Islamবাংলা

পরিবার নিয়ে নতুন ওয়াজ

পরিবার ভাঙন ও কুরআনের শিক্ষা

আজকে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য মন স্থির করেছি। বিষয়টা খুব একক বিষয়। মানে সমাজের অনেক অসুবিধা নিয়ে আমরা কথা বলি। রাষ্ট্রের অনেক অসুবিধা নিয়ে আমরা কথা বলি। বিশ্ব নিয়ে কথা বলি আমরা অনেক বড় বড় বিষয় নিয়ে কথা বলি। কিন্তুএকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছুটে যায়। যেটার গুরুত্ব এটার চাইতে অনেক বেশি। যে বিষয়টা সংশোধিত না হলে বাকি বিষয়গুলো সংশোধন হওয়া কাম্য নয়। সেটা হচ্ছে সূরাতুল তাহারিমের ৬ নাম্বার আয়াত। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা তাহরীমের ৬ নাম্বার আয়াতে বলছেন হে মুমিনগণ তোমরা নিজেরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো এবং তোমাদের পরিবারবর্গ কেউ জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। নিজে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো এবং পরিবারবর্গ কেউ জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। সেই জাহান্নাম থেকে বাঁচাও যেখানে আছে কঠোর মনে কিছু ফেরেশতা। আল্লাহপাক বলছেন তাদেরকে যদি আল্লাহ পাক কোন আদেশ করেন সে আদেশ পালনে তারা বিন্দুমাত্র গাফিলতি করে না। কঠিন হৃদয়ের কিছু ফেরেশতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রেখেছেন কোথায়? জাহান্নামে এবং এই জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহপাক বলছেন তুমি নিজে আগে বাচো এবং পরিবার বর্গকেও বাঁচাও। আসেন কেন এই কথাটা বলতে হচ্ছে? কারণ যত দিন যাচ্ছে যত দিন যাচ্ছে আমরা দেখতে পাচ্ছি পরিবারের ভাঙ্গনটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে আমরা দেখতে পাচ্ছি পরিবারের মধ্যে ইসলামিক অনুশাসনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে ।পরিবারের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। ডিভোর্স বিবাহ বিচ্ছেদ বারচ্ছে। সন্তানরা বে লাইনে চলে যাচ্ছে পিতা মাতার কোন খোঁজ নাই। সুন্নাত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত গুলো পরিবার থেকে উঠে যাচ্ছে। পরিবারগুলো এখন এক একটা জাহান্নামের টুকরায় পরিণত হয়েছে।যে পরিবারগুলো ইসলামিক আদর্শ চলছে সেই পরিবারগুলোর মধ্যেও অনেক ফেতনা এখন ঢুকে গেছে। এটা নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে এই কারণে পরিবার হচ্ছে একটা সমাজের গঠন একক। একটা সমাজ গঠিত হয় পরিবার নিয়ে। পরিবার যদি জাহান্নামের টুকরা হয়ে যায় দেখবেন ওই সমাজটাও জাহান্নামের টুকরা হয়ে যাবে। আর পরিবারগুলো যদি জান্নাতের টুকরা হয় ইনশাল্লাহ দেখবেন ওই সমাজটাও জান্নাতের টুকরাই হবে ইনশাআল্লাহ । আর এই সমাজ গুলোকে নিয়েই কিন্তু দেশ গঠিত হয়। সমাজ যখন পরিবর্তন হবে সমাজ যখন জান্নাতে আদর্শে চলবে তখন দেখবেন দেশটাও জান্নাতি পথে হাটছে। আর যদি দেখেন সমাজের মধ্যে জাহান্নামের আমল বেশি। তাহলে বুঝে নিবেন দেশের মধ্যেও জাহান্নামের আমল বেশি। আর এই দেশ নিয়ে বিশ্ব গঠিত হয়। দেশগুলো যখন দেখবেন কুরআন সুন্নাহর বাইরে আচরণ করছে। তারমানে পুরো বিশ্ব থেকে ইসলামটা আস্তে আস্তে উঠে যাচ্ছে। তাহলে শুরুটা কোত্থেকে হচ্ছে। ব্যক্তি থেকে। আগে নিজে বাচো এক নাম্বার কথা। নিজে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো। দুই তোমার পরিবারবর্গ কে বাঁচাও।আমরা এখন বিশ্ব অর্থনীতি দেশ নিয়ে পরে কথা বলব। আমরা আগে বলবো নিজের কথা এবং পরিবারের কথা ঠিক আছে। আল্লাহ পাক বলছেন নিজে বাচো এবং পরিবারবর্গকে বাঁচাও। তার মানে আত্মকেন্দ্রিগতার কোন সুযোগ নাই ইসলামে। আমি নিজে বাঁচলাম যথেষ্ট আর কারো দিকে দেখার দরকার নাই। এই আত্মকেন্দ্রিকতার কোন সুযোগ ইসলামে নাই। পরিবার বরকতকেও বাঁচাতে হবে এটা আপনার ওপর নৈতিক একটা ধর্মীয় দায়িত্ব।

কুরআন থেকে আদর্শ পরিবার

আসুন আমরা প্রথমে কোরআন থেকে দেখি যে কুরআনুল কারীমের মধ্যে এরকম জান্নাতি পরিবারের উদাহরণ আছে কি না ।তারপর নবীজি শেষ জামানায় পরিবার গুলো কেমন হবে সেটা বলেছেন। তারপর আসবো আমরা কিছু পরিসংখ্যানে যেখানে পরিবারগুলোর মধ্যে কি চলছে ঠিক আছে।সর্বশেষ আমরা আলোচনা করব যে এই সমস্যা গুলোর সমাধান কি? এটার আলোচনা চারটা পার্ট আছে। কয়টা পার্ট চারটি পার্ট । আগে আমরা দেখব কোরআনুল কারিমে আদর্শ পরিবার গঠনের আল্লাহ পাক কি নসিহত করেছেন? তারপর যাবো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জামানায় পরিবার গুলোর অবস্থা কি করুন হবে এ ব্যাপারে কি কি হাদিস বলেছেন। তারপরে আসবো আমরা কিছু পরিসংখ্যানে যে দেশের এবং বিশ্বের কিছু পরিবার ভাঙ্গনের পরিসংখ্যান। আর তারপরে আসবো আমরা যে পরিবারগুলো কিভাবে এখন আমরা গঠন করবো আর কি কি কাজ করলে পরিবারগুলো জান্নাতের টুকরা হবে ইনশাআল্লাহ। আলোচনা করলে একটু মনোযোগ সহকারে শোনার চেষ্টা করতে হবে তাহলে আল্লাহ পাক সবাইকে তৌফিক দান করুক আমিন। কোরআন খুলি এবার আমরা। কোরআন কি নিয়মিতো খোলা হয় ভাই? প্রত্যেকদিন কোরআন তেলাওয়াত করেন? এবার বলেন প্রতিদিন facebook ওপেন করেন। এখন বলেন আল কোরআনের আলো কি ঘরে ঘরে জ্বলবে। যখন প্রথম প্রশ্নের হাত উঠবে কম আর দ্বিতীয় প্রশ্নের হাত উঠবে বেশি তখন বুঝবেন কোরআনের সাথে মানুষের সম্পর্ক কমে গেছে। আর যখন দ্বিতীয় প্রশ্নের হাট উঠবে কম। ফেসবুক চালায় কারা কারা হাত যদি কম উঠে তাহলে বুঝবেন কোরআনের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি হয়েছে এবং সমাজ পরিবর্তন হয়ে গেছে। তো প্র্যাকটিক্যাল কথায় আসি আমরা এখন তোমাদের দিকে যাই। যে কোরআনটা আপনি মৃত্যুর আগে একবার হলে খতম দেওয়ার চেষ্টা করেন। পারবেন না। ইনশাল্লাহ পারবেন। আপনার মৃত্যু কখন আসবে আপনি জানেন তো। না, জানলে মানুষ এভাবে কিভাবে চলতে পারে। মানুষ যদি মৃত্যু সম্পর্কে গাফেল না হয় তাহলে এভাবে কিভাবে চলতে পারে যে নামাজের কোন খোঁজ নাই রমজানের কোন খোঁজ নাই যাকাতের খোঁজ নাই পর্দার খোঁজ নাই দিনের কোন খোঁজ নাই। উম্মত এর জন্য কোন কিছু করবেন সেটারও খোঁজ নেই। সারাদিন ওই দুনিয়াদারি ,পরিবার ,চাকরি ,ব্যবসা সন্তান ,ফেসবুক, আড্ডাবাজি ,গার্লফ্রেন্ড ইত্যাদি ইত্যাদি। মানুষ যদি মৃত্যু সম্পর্কে সচেতনই হবে তাহলে কি এসব হতে পারে। তার মানে সচেতনতার ঘাটতি আছে। তাহলে আল্লাহর ওয়াস্তে জীবনে একবার হলেও কোরআনটা অর্থ সহকারে পড়ার চেষ্টা করবেন ইনশাল্লাহ ।সামনে রমজান আসার আগে কোনটা বিশুদ্ধভাবে পড়বেন তেলাওয়াত করা শিখবেন আর খতম দেওয়ার চেষ্টা করবেন পারবেন তো। আল্লাহপাক তৌফিক দান করুন প্রতিদিন 5 টা 10 টা পৃষ্ঠা করে পড়া চেষ্টা করুন। করা যাবে না?না, সময় কথাই আমাদের তো সাইন্স আছে কমার্স আছে আর্টস পড়তে হয় বিসিএস আছে এসব এর কোচিং করতে হয়।আমাদের কি কোরআন পড়ার সময় আছে ভাই? হ্যাঁ, এসব পড়ার পর যদি একটু সময় পাওয়া যায় তখন কোরআন পড়ে কোরআন বন্ধ করে রেখে দেওয়া যায়।তারপর বের করবা কখন ওই যে আব্বা মারা যাবে তখন।তারপর কখন বের করবো যখন আবার ৪০ হবে তখন ।মায়ের তিনদিনের দিন বাপের বছরকে দিন। এসব স্পেশাল ডেটা আমরা কুরআন বের করব। যখন দেখবেন কোরআন আপনার বাসায় পড়ে আছে এবং ধুলা পড়ছে। তখন বলবেন আপনার কলমেও ধুলা জমে গেছে।

কুরআন তেলাওয়াত ও বর্তমান অবস্থা

যে কিতাবের ফলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুসলিমদেরকে সম্মানিত করেছেন। ওই কিতাব মুসলিমরা এখন পড়তে চান না। দুনিয়ার সব পড়া পড়তে চায়। কিন্তু এই কিতাব পড়তে চায় না। কোরআন সুন্নাহয় কিছু থাকলে। ওই বিষয়টা মুসলিম মেনে চললে মানুষ বলে এরা মৌলবাদী । মানুষ বলে এরা ধর্মান্ধ। মানুষ বলে এরা ব্যাকডেটেড। কত শব্দ? এবং এই শব্দ নাকি সো কল্ড প্রগতিশীল দের পক্ষ থেকে আসতেছে। কোরআন আল্লাহপাক নাযিল করেছেন ।আল্লাহর জ্ঞান বেশি নাকি আমার জ্ঞান বেশ। কোরআন আল্লাহপাক নাযিল করেছেন তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর। নবীর জ্ঞান বেশি নাকি আমার জ্ঞান বেশি। কুরআন এবং সুন্নায় যা আছে সেটা তো আমি মানবোই অন্ধের মত করে । কারণ আমার জ্ঞান তো তার চেয়ে বেশি নয়। এখানে আল্লাহ পাক সমস্ত বিষয়ে সমাধান দিয়েছেন। সমস্যার সমাধান আল্লাহপাক দিয়ে থাকলে আমার মানতে সমস্যা কোথায় ।কোন সমস্যা আছে? আমি কি আল্লাহ চাইতে বেশি বুঝি? আমি কি নবীর চাইতে বেশি বুঝি? যদি এরা বলে আমি আল্লাহ চাইতেও বেশি বুঝি আমি নবীর চাইতে বেশি বুঝি তবে এরা মুর্দাত। এরা মুর্দাত। কাফের হয়ে গেছে। ইসলামের সাথে এদের কোন সম্পর্ক নাই। যদিও নাম হতে পারে আব্দুর রহমান আব্দুর রহিম মোজাইদুর ইসলাম । ইসলামের সাথে এদের কোন সম্পর্ক নাই । যদি কুরআন এবং সুন্নাহকে ব্যঙ্গ করে এর মধ্যে সব কিছু সমাধান নাই যদি মনে করে । অন্য আরো আরো আরো উৎসের দরকার আছে।তো মুসলিমের আকিদা হবে কেমন কুরআন এবং সুন্নাহ আল্লাহ নাযিল করেছেন। এখানে আল্লাহ পাক মানবতার প্রতিটা বিষয়ে সমাধান দিয়েছেন ঠিক আছে । এবং এই সমাধান গুলো আমাকে মেনে চলতে হলে আমাকে আগে পড়াশোনা শিখতে হবে ।তারপরে আমাকে এর অর্থটা জানতে হবে ।এর উপরে আমল করতে হবে ।কুরআনের দাওয়াত মানুষকে দিতে হবে। তখন ইনশাল্লাহ একটা কুরআনী সমাজ গড়ে উঠবে । তো কুরাআনিক সমাজ গড়ে উঠলে কি অমুসলিমদের অসুবিধা আছে। কুরআন তাদের স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রধিকার দিবে। একজন অমুসলিম একটা ইসলামিক রাষ্ট্রের মধ্যে যদি নির্যাতনের শিকার হয় জুলুমের শিকার হয় । এবং ওই জুলুম যদি কোন মুসলিম তার ওপর করে থাকে। ইসলাম রাষ্ট্রের প্রধান যিনি যে যে কোট এবং ল থাকবে ওই মুসলিমকে শাস্তির আওতায় এনে বিচার করতে হবে ।এত সাম্যের ধর্ম ইসলাম ।আমরা আসলে ইসলাম বুঝিও না ইসলাম পড়িও না । কিছু মানুষের কর্মকাণ্ড দেখে আমরা ইসলাম সম্পর্কে একটা ধারণা করে থাকি তাই না । কিছু দাড়ি টুপি ওয়ালা মানুষ যদি অন্যায় করে থাকে আমরা মনে করি ইসলাম মনে হয় এমনই। বাড়ি-টুপি রেখে সিগারেট খাচ্ছে। দাড়ি-টুপি রেখে ঘুষ খাচ্ছে। দাড়ি-টুপি রেখে সুদ খাচ্ছে। দাড়ি টুপি রেখে দুর্নীতি করছে । তখন মানুষ মনে করে মুসলিমরা মনে হয় এরকমই। আসলে ইসলামের সাথে কি ওদের কোন সম্পর্ক আছে। ওদের নাম খালি আব্দুর রহমান আব্দুর রহিম হতে পারে। তাহলে প্রকৃত ইসলামটা আপনি কোথায় পাবেন? প্রিয় অমুসলিম ভাই ও বোনেরা প্রকৃত ইসলামটা আপনি পাবেন কুরআন এবং হাদিসে ।ওইটা পড়ে আপনি ইসলাম সম্পর্কে ধারণা করেন। মুসলিমদেরকে দেখে ইসলাম সম্পর্কে ধারণা করার দরকার নাই। এখন আমাদের মধ্যে গর্বের বিষয় খুবই কমই আছে।

মুসলিমদের আচরণ ও ইসলাম গ্রহণ

মুসলিমই তো দেখেন দুর্নীতি করছে মুসলিম তো দেখেন ঘুষ খাচ্ছে মুসলিমই তো দেখেন সুদ খাচ্ছে । তো আমাকে দেখে আপনি কি শিখবেন। একজন বড় স্কলার। যিনি আগে অমুসলিম ছিলেন পরে মুসলিম হয়েছেন। বড় দায়ী এবং আলেমও হয়েছেন। তিনি বলেছেন একটা কথা আমি যদি মুসলিম হওয়ার আগে মুসলিমদেরকে দেখে কবুল করতাম তাহলে মনে হয় আমি ইসলাম কবুল করতাম না। বরং আমি ইসলাম কবুল করার আগে কুরআন এবং সুন্নাহ ঘাটাঘাটি করে রিচার্জ করেছি তারপরে আমি ইসলামকে চিনেছি । তারপরে আমি আল্লাহকে চিনেছি। তো আমাদের দাওয়াত থাকবে প্রত্যেক মুসলিম এবং অমুসলিমদের কাছে। সর্বপ্রথম কুরআন এবং সুন্নাহ টাকে আগে পড়েন। এটা পড়ে দ্বীন সম্পর্কে একটা ধারণা পাবেন। আমার ব্যবহার চরিত্র দেখে আপনি এই ধারণাটা নাও পেতে পারেন। এটা সেই যুগ না যেখানে মুসলিমদের চরিত্রের মধ্যে একটা দাগও নেই এটা কি সেই যুগ। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে কুরআন সুন্নাহ বোঝার তৌফিক দান করুন আমিন। এবং আল্লাহ পাক জাতের মনের স্বচ্ছতা আছে অনেস্টি আছে আল্লাহপাক তাদেরকে হেদায়েত দান করুন আমীন। এই কুরআন পড়তে লাগবে না ভাই ? নিয়মিত পড়া লাগবে না? এর সাথে হাদিসের চর্চা করা লাগবে না? ফায়াজেল আমনের হাদিসের বইটি কি বাসায় আছে । মুন্তাখাব হাদিসের বইটা কি আছে বাসায়। তারপর ফয়েজুল কালাম এই বইটা আছে বাসায়। রিয়াদুল সলিহিন বইটি আছে। মিশকাতুল মাসাবি বইটা আছে । এই সব বইগুলো বাংলা হয়ে গেছে না এখন। বাসায় তো এখন এগুলো বই কেনা যায় তাই না। আপনি তো খাইতে বসলে গার্লফ্রেন্ডের সাথে এক হাজার টাকা বিল হয়। আর খাওয়ার সময় তারা তো আপনাকে ফাসানোর জন্যই বসে। আপনাকে ফাঁসানোর আগে আরও দুইটা কে সে আগে ফাঁসিয়ে আসছে। এই খবরটা আপনি জানেন না যখন জানবেন তখন ব্রেকআপ হয়ে যাবে। তো টাকা পয়সা কি নষ্ট হয় না ভাই। চায়ের দোকানে বসলে কি টাকা পয়সা নষ্ট হয় না ভাই। চায়ের দোকানে বসলে ১০০ টাকা যায়। টাকার কোন দাম আছে এখন। ৫০০ টাকার কোন মূল্য আছে। ১০০০ টাকা দিয়ে কিছু হয় এখন। তো টাকার কোন মূল্য নাই। আরো দিন যাবে আরো টাকার মান কমতে থাকবে। এটা কি আমি আগে বলিনি? বা একশ্রেণীর স্কলাররা কি এই কথা বলেনি যত দিন যাবে ততই টাকার মূল্য কমতে থাকবে। এখানে বলে রাখি সম্পদ কি হতে পারে জমি জমা হতে পারে , গোল্ড হতে পারে , সিলভার হতে পারে। আপনার গবাদি পশু হতে পারে। টাকা পয়সা কিন্তু আমরা প্রচুর অহেতুক নষ্ট করে ফেলি। তো এগুলো জমায় বইপত্র কিনে বাসায় একটা পার্সোনাল লাইব্রেরী করা যায় না। খুব কষ্ট হবে। এটা যদি আল্লাহ পাকের জন্য করি আল্লাহপাক কি রিজিকে বরকত দিবেন না। রিজিক কি আমার হাতে না আল্লাহর হাতে? আপনার রিজিক যতোটুকু আছে তার একটা দানা না খেয়ে কি আপনি মরবেন। তাহলে আপনি যদি দ্বীনের জন্য খরচ করেন আল্লাহতালা কি আপনার রিজিক কমায় দিবেন নাকি বাড়াই দিবেন। আমাদের সবাইকে আল্লাহ পাক দিনের জন্য খরচ করার তৌফিক দান করুন আমীন। এবং পরিবারের জন্য খরচ করবেন।

পরিবারের জন্য ব্যয়ের গুরুত্ব

সবচেয়ে উত্তম সেটাই যেটা মানুষ পরিবারের জন্য করে। মুয়াজ বিন জামাল রাদিয়াল্লাহু আনহু কে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারের পিছে ব্যয় করবে। আপনার যদি পরিবারের পেছনে বেশি ব্যয় করার সামর্থ্য থাকলে বেশি ব্যয় করবেন এবং কম সামর্থ্য থাকলে কম ব্যয় করবেন। সামর্থ্য অনুযায়ী করবেন আল্লাহ পাক তৌফিক দান করুন আমীন। এই কুরআনের মধ্যে একটা সূরা আছে সূরা তাহরীম। এই তাহরীম সূরা ৬ নাম্বার আয়াতে আল্লাহপাক বলছেন হে মুমিনগণ ( মুমিন কারা আমরা না মুমিন কারা যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে রাসূলকে বিশ্বাস করে। যারা আসমানী কিতাবসমূহে বিশ্বাস করে।রাসূলগণকে বিশ্বাস করে। আগের রাসূলগনকে বিশ্বাস করে। পরকালকে বিশ্বাস করে । জান্নাত ,জাহান্নাম, পুলসিরাত এগুলোকে বিশ্বাস করে এবং তাকদীর এবং ভাগ্যের ভালোমন্দকে বিশ্বাস করে। এরা কি মমিন না।)সত্য হচ্ছে মুমিন হতে হলে আপনাকে অন্তরে বিশ্বাস করতে হবে। মুখে স্বীকৃতি দিতে হবে। কাজেও বাস্তবায়ন করতে হবে। নাকি শুধু মুখে বললে হবে। নামাজ পড়ি না তো কি হয়েছে আমাদের অন্তরে ঈমান পরিপূর্ণ বলি না আমরা। আমি তো কোন পাপ করি নাই নামাজ পড়বো কেন বলি না আমরা। নামাজ পড়ে না কেউ যদি বলে যে ভাই নামাজ না পড়লে তো কুফুরী তখন আবার ক্ষেপে যায় আমাকে কেন কাফের বললেন। এটা হচ্ছে হতকারিতা। উদ্ধত আচরণ। ঈমানের শর্ত পূর্ণ হতে হলে তো আমলেরও তো প্রয়োজন আছে তাই না। আমল করতে গেলে আপনার কম বেশি হতে পারে। আপনি পাপ করে ফেলতে পারেন। যখনই পাপ হবে উঠে দাঁড়ান ফিরে আসেন অজু করেন দুই রাকাত নফল নামাজ পড়েন আবার তওবা করেন। পাপ হবে না । পাপ হয়েছে বলে কিন্তু কেউ কাফের হয়ে যাবে না। মনে করেন ঈমানদার মানুষ পথ চলতে চলতে জেনা করে ফেলেছে । হতে পারে না। হতেই পারে। এখন কি সে কাফের হয়ে যাবে? সে বড় জোর জালেম হতে পারে ফাসেক হতে পারে। সে তওবা করে ফিরে এসে আবার আল্লাহর খাতি বান্দা হওয়ার সুযোগ আছে। তো তাকে কি হত্যা করা যাবে। যাবে না। এই বিষয়টা খেয়াল রাখবেন যে ঈমানের জন্য তিনটা শর্ত । এক অন্তরে বিশ্বাস করা । দুই মুখে স্বীকৃতি দেওয়া। তিন কাজে বাস্তবায়ন করা। এখন আল্লাহপাক বলছেন মুমিনদেরকে নিজে আগে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো। মানে ঈমান এনেছি বলেই তাহলে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচা যাচ্ছে না। অন্য কিছু কাজের দরকার আছে । আত্মসমর্পণ এর দরকার আছে। এহসানের দরকার আছে। তাকওয়ার দরকার আছে ।তুমি নিজে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো এবং তোমার পরিবার বর্গে যারা আছে তাদের কেউ জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। এই আদেশটা কি সবার জন্য না। নাকি একশ্রেণীর মানুষের জন্য। কোন জাহান্নাম? আল্লাহ পাক ভয় দেখাচ্ছেন সেই জাহান্নাম যেই জাহান্নামে ১৯ জন কঠিন মনের ফেরেশতা আছে। তারা দায়িত্বশীল ফেরেশতা তাদের আন্ডারে আরো অনেক ফেরেশতা থাকতে পারে। সেখানে ১৯ জন শক্তিশালী ফেরেশতা আছেন। তাদের অন্তর টা খুব কঠিন। আযাব দেয়ার সময় যাররা পরিমাণ তারা মায়া দয়া করবে না। কবরে যখন ফাসেক জালেম মুশরিককে পেটানো হবে। তখন কি কেউ মায়া দয়া করবে? তখন যদি কেউ বলে ব্যথা পাচ্ছি তাহলে কি তারা আজাব দেওয়া বন্ধ করে দেবে।

ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়ার দৃষ্টান্ত

সূরা মুমিন নামে একটা সুরা আছে। সূরা মুমিনের মধ্যে ফেরাউনের একটা ঘটনা আছে। সেই সূরার মধ্যে একটা অ্যামেজিং একটা আয়াত আছে অ্যামেজিং একটা আয়াত আছে। আল্লাহ পাক বলছেন ফেরাউন এবং তার দলবলকে প্রত্যেক দিন সকালে এবং সন্ধ্যায় দুই বেলা করে জাহান্নামের আগুন যেখানে ওরা থাকবে। ওইটা উপস্থাপন করা হয় কথা বুঝতে পারছেন। এবং তার দলবলকে প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা জাহান্নামে চিরস্থায়ী আবাসস্থল কোনটা হবে সেটা উপস্থাপন করে দেখানো হয়। তুমি নিজে আগে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো এবং নিজের পরিবারকে বাঁচাও। কোন জাহান্নাম যেখানে কঠিন মনের ফেরেশতা আছে। এখন আমরা আগে দেখব কোরআন থেকে। যে এখানে এরকম পরিবার গুলো কোথায় যে পরিবারগুলো জান্নাতের টুকরা। কুরআনে আসেন কিছু দেখি এক নাম্বার এক্সামপল দিচ্ছি আদম এবং হাওয়া আলাইহিস সাল্লাম তারা একটা পরিবার না। তাদেরকে আল্লাহ পাক ফল খাওয়ার কারণে জান্নাত থেকে নামিয়ে দিলেন না। এই ফলটা খাওয়ার ব্যাপারে এই গাছের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের কে উৎসাহিত করেছিল কে? ইবলিশ।ইবলিশ বলেছিল হে আদম এবং হাওয়া আমি কি তোমাদেরকে এমন গাছের সন্ধান দিব না যে গাছের কাছে গেলে যে গাছের কাছে গেলে তোমরা চিরস্থায়ী হয়ে যাবে এবং বিশাল রাজত্বের অধিকারী হবে। চিরস্থায়ী টপ এবং রাজত্বের টপ এই দুইটা দিয়ে ইবলিশ তাদের ডিসিভ করেছিল। এই ফল খাওয়ার সাথে সাথে আল্লাহ পাক তাদেরকে বের করে দেন নাই। এই ফল খাওয়ার সাথে সাথে তাদের গায়ে যে জান্নাতের পোশাকটা ছিল সেটা খুলে পড়ে গিয়েছে। তো এই পোশাকটা খুলে ফেললো কে? ইবলিশ শয়তান। আল্লাহ পাক এটাই বলছেন হে বনু আদম শয়তান যেন তোমাদেরকে ফেতনায় ফেলতে না পারে। ঠিক যেমন করে শয়তান তোমাদের পিতা মাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল। শয়তান তোমাদের পিতা-মাতার লেবাজ পোশাক খুলে ফেলে দিয়েছিল। যাতে করে তাদের লজ্জা স্থান উন্মুক্ত হয়ে যায়। তাহলে আমাদের পিতা-মাতাকে নগ্ন করে দিয়েছিল কে? ইবলিশ ।এখন আপনারা আমাকে বলেন এই যুগে যারা মুসলিম নর নারীদের মেয়েদের গায়ে থেকে পোশাক খুলে ফেলতে চায় ওরা কারা? তারা কার এজেন্ট? ইবলিশ ।শেষ জামানে এরকম নগ্নতা অশ্লীলতা বেহায়াপনা বাড়তেই থাকবে বাড়তেই থাকবে। এবং এমন একটা সময় আসবে মানুষ রাস্তাঘাটে জেনা করবে। ওই যুগের সবচেয়ে ভালো ব্যক্তি হবে সে। বাবা তুমি এখানে জেনা করছ ভালো কথা একটু দেয়ালের পিছনে যেতে পারলা না। সে হবে ওই জামানার ভালো ব্যক্তি। আপনি হাদিসটা বিশ্বাস করলেন না আমি নিজে এই হাদিসটা পড়েছি। রাস্তাঘাটে মানুষ জেনা করবে। নগ্নতা অশ্লীলতা বেহায়াপনা যে সংস্কৃতি চলছে না। কাপড় খুলে ফেলার যে ট্রেন এবং রেগুলেশন এর দিকে যাচ্ছে মেয়েরা স্পেশালি। এরা নিঃসন্দেহে মানুষ শয়তান। ওই যে শয়তান আমাদের পিতা মাতার কাপড় খুলে ফেলেছিল এরা তাদের এজেন্ট। এরা আমার বোনের গায়ের থেকে কাপড় খুলতে চায় এরা আপনার স্ত্রীর গায়ের থেকে কাপড় খুলতে চায়। এরা আপনার মায়ের গায়ের থেকে কাপড় খুলতে চায় এবং বলতে চায় এটা তাদের স্বাধীনতা। আরে বোকা মানুষ এই পৃথিবীতে মানুষ স্বাধীন নয়। এই পৃথিবীতে কোন মানুষই স্বাধীন নয়। মানুষ কিভাবে স্বাধীন হতে পারে?

আদম ও হাওয়ার ঘটনা

মানুষ পৃথিবীতে যতদিন থাকবে আল্লাহর দাসত্বের মধ্যে থাকবে। যে মানুষ নিজেকে স্বাধীন মনে করে সে মানুষ শয়তানের তাবেদারি করে। এই পৃথিবীতে কোন মানুষ সতেন্দ্র স্বাধীন নয়। বরং আল্লাহ পাকের দাসত্বের অধীনে সে পরাধীন। মানুষ বুঝতে চায় না স্বাধীনতার ডেফিনেশন কি? আল্লাহ পাকের রুলস এবং রেগুলেশন মেনে চললে তখন আমি সত্যেন্দ্র স্বাধীন। আল্লাহ পাকের দাসত্বের অধীনে আল্লাহ পাকের দাসত্বের বাইরে গিয়ে নয়। আর আল্লাহ পাকের দাসত্বের ৫ পয়সা পরয়া না করে।নিজেকে যদি স্বাধীন মনে করে সে তো শয়তানের চ্যালা ।এই যে আমাদের পিতা মাতাকে ওখান থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো। তারা দুজন কিন্তু এই পৃথিবীতে কষ্টের জীবন তারা দুজন একত্রে অতিবাহিত করেছেন। এই যে কষ্ট দুঃখ একসাথে পথ চলা। স্বামী-স্ত্রীর এই যে বন্ধন মায়াবী একটা হৃদ্যতার বন্ধন এটাই হচ্ছে পরিবারের ভিত্তি।আমি আদর্শ পরিবারের দিকে যাচ্ছি আস্তে আস্তে কোরআনের থেকে আপনাকে কয়েকটা দলিল দিচ্ছি। এবং দেখবেন তাদের সন্তান হাবিব কাবিল। কাবিল হাবিলকে হত্যা করল। এখানে হত্যার মূল কারণ কি ছিল হিংসা। কাবিলের কুরবানী কবুল হচ্ছে না আর হাবিলের কোরবানি কবুল হচ্ছে। তারমানে বুঝতে পারলাম পৃথিবীতে ফাসাদ ছড়িয়ে পড়বে। পরিবারে ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়বে তার অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে ঈর্ষা বা হিংসা। আসলে ঈর্ষা হিংসা এক জিনিস নয়। এখানে মূল কারণ হচ্ছে হিংসা। আমাদের পরিবার জান্নাতের টুকরা হবে ইনশাআল্লাহ যদি স্বামী স্ত্রীর মধ্যে হিংসা না থাকে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পরশ স্ত্রী কাতরতা না থাকে। আরো একটু সামনে যান ওই যে নূহ আলাইহি সাল্লাম নাম শুনেছেন। কত বছর দাওয়াত দিয়েছেন? সাড়ে ৯০০ বছর দাওয়াত দিয়েছেন। সাড়ে ৯০০ বছর দাওয়াত দেওয়ার পর ৪০ থেকে ৮০ টা পরিবার ইসলাম ধর্ম কবুল করেছেন। বাকিরা আল্লাহ পাকে গজবে ডুবে গিয়েছেন। এই ডুবে যাওয়ার মধ্যে কি তার ছেলেও ছিল না। আলাইহিস সাল্লাম বলছেন আল্লাহ সে আমার পরিবারের একজন তাকে হেফাজত কর বাঁচাও আল্লাহ মাফ করে দাও। আল্লাহপাক বলছেন সে তোমার পরিবারের কেউ না।এখান থেকে আরেকটা দলিল দেই । কওমের লুত এর নাম শুনেছেন। ওই টা সমকামী ছেলে ছেলে বিয়ে করে। যেটা এখন ছড়িয়ে পড়ছে দিন দিন। প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন মনে করে ছেলে ছেলে বিয়ে করা যায় নাউজুবিল্লাহ। এই সভ্যতা টার ধারক বাহক হচ্ছে পশ্চিমারা। ওখানে অনেক আগেই এই সভ্যতাটা চালু হয়ে গিয়েছে। আমেরিকাতে তো এই সভ্যতা চালু আছে ব্রিটেনে আছে কানাডায় আছে অস্ট্রেলিয়ায় আছে আমাদের ভারতেও আছে। এবং দিনদিন আমাদের এই সাবকনটিটেন বাংলাদেশ। এখানেও ঢুকে পড়ছে। এবং এদের সংগঠন আছে এদের পতাকা আছে। পতাকার মধ্যে রংধনুর সাইন আছে। এরা এখন বাক স্বাধীনতার কথা বলে। ছেলে ছেলে বিয়ে করে সেটা আছে কিন্তু এখন যে মেয়ে মেয়ে বিয়ে করে সেটা কুরআনে এখন পর্যন্ত পাইনি। তো এখন দেখছি মেয়ে মেয়েও বিয়ে করে। এখন আরো দেখছি যে লিভ টু গেদার চলছে বাংলাদেশে। এখন বিয়ের দরকার নেই একসাথে থাকবেন। মানে আপনি আর আপনার বান্ধবী একসাথে থাকবেন স্বামী স্ত্রীর মত এটাই লিভ টু গেদার । বলবে যে উন্নত সভ্যতা এগিয়ে গেছে আমরা পিছিয়ে থাকবো কেন? শোনো তোমরা আগাচ্ছো ঠিকই। তোমরা আগাচ্ছ কোন দিকে জানো? তোমরা আগাচ্ছো জাহান্নামের দিকে।

স্বাধীনতা ও আল্লাহর দাসত্ব

তোমরা এগিয়ে যাচ্ছ ঠিকই কিন্তু জাহান্নামের দিকে। তোমাদের তাকদিরে যদি হেদায়েত না থাকে তাহলে তোমাদের জাহান্নামের মর্মান্তিক আজাব থেকে তোমাদের কেউ বাঁচাতে পারবে না। তো কওমে লুতকে আল্লাহপাক ধ্বংস করেছেন কঠিন আজাব দিয়ে। ফেরেশতাদের পাখা দিয়ে পুরো জাতিতাকে তুলে। ওই যে কওমের লুত জর্ডান ডেড সি ওই জায়গাটা উপর থেকে পাথড় বর্ষণ করে রজম করে। উল্টো দিকে আবার দাফন করা হয়েছিল।এই কওমের লুত এর নবীর নাম ছিল লুত আলাইহিস সাল্লাম। তার স্ত্রী ও কিন্তু ঈমান আনেন নাই ঠিক নূহ আলাইহিস সালামের স্ত্রীর মতন। নূহ আলাইহিস সাল্লাম এর স্ত্রীর সন্তান ঈমান আনেন নাই। লুত আলাইহিস সাল্লামের স্ত্রী ঈমান আনেন নাই। এবার এখান থেকে আমাদের পারিবারিক হেদায়েত টা কি বলেন? আপনি যদি একজন আলেমের সন্তান হন। আপনি যদি একজন মুহাদ্দাস মুফাসসাল মুফতির ও সন্তান হন। নিজে যদি তাকওয়া ঈমান অর্জন করতে ব্যর্থ হন। আপনার বংশ আপনার পরিচয় আপনার জাতীয়তাবাদ। আপনার রক্তবর্ণ কোন কিছুই আপনাকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে পারবে না। এর জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কলিজার টুকরার মেয়ে ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলছেন। হে ফাতেমা দুনিয়াতে তুমি যা চাওয়ার আমার কাছ থেকে চেয়ে নাও পরকালে আমি কিন্তু তোমার কোন হেল্প করতে পারবো না। কিন্তু আমরা জানি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবার জন্য অ্যাম ভাবে সিফারিশ করবেন। তিনি তার স্ত্রী আয়েশা রাদিয়াল্লাহুকে কাঁদতে দেখে বলছেন হ্যাঁ, আয়েশা কি জন্য কাঁদছো। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন আল্লাহর আযাবের ভয়ে কাঁদছি হে রাসূলুল্লাহ। নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসাল্লাম বলছেন আয়েশা তিনটা জায়গা থাকবে কেয়ামতের মাঠে। যখন আমিও তোমাকে চিনতে পারবো না তুমিও আমাকে চিনতে পারবে না। এক যখন আমলনামা ছুড়ে দেওয়া হবে। কেউ কাউকে চিনবে না। সবাই ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি করবে। আরেকটা হচ্ছে পুলসিরাত পার হওয়ার সময় কেউ কাউকে চিনবে না সবাই ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি করবে।এখন যাদেরকে আপনার আপন মনে হচ্ছে না আমি একটা কথা অনেক বার বলেছি। আল্লাহ সুবহানাল্লাহ ছাড়া আমাদের ইহকাল পরকালে আপন বলতে কেহ নাই। কথা বুঝতে পারছেন না তাই না সময় হোক ঠিকই বুঝবেন। এই যে যাদের কথা চিন্তা করে আপনি ঘুষ খাচ্ছেন দুর্নীতি করছেন সুদ খাচ্ছেন এর আপনাকে চিনবে না মরার পরে। আপনি মারা গেলে এরা আপনাকে চিনবে না পরকালে। তখন যদি আপনি বলেন হে আল্লাহ আমি ওদের সাথে সুদ খেয়েছি পরিবারে দেখাশোনার ক্ষেত্রে ঘুষ খেয়েছি। ওরা উল্টা বলবে আল্লাহ আমি তো ওকে এটা দিতে বলি নাই। ওর হিসাব ও দিবে। আমি এসবের মধ্যে নাই। আপনার স্ত্রী এই কথা বলবে। ভাই ভাইয়ের থেকে দৌড় দিয়ে পালাবে সেই দিন। তার মা বাপ তার থেকে পালাবে। তার স্ত্রীর সন্তান এগুলো থেকে পালাবে। প্রত্যেক সত্তা সেদিন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। তো এখান থেকে শিক্ষা দেখেন পরিবার আদর্শ হবে যখন পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষ নিজেকে নিয়ে ভাববে যে আমি কতটুকু ঈমানদার হয়েছি। আমি কার সন্তান সেটা বড় কথা নয় আমি কতটুকু ঈমানদার হতে পেরেছি। কতটুকু মুত্তাকী হতে পেরেছি কতটুকু আল্লাহওয়ালা হতে পেরেছে এটাই মূল কথা ।

নূহ ও লুত আলাইহিমাস সালামের পরিবার

ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া। ফেরাউনের আন্ডারে থেকে ও সে মুমিনা হয়েছে। ফেরাউন যে বড় কাফের এজন্য কি তার স্ত্রী শাস্তি পাবে। না, পাবেনা। বরং আমাদের নবীজি মেরাজের রাতে গিয়ে দেখেছেন এবং গন্ধ পেয়েছেন। সুঘ্রান ছড়াচ্ছে একটা জায়গা থেকে। তখন জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলেন এত সুঘ্রান কোত্থেকে আসছে? জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম বললেন এটা হচ্ছে ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়ার ওই ঘর সেটা আল্লাহপাক জান্নাতে বানিয়েছেন ওখান থেকে সুঘ্রান আসছে। সুবহানাল্লাহ তার মানে এখানে আমরা শিখলাম। নিজের চরকায় তেল দিতে হবে ।নিজেকে আমার আমল করতে হবে। নিজেকে পর্দা করতে হবে নিজের আমার নামাজ পড়তে হবে দিনের জন্য নিজেকে কিছু করতে হবে। পরিবারের দিকে তাকানোর সময় নেই আগে নিজের জন্য কিছু করতে হবে। নবীর পরিবারের মানুষ হয়ে ওদেখেন জাহান্নামে যাচ্ছে। এবার সামনে যাই চলেন। ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাম শুনেছেন। আচ্ছা, তার বাবা কি করতেন? বড় পুরোহিত ছিলেন। যেখানে শিরক সেখানে ইব্রাহিম। আর যেখানে কুফর সেখানে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ওয়ালাইকুম আসসালাম এর জন্ম হয় এটাই নিয়ম। সেখানে জন্ম দিলেন ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যেখানে সে পিতাকে নসিহত করছে। আব্বা তুমি কেন এমন এক সত্তার ইবাদত কর। যে তোমাকে শুনতেও পারে না তোমাকে দেখতেও পারেনা তোমার কোন উপকার করতে পারে না আবার কোন ক্ষতিও করতে পারে না। তোমার স্ট্যাচু গায়ে যদি কোন মাছি বসে তাহলে এটা সরাতেও পারে না। তার কোন ক্ষমতা নাই এখন তুমি কেন এটার ইবাদত করছো। ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাবা বলছেন।তুমি কি আমাদের উপাসনা থেকে মুখ ফিরাছো? যদি তুমি ফিরে না আসো তাহলে আমি তোমাকে বাসা থেকে বের করে দিব।তোমার মাথা এ

ইটা দিয়ে মেরে ফাটিয়ে ফেলবো। ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন তর্ক করলেন না তিনি বললেন তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এটা বলে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে গেলেন। খেয়াল করে দেখেন যুবক ছেলে ইব্রাহিম তার পিতাকে দাওয়াত দিল। সে হলো শিরকের কারিগর যে তার দাওয়াত কবুল করলো না। কিন্তু ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম কিন্তু মিথ্যার সাথে সত্যের আপোষ করলেন না তিনি প্রয়োজনে একা বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেন তারপরও আল্লাহর অনুগত ছাড়লেন না। পরিবারের হেদাহেদ এখানে নাই ?আছে। আরো সামনে যান। ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর একজন স্ত্রীর নাম কি? হাজেরা আরেকজন স্ত্রীর নাম কি? সারা ।সারা আলাইহিস সালাম থাকেন প্যালেস্টাইন। আর হাজেরা আলাইহিস সালাম কে রেখে আসা হয়েছে কোথায় ?মক্কায়। যেখানে জমজম কূপ তৈরি হলো। এখানে হাজেরাকে রেখে যাওয়ার সময় তিনি বলছেন আমাদেরকে এই জনমানব পরিবেশে কেন রেখে যাচ্ছেন ইব্রাহিম ? চুপ করে আছেন। আবার জিজ্ঞেস করছেন আবারও চুপ করে আছেন। এবার তিনি জিজ্ঞাসা করছেন হযরত হাজেরা আলাইহিস সাল্লাম।আপনি কি আল্লাহর আদেশ এই কাজ করছেন? ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বলছেন হ্যাঁ মাথাটা শুধু নারালেন। তখন তার স্ত্রী বলছেন তাহলে আল্লাহ পাক আমাদেরকে ধ্বংস করবেন না ইনশাআল্লাহ। খাবার নাই পানি নাই কিছুই নাই আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল টা দেখেন। এবার দেখেন ওই স্ত্রীর গর্ব থেকে একজন সন্তান হল তার নাম কি ইসমাইল আলাইহিস সাল্লাম। এবার এই সন্তানকে তার বাবা বলছেন অনেক বছর পরে। হে আমার সন্তান আমি স্বপ্ন দেখেছি আমি তোমাকে জবাই করছি। তুমি একটু তোমার রাইটা জানাও তোমার কি মতামত? ওইতা আকুল কারিনী নারী থেকে জন্ম নেওয়া এই সন্তান ইসমাইল বলছেন হে আমার বাবা আপনি তাই করেন যা আল্লাপাক আপনাকে আদেশ করেছেন। ইনশাল্লাহ আপনি আমাকে শবরকারী পাবেন।

হাজেরা ও ইসমাইলের দৃষ্টান্ত

এই বাচ্চার বয়স হবে ১০ থেকে ১৫। এই প্রজন্মের আমাদের জেনারেশনকে দেখেন না। গত কালকের google সার্চ করে দেখেছি বাংলাদেশের ১১ থেকে ১৯ বছর বয়সী বাচ্চারা যে আছে কিশোর। এরা এখন সবচেয়ে বেশি পর্ন দেখে সবচেয়ে বেশি। স্কুল কলেজ পড়ুয়া বাচ্চাদের মধ্যে ৭৭% পর্ন দেখে।ইন টোটাল হিসাব করলে দেখা যায় বাংলাদেশে ৯২ পার্সেন্ট মানুষ পর্ন আসক্ত। মানে পর্ন আসক্ত না হলেও পর্ন দেখে। ওই যে কিশোর ইসমাইলের চেতনা দেখেন আর আমাদের যুব সমাজের চেতনা দেখেন। পার্থক্যটা দেখেন আপনি কিভাবে রেভুলেশন হয়েছে ইসলামের এখন কেন হচ্ছে না। আমাদের কারণেই হচ্ছে না। এবার এই সন্তানকে যে জবাই করার ঘটনা আল্লাপাক হাদিয়া পাঠালেন। আর জবাই করতে হলো না এর পর থেকেই আমরা কোরবানির ঈদ পালন করছি। এখানে আমি পরিবারের হেদায়েতের জন্য এটা ফাইনআউট করছি এখানে। যদি পরিবারের নারীরা হয় এই হাজেরা আলাইহিস সাল্লামের মতন সহনশীলা, শবর কারীনি এবং তাওয়াক্কুল কারিনী তখন গিয়ে তাদের গর্ব থেকে ইসমাইলের মতো সন্তান বের হবে ইনশাল্লাহুতালা। যাদেরকে আল্লাহর জন্য কুরবানী করতে চাইলে তারা বলবে সমস্যা নাই আল্লাহর জন্য কুরবানী হয়ে যাব । তো এখানে কার ভূমিকা বেশি বাবার না মায়ের। তাকে কিন্তু তার বাবা মানুষ করেননি। তার বাবা ওইখানে থাকেন। সিরিয়ায় সামে মাঝে মাঝে এখানে আসা-যাওয়া করেন। বেশিরভাগ সময় তাকে প্যারেন্টিং কে করেছেন? তার মা। ওই মায়ের গর্ভ থেকে এমন সন্তান আশা করা যায়। এখনকার সিরিয়াল দেখা মেয়েদের গর্ভ থেকে এরকম সন্তান আশা করা যায়। এখনকার মেয়েদের গর্ভ থেকে ওরকম সন্তান আশা করা যায় যাদের স্বামী দিতে পারলে খুশি আর না দিতে পারলে বেজার। স্বামীকে প্রেসার দিতে দিতে স্বামীকে মানসিক কষ্ট দিতে দিতে স্বামীকে বুড়া বানিয়ে ফেলেছে। আমাদের নবীজি দোয়া করতেন আল্লাহর কাছে হে আল্লাহ আমি এমন স্ত্রী থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই যে আমাকে বৃদ্ধ হওয়ার আগেই বুড়ো বানিয়ে ফেলবে। বৃদ্ধ হওয়ার আগে স্ত্রী চাইলে স্বামীকে বৃদ্ধ বানিয়ে দিতে পারে। দেখা যায় অনেক পরিবারে স্ত্রীর মানসিক টর্চারের কারণে স্বামীরা স্টকের শিকার হয় রোগব্যাধির শিকার হয়। হার্ট স্টক করে , হাই প্রেসার এর শিকার হয়। সারাক্ষণ পেরেশান থাকে। দ্বীনের জন্য তো কাজ করা দূরের কথা দিন দুনিয়ার কাজ করতেই সে পেরেশান হয়ে যায়। এই নারীরা কি হযরত হাজেরা আলাইহিস সাল্লাম এর মতন।যখন এমন নারীরা ঘরে ঘরে তৈরি হবে তখন দেখবেন আদর্শ পরিবার ঠিকই গঠিত হবে ইনশাল্লাহু তায়ালা তো বিয়ে করলে এই ধরনের মেয়েকে করবেন। রূপের সৌন্দর্য দেখে, টাকা পয়সা দেখে আর অন্যান্য বিষয় দেখে অত বেশি ইম্প্রেসড হওয়ার দরকার নেই আপনি দেখবেন দ্বীন দারিটা আছে কিনা । দ্বীন দারিটা কিন্তু শুধু বোরকার মধ্যেই থাকে না। আপনাকে কথা বলে পাত্রী দেখার সময় এগুলো জাজ করতে হবে। আপনাকে ওর মাকে দেখতে হবে তার মা কেমন? কোন মায়ের সন্তান তিনি?

সন্তানের জীবনসঙ্গী নির্বাচন

তার মায়ের আকিদা কেমন? কেমনে চলাফেরা করে। ও নানী কেমন ওর পরিবারের সদস্যরা কেমন এগুলো দেখে মেয়ে চুজ করবেন। এই যে নসিয়ত গুলো করছি যারা আনমেরিড তোমাদের জন্য এগুলো সোনার চেয়েও বেশি দামি। কারণ তোমাদের জন্য এই ডিসিশনটা এত গুরুত্বপূর্ণ যে জীবনে যদি এটা ভুল করে ফেলো। সারাটা জীবন আপনা কে এই বোঝা টানতে হবে। এবং এমন কষ্ট আসবে। লোকমান হাকিম আলাইহি সাল্লাম তিনি একজন বিজ্ঞ মানুষ ছিলেন। অনেকে বলেছেন নবী ছিলেন কেউ বলেছেন নবী ছিলেন না। তিনি তার সন্তানকে কিছু নসিয়ত করছে কি চমৎকার সেই নসিয়ত। সে তার সন্তানকে নসিহত করছে হে আমার বৎস। তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করোনা। শিরিক হচ্ছে মহান জুলুম। ছোট্ট একটা বাচ্চা শিরিকের বোঝাটা কি কিছু বোঝে ? আমরা আমাদের ছোট বাচ্চাদের কি শিক্ষায়? জীবনে বড় হওয়া, প্রতিষ্ঠিত হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এখানে দেখেন লোকমান হাকিম আলাইহিস সাল্লাম তিনি তার সন্তানকে শিরিকের শিক্ষা দিচ্ছেন পিতা মাতার খেদমত করবে , তাদের অবাধ্য হবে না , সৎকাজে আদেশ করবে অসৎ কাজে নিষেধ করবে। বিপদে পড়লে সবর করবে গাধার মতো উচ্চস্বরে কথা বলবে না। এই নসিয়ত গুলো করছেন লোকমান আলাইহিস সাল্লাম তার সন্তানকে। তো এখান থেকে প্যারেন্টিং পাচ্ছেন না আপনি আপনার সন্তানকে পরিবারের সদস্যকে কি নসিহত করবেন। এগুলো কুরআনের পাতায় পাতায় আছে। ইয়াকুব আলাইহিস সাল্লাম তার সন্তানদেরকে নসিহত করছেন আমার পরে তোমরা কার ইবাদত করবে। আমরা আল্লাহর ইবাদত করব ইনশাল্লাহুতালা। ইউসুফ আলাইহিস সাল্লাম এর সাথে তার পিতার একটা গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আশরাফুল কাহাফ এর মধ্যে আপনি এর এক্সামপল পাবেন। তো কুরআনের এরকম পাতায় পাতায় আলহামদুলিল্লাহ আপনি দেখবেন আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আদর্শ পরিবার গড়ার এই মেসেজগুলো দিয়েছেন। তো বাকিগুলো আপনারা খুঁজে বের করবেন ইনশাল্লাহ তায়ালা আল্লাহ পাক আপনাদের তৌফিক দান করুন। এবার আসেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবা একরামদের যুগে পরিবার গুলো কেমন ছিল? খুব শর্ট করে বলি তখন পরিবারের গুলোর মধ্যে তাওহীদ ছিল। পরিবারের মধ্যে সুন্নত ছিল। পরিবারে কুরাআন চর্চা তালিম ছিল ।পরিবারে পর্দা ছিল। পরিবারের দেখবেন মাশাল্লাহ একটা ইসলামিক অনুশাসক ছিল। পরিবারের মধ্যে অনুশাসনে লাঠি ছিল। পরিবারের মধ্যে হৃদ্ধতা ভালোবাসার একটা বন্ধন ছিল। পরিবারের মধ্যে হালাল রিযিকের প্রাচুর্য ছিল। পরিবারের মধ্যে অপসংস্কৃতি ছিল না ইসলামিক সংস্কৃতি ছিল। মানে ওই সময় পরিবারগুলো একেকটা সোনার টুকরো ছিল তাই না।জান্নাতের টুকরা ছিল । যত ভালো গুণ সবগুলো পরিবারের মধ্যে ছিল। খারাপ গুণের সাথে তারা খুব একটা সম্পর্কিত ছিলেন না আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ জামানার হাদিসগুলো যখন বর্ণনা করেছেন তখন যেই কথাগুলো তিনি বলেছেন। শেষ জামানায় পরিবারে ভাঙ্গন গুলো বেশি হবে বিচ্ছেদ বেশি হতে পারে। সন্তানরা দেখবে পিতা-মাতাকে সম্মান করবে না। পরিবারের মধ্যে অপসংস্কৃতি প্রবেশ করবে জেনা বেড়ে যাবে। মাদক বেড়ে যাবে অশ্লীলতা বেহায়াপনা বেড়ে যাবে। প্রতিবেশী প্রতিবেশীর অধিকার ক্ষুন্ন করা হবে। ভাই ভাইকে খুন করবে। বোন বোন চুলাচুলি করবে অশান্তি বেড়ে যাবে। পরিবারে অশান্তি বিরাজ করবে এমনটা হাদিসে বর্ণিত আছে।

লুকমান ও ইয়াকুবের নসিহত

এখন আপনাকে এমন একটা অবস্থা দেখাই যে অবস্থা আপনি ম্যাক্সিমাম পরিবারেই যাবেন দেখবেন সেখানে নামাজ নাই কালাম নেই দ্বীনের কোন পালন নেই। ম্যাক্সিমাম পরিবারে এখন পর্দা করে না ।এখন দ্বীনের এলেম চর্চা যে গুরুত্ব দেখবেন এখন সেটা নাই । বেশিরভাগ পরিবারে দেখবেন এদের মধ্যে এখন হালাল আর হারাম এর কোন পরোয়া নেই ।রিজিক কোথা থেকে আসতেছে কোন পরোয়া নাই। বেশিরভাগ পরিবার দেখবেন এখন স্বামী স্ত্রীর মধ্যে হৃদ্ধতার ভালোবাসার বন্ধন পাওয়া যাচ্ছে না। প্যারেন্টিং গুলো ঠিক নাই। খাবার উৎস গুলো ঠিক নেই। অপসংস্কৃতি আছে পরিবার এখন মাদক ঢুকে গেছে। জেনা ঢুকে গেছে পর্নোগ্রাফি ঢুকে গেছে। ডিভাইস অ্যাডিকশন বেশি হয়ে গেছে। অন্তর্নিগত সম্পর্ক গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইসলামের প্রতি যে মানুষের নীতিগুলো ছিল সেগুলো দিন দিন পরিবারগুলো থেকে কমে যাচ্ছে। এভাবে পরিবারে ডিভোর্স হচ্ছে ।এখন ঢাকায় প্রতি এক ঘন্টা একটা করে ডিভোর্স হচ্ছে। মানে প্রতি 24 ঘন্টা 24 টা করে ডিভোর্স হয় ঢাকায়। আমেরিকার মত কান্ট্রিতে প্রতি ১৩ সেকেন্ডে একটা করে ডিভোর্স হয়। গড় এ প্রতিদিন এ বিশ্বে ২৯ জন করে আত্মহত্যা করছে। পারিবারিক সমস্যার শিকার হয়ে গড় ৩০থেকে ৪০% মেয়ে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হচ্ছে ।যৌতুকের কারণে পরকীয়ার কারণে। পরকীয়ার কথা তো বলতে ভুলেই গিয়েছি। পরকীয়ার কারণে বেশিরভাগ পরিবার এখন সুখী নয়। বেশিরভাগ পরিবারে এখন স্বামী স্ত্রীকে নিয়ে সন্তুষ্ট নয় ।স্ত্রী স্বামীকে নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। পরকীয়া এখন কমন হয়ে যাচ্ছে । ম্যাক্সিমাম পরিবারে দেখবেন আপনারা যে পর্ন ঢুকে গেছে জেনা ঢুকে গেছে। মানে জেনা টাকে সহজ করে ফেলেছে । প্রগতির নামে আমরা আস্তে আস্তে এমন এমন কালচার পালন করছি যে আমাদের ইসলাম থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। পরিবারের অবস্থা এখন ভয়াবহ খারাপ। আত্মহত্যা প্রবণতা বাড়ছে । যৌতুক বাড়ছে আপনার মাদকাসক্তর ছেলে মেয়ে সংখ্যা বাড়ছে ।পর্ন অ্যাডিক্টেড ছেলে মেয়েদের সংখ্যা বাড়ছে।এরা না দেশকে কিছু দিতে পারছে না সমাজকে না জাতিকে।দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দুনিয়ার এসবের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এজন্য দ্বীনটা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে । এক কথায় এখন পরিবারের ভাঙ্গন অনেক বেশি। আর পরিবারের নীতি নৈতিকতার অবস্থা গুলো অনেক খারাপ। এর কারণ গুলো আমরা ফাইন্ড আউট করলাম কি কি কারণ? প্রথম হচ্ছে কোরআনে তালিম চর্চা উঠে যাওয়া। তাওহীদ উঠে যাওয়া শিরিকের অনুপ্রবেশ। পরিবারের সুন্নত উঠে যাওয়া বেদাত ঢুকে যাওয়া। পরিবারে হারাম রিজিক ঢুকে যাওয়া। পরিবারের কর্তাদের নিরব ভূমিকা পালন করা। পরিবারে হাজেরা রাদিয়াল্লাহু মতো মা না থাকা।পরিবারে খাদিজা রাদিয়াল্লাহর মত স্ত্রী না থাকা। বা অনেক কারণ। এরপর আসে বাহিরে সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ। ইন্টারনেট অ্যাডিকশন। এসবের কারণে অনেক সমস্যা হচ্ছে । সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মানুষের মধ্যে যে মিল থাকা সেগুলোই এখন থাকছে না। পরিবারের মধ্যে যখন এইসব ভাঙ্গন সৃষ্টি হচ্ছে তখন দেখবেন সমাজের মধ্যে স্টাবিলিটি কমে যাচ্ছে। এমন সমাজ ব্যবস্থা দিয়ে আপনি কখনো আদর্শ রাষ্ট্র গ্রহণ করতে পারবেন না। আমরা এখন কি কি কাজ করলে এসব সমস্যা সমাধান করতে পারি সলিউশন করতে পারি। এটার সলিউশন হচ্ছে দুই রকম প্রথম হচ্ছে যারা অলরেডি পরিবার এ ঢুকে গেছে এদেরকে অন্য কোন জায়গা থেকে শুরু করতে হবে। যারা পরিবার ঢুকে গেছে তাদেরকে তওবা করে ফিরে আসতে হবে। আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। আর যারা এখনো পরিবারে ঢুকেন নাই তারা অনেক নসিববান। এখন থেকে যদি আপনি এই নসিহত গুলো মেনে চলতে পারেন ইনশাল্লাহ আপনার পরিবারটা আর দশটা পরিবারের মত হবে না।

বর্তমান পরিবারের সমস্যাগুলো

প্রথমে আমরা তাদের কথা বলি যারা অলরেডি পরিবারের ঢুকে গেছেন। তাদের প্রথম কাজ কি? ঠান্ডা মাথায় বিশ্বের পরিস্থিতি, সমাজের পরিস্থিতি এগুলো ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করতে হবে। যে হচ্ছেটা কি আসলে? আসলে ভালো কিছু হচ্ছে নাকি খারাপ কিছু হচ্ছে। ভুলটা কোথায় সেটা আপনাকে প্রথমে ফাইন্ড আউট করতে হবে। আপনার ভুলটা কোথায় ছিল আপনি এমন কাউকে বিয়ে করেছেন যে ফ্যামিনিস্ট । আপনি এমন একটা পরিবার গঠন করেছেন যেখানে কোরআন তেলোয়াত চালু করতে পারেন নাই সবাই নামাজ পড়ছে না সবাই পর্দা করছে না নিয়মিত তালিম পড়ছে না। এখন আপনার কাজ কি তওবা করে ফিরে আসা। ফিরে এসে আপনি জ্ঞানচর্চা শুরু করেন। আপনি নিজের রোল মডেল হয়ে দেখান। জ্ঞান চর্চা করে আমল করে পর্দা করে ইসলামের জন্য কোন কিছু করে একটা রোল মডেল তপন করে দেখান । দেখি আপনি পরিবারকে আহবান করেন যে তোমরা এদিকে আসো। এবং আপনাকে আর যত ক্ষমতা দিয়েছে আল্লাহ পাক অর্থনৈতিক ক্ষমতা বা স্বামী হিসেবে ক্ষমতা বা বাবা হিসেবে ক্ষমতা। এটা আপনি পরিবারের প্রয়োগ করেন। পরিবারকে লাইনে আনার চেষ্টা করেন। এরপরে চেষ্টা করতে করতে করতে করতে কোন কাজই না হয় শেষ পর্যন্ত। আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাদের দায় ভার আপনি তাদের উপরে ছেড়ে দেন আপনার কবরের ফিকির আপনি করেন। যার যার হক তাকে তাকে দিয়ে দেন আর নিজের হক আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নেন। আর দ্বিতীয় হচ্ছে তারা যাদের পরিবার এখনো শুরু হয় নাই। আপনারা কিভাবে স্টার্ট করবেন? প্রথমে বলব জ্ঞান চর্চা এখনই করে নেন। পরিবার গঠন হয়ে গেলে অনেক রেস্পন্সিবিলিটী আসবে তখন অনেক ডিফিকাল্ট। জেনারেল লাইনের পড়া এবং ইসলামিক পড়া একটা ব্যালেন্স করেন। আমি বলছি না জেনারেল লাইনের পড়া ছেড়ে দেন আমি এটা কখনোই বলি নাই। ওইটা পড়াশোনা করেন এবং ইসলামিক পড়াশোনা করেন একটা ব্যালেন্স করেন।পাঁচ ওয়াক্ত সালাত শুরু করেন আল্লাহর রাস্তা সময় ব্যয় করেন। কোরআন তেলোয়াত করেন আলেম-ওলামাদের সহবতে যান। আত্মশুদ্ধি মূলক কাজ করেন। সমাজ কল্যাণ মূলক কাজ করেন।পাশাপাশি আরো বলবো যে দীনি কাজে ব্যস্ত থাকেন।ভালো কাজে ব্যস্ত থাকেন। এভাবে নিজের ভেতরটাকে পরিশুদ্ধ করে নেন। এরপর আপনি একটা হালার রিজিকের চেষ্টা করেন। একটা হালাল পবিত্র রিজিক হোক সেটা কৃষি কাজ লজ্জার কিছু নাই। কৃষিকাজ লজ্জার কোন প্রফেশন নই গর্বের প্রফেশন। কারণ আল্লাহ পাক বহু নবীগণকে রাখালী করিয়েছেন। পশু পালন করিয়েছেন জানেন। মুসা আলাইহিস সাল্লামকে আল্লাহ পাক পশুপালন করিয়েছেন আট বছর দশ বছর। এগুলো কোন লজ্জার প্রফেশন নয় এগুলো গর্বের প্রফেশন। আপনার হালাল রিযিক আপনার অর্থনৈতিক হোক বা কৃষিভিত্তিক হোক বা ব্যবসা করেন হালাল ভাবে বা গভর্মেন্ট জব। বড় বড় গভারমেন্ট জব এর জন্য ট্রাই করেন সেটাও ভালো। যদি না পান তাহলে বেসরকারি জব করেন আলহামদুলিল্লাহ। শুধু খেয়াল রাখবেন জব করতে গিয়ে ব্যবসা গিয়ে বা কৃষিকাজ করতে গিয়ে আপনার নামাজ যেন ছুটে না যায়। আপনার রিজিকে যেন হারাম না ঢুকে যায় আপনাকে যেন সুদ না খেতে হয়। আপনাকে যেন ফ্রি মিক্সিংয়ে না যেতে হয় এগুলো খেয়াল রাখেন। খেয়াল রেখে একটা হালার রিজিকের সোর্স বের করেন।

সমস্যাগ্রস্ত পরিবার সংশোধনের উপায়

প্রথমে আমরা তাদের কথা বলি যারা অলরেডি পরিবারের ঢুকে গেছেন। তাদের প্রথম কাজ কি? ঠান্ডা মাথায় বিশ্বের পরিস্থিতি, সমাজের পরিস্থিতি এগুলো ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করতে হবে। যে হচ্ছেটা কি আসলে? আসলে ভালো কিছু হচ্ছে নাকি খারাপ কিছু হচ্ছে। ভুলটা কোথায় সেটা আপনাকে প্রথমে ফাইন্ড আউট করতে হবে। আপনার ভুলটা কোথায় ছিল আপনি এমন কাউকে বিয়ে করেছেন যে ফ্যামিনিস্ট । আপনি এমন একটা পরিবার গঠন করেছেন যেখানে কোরআন তেলোয়াত চালু করতে পারেন নাই সবাই নামাজ পড়ছে না সবাই পর্দা করছে না নিয়মিত তালিম পড়ছে না। এখন আপনার কাজ কি তওবা করে ফিরে আসা। ফিরে এসে আপনি জ্ঞানচর্চা শুরু করেন। আপনি নিজের রোল মডেল হয়ে দেখান। জ্ঞান চর্চা করে আমল করে পর্দা করে ইসলামের জন্য কোন কিছু করে একটা রোল মডেল তপন করে দেখান । দেখি আপনি পরিবারকে আহবান করেন যে তোমরা এদিকে আসো। এবং আপনাকে আর যত ক্ষমতা দিয়েছে আল্লাহ পাক অর্থনৈতিক ক্ষমতা বা স্বামী হিসেবে ক্ষমতা বা বাবা হিসেবে ক্ষমতা। এটা আপনি পরিবারের প্রয়োগ করেন। পরিবারকে লাইনে আনার চেষ্টা করেন। এরপরে চেষ্টা করতে করতে করতে করতে কোন কাজই না হয় শেষ পর্যন্ত। আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাদের দায় ভার আপনি তাদের উপরে ছেড়ে দেন আপনার কবরের ফিকির আপনি করেন। যার যার হক তাকে তাকে দিয়ে দেন আর নিজের হক আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নেন। আর দ্বিতীয় হচ্ছে তারা যাদের পরিবার এখনো শুরু হয় নাই। আপনারা কিভাবে স্টার্ট করবেন? প্রথমে বলব জ্ঞান চর্চা এখনই করে নেন। পরিবার গঠন হয়ে গেলে অনেক রেস্পন্সিবিলিটী আসবে তখন অনেক ডিফিকাল্ট। জেনারেল লাইনের পড়া এবং ইসলামিক পড়া একটা ব্যালেন্স করেন। আমি বলছি না জেনারেল লাইনের পড়া ছেড়ে দেন আমি এটা কখনোই বলি নাই। ওইটা পড়াশোনা করেন এবং ইসলামিক পড়াশোনা করেন একটা ব্যালেন্স করেন।পাঁচ ওয়াক্ত সালাত শুরু করেন আল্লাহর রাস্তা সময় ব্যয় করেন। কোরআন তেলোয়াত করেন আলেম-ওলামাদের সহবতে যান। আত্মশুদ্ধি মূলক কাজ করেন। সমাজ কল্যাণ মূলক কাজ করেন।পাশাপাশি আরো বলবো যে দীনি কাজে ব্যস্ত থাকেন।ভালো কাজে ব্যস্ত থাকেন। এভাবে নিজের ভেতরটাকে পরিশুদ্ধ করে নেন। এরপর আপনি একটা হালার রিজিকের চেষ্টা করেন। একটা হালাল পবিত্র রিজিক হোক সেটা কৃষি কাজ লজ্জার কিছু নাই। কৃষিকাজ লজ্জার কোন প্রফেশন নই গর্বের প্রফেশন। কারণ আল্লাহ পাক বহু নবীগণকে রাখালী করিয়েছেন। পশু পালন করিয়েছেন জানেন। মুসা আলাইহিস সাল্লামকে আল্লাহ পাক পশুপালন করিয়েছেন আট বছর দশ বছর। এগুলো কোন লজ্জার প্রফেশন নয় এগুলো গর্বের প্রফেশন। আপনার হালাল রিযিক আপনার অর্থনৈতিক হোক বা কৃষিভিত্তিক হোক বা ব্যবসা করেন হালাল ভাবে বা গভর্মেন্ট জব। বড় বড় গভারমেন্ট জব এর জন্য ট্রাই করেন সেটাও ভালো। যদি না পান তাহলে বেসরকারি জব করেন আলহামদুলিল্লাহ। শুধু খেয়াল রাখবেন জব করতে গিয়ে ব্যবসা গিয়ে বা কৃষিকাজ করতে গিয়ে আপনার নামাজ যেন ছুটে না যায়। আপনার রিজিকে যেন হারাম না ঢুকে যায় আপনাকে যেন সুদ না খেতে হয়। আপনাকে যেন ফ্রি মিক্সিংয়ে না যেতে হয় এগুলো খেয়াল রাখেন। খেয়াল রেখে একটা হালার রিজিকের সোর্স বের করেন।

নতুন পরিবার গঠনের প্রস্তুতি

প্রয়োজনে উদ্যোক্তাটা হন। উদ্যোক্তা হয়ে নিজে কিছু প্রতিষ্ঠা করে দেখান। এরপরে আপনি বিয়ের ফিকিরটা করেন। রিজিকের ব্যবস্থাটা আগে করে নেন তারপরে ওদিকে যান। আপনার আপন ভাই হিসেবে আমি কতগুলো বলছি মনে করেন। এরপরে আপনি যখন বিয়ে করবেন মেয়ের জাস্ট দ্বীন দাড়িটা দেখবেন। এর উপর যদি সৌন্দর্য থাকে আলহামদুলিল্লাহ ।বংশ ভালো থাকে আলহামদুলিল্লাহ। মেয়ের অর্থ সম্পদ আছে আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি কোনটাই না থাকে শুধু দ্বীনদারিতা থাকে জাস্ট ওইটাকেই দেখেন। আর কিচ্ছু দেখার দরকার নাই। আরেকটা কথা বলতে ভুলে গেছি যে আপনি এই লেভেলে যাওয়ার আগে নিজে আগে পবিত্র থাকার চেষ্টা করবেন। আপনি নিজের জেনায় জাবেন না আপনি নিজে পর্নোগ্রাফিতে জাবেন না। নিজে হারাম অ্যাফেয়ার্স এ যাবেন না। তাহলে আল্লাহ পাক আপনাকে পবিত্র স্ত্রী নাও দিতে পারে। এটাই আল্লাহ পাকের নীতি। যে একজন পবিত্র মানুষ পবিত্র মানুষ পায়। ঠিক আছে যে যেমন আল্লাহ পাক তাকে তেমন মিলিয়ে দেন। এটা আল্লাহ পাকের একটা সুন্নাহ। এর ব্যতিক্রম হতে পারে। আপনি যদি পবিত্র না থাকেন আপনি পবিত্র স্ত্রী নাও পেতে পারেন। তো আপনি আগে নিজে পবিত্র থাকেন তারপরে মেয়ে দেখেন আলহামদুলিল্লাহ। এখানে দ্বীনদরিতা প্রাধান্য দেন। এখানে হাদিসে বলা হয়নি চারটা গুন দেখে বিয়ে কর। এখানে হাদিসে বলা হয়েছে চারটা গুন দেখে সাধারণত বিয়ে করা হয়। করো আদেশটা এমন নয়। কেউ দ টাকা দেখে , কেউ সৌন্দর্য দেখে , কেউ বংশ দেখে , তুমি দেখো দ্বীন । তা না হলে তোমার হাত ধুলোয় ধূসরিত হবে।দ্বীন দেখার ক্ষেত্রে শুধু তার বাইরের গেটাপটা যথেষ্ট নয়। তার পড়াশুনা দেখেন , হিস্ট্রি ঘাঁটবেন অতীতের সে কোথায় কোথায় পড়াশোনা করেছে। কি করেছে খোঁজখবর নিবেন? হুট করে তাড়াহুড়া করে কোন ডিসিশন নিয়ে ফেলবেন না। এটা খুব ভুল করে মানুষ। সে কোথায় পড়াশোনা করেছে কি করেছে না না, করেছে। তার পরিবারের বায়োডাটা ঘাটেন। তার পরিবারের সদস্যরা কেমন নামাজ পড়ে কি না।তারা ইসলামের প্রতি কেমন ধারণা পোষণ করেন। তার মাকে দেখেন তার মা পর্দা করে কি না। তার মা ইসলামের উপরে আছে কি না। তার নানীকে দেখেন ।তারপরে আপনি একটা ডিসিশন নেন সহজ হবে। এগুলোর চেয়ে ব্যতিক্রমও হতে পারে। ওই আজাবের পরিবারে ইব্রাহিমের জন্ম হতে পারে। ফেরাউনের আন্ডারে আছিয়াও থাকতে পারে। কিন্তু এটা ব্যতিক্রম। নরমালি কিন্তু সবসময় এরকমটা হয় না। যে প্যারেন্টিইন্স দিয়ে তারা বড় হয়েছে ওই প্যারেন্টিং তাদের মধ্যে থেকে যায় এ কারণে মেয়ের ব্যাপারে খুব সেনসিটিভ থাকবেন । আগে পুরো বিষয়টা ঘেঁটে নিয়ে তারপরে আপনি অন্য জায়গায় পা দিবেন। তারও আগে আল্লাহর কাছে ইস্তেখারা করবেন। হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে ইস্তেখারা করছি আমি জানি না কোনটা আমার জন্য। কোনটা খারাপ। আল্লাহ এটা যদি আমার জন্য ভালো হয় তাহলে সহজ করে দাও আর যদি খারাপ হয় তাহলে দূরে ঠেলে দাও। নিজের ওপর চাপ নিয়েন না। দেখার দরকার নাই। যদি আপনি মনের মত দ্বীনদার পবিত্র একজন মেয়ে পেয়ে যান। আর মেয়ে যদি সুন্দরীও হয় মাশাআল্লাহ আর ভালো বংশের হয় যদি। তাহলে সারাটা জীবন তাকে নিয়ে কাটিয়ে দেন।

বিবাহে দ্বীনদারি ও পবিত্রতা

আপনি হ্যাপি হবেন ইনশাল্লাহ। ডানে বামে দেখার আর দরকার নাই। যদি একাধিক বিয়ের অনুমতি আছে কিন্তু এখন বাস্তবতা দেখতে হবে। যেমন কোরআন সুন্নাহতে এমন অনেক কিছুই আছে যা এখন বাস্তবে ইমপ্লিমেন্ট করা সহজ নয়। যদি কেউ করতেছে তাহলে তাকে অনেক হ্যাসেল পোহাতে হয়। কারণ কুরআন সুন্নাতে আছে তবুও সমাজটা এখন এমন না যদি সে পালন করতে চায় তাহলে তাকে দেখা যায় যে সমাজের অনেক ব্যাপক সমস্যা মুখোমুখি হতে হয়। যদি ও এটা তার দোষ না এটা হয়তো আল্লাহপাক তাকে পরীক্ষা করছেন।অথবা এ অসিলায় আল্লাহপাক তার গুনাহ গুলো সব মাফ করে দিবেন ।কিন্তু নরমালি যেটা চলছে সেটা আপনি নেন যেটা অপশনাল সেখানে যাওয়ার দরকার নেই। এটা আমার নসিহত। কারণ সবার সেই শক্তি সামর্থ্য থাকে না যে সবকিছু সুন্দরভাবে হ্যান্ডেল করতে পারবে। আর বলা যতটা সহজ করার ব্যাপারটা ততটা সহজ নয়। আর এখনকার জেনারেশন এর মেয়েদেরকে তো দেখছেন পান থেকে চুন খসলেই বিশাল ঝামেলা হয়ে যাবে। যদি আপনার ঈমান আমলের কারণে আল্লাহ তাআলা আপনাকে দ্বীনদার নেককার সুন্দর সুশীল মেয়ে দিয়ে দেয় তাহলে আর ডানে বামে দেখবেন একদম তাকে নিয়ে পুরো লাইফটা কাটিয়ে দেবন ।এরপর দোয়া করবেন আল্লাহ তাআলা এটার মধ্যে কল্যাণ দান কর। বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের বাবারা মুহুর টা কম করবেন। সামর্থ্য অনুযায়ী মোহর করবেন। ছেলের সামর্থ্য অনুযায়ী করবেন তার উপর কোন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। কেয়ামতের হাদিসের আমলে আমি এটাও পড়েছি শেষ জামানায় মোহর অনেক বেশি করা হবে দেওয়া হবে কম ।এমনই তো হচ্ছে এখন। আর কোন আলামতের বাকি আছে। আপনি বলছেন এক লাখ একলা কি দিবেন নগদে এসব চিটারির মধ্যে থাকবেন না।যদি ৫ লাখের সামর্থ থাকে 5 লক্ষ দিবেন আর আমল শেষ। পরে মাফ নিয়ে নিব এসব বার্গিনি এর মধ্যে নেই। এখনকার বিয়ে দেখলে মনে হয় মেয়ের বাবা ছেলেকে বিক্রি করছে। আর ছেলের বাবা মেয়েকে কিনছে। সবচেয়ে বেশি মোহর দেখা যায় চিটাগাং এরিয়াতে। এবং আপনারা জানেন নাকি জানিনা কিন্তু সবচেয়ে বেশি বিচ্ছেদ ওইখানেই হয়। বাংলাদেশের বিবাহ বিচ্ছেদ দেখা যায় প্রতি 24 ঘন্টায় ২৮ টা ।শুধু তাই নয় এখন দেখা যায় ১০ লক্ষ মেয়ে অধিক আছে পুরুষের তুলনায় সমাজে স্বামী নাই। এবং ডিভোর্সের ক্ষেত্রে দেখা যায় মেয়েদের প্রবণতা বেশি ৭০% মেয়েরা এখন ছেলেদেরকে ডিভোর্স দিয়ে দিচ্ছে কিন্তু ছেলেরা দেয় না। ৩০% ছেলেরা ডিভোর্স দেয়। তাহলে মেয়েদের সাইকোলজি চিন্তা করেন।ও মনে করছে আমি তো শিক্ষিত হয়ে গেছি তোমার এখন আমার দরকার নেই আমি একাই চাকরি করে খেতে পারব। তাই খুব বেশি শিক্ষিত প্রয়োজন নেই দিনের শিক্ষা আছে নাকি সেটা দেখবেন। ফ্যামিলিস মেয়েদেরকে নেওয়া দরকার নেই। আপনি নিবেন ইসলামিক শিক্ষা আছে নাকি এমন মেয়েকে। এরপর যখন পরিবার স্টার্ট হবে তখন আপনি বরকত চাবেন বিয়েটা সহজ করে নিবেন। হাদিসে আছে যে বিয়েতে খরচ যত কম সে বিয়েতে বরকত তত বেশি।

বিবাহ, মোহর ও সামর্থ্য

ওলিমা হবে মাশাআল্লাহ আপনার বিবাহ জীবন মোবারক হক দোয়া করি। এরপরে দেখবেন উভয়ের মাঝখানে আল্লাহ পাক আপনাদের মাঝে ভালোবাসা ঢালবেন ইনশাল্লাহুতালা।সূরা রুমের মধ্যে আল্লাহপাক বলেছেন আমি আল্লাহ স্বামী স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসার ঢেলে দিয়েছি। এটা আল্লাহ পাকের একটা আয়াত নিদর্শন। এবার আপনি পরিবার গঠন করেছেন। এখানে আমি কয়েকটা কথা বলব। উভয়ের মাঝখানে খুব চূড়ান্ত লেভেলের ভালোবাসা এটা যথেষ্ট নয় পরিবার সুখী হওয়ার জন্য। পরিবারে থাকতে হবে সালাত , পরিবারে থাকতে হবে কুরআন, পরিবারের থাকতে হবে সুন্নাহ , পরিবারে থাকবে ইসলামের অনুশাসন , পরিবারে থাকবে খাস পর্দা। আপনার বউকে মানুষ দেখেই নাই এরকম পর্দা। কাপড় খোলা তো অনেক দূরের কথা। এরকম স্ত্রী আপনার স্ত্রীকে দেখে নাই বাহিরের মানুষ । প্রার্থনা করেছে বাইরে আসবে না। বাধ্য হয়েছে আসছে। মা বাপ আছে আসছে ।মা-বাবার সঙ্গে বাহিরে আসছে। আপনার স্ত্রী মানুষের বাসায় গিয়ে রাত কাটাবে না। এবং কি মানুষের বাসায় টয়লেটে গিয়েও সে কাপড়টা চেঞ্জ করবে না। কারো বাসা আপনার স্ত্রীকে রেখে আসবেন না। অপরিচিত কারো বাসায় আপনার স্ত্রীকে রেখে কাজে যাবেন না। আপনার কাছে ধরেন একটা কোহিনুর হীরা আছে যার মূল্য ধরেন যে লক্ষ কোটি ডলার। এটা কি আপনি যেমন তেমন করে ইউজ করবেন নাকি খুব যত্ন করে আপনার কাছে আগলে রাখবেন ।ইসলাম এভাবে নারীদেরকে সম্মানিত করেছেন যে তারা আমাদের কাছে এত বেশি স্পেশাল যে তাদেরকে আমরা যত্ন সহকারে ঢেকে রাখছি। কথা কি বুঝতে পারছেন? তোমাদের কাছে মেয়েদের দাম নেই। তোমরা লেংটা হয়ে ঘুরো তোমাদের কে বাধা দিয়েছে। ঘুরছো ও তো তাই। নগ্নতা বলতে আপনি কি মনে করছেন। খালি কি বিকিনি সংস্কৃতি নগ্নতা।যে নারী পোশাক পরেও নগ্ন হয়ে আছে এটাও তো নগ্নতা। আল্লাহপাক বলছেন আরবদের ধ্বংস। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। কি ভয়ংকর আজাব ধেয়ে আসছে। তার স্ত্রী জায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন ইয়া রাসুলুল্লাহ আমাদের মধ্যে সলেহ এবং সৎ মানুষ থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব। নবীজি বলছেন হ্যাঁ। যখন অশ্লীলতা বেহায়াপনা নগ্নতা ছড়িয়ে পড়বে তখন ভালো-মন্দ সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। এজন্য নিজে ভালো আছি ওরা খারাপ ওদেরকে কিছু বলার দরকার নাই। ভালো হয়ে থাকার কোন সুযোগ নাই। ওগুলো যত ছড়াবে আলেম-জালেম সব ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহপাক বোঝার তৌফিক দান করুন আমিন। এবার আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে এভাবে হৃদ্যতা ভালোবাসার সম্পর্ক রাখবেন আল্লাহর জন্য। পরিবারের সবার পিছনে আপনি খরচ করবেন তাদের হক দিবেন কার জন্য? আল্লাহর জন্য। পরিবার বর্গের কাছে কোন কিছু পাওয়ার আশায় না। এই

ফিলোসোফিটা বুঝেন। পরিবারের কারো কাছে থ্যাংকস পাওয়ার আশায় ও না। আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ওদের পিছনে খরচ করবেন ওদেরকে ভালোবাসবেন ওদের হক আদায় করবেন ওদেরকে সময় দিবেন। কার জন্যে। আল্লাহর জন্য। এর জন্য আপনি নেকি পাবেন ইনশাল্লাহ। আর যদি আপনি কারো কাছে বেশি আশা করতে চান এবং মনে মনে বেশি এক্সপেক্টেশন রাখেন। তাহলে কি হবে জানেন? আপনি পদে পদে বেশি কষ্ট পাবেন।

স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা ও পর্দা

শুধু আল্লাহর হয়ে যান। মানে আল্লাহ আপনার আপন আল্লাহ ছাড়া আপনাকে কেউ চিনেনা ।আল্লাহ পাক বলেছেন এসব করতে তাই আমি করি। আল্লাহপাক ভালবাসা দিয়েছেন সন্তানের প্রতি স্ত্রীর প্রতি তাই ভালবাসি তাদেরকে।কিন্তু ভালোবাসা এত অধিক না যে আল্লাহকেই ছেড়ে দিব। স্ত্রী সন্তান যদি আল্লাহর পথে বাধা দেয় আল্লাহকে ছাড়তে পারবো না ওদেরকে ছাড়তে পারবো। আদর্শ দাম্পত্যের জন্য শুধু ভালোবাসাই যথেষ্ট নয়। এখানে প্রয়োজন হচ্ছে সম্মান বিশ্বাস ।একে অপরের প্রতি এসব না থাকলে তাহলে ওই সংসারে শান্তি থাকে না। আপনার স্ত্রী যদি আপনাকে বিশ্বাস না করে তাহলে আপনি শান্তি পাবেন না।আপনি যদি ইনোসেন্ট ও অনেস্ট হয়ে থাকেন আপনার স্ত্রী আপনাকে বিশ্বাস করছে না ওই সংসারে শান্তি থাকে না।বিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভালোবাসা থেকেও বিশ্বাস বেশি important। আগে বিশ্বাস তারপর আমল। ভালোবাসা হচ্ছে আমল আর বিশ্বাসটা হচ্ছে ঈমান। আমার প্রতি যদি আপনার ঈমান না থাকে তাহলে আপনি আমাকে ভালোবাসবেন কিভাবে? স্বামী স্ত্রীকে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে। পুরুষদেরকে এখানে সহনশীল হতে হবে কারণ আপনাদের স্ত্রী আপনাদেরকে সারা জীবন পেইন দিতে পারে। এটা হচ্ছে মেয়েদের ফিতরত। এখানে সবরের জাজিয়াত করতে হবে। নসিহত করতে থাকতে হবে। তত দিন পর্যন্ত করতে হবে যতদিন দেখছেন হ্যাঁ এটাই কাজ হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত করতে থাকেন ।যদি করতে করতে দেখেন এটা কাজ হচ্ছে না এই ফিতনা থেকে আপনার দিনের পথে চলা ব্যাহত হচ্ছে তখন আপনার উচিত হবে কাহাপের চিন্তা করা। পরিবারে পর্দা থাকবে এখন আর সন্তান হবে আলহামদুলিল্লাহ। সন্তানকে প্রতিপালন করবেন ওই যে মা হাজেরা তার মতো করে ।হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালামের সাহাবাদের মত করে। আমাদের নবীজির চাচারা যেভাবে তাদেরকে লালন পালন করেছে তাদের মতো করে। সন্তানকে ভালোবাসবেন সন্তানের কথাগুলো শুনবেন। বাচ্চাদেরকে মূল্যায়ন করবেন বাচ্চারা কি খাচ্ছে তা খেয়াল রাখবেন।বাচ্চা নেওয়ার সময় বা বাচ্চা নেয়ার চেষ্টা করার সময় দোয়া করবেন। সব সময় নামাজে সেজদায় দোয়া করবেন ।পরিবারের জন্য বাচ্চাদের জন্য পরিবারের শান্তির জন্য বাচ্চাদের সুস্থতার জন্য জন্য দোয়া করবেন। আপনার একটা নেক সন্তান আগামী দিনের উম্মতের দায়িত্ব নিতে পারবে ইনশাআল্লাহ।হাজার হাজার গবাদি পশুর দরকার আছে। একটা ইব্রাহিম , একটা ওমার, একটা খালেদ ইবনে ওয়ালিদ জন্ম দিয়ে দেখান। ওই একজনই যথেষ্ট ইনশাল্লাহু তাআলা। সন্তানের কথা শুনতে হবে। প্যারেন্টিং একটা বই আছে বাজারে কিনতে পাওয়া যায় কিনে নিবেন। ওখানে প্যারেন্টিংস এর অনেক টিপস আছে সন্তান কি খাচ্ছে কার সাথে মিশছে বন্ধুর সাথে খেলছে কোন স্কুল-কলেজে পড়ছে খেয়াল রাখতে হবে। কোন ডিভাইস ইউজ করছে। বাসা সন্তান কি পরিবেশ দেখে বড় হচ্ছে। পিতা মাতার মধ্যে ভালোবাসা দেখে বড় হচ্ছে নাকি ঝগড়া দেখে দেখে বড় হচ্ছে। এটা খুব ইফেক্ট করে। সবচেয়ে বড় কথা সন্তানকে পিছন থেকে আপনাকে বুস্ট আপ করতে হবে। আপনার সন্তানকে আল্লাহ পাক নির্দিষ্ট একটা প্রতিভা দিয়ে পাঠাবেন। হয়েছে ভালো লিখতে পারবে বা ভালো বলতে পারবে বা ভালো খেলতে পারবে ভালো চিন্তা করবে ভালো আর্ট করবে । ওর প্রতিভাকে ওর উপরে চাপিয়ে দিবেন না। ওর যে প্রতিভা আছে ওই প্রতিভা অনুযায়ী বেড়ে উঠতে দিনে। হাতের আঙ্গুলগুলোকে টেনে টেনে সোজা করতে যাবেন না তাহলে আঙ্গুল ভেঙে যাবে। আঙ্গুল কে পাত্তা দেন ওকে আল্লাহপাক একটা রং দিয়েছে একটা প্রতিভা দিয়েছে।ওকে বিকশিত হতে দেন ওর গন্ধটা যেন আমরা পাই।

দাম্পত্যে বিশ্বাস ও সবর

বাচ্চাদেরকে চাপ দিবেন না। এখনকার পরিবারদের প্রচুর চাপ। পরিবারে সন্তানদেরকে পিতা-মাতা চাপ দিতে দিতে দেখা যাচ্ছে যে সন্তানরা আত্মহত্যা করে ফেলছে। রেজাল্ট খারাপ হলে কি করলি সারা জীবনে এসএসসিতে এ প্লাস পাইতে পারলি না। বেচারা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে ফেলছে। কি হয়েছে এসএসসিতে খারাপ রেজাল্ট হয়েছে তো কি হয়েছে? জীবনে কি এটাই সব কিছু। একটা না হয় জীবনে দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে এটাতে কি জীবন নষ্ট হয়ে গেছে। পিতা মাতার চাপের কারণে এই যে বলে চাকরি পাস না সারা জীবন খাওয়ালাম পড়ালাম সবকিছু করলাম এখনো চাকরি পাস না। আমাদেরকে দেখতে পারিস না। চাপ দিতে দিতে বেচারা এখন মাদকের দিকে। পরিবারের চাপ নিতে পারে না মাদকের আসক্ত হয়ে শান্তি খুজতেছে। ওই যে পতিতালয় গিয়ে শান্তি খুঁজতেছে। গার্লফ্রেন্ডের কাছে গিয়ে শান্তি খুঁজতেছে। তো পরিবার থেকে চাপের এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। পরিবারের সন্তানদেরও পিতা মাতাকে চাপ দেওয়া উচিত নয়। পিতা মাতারও উচিত নয় সন্তানদেরকে চাপ দেওয়া।বরং তার প্রতিভা গুলোকে ফাইন আউট করে আপনি বিচক্ষণ বাবা হিসেবে আপনি দেখবেন তার প্রতিবাদ গুলো কোন দিকে আছে ।সেদিকে আপনি তাকে নিয়ে যাবেন। আর আপনি যদি আল্লাহওয়ালা হন তাহলে ইনশাআল্লাহ দেখবেন তার প্রতিভা আল্লাহ দিকেই থাকবে ইনশাল্লাহ । ইমাম বুখারীর মায়ের কথা শুনেন নাই । তার মা সারাদিন কান্নাকাটি করত আল্লাহ আমার ছেলেটাকে দ্বীনের জন্য কবুল কর আল্লাহ আমার ছেলেটাকে দ্বীনের জন্য কবুল করো। তার চোখে সমস্যা ছিল। তিনি চোখে ভালো করে দেখতে পারতেন না। তার মায়ের দুয়ার বদলতে আল্লাহ পাক তার চোখের সমস্যা দূর করে দিয়েছেন। এখন ইমাম বুখারীর কিতাব সবাই পড়ছেন না। একজন মায়ের তাড়না দেখেন মা সন্তানকে দোয়া করবে। একজন মা তার সন্তানের জন্য দোয়া করবে আল্লাহ আমার সন্তানটা কে দ্বীনের জন্য কবুল করো।একজন বাবা দোয়া করবে যে আল্লাহ আমার সন্তানটাকে দ্বীনের জন্য কবুল কর। এইযে বাবা নূহ আলাইহিস সাল্লাম এর তাড়না দেখেন ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাহামের তাড়না দেখেন। আল্লাহ আমাকে সুসন্তান দান করো। চাপ দিয়েন না। সন্তানের প্রতিভা অনুযায়ী আপনি তাকে বিকশিত হতে দেন। ইনশাল্লাহ দেখবেন একদিন আপনার সন্তান আপনার মুখ উজ্জ্বল করবে ইনশাল্লাহু তায়ালা। আর চাপ দিলে কি হবে জানেন। অকালে ঝরে পড়বে। অকালে ঝরে পড়বে তার মাইন টা বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে। তখন পরিবারের থেকে তার দূরত্বটা সৃষ্টি হবে। তখন ওই সুযোগ শয়তান নিবে খারাপ বন্ধুর পাল্লায় পড়বে। আয় গাজায় একটু টান দে , আই ইয়াবা খায় , এটা কর সেটা কর আস্তে আস্তে দেখবেন অন্ধকার যুগে হারিয়ে গেছে। আর অন্ধকার যুগে একবার হারিয়ে গেলে আর ফিরে পাবেন না। এটা কি প্র্যাকটিক্যাল কথা না ভাই? মেয়ে কে চাপ দিবেন দেখবেন বেঁকে বসছে। যদি ছোটবেলা থেকে এই মেয়েকে হিজাব পোশাক পর্দায় রাখেন তাহলে বড় হয়ে ইনশাআল্লাহ এই মেয়ে বেলাইনে যাবে না। ছোটবেলা থেকে আপনি যদি তাকে নায়িকাদের মত বানিয়ে মানুষ করেন। বড় হলে পস্তাবেন যে আমার মেয়ে কেন ছেলের হাত ধরে পালায় গেল। আপনার জন্য হয়েছে। ছোটবেলা থেকে সন্তানের অনুশাসন ঠিক রাখতে হবে।

সন্তানকে চাপ না দেওয়া

ওই যে বললাম পিতা-মাতা যদি দ্বীনদার পরহেজগার মুত্তাকী হয়। তাদেরকে দেখেই সন্তানরা শিখবে। আমরা যখন সেজদা করি আমাদের ছেলে মেয়েরা আমাদের পিঠের ওপরে উঠে আসে না। ওরাও কি সেজদা করার ট্রাই করে না? মসজিদে বাচ্চাদেরকে নিয়ে আসলে দেখবেন তারা দেখে কি করছে এরা কি করছে? ওরা তখন নিজেও হাত বাধার চেষ্টা করে। হাত তুলেন। বাচ্চারা দেখে শিখে। পরিবারে বাচ্চারা দেখে শিখে পিতা মাতা কেমন ভাবে কথা বলে। কবিতা কেমন করে মায়ের সাথে কথা বলছে মা কেমন করে পিতার সাথে কথা বলছেন সে দেখে শিখে।এবং সে ওই ভাবেই কথা বলে। যে পরিবারে ওমর এর মত পিতা আছে ওই পরিবার কি খারাপ হতে পারবে। যে পরিবারে হাজেরা আলাইহিস সাল্লাম এর মত মা আছে ওই পরিবার কি খারাপ হতে পারে। তো প্যারেন্টিং টা ঠিক করতে হবে। নৈতিক আদর্শের সাথে তাদেরকে ভালো খাবার দিবেন। খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। কার্বোহাইড্রেট ঠিকমতো পাচ্ছে কিনা প্রোটিন ঠিক মত পাচ্ছে কিনা ভিটামিন ঠিকমত পাচ্ছে কিনা সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। পরিবারটা থাকবে নীট এন্ড ক্লিন চকচকা। হাদিসে আছে না পবিত্রতা হচ্ছে ঈমানের অর্ধেক। ইসলামে আছে না। মানে পরিবারটা হবে নিট এন্ড ক্লিন ঝকঝকা রুচিশীল । এখানে যেন নোংরা বিষয়গুলো না থাকে। নোংরা আবর্জনা বাথরুম ঠিক নাই এটা ঠিক নাই এমন না। ঝকঝকা পরিবার। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী আপনি করবেন। অপুস্কার থাকলে বাচ্চাকাচ্চা অসুস্থ হবে বেশি। অসুস্থ হলে আপনার পেরেশানি। ওরা খাবেনা ঠিকমত রুটি থাকবে না ঠিকমত ওরা বাড়বে না ঠিকমত। তো পরিচ্ছন্নতার সাথে সঠিক খাবার সঠিক প্যারেন্টিং ইসলামের তরবিয়ত এবং তার উপরে চাপ প্রয়োগ না করে তাকে তার প্রতিভার বিকশিত হতে দেওয়া। চাপ না দেওয়ার মানে এই নয় যে আপনি শাসনই করবেন না পরিবারের ওপর শাসনের লাথি থাকবে কিন্তু ওটা জন্ততন্ত্র প্রয়োগ করবেন না। যদি আপনি একদিন খুব বেশি পিটায় দেন তাহলে তারপর থেকে আপনার সন্তান আপনাকে খুব বেশি ভয় পাবে না কিন্তু। আল্লাহ পাক কুরআন এর মধ্যে বারবার একটা কথা উল্লেখ করেছেন যে জাহান্নামের শাস্তি কিন্তু দেব। জাহান্নামের শাস্তি কিন্তু দেব শাস্তি কিন্তু দেবো শাস্তি কিন্তু দিবো। এই যে একটা ভয় আমরা কিন্তু এই ভয় এর জন্যই জাহান্নাম থেকে দূরে আছি। তো এটা একটা সাইকোলজি। এভাবে পরিবার এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ । সন্তান বড় হবে। আপনি যার যার হক তাকে দিবেন। পরিবারের ভেতরে নিয়মিত কুরআনের চর্চা থাকবে। সন্তান-সন্ততি তারা ইসলামিক অনুশাসন পাচ্ছে কিনা ইসলামের চর্চা করছে কি না সেদিকে খেয়াল করতে হবে।জেনারেল লাইনেও পড়ে তাও আপনি ইসলামিক পাঠটা মাদ্রাসার কাউকে দিয়ে পড়ানোর চেষ্টা করবেন। কোরআন শিখান হিবস করান। ওকে এদিকেও গড়ে তুলেন এবং ওদিকেও গড়ে তুলেন ইনশাল্লাহুতালা। আমরা এমন প্রজন্ম চাচ্ছি না যারা কিনা এক কেন্দ্রিক। আমরা চাচ্ছি এমন প্রজন্ম যারা কুরআন সুন্নাহকে হাতে নিয়ে ওয়ার্ল্ড কে ডিল করতে পারে ওয়ার্ল্ড কে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। এই চ্যালেঞ্জ কে ডিল করতে হলে আপনাকে সব ধরনের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। খেয়াল রাখবেন পরিবারে যেনো ফ্রি মিক্সিং টা না আসে। পরিবেশে যেন নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা না আসে। বেশিরভাগ ধর্ষণ হচ্ছে বাংলাদেশে কাছের মানুষদেরকে দিয়ে।

সন্তান প্রতিপালনে পিতামাতার ভূমিকা

বেশিরভাগ ধর্ষণ হচ্ছে বাংলাদেশের কাছের মানুষদেরকে দিয়ে। চাচার মাধ্যমে মামার মাধ্যমে খালাতো ভাইয়ের মাধ্যমে ফুফাতো ভাইয়ের মাধ্যমে। কাছের মানুষ দ্বারা বেশি রেপ হচ্ছে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান দেখেন। অতএব ইসলাম যে বলেছে পর্দার বিষয়ে এটা এমনি এমনি বলে নাই। ও কাজিন হয় ওর সামনে এত পর্দা করা কি দরকার এগুলো একদম চলবে না। পর্দাটা হচ্ছে একদম মেন্টেটরি। পরিবারের সালাত , পর্দা, সালাম, অনুশাসন এগুলো ম্যান্ডেটরি বিষয় ।না, খেয়ে মরে যাব তাও পর্দা ছাড়া যাবে না। বিষয়টা এমন স্ট্রিটলি নিতে হবে। যদিও বাধ্যগতভাবে আল্লাহ পাক ছাড় দিয়েছেন। কিন্তু আপনাকে এভাবে শক্তভাবে ধরতে হবে । আল্লাহ পাক আপনাকে তৌফিক দান করুন আমীন। এর পাশাপাশি কিছু বিষয় বলবো যেগুলো মোটেই পরিবারে ঢুকানো যাবে না। এক পরিবারের শিরক ঢুকানো যাবেনা। শিরিক কি কি কত প্রকার এটার একটা বই আছে কিতাবুল তাওহিদ নামে একটা বই আছে ইনশাল্লাহ পারবেন। দুই নাম্বার পরিবারে বেদাদী আমল ঢুকানো যাবেনা। তিন নাম্বার পরিবারের হারাম রিজিক ঢোকানো যাবে না। পরিবারে হারাম রিজিক ঢুকবে এবং সে হারাম রিজিক দিয়ে আপনার রক্ত মাংস তৈরি হবে এই রক্ত মাংস কিন্তু আল্লাহর অনুগত্য হবে না। হারাম রিজিক থেকে দূরে থাকতে হবে। পরিবারের মধ্যে কন্দ্রল যেন না থাকে। এই চেষ্টাটা আপনাকে করতে হবে। বললাম তো এটা এভয়েড করার জন্য আপনি আল্লাহর হয়ে যান। নসিহত করেন হাজার নসিহত করেও যদি কাজ না হয়। আপনি নিজে আসহাফুল কাহাফ হয়ে যান। তাও ভালো। পরিবারের মধ্যে যেন অপসংস্কৃতি না ঢুকে। পরিবারের মধ্যে অশ্লীলতা যেন না ঢুকে। পরিবারে এখন যে চলমান যে ফিতনা গুলো চলছে ডিভাইসের মাধ্যমে গেমিং এর মাধ্যমে পাবজি পাবজি হাবিজাবি। ইন্টারনেট সেকশনের চেয়ে নগ্নতা অনলাইনে যে জুয়া ঢুকেছে লুডু কত কি ঢুকেছে আমি আসলে এগুলো শুনেছি আসলে দেখিনি।আমি জাস্ট এগুলো শুনেছি দেখি নেই এই বিষয়গুলো। এগুলা আপনার পরিবারের নৈতিকতা নষ্ট করে দিবে।বিনোদন যদি পেতেই হয় তাহলে আপনি কায়েক বিনোদন নেন। পরিবারের সদস্যদেরকে বা আমাদের সন্তানদেরকে জিম করতে বলেন খেলাধুলা করতে বলেন ফুটবল খেলুক ক্রিকেট খেলুক প্রয়োজনে । যদি গান শুনতে চান তাহলে ইসলামিক নাসিক শুনোন। কৌতুক চান ইসলামিক রসিকতা করেন। প্রয়োজনে পরিবারবর্গকে নিয়ে ঘুরেন দেশটাকে ঘুরে আসেন। আল্লাহর নিদর্শন দেখেন এটাও তো ইন্টারটেনমেন্ট। পরিবারকে সময় দেন। প্রাকৃতিক বিনোদনের দিকে যায়। ডিভাইস বিনোদন কেন্দ্রিক হয়েন না। না, হলে হবে কি মাথাটা ওই ডিভাইস কেন্দ্রিক হয়ে যাবে অস্থির । এই মাথার মধ্যে আর কোরআন সুন্নাহর সঠিক জ্ঞানটা ঢুকবে না। এই কাজগুলো যদি আমরা না করি আমাদের পরিবার অবশ্যই ভালো হবে ।আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে আদর্শ পরিবার গড়ে তোলা তৌফিক এনায়েত করুন আমীন। এখন তাদের কথা বলি তারা অলরেডি ঢুকে গেছে এবং এই সমস্যাগুলো ফেস করে। এক নম্বর আগে তওবা করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে হবে। হে আল্লাহ আমরা আগে যে ভুল করেছি করেছি এখন থেকে ইনশাআল্লাহ আমরা আল্লাহর দ্রোহী এই কাজ গুলোর দিকে আর যাব না। এই তওবা ইস্তেগফার করে আমরা স্ত্রীকে ঠান্ডা মাথায় বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। আস্তে আস্তে সব ওপরে ফিরে আসলে তারপর আপনি নফল নামাজ বেশি বেশি পড়েন ডান্স অফ কা বারান এবং বেশি থেকে বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। আল্লাহ আমার পরিবারটাকে হেফাজত করেন আল্লাহ আমার পরিবারটাকে হেফাজত করে। এবং দ্বীনই কাজের পরিবারটাকে ব্যস্ত রাখেন। এবং এরকম আদর্শ পরিবারের মধ্যে একটা কমিউনিটি গড়ার চেষ্টা করেন। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেন। না, হলে তো একা একা চলার যাবে না। আপনি আদর্শ পরিবার করে তুলেছেন পাশের পাশের লোকটা করে নাই। সেখানে গিয়ে আপনার সন্তান শিখবে সেখানে গিয়ে আপনার স্ত্রীর শিখবে। দ্বীনই পরিবারের মধ্যে একটা হৃদ্ধতা ভালোবাসা নেটওয়ার্কিং তৈরি করেন। এভাবে তাওহীদের চর্চা এক, দুই সুন্নতের প্রতিষ্ঠা। তিন হালাল রিজিক। চার হৃদ্যতা ভালোবাসা। ৫ সবর ধৈর্য। আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া চাওয়া। সাত পর্দা । আট অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থাকা ।নয় সন্তানদেরকে আগামী প্রজন্ম আগামী মুসলিম জেনারেশন কে লীদ দেওয়ার মতো করে তৈরি করা। আমাদের মেয়েদেরকে শিশু হোক মা হোক বোন হোক ও না হোক এদেরকে স্পেশালি নজরে রাখা।

সাধারণ প্রশ্ন

সূরা তাহরীমের ৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ কী বলেছেন?

বক্তা বলেন, আল্লাহ সূরা তাহরীমের ৬ নম্বর আয়াতে মুমিনদের বলছেন, নিজেরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো এবং পরিবারবর্গকেও বাঁচাও। এই বিষয়কে তিনি ব্যক্তি ও পরিবার থেকে শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেন।

বক্তা কেন পরিবারের বিষয়ে কথা বলছেন?

বক্তার মতে, পরিবার সমাজের গঠন-একক; পরিবার জান্নাতের টুকরা হলে সমাজও সেরকম হবে, আর সমাজ থেকে দেশ এবং দেশ থেকে বিশ্ব গঠিত হয়।

আলোচনায় কয়টি পর্ব রাখা হয়েছে?

বক্তা জানান আলোচনা চারটি পর্বে হবে: কুরআনে আদর্শ পরিবার, নবীজির হাদিসে শেষ জামানার পরিবার, পরিবার-ভাঙনের পরিসংখ্যান, এবং সমাধান।