Islamবাংলা

যে আমল গুলো আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে

ঘুমানোর আগের আমল ও দোয়া

আমরা যদি দুনিয়ার প্রত্যেকটা কাজ মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকা এবং পদ্ধতিতে করি। এবং প্রতিটা কাজ ইবাদত এবং নেকির মাধ্যমে গণ্য হবে ।সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেছেন উঠে দোয়া পড়বেন। আরো কিছু আমল আছে যা আপনি করতে পারেন। আপনি চাইলে সূরা মূলক তেলাওয়াত করতে পারেন। ফজিলত আপনাকে কবরের আজাব থেকে বাঁচানো হবে ইনশাল্লাহ তায়ালা। আপনি আইতাল কুরসি তেলাওয়াত করতে পারেন ফজিলত সারারাত একজন ফেরেশতা আপনাকে পাহারা দিবে ইনশাল্লাহুতালা। আপনি সূরা ফালাক নাস ইখলাস পরে ঘুমাতে পারেন। হাত দুটোকে একত্রে নিয়ে ফু দিয়ে মাথা থেকে মাশাহ শুরু করে যতটুকু যায়। ঘুমের মধ্যে আপনার কোন সমস্যা হবে না। ঘুমের মধ্যে অনেক সময় প্রবলেম হয় না। দুঃস্বপ্ন দেখে মানুষ ভয় পায় অনেক সময় অস্থির হয়ে পড়ে। অনেকে বোবায় ধরা বলে না যে বুবাই ধরেছে। আপনার চেতনা এসেছে কিন্তু আপনি নড়তে পারছেন না এমন হয় না। হয়নি কখনো জীবনে এরকম। হয়েছে। মাশাহ করলে আর এটা হবে না ইনশাআল্লাহ । এরপর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার। এরপর দোয়া পড়লেন ঘুমিয়ে গেলেন। এরপরে সূরা কাফিরুন ও পড়তে পারেন। কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন আল্লাহ পাক আপনাকে শিরিক থেকে বাঁচাবেন ইনশাল্লাহ । আর আমার একটা পছন্দের একটা আমল আছে ঘুমানোর সময় আমি চেষ্টা করি যাতে কোনদিন বাদ না যায়। আপনারাও চেষ্টা করবেন কোন রাতে অন্তত এই আমলটা বাদ না যায়। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন যার সামান্য বিবেক বুদ্ধি আছে। তার শোভা পায় না যে সে এই আমলটা না করেই ঘুমিয়ে যাবে। সেটা কি? সূরা বাকারার শেষের তিনটি আয়াত তেলাওয়াত করবেন। সূরা বাকারার শেষের তিন আয়াত বা দুই আয়াত পড়বেন একই ফজিলত ইনশাআল্লাহ । কি ফজিলত? সারারাত নফল নামাজ পড়ে যেই নেকি টা আপনি পেতেন সেই নেকি তাই আপনি পাবেন ইনশাআল্লাহ তায়ালা। যদি আপনার নিয়ত থাকে তাহাজ্জুদের ইনশাল্লাহ পেয়ে যাবেন। এই যে আপনি কাজগুলো করে ঘুমালেন আপনি তিন ঘন্টা বা ছয় ঘন্টা ঘুমালেন। এই পুরোটা সময় যে আপনি ঘুমালেন এ পুরোটা সময় আপনার আমল নামায় নেকি দেওয়া হবে। অথচ ঘুমের দরকার কার ছিল আমার না আল্লাহর। কার স্বার্থ এখানে। অবশ্যই আমার স্বার্থ। ঘুমকে বানিয়েছি আরামের বিশ্রামের মাধ্যম। বিশ্রাম আমি নিলাম রেস্ট আমি নিলাম আমি ঘুমালাম। আবার নেকি কে পেল? আমি। আমি ঘুমিয়েছি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকা এবং সুন্নাহ অনুযায়ী। শুয়েছি ডান কাত হয়ে যদি পারেন অজু করে নিতে পারেন। আরো ভালো হয় ।এই যে ঘুমালেন নেকি হয়ে গেল এই যে ঘুম থেকে উঠলেন আবার নেকি হয়ে গেল। এবার উঠে যখন আপনি টয়লেটে যাবেন। টয়লেটে যাওয়ার সময় কি করবেন? সূরা পড়বেন। এই যে টয়লেট করছেন এই সময়টুকুতে নেকি পাচ্ছেন।বিসমিল্লাহ বলে অজু করছেন।ওযু করার পরে কি বলছেন? আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।

মসজিদে যাওয়া ও নামাজের পর জিকির

অজু তা কি হয়ে গেল? নেকি হয়ে গেল। এভাবে আপনি নামাজে যাচ্ছেন এবার। এই যে মসজিদে যাচ্ছেন পায়ে হেঁটে। প্রত্যেক পদক্ষেপে আপনার গুনাহ মাফ হচ্ছে। প্রত্যেক পদক্ষেপে আপনার নেকি হচ্ছে এবং রহমত বরকত হচ্ছে। এছাড়াও আপনার মর্যাদা আল্লাহর কাছে বাড়ছে। জামাতে সালাত পড়ছেন নরমালি নামাজ পড়লে যে নেকি পেতেন তার থেকে ২৫ কিংবা ২৭ গুন বেশি নাকি পাচ্ছেন ।এবার একটা সামাজিক ঐক্য গড়ে উঠছে। মুসলিমদের মধ্যে ভেদাভেদহীন একটা সামাজিক ঐক্য গড়ে উঠছে নামাজের মধ্য দিয়ে তাই নয় কি। নামাজটা নেকি। নামাজ শেষ হয়ে গেল এখন আপনি বসে বসে জিকির আজগার করছেন। নামাজের সাথে একটা জিকির আছে না নাকি ইমাম সাহেবের সাথে মোনাজাত দিয়েই চলে যাবেন। কি করবেন? তাজবি তাহলিল নাই ।আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ নাই। আয়তাল কুরসি নাই। ফালাক নাস ইখলাস নাই। অনেক তাজবি তাহলিল আছে। ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ৩৪ বার আল্লাহু আকবার এবং কালিমা শাহাদাত আছে না। এবং আপনি দোয়াও করবেন। কারণ ফরজ নামাজের পরে দোয়া কি হয় কবুল হয়। নামাজটা পড়লেন আপনি নেকি হয়ে গেল সুবহানাল্লাহ। তাকবির তাহলিল কল্যান আপনি নাকি পাচ্ছেন আলহামদুলিল্লাহ। এরপর আপনি কোথায় যান হয় পড়াশোনা করতে যান অথবা স্কুল কলেজে যাচ্ছেন।ওতো মাদ্রাসায় যাচ্ছেন। অথবা বাসায় পড়াশোনা করেন। অথবা ব্যবসায় যান চাকরিতে যান প্রশাসনের কাজে যান রাষ্ট্রের কাজে যান এই তো করেন। দিনটা এভাবেই শুরু হয় না। এখন যদি পড়াশোনা সেকশনে আপনি যান স্টুডেন্ট হন যদি আপনি। আর আপনার পড়াশোনা যদি উদ্দেশ্য হয় যে আমি গিয়ার অর্জন করব এই উদ্দেশ্যে যে এই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আমি এই দ্বীনের খেদমত করব । এই জ্ঞান টাকে কাজে লাগিয়ে আমি দ্বীনের উপকার করবো। দ্বীনের খেদমত করবো মানুষের উপকার করবো। জাতির দেশের জনগণের উন্মার কল্যাণ করব ভালো কিছু করব। আপনার এই জ্ঞান অর্জনটা কি হবে জানেন ইবাদত এবং বড় ইবাদত হবে। আমলের চেয়ে ইলমের মূল্যটা বেশি। কথা এবং কাজের আগে হচ্ছে জ্ঞান। আর যারা মাদ্রাসায় পড়বেন তারা এই উদ্দেশ্যে পড়বেন যে আমি এই জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে উন্মাকে সংস্কার করবো। নিজে দ্বীন সম্পর্কে জানব এবং মানুষের কাছে দ্বীন প্রচার করব । এবং দিনের প্রচার-প্রসার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমি আমার ভূমিকা পালন করব। আমি মুহাদ্দিস হব মুফাসসর হবো ইনশাল্লাহ আমি বড় আলিম ফকি হব। অহংকার করব না। মানুষকে সঠিক৷ দ্বীনটা জানানোর জন্য আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য আমি দ্বীন শিখব ইবাদত হবে না। এবং তার মর্যাদা এত বেশি হবে এত বেশি হবে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সাধারন মানুষের ওপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে মর্যাদা ইবাদত-গোজারদের ওপর আলেমদের সেই মর্যাদা। এবং এই জ্ঞান অর্জন করার সময় যখন আপনি পা ফেলছেন বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন। আপনার পায়ের নিচে ফেরেশতারা সম্মানের পাখা বিছিয়ে দিবে। এমন কি আসমান জমিনের সমস্ত সৃষ্টি এই গর্তে মধ্যে যে পিপীলিকা আছে যে পিপড়া এবং সমুদ্রের নিচে যত মাছ আছে সমস্ত প্রাণী ওই আলেমের জন্য ইস্তেগফার করতে থাকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।

ইলম অর্জনের নিয়ত ও মর্যাদা

এই ফজিলত গুলো অন্য কোথাও পাবেন না। এবং সে যতক্ষণ হিলম অর্জনের পথে আছে সে আল্লাহর পথেই আছে। আপনি যদি জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করেন আর আপনি চিন্তা করছেন আমি এই পড়াশোনা দিয়ে দেশের জাতির উম্মার মানবতার কল্যাণের জন্য কাজ করব। দ্বীনকে এগিয়ে নিব। একজন মেডিকেল ডক্টর তিনি কি দ্বীনের খেদমত করতে পারেন না। একজন ইঞ্জিনিয়ার তিনি দ্বীনের খেদমত করতে পারবেন না। একজন ভালো সৎ পুলিশ অফিসার পারবেনা। একজন ভালো সেনাবাহিনী মেজর পারবে না। একজন সামাজিক নেতা পারবে না। একজন এমপি মন্ত্রী পারবে না। একজন পলিটিশিয়ান নিজের জায়গা থেকে দ্বীনের খেদমত করতে পারবেনা। এমনভাবে দ্বীনটাকে সৃষ্টি করেছে। সবাই সবার জায়গা থেকে পারবে আল্লাহ পাক এমন ভাবে দিনটা কে সৃষ্টি করেছেন।ইসলাম এমন একটা প্রশস্ত একটা দ্বীন যে মানুষ বিভিন্ন জায়গা থাকবে সেখান থেকে দ্বীনের খেদমত করতে পারবে ইনশাল্লাহুতালা। একজন শিক্ষক সে পারবেনা দিনের খেদমত করতে। একজন ভালো অর্থনীতিবিদ পারবে না। সবাই পারবে। শুধু প্রয়োজন কি জানেন কিন্তু এখানে একটা কথা আছে দ্বীনটাকে বোঝা নিজে আমল করা এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার ফিকির থাকা। একজন ডাক্তারের কাছে রোগী আসছে সারাদিন রোগী দেখছেন দেখছেন আর বলছেন ভাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজটা ঠিকমতো পড়বেন। আপনার শরীর ভালো আছে আপনার রিপোর্ট ভালো আছে মাঝে মাঝে একটু রোজা রাখবেন তাহলে কি আপনার কথা শুনবে না রোগী।একজন মেম্বার চেয়ারম্যান সে হচ্ছে এলাকার নেতা মানুষের মধ্যে জনকল্যাণমূলক কাজ করছে শীত বস্ত্র বিতরণ করছে রাস্তাঘাট নির্মাণ করছে।করার সময় তিনি বললেন এই যে দিলাম এটা আল্লাহর রিজিক দিলাম। তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। এভাবে দ্বীনের খেদমত করা যায় না। শুধুমাত্র দরকার নিয়ত। নিয়ত এবং জানা আমার কাজের প্রতিদান টা কি? আমি যে এই কাজ গুলো করছি এর প্রতিদান টা হচ্ছে আল্লাহ আমাকে পরকালে জান্নাত দিবে ইনশাল্লাহ। দুনিয়াতে আমি কি পাই না পাই এটা হিসাব পরে পরকালে আমাকে আল্লাহপাক জান্নাত দিবে ইনশাল্লাহুতালা। এভাবে আপনি আপনার জীবনে প্রতিটা কাজ কে ইবাদত বানাতে পারেন। নাস্তিকদের কথার জবাব পেয়েছেন। এটা অন্য ধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যারা শুধু ইবাদত বন্দেগি পূজা আরচোনা করে তারা যেটা করে এটাকে ইবাদত বলে গণ্য করা হয়। কিন্তু ইসলামের মধ্যে প্রতিটা কাজ ইবাদত বলে গণ্য করা হয়। যদি আপনি প্রতিটা কাজ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকা মোতাবেক করেন তাহলে সেগুলোকে ইবাদত বলে গণ্য করা হবে আমার কথা কি বুঝতে পেরেছেন। এবার ধরেন আপনি বাসায় ফিরে আসলেন। মাঝখানে জোহরের নামাজ পড়েছেন আসরের নামাজ পড়েছেন জামাতে। জামাত যদি ছুটে যায় বাসায় জামাত পড়েছেন। বা আপনি অফিসে জামাত পড়েছেন বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জামাত পড়েছেন। অথবা একাই পড়তে বাধ্য হয়েছেন নামাজ পড়েছেন। নামাজ পড়ে আপনি সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে আসলেন। বাসায় ফিরে এসে আমরা কি করি? পরিবারকে সময় দেই খাওয়া-দাওয়া করি গল্পগুজব করি। এখন আবার এই সময় দেওয়ার প্রবণতা কমে যাচ্ছে । সবার হাতে হাতে এখন স্মার্ট ফোন। একটা বাসায় দশটা জগত। একটা বাসায় দশটা মেম্বার ১০ জনের হাতে আলাদা আলাদা ফোন আলাদা আলাদা জগত একটা বাসার মধ্যে ।আগে টেলিভিশন ছিল না। টেলিভিশন উঠে যাচ্ছে তাই না। আগে যখন টেলিভিশন ছিল টেলিভিশন কিন্তু ড্রয়িং রুমে ছিল মনে আছে। বাসার সব মেম্বার মিলে একসাথে বসে টেলিভিশন দেখতো। এখানে অশ্লীলতা কম ছিল। চাইলে যে কোন চ্যানেল সে দেখতে পারবে না।

প্রতিটি কাজ ইবাদত বানানোর নিয়ত

এখন ঘরে ঘরে স্মার্টফোন ।ওর যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে। আমরা হয়তো মনে করছি বাসা থেকে টিভি সরিয়ে দিয়েছি একটা জিহাদ করেছি মাশাল্লাহ ।টিভি সরিয়ে যে একটা ঘরে ঘরে যেনার মেশিন ঢুকিয়ে দিয়েছে এটা বুঝতে পারছিনা। পরিবারকে সময় দেয়া এটা একটি ইবাদত। পরিবারের খোঁজ খবর নেয়া স্ত্রীর সাথে কথোপকথন করা পরিবারের সমস্যা গুলো ডিল করা একসাথে খেতে বসা একসাথে একই দস্তরখানা খেতে বসা প্রয়োজনে বড় একটা প্লেট নেওয়া। চারপাশ থেকে সবাই মিলে খাবে এটা একটা সুন্নত। এতে করে মহব্বত বাড়বে। খাবারে বারাক্কা হবে। আমরা কিন্তু এসব পালন করি না। সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের মধ্যে এসবের চর্চা নেই। বাচ্চাদেরকে সময় দেয় না। বাচ্চাদেরকে সময় না দিলে বাচ্চারা কার কাছে মানুষ হবে কাজের বুয়ার কাছে মানুষ হবে তাই না। অথবা টেক কেয়ার সেন্টারে মানুষ হবে । এরা কার কাছ থেকে ভদ্রতা শিখবে। সেতো তাদের মানসিকতাতে বড় হয়ে উঠবে। বাচ্চাদেরকে সময় দেয়া পরিবারকে সময় দেয়া এসব হচ্ছে ইবাদত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রী কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকতেন।ইবাদত ।মাথা রেখে শুয়ে তিনি কোরআন তেলাওয়াত করতেন। আমরা যারা বৈবাহিক জীবনে আছি কোন সময় করেছি ।মাশাআল্লাহ ।কয়বার করেছেন ।বেশি করতে যাইয়েন না বেশি করতে গেলে আবার সমস্যা আছে। সবকিছুর একটা লিমিট আছে।। বেশি করতে গেলে ব্যক্তিত্ব কমে যাবে। কখন দেখবেন আপনার উপর খবরদারি করছে ।ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এমন কি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা বলেছেন আমি যে গোশতের টুকরোটা খেতাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐখানেই মুখ দিতেন যেখানে আমি ছিড়েছি। রাতের বেলা দৌড় প্রতিযোগিতা করেছি স্ত্রীর সাথে।প্রথমবার আয়েশা রাদিয়াল্লাহু জিতে ছিলেন। পরে কিছু বছর পর তাকে হারিয়ে দিয়েছিলেন দিয়ে বললেন আয়েশা তোমাকে আজকে আমি হারিয়ে দিলাম। এই যে সুন্নাহ পারিবারিক সুন্নাহ গুলো আমাদের মধ্যে থেকে উঠে যাচ্ছে না ভাই । পরিবারের সবার সাথে সময় দিতে খোঁজখবর নিতে হয় কথা বলতে হয়। স্পেশালি বাচ্চাদের ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হয়। বাচ্চা যারা আছে এরা কাদের সাথে মিশছে কাদের সাথে খেলছে যে স্কুলে পড়ছে সেখানে পরিবেশ কেমন যে মাদ্রাসায় যাচ্ছে ওর পরিবেশটা কেমন ওকে কারা পড়াচ্ছে কাদের কাছ থেকে দিন শিখছে কাদের কাছ থেকে ইলিম শিখছে এসব জানা দরকার আছে।পরিবারের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে এই কারণে আল্লাহ তাআলা বলেছেন নিজে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো এবং পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। কিন্তু এখানে একটা কথা আছে সবার পরিবার কিন্তু একরকম হবে না। হয়তো স্ত্রী কথা শুনবে না হয়তো পিতা মাতার কথা শুনবে না সন্তান সন্তনি কথা শুনবে না এক্ষেত্রে আপনার হেদায়েত কোথায় জানেন। ওই জন্য আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেন ।সাড়ে ৯০০ দাওয়াতের কাজ করেছিলেন। তার সন্তান কিন্তু ঈমান নিয়ে আসে নেই।তার স্ত্রী কিন্তু ঈমান নিয়ে আসেনি। আপনি ঈমানদার হলে যে আপনার কথা সবাই মেনে নিবে এমনটাও নয়। কিন্তু দাওয়াত দিতে হবে চেষ্টা করতে হবে।এরপর যদি না করে তাহলে তুমি তোমার হিসাব দিবা আমি আমার হিসাব দিব ।

পরিবারকে সময় দেওয়া ও সন্তানের তরবিয়ত

লুত আলাইহিস সাল্লাম এর স্ত্রী ঈমান নিয়ে আসে নাই। আবার ফেরাউনের ঘরে দেখবেন ঈমানদার মহিলা পাবেন। আছে না। ফেরাউনের ঘরে ঈমানদার মহিলা থাকতে পারে।আজকে আমরাও দেখি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পরিবারের কর্তারা অনেকেই ফেরাউনের মতো আচরণ করেন। কিন্তু স্ত্রীরা মাশাল্লাহ ঈমানদার। এবং অনেক সময় আমরা দেখি যে পরিবারের কর্তা পর্দা করা পছন্দ করেনা। কিন্তু স্ত্রী পর্দা করতে চাই। দ্বীন শিখতে চাই কিন্তু পরিবারের কর্তারা তা পছন্দ করে না।পরিবার নূহ আলাইহিস সাল্লাম এর মত হতে পারে। লুত আলাইহিস সাল্লামের মত হতে পারে। আবার মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মত হতে পারে। আমাদের কাজ হচ্ছে পৌছে দেওয়া। আপনি আপনার অধীনস্থদের ওপর কঠোর হতে পারেন যেমন আপনার স্ত্রী এবং সন্তানের ওপর। কিন্তু আপনার বাবা যার বয়স ৬০ বছর সে নামাজ পড়ে না আপনি কি তাকে পিটাতে পারবেন। পারবেন না। কিন্তু আপনার সন্তানের বয়স ১২ বা ১৫ সে নামাজ পড়ে না আপনি তাকে মারতে পারবেন। পারবেন না। এই হলো অবস্থা। পরিবারকে সময় দিতে হবে তাদের হেদায়েতের জন্য। এটা কিন্তু ইবাদত।এমন কি স্ত্রীর সঙ্গে যে আপনি সময়টুকু কাটাচ্ছেন অন্তরঙ্গ সময় এটার জন্য আপনি নেকী পাবেন। সাহাবা ইকরামরা বললেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ইয়া রাসুলুল্লাহ এই কাজটা তো আমরা তারোনা নিবারণের জন্য করে থাকি এর জন্য কি নেকি পাবো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এই কাজটা যদি তোমরা অন্য কারো সাথে করতে তাহলে কি তোমাদের গুনাহ হতো না। সাহাবীরা বললেন হ্যাঁ গুনা হতো। অতএব এই কাজ তুমি যদি তোমার স্ত্রীর সাথে করো তাহলে ইনশাল্লাহ তুমি নেকি পাবে। সন্তানদেরকে বড় করছি। সন্তানদেরকে বড় করতে হবে এই নিয়তে যে এই সন্তান বড় হয়ে এই দ্বীন কে এগিয়ে নিবে যাবে।আল্লাহর পথে দায়ী হবে মুজাহিদ হবে আলেম হবে মোফাদ্দিস হবে মুফাসসাল হবে। তারা দ্বীনের খেদমত করবে । এই সন্তান আপনার জন্য সাদ্গার জারিয়ার মাধ্যম হবে ইনশাল্লাহুতালা। কিছু না হোক বা সন্তান ভাল মানুষ হবে। তার দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সে মানবতার কল্যাণে কাজ করবে। আপনি ওই সন্তানের জন্য নেকী পাবেন ইনশাল্লাহ তালা। এই যে আপনার পুরো জীবন শুরু থেকে ঘুম থেকে নিয়ে একেবারে পরিবার সমাজ রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত প্রত্যেকটা কাজ যদি কোরআন এবং সুন্নাহর অনুকূলে হয়। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ পদ্ধতিতে হয় ।পুরো জীবনটাই আপনি নাকি পাচ্ছেন আলহামদুলিল্লাহ। এটাই সেই আয়াত আমি মানুষ এবং জ্বীনকে সৃষ্টি করেছি। শুধুমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য। এবার আসেন। আল্লাহ পাক যখন আমাদেরকে সৃষ্টি করেন নি তখন কি ছিল? কারা ছিল পৃথিবীতে। সর্বপ্রথমে কারা ছিল? পৃথিবীতে আমরাই প্রথম প্রজাতি নই। আমরা তো এখন মনে করি পৃথিবীতে আমাদেরই তাই না। আমরা এলিয়েন খুঁজে বেড়াই অন্য গ্রহে প্রাণী আছে কিনা। অথচ বোকা মানুষ এটাই জানে না যে এই পৃথিবীতে আমরাই বাসিন্দা ছিলাম না। আমাদেরকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। এই পৃথিবীতে আমরা ছিলাম না এই পৃথিবীতে অন্য প্রজাতি ছিল। অন্য মাখলুক ছিল। আল্লাহ ভালো জানেন তারা কারা ছিল। প্রথমে আল্লাহ একাই ছিলেন। কেউ ছিল।সব শেষে আল্লাহপাক একাই থাকবেন আর কেউ থাকবে না। প্রথমে আল্লাহপাক একা ছিলেন শেষ ও আল্লাহপাক একাই থাকবেন। আছে না এই আয়াত।

কিয়ামত, আখিরাত ও উম্মাহর অবস্থা

আল্লাহপাক একা ছিলেন। এরপর আল্লাহপাক সৃষ্টি করেছেন আরশ। আরশ মানে হচ্ছে আল্লাহ পাকের বিশাল সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বড় সৃষ্টি হচ্ছে আরশে আজিম। এই আরশে আজিমের নিচে আল্লাহপাক ছায়া দিবেন কয় শ্রেণীর মানুষকে সাত শ্রেণীর না ৬ শ্রেণি কয় শ্রেণীর মানুষকে। সাত শ্রেণীর ব্যক্তি কে। তার মধ্যে এক শ্রেণী হচ্ছে তারা যারা তার যৌবন কালকে আল্লাহর পথে বিলিয়ে দিয়েছেন। এই একটা হাদিসি যথেষ্ট যুবক ভাইদের জন্য যুবতীদের জন্য। যারা তাদের যৌবন কালকে আল্লাহর পথে বিলিয়ে দিয়েছে এদেরকে আল্লাহপাক তার আরশের ছায়ায় ছায়া ছায়া দিবে। ঐ দিন ওই ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে। আল্লাহ পাক আরশ সৃষ্টি করেছেন আরশ টা ছিল পানির উপরে। তার আরশটা ছিল পানির ওপরে। এরপরে আল্লাহপাক ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন মহাবিশ্ব। আমাদের দিনের মতো দিন। না, আল্লাহর কাছে শুধুমাত্র কেয়ামতের দিনটাই ৫০ হাজার বছরের সময় সমান। ৫০ হাজার বছরের সমান একদিন। কিয়ামতের দিনের কি দরকার ছিল। কি মনে হয় আপনাদের। কিয়ামতের দিনের দরকার ছিল। যদি কেয়ামতের দিন না থাকতো তাহলে পৃথিবীর সব জালেম পার পেয়ে যেত। কিয়ামতের দিন আছে বলেই কোন জালেম পার পাবে না ইনশাআল্লাহ। কোন মাজলুমের চোখের পানি বৃথা যাবে না ইনশাল্লাহুতালা। কারণ কিয়ামতের দিন আছে। এটা হচ্ছে মাজলুমের আশার দিন আর জালেমের হতাশার দিন। যদি কেয়ামতের দিন না থাকতো তাহলে সমস্ত খুনি ব্যভিচারিণী ধর্ষণকারী ফাসেক জালেম আল্লাহ দ্রোহী সবাই পার পেয়ে যেত না। আল্লাহ পাক পার দেবেন না বলে কিয়ামতের দিন রেখেছেন। ছোটবেলায় আমরাও মনে করতাম মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েছে কি ভুলটাই না করলাম। হিসাব নিকাশ জান্নাত জাহান্নাম কত সমস্যা। যত দিন যাচ্ছে বুঝতে পারছি যে ভাগ্যিস কেয়ামতের দিন বলে একটা দিন আছে তা না হলে জালেমের এই জুলুমের কোন বদলা হত না। আর মাজলুম তার অধিকার ফিরে পেতো না। তো ৫০ হাজার বছরের সমান। তো ওই দিন মানুষ অস্থির হয়ে যাবে এই কারণে যে বিচার শুরু হচ্ছে না কেন। একবার নবী আদম আলাইহি সাল্লাম এর কাছে দৌড় দিবে একবার নুহ, একবার মুসা, একবার ঈশা একবার ইব্রাহিম সবাইকে রিকোয়েস্ট করবে মানুষ দলে দলে গিয়ে বলবেন আল্লাহকে বলেন এটলিস্ট বিচারটা যেন শুরু করে। অপেক্ষা করা কাজটা কষ্ট কর না ভাই। কারো জন্য অপেক্ষা করা কাজটা কষ্ট কম না। অপেক্ষা করতে করতে ঘামে একদম গলা পর্যন্ত ভিজে যাবে। ওই সাত শ্রেণীর মানুষের মধ্যে আল্লাহপাক আমাদেরকে আশ্রয় দান করুন আমীন। এরপর ৫০ হাজার বছর সমান এই দিনে একজন ব্যক্তি আপনার আমার জন্য সুপারিশ করবেন সে হল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।এই যে আমরা স্লোগান দেই আল কুরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বালো । নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার স্লোগান দেইনা অনেক। বাস্তবতা স্লোগানের মধ্যে পার্থক্য নাই। যখন আপনি দেখবেন প্রতিটা যুবক বা প্রতিটা মানুষ আমাদের সমাজের মধ্যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখে। কুরআনুল কারীম মাশাল্লাহ ভালোভাবে তেলাওয়াত করতে জানে। কোরআনের অর্থ বোঝার চেষ্টা করে। মাশাল্লাহ হকপন্থী আলেম ওলামাদের কাছে যায়। আত্মশুদ্ধি অর্জন করে হালাল খায়। পারিবারিক আদর্শ সুন্দরভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করে। ন্যায়ের পথে থাকে অন্যায় করে না তখন অটোমেটিকলি কোরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বলবে না। তো মূল কাজ কি আই ওয়াস আর শোডাউন করা নাকি মূল কাজ করা। আমরা কিন্তু মূল কাজটা করতে চাচ্ছি না। বা মূল কাজ টাকে আমরা ততটা গুরুত্ব দিচ্ছি না যতটা যৌগিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছি। এজন্য অনেক দিন ধরে দেখছি উম্মার অবস্থা মোটামুটি অপরিবর্তন হয়ে আছে। বরং দিন দিন দে বাই দে অধঃপতনের দিকে যাচ্ছে।

সাধারণ প্রশ্ন

ঘুমানোর আগে কী আমল করার কথা বলা হয়েছে?

লেখায় বলা হয়েছে সূরা বাকারার শেষের তিন আয়াত তেলাওয়াত করতে, এবং আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, নাস ও ইখলাস পড়ে ঘুমানোর কথাও উল্লেখ আছে। এছাড়া ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়ার কথা বলা হয়েছে।

ফরজ নামাজের পরে কী করার কথা বলা হয়েছে?

নামাজের পরে তাসবিহ ও তাহলিল, যেমন ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়ার কথা বলা হয়েছে। এরপর দোয়া করার কথাও বলা হয়েছে, কারণ ফরজ নামাজের পরের দোয়া কবুল হয়।

পরিবারকে সময় দেওয়া কি ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়?

লেখায় বলা হয়েছে, পরিবারকে সময় দেওয়া, খোঁজখবর নেওয়া, একসাথে খাওয়া এবং বাচ্চাদের সময় দেওয়াকে ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।