আসহাবে কাহাফের কাহিনী
আসহাবে কাহাফের দোয়া ও পটভূমি
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে কারীমে সুরাতুল কাহাফ এর মধ্যে ৯ এবং ১০ নম্বর আয়াতে বলছেন। হে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি কি মনে করেছেন আশরাফুল কাহাফ এর ঘটনা ছিল একটা বিস্ময়কর ঘটনা। যখন গুহায় আশ্রয় নেওয়া কিছু যুবক আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিল। কি দুয়া করেছিল? হে আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন। এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের সমস্ত কাজগুলোকে আপনি গুছিয়ে দিন সুবহানাল্লাহ ।আজকে থেকে হাজার বছর পূর্বে ডাক ইউনুস নামক বাদশার একটা সভ্যতা ছিল । এই বাদশা ছিল তৎকালীন সময়ের একজন জালিম শাসক। সে তার রাজ্যের শিরিক প্রতিষ্ঠিত করেছিল। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের তাওহীদকে উঠিয়ে দিয়েছিল। তৎকালীন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সুন্নাহ কে উঠিয়ে দিয়ে নিজের মনগড়া আদর্শ বাস্তবায়ন করেছিল ডাক ইউনুস বাদশা ।তো সেই বাদশার অধীনে থাকা ৮ জন বা ৯ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সন্তানদেরকে আল্লাহপাক হেদায়াত দান করেন।এবং তারা ইতিহাসে আশরাফুল কাহাফ নামে পরিচিত আছে । এই ৭ জন বা ৯ জন যুবক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সন্তান ছিলেন। তারা তাওহীদ কে চিনতে শিখলেন।তারা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে চিনতে শিখলেন। শিরিকের সাথে সুন্নতের আপোষ করলেন না । সুন্নতের সাথে চলমান জাহিয়াত এর আপোষ করলেন না। এর ফলশ্রুতিতে তাদের ওপর নির্যাতন নেমে আসলো । রাজা তাদেরকে ৩ দিন সময় দিল। এই তিন দিনের মধ্যে তোমরা যদি তোমাদের ধর্মকে ত্যাগ না করেছ তাহলে তোমাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। ঐ ৭ জন বা ৯ জন যুবক ওই রাষ্ট্রের মধ্যেকোন অরাজ্যকতা সৃষ্টি করল না। বরং তারা সাইলেন্টলি ওই রাষ্ট্র থেকে চলে গেল। সে ফিতনা পূর্ণ জাহেলী পরিবেশ থেকে নিজেরা আস্তে করে সরে গেল। সেখানে কোন রকম ফাসাদ সৃষ্টি করলো না। যাওয়ার সময় তার একটা কুকুরকে সাথে নিয়ে ছিল। সেই কুকুর বছরের পর বছর তাদেরকে পাহারা দিয়েছে গুহার মধ্যে ।চলতি পথে একটা গুহায় তারা আশ্রয় নিয়েছিল। সেই গুহার মধ্যে তারা ঘুমিয়ে পড়ে এবং আল্লাহ রব্বুল আলামিন ৩০৯ বছর পর তাদের ঘুম ভাঙ্গায় সুবহানাল্লাহ। ৩০৯ বছর পর তাদের যখন ঘুম ভাঙলো। যখন তাদের ঘুম ভাঙলো তারা খুব ক্ষুধার্ত ছিলেন। এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করলেন তোমরা কতদিন ঘুমিয়েছো? তারা বলল আমরা হয় একদিন ঘুমিয়েছি বা একদিনের কিছু অংশ ঘুমিয়েছি। যাই হোক তারা ক্ষুধার্ত ছিলেন তাদের পকেটের মধ্যে কিছু মুদ্রা ছিল। আর সেই মুদ্রা বর্তমান সময়ের চলমান মুদ্রার মত ছিল না। বর্তমান যে চলমান যে মুদ্রা গুলো আছে যেখানে গোল্ড এবং সিলভারের কোন অনুপ্রবেশ নাই। যদিও বা কুরআন এবং সুন্নায় গোল্ড এবং সিলভারের কয়েনের কথা আছে।
তবে পশ্চিমা সভ্যতায় এটাকে হারাম করে দিয়েছে। আর পশ্চিমা সভ্যতা যদি কোন কিছুকে হারাম করে দেয় তাহলে সেটা সারা বিশ্বে হারাম হয়ে যায়। আর পশ্চিমা সভ্যতা যদি কোন কিছুকে হালাল করে দেয় তাহলে সেটা সারা বিশ্বে হালাল হয়ে যায়। পশ্চিমা সভ্যতা যদি বলে পর্দা হারাম তাহলে সারা বিশ্ব বলবে হারাম হারাম। তারা যদি বলে পর্নোগ্রাফি জেনা হালাল তাহলে সারা বিশ্ব বলবে হালাল হালাল। এখন মানুষ আল্লাহর ইবাদতের চেয়ে পশ্চিমাদের ইবাদত বেশি করে। আর এটাও বলে রাখি সুরা তওবায় ৩১ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন। কেউ যদি আল্লাহ পাকের হারামকে হালাল করে নেয় এবং হালালকে হারাম করে নেয় তাহলে এটাকে আল্লাহ পাক কুফরি বা শিরিক বলে আখ্যায়িত করেছে।
ডাক ইউনুস বাদশা ও যুবকদের হিজরত
তো ডাক ইউনুস বাদশার যুগটাও ঠিক এমন ছিল। তারা যখন সেই মুদ্রা গুলো নিয়ে বাজারে গেল খাবার কেনার জন্য তখন তাদেরকে অ্যারেস্ট করা হলো। কিসের জন্য? অভিযোগটা হলো তারা গুপ্তধন পেয়েছে এই অভিযোগে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে তারা কোন গুপ্তধন পায় নাই। তারা বলছিল আমরা গতকাল মাত্র এখান থেকে বের হয়েছি। তারা বলছিল আমরা গতকাল মাত্র এখান থেকে বের হয়েছি আজকে রাতে আমরা এই গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলাম এতটুকুই তারা বলেছিল। যাইহোক তথ্য প্রমান যাচাই করে দেখা গেল তারা যে ঘুমিয়ে ছিল এতে প্রায় ৩০৯ বছর অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে। এবং এখন যে বাদশা আছে তিনি আলহামদুলিল্লাহ তাওফিকপন্থী মানুষ। আল্লাহকে বিশ্বাস করে নবী রাসূলকে বিশ্বাস করে। আল্লাহ পাকের ওহী গ্রন্থকেও সে বিশ্বাস করে। তবে ওই সমাজের মানুষ একটা বিষয়কে বিশ্বাস করে না। মৃত্যুর পরে পুনরুত্থান এই বিষয়টাকে তারা স্বীকার করে না। আল্লাহ পাক মাত্র ৯ জন যুবককে মধ্য দিয়ে পুরো একটা বিশ্বকে শিক্ষা দিলেন যে মৃত্যুর পর পুনরুত্থান সত্য। যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ৩০৯ বছর ঘুমিয়ে রেখে জীবিত করতে পারেন। ইনশাল্লাহ সেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে হাজার বছর পরও জীবিত করতে পারবেন ।এতে করে পুরো সমাজটাই তাওহীদ বন্দী হয়ে গেল আলহামদুলিল্লাহ। এ হলো আসহাবে কাহাফের ঘটনা সংক্ষিপ্তভাবে বললাম। এই আসহাবে কাহাফের তারা কিন্তু উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা সন্তান ছিলেন। এবং তারা ছিলেন যুবক। তারা কেউ কাউকে চিনত না কিন্তু আল্লাহপাক তাদের মধ্যে একটা হৃদয় বন্ধন দিয়ে দিয়েছিল। এবং তারা ওই রাষ্ট্রে কোন ফাসাদ সৃষ্টি করেন নাই।কোন অনাচার কিছু সৃষ্টি করেন নাই ।তারা ভাঙচুর করেনি তারা হরতাল করেনি অবরোধ কিছু করেনি কিচ্ছু করেনি। তারা তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছে। মানুষকবুল করেনি তাদেরকে আল্টিমিটার দেওয়া হয়েছে।দিন পরিবর্তন করো না হলে তোমাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তারা আস্তে করে সেখান থেকে চলে গিয়েছে। জাহিলিয়া থেকে টোটালি ডিসকানেক্ট হয়ে গেছে। তারপর আল্লাহতালা এমন একটা ঘটনা ঘটালেন যার ফলে পুরো সভ্যতা হেদায়েত পেয়ে গেল আলহামদুলিল্লাহ। শুধু তাই নয় এ ঘটনা কোরআনে থাকবে। আর কোরআন কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে ইনশাআল্লাহ। যত মানুষ কোরআন তেলাওয়াত করবে ইনশাল্লাহ তত মানুষ এই ঘটনার আলোকে হেদায়েত পাবে ইনশাল্লাহ। তো দেখুন অল্প কিছু মানুষ নিয়ে আল্লাহপাক বড় একটা কমিটি হেদায়েত দিতে পারে ।তাদের দোয়া সবাই করি আজকে। তারা দোয়া করেছিল একই যুগ আবার এসেছে ঘুরে ফিরে সময়ের পরিবর্তন হতে থাকে। আমরা ইতিহাস পড়তে গিয়ে দেখি যে হিস্ট্রি রিপিট পিস হিজসেলফ ।আমরা বলি ইতিহাস নিজেই নিজের পূর্ণবর্তী ঘটায় ।ঠিক অনুরূপভাবে ঘটেছিল নমরুদের সময়ও। নবী ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওহীদ বন্দী। নমরুদ তাওহীদ বন্ধি নয়।সে মনে করত সেই এই মহাবিশ্বের রব। আল্লাহ তাকে ইব্রাহিম আলাইহি সাল্লাম এর মাধ্যমে তাওহীদের দাওয়াত পৌঁছালেন। সে কবুল করল না।আল্লাহতালা সামান্য একটা ক্ষুদ্র মশা দিয়ে নমরুদ কে শেষ করে দিলেন ।আল্লাহপাক সব করতে পারেন। ইতিহাস এভাবে পুনরাবৃত্তি ঘটিয়াছে আদ এবং সামুদ জাতির ক্ষেত্রেও।আদ জাতির লোকের অনেক লম্বা লম্বা ছিল ।ফিজিক্যালি অনেক স্ট্রং ছিল। তারা পাহাড় কেটে বাড়িঘর নির্মাণ করত। সামুদ্ জাতীয় ঠিক এরকমই ছিল । তারা পাহাড় কেটে বাড়িঘর নির্মাণ করত।
হুদ, সালিহ ও ফেরাউনের ইতিহাস
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হুদ আলাইহিস সালামকে পাঠালেন। সলিহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কে পাঠালেন দাওয়াত দেওয়ার জন্য। তারা দাওয়াতের কাজ করলেন। কওম দাওয়াত গ্রহণ করল না। অল্প কিছু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করল বাকীরা কবুল করল না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বিশাল কম টাকে যারা বলতো আমাদের চেয়ে শক্তিশালী আর কে আছে ।কোরআনে এ কথা বলছে যে তারা এসব কথা বলতো। কোরআনে বলছে যে আমাদের চেয়ে শক্তিশালী আর কে আছে তারা এসব কথা বলত। আমরা এসব স্লোগান গুলা ওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স এ দেখতে পারি না যে আমাদের চেয়ে শক্তিশালী আর কে আছে ।বিভিন্ন পরশক্তি বলছে আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ শক্তিশালী কে আছে।এ কথাগুলোই বলেছিল আদ এবং সামুদ জাতি। আল্লাহপাক এদেরকে এমন ভাবে ধ্বংস করেছেন যেমন খেজুর গাছ উপড়ে তুললে পড়ে থাকে।আদ জাতির বাড়ির লোকেরা তেমন ভাবে পড়েছিল। মাত্র ছয় দিন এবং তিন রাতের মধ্যে আল্লাহ পাক আদ জাতিকে পুরো শেষ করে দিয়েছে। আর সামুদ জাতিকে আল্লাহপাক ধংস করেছেন বজ্রপাত দিয়ে। প্রচন্ড বজ্রপাত দিয়ে মুহূর্তে একটা কওম শেষ। আল্লাহ পাক সব করতে পারেন। ইতিহাস এভাবেই পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে। ফেরাউনের যুগে চলে যান। মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই দাওয়াত দিয়েছিলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের। আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে তাওহীদ দিয়ে তিনি ফেরাউনকে দাওয়াত দিয়েছেন। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই।আল্লাহ রাব্বুল আলামীন চিরঞ্জীব চিরস্থায়ী আর তার কাছে আত্মসমর্পণ কর। ফেরাউন বলেছিল আমি তোমাদের মহান রব নাউজুবিল্লাহ। সে বলেছিল আমি যা ভালো মনে করি তাই তো আমি তোমাদেরকে বলি। আমি শুধু তোমাদেরকে সৎ পথ দেখাই। ফেরাউন এই কথাগুলো বলেছিল। সে বলেছিল আমি তো জানিনা আমি ছাড়া তোমাদের আরো কোন ইলাহ আছে নাউজুবিল্লাহ। আল্লাহ রব্বুল আলামিন সবর করেছেন তাকে সময় দিয়েছেন। একটার পর একটা গজব দিয়েছেন। কখনো উকুন নাজিল করেছেন। কখনো রক্ত নাজিল করেছেন। কখনো প্লেগ ।কখনো ফড়িং ।কখনো ব্যাঙ।এভাবে করে নয়টা আজাব আল্লাহ পাক ফেরাউনের ওপর নাযিল করেছেন। তার কওমের ওপর নাযিল করেছেন। সর্বশেষ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন লোহিত সাগরে সদলবল সহকারে লোহিত সাগরে ডুবিয়ে মেরেছেন। কিন্তু মরার সময় ফেরাউন বলেছিল আমি হারুন এবং মুসার রবের ওপর ঈমান আনলাম। ডুবে মরার সময় ফেরাউন এই কথাটা বলেছিল। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন এখন এর পূর্বে তুমি বিরুদ্ধাচরণ করেছ। আজকে আমি তোমার দেহটা কে সংরক্ষণ করব।কি জন্য সংরক্ষণ করবে? মিউজিয়ামে রেখে দেওয়ার জন্য। মিশরের মিউজিয়ামে রেখে দেওয়ার জন্য। কি জন্য সংরক্ষণ করবে? তোমার পরবর্তীতে যারা আসবে পৃথিবীতে তাদের সবার জন্য তুমি নিদর্শন হয়ে থাকবে। এই কারণে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তো ফেরাউনের পরের তো হাজার হাজার বছর চলে গেল। এবং এই হাজারটা বছরে আমরা হাজারটা ফেরাউন এসেছে দেখেছি পৃথিবীতে। তাদের সকলের জন্য ফেরাউনের মোমিটা ছিল কি নিদর্শন। কে আল্লাহর নিদর্শনের পরোয়া করে? আল্লাহ পাকের নিদর্শনের কে এখন পরোয়া করে । এই দুনিয়ার জীবনটাই আমাদের হায়াত আমরা এখানে বাঁচি এখানেই মরি। আর আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে না। কোন মানুষ যদি পরকালীন কনসেপ্ট লালন করে চলে সে মানুষ কি বেনামাজি থাকতে পারে। সে মানুষ কি যাকাত না দিয়ে থাকতে পারে কি না।
পরকালের ভয় ও শয়তানের প্রলোভন
যে মানুষ পরকালে বিশ্বাস করে যে আমাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে একা একাই। আমার ঈমান আমার পীর আমার অমুক আমার তমুক নেতা-নেত্রী কেউ আমার সাথে যাবেনা। আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে হিসাব দিতে হবে এই কথা যে চিন্তা করে সে নামাজ না পড়ে কি থাকতে পারে। সে কি যাকাত না দিয়ে থাকতে পারে। থেকে দুর্নীতি করতে পারে কিনা।সে কি সুদ খেতে পারে। সে কি ঘুষ খেতে পারে। সে কি মানুষকে ঠকাতে পারে ।সে কি জেনা করতে পারে। সে কি কাপড় খুলে দিয়ে উন্মুক্ত হয়ে ঘুরতে পারে কি না। এখন তো উন্মুক্ত হওয়ার সংস্কৃতি চলছে কিন্তু নাকি। ইবলিশ যখন আদম আলাইহি সাল্লাম এবং হাওয়া আলাইহিস সাল্লাম কে জান্নাত থেকে বের করিয়ে দেয়।প্রলোভন দেখিয়েছিল মিথ্যা প্রলোভন । হে আদম এবং হাওয়া আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দিব এমন একটা গাছের ব্যাপারে যে গাছের ফল খেলে তোমরা চিরস্থায়ী হয়ে যাবে। এবং কোন দিন মরবে না। এই যে চিরস্থায়িত্বের টপ এবং ও অমৃত্যুর টপ।এই দুইটা টপ দিয়ে ইবলিশ আমাদের পিতা মাতাকে জান্নাত থেকে বের করিয়ে দিয়েছে। পৃথিবীতে যত মানুষ পথভ্রষ্ট হচ্ছে আমরা এই দুইটা খাসলতের কারণে। আমরা অমরত্ব আশা করছি। আমাদের চলা ফেরা দেখলে মনে হয় আমরা কখনো মরবো না। পরকালীন কনসেপ্ট বাদ।একটা হচ্ছে চিরস্থায়িত্বের দাপট। ক্ষমতা ক্ষমতার দাপট। এই দুটো কিন্তু আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করছে। সূরা আরাফ পড়ে দেখেন আমি কোন কিছু বানিয়ে বলছি না। তখন আল্লাহ পাক বললেন হে বনু আদম। আদমের সন্তান যারা আসে মানে আমাদেরকে বললেন তোমরা শোনো শয়তান যেন তোমাদেরকে ফেতনায় ফেলতে না পারে । ঠিক যেমন করে তোমাদের পিতা মাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল। যেহেতু আমাদের পিতা মাতাকে শয়তান জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে।আল্লাহ পাক এই আদমের সন্তানদেরকে বলছেন তোমরা সতর্ক থেকো। তোমাদের পিতা মাতাকে যেমন করে শয়তান জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল তোমাদের সাথে যেন এমনটা করতে না পারে। আর কি করতে না পারে? সূরা আরাফ করে দেখেন আল্লাহ পাক বলেছেন মনে রেখো আদমের সন্তানরা ইবলিশ কিন্তু তোমার পিতা মাতা কে শুধু জান্নাত থেকে বের করে দেয় নি বরং তাদেরকে গাছের কাছে নিয়ে গিয়েছে এবং তাদেরকে নিষিদ্ধ ফল খাইয়েছে এবং আমার সাথে সাথে তাদের শরীরের পোশাক খুলে গিয়েছে। তাহলে আমাদের পিতা মাতাকে জান্নাতে নগ্ন করে দিয়েছিল কে? ইবলিশ। সে কথা আল্লাহপাক বলছেন আদম সন্তানদেরকে তোমরা সতর্ক থেকো তোমাদেরকে যেন ইবলিশ নগ্ন করতে না পারে ঠিক যেমন করে তোমাদের পিতা-মাতাকে করেছে। এখন পুরো বিশ্ব জুড়ে এই যে নগ্নতার যে সংস্কৃতি চলছে এরা কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে বুঝতে পারছেন ।কুরআন পড়েন। পৃথিবীতে যতগুলো সভ্যতা চলে গেছে ওই যে ব্যাবিলনের সভ্যতা চাইনিজদের সভ্যতা মাওসেতন ইতালিয়ানী মুসোলিনি ওই পশ্চিমা সভ্যতা বাদ দিয়ে যত বড় বড় সভ্যতা ছিল সবার পোশাক ছিল শালীন আমি চ্যালেঞ্জ করলাম দেখে নিয়েন। চাইনিজদের পোশাক দেখেন হাজার বছর আগে চাইনিজদের পোশাক দেখবেন শালীন পোশাক তারা কিন্তু মুসলিম ছিল না।
প্রাচীন সভ্যতা ও পোশাকের শালীনতা
আপনি এই ব্যাবিলনের সভ্যতা দেখেন এই ব্যাবিলনের সভ্যতা অনেক প্রাচীন। এই সভ্যতার পোশাক দেখবেন। দেখবেন কোন অশালীন পোশাক ছিল না। এবং কি আইয়ামে জাহিলিয়াত যেটাকে আমরা বলি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জন্ম নেননি তার আগে সভ্যতার কথা বলছি। ওই সময় যে মানুষ জেনা করতো কন্যা সন্তান মেয়েকে যে জিন্দা দাফন করে দিত। তারপরেও তাদের পোশাক শালীন ছিল। হঠাৎ করে বিশ্বে একটা সভ্যতা আসলো তারা পোশাক শর্ট করতে করতে করতে করতে অবশেষে বিকিনি পড়ে ঘোরা শুরু করল। এখন তারা এটা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে আর আমরা এটা সাদরে গ্রহণ করছি। আমরা বলছি হাজার বছর ধরে সভ্যতা। এখন দেখেন আল্লাহপাক কি বলছেন? যখন তারা ফায়েসা কোন কাজ করে তখন তারা বলে আমরা এগুলো আমাদের বাপ দাদাকে দেখেছি করতে। যখন তারা কোন ফায়েসা কাজ করে বা অশ্লীল কোন কাজ করে তখন তারা বলে এগুলো আমাদের বাপ দাদা বা পিতৃ পুরুষ থেকে করে আসছি ।তারা বলছে আল্লাহ আমাদেরকে আদেশ করেছেন।আল্লাহপাক কখনো অশ্লীল কাজের আদেশ করতে পারেন না। তোমরা কি আল্লাহর সম্পর্কে এমন কথা বলছো যে কথা তোমরা জানো না। আল্লাহ কিসের আদেশ করেন? আল্লাহ পাক বলছেন হে নবী বলে দিন আল্লাহ পাক আদেশ করেন ন্যায়, ন্যায় বিচারের আদেশ করেন।এবং এক ও নিষ্ঠা ভাবে তোমরা আল্লাহকে ডাকবে দোয়া করবে আল্লাহপাক এই আদেশ করেছেন। আল্লাহ পাক কি অশ্লীল কাজের আদেশ করতে পারেন? না। ইতিহাস পড়ে দেখেন। পুরো ইতিহাস পড়ে দেখবেন মানুষ এই উনবিংশ শতাব্দী আসার আগে এত অশ্লীল ছিল না। এখনকার বিশ্বের যত সমস্যা চলছে। কয়েকটা বলি রিবা বা সুদ, যেনা বা উন্মুক্ত যৌনাচার, বেপর্দামি অশ্লীলতা, মাদক বা বড় মহামারী পর্নোগ্রাফি বড় বড় মেজর সমস্যাগুলো চলছে যেগুলো ইয়াং জেনারেশনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এগুলোর ম্যাক্সিমাম এসেছে কিন্তু পশ্চিমা সভ্যতা থেকে। খেয়াল করে দেখবেন এগুলো কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আসে নাই। ভারত থেকে আসে নাই। পাকিস্তান থেকে আসে নাই। এগুলো দেখবেন একটা নির্দিষ্ট জায়গা থেকে আসছে। এই কারণে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যে বস্তুবাদী উন্নয়ন সবকিছু নয়। হ্যাঁ আমরা জিটিবি বানালাম ইন্ডাস্ট্রি করলাম মঙ্গল গ্রহে চলে গেলাম চাঁদে গেলাম ওকে ফাইন এগুলোর কেউ বিরোধিতা করবে না। এটা ভালো দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এযুগের তাড়নায় এ যুগে এগুলোই করতে হবে কিন্তু নৈতিকতার বিসর্জন দিয়ে নয়। ধর্ম থেকে দূরে চলে এসে নাস্তিকতায় করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এই বস্তুবায়ন উন্নয়ন আমাদের পরকালকে বাঁচাতে পারবে না কিন্তু। পরকালকে বাঁচিয়ে রেখে আমার দুনিয়াকে উন্নয়ন করতে হবে। এবং দুনিয়ার উন্নয়ন অবশ্যই জরুরী। সারা বিশ্ব যখন এগিয়ে যাচ্ছে আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো।এই যুগে চলার জন্য যে উপকারী জ্ঞান আছে সেগুলো শিখতে হবে আমাদেরকে। আমাদের আইসিটি জ্ঞান এর দরকার আছে। আমাদের ইংরেজি জ্ঞান এর দরকার আছে। ম্যাথমেটিক জ্ঞানের দরকার আছে। সাইন্সের জ্ঞানের দরকার আছে। পলিটিক্সের জ্ঞানের দরকার আছে। জিও পলিটিক্স এর জ্ঞানের দরকার আছে। অর্থনৈতিক জ্ঞানের দরকার আছে। এগুলো বাদ দিয়ে যদি শুধু আমি মুখস্ত করে যাই মুখস্ত করে যাই। এই জ্ঞান টা আমার কি কাজে দিবে বলেন ? আমরা কিন্তু এ জায়গা গুলোতে পিছিয়ে পড়তেছি। আল্লাহপাক আমাদেরকে কন্টাক্টলি পড়াশোনা করার তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমীন।
দুনিয়ার জ্ঞান ও ইসলামের খেদমত
জেনারেল লাইনে পড়ছেন পড়েন। আপনার এই জ্ঞানটাকে কি ইসলামের কাজে লাগাতে পারবেন না। সবাইকে কি আলেম হতে হবে সবাইকে মুফতি হতে হবে। অর্থনীতিকবিদের দরকার আছে না, পলিটিশিয়ান এর দরকার আছে না, ডক্টর ইঞ্জিনিয়ার টিচারের দরকার আছে না সব সেক্টরের মানুষের দরকার আছে। আপনাদেরকে আপনাদের জায়গায় থাকতে হবে ওখানে থেকে আপনি ইসলামের খেদমত করুন পারবেন না। একজন ডক্টর তিনি কি ইসলামে খেদমত করতে পারবে না। একজন সৎ নেতা তিনি কি ইসলামের খেদমত করতে পারবে না ।একজন অর্থনীতিবিদ তিনি যদি আল্লাহর হারাম হালাল মেনে যদি কোন কাজ করেন তাহলে কি তিনি ইসলামের খেদমত করতে পারবেন না। তো সবাইকে কি বক্তা হতে হবে সবাইকে কি আলেম হতে হবে। নির্দিষ্ট একটা শ্রেণীর মানুষ আলেম হবে নির্দিষ্ট একটি শ্রেণীর মানুষ অর্থনৈতিকবীদ হবে নির্দিষ্ট একটা শ্রেণীর মানুষ ডাক্তার হবে নির্দিষ্ট একটা শ্রেণীর মানুষ শিক্ষক হবে নির্দিষ্ট একটা মানুষ ইঞ্জিনিয়ার হবে নির্দিষ্ট একটা শ্রেণীর মানুষ জনপ্রতিনিধি হবে নির্দিষ্ট একটা শ্রেণীর মানুষ ইকোনমিক্স সেক্টরে থাকবে। এভাবে আমরা একটা জাতি গঠন করব। এভাবে সবাই হবে উভয় দিক দিয়ে শিক্ষিত। একজন আর্মি অফিসার তার উচিত হবে ইমামতি করার যোগ্যতা অর্জন করা। একজন ডাক্তার তার উচিত হবে ইমামতি করার যোগ্যতা অর্জন করা। আবার এমন একজন আলেম তারও উচিত হবে এমন পড়াশোনা করা যে পড়াশোনা বিয়ে কুরআন সুন্নাহকে হাতে রেখে ওয়ার্ল্ড ওয়ার কে ডিল করতে পারে। তো এই বিষয়গুলোতে আমাদের একটা গ্যাপ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে বোঝার তৌফিক দান করুন আমিন।অ্যাটলিস্ট আমরা যদি কিছু নাই পারি আমাদের দ্বারা যদি কিছু নাই হয়। আমাদের সন্তান সন্ততি যারা আসবে ভবিষ্যতে আল্লাহ পাক তাদেরকে যেন ইসলামের জন্য কবুল করে নেয় আল্লাহুম্মা আমীন। আর ইসলামের জন্য কবুল করলে কারো কোন ক্ষতি নাই। ইসলামের আন্ডারে প্রত্যেক অমুসলিমদের সর্বোচ্চ অধিকার রক্ষা করা হয়। অন্য কোন জায়গায় হয় না। এবং প্রত্যেকটা ধর্মগ্রন্থের মূল কথা গুলো দেখবেন একই রকম এক আল্লাহর কথা বলছেন একজন শেষ নবীর কথা বলছেন সত্য কথা বলার জন্য বলছেন। ন্যায় এর পথে চলার কথা বলছেন। প্রত্যেকটা ধর্মগ্রন্থ পড়ে দেখেন। বাইবেল পড়েন বেদ পড়েন ওল্ড টেস্টামেন্ট পড়েন নিউ টেস্টামেন্ট ফরেন একটু পড়েন দেখবেন। দেখবেন সব জায়গায় একই কথা লিখা আছে। সবাই যদি যার যার ধর্ম পালন করে কোন সমস্যা আছে । সবাই যদি যার যার ধর্মের নৈতিকতা মেনে চলে কোন সমস্যা আছে। এই সহজ সরল কথাগুলো আমরা জনগণকে বোঝাতে ব্যর্থ হচ্ছি। এই সুযোগ গুলো নিয়ে একশ্রেণীর মানুষ এক দলকে আরেক দলের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিচ্ছে। সার্থক খোঁজে নিজের স্বার্থে দুনিয়ার স্বার্থে। ওই যে বললাম আরেকটা সভ্যতার কথা ওদের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ একটা জনসমষ্টির মাঝে ফ্যাসাদ লাগিয়ে দিচ্ছে উদ্দেশ্য পূর্ণ কিছু মানুষ। এদেরকে চিনতে শিখুন এ ডেকে বয়কট করতে শিখুন আল্লাহপাক তৌফিক এনায়েত করুন। দেখুন নবী মুসা আলাইহিস সাল্লামের সময় হিস্ট্রি এভাবেই রিপিট হয়েছে। আপনাকে আরেকটা কওমের কথা বলি এই যে শুয়াইব আলাইহি সাল্লাম এর কওম। যাদেরকে মাপে কম দেওয়ার কারনে আল্লাহপাক ধংস করে দিয়েছেন। কোন কারনে? মাপে কম দেওয়ার কারণে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ভূমিকম্প দিয়ে প্রথম ধ্বংস করেছিলেন এই কওমটাকে। যারা ছিল শোয়াইব আলাইহিস সালামের কওম। শিরিকের পাপ বাদ দিয়ে তারা একটা বড় পাপ করত সেটা কি?
মাপে কম দেওয়া ও লুত আলাইহিস সালামের কওম
তারা মাপে কম দিতো অন্যদেরকে ঠকাত। জনগণের সম্পদ মাপে কম দিত এভাবে লুট করতো। এ কারণে আল্লাহ পাক সয়াইম আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কওমকে ভূমি ধ্বংসতে শেষ করে দিয়েছে। এভাবে ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে। কওমেলুদ মনে আছে। লুত আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কওম ।ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাতিজা ছিলেন লুত আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাকে আল্লাহপাক একটা কওমের দাওয়াত দেওয়ার জন্য পাঠালেন যে কওম এমন পাপ করছে যা part 2. আরেকটা হচ্ছে পৃথিবী পশ্চিম দিকে। পশ্চিম দিকে কেন হবে জানেন ? সমকামিতার কারণে। সুদের কারণে জেনার কারণে পর্নোগ্রাফির কারণে। এবং সারা বিশ্ব যে জুলুমগুলো করছে সে জুলুমের জন্য আল্লাহপাক ধষিয়ে দিবে। এর কোন অস্তিত্ব থাকবে না। ভূমি ধস হয়ে যাবে। আরেকটা হচ্ছে পৃথিবীর মাঝখানে। মাঝখানে কারা আছে? মাঝখানে আমাদের আমিনুল মুমিনরা আছে।যারা আজরাইলের সাথে আদান-প্রদান করছে এরা আছে। সেখানে একটা ফেতনা অপেক্ষা করছে।পৃথিবীতে এখনো বড় বড় তিনটি ভূমিকম্প বাকি আছে ।আর সর্বশেষ আলামত হচ্ছে ইয়ামান থেকে একটা আগুনের গোলা বের হবে। এ আগুনটা মানুষকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। এ দশটা আলামত না আসা পর্যন্ত কেয়ামত হবে না। আপনি এখন রিলাক্স এ নাকে তেল দিয়ে ঘুমান তাই না। এ দশটা আলামত না আসা পর্যন্ত কেয়ামত হচ্ছে না তবে এ দশটা আলামত আসার পটভূমি তৈরি হয়ে যাচ্ছে। এই যে সোয়াব আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে ভূমিকম্প যে ধ্বংস করা হলো। এই ভূমিকম্প কখন আসে? আল্লাহতালা রাসূলের মাধ্যমে বলেছেন যখন সমাজে অনেক পাপ বেড়ে যাবে অশ্লীলতা বেড়ে যাবে মানুষ মাদককে হালাল মনে করবে যেনাকে হালাল মনে করা শুরু করবে এবং এই যে সমাজের মধ্যে বেপর্দামি বেড়ে যাবে তখন ভূমিকম্প দেখা দিবে। ভূমিধস দেখা দিবে। নাচ গান যখন বেড়ে যাবে তখন ভূমিকম্প দেখা দিবে। এখন কি মনে হচ্ছে? আল্লাহ পাক আমাদেরকে হেফাজত করুন আমিন ।বাচার উপায় কি ওই যে বলুন এভাবে ইতিহাস পুনরায় আবৃত্ত করেছে ।মনে আছে লুত আলাইহি সালামের কউম ।ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাতিজা ছিলেন লুত আলাইহি ওয়াসাল্লাম ।তাকে আল্লাহ পাক একটা কওমের দাওয়াত দিতে পাঠালেন। যে কওম এমন পাপ করছে যে পাপ কোন ইতিহাসে করেননি। ওই পাপটা ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কেউ করেননি। কি পাপ? সমকামিতার ।এখন তো এসব এভেলেবল দেখা যায়। এখন এসব এভেলেবল দেখা যায় ছেলে ছেলে বিয়ে করছে মেয়ে মেয়ে বিয়ে করছে। এমন বড় বড় কানকি যেগুলো আছে আমেরিকা ব্রিটেন অস্ট্রেলিয়া সব জায়গায় এসব এখন হালাল হয়ে গিয়েছে। স্বাধীনতা এইসব বাকস্বাধীনতা হয়ে গিয়েছে এখন আপনি চাইলে একটা মেয়েকেও বিয়ে করতে পারেন ছেলেকেও বিয়ে করতে পারেন। কোরআনে বলেছে ছেলে ছেলে সমকামিতা কিন্তু এ যুগে এসে আমরা মেয়ে মেয়ে সমকামী তাও দেখতে পাচ্ছি। সুবহানাল্লাহ ।আমাদের দেশে এখন ছড়িয়ে পড়ছে এটা এলার্মিক বিষয়। আমরা সবাই বাহিরে বাহিরে ভালো মানুষের মুখোশ ধরে আছি ঠিকই কিন্তু ভিতরে এসবই চলছে। যদি আমরা এখনই ডিফেন্ড করতে না পারি তাহলে কিন্তু সমস্যা। আগামীতে দেখা যাবে আমাদের পরিবারের মধ্যে এসব ঢুকে যাচ্ছে নাউজুবিল্লাহ। ২০ থেকে ৩০ জনের মধ্যে একজন মনে করে যে সমকামিতা ভালো জিনিস। বা এটা একটা স্বাধীনতা। আগে বলা হতো এটা একটা মানসিক রোগ।আপনি ১০ বছর আগের ডাটা দেখেনা আর দশ বছর পরের ডাটা দেখেন। এখন আপনাকে এটা বলা হবে বাকস্বাধীনতা কিন্তু আগে এটা বলা হতো মানুষিক রোগ। এই কওম ছিল কওমিলুত। আল্লাহ পাক এটাকে এমন ভাবে ধ্বংস করেছেন যেভাবে পৃথিবীতে আল্লাহ পাক কোন কওমকে ধ্বংস করেন নাই। কাউকে না। কিভাবে? আল্লাহপাক দুইটি ফেরেস্তা পাঠিয়েছেন।
সমকামিতা ও পর্নোগ্রাফির কুফল
আল্লাহপাক দুই জন ফেরেশতা পাঠিয়েছিলেন। জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম এবং মিকাইল আলাইহিস সাল্লাম ।তাদেরকে সুন্দর যুবকের আঁকৃতে পাঠিয়েছিলেন সুন্দর সুন্দর যুবক। সুবহানাল্লাহ এগুলো এখন বলতে খারাপ লাগে ।ছোট ছোট বালকদের কেউ এখন দেখি বলাৎকার করা হচ্ছে। নিউজগুলো পান না। আর আমরা এটাকে জঘন্য প্রতিবাদ করছি। কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় ইসলামিক কিছু প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও এই রোগ ঢুকে গিয়েছে । তো এটা কিভাবে হলো? কিভাবে এই রোগ ঢুকে গেল সেটা আমি আপনাকে বলছি এখন । আমি আপনাকে মূল জায়গাটা ধরিয়ে দিচ্ছি দেখেন। এই যে মানুষের মানসিক বিকৃতি বা অসুস্থতা হয়েছে অনলি ফর পর্নোগ্রাফির কারণে। পর্নোগ্রাফি দেখতে দেখতে যখন সবাই বাসায় যখন ইন্টারনেটে দেখতে অবস্থা হয়ে গেছে। তখন ইন্টার্নালী আমরা সবাই পশু হয়ে গিয়েছি।এখন সামনে যেই থাক বাচ্চা থাক বা ছোট মেয়ে থাক একটা পাঁচ বছরের বাচ্চা মেয়েকে দেখলাম রেপ করে ফেলছে। এই পাঁচ বছরের মেয়েটির রেপ হয়েছে কোথায়? বলতে চাচ্ছি না কারণ এগুলো বললে তো নিজের দোষ প্রকাশিত হয়। আসলে ধর্ষকের কোন ধর্ম নাই। সে হিন্দু মুসলিম না আলেম জালেম খ্রিস্টান বৌদ্ধ এগুলো দেখার তার সময় নাই। আল্লাহপাক বলেছেন তার রাসূলের মাধ্যমে ধর্ষক হলেই তার মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দিবে প্রকাশ্যে সে যেই হোক। সে যেই হোক না কেন তার কোন ধর্ম নাই। সে যদি একজন দাড়িওয়ালা মানুষও হয় তাকেও এই কাজ করতে হবে। চোরের কোন ধর্ম আছে। ডাকাতের কোন ধর্ম আছে। মিডিয়াকে দেখবেন ওখানে বেশি হাইলাইট করবে কারণ এখানে একটা সুযোগ আছে। ইসলামকে ডমিনেট করার জন্য। কিন্তু সেম ঘটনা কিন্তু অনেক বড় বড় সেকুলারে প্রতিষ্ঠানে ঘটেছে ওগুলোকে কিন্তু আমরা হাইলাইট করতে দেখি না। এটাও আমরা বুঝি ইন্টেনশনটা কি? তবে এখানে একটা বিষয় ক্লিয়ার করতে হবে । পাপ পাপই যেই করুক তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।আল্লাহপাক বোঝার তৌফিক এনায়েত করুন।এখন এমন একটা সময় চলছে বাচ্চারাও নিরাপদ না। পাঁচ বছরের মেয়ের ৭ বছরের মেয়ে কয়দিন আগে দেখলাম দুই বছরের মেয়ে নাউজুবিল্লাহ। তার সাথেও নাকি এরকম ঘটনা ঘটেছে আর এটা নাকি উত্তরবঙ্গেরই ঘটনা। আর এগুলো শহরের চাইতে এখন গ্রামে বেশি হচ্ছে। কারণ কি জানেন? গ্রামের তো আগে মানুষ এরকম উন্মুক্ত পোশাক-আশাক দেখত না সাধারণত। এখন যখন পর্ন চলে আসছে হাতে বাসায় সবাই এইসব দেখছে এখন ধর্ষণ বাড়ছে বেশি। এই বছরই রিপোর্টে দেখবেন ১৩৩৭ টা রেপের ঘটনা ঘটেছে এই বছরই আমাদের বাংলাদেশে । এগুলো অ্যালার্মিং বিষয়। আর আমেরিকাতে প্রত্যেক ৬ জনের মধ্যে একজন রেপ হয়। আর রেপের রাজধানী হচ্ছে সাউথ আফ্রিকা প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন রেপ হয়। তো এগুলো কিভাবে হচ্ছে? অনলি বিকজ অফ পর্নোগ্রাফি। এটা যদি এখনো বন্ধ করা না যায় তাহলে আগামী ভবিষ্যৎ খুব খারাপ হবে। যেখানে সেখানে মানুষ যেনা করবে যাকে তাকে মানুষ রেপ করবে দেখে নিয়েন । বিকজ এটা ভিতর থেকে মানুষকে পশু বানিয়ে দিচ্ছে।
আমরা জানি এর পিছনে একটা বড় ইন্ডাস্ট্রি কাজ করে। যারা সারা বিশ্বে প্রায় আটানব্বই বিলিয়ন ডলার আর্ন করে পর্ন দিয়ে। শুধু আমেরিকায় বিজনেস করে ১২ বিলিয়ন ডলার শুধু পর্ন দিয়ে।১২ বিলিয়ন ডলার বুঝেন। এক বিলিয়ন মানে কত টাকা জানেন? ১০০ কোটি টাকা।এর পেছনে খালি টাকা কাজ করে টাকা খালি টাকা। আর এখানে যা দেখানো হয় সবই ফেক এগুলো কোনটাই সত্য না ।এটা শুধু একটা অভিনয় আর কিছু নয়।
ধর্ষণ, হাদিস ও লুতের কওমের পরিণতি
স্পেশালি মুসলিম যুবকদের মধ্যে এমন একটা পশুত্ব ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে ।জেনা ধর্ষণ বেহায়াপনা ব্যভিচার বারতেই আছে বাড়তেই আছে। এটা না কমানো গেলে এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে ধর্ষণ কমবে না জেনা কমবে না ইভটিচিংও কমবে না এবং মেয়েদের অধিকার আদায় করা সম্ভব হবে না। এগুলো আপনারা ভেবে দেখেন আপনারা অনেক বিজ্ঞ মানুষ আছেন আপনার এগুলো ভেবে দেখেন। যদি না ভাবি আল্লাহ পাকই করবে জানেন। একটা হাদিস বলছি শোনেন। জয়নব বিনতে জাহশ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে সৎ লোক থাকাতেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? আমাদের মধ্যে অনেক সৎ ব্যক্তি আছে তারা থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব ।নবীজি বলছেন হ্যাঁ তোমরা ধ্বংস হবে। যখন নোংরামি অশ্লীলতা বেহায়াপনা বাড়তে থাকবে আলেম জালেম সব ধ্বংস হয়ে যাবে। তো আমরা আমাদের স্বার্থে এই কথাগুলো বলব। কারন আমরা যদি এই গুলোকে প্রতিহত করতে না পারি। তাহলে আমাদের বাড়িতেও এই ইফেক্টা ঢুকে আসবে। তো দেখে নিয়েন। আল্লাহ পাক তৌফিক এনায়েত করুন আমীন।তো কওমে লুতে আল্লাহপাক কি করেছেন জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম এবং মিকাইল আলাইহিস সাল্লামকে সুন্দর রূপে পাঠিয়েছেন ।এখন লুতের লোকেরা বলছে তোমার ঘরে যে দুজন মেহমান এসেছে তাদেরকে আমাদেরকে দাও নাউজুবিল্লাহ । তোমাদের ঘরে যে দুইজন মেহমান এসেছে ওই দুইজন মেহমানকে আমরা নিতে এসেছি। লুত আলাইহিস সাল্লাম বলছেন তোমাদের যদি বিয়ে করার ইচ্ছা থাকে তাহলে আমার ঘরে মেয়েরা আছে তাদেরকে বিয়ে কর। একজন নবী তার মেয়েকে বিয়ে দিতে চাচ্ছেন তাও তোমরা এ পথে যেও না। তখন কওমে লুতে লোকেরা বলছে তুমি খুব ভালো করেই জানো হে লুত আমরা কি জন্য এসেছি ।তখন তিনি বলছেন তোমাদের মধ্যে কি একজন ও ভালো মানুষ নাই। এরপরে আল্লাহর আজাব আসলো। লুত আলাইহিস সাল্লাম এবং তার স্ত্রী চলে যাচ্ছেন। তার স্ত্রী কিন্তু ঈমানদার ছিলেন না সে পিছনে ফিরে ফিরে বারবার দেখছিলেন। নূহ আলাইহিস সাল্লাম এর স্ত্রী যেমন ঈমানদার ছিলেন না লুত আলাইহিস সাল্লামের স্ত্রী তেমনি ঈমানদার ছিলেন না। নবীদের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তারা কিন্তু জাহান্নামে যাবে নাউজুবিল্লাহ। কওমে লুতকে ফেরেশতাদের পাখা দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে আবার মাটিতে ধ্বসে দেওয়া হয়েছে। এই জায়গাটা এখনো নিদর্শন হয়ে আছে দেখবেন জর্ডানের পাশে ডেকছি একটা মৃত সাগর আছে না ওইটা ছিল সেই জায়গা। এখানে সাদুম গোত্র থাকতো । এই কওমের নাম ছিল সাদুম ।এরা সমকামী ছিল।এখন আপনার জন্য আমার নসিহত হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমি শেষ জামানায় আমার উম্মতের ওপর কিছু ভয় করি। এগুলো আমার উম্মতের মধ্যে ঢুকে যাবে আমি আশঙ্কা করি এগুলা আমার উম্মতের মধ্যে ঢুকে যাবে। কি কি বিষয় নিয়ে ভয় করে? এক নাম্বার আমি আশঙ্কা করি আমার উম্মতের মধ্যে মূর্তি পূজা ঢুকে যাবে। মুসলিম কিন্তু মূর্তি পূজা করবে। দুই নাম্বার আমি আশঙ্কা করি আমার উম্মতের মধ্যে রিয়া ঢুকে যাবে। রিয়া টা কি? লোক দেখানো আমল। আমি আশঙ্কা করি আমার উম্মতের মধ্যে সমকামিতা ছড়িয়ে পড়বে। ছড়িয়ে পড়ে নাই এগুলো নবীজির আশঙ্কা ছিল। এখন দেখেন সবগুলো বাস্তবায়ন হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের এই সমকামী পাপ থেকে হেফাজত করুন আল্লাহুম্মা আমীন। এভাবে ইতিহাস রিপিট হয়েছে আল্লাহ পাক এদেরকেও ধ্বংস করেছেন।
নবীজির ভবিষ্যদ্বাণী ও ফিতনার সময়
এর আগে আল্লাহ পাক নূহ আলাইহিস সাল্লাম এর কম কেউ ধ্বংস করেছেন। কি কারনে? তারা ইয়াহুস,ইয়ায়ুক , নাসর এমন কিছু স্ট্যাচু অসীম করতো। এক পর্যায়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ৯৫০ বছর দাওয়াত দিয়েছেন নূহ আলাইহিস সাল্লাম তার কওম কে। ৯৫০ বছর দাওয়াত দেওয়ার পরেও তার কওম যখন আল্লাহর আনুগত্য করল না। এভাবে যুগে যুগে ইতিহাস করে চলেছে। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ও এই হিস্ট্রিটা ছিল। আবু জাহেল আবু লাহাব যারা ছিল তারা মূলত সমাজটাকে দ্বিখন্ডিত করে ফেলেছিল খন্ডে খণ্ডে ভাগ করে দিয়েছিল। সমাজের সুদ ছড়িয়ে দিয়েছিল, যেনা ছড়িয়ে দিয়েছিল, পরক্রিয়া ছড়িয়ে দিয়েছিল এবং শিরিক ছড়িয়ে দিয়েছিল এবং গোত্রের হানাহানি চলছিল। এমন একটা সময়ে আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই সমাজে আসছেন। মাত্র ২৩ বছর সময় নিয়ে ছিলেন তিনি। আমাদের তো সমাজ সংস্কারের জন্য শতাব্দি পার হয়ে যাচ্ছে। এক একটা রেভ্যুলেশন দেখবেন শতাব্দী পার হয়ে যাচ্ছে কোন আল্টিমেট রেজাল্ট নাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাত্র ২৩ বছর সময় নিয়ে ছিলেন। এই ২৩ বছরে কুরআন এবং হাদিস এই দুইটাকে হাতে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমাজের প্রত্যেকটি জাহিলিয়াত উপর থেকে সরিয়ে দেন নাই। শেকর থেকে উপরে ফেলেছেন। তবে তিনি যখন ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করে চলে গিয়েছিলেন। খোলাইফা রাশেদিয়ার যুগ চলে গিয়েছে তারপর উমাইয়া খেলাফত এসেছে প্রায় ১০০ বছরের মত। পরে আব্বাসেয়ারা এসেছিল ৫৫০ বছরের মতো ।আস্তে আস্তে ফাতেমিরা এসেছে। ওদিকে আন্ডার লুসেনির শাসন ছিল স্পেনে। উসমানিয়াড়া এসেছিল। এভাবে ইতিহাস চলে ছিল দীর্ঘদিন প্রায় ১৪00 বছর । শেষ বয়সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু ভবিষ্যবাণী করে গিয়েছিল। যখন শেষ জামানা আসবে তখন দেখবে সমাজে সুদ ছড়িয়ে পড়বে বেশি।যেনা ছড়িয়ে পড়বে পর্ন ছড়িয়ে পড়বে । পর্ন কথাটা তো তিনি বলেননি বলেছেন অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়বে। এখন আমরা বলছি এটাকে পর্নোগ্রাফি। তিনি আরো বলেছেন সময় গুলো সংক্ষিপ্ত হয়ে আসবে। হঠাৎ মৃত্যুর পরিমাণ বেড়ে যাবে। তিনি অনেক কিছু বলে গিয়েছেন। দিন চলে যাবে একটা ঘন্টার মতো। মাস চলে যাবে একটা সপ্তাহের মত। অনেকগুলো সাইন তিনি বলে গিয়েছেন।মুসলিমদের মধ্যে বিভক্তি বাড়তে থাকবে। হত্যা মানে হারাজ হারাজ বাড়বে। মানে একজন ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে সে জানবেন আমাকে কেন হত্যা করা হলো। আটজন ব্যক্তি হত্যা করবে সেও বুঝবে না যে কেন মারলাম । ফাসাদ বাড়তে থাকবে।উঁচু উঁচু অট্টালিকার পরিমাণ বাড়তে থাকবে। সমাজের ভালো-মন্দের মানদণ্ড উল্টে যাবে।মানুষ সত্য কে মিথ্যা বলবে মিথ্যাকে সত্য বলবে। সত্যবাদী কে মিথ্যাবাদী বলবে মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী বলবে।আমানতকারী কে খেয়ানতকারী বলবে এবং খেয়ানতকারি কে আমানতকারী বলবে। টোটালি মানদণ্ড উল্টিয়ে যাবে। আস্তে আস্তে সিচুয়েশন এরকম হতে থাকবে খারাপ থেকে খারাপ হবে। তবে সোনালী সময় কি ফিরবে না তাহলে? এভাবেই চলতে থাকবে সবসময়। না এভাবে চলবে না ইনশাল্লাহুতালা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার রাসূলের মাধ্যমে জানিয়েছেন এই সব কিছুই সাময়িক এই সব কিছুই সাময়িক। ইতিহাস আবার পূর্ণবৃত্তির ঘটাবে। সভ্যতা শুরু হয়েছিল একজন নবী দ্বারা আর শেষও হবে একজন নবী দ্বারা ইনশাল্লাহ।
ঈসা আলাইহিস সালাম ও ব্যক্তিগত আমল
সভ্যতা শুরু হয়েছিল হযরত আদম আলাইহিস সাল্লামকে দিয়ে এবং শেষ হবে হযরত ঈসা আলাইহি সাল্লামকে দিয়ে। সবচেয়ে ভাইটাল ক্যারেক্টার হচ্ছে হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম। ইমাম মাহদী নন। ইমাম মাহাদী সবচেয়ে ভাইটাল ক্যারেক্টার নন। সবচাইতে ভাইটাল ক্যারেক্টার হচ্ছেন ঈসা আলাইহিস সাল্লাম। তিনি প্যালেস্টাইন থেকে পুরা ওয়ার্ল্ডকে শাসন করবেন ইনশাল্লাহুতালা। এবং তিনি নতুন কোন শরীয়ত নিয়ে আসবেন না ।নতুন কোন ধর্ম নিয়ে আসবেন না। বরং তিনি এসে ক্রুষ ভেঙ্গে ফেলবেন। শুয়োরের মাংস যেটা এটাকে টোটালি হারাম করে ফেলবেন। ট্যাক্স আছে যেটা সেটা উঠিয়ে ফেলবেন। এবং হাদিসে এসেছে তিনি ৪০ বছর এই পৃথিবীতে থাকবেন। ওই সময়ের সম্পর্কে এমন একটা কথা এসেছে যে যাকাত নেওয়ার জন্য একটা মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আসতে আর কতদিন সেটা আমরা বলতে পারব না এটা আল্লাহপাক জানেন। এটা বলার অধিকার ও আমাদের নাই বিকজ এটা গায়েবের বিষয়। তো আলামত গুলা আস্তে আস্তে ঐ দিকে যাচ্ছে। তো ইমাম মাহাদী আজকে আসুক বা কালকে আসুক আপনার আমার দায়িত্ব চেঞ্জ হবে না। দায়িত্ব কি চেঞ্জ হবে? না।যে কোন সিচুয়েশনে আমাদের দায়িত্বটা হচ্ছে কি? এক নাম্বার হচ্ছে বড় পরিসরের চিন্তা বাদ দিয়ে ছোট পরিসরে আসেন ।নিজের ব্যক্তি জীবন আগে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন। নিজে আগে পড়াশোনা করেন। দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করেন পড়াশুনা করেন ।যে লাইনে পড়াশোনা করেন না কেন ইসলামের ফরজ সুন্নত ওয়াজিব এগুলো শিখেন। ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কোন আপত্তি নাই বড় ইকোনোমিকস হন কোন আপত্তি নাই। বাট ইসলামের বেসিক বিষয়গুলো অর্জন না করে মৃত্যুবরণ করেন না আল্লাহর ওয়াস্ত ।দুই নাম্বার কুরআনকে সময় দেন কুরআন স্টাডি করেন হাদিস স্টাডি করেন। আল্লাহপাক তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। এরপর আমল বাড়িয়ে দেন । আমলটা বাড়ায় দেন। এখন সময় থাক ১০০ বছর ৫০০ বছর বা দুই বছর আমলটা বাড়িয়ে দেন। আপনার আমল আপনার সাথে যাবে। কেউ কারো কবরে যাবে না। অতএব আমার বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি আল্লাহপাক তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। আমল বাড়ানোর সবচেয়ে সেরা পদ্ধতি হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ মত জীবন গড়া। নবীর সুন্নাহ মত জীবন গড়া। প্রত্যেকটা কাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত মতো করেন নাকি হবে ইনশাল্লাহ। আর কি বাড়াবো আদর্শ পরিবার। এটা বারবার আমি বলি আদর্শ পরিবারের বিকল্প আর কিছুই নাই। পারিবারিক মূল্যবোধ একটা বড় শিক্ষা এই শিক্ষাটা আপনি অন্য জায়গায় পাবেন না। তো পারিবারিক আদর্শতা আমরা ঠিক করার চেষ্টা করি। আমাদের বাচ্চাদের প্রতি সচেতন হই। কার সাথে মিশছে কি করছে? ওদেরকে ডিভাইস অ্যাডিক্টেড হতে দিয়েন না। এত সহজে ওদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিয়েন না। বাসায় ছোট ছোট মেয়েদের ব্যাপারেও সচেতন হন। তাদের ব্যাপারেও খেয়াল রাখেন তাদেরকে নিরাপত্তাই রাখেন। পর্দা এটা তো বলতেই হবে। এটার কোন বিকল্প নাই যে যাই বলুক না কেন। আপনার ইজ্জত সম্মান আপনার কাছেই এর কোন বিকল্প নাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আল্লাহর বিরোধীতা করে আপনি প্রগতি অর্জন করতে পারবেন না। আপনি কখনো উন্নতি করতে পারবেন না। পারতে পারেন তা সেটা বস্তুবাদী পরকালের কোন উন্নতি হবে না।
হারাম রিজিক ও কবরের জীবন
হারামে যারা যারা আছে আজকে আমরা সবাই তাওবা করি । আল্লাহপাক সবাইকে হারাম রিজিক থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসো।আমিন । আমি বারবার একটা কথা বলি ভাই আপনার আমলনামা যতটুকু রিযিক আছে এর একটা দানা ও কম খেয়েআপনি মৃত্যুবরণ করবেন না। আপনার মৃত্যু হবে না।এটা আপনি বৈধভাবে চাচ্ছেন না অবৈধভাবে চাচ্ছেন সেটা আপনার ইচ্ছা। আপনি যদি বৈধ ভাবে চান তাহলে ওই পরিমাণের রিজিক আপনাকে আল্লাহপাক খাওয়াবে। তারপর মৃত্যুবরণ করবেন । যদি অবৈধ কতজন সেটাই আপনাকে খাওয়াবেন আল্লাহ পাক তার উপর মৃত্যুবরণ করবেন। এখন ডিসিশন আপনার উপর আপনি বৈধ পথে খাবেন না অবৈধ পথে খাবেন। রিজিকের মালিক আল্লাহ পাক। মুখে অনেকে বললেও মনে অনেকে বিশ্বাস করিনা। মনে যদি বিশ্বাস করতাম তাহলে আমরা কেউ সুদের ধার থাকতাম না। আমরা তাহলে দুর্নীতি করতাম না।আমরা মনে করছি এটা করলে আমাদের রিজিক বাড়বে আর আমরা যাদের জন্য এই কাজ করছি তারা হলো আমাদের স্ত্রী সন্তান পরবর্তী প্রজন্ম। ৪০ দিন সময় নিবে না আপনাকে ভুলে যেতে। কবরে জীবন একাকীত্ব জীবন। আসলে মৃত্যুর যে যন্ত্রনা কথা বলি না এটার আসল কথা কি জানেন শারীরিক কষ্ট তো আছেই। এই যে দুনিয়ার সকল থেকে বিচ্ছেদ এটাই যন্ত্রনা। সবার থেকে বিচ্ছেদ হয় একা থাকতে এটাই সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা। মানুষ একা থাকতে পারে না। জেলখানায় যে মানুষকে বন্দী করে রাখে না ঐ একাকীত্বের কারণে মানুষ মরে। এর উপর যদি টর্চার করা হয় রিমান্ড দেওয়া হয় তাহলে কি অবস্থা হবে বলেন। এ হলো কবর। একটা ঘটনা বলে শেষ করে দেই। একজন ব্যক্তি মারা গেছে মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বানু ইসরাইলের কোন এক নবী আমি ঠিক নাম বলতে পারব না কোন এক নবী আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন যে আল্লাহ আমাকে মৃত মানুষের সাথে একটু কথোপকথন করিয়ে দাও। আমি শুধু কথা বলতে চাই যে তারা কেমন আছে তাদের অবস্থা কি।আল্লাহ পাক ব্যবস্থা করে দিলেন। তিনি একটা কবরের পাশে দাঁড়ালো এবং মৃত ব্যক্তি উঠে আসলো। এটা সাইন্স বিশ্বাস নাও করতে পারে এতে আমাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। এবার তিনি মৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন যে তুমি কেমন আছো? তো মৃত ব্যক্তি বলছে আজকে থেকে প্রায় পাঁচশ বছর আগে আমার মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমার গা থেকে আমার শরীর থেকে মওতের যন্ত্রণা শেষ হয় নাই। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তাহলে এই হল অবস্থা। তো আমরা ব্যক্তিগত জীবনের ফিকিরটা আগে করি নিজের ফিকির নিজের কবরের ফিকির । নিজের এলেম নিজের আমল নিজের পরিবার নিজের রিজিক। যাদের জন্য হারামে যাচ্ছেন কেউ সাথে যাবে না। না, আপনার গার্লফ্রেন্ড না আপনার বউ-বাচ্চা কেউ না। এগুলো তো হচ্ছে শুধু মায়ার বাঁধন। যদি এগুলো নেয়ামত হয় তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি এগুলো ফেতনা সৃষ্টি করে তাহলে আপনাকে দুনিয়ার মধ্যেই আপনি আশরাফুল কাহাফ হয়ে যান। এরপরে যদি আপনার সামর্থ্য হয় আল্লাহপাক যদি আপনাকে জ্ঞান দেন আল্লাহপাক যদি আপনাকে ইকোনমিক সেকশনে জ্ঞান দেন ইত্যাদি ইত্যাদি। আল্লাহ পাক আপনাকে যে শেষে রাখবেন সেখান থেকে আপনি দ্বীনের খেদমত করতে পারবেন পারবেন না। ডক্টর হয়েছেন রোগীদের ফিস কমিয়ে দেন চিকিৎসা ইজি করেন। ডক্টর হন একজন ভাল ডক্টর হন। কসাই হয়েন না। ইঞ্জিনিয়ার হন একজন সৎ ইঞ্জিনিয়ার হন। চোর হয়েন না। আপনি যেখানে থাকবেন সেখান থেকেই দ্বীনের খেদমত করতে পারবেন ইনশাল্লাহুতালা। সবাইকে আলেম হতে হবে জরুরী না সবাইকে দায়ী হতে হবে জরুরি না। এবং সবাই এটা হতেও পারবেনা এভাবে জাতি গঠন করা যাবে না। এভাবে জাতি গঠন হয় না। আগেই বলছি বিভিন্ন সেকশনের মানুষ লাগবে এবং বিভিন্ন সেকশনে মানুষগুলোকে তাওহীদ বন্দী হতে হবে। ইনশাল্লাহ আমরা সবাই যদি নিজেদের ধর্ম ঠিকঠাকভাবে পালন করি দেখবেন ধর্মের মধ্যে কোন ভেদাভেদ থাকবেন না যে ধর্মই পালন করুন। আপনি আপনার ধর্ম ঠিকভাবে পালন করছেন কিনা এটার মধ্যে ফোকাস করেন। কে কার ধর্ম পালন করছে কিনা এটা দেখার দরকার নেই।আল্লাহ পাক আমাদেরকে বোঝার জন্য তৌফিক দান করুক আমিন। এর চেয়েও বেশি করার আমাদের ক্ষমতা থাকে তাহলে আপনি দিনের প্রচার করবেন তাবলীগ করবেন। আল্লাহর পথে সবাইকে ডাকবেন। এর থেকে বড় ব্যবসার কিছু হতে পারে না। আপনার দাওয়াতে যত মানুষ হারাম ছেড়ে হালালে চলে আসবে সবার নেকি আপনি পাবেন ইনশাআল্লাহ। আমাদের সব সবচেয়ে বড় ব্যবসায় অংশ গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন আমিন।
সাধারণ প্রশ্ন
আসহাবে কাহাফ কারা ছিলেন?
লেখার মতে আসহাবে কাহাফ ছিলেন একটি জালিম বাদশার অধীনস্থ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সন্তান, যারা তাওহীদের উপর অবিচল ছিলেন। তাদের সংখ্যা ৭ বা ৯ জন বলা হয়েছে।
তারা কতদিন গুহায় ঘুমিয়ে ছিলেন?
লেখায় বলা হয়েছে আল্লাহ তাদের ৩০৯ বছর ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিলেন। জেগে ওঠার পর তারা প্রথমে মনে করেছিলেন একদিন বা একদিনের কিছু অংশ ঘুমিয়েছেন।
এই ঘটনা থেকে কোন শিক্ষা পাওয়া যায়?
লেখায় বলা হয়েছে, যে আল্লাহ ৩০৯ বছর ঘুম পাড়িয়ে জীবিত করতে পারেন, তিনি মৃত্যুর পর পুনরুত্থানও ঘটাতে পারেন। যুবকরা ফাসাদ সৃষ্টি না করে সরে গিয়েছিলেন।