের কষ্ট ফিল করবেন। প্রত্যেকটা কাজের পেছনের ঘটনা কি এটা আপনাকে ফিল করতে হবে। পাথর মারবেন। নাস্তিকরা এগুলো নিয়ে তামাশা করে না হাসি ঠাট্টা করেনা। সন্তানকে জবাই করার যে হুকুমটা ছিল সেখানে শয়তান ধোঁকা দিচ্ছিল না। শয়তান যে আমাদের প্রত্যেকটা কাজে বিভ্রন্ত করে সেই চেতনাটা ওখানে জাগ্রত হয়। প্রত্যেকটা কাজের বাহ্যিক দিক দেখলে হবে না এর পেছনে ভিতরে একটা আধ্যাত্মিকতা থাকে রুহানিয়াত থাকে ওইটা বুঝতে পারলে ইসলাম বোঝা যাবে ইনশাআল্লাহ । তো হজের প্রতিটা কাজ আপনি দেখবেন হাজেরা আলাইহিস সাল্লাম এর আত্মত্যাগ ইসমাইল আলাইহি সাল্লামের ঘটনা কিয়ামতের মাঠ দোয়া কবুলের মাঠ তাওয়াফ এই প্রত্যেকটা বিষয়ে আপনার কুদরত তো আপনি আল্লাহর বিশালত্ব আল্লাহ আপনাকে বুঝিয়ে দিবে। শুধু আলহাজ্ব টাইটেল এর জন্য নয় বরং আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করার জন্য প্রকৃত ইসলাম বোঝার জন্য হজ করবেন আল্লাহ পাক তৌফিক দান করুন আমীন।
রমজানের আমল, ইফতার ও হজের তাৎপর্য
দোয়া করি আল্লাহ পাক সবাইকে যেন জীবনে একটাবার হজ করার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। এটা প্রথম প্রশ্ন ছিল দ্বিতীয় প্রশ্ন করছেন কোন ব্যক্তি? ওই যে ধবধবা সাদা জামা পড়া ব্যক্তি মনে আছে। সে কোথায় বসে আছে সামনে হাঁটুর সাথে হাঁটু লাগিয়ে হাত কোথায় উরুর ওপরে। ওস্তাদের সামনে বসার আদব এইটা। এবার সেই ব্যক্তি বলছেন আপনি সত্য বলেছেন। এবার পাশে ছিল ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলছেন আমরা অবাক হয়ে গেলাম। সে আবার বলল সে নিজেই প্রশ্ন করল আবার নিজেই সত্যায়ন করছে কে এই ব্যক্তি? কারণ যে প্রশ্ন করে সে কি সত্যায়ন করতে পারে। আপনি একটা জিনিস জানতে এসেছেন এবং উত্তর পেলেন আবার আপনি নিজেই বলছেন হ্যাঁ আপনি সত্য বলেছেন। তারমানে আপনি আগে থেকেই জানেন তাই না। এবং দ্বিতীয় প্রশ্ন করছেন হে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ঈমান হচ্ছে তুমি বিশ্বাস করবে প্রথমত এক আল্লাহর প্রতি তার ফেরেশতা মন্ডলীর প্রতি। তার সমস্ত আসমানী কিতাবের প্রতি। সমস্ত রাসূলগণের প্রতি। পরকালের জীবনের প্রতি। ৬ নাম্বার তুমি ঈমান আনবে বা বিশ্বাস করবে তাকদীর বা ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি। এই ছয়টা বিষয়ের প্রতি মনে বিশ্বাস করবে মুখে স্বীকার করবে এবং কাজে বাস্তবায়ন করবে এর নাম হচ্ছে ঈমান। মনে থাকবে। কয়টা বিষয়? ছয়টা। এখানে একটা কথা বলি আগেও বলেছি এখনও বলছি এই ছয়টা বিষয় হচ্ছে গায়েবি বিষয়। এগুলোকে আপনি যুক্তি বিদ্যা দর্শন দিয়ে প্রমাণ করতে পারবেন না। পারবেন? পরীক্ষা নিরীক্ষা যুক্তিবিদ্যা দর্শন ল্যাবরটরিতে বসে আল্লাহ ফেরেশতা নবী রাসুলগণ আসমানি কিতাব পরকাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায়। যায় না। এগুলো কিসের বিষয়? গায়েবের বিষয়। মুত্তাকী কারা যারা গায়েবে বিশ্বাস করে। এদের জন্যই হচ্ছে আলিফ লাম মিম জালিকাল কিতাবী।তো ঈমানের ৬ পিলারকে তিনটা কাজ করতে হবে। মনে বিশ্বাস মুখে স্বীকৃতি এবং কাজে বাস্তবায়ন। যারা শুধু বিশ্বাসটাকেই স্বীকৃতি দেয় এদেরকে বলা হয় মুরজিয়া বা শৈথন্যবাদী।আর যারা কাজ করতে গেলে পান থেকে চুন খষলেই কাউকে কাফের বলে ফেলে এদেরকে বলে খারেজি। আহলে সুন্নাত জামাতের আকিদা হচ্ছে মাঝখানে।ঈমানের বেইজ হলো দুটো জিনিস মনে বিশ্বাস মৌখিক স্বীকৃতি। কাজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে শুরু বা শাখা। কাজ করতে গেলে যদি আপনার ভুল হয় বা আপনি কবিরা গুনাহ করে ফেলেন। আপনি কাফের হবেন না ফাসেক বা জালেম হতে পারেন। এবং কবিরা গুনাহ করে ফেললে কাউকে হত্যা করা জায়েজ নাই। এই হল ঈমান। এরপর তিনি আবার প্রশ্ন করছেন ইয়া মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এহসান সম্পর্কে বলুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আল এহসান হচ্ছে তুমি এমন ভাবে আল্লাহকে ইবাদত করবে যাতে করে মনে হবে তুমি আল্লাহকে দেখতে পারছো। কথা বুঝতে পেরেছেন খুব ডিফিকাল্ট।
ঈমানের ছয়টি বিষয় ও এহসান
কথাটা বলা সহজ আমল করা খুবই ডিফিকাল্ট। তুমি এমন ভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যাতে পরে তোমার মনে হয় তুমি আল্লাহকে দেখছ। যদি তুমি আল্লাহকে দেখতে না পারো তাহলে জেনে রাখবে আল্লাহ তোমাকে দেখছে। এই কনসিয়াসনেসের নাম হচ্ছে এহেসান ।আত্মশুদ্ধি আল্লাহ কনসিয়েসনেস। যদি কারো মধ্যে এহেসান থাকে সে কি পাপ করতে পারবে? কেউ যদি ফেল করে আল্লাহপাক আমাকে দেখছেন প্রত্যেকটা কাজে ব্যবসায় , মমলাতে , ইবাদতে , সামাজিক বিষয়ে, চাকরি-বাকরি, প্রত্যেকটা বিষয়ে কেউ যদি মনে করে আল্লাহপাক আমাকে দেখছেন তাহলে কি কারো পক্ষে পাপ করা সম্ভব। এই চেতনাটা আল্লাহপাক জাগ্রত করতে বলেছেন। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে আমলে আকিদাতে মমলাতেএহেসান দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন। আর এই আহসানের সাথে একটা শব্দ মিলিত হয়েছে তার নাম হচ্ছে তাকওয়া। তোদের এখানে সাগর আছে না? ধরেন এখানের একটা সাগরে মধ্যে কিছু কাচের টুকরা ফেলে দেওয়া হয়েছে। ছোট্ট একটা জায়গায় সৈকতে কিছু কাচের টুকরা ফেলে দেওয়া হয়েছে। আপনাকে বলা হলো এর উপরে হাটেন এখন। আপনি কিভাবে হাঁটবেন নরমালি হাঁটবেন নাকি পা গুলো ফেলে ফেলে খুব কেয়ারফুলি হাঁটবেন। এই হাঁটাটা হচ্ছে তাকওয়া। এই হাটাটার এক্সাম্পল হচ্ছে তাকওয়া। এই কাঁচের টুকরাগুলো হচ্ছে গুনাহ, ফাসেকি, শয়তানের ট্রাপ, অন্যায়, অত্যাচার, পাপ, জুলুম এর থেকে বেছে বেছে আপনাকে পা ফেলতে হবে এর নাম হচ্ছে তাকওয়া। আর কখন ফেলার সম্ভব হবে যখন আমি ফিল করবো আল্লাহপাক আমাকে দেখছেন। এই কনসিয়াসনেস না থাকলে এটা হবে না। টেবিলের নিচ দিয়ে আপনি ঘুষ দিচ্ছেন যে নিচ্ছে সে যদি ওই সময় চিন্তা করে আল্লাহপাক আমাকে দেখছেন সে কি নিতে পারবে। ব্যবসা করছেন মাপে ওজন কম দিচ্ছেন কাস্টমার দেখছে না কিন্তু আপনি যদি চিন্তা করেন আল্লাহ পাক দেখছেন তাহলে কি আপনি মাপে কম দিতে পারবেন। বোনের সম্পত্তি আপনি সিস্টেম করে নিতে পারেন বোন শিক্ষিত না বোঝে না। আপনি চিন্তা করছেন আল্লাহ তো আমাকে দেখছে আপনি কি নিতে পারবেন। পতিতা কাজ যদি এতটুকু ফিল করেন যে আল্লাহ পাক আমাকে দেখছেন তাহলে সেই কাজগুলো করতে পারবেন না। এরপরেও যদি পাপ হয়ে যায় তাহলে সাথে সাথে তওবা করে ফিরে আসতে হবে। আল্লাহ পাক সবাইকে তাকওয়া অবলম্বন করার তৌফিক এনায়েত করুন আমীন।
সাধারণ প্রশ্ন
মসজিদে যাওয়ার সময় কেমন পোশাক পরার কথা বলা হয়েছে?
আল্লাহ প্রত্যেক সালাতের জন্য উত্তম পোশাক পরতে বলেছেন, সাধ্যমত সামর্থ্যের সেরা পোশাক পরতে বলেছেন। কারণ নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করতে যাওয়া হয়।
ইসলামের পাঁচটি পিলার কী কী বলা হয়েছে?
ওয়াজে বলা হয়েছে: তাওহীদ/শাহাদাত, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, যাকাত, রমজানের সিয়াম এবং সামর্থ্য হলে হজ।
যাকাত সম্পর্কে ওয়াজে কী বলা হয়েছে?
নিসাব পরিমাণ সম্পদ হলে যাকাত দিতে হবে, যা নফল নয় বরং ফরজ। যাকাত গরিবের হক এবং সমাজের সাম্য বজায় রাখে।